১৯ মাস পর ভারতে ট্যুরিস্ট ভিসা চালু

১৯ মাস পর ভারতে ট্যুরিস্ট ভিসা চালু

গত বছর ভারতে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা ২৮ লাখে নেমে আসে, ২০১৯ সালেও যে সংখ্যা ছিল প্রায় দুই কোটি। ছবি: এএফপি

ট্যুরিস্ট ভিসা দেয়া শুরু করলেও নতুন নির্দেশনাতেও কিছু বিধিনিষেধ রাখছে ভারত। জানিয়েছে, ১৫ অক্টোবরের আগে সরবরাহকৃত সব ধরনের ট্যুরিস্ট ভিসাই অকার্যকর গণ্য হবে। অর্থাৎ বিদেশি পর্যটকদের আগের ভিসার মেয়ার থেকে গেলেও এখন ভারতে প্রবেশে নতুন করে ভিসা নিতে হবে। অবশ্য ভারত ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিদেশি পর্যটকদের করোনা পরীক্ষা, টিকা ও কোয়ারেন্টিন সংক্রান্ত নির্দেশনা কী হবে, সে বিষয়ে এখনও কিছু জানায়নি নয়া দিল্লি।

দেড় বছরের বেশি সময় পর বিদেশি পর্যটকদের ট্যুরিস্ট ভিসা দিতে শুরু করেছে ভারত। কেবল ভাড়া করা বা ব্যক্তিগত বিমানে চড়ে ভারতে যাবেন, শুক্রবার থেকে কেবল এমন পর্যটকরা ঢুকতে পারবেন দেশটিতে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, দৈনিক সংক্রমণ কমতে থাকায় করোনাভাইরাস মহামারিকালীন বিধিনিষেধ শিথিলের প্রেক্ষিতে সীমান্ত খুলে দিয়েছে ভারত। তবে প্রাথমিকভাবে শুধু চার্টার্ড ফ্লাইটে ভারতগামীরাই ভিসা পাচ্ছেন।

এক মাস পর থেকে এ সুবিধার পরিসর আরও বাড়বে। বাণিজ্যিক বিমানে চড়ে ভারতগামী পর্যটকরা ভিসা পাবেন ১৫ নভেম্বর থেকে।

মহামারিকালীন বিধিনিষেধের কারণে গত ১৯ মাস ধরে ভারতে পা পড়েনি কোনো বিদেশি পর্যটকের। ২০২০ সালের মার্চে নরেন্দ্র মোদির সরকার মহামারির কারণে লকডাউন জারি এবং দেশের সব সীমান্ত বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকে দেশটিতে ট্যুরিস্ট ভিসা দেয়া বন্ধ ছিল।

গত কয়েক মাস ধরে কেবল বিদেশি কূটনীতিক ও ব্যবসায়িক কারণে হাতেগোণা কিছু পেশাজীবীকে বিশেষ ভিসা দিয়েছে ভারত।

চলতি মাসের শুরুতেই বিদেশি পর্যটকদের ধাপে ধাপে ট্যুরিস্ট ভিসা দিতে শুরু করার ঘোষণা দেয় ভারত সরকার। দেশটিতে করোনার দৈনিক সংক্রমণ ২০ হাজারে নেমে এসেছে, যা পাঁচ থেকে ছয় মাস আগেও ছিল প্রায় চার লাখ।

চলতি বছরের এপ্রিল ও মে মাসে মহামারির দ্বিতীয় ধাক্কায় করোনায় সংর্বোচ্চ সংক্রমণ ও মৃত্যু দেখে ভারত।

ভারতে মোট জনগোষ্ঠীর ৭০ শতাংশের বেশি করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকার কমপক্ষে এক ডোজ নিয়েছেন।

কিন্তু সন্তোষজনক পরিস্থিতি এখনও আসেনি বলে সতর্ক করেছেন ভারতের বিশেষজ্ঞ ও সরকারি কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, মহামারির তৃতীয় ঢেউ আঘাত হানলে জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলো করোনা ছড়ানোর কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠতে পারে।

মহামারির তৃতীয় ধাক্কা অনিবার্য বলে শঙ্কা ভারতীয় স্বাস্থ্যবিদদের।

এদিকে, বিদেশি পর্যটকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ায় স্বস্তি ফিরছে ভারতের পর্যটনসংশ্লিষ্টদের মধ্যে। কারণ দেশটিতে পর্যটন মৌসুম শুরু হওয়ারও সময় এখন। পর্যটনের সঙ্গে জড়িত ভারতীয় পেশাজীবীদের প্রত্যাশা, এবার ধীরে ধীরে প্রাণ ফিরবে খাতটিতে।

ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিকভাবে সমৃদ্ধ ভারতে তাজমহলের মতো সপ্তাশ্চর্য, প্রাচীন মন্দির ও দুর্গের মতো শৈল্পিক স্থাপনা, হিমালয়ের কোল ঘেঁষে থাকা বরফে ঢাকা পর্বত এবং পশ্চিম ও দক্ষিণে সমুদ্র সৈকত বিদেশি পর্যটকদের কাছে বড় আকর্ষণ। বৈশ্বিক মহামারির কারণে গত দেড় বছর ধরে এসব পর্যটনকেন্দ্র ছিল প্রাণহীন।

ভারত সরকারের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর করোনার কারণে অর্থনীতি অচল হয়ে যাওয়ায় দেশটিতে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা ২৮ লাখে নেমে এসেছিল। ২০১৯ সালেও এ সংখ্যা ছিল প্রায় দুই কোটি।

ভারতে মোট বার্ষিক প্রবৃদ্ধির প্রায় সাত শতাংশ আসে পর্যটন খাত থেকে। এ খাত সংশ্লিষ্ট পেশায় জড়িত কয়েক কোটি মানুষ। অর্থনীতিতে নজিরবিহীন সংকটের কারণে এ বছর পর্যটন খাতের সম্ভাব্য রাজস্ব ধরে রাখতে মরিয়া নয়া দিল্লি।

এ অবস্থায় ট্যুরিস্ট ভিসা দেয়া শুরু করলেও নতুন নির্দেশনাতেও কিছু বিধিনিষেধ রাখছে ভারত। জানিয়েছে, ১৫ অক্টোবরের আগে সরবরাহকৃত সব ধরনের ট্যুরিস্ট ভিসাই অকার্যকর গণ্য হবে। অর্থাৎ বিদেশি পর্যটকদের আগের ভিসার মেয়ার থেকে গেলেও এখন ভারতে প্রবেশে নতুন করে ভিসা নিতে হবে।

অবশ্য ভারত ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিদেশি পর্যটকদের করোনা পরীক্ষা, টিকা ও কোয়ারেন্টিন সংক্রান্ত নির্দেশনা কী হবে, সে বিষয়ে এখনও কিছু জানায়নি নয়া দিল্লি।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

খাবার টেবিলের আদব

খাবার টেবিলের আদব

সাধারণত একজন মানুষ বাসায় যেভাবে খাওয়া-দাওয়া করে সবার সঙ্গে ঠিক একইভাবে নিজের ইচ্ছামতো খেতে পারে না। কারণ তা ব্যক্তিত্বের হানি করে। এ ছাড়া সবার সঙ্গে খেতে বসে যাচ্ছেতাইভাবে খেয়ে উঠে গেলে তা অন্যদের কাছে বিরক্তির কারণ হতে পারে।

বহুকাল ধরেই খাবার টেবিল একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। রাজনৈতিক, জাতীয়-আন্তর্জাতিক, প্রাতিষ্ঠানিক, ব্যক্তিগতসহ নানা রকম কাজে মানুষ খাবার টেবিলকে ব্যবহার করেছে।

তাই এ ক্ষেত্রে নানা আদব-লেহাজ মেনে চলা বাঞ্ছনীয়। বিশেষ করে সেটি যখন কোনো অনুষ্ঠান বা পেশাদারি জায়গায় হয়।

সাধারণত একজন মানুষ বাসায় যেভাবে খাওয়াদাওয়া করে সবার সঙ্গে ঠিক একইভাবে নিজের ইচ্ছামতো খেতে পারে না। কারণ তা ব্যক্তিত্বের হানি করে।

এ ছাড়া সবার সঙ্গে খেতে বসে যাচ্ছেতাইভাবে খেয়ে উঠে গেলে তা অন্যদের কাছে বিরক্তির কারণ হতে পারে।

এমিলিপোস্ট ডটকমের (https://emilypost.com/advice/table-manners) এক প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে তেমনই কিছু আদবের কথা। চলুন জেনে নেয়া যাক-

০১. খাবার চিবানোর সময় সব সময় মুখ বন্ধ রাখুন। মুখ খুলে খাবার চিবানোর দৃশ্য কুৎসিত এবং অভদ্রতা বলে বিবেচিত হয়।

০২. খাবার টেবিলে মোবাইল ফোন থেকে দূরে থাকুন। সবচেয়ে ভালো হয়- সাইলেন্ট করে রাখলে। গুরুত্বপূর্ণ কল বা মেসেজ চেক করতে হলে টেবিল থেকে উঠে দূরে গিয়ে করার চেষ্টা করুন।

০৩. খাবারের প্লেট-বাটি এবং চামচ-কাঁটা চামচ ঠিকভাবে ব্যবহার করুন। এমনভাবে চামচ বা কাঁটা চামচ ধরবেন না যা দেখে মনে হয়, একটি শাবল ধরে আছেন বা কারো ওপর ছুরি বসাতে যাচ্ছেন।

০৪. কখনও খাবার খাওয়ার সময় টেবিলে বসেই দাঁত পরিষ্কার করতে শুরু করবেন না। বেশি সমস্যা হলে টেবিল থেকে দূরে গিয়ে করুন।

০৫. টেবিলে বসেই হাত-মুখ ধোবেন না। নির্ধারিত জায়গায় এসব কাজ করুন।

০৬. সব সময় ন্যাপকিন ব্যবহার করুন।

০৭. মুখের খাবার পুরোপুরি শেষ করে পানি অথবা অন্যান্য পানীয়তে চুমুক দিন। মুখভর্তি খাবার নিয়ে গ্লাসে চুমুক লাগাবেন না।

০৮. খাওয়ার সময় তাড়াহুড়া করবেন না। অন্যদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে খাওয়া চালিয়ে যাবেন। প্লেটে একেক সময় শুধু এক ধরনের খাবার নিন। একসঙ্গে একগাদা ডিশ না নেয়াই ভালো। একটি শেষ করে অন্যটি শুরু করুন।

০৯. টেবিলে দুই হাত, বুক অথবা থুতনি ঠেকিয়ে আরাম করার প্রবণতা থাকলে পরিহার করুন।

১০. টেবিলে বসে অন্যদের সঙ্গে হালকা কথাবার্তা বলতে পারেন। সবাই যে আলোচনা করছে তাতে যোগ দিন।

তবে বেশি কথা না বলাই ভালো। এতে অন্যরা বিরক্ত হতে পারে।

১১. কোনো খাবার আপনার নাগালের বাইরে থাকলে নিজেই নিতে যাবেন না। ভদ্রভাবে অন্যকে পাস করতে বলুন।

শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধে মোদিকে অনুরোধ কেজরিওয়ালের

আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধে মোদিকে অনুরোধ কেজরিওয়ালের

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। ফাইল ছবি/এএফপি

পোস্টের সঙ্গে বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের একটি খবরও যুক্ত করে দেন দিল্লি মুখ্যমন্ত্রী। খবরে বলা হয়, সম্প্রতি সাউথ আফ্রিকা ভ্রমণ করে ভারতে পা রাখা ৩৯ বছর বয়স্ক এক ব্যক্তি চন্ডিগড়ে করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন। তার সংস্পর্শের আসা দুই ব্যক্তিও করোনা পজিটিভ। তারা ওমিক্রনে আক্রান্ত কি না, তা নিশ্চিতে তাদের দেহ থেকে সংগৃহীত নমুনা জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের জন্য পাঠানো হবে।

ভারতকে সব দেশের সঙ্গে ফ্লাইট যোগাযোগ বন্ধে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। করোনাভাইরাসের রূপ পরিবর্তিত নতুন ধরন ওমিক্রনের বিস্তার রুখতে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল স্থগিতের আহ্বান জানান তিনি।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, মোদিকে এ ধরনের অনুরোধ আগেও করেছেন কেজরিওয়াল। দুইদিন আগেই মোদির উদ্দেশ্যে লেখা একটি চিঠিতে ওমিক্রন শনাক্ত হওয়া দেশগুলো থেকে ‘অবিলম্বে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধের’ আহ্বান জানান তিনি। টুইটারে চিঠির ছবি প্রকাশ করে লেখেন, ‘সামান্য বিলম্বের পরিণতিও মারাত্মক হতে পারে’।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে তিনি লেখেন, গত বছরও করোনাভাইরাস মহামারির প্রথম ধাক্কা আঘাত হানা পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করেছিল মোদি সরকার। ওমিক্রন আতঙ্কে সব দেশ যখন এ সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করছে, ভারত তখন দর্শকের ভূমিকায়।

এখন পর্যন্ত আফ্রিকা, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আমেরিকার কমপক্ষে ১৩টি দেশে ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে। সোমবারই করোনার নতুন এ প্রজাতিটি ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

এমন পরিস্থিতিতে ওমিক্রনের বিস্তার ঠেকাতে কঠোর আন্তর্জাতিক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ইসরায়েল ও জাপান।

এ অবস্থায় কেজরিওয়াল হিন্দি ভাষায় লেখা টুইটে মোদির প্রতি জরুরি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘ওমিক্রন শনাক্ত দেশগুলো থেকে ফ্লাইট আসা বন্ধ করে দিয়েছে বেশ কয়েকটি দেশ। আমরা কেন অপেক্ষা করছি?

‘মহামারির প্রথম ধাক্কার সময়েও ফ্লাইট বন্ধের সিদ্ধান্ত নিতে আমরা দেরি করেছিলাম। ভারতে আগত বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক ফ্লাইটই দিল্লিতে অবতরণ করে… সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্তও তাই দিল্লিই হয়। প্রধানমন্ত্রী, দয়া করে ফ্লাইট বন্ধ করুন।’

পোস্টের সঙ্গে বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের একটি খবরও যুক্ত করে দেন দিল্লি মুখ্যমন্ত্রী। খবরে বলা হয়, সম্প্রতি সাউথ আফ্রিকা ভ্রমণ করে ভারতে পা রাখা ৩৯ বছর বয়স্ক এক ব্যক্তি চন্ডিগড়ে করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন। তার সংস্পর্শের আসা দুই ব্যক্তিও করোনা পজিটিভ।

তারা ওমিক্রনে আক্রান্ত কি না, তা নিশ্চিতে তাদের দেহ থেকে সংগৃহীত নমুনা জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের জন্য পাঠানো হবে।

ওমিক্রন আতঙ্কে দিল্লি মহামারির নতুন ধাক্কার জন্য কতটা প্রস্তুত, সে বিষয়ে জরুরি পর্যালোচনা বৈঠক করবেন কেজরিওয়াল।

মহারাষ্ট্রে উদ্ধাভ ঠাকরের সরকারও কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি একই অনুরোধ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

শেয়ার করুন

ওমিক্রনের বিস্তার অব্যাহত, এবার অস্ট্রেলিয়ায়

ওমিক্রনের বিস্তার অব্যাহত, এবার অস্ট্রেলিয়ায়

আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চল ভ্রমণ করে সিডনিতে পৌঁছে কোয়ারেন্টিনে থাকা দুই ব্যক্তির দেহে শনিবার ওমিক্রন শনাক্ত হয়। ছবি: এএফপি

অস্ট্রেলিয়ায় ওমিক্রন শনাক্ত দুই ব্যক্তিরই করোনা প্রতিরোধী টিকা নেয়া ছিল বলে বিদ্যমান টিকায় করোনার নতুন প্রজাতিটির বিস্তার ঠেকানো সম্ভব নয়- এমন ধারণা আরও জোরালো হলো। একই সঙ্গে ওমিক্রনের বিস্তার নিয়ন্ত্রণও কঠিন বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ সাউথ আফ্রিকায় প্রথম শনাক্তের সপ্তাহ না পেরোতেই এটি আফ্রিকার দক্ষিণের দেশ বতসোয়ানা, ইউরোপে যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি, বেলজিয়াম, মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইসরায়েল এবং এশিয়ায় হংকংয়ে শনাক্ত হয়েছে।

একে একে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে শনাক্ত হচ্ছে করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন। ইউরোপের পর সুদূর অস্ট্রেলিয়াতেও রোববার ভাইরাসটির উপস্থিতি নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্যবিদরা।

মাত্র এক দিন আগেই যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি ও ইসরায়েলে শনাক্ত হয় ভাইরাসটি। গত সপ্তাহে প্রথম এর অস্তিত্ব শনাক্ত হয় সাউথ আফ্রিকায়।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, অস্ট্রেলিয়ায় দুজনের দেহে ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে। আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চল ভ্রমণ করে সিডনিতে পৌঁছান তারা। তাদের দেহে ওমিক্রন সংক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে শনিবার।

নিউ সাউথ ওয়েলসের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, দুই ব্যক্তির কারোর মধ্যেই করোনার উপসর্গ ছিল না। তারা করোনা প্রতিরোধী টিকার ডোজ সম্পন্ন করেছেন আগেই, বর্তমানে কোয়ারেন্টিনে আছেন।

আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চল ভ্রমণ করে অস্ট্রেলিয়ায় ফেরা আরও ১২ বিমানযাত্রীকে ১৪ দিনের জন্য হোটেলে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। যাত্রী ও ক্রুসহ বিমানের বাকি প্রায় ২৬০ জন আরোহীকে সেলফ আইসোলেশনে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ায় ওমিক্রন শনাক্ত দুই ব্যক্তিরই করোনা প্রতিরোধী টিকা নেয়া ছিল বলে বিদ্যমান টিকায় করোনার নতুন প্রজাতিটির বিস্তার ঠেকানো সম্ভব নয়- এমন ধারণা আরও জোরালো হলো।

একই সঙ্গে ওমিক্রনের বিস্তার নিয়ন্ত্রণও কঠিন বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ সাউথ আফ্রিকায় প্রথম শনাক্তের সপ্তাহ না পেরোতেই এটি আফ্রিকার দক্ষিণের দেশ বতসোয়ানা, ইউরোপে যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি, বেলজিয়াম, মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইসরায়েল এবং এশিয়ায় হংকংয়ে শনাক্ত হয়েছে। অস্ট্রিয়াতেও ওমিক্রন পৌঁছেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও বিষয়টি নিশ্চিত হয়নি এখনও।

বিজ্ঞানীদের মতে, উহানে প্রথম শনাক্ত কোভিড নাইনটিনের চেয়ে একেবারেই আলাদা করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন। এটি করোনার অন্য ধরনগুলোর চেয়ে অনেক বেশি সংক্রামক বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে কোভিডসহ করোনার বিভিন্ন ধরনের তুলনায় এটি বেশি প্রাণঘাতী কি না বা গুরুতর অসুস্থতা তৈরি করে কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত নন বিজ্ঞানীরা।

বিদ্যমান টিকায় প্রতিরোধ সম্ভব না হলে দুই বছর শেষ করে তৃতীয় বছরে পা রাখতে যাওয়া বৈশ্বিক মহামারি ওমিক্রনের কারণে আরও দীর্ঘায়িত হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ অবস্থায় প্রাথমিকভাবে ওমিক্রনকে উদ্বেগের কারণ বলেই মনে করা হচ্ছে। এটির বিস্তার রোধে এরই মধ্যে ভ্রমণ বিধিমালা কঠোর করেছে বিভিন্ন দেশ। উৎপত্তিস্থল সাউথ আফ্রিকার সঙ্গে বিমান যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে অনেক দেশ।

পুঁজিবাজারে এরই মধ্যে ওমিক্রনের প্রভাব দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে বিমানসহ পর্যটনের বিভিন্ন খাতে নতুন করে ধসের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। মহামারির প্রথম বছরে ধসের পর বিশ্ব অর্থনীতি যখন ঘুরে দাঁড়ানোর মুখে, তখন ওমিক্রনের কারণে অর্থনীতির গতি থমকে যেতে পারে বলে শঙ্কিত বিনিয়োগকারীরা।

বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও ব্যারেলপ্রতি ১০ ডলার কমেছে।

শেয়ার করুন

সাউথ আফ্রিকা থেকে নেদারল্যান্ডসে পৌঁছে করোনা শনাক্ত ৬১

সাউথ আফ্রিকা থেকে নেদারল্যান্ডসে পৌঁছে করোনা শনাক্ত ৬১

অ্যামস্টারডামের স্কিফোল বিমানবন্দর পৌঁছানো যাত্রীদের কোয়ারেন্টিনে রাখা হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

কঠোর নিয়মের আওতায় সাউথ আফ্রিকা থেকে বিমান চলাচল বহাল থাকলেও ডাচ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নাগরিক ছাড়া নেদারল্যান্ডসে বাকিদের প্রবেশ নিষিদ্ধ। ডাচ ও ইইউ নাগরিকদেরও করোনার পিসিআর টেস্টের নেগেটিভ ফল দেখাতে হবে এবং নেদারল্যান্ডসে পৌঁছে সেলফ-কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।

সাউথ আফ্রিকা থেকে নেদারল্যান্ডসে পৌঁছে করোনাভাইরাস পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন দুটি বিমানের ৬১ জন আরোহী। সাউথ আফ্রিকায় প্রথম শনাক্ত করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন নিয়ে বিশ্বজুড়ে আতঙ্কের মধ্যেই এ খবর জানিয়েছে ডাচ প্রশাসন।

নেদারল্যান্ডসের জাতীয় জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট আরআইভিএম শনিবার এক বিবৃতিতে জানায়, করোনা শনাক্ত এই বিমানযাত্রীদের অনেকেই ওমিক্রনে আক্রান্ত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, শুক্রবার সাউথ আফ্রিকা থেকে রওনা দিয়ে নেদারল্যান্ডসের স্কিফোল বিমানবন্দরে পৌঁছানো দুই বিমানে আরোহী ছিলেন ৬২৪ জন। এদের ১০ শতাংশই করোনা পজিটিভ। বিমানবন্দরের কাছে একটি হোটেলে কোয়ারেন্টিনে আছেন তারা।

ডাচ স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জিজিডি জানিয়েছে, করোনা পজিটিভ প্রত্যেক বিমানযাত্রীকে উপসর্গ দেখা দিলে সাতদিন এবং উপসর্গ দেখা না দিলে পাঁচদিনের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনে রাখা হচ্ছে।

একই সঙ্গে করোনা নেগেটিভ বিমানযাত্রী, যারা নেদারল্যান্ডসে থাকেন, তাদের নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে থাকতে বলা হয়েছে। বাকি যারা নেদারল্যান্ডসে থাকেন না, তারা ‘যাত্রা অব্যাহত রাখা’র অনুমতি দেয়া হয়েছে।

বিমানযাত্রায় ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ আন্তর্জাতিক কেন্দ্র অ্যামস্টারডামের স্কিফোল বিমানবন্দর।

আরআইভিএম জানিয়েছে, করোনা শনাক্ত ৬১ বিমানযাত্রীর দেহে ওমিক্রন সংক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত হতে বিশদ বিশ্লেষণ চলছে। রোববার জানা যেতে পারে ফল।

বিমানযাত্রীদের বরাত দিয়ে সংস্থা দুটি জানায়, স্কিফোল বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষার জন্য কয়েক ঘণ্টার দুর্বিষহ ভোগান্তি সহ্য করতে হয়েছিল তাদের। অনেকেই ফেস মাস্ক পরেননি এবং সামাজিক দূরত্বের বিধিনিষেধ লঙ্ঘন করেছেন।

নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা কেএলএম জানিয়েছে, ওমিক্রন প্রথম শনাক্ত করা দেশ সাউথ আফ্রিকার সঙ্গে বিমান যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে। ‘কঠোর নিয়ম মেনে চলা সাপেক্ষে’ সাউথ আফ্রিকার জোহানেসবার্গ ও কেপ টাউন বিমানবন্দর থেকে যাত্রী আনা-নেয়া চালিয়ে যাবে কেএলএম।

কঠোর নিয়মের আওতায় সাউথ আফ্রিকা থেকে বিমান চলাচল বহাল থাকলেও ডাচ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নাগরিক ছাড়া নেদারল্যান্ডসে বাকিদের প্রবেশ নিষিদ্ধ। ডাচ ও ইইউ নাগরিকদেরও করোনার পিসিআর টেস্টের নেগেটিভ ফল দেখাতে হবে এবং নেদারল্যান্ডসে পৌঁছে সেলফ-কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।

সাউথ আফ্রিকা, বতসোয়ানা, ইসওয়াতিনি, লেসোথো, মোজাম্বিক, নামিবিয়া, জিম্বাবুয়েসহ আফ্রিকা মহাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের আট দেশের সঙ্গে ফ্লাইট চলাচল সীমিত করেছে নেদারল্যান্ডস।

দেশগুলো ভ্রমণ করে গত সোমবার (২২ নভেম্বর) থেকে নেদারল্যান্ডসে পৌঁছানো প্রায় পাঁচ হাজার বিমানযাত্রীকে যত দ্রুত সম্ভব করোনা পরীক্ষা করানোর অনুরোধ করেছে প্রশাসন।

শেয়ার করুন

৪০০ টাকার খাবার কিনে পৌনে দুই লাখ টাকা বকশিশ

৪০০ টাকার খাবার কিনে পৌনে দুই লাখ টাকা বকশিশ

দ্য ওমাহা বেকারি। ছবি: ফেসবুক

বেলভিউ শহরের দ্য ওমাহা বেকারিতে কাজ করা প্রিস্টন রেইথ বলেন, ‘নিকোলাস নামের এক ব্যক্তি সম্প্রতি আমাদের এখানে আসেন। অর্ডার করেন দুটি টার্নওভার; যার মূল্য ৫ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪২৮ টাকা)। এই সেবার জন্য তিনি বকশিশ দেন ২০০০ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ লাখ ৭১ হাজার ৪৮৭ টাকা)।

রেস্টুরেন্টে খাবার খেয়ে বকশিশ দেয়ার প্রচলন বিশ্বের প্রায় সব জায়গায় রয়েছে। তবে সেই পরিমাণটা যদি হয় আকাশছোঁয়া, তবে অবাক না হয়ে উপায় নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন রাজ্যের একটি রেস্টুরেন্টে এমন ঘটনা ঘটেছে।

বেলভিউ শহরের দ্য ওমাহা বেকারিতে কাজ করা প্রিস্টন রেইথ বলেন, ‘নিকোলাস নামের এক ব্যক্তি সম্প্রতি আমাদের এখানে আসেন। অর্ডার করেন দুটি টার্নওভার; যার মূল্য ৫ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪২৮ টাকা)। এই সেবার জন্য তিনি বকশিশ দেন ২০০০ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ লাখ ৭১ হাজার ৪৮৭ টাকা)।

দ্য ওমাহা বেকারি কর্তৃপক্ষ ফেসবুকে ওই রসিদটি শেয়ার করে। বকশিশের পুরো টাকা সব কর্মচারীর মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে বলে জানান বেকারির মালিক মিশেল কায়সার।

৪০০ টাকার খাবার কিনে পৌনে দুই লাখ টাকা বকশিশ

তিনি বলেন, ‘ওই ক্রেতা বুঝতে পেরেছেন, মহামারির মধ্যে কঠিন সময় পার করছি সবাই। সাধারণ মানুষ হিমশিম খাচ্ছে। এ ছাড়া তিনি খেয়াল করেছিলেন, আমাদের কর্মীরা খুব আন্তরিক ও পরিশ্রমী।’

শেয়ার করুন

সেন্ট মার্টিন যেতে প্রস্তুত বে ওয়ান জাহাজ

সেন্ট মার্টিন যেতে প্রস্তুত বে ওয়ান জাহাজ

গত ডিসেম্বরে কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স লিমিটেডের তত্ত্বাবধানে চট্টগ্রাম-সেন্ট মার্টিন রুটে বে ওয়ান চালু হলেও করোনা মহামারির কারণে গত মার্চে অপারেশন বন্ধ রাখা হয়। এবার নতুন উদ্যমে চালু হলেও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ভাড়া ১৭ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

চট্টগ্রাম-সেন্ট মার্টিন রুটে পর্যটকবাহী বে ওয়ান জাহাজ আবারও চলাচল শুরু হচ্ছে।

পতেঙ্গার ১৫ নম্বর ঘাট থেকে বৃহস্পতিবার রাত ১১টায় পর্যটক নিয়ে বে ওয়ান জাহাজটি ছেড়ে যাবে সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশে। ফিরবে শনিবার।

এরপর ডিসেম্বর থেকে শুক্র, শনি ও রোববার নতুন সূচিতে পুরোদমে জাহাজটি চলাচল করবে।

বে ওয়ানের মালিক কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার আবদুর রশিদ এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বিভিন্ন কাউন্টার ছাড়াও টিকিট অনলাইনে পাওয়া যাবে। জনপ্রতি সর্বনিম্ন ৪ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৬০ হাজার টাকায় চেয়ার, কেবিন ও ভিভিআইপি স্যুটে পর্যটকরা আকর্ষণীয় সব সেবা পাবেন। এক ট্রিপে ১ হাজার ৮০০ পর্যটক নেয়ার সক্ষমতা আছে বে ওয়ানের।

তিনি বলেন, ‘আমাদের কর্ণফুলী এক্সপ্রেস নিয়মিত সেন্ট মার্টিন রুটে যাতায়াত করছে। আমাদের বে ওয়ান জাপান, সিঙ্গাপুরসহ বিদেশেও যেতে পারবে। এটি আরও তিন বছর চলতে পারবে। তবে চলাচলের বিষয়টি জাহাজের কন্ডিশনের ওপর নির্ভর করে। নতুন জাহাজের মতো কন্ডিশন আমাদের বে ওয়ানের।’

গত ডিসেম্বরে কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স লিমিটেডের তত্ত্বাবধানে চট্টগ্রাম-সেন্ট মার্টিন রুটে বে ওয়ান চালু হলেও করোনা মহামারির কারণে গত মার্চে অপারেশন বন্ধ রাখা হয়। এবার নতুন উদ্যমে চালু হলেও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ভাড়া ১৭ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

শেয়ার করুন

বেশি খাওয়ার অপরাধে নিষিদ্ধ

বেশি খাওয়ার অপরাধে নিষিদ্ধ

সে যখনই এখানে আসে, আমার অন্তত কয়েক শ ইউয়ান লস হয়। এমনকি সে এক বসাতে ২০ থেকে ৩০ বোতল সয়াদুধ খেয়ে ফেলে। আর যখন পর্ক ট্রটার্স খায়, মাংসভর্তি পুরো ট্রে একাই নিয়ে যায়। চিংড়ি খাওয়ার সময়ও এটা করে। মানুষ যেখানে দুই থেকে তিনটা তুলে নেয়, সেখানে পুরো ট্রে তার একারই লাগে।

চায়নার চাংশা শহরের হানদাদি রেস্টুরেন্টে ‘অল ইউ ক্যান ইট’ নামে একটি বুফে (নির্দিষ্ট টাকায় ইচ্ছামতো খাওয়ার ব্যবস্থা) চালু করা হয়। যেখানে ক্যাং নামক একজনকে সম্প্রতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কারণ তার অতিরিক্ত খাওয়ার ক্ষমতা।

অডিটি সেন্ট্রালের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ক্যাং মাত্রাতিরিক্ত শূকরের মাংস আর চিংড়ি মাছ খাওয়ার ফলে নাকি রেস্টুরেন্টটি প্রচুর টাকা লসের মুখে পড়েছে।

ক্যাং পেশাগতভাবে একজন ফুড ব্লগার। এই ঘটনার পর স্থানীয় প্রতিবেদকদের তিনি জানান- ‘আমাকে হানদাদি সি ফুড বার্বিকিউ বুফে থেকে ব্যান করা হয়েছে। কারণ আমি অন্য সাধারণ কাস্টমারদের থেকে বেশি খেতে পারি। আমি স্বীকার করছি, যখন প্রথম ওই রেস্টুরেন্টে যাই তখন দেড় কেজি পর্ক ট্রটার্স (শূকরের মাংস দিয়ে তৈরি এক ধরনের খাবার) এবং দ্বিতীয়বার প্রায় সাড়ে ৩ থেকে ৪ কেজি চিংড়ি খেয়েছিলাম। এর পরপরই ওরা আমাকে ব্যান করে দেয়। আমার সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে।'

যদিও প্রথমে এই পুরো বক্তব্যটিই রেস্টুরেন্টের মালিক অস্বীকার করেন।

এ ছাড়া টিভিতে দেয়া এক ইন্টারভিউতে ক্যাং খুবই মন খারাপ করে বলেন- ‘আমি অনেক খেতে পারি- এটা কি অপরাধ? আমি তো কখনও কোনো খাবার নষ্ট করিনি, শুধু বেশি খেয়েছি।'

পরবর্তীকালে স্থানীয় গণমাধ্যমের মুখোমুখি হওয়ার পর রেস্টুরেন্টের মালিক অবশ্য স্বীকার করেছেন- ‘হানদাদি সি ফুড বার্বিকিউ থেকে অতিরিক্ত খাওয়ার জন্য তাকে ব্যান করা হয়।'

তিনি আরও বলেন- ‘সে যখনই এখানে আসে, আমার অন্তত কয়েক শ ইউয়ান লস হয়। এমনকি সে এক বসাতে ২০ থেকে ৩০ বোতল সয়াদুধ খেয়ে ফেলে। আর যখন পর্ক ট্রটার্স খায়, মাংসভর্তি পুরো ট্রে একাই নিয়ে যায়। চিংড়ি খাওয়ার সময়ও এটা করে। মানুষ যেখানে দুই থেকে তিনটা তুলে নেয়, সেখানে পুরো ট্রে তার একারই লাগে।'

ক্যাং মূলত একজন মুকবাং স্ট্রিমার (যারা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে খাওয়াদাওয়ার ভিডিও প্রকাশ করে)। তিনি দর্শকদের প্রচুর খাবার খাওয়ার দক্ষতা দেখিয়ে বিনোদিত করে থাকেন।

ক্যাংয়ের ঘটনার পর অল ইউ ক্যান বুফের মালিক সমস্ত ফুড স্ট্রিমারকেই তার রেস্টুরেন্ট থেকে ব্যান করে দেন।

চায়নায় গত সপ্তাহে ক্যাংয়ের এই গল্প ভাইরাল হয়ে যায়। চায়নিজ মাইক্রো ব্লগিং সাইট উইবোতে ঘটনাটির প্রায় ২৫০ মিলিয়ন ভিউ হয়। বেশির ভাগ ভিউয়ারই ক্যাংয়ের পক্ষে থাকেন। তাদের মত হলো- যদি খাওয়াতেই না পারবে তাহলে রেস্টুরেন্টটি এ রকম আয়োজন করল কেন? তাদের এখনই অল ইউ ক্যান ইট বুফে বন্ধ করা উচিত।

শেয়ার করুন