বেসামরিক হত্যায় কাশ্মীরি জড়িত নয়: ফারুক আব্দুল্লাহ

বেসামরিক হত্যায় কাশ্মীরি জড়িত নয়: ফারুক আব্দুল্লাহ

কাশ্মীরে বেসামরিক নাগরিক হত্যায় কাশ্মীরিদের সংশ্লিষ্টতা নেই বলে জানান জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আব্দুল্লাহ। ছবি: আউটলুক

জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আব্দুল্লাহ বলেন, ‘সাম্প্রতিক এসব হত্যা দুঃখজনক। চক্রান্ত করে এসব ঘটানো হয়েছে। কাশ্মীরের সাধারণ জনগণ কোনোভাবেই এসব হামলায় জড়িত নয়।’

কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু-কাশ্মীরে বেসামরিক নাগরিক হত্যায় কাশ্মীরের সাধারণ মানুষ জড়িত নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল কনফারেন্সের (জেকেএনসি) প্রেসিডেন্ট ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আব্দুল্লাহ।

কাশ্মীরিদের নামে কুৎসা রটাতে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে সাম্প্রতিক হামলাগুলো চালানো হয় বলেও জানান তিনি।

কাশ্মীরের বর্ষীয়ান নেতা ফারুক রোববার সাংবাদিকদের কাছে এসব মন্তব্য করেন বলে এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ফারুক আব্দুল্লাহ বলেন, ‘কেন্দ্রশাসিত জম্মু-কাশ্মীরের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিনষ্ট করার চেষ্টার লক্ষ্যে সম্প্রতি এই হামলাগুলো হয়।’

তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক এসব হত্যা দুঃখজনক। চক্রান্ত করে এসব ঘটানো হয়েছে। কাশ্মীরের সাধারণ জনগণ কোনোভাবেই এসব হামলায় জড়িত নয়।’

শনিবার জম্মু-কাশ্মীরের শ্রীনগর ও পুলওয়ামা জেলায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে বিহারের দুই শ্রমিক নিহত হন।

কাশ্মীরে ২ অক্টোবর থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত পৃথক ঘটনায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের চার সদস্যসহ ১১ বেসামরিক নাগরিক সন্ত্রাসী হামলায় প্রাণ হারান।

ওই সব ঘটনায় কাশ্মীরজুড়ে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ে উপদেষ্টা পর্যায়ের বৈঠক বিষয়ে ফারুক জানান, দুই দেশের বন্দুত্বপূর্ণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় যেকোনো উদ্যোগকে স্বাগতম।

তিনি বলেন, ‘ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যাতে মৈত্রীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে, আমাদের তা প্রার্থনা ও আশা করা উচিত। এটি হলে আমরা শান্তিতে বসবাস করতে পারব।’

জি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরে জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসী হামলায় ৩০ জন বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু হয়।

সাম্প্রতিক হামলার পর জম্মু-কাশ্মীরজুড়ে এখন পর্যন্ত ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ সন্দেহে প্রায় ৯০০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতীয় পুলিশ।

পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে ভারতের নিরাপত্তা বাহিনী। পুলিশের ভাষ্য, গত এক সপ্তাহে ১৪ জন ‘সন্ত্রাসীকে’ হত্যা করা হয়েছে।

পুলিশের মহাপরিদর্শক বিজয় কুমার বলেন, ‘বেসামরিক নাগরিকের প্রাণহানির পর ১৩ সন্ত্রাসী পুলিশের সঙ্গে ৯টি সংঘর্ষে মারা গেছে। আমরা ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ে শ্রীনগরে পাঁচ সন্ত্রাসীর মধ্যে তিনজনকে হত্যা করতে সক্ষম হই।’

আরও পড়ুন:
কেরালায় বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২১, নিখোঁজ বহু
ত্রিপুরা থেকে বিদ্যুৎ ক্রয় আরও ৫ বছর, কমবে দাম
আফগানিস্তান ইস্যুতে ভারতে এনএসএ পর্যায়ের বৈঠক
কেরালায় ভূমিধসে মৃত ১৫, নিখোঁজ ১২
কাশ্মীরে ৬ দিনে ৯ ভারতীয় সেনার মৃত্যু

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মেঘালয় কংগ্রেসের ১১ বিধায়ক নিয়ে তৃণমূলে মুকুল সাংমা

মেঘালয় কংগ্রেসের ১১ বিধায়ক নিয়ে তৃণমূলে মুকুল সাংমা

তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও মেঘালয়ের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মুকুল সাংমা। ছবি: জি নিউজ

তৃণমূলে যোগদানের বিষয়টি নিশ্চিত করে পূর্ব গারো পাহাড়ের প্রভাবশালী নেতা মুকুল সাংমা বলেন, ‘বিরোধীদের মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই পারেন বিজেপিকে পর্যুদস্ত করতে। দেশের গণতন্ত্র ভূলুন্ঠিত হচ্ছে। কিন্তু কংগ্রেস মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করে বিজেপিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারছে না। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আমরা কাজ করব।’

ভারতের মেঘালয় কংগ্রেস ছেড়ে ১১ জন বিধায়ক নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মুকুল সাংমা।

বৃহস্পতিবার রাতের এই ঘটনার মধ্য দিয়ে মেঘালয়ের বিধানসভায় প্রধান বিরোধী দল হতে যাচ্ছে তৃণমূল।

কংগ্রেস নয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারবে বলে মনে করছেন দল ত্যাগ করা নেতারা।

তাদের তৃণমূলে যোগদানের বিষয়টি নিশ্চিত করে পূর্ব গারো পাহাড়ের প্রভাবশালী নেতা মুকুল সাংমা বলেন, ‘বিরোধীদের মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই পারেন বিজেপিকে পর্যুদস্ত করতে।

‘দেশের গণতন্ত্র ভূলুন্ঠিত হচ্ছে। কিন্তু কংগ্রেস মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করে বিজেপিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারছে না। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আমরা কাজ করব।’

২০১০ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন মুকুল সাংমা। বর্তমানে তিনি কংগ্রেসের বিরোধী দলনেতা। কংগ্রেস মেঘালয়ে বিরোধী দলের ভূমিকা পালনে ব্যর্থ বলে মনে করেন এই নেতা। বলেন, ‘দিল্লিকে জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি। যোগ্য নেতৃত্ব খুঁজছিলাম, তাই তৃণমূলে যোগ দিলাম।’

মুকুল সাংমা বলেন, ‘একমাত্র তৃণমূলই বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ক্ষমতা রাখে। তাই এ পরিবারের সদস্য হতে পেরে আমি আপ্লুত।’

৬০ আসন বিশিষ্ট ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মেঘালয়ের বিধানসভায় ৪০ জন বিধায়ক নিয়ে জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ)। আর কংগ্রেস ১৮ জন বিধায়ক নিয়ে মেঘালয় বিধানসভার বিরোধী দলের ভূমিকায় ছিল।

মুকুল সাংমাসহ ১২ জন বিধায়ক তৃণমূলে যোগ দেয়ায় কংগ্রেসের বিধায়ক সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৬ জনে। অন্যদিকে তৃণমূল নতুন করে পেয়েছে ১২ জন বিধায়ক। আসন সংখ্যার ভিত্তিতে এখন মেঘালয় বিধানসভায় বিরোধীদল তৃণমূল।

২০১৮ সালে মেঘালয় বিধানসভা নির্বাচনে লড়াইটা ছিল ন্যাশনাল পিপলস্ পার্টি ও কংগ্রেসের মধ্যে। কিন্তু ৬০ আসন বিশিষ্ট মেঘালয় বিধানসভায় ২১ টি আসনে জয়লাভ করে একক বৃহত্তম দল হয়েও সরকার গঠন করতে পারেনি কংগ্রেস।

এনপিপি (ন্যাশনাল পিপলস্ পার্টি) বিজেপির ২টি আসন আর আঞ্চলিক দলের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করে এনডিএ। আর বিরোধী দলের আসনে বসে কংগ্রেস। পরে তিনজন কংগ্রেস বিধায়ক শাসক শিবিরে যোগ দিলে কংগ্রেসের বিধায়ক কমে দাড়ায় ১৮ জনে।

এদিকে সর্ব ভারতে ক্রমশ শক্তি বৃদ্ধি করে চলছে তৃণমূল। কংগ্রেসের অন্দরে ফাটল ধরিয়ে ত্রিপুরা, আসাম, গোয়া, হরিয়ানার পর মেঘালয় থেকে বিধায়করা কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিচ্ছে।

এ সম্পর্কে বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা মল্লিকার্জুন খাগড়ে সাংবাদিকদের জানান, সোনিয়া গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেসের বৈঠকে ঠিক করা হয়, পেট্রোল-ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় কৃষিজাত সামগ্রী বিক্রির বিষয়ে সংসদে প্রশ্ন তোলা হবে।

একই সঙ্গে, বিজেপি বিরোধিতায় তৃণমূলসহ সব বিরোধীদলের সঙ্গে জোট বাঁধার সিদ্ধান্তও নেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
কেরালায় বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২১, নিখোঁজ বহু
ত্রিপুরা থেকে বিদ্যুৎ ক্রয় আরও ৫ বছর, কমবে দাম
আফগানিস্তান ইস্যুতে ভারতে এনএসএ পর্যায়ের বৈঠক
কেরালায় ভূমিধসে মৃত ১৫, নিখোঁজ ১২
কাশ্মীরে ৬ দিনে ৯ ভারতীয় সেনার মৃত্যু

শেয়ার করুন

ভারতে পুরুষের তুলনায় বাড়ল নারীর সংখ্যা

ভারতে পুরুষের তুলনায় বাড়ল নারীর সংখ্যা

ভারতের জাতীয় পরিবার ও স্বাস্থ্য সমীক্ষার প্রতিবেদনে জানা যায়, দেশটিতে বর্তমানে প্রতি এক হাজার পুরুষের বিপরীতে রয়েছে এক হাজার ২০ জন নারী। ২০০৫-২০০৬ সালের সমীক্ষায়ও পুরুষ এবং নারীর সংখ্যা সমান ছিল। তবে ২০১৫-১৬ সালে এসে এই অনুপাত কমে দাড়িয়েছিল ৯৯১: ১০০০ তে। অর্থাৎ, প্রতি এক হাজার পুরুষের বিপরীতে নারীর সংখ্যা ছিল ৯৯১।

ভারতের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পুরুষের সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেল নারীর সংখ্যা।

সম্প্রতি দেশটির জাতীয় পরিবার ও স্বাস্থ্য সমীক্ষায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।

সমীক্ষার প্রতিবেদনে জানা যায়, দেশটিতে বর্তমানে প্রতি এক হাজার পুরুষের বিপরীতে রয়েছে এক হাজার ২০ জন নারী। ২০০৫-২০০৬ সালেও পুরুষ ও নারীর সংখ্যা সমান ছিল। তবে ২০১৫-১৬ বর্ষে এসে এই অনুপাত কমে দাঁড়িয়েছিল ৯৯১: ১০০০ তে। অর্থাৎ, প্রতি এক হাজার পুরুষের বিপরীতে নারীর সংখ্যা ছিল ৯৯১।

সমীক্ষায় আরও দেখা যায়, বর্তমানে ভারতে প্রতি এক হাজার পুত্রসন্তানের বিপরীতে কন্যাসন্তানের সংখ্যা ৯২৯। ২০১৫-১৬ সালের সমীক্ষায় এ সংখ্যা ছিল এক হাজার পুত্রসন্তানের বিপরীতে ৯১৯ কন্যাসন্তান।

কয়েকটি নির্দিষ্ট রাজ্যের ওপর হওয়া এই সমীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হতেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়, ভারত উন্নত দেশগুলোর দলে নাম লেখাতে চলেছে, এ ফলাফল তারই বহিঃপ্রকাশ। পুরুষের তুলনায় নারীর জনসংখ্যা বেশি হওয়ায় কর্মক্ষেত্রসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর ক্ষমতায়ন ও সুযোগ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে জানানো হয়।

এদিকে জাতীয় পরিবার ও স্বাস্থ্য সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী দেশের ৮৮.৬ শতাংশ শিশুই জন্মগ্রহণ করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। ভারত ধীরে ধীরে সর্বজনীন প্রাতিষ্ঠানিক জন্মগ্রহণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলেও জানানো হয় প্রতিবেদনে। একই সঙ্গে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীদের সাহায্যে প্রসবের পর নবজাতক ও মায়ের মৃত্যুও অনেকাংশেই এড়ানো সম্ভব বলেও জানোনো হয়।

ভারতে বর্তমানে ৭৮ শতাংশ মায়েরাই প্রসবের পর স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে প্রসব-পরবর্তী যত্ন পেয়ে থাকেন। আগে এই হার ছিল ৬২.৪ শতাংশ। প্রসবের পর নবজাতকের পাশাপাশি মায়েরও যত্ন নেয়ায় দেশে প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যুর হার কমানো সম্ভব বলে জানানো হয় বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকেও।

এ ছাড়া প্রসবের পরে এক মাসের মধ্যে শিশু বা মায়ের মৃত্যুর আশঙ্কা বেশি থাকায় প্রসবের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীদের সাহায্য নিতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে প্রতিবেদনে।

আরও পড়ুন:
কেরালায় বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২১, নিখোঁজ বহু
ত্রিপুরা থেকে বিদ্যুৎ ক্রয় আরও ৫ বছর, কমবে দাম
আফগানিস্তান ইস্যুতে ভারতে এনএসএ পর্যায়ের বৈঠক
কেরালায় ভূমিধসে মৃত ১৫, নিখোঁজ ১২
কাশ্মীরে ৬ দিনে ৯ ভারতীয় সেনার মৃত্যু

শেয়ার করুন

কলকাতা পৌরসভায় ভোট ১৯ ডিসেম্বর

কলকাতা পৌরসভায় ভোট ১৯ ডিসেম্বর

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার থেকেই আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর হলো। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আজকেও মনোনয়নপত্র জমা দেয়া যাবে যা, আগামী ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এটি চলবে। ৪ ডিসেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন।

পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা পৌরসভার স্থগিত নির্বাচন আগামী ১৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। ২২ ডিসেম্বর ভোট গণনা শেষে ফল ঘোষণা করা হবে।

বৃহস্পতিবার সকালে এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার থেকেই আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর হলো। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আজকেও মনোনয়নপত্র জমা দেয়া যাবে যা, আগামী ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এটি চলবে। ৪ ডিসেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন।

আইনি জটিলতায় আটকে ছিল পৌর নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা। ১৯ ডিসেম্বর কলকাতা ও হাওড়া পৌরসভায় নির্বাচন করাতে চেয়েছিলো রাজ্য সরকার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু রাজ্যের সব পৌরসভার ভোট একসঙ্গে গ্রহণ করতে আবেদন জানিয়ে রাজ্য বিজেপি সহসভাপতি প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন।

কিন্তু গত সোমবার আদালতে হলফনামা দিয়ে রাজ্য সরকার জানায়, এই মুহূর্তে রাজ্যে ১২২ টি পৌরসভা মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে। একসঙ্গে এতগুলো পৌরসভার ভোট করানো সম্ভব নয়। একসঙ্গে ভোট করার মতো ইভিএম মজুত নেই রাজ্য নির্বাচন কমিশনের হাতে।

তাই নির্বাচন কমিশনের পথ অনুসরণ করে কয়েক দফায় ভোট গ্রহণের জন্য সুপারিশ করেছে রাজ্য সরকার। এ মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী সোমবার।

এর মধ্যে আবার হাওড়া-বালি পৌরসভার বিচ্ছেদ বিলে সই করেননি রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। তাই হাওড়াকে বাদ দিয়ে শুধুমাত্র কলকাতা পৌরসভার ভোটের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচন কমিশন শুধু কলকাতা পৌরসভার ভোটের বিজ্ঞপ্তি জারি করায় নানা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিভিন্ন দলের নেতারা।

এ প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার প্রতিক্রিয়ায় জানান, ‘এটি শাসক দলের নির্দেশ এবং নির্বাচন কমিশনের আত্মসমর্পণের বহিঃপ্রকাশ।’

তবে বিজেপি নেতার মন্তব্যের বিপরীতে রাজ্যসভার সাংসদ ও বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা সৌগত রায় জানান, ‘রাজ্য নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন সংস্থা। এ সিদ্ধান্তে রাজ্য সরকারের কোনো হাত নেই। সরকার চায় রাজ্যের সব পৌরসভার নির্বাচন দ্রুত হোক।'

সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘এটার যুক্তিটা কী? পাগলা দাশুর রাজত্ব চলছে। বাকিগুলোতে ভোট ঘোষণা করলো না কেন? এই প্রশ্ন থাকবেই। নির্বাচন হবে, আমরা লড়বো। লড়াইয়ের মতো পরিস্থিতি যেন থাকে।’

নির্বাচন নিয়ে কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী বলেন, ‘নির্বাচন যেন প্রহসনে পরিণত না হয়। বিনা ভয়-ভীতিতে মানুষ যেন ভোট দিতে পারে। সরকারের কাছে এটাই আবেদন।’

করোনা পরিস্থিতির কারণে গতবছর থেকেই বাকি রয়েছে রাজ্যের ১১২ টি পৌর সভার ভোট। বিজেপি রাজ্যের সব পৌরসভার ভোট গ্রহণ একসঙ্গে চাইলেও রাজ্য নির্বাচন কমিশনের আজকের বিজ্ঞপ্তিতে কেবলমাত্র কলকাতা পৌরসভার ভোট গ্রহণের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। তাই কমিশনের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আবার আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছে রাজ্য বিজেপি।

আরও পড়ুন:
কেরালায় বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২১, নিখোঁজ বহু
ত্রিপুরা থেকে বিদ্যুৎ ক্রয় আরও ৫ বছর, কমবে দাম
আফগানিস্তান ইস্যুতে ভারতে এনএসএ পর্যায়ের বৈঠক
কেরালায় ভূমিধসে মৃত ১৫, নিখোঁজ ১২
কাশ্মীরে ৬ দিনে ৯ ভারতীয় সেনার মৃত্যু

শেয়ার করুন

সবক্ষেত্রেই ব্যর্থ মোদি সরকার: সুব্রমানিয়াম

সবক্ষেত্রেই ব্যর্থ মোদি সরকার: সুব্রমানিয়াম

টুইটে মোদিকে ব্যর্থ বলে মন্তব্য করেন সাংসদ সুব্রমানিয়াম স্বামী। ছবি: সংগৃহীত

নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে টুইটে বিজেপি সংসদ সদস্য সুব্রমানিয়াম স্বামী লেখেন, 'মোদি সরকারের রিপোর্ট কার্ড- অর্থনীতি ব্যর্থ, সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যর্থ, আফগানিস্তানে বিদেশনীতি ব্যর্থ, জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে পেগাসাস সমস্যা, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে কাশ্মীরে হতাশা।' এর জন্য দায়ী কে?

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একজন ব্যর্থ সরকার বলে মন্তব্য করেছেন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) রাজ্যসভার সংসদ সদস্য সুব্রমানিয়াম স্বামী।

বৃহস্পতিবার একটি টুইটে তিনি এ কথা বলেন।

দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, অর্থনীতি, সীমান্ত নিরাপত্তা, বিদেশনীতির মতো বিভিন্ন ইস্যুতে মোদি সরকারের কাজের একটি প্রতিবেদন তৈরি করে প্রতিটি শাখায় তাকে ব্যর্থ মনে করেন এই সংসদ সদস্য।

সুব্রমানিয়াম স্বামী প্রায়ই টুইটে মোদি সরকারের বিভিন্ন নীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। রাজনৈতিক মহলে বিভিন্ন সময় বেফাঁস মন্তব্য করায় তাকে অনেকবার শাসিয়েছেনও মোদি। এরপর থেকে এ বিজেপি সংসসদ মুখে কুলুপ এঁটে থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব রয়েছেন।

নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে টুইটে তিনি লিখেছেন, ‌‘মোদি সরকারের রিপোর্ট কার্ড- অর্থনীতি ব্যর্থ, সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যর্থ, আফগানিস্তানে বিদেশনীতি ব্যর্থ, জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে পেগাসাস সমস্যা, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে কাশ্মীরে হতাশা।' এর জন্য দায়ী কে?

মোদির রীতিনীতি নিয়ে আলোচনায় থাকলেও রাজনৈতিক অঙ্গনে ও নিজেদের দলে সুব্রমানিয়াম স্বামী সব সময় প্রশ্নবিদ্ধ চরিত্র। সর্বশেষ বুধবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জল্পনা-কল্পনা।

তৃণমূল নেত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পরে এই বিজেপি নেতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসা করেও টুইট করেছেন। এতে বলেন, ‘আমি যেসব রাজনীতিবিদের সঙ্গে দেখা করেছি বা যাদের সঙ্গে কাজ করেছি, তাদের মধ্যে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, জয়প্রকাশ নারায়ণ, মোরারজি দেশাই, রাজীব গান্ধী, চন্দ্রশেখর এবং পিভি নরসিমা রাও। তাদের কথা ও কাজের কোনো পার্থক্য নেই। ভারতীয় রাজনীতিতে এটি বিরল গুণ।'

মমতার সঙ্গে দেখা করার পর বিজেপি সংসদ সদস্যকে টিএমসিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি শুধু বলেছিলেন, তারা সব সময় একসঙ্গে আছেন।

স্বামী এই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর না দিলেও সেই বৈঠক থেকে অনেক অর্থ টানা হচ্ছে। কারণ বিজেপি নেতৃত্ব স্বামীকে নিয়ে খুশি নয়। এর মূলেও রয়েছে প্রায়ই মোদি সরকারকে প্রশ্নবাণে বিদ্ধ করে তাকে বিড়ম্বনায় ফেলা। স্বামীর সমালোচনা বিরোধীদের কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করার সুযোগ দেয় বলে মনে করেন অনেক বিজেপি নেতা।

আরও পড়ুন:
কেরালায় বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২১, নিখোঁজ বহু
ত্রিপুরা থেকে বিদ্যুৎ ক্রয় আরও ৫ বছর, কমবে দাম
আফগানিস্তান ইস্যুতে ভারতে এনএসএ পর্যায়ের বৈঠক
কেরালায় ভূমিধসে মৃত ১৫, নিখোঁজ ১২
কাশ্মীরে ৬ দিনে ৯ ভারতীয় সেনার মৃত্যু

শেয়ার করুন

বাইডেনের গণতন্ত্র সম্মেলন, ১১০ দেশে নেই বাংলাদেশ

বাইডেনের গণতন্ত্র সম্মেলন, ১১০ দেশে নেই বাংলাদেশ

স্বৈরাচারী মানসিকতার জন্য বিতর্কিত ব্রাজিলের কট্টর ডানপন্থি ও ট্রাম্প সমর্থক প্রেসিডেন্ট জায়ার বলসোনারোকেও গণতন্ত্র সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ছবি: এএফপি

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন ফোনে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের এ সম্মেলনে আমন্ত্রণ না পাওয়া বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের কোনো বিষয় নয়। ওরা কয়েক দিন পরপর এমন কিছু একটা করে; যাদের ইচ্ছা দাওয়াত দেয়, যাদের ইচ্ছা দেয় না। একবার ৩০টা দেশ নিয়ে আয়োজন করেছিল। তখন এদিককার অন্য কোনো দেশকে আমন্ত্রণ জানায়নি, আমাদের জানিয়েছিল। এখন কেন, কাকে তারা আমন্ত্রণ জানায় বা জানায় না, সে বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না। আমরা উদ্বিগ্ন নই। উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণও নেই। বাকিটা তাদের জিজ্ঞেস করুন।’

বিশ্বের শতাধিক দেশকে সঙ্গে নিয়ে ভার্চুয়াল ডেমোক্রেসি সামিট করতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এরই মধ্যে ১১০টি দেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ওয়াশিংটন। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, মালদ্বীপ থাকলেও আমন্ত্রিত দেশগুলোর তালিকায় নেই বাংলাদেশ।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় এ সম্মেলনে আমন্ত্রিত দেশগুলোর তালিকা মঙ্গলবার প্রকাশ করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়, পশ্চিমা বিশ্বের প্রধান মিত্র দেশগুলোর পাশাপাশি ইরাক, ভারত, পাকিস্তানকেও আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বাইডেন।

আমন্ত্রণ পায়নি যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ চীন; যদিও চীনশাসিত দ্বীপ অঞ্চল তাইওয়ান সম্মেলনে ডাক পেয়েছে। ওয়াশিংটনের এ পদক্ষেপ বেইজিংকে আরও ক্ষুব্ধ করে তুলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

আমন্ত্রণ না পাওয়া দেশগুলোর মধ্যে আরও আছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মিত্র তুরস্ক। উত্তর আটলান্টিক প্রতিরক্ষা জোট ন্যাটোর সদস্য হিসেবে ওয়াশিংটনের অন্যতম সহযোগী আঙ্কারা।

বাইডেনের গণতন্ত্র সম্মেলন, ১১০ দেশে নেই বাংলাদেশ
গণতন্ত্র শীর্ষ সম্মেলনে বাইডেনের আমন্ত্রিত দেশগুলোর তালিকা

৯ ও ১০ ডিসেম্বরের অনলাইন এ সম্মেলনে মধ্যপ্রাচ্য থেকে অংশ নেবে কেবল ইসরায়েল ও ইরাক। আরব বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মিত্র সৌদি আরব, মিসর, জর্ডান, কাতার আর সংযুক্ত আরব আমিরাতের নামও আমন্ত্রিত দেশের তালিকায় খুঁজে পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, দক্ষিণ এশিয়ায় সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাইডেনের আমন্ত্রণ পায়নি তালেবানশাসিত আফগানিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ভুটান ও বাংলাদেশসহ চার দেশ।

যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্টের ডাকা গণতন্ত্র সম্মেলনে বাংলাদেশের আমন্ত্রণ না পাওয়ার বিষয়টি উদ্বেগ হিসেবে দেখছেন না পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

ফোনে নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের এ সম্মেলনে আমন্ত্রণ না পাওয়া বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের কোনো বিষয় নয়। ওরা কয়েক দিন পরপর এমন কিছু একটা করে; যাদের ইচ্ছা দাওয়াত দেয়, যাদের ইচ্ছা দেয় না।

‘একবার ৩০টা দেশ নিয়ে আয়োজন করেছিল। তখন এদিককার অন্য কোনো দেশকে আমন্ত্রণ জানায়নি, আমাদের জানিয়েছিল। এখন কেন, কাকে তারা আমন্ত্রণ জানায় বা জানায় না, সে বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না। আমরা উদ্বিগ্ন নই। উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণও নেই। বাকিটা তাদের জিজ্ঞেস করুন।’

ব্রাজিলের কট্টর ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন জো বাইডেন। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থক বলসোনারো ট্রাম্পের মতোই নানা কারণে বিশ্বজুড়ে বিতর্কিত; স্বৈরাচারী আচারের জন্য ব্যাপক সমালোচিতও।

ইউরোপের মধ্যে মানবাধিকার ইস্যুতে বিতর্কিত পোল্যান্ড আমন্ত্রণ পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র আয়োজিত সম্মেলনে। কিন্তু কট্টর জাতীয়তাবাদী প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওরবান নেতৃত্বাধীন হাঙ্গেরি আমন্ত্রণ পায়নি।

আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, সাউথ আফ্রিকা, নাইজেরিয়া ও নাইজারের নাম রয়েছে আমন্ত্রিত দেশের তালিকায়।

শতাধিক দেশের অংশগ্রহণে ভার্চুয়াল গণতন্ত্র সম্মেলনের আয়োজন করার বিষয়ে চলতি বছরের আগস্টে ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। জানায়, স্বৈরাচার প্রতিরোধ, দুর্নীতি দমন ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল মনোভাবের প্রচার ও প্রসার বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া ও বিভিন্ন দেশকে অঙ্গীকারবদ্ধ করার লক্ষ্যে নেয়া হয়েছে এ পদক্ষেপ।

আরও পড়ুন:
কেরালায় বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২১, নিখোঁজ বহু
ত্রিপুরা থেকে বিদ্যুৎ ক্রয় আরও ৫ বছর, কমবে দাম
আফগানিস্তান ইস্যুতে ভারতে এনএসএ পর্যায়ের বৈঠক
কেরালায় ভূমিধসে মৃত ১৫, নিখোঁজ ১২
কাশ্মীরে ৬ দিনে ৯ ভারতীয় সেনার মৃত্যু

শেয়ার করুন

এবার ফিরহাদের বিরুদ্ধে ত্রিপুরা বিজেপির এফআইআর

এবার ফিরহাদের বিরুদ্ধে ত্রিপুরা বিজেপির এফআইআর

পশ্চিমবঙ্গের পরিবহনমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। ছবি: সংগৃহীত

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, গত ২০ নভেম্বর একটি নির্বাচনি জনসভায় ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবকে হেয় করে বক্তব্য দেন ফিরহাদ। মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মানহানিকর যেসব মন্তব্য করা হয়, তা অপমানজনক।

সায়নী ঘোষের পর এবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পরিবহনমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের বিরুদ্ধে এফআইআর করেছেন ত্রিপুরার দুই বিজেপি নেতা।

ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবকে নিয়ে উসকানিমূলক ও অবমাননাকর বক্তব্য দেয়ার অভিযোগে সোমবার আগরতলার সোনামুড়া থানায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন উত্তম ও সোহেল রানা।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, গত ২০ নভেম্বর একটি নির্বাচনি জনসভায় বিপ্লব দেবকে হেয় করে বক্তব্য দেন ফিরহাদ। মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মানহানিকর যেসব মন্তব্য করা হয়, তা অপমানজনক।

অভিযোগকারীরা জানান, ফিরহাদ জনসভায় বলেন, ‘তুই এখানে আমায় একটা মারলে, ওখানে ৫ মিনিটে ৫টা মারব।’ তিনি রাজ্যের শান্তি নষ্টের চেষ্টা করছেন। তার বক্তব্যে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক সহিংসতা বেড়েছে। এ কারণে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে।

তবে অভিযোগকে উড়িয়ে দিয়ে তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘যা পারে করুক, পাগলে কিনা বলে, ছাগলে কিনা খায়।’

আগামী ২৫ নভেম্বর ত্রিপুরা পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রথমবারের মতো তৃণমূল কংগ্রেস ত্রিপুরার পৌর ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এ উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গ থেকে একঝাঁক তৃণমূল নেতা-নেত্রী ত্রিপুরায় নির্বাচনি প্রচারে গিয়ে বিজেপির হামলার মুখে পড়ে। দুই দলের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এদিকে বামপন্থিরাও বিজেপির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সৃষ্টির অভিযোগ তুলেছে।

ত্রিপুরার পরিস্থিতি নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূল শীর্ষ আদালতে মামলা করলে আদালত শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দেয়।

এর পরও তৃণমূলের যুব সভাপতি সায়নী ঘোষের ওপর বিজেপির হামলা ও প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় সোমবার শীর্ষ আদালতের রায় অবমাননার মামলা করে তৃণমূল কংগ্রেস।

মামলার শুনানির পর আদালত ত্রিপুরার ডিজি ও স্বরাষ্ট্রসচিবকে রাজ্যের রাজনৈতিক সহিংসতা রুখতে কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, তা মঙ্গলবার দুপুরের মধ্যে জানাতে নির্দেশ দিয়েছে।

আরও পড়ুন:
কেরালায় বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২১, নিখোঁজ বহু
ত্রিপুরা থেকে বিদ্যুৎ ক্রয় আরও ৫ বছর, কমবে দাম
আফগানিস্তান ইস্যুতে ভারতে এনএসএ পর্যায়ের বৈঠক
কেরালায় ভূমিধসে মৃত ১৫, নিখোঁজ ১২
কাশ্মীরে ৬ দিনে ৯ ভারতীয় সেনার মৃত্যু

শেয়ার করুন

ভারতে ৩ কৃষি আইন বাতিলে এক বিল

ভারতে ৩ কৃষি আইন বাতিলে এক বিল

গত শুক্রবার কৃষি আইন বাতিলে মোদির ঘোষণার পর উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন ভারতের কৃষকরা। সাম্প্রতিক ছবি/এএফপি

প্রস্তাবিত বিলে বাতিল হতে যাওয়া তিনটি কৃষি আইন সংশ্লিষ্ট সব ধরনের সরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর নেয়া সব সিদ্ধান্তও অকার্যকর হিসেবে গণ্য হবে। কৃষকদের দাবি অনুযায়ী, পণ্য ক্রয়ে সরকারের মিনিমাম সাপোর্ট প্রাইস বা এমএসপির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বিধান রাখার কথাও ভাবছে সরকার।

ভারতে বিতর্কিত তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহারের লক্ষ্যে পার্লামেন্টে বিল আনতে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। কৃষকদের কাছ থেকে সরকারিভাবে কৃষিপণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে ন্যূনতম মূল্য (এমএসপি) নির্ধারণ ইস্যুতে দোটানায় আছে দিল্লি।

সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়, তিনটি কৃষি আইন বাতিলে সরকারের বিল প্রণয়নের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে বিলটি।

কৃষিবিষয়ক তিনটি পৃথক আইন বাতিলে একটি সামগ্রিক বিল প্রণয়ন করেছে মোদি সরকার।

কৃষকদের কাছ থেকে পণ্য ক্রয়ে সরকারের মিনিমাম সাপোর্ট প্রাইস বা এমএসপির বিষয়টি সাধারণ বিধিমালা হিসেবে বিলে উল্লেখ করা হবে; নাকি কৃষকদের দাবি অনুযায়ী এমএসপির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বিধিমালা থাকবে- সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার অপেক্ষায় রয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়।

প্রস্তাবিত বিলে বাতিল হতে যাওয়া তিনটি কৃষি আইন সংশ্লিষ্ট সব ধরনের সরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর নেয়া সব সিদ্ধান্তও অকার্যকর হিসেবে গণ্য হবে।

গত ১৯ নভেম্বর জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে আইন তিনটি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বছরের বেশি সময় ধরে রাজপথে কৃষকদের অনড় অবস্থান, বিক্ষোভ-প্রতিবাদের পর আসে ঘোষণাটি।

মোদি জানান, কৃষি আইনগুলো কার্যকরের বিষয়ে কৃষকদের সম্মত করাতে পারেনি বলে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত পাল্টাতে বাধ্য হয় সরকার।

তবে কৃষকদের কল্যাণই এসব আইনের লক্ষ্য ছিল দাবি করে মোদি বলেন, কৃষকদের ছোট একটি অংশ এসব আইনের বিরুদ্ধে ছিল। তাদের আইনগুলোর বিষয়ে যথাযথ ধারণা দিতে দীর্ঘদিন চেষ্টা চালিয়ে গেছে সরকার।

জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে মোদি আরও বলেন, ‘আমাদের তপস্যায় হয়তো কোনো ঘাটতি ছিল, যে কারণে কৃষকদের আইনগুলোর প্রয়োজন সম্পর্কে বোঝাতে পারিনি আমরা। তবে আমরা কাউকে দোষ দিই না। যা আমি করছিলাম, তা কৃষকদের কল্যাণে ছিল। সারা দেশের জন্য সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করছি।’

গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আগে আকস্মিক এ ঘোষণা দেন মোদি।

মোদির এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও এখনই বাড়ি ফিরছেন না বলে জানিয়েছেন কৃষক নেতারা। পার্লামেন্টে পাস হওয়া আইন পার্লামেন্টে প্রত্যাহার না হওয়া এবং এমএসপিসহ কৃষকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্য বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনায় না বসা পর্যন্ত রাজপথে বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

তিন কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে কৃষকদের আন্দোলন চলছে। প্রায় এক বছর ধরে বাড়ি ফেরেননি বিক্ষোভরত কৃষকরা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘতম সময় ধরে চলা আন্দোলন কৃষকদের এ বিক্ষোভ।

পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ ও রাজস্থান থেকে আসা লাখো কৃষক রাজধানী নয়াদিল্লিসংলগ্ন প্রধান মহাসড়কগুলোর ছয়টি স্থানে তাঁবু খাটিয়ে থাকছেন। তীব্র শীত, দাবদাহ, ঝড়-বৃষ্টি এমনকি করোনাভাইরাস মহামারিসহ যাবতীয় প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে দাবি আদায়ে অনড় থেকেছেন তারা।

দীর্ঘ এ সময়ে প্রাণ গেছে আন্দোলনরত প্রায় ৭০০ কৃষকের।

২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে পার্লামেন্টে কৃষি আইন তিনটি পাস করে নরেন্দ্র মোদির সরকার। কৃষকদের দাবি, এসব আইনের ফলে বস্তুত কৃষি খাতের বেসরকারীকরণ ঘটবে এবং খাতটি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়বে। কারণ আইনগুলোতে সরকার নিয়ন্ত্রিত পাইকারি বাজারের চেয়েও কম দামে পণ্য কেনার সুযোগ দেয়া হয়েছে ক্রেতাদের। এতে উৎপাদক পর্যায়ে ন্যূনতম দামও মিলবে না বলে শঙ্কা কৃষকদের।

ক্ষুদ্র চাষিদের মতে, বড় বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে দৌড়ে পিছিয়ে পড়বেন তারা। এতে গম ও চালের মতো প্রধান শস্যগুলো অনেক কম দামে বিক্রি করতে হবে তাদের।

যদিও মোদি সরকারের দাবি ছিল, কৃষি আইন সংস্কারের ফলে কৃষকদের জন্য নতুন সুযোগ ও ভালো দাম পাওয়ার পথ উন্মুক্ত হবে।

১৩০ কোটি জনসংখ্যার দেশ ভারতের অর্ধেক বাসিন্দাই জীবিকা অর্জনের জন্য কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল। দেশটির ২ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির প্রায় ১৫ শতাংশই কৃষিনির্ভর।

আরও পড়ুন:
কেরালায় বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২১, নিখোঁজ বহু
ত্রিপুরা থেকে বিদ্যুৎ ক্রয় আরও ৫ বছর, কমবে দাম
আফগানিস্তান ইস্যুতে ভারতে এনএসএ পর্যায়ের বৈঠক
কেরালায় ভূমিধসে মৃত ১৫, নিখোঁজ ১২
কাশ্মীরে ৬ দিনে ৯ ভারতীয় সেনার মৃত্যু

শেয়ার করুন