লিবিয়ায় বন্দিশিবিরে ‘চরম ঝুঁকিতে’ নারী-শিশু

লিবিয়ায় বন্দিশিবিরে ‘চরম ঝুঁকিতে’ নারী-শিশু

লিবিয়ায় বন্দিশিবিরে আটক ১ হাজার নারী-শিশুর অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানায় জাতিসংঘ। ছবি: এএনএসএ

ইউনিসেফ এক বিবৃতিতে জানায়, ‘চলতি মাসে ত্রিপোলিতে হাজার হাজার অভিবাসন ও রাজনৈতিক আশ্রয়প্রত্যাশীকে আটক করা হয়। এদের মধ্যে খুব ঝুঁকিতে থাকা ৭৫১ জন নারী ও ২৫৫টি শিশু রয়েছে।

লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির বন্দিশিবিরে কমপক্ষে এক হাজার নারী ও শিশু খুব ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ।

জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ স্থানীয় সময় মঙ্গলবার এ সতর্কবার্তা দেয় বলে বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ইউনিসেফ এক বিবৃতিতে জানায়, ‘চলতি মাসে ত্রিপোলিতে হাজার হাজার অভিবাসন ও রাজনৈতিক আশ্রয়প্রত্যাশীকে আটক করা হয়। এদের মধ্যে খুব ঝুঁকিতে থাকা ৭৫১ জন নারী ও ২৫৫টি শিশু রয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কমপক্ষে ৩০টি নবজাতক শিশু ও পাঁচটি অভিভাবকহীন শিশু রয়েছে। ত্রিপোলির বন্দিশিবিরের প্রায় ১ হাজার নারী ও শিশুর নিরাপত্তা ও সুস্থতা খুবই ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।’

চলতি মাসের শুরুতে অবৈধ অভিবাসীদের লক্ষ করে অভিযান শুরু করে লিবিয়া কর্তৃপক্ষ।

আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস জানিয়েছে, লিবিয়া সরকারের অভিযানে অন্তত পাঁচ হাজার অভিবাসী ও শরণার্থীকে আটক করা হয়।

লিবিয়ায় জাতিসংঘের সহায়তা মিশনের তথ্য অনুযায়ী, সংঘবদ্ধ অপরাধ ও মাদক পাচারকে লক্ষ করে লিবিয়া সরকারের অভিযানে একজন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছে।

লিবিয়ায় ইউনিসেফের ভারপ্রাপ্ত বিশেষ প্রতিনিধি ক্রিস্টিনা ব্রুগিওলা বলেন, ‘নির্বিচারে আটক হওয়াসহ অন্যান্য গুরুতর শিশু অধিকার লঙ্ঘনের মুখে লিবিয়ার অভিবাসী ও শরণার্থী শিশুরা।’

তিনি বলেন, ‘শিশুরা এসব বন্দিশিবিরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। আটক করা শিশুর সংখ্যা আমাদের ধারণার আরও অনেক বেশি। প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের সঙ্গে অনেক ছেলেশিশুকে বন্দিশিবিরে রাখার অভিযোগ আমরা পেয়েছি।’

আরও পড়ুন:
লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশি হত্যার মূল সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার
লিবিয়া থেকে ফিরলেন ১৪৮ বাংলাদেশি
লিবিয়ায় নৌকাডুবিতে ৭৪ অভিবাসীর মৃত্যু
‘স্থায়ী’ যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে হাফতার-সারাজ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

জ্বালানি সংকটে ঝুঁকিতে হাইতির নারী-শিশু

জ্বালানি সংকটে ঝুঁকিতে হাইতির নারী-শিশু

হাইতির রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সে স্থানীয়রা কন্টেনারে করে তেল ও পেট্রোল সরবরাহ করছেন। ছবি: রয়টার্স

হাইতিতে ইউনিসেফের উপপ্রতিনিধি রাউল ডি টরসি এক বিবৃতিতে জানান, ‘দেশটির হাসপাতালে অনেক গর্ভবতী নারী ও নবজাতক শিশুর জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। জ্বালানি ঘাটতির কারণে ওইসব হাসপাতাল নারী ও শিশুদের ঠিকঠাকমতো লাইফ সাপোর্ট দিতে পারছে না।’

হাইতির বিভিন্ন হাসপাতালে জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় হাজার হাজার নারী ও শিশুর জীবন হুমকির মুখে পড়েছে।

জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ স্থানীয় সময় রোববার এ সতর্কবার্তা দেয় বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

কয়েক সপ্তাহ ধরে হাইতির রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হয়ে আসছে। দেশটিতে একের পর এক অপহরণের ঘটনা বিশেষ করে চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার একদল মিশনারি অপহৃত হওয়ার পর এ সমস্যা চরম আকার ধারণ করে।

হাইতির পরিবহন শিল্পের নেতাদের ভাষ্য, অপহরণের ঘটনা অনেক বেড়ে যাওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ করা চালকদের জন্য খুবই বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। অপহরণ বা মালামাল ছিনতাই হতে পারে এ ভয়ে তারা জ্বালানি আগের মতো সরবরাহ করছেন না।

ইউনিসেফ জানিয়েছে, রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্স ও হাইতির দক্ষিণাঞ্চলীয় উপদ্বীপের বেশ কয়েকটি হাসপাতালে জ্বালানি সরবরাহ করতে স্থানীয় এক কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করেছে আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটি।

হাইতিতে ইউনিসেফের উপপ্রতিনিধি রাউল ডি টরসি এক বিবৃতিতে জানান, ‘দেশটির হাসপাতালে অনেক গর্ভবতী নারী ও নবজাতক শিশুর জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। জ্বালানি ঘাটতির কারণে ওইসব হাসপাতাল নারী ও শিশুদের ঠিকঠাকমতো লাইফ সাপোর্ট দিতে পারছে না।’

বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় হাইতির বেশির ভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের জন্য ডিজেলচালিত জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হয়।

জ্বালানি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় হাইতির প্রধান মোবাইল ফোন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান আগামী কয়েকদিনের মধ্যে তাদের সেবা বন্ধ করে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাশাপাশি দেশটির শিল্প কারখানার কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

এ বিষয়ে হাইতি সরকারের তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন:
লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশি হত্যার মূল সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার
লিবিয়া থেকে ফিরলেন ১৪৮ বাংলাদেশি
লিবিয়ায় নৌকাডুবিতে ৭৪ অভিবাসীর মৃত্যু
‘স্থায়ী’ যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে হাফতার-সারাজ

শেয়ার করুন

স্কুলে যাওয়া বন্ধ, ব্যবসা শিখছে আফগান কিশোরীরা

স্কুলে যাওয়া বন্ধ, ব্যবসা শিখছে আফগান কিশোরীরা

সেলাই শিখছেন আফগান নারীরা। ছবি: টোলো নিউজ

তালেবানের আগ্রাসনে ক্ষমতাচ্যুত বেসামরিক সরকারের শাসনামলে আফগানিস্তানে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অনেক নারী কর্মরত ছিলেন। গত দুই মাসে তাদের প্রায় সবাই চাকরি হারিয়েছেন। জীবিকা উপার্জনের বিকল্প হিসেবে তারাও হস্তশিল্প শিখছেন এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।

কট্টরপন্থি তালেবান আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর থেকে কিশোরী ও নারীদের স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ। সময় কাটাতে তাই অর্ধশতাধিক কিশোরী ও তরুণী কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে ভর্তি হয়েছে। শিখছে কাপড় সেলাই, নিচ্ছে সৌন্দর্যবর্ধন প্রশিক্ষণ।

স্থানীয় টোলো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাড়িতে বসে সময় কাটানো কঠিন বলে একঘেয়েমি দূর করতে হাতের কাছে যে সুযোগ আছে, তারই সদ্ব্যবহার করছে অনেক আফগান কিশোরী ও তরুণী।

সামিরা শারিফি নামের এক শিক্ষার্থী বলে, ‘কয়েক মাস ধরে বাড়িতে বসে আছি। স্কুল-বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ। কোনো না কোনো কাজ তো শিখতে হবে। এভাবে হাত গুটিয়ে বাড়িতে কতদিনই বা বসে থাকব?’

মেহনাজ গোলামি নামের আরেক ছাত্রী বলে, ‘নিজের ভবিষ্যতের জন্য আর পরিবারকে সাহায্য করতে চাই বলে কোনো কাজ শিখতে চাই আমি। চেয়েছিলাম তো স্কুলে যেতে। স্কুল খোলা থাকলে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারতাম।’

আফগানিস্তানে সম্প্রতি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে যোগ দেয়া প্রশিক্ষণার্থীদের বেশিরভাগই মাধ্যমিকপড়ুয়া অথবা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী।

দেশজুড়ে তালেবান মেয়েদের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পথ বন্ধ রেখেছে। এমন পরিস্থিতিতে হেরাত প্রদেশের অনেক কিশোরী ও নারী কারিগরি প্রশিক্ষণকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে।

শাকাইক গাঞ্জি নামের এক শিক্ষার্থী বলে, ‘আমরা শিক্ষাগ্রহণের পাশাপাশি দর্জির কাজ শেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

লাইলি সোফিজাদা নামের এক শিক্ষিকা বলেন, ‘এখন প্রতিটি নারীর উচিত নিজের পরিবার ও স্বামীকে সহযোগিতার জন্য সেলাই শেখা। কারণ দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ভীষণ খারাপ।’

মেয়েদের জন্য স্কুল-বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর কারিগরি শিক্ষা কেন্দ্রগুলোতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দ্বিগুণ বেড়েছে।

হেরাতের শ্রম ও সমাজকল্যাণ বিভাগের কারিগরি ও কর্মজীবী বিষয়ক পরিচালক ফাতিমা তোখি বলেন, ‘আমাদের শ্রেণিকক্ষগুলোর ধারণক্ষমতা ২০ থেকে ২৫ জনের। এখন একেকটি ক্লাসে ৪৫ জন পর্যন্ত নিতে হচ্ছে আমাদের।

‘স্কুল-বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা উদ্যম হারাতে বসেছে।’

হেরাতের শ্রম ও সমাজকল্যাণ বিভাগ জানিয়েছে, প্রদেশটির নারীদের কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদানে নতুন নতুন সুযোগ সৃষ্টির চেষ্টা চলছে।

সংস্থাটির প্রধান মোল্লা মোহাম্মদ সাবিত বলেন, ‘শিল্প ও পেশাগত খাত, কিন্ডারগার্টেন বিভাগগুলোতে নিয়মিত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তাদের পূর্ণ সহযোগিতা দিচ্ছি আমরা। নিয়মিত তত্ত্বাবধানও করা হচ্ছে।’

তালেবানের আগ্রাসনে ক্ষমতাচ্যুত বেসামরিক সরকারের শাসনামলে আফগানিস্তানে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অনেক নারী কর্মরত ছিলেন। গত দুই মাসে তাদের প্রায় সবাই চাকরি হারিয়েছেন। জীবিকা উপার্জনের বিকল্প হিসেবে তারাও হস্তশিল্প শিখছেন এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।

আরও পড়ুন:
লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশি হত্যার মূল সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার
লিবিয়া থেকে ফিরলেন ১৪৮ বাংলাদেশি
লিবিয়ায় নৌকাডুবিতে ৭৪ অভিবাসীর মৃত্যু
‘স্থায়ী’ যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে হাফতার-সারাজ

শেয়ার করুন

কঠিন সময়েও সেবাতেই নজর আফগান মিডওয়াইফদের

কঠিন সময়েও সেবাতেই নজর আফগান মিডওয়াইফদের

আফগানিস্তানের ময়দান শরে কমিউনিটি মিডওয়াইফারি এডুকেশন স্কুলের একটি ক্লাসে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা। ছবি: এএফপি

মিডওয়াইফারি কলেজের শিক্ষক শফিকা বিরোনি বলেন, ‘মানবতাবাদ ও দেশপ্রেমের জায়গা থেকে আমি আমার কাজ করে যাচ্ছি। তালেবান সরকারের কাছে আমাদের দাবি, নারী-শিশুদের সহায়তা করতে আমাদের যেন নিরাপদে কাজ করতে দেয়া হয়।’

বিদেশি সেনারা আফগানিস্তান ছাড়ার শেষ সময়ে দেশটির বিস্তীর্ণ অঞ্চল নিজেদের দখলে নিতে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় তালেবান।

চলতি বছরের এপ্রিলে শুরু হওয়া ওই সংঘর্ষে অনেক প্রাণহানি হয়। ভেঙে পড়ে বেশ কয়েকটি স্থাপনা।

আফগানিস্তানের একটি মিডওয়াইফারি কলেজের শিক্ষকদের কার্যালয়ও বুলেটের আঘাতে ঝাঁঝরা হয়। তাদের শেষ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বোমায় উড়ে যায়।

তা সত্ত্বেও দেশটির গ্রামাঞ্চলে সন্তানসম্ভবা নারী ও নবজাতক শিশুদের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন ওই শিক্ষকরা। কঠিন পরিবেশেও শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিচ্ছেন তারা।

১৫ আগস্ট কাবুল পতনের মধ্য দিয়ে আফগানিস্তানের ক্ষমতা তালেবানের দখলে যায়। এর কয়েক সপ্তাহ পর দেশটিতে নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করে কট্টর ইসলামপন্থি গোষ্ঠীটি।

নতুন সরকারের কাছে ওই মিডওয়াইফারি কলেজের শিক্ষকদের একটাই চাওয়া, তাদের যেন নিরাপদে কাজ করতে দেয়া হয়।

কলেজটির ৫২ বছর বয়সী শিক্ষক শফিকা বিরোনি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘মানবতাবাদ ও দেশপ্রেমের জায়গা থেকে আমি আমার কাজ করে যাচ্ছি।

‘সমাজের সবচেয়ে নিপীড়িত অংশ নারী ও শিশুদের সেবার প্রয়োজন রয়েছে বলে আমি মনে করি।

‘তালেবান সরকারের কাছে আমাদের দাবি, নারী-শিশুদের সহায়তা করতে আমাদের যেন নিরাপদে কাজ করতে দেয়া হয়।’

আফগানিস্তানের ওয়ারদাক প্রদেশের রাজধানী ময়দান শরে অবস্থিত ওই কলেজের নাম কমিউনিটি মিডওয়াইফারি এডুকেশন স্কুল। এতে ২৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। আগামী বছরের মে মাসে তাদের স্নাতক শেষ হবে।

তালেবান ও আফগানিস্তানের সাবেক সরকারের নিরাপত্তা বাহিনীর সংষর্ষ স্মরণ করে কলেজটির কোর্স ডিরেক্টর খাতুল ফজলি বলেন, ‘ওই সময় প্রতিদিনই এখানে যুদ্ধ হতো। কঠিন সময় পার করেছি আমরা।’

আফগানিস্তানের মিডওয়াইফারি কলেজ কীভাবে চলবে এসংক্রান্ত কোনো নির্দেশনা এখনও তালেবান সরকার দেয়নি।

অন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের মতো আফগানিস্তানজুড়ে মিডওয়াইফদের সম্প্রতি সবচেয়ে বড় যে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে তা হলো, দেশটির ব্যাংকিংব্যবস্থা কাজ না করায় চার মাস ধরে তারা তাদের বেতন পাচ্ছেন না।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সহায়তা সংস্থার সহযোগিতায় গত ১৫ বছরে ময়দান শরসহ আফগানিস্তানের বিভিন্ন শহরে স্বাস্থ্যসেবা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। তার পরও দেশটির শিশু মৃত্যুহার বিশ্বে অন্যতম সর্বোচ্চ।

এ ছাড়া আফগানিস্তানে প্রতিবছর হাজার হাজার নারী প্রসবকালীন জটিলতায় মারা যায়।

আরও পড়ুন:
লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশি হত্যার মূল সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার
লিবিয়া থেকে ফিরলেন ১৪৮ বাংলাদেশি
লিবিয়ায় নৌকাডুবিতে ৭৪ অভিবাসীর মৃত্যু
‘স্থায়ী’ যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে হাফতার-সারাজ

শেয়ার করুন

জাতিসংঘে তালেবান রাষ্ট্রদূত চায় না আফগান নারীরা

জাতিসংঘে তালেবান রাষ্ট্রদূত চায় না আফগান নারীরা

নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বাইরে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন (বাঁ থেকে) আসিলা ওয়ারদাক, ফৌজিয়া কুফি, আনিসা শহীদ ও নাহিদ ফরিদ। ছবি: রয়টার্স

আফগানিস্তানের সাবেক রাজনীতিক ও শান্তি আলোচনাকারী ফৌজিয়া কুফি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটি খুবই সহজ বিষয়। আফগান জনগণের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ব্যক্তি আফগানিস্তানের হয়ে জাতিসংঘে বসার যোগ্য।’

জাতিসংঘে তালেবান সরকারের কাউকে যাতে আসন দেয়া না হয় এ জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থাটির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন কয়েকজন আফগান নারী। বরং আফগানিস্তানকে সঠিকভাবে প্রতিনিধিত্ব করতে পারে, এমন যোগ্য কোনো ব্যক্তিকে জাতিসংঘে আফগান রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেয়া উচিত বলে মনে করেন তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার আফগান ওই নারীরা এসব আহ্বান জানান বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বাইরে আফগানিস্তানের সাবেক রাজনীতিক ও শান্তি আলোচনাকারী ফৌজিয়া কুফি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটি খুবই সহজ বিষয়। আফগান জনগণের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ব্যক্তি আফগানিস্তানের হয়ে জাতিসংঘে বসার যোগ্য।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আফগান নারীরা গত কয়েক মাস ধরে আমাদের অধিকার নিয়ে অনেক কথা বলেছি। কিন্তু আমাদের কোনো কথাই শোনা হয়নি।

‘আফগান নারীসহ সব নাগরিককে প্রাপ্য অধিকার দেয়া, অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠন করা- এসব তালেবান সরকার নিশ্চিত করলে পরে তাদের স্বীকৃতি ও অর্থসহায়তা বিশ্বের দেয়া উচিত, এর আগে নয়।’

ফৌজিয়া কুফি ছাড়াও আফগানিস্তানের সাবেক রাজনীতিক নাহিদ ফরিদ, সাবেক কূটনীতিক আসিলা ওয়ারদাক ও সাংবাদিক আনিসা শহীদ সাংবাদিকদের সঙ্গে আফগান বিষয়ে কথা বলেন।

ফরিদ বলেন, ‘তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর অঙ্গীকার করেছিল, নারীদের ঘরের বাইরে কাজ করার অনুমতি দেয়া হবে, মেয়েরা স্কুলে তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবে। এসব অঙ্গীকারের কোনোটিই রাখেনি তালেবান।’

নারী অধিকারের বিষয়ে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করতে তালেবানকে চাপ দিতে বিশ্বকে আহ্বান জানিয়েছেন কূটনীতিক ওয়ারদাক।

জাতিসংঘের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তালেবানের কাউকে জাতিসংঘে আফগান রাষ্ট্রদূত হিসেবে বেছে নেয়া হলে সে ক্ষেত্রে অবশ্যই তা শর্তভিত্তিক হতে হবে।’

তালেবানের আগের শাসনামলে ঘরের বাইরে আফগান নারীদের কাজ করা বা মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার অনুমতি ছিল না। ঘরের বাইরে পুরুষ অভিভাবক ছাড়া নারীদের বের হতেও নিষেধ করা হয়েছিল।

দীর্ঘ দুই দশক পর তালেবান এবার ক্ষমতায় আসার আগে ও পরে অনেকবার অঙ্গীকার করে বলেছিল, শরিয়া আইন অনুযায়ী আফগান নারীদের অধিকার দেয়া হবে।

তবে আফগান নারী ইস্যুতে এখন পর্যন্ত কোনো অঙ্গীকারই বাস্তবায়ন করেনি আফগানিস্তানে তালেবানের অন্তর্বর্তী সরকার।

এ মুহূর্তে জাতিসংঘে আফগানিস্তানকে প্রতিনিধিত্ব করছেন দেশটির ক্ষমতাচ্যুত সরকারের কর্মকর্তা গুলাম ইসাকজাই। আগস্টে ক্ষমতায় আসার পর জাতিসংঘের রাষ্ট্রদূত হিসেবে তালেবানের দোহাভিত্তিক মুখপাত্র সুহেইল শাহীনকে মনোনয়ন দেয় ইসলামপন্থি গোষ্ঠীটি।

জাতিসংঘে শেষ পর্যন্ত আফগানিস্তানের হয়ে কে প্রতিনিধিত্ব করবে, এ সিদ্ধান্ত চলতি বছরের শেষে আন্তর্জাতিক সংস্থাটির সদস্য রাষ্ট্রগুলোর নেয়ার কথা।

আরও পড়ুন:
লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশি হত্যার মূল সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার
লিবিয়া থেকে ফিরলেন ১৪৮ বাংলাদেশি
লিবিয়ায় নৌকাডুবিতে ৭৪ অভিবাসীর মৃত্যু
‘স্থায়ী’ যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে হাফতার-সারাজ

শেয়ার করুন

মাউরি নারী হলেন নিউজিল্যান্ডের গভর্নর জেনারেল

মাউরি নারী হলেন নিউজিল্যান্ডের গভর্নর জেনারেল

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্নের (ডানে) সঙ্গে সদ্যনিযুক্ত গভর্নর-জেনারেল ডেইম সিন্ডি কিরো। ছবি: আরারাত এডভারটাইজার

‘নিউজিল্যান্ডকে যারা নিজেদের বাসভূমির মতো গড়ে তুলেছেন এবং তাদের কারণে দেশে বিভিন্ন বৈচিত্র্য ও ধর্মের মানুষের মিলন ঘটেছে, তাদের সঙ্গে আমি আজকের আনন্দ উদযাপন করতে চাই।’

নিউজিল্যান্ডের গভর্নর জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন দেশটির আদিবাসী মাওরি সম্প্রদায়ের নারী ডেইম সিন্ডি কিরো। এই প্রথম ওই সম্পদ্রায়ের কোনো নারী নিউজিল্যান্ডের গভর্নর জেনারেল হলেন।

নিউজিল্যান্ডের রাজধানী ওয়েলিংটনে পার্লামেন্ট ভবনে বৃহস্পতিবার শপথ নেন কিরো। সেখানে অভিবাসী ও প্রান্তিক মানুষের জন্য কাজ করার অঙ্গীকার করেন তিনি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

শপথ অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের উদ্দেশে কিরো বলেন, ‘মাউরি ও ব্রিটিশ পরিবারে জন্ম হওয়ায় গর্ব বোধ করি। আদিবাসী জনগোষ্ঠী যদি মূল ধারার রাজনীতির সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত বোধ করে, তাহলে তাদের মধ্যে সহনশীলতা আরও বাড়বে।’

তিনি বলেন, ‘নতুন অভিবাসী ও সাবেক শরণার্থীদের সঙ্গে আমি যোগাযোগ করব।

‘নিউজিল্যান্ডকে যারা নিজেদের বাসভূমির মতো গড়ে তুলেছেন এবং তাদের কারণে দেশে বিভিন্ন বৈচিত্র্য ও ধর্মের মানুষের মিলন ঘটেছে, তাদের সঙ্গে আমি আজকের আনন্দ উদযাপন করতে চাই।’

নিউজিল্যান্ড একসময় ব্রিটিশ কলোনি ছিল। স্বাধীনতার পর ব্রিটিশ রানির হয়ে সাংবিধানিকসহ অন্যান্য দায়িত্ব পালন করেন নিউজিল্যান্ডের গভর্নর জেনারেল। যুক্তরাজ্যের রানি নিউজিল্যান্ডের আনুষ্ঠানিক হেড অফ স্টেট।

নিউজিল্যান্ডের জনসংখ্যার প্রায় ১৭ শতাংশ মাউরি সম্প্রদায়ের। সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে এখনো সুবিধাবঞ্চিত এই সম্প্রদায়ের মানুষ।

২০১৯ সালে নিউজিল্যান্ডের বিভিন্ন শহরে সামাজিক ন্যায়বিচার ও ভূমি অধিকারের দাবিতে বিক্ষোভ করে হাজার হাজার মাউরি।

নিউজিল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অফ অকল্যান্ড থেকে সামাজিক নীতি বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রি পান কিরো। এ ছাড়া মাসি ইউনিভার্সিটি থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে এমবিএ করেন তিনি। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কিরোই প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি অর্জন করেন।

শপথ অনুষ্ঠানে গভর্নর জেনারেল পদে কিরোর নিয়োগকে স্বাগত জানিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন।

আরডার্ন বলেন, ‘আমার জানা মতে, এ পদে কিরোই প্রথম মাউরি নারী। এ সিদ্ধান্ত দেশের অনেক জনগোষ্ঠীকে উৎসাহিত করবে।’

গত বছর দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর পার্লামেন্টে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নারীসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষকে এনে জড়ো করেন আরডার্ন। এত বৈচিত্র্যপূর্ণ পার্লামেন্ট এর আগে নিউজিল্যান্ডে দেখা যায়নি।

আরও পড়ুন:
লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশি হত্যার মূল সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার
লিবিয়া থেকে ফিরলেন ১৪৮ বাংলাদেশি
লিবিয়ায় নৌকাডুবিতে ৭৪ অভিবাসীর মৃত্যু
‘স্থায়ী’ যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে হাফতার-সারাজ

শেয়ার করুন

প্রথম চার তারকা ট্রান্সজেন্ডার অ্যাডমিরাল

প্রথম চার তারকা ট্রান্সজেন্ডার অ্যাডমিরাল

তারকা অ্যাডমিরাল হলেন ট্রান্সজেন্ডার চিকিৎসক রেচেল লেভিন। ছবি: বিবিসি

এর আগে প্রেসিডেন্ট বাইডেন লেভিনকে সহকারী স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের কোনো উচ্চ পদে প্রথম কোনো ট্রান্সজেন্ডার হিসেবে জায়গা করে নেন তিনি।

প্রথম কোনো ট্রান্সজেন্ডার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য বিভাগে চার তারকাবিশিষ্ট অ্যাডমিরাল হলেন চিকিৎসক রেচেল লেভিন।

স্থানীয় সময় চার তারকাবিশিষ্ট অফিসার হিসেবে শপথ নেন বাইডেন প্রশাসনের এই সহকারী স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

বিবিসি লিখেছে, ৬৩ বছর বয়সী লেভিন এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পাবলিক হেলথ সার্ভিসের কমিশন্ড অফিসারদের একজন অ্যাডমিরাল।

এর আগে প্রেসিডেন্ট বাইডেন লেভিনকে সহকারী স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের কোনো উচ্চ পদে প্রথম কোনো ট্রান্সজেন্ডার হিসেবে জায়গা করে নেন তিনি।

চার তারকাবিশিষ্ট অ্যাডমিরাল হিসেবে শপথ নেয়ার পর লেভিন মুহূর্তটিকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ও ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

এলজিবিটিকিউ (লেসবিয়ান-গে-বাইসেক্সুয়াল-ট্রান্সজেন্ডার-কুয়েশনিং) সম্প্রদায়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আজকের এই নিয়োগ হয়তো প্রথম, আগামী দিনে আরও আসার বাকি। কেননা, আমরা বৈচিত্র্যময় ও অন্তর্ভুক্তিমূলক একটা ভবিষ্যৎ গড়ছি।’

হার্ভার্ড কলেজ ও তুলানে ইউনিভার্সিটির স্কুল অফ মেডিসিন থেকে স্নাতক সম্পন্ন করা লেভিন একসময় শিশু বিশেষজ্ঞ হিসেবেও কাজ করতেন।

যুক্তরাষ্ট্রের পাবলিক হেলথ সার্ভিসে কমিশন্ড পোশাকধারী অফিসার প্রায় ৬ হাজার। তারা করোনাভাইরাসের মতো মহামারি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন।

লেভিনের চার তারকাবিশিষ্ট অ্যাডমিরাল হিসেবে পদোন্নতিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যবিষয়ক মন্ত্রী জাভিয়ের বেসেরা। তার মতে, সাম্য জাতি গঠনের পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

চিকিৎসক লেভিন পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ফিজিশিয়ান জেনারেল হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ছিলেন অঙ্গরাজ্যটির স্বাস্থ্যবিষয়ক মন্ত্রী। কাজ করেছেন আফিমে আসক্তদের নিয়েও।

চার তারকাবিশিষ্ট অ্যাডমিরালে পদোন্নতি পেতে কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে লেভিনকে। গত মার্চে এ বিষয়ক নির্বাচন পর্বে সিনেটে ৫২ ভোটের মধ্যে ৪৮টিই পান তিনি।

আরও পড়ুন:
লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশি হত্যার মূল সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার
লিবিয়া থেকে ফিরলেন ১৪৮ বাংলাদেশি
লিবিয়ায় নৌকাডুবিতে ৭৪ অভিবাসীর মৃত্যু
‘স্থায়ী’ যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে হাফতার-সারাজ

শেয়ার করুন

পাকিস্তানে বিয়ের পরও এনআইডিতে রাখা যাবে বাবার নাম

পাকিস্তানে বিয়ের পরও এনআইডিতে রাখা যাবে বাবার নাম

পাকিস্তানি নারীরা এখন বিয়ের পর জাতীয় পরিচয়পত্রে বাবার নাম রাখতে পারবেন। ছবি: নিউ কানাডিয়ান মিডিয়া

সম্মেলনে নাদরার চেয়ারপারসন তারিক মালিক বলেন, ‘স্বামীর নাম রাখার বাধ্যতামূলক অনানুষ্ঠানিক ওই নীতি আমরা বাতিল করছি। জাতীয় পরিচয়পত্রে বিয়ের পর নারীরা বাবার নাম রাখবেন নাকি স্বামীর নাম রাখবেন- এ সিদ্ধান্ত এখন তাদের।’

জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) বিয়ের পর বাবার নাম ফেলে দিয়ে স্বামীর নাম রাখার নারীদের যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে, সেখান থেকে সরে আসছে পাকিস্তান। নারীরা চাইলে এখন বিয়ের পরও জাতীয় পরিচয়পত্রে তাদের বাবার নাম রাখতে পারবেন।

পাকিস্তানের ন্যাশনাল ডাটাবেজ অ্যান্ড রেজিস্ট্রেশন অথরিটির (নাদরা) চেয়ারপারসন তারিক মালিক শুক্রবার ১৪তম বার্ষিক গ্রামীণ নারী সম্মেলনের শেষ অধিবেশনে এ ঘোষণা দেন।

সম্মেলনে মালিক বলেন, ‘স্বামীর নাম রাখার বাধ্যতামূলক অনানুষ্ঠানিক এই নীতি আমরা বাতিল করছি। জাতীয় পরিচয়পত্রে বিয়ের পর নারীরা বাবার নাম রাখবেন নাকি স্বামীর নাম রাখবেন- এ সিদ্ধান্ত এখন তাদের।

‘এ সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে নারীর, তার স্বামীর নয়।’

নাদরার চেয়ারপারসন মালিক বলেন, ‘জাতীয় পরিচয়পত্র থেকে বিয়ের পর বাবার নাম বাদ দিয়ে স্বামীর নাম রাখার সংস্কৃতি নীতি বাস্তবায়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা করেছেন।

‘বিয়ের পর পরিচয়পত্রে স্বামীর নাম রাখতেই হবে- এমন কোনো কিছু আইনে বলা নেই। স্বামীর অনুমতি নিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র হালনাগাদ করতে নারীদের বাধ্য করার কথাও কেউ বলেনি। তবে অনানুষ্ঠানিক এ নিয়ম আমাদের দেশে চলে আসছে।’

মালিক বলেন, ‘জাতীয় পরিচয়পত্র প্লাস্টিকের কোনো টুকরা নয়। এটি ভোট দেয়া, মামলা করা, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলাসহ সব ধরনের সরকারি সুবিধা দিতে সহায়তা করে। এটি নারী ক্ষমতায়নের অন্যতম উৎস।’

মালিক রোববার ডনকে বলেন, ‘আগের নীতি অনুযায়ী, বিয়ের পর নারীদের জাতীয় পরিচয়পত্রে স্বামীর নাম যুক্ত করা বাধ্যতামূলক।

‘নতুন নীতিতে নারীরা বিয়ের পর বাবার নামই রাখবেন নাকি এর জায়গায় স্বামীর নাম বসাবেন, এটা এখন তাদের ওপর নির্ভর করছে।

‘এমনকি বিয়ের পর নারীরা চাইলে জাতীয় পরিচয়পত্রে নিজের নামের সঙ্গে স্বামীর নাম যুক্ত করতে পারবেন। তবে সে ক্ষেত্রে তার নিচে বাধ্যতামূলকভাবে তাদের বাবার নামও রাখতে হবে।’

‘এটি যুগান্তকারী এক পরিবর্তন। এটি জাতীয় পরিচয়পত্রকে ঘিরে নারীদের তাদের মর্জিমাফিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে।’

আরও পড়ুন:
লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশি হত্যার মূল সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার
লিবিয়া থেকে ফিরলেন ১৪৮ বাংলাদেশি
লিবিয়ায় নৌকাডুবিতে ৭৪ অভিবাসীর মৃত্যু
‘স্থায়ী’ যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে হাফতার-সারাজ

শেয়ার করুন