উৎসবের জোয়ারে সংক্রমণ বাড়ার ভয় পশ্চিমবঙ্গে

উৎসবের জোয়ারে সংক্রমণ বাড়ার ভয় পশ্চিমবঙ্গে

কলকাতার রাস্তায় পূজা দেখতে জনজোয়ার। ছবি: সংগৃহীত

উৎসবের জনজোয়ারেই পশ্চিমবঙ্গে করোনার তৃতীয় ঢেউ ঢুকে পড়বে বলে যে আশঙ্কা ছিল, তা জোরালো হয়েছে এমন পরিস্থিতিতে। দিন পনেরোর মধ্যে প্রকৃত অবস্থা জানা যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তেমন পরিস্থিতিতে করণীয় নিয়েও ভাবছেন তারা।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে কমছে করোনা সংক্রমণ, কমছে মৃত্যুর সংখ্যাও। তবু কমছে না আতঙ্ক, শঙ্কা। দুর্গোৎসবে ব্যাপক হারে বিধিভঙ্গের পর জোরালো হচ্ছে করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা।

দুর্গোৎসবের পর করোনা সংক্রমণ বাড়বে, এমন আশঙ্কায় কলকাতা হাইকোর্ট বিধিনিষেধ বাড়িয়ে নির্দেশিকা দিয়েছিল। তাতে সায় ছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের। তবে প্রশাসনের কঠোরতার মাঝেও টেকেনি করোনার সতর্কতা। উৎসবপাগল মানুষ নিষেধের তোয়াক্কা না করে জমিয়েছেন ভিড়, মানেননি স্বাস্থ্যবিধি। এতেই শঙ্কিত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

উৎসবের জনজোয়ারেই পশ্চিমবঙ্গে করোনার তৃতীয় ঢেউ ঢুকে পড়বে বলে যে আশঙ্কা ছিল, তা জোরালো হয়েছে এমন পরিস্থিতিতে। দিন পনেরোর মধ্যে প্রকৃত অবস্থা জানা যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তেমন পরিস্থিতিতে করণীয় নিয়েও ভাবছেন তারা।

চিকিৎসকরা বলছেন, মৃদু উপসর্গ নিয়ে অনেক মানুষ ঘুরে বেড়িয়েছেন ভিড়ের মধ্যে। তারা পরীক্ষাও করাচ্ছেন না। পূজার ছুটিতে করোনার পরীক্ষা হয়েছে কম, তাই সংক্রমণের মাত্রা বুঝতে এ সময়টাকে তেমন বিবেচনায় নেয়া হচ্ছে না।

স্বাস্থ্য দপ্তরের শুক্রবারের বুলেটিন অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় পশ্চিমবঙ্গে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৪৫১ জনের। তাদের মধ্যে কলকাতার ১২৭ জন। এ সময়ে রাজ্যে করোনায় মোট মৃত্যু হয়েছে ৮ জনের। শুধু উত্তর চব্বিশ পরগনায় এক দিনে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, আক্রান্ত হয়েছে ৮৪ জন।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, পশ্চিমবঙ্গে সর্বশেষ করোনা শনাক্তের হার ২ দশমিক ১৩ শতাংশ। রাজ্যে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১৫ লাখ ৭৯ হাজার ৪৬৩ জন। তাদের মধ্যে মারা গেছে ১৮ হাজার ৯৫৩ জন। সুস্থতার হার ৯৮ দশমিক ৩২ শতাংশ।

আরও পড়ুন:
দুর্গাপূজায় বায়না না পেয়ে হতাশ পশ্চিমবঙ্গের ঢাকিরা
ভারতে পূজারমণ্ডপ সজ্জায় জুতা বিতর্ক: আইনি নোটিশ
পূজায় নাইট কারফিউয়ে ছাড়

শেয়ার করুন

মন্তব্য

স্যোশাল মিডিয়ায় ট্রল বন্ধে কঠোর আইনের পথে অস্ট্রেলিয়া

স্যোশাল মিডিয়ায় ট্রল বন্ধে কঠোর আইনের পথে অস্ট্রেলিয়া

প্রতীকী ছবি

নতুন আইনে মানহানিকর কোনো পোস্ট সরিয়ে নেয়ার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে অনুরোধ করা যাবে। তারা তা না সরালে পোস্টকারী ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করতে হবে এবং সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মানহানির মামলাও করা যাবে।

অনলাইনে বেনামে ট্রল ও মানহানিকর পোস্ট দেয়া ব্যক্তিদের পরিচয় প্রকাশে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোকে বাধ্য করতে নতুন আইন করছে অস্ট্রেলিয়া।

এক বিবৃতিতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন জানিয়েছেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো প্রায়ই কাপুরুষদের প্রাসাদে রূপ নেয়, যেখানে নাম প্রকাশ না করে, কোনো পরিণাম ভোগ না করে অন্যকে হুমকি, হয়রানি এমনকি ধ্বংসও করে দেয়া যায়।’

নতুন আইনে মানহানিকর কোনো পোস্ট সরিয়ে নেয়ার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে অনুরোধ করা যাবে। তারা তা না সরালে পোস্টকারী ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করতে হবে এবং সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মানহানির মামলাও করা যাবে।

মরিসন বলেছেন, ‘নতুন আইনে সোশ্যাল মিডিয়াকে প্রকাশক ধরে নিয়ে সেই প্রকাশনার দায়িত্ব তাদের নেয়ার কথা বলা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলছেন, ‘এই জায়গাটি তারা (সোশ্যাল মিডিয়া) তৈরি করেছে। এটিকে নিরাপদ রাখার দায়িত্ব তাদেরই নিতে হবে। তারা তা না নিলে আমরাই সে দায়িত্ব নেব।’

আইনটি এখনও পাস হয়নি। এখনও প্রস্তাব আকারে রয়েছে। পাশ করার আগে এটি জনগণের মতের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
দুর্গাপূজায় বায়না না পেয়ে হতাশ পশ্চিমবঙ্গের ঢাকিরা
ভারতে পূজারমণ্ডপ সজ্জায় জুতা বিতর্ক: আইনি নোটিশ
পূজায় নাইট কারফিউয়ে ছাড়

শেয়ার করুন

ওমিক্রন ঠেকাতে ঐক্যবদ্ধের আহ্বান ডব্লিউএইচও প্রধানের

ওমিক্রন ঠেকাতে ঐক্যবদ্ধের আহ্বান ডব্লিউএইচও প্রধানের

ফাইল ছবি

ডব্লিউএইচও মহাসচিব টেড্রোস আধানম গেব্রিয়াসিস শঙ্কা প্রকাশ করেন, ‘নতুন এই ধরন ওমিক্রন বিশ্বের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি ছড়িয়ে দিতে পারে। যদিও এখন পর্যন্ত ওমিক্রনে আক্রান্ত কেউ মারা যাওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। যদি ওমিক্রনের উপসর্গ ভয়াবহতার মাত্রাকে ছাড়িয়ে না যায় তবে নতুন ধরনটির বিরুদ্ধে অনুমোদিত কোভিড টিকা কার্যকর হতে পারে।’

করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনের সংক্রমণের ঢেউ বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে যেতে পারে। এমন সতর্কতা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

সোমবার জাতিসংঘের স্বাস্থ্য সংস্থাটির ১৯৪ সদস্য দেশকে উদ্দেশ করে মহাসচিব টেড্রোস আধানম গেব্রিয়াসিস বলেন, যদি সংক্রমণের ঢেউ তীব্রভাবে ছড়িয়ে পড়ে তবে পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত ওমিক্রনে আক্রান্ত কোন রোগীর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

জাতিসংঘের সদরদপ্তর জেনেভায় আয়োজিত সদস্য দেশগুলোর স্বাস্থ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে মহাসচিব বলেন, ওমিক্রনের ভয়াবহতা ঠেকাতে সব দেশকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

ডব্লিউএইচও মহাসচিব শঙ্কা প্রকাশ করেন, ‘নতুন এই ধরন ওমিক্রন বিশ্বের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি ছড়িয়ে দিতে পারে। যদিও এখন পর্যন্ত ওমিক্রনে আক্রান্ত কেউ মারা যাওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। যদি ওমিক্রনের উপসর্গ ভয়াবহতার মাত্রাকে ছাড়িয়ে না যায় তবে নতুন ধরনটির বিরুদ্ধে অনুমোদিত কোভিড টিকা কার্যকর হতে পারে।’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আরও জানিয়েছে, ওমিক্রনে সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি এবং রোগের ভয়াবহতা বেড়ে গিয়ে তা স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

করোনার সবচেয়ে মারাত্মক ধরন ওমিক্রন নিয়ে বিশ্বজুড়ে এরই মধ্যে নতুন আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। ধরনটি প্রথম শনাক্ত হয়েছে সাউথ আফ্রিকায়। এমনই সময়ে সাউথ আফ্রিকার দুই নাগরিকের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর আতঙ্ক ছড়িয়েছে ভারতের তথ্য-প্রযুক্তি শহর বেঙ্গালুরুতে।

শনিবার বেঙ্গালুরুর কেম্পেগৌড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুই আফ্রিকানের কোভিড রিপোর্ট পজিটিভ হওয়ার পর প্রশাসনিক স্তরেও উদ্বেগ দেখা দেয়। তাদের শরীরে ওমিক্রন মিলেছে কিনা তা নিয়ে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চল থেকে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের নতুন ধরন বি.১.১.৫২৯ নাম দিয়েছে ডব্লিউএইচও। এখন থেকে এই ধরনটিকে ওমিক্রন নামে ডাকা হবে। বলা হচ্ছে, করোনার এই ধরনটি খুবই উদ্বেগের।

এই ধরন কতটা প্রাণঘাতী ও সংক্রামক সেসব জানতে কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা। অথচ এর আগেই আফ্রিকার দেশগুলোর ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়ে বসে আছে পশ্চিমা দেশগুলো।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯-এর এখন পর্যন্ত যতগুলো ধরন আছে তার মধ্যে ওমিক্রন সবচেয়ে জটিল। বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ ছড়ানো ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের মতোই।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বরাতে বিবিসি লিখেছে, ওমিক্রনের অনেকবার মিউটেশন ঘটেছে। এই ভ্যারিয়েন্টে বারংবার আক্রান্ত হওয়ারও ঝুঁকি রয়েছে।

নতুন ধরনটি সাউথ আফ্রিকায় প্রথম শনাক্ত হয় বলে ২৪ নভেম্বর জানায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বতসোয়ানা, বেলজিয়াম, হংকং ও ইসরায়েলেও এই ধরন শনাক্তের তথ্য পাওয়া গেছে।

ওমিক্রনের ভয়াবহতার শঙ্কায় আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলীয় দেশগুলোর সঙ্গে এরই মধ্যে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে অনেক দেশ।

সাউথ আফ্রিকা, নামিবিয়া, জিম্বাবুয়ে, বতসোয়ানা, লেসেথোর মতো দেশগুলোর নাগরিকের ওপর ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। তবে যুক্তরাজ্য বা আয়ারল্যান্ডের নাগরিকদের ক্ষেত্রে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে না।

কীভাবে শনাক্ত হলো ওমিক্রন, উপসর্গ কী

রোগীদের মধ্যে ওমিক্রনকে করোনাভাইরাসের রূপ পরিবর্তিত নতুন বৈশিষ্ট্য হিসেবে শনাক্ত করা প্রথম চিকিৎসকদের একজন সাউথ আফ্রিকার ড. অ্যাঞ্জেলিক কোয়েৎজি। নতুন ধরনের ভাইরাসটির উপসর্গ এখন পর্যন্ত বেশ মৃদু এবং বাড়িতে থেকেই এর চিকিৎসা নেয়া সম্ভব বলে মত তার।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, সাউথ আফ্রিকায় করোনা আক্রান্তদের মধ্যে ডেল্টা বেশি সংক্রমিত। কিন্তু ড. কোয়েৎজি গত ১৮ নভেম্বর নিজের ক্লিনিকে সাতজন রোগীর মধ্যে ডেল্টা উপসর্গের চেয়ে কিছু ভিন্ন উপসর্গ লক্ষ্য করে সতর্ক হন, যদিও সেসব উপসর্গ ছিল অত্যন্ত মৃদু।

সাউথ আফ্রিকান চিকিৎসক সমিতির প্রধান ড. কোয়েৎজি জানান, ওই রোগীরা দুই দিন ধরে ‘অতিরিক্ত ক্লান্তিতে ভুগছিলেন’। সঙ্গে মাথা ও শরীর ব্যথা তো ছিলই।

তিনি বলেন, ‘এই পর্যায়ের উপসর্গ সাধারণ ভাইরাস সংক্রমণের মতোই। কিন্তু গত ৮ থেকে ১০ সপ্তাহ কোনো কোভিড রোগী পাইনি বলে আমরা তাদের পরীক্ষা করানোর সিদ্ধান্ত নিই।’

পরীক্ষায় এক পরিবারের সব সদস্য করোনা পজিটিভ শনাক্ত হন।

একই দিন কাছাকাছি উপসর্গ নিয়ে আরও রোগী আসতে শুরু করলে নড়ে বসেন ড. কোয়েৎজি। কারণ এর আগ পর্যন্ত দিনে বড়জোর দুই থেকে তিনজন রোগী দেখছিলেন তিনি।

কোয়েৎজি বলেন, ‘মহামারির তৃতীয় ধাক্কার সময় ডেল্টায় আক্রান্ত অসংখ্য রোগী আমরা পেয়েছি। নিজেদের অভিজ্ঞতা দিয়ে যাচাই করে বুঝতে পারি যে তখনকার দৃশ্যপটের তুলনায় এখনকার দৃশ্যপটের পার্থক্য আছে।’

নমুনা পরীক্ষার ফল সেদিনই সাউথ আফ্রিকার জাতীয় সংক্রামক রোগ ইনস্টিটিউটে (এনআইসিডি) জমা দেন কোয়েৎজি।

তিনি বলেন, ‘যারা ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছেন, তাদের বেশির ভাগের মধ্যেই খুব মৃদু উপসর্গ ছিল এবং কাউকেই হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়নি। তাদের বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা নিতে বলেছিলাম আমরা। সেভাবে চিকিৎসা নিয়ে তারা সুস্থ আছেন।’

সাউথ আফ্রিকায় করোনার টিকাবিষয়ক মন্ত্রীপর্যায়ের উপদেষ্টা কমিটির অন্যতম সদস্য ড. কোয়েৎজি। তার মতে, ডেল্টার মতো ওমিক্রনে আক্রান্ত হলে স্বাদ-ঘ্রাণ হারানো কিংবা অক্সিজেনের লেভেল বড় ব্যবধানে কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ এখনও দেখা যায়নি।

কোয়েৎজির অভিজ্ঞতা বলছে, ওমিক্রনে আক্রান্তরা সবাই ৪০ বছরের কম বয়সী বা তরুণ। আক্রান্ত যাদের তিনি চিকিৎসা দিয়েছিলেন, তাদের প্রায় অর্ধেকের করোনা প্রতিরোধী টিকা নেয়া ছিল না।

আরও পড়ুন:
দুর্গাপূজায় বায়না না পেয়ে হতাশ পশ্চিমবঙ্গের ঢাকিরা
ভারতে পূজারমণ্ডপ সজ্জায় জুতা বিতর্ক: আইনি নোটিশ
পূজায় নাইট কারফিউয়ে ছাড়

শেয়ার করুন

নাটক জমিয়ে ফিরে এলেন সুইডেনের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী

নাটক জমিয়ে ফিরে এলেন সুইডেনের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী

ম্যাগডালেনা অ্যন্ডারসন।

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পদত্যাগ করেছিলেন ম্যাগডালেনা। তার এমন হঠাৎ সিদ্ধান্তে থতমত খেয়ে যায় বিশ্ব গণমাধ্যমও।

এক সপ্তাহের নাটক শেষে আবারও প্রধানমন্ত্রী পদে ফিরে এলেন সুইডেনের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট দলের নেতা ম্যাগডালেনা অ্যান্ডরসন।

সোমবার এক প্রতিবেদনে এ খবর নিশ্চিত করেছে বিবিসি। তাই সুইডিশ রাজনীতিতে সম্প্রতি যে টানাপোড়েন শুরু হয়েছিল তার আপাত সমাধান হয়েছে বলা যায়।

এর আগে গত বুধবার সুইডেনের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো নারী হিসেবে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পদত্যাগ করেছিলেন ম্যাগডালেনা। তার এমন হঠাৎ সিদ্ধান্তে থতমত খেয়ে যায় বিশ্ব গণমাধ্যমও। কারণ তার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার খবর প্রকাশ করতে না করতেই সামনে এসেছিল তার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত।

সুইডিশ আইন অনুযায়ী, সংসদের বেশির ভাগ সদস্য ম্যাগডালেনার বিরুদ্ধে ভোট না দেয়ায় তিনি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার যোগ্যতা পেয়েছিলেন। কিন্তু ক্ষমতাসীন জোটের নেতা ও দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করার পর জোটের শরিক দল সরকার থেকে সরে দাঁড়ালে এবং নিজের বাজেট প্রস্তাব পাস না হলে পদত্যাগ করেন তিনি।

সেসময় সংসদে বিরোধী দলের উত্থাপিত বাজেট প্রস্তাব পাস হয়েছিল। বিরোধী জোটে অভিবাসন বিরোধী কট্টর ডানপন্থী দলও রয়েছে। তাই ম্যাগডালেনার নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক গ্রিনস পার্টি জানিয়ে দেয়, তারা কট্টর ডানপন্থীদের উত্থাপিত বাজেট মেনে নিতে পারছে না।

নিজের পদত্যাগ বিষয়ে ম্যাগডালেনা সাংবাদিকদের কাছে বলেছিলেন, ‘কোনো একটি দল জোট ছেড়ে বের হয়ে গেলে জোট সরকারের ক্ষমতা ছেড়ে দেয়ার সাংবিধানিক একটি চর্চা রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি এমন একটি সরকারের নেতৃত্ব দিতে চাই না যার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।’

সংসদের ৩৪৯ সদস্যের মধ্যে ১৭৪ জন মিজ অ্যান্ডারসনের বিপক্ষে ভোট দেযন। আর তার পক্ষে ভোট দেযন ১১৭ জন সাংসদ। তবে আরও ৫৭ জন ভোট দেয়া থেকে বিরত থাকায় এক ভোটে বিজয়ী হন ম্যাগডালেনা।

সুইডেনের উপসালা শহরের সাবেক জুনিয়র সাঁতার চ্যাম্পিয়ন ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসন তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু করেন ১৯৯৬ সালে, তখনকার প্রধানমন্ত্রী গোরান পেরসনের উপদেষ্টা হিসেবে। গত সাত বছর সুইডেনের অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

আরও পড়ুন:
দুর্গাপূজায় বায়না না পেয়ে হতাশ পশ্চিমবঙ্গের ঢাকিরা
ভারতে পূজারমণ্ডপ সজ্জায় জুতা বিতর্ক: আইনি নোটিশ
পূজায় নাইট কারফিউয়ে ছাড়

শেয়ার করুন

ভারতে কৃষক আন্দোলনের চূড়ান্ত জয়

ভারতে কৃষক আন্দোলনের চূড়ান্ত জয়

বিতর্কিত কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে চলতি বছরের জানুয়ারিতে দিল্লির রাস্তায় কৃষকদের ট্রাক্টর মিছিল। ছবি: এএফপি

শীতকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনই কৃষি আইন প্রত্যাহার বিল পাস করা হবে, এ কথা আগেই জানা ছিল। কিন্তু বিরোধীদের দাবি ছিল, আইন প্রত্যাহারের বিল পাস করার আগে, তা নিয়ে আলোচনা করা হোক।

কৃষক আন্দোলনের জয় হলো ভারতে।

দেশটির সংসদের উভয় কক্ষে বিনা আলোচনায় পাস হয়ে গেল কৃষি আইন প্রত্যাহার বিল। শীতকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনেই সংসদের দুই কক্ষেই পাস হয়ে গেল বিলটি।

বিরোধী দলগুলো এই বিল নিয়ে আলোচনার দাবি জানালেও ধ্বনি ভোটের মাধ্যমে তা নাচক হয়ে যায়।

সংসদের দুই কক্ষেই বিলটি পাস হয়ে যাওয়ায় আইন প্রত্যাহারের কাজ এক প্রকার শেষই হয়ে গেল।

বিল পাস হওয়ার পরই বিরোধীরা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করায় রাজ্যসভার অধিবেশন স্থগিত করে দেয়া হয়েছে।

শীতকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনই কৃষি আইন প্রত্যাহার বিল পাস করা হবে, এ কথা আগেই জানা ছিল। কিন্তু বিরোধীদের দাবি ছিল, আইন প্রত্যাহারের বিল পাস করার আগে, তা নিয়ে আলোচনা করা হোক।

অধিবেশনের শুরুতেই সেই দাবি নিয়ে বিরোধীরা হই-হট্টগোল শুরু করে। তাদের শান্ত হতে বলার অনুরোধ করলেও বিরোধী সাংসদরা বিক্ষোভ জারি রাখেন। বাধ্য হয়ে লোকসভা দুপুর ১২টা অবধি স্থগিত করে দেয়া হয়।

ফের অধিবেশন শুরু হলে কৃষি আইন প্রত্যাহার বিল পেশ করেন কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমার। মাত্র চার মিনিটের মধ্যেই বিনা আলোচনায়, ধ্বনি ভোটের মাধ্যমে এই বিল লোকসভায় পাস করিয়ে দেয়া হয়।

বেলা দুইটোয় রাজ্যসভার অধিবেশন শুরু হলে কৃষিমন্ত্রী ফের একবার এই বিল পেশ করেন। বিরোধীরা আলোচনার দাবিতে সরব হওয়ার মাঝেই ধ্বনি ভোটের মাধ্যমে এই বিল রাজ্যসভাতেও পাস করিয়ে দেওয়া হয়।

রাজ্যসভার অধিবেশন শুরু হতেই লোকসভায় আলোচনা করতে না দেয়ার বিরোধিতা করে বিরোধী সাংসদরা। তবে রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান বিরোধীদের বক্তব্য পেশ করার জন্য বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গেকে দুই মিনিট সময় দেন।

লোকসভায় আলোচনা করার সুযোগ না পাওয়ার প্রসঙ্গে কংগ্রেস সাংসদ মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, ‘আমরা ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের আইনি গ্যারান্টি নিয়ে কথা বলতে চাই। কৃষক আন্দোলন চলাকালে যেসব কৃষক প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও লখিমপুর খেরির ঘটনা নিয়ে আমরা কথা বলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের সেই সুযোগ দেয়া হলো না।’

বিরোধীদের বিক্ষোভের জেরে মঙ্গলবার বেলা ১১টা পর্যন্ত লোকসভার অধিবেশন স্থগিত রাখা হয়েছে।

রাজ্যসভাতেও আইন প্রত্যাহারের বিল বিনা আলোচনাতেই পাস করানোর প্রসঙ্গে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বলেন, ‘আগেই আমরা সরকারকে আইন প্রত্যাহার করার অনুরোধ জানিয়েছিলাম। আজ সেই আইন প্রত্যাহার করা হল। তবে এটা অত্যন্ত দুঃখজনক যে, আলোচনা ছাড়াই আইন প্রত্যাহার করে নেয়া হলো।

‘এই সরকার আলোচনায় ভয় পায়। আসল সত্যিটা হল যে কৃষকরা দেশের মানুষদের প্রতিনিধি হিসাবে যে শক্তি হয়ে উঠে এসেছে, তার সামনে দাঁড়াতে পারছে না কেন্দ্রীয় সরকার।’

রাহুল বলেন, ‘বিভিন্ন রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের বিষয়টিও তাদোর মাথায় ঘুরছে। সেই কারণেই আইন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে তারা।’

আরও পড়ুন:
দুর্গাপূজায় বায়না না পেয়ে হতাশ পশ্চিমবঙ্গের ঢাকিরা
ভারতে পূজারমণ্ডপ সজ্জায় জুতা বিতর্ক: আইনি নোটিশ
পূজায় নাইট কারফিউয়ে ছাড়

শেয়ার করুন

ওমিক্রনের ঝুঁকির তালিকায় বাংলাদেশকে রাখল ভারত

ওমিক্রনের ঝুঁকির তালিকায় বাংলাদেশকে রাখল ভারত

ওমিক্রণের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলো থেকে ভারতে আসা নাগরিকদের বিমানবন্দরে করোনার আরটি-পিসিআর পরীক্ষা করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ওমিক্রনকে করোনাভাইরাসের ভয়ংকর ধরন হিসেবে আখ্যা দেয়ার পর পূর্বসতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ভারত সরকার রোববার ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকা প্রকাশ করেছে। অতিমাত্রার এই সংক্রমণ ঠেকাতে নতুন নির্দেশনাও জারি করেছে দিল্লি। ইউরোপের দেশগুলো ছাড়া ভারতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে এমন ঝুঁকির তালিকায় থাকা দেশগুলো হলো বাংলাদেশ, সাউথ আফ্রিকা, ব্রাজিল, বতসোয়ানা, চীন, মরিশাস, নিউজিল্যান্ড, জিম্বাবুয়ে, সিঙ্গাপুর, হংকং ও ইসরায়েল।

করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের সংক্রমণ বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার পরিপ্রেক্ষিতে গোটা ইউরোপ, যুক্তরাজ্যসহ ১২টি দেশকে ঝুঁকির তালিকায় রেখেছে ভারত। এই তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশের নাম।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ওমিক্রনকে করোনাভাইরাসের ভয়ংকর ধরন হিসেবে আখ্যা দেয়ার পর পূর্বসতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ভারত সরকার রোববার এই তালিকা প্রকাশ করেছে। অতিমাত্রার এই সংক্রমণ ঠেকাতে নতুন নির্দেশনাও জারি করেছে দিল্লি।

ইউরোপের দেশগুলো ছাড়া ভারতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে এমন ঝুঁকির তালিকায় থাকা দেশগুলো হলো বাংলাদেশ, সাউথ আফ্রিকা, ব্রাজিল, বতসোয়ানা, চীন, মরিশাস, নিউজিল্যান্ড, জিম্বাবুয়ে, সিঙ্গাপুর, হংকং ও ইসরায়েল।

ওমিক্রন সংক্রমণের পর তালিকাভুক্ত দেশ ও অঞ্চল থেকে ভারতে আসা উড়োজাহাজের চলাচল সীমিত করার পরিকল্পনাও নিয়েছে দিল্লি, প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেয়া নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলো থেকে যাত্রীরা ভারতে আসার পরপরই বিমানবন্দরে আরটি-পিসিআর পরীক্ষা করাতে হবে।

ওই পরীক্ষার ফল না পাওয়া পর্যন্ত যাত্রীদের বিমানবন্দরে অপেক্ষা করতে হবে। নমুনা পরীক্ষার সনদ ছাড়া ‍যাত্রীরা অন্য কানেক্টিং ফ্লাইটে যেতে পারবেন না।

যাত্রীদের মধ্যে যারা করোনা পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হবেন, তাদের আইসোলেশনে থাকতে হবে।

তাদের কারও মধ্যে ‘ওমিক্রন’ শনাক্ত হলে তাদের নেগেটিভ রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত আইসোলেশন সেন্টারে থাকতে হবে।

যদি তারা অন্য কোনো ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত হন, তবে তাদের বিমানবন্দর ছাড়ায় বিষয়টি নির্ভর করবে চিকিৎসকের মতামতের ওপর।

ঝুঁকিপূর্ণ দেশ ও অঞ্চল থেকে আসা যাত্রীদের শারীরিক অবস্থার সার্বিক বিবেচনা শেষে চিকিৎসক তাদের ভারত ছাড়ার অনুমতিপত্র দিলে তারা নিজ দেশে ফেরত যেতে পারবেন।

সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলো থেকে ভারতে আসা যাত্রীরা করোনা পরীক্ষায় নেগেটিভ হলেও তাদের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। এরপর অষ্টম দিনে তাদের করোনা পরীক্ষা করতে হবে। সেই পরীক্ষায় যদি তারা করোনা পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হন, তবে তাদের কোভিড-১৯ সংক্রান্ত হেল্পলাইনকে জানাতে হবে।

দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, যাত্রীদের ভারতে আসার আগেরকার ১৪ দিনের ভ্রমণ ইতিহাস কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।

কয়েক দিন আগে সাউথ আফ্রিকা থেকে আসা এক ভারতীয় নাগরিকের নমুনা পরীক্ষায় ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে মহারাষ্ট্রের মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগ।

আরও পড়ুন:
দুর্গাপূজায় বায়না না পেয়ে হতাশ পশ্চিমবঙ্গের ঢাকিরা
ভারতে পূজারমণ্ডপ সজ্জায় জুতা বিতর্ক: আইনি নোটিশ
পূজায় নাইট কারফিউয়ে ছাড়

শেয়ার করুন

কীভাবে শনাক্ত হলো ওমিক্রন, উপসর্গ কী

কীভাবে শনাক্ত হলো ওমিক্রন, উপসর্গ কী

সাউথ আফ্রিকায় করোনার টিকাবিষয়ক মন্ত্রীপর্যায়ের উপদেষ্টা কমিটির অন্যতম সদস্য ড. কোয়েৎজি। তার মতে, ডেল্টার মতো ওমিক্রনে আক্রান্ত হলে স্বাদ-ঘ্রাণ হারানো কিংবা অক্সিজেনের লেভেল বড় ব্যবধানে কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ এখনও দেখা যায়নি। কোয়েৎজির অভিজ্ঞতা বলছে, ওমিক্রনে আক্রান্তরা সবাই ৪০ বছরের কম বয়সী বা তরুণ। আক্রান্ত যাদের তিনি চিকিৎসা দিয়েছিলেন, তাদের প্রায় অর্ধেকের করোনা প্রতিরোধী টিকা নেয়া ছিল না।

রোগীদের মধ্যে ওমিক্রনকে করোনাভাইরাসের রূপ পরিবর্তিত নতুন বৈশিষ্ট্য হিসেবে শনাক্ত করা প্রথম চিকিৎসকদের একজন সাউথ আফ্রিকার ড. অ্যাঞ্জেলিক কোয়েৎজি। নতুন ধরনের ভাইরাসটির উপসর্গ এখন পর্যন্ত বেশ মৃদু এবং বাড়িতে থেকেই এর চিকিৎসা নেয়া সম্ভব বলে মত তার।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, সাউথ আফ্রিকায় করোনা আক্রান্তদের মধ্যে ডেল্টা বেশি সংক্রমিত। কিন্তু ড. কোয়েৎজি গত ১৮ নভেম্বর নিজের ক্লিনিকে সাতজন রোগীর মধ্যে ডেল্টা উপসর্গের চেয়ে কিছু ভিন্ন উপসর্গ লক্ষ্য করে সতর্ক হন, যদিও সেসব উপসর্গ ছিল অত্যন্ত মৃদু।

সাউথ আফ্রিকান চিকিৎসক সমিতির প্রধান ড. কোয়েৎজি জানান, ওই রোগীরা দুই দিন ধরে ‘অতিরিক্ত ক্লান্তিতে ভুগছিলেন’। সঙ্গে মাথা ও শরীর ব্যথা তো ছিলই।

তিনি বলেন, ‘এই পর্যায়ের উপসর্গ সাধারণ ভাইরাস সংক্রমণের মতোই। কিন্তু গত ৮ থেকে ১০ সপ্তাহ কোনো কোভিড রোগী পাইনি বলে আমরা তাদের পরীক্ষা করানোর সিদ্ধান্ত নিই।’

পরীক্ষায় এক পরিবারের সব সদস্য করোনা পজিটিভ শনাক্ত হন।

একই দিন কাছাকাছি উপসর্গ নিয়ে আরও রোগী আসতে শুরু করলে নড়ে বসেন ড. কোয়েৎজি। কারণ এর আগ পর্যন্ত দিনে বড়জোর দুই থেকে তিনজন রোগী দেখছিলেন তিনি।

কোয়েৎজি বলেন, ‘মহামারির তৃতীয় ধাক্কার সময় ডেল্টায় আক্রান্ত অসংখ্য রোগী আমরা পেয়েছি। নিজেদের অভিজ্ঞতা দিয়ে যাচাই করে বুঝতে পারি যে তখনকার দৃশ্যপটের তুলনায় এখনকার দৃশ্যপটের পার্থক্য আছে।’

নমুনা পরীক্ষার ফল সেদিনই সাউথ আফ্রিকার জাতীয় সংক্রামক রোগ ইনস্টিটিউটে (এনআইসিডি) জমা দেন কোয়েৎজি।

তিনি বলেন, ‘যারা ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছেন, তাদের বেশির ভাগের মধ্যেই খুব মৃদু উপসর্গ ছিল এবং কাউকেই হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়নি। তাদের বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা নিতে বলেছিলাম আমরা। সেভাবে চিকিৎসা নিয়ে তারা সুস্থ আছেন।’

সাউথ আফ্রিকায় করোনার টিকাবিষয়ক মন্ত্রীপর্যায়ের উপদেষ্টা কমিটির অন্যতম সদস্য ড. কোয়েৎজি। তার মতে, ডেল্টার মতো ওমিক্রনে আক্রান্ত হলে স্বাদ-ঘ্রাণ হারানো কিংবা অক্সিজেনের লেভেল বড় ব্যবধানে কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ এখনও দেখা যায়নি।

কোয়েৎজির অভিজ্ঞতা বলছে, ওমিক্রনে আক্রান্তরা সবাই ৪০ বছরের কম বয়সী বা তরুণ। আক্রান্ত যাদের তিনি চিকিৎসা দিয়েছিলেন, তাদের প্রায় অর্ধেকের করোনা প্রতিরোধী টিকা নেয়া ছিল না।

গত ১৪ থেকে ১৬ নভেম্বর গবেষণাগার থেকে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার ভিত্তিতে ২৫ নভেম্বর করোনার নতুন ধরনটির অস্তিত্ব শনাক্ত হয়েছে বলে ঘোষণা দেয় এনআইসিডি। পরদিন একে ওমিক্রন নাম দিয়ে চিহ্নিত করে ডব্লিউএইচও।

আরও পড়ুন:
দুর্গাপূজায় বায়না না পেয়ে হতাশ পশ্চিমবঙ্গের ঢাকিরা
ভারতে পূজারমণ্ডপ সজ্জায় জুতা বিতর্ক: আইনি নোটিশ
পূজায় নাইট কারফিউয়ে ছাড়

শেয়ার করুন

কানাডাতেও ওমিক্রনের হানা

কানাডাতেও ওমিক্রনের হানা

নাইজেরিয়া ভ্রমণ করে কানাডায় পৌঁছানো দুই ব্যক্তি ওমিক্রনে আক্রান্ত। ছবি: সিবিসি নিউজ

ওন্টারিওর প্রাদেশিক সরকার জনগণের প্রতি দ্রুত করোনা প্রতিরোধী টিকা গ্রহণ ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। যদিও নতুন ধরনটি করোনার বিদ্যমান টিকার কার্যক্ষমতাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম বলে শঙ্কা জোরালো হচ্ছে।

করোনাভাইরাসের রূপ পরিবর্তিত নতুন ধরন ওমিক্রন পৌঁছেছে সুদূর উত্তর আমেরিকাতেও। কানাডার অটোয়াতে দুই ব্যক্তির দেহে শনাক্ত হয়েছে করোনার নতুন ধরনটি।

ওন্টারিও সরকার রোববার এক বিবৃতিতে জানায়, ওমিক্রনে আক্রান্ত দুজনই সম্প্রতি আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলীয় দেশ নাইজেরিয়া ভ্রমণ করে দেশে ফেরেন। তারা বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন। তাদের সংস্পর্শে যাওয়া ব্যক্তিদেরও খুঁজে বের করা হচ্ছে।

সিবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত দুই সপ্তাহের মধ্যে আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলের দেশ ভ্রমণ করে কানাডায় পৌঁছানো বিদেশি নাগরিকদের ওপর নতুন ভ্রমণ নীতিমালা জারি করেছে সরকার। এর মধ্যেই দেশটিতে ওমিক্রন শনাক্তের খবর এলো।

নতুন ভ্রমণ নীতিমালা কার্যকর হয়েছে গত শুক্রবার। সাউথ আফ্রিকার গবেষকরা ওমিক্রন ভাইরাসটি প্রথম চিহ্নিত করেছেন। বর্তমানে বিশ্বের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ভাইরাসটি।

করোনার নতুন এ ধরনটি সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য জানা যায়নি। তবে এটিতে বিপুলসংখ্যক পরিবর্তন চিহ্নিত করেছেন গবেষকরা, যার ভিত্তিতে একে উদ্বেগের কারণ বলে মনে করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

সাউথ আফ্রিকার একটি প্রদেশে করোনা সংক্রমণ হঠাৎ বেড়ে চলার কারণ হিসেবেও দায়ী করা হচ্ছে ওমিক্রনকে।

কিন্তু আসলে ওমিক্রন করোনার অন্য প্রজাতিগুলোর তুলনায় অধিক সংক্রামক বা বিপজ্জনক কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত নন বিজ্ঞানীরা।

এমন পরিস্থিতিতে ওন্টারিওর প্রাদেশিক সরকার জনগণের প্রতি দ্রুত করোনা প্রতিরোধী টিকা গ্রহণ ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।

যদিও নতুন ধরনটি করোনার বিদ্যমান টিকার কার্যক্ষমতাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম বলে শঙ্কা জোরালো হচ্ছে।

বতসোয়ানা থেকে ভাইরাসটি সাউথ আফ্রিকায় পৌঁছানোর পর এর বিষয়ে জানতে পারে বিশ্ব। এরপর যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস, ইসরায়েল, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে শনাক্ত হয়েছে ওমিক্রন।

আরও পড়ুন:
দুর্গাপূজায় বায়না না পেয়ে হতাশ পশ্চিমবঙ্গের ঢাকিরা
ভারতে পূজারমণ্ডপ সজ্জায় জুতা বিতর্ক: আইনি নোটিশ
পূজায় নাইট কারফিউয়ে ছাড়

শেয়ার করুন