‘কেমিক্যালের সংস্পর্শে’ যুক্তরাষ্ট্রে বছরে মৃত্যু ১ লাখ

‘কেমিক্যালের সংস্পর্শে’ যুক্তরাষ্ট্রে বছরে মৃত্যু ১ লাখ

বহুল ব্যবহৃত ক্যামিকেলের সংস্পর্শে বছরে ১ লাখ মানুষের মৃত্যু হতে পারে বলে সম্প্রতি এক গবেষণায় বলা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদনের মূল লেখক লিওনার্দো ট্রাসেনডে বলেন, ‘বেশি মাত্রায় থেলেটের সংস্পর্শে এলে অকাল মৃত্যু বিশেষ করে হৃদরোগে মৃত্যু হতে পারে বলে আমাদের গবেষণায় উঠে এসেছে।’

প্লাস্টিকের পাত্র থেকে শুরু করে কসমেটিক্স পণ্যে রাসায়নিক পদার্থ থেলেটের ব্যবহার বহুল প্রচলিত। এসব সামগ্রীর সংস্পর্শে প্রতিবছর আনুমানিক এক লাখ বয়স্ক ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারে।

নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির এক গবেষণা প্রতিবেদনে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার এমনটাই বলা হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, খেলনা, কাপড়, শ্যাম্পুসহ হাজারো পণ্যে থেলেটজাতীয় পদার্থের উপস্থিতি পাওয়া যায়। দীর্ঘদিন ধরে এ পদার্থ ‘হরমোনের জন্য ক্ষতিকারক’ হিসেবে পরিচিত। এটি মানুষের এন্ডোক্রিন ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলে।

এনভায়রনমেন্টাল পলিউশন সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, ওই সব পণ্য থেকে ক্ষতিকর পদার্থ মানবদেহে প্রবেশ করে। এসব পদার্থ স্থূলতা, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের জন্য দায়ী।

নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির গ্রসম্যান স্কুল অফ মেডিসিন পরিচালিত গবেষণায় ৫৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী পাঁচ হাজার ব্যক্তি অংশ নেন।

গবেষণা বলছে, ওই ব্যক্তিদের প্রস্রাবে থেলেটের উচ্চ ঘনত্ব তাদের হৃদরোগে মৃত্যুর কারণ হতে পারে।

প্রস্রাবে থেলেটের উচ্চ ঘনত্ব অংশগ্রহণকারীদের ক্যানসারে মৃ্ত্যুর ঝুঁকি বাড়ায়, এমনটা গবেষণায় জানা যায়নি।

গবেষণা প্রতিবেদনের মূল লেখক লিওনার্দো ট্রাসেনডে বলেন, ‘বেশি মাত্রায় থেলেটের সংস্পর্শে এলে অকাল মৃত্যু বিশেষ করে হৃদরোগে মৃত্যু হতে পারে বলে আমাদের গবেষণায় উঠে এসেছে।’

তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা জানতে পেরেছি, হৃদরোগের সঙ্গে রাসায়নিক পদার্থের সংযোগ রয়েছে। আর হৃদরোগ মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়।

‘তবে রাসায়নিক পদার্থের সঙ্গে মৃত্যুর সরাসরি সংযোগ আমরা এখনও পাইনি। কারণ থেলেটের সঙ্গে মৃত্যুর সম্পর্কের নির্দিষ্ট জৈবিকপ্রক্রিয়া আমাদের কাছে পরিষ্কার নয়।’

গবেষক ট্রাসেনডে বলেন, ‘আশপাশে এই রাসায়নিক পদার্থের ব্যবহার আমাদের ধারণার চেয়েও বেশি। কম মাত্রায় থেলেটের ব্যবহার আমেরিকানদের শারীরিকভাবে সুরক্ষা দেবে- এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

প্রাণের সন্ধানে মঙ্গলে ঠিক জায়গাতেই পারসিভারেন্স

প্রাণের সন্ধানে মঙ্গলে ঠিক জায়গাতেই পারসিভারেন্স

মঙ্গলে প্রাণের অস্তিত্ব সন্ধানে ভুল জায়গায় পারসিভারেন্স নামেনি বলে জানান বিজ্ঞানীরা। ছবি: নাসা

নাসার বিজ্ঞানীরা বলছেন, কীভাবে নদীর পানি হ্রদে এসে মিলিত হলো, পানিপ্রবাহ হঠাৎ কেন ধীর হয়ে গেল, পলি জমে কীভাবে ডেল্টার গঠন হলো, এসব বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য পেয়েছে পারসিভারেন্স।

মঙ্গল গ্রহে অতীতে কোনো প্রাণের অস্তিত্ব ছিল কি না, তা খুঁজতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে গ্রহটিতে নামে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ সংস্থা নাসার পারসিভারেন্স রোভার।

প্রাচীন প্রাণের দেখা মিলবে এমন জায়গায় পারসিভারেন্স নেমেছিল কি না, তা নিয়ে কিছুটা দ্বিধা ছিল বিজ্ঞানীদের। তবে সম্প্রতি নাসার বিজ্ঞানীরা জানান, সঠিক জায়গাতেই রয়েছে পারসিভারেন্স। এ বিষয়ে আর কোনো সন্দেহ নেই।

গবেষকদের ভাষ্য, মঙ্গল গ্রহে রোভারটি এমন এক জায়গায় পাঠানো হয়েছে, যেখান থেকে প্রাচীন প্রাণের অস্তিত্ব পাওয়ার সবচেয়ে ভালো সম্ভাবনা রয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ফেব্রুয়ারির ১৯ তারিখে মঙ্গলের জেজেরো ক্রেটার স্পর্শ করে পারসিভারেন্স। এর পর থেকে ওই অঞ্চলের হাজার হাজার ছবি নাসাকে পাঠাচ্ছে রোভারটি।

সাড়ে তিন বিলিয়ন বছরের বেশি সময় আগে লাল গ্রহ মঙ্গলের জলবায়ু অনেক বেশি প্রাণবান্ধব ছিল। সে সময়ে গ্রহটিতে বিশাল হ্রদ ছিল বলে ধারণা বিজ্ঞানীদের।

তাদের অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে পারসিভারেন্স এমনই এক বিশাল হ্রদে অবতরণ করেছে বলে নিশ্চিত নাসার বিজ্ঞানীরা। পশ্চিম দিকের কোনো এক আঁকাবাঁকা নদী থেকে হ্রদটিতে পানি আসত বলেও মন্তব্য তাদের।

নাসার বিজ্ঞানীরা বলছেন, কীভাবে নদীর পানি হ্রদে এসে মিলিত হলো, পানিপ্রবাহ হঠাৎ কেন ধীর হয়ে গেল, পলি জমে কীভাবে ডেল্টার গঠন হলো, এসব বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য পেয়েছে পারসিভারেন্স।

তাদের ভাষ্য, মঙ্গলে ওই সময় এমন এক আবহাওয়া বিরাজ করত, যেখানে অণুজীবরা বেঁচে থাকতে পারত। পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে তাদের অস্তিত্ব একেবারে বিলীন হয়ে যায়নি।

যুক্তরাজ্যের ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক সঞ্জীব গুপ্ত বলেন, “মানুষজন আমাকে জিজ্ঞাসা করে, ‘পারসিভারেন্স তো সঠিক জায়গাতেই নেমেছে। এতে নতুন কী আছে? জেজেরো ক্রেটারের ডেল্টা সম্পর্কে আমরা কি আগে থেকে জানতাম না'?”

তিনি বলেন, ‘আমি তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, 'আমরা এ বিষয়ে নিশ্চিত ছিলাম না। কক্ষপথ থেকে তোলা ছবি দেখে আমাদের অনুমান ছিল, জেজেরো ক্রেটারে একটি ডেল্টা রয়েছে। কিন্তু মঙ্গলে নামার আগ পর্যন্ত এ বিষয়ে কীভাবে নিশ্চিত হই?

‘পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়ার জন্য পারসিভারেন্সকে মঙ্গলে পাঠানো জরুরি ছিল।’

শেয়ার করুন

সৌরজগতের উৎপত্তি জানতে মহাকাশযান পাঠাল নাসা

সৌরজগতের উৎপত্তি জানতে মহাকাশযান পাঠাল নাসা

বৃহস্পতির একটি ট্রোজান গ্রহাণুর পাশ দিয়ে যাচ্ছে লুসি। ইলাসট্রেশন: সাউথওয়েস্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট

নাসার এই অভিযানের মূল বিজ্ঞানী হাল লেভিসন বলেন, ‘ট্রোজান গ্রহাণুর বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় যেটি আমরা জানতে পারি তা হলো, এরা পরস্পরের থেকে অনেক ভিন্ন। বিশেষ করে এদের রং একে অপরের থেকে একদম আলাদা।’

বৃহস্পতি গ্রহের ট্রোজান গ্রহাণু সম্পর্কে জানতে ১২ বছর দীর্ঘ উচ্চাভিলাষী অভিযানের অংশ হিসেবে প্রথমবারের মতো মহাকাশযান পাঠিয়েছে নাসা।

প্রাক-মানব পূর্ব পুরুষের প্রাচীন এক জীবাশ্ম লুসির নাম দেয়া ওই মহাকাশযানটি সৌরজগতের গঠন ও উৎপত্তি সম্পর্কে নতুন ধারণা দেবে বলে আশা করছেন বিজ্ঞানীরা।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় শনিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের কেইপ ক্যানাভেরাল থেকে ওই মহাকাশযান পাঠানো হয়।

লুসি হচ্ছে প্রথম সৌরশক্তিচালিত মহাকাশযান, যেটি সূর্য থেকে এত দূরে পাড়ি দিয়েছে। অন্যান্য মহাকাশযানের চেয়ে এটি আরো বেশি গ্রহাণু সম্পর্কে তথ্য দেবে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

নাসার সায়েন্স মিশনের সহযোগী প্রশাসক টমাস জারবুচেন বলেন, ‘বৃহস্পতি গ্রহের ট্রোজান গ্রহাণুর প্রতিটি সৌরজগতের পাশাপাশি পৃথিবীর সৃষ্টি সম্পর্কে তথ্য দেবে।’

২০২৫ সালে মঙ্গল ও বৃহস্পতির মধ্যবর্তী গ্রহাণু ডোনাল্ড জোহানসনের সঙ্গে প্রথম দেখা হবে লুসির। লুসি ফসিল আবিষ্কারকের নাম অনুযায়ী ওই গ্রহাণুর নাম রাখা হয়।

২০২৭ থেকে ২০৩৩ সাল পর্যন্ত সাতটি ট্রোজান গ্রহাণুর সামনাসামনি হবে লুসি।

ওই সব গ্রহাণুর মধ্যে সবচেয়ে বড়টির ব্যাস প্রায় ৬০ মাইল।

গ্রহাণুগুলোর পৃষ্ঠের আড়াই শ মাইলের মধ্যে অবস্থান করবে লুসি। ওই সব গ্রহাণুর গঠন, ভর, ঘনত্ব, আয়তনসহ ভূ-তত্ত্ব বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও লম্বা অ্যান্টেনার সাহায্যে অনুসন্ধান করবে লুসি।

ধারণা করা হয়, বৃহস্পতির ট্রোজান গ্রহাণুর সংখ্যা সাত হাজারের বেশি। আমাদের সৌরজগতের বিশাল গ্রহ বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস ও নেপচুন গঠনের সময় অবশিষ্ট কাঁচামাল থেকে ওই সব গ্রহাণু সৃষ্টি হয়।

বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন, পৃথিবীসহ সব গ্রহের গঠন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দেবে বৃহস্পতির ট্রোজান গ্রহাণু।

নাসার এই অভিযানের মূল বিজ্ঞানী হাল লেভিসন বলেন, ‘ট্রোজান গ্রহাণুর বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় যেটি আমরা জানতে পারি তা হলো এরা পরস্পরের থেকে অনেক ভিন্ন। বিশেষ করে এদের রং একে অপরের থেকে একদম আলাদা।’

শেয়ার করুন

স্পেস স্টেশন নির্মাণে মহাকাশে ফের অভিযান চীনের

স্পেস স্টেশন নির্মাণে মহাকাশে ফের অভিযান চীনের

স্পেস স্টেশন নির্মাণে ২য় মহাকাশযান পাঠাল চীন। ছবি: রয়টার্স

স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে মহাকাশযানটি চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ গানসুর জিকুয়ান স্যাটেলাইট লঞ্চ সেন্টার থেকে মহাকাশের উদ্দেশে রওনা দেয়।

মহাকাশে নিজেদের একটি স্টেশনের কোর মডিউলের উদ্দেশে তিন নভোচারীসহ রকেট পাঠিয়েছে চীন। নভোচারীদের একজন নারী ও দুজন পুরুষ। চীনের আগামী স্পেস স্টেশনটির কোর মডিউলে তারা ছয় মাস কাজ করবেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, লং মার্চ-২এফ নামের রকেটটি শেনঝাউ-১৩ মহাকাশযান বহন করে। স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে এটি চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ গানসুর জিকুয়ান স্যাটেলাইট লঞ্চ সেন্টার থেকে মহাকাশের উদ্দেশে রওনা দেয়।

চায়না ম্যানড স্পেস এজেন্সির পক্ষ থেকে বলা হয়, শনিবার সকাল ৭টার দিকে রকেটটি সফলভাবে স্পেস স্টেশনে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। নভোচারীরা সকাল ১০টার দিকে স্পেস স্টেশনের কোর মডিউলে প্রবেশ করেন।

চলতি বছরের এপ্রিলে স্পেস স্টেশন নির্মাণ শুরু করে চীন। ওই সময় স্টেশনটির তিনটি মডিউলের মধ্যে প্রথম ও সবচেয়ে বড় মডিউল তিয়ানহে কক্ষপথে স্থাপন করা হয়। স্পেস স্টেশনটির নির্মাণ শেষ হলে বাসের চেয়ে আকৃতিতে কিছুটা বড় তিয়ানহেতে থাকবেন নভোচারীরা।

শেনঝাউ-১৩ চারটি মহাকাশ অভিযানের মধ্যে দ্বিতীয়। ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে স্পেস স্টেশন নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে মহাকাশে এসব অভিযান চালানো হচ্ছে।

এর আগে সেপ্টেম্বরে প্রথম মহাকাশযানে চড়ে অন্য তিন নভোচারী তিয়ানহেতে ৯০ দিন অবস্থান করেন।

সাম্প্রতিক অভিযানে তিয়ানহের মূল প্রযুক্তি ও রোবোটিক্স পরীক্ষা করবেন নভোচারীরা।

এই অভিযানের কমান্ডার ৫৫ বছর বয়সী ঝাই ঝিগ্যাং। নব্বই দশকের শেষের দিকে চীনের নভোচর প্রশিক্ষণার্থীদের প্রথম ব্যাচের একজন ঝিগ্যাং। চীনের এক গ্রামে জন্ম নেয়া ঝিগ্যাং ২০০৮ সালে দেশটির প্রথম মহাকাশ অভিযানে ছিলেন।

শেনঝাউ-১৩ ঝিগ্যাংয়ের দ্বিতীয় মহাকাশ অভিযান।

মহাকাশে যাত্রার আগে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে ঝিগ্যাং বলেন, ‘সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং কাজ হচ্ছে, কক্ষপথে টানা ছয় মাস থাকা। এ অভিযান শরীর ও মনের একাগ্রতা দাবি করে।’

স্পেস স্টেশন নির্মাণে ঝিগ্যাংয়ের সঙ্গে থাকছেন ৪১ বছর বয়সী ওয়াং ইয়াপিং ও ইয়ে গুয়াংফু।

দৃঢ় মনোবলের জন্য সহকর্মীদের মধ্যে বিশেষভাবে পরিচিত ইয়াপিং। চীনের বিমানবাহিনীর সাবেক পাইলট ইয়াপিং ২০১৩ সালে প্রথম মহাকাশ ভ্রমণ করেন। মহাকাশে যাওয়া চীনের নারী নভোচারীদের মধ্যে ইয়াপিং দ্বিতীয়। এর আগে ২০১২ সালে লিউ ইয়াং মহাকাশে যান।

তৃতীয় নভোচারী গুয়াংফুর এটাই প্রথম মহাকাশ অভিযান।

শেয়ার করুন

১২ হাজার বছর আগেও ছিল পোষা কুকুর

১২ হাজার বছর আগেও ছিল পোষা কুকুর

কোস্টারিকায় পাওয়া গেছে ১২ হাজার বছর আগের এক কুকুরের জীবাশ্ম। ছবি: এএফপি

কোস্টারিকার গবেষক গুইলেরমো ভারগাস বলেন, ‘হাড়টির জীবাশ্ম নিয়ে পরীক্ষার একপর্যায়ে জানতে পারি, ১২ হাজার বছর আগে কোস্টারিকায় মানুষের সঙ্গে ওই কুকুর বসবাস করত। এটি মধ্য আমেরিকার সবচেয়ে প্রাচীন কুকুর হতে পারে।’

১২ হাজার বছর আগের একটি চোয়ালের হাড়ের জীবাশ্ম সম্প্রতি পরীক্ষা করেছেন বিজ্ঞানীরা। তাদের ভাষ্য, ওই হাড়টি মধ্য আমেরিকায় পোষা কোনো কুকুরের। আর এ বিষয়ে নিশ্চিত হলে ওই কুকুরটিই হবে ওই অঞ্চলে বাস করা সবচেয়ে প্রাচীন কুকুর।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, প্লাইস্টোসিন যুগের কয়েকটি হাড়ের জীবাশ্ম নব্বই দশকে হন্ডুরাসের নাকাওম শহরে পান গবেষকরা।

ওই সব হাড়ের জীবাশ্মের মধ্যে অতিকায় ঘোড়া ইকুয়াস, বিশালাকৃতির আর্মাডিলো গ্লিপটোডোন, আধুনিক যুগের হাতির পূর্বপুরুষ মাস্টোডোন ও একটি চোয়াল ছিল। চোয়ালের হাড়ের জীবাশ্মকে শুরুতে কোয়োটির খুলি ভেবেছিলেন গবেষকরা।

কোস্টারিকার গবেষক গুইলেরমো ভারগাস বলেন, ‘১২ হাজার বছর আগে প্লাইস্টোসিন আমলের একটি কোয়োটির হাড়ের জীবাশ্ম পাওয়া গেছে শুনে প্রথমে আমরা বেশ অবাক হই। কারণ কোস্টারিকায় বিংশ শতাব্দীতে কোয়োটিরা এসেছিল, তার আগে নয়। বুঝতে পারি, ওই হাড় কোনোভাবেই কোয়োটির হতে পারে না।

‘আমরা হাড়টি পরীক্ষা করা শুরু করি। পরীক্ষার পর আমাদের ধারণা হয়, এটি কোনো কুকুরের হতে পারে।

‘আমরা এটি নিয়ে আরও পরীক্ষা করি। একপর্যায়ে জানতে পারি, ১২ হাজার বছর আগে কোস্টারিকায় মানুষের সঙ্গে ওই কুকুর বসবাস করত। এটি মধ্য আমেরিকার সবচেয়ে প্রাচীন কুকুর হতে পারে।’

কোয়োটি পোষা কুকুর প্রজাতির। তবে তাদের চোয়ালের গড়ন ভিন্ন। দাঁতও অনেক ধারালো।

ধারণা করা হয়, বরফ যুগের শেষের দিকে মানুষ সাইবেরিয়া থেকে আলাস্কায় আসা শুরু করে। পরে আমেরিকাজুড়ে তারা ছড়িয়ে পড়ে।

মেক্সিকোর ন্যাশনাল অটোনমাস ইউনিভার্সিটির বায়োলজিস্ট ও জু আর্কিওলজিস্ট রাউল ভ্যালাডেজ বলেন, ‘প্রায় ১৫ হাজার বছর আগে এশিয়া থেকে বেরিং প্রণালি পাড়ি দিয়ে উত্তর আমেরিকা মহাদেশে প্রথম পোষা কুকুর আসে।

‘মানুষের সঙ্গ ছাড়া কোনো কুকুর সে সময় একা থাকত না।’

প্লাইস্টোসিন যুগে মেক্সিকো, চিলি ও প্যাটাগনিয়ায় মানব বসতির প্রমাণ পাওয়া যায়। তবে মধ্য আমেরিকায় সে সময় মানব বসতির অস্তিত্ব আজ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

আমেরিকায় এখন পর্যন্ত সবচেয়ে প্রাচীন কুকুরের জীবাশ্ম পাওয়া গেছে আলাস্কায়। ১০ হাজার ১৫০ বছর আগে ওই কুকুরটি উত্তর আমেরিকায় বাস করত।

শেয়ার করুন

২৭০০ বছর আগেও বিয়ার খেত মানুষ

২৭০০ বছর আগেও বিয়ার খেত মানুষ

অস্ট্রিয়ার লবণ খনির শ্রমিকদের মলের নমুনা পরীক্ষা করে গবেষকরা বিয়ার ও ব্লু চিজ খাওয়ার প্রমাণ পান। ছবি: এএফপি

ইতালির ইরিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের মাইক্রোবায়োলজিস্ট ও গবেষণা প্রতিবেদনটির মূল লেখক ফ্র্যাঙ্ক মেক্সনার বলেন, ‘দুই হাজার বছরের বেশি সময় আগে লবণ খনির শ্রমিকরা গাঁজন প্রক্রিয়ার সঙ্গে পরিচিত ছিলেন, এটা জানতে পেরে অবাক হয়েছি। সে সময়ের মানুষ চিন্তার দিক থেকে অনেক উন্নত ছিল।’

বিয়ার আর ব্লু চিজ বহু বছর ধরে মানুষ খেয়ে আসছে। এটা নতুন কোনো তথ্য নয়। তবে ২ হাজার ৭০০ বছর আগেও যে ইউরোপীয়রা এসব খেত, এটা কারো ধারণায়ও ছিল না। সম্প্রতি এক গবেষণা থেকে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

বিজ্ঞান সাময়িকী কারেন্ট বায়োলজিতে স্থানীয় সময় বুধবার এসংক্রান্ত গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২ হাজার ৭০০ বছর আগে অস্ট্রিয়ার হলস্ট্যাট শহরের একটি লবণ খনির শ্রমিকদের মলের নমুনা পরীক্ষা করে গবেষকরা জানতে পারেন, ওই শ্রমিকরা বিয়ার ও ব্লু চিজ খেতেন।

ইতালির ইরিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের মাইক্রোবায়োলজিস্ট ও গবেষণা প্রতিবেদনটির মূল লেখক ফ্র্যাঙ্ক মেক্সনার বলেন, ‘দুই হাজার বছরের বেশি সময় আগে লবণ খনির শ্রমিকরা গাঁজন প্রক্রিয়ার সঙ্গে পরিচিত ছিলেন, এটা জানতে পেরে অবাক হয়েছি। সে সময়ের মানুষ চিন্তার দিক থেকে অনেক উন্নত ছিল।’

তিনি বলেন, ‘আমার মতে, ওই শ্রমিকরা বেশ অগ্রসর ছিলেন। আমি এটা আশা করিনি।’

ওই আমলে মানুষজন মদ খেত, তা প্রত্নতাত্ত্বিকদের লেখা ঘাটলেই পাওয়া যায়। তবে অস্ট্রিয়ার শ্রমিকদের মধ্যে এত আগে বিয়ার খাওয়ার চল ছিল, তা এই প্রথম জানা গেল।

অস্ট্রিয়ার মিউজিয়াম অফ ন্যাচারাল হিস্ট্রির কর্মকর্তা কারস্টিন কোয়ারিক বলেন, ‘নতুন এই তথ্য এটাই প্রমাণ করে, প্রাগৈতিহাসিক যুগের মানুষজন রান্নাবান্নায় শুধু অগ্রসর ছিল, তা-ই নয়; তারা গাঁজনের মতো জটিল ও তুলনামূলক আধুনিক প্রক্রিয়া ব্যবহার করে খাবারও তৈরি করত।’

ইউনেসকোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে পরিচিত অস্ট্রিয়ার হলস্ট্যাট শহরে তিন হাজার বছরের বেশি আগ থেকেই লবণ উৎপাদন হয়।

গবেষণা প্রতিবেদনের মূল লেখক মেক্সনার বলেন, ‘ওই শ্রমিকরা অস্ট্রিয়ার আল্পস পর্বতমালায় বসবাস করতেন। শ্রমিকদের ওই পুরো সম্প্রদায় খনিতে কাজ করতেন। খনিতে কাজ করে তারা জীবিকা নির্বাহ করতেন।

‘পুরোটা দিন ওই শ্রমিকরা খনিতে কাজ করার পাশাপাশি সেখানেই খাওয়াদাওয়া থেকে শুরু করে মলমূত্র ত্যাগ করতেন।’

আল্পসের সারা বছরের প্রায় আট ডিগ্রি সেলসিয়াসের গড় তাপমাত্রা ও খনিতে লবণের উচ্চ ঘনত্ব- এই দুইয়ের কারণে শ্রমিকদের মল এত বছর সুরক্ষিত ছিল।

গবেষকরা শ্রমিকদের মলের চার ধরনের নমুনা পরীক্ষা করেন। একটি মল ব্রোঞ্জ ও দুটি মল লৌহ যুগের। আর শেষেরটি অষ্টাদশ শতাব্দীর মল।

ওই মলগুলোর মধ্যে একটি প্রায় ২ হাজার ৭০০ বছরের পুরোনো। এটিতে পেনিসিলিয়াম রকেফরটি ও সাকারোমাইসিস সিরেভিসিআই নামের দুটি ছত্রাক পাওয়া যায়। এই দুটি ছত্রাক আজকের যুগে খাবার তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।

গবেষকরা ওই শ্রমিকদের খাদ্যাভ্যাস নিয়েও গবেষণা করেন। তারা জানতে পারেন, মূলত সিরিয়াল, ফল, বিনস ও মাংস প্রোটিনের উৎস হিসেবে ওই অস্ট্রিয়ানরা খেতেন।

শেয়ার করুন

১৫ লাখ বছর আগের জলহস্তীর দাঁত

১৫ লাখ বছর আগের জলহস্তীর দাঁত

সম্প্রতি প্রাগৈতিহাসিক যুগের এক জলহস্তীর দাঁত খুঁজে পান গবেষকরা। ছবি: ইউনিভার্সিটি অফ লেস্টার

ইউনিভার্সিটি অফ লন্ডনের প্যালিওন্টলজিস্ট ড্যানিয়েল স্ক্রিভ বলেন, ‘জলহস্তীর জীবাশ্ম পরীক্ষা করে তাদের সম্পর্কেই শুধু জানা যায়, তা নয়; একই সঙ্গে প্রাগৈতিহাসিক আমলের জলবায়ু সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যায়।’

প্রাগৈতিহাসিক যুগের এক জলহস্তীর দাঁত সম্প্রতি খুঁজে পেয়েছেন গবেষকরা। ওই দাঁত পরীক্ষা করে তারা জানতে পেরেছেন, আমাদের ধারণারও অনেক আগে অর্থাৎ প্রায় ১৫ লাখ বছর আগে যুক্তরাজ্যজুড়ে জলহস্তীরা ঘুরে বেড়াত।

পাশাপাশি জলহস্তীর ওই দাঁত প্রাচীনকালের জলবায়ু সম্পর্কে নতুন তথ্য দেবে বলে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন।

সায়েন্স এলার্টের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

ইউনিভার্সিটি অফ লেস্টারের জীবাণুবিদ নিল অ্যাডামস টুইটবার্তায় বলেন, ‘বিলুপ্ত হিপোপটেমাস অ্যান্টিকুয়াস প্রজাতির জীবাশ্মের সঙ্গে দাঁতটির মিল পাওয়া গেছে।’

যুক্তরাজ্যে একসময় অতিকায় পশমাবৃত ম্যামথ, কেইভ লাওন, পশমাবৃত গণ্ডার, সিংহাকৃতির হায়েনা, বিশাল জলহস্তীর মতো প্রচুর বণ্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য ছিল। এখন শুধু রেড ডিয়ারই দেশটিতে দেখা যায়।

৩ হাজার ২০০ কেজি ওজনের প্রাগৈতিহাসিক জলহস্তী এখনকার জলহস্তীর চেয়ে আকারে দ্বিগুণ। যুক্তরাজ্য থেকে শুরু করে গ্রিস, জার্মানি ও ফ্রান্সে এসব প্রজাতির জীবাশ্ম পাওয়া যায়।

ইংল্যান্ডের সামারসেট কাউন্টিতে পাওয়া দাঁতটি অন্যান্য জলহস্তীর দাঁতের সঙ্গে তুলনা করেন জীবাণুবিদ অ্যাডামস ও তার সহকর্মীরা। এটি ১৫ লাখ থেকে ১০ লাখ ৭০ হাজার বছর আগের এক জলহস্তীর বলে ধারণা তাদের।

অ্যাডামস বলেন, ‘ইংল্যান্ড থেকে এই প্রথম জলহস্তীর জীবাশ্ম পাওয়া গেছে, তা নয়; বরং ৭ লাখ ৫০ হাজার বছরের বেশি পুরোনো জলহস্তীর জীবাশ্মপ্রাপ্তি এটাই প্রথম।’

বিজ্ঞানীদের ভাষ্য, বিলুপ্ত হিপোপটেমাস অ্যান্টিকুয়াস প্রজাতির জলহস্তী আজকের যুগের জলহস্তীর চেয়ে বেশি জলজ জীবনধারায় নির্ভরশীল ছিল। ওই প্রাণীর অন্যান্য জীবাশ্ম পরীক্ষা করে জানা যায়, তাদের অক্ষিকোটরের অবস্থান খুলির বেশ ওপরে। দেহের আকারের তুলনায় এদের পা ছোট। অতিকায় প্রাগৈতিহাসিক জলহস্তী প্রথম দিকে জলজ উদ্ভিদ খেত।

ইউনিভার্সিটি অফ লন্ডনের প্যালিওন্টলজিস্ট ড্যানিয়েল স্ক্রিভ বলেন, ‘প্রকাণ্ড জলহস্তীর জীবাশ্মের খোঁজ পাওয়াই শেষ কথা নয়। জলহস্তীর জীবাশ্ম পরীক্ষা করে তাদের সম্পর্কেই শুধু জানা যায়, তা নয়; একই সঙ্গে প্রাগৈতিহাসিক আমলের জলবায়ু সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যায়।’

শেয়ার করুন