মাথা দিয়ে ইট ভেঙে, রড বাঁকিয়ে দেখাল উত্তর কোরিয়ার সেনারা

মাথা দিয়ে ইট ভেঙে, রড বাঁকিয়ে দেখাল উত্তর কোরিয়ার সেনারা

সেনাদের দক্ষতার এ প্রদর্শনীতে উপস্থিত ছিলেন উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন। ছবি: কেসিএনএ

উত্তর কোরিয়ার সংবাদমাধ্যমে বলা হয়, শত্রুপক্ষকে নিজেদের শক্তির প্রমাণ দিতেই অভূতপূর্ব এ প্রদর্শনীর আয়োজন করে পিয়ংইয়ং। এর মাধ্যমে বিভিন্ন দেশকে বার্তা দেয়া হয়েছে যে, ‘দেশকে সুরক্ষিত রাখার জন্য নিজেদের লোহার মুষ্টি নিয়েই প্রস্তুত’ উত্তর কোরিয়ার সেনারা।

উত্তর কোরিয়ার যুদ্ধাংদেহী সেনাদের দক্ষতার এক ঝলক বিশ্বকে দেখাল দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ।

প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে খালি হাতে বিভিন্ন বস্তু ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে দেখা গেছে সেনাদের।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে এক প্রতিরক্ষা প্রদর্শনীর মঞ্চে নিজেদের দক্ষতার চাক্ষুষ প্রমাণ দেয় পেশীবহুল সেনারা।

এ প্রদর্শনী উপভোগ করেন স্বয়ং উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন। উপস্থিত ছিলেন দেশটির অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তারাও।

প্রদর্শনীতে তীব্র পেশিশক্তি ব্যবহার করে ইট আর টাইলসের স্তুপ খালি হাতে ভাঙতে দেখা যায় সেনাদের।

কয়েকজন সেনা ভাঙা কাঁচের টুকরো আর লোহার পেরেকের ওপর খালি গায়ে শুয়েছিলেন, যাদের দেহের ওপর কংক্রিটের স্ল্যাবের স্তুপ রেখে ভারী হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে সেগুলো ভাঙতে দেখা যায় অন্য সেনাদের। অক্ষত ছিলেন কংক্রিটের স্ল্যাবের নিচে শুয়ে থাকা সেনারা।

এক সেনার পিঠে লাঠি দিয়ে তীব্র শক্তিতে আঘাত করতে দেখা যায় সহকর্মীদের। এতে ওই সেনার কোনো ক্ষতি হয়নি, বরং লাঠিগুলোই ম্যাচের কাঠির মতো ভেঙে গেছে।

প্রদর্শনীর চূড়ান্ত পর্বে ছিল গলা ব্যবহার করে মোটা লোহার রড বাঁকানো এবং খালি হাতে কেবল পেশিশক্তি ব্যবহার করে সুতোর মতো লোহার শেকল ছিঁড়ে ফেলছেন সেনারা।

উত্তর কোরিয়ার সংবাদমাধ্যমে বলা হয়, শত্রুপক্ষকে নিজেদের শক্তির প্রমাণ দিতেই অভূতপূর্ব এ প্রদর্শনীর আয়োজন করে পিয়ংইয়ং।

এর মাধ্যমে বিভিন্ন দেশকে বার্তা দেয়া হয়েছে যে, ‘দেশকে সুরক্ষিত রাখার জন্য নিজেদের লোহার মুষ্টি নিয়েই প্রস্তুত’ উত্তর কোরিয়ার সেনারা।

বলাই বাহুল্য, বিপজ্জনক এসব কৌশল বাড়িতে চর্চা না করাই উত্তম।

আরও পড়ুন:
উত্তর কোরিয়ায় আরও ক্ষমতা পেলেন কিমের বোন
শব্দের চেয়ে বেশি গতির ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া
আবারও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া
৪ দিন পর আবার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা উত্তর কোরিয়ার
এবার দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ক্ষুধা মেটাতে কাজের বিনিময়ে গম কর্মসূচি তালেবানের

ক্ষুধা মেটাতে কাজের বিনিময়ে গম কর্মসূচি তালেবানের

দারিদ্র্য ও ক্ষুধা লাঘবে কাজের বিনিময়ে গম কর্মসূচি শুরু হচ্ছে আফগানিস্তানে। ছবি: এএফপি

রাজধানী কাবুলের দক্ষিণাঞ্চলে আয়োজিত ওই সম্মেলনে মুজাহিদ বলেন, ‘আফগানিস্তানের প্রধান শহর ও গ্রামে কাজের বিনিময়ে গম কর্মসূচি পরিচালিত হবে। শুধু কাবুলেই ৪০ হাজার মানুষকে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।’

আফগানিস্তানজুড়ে চলমান চরম ক্ষুধা ও দারিদ্র্য নিরসনে কাজের বিনিময়ে গম কর্মসূচি হাতে নিয়েছে তালেবান সরকার। এ কর্মসূচির আওতায় দেশটির হাজার হাজার মানুষকে গম দেয়া হবে।

তালেবানের প্রধান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ রোববার সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন বলে বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

রাজধানী কাবুলের দক্ষিণাঞ্চলে আয়োজিত ওই সম্মেলনে মুজাহিদ বলেন, ‘আফগানিস্তানের প্রধান শহর ও গ্রামে কাজের বিনিময়ে গম কর্মসূচি পরিচালিত হবে। শুধু কাবুলেই ৪০ হাজার মানুষকে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।’

তিনি বলেন, ‘বেকারত্বের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এ পদক্ষেপ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গম পেতে শ্রমিকদের অবশ্যই কঠোর পরিশ্রম করতে হবে।’

আগস্টে তালেবান ক্ষমতা দখলের পর থেকে দারিদ্র্য, খরা, বিদ্যুৎ না থাকাসহ ধসে পড়া অর্থনৈতিক ব্যবস্থা দেখছে আফগানরা। আসন্ন শীতে তাদের দুর্দশা আরও বাড়বে বৈ কমবে না বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের।

তালেবানের কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচির আওতায় দেশটির শ্রমিকরা নেই। যেসব আফগান সম্প্রতি বেকার হন ও শীতের সময় অনাহারের ঝুঁকিতে রয়েছেন, কেবল তারাই এ কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার সুযোগ পাবেন।

দুই মাস দীর্ঘ এ কর্মসূচি চলাকালে কাবুলে ১১ হাজার ৬০০ টন গম বিতরণ করা হবে। আর হেরাত, জালালাবাদ, কান্দাহার, মাজার-ই-শরিফ ও পল-ই-খোমরিসহ অন্যান্য শহরে প্রায় ৫৫ হাজার টন গম দেয়া হবে।

নদী খননসহ অন্যান্য কার্যক্রম ওই কর্মসূচির মধ্যে রাখা হয়েছে।

কাবুলের গ্রামাঞ্চলীয় রিশ খর এলাকায় ছোট একটি খাল খননের মাধ্যমে ওই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তালেবান মুখপাত্র মুজাহিদ, কৃষিমন্ত্রী আব্দুল রহমান রশিদ, কাবুলের মেয়র হামদুল্লাহ নোমানিসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা।

১৫ আগস্ট কাবুল পতনের মধ্য দিয়ে আফগানিস্তানের ক্ষমতা তালেবানের হাতে যায়। ক্ষমতা দখলের সপ্তাহখানেক পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করে তালেবান।

তবে সরকার গঠনের দুই মাসের বেশি সময় পার হলেও কোনো দেশ এখন পর্যন্ত তালেবানের নতুন সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি।

এ ছাড়া তালেবান ক্ষমতায় আসার পর যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা আফগানিস্তানের সম্পদ জব্দ করে। এতে দেশটির অর্থনীতি আরও নাজুক হয়ে পড়ে।

আফগানিস্তানের চরম অর্থনৈতিক ও মানবিক সংকট কিছুটা লাঘবে শুক্রবার পাঁচ বিলিয়ন রুপির মানবিক সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দেয় পাকিস্তান।

আরও পড়ুন:
উত্তর কোরিয়ায় আরও ক্ষমতা পেলেন কিমের বোন
শব্দের চেয়ে বেশি গতির ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া
আবারও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া
৪ দিন পর আবার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা উত্তর কোরিয়ার
এবার দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া

শেয়ার করুন

স্কুলে যাওয়া বন্ধ, ব্যবসা শিখছে আফগান কিশোরীরা

স্কুলে যাওয়া বন্ধ, ব্যবসা শিখছে আফগান কিশোরীরা

সেলাই শিখছেন আফগান নারীরা। ছবি: টোলো নিউজ

তালেবানের আগ্রাসনে ক্ষমতাচ্যুত বেসামরিক সরকারের শাসনামলে আফগানিস্তানে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অনেক নারী কর্মরত ছিলেন। গত দুই মাসে তাদের প্রায় সবাই চাকরি হারিয়েছেন। জীবিকা উপার্জনের বিকল্প হিসেবে তারাও হস্তশিল্প শিখছেন এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।

কট্টরপন্থি তালেবান আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর থেকে কিশোরী ও নারীদের স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ। সময় কাটাতে তাই অর্ধশতাধিক কিশোরী ও তরুণী কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে ভর্তি হয়েছে। শিখছে কাপড় সেলাই, নিচ্ছে সৌন্দর্যবর্ধন প্রশিক্ষণ।

স্থানীয় টোলো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাড়িতে বসে সময় কাটানো কঠিন বলে একঘেয়েমি দূর করতে হাতের কাছে যে সুযোগ আছে, তারই সদ্ব্যবহার করছে অনেক আফগান কিশোরী ও তরুণী।

সামিরা শারিফি নামের এক শিক্ষার্থী বলে, ‘কয়েক মাস ধরে বাড়িতে বসে আছি। স্কুল-বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ। কোনো না কোনো কাজ তো শিখতে হবে। এভাবে হাত গুটিয়ে বাড়িতে কতদিনই বা বসে থাকব?’

মেহনাজ গোলামি নামের আরেক ছাত্রী বলে, ‘নিজের ভবিষ্যতের জন্য আর পরিবারকে সাহায্য করতে চাই বলে কোনো কাজ শিখতে চাই আমি। চেয়েছিলাম তো স্কুলে যেতে। স্কুল খোলা থাকলে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারতাম।’

আফগানিস্তানে সম্প্রতি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে যোগ দেয়া প্রশিক্ষণার্থীদের বেশিরভাগই মাধ্যমিকপড়ুয়া অথবা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী।

দেশজুড়ে তালেবান মেয়েদের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পথ বন্ধ রেখেছে। এমন পরিস্থিতিতে হেরাত প্রদেশের অনেক কিশোরী ও নারী কারিগরি প্রশিক্ষণকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে।

শাকাইক গাঞ্জি নামের এক শিক্ষার্থী বলে, ‘আমরা শিক্ষাগ্রহণের পাশাপাশি দর্জির কাজ শেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

লাইলি সোফিজাদা নামের এক শিক্ষিকা বলেন, ‘এখন প্রতিটি নারীর উচিত নিজের পরিবার ও স্বামীকে সহযোগিতার জন্য সেলাই শেখা। কারণ দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ভীষণ খারাপ।’

মেয়েদের জন্য স্কুল-বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর কারিগরি শিক্ষা কেন্দ্রগুলোতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দ্বিগুণ বেড়েছে।

হেরাতের শ্রম ও সমাজকল্যাণ বিভাগের কারিগরি ও কর্মজীবী বিষয়ক পরিচালক ফাতিমা তোখি বলেন, ‘আমাদের শ্রেণিকক্ষগুলোর ধারণক্ষমতা ২০ থেকে ২৫ জনের। এখন একেকটি ক্লাসে ৪৫ জন পর্যন্ত নিতে হচ্ছে আমাদের।

‘স্কুল-বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা উদ্যম হারাতে বসেছে।’

হেরাতের শ্রম ও সমাজকল্যাণ বিভাগ জানিয়েছে, প্রদেশটির নারীদের কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদানে নতুন নতুন সুযোগ সৃষ্টির চেষ্টা চলছে।

সংস্থাটির প্রধান মোল্লা মোহাম্মদ সাবিত বলেন, ‘শিল্প ও পেশাগত খাত, কিন্ডারগার্টেন বিভাগগুলোতে নিয়মিত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তাদের পূর্ণ সহযোগিতা দিচ্ছি আমরা। নিয়মিত তত্ত্বাবধানও করা হচ্ছে।’

তালেবানের আগ্রাসনে ক্ষমতাচ্যুত বেসামরিক সরকারের শাসনামলে আফগানিস্তানে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অনেক নারী কর্মরত ছিলেন। গত দুই মাসে তাদের প্রায় সবাই চাকরি হারিয়েছেন। জীবিকা উপার্জনের বিকল্প হিসেবে তারাও হস্তশিল্প শিখছেন এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।

আরও পড়ুন:
উত্তর কোরিয়ায় আরও ক্ষমতা পেলেন কিমের বোন
শব্দের চেয়ে বেশি গতির ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া
আবারও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া
৪ দিন পর আবার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা উত্তর কোরিয়ার
এবার দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া

শেয়ার করুন

কাশ্মীরে উন্নয়নের ঢেউ কেউ বন্ধ করতে পারবে না: অমিত শাহ

কাশ্মীরে উন্নয়নের ঢেউ কেউ বন্ধ করতে পারবে না: অমিত শাহ

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের সীমান্তবর্তী একটি গ্রামে অমিত শাহ। ছবি: ফেসবুক

অমিত শাহ বলেন, ‘এই মাটি ঈশ্বরের মাটি। এখানে মাতা বৈষ্ণো দেবীর মন্দির রয়েছে। প্রেমনাথ দোগরার মন্দির রয়েছে। এই মাটিতে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আত্মত্যাগের কথা রয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীরের শান্তি পরিস্থিতি যারা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করছে, তাদের আমরা কখনও সফল হতে দেব না।’

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে যে উন্নয়ন প্রকল্প শুরু হয়েছে সেটি কেউ বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

তিনি বলেছেন, ‘জম্মু ও কাশ্মীরে যে উন্নয়নের ঢেউ শুরু হয়েছে, তা আর কেউ বন্ধ করতে পারবে না।’

শনিবার তিন দিনের সফরে কাশ্মীর উপত্যকায় পৌঁছানোর পর রোববার জম্মুতে এক জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

অমিত শাহ বলেন, ‘এই মাটি ঈশ্বরের মাটি। এখানে মাতা বৈষ্ণো দেবীর মন্দির রয়েছে। প্রেমনাথ দোগরার মন্দির রয়েছে। এই মাটিতে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আত্মত্যাগের কথা রয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীরের শান্তি পরিস্থিতি যারা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করছে, তাদের আমরা কখনও সফল হতে দেব না।’

জনসভায় জম্মু ও কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রীদেরও সমালোচনা করেন অমিত শাহ।

তিনি বলেন, ‘গত ৭০ বছর ধরে এই তিনটি পরিবার জম্মু ও কাশ্মীরের জন্য কী করেছে? এখন প্রতিটি গ্রামে একটি করে পঞ্চায়েত রয়েছে। এখন আর এখানে ওই তিন পরিবারের কোনো খবরদারি চলবে না।’

অমিত শাহ বলেন, ‘এই তিন পরিবার আমাদের নতুন শিল্পনীতিকে গুরুত্ব দিতে চায়নি। তবে বাস্তব চিত্র বলছে, ইতোমধ্যেই ১২ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ এসেছে। ২০২২ সালের মধ্যে ৫১ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ চলে আসবে। এর ফলে প্রায় পাঁচ লাখ তরুণের কর্মসংস্থান হবে।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদি ৩৭০ ধারা এবং ৩৫ ধারা বাতিল করে দিয়েছেন। ফলে জম্মু-কাশ্মীরে লাখ লাখ মানুষ নিজেদের প্রাপ্য অধিকার পেয়েছে। এখন ভারতীয় সংবিধানের সকল অধিকার, সুযোগ সুবিধা এখানেও পাওয়া যাচ্ছে।’

অমিত শাহ বলেন, ‘আগে জম্মুতে শিখ, ক্ষত্রিয়, মহাজনদের জমি কেনার অধিকার ছিল না। এখন ভারতীয় সংবিধানে দেয়া সব অধিকার আমার এই ভাইরাও পাবেন।’

আরও পড়ুন:
উত্তর কোরিয়ায় আরও ক্ষমতা পেলেন কিমের বোন
শব্দের চেয়ে বেশি গতির ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া
আবারও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া
৪ দিন পর আবার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা উত্তর কোরিয়ার
এবার দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া

শেয়ার করুন

করোনার টিকায় জীবন্ত পরজীবী নেই

করোনার টিকায় জীবন্ত পরজীবী নেই

দক্ষিণ কোরিয়ায় ফাইজার-বায়োএনটেক, মডার্না, অ্যাস্ট্রাজেনেকা ও জ্যানসেনের করোনা প্রতিরোধী টিকায় অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান উদ্ভাবিত টিকার উপাদানের তালিকায় কোনো পরজীবীর নাম নেই। অনুমোদিত করোনা প্রতিরোধী টিকায় গ্রাফেন বা এর উপজাত গ্রাফেন অক্সাইডেরও উপস্থিতি নেই।

জীবন্ত পরজীবী দিয়ে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা তৈরি করা হয়েছে বলে সম্প্রতি বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে একটি গুঞ্জন ছড়িয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়ায় ভাইরাল হয়েছে এ সংক্রান্ত পোস্ট।

চলতি মাসের ১৭ তারিখ ফেসবুকে প্রকাশিত কোরীয় ভাষার একটি পোস্টে বলা হয়, ‘এ টিকার প্রধান উপাদান গ্রাফেন। এই গ্রাফেনের ভেতরে জন্ম নেয় অ্যালুমিনিয়ামনির্ভর এক ধরনের পরজীবী।

‘মানবদেহে এই পরজীবী প্রবেশ করলে এর বিকাশ ও বংশবৃদ্ধি রোধের একটাই উপায়। সেটি হলো রক্ত পরিশোধন। সরকারের চাপে এমন একটি টিকা মানুষকে নিতে বাধ্য করা হচ্ছে।

‘এই পরজীবী থেকে মুক্তি পেতে আইভারমেকটিন (পরজীবীবিরোধী ওষুধ) সেবন খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নারীদের স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে গিয়ে নিজেদের গর্ভ পরীক্ষা করানো উচিত।’

বার্তা সংস্থা এএফপির ফ্যাক্ট চেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ দাবি সত্য নয়।

কথিত পরজীবীর একটি ছবিসহ এ দাবি ভাইরাল হয়েছে ফেসবুক, ইউটিউব ও অ্যান্ড্রয়েডভিত্তিক দাউম ক্যাফেতে। করোনা প্রতিরোধী টিকা নিয়ে ভুল তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে অভিযুক্ত একটি অনুষ্ঠান থেকে নেয়া হয়েছে ছবিটি।

স্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, টিকা তৈরির জন্য জীবাণুবিহীন পরিশুদ্ধ একটি পরিবেশ দরকার হয়। সেখানে উপাদান হিসেবে পরজীবী ব্যবহারের কোনো সুযোগই নেই।

কিউংপুক ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মহামারি রোগবিশেষজ্ঞ অধ্যাপক কিম শিন-উ বলেন, ‘করোনার টিকায় কোনো পরজীবী থাকা সম্ভব নয়, উপাদান হিসেবে তো নয়ই। কারণ টিকা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় দূষণ ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।’

দক্ষিণ কোরিয়ার চিকিৎসা ব্যবস্থার মান আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত। ওষুধ উৎপাদনের সময় জীবাণুপ্রতিরোধী কঠোর ফার্মাসিউটিক্যাল বিধিমালা মেনে চলতে হয়।

অধ্যাপক শিন-উ বলেন, ‘এসব বিধি কার্যকর না হলে টিকা প্রয়োগে অনুমোদনই দেয়া হতো না।’

গাশন ইউনিভার্সিটি কলেজ অফ মেডিসিন অ্যান্ড সায়েন্সের প্রিভেন্টিভ মেডিসিন বিষয়ের অধ্যাপক জুং জায়-হুন বলেন, ‘যে কোনো টিকা তৈরির ক্ষেত্রেই জীবাণুবিরোধী পরিবেশ রক্ষা বাধ্যতামূলক, যেখানে কোনো ক্ষতিকর জীবাণু বা ভাইরাসই প্রবেশ করতে বা টিকতে পারবে না। সেখানে পরজীবী থাকার তো প্রশ্নই নেই।’

দক্ষিণ কোরিয়ায় ফাইজার-বায়োএনটেক, মডার্না, অ্যাস্ট্রাজেনেকা ও জ্যানসেনের করোনা প্রতিরোধী টিকায় অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান উদ্ভাবিত টিকার উপাদানের তালিকায় কোনো পরজীবীর নাম নেই।

অনুমোদিত করোনা প্রতিরোধী টিকায় গ্রাফেন বা এর উপজাত গ্রাফেন অক্সাইডেরও উপস্থিতি নেই।

মানবদেহে কোনো পরজীবীর উপস্থিতি নিশ্চিত না হলে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া আইভারমেকটিন ওষুধ ব্যবহারের বিষয়েও সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্যবিদরা।

অধ্যাপক জুং বলেন, ‘আইভারমেকটিনের মতো ওষুধ সেবনে শরীরকে ক্লান্ত করে ফেলে। করোনাভাইরাসের টিকা নেয়ার পর এ ওষুধ সেবন করে কোনো লাভ হবে না কারণ টিকার সঙ্গে পরজীবীর কোনো সম্পর্ক নেই।’

করোনায় আক্রান্তদের চিকিৎসায় আইভারমেকটিন ব্যবহারের বিষয়ে আগেই সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা এফডিএ। করোনা ঠেকাতে এ ওষুধ কার্যকর বলে পরীক্ষায় প্রমাণ মেলেনি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

এ ছাড়া নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি আইভারমেকটিন প্রয়োগের শঙ্কা থেকে যায়, যার ফলে বমি, বমিভাব, ডায়রিয়া, নিম্ন রক্তচাপ, ক্লান্তি, চুলকানি ও চর্মরোগের মতো অ্যালার্জিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, শরীরের ভারসাম্যহীনতা, খিঁচুনি ইত্যাদি দেখা দিতে পারে। কোমায় চলে যাওয়া, এমনকি মৃত্যুর ঝুঁকিও রয়েছে।

পরীক্ষামূলকভাবে ছাড়া করোনার চিকিৎসায় আইভারমেকটিন ব্যবহার না করার পরামর্শ দেয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও।

আরও পড়ুন:
উত্তর কোরিয়ায় আরও ক্ষমতা পেলেন কিমের বোন
শব্দের চেয়ে বেশি গতির ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া
আবারও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া
৪ দিন পর আবার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা উত্তর কোরিয়ার
এবার দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া

শেয়ার করুন

জনসম্মুখে গভর্নরকে চড় দিলেন ইরানি সেনা

জনসম্মুখে গভর্নরকে চড় দিলেন ইরানি সেনা

ভাষণ দেয়ার সময় গভর্নর জয়নুলআবেদিন খুররমকে মঞ্চে উঠে চড় দেয় এক ব্যক্তি। ছবি: আইআরআইবি।

পার্লামেন্টে ইস্ট আজারবাইজান প্রদেশের মারাঘেহ শহরের নীতিনির্ধারক আলি আলিজাদা বলেন, ‘হামলার উদ্দেশ্য যে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এর সঙ্গে গভর্নরের নিয়োগ বা তার বক্তব্যের কোনো সম্পর্ক নেই।’

ইরানে নবনিযুক্ত এক গভর্নরকে প্রকাশ্যে চড় মেরে খবরের শিরোনামে উঠে এসেছেন একজন সেনাসদস্য। ঘটনাটি ঘটেছে ইস্ট আজারবাইজান প্রদেশের তাবরিজ শহরে।

সিএনএনের খবরে বলা হয়, উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহরটির ইমাম খোমেনি মসজিদে শনিবার ভাষণ দিচ্ছিলেন নতুন প্রাদেশিক গভর্নর জয়নুলআবেদিন খুররম। সে সময় মঞ্চে উঠে তার মুখে চপেটাঘাত করেন ওই সেনা।

ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্সের প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, শান্ত ভঙ্গিতে মঞ্চে উঠে খুররমের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন এক ব্যক্তি। খুররমের কাছে পৌঁছে প্রথমে তার মুখে আঘাত করে ওই ব্যক্তি, তার ধাক্কা দিতে শুরু করে।

এ সময় দৌড়ে সেখানে গিয়ে আঘাতকারী ব্যক্তিকে মঞ্চ থেকে জোর করে নামায় নিরাপত্তারক্ষীরা।

ইরানে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিরাপত্তায় এ ধরনের বিঘ্ন বিরল ঘটনা। অনুষ্ঠানটিতে উপস্থিত ছিলেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রতিনিধি ও অন্য সরকারি কর্মকর্তারা।

ইরানের আধা-সরকারি আরেকটি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, গভর্নরকে চড় মারা ব্যক্তির নাম আয়ুব আলিজাদা। তিনি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর একজন সদস্য।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল আইআরআইবিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে গভর্নর খুররম জানিয়েছেন, ওই সেনার সঙ্গে তার ব্যক্তিগত পরিচয় নেই।

ব্যক্তিগত আক্রমণের উদ্দেশ্যও অস্পষ্ট।

খুররমের বরাত দিয়ে আইআরআইবি জানিয়েছে, চড় মারা ব্যক্তির স্ত্রী করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা নিতে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়েছিলেন। নারীর বদলে পুরুষ স্বাস্থ্যকর্মী স্ত্রীকে টিকা দেয়ায় ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন স্বামী।

এই রাগ ঝাড়তে তিনি খুররমকে চড় মারেন বলে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানিয়েছে ওই সেনা।

আরেকটি সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়, এ আক্রমণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল না।

পার্লামেন্টে ইস্ট আজারবাইজান প্রদেশের আরেকটি শহর মারাঘেহের নীতিনির্ধারক আলি আলিজাদা বলেন, ‘হামলার উদ্দেশ্য যে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এর সঙ্গে গভর্নরের নিয়োগ বা তার বক্তব্যের কোনো সম্পর্ক নেই।’

আরও পড়ুন:
উত্তর কোরিয়ায় আরও ক্ষমতা পেলেন কিমের বোন
শব্দের চেয়ে বেশি গতির ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া
আবারও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া
৪ দিন পর আবার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা উত্তর কোরিয়ার
এবার দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া

শেয়ার করুন

মিয়ানমার থেকে দলে দলে ভারতে হাজারো শরণার্থী

মিয়ানমার থেকে দলে দলে ভারতে হাজারো শরণার্থী

ভারতের মিজোরামে সীমান্তরক্ষীদের প্রহরা। ছবি: এএফপি

১৪টি গ্রামে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র ও ত্রাণ শিবির তৈরি করেছেন বাসিন্দারা। শরণার্থীদের খাদ্য ও পোশাক সরবরাহের পাশাপাশি আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে কয়েকটি বেসরকারি সাহায্য সংস্থা এবং প্রেসবাইটারিয়ান, ব্যাপটিস্ট ও রোমান ক্যাথলিক চার্চ কর্তৃপক্ষ।

মিয়ানমারের সংঘাতকবলিত শান প্রদেশ থেকে ভারতের মিজোরাম রাজ্যে ঢুকছে হাজারো শরণার্থী। মিজোরামের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত জেলাগুলোতে আশ্রয় নিচ্ছে তারা।

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, মিয়ানমারে সেনাবাহিনী ও বিদ্রোহীদের মধ্যে সহিংস সংঘাত অব্যাহত থাকায় ভারতে আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।

এক পুলিশ কর্মকর্তার রোববার দেয়া তথ্যের বরাত দিয়ে বলা হয়, মিজোরামের কয়েকটি অঞ্চলে বর্তমানে আশ্রয় নিয়ে আছে নারী ও শিশুসহ মিয়ানমারের কমপক্ষে ১৩ হাজার নাগরিক। এদের মধ্যে দেড় হাজারের বেশি মানুষের বিস্তারিত তথ্য এখনও নথিভুক্ত হওয়া বাকি।

প্রতিদিনই নতুন করে শরণার্থীদের প্রবেশ ঘটছে বলে এ সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। তার ওপর আন্তর্জাতিক সীমান্তে প্রবেশপথ ও বহির্গমন পথের কাছে ঠাঁই নেয়া কিছু মানুষ নিয়মিত ভারতে ঢুকছে, বের হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা, কমিউনিটি নেতা, বেসরকারি সাহায্য সংস্থা ও গির্জা কর্তৃপক্ষ মিয়ানমারের নাগরিকদের আশ্রয় ও খাবারের ব্যবস্থা করছে।

মিজোরাম পুলিশের তথ্য বিশ্লেষণ করে ভারতের সর্ববৃহৎ বার্তা সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, রাজ্যের ছয়টি সীমান্ত জেলা চাম্পাই, লওঙত্লাই, সিয়াহা, সেরছিপ, নাহথিয়াল ও সাইতুয়ালে ৯ হাজার ৪১১ শরণার্থীর থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মিজোরামের মোট ১১টি জেলায় মিয়ানমারের নাগরিকরা আশ্রয় নিয়েছেন। শুধু চাম্পাই জেলাতেই আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ৬ হাজার মানুষ, যা ১১টি জেলার মধ্যে সর্বোচ্চ। প্রাদেশিক রাজধানী আইজাওলে আশ্রয় নিয়েছেন এক হাজার ৬২২ জন।

ইয়াং মিজো অ্যাসোসিয়েশনের তুইপুইরাল শাখার সভাপতি এম সি লালরামেঙ্গা জানান, চাম্পাই জেলার ২১টি গ্রাম নিয়ে গঠিত তুইপুইরালে বর্তমানে মিয়ানমারের প্রায় ২ হাজার ৭০০ নাগরিক থাকছেন।

তিনি জানান, মিয়ানমারের শান প্রদেশ থেকে বিরামহীনভাবে মিজোরামে প্রবেশ করছেন শরণার্থীরা। ফসল কাটার মৌসুমে আশ্রয়প্রার্থীদের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

লালরামেঙ্গা বলেন, অঞ্চলটির ১৪টি গ্রামে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র ও ত্রাণ শিবির তৈরি করেছেন বাসিন্দারা। শরণার্থীদের খাদ্য ও পোশাক সরবরাহের পাশাপাশি আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে কয়েকটি বেসরকারি সাহায্য সংস্থা এবং প্রেসবাইটারিয়ান, ব্যাপটিস্ট ও রোমান ক্যাথলিক চার্চ কর্তৃপক্ষ।

সেন্ট্রাল ইয়াং মিজো অ্যাসোসিয়েশনের উপ-সভাপতি লালমাছুয়ানা জানান, শরণার্থীদের সহায়তা দিতে সংস্থাটি সম্প্রতি ভারতীয় মুদ্রায় ১৫ লাখ রুপি খরচ করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে এ অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল।

মিয়ানমারের সঙ্গে মিজোরামের আন্তর্জাতিক সীমানার দৈর্ঘ্য ৫১০ কিলোমিটার। ছয়টি সীমান্ত জেলায় গত ৭ সেপ্টেম্বর থেকে শরণার্থীরা প্রবেশ করতে শুরু করে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থান হয়। গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার ভেঙে দিয়ে ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনী। এরপর থেকেই দেশটি থেকে প্রতিবেশী ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় মিজোরামে প্রতিদিন কমবেশি শরণার্থীর প্রবেশ অব্যাহত আছে।

তবে শান প্রদেশে সেনাবাহিনীর সঙ্গে বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহীদের সংঘাতের মধ্যে সম্প্রতি মিজোরামে বানের পানির মতো আশ্রয়প্রার্থীদের ঢল শুরু হয়।

মিজোরামে আশ্রয় নেয়া মিয়ানমারের বেশির ভাগ নাগরিকই সংখ্যালঘু শান সম্প্রদায়ের সদস্য। মিজোরামের মিজো আদিবাসীদের সঙ্গে জাতিগতভাবে সম্পর্কিত শানরা।

আরও পড়ুন:
উত্তর কোরিয়ায় আরও ক্ষমতা পেলেন কিমের বোন
শব্দের চেয়ে বেশি গতির ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া
আবারও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া
৪ দিন পর আবার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা উত্তর কোরিয়ার
এবার দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া

শেয়ার করুন

জননিরাপত্তা নিয়ে মাথাব্যথা নেই ফেসবুকপ্রধানের

জননিরাপত্তা নিয়ে মাথাব্যথা নেই ফেসবুকপ্রধানের

চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে সাক্ষ্য দেন সাবেক ফেসবুক কর্মকর্তা ফ্রান্সেস হাওগেন। ছবি: এএফপি

নিউ ইয়র্ক টাইমস জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের ২০২০ সালে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট কারচুপি নিয়ে ভুয়া তথ্যের বন্যা নিয়ে বারবার সতর্ক করেছিলেন ফেসবুককর্মীরা। সে সময় ভুয়া তথ্য ছড়ানো বন্ধে ফেসবুকের আরও জোরদার পদক্ষেপ নেয়া উচিত ছিল বলেও মনে করেন তারা।

আবারও সমালোচনায় জর্জরিত ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ। বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ও বহুল ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটির কারণে জননিরাপত্তায় সৃষ্টি হুমকি সম্পর্কে অবগত ফেসবুকপ্রধান। কিন্তু ব্যবহারকারীদের সুরক্ষাসংক্রান্ত পদক্ষেপ নেয়ায় আগ্রহী নন তিনি।

অভ্যন্তরীণ তথ্য ফাঁস করা সাবেক ফেসবুক কর্মকর্তা ফ্রান্সেস হাওগেন জানিয়েছেন, ফেসবুকে প্রকাশিত ক্ষতিকর বিষয়বস্তুর কারণে ব্যবহারকারীরা যেন বিপদে না পড়েন- তেমনভাবে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার কোনো ইচ্ছা নেই জাকারবার্গের।

ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের সাপ্তাহিক ক্রোড়পত্র অবজারভারকে এসব কথা বলেন তথ্য প্রকৌশলী ও বিজ্ঞানী হাওগেন।

অবজারভারের প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি হাওগেনের ফাঁস করা নথিপত্রের ওপর ভিত্তি করে চাপ বাড়ছে ফেসবুকের ওপর। এর মধ্যে ফের নতুন তথ্য দিয়েছেন আমেরিকান এই নারী। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৭৩ হাজার কোটি ডলারের ব্যবসা রয়েছে ফেসবুকের।

নিউ ইয়র্ক টাইমস জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের ২০২০ সালে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট কারচুপি নিয়ে ভুয়া তথ্যের বন্যা নিয়ে বারবার সতর্ক করেছিলেন ফেসবুককর্মীরা। সে সময় ভুয়া তথ্য ছড়ানো বন্ধে ফেসবুকের আরও জোরদার পদক্ষেপ নেয়া উচিত ছিল বলেও মনে করেন তারা।

হাওগেন জানান, পুঁজিবাজারে ভোটিং শেয়ারে সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করেন জাকারবার্গ। জননিরাপত্তা নিয়ে তার কোনো মাথাব্যথা নেই।

হাওগেন বলেন, ‘বর্তমানে মার্ক জাকারবার্গকে কোনো ধরনের জবাবদিহি করতে হয় না। ব্যবসার পুরো নিয়ন্ত্রণ তার হাতে। তিনি কোনো ভুলত্রুটি সংশোধন করেন না এবং জননিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ সাপেক্ষ প্রতিষ্ঠান পরিচালনার কোনো ইচ্ছাই নেই তার।’

সব শেয়ারধারীর ফেসবুক পরিচালনাসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সমান অধিকার থাকা উচিত বলে মনে করেন হাওগেন। তার মতে, এতে প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ পর্যায়ে পরিবর্তন আসবে।

ফেসবুকের প্রোডাক্ট ম্যানেজার ছিলেন হাওগেন। চলতি বছরের মে মাসে পদত্যাগ করেন তিনি এবং হাজার হাজার নথিপত্র তুলে দেন সংবাদপত্র ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের হাতে।

কারণ হিসেবে হাওগেন জানান, এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটি শোধরাবে না। তিনি বলেন, ‘অ্যাপল, মাইক্রোসফটের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো উল্লেখযোগ্য সাংস্কৃতিক পরিবর্তন এনেছে। ফেসবুকের জন্যও এটি অসম্ভব কিছু নয়, দরকার শুধু সদিচ্ছা।’

হাওগেনের ফাঁস করা নথিপত্রের ভিত্তিতে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সংবাদভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ঐক্যবদ্ধভাবে এক গুচ্ছ নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে।

প্রতিক্রিয়ায় ফেসবুকের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ‘এসব নিছকই মিথ্যা গল্প। আমরা অবশ্যই ব্যবসা করি এবং লাভ করি, কিন্তু জনগণের নিরাপত্তার দামে নয়। আমাদের বাণিজ্যিক স্বার্থও জনকল্যাণকেন্দ্রিক।

‘বাস্তবতা হলো, শুধু ফেসবুকে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আমরা এক হাজার ৩০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছি এবং আমাদের ৪০ হাজারের বেশি কর্মী এ কাজেই যুক্ত।

হাওগেনের মতো ফেসবুকের অভ্যন্তরীণ তথ্য ফাঁসকারী আরও এক ব্যক্তি সামনে আসতে যাচ্ছেন বলে শুক্রবার জানিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।

যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক বিষয়াবলি নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে অভিযোগ দাখিল করেছেন তিনি। তার দাবি, আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিহিংসার বলি হওয়া এবং আয় কমে যাওয়ার ভয়ে নিরাপত্তা নীতিমালা কার্যকরে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল ফেসবুক।

আরও পড়ুন:
উত্তর কোরিয়ায় আরও ক্ষমতা পেলেন কিমের বোন
শব্দের চেয়ে বেশি গতির ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া
আবারও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া
৪ দিন পর আবার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা উত্তর কোরিয়ার
এবার দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া

শেয়ার করুন