করোনার উৎস জানতে ‘শেষ সুযোগ’

করোনার উৎস জানতে ‘শেষ সুযোগ’

করোনার উৎস অনুসন্ধানে নতুন বিশেষজ্ঞ দল গঠন করেছে ডব্লিউএইচও। ছবি: এএফপি

করোনার উৎস অনুসন্ধান ছাড়াও অন্যান্য উচ্চ ঝুঁকির রোগজীবাণুর উৎস নিয়েও কাজ করবে নতুন গঠিত বিশেষজ্ঞ দল। ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোস বলেন, ‘নতুন রোগজীবাণুর উৎস জানা জরুরি, কারণ এর মাধ্যমে ভবিষ্যতের প্রাদুর্ভাব ঠেকানো সম্ভব।’

করোনাভাইরাসের উৎস অনুসন্ধানে নতুন এক বিশেষজ্ঞ দল গঠন করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। আর এ উদ্যোগ ভাইরাসটির উৎসের সন্ধান পাওয়ার শেষ সুযোগ হতে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

বিবিসির বৃহস্পতিবারের প্রতিবেদনে বলা হয়, সায়েন্টিক অ্যাডভাইজরি গ্রুপ অন দ্য অরিজিন্স অফ নভেল প্যাথোজেন্স (সাগো) নামের ওই দলে ২৬ জন বিশেষজ্ঞকে মনোনীত করেছে ডব্লিউএইচও।

উহানে প্রায় দুই বছর আগে প্রথম শনাক্ত হওয়া করোনার উৎস সম্পর্কে এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু জানতে পারেননি বিজ্ঞানীরা।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে করোনার উৎস অনুসন্ধানে ডব্লিউএইচওর এক বিশেষজ্ঞদল প্রথমবারের মতো চীনে যায়।

চার সপ্তাহ চীনে অবস্থানের পর মার্চে করোনার উৎসসংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে ১৭ বিশেষজ্ঞ নিয়ে গঠিত দলটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ল্যাব থেকে করোনা ছড়িয়েছে, এমন সম্ভাবনা খুবই কম। মধ্যবর্তী প্রাণী বাহকের মাধ্যমে এটি মানবদেহে ছড়ানোর সম্ভাবনা বেশি।

ওই প্রতিবেদনকে সে সময় ‘অসম্পূর্ণ’ উল্লেখ করে উদ্বেগ জানিয়ে বিবৃতি দেয় যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, চেক প্রজাতন্ত্র, ডেনমার্ক, এস্তোনিয়াসহ ১৪টি দেশ।

বিবৃতিটিতে বলা হয়, ‘করোনার উৎস ও কীভাবে এটি ছড়িয়ে পড়ে, এসব বিষয় নিয়ে ডব্লিউএইচওর বিশেষজ্ঞ দলের চেষ্টাকে সমর্থন জানানো হচ্ছে।

‘তবে একই সঙ্গে এ বিষয়ে আমাদের উদ্বেগের কথা জানানোও জরুরি। সার্স-কোভ-২-এর উৎস নিয়ে বিশেষজ্ঞ মত উল্লেখযোগ্যভাবে বিলম্বিত এবং প্রতিবেদনে মৌলিক ডাটা ও নমুনার অভাব রয়েছে।’

প্রথম বিশেষজ্ঞ দলের প্রতিবেদনের বিষয়ে ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস বলেছিলেন, ‘চীন সঠিকভাবে তথ্য না দেয়ায় এবং এ বিষয়ে দেশটির স্বচ্ছতার অভাব থাকায় ডব্লিউএইচওর বিশেষজ্ঞদল কাজ করতে বাধার সম্মুখীন হয়।’

চীনের উহান শহরের সামুদ্রিক খাবারের বাজারে প্রাণী থেকে মানবদেহে ভাইরাসটির সংক্রমণ ঘটে নাকি ল্যাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলাকালে দুর্ঘটনাবশত এটি ছড়িয়ে পড়ে, তা জানতে নবগঠিত বিশেষজ্ঞ দলটি কাজ করবে।

ল্যাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় দুর্ঘটনাবশত করোনা ছড়িয়ে পড়ার অনুমান বরাবরই তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করে আসছে চীন।

চলতি বছরের মে মাসে করোনার উৎসসংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন ছাপায় দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৯ সালের নভেম্বরে চীনের উহান ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজির তিন গবেষক অসুস্থ হন। হাসপাতালে তারা চিকিৎসাধীনও ছিলেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, করোনার প্রাদুর্ভাব নিয়ে চীন অফিশিয়ালি তথ্য প্রকাশের আগেই ওই গবেষকদের অসুস্থতার ঘটনা ঘটে।

প্রতিবেদনটি প্রকাশের পরপরই করোনার উৎস আরো গভীরভাবে অনুসন্ধানে জোর দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

করোনার উৎস অনুসন্ধান ছাড়াও অন্যান্য উচ্চ ঝুঁকির রোগজীবাণুর উৎস নিয়েও কাজ করবে নতুন গঠিত বিশেষজ্ঞদল সাগো।

ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোস বলেন, ‘নতুন রোগজীবাণুর উৎস জানা জরুরি, কারণ এর মাধ্যমে ভবিষ্যতের প্রাদুর্ভাব ঠেকানো সম্ভব।’

বিজ্ঞান সাময়িকী সায়েন্সের যৌথ সম্পাদকীয়তে টেড্রোস ও ডব্লিউএইচওর অন্য কর্মকর্তারা বলেন, ‘ল্যাবে দুর্ঘটনা থেকে করোনা ছড়িয়ে পড়ার অনুমান বাদ দেয়া যায় না।’

ডব্লিউএইচওর জরুরি বিভাগের পরিচালক মাইকেল রায়ান বলেন, ‘করোনার উৎস সম্পর্কে জানতে এটাই সম্ভবত শেষ সুযোগ।’

সম্প্রতি সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্লাড ব্যাংক থেকে সংগ্রহ করা হাজার হাজার রক্তের নমুনা পরীক্ষা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন। করোনা মহামারি শুরুর প্রথম কয়েক মাসে ওই সব রক্ত ব্লাড ব্যাংকে জমা পড়ে।

এরপরই ডব্লিউএইচও ওই বিশেষজ্ঞ দল গঠন করে।

ডব্লিউএইচওর এ তৎপরতার বিষয়ে জেনেভায় জাতিসংঘের চীনা রাষ্ট্রদূত চেন শি বলেন, ‘সাগোর কর্মকাণ্ড ঘিরে রাজনীতি করা ঠিক হবে না।

‘বিশেষজ্ঞদলকে এবার অন্য জায়গায় পাঠানো উচিত।’

আরও পড়ুন:
এএমআর কার্যক্রমে প্রযুক্তি বিনিময়ের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর
টিকা কার্যকর, তবে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ নয়: ডব্লিউএইচও
করোনার ভারত ভ্যারিয়েন্ট ৪৪ দেশে: ডব্লিউএইচও
দরিদ্র দেশগুলোই বঞ্চিত: ডব্লিউএইচও প্রধান
করোনার উৎস নিয়ে প্রতিবেদনে উদ্বেগ ১৪ দেশের

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সিনোফার্মের আরও ৫৫ লাখ টিকা আসছে

সিনোফার্মের আরও ৫৫ লাখ টিকা আসছে

দেশে গণটিকা শুরু হয় অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিশিল্ড দিয়ে। ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে আনা হয় সে টিকা। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে ৩ কোটি ৪০ লাখ ডোজ কেনার চুক্তি করে সরকার। তবে ৭০ লাখ টিকা দিয়ে সংকটের কারণ দেখিয়ে সে সময় আর টিকা দেয়নি ভারত।

চীনের সিনোফার্মের তৈরি আরও ৫৫ লাখ ডোজ করোনা প্রতিরোধী টিকা বৃহস্পতিবার রাতে দেশে আসবে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

দেশে সোমবার রাতেও এসেছে ২০ লাখ ডোজ করোনা প্রতিরোধী টিকা। এর মধ্যে ছিল চীনের সিনোফার্মের ১০ লাখ ডোজ এবং অ্যাস্ট্রাজেনেকার ১০ লাখ ডোজ টিকা।

এর আগে আগস্টের শেষ সপ্তাহে চীনের সিনোফার্মের বিবিআইবিপি-করভি টিকার ৫৫ লাখ ৫৩ হাজার ৬৫০ ডোজ দেশে পৌঁছে। চুক্তির পর দেশে আসা এটাই ছিল চীনের সবচেয়ে বড় টিকার চালান।

কেনার পাশাপাশি চীন থেকে উপহার ও কোভ্যাক্সের মাধ্যমেও ৫৫ লাখ ৭১ হাজার ৬০০ ডোজ টিকা পেয়েছে বাংলাদেশ।

দেশে গণটিকা শুরু হয় অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিশিল্ড দিয়ে। ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে আনা হয় সে টিকা। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে ৩ কোটি ৪০ লাখ ডোজ কেনার চুক্তি করে সরকার। তবে ৭০ লাখ টিকা দিয়ে সংকটের কারণ দেখিয়ে সে সময় আর টিকা দেয়নি ভারত।

বর্তমানে সংকট কাটলেও ভারত থেকে টিকার যোগান আশানুরূপ নয়। সে তুলনায় চীনের সিনোফার্মের টিকা আসছে বেশি। ক্রয় চুক্তির বাইরে কোভ্যাক্সের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র থেকে মডার্নার ৫৫ লাখ, ফাইজারের ১ লাখ ৬২০ ডোজ এবং জাপান থেকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার ৩০ লাখ ৫৯ হাজার ৩৮৭ ডোজ টিকা এসেছে দেশে।

আরও পড়ুন:
এএমআর কার্যক্রমে প্রযুক্তি বিনিময়ের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর
টিকা কার্যকর, তবে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ নয়: ডব্লিউএইচও
করোনার ভারত ভ্যারিয়েন্ট ৪৪ দেশে: ডব্লিউএইচও
দরিদ্র দেশগুলোই বঞ্চিত: ডব্লিউএইচও প্রধান
করোনার উৎস নিয়ে প্রতিবেদনে উদ্বেগ ১৪ দেশের

শেয়ার করুন

মাসে ৩ কোটি টিকা দেয়ার ঘোষণা

মাসে ৩ কোটি টিকা দেয়ার ঘোষণা

আগামী মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে ১২ কোটি মানুষকে টিকা দেয়ার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। ফাইল ছবি

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘টিকার অভাব নেই। ২১ কোটি ভ্যাকসিন কেনা আছে। নভেম্বর থেকে প্রতি মাসে তিন কোটি করে টিকা দেয়া হবে। চলতি মাসেও তিন কোটি টিকা দেয়া হবে।’

আগামী নভেম্বর থেকে প্রতি মাসে তিন কোটি মানুষকে টিকার আওতায় আনার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। এমনটি জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

রাজধানীর মহাখালীতে শেখ রাসেল জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে শেখ রাসেলের ৫৮তম জন্মদিন উপলক্ষে মঙ্গলবার এক আলোচনা সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই পরিকল্পনার কথা জানান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘টিকার অভাব নেই। ২১ কোটি ভ্যাকসিন কেনা আছে। নভেম্বর থেকে প্রতি মাসে তিন কোটি করে টিকা দেয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, চলতি মাসেও তিন কোটি টিকা দেয়া হবে।

আগামী মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে ১২ কোটি মানুষকে টিকা দেয়ার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। সেই লক্ষ্যেই আগামী মাস থেকে এই টিকা কার্যক্রম শুরু হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আগের আরও একটি অনুষ্ঠানে জানিয়েছিলেন প্রতি মাসে একটি করে ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন (টিকাদান কর্মসূচি) ও এবং সপ্তাহে এক কোটি করে টিকা দেয়া হবে।

এক সপ্তাহে কোটি টিকা প্রয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

৩১ জুলাই হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জাপানের উপহার অ্যাস্ট্রাজেনেকার প্রায় ৮ লাখ টিকা গ্রহণের পর আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ পরিকল্পনার কথা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

জাহিদ মালেক বলেন, ‘এক সপ্তাহে এক কোটির বেশি টিকা প্রয়োগের টার্গেট নেয়া হয়েছে। প্রথমেই বয়স্কদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে। এর অংশ হিসেবে আগামী ৭ আগস্ট থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে টিকা কার্যক্রম শুরু হবে।’

আরও পড়ুন:
এএমআর কার্যক্রমে প্রযুক্তি বিনিময়ের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর
টিকা কার্যকর, তবে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ নয়: ডব্লিউএইচও
করোনার ভারত ভ্যারিয়েন্ট ৪৪ দেশে: ডব্লিউএইচও
দরিদ্র দেশগুলোই বঞ্চিত: ডব্লিউএইচও প্রধান
করোনার উৎস নিয়ে প্রতিবেদনে উদ্বেগ ১৪ দেশের

শেয়ার করুন

সরকারকে নড়বড়ে দেখানোই উদ্দেশ্য: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সরকারকে নড়বড়ে দেখানোই উদ্দেশ্য: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে মঙ্গলবার শেখ রাসেল জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী। ছবি: নিউজবাংলা

‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে সরকার পতনের চেষ্টা করছে ষড়যন্ত্রকারীরা। মন্দির ভাঙা প্রধান উদ্দেশ্য নয়। সরকারের অবস্থান নড়বড়ে করে দেয়াটাই প্রধান উদ্দেশ্য।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন মনে করেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় হিন্দুদের ওপর হামলার উদ্দেশ্য সরকারকে নড়বড়ে দেখানো। এটি সরকার পতনের ষড়যন্ত্রের একটি অংশ।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট ছেলে শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে মঙ্গলবার শেখ রাসেল জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

দুর্গাপূজা চলাকালে দেশের বিভিন্ন এলাকায় মণ্ডপে হামলা, এরপর রংপুরে হিন্দুপল্লিতে হামলার ঘটনা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে সরকার পতনের চেষ্টা করছে ষড়যন্ত্রকারীরা। মন্দির ভাঙা প্রধান উদ্দেশ্য নয়। সরকারের অবস্থান নড়বড়ে করে দেয়াটাই প্রধান উদ্দেশ্য।’

এই ষড়যন্ত্রে কারা জড়িত, সে বিষয়েও তার ভাবনা তুলে ধরেন জাহিদ মালেকঅ বলেন, ‘একাত্তরে যারা দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র করেছে তারাই এখন দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে।’

দেশের স্বাস্থ্যসেবা, করোনা মোকাবেলায় সরকারের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন মন্ত্রী। বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে সরকার। বাংলাদেশের কোনো মানুষ যেন স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত না হয়, তা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। অন্যান্য দেশের তু্লনায় করোনা প্রতিরোধে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ।’

দেশের করোনার টিকা কার্যক্রমের প্রসার বেড়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যে ৬ কোটি টিকা দেয়া হয়ে গেছে। অচিরেই পুরো জনগোষ্ঠীকে টিকার আওতায় আনা হচ্ছে। প্রতি মাসে ৩ কোটি করে টিকা আসছে।

‘শিশুদেরও পরীক্ষামূলক টিকা দেয়া হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদেরকেও টিকা কার্যক্রমের আওতায় আনার কাজ শুরু হবে।’

মন্ত্রী জানান, দেশে ৬০ লাখ ফাইজারের টিকা আসছে। এই টিকা স্কুল পড়ুয়া ৩০ লাখ শিশুকে দেয়া যাবে।

আরও পড়ুন:
এএমআর কার্যক্রমে প্রযুক্তি বিনিময়ের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর
টিকা কার্যকর, তবে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ নয়: ডব্লিউএইচও
করোনার ভারত ভ্যারিয়েন্ট ৪৪ দেশে: ডব্লিউএইচও
দরিদ্র দেশগুলোই বঞ্চিত: ডব্লিউএইচও প্রধান
করোনার উৎস নিয়ে প্রতিবেদনে উদ্বেগ ১৪ দেশের

শেয়ার করুন

১৯ দিনে ডেঙ্গু রোগী ছাড়াল সাড়ে ৩ হাজার

১৯ দিনে ডেঙ্গু রোগী ছাড়াল সাড়ে ৩ হাজার

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে এক শিশু। ফাইল ছবি

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১০৫ জন। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৪৬ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৫১ জন। এ নিয়ে চলতি মাসে মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে সাড়ে ৩ হাজার।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে মঙ্গলবার পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১০৫ জন। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৪৬ জন।

কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ২১ হাজার ৭২৫ জন। এর মধ্যে শুরুর ছয় মাস ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছিল ২৭০ জন। এ বছরের জুলাইয়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে থাকে। ওই মাসে রোগী শনাক্ত হয়েছিল ২ হাজার ২৮৬ জন। এ মাসে মারা যায় ১২ জন।

আগস্টে ডেঙ্গু রোগী ছিল ৭ হাজার ৬৯৮ জন। এ মাসে মারা যায় ৩৪ জন। সেপ্টেম্বরে রোগীর সংখ্যা ছিল ৭ হাজার ৮৪১ জন। এ মাসে মৃত্যু হয় ২৩ জনের। চলতি মাসের ৩ হাজার ৫২৮ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছে ১৪ জন।

কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ২১ হাজার ৭২৫ জনের মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছে ২০ হাজার ৮৪৪ জন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি ৭৯৮ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার ৪৬টি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে ৬০৯ ডেঙ্গু রোগী।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) জানিয়েছে, ডেঙ্গু উপসর্গ নিয়ে চলতি বছর ৮৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

আরও পড়ুন:
এএমআর কার্যক্রমে প্রযুক্তি বিনিময়ের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর
টিকা কার্যকর, তবে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ নয়: ডব্লিউএইচও
করোনার ভারত ভ্যারিয়েন্ট ৪৪ দেশে: ডব্লিউএইচও
দরিদ্র দেশগুলোই বঞ্চিত: ডব্লিউএইচও প্রধান
করোনার উৎস নিয়ে প্রতিবেদনে উদ্বেগ ১৪ দেশের

শেয়ার করুন

এক দিনে মৃত্যু ৭, শনাক্ত ৪৬৯

এক দিনে মৃত্যু ৭, শনাক্ত ৪৬৯

দেশে এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৫ লাখ ৬৬ হাজার ২৯৬ জনের দেহে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ৭৮৫ জনের।

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে সংক্রমণ ধরা পড়েছে ৪৬৯ জনের দেহে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে মঙ্গলবার বিকেলে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, দেশে এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৫ লাখ ৬৬ হাজার ২৯৬ জনের শরীরে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ৭৮৫ জনের।

২৪ ঘণ্টায় দেশের ৮৩২টি ল্যাবে করোনার ২১ হাজার ৩০৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। শনাক্তের হার ২ দশমিক ২০ শতাংশ। এ নিয়ে টানা ২৮ দিন সারা দেশে করোনা শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে।

গত বছরের মার্চে ছড়ানো করোনাভাইরাস বছরের শেষ দিকে নিয়ন্ত্রণে আসে, কিন্তু চলতি বছরের এপ্রিলের আগে থেকে সংক্রমণ আবার বাড়তে থাকে। এর মধ্যে প্রাণঘাতী ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়লে এপ্রিলের শুরুতে লকডাউন এবং ১ জুলাই থেকে শাটডাউন দেয় সরকার।

তবে সংক্রমণ কমে আসার পর আগস্টের মাঝামাঝি থেকে ধীরে ধীরে সব বিধিনিষেধ তুলে নেয় সরকার। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে থাকায় ১২ সেপ্টেম্বর খুলে দেয়া হয় অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, করোনায় আক্রান্তদের গত ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে পুরুষ ৫, নারী ২ জন। এর মধ্যে চল্লিশোর্ধ্ব ২, পঞ্চাশোর্ধ্ব ১ ষাটোর্ধ্ব ১ ও সত্তরোর্ধ্ব ৩ জন।

বিভাগ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ২, খুলনা ১, রংপুরে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের একজন বাসায়, বাকিরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছে ৬৯৭ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ১৫ লাখ ২৯ হাজার ৬৮ জন। সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ৬২ শতাংশ।

আরও পড়ুন:
এএমআর কার্যক্রমে প্রযুক্তি বিনিময়ের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর
টিকা কার্যকর, তবে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ নয়: ডব্লিউএইচও
করোনার ভারত ভ্যারিয়েন্ট ৪৪ দেশে: ডব্লিউএইচও
দরিদ্র দেশগুলোই বঞ্চিত: ডব্লিউএইচও প্রধান
করোনার উৎস নিয়ে প্রতিবেদনে উদ্বেগ ১৪ দেশের

শেয়ার করুন

বুস্টার ডোজ নিয়ে ভাবছে না সরকার

বুস্টার ডোজ নিয়ে ভাবছে না সরকার

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাণিজ্যিক গবেষণা ছাড়া তৃতীয় বুস্টার ডোজের পক্ষে তেমন কোনো সুপারিশ নেই গবেষকদের। তাই এখনই বুস্টার ডোজের বিষয়ে চিন্তা না করে দ্রুত দেশের ৮০ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনতে টিকা কার্যক্রম বাড়ানোর পক্ষে তারা।

করোনাভাইরাস মহামারি, বিশেষ করে অতি সংক্রামক ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট রুখতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ এরই মধ্যে নিজেদের ব্যবস্থাপনায় তৃতীয় একটি বুস্টার ডোজ দেয়া শুরু করেছে। তবে এ বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকার কারণে এখনই এ রকম বুস্টার ডোজ নিয়ে ভাবছে না বাংলাদেশ সরকার।

দেশে ৮০ শতাংশ মানুষের টিকাদান নিশ্চিত করতে আগামী বছরের মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে ১২ কোটি মানুষকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। এ জন্য প্রতি মাসে একটি করে টিকা ক্যাম্পেইন ও সপ্তাহে এক কোটির ওপরে টিকা প্রয়োগের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাণিজ্যিক গবেষণা ছাড়া তৃতীয় বুস্টার ডোজের পক্ষে তেমন কোনো সুপারিশ নেই গবেষকদের। তাই এখনই বুস্টার ডোজের বিষয়ে চিন্তা না করে দ্রুত দেশের ৮০ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনতে টিকা কার্যক্রম বাড়ানোর পক্ষে তারা। তবে সংক্রমণ যদি আবার বাড়ে, তখন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বুস্টার ডোজ দেয়ার পরিকল্পনা নেয়া যেতে পারে।

দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ কমে আসায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, অন্যান্য দেশের তুলনায় দেশে দ্রুত টিকা কর্মসূচি হাতে নেয়ার কারণে এখানে হার্ড ইমিউনিটি অর্জিত হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই এমনটি বলার সময় আসেনি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের (এমআইএস) পরিচালক মিজানুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বুস্টার ডোজের বিষয়ে এখনও কোনো নির্দেশনা বা পরিকল্পনা আমাদের নেই। এ ছাড়া করোনার দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসছে। যদি আবার তৃতীয় ঢেউ দেখা দেয়, এ বিষয়ে হয়তো পরিকল্পনা নেয়া হতে পারে।’

এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক সাইদুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যেসব দেশ এরই মধ্যে ৭০ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনতে পেরেছে, তারাই তৃতীয় বুস্টার ডোজ দিচ্ছে। কোনো কোনো দেশে স্বাস্থ্যকর্মী বা ৬০ বছরের বেশি বয়স্ক লোকেদের বা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের তৃতীয় ডোজ হিসেবে বুস্টার ডোজ দেয়া হচ্ছে। এখনও কোনো দেশ ঢালাওভাবে বুস্টার দিচ্ছে না।’

তিনি বলেন, ‘বুস্টার ডোজ যতটা না বিজ্ঞান, তার চেয়ে বেশি বাণিজ্যিক কারণে। যেসব দেশ অনেক বেশি টিকা ইতোমধ্যে দিয়ে ফেলেছে, যেসব দেশের অনেক বেশি টিকা কেনার অর্থ রয়েছে, বা ইতোমধ্যে অনেক বেশি টিকা কিনে মজুত করে রেখেছে, তারা টিকার মেয়াদ শেষ হওয়ার শঙ্কা থেকে বুস্টার ডোজ দেয়ার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেয়নি। তাই এখনই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ নেই।

‘আমাদের দেশে টিকা কার্যক্রম চলতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হয়েছে। টিকা নিয়ে যে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়, তার মেয়াদ থাকে ৯ মাস থেকে এক বছর। এ কারণে যাদের টিকা নেয়ার পর ৯ মাস অতিবাহিত হয়েছে, তাদের অধিকাংশের শরীরে এখন অ্যান্টিবডি খুঁজে পাওয়া যাবে না। তাই যদি আমাদের দেশে করোনার তৃতীয় ঢেউ আসে, তখন করোনা মোকাবিলায় সম্মুখসারির যোদ্ধা, যেমন চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীদের বুস্টার ডোজ দেয়া যেতে পারে।’

তিনি বলেন, যেহেতু দেশে এখনও ৭০ শতাংশের বেশি মানুষকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়নি, তাই এখনই বুস্টার ডোজের পরিকল্পনা না করাই ভালো।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগতত্ত্ব ও জনস্বাস্থ্য কমিটির সদস্য ডা. আবু জামিল ফয়সাল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বুস্টার ডোজের বিষয়ে ঢালাওভাবে কোনো নির্দেশনা এখনও দেয়নি। যেসব দেশে বুস্টার ডোজ পরিচালনা করা হচ্ছে, সেসব দেশের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়েই এই ডোজ দেয়া হচ্ছে। সে জন্য আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, আমাদের দেশে এখনই ঢালাওভাবে বুস্টার ডোজের দরকার নেই।’

টিকা কার্যক্রমে প্রসার বাড়াতে হবে জানিয়ে এই বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘৮০ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনতে হবে। এটি বাস্তবায়ন করতে আমাদের দুটি জিনিসের ওপরে নজর রাখতে হবে। একটা হলো কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করে টিকার প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। সেই সঙ্গে ক্রয়ের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এ ছাড়া দ্রুত সময়ের মধ্যে সবাইকে টিকা দিতে হবে।’

তৃতীয় বুস্টার ডোজ নিয়ে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এ এস এম আলমগীর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনও বিশ্বের কোনো দেশের পরিষ্কার কোনো ধারণা নেই। এ বিষয়ে অনেক গবেষণা হয়েছে। যদি কোম্পানির পৃষ্ঠপোষকতায় গবেষণা হয়, সেখানে দেখা গেছে টিকা বাণিজ্যের কারণে বুস্টার ডোজ দেয়ার সুপারিশ করা হয়। তবে স্বাধীনভাবে যে গবেষণা হয়েছে, তার কোথাও বুস্টার ডোজ দেয়ার সুপারিশ করা হয়নি।

‘যদি সারা পৃথিবীর মানুষকে দুই ডোজ টিকা দেয়া সম্ভব না হয়, তাহলে পৃথিবীর কোথাও না কোথাও সংক্রমণ ছড়াতে থাকবে। সো বুস্টার ডোজের পরিকল্পনা বাদ দিয়ে দ্বিতীয় ডোজ সবাইকে দেয়ার পরিকল্পনা নেয়া উচিত। অনেক দেশ শুধু একটি ডোজ দিয়ে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। দুই-তিনটা দেশে বুস্টার ডোজ দেয়া হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
এএমআর কার্যক্রমে প্রযুক্তি বিনিময়ের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর
টিকা কার্যকর, তবে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ নয়: ডব্লিউএইচও
করোনার ভারত ভ্যারিয়েন্ট ৪৪ দেশে: ডব্লিউএইচও
দরিদ্র দেশগুলোই বঞ্চিত: ডব্লিউএইচও প্রধান
করোনার উৎস নিয়ে প্রতিবেদনে উদ্বেগ ১৪ দেশের

শেয়ার করুন

ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে আরও ১৭২ জন

ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে আরও ১৭২ জন

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে এক শিশু। ফাইল ছবি

কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর শুরুর ছয় মাসে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছিল ২৭০ জন। এ বছরের জুলাইয়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে থাকে। ওই মাসে রোগী শনাক্ত হয়েছিল ২ হাজার ২৮৬ জন। এ মাসে মারা যায় ১২ জন। আগস্টে ডেঙ্গু রোগী ছিল ৭ হাজার ৬৯৮ জন; মারা যায় ৩৪ জন। সেপ্টেম্বরে রোগীর সংখ্যা ছিল ৭ হাজার ৮৪১ জন; মৃত্যু হয় ২৩ জনের। চলতি মাসে ৩ হাজার ৩৭৭ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে; মারা গেছে ১৪ জন।

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ১৭২ জন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ৫৭৪ জনে। এর মধ্যে মারা গেছে ৮৩ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে সোমবার পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৩০ জন। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪২ জন।

কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর শুরুর ছয় মাসে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছিল ২৭০ জন। এ বছরের জুলাইয়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে থাকে। ওই মাসে রোগী শনাক্ত হয়েছিল ২ হাজার ২৮৬ জন। এ মাসে মারা যায় ১২ জন। আগস্টে ডেঙ্গু রোগী ছিল ৭ হাজার ৬৯৮ জন; মারা যায় ৩৪ জন। সেপ্টেম্বরে রোগীর সংখ্যা ছিল ৭ হাজার ৮৪১ জন; মৃত্যু হয় ২৩ জনের। চলতি মাসে ৩ হাজার ৩৭৭ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে; মারা গেছে ১৪ জন।

কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ২০ হাজার ৬৭৬ জন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ৮১৫ জন। এদের মধ্যে ঢাকার ৪৬টি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৬৩০ ডেঙ্গু রোগী।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) জানিয়েছে, ডেঙ্গু উপসর্গ নিয়ে চলতি বছর ৮৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

আরও পড়ুন:
এএমআর কার্যক্রমে প্রযুক্তি বিনিময়ের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর
টিকা কার্যকর, তবে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ নয়: ডব্লিউএইচও
করোনার ভারত ভ্যারিয়েন্ট ৪৪ দেশে: ডব্লিউএইচও
দরিদ্র দেশগুলোই বঞ্চিত: ডব্লিউএইচও প্রধান
করোনার উৎস নিয়ে প্রতিবেদনে উদ্বেগ ১৪ দেশের

শেয়ার করুন