ইরাকযুদ্ধের বিতর্কিত চরিত্র কলিন পাওয়েলের মৃত্যু

ইরাকযুদ্ধের বিতর্কিত চরিত্র কলিন পাওয়েলের মৃত্যু

ভুল তথ্যের ভিত্তিতে ইরাকযুদ্ধের সূচনার জন্য বিতর্কিত কলিন পাওয়েল। ছবি: নিউ ইয়র্ক টাইমস

সাধারণ সেনা থেকে আশির দশকে তৎকালীন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের শাসনামলে হন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নিরাপত্তা উপদেষ্টা। এরপর নব্বইয়ের দশকের শুরুতে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ হার্বার্ট ওয়াকার বুশের শাসনামলে দেশের সর্বকনিষ্ঠ ও প্রথম আফ্রিকান-আমেরিকান হিসেবে দায়িত্ব নেন জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান হিসেবে।

মারা গেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ পররাষ্ট্রমন্ত্রী কলিন লুথার পাওয়েল। করোনাভাইরাস-পরবর্তী জটিলতায় সোমবার মৃত্যু হয় তার। তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কলিন পাওয়েলের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে তার পরিবার।

বিবৃতিতে বলা হয়, করোনা প্রতিরোধী টিকার ডোজ সম্পন্ন করা ছিল পাওয়েলের। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের সামরিক হাসপাতাল ওয়াল্টার রিড ন্যাশনাল মিলিটারি মেডিক্যাল সেন্টারে চিকিৎসা নিয়ে সেরেও উঠেছিলেন তিনি।

সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে জীবনের চারটি দশক ব্যয় করেছেন কলিন পাওয়েল। শীর্ষ সেনা কর্মকর্তা, কূটনীতিক, প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা উপদেষ্টাসহ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

বিংশ শতাব্দীর শেষ ও একবিংশ শতাব্দীর শুরুর কয়েক বছরে রিপাবলিকান সরকারের আমেরিকান পররাষ্ট্রীয় নীতির কাঠামো সংস্কারের কৃতিত্ব দেয়া হয় তাকে।

তবে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপে ভূমিকার জন্যও বিতর্কিতও পাওয়েল। ২০০৩ সালে জাতিসংঘে তার ভাষণের মধ্য দিয়েই ইরাকযুদ্ধের পথ উন্মুক্ত হয়েছিল।

সেনাবাহিনীতে থাকাকালীন ৩৫ বছরে অনেক নতুন ধারণার উদ্ভব ঘটিয়েছিলেন পাওয়েল। পেশাজীবনের শুরুতেই যোগ দেন ভিয়েতনামযুদ্ধে।

সাধারণ সেনা থেকে আশির দশকে তৎকালীন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের শাসনামলে হন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নিরাপত্তা উপদেষ্টা। এরপর নব্বইয়ের দশকের শুরুতে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ হার্বার্ট ওয়াকার বুশের শাসনামলে দেশের সর্বকনিষ্ঠ ও প্রথম আফ্রিকান-আমেরিকান হিসেবে দায়িত্ব নেন জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান হিসেবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের শীর্ষ সামরিক পদ এটি।

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন জোটের অভিযান সফল হওয়ার মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে বীরোচিত ভূমিকায় অবতীর্ণ হন পাওয়েল। নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে দেশের সম্ভাব্য প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট হওয়ার দৌড়েও অন্যতম প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় ছিলেন তিনি।

পাওয়েলের ভাবমূর্তিতে প্রথম কলঙ্কের দাগ লাগে বিংশ শতাব্দীতে। সে সময় প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন তিনি। তার ইশারাতেই জাতিসংঘে ভুল গোয়েন্দা তথ্য উপস্থাপনের ভিত্তিতে শুরু হয় ইরাকযুদ্ধ।

প্রেসিডেন্ট হওয়ার দৌড়ে শেষ পর্যন্ত আর নাম লেখাননি পাওয়েল। তবে তার সময় পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পদধারী কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকান ছিলেন তিনি; প্রেসিডেন্টের উত্তরসূরি হিসেবে ছিলেন চতুর্থ অবস্থানে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

প্রেম ও যৌনতা নিয়ে খোলামেলা বৌদ্ধ সন্নাসিনীর মৃত্যু

প্রেম ও যৌনতা নিয়ে খোলামেলা বৌদ্ধ সন্নাসিনীর মৃত্যু

জাকুশো সেতাওশি। ছবি: নিউ ইয়র্ক টাইমস

বৌদ্ধ সন্নাসিনী হয়েও মদ্যপান এবং মাংস ভক্ষণ করতেন সেতাওশি। আর প্রত্যেক মানুষ বিশেষ করে নারীদের যৌন স্বাধীনতা থাকা উচিত বলে তিনি প্রকাশ্যেই মত দিতেন।

বৌদ্ধ সন্নাসিনী হয়েও প্রেম আর যৌনতা নিয়ে জাকুশো সেতাওশি ছিলেন বেশ খোলামেলা। জীবদ্দশায় তিনি প্রায় চারশো’র বেশি উপন্যাস লিখেছেন। বলা হয়, প্রেম আর যৌনতায় ভরপুর এসব উপন্যাসের বেশিরভাগই তিনি নিজ জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে লিখেছেন। তার অনুবাদ করা একাদশ শতকের একটি জাপানি রোমান্টিক ক্ল্যাসিক কয়েক মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়েছে।

ব্যক্তিগত সহকারীর বরাত দিয়ে শনিবার নিউ ইয়র্ক টাইমস আলোচিত এই লেখিকার মৃত্যু সংবাদ প্রকাশ করেছে। চলতি মাসেই জাপানের কিটো শহরে ৯৯ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন তিনি।

যৌনতা নিয়ে বিতর্কীত বিভিন্ন লেখার জন্য সেতাওশির সমালোচকেরও অভাব ছিল না। সমালোচকরা তাকে ‘গদবাঁধা লেখিকা’ হিসেবে আখ্যায়িত করতেন।

তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সমালোচনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- এক সন্তানসহ প্রথম স্বামীকে ত্যাগ করে নিজের চেয়ে কমসী আরেক জনের সঙ্গে প্রণয়ের সম্পর্ক তৈরি করেছিলেন। শুধু তাই নয়, বৌদ্ধ সন্নাসিনী হয়েও তিনি মদ্যপান এবং মাংস ভক্ষণ করতেন। আর প্রত্যেক মানুষ বিশেষ করে নারীদের যৌন স্বাধীনতা থাকা উচিত বলে তিনি প্রকাশ্যেই মত দিতেন।

যৌনতা বিষয়ে ১৯৯৯ সালে নিউ ইয়র্ক টাইমসকে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি মনে করি এক্ষেত্রে স্বাধীন থাকাই ভালো। ইচ্ছা হলে, যে কোনো মানুষের সঙ্গেই সঙ্গম করা যেতে পারে।’

বয়স নব্বই হওয়ার পরও তিনি লেখালেখি চালু রেখেছিলেন। আর ওই বয়সে তিনি কিটোর একটি উপাসনালয়ে দর্শনার্থীদের মাঝে ধর্মীয় উপদেশও প্রদান করতেন। ১৯৭৪ সালে উপাসনালয়টি তিনি নিজেই স্থাপন করেছিলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইন্সটাগ্রামে তার তিন লাখের বেশি অনুসারী ছিল।

নিজের জীবনের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা উপন্যাসে ফুটিয়ে তোলার পাশাপাশি ইতিহাসের কুখ্যাত নারীদের জীবন নিয়েও তিনি লিখতেন। এসব কারণে কেউ কেউ তাকে ‘চটি লেখিকা’ হিসেবেও ডাকতেন।

সেতাওশির সবচেয়ে সাড়া জাগানো কাজ ছিল ‘দ্য টেল অব জেনঝি’-এর আধুনিক সংস্করণ বের করা। ২২০০ পৃষ্ঠার সুবিশাল এই উপন্যাসের আগের সংস্করণটি ছিল মূলত একাদশ শতকের একটি রোমান্টিক কাহিনী। এই কাহিনীকে পৃথিবীর প্রথম উপন্যাস হিসেবে আখ্যায়িত করা ছাড়াও জাপানের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাসও বলে থাকেন অনেকে। সেতাওশির অনুবাদ সংখ্যাটি ১৯৯৮ সালে প্রকাশিত হলে এর ৩৫ লাখের বেশি কপি বিক্রি হয়।

প্রেম ও যৌনতা নিয়ে খোলামেলা বৌদ্ধ সন্নাসিনীর মৃত্যু
১৯৭২ সালে জাকুশো সেতাওশি। পরের বছরই ৫১ বছর বয়সী বৌদ্ধ সন্নাসিনীর জীবন বেছে নেন তিনি।

১৯২২ সালের ১৫ মে জাপানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় তকুশিমায় জন্ম নেয়া সেতাওশির বাবা ছিলেন একজন কাঠমিস্ত্রি এবং মা ছিলেন গৃহিনী।

টোকিওতে নারীদের একটি কলেজে জাপানী সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা করা সেতাওশি ১৯৪৩ সালে নয় বছরের সিনিয়র ইয়াসুশি স্যাকাওকে বিয়ে করেছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বেযুদ্ধের ডামাডোলে ১৯৪৪ সালে স্বামীকে চীনের বেইজিংয়ে নিযুক্ত করা হলে তিনিও সেখানেই অবস্থান করেন এবং কন্যা মিচিকোর জন্ম দেন। যুদ্ধ শেষ হওয়ার কয়েকদিন আগেই জাপানে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় মার্কিন বোমার আঘাতে মারা যান সেতাওশির মা।

জাপানের একটি পত্রিকায় মায়ের স্মরণে একটি লেখা দিয়েই লেখালেখির জীবনে প্রবেশ করেন তিনি। ১৯৪৬ সালে জাপানে ফিরলেও তার সংসার ১৯৪৭ সালেই ভেঙে যায়। স্বামী ও কন্যাকে রেখে সেসময়ই তিনি কমবয়সী এক ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করেন। পরবর্তী জীবনে কন্যাকে ছেড়ে যাওয়ার ব্যপারটিকে তিনি জীবনের সবচেয়ে বড় অনুশোচনার কারণ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন।

কম বয়সী প্রেমিকের সঙ্গেও খুব বেশিদিন ছিলেন না সেতাওশি। ১৯৫০ সালে তার প্রথম উপন্যাস প্রকাশিত হয়। এরপর থেকে তিনি বেশ কয়েকজন বিবাহিত পুরুষের সঙ্গে প্রণয়ের সম্পর্কে আবদ্ধ হন। এসব সম্পর্কের ঘটনাপ্রবাহ ও যৌনতার বিষয়গুলো তার পরবর্তী উপন্যাসগুলোতে উঠে এসেছে।

১৯৫৭ সালে একটি উপন্যাসের জন্য সাহিত্য পুরস্কার জিতে নেন সেতাওশি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় দুই জাপানি নারীর মধ্যে সম্পর্ক নিয়েই মূলত এই উপন্যাসটি রচিত হয়। পরের বছর ‘দ্য কোর অফ অ্যা ফ্লাওয়ার’ নামে একটি উপন্যাস প্রকাশিত হলে তা নিয়ে বেশ শোরগোল তৈরি হয়। উপন্যাসের কাহিনীটি ছিল- স্বামীর বসের সঙ্গে এক নারীর সম্পর্ক নিয়ে। পরে এই উপন্যাসটিকে সমালোচকরা ‘চটি বই’ আখ্যা দিলে তিনিও কড়া ভাষায় মন্তব্য করেন, ‘যারা এসব বলছে, তারা আসলে পুরুষত্বহীন আর তাদের স্ত্রীরা নির্জীব।’

প্রেম ও যৌনতা নিয়ে খোলামেলা বৌদ্ধ সন্নাসিনীর মৃত্যু
জীবনের শেষ দিনগুলোতেও নিজের প্রতিষ্ঠিত উপাসনালয়ে দর্শনার্থীদের উপদেশ বাণী শুনিয়ে গেছেন সেতাওশি।

এভাবে নানা চড়াই উৎরাই শেষে ১৯৭৩ সালে ৫১ বছর বয়সে পুরোপুরিভাবে বৌদ্ধ সন্নাসিনীর জীবন বেছে নেন সেতাওশি। সন্নাসিনী হলেও মদ কিংবা মাংসের মতো পার্থিব কিছু সুখ তিনি কখনোই ছাড়েননি। কিটোতে তিনি একটি উপাসনালয় প্রতিষ্ঠা করলে সেখানে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভীড় দেখা যেতে শুরু করে। তবে এসব দর্শনার্থীর বেশিরভাগই ছিলেন নারী। সম্পর্ক এবং আত্মা নিয়ে সেতাওশির উপদেশ মন দিয়ে শুনতেন তারা।

শেয়ার করুন

নেদারল্যান্ডসের বিমানবন্দরে ১৩ যাত্রীর দেহে ‘ওমিক্রন’

নেদারল্যান্ডসের বিমানবন্দরে ১৩ যাত্রীর দেহে ‘ওমিক্রন’

আমস্টারডামের স্কিপল বিমানবন্দরে সাউথ আফ্রিকা থেকে পৌঁছানো দুটি ফ্লাইটের ১৩ যাত্রীর দেহে ‘ওমিক্রন’ শনাক্ত হয়েছে। ছবি: দ্য ইনডিপেনডেন্ট।

সাউথ আফ্রিকা থেকে আমস্টারডামে পৌঁছানো দুটি ফ্লাইটের প্রায় ৬০০ যাত্রীকে পরীক্ষার পর ১৩ যাত্রীর দেহে ‘ওমিক্রন’ শনাক্ত হয়। তাদের বিমানবন্দরের কাছেই একটি হোটেলে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।

সাউথ আফ্রিকা থেকে নেদারল্যান্ডসের রাজধানী আমস্টারডামে পৌঁছানো দুটি ফ্লাইটের ১৩ যাত্রীর দেহে করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ‘ওমিক্রন’ শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া করোনার অন্যান্য ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ ধরা পড়েছে আরও ৪৮ জনের দেহে।

আফ্রিকার দেশ বতসোয়ানায় ১১ নভেম্বর প্রথম করোনার ‘বি.১.১.৫২৯’ ভ্যারিয়েন্টটি শনাক্ত হয়, যাকে এখন আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ওমিক্রন’ বলছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। করোনার নতুন এই ধরনটি এরই মধ্যে সাউথ আফ্রিকাতেও শনাক্ত হয়েছে। দেশটির জোহানেসবার্গ ও প্রিটোরিয়াতে এই ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় দেড় হাজার।

এমন প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭ সদস্য দেশ শুক্রবার সাউথ আফ্রিকাসহ আফ্রিকার দক্ষিণের সাতটি দেশ থেকে ইউরোপে সাময়িক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেয়। তবে ওই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার আগেই শুক্রবার সাউথ আফ্রিকা থেকে দুটি ফ্লাইট পৌঁছায় আমস্টারডামে।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, এই দুটি ফ্লাইটের প্রায় ৬০০ যাত্রীকে করোনা পরীক্ষার জন্য বিমানবন্দরেই রেখেছিল ডাচ সরকার। এরপর কোভিড শনাক্ত হওয়া যাত্রীদের বিমানবন্দরের কাছেই একটি হোটেলে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।

ডাচ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যাদের দেহে ভাইরাসটির উপস্থিতি পাওয়া যায়নি তারা নিজেদের বাড়িতে পাঁচ দিনের আইসোলেশনে থাকবেন। এরপর আবার তাদের করোনা পরীক্ষা হবে।

এর আগে মিশর থেকে বেলজিয়াম ভ্রমণে যাওয়া একজনের দেহেও ওমিক্রন শনাক্ত হয়। ইউরোপে বেলজিয়ামই প্রথম দেশ, যেখানে ওমিক্রনে আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে। যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি, অস্ট্রেলিয়া, ইসরায়েল ও হংকংয়েও শনাক্ত হয়েছে ভাইরাসটি।

১৩ জনের দেহে ওমিক্রন শনাক্ত হওয়ার পর ডাচ স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিউগো দে জং সাম্প্রতিক সময়ে সাউথ আফ্রিকা থেকে নেদারল্যান্ডসে আসা সবাইকে যত দ্রুত সম্ভব করোনা পরীক্ষা করাতে ‘জরুরি অনুরোধ’ করেছেন। তিনি বলেন, ‘এখন মনে করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে যে নেদারল্যান্ডসে ওমিক্রন সংক্রমিত আরও অনেকে আছেন।’

সার্স কভ টু ভাইরাসের নতুন ধরনটি নিয়ে গবেষকদের উদ্বেগের মূল কারণ, এর অনেকবারের মিউটেশন। মিউটেশন হলো এমন এক অভিযোজন কৌশল যার মাধ্যমে ভাইরাস বিরূপ বা নতুন পরিস্থিতিতেও অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পারে।

বিজ্ঞানীরা ওমিক্রনের স্পাইক প্রোটিনে ৩২টি মিউটেশন খুঁজে পেয়েছেন। অন্যদিকে অত্যন্ত সংক্রামক হিসেবে বিবেচিত ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে মিউটেশন হয়েছে মাত্র আটবার।

স্পাইক প্রোটিনের বেশি মিউটেশন মানেই ভাইরাসটি বেশি প্রাণঘাতী, এমন মনে করার কোনো কারণ নেই। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, বহুবার মিউটেশনের কারণে ওমিক্রনের সঙ্গে মানুষের দেহের প্রতিরোধ ব্যবস্থার (ইমিউনিটি সিস্টেম) লড়াই করা কঠিন হতে পারে।

ওমিক্রনের স্পাইক প্রোটিন প্রচলিত করোনাভাইরাসের স্পাইক প্রোটিনের তুলনায় অনেকটা বদলে যাওয়ায় দেহের ইমিউনিটি সিস্টেম দ্রুত একে শনাক্ত করতে পারে না, ফলে এটি সংক্রমণের হার বাড়াতে পারে। যেকোনো করোনাভাইরাস এদের স্পাইকের সাহায্যেই শ্বাসতন্ত্রের কোষে যুক্ত হয়ে কোষের ভেতরে প্রবেশ করে।

প্রাথমিক গবেষণা অনুসারে, নতুন ভ্যারিয়েন্টটি টিকার কার্যক্ষমতা ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিতে সক্ষম।

যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন ভ্যারিয়েন্টের দুটি মিউটেশন- আর ২০৩কে এবং জি ২০৪আর ভাইরাসটির দ্রুত প্রতিলিপি তৈরি করতে সক্ষম। এ ছাড়া তিনটি মিউটেশন- এইচ৬৫৫ওয়াই, এন ৬৭৯কে এবং পি ৬৮১এইচ ভাইরাসটিকে আরও সহজে মানব কোষে প্রবেশে সাহায্য করে। তারা বলছেন, শেষ দুটি মিউটেশনের একসঙ্গে উপস্থিতি বিরল ঘটনা এবং এর ফলে ওমিক্রন টিকা প্রতিরোধী হয়ে উঠেছে।

অস্ট্রিয়ার ভিয়েনার ইনস্টিটিউট অফ মলিকুলার বায়োটেকনোলজির আণবিক জীববিজ্ঞানী ডা. উলরিচ এলিংয়ের মতে, প্রাথমিক লক্ষণ থেকে মনে হচ্ছে করোনার নতুন রূপটি ডেল্টার চেয়ে ৫০০ শতাংশ বেশি সংক্রামক হতে পারে।

অবশ্য নতুন ভ্যারিয়েন্টটি সার্স কভ টুর আগের ধরনগুলোর তুলনায় বেশি প্রাণঘাতী- এমন কোনো প্রমাণ এখনও মেলেনি। তবে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সক্ষমতার কারণে স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে নতুন করে চাপে ফেলতে পারে।

শেয়ার করুন

ভারতেও বাস ভাড়ায় ছাত্রদের ছাড় আছে

ভারতেও বাস ভাড়ায় ছাত্রদের ছাড় আছে

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বাসে শিক্ষার্থীদের ভাড়ায় ছাড় দেয়া হয়। ফাইল ছবি

ভারতের রাজ্যগুলোতে বাসভাড়ায় ছাত্রদের ছাড় দেয়া একটা সাধারণ নীতি বা রীতি, বিশেষ করে সরকারচালিত বা নিয়ন্ত্রিত বাসের ক্ষেত্রে। তবে কতটা ছাড় দেয়া হবে রাজ্য ভেদে তার নিয়ম ভিন্ন।

রেল ও বিমান ছাড়া ভারতের সড়ক পরিবহনে যাত্রীভাড়া নির্ধারণে কোনো জাতীয় নীতি নেই। সড়ক পরিবহনে যাত্রীভাড়া নির্ধারণ করে রাজ্য সরকার। আর বাস ভাড়ায় কনসেশন দেয়া হয় বেশির ভাগ রাজ্যেই।

সড়ক পরিবহনের যাত্রীভাড়ায় কাদের কতটা ছাড় দেয়া হবে, অথবা আদৌ ছাড় দেয়া হবে কি না, সেসব সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের এক্তিয়ারভুক্ত। হঠাৎ মাথাচাড়া দেয়া সমস্যার সমাধানে কখনও কখনও জেলা প্রশাসনও স্থানীয়ভাবে উদ্যোগী হয়ে কিছু সিদ্ধান্ত নিতে পারে। যেমন বাস ভাড়ায় ছাত্রদের জন্য ছাড়।

ভারতের রাজ্যগুলোতে বাসভাড়ায় ছাত্রদের ছাড় দেয়া একটা সাধারণ নীতি বা রীতি, বিশেষ করে সরকারচালিত বা নিয়ন্ত্রিত বাসের ক্ষেত্রে। তবে কতটা ছাড় দেয়া হবে রাজ্য ভেদে তার নিয়ম ভিন্ন।

যেমন নয়া দিল্লি। ভারতের রাজধানী শহরে বাস চলে পুরোপুরি দিল্লি ট্রান্সপোর্ট করপোরেশনের (ডিটিসি) নিয়ন্ত্রণে। ডিটিসির সাধারণ বাসে ছাত্রদের জন্য একটি মাসিক কার্ড পাওয়া যায় ১০০ টাকায়। ওই কার্ডে দিল্লির মধ্যে যেকোনো রুটে যাতায়াত করা যায়। বিশেষ বাসের জন্য ওই কার্ডের দাম ১৫০ টাকা। তবে শীততাপনিয়ন্ত্রিত বাসে ওই কার্ড প্রযোজ্য নয়।

আবার জম্মু-কাশ্মীরে পরিবহন নিয়ন্ত্রণ বিভাগ গত ২৫ ফেব্রুয়ারি বিজ্ঞপ্তি জারি করে নির্দেশ দিয়েছে সরকারি, বেসরকারি সব বাসে যাত্রীভাড়ায় ৫০ শতাংশ ছাড় দিতে হবে। তবে এই ছাড় শুধুমাত্র বাসস্থান থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া এবং ফিরে আসার জন্য। বাসে দেখাতে হবে ছাত্রের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র। কোনো বাস যদি সরকারি নির্দেশ না মানে তবে ছাত্ররা অভিযোগ জানাতে পারে নির্দিষ্ট হেল্পলাইন নম্বরে।

মহারাষ্ট্রের মুম্বাই শহরে বৃহৎ মুম্বাই বৈদ্যুতিক সরবরাহ এবং পরিবহন (বেস্ট) পরিচালিত বাসগুলোতেও শিক্ষার্থীদের একই ধরনের ছাড় দেয়া হয়।

তাদের একটি মাসিক ফর্ম আছে। এটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্ট্যাম্পসহ যেকোনো ডিপোতে জমা দিতে হয়। তারা শিক্ষার্থীদের এটিএম কার্ডের মতো একটি কার্ড প্রদান করে। এটি শুধু বাড়ি থেকে স্কুল-কলেজে নন এসি বাসে যাওয়া-আসার জন্য কার্যকর।

মহারাষ্ট্রের নাসিক শহরে বাস নিয়ন্ত্রণ করে সেখানকার পৌর সংস্থা। নাসিক মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের অধীন নাসিক মহানগর পরিবহন মহামন্ডল লিমিটেডের বাসে শিক্ষার্থীরা এক মাসের জন্য নির্দিষ্ট রুটে ৫০ শতাংশ এবং তিন মাসের জন্য ৬৬ শতাংশ ছাড় পায়। একমাসের মাসিক টিকিটের মূল্য ১ হাজার ৫০০ রুপি । ছাত্রদের দিতে হয় ৭৫০ রুপি।

শিক্ষার্থীদের বাসভাড়া ছাড় দেয়ায় দক্ষিণ ভারতের রাজ্য তামিলনাড়ু অন্যদের থেকে অনেকটাই আলাদা। ওই রাজ্যে বাস চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে সরকার নিয়ন্ত্রিত সাতটি পরিবহন করপোরেশন।

২০১৫ সালে রাজ্য সরকার কমিউনিটি কলেজ, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত বেসরকারি আইটিআই, সঙ্গীত কলেজ এবং চেন্নাই করপোরেশন আইটিআইগুলোর ছাত্রদের জন্য বিনামূল্যে ভ্রমণ সুবিধা প্রসারিত করেছিল। সুবিধা পেয়েছিলেন ৩২ লাখের বেশি ছাত্র।

এ ছাড়া ওই রাজ্যে বেসরকারি আর্টস অ্যান্ড সায়েন্স কলেজ, পলিটেকনিক ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীদের সরকারি বাসে ৫০ শতাংশ ফি ছাড় দেয়া হয়।

২০১৩ সাল পর্যন্ত শুধু স্কুল ও সরকারি কলেজ, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং আইটিআই-এর ছাত্রদের জন্য বিনামূল্যে ভ্রমণের অনুমতি দেয়া হয়েছিল। ২০১৩-১৪ সাল পর্যন্ত বিনামূল্যে ভ্রমণের মাধ্যমে পরিবহন করপোরেশনগুলোর ব্যয় প্রতি বছর ৪৪০-৪৫০ কোটি রুপি ছিল। পরবর্তী কয়েক বছরে তা বেড়ে ৭৩০ কোটি রুপি হয়।

দক্ষিণ ভারতের আর একটি রাজ্য কেরালা। বামজোটশাসিত এই রাজ্যেও বাসভাড়ায় ছাত্রদের জন্য ছাড় আছে। ২০১২ সালে সেখানে শেষবার বাসভাড়ায় পরিবর্তন হয়েছিল। তখন ছাত্রদের জন্য নূন্যতম ভাড়া ছিল ১ রুপি।

সম্প্রতি সেখানে বেসরকারি বাস মালিকরা ভাড়া বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছে। এ নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এখন পর্যন্ত যা খবর তাতে নূন্যতম সাধারণ যাত্রীভাড়া হতে পারে ১০ রুপি। ছাত্রদের ক্ষেত্রে নূন্যতম ভাড়া ৫ রুপি করার প্রস্তাব আছে। বাস মালিকরা চাইছে ৬ টাকা করতে। অর্থাৎ ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ ছাড় পাবে ছাত্ররা।

বাস ভাড়ায় শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে খুবই করুন অবস্থা পশ্চিমবঙ্গে। এ বিষয়ে সেখানকার এক ছাত্র ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘আমি আশা করি, অধিকাংশ ছাত্রই জানে না যে ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্রান্সপোর্ট করপোরেশনের বাসে ছাত্রদের জন্য বিশেষ ভাড়া রয়েছে। আপনি যদি কন্ডাক্টরকে একজন ছাত্র ভাড়া টেন্ডার করতে বলেন তাহলে আপনি মূল ভাড়ার উপর ফ্ল্যাট ২৫ শতাংশ ছাড় পাবেন। হ্যাঁ, অনেক কন্ডাক্টর ডিসকাউন্ট রেট দিতে অস্বীকার করতে পারে, তবে আপনি তাকে নিচের উল্লিখিত পদ্ধতিতে গাইড করতে পারেন।’

অর্থাৎ ছাত্র, বাসের কন্ডাক্টর কেউই জানেন না বাস ভাড়ায় শিক্ষার্থীদের ছাড়ের বিষয়টি।

এই প্রতিবেদনটা লেখার সময় পশ্চিমবঙ্গের অন্তত পাঁচজনের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষক।

একজন বলেছেন, ‘এ বিষয়ে সরকারের কোনো নিয়মের কথা জানি না। তবে আসানসোল, বরাকর, বার্নপুর, রানীগঞ্জ অঞ্চলে মিনি বাসে ছাত্র কনসেশন আছে বাস মালিকদের সংগঠনের সৌজন্যে।’

আবার মেদিনীপুরের একজন বলেছেন, ‘পূর্ব এবং পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ছাত্রদের বাস ভাড়ায় এক-তৃতীয়াংশ ছাড় দেয়া হয়।’

দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার এক শিক্ষক বলেছেন, ‘এ ব্যাপারে তার কিছু জানা নেই।’

অর্থাৎ বাস ভাড়ায় ছাত্রদের ছাড় দেবার ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গে আছে বিশৃঙ্খলা।

শেয়ার করুন

ওমিক্রনের বিস্তার অব্যাহত, এবার অস্ট্রেলিয়ায়

ওমিক্রনের বিস্তার অব্যাহত, এবার অস্ট্রেলিয়ায়

আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চল ভ্রমণ করে সিডনিতে পৌঁছে কোয়ারেন্টিনে থাকা দুই ব্যক্তির দেহে শনিবার ওমিক্রন শনাক্ত হয়। ছবি: এএফপি

অস্ট্রেলিয়ায় ওমিক্রন শনাক্ত দুই ব্যক্তিরই করোনা প্রতিরোধী টিকা নেয়া ছিল বলে বিদ্যমান টিকায় করোনার নতুন প্রজাতিটির বিস্তার ঠেকানো সম্ভব নয়- এমন ধারণা আরও জোরালো হলো। একই সঙ্গে ওমিক্রনের বিস্তার নিয়ন্ত্রণও কঠিন বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ সাউথ আফ্রিকায় প্রথম শনাক্তের সপ্তাহ না পেরোতেই এটি আফ্রিকার দক্ষিণের দেশ বতসোয়ানা, ইউরোপে যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি, বেলজিয়াম, মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইসরায়েল এবং এশিয়ায় হংকংয়ে শনাক্ত হয়েছে।

একে একে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে শনাক্ত হচ্ছে করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন। ইউরোপের পর সুদূর অস্ট্রেলিয়াতেও রোববার ভাইরাসটির উপস্থিতি নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্যবিদরা।

মাত্র এক দিন আগেই যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি ও ইসরায়েলে শনাক্ত হয় ভাইরাসটি। গত সপ্তাহে প্রথম এর অস্তিত্ব শনাক্ত হয় সাউথ আফ্রিকায়।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, অস্ট্রেলিয়ায় দুজনের দেহে ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে। আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চল ভ্রমণ করে সিডনিতে পৌঁছান তারা। তাদের দেহে ওমিক্রন সংক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে শনিবার।

নিউ সাউথ ওয়েলসের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, দুই ব্যক্তির কারোর মধ্যেই করোনার উপসর্গ ছিল না। তারা করোনা প্রতিরোধী টিকার ডোজ সম্পন্ন করেছেন আগেই, বর্তমানে কোয়ারেন্টিনে আছেন।

আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চল ভ্রমণ করে অস্ট্রেলিয়ায় ফেরা আরও ১২ বিমানযাত্রীকে ১৪ দিনের জন্য হোটেলে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। যাত্রী ও ক্রুসহ বিমানের বাকি প্রায় ২৬০ জন আরোহীকে সেলফ আইসোলেশনে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ায় ওমিক্রন শনাক্ত দুই ব্যক্তিরই করোনা প্রতিরোধী টিকা নেয়া ছিল বলে বিদ্যমান টিকায় করোনার নতুন প্রজাতিটির বিস্তার ঠেকানো সম্ভব নয়- এমন ধারণা আরও জোরালো হলো।

একই সঙ্গে ওমিক্রনের বিস্তার নিয়ন্ত্রণও কঠিন বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ সাউথ আফ্রিকায় প্রথম শনাক্তের সপ্তাহ না পেরোতেই এটি আফ্রিকার দক্ষিণের দেশ বতসোয়ানা, ইউরোপে যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি, বেলজিয়াম, মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইসরায়েল এবং এশিয়ায় হংকংয়ে শনাক্ত হয়েছে। অস্ট্রিয়াতেও ওমিক্রন পৌঁছেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও বিষয়টি নিশ্চিত হয়নি এখনও।

বিজ্ঞানীদের মতে, উহানে প্রথম শনাক্ত কোভিড নাইনটিনের চেয়ে একেবারেই আলাদা করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন। এটি করোনার অন্য ধরনগুলোর চেয়ে অনেক বেশি সংক্রামক বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে কোভিডসহ করোনার বিভিন্ন ধরনের তুলনায় এটি বেশি প্রাণঘাতী কি না বা গুরুতর অসুস্থতা তৈরি করে কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত নন বিজ্ঞানীরা।

বিদ্যমান টিকায় প্রতিরোধ সম্ভব না হলে দুই বছর শেষ করে তৃতীয় বছরে পা রাখতে যাওয়া বৈশ্বিক মহামারি ওমিক্রনের কারণে আরও দীর্ঘায়িত হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ অবস্থায় প্রাথমিকভাবে ওমিক্রনকে উদ্বেগের কারণ বলেই মনে করা হচ্ছে। এটির বিস্তার রোধে এরই মধ্যে ভ্রমণ বিধিমালা কঠোর করেছে বিভিন্ন দেশ। উৎপত্তিস্থল সাউথ আফ্রিকার সঙ্গে বিমান যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে অনেক দেশ।

পুঁজিবাজারে এরই মধ্যে ওমিক্রনের প্রভাব দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে বিমানসহ পর্যটনের বিভিন্ন খাতে নতুন করে ধসের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। মহামারির প্রথম বছরে ধসের পর বিশ্ব অর্থনীতি যখন ঘুরে দাঁড়ানোর মুখে, তখন ওমিক্রনের কারণে অর্থনীতির গতি থমকে যেতে পারে বলে শঙ্কিত বিনিয়োগকারীরা।

বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও ব্যারেলপ্রতি ১০ ডলার কমেছে।

শেয়ার করুন

তীব্র পানি সংকটে বিক্ষুব্ধ ইরানি শহর, দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন

তীব্র পানি সংকটে বিক্ষুব্ধ ইরানি শহর, দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন

শুকিয়ে যাওয়া জায়ান্দিরুদ নদীর বুকে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ। শুক্রবারের ছবি/এএফপি

ইরানের মধ্যাঞ্চলীয় মালভূমির সবচেয়ে বড় নদী জায়ান্দিরুদের তীরে নদীটিকে ঘিরে গড়ে উঠেছে ইসফাহান শহর। নদীটি শুকিয়ে যাওয়ায় বহুমুখী সংকটে রয়েছেন বাসিন্দারা। এমন পরিস্থিতিতে নদীটির বুকে বিক্ষোভে অংশ নেয় হাজারো মানুষ। শুক্রবারের বিক্ষোভ থেকে পুলিশের দিকে পাথর ছোড়া থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত।

সরকারবিরোধী আন্দোলনে উত্তপ্ত ইরানের মধ্যাঞ্চলীয় ইসফাহান শহর। সহিংস বিক্ষোভের ঘটনায় ৬৭ জনকে গ্রেপ্তারের পর শহরজুড়ে দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করেছে প্রশাসন।

টার্কিশ রেডিও অ্যান্ড টেলিভিশনের (টিআরটি) প্রতিবেদনে বলা হয়, পানির সংকট তীব্র রূপ নেয়ায় প্রায় তিন সপ্তাহ ধরেই আন্দোলন চলছে শহরটিতে। গত ৯ নভেম্বর আন্দোলন শুরুর পর শুক্রবার প্রথম সহিংস হয়ে ওঠেন বিক্ষোভকারীরা।

পরদিন শনিবার ইরান পুলিশের মহাপরিদর্শক হাসান কারামি জানান, নাশকতাকারী ও উসকানিদাতা হিসেবে ৬৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বিক্ষোভকে ‘দাঙ্গা’ আখ্যা দিয়ে তিনি জানান, শুক্রবারের কর্মসূচিতে দুই থেকে তিন হাজার মানুষ অংশ নিয়েছিল।

ইরানের সংবাদ সংস্থা ফার্স ও আইএসএনএ জানিয়েছে, ইরানের মধ্যাঞ্চলীয় মালভূমির সবচেয়ে বড় নদী জায়ান্দিরুদের তীরে নদীটিকে ঘিরে গড়ে উঠেছে ইসফাহান শহর। নদীটি শুকিয়ে যাওয়ায় বহুমুখী সংকটে রয়েছেন বাসিন্দারা।

এমন পরিস্থিতিতে নদীটির বুকে বিক্ষোভে অংশ নেয় হাজারো মানুষ। শুক্রবারের বিক্ষোভ থেকে পুলিশের দিকে পাথর ছোড়া থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত। অনেক জায়গায় অগ্নিসংযোগও করে তারা।

সে সময় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা।

তবে পরদিন শহরের পরিস্থিতি শান্ত ও রাস্তাঘাট থমথমে বলে জানান বাসিন্দারা। শহরের খাদজু সেতুতে মোতায়েন ছিল নিরাপত্তা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য।

ইরানের রাজধানী তেহরানের ৩৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত ইসফাহানে দেশটির অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন নগরী। শহরে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যকলার নিদর্শন বেশ কিছু মসজিদ ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা। এর মধ্যে অন্যতম হলো জায়ান্দিরুদ নদীর খাদজু সেতু।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বিক্ষোভের জেরে কৃষকদের সঙ্গে বৃহস্পতিবার পানিবণ্টন চুক্তিতে পৌঁছেছে স্থানীয় প্রশাসন।

খরা ছাড়াও ইসফাহানে পানি সংকটের অন্যতম কারণ প্রতিবেশী ইয়াজদ্ প্রদেশে জায়ান্দিরুদ নদীর পানির গতিপথ ঘুরিয়ে দেয়া। ওই প্রদেশটিও তীব্র পানি সংকটে ভুগছে।

শেয়ার করুন

ধরা দিল মিল্কি ওয়ের প্রথম ‘পালক’

ধরা দিল মিল্কি ওয়ের প্রথম ‘পালক’

মিল্কি ওয়ের মাঝখানে পালক সদৃশ অংশটি ছয় হাজার থেকে ১৩ হাজার আলোকবর্ষ দূরের দুটি অংশকে যুক্ত করেছে। ছবি: সায়েন্স নিউজ

মানবজাতির ধারক এ ছায়াপথে পালক সদৃশ অংশটি আবিষ্কারের পর একে ‘গঙ্গোত্রী তরঙ্গ’ নাম দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ভারতের দীর্ঘতম গঙ্গা নদীর উৎস যে হিমবাহ, সেটির নামে এ নামকরণ করা হয়েছে।

মনুষ্যজাতির গ্রহ এ পৃথিবীকে ঘিরে থাকা সৌর জগৎ যে ছায়াপথটির সদস্য, সেই মিল্কি ওয়ের প্রথম পরিচিত ‘পালক’ খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। গ্যাসে পরিপূর্ণ সেতুর মতো এই অংশটির মাধ্যমে বৃত্তাকার প্যাঁচবহুল ছায়াপথটির দুটি অংশ দৃশ্যত এক হয়েছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, মিল্কি ওয়ের উপরিভাগের এই অংশটি দেখতে পাখির পালকের মতো। কেন্দ্র থেকে নির্গত ঠাণ্ডা ও ঘন গ্যাসের লম্বা আস্তর এ অংশটি ছায়াপথের দুটি প্রান্তের মধ্যে সংযোগ তৈরি করেছে।

সায়েন্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়. চলতি মাসে বিজ্ঞান সাময়িকী অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল লেটার্সে মূল গবেষণা প্রতিবেদনটি ছাপা হয়েছে। মিল্কি ওয়েতে এবারই প্রথম এ ধরনের কোনো কাঠামো শনাক্ত করেছেন বিজ্ঞানীরা।

মানবজাতির ধারক এ ছায়াপথে পালক সদৃশ অংশটি আবিষ্কারের পর একে ‘গঙ্গোত্রী তরঙ্গ’ নাম দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ভারতের দীর্ঘতম গঙ্গা নদীর উৎস যে হিমবাহ, সেটির নামে এ নামকরণ করা হয়েছে।

জার্মানির কোলোনে ইউনিভার্সিটির অ্যাস্ট্রোফিজিসিস্ট বীণা ভি.এস. জানান, হিন্দিসহ ভারতে প্রচলিত আরও কিছু ভাষায় মিল্কি ওয়েকে বলা হয় ‘আকাশা গঙ্গা’, যার অর্থ হলো ‘আকাশে বহমান গঙ্গা নদী’।

বীণা ভি.এস. ও তার সহকর্মীরা গঙ্গোত্রী তরঙ্গের আবিষ্কারক। চিলির স্যান পেদ্রো ডি আতাকামায় অবস্থিত অ্যাপেক্স টেলিস্কোপের সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন তারা। ঘন ও সহজে শনাক্তযোগ্য বলে শীতল কার্বন মনোঅক্সাইডের খোঁজ করছিলেন তারা, পেয়ে গিয়েছেন গঙ্গোত্রী তরঙ্গের সন্ধান।

বিজ্ঞানীদের ভাষ্যমতে, এই কাঠামোটি মিল্কি ওয়ের ছয় হাজার থেকে ১৩ হাজার আলোকবর্ষ দূরের দুটি অংশকে যুক্ত করেছে। কার্বন মনোঅক্সাইড ছাড়াও এ অংশকে ঘিরে রয়েছে আরও অনেক ধরনের গ্যাস।

ছায়াপথের গঙ্গোত্রী তরঙ্গ অঞ্চলের আরেকটি ভিন্নধর্মী বৈশিষ্ট্য হলো ঢেউয়ের সঙ্গে সাদৃশ্য। হাজারো আলোকবর্ষ দীর্ঘ অংশটিতে সারাক্ষণই ঢেউ খেলে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেছেন বিজ্ঞানীরা, যদিও এর কারণ অস্পষ্ট।

বিজ্ঞানীদের মতে, মিল্কি ওয়ের মতো অন্য ছায়াপথগুলোতেও গ্যাসে পূর্ণ অংশ আছে। কিন্তু মিল্কি ওয়ের ভেতরে থেকে এই ছায়াপথটির মানচিত্র তৈরি করা খুব কঠিন।

তবে ধীরে ধীরে মিল্কি ওয়ের ভেতরে এমন পালক সদৃশ আরও অনেক কাঠামো ও ছায়াপথের অংশ আবিষ্কার হবে বলে মনে করেন তারা। একটি একটি করে অদূর ভবিষ্যতে হয়তো পুরো ছায়াপথটির মানচিত্র এঁকে ফেলাও সম্ভব হবে।

শেয়ার করুন

ওমিক্রন আতঙ্কেও সব দেশের জন্য দুয়ার খুলছে সৌদি

ওমিক্রন আতঙ্কেও সব দেশের জন্য দুয়ার খুলছে সৌদি

সৌদিতে প্রবেশে করোনা প্রতিরোধী টিকার অন্তত এক ডোজ নেয়া থাকবে হবে। ফাইল ছবি

সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর অতিথিদের তিন দিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে বলে জানিয়েছে রিয়াদ। বিবৃতিতে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে ফ্লাইট স্থগিত থাকা আফ্রিকার সাত দেশ থেকে আগতদের বিষয়ে সিদ্ধান্তের কথা।

করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন নিয়ে বিশ্বজুড়ে আতঙ্কের মধ্যেই মহামারিকালীন ভ্রমণ নীতিমালা আরও শিথিল করছে সৌদি আরব। ৪ ডিসেম্বর থেকে শর্ত সাপেক্ষে সব দেশের নাগরিকদের স্বাগত জানাবে সৌদি প্রশাসন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওমিক্রন শনাক্তের জেরে আফ্রিকার সাত দেশ থেকে ফ্লাইট স্থগিতের এক দিন পরই নতুন ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

রিয়াদের পক্ষ থেকে শনিবার জানানো হয়, করোনা প্রতিরোধী টিকার একটি ডোজ নেয়া থাকলেই যেকোনো দেশের নাগরিকরা সৌদি ভূখণ্ডে প্রবেশের অনুমতি পাবেন। আগামী শনিবার থেকে কার্যকর হবে এ নিয়ম।

তবে সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর অতিথিদের তিন দিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে বলেও উল্লেখ করে দেয়া হয়েছে বিবৃতিতে। এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে ফ্লাইট স্থগিত থাকা আফ্রিকার সাত দেশ থেকে আগতদের বিষয়ে সিদ্ধান্তের কথা।

ওমিক্রন ইস্যুতে সৌদি সরকার শুক্রবার সাউথ আফ্রিকা, নামিবিয়া, বতসোয়ানা, জিম্বাবুয়ে, মোজাম্বিক, লেসোথো ও ইসওয়াতিনি থেকে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করে।

একই কারণে আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলীয় দেশগুলোর ওপর শুক্রবার ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করে যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কিছু দেশ। যুক্তরাজ্যে দুই ব্যক্তির দেহে ওমিক্রন শনাক্তের পর শনিবার অতিরিক্ত বিধিনিষেধ জারি করে ব্রিটিশ সরকারও। জার্মানি, ইতালি আর ইসরায়েলেও শনাক্ত হয়েছে করোনার নতুন ধরনটি।

সাউথ আফ্রিকায় গত সপ্তাহে প্রথম শনাক্ত হয় করোনার ওমিক্রন প্রজাতি। প্রাথমিক গবেষণায় এটি উহানে শনাক্ত কোভিড নাইনটিনের আদি রূপের তুলনায় একেবারেই ভিন্ন এবং করোনার অন্য ধরনগুলোর চেয়ে বেশি বিপজ্জনক বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নতুন ধরনটির টিকার কার্যকারিতাকে ফাঁকি দিতে কতটা সক্ষম এবং মানুষ থেকে মানুষে কতটা সহজে সংক্রমণযোগ্য- সেটাই খতিয়ে দেখছেন বিজ্ঞানীরা।

শেয়ার করুন