তীব্র ভূমিকম্পে কাঁপল গ্রিসের পর্যটন দ্বীপ

তীব্র ভূমিকম্পে কাঁপল গ্রিসের পর্যটন দ্বীপ

ভূমিকম্পের পর সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে ক্রিট দ্বীপে। ছবি: স্কাই নিউজ

এথেন্সের জিওডায়নামিক ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর ৪ দশমিক ১ ও ৪ দশমিক ৬ মাত্রার দুটি আফটারশক অনুভূত হয়েছে অঞ্চলটিতে।

গ্রিসের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র ক্রিট দ্বীপে ৬ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। কম্পনের তীব্রতায় সুনামি সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন।

স্থানীয় প্রশাসনের বরাত দিয়ে স্কাই নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ভবনে ভবনে গিয়ে হতাহত ও সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি খতিয়ে দেখছেন। তবে এখন পর্যন্ত গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর মেলেনি।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দ্বীপের পূর্ব উপকূলে পালেকাস্ত্রো গ্রামে ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে আঘাত হেনেছে কম্পনটি।

ব্রিটিশ পর্যটকদের জন্য জনপ্রিয় গন্তব্যস্থল আগিওস নিকোলাওস থেকে ৮৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পালেকাস্ত্রো।

তিন সপ্তাহ আগে একই দ্বীপে ভূমিকম্পে প্রাণ গেছে কমপক্ষে একজনের। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কয়েক শ ভবন।

এথেন্সের জিওডায়নামিক ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর ৪ দশমিক ১ ও ৪ দশমিক ৬ মাত্রার দুটি আফটারশক অনুভূত হয়েছে অঞ্চলটিতে।

ক্রিটের পূর্বে কারপাথোস, কাসোস আর রোডস দ্বীপেও কম্পন অনুভূত হয়েছে।

আরও পড়ুন:
দেশে মৃদু ভূমিকম্প
পাকিস্তানে শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত অন্তত ২০
দাবানল-মহামারির মধ্যে শক্তিশালী ভূমিকম্প অস্ট্রেলিয়ায়
মাঝারি ভূমিকম্পেও দুর্যোগের আশঙ্কা: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী
৭.১ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল মেক্সিকো

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বন্যায় ধ্বংসস্তূপ উত্তরাখন্ড, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৪

বন্যায় ধ্বংসস্তূপ উত্তরাখন্ড, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৪

উত্তরাখন্ডের কোসি নদীর পানিতে ডুবে আছে সড়ক ও যানবাহন, বিচ্ছিন্ন যোগাযোগব্যবস্থা। ছবি: এনডিটিভি

বিখ্যাত মল রোড, নয়না দেবী মন্দির বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। কেদারনাথ মন্দির থেকে ফেরার পথে আটকা পড়া ২২ জন তীর্থযাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ অবস্থায় হিমালয়ের কোলঘেঁষা অঞ্চলটিতে প্রায় সব মন্দিরে দর্শনার্থীদের প্রবেশ স্থগিত রাখা হয়েছে। বন্ধ রয়েছে বদ্রীনাথ চার ধাম যাত্রা। পথে থাকা বদ্রীনাথ মন্দিরগামী তীর্থযাত্রীদের নিরাপদ আশ্রয়ে নেয়া হয়েছে।

ভারতের উত্তরাখন্ডে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে কমপক্ষে ৩৪ জনে। মৃত ব্যক্তিদের পরিবারপ্রতি চার লাখ রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেয়ার আশ্বাস দিয়েছে রাজ্য সরকার।

বন্যায় যারা বাড়িঘর হারিয়েছে, তাদের ১ লাখ ৯০ হাজার রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে। গবাদিপশু ও কৃষিজমি হারানো ব্যক্তিদেরও সর্বোচ্চ সহায়তা দেয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে নিখোঁজ অনেকে, তারা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, টানা তৃতীয় দিনের মতো বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্যটিতে। পরিস্থিতির ভয়াবহতায় হেলিকপ্টারে চড়ে বন্যাকবলিত অঞ্চলগুলো পরিদর্শন করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী ও শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা।

মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি বার্তা সংস্থা এএনআইকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বন্যা পরিস্থিতির বিষয়ে অবগত করা হয়েছে। বন্যায় বাড়িঘর ও সেতুসহ বিপুলসংখ্যক স্থাপনা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধারকাজে সেনাবাহিনীর তিনটি হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে।’

ধামির সঙ্গে পরিস্থিতির ভয়াবহতা নিয়ে আলোচনা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

পাহাড়ি রাজ্যটিতে বন্যার তোড়ে সড়ক, ভবন ও সেতু তলিয়ে এবং ভেঙে গেছে। বিপৎসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে বেশ কিছু নদীতে।

ভূমিধসের কারণে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে পর্যটন শহর নৈনীতালের। বন্যায় মৃতদের মধ্যে মঙ্গলবার শুধু নৈনীতালেই ভবনধসে প্রাণ গেছে কমপক্ষে সাতজনের, উধাম সিংনগরে বন্যার পানিতে ভেসে গেছেন একজন। এদিন প্রাণ গেছে মোট ১১ জনের।

পাঁচজন মারা গেছেন সোমবার, যাদের মধ্যে তিনজন নেপাল থেকে আসা শ্রমিক।

২৪ ঘণ্টায় ৫০০ মিলিমিটার বৃষ্টির পর বিপৎসীমা ছাড়িয়ে রেকর্ড উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে নৈনীতাল হ্রদের পানি। কালাধুঙ্গি, হালদোয়ানি ও ভাওয়ালিসংলগ্ন সড়কগুলোতেও ভূমিধসের ধ্বংসস্তূপ পড়ে থাকায় যান চলাচল বন্ধ আছে। ৪৮ ঘণ্টা ধরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে বদ্রীনাথ মহাসড়কে।

রাজ্য সরকার, কেন্দ্রীয় দুর্যোগ প্রশমন বাহিনী এনডিআরএফ ও সেনাবাহিনী সমন্বিতভাবে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

বিখ্যাত মল রোড, নয়না দেবী মন্দির বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একটি হোস্টেল। কেদারনাথ মন্দির থেকে ফেরার পথে আটকা পড়া ২২ জন তীর্থযাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে।

এ অবস্থায় হিমালয়ের কোলঘেঁষা অঞ্চলটিতে প্রায় সব মন্দিরে দর্শনার্থীদের প্রবেশ স্থগিত রাখা হয়েছে। বন্ধ রয়েছে বদ্রীনাথ চার ধাম যাত্রা। পথে থাকা বদ্রীনাথ মন্দিরগামী তীর্থযাত্রীদের নিরাপদ আশ্রয়ে নেয়া হয়েছে।

আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তীর্থযাত্রা স্থগিত রাখার অনুরোধ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী ধামি।

বন্ধ রয়েছে রাজ্যের সব স্কুল। পরবর্তী নির্দেশের আগ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে পর্বতারোহণ, ক্যাম্পিংসহ সব ধরনের রোমাঞ্চযাত্রা।

বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বন্যার ধ্বংসযজ্ঞের ভয়াবহ ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
দেশে মৃদু ভূমিকম্প
পাকিস্তানে শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত অন্তত ২০
দাবানল-মহামারির মধ্যে শক্তিশালী ভূমিকম্প অস্ট্রেলিয়ায়
মাঝারি ভূমিকম্পেও দুর্যোগের আশঙ্কা: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী
৭.১ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল মেক্সিকো

শেয়ার করুন

কেরালার পর উত্তরাখান্ডে বন্যার তাণ্ডব

কেরালার পর উত্তরাখান্ডে বন্যার তাণ্ডব

উত্তরাখান্ডের জিম করবেট জাতীয় উদ্যানে কোসি নদীতে পানি বিপৎসীমার ওপরে বইছে। এতে তলিয়ে গেছে লেমন ট্রি হোটেল, ছাদে আশ্রয় নিয়েছেন অতিথিরা। ছবি: এনডিটিভি

২৪ ঘণ্টায় ৫০০ মিলিমিটার বৃষ্টির পর বিপৎসীমা ছাড়িয়ে রেকর্ড উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে নৈনীতাল হ্রদের পানি। কালাধুঙ্গি, হালদোয়ানি ও ভাওয়ালী সংলগ্ন সড়কগুলোতেও ভূমিধসের ধ্বংস্তস্তুপ পড়ে থাকায় যান চলাচল বন্ধ আছে। ৪৮ ঘণ্টা ধরে যোগাযোগবিচ্ছিন্ন রয়েছে বদ্রীনাথ মহাসড়ক। রাজ্য সরকার, কেন্দ্রীয় দুর্যোগ প্রশমন বাহিনী এনডিআরএফ ও সেনাবাহিনী সমন্বিতভাবে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কেরালার পর বন্যার তাণ্ডব চলছে উত্তরের উত্তরাখান্ড রাজ্যে।

টানা তৃতীয় দিনের অতিবৃষ্টি আর প্রবল গতিতে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্টি ভয়াবহ বন্যায় প্রাণ গেছে কমপক্ষে ১৬ জনের। নিখোঁজ অনেকে, যারা ধ্বংসস্তুপের নিচে চাপা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়, পরিস্থিতির ভয়াবহতায় হেলিকপ্টারে চড়ে বন্যাকবলিত অঞ্চলগুলো পরিদর্শন করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী ও শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা।

মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি বার্তা সংস্থা এএনআইকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বন্যা পরিস্থিতির বিষয়ে অবগত করা হয়েছে। বন্যায় বাড়িঘর ও সেতুসহ বিপুলসংখ্যক স্থাপনা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধারকাজে সেনাবাহিনীর তিনটি হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে।’

ধামির সঙ্গে পরিস্থিতির ভয়াবহতা নিয়ে আলোচনা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

পাহাড়ি রাজ্যটিতে বন্যার তোড়ে সড়ক, ভবন ও সেতু তলিয়ে এবং ভেঙে গেছে। বিপৎসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে বেশ কিছু নদীতে।

ভূমিধসের কারণে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে পর্যটন শহর নৈনীতাল। বন্যায় মৃতদের মধ্যে মঙ্গলবার শুধু নৈনীতালেই ভবন ধসে প্রাণ গেছে কমপক্ষে সাতজনের, উধাম সিং নগরে বন্যার পানিতে ভেসে গেছেন একজন। এদিন প্রাণ গেছে মোট ১১ জনের।

পাঁচজন মারা গেছেন সোমবার, যাদের মধ্যে তিনজন নেপাল থেকে আসা শ্রমিক।

২৪ ঘণ্টায় ৫০০ মিলিমিটার বৃষ্টির পর বিপৎসীমা ছাড়িয়ে রেকর্ড উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে নৈনীতাল হ্রদের পানি। কালাধুঙ্গি, হালদোয়ানি ও ভাওয়ালী সংলগ্ন সড়কগুলোতেও ভূমিধসের ধ্বংস্তস্তুপ পড়ে থাকায় যান চলাচল বন্ধ আছে। ৪৮ ঘণ্টা ধরে যোগাযোগবিচ্ছিন্ন রয়েছে বদ্রীনাথ মহাসড়ক।

রাজ্য সরকার, কেন্দ্রীয় দুর্যোগ প্রশমন বাহিনী এনডিআরএফ ও সেনাবাহিনী সমন্বিতভাবে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

বিখ্যাত মল রোড, নয়না দেবী মন্দির বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একটি হোস্টেল। কেদারনাথ মন্দির থেকে ফেরার পথে আটকা পড়া ২২ জন তীর্থযাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে।

এ অবস্থায় হিমালয়ের কোল ঘেঁষা অঞ্চলটিতে প্রায় সব মন্দিরে দর্শনার্থীদের প্রবেশ স্থগিত রাখা হয়েছে। বন্ধ রয়েছে বদ্রীনাথ চার ধাম যাত্রা। পথে থাকা বদ্রীনাথ মন্দিরগামী তীর্থযাত্রীদের নিরাপদ আশ্রয়ে নেয়া হয়েছে।

আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তীর্থযাত্রা স্থগিত রাখার অনুরোধ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী ধামি।

বন্ধ রয়েছে রাজ্যের সব স্কুল। পরবর্তী নির্দেশের আগ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে পর্বতারোহণ, ক্যাম্পিংসহ সব ধরনের রোমাঞ্চযাত্রা।

বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বন্যার ধ্বংসযজ্ঞের ভয়াবহ ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
দেশে মৃদু ভূমিকম্প
পাকিস্তানে শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত অন্তত ২০
দাবানল-মহামারির মধ্যে শক্তিশালী ভূমিকম্প অস্ট্রেলিয়ায়
মাঝারি ভূমিকম্পেও দুর্যোগের আশঙ্কা: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী
৭.১ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল মেক্সিকো

শেয়ার করুন

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে জেব্রা পরিবারে নতুন শাবক

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে জেব্রা পরিবারে নতুন শাবক

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তবিবুর রহমান বলেন, ‘জেব্রা পরিবারে এর আগে চলতি বছরেই আরও সাতটি জেব্রার জন্ম হয়েছে। নতুন শাবকটি বছরের অষ্টম শাবক।’

গাজীপুরের শ্রীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে এক জেব্রা দম্পতির ঘরে নতুন শাবকের জন্ম হয়েছে।

সোমবার দুপুরে নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষক তবিবুর রহমান।

দুপুরে পার্কে গিয়ে শাবকটিকে তার মায়ের সঙ্গে ঘুরতে দেখা যায়। ভোরে জন্ম নেয়া শাবকটি পুরুষ।

এর আগে পার্কে ১৪টি পুরুষ ও ১৬টি মাদি জেব্রা ছিল। নতুন শাবক নিয়ে পার্কে জেব্রার সংখ্যা দাঁড়াল ৩১টিতে।

তবিবুর রহমান বলেন, ‘জেব্রা পরিবারে এর আগে চলতি বছর আরও সাতটি জেব্রার জন্ম হয়। নতুন শাবকটি বছরের অষ্টম শাবক। মা ও শাবক উভয়ই সুস্থ আছে।

‘শাবকটি তার মায়ের সঙ্গে পার্কের বেষ্টনীতে ঘোরাফেরা করছে। আফ্রিকান প্রজাতির পুরুষ জেব্রাগুলো চার ও মাদিগুলো তিন বছরে প্রজননের উপযোগী হয়। প্রাকৃতিক পরিবেশে এরা প্রায় ২০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে।’

সাফারি পার্কের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘মা জেব্রার স্বাস্থ্য বিবেচনায় রেখে খাদ্যে পরিবর্তন আনা হয়েছে। ঘাসের পাশাপাশি একে দেয়া হচ্ছে ছোলা, গাজর ও ভুষি।’

পার্কের পরিবেশে জেব্রাসহ দেশি-বিদেশি অন্যান্য প্রজাতির পশু-পাখির বংশবৃদ্ধি হচ্ছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন:
দেশে মৃদু ভূমিকম্প
পাকিস্তানে শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত অন্তত ২০
দাবানল-মহামারির মধ্যে শক্তিশালী ভূমিকম্প অস্ট্রেলিয়ায়
মাঝারি ভূমিকম্পেও দুর্যোগের আশঙ্কা: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী
৭.১ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল মেক্সিকো

শেয়ার করুন

কেরালায় বন্যা-ভূমিধসে মৃত্যু বেড়ে ৩৫

কেরালায় বন্যা-ভূমিধসে মৃত্যু বেড়ে ৩৫

কেরালায় ভূমিধসের ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে উল্টে যাওয়া একটি গাড়ি সরাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। ছবি: এএফপি

এ বছর বর্ষার মৌসুম পার হয়ে যাওয়ার পর অতিবৃষ্টি হচ্ছে কেরালায়। আরব সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে এমন পরিস্থিতি বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কেরালায় অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে কমপক্ষে ৩৫ জনে। আরও অনেক প্রাণহানির শঙ্কা জানিয়েছে প্রশাসন।

টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজ্যের বড় অংশে আরও দুই থেকে চার দিনের জন্য ইয়েলো অ্যালার্ট বা তৃতীয় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি রেখেছে আবহাওয়া বিভাগ। বিশেষ করে বুধবার থেকে বৃষ্টি আরও বাড়তে পারে বলে রয়েছে শঙ্কা।

প্রবল বন্যার কারণে ধাপে ধাপে কয়েকটি বাঁধ খুলে দিয়ে পানি বেরিয়ে যেতে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।

এদিকে বন্যাকবলিতদের সন্ধান ও উদ্ধারে সোমবারও সেনা ও নৌবাহিনী কাজ করছে। উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি এবং নিখোঁজ অনেকে।

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কোট্টায়াম ও ইদুক্কি জেলা। কোট্টায়ামে ছয় সদস্যের একটি পরিবারের সবাই নিখোঁজ।

প্রতিবছর বন্যার ধ্বংসযজ্ঞ দেখলেও এবারের মতো পরিস্থিতি গত ১০ বছরে দেখেননি বলে জানিয়েছেন কেরালার অনেক বাসিন্দা।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন বাসিন্দাদের বৃষ্টি কমলেও উচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। শতাধিক অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

২০১৮ সালে প্রলয়ংকরী বন্যার শিকার হয় কেরালা। সে বছর বর্ষার মৌসুমে অতিবৃষ্টিতে রাজ্যটিতে প্রাণ যায় চার শতাধিক মানুষের, গৃহহীন হয় লাখো মানুষ।

তবে এ বছর বর্ষার মৌসুম পার হয়ে যাওয়ার পর অতিবৃষ্টি হচ্ছে কেরালায়। আরব সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে এমন পরিস্থিতি বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে শবরীমালা মন্দিরে রাজ্যের সবচেয়ে বড় তীর্থোৎসব স্থগিত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
দেশে মৃদু ভূমিকম্প
পাকিস্তানে শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত অন্তত ২০
দাবানল-মহামারির মধ্যে শক্তিশালী ভূমিকম্প অস্ট্রেলিয়ায়
মাঝারি ভূমিকম্পেও দুর্যোগের আশঙ্কা: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী
৭.১ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল মেক্সিকো

শেয়ার করুন

‘হাতে গোনা’ পদ্মে হতাশা

‘হাতে গোনা’ পদ্মে হতাশা

পদ্ম ফুল কমে যাচ্ছে বিলগুলোতে। ছবি: নিউজবাংলা

ঠাকুরগাঁওয়ের সীমান্তবর্তী উপজেলা হরিপুরের ভাতুরিয়া গ্রামের কৃষক লিয়াকত আলী বলেন, ‘এই ধূলিয়া বিল আগে পদ্মফুলে ভরে যেত। বহুদূর থেকে মানুষ ছুটে আসত এই ফুল দেখতে। এখন ফুল থাকলেও আগের মতো নাই। আশপাশের জমি ভরাট হয়ে বিল ছোট হয়ে গেছে। আবার মাছ চাষ করে জাল দিয়ে মাছ ধরে লোকজন। এসব কারণে পদ্মফুল নষ্ট হয়ে যায়।’

ঠাকুরগাঁওয়ের সীমান্তবর্তী উপজেলা হরিপুরের তিন গ্রামের জলাশয়ে বর্ষা থেকে ফুটতে শুরু করে পদ্মফুল। তবে এবার আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে পদ্ম। হাতে গোনা পদ্মে হতাশ দর্শনার্থী ও স্থানীয় লোকজন।

বেশির ভাগ মানুষের অভিযোগ, জলাশয়ে মাছ চাষের কারণে কমছে পদ্ম। স্থানীয় লোকজন এসব পদ্মকে চেনেন বোরল ফুল নামে। উপজেলার মাগুড়া, ভাতুরিয়া ও জাদুরাণী গ্রামের বিলে দেখা মেলে এই ফুলের।

উপজেলার মাগুড়া গ্রামের বিলটি ছেয়ে যেত পদ্মফুলে। একই দৃশ্য দেখা যেত ভাতুরিয়া গ্রামের ধূলিয়া বিলেও। এবার বিল দুটিতে চিরচেনা রূপ নেই। পদ্মের সংখ্যা হাতে গোনা।

কেবল জাদুরাণী গ্রামের তালুকদার বস্তি এলাকায় ‘সবার পুকুর’ নামে পুকুরে আশানুরূপ ফুটে আছে সাদা পদ্ম।

‘সবার পুকুরে’ গিয়ে দেখা গেল, শিশু-কিশোররা পানিতে নেমে তুলছে পদ্মফুল।

‘হাতে গোনা’ পদ্মে হতাশা

সবার পুকুরের একাংশের মালিক মোমিনুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আগে পুকুরটির প্রায় তিন একর জমি পদ্মফুলে ভরপুর ছিল, কিন্তু বর্তমানে অংশীদার বেড়ে যাওয়ায় দিন দিন পুকুরটি বিভক্ত হয়ে যাচ্ছে। সে কারণে পদ্মফুলের তেমন বিস্তার হতে পারছে না।’

উপজেলার তালুকদার বস্তির কৃষক জয়নুল ইসলাম বলেন, ‘সবার পুকুরে দীর্ঘদিন থেকে এই ফুল ফুটে আসছে। তবে এটা যে পদ্মফুল আমরা তা জানতাম না। স্থানীয়ভাবে বোরল নামে জানি পদ্মফুলকে। অনেক মানুষ দেখতে আসে। অনেকে ফুল তুলে নিয়ে যায়।’

‘হাতে গোনা’ পদ্মে হতাশা

মাগুরা ও ভাতুরিয়া গ্রামের বিল ঘুরে দেখা যায়, কিছু পদ্ম সেখানেও ফুটেছে।

সেখানকার লোকজন জানান, কয়েক বছর আগেও এসব বিলে বর্ষায় পদ্মের আড়ালে পানিই দেখা যেত না। এখন সেখানে আর তেমন ফুল ফোটে না।

ভাতুরিয়া গ্রামের কৃষক লিয়াকত আলী বলেন, ‘এই ধূলিয়া বিল আগে পদ্মফুলে ভরে যেত। বহুদূর থেকে মানুষ ছুটে আসত এই ফুল দেখতে। এখন ফুল থাকলেও আগের মতো নাই। আশপাশের জমি ভরাট হয়ে বিল ছোট হয়ে গেছে। আবার মাছ চাষ করে জাল দিয়ে মাছ ধরে লোকজন। এসব কারণে পদ্মফুল নষ্ট হয়ে যায়।’

ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী লাবণী পারভীন বলেন, ‘গত বছর হরিপুর উপজেলার মাগুরা গ্রামে একটি পুকুরে পদ্মফুল দেখেছি। এ বছরও গেছিলাম। তবে ওই পুকুরটিতে এবার মাছ চাষ হয়েছে। সে জন্য পদ্মফুল হয়নি। এবার পাশের গ্রাম তালুকদার বস্তি এলাকায় সবার পুকুরে পদ্মফুল দেখেছি। বইয়ে পড়েছি; বাস্তবে দেখে অনেক ভালো লাগছে।’

ঠাকুরগাঁওয়ের বিলগুলোতে এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত দেখা দেয় পদ্ম। এর পাতা বেশ বড়, গোলাকার ও পুরু হয়ে থাকে। পদ্মফুল সাধারণত সাদা, গোলাপি, লাল ও নীল রঙের হয়।

একসময় গ্রামের হাট-বাজারে ঝোলাগুড়, মাংস বা ছোট মাছ ক্রেতাদের হাতে তুলে দেয়ার জন্য পদ্মের পাতা ব্যবহার করা হতো। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে থালা হিসেবে কলাপাতার বদলে পদ্মের পাতাও ব্যবহার হতো।

হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে পদ্ম পবিত্রতার প্রতীক। তাদের নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে এই ফুল ব্যবহার হয়।

‘হাতে গোনা’ পদ্মে হতাশা

ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের প্রধান নাসরিন জাহান বলেন, ‘পদ্ম সাধারণত উষ্ণমণ্ডলীয় উদ্ভিদ। বাংলাদেশে সাদা, লাল ও নীল রঙের পদ্মফুল পাওয়া যায়। সম্প্রতি হলুদ রঙের পদ্মফুল দেখা গেছে কুমিল্লা জেলায়। এ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগ গবেষণা চালাচ্ছে।’

নাসরিন জানান, শিল্পায়নের কারণে নদী-নালা ভরাট হয়ে যাচ্ছে। সরকারি জলাশয়গুলো বেদখল হয়ে সেখানে মাছ চাষ হচ্ছে। জলাশয়সংলগ্ন জমিতে কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব কারণে পদ্ম জন্মানোর পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দিনে দিনে কমে আসছে এই জলজ ফুল।

এই অধ্যাপক বলেন, ‘সাদা পদ্মের অনেক ঔষধি গুণ রয়েছে। এর ফলের বীজ হৃদরোগ, চর্মরোগসহ বিভিন্ন রোগের ওষুধের উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ডায়রিয়া সারাতে এর বোটা কাঁচা খায় অনেকে। পদ্মের চাক, বীজ বা বোটা বেশ সুস্বাদু। পদ্মের পাতাতেও ওষধি গুণ আছে। এই পাতা দিয়ে চা-ও বানানো হয়।’

পদ্মফুলকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করতে সরকারের সচেষ্ট হওয়ার দরকার বলে মনে করেন তিনি।

নাসরিন বলেন, ‘সরকারি জলাশয় যেন বেদখলে না যায় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। পানির উচ্চতা ঠিক রাখতে হবে। পদ্মফুলের পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিষয়ে সরকারিভাবে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
দেশে মৃদু ভূমিকম্প
পাকিস্তানে শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত অন্তত ২০
দাবানল-মহামারির মধ্যে শক্তিশালী ভূমিকম্প অস্ট্রেলিয়ায়
মাঝারি ভূমিকম্পেও দুর্যোগের আশঙ্কা: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী
৭.১ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল মেক্সিকো

শেয়ার করুন

কেরালায় বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২১, নিখোঁজ বহু

কেরালায় বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২১, নিখোঁজ বহু

কেরালায় ভারী বর্ষণে ছয় জন প্রাণ হারায়। ছবি: ইন্ডিয়া টিভি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টুইটারে লিখেছেন, ‘এটা দুঃখজনক যে কেরালায় ভারী বৃষ্টি ও ভূমিধসের কারণে কিছু মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা। আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করার জন্য কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। আমি সবার নিরাপত্তা ও সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছি।’

ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কেরালায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ জনে। নিখোঁজ অনেকে।

উদ্ধারকাজে প্রশাসনকে সাহায্য করছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ)। ইতোমধ্যে মধ্য ও দক্ষিণ কেরালায় এনডিআরএফের ১১টি দল পাঠানো হয়েছে। রাজ্য সরকারের অনুরোধে উদ্ধারকাজে যোগ দিয়েছে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী।

চলতি সপ্তাহের শুরু থেকে কেরালায় অতিবৃষ্টি চলছে। একাধিক জায়গায় নেমেছে বাঁধভাঙা ঢল। পাঠানামথিত্তা, কোট্টায়াম, এর্নাকুলাম, ইদুক্কি, ত্রিচূর এবং পালাক্কাদ জেলাগুলোকে রেড অ্যালার্টে রাখা হয়েছে। এর বাইরে তিরুবনন্তপুরম, কোল্লাম, আলাপ্পুঝা, মালাপ্পুরাম, কোজিকোড আর ওয়াইনাদ জেলায় কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

কেরালার কিছু অংশে ভারি বৃষ্টির কারণে ইদুক্কি এবং কোট্টায়াম জেলায় কয়েকটি ভূমিধস হয়েছে।

আবহাওয়া বিভাগ ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি জারি থাকবে বলে আভাস দেয়া হয়েছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টুইট করে বন্যায় নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

তিনি লিখেছেন, ‘এটা দুঃখজনক যে কেরালায় ভারী বৃষ্টি ও ভূমিধসের কারণে কিছু মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা। আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করার জন্য কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। আমি সবার নিরাপত্তা ও সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছি।’

মোদি কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের সাথেও রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন।

ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ টুইটারে লিখেছেন, ‘ভারী বৃষ্টি ও বন্যার প্রেক্ষিতে আমরা কেরালার কিছু অংশের পরিস্থিতি ক্রমাগত পর্যবেক্ষণ করছি। অভাবী মানুষকে সাহায্য করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার সব ধরনের সহায়তা দেবে।’

কংগ্রেস নেতা ও কেরালার ওয়াইনাদ আসনের এমপি রাহুল গান্ধী টুইট করেছেন, ‘আমার প্রার্থনা কেরালার মানুষের সঙ্গে আছে। দয়া করে নিরাপদ থাকুন এবং সব সুরক্ষা সতর্কতা অনুসরণ করুন।’

আরও পড়ুন:
দেশে মৃদু ভূমিকম্প
পাকিস্তানে শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত অন্তত ২০
দাবানল-মহামারির মধ্যে শক্তিশালী ভূমিকম্প অস্ট্রেলিয়ায়
মাঝারি ভূমিকম্পেও দুর্যোগের আশঙ্কা: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী
৭.১ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল মেক্সিকো

শেয়ার করুন

‘টাঙ্গুয়ার হাওরে বন্ধ হবে ইঞ্জিনচালিত নৌকা’

‘টাঙ্গুয়ার হাওরে বন্ধ হবে ইঞ্জিনচালিত নৌকা’

সুনামগঞ্জে হাওর পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। ছবি: নিউজবাংলা

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘একসময় মিঠাপানির টাঙ্গুয়ার হাওরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পাওয়া যেতো। তবে এখন মাছ পাওয়া যায় না, কারণ হাওরে অবাধে ইঞ্জিনচালিত নৌকা চলে। তাই আগামী পর্যটন মৌসুম থেকে টাঙ্গুয়ার হাওরে ইঞ্জিনচালিত নৌকা বন্ধ করা হবে।’

আগামী পর্যটন মৌসুম থেকে টাঙ্গুয়ার হাওরে অবাধে ইঞ্জিনচালিত নৌকা চলাচল বন্ধ করা হবে বলে জানিয়েছেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি)।

তাহিরপুর উপজেলার শহীদ সিরাজ লেকে (নীলাদ্রি লেক) শনিবার দুপুরে হাওর পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা জানান ডিসি জাহাঙ্গীর হোসেন।

ডিসি বলেন, ‘একসময় মিঠাপানির টাঙ্গুয়ার হাওরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পাওয়া যেতো। তবে এখন মাছ পাওয়া যায় না, কারণ হাওরে অবাধে ইঞ্জিনচালিত নৌকা চলে। তাই আগামী পর্যটন মৌসুম থেকে টাঙ্গুয়ার হাওরে ইঞ্জিনচালিত নৌকা বন্ধ করা হবে।

‘আমরা পর্যটকদের একটি নির্দিষ্ট জায়গা দেখিয়ে দেব। তারা লগি-বৈঠার নৌকা নিয়ে হাওরে ঘুরতে যাবেন। এটি কার্যকর হলে হাওরবাসীদের জীবনমান উন্নত হবে। তাদের কর্মসংস্থানও বাড়বে।’

উদ্বোধন শেষে ডিসি হাওর এলাকার প্লাস্টিক ও ময়লা আবর্জনা পরিচ্ছন্ন করেন এবং বিভিন্ন নৌকায় সচেতনতামূলক বিলবোর্ড টানান।

ডিসি জাহাঙ্গীর বলেন, ‘সুনামগঞ্জ হাওর বেষ্টিত একটি জেলা। টাঙ্গুয়ার হাওরকে কেন্দ্র করে বিগত সময়ে অনেক পর্যটক এসেছেন।

‘তবে সবচেয়ে দুঃখের বিষয় তাদের মধ্যে কেউ কেউ হাওরে প্লাস্টিকের বোতল, খাবারের প্লেট, ময়লা-আবর্জনা ফেলে যান, যার কারণে এখানে পরিবেশদূষণ হচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে হাওরের জীববৈচিত্র্য। আমরা এগুলো আর মেনে নেব না। নৌকার মাঝি থেকে শুরু করে সব পর্যটকদের সর্তক করে দিতে চাই আমরা।’

জেলা প্রশাসক জানান, তাদের এ অভিযান চলতে থাকবে। এছাড়া হাওরের মাঝিদের তালিকা করে নিবন্ধনের আওতায় এনে মাঝিদের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।

এছাড়া এখন থেকে সব নৌকায় একটি করে ডাস্টবিন থাকা বাধ্যতামূলক করা হবে। যারা এ নির্দেশনা মানবেন না, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান ডিসি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রায়হান কবির, তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হোসেন খান, সাধারণ সম্পাদক অমল কর, হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাশমির রেজা, ইউপি চেয়ারম্যান খসরুল আলমসহ অনেকে।

সম্প্রতি বাংলাদেশের দ্বিতীয় রামসার সাইট টাঙ্গুয়ার হাওর ও তার আশপাশের হাওর এলাকার পরিবেশদূষণ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পরই পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছে জেলা প্রশাসন।

আরও পড়ুন:
দেশে মৃদু ভূমিকম্প
পাকিস্তানে শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত অন্তত ২০
দাবানল-মহামারির মধ্যে শক্তিশালী ভূমিকম্প অস্ট্রেলিয়ায়
মাঝারি ভূমিকম্পেও দুর্যোগের আশঙ্কা: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী
৭.১ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল মেক্সিকো

শেয়ার করুন