আজারবাইজানের বিরুদ্ধে জাতিগত বিদ্বেষের অভিযোগ

আজারবাইজানের বিরুদ্ধে জাতিগত বিদ্বেষের অভিযোগ

আজারবাইজানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে জাতিগত বিদ্বেষের অভিযোগ আনে আর্মেনিয়া। ছবি: এএফপি

‘আর্মেনীয়দের সবকিছু সম্পর্কে ভয় ও বিদ্বেষের সংস্কৃতি প্রজন্মের পর প্রজন্মের মনে গেঁথে দেয়া হচ্ছে।’

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) আজারবাইজানের বিরুদ্ধে জাতিগত বিদ্বেষের অভিযোগ এনেছে আর্মেনিয়া। পাশাপাশি আজারবাইজানের এ কর্মকাণ্ড বন্ধে আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারকদের প্রতি আহ্বান জানায় দেশটি।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মাসে জাতিসংঘের উচ্চ আদালতে (আইসিজে) আজারবাইজানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা করে আর্মেনিয়া। আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া উভয়ই ১৯৬৫ সালের ওই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল।

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে বৃহস্পতিবারের শুনানিতে ওই অভিযোগের বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ নিতে বিচারকদের প্রতি আহ্বান জানায় আর্মেনিয়া।

শুনানিতে আর্মেনিয়ার আইনজীবীরা জানান, আজারবাইজান সরকার এমন এক সংস্কৃতি নির্মাণ করেছে, যেখানে জাতিগত বিদ্বেষের পাশাপাশি আর্মেনীয়দের হত্যা ও নির্যাতন কাঠামোগত হয়ে গেছে।

আদালতে আর্মেনিয়ার প্রতিনিধি ইয়েঘিশে কিরাকোসিয়ান বলেন, ‘জাতিগত আর্মেনীয়দের বিরুদ্ধে আজারবাইজানের সহিংসতা- বিদ্বেষ বন্ধ ও প্রতিকারে জরুরি পদক্ষেপ নিতে আমরা অনুরাধ জানাচ্ছি।

‘একই সঙ্গে আসন্ন অপূরণীয় ক্ষতির হাত থেকে আর্মেনীয়দের অধিকার রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানানো হচ্ছে।’

কিরাকোসিয়ান আরও বলেন, ‘গত বছরের সেপ্টেম্বরে আর্মেনিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেন আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ।

‘দেড় মাস দীর্ঘ ওই যুদ্ধের সঙ্গে জাতিগত সহিংসতা ও বিদ্বেষের পরিষ্কার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এ বিদ্বেষ এখনই বন্ধ করা না গেলে এটি আগামী দিনে আরও বাড়বে।

‘আর্মেনীয়দের সবকিছু সম্পর্কে ভয় ও বিদ্বেষের সংস্কৃতি প্রজন্মের পর প্রজন্মের মনে গেঁথে দেয়া হচ্ছে।’

আজারবাইজান তাদের বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ইলনুর মামাডোভ আন্তর্জাতিক বিচার আদালতকে জানান, আজারবাইজান নয়, বরং আর্মেনিয়াই কয়েক দশক ধরে জাতিগত হত্যাযজ্ঞের সঙ্গে জড়িত।

আন্তর্জাতিক আদালতে আজারবাইজানের আইনজীবীরা আর্মেনিয়ার অভিযোগকে ‘অযৌক্তিক’ বলে অভিহিত করেন।

একই সঙ্গে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের লক্ষ্যে জাতিসংঘের আদালত আর্মেনিয়া ব্যবহার করছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

গত বছর বিতর্কিত নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চলকে নিয়ে দুই পক্ষের যুদ্ধের একপর্যায়ে ওই অঞ্চল থেকে জাতিগত আর্মেনীয় বাহিনীকে বের করে দেয় আজারবাইজানের সেনাবাহিনী।

ওই যুদ্ধে সাড়ে ছয় হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারায়।

আরও পড়ুন:
আর্মেনীয়দের ওপর গণহত্যা হয়েছে: বাইডেন
চাপের মুখে পদত্যাগ আর্মেনিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রীকে হত্যাচেষ্টা রুখল আর্মেনিয়া

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ভাইয়ের যৌন কেলেঙ্কারিতে চাকরি গেল সিএনএন উপস্থাপকের

ভাইয়ের যৌন কেলেঙ্কারিতে চাকরি গেল সিএনএন উপস্থাপকের

সিএনএনের সংবাদ উপস্থাপক ও সংবাদদাতা ক্রিস কুওমো। ছবি: সংগৃহীত

ক্রিসের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করা নারীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে নিজের অবস্থান এবং নিউজ মিডিয়া আউটলেটগুলো ব্যবহার করেছিলেন।

যৌন অসদাচরণের অভিযোগ মোকাবিলায় ভাই নিউ ইয়র্কের সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুওমোকে সহায়তা করায় বরখাস্ত হলেন সিএনএনের অভিজ্ঞ সংবাদ উপস্থাপক ও সংবাদদাতা ক্রিস কুওমো।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ভাই অ্যান্ড্রু কুওমোর মামলায় ক্রিস কুওমোর জড়িত থাকার তথ্য পেয়েছে সিএনএন কর্তৃপক্ষ।

ক্রিসের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করা নারীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে নিজের অবস্থান এবং নিউজ মিডিয়া আউটলেটগুলো ব্যবহার করেছিলেন।

সিএনএন অধিকতর তদন্তের সুবিধার্থে গত সপ্তাহের শুরুতেই ৫১ বছর বয়সী ক্রিসকে তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়।

ক্রিস সিএনএনের সবচেয়ে জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘প্রাইম টাইম নিউজ শো’ এর উপস্থাপক ছিলেন। আইন সংস্থার সহায়তা নিয়ে সিএনএন কর্তৃপক্ষ তাকে বরখাস্ত করেছে।

তবে ঘটনার বিস্তারিত প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।

ক্রিস আগেই স্বীকার করেছিলেন, ভাইকে জনসংযোগ দৃষ্টিকোণ থেকে অভিযোগগুলো পরিচালনার বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে সিএনএনের কিছু নিয়ম তিনি ভঙ্গ করেছেন।

সিএনএন থেকে বরখাস্ত হওয়ার পর টুইটারে এক বিবৃতিতে হতাশা প্রকাশ করেছেন ক্রিস। তিনি বলেন, ‘আমি চাইনি যে, সিএনএনে এভাবে আমার সময় শেষ হোক। তবে আমি ইতিমধ্যে বলেছি কেন এবং কীভাবে আমি আমার ভাইকে সাহায্য করেছি।’

ক্রিসের ভাই নিউ ইয়র্কের সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুওমোর বিরুদ্ধে ২৯ অক্টোবর নিউ ইয়র্কের একটি আদালতে যৌন অপরাধের অভিযোগে মামলা করা হয়। রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের তদন্তে অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে অধস্তন নারী কর্মীদের বিরুদ্ধে যৌন অসদাচরণ এবং রাজ্যের আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া যায়।

এর জেরে ৬৩ বছর বয়সী অ্যান্ডু কুওমোকে গভর্নর পদ থেকে সরে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।

অ্যান্ড্রু কুওমো একজন ডেমোক্রেট নেতা। চলমান মহামারি ইস্যুতে নিউ ইয়র্ক কীভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে সে সম্পর্কে তিনি ব্রিফ করতেন। প্রায়ই তার ভাইয়ের শোতে উপস্থিত হতেন।

তাদের বাবা প্রয়াত মারিও কুওমোও নিউ ইয়র্কের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

আরও পড়ুন:
আর্মেনীয়দের ওপর গণহত্যা হয়েছে: বাইডেন
চাপের মুখে পদত্যাগ আর্মেনিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রীকে হত্যাচেষ্টা রুখল আর্মেনিয়া

শেয়ার করুন

মরণোত্তর দেহ দান করবেন সোনাগাছির যৌনকর্মীরা

মরণোত্তর দেহ দান করবেন সোনাগাছির যৌনকর্মীরা

গণ দর্পণের যুগ্ম সম্পাদক শ্যামল চ্যাটার্জী বলেন, ‘৭৫ থেকে ১০০ জন অঙ্গীকারপত্রে সই করবেন আশা করেছিলাম। আবহাওয়া খারাপ থাকার জন্য অনেকে আসতে পারেননি। এখন পর্যন্ত ২৫ জন যৌনকর্মী অঙ্গীকারপত্রে সই করেছেন। ৩০ জনের বেশি ফর্ম নিয়ে গেছেন। শিবির চলছে। আশা করছি, আরও কিছু মানুষ মরণোত্তর দেহদানের অঙ্গীকারপত্রে সই করবেন।’

পশ্চিমবঙ্গে মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার জন্য পর্যাপ্ত মরদেহ নেই। এ সমস্যা মেটাতে এবার মরণোত্তর দেহদানের অঙ্গীকারে এগিয়ে এলেন কলকাতার সোনাগাছির যৌনকর্মীরা।

শনিবার রাজ্যের মরণোত্তর দেহদানের পথিকৃত সংগঠন গণ দর্পণের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে যৌনকর্মীদের সংগঠন দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটি সোনাগাছিতে একটি মরণোত্তর দেহদানের শিবিরের আয়োজন করে। সেখানে ২৫ জন যৌনকর্মী লিখিতভাবে দেহদানের অঙ্গীকারপত্রে সম্মতি জানিয়েছেন।

গণ দর্পণের যুগ্ম সম্পাদক শ্যামল চ্যাটার্জী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘৭৫ থেকে ১০০ জন অঙ্গীকারপত্রে সই করবেন আশা করেছিলাম। আবহাওয়া খারাপ থাকার জন্য অনেকে আসতে পারেননি। এখন পর্যন্ত ২৫ জন যৌনকর্মী অঙ্গীকারপত্রে সই করেছেন। ৩০ জনের বেশি ফর্ম নিয়ে গেছেন। শিবির চলছে। আশা করছি, আরও কিছু মানুষ মরণোত্তর দেহদানের অঙ্গীকারপত্রে সই করবেন।’

দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটির পক্ষে জানানো হয়, যৌনকর্মীদের এই মহৎ উদ্যোগে সামিল হতে তারা উৎসাহিত করছেন। আগামী দিনে দুর্বারের নিজস্ব ক্লিনিকে মরণোত্তর দেহ দানের ফর্ম পাওয়া যাবে।

শ্যামল চ্যাটার্জী বলেন, ‘আনন্দের কথা এ বিষয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ছে। বহু মানুষ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মরণোত্তর দেহদানে এগিয়ে আসছেন। যৌনকর্মীদের মধ্যে এ ব্যাপারে উৎসাহ যোগাতে সোনাগাছিতে এই প্রথম মরণোত্তর দেহ দানের শিবির করা হলো। আগামী দিনে রাজ্যের প্রত্যেকটা যৌন পল্লীতে সচেতনতা প্রচার চালানো হবে। এলজিবিটিদের জন্যও মরণোত্তর দেহদানের উদ্যোগ নেয়া হবে।'

এদিনের অনুষ্ঠানে শারীরিক অসুস্থতার জন্য উপস্থিত থাকতে পারেননি শিল্পী নচিকেতা। তবে গান শুনিয়ে এই উদ্যোগকে উৎসাহিত করেছেন লোপামুদ্রা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

গণদর্পণ সারা বছর পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে মরণোত্তর দেহদানের জন্য শিবির করে। বছরে প্রায় ১০ হাজার মানুষ মরণোত্তর দেহদানের জন্য অঙ্গীকারপত্রে সই করেন। সেখান থেকে বছরে প্রায় ৬০০ অঙ্গীকার করা মরণোত্তর দানের দেহ পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন:
আর্মেনীয়দের ওপর গণহত্যা হয়েছে: বাইডেন
চাপের মুখে পদত্যাগ আর্মেনিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রীকে হত্যাচেষ্টা রুখল আর্মেনিয়া

শেয়ার করুন

কর্মক্ষেত্রে নারীর ওপর নিষেধাজ্ঞা, আফগানিস্তানের ক্ষতি ১ বিলিয়ন ডলার

কর্মক্ষেত্রে নারীর ওপর নিষেধাজ্ঞা, আফগানিস্তানের ক্ষতি ১ বিলিয়ন ডলার

নিজ অফিসে কাজ করছেন আফগান নারী চিত্র পরিচালক রোয়া সাদাত। ছবি: এএফপি

ইউএনডিপির প্রধান আবদুল্লাহ আল দারদারি বলেন, ‘আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, নারীদের অংশগ্রহণ ছাড়া আফগান অর্থনীতির পুনরুদ্ধার কোনোভাবেই সম্ভব নয়। আমাদের প্রতিবেদন দেখিয়েছে একই স্তরের পড়াশোনা করা পুরুষের চেয়ে কর্মক্ষেত্রে আফগান নারীদের উৎপাদনশীলতা বেশি ছিল।’

কট্টর ইসলামপন্থি গোষ্ঠী তালেবান ক্ষমতায় আসার পর কর্মক্ষেত্রে নারীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়ায় আফগানিস্তানের প্রায় এক বিলিয়ন ডলার অর্থনৈতিক ক্ষতি হতে পারে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)।

সংস্থাটির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, কর্মস্থলে নারীদের অংশগ্রহণ ছাড়া আফগানিস্তানের বিপর্যয়কর অর্থনীতি পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়। কর্মক্ষেত্রে নারীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়ায় আফগান অর্থনীতির এক বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে, যা মোট জিডিপির পাঁচ শতাংশ।

সম্প্রতি কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইতোমধ্যে অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে বৈদেশিক সাহায্য খুঁজছে তালেবান সরকার।

জাতিসংঘের এই নতুন প্রতিবেদনে আফগান অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতি ও দরপতনের বিপর্যয়কর চিত্রও উঠে এসেছে।

ভবিষ্যতে আরও বিপর্যয়কর পরিস্থিতি মোকাবিলায় তালেবানের প্রধানমন্ত্রী মোল্লা হাসান আখুন্দ বিদেশি অর্থনৈতিক সাহায্য কামনা করেছেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে শরিয়া আইনের মধ্যে থেকেই নারীর অধিকার নিশ্চিত করবে তালেবান।

মোল্লা হাসান আখুন্দ ছাড়াও আরও অনেক তালেবান নেতা এ ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে কীভাবে তারা নারীদের সহযোগিতা করবেন সেটি পরিষ্কার করতে পারেননি।

এ বছরের আগস্টে ক্ষমতা নেয়ার পরপরই সরকারি অফিসের নারীকর্মীদের কর্মক্ষেত্রে আসতে নিষেধ করে দেয় তালেবান। এ ছাড়াও সংগঠনটি মেয়েদের স্কুলে আসাও বন্ধ করে দেয়। স্বল্প সংখ্যক নারী, যারা নার্সিংয়ের মতো জরুরি সেবাখাতে কাজ করেন, তাদের কাজে যোগদানের অনুমতি দেয়া হয়েছে।

তালেবান ক্ষমতায় আসার আগে আফগানিস্তানের কর্মক্ষেত্রের ২০ শতাংশ জুড়ে ছিলেন নারীরা।

ইউএনডিপির প্রধান আবদুল্লাহ আল দারদারি বলেন, ‘আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, নারীদের অংশগ্রহণ ছাড়া আফগান অর্থনীতির পুনরুদ্ধার কোনোভাবেই সম্ভব নয়। আমাদের প্রতিবেদন দেখিয়েছে একই স্তরের পড়াশোনা করা পুরুষের চেয়ে কর্মক্ষেত্রে আফগান নারীদের উৎপাদনশীলতা বেশি ছিল।’

সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফগান জিডিপিতে বৈদেশিক সাহায্যের নির্ভরতা ছিল ৪০ শতাংশ। এটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশটি ভয়াবহ অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে পড়ে। এ ছাড়া আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নয় বিলিয়ন ডলার জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক।

যে কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তার আগে নারী ও সংখ্যালঘুদের প্রতি তালেবানের দৃষ্টিভঙ্গি জানতে চাইছে পশ্চিমা দেশগুলো।

আরও পড়ুন:
আর্মেনীয়দের ওপর গণহত্যা হয়েছে: বাইডেন
চাপের মুখে পদত্যাগ আর্মেনিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রীকে হত্যাচেষ্টা রুখল আর্মেনিয়া

শেয়ার করুন

আফগান নারীরা শিগগিরই অধিকার ফিরে পাবেন: হামিদ কারজাই

আফগান নারীরা শিগগিরই অধিকার ফিরে পাবেন: হামিদ কারজাই

আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই। ছবি: বিবিসি

বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে সাবেক আফগান প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘নারীরা শিগগিরই কর্মক্ষেত্রে ফিরতে পারবেন। মেয়েরাও স্কুল-কলেজে যাওয়ার অনুমতি পাবে। এ বিষয়ে তালেবানের সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে।’

তালেবানকে নিজের ভাই বলে সম্বোধন করেছেন আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই। বিবিসিকে দেয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে বৃহস্পতিবার কারজাই জানান, নতুন তালেবান সরকারের সঙ্গে তার চমৎকার বোঝাপড়া। তাদের সঙ্গে বৈঠকে বিরোধপূর্ণ অনেক ইস্যু নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘তালেবানদের আমি ভাইয়ের মতো দেখি, যেমনটা আর সব আফগান নাগরিকের ভাবি। দেশের স্বার্থে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমরা এক দেশের নাগরিক, এক জাতি। আমরা এখন ধুঁকছি।’

২০০১ সালে তালেবান সরকারের পতনের পর আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট পদে দুই দফায় ছিলেন হামিদ কারজাই।

সাক্ষাৎকারে কারজাই বলেন, নারীরা শিগগিরই কর্মক্ষেত্রে ফিরতে পারবেন। মেয়েরাও স্কুল-কলেজে যাওয়ার অনুমতি পাবে। এ বিষয়ে তালেবানের সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে।’

কবে কোথায় বৈঠক হয়েছিল, তা উল্লেখ করেননি সাবেক এই প্রেসিডেন্ট।

আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারের মধ্যেই গত ১৫ আগস্ট রাজধানী কাবুল দখলে নেয় তালেবান। উদারনীতির প্রতিশ্রুতি দিলেও অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতায় দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান অনেক নাগরিক।

সাক্ষাৎকারে এসব নাগরিকের ফিরে দেশ গঠনে সহায়তা করার আহ্বান জানান হামিদ কারজাই।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে কোনো বার্তা দিতে চান কি না- এমন প্রশ্নের উত্তরে কারজাই বলেন, ‘এটা ভালো হবে যদি যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা আবার আফগানিস্তানে এসে জনগণকে সাহায্য করে। আফগানিস্তান পুনর্গঠনে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের এগিয়ে আসা উচিত।’

আরও পড়ুন:
আর্মেনীয়দের ওপর গণহত্যা হয়েছে: বাইডেন
চাপের মুখে পদত্যাগ আর্মেনিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রীকে হত্যাচেষ্টা রুখল আর্মেনিয়া

শেয়ার করুন

ইউএনও আসায় কিশোরীকে পাল্টে বধূবেশে ভাবি

ইউএনও আসায় কিশোরীকে পাল্টে বধূবেশে ভাবি

দিনাজপুরে বাল্যবিয়ের আসরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান ছবি: নিউজবাংলা

ইউএনও বলেন, ‘অভিযানের খবর পেয়ে বিয়ে বাড়ির সবাই পালিয়ে যায়। আমাদের বোকা বানাতে কনেকে সরিয়ে তার ভাবি বৌ সেজে বসে ছিলেন। তবে অভিযানের আগেই কাজী নিকাহ রেজিস্টারে খসড়া লেখা শেষ করেছিলেন।’

দিনাজপুরের বিরামপুরে বাল্যবিয়ের আসরে অভিযানে গেলে কিশোরীকে সরিয়ে ভাবিকে বধূবেশে বসিয়ে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট।

অভিযান চালিয়ে বাল্যবিয়ের ঘটনার সত্যতা পেয়ে কাজীকে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে; বরকে জরিমানা করা হয়েছে।

উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের ন্যাটাশন গ্রামে বৃহস্পতিবার রাত ১১টায় এ ঘটনা ঘটে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পরিমল কুমার তথ্যগুলো নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘ন্যাটাশন গ্রামে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে বিয়ে দেয়া হচ্ছে খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে অভিযান চালাই। অভিযানের খবর পেয়ে বিয়ে বাড়ির সবাই পালিয়ে যায়। আমাদের বোকা বানাতে কনেকে সরিয়ে তার ভাবি বৌ সেজে বসে ছিলেন। তবে অভিযানের আগেই কাজী নিকাহ রেজিস্টারে খসড়া লেখা শেষ করেছিলেন।’

তিনি আরও বলেন, পরে কাজী কাজী রেহান রেজাকে ৬ মাসের কারাদণ্ড ও বর রুবেল ইসলামকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। কনের বাবাকে বাল্যবিয়ে না দেয়ার শর্তে মুচলেকা দেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
আর্মেনীয়দের ওপর গণহত্যা হয়েছে: বাইডেন
চাপের মুখে পদত্যাগ আর্মেনিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রীকে হত্যাচেষ্টা রুখল আর্মেনিয়া

শেয়ার করুন

টাইম ম্যাগাজিনের বর্ষসেরা ছবিতে তাসনুভা 

টাইম ম্যাগাজিনের বর্ষসেরা ছবিতে তাসনুভা 

সংবাদ পাঠের প্রথম দিনে তাসনুভার আনন্দময় মুহূর্তের এই ছবিটি স্থান পেয়েছে টাইম ম্যাগাজিনে। ছবি: এএফপি

ম্যাগাজিনটির বর্ষসেরা ১০০ ছবির তালিকায় এসেছে সংবাদ পাঠের প্রথম দিনে তাসনুভার আনন্দময় মুহূর্তের ছবি। রেওয়াজ অনুযায়ী প্রতিবছরের শেষ ভাগে বিশ্বজুড়ে আলোচিত ১০০ ঘটনার ছবি প্রকাশ করে টাইম ম্যাগাজিন।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে গত ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে দেশের প্রথম ট্রান্সজেন্ডার নারী হিসেবে টেলিভিশনে সংবাদ পাঠ করে বিশ্বজুড়ে মনোযোগ কাড়েন তাসনুভা আনান শিশির।

ইতিহাস গড়ার সেই মুহূর্তটি এবার জায়গা পেল প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক ম্যাগাজিন টাইম-এ। ম্যাগাজিনটির বর্ষসেরা ১০০ ছবির তালিকায় এসেছে সংবাদ পাঠের প্রথম দিনে তাসনুভার আনন্দময় মুহূর্তের ছবি।

রেওয়াজ অনুযায়ী প্রতিবছরের শেষ ভাগে বিশ্বজুড়ে আলোচিত ১০০ ঘটনার ছবি প্রকাশ করে টাইম ম্যাগাজিন।

তাসনুভার ছবিটি তুলেছিলেন বাংলাদেশি আলোকচিত্রী মুনির-উজ-জামান। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির হয়ে তোলা ছবিতে দেখা যায়, বৈশাখী টেলিভিশনের স্টুডিওতে সংবাদ পাঠের জন্য প্রস্তুত তাসনুভা। তার পাশে দাঁড়িয়ে আছেন চার নারী সহকর্মী। গত ৮ মার্চ দুপুর ১২টার সংবাদ পড়ে ইতিহাস গড়েন তাসনুভা।

টাইম ম্যাগাজিনে প্রকাশিত ছবিটি সোমবার নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে কাভার ফটো করেছেন তাসনুভা। এ ছাড়া, টাইমের ছবির লিংকও শেয়ার করেছেন তিনি।

টাইম ম্যাগাজিনের বর্ষসেরা ছবিতে আরও এসেছে যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জর্জ ফ্লয়েড হত্যা মামলায় রায়ের পর স্বজনের উচ্ছ্বাস, মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভ, কাবুলের হামিদ কাজরাই বিমানবন্দরের সামনে অস্ত্র রেখে তালেবানের নামাজ পড়ার মতো বিভিন্ন আলোচিত মুহূর্ত।

আরও পড়ুন:
আর্মেনীয়দের ওপর গণহত্যা হয়েছে: বাইডেন
চাপের মুখে পদত্যাগ আর্মেনিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রীকে হত্যাচেষ্টা রুখল আর্মেনিয়া

শেয়ার করুন

বিএসএমএমইউতে ট্রান্সজেন্ডারদের ক্লিনিক নিয়ে বিতর্ক

বিএসএমএমইউতে ট্রান্সজেন্ডারদের ক্লিনিক নিয়ে বিতর্ক

করোনারোগীদের সেবায় গত এপ্রিলে এগিয়ে এসেছিল ট্রান্সজেন্ডারদের সংগঠন বৃহন্নলা। ফাইল ছবি

ক্লিনিকের নামের সঙ্গে ‘ডিসঅর্ডার অফ সেক্স ডেভেলপমেন্ট’ থাকা নিয়ে আপত্তি তুলেছেন ট্রান্সজেন্ডার অ্যাক্টিভিস্টরা। তারা বলছেন, ‘রোগী’ হিসেবে চিহ্নিত করায় ট্রান্সজেন্ডারদের সম্পর্কে সমাজে ভুল ও নেতিবাচক ধারণা বাড়বে। শৈশবে ট্রান্সজেন্ডার শনাক্ত করা সম্ভব নয় দাবি করে শিশুদের লিঙ্গ পরিবর্তনের সার্জারি তাদের ভবিষ্যত জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলেও মত দিচ্ছেন তারা।

ট্রান্সজেন্ডারসহ অপূর্ণাঙ্গ বা ত্রুটিপূর্ণ লিঙ্গ নিয়ে জন্মগ্রহণকারী শিশুদের লিঙ্গ রূপান্তরের জন্য সম্প্রতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) একটি বহির্বিভাগ ক্লিনিক চালু হয়েছে ।

‘ডিসঅর্ডার অফ সেক্স ডেভেলপমেন্ট বহির্বিভাগ ক্লিনিক’ এর উদ্বোধন হয়েছে ২১ নভেম্বর। তবে এই ক্লিনিকের নাম এবং লক্ষ্য নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক।

ট্রান্সজেন্ডার অ্যাক্টিভিস্টরা বলছেন, আধুনিক বিজ্ঞান ট্রান্সজেন্ডারকে আলাদা লিঙ্গ হিসেবে স্বীকার করেছে। বাংলাদেশেও নারী-পুরুষের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয়ভাবে এই লিঙ্গ স্বীকৃতি পেয়েছে। এমন অবস্থায় ট্রান্সজেন্ডারকে ‘অপূর্ণাঙ্গ বা ত্রুটিপূর্ণ লিঙ্গ’ হিসেবে উপস্থাপন করে বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ অসংবেদনশীল মনোভাবের পরিচয় দিয়েছে।

ক্লিনিকের নামের সঙ্গে ‘ডিসঅর্ডার অফ সেক্স ডেভেলপমেন্ট’ থাকা নিয়েও আপত্তি তুলেছেন তারা। ট্রান্সজেন্ডার অ্যাক্টিভিস্টরা বলছেন, ‘রোগী’ হিসেবে চিহ্নিত করায় ট্রান্সজেন্ডারদের সম্পর্কে সমাজে ভুল ও নেতিবাচক ধারণা বাড়বে।

শৈশবে নারী ও পুরুষের বাইরে ট্রান্সজেন্ডার শনাক্ত করা সম্ভব নয় দাবি করে শিশুদের লিঙ্গ পরিবর্তনের সার্জারি তাদের ভবিষ্যত জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলেও মত দিচ্ছেন তারা।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের দাবি, অনেক ভেবেচিন্তেই ক্লিনিকটির এমন নাম রাখা হয়েছে। বিভিন্ন দেশে এই নামে চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে বলেও দাবি তাদের।

নতুন সেবা উদ্বোধনের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘মূলত তৃতীয় লিঙ্গসহ অপূর্ণাঙ্গ বা ক্রটিপূর্ণ লিঙ্গ নিয়ে জন্মগ্রহণকারী শিশুদের শারীরিক ফেনোটাইপ (বাইরের প্রজনন অঙ্গ) ও জেনোটাইপ (জিনগত ভিতরের প্রজনন অঙ্গ) অনুযায়ী সার্জারিসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসার মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ লিঙ্গে রূপ দিতে ক্লিনিকটি চালু করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘‘মুজিব বর্ষের অঙ্গীকার, শূন্যের কোটায় আসবে থার্ড জেন্ডার’। সবাই মিলে চেষ্টা করলে এবং এ বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে আন্দোলনে পরিণত করতে পারলে অবশ্যই এই শ্লোগান বাস্তবায়ন করা সম্ভব।”

বিএসএমএমইউতে ট্রান্সজেন্ডারদের ক্লিনিক নিয়ে বিতর্ক

উপাচার্য বলেন, ‘রূপান্তরিত লিঙ্গ বা ট্রান্সজেন্ডার নিয়ে মানুষ অনেক কিছুই জানেন না। সমাজে যারা হিজরা নামে পরিচিত চিকিৎসার মাধ্যমে তারা পূর্ণাঙ্গ নারী বা পুরুষে রূপান্তরিত হতে পারেন। শিশুকালেই এ সমস্যা সমাধানের জন্য শিশু সার্জারি বিভাগের চিকিৎসকদের পরামর্শ গ্রহণ করে চিকিৎসা নিলে ভুক্তভোগীরা দ্রুত মুক্তি লাভ করবে।’

তবে এই বক্তব্য চরম আপত্তিকর বলে মনে করছেন ট্রান্সজেন্ডার নারী তাসনুভা আনান। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এখানে প্রথম আপত্তিকর শব্দ তৃতীয় লিঙ্গের শিশু। তাহলে প্রথম লিঙ্গ কারা, দ্বিতীয় বা ‍চতুর্থ কারা? লিঙ্গতে এমন কোনো ক্রমবিভাজন নেই।’

তাসনুভা বলেন, ‘জন্মের পর অনেক শিশুর ক্ষেত্রে সময় মতো যৌন অঙ্গের ডেভেলপমেন্ট হয় না। এদের আমরা ইন্টারসেক্স ফিমেল ও ইন্টারসেক্স মেল বলে থাকি। শিশুদের হারমোন ডেভেলপমেন্ট হয় ৬ থেকে ৭ বছর বয়সে। তখন সে বিপরীত লিঙ্গর প্রতি আকর্ষণ বোধ করতে শুরু করে।

অপরিণত যৌনাঙ্গের ভিত্তিতে শিশুদের লিঙ্গ পরিবর্তনের চিকিৎসা ঝুঁকিপূর্ণ দাবি করে তিনি বলেন, ‘ওই বয়সে বাবা-মায়ের সিদ্ধান্তে সার্জারি করার পর বড় হয়ে শিশুটি যদি মনে করে পরিবর্তিত লিঙ্গটা সে বিলং (ধারণ) করছে না, তাহলে কী ঘটবে? তখন যদি সে ভারসাম্যহীন জীবনে চলে যায় তার দায়িত্ব কে নেবে? বর্তমানে বিশ্বে যেসব ইন্টারসেক্স শিশু রয়েছে, তারা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর নিজেরাই নিজেদের লিঙ্গের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়। এটি রাষ্ট্র বা বাবা-মায়ের চাপিয়ে দেয়ার মতো সিদ্ধান্ত নয়।’

অপূর্ণাঙ্গ বা ত্রুটিপূর্ণ লিঙ্গের সঙ্গে ট্রান্সজেন্ডারের কোনো সম্পর্ক নেই বলেও উল্লেখ করেন তাসনুভা। ‘ট্রান্সজেন্ডারের সংখ্যা শূন্যে নামিয়ে আনা’র লক্ষ্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এটি একটি স্বতন্ত্র লৈঙ্গিক বৈশিষ্ট্য। আমি তো বায়োলজিক্যালি পুরুষ বা নারী নই। তাহলে কেনো আমাকে আমার মতো থাকতে দেয়া হবে না। আমাকে জোর করে কেনো খোপের মধ্যে ঢোকানো হচ্ছে!’

ক্লিনিকের নামকরণের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “তারা ব্যবহার করছে ডিসঅর্ডার অফ সেক্স ডেভেলপমেন্ট বহির্বিভাগ ক্লিনিক। সেক্স ডেভেলপমেন্টে ডিসঅর্ডার কী রকম, এটা আমি বুঝতে পারছি না। এমন হলে সাধারণ মানুষ ট্রান্সজেন্ডারকে এক ধরনের রোগী হিসেবে ধরে নেবে। মনে করবে তারা ডিসঅর্ডারে ভুগছেন। এই নামের পরিবর্তে তারা ‘সেক্সুয়াল রিঅ্যাসাইন সেন্টার’ নাম দিতে পারত।”

বিএসএমএমইউতে ট্রান্সজেন্ডারদের ক্লিনিক নিয়ে বিতর্ক

ট্রান্সজেন্ডার অ্যাক্টিভিস্ট হোচিমিন ইসলামও বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিভঙ্গীর সমালোচনা করেছেন। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শিশুদের এই চিকিৎসা দেয়ার উদ্যোগ একটি মারাত্মক ভুল সিদ্ধান্ত ও ভুল কাজ।’

‘কিছু শিশুর ক্ষেত্রে সেক্স অর্গান স্পষ্ট হয় না। এমন সন্তান যখন জন্ম নেয় তখন আমাদের সামাজে অভিভাবকেরা চান সার্জারি করে ছেলে সন্তান বানাতে। ওই বাচ্চাটি বড় হয়ে যদি দেখে তার ইমোশন মেয়েদের মতো, তখন সে ভাবতে থাকে কেনো আমাকে ছেলে বানানো হলো। এমন জটিল সমস্যায় ভোগা অনেক ব্যক্তি আমাদের সামনেই রয়েছে।’

ট্রান্সজেন্ডারের বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করে হোচিমিন বলেন, ‘ট্রান্সজেন্ডারের ক্ষেত্রে দেখা যায়, তাদের আত্মার সঙ্গে সত্তার মিল থাকে না। ফলে সেক্স ডিজঅর্ডার বা লৈঙ্গিক ত্রুটির সঙ্গে ট্রান্সজেন্ডারের কোনো সম্পর্ক নেই।’

তিনি বলেন, ‘মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে প্রতিবছর যে ডিরেক্টরি বের হয় সেখানে শিশুর লৈঙ্গিক অপূর্ণতাকে ডিসঅর্ডার বলতে নিষেধ করা হয়েছে।’

হোচিমিন এবং তাসনুভা দুজনেই মনে করছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ নেয়ার আগে ট্রান্সজেন্ডারদের সঙ্গে বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষের আলোচনা করা উচিত ছিল।

বিএসএমএমইউতে ট্রান্সজেন্ডারদের ক্লিনিক নিয়ে বিতর্ক
দুই ট্রান্সজেন্ডার নারী হোচিমিন ইসলাম (বাঁয়ে) এবং তাসনুভা আনান শিশির

তবে উদ্যোগটি নিয়ে বিতর্কের কোনো অবকাশ নেই বলে দাবি করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পেডিয়াট্রিক সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ কে এম জাহিদ হোসেন।

ট্রান্সজেন্ডারকেও একটি ‘রোগ’ দাবি করে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ডিসঅর্ডার অফ সেক্স ডেভেলপমেন্ট একটি ডেভেলপমেন্টমূলক রোগ। এই নামটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। এর আগে ট্রান্সজেন্ডার, ইন্টারসেক্স এসব নামে এগুলো পরিচিত ছিল। তবে টার্ম নিয়ে আপত্তির কারণে সবগুলোকে এখন ডিসঅর্ডার অফ সেক্স ডেভেলপমেন্ট বলা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘এই নামটি শিকাগো থেকে ২০০৫ সালে নির্ধারণ করা হয়েছে, আমাদের টেক্সবুকেও রয়েছে। এই ডেভেলপমেন্টমূলক রোগ শিশুদের জন্ম থেকেই দেখা যায়।’

অধ্যাপক এ কে এম জাহিদ হোসেন ট্রান্সজেন্ডারকে ডিসঅর্ডার অফ সেক্স ডেভেলপমেন্ট হিসেবে দাবি করলেও বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এ দুটি ক্ষেত্রে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে।

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসেস (এনএইচএস) বলেছে, ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তি হলেন এমন কেউ যিনি নিজের জন্মগতভাবে পাওয়া লিঙ্গের সঙ্গে নিজের মনোগত লিঙ্গীয় বৈশিষ্ট্যের তফাৎ অনুভব করেন।

অন্যদিকে এনএইচএস-এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ডিসঅর্ডার অফ সেক্স ডেভেলপমেন্ট বা ডিএসডি হলো বিরল একটি শারীরিক অবস্থা যার সঙ্গে জিন, হরমোন এবং যৌনাঙ্গসহ প্রজনন অঙ্গের অপূর্ণাঙ্গতা জড়িত। এক্ষেত্রে একজন ব্যক্তির যৌন বিকাশ অন্যান্য মানুষের থেকে আলাদা হয়ে থাকে। এনএইচএস সাম্প্রতিক সময়ে ডিএসডির পূর্ণাঙ্গ অর্থের ক্ষেত্রে ‘ডিসঅর্ডার’ শব্দটিও আর ব্যবহার করছে না। তারা ডিএসডিকে বলছে ডিফারেন্সেস ইন সেক্স ডেভেলপমেন্ট।

যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরির সেন্ট লুইস চিলডেন হসপিটালের ওয়েবসাইটে ট্রান্সজেন্ডার ও ডিএসডি আলাদা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ট্রান্সজেন্ডার এবং ডিএসডি এক জিনিস নয়। ট্রান্সজেন্ডাররা জন্মের সময় প্রাপ্ত লিঙ্গ বৈশিষ্ট্যকে নিজের বলে মনে করেন না।

উদাহরণ দিয়ে হাসপাতালটির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, একজন ট্রান্সজেন্ডার নারীর বৈশিষ্ট্য নিয়ে জন্মগ্রহণ করলেও পরে তিনি নিজেকে মানসিকভাবে পুরুষ হিসেবে চিহ্নিত করতে পারেন। এসব মানুষ চাইলে হরমোন থেরাপি বা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাদের পছন্দসই লিঙ্গ বেছে নিতে পারেন।

অন্যদিকে, ডিএসডি আক্রান্ত ব্যক্তিদের শারীরবৃত্তীয় বিকাশ বা হরমোন উৎপাদনে তারতম্য দেখা যায়। এ ধরনের বেশিরভাগ শিশুর জেন্ডার তাদের নির্ধারিত লিঙ্গের ভিত্তিতেই চিহ্নিত হয়, তবে কিছু ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম ঘটতে পারে।

বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ ট্রান্সজেন্ডারদের ‘রোগী’ হিসেবে দাবি করলেও ২০১৯ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ট্রান্সজেন্ডারকে আলাদা লিঙ্গ বৈশিষ্ট্যের স্বীকৃতি দেয়। এটি কোনো মানসিক রোগ নয় বলেও সিদ্ধান্ত দেয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

বিএসএমএমইউতে ট্রান্সজেন্ডারদের ক্লিনিক নিয়ে বিতর্ক
বিএসএমএমইউতে ২১ নভেম্বর ‘ডিসঅর্ডার অফ সেক্স ডেভেলপমেন্ট বহির্বিভাগ ক্লিনিক’ এর উদ্বোধন হয়

বাংলাদেশে ২০১৩ সালে রাষ্ট্রীয় ভাবে ট্রান্সজেন্ডারকে ‘তৃতীয় লিঙ্গ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। জাতীয় পরিচয়পত্রেও তাদের আলাদা লিঙ্গ স্বীকার করা হয়েছে। এর পরেও তাদের কেন ‘রোগী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে, এমন প্রশ্নে বিএসএমএমইউর অধ্যাপক এ কে এম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘আমরা আমাদের মেডিক্যাল রিলেটেড নামটিই রেখেছি। আর আমাদের চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা করেই এই নাম দেয়া হয়েছে। আমরা আগেও এ বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করেছি। তবে আগে একটা ডিভিশনের আন্ডারে করতাম না। এখন সেটা শুরু হচ্ছে।’

শিশুদের ক্ষেত্রে লিঙ্গ পরিবর্তনের ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন করলে অধ্যাপক এ কে এম জাহিদ বলেন, ‘যাদের বাবা-মা সন্তানের চিকিৎসার জন্য রাজি হয়ে আমাদের এখানে আসবে তাদের আমরা সার্জারি করব। আমাদের সমাজ আর ওয়েস্টার্ন সমাজ এক নয়। আমাদের সমাজের বাচ্চারা বাবা-মায়ের উপরে নির্ভর করে। তারা যদি রাজি হয় আমাদের চিকিৎসা দিতে সমস্যা নেই।’

আরও পড়ুন:
আর্মেনীয়দের ওপর গণহত্যা হয়েছে: বাইডেন
চাপের মুখে পদত্যাগ আর্মেনিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রীকে হত্যাচেষ্টা রুখল আর্মেনিয়া

শেয়ার করুন