এস্কোবারের জলহস্তীগুলোকে ‘খোজা’ করা হচ্ছে

এস্কোবারের জলহস্তীগুলোকে ‘খোজা’ করা হচ্ছে

এস্কোবারের জলহস্তির বংশধররা। ছবি: বিবিসি

পাবলো নিহত হওয়ার পরও তার জলহস্তীরা এখনও টিকে আছে। শুধু টিকে থাকাই নয়, এরা বংশবৃদ্ধি করে এখন অনেক হয়ে গেছে। এদের কাছ থেকে দেশের জলাভূমিগুলোকে নিরাপদ রাখাই এখন কলম্বিয়ার সরকারের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ।

মাদক সাম্রাজ্যের বাদশা বলা হয় কলোম্বিয়ার পাবলো এস্কোবারকে। ১৯৯৩ সালে তাকে ধরার জন্য গঠিত বিশেষ বাহিনী সার্চ ব্লকের এক অভিযানে নিহত হয়েছিলেন পাবলো।

মৃত্যুর আগে কোকেন ব্যবসার মধ্য দিয়ে বিপুল অর্থ সম্পদের পাহাড় গড়েছিলেন। অনেকেই দাবি করেন, সেই সময়ে পাবলোই ছিলেন পৃথিবীর সবচেয়ে ধনি ব্যক্তি। কলম্বিয়ায় বসে আমেরিকায় কোকেন চালানের নেতৃত্ব দিতেন তিনি। চলতেন নিজের খেয়ালখুশি মতো।

এমনই এক খেয়াল থেকে নিজ মালিকানাধীন অন্তত ৭ হাজার একরের একটি বিশাল এলাকায় কতগুলো জলহস্তী পালতে শুরু করেন পাবলো। কারণ ওই এলাকাটিতে বেশ কিছু লেকও ছিল।

পাবলো নিহত হওয়ার পরও তার জলহস্তীরা এখনও টিকে আছে। শুধু টিকে থাকাই নয়, এরা বংশবৃদ্ধি করে এখন অনেক হয়ে গেছে। এদের কাছ থেকে দেশের জলাভূমিগুলোকে নিরাপদ রাখাই এখন কলম্বিয়ার সরকারের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ।

পাবলোর মৃত্যুর পর তার সেই এলাকাটি সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল। পরে তিনটি মাদি জলহস্তী ওই এলাকা ছেড়ে পালিয়েছিল। কলম্বিয়ায় জলহস্তীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে ওই তিনটি জলহস্তীকেও দায়ী করা হয়। কারণ এগুলো ছিল উচ্চ উৎপাদনশীল।

গবেষকরা আশঙ্কা করছেন, এখনই জন্ম নিয়ন্ত্রণ না করলে ২০২৪ সালের মধ্যে দেশটিতে জলহস্তীর সংখ্যা দেড় হাজার ছাড়িয়ে যাবে।

শনিবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে এস্কোবারের এলাকাটিতে থাকা ৮০টি জলহস্তীর মধ্যেই ২৪টিকে ওষুধ প্রয়োগ করে খোজা করা হয়েছে।

এস্কোবারের নিজস্ব সে সাফারি পার্কে শুধু জলহস্তীই নয়, জেব্রা, হাতি, উটপাখি, উট ও জিরাফও ছিল।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ব্লাউজ নিয়ে ঝগড়ায় স্ত্রীর ‘আত্মহত্যা’

ব্লাউজ নিয়ে ঝগড়ায় স্ত্রীর ‘আত্মহত্যা’

প্রতীকী ছবি

দর্জি স্বামী পছন্দের ব্লাউজ বানাতে না পারায় তার প্রতি বিরক্ত ছিলেন বিজয়ালক্ষ্মী নামে ৩৫ বছর বয়সী ওই নারী। বিষয়টি নিয়ে ঝগড়া করার পর শয়নকক্ষে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তার স্কুলগামী দুটি সন্তান রয়েছে।

স্বামী পেশায় দর্জি। অথচ স্ত্রীর জন্য মনমতো ব্লাউজ বানাতে পারেননি। এই নিয়ে ঝগড়া। এর জেরে ‘আত্মহত্যা’ করে বসেছেন ওই নারী।

এমনই এক ঘটনা ঘটেছে ভারতের হায়দরাবাদে আম্বারপেট এলাকার গোলানকা থিরু মালা নগরে।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানা যায়, দর্জি স্বামী পছন্দের ব্লাউজ বানাতে না পারায় তার প্রতি বিরক্ত ছিলেন বিজয়ালক্ষ্মী নামের ৩৫ বছর বয়সী ওই নারী। বিষয়টি নিয়ে ঝগড়া করার পর শয়নকক্ষে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তার স্কুলগামী দুটি সন্তান রয়েছে।

জীবিকার প্রয়োজনে বিজয়ালক্ষ্মীর স্বামী বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে শাড়ি ও ব্লাউজ সেলাই করেন। এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের কাপড়ও সেলাই করেন তিনি। শনিবার বিজয়ালক্ষ্মীর জন্য একটি ব্লাউজ সেলাই করেছিলেন। ব্লাউজটি পছন্দ হয়নি স্ত্রীর।

শুরু হয় ঝগড়া। বিজয়লক্ষ্মী তার ব্লাউজটি পুনরায় সেলাই করে দিতে স্বামীকে অনুরোধ করেছিলেন, কিন্তু তিনি রাজি হননি। এতে আরও ক্ষুব্ধ বিজয়লক্ষ্মী। পরে শিশুরা স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে শয়নকক্ষের দরজা বন্ধ দেখতে পায়। তারা নক করতে থাকে, কিন্তু কোনো সাড়া মেলেনি।

বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত বাড়ি ফেরেন বিজয়লক্ষ্মীর স্বামী। দরজা ভেঙে স্ত্রীকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান তিনি।

পরে স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি পুলিশকে জানালে তারা এসে মরদেহ উদ্ধার করে। এই ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে, চলছে তদন্ত।

শেয়ার করুন

রোবট মাছে কেমো হবে নির্ভুল, থাকবে না পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

রোবট মাছে কেমো হবে নির্ভুল, 
থাকবে না পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

চীনা বিজ্ঞানীদের আবিষ্কৃত রোবট মাছ। ছবি: ডেইলি মেইল

বর্তমানে ক্যানসার চিকিৎসায় কেমোর ওষুধ রক্তের মাধ্যমে শরীরে ছড়িয়ে ক্যানসার কোষের সঙ্গে যুদ্ধ করে। এই যুদ্ধে অসংখ্য সুস্থ কোষও মারা যায়। এর প্রভাবে রোগীর শরীরে বিভিন্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

অতি ক্ষুদ্র রোবটটি দেখতে ঠিক মাছের মতো। ক্যানসার প্রতিরোধে এবার এই রোবট মাছকেই কাজে লাগাতে চাইছেন বিজ্ঞানীরা। কেমোথেরাপির সঙ্গে এই বস্তুটিকে সরাসরি টিউমারে পাঠানো হবে। কেমোথেরাপিতে শরীরে যেসব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়, এই পদ্ধতিতে তা থেকে মুক্তি পাবেন রোগীরা।

ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতি ক্ষুদ্র রোবট মাছগুলো আয়তনে এক মিলিমিটারের ১০০ ভাগের এক ভাগের সমান। বিশেষ থ্রিডি প্রিন্টিংয়ের মাধ্যমে একটি জেল থেকে এগুলো সৃষ্টি করেছেন এক দল চীনা বিজ্ঞানী। ভিন্ন পিএইচ মাত্রায় গেলে এরা আকৃতি পরিবর্তন করে।

আবিষ্কারের পর রোবট মাছটিগুলোকে আয়রন অক্সাইড সল্যুশনে চুবিয়ে রেখে বিজ্ঞানীরা দেখতে পান, এগুলোর মধ্যে চৌম্বক শক্তির সৃষ্টি হয়েছে। কেমো চিকিৎসায় এই চৌম্বক শক্তিকেই কাজে লাগানো হবে।

ক্যানসার চিকিৎসায় এই মাছগুলোকে প্রথমে রক্তনালীতে ইনজেকশনের মাধ্যমে ছেড়ে দেয়া হবে। পরে চৌম্বক শক্তি এদের নিয়ে যাবে টিউমারের কাছে।

ক্যানসার কোষগুলো টিউমারের চারপাশের রক্তরসে থাকা পিএইচ লেভেলকে আরও অম্লীয় করে তোলে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই কেমোর ওষুধ নিয়ে সেখানে হাজির হবে রোবট মাছ। পরে ভিন্ন পিএইচ মাত্রার সংস্পর্শে যাওয়ায় এগুলোর আকৃতির পরিবর্তন ঘটবে। এক পর্যায়ে এরা সঙ্গে নিয়ে যাওয়া কেমোর ওষুধ মুখ হা করে ছেড়ে দেবে।

প্রাথমিকভাবে মাছগুলোর এমন আচরণ কাচের পাত্রে পরীক্ষা করে দেখেছেন বিজ্ঞানীরা। চিকিৎসায় ব্যবহারের আগে এগুলোর আকৃতি আরও ছোট করার চিন্তা করা হচ্ছে।

বর্তমানে ক্যানসার চিকিৎসায় কেমোর ওষুধ রক্তের মাধ্যমে শরীরে ছড়িয়ে ক্যানসার কোষের সঙ্গে যুদ্ধ করে। এই যুদ্ধে অসংখ্য সুস্থ কোষও মারা যায়। এর প্রভাবে রোগীর শরীরে বিভিন্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়। শারীরিক অস্বস্তি ও চুল পড়ে যাওয়া এর অন্যতম।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, রোবট মাছ শুধু ক্যানসার কোষগুলোকেই নিশানা করবে, এতে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মুক্ত থাকবেন রোগীরা।

শেয়ার করুন

ফল ও সবজির আর্ট

ফল ও সবজির আর্ট

প্রথমে তিনি গ্রোসারি দোকান থেকে বিভিন্ন ফলমূল এবং সবজি কিনে আনেন। তারপর সেগুলোতে খোদাই করে করে নানা রকম আকর্ষণীয় প্যাটার্ন তৈরি করেন। এর মধ্যে জ্যামিতিক ডিজাইন থেকে শুরু করে ঐতিহ্যবাহী মোফিট এবং পশুপাখির আকৃতিও থাকে।

উপকরণ শুধু একটি জাকটু ছুরি আর কিছু ফল-সবজি। জাপানের শিল্পী গাকু এই ছুরি দিয়েই ওই ফল ও সবজিতে খোদাই করে করে তৈরি করছেন অভূতপূর্ব সব ভাস্কর্য। যদিও ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু তৈরি করার পর ওই ফল বা সবজিগুলোর সৌন্দর্য দেখে আশ্চর্য না হয়ে উপায় নেই। অডিটি সেন্ট্রালের এক প্রতিবেদন জানাচ্ছে, গাকু জাপানের ঐতিহ্যবাহী খাদ্য-খোদাই আর্ট মুকিমোনো থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই এই কাজগুলো করতে আগ্রহী হয়েছিলেন।

প্রথমে তিনি গ্রোসারি দোকান থেকে বিভিন্ন ফলমূল এবং সবজি কিনে আনেন। তারপর সেগুলোতে খোদাই করে নানা রকম আকর্ষণীয় প্যাটার্ন তৈরি করেন। এর মধ্যে জ্যামিতিক ডিজাইন থেকে শুরু করে ঐতিহ্যবাহী মোফিট এবং পশুপাখির আকৃতিও থাকে। এসব করতে সবার প্রথমে দরকার হয় অসীম ধৈর্যক্ষমতা।

তবে গাকুর বিশেষত্ব হলো তার দ্রুতগতি। অসাধারণ দ্রুততার সঙ্গে তিনি এই কাজগুলো করতে পারেন। যেখানে একটু এদিক-ওদিক হলে সব নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, সেখানে তিনি এত দ্রুত ও নিখুঁতভাবে কাজগুলো করেন যে, চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে থাকতে হয়। মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই তিনি কাজ শেষ করে সেগুলোকে ছবি তোলার জন্য প্রস্তুত করে ফেলতে পারেন। এই দ্রুতগতি তাকে রপ্ত করতে হয়েছে কারণ, ফলমূল ও সবজিগুলো অল্প সময়ের মধ্যেই লালচে হয়ে যায়। লালচে হওয়ার আগেই দ্রুত কাজ শেষ করেন তিনি।

ফল ও সবজির আর্ট

ফল ও সবজির আর্ট

ফল ও সবজির আর্ট

শেয়ার করুন

জনের মাথায় আস্ত গাড়ি

জনের মাথায় আস্ত গাড়ি

মাথায় গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে জন ইভান্স। ছবি: বিবিসি

জনের ইচ্ছা, আড়াই লাখ পাউন্ডের একটি চ্যারিটি প্রতিষ্ঠা করা। এভাবে জন সারা বিশ্ব ঘুরে তার প্রতিভা দেখিয়ে বা মাথার ভারসাম্য দেখিয়ে এই অর্থ জোগাড় করতে চান বলে জানান।

শক্তিশালী মানুষ হিসেবে পরিচিত জন ইভান্স। বয়স একেবারে কম নয়; সত্তর ছাড়িয়ে। একটি ভবনে শ্রমিকের কাজ করেন ৭৪ বছরের জন।

তবে তার অন্যতম প্রতিভা হচ্ছে, ভারসাম্য বা ব্যালেন্সিং। কাজ থেকে অবসরের আগে তিনি অন্তত ১০০টি রেকর্ড করতে চান। তার সেই রেকর্ডের মধ্যে রয়েছে আস্ত একটি গাড়ি মাথার ওপর নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা।

নিজের ইচ্ছাশক্তি আর চ্যালেঞ্জের মধ্যে দিয়েই নিজের বাসনা পূরণ করতে চান জন।

বিবিসির খবরে বলা হয়, ইংল্যান্ডের ডার্বিশায়ারের বাসিন্দা জন। জনের বয়স যখন ১৫-১৭ বছর, তখন থেকে মাথায় এমন ভার নিয়ে ভারসাম্যের অনুশীলন শুরু।

এরপর তিনি কাজ শুরু করেন নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে। যেখানে তিনি বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মাথায় করে ইট নিয়ে যেতেন। সেখান থেকেই নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস তৈরি হয় জনের।

জন তার মাথায় শুধু গাড়িই নয়, কী মাথার ওপর বসাননি তিনি। একসঙ্গে দুই-তিনজন মানুষ বসেছিলেন তার মাথায়। মাথায় নিয়েছেন ছোটোখাটো ঘর-বাড়ি, ইট, ডিম, পানীয়র বোতলসহ আরও অনেক কিছু।

তার ইচ্ছা, আড়াই লাখ পাউন্ডের একটি চ্যারিটি প্রতিষ্ঠা করা। এভাবে জন সারা বিশ্ব ঘুরে তার প্রতিভা দেখিয়ে বা মাথার ভারসাম্য দেখিয়ে এই অর্থ জোগাড় করতে চান বলে জানান।

জন জানান, এরই মধ্যে তিনি ৯৮টি বিশ্বরেকর্ড তৈরি করেছেন। যার মধ্যে ৫০টির স্বীকৃতি দিয়েছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড বুক।

শেয়ার করুন

মৃত বন্ধুকে নিয়ে ‘শেষ’ বাইক ভ্রমণ

মৃত বন্ধুকে নিয়ে ‘শেষ’ বাইক ভ্রমণ

মৃত বন্ধুকে এভাবেই কফিন থেকে বাইকে নিয়ে তোলা হয়। ছবিটি ভিডিও থেকে নেয়া।

একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, শেষযাত্রার জন্য প্রস্তুত একটি কাঠের কফিন থেকে এরিককে টেনে বের করে আনছেন তার বন্ধুরা। তারপর তারা তাকে একটি বাইকে নিয়ে তোলেন।

আততায়ীর গুলিতে খুন হয়েছে বন্ধু! ব্যাপারটিকে কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলেন না একদল যুবক। বন্ধুকে হারিয়ে তারা পাগলপ্রায়। শেষকৃত্যানুষ্ঠানে নিয়ে যেতে তাই মৃত বন্ধুকেই তুলে নেয়া হলো মোটরসাইকেলে।

চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটেছে ইকুয়েডরের মানাবি প্রদেশে।

শনিবার ডেইলি মেইল জানিয়েছে, মানাবির পর্তোভিজো শহরেই বন্ধুদের সঙ্গে হাসি-আনন্দে দিনগুলো কাটছিল ২১ বছর বয়সী এরিক শেডেনোর। কিন্তু এই হাসি-আনন্দ থেমে যায় গত সপ্তাহের শেষ দিনটিতে। সে সময় একটি শেষকৃত্যানুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু তার পথ আগলে দাঁড়ায় দুই আততায়ী। তাদের গুলিতেই অকালে প্রাণ হারান এরিক।

একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, শেষযাত্রার জন্য প্রস্তুত একটি কাঠের কফিন থেকে এরিককে টেনে বের করে আনছেন তার বন্ধুরা। তারপর তারা তাকে একটি বাইকে নিয়ে তোলেন। বাইকটি চালাচ্ছিলেন এক বন্ধু। আর মৃত এরিককে মাঝখানে বসিয়ে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে রেখেছিলেন আরেক বন্ধু।

ভিডিওতে আরও দেখা যায়, বন্ধুকে কফিন থেকে বের করে বাইকে তোলার ঘটনাটি আশপাশে দাঁড়িয়ে দেখছিল অসংখ্য মানুষ। বাইকটি যাত্রা শুরু করার পর পেছনে দাঁড়ানো অন্য বন্ধুদের হাত উঁচিয়ে উল্লাস করতেও দেখা গেছে।

স্পেনিশ ভাষার পত্রিকা লা রিপাবলিকা জানিয়েছে, কবর দেয়ার সময় এরিকের কফিনে মদও ঢেলে দিয়েছেন তার বন্ধুরা। তারা দাবি করেছেন, এরিকের বাবা-মায়ের অনুমতি নিয়েই তাকে বাইকে চড়িয়ে শেষকৃত্যানুষ্ঠানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ এ ঘটনাটিকে ‘বিকৃত’ বলে আখ্যা দিয়েছে। তবে শেষকৃত্যানুষ্ঠান ব্যক্তিগত বিষয় হওয়ায় এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার কিংবা কোনো তদন্ত হয়নি।

শেয়ার করুন

পৃথিবীর সবচেয়ে লম্বা গাড়ি দি আমেরিকান ড্রিম

পৃথিবীর সবচেয়ে লম্বা গাড়ি দি আমেরিকান ড্রিম

গাড়িতে যাত্রী বসার সিটের পাশাপাশি মিনি গলফ কোর্স, জ্যাকুজ্জি বাথটাব, ফ্রিজ-টিভি, টেলিফোন, সুইমিংপুল এমনকি হেলিপ্যাড পর্যন্ত ছিল। এর বনেটটিকে হেলিপ্যাড হিসেবে ব্যবহার করা হতো।

‘দি আমেরিকান ড্রিম’- এই নামেই পরিচিত ছিল এই অতিকায় লিমুজিন গাড়িটি। ১৯৮৬ সালে পৃথিবীর সবচেয়ে লম্বা গাড়ি হিসেবে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ডস রেকর্ডেও নাম উঠেছিল। একটি সাধারণ গাড়ির দৈর্ঘ্য যেখানে ১৪ থেকে ১৫ ফিট হয়, সেখানে এই গাড়িটির দৈর্ঘ্য ছিল- ১০০ ফিট! গঠন ও গড়নে গাড়ি না হলে, একে নির্ঘাত একটি ট্রেন বলে চালিয়ে দেয়া যেত।

হিন্দুস্থান টাইমসের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আকার-আকৃতিতে দৈত্যাকার হওয়ার পাশাপাশি আরও অনেক অবাক করা বৈশিষ্ট্যের জন্য বিখ্যাত হয়ে উঠেছিল ‘দি আমেরিকান ড্রিম’।

পৃথিবীর সবচেয়ে লম্বা গাড়ি দি আমেরিকান ড্রিম

এতে যাত্রী বসার সিটের পাশাপাশি মিনি গলফ কোর্স, জ্যাকুজ্জি বাথটাব, ফ্রিজ-টিভি, টেলিফোন, সুইমিংপুল এমনকি হেলিপ্যাড পর্যন্ত ছিল। এর বনেটটিকে হেলিপ্যাড হিসেবে ব্যবহার করা হতো।

এককথায় আজকাল আমরা দামি বিলাসবহুল গাড়ি বলতে যা বুঝি তার চেয়েও অধিক ছিল ওয়ান্ডার কার দি আমেরিকান ড্রিম। অনায়াসে একসঙ্গে ৭০ জন মানুষ ভ্রমণ করতে পারত।

পৃথিবীর সবচেয়ে লম্বা গাড়ি দি আমেরিকান ড্রিম

এই গাড়িটি কোনো গাড়ি প্রস্তুতকারী কোম্পানি বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ডিজাইন করেনি। জে ওরবার্গ নামের এক লোক এটি ডিজাইন করে সিনেমায় ব্যবহারের জন্য। ওরবার্গ সে সময়ে হলিউড সিনেমার গাড়ি ডিজাইনের জন্য বেশ জনপ্রিয় ছিলেন। তিনি এই গাড়িটি ডিজাইন করেন ১৯৮০ সালে।

আমেরিকান ড্রিম মূলত ক্যাডিলাক এলডোরাডো লিমুজিন ১৯৭৬-এ নির্মিত। এটি বানাতে টানা ১২ বছর সময় লাগে। পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে গেলে ১৯৯২ সালে এই লিমুজিনটি প্রথমবারের মতো চালানোর জন্য রাস্তায় নামানো হয়। এতে ২৬টি চাকা ছিল এবং উভয় দিক থেকেই চালানো যেত। এটি চালাতে অনেক ৮ভি ইঞ্জিনের শক্তি লাগত। আরও মজার ব্যাপার হলো- এত লম্বা গাড়ি হওয়ার পরও গাড়িটিকে মাঝখান থেকে বাঁকা করে ডান-বামে ঘোরানো যেত।

বেশ কয়েকটি সিনেমায় দি আমেরিকান ড্রিমকে ব্যবহার করা হয়। এমনকি ধনী লোকেরা প্রমোদভ্রমণের জন্যও এটি ভাড়া নিত। যার জন্য সেই সময়ই ঘণ্টাপ্রতি তাদের গুনতে হতো প্রায় ১৬ হাজার টাকা। তবে দুঃখের বিষয় হলো- একসময় ধীরে ধীরে মানুষের মাঝে এর জনপ্রিয়তা কমে যেতে থাকে। সিনেমাগুলোতেও এত বড় গাড়ি ব্যবহারের আবেদন শেষ হয়ে যায়।

পৃথিবীর সবচেয়ে লম্বা গাড়ি দি আমেরিকান ড্রিম

ফলে এর মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য যে বিপুল পরিমাণ অর্থ দরকার ছিল তা কুলিয়ে ওঠা সম্ভব হচ্ছিল না। তাই এত সুবিধা থাকা সত্ত্বেও গাড়িটি বেশিদিন টিকিয়ে রাখা যায়নি। ২০১২ সালে দি আমেরিকান ড্রিমের চাকা সম্পূর্ণভাবে থেমে যায়। কিছু অংশ বাদে গাড়িটি পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তবে খুশির কথা হলো- আমেরিকান ড্রিমকে আগের রূপে ফিরিয়ে আনার কাজ শুরু হয়েছে ২০১৯-এ। যদিও করোনা মহামারির কারণে কাজ থমকে গিয়েছিল। গাড়িপ্রেমীরা আশা করছেন, খুব দ্রুতই গাড়িটিকে আবারও রাস্তায় দৌড়াতে দেখা যাবে।

শেয়ার করুন

বাঘের থাবা থেকে সন্তান ছিনিয়ে আনলেন মা

বাঘের থাবা থেকে সন্তান ছিনিয়ে আনলেন মা

চিতাবাঘের মুখ থেকে বেঁচে আসা মা ও ছেলে। ছবি: সংগৃহীত

প্রায় এক কিলোমিটার ধাওয়ার পর বাঘটিও কিছুটা ঘাবড়ে যায়। নিজেকে আড়াল করতে একটি ঝোপের পেছনে লুকিয়ে পড়ে। খুব ঠান্ডা মাথায় বাঘের হাত থেকে সন্তানকে বাঁচানোর চেষ্টা শুরু করেন কিরন। সফলও হন।

চিতাবাঘের আক্রমণের মুখে সন্তানের প্রতি ভালোবাসার অনন্য প্রমাণ দিলেন এক মা। নিজের জীবন বাজি রেখে কোনো অস্ত্রশস্ত্র ছাড়াই বাঘের থাবা থেকে সন্তানকে ছিনিয়ে এনেছেন তিনি।

সস্প্রতি ভারতের মধ্যপ্রদেশের ঝিরিয়া গ্রামের ঘটনাটি ঘটে বলে ইন্ডিয়া টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ওই নারী একাই লড়াই করে বাঘের থাবা থেকে উদ্ধার করেন তার শিশু ছেলেকে। তার কাছে ছিল না কোনো অস্ত্র। এরপরও সন্তানকে বাঁচাতে কোনো কিছুর পরোয়া করেননি তিনি।

বাইগা সম্প্রদায়ের ওই নারীর নাম কিরন। তার ভাষ্য, ঘরের বাইরে তিন সন্তানকে নিয়ে আগুন পোহানোর সময় চিতাবাঘ হানা দেয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তার আট বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে দৌড় দেয় বাঘটি। সঙ্গে সঙ্গে বাঘের ধাওয়া করেন তিনিও।

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় এক কিলোমিটার ধাওয়ার পর বাঘটিও কিছুটা ঘাবড়ে যায়। নিজেকে আড়াল করতে একটি ঝোপের পেছনে লুকিয়ে পড়ে।

খুব ঠান্ডা মাথায় বাঘের হাত থেকে সন্তানকে বাঁচানোর চেষ্টা শুরু করেন কিরন। একটি লাঠি জোগাড় করে বাঘটিকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করেন। বাঘটি তখন ছেলেকে ছেড়ে দিয়ে মায়ের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। পাল্টা লাঠির আঘাতেই চিতাটি কিরণ ও তার ছেলেকে ছেড়ে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় মা ও ছেলে উভয়েই আহত হয়। পরে বনবিভাগের লোকজন তাদের স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তাদের চিকিৎসা দেয়া হয়। এই ঘটনায় প্রশংসায় ভাসছেন কিরন।

শেয়ার করুন