মুসলিম যুবকদের উদ্যোগে ১৮ বছর পর আলিমুদ্দিনে দুর্গোৎসব

মুসলিম যুবকদের উদ্যোগে ১৮ বছর পর আলিমুদ্দিনে দুর্গোৎসব

স্থানীয় মুসলিম যুবকদের উদ্যোগে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে দুর্গাপূজা হচ্ছে।

আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে পূজা আয়োজনের উদ্যোক্তাদের অন্যতম তৌসিফ রহমান বলেন, ‘আমরা এখানে সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে থাকি। একে অপরের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করি। উৎসবের কোনো রং হয় না। এবার থেকে দুর্গাপূজাও করছি আমরা।’

উদ্যোগ আর অর্থের অভাবে ১৮ বছর আগে পূজার আয়োজন বন্ধ হয়ে যায় সম্প্রীতির শহর কলকাতার আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে।

দীর্ঘ দেড় যুগ পরে এ বছর সেখানে দুর্গাপূজার দায়িত্ব নিয়েছেন স্থানীয় মুসলিম যুবকরা। শাকিল, তৌসিফ, ওয়াসিমসহ পাড়ার মুসলিম যুবকদের উদ্যোগে পালিত হচ্ছে দুর্গাপূজা। ফের বাজছে ঢাক, মিলছে ধুনোর গন্ধ, জাঁকজমক সাজে আলোকিত হয়ে উঠেছে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট এলাকা।

বহুল পরিচিত আলিমুদ্দিন স্ট্রিট কলকাতা পুরসভার ৬২ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে পড়ে। রাজ্য সিপিএমের সদরদপ্তর এখানে। এখানে অবাঙালি মুসলিমদের বাসই বেশি। ১৮ বছর আগেও অল্প যে কয় ঘর হিন্দু পরিবার ছিল, তাদের উদ্যোগে মুসলিমদের সহযোগিতায় দুর্গা উৎসব হতো আলিমুদ্দিনে।

সমগ্র কলকাতার মতোই আলো ঝলমল করে উঠত আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। উৎসবমুখর থাকত মহল্লা। কিন্তু সময়ের আবর্তে হিন্দু পরিবার কমে যাওয়ায় উদ্যোগ, লোকবল সর্বোপরি অর্থাভাবে বন্ধ হয়ে যায় আলিমুদ্দিনের দুর্গোৎসব।

এরপর থেকে প্রতিবছর শারদ উৎসবে কলকাতা যখন আলোর রোশনাইয়ে ভেসে যায়, তখন আলিমুদ্দিন স্ট্রিট এককোণে অন্ধকারে পড়ে থাকে। আগের ঝলমলে দুর্গোৎসবের কথা মনে করে দুঃখ বাড়ে পাড়ার যুবকদের, এলাকার মানুষের।

তাই এ বছর আলিমুদ্দিনে পূজার দায়িত্ব নিয়েছেন শাকিল, তৌসিফ, ওয়াসিমরা। তাদের উদ্যোগে সেখানে শুরু হয়েছে দুর্গাপূজা।

ছেলেরা দলবেঁধে পূজার প্রতিমা গড়া থেকে পুরোহিত ঠিক করা, লাইটের ব্যবস্থা, ডেকোরেশনের সবটাই নিজেদের হাতে করছেন। সমস্ত ব্যয় বহন করেছেন নিজেরাই। তবে তাদের এ উদ্যোগে খুশি হয়ে অনেকেই সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন।

পূজার রীতিনীতি নিয়ে অসুবিধা হলে স্থানীয় হিন্দু পরিবারের মানুষের পরামর্শ নিচ্ছেন তারা। পূজার চার দিন থাকছে ভোগের ব্যবস্থা। ষষ্ঠী থেকে বিসর্জন পর্যন্ত, সিঁদুর খেলাসহ সব আয়োজন থাকছে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের সম্প্রীতির দুর্গোৎসবে।

কলেজের শিক্ষার্থী সাবিনার ভাষ্য, ‘আগে পূজার দিনগুলোতে খুব খারাপ লাগত। চারদিক আলোয় ভেসে যাচ্ছে অথচ আমরা অন্ধকারে ডুবে আছি। এ বছর এখানে আবার পূজা হওয়ায় আমরা খুব খুশি।’

স্থানীয় বৃদ্ধ পিনাকী সেন বলেন, ‘ভাবতেই পারিনি, ওরা পূজার আয়োজন করবে। তবে ওদের উদ্যোগে উৎসবের এই পরিবেশ ভীষণ ভালো লাগছে।’

উদ্যোক্তাদের অন্যতম তৌসিফ রহমান বলেন, ‘আমরা এখানে সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে থাকি। একে অপরের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করি। উৎসবের কোনো রং হয় না। এবার থেকে দুর্গাপূজাও করছি আমরা।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

কঠিন চীবর দানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি কামনা

কঠিন চীবর দানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি কামনা

আশুলিয়ার উদযাপিত কঠিন চীবর দান। ছবি: নিউজবাংলা

ধর্মীয় গুরু নন্দপাল মহাস্থবির ভান্তে বলেন, ‘যারা দুঃখী ব্যক্তি তারা যেন মুক্তিলাভ করেন। যারা সুখী আছেন তারা যেন আরও সুখী হন। ইহলোকে যেমন সুখী হয়, পরলোকেও যেন জন্ম-জন্মান্তরে তারা সুখী হতে পারে। পুরো বিশ্বে যেন সম্প্রীতি বজায় থাকে।’

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব কঠিন চীবর দান উদযাপন চলছে ঢাকার সাভারে। আশুলিয়ার পলাশবাড়ী এলাকায় বন বিহার বৌদ্ধমন্দিরে শুক্রবার ভোর থেকে গৌতম বুদ্ধের উপাসনায় মগ্ন হয়েছেন পুণ্যার্থীরা।

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দলে দলে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা মন্দিরে জড়ো হতে থাকেন। উৎসবমুখর পরিবেশে নানা ধর্মীয় আচার পালন করেন তারা।

সেখানে ধর্মীয় গুরু পরম পূজ্য নন্দপাল মহাস্থবির ভান্তে ত্রিপিঠক পাঠ করেন। পুণ্যার্থিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এই দানের মাধ্যমে প্রার্থনা করা হয় নিজের পরে যেন মানবজাতি সুখে থাকে। এরপর যে সমস্ত প্রাণী বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডে আছে তারাও যেন সুখী থাকে।

‘সেই প্রাণীদের জন্যও আমরা এই পুণ্য বিতরণ করি। যারা দুঃখী ব্যক্তি তারা যেন মুক্তিলাভ করেন। যারা সুখী আছেন তারা যেন আরও সুখী হন। ইহলোকে যেমন সুখী হয়, পরলোকেও যেন জন্ম-জন্মান্তরে তারা সুখী হতে পারে। পুরো বিশ্বে যেন সম্প্রীতি বজায় থাকে।’

কঠিন চীবর দানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি কামনা

হিলি চাকমা নামে এক পুণ্যার্থী বলেন, ‘এই অনুষ্ঠানের জন্য সবাই অনেক দিনের একটা প্রতীক্ষায় থাকি। এই অনুষ্ঠানটা আমাদের বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান। আমরা বলি দানোত্তম কঠিন চীবর দান। শাস্ত্রে বলা হয় যে, আজকে আমরা যে দান করব, এই দানের ফলটা শতবর্ষে আমরা অন্যান্য কোনো দান করলে যে ফলটা হবে, সেটা এটার ষোল ভাগের এক ভাগও হবে না... অনেক দূর থেকে সবাই এখানে এসেছেন।’

সাভার বন বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি অজয় প্রকাশ চাকমা বলেন, ‘এই অনুষ্ঠান আমাদের সর্বজনীন একটা গুরুত্ব লাভ করুক। দেশবাসীর কাছে আমাদের এই শান্তির বাণী পৌঁছে যাক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানে একটি অসাম্প্রদায়িক ও ধর্মান্ধহীন দেশে পরিণত হোক বাংলাদেশ এই কামনা করছি।’

শেয়ার করুন

শেষ হলো নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ক্রীড়া প্রতিযোগিতা

শেষ হলো নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ক্রীড়া প্রতিযোগিতা

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ‘ব্যাটেল অফ স্কিলস’ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল।

দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীদের পাঠানো দুই হাজারের অধিক ভিডিও থেকে প্রতিযোগিতায় ৫ জনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা ও পুরস্কার তুলে দেন প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল।

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ‘ব্যাটেল অফ স্কিলস’ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শেষ হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শনিবার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল।

দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীদের পাঠানো দুই হাজারের অধিক ভিডিও থেকে প্রতিযোগিতায় ৫ জনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা ও পুরস্কার তুলে দেন প্রতিমন্ত্রী।

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর ড. আতিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আজিম উদ্দিন আহমেদ, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য লায়ন বেনজির আহমেদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো ভিসি প্রফেসর ইসমাইল হোসেন, ট্রেজারার এবিএম রাশেদুল হাসানসহ শিক্ষক ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী রাসেল বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী একজন খেলাপ্রেমী মানুষ। তিনি সব সময় দেশের খেলার খবর রাখেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুরও খেলাধুলার প্রতি অন্যরকম টান ছিল। বাংলাদেশের ক্রীড়া জগতে তাদের অবদান অসামান্য।

‘খেলাধুলার উন্নয়নে আমরা অনেক পরিকল্পনা সফলতার সাথে বাস্তবায়ন করেছি। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে যুবসমাজের সহযোগিতা দরকার। সে জন্য বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীসহ সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে সব রকম সহযোগিতা করা হবে।’

সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে শেষ হয় ‘ব্যাটেল অফ স্কিলস’ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।

করোনাকালীন প্রতিকূল পরিস্থিতির মাঝে এ ধরনের ইভেন্ট আয়োজনে প্রতিমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি স্পনসর প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা কিংসের প্রশংসা করেন।

শেয়ার করুন

রঙিন ফানুস উড়াল এবিএসবি

রঙিন ফানুস উড়াল এবিএসবি

প্রবারণা পূর্ণিমায় নন্দনকানন চট্টগ্রাম বৌদ্ধবিহার এবং ঢাকা ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারে ফানুসগুলো উত্তোলন করা হয়।

বাংলাদেশের বৌদ্ধ শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অফ বুড্ডিস্ট স্টুডেন্টস অফ বাংলাদেশের (এবিএসবি) আয়োজনে প্রবারণা পূর্ণিমায় আকাশে উড়েছে চিত্রকর্মে রঙিন ফানুস।

নন্দনকানন চট্টগ্রাম বৌদ্ধবিহার এবং ঢাকা ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারে বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে ফানুসগুলো উত্তোলন করা হয়।

এর আগে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে ফানুস তৈরির কর্মশালায় সব বয়সের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।

এবিএসবির উদ্যোগে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো হ্যান্ডপেইন্টেড ফানুস অর্থাৎ হাতে আঁকা রঙিন ফানুস উড়ল। প্রতিটি ফানুসে মহামতী গৌতম বুদ্ধের জীবনের সব গুরুত্বপূর্ণ সময়ের ছবি সুনিপুণভাবে তুলে ধরা হয়।

শেয়ার করুন

মেঘাচ্ছন্ন আকাশে প্রবারণা পূর্ণিমা

মেঘাচ্ছন্ন আকাশে প্রবারণা পূর্ণিমা

মেঘাচ্ছন্ন আকাশ, বৃষ্টির মাঝেই ফানুস উড়িয়ে উদযাপিত হয় প্রবারণা পূর্ণিমা। ছবি: নিউজবাংলা

প্রবারণা উৎসবকে ঘিরে রাঙ্গামাটির রাজবন বিহার আলোয় সজ্জিত করা হয়। বুদ্ধ পতাকা উত্তোলন, পঞ্চশীল প্রার্থনা, বুদ্ধমূর্তিদান, সংঘদান, অষ্টপরিষ্কারদান, পিণ্ডদানসহ নানাবিধ দানের আয়োজন করা হয়। প্রদীপ পূজা, আলোকসজ্জা, বিশ্বশান্তি কামনায় সম্মিলিত বুদ্ধোপাসনা হয় মন্দিরে মন্দিরে।

সাম্প্রদায়িক সংঘাতের ছায়ায় গুমোট পরিবেশে ধর্মীয় উৎসবে, সহিংসতার রাশ টেনে ধরেছে প্রাণের উচ্ছ্বাস। প্রকৃতিতে একই রূপ। বুধবার প্রবারণা পূর্ণিমার আকাশ ছিল মেঘাছন্ন। তবুও থেমে থাকেনি বৌদ্ধ ধর্মীয় আচার। বিহারে বিহারে উড়েছে ফানুস।

প্রবারণার সকাল শুরু হয় বৌদ্ধ মন্দিরে ভিক্ষু সংঘের প্রাতরাশ, মঙ্গলসূত্র পাঠ, বুদ্ধপূজা, পঞ্চশিল ও অষ্টাঙ্গ উপসথ শিল গ্রহণের মধ্য দিয়ে। এরপর মহাসংসদান, অতিথি আপ্যায়ন, পবিত্র ত্রিপিটক থেকে পাঠ, আলোচনা সভা, প্রদীপ পূজা, আলোকসজ্জা, বিশ্বশান্তি কামনায় সম্মিলিত বুদ্ধোপাসনা হয় মন্দিরে মন্দিরে।

বুধবার সারা দেশে একসঙ্গে উদযাপন হয়েছে মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব ঈদে মিলাদুন্নবী, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের লক্ষ্মীপূজা আর বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রবারণা পূর্ণিমা।

রাজধানীর বাসাবো ধর্মরাজিক বৌদ্ধ বিহারে বুধবার সন্ধ্যায় ফানুস ওড়ানোর উৎসব শুরু হয়। তার আগে সেখানে পালন হয়েছে নানা ধর্মীয় আচার। মধ্য বাড্ডার বৌদ্ধ মন্দিরেও দিনভর ছিল নানা আয়োজন। সন্ধ্যায় আকাশে উড়েছে হরেক রকম ফানুস। যদিও দফায় দফায় বৃষ্টি প্রভাব ফেলেছে আয়োজনে।

প্রবারণার সবচেয়ে বড় আয়োজন ছিল রাঙ্গামাটির রাজবন বিহারে। সেখানে সুখ, শান্তি, মঙ্গলপ্রার্থনা ও পরস্পরকে ক্ষমা প্রদর্শন, পুণ্যার্থীদের ভক্তি-শ্রদ্ধা ও পূজার মধ্য দিয়ে মুখর হয়ে ওঠে বিহার।

রাজবন বিহার ছাড়াও সদর উপজেলার যমচুগ বনাশ্রম ভাবনাকেন্দ্রসহ বিভিন্ন শাখা বনবিহারে উৎসব হয়।

বুদ্ধ পতাকা উত্তোলন, পঞ্চশীল প্রার্থনা, বুদ্ধমূর্তিদান, সংঘদান, অষ্টপরিষ্কারদান, পিণ্ডদানসহ নানা আয়োজন ছিল। প্রবারণা উৎসব ঘিরে পুরো রাজবন বিহার সজ্জিত হয় বর্ণিল আলোয় ।

অন্যদিকে প্রবারণার পরিসমাপ্তির মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার থেকে পার্বত্য তিন জেলায় শুরু হবে দানোত্তম কঠিন চীবর দানোৎসব।

তবে এ বছর রাজবন বিহারে 'বেইন বুনা' হবে না বলে জানিয়েছে রাঙ্গামাটি রাজবন বিহার পরিচালনা কমিটি।

মেঘাচ্ছন্ন আকাশে প্রবারণা পূর্ণিমা

রাঙ্গামাটির আয়োজনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন রাজবন বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি গৌতম দেওয়ান। রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অংসুই প্রু চৌধুরী রাখেন বিশেষ বক্তব্য।

পঞ্চশীল প্রার্থনা করেন ৬ নম্বর বালুখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিজয়গিরি চাকমা।

এ সময় পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপমন্ত্রী মণিস্বপন দেওয়ানসহ উপস্থিত ছিলেন অনেকে।

মেঘাচ্ছন্ন আকাশে প্রবারণা পূর্ণিমা

প্রবারণা অনুষ্ঠান বৌদ্ধদের অন্যতম একটি ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব। এটি দিয়ে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের বর্ষাবাসের পরিসমাপ্তি, বর্ষাবাস ত্যাগ, প্রায়শ্চিত্তকে বোঝায়। বৌদ্ধ ভিক্ষুদের তিন মাস বর্ষাবাস শেষে তাদের অজান্তে ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে একে অন্যের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করা হয়।

এ ছাড়া প্রবারণাকে আত্ম-অন্বেষণ ও আত্মসমর্পণের তিথিও বলা যায়। আবার এই দিনে পূর্ণাঙ্গ অভিধর্ম দেশনা সমাপ্ত হওয়ায় এই দিনটি অভিধর্ম নামেও পরিচিত।

শেয়ার করুন

প্রবারণা পূর্ণিমা আজ

প্রবারণা পূর্ণিমা আজ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের নিজ নিজ ধর্ম পালনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিলেন। তার ধারাবাহিকতায় বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’ এ আপ্তবাক্য ধারণ করে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষ যার যার ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করে যাচ্ছেন।’

বৌদ্ধ ধর্মানুসারীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা ও কঠিন চীবর দান আজ। মহামতি গৌতম বুদ্ধ নির্বাণ লাভের পর আষাঢ়ি পূর্ণিমা থেকে আশ্বিনী পূর্ণিমা তিথি পর্যন্ত তিন মাস বর্ষাবাস শেষে প্রবারণা পালন করেন। সেই থেকে বৌদ্ধধর্মীয় গুরুরা বর্ষাবাস শেষে দিনটি পালন করে আসছেন।

আত্মশুদ্ধি অর্জনের মধ্য দিয়ে অশুভকে বর্জন করে সত্য ও সুন্দরকে বরণের আয়োজন হলো প্রবারণা।

প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে বাংলাদেশ বৌদ্ধ ফেডারেশন রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় আন্তর্জাতিক বৌদ্ধবিহারে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। এদিন ভিক্ষু সংঘের প্রাতরাশ, মঙ্গলসূত্র পাঠ, বুদ্ধপূজা, পঞ্চশিল ও অষ্টাঙ্গ উপসথ শিল গ্রহণ, মহাসংসদান, অতিথি আপ্যায়ন, পবিত্র ত্রিপিটক থেকে পাঠ, আলোচনা সভা, প্রদীপ পূজা, আলোকসজ্জা, বিশ্বশান্তি কামনায় সম্মিলিত বুদ্ধোপাসনা, ফানুস ওড়ানো ও বুদ্ধকীর্তনসহ নানা ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠিত হয়।

দিনটি উপলক্ষে আলাদা বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ধারা অব্যাহত রেখে জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে আরও ত্বরান্বিত করতে সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি।

তিনি বলেন, ‘মহামতি গৌতম বুদ্ধ একটি শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যময় বিশ্ব গঠনে আজীবন সাম্য, মৈত্রী, মানবতা ও শান্তির অমিয় বাণী প্রচার করে গেছেন। তাঁর আদর্শ ত্যাগের মহিমায় সমুজ্জ্বল ও মানবিকতায় পরিপূর্ণ। বুদ্ধের অহিংস বাণী ও জীবপ্রেম আজও বিশ্বব্যাপী বিপুল সমাদৃত।’

রাষ্ট্রপতির আশা, ধর্মীয় মর্যাদায় কঠিন চীবর দান উদযাপনের মাধ্যমে বৌদ্ধ সমাজের শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। আবহমানকাল ধরে বয়ে চলা এ সম্প্রীতি দেশের ঐতিহ্য।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকার দেশে বিরাজমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করে বাংলাদেশকে বিশ্বসভায় একটি উন্নত ও শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে বদ্ধপরিকর।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের নিজ নিজ ধর্ম পালনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিলেন। তার ধারাবাহিকতায় বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’এ আপ্তবাক্য ধারণ করে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষ যার যার ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করে যাচ্ছেন।’

আওয়ামী লীগ সরকার দেশে বিরাজমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করে বাংলাদেশকে বিশ্বসভায় একটি উন্নত ও শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে বদ্ধপরিকর বলেও জানান সরকারপ্রধান।

শেয়ার করুন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শারীরিক প্রতিবন্ধীদের প্রীতি ক্রিকেট

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শারীরিক প্রতিবন্ধীদের প্রীতি ক্রিকেট

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শারীরিক প্রতিবন্ধীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ। ছবি: নিউজবাংলা

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা খেলোয়াড়রা টিম-এ ও টিম-বি দলে ভাগ হয়ে খেলায় অংশ নেয়। ১০ ওভারের ম্যাচে টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে সব উইকেট হারিয়ে ৬৫ রান করে টিম-এ। জবাবে ৯ ওভার চার বলে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় টিম-বি।    

শেখ রাসেল দিবস উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শারীরিক প্রতিবন্ধীদের অংশগ্রহণে প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ হয়েছে।

নিয়াজ মোহাম্মদ স্টেডিয়ামে সোমবার বেলা ১১টায় প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করা সংস্থা- ‘ড্রিম ফর ডিসেবিলিটি’র আয়োজনে প্রীতি এই ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা খেলোয়াড়রা টিম-এ ও টিম-বি দলে ভাগ হয়ে খেলায় অংশ নেয়। ১০ ওভারের ম্যাচে টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে সব উইকেট হারিয়ে ৬৫ রান করে টিম-এ। জবাবে ৯ ওভার ৪ বলে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় টিম-বি।

আয়োজনের প্রধান অতিথি ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য র. আ. ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী। খেলায় অংশ নেয়াদের মধ্যে পুরস্কার তুলে দেন জেলা প্রশাসক হায়াত উদ দৌলা খান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার আনিসুল রহমান, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান লায়ন ফিরোজুর রহমান, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল বারী চৌধুরী মন্টুসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

টিম-এ ক্রিকেট দলের কোচ শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এই ম্যাচে হার-জিত বলে কিছু নেই। এমন আয়োজনের মাধ্যমে শারীরিক প্রতিবন্ধীদের দক্ষতা ও মেধার বহিঃপ্রকাশ ঘটবে।’

ড্রিম ফর ডিসেবিলিটির প্রতিষ্ঠাতা হেদাইয়েতুল আজিজ মুন্না বলেন, ‘নিজে যখন থেকে শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়েছি, তখন থেকে তাদের নিয়ে কাজ শুরু করি। ওদের চাঙা রাখতে নানা আয়োজনের ব্যবস্থা করি। হুইলচেয়ার ক্রিকেট ম্যাচ এসব আয়োজনের অংশ।’

জেলা প্রশাসক হায়াত উদ দৌলা খান বলেন, ‘প্রতিবন্ধীদের নিয়ে সমাজে যে ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে, এই ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। আগামীতে আরও বড় পরিসরে এমন আয়োজন করা হবে।’

শেয়ার করুন

আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী

আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী

ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দিনটিকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। আরব জাহান যখন পৌত্তলিকতার অন্ধকারে ডুবে যায়, তখন হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে বিশ্বজগতের ত্রাতা হিসেবে রহমতস্বরূপ পাঠিয়েছিলেন মহান আল্লাহ।

আজ ১২ রবিউল আউয়াল, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)। ইসলাম ধর্মের সর্বশেষ নবী ও মহান আল্লাহতালার প্রেরিত রাসুল হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও মৃত্যুর পুণ্যময় দিন।

৫৭০ খ্রিষ্টাব্দের এই দিনে সৌদি আরবের মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দের এই দিনে ইহলোক ত্যাগ করেন তিনি।

ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দিনটিকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। আরব জাহান যখন পৌত্তলিকতার অন্ধকারে ডুবে যায়, তখন হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে বিশ্বজগতের ত্রাতা হিসেবে রহমতস্বরূপ পাঠিয়েছিলেন মহান আল্লাহ।

ন্যায়, নিষ্ঠা ও সত্যবাদিতা দিয়ে বালক বয়স থেকেই ‘আল-আমিন’ তথা বিশ্বাসী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন হজরত মুহাম্মদ (সা.)।

করুণা, ক্ষমাশীলতা, বিনয়, সহিষ্ণুতা, সহমর্মিতা, শান্তিবাদিতাসহ মানবীয় সব গুণের সমন্বয়ের অধিকারী ছিলেন তিনি। ৪০ বছর বয়সে নবুওয়াত অর্জন করেছিলেন মহানবী। আধ্যাত্মিকতার পাশাপাশি কর্মময়তাও ছিল তার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। ইসলামের সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হিসেবে বিশ্বমানবতার মুক্তি ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠা ছিল তার ব্রত। ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায় নির্বিশেষে সর্বশ্রেষ্ঠ মানবিক গুণাবলির মানুষ হিসেবে তিনি সব কালে, সব দেশেই স্বীকৃত।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তার বাণীতে বলেন, সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও ওফাতের স্মৃতি বিজড়িত পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) সারা বিশ্বের মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত পবিত্র ও মহিমান্বিত দিন। মহান আল্লাহতায়ালা হযরত মুহাম্মদকে (সা.) ‘রহমাতুল্লিল আলামীন’ তথা সমগ্র বিশ্বজগতের রহমত হিসেবে প্রেরণ করেন। দুনিয়ায় তার আগমন ঘটেছিল ‘সিরাজাম মুনিরা’ তথা আলোকোজ্জ্বল প্রদীপরূপে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক বাণীত বলেন, ধর্মীয় ও পার্থিব জীবনে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর শিক্ষা সমগ্র মানবজাতির জন্য অনুসরণীয়। মহানবী (সা.) এর সুমহান আদর্শ অনুসরণের মধ্যেই মুসলমানদের অফুরন্ত কল্যাণ, সফলতা ও শান্তি নিহিত রয়েছে। করোনা মহামারিসহ আজকের দ্বন্দ্ব-সংঘাতসময় বিশ্বে প্রিয়নবী (সা.) এর অনুপম জীবনাদর্শ, তার সর্বজনীন শিক্ষা ও সুন্নাহর অনুসরণ এবং ইবাদতের মাধ্যমেই বিশ্বের শান্তি, ন্যায় এবং কল্যাণ নিশ্চিত হতে পারে।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালনের জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন নানা কর্মসূচি নিয়েছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে মহানবী (সা.)-এর ওপর আলোচনা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল। ইসলামিক ফাউন্ডেশন সারা দেশে ১৫ দিনব্যাপী ওয়াজ, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল, সেমিনার ও ইসলামি সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে।

শেয়ার করুন