১৫ লাখ বছর আগের জলহস্তীর দাঁত

১৫ লাখ বছর আগের জলহস্তীর দাঁত

সম্প্রতি প্রাগৈতিহাসিক যুগের এক জলহস্তীর দাঁত খুঁজে পান গবেষকরা। ছবি: ইউনিভার্সিটি অফ লেস্টার

ইউনিভার্সিটি অফ লন্ডনের প্যালিওন্টলজিস্ট ড্যানিয়েল স্ক্রিভ বলেন, ‘জলহস্তীর জীবাশ্ম পরীক্ষা করে তাদের সম্পর্কেই শুধু জানা যায়, তা নয়; একই সঙ্গে প্রাগৈতিহাসিক আমলের জলবায়ু সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যায়।’

প্রাগৈতিহাসিক যুগের এক জলহস্তীর দাঁত সম্প্রতি খুঁজে পেয়েছেন গবেষকরা। ওই দাঁত পরীক্ষা করে তারা জানতে পেরেছেন, আমাদের ধারণারও অনেক আগে অর্থাৎ প্রায় ১৫ লাখ বছর আগে যুক্তরাজ্যজুড়ে জলহস্তীরা ঘুরে বেড়াত।

পাশাপাশি জলহস্তীর ওই দাঁত প্রাচীনকালের জলবায়ু সম্পর্কে নতুন তথ্য দেবে বলে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন।

সায়েন্স এলার্টের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

ইউনিভার্সিটি অফ লেস্টারের জীবাণুবিদ নিল অ্যাডামস টুইটবার্তায় বলেন, ‘বিলুপ্ত হিপোপটেমাস অ্যান্টিকুয়াস প্রজাতির জীবাশ্মের সঙ্গে দাঁতটির মিল পাওয়া গেছে।’

যুক্তরাজ্যে একসময় অতিকায় পশমাবৃত ম্যামথ, কেইভ লাওন, পশমাবৃত গণ্ডার, সিংহাকৃতির হায়েনা, বিশাল জলহস্তীর মতো প্রচুর বণ্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য ছিল। এখন শুধু রেড ডিয়ারই দেশটিতে দেখা যায়।

৩ হাজার ২০০ কেজি ওজনের প্রাগৈতিহাসিক জলহস্তী এখনকার জলহস্তীর চেয়ে আকারে দ্বিগুণ। যুক্তরাজ্য থেকে শুরু করে গ্রিস, জার্মানি ও ফ্রান্সে এসব প্রজাতির জীবাশ্ম পাওয়া যায়।

ইংল্যান্ডের সামারসেট কাউন্টিতে পাওয়া দাঁতটি অন্যান্য জলহস্তীর দাঁতের সঙ্গে তুলনা করেন জীবাণুবিদ অ্যাডামস ও তার সহকর্মীরা। এটি ১৫ লাখ থেকে ১০ লাখ ৭০ হাজার বছর আগের এক জলহস্তীর বলে ধারণা তাদের।

অ্যাডামস বলেন, ‘ইংল্যান্ড থেকে এই প্রথম জলহস্তীর জীবাশ্ম পাওয়া গেছে, তা নয়; বরং ৭ লাখ ৫০ হাজার বছরের বেশি পুরোনো জলহস্তীর জীবাশ্মপ্রাপ্তি এটাই প্রথম।’

বিজ্ঞানীদের ভাষ্য, বিলুপ্ত হিপোপটেমাস অ্যান্টিকুয়াস প্রজাতির জলহস্তী আজকের যুগের জলহস্তীর চেয়ে বেশি জলজ জীবনধারায় নির্ভরশীল ছিল। ওই প্রাণীর অন্যান্য জীবাশ্ম পরীক্ষা করে জানা যায়, তাদের অক্ষিকোটরের অবস্থান খুলির বেশ ওপরে। দেহের আকারের তুলনায় এদের পা ছোট। অতিকায় প্রাগৈতিহাসিক জলহস্তী প্রথম দিকে জলজ উদ্ভিদ খেত।

ইউনিভার্সিটি অফ লন্ডনের প্যালিওন্টলজিস্ট ড্যানিয়েল স্ক্রিভ বলেন, ‘প্রকাণ্ড জলহস্তীর জীবাশ্মের খোঁজ পাওয়াই শেষ কথা নয়। জলহস্তীর জীবাশ্ম পরীক্ষা করে তাদের সম্পর্কেই শুধু জানা যায়, তা নয়; একই সঙ্গে প্রাগৈতিহাসিক আমলের জলবায়ু সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যায়।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

পরমাণু প্রযুক্তিতে ২০ হাজার টাকায় ক্যানসার নির্ণয়

পরমাণু প্রযুক্তিতে ২০ হাজার টাকায় ক্যানসার নির্ণয়

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপিত পিইটি-সিটি ল্যাব। ছবি: নিউজবাংলা

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সাইক্লোট্রন সুবিধাসহ পিইটি-সিটি ল্যাব স্থাপনকালে রোববার দুপুরে বক্তব্য দেন পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. সানোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, ‘নিজস্ব সাইক্লোট্রন স্থাপনের ফলে ক্যানসার নির্ণয়ের খরচ কয়েক গুণ কমে আসবে।’

বিশ্বে ৯০ শতাংশের বেশি ক্যানসার শনাক্ত হয় পরমাণু প্রযুক্তি পিইটি-সিটির (পজিট্রন ইমিশন টোমোগ্রাফি ও কম্পিউটেড টোমোগ্রাফি) মাধ্যমে। এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকায় ক্যানসার নির্ণয় সম্ভব বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের আওতাধীন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেসেস (নিনমাস)।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সাইক্লোট্রন সুবিধাসহ পিইটি-সিটি ল্যাব স্থাপনকালে রোববার দুপুরে এ তথ্য জানান পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. সানোয়ার হোসেন।

তিনি বলেন, ‘নিজস্ব সাইক্লোট্রন স্থাপনের ফলে ক্যানসার নির্ণয়ের খরচ কয়েক গুণ কমে আসবে। আগে রেডিও আইসোটোপ আমদানি বা বেসরকারি ল্যাব থেকে কিনতে হতো। ফলে খরচ বেশি হতো। আমরা এই ল্যাব থেকে এখন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের ল্যাবে রেডিও আইসোটোপ সরবরাহ করব।

‘এখন থেকে সরকারিভাবে পরমাণু কমিশনের ল্যাবে মাত্র ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকায় পিইটি-সিটির মাধ্যমে ক্যানসার নির্ণয় করা যাবে। এর আগে সরকারিভাবে ৩৫ হাজার ও বেসরকারিভাবে ৬০ হাজার টাকা খরচ হতো।’

সাইক্লোট্রন সুবিধাসহ পিইটি-সিটি ল্যাবের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান বলেন, ‘এই সুবিধাদির ফলে দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠী বিশেষভাবে উপকৃত হবে এবং পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার আরও শক্তিশালী হবে। পর্যায়ক্রমে এসব সুবিধাদি দেশের বিভিন্ন সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ক্যাম্পাসে অবস্থিত পরমাণু চিকিৎসা কেন্দ্রে স্থাপন করা হবে।

‘বর্তমানে ১৫টি পরমাণু চিকিৎসা কেন্দ্র চালু রয়েছে। নির্মাণ করা হচ্ছে আরও আটটি। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেসেস (নিনমাস)।’

সাইক্লোট্রন ল্যাব কী?

এটি এমন একটি উদ্ভাবন, যার মাধ্যমে নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ার সাহায্যে মানব চিকিৎসা এবং গবেষণার জন্য তেজস্ক্রিয় পদার্থ উৎপাদন করা যায়। নিনমাসে IBA Cyclone 18/9 MeV সাইক্লোট্রনটির মাধ্যমে তেজস্ক্রিয় পদার্থ 18F-FDG ব্যবহার করে বিভিন্ন রোগীদের ক্যানসার নির্ণয় করা হচ্ছে। সাইক্লোট্রনের মাধ্যমে আরও কিছু পদার্থ উৎপাদন করা যায়, যেগুলো ক্যানসারসহ অন্যান্য রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়।

পিইটি-সিটি স্ক্যানের কাজ কী

যেসব স্থানে কোষগুলো বেশি সক্রিয় থাকে, পিইটি স্ক্যান কেবল সেসব স্থানের তথ্যচিত্র দেয়। অন্যদিকে সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে কোনো স্থানের গঠনগত এবং অবস্থানগত তথ্যচিত্র পাওয়া যায়।

এই দুটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে গঠিত স্ক্যানারে একটি ফিউশন ইমেজ একই সময়ে পাওয়া যায়। এ দুটি ইমেজের সমন্বিত ইমেজটি দিয়ে একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক শরীরের যেসব স্থানে কোষগুলো অধিক সক্রিয় বা ক্যানসারে আক্রান্ত, তা সঠিকভাবে নির্ণয় করতে পারেন। তারা কোনো বেদনাদায়ক পদ্ধতি ছাড়াই রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা শুরু করেন।

ক্যানসার শনাক্তের সিংহভাগই করা হয় পিইটি-সিটি ব্যবহার করে। আর সাইক্লোট্রন মেশিনে উৎপাদিত আইসোটোপ পিইটি-সিটিতে ব্যবহার করেই পরীক্ষাটি সম্পন্ন হয়।

কমবে বিদেশনির্ভরতা

কিছুদিন আগেও ক্যানসার পরীক্ষা করতে বিদেশে যেতে হতো। ২০১০ সালের পর থেকে সীমিত পরিসরে এ রোগ নির্ণয় শুরু হয় বাংলাদেশে।

নিউক্লিয়ার প্রযুক্তির পদ্ধতির ব্যবহারে এগিয়ে আসে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন।

এ বিষয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ফলে এ খাতে এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার পথে বাংলাদেশ। এ ছাড়া চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষণাতেও এই ল্যাব ভালো অবদান রাখবে।

তিনি বলেন, এই যন্ত্র ও ল্যাব স্থাপনের ফলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাত আরও এগিয়ে যাবে।

‘সাইক্লোট্রন ও পিইটি-সিটি’ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে খরচ হয়েছে ১৫০ কোটি টাকা।

শেয়ার করুন

চার মাস পর চাঁদে নাসার ক্রুবিহীন ফ্লাইট

চার মাস পর চাঁদে নাসার ক্রুবিহীন ফ্লাইট

ফেব্রুয়ারিতে চাঁদে ক্রুবিহীন ফ্লাইট পাঠাচ্ছে নাসা। ছবি: দ্য গার্ডিয়ান

নাসার পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘মহাকাশ বিষয়ে গভীর অনুসন্ধান চালাতে আর্টেমিস-ওয়ান সহযোগিতা করবে। পাশাপাশি ক্রুসহ আর্টেমিস-টু পাঠানোর আগে পর্যাপ্ত তথ্য দেবে এটি। এ ছাড়া চাঁদে মানুষের অবস্থানের ক্ষমতা সম্প্রসারণেও আর্টেমিস-ওয়ান সহায়তা করবে।’

আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে চাঁদের চারপাশ প্রদক্ষিণ করতে ক্রুবিহীন কয়েকটি ফ্লাইট পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ সংস্থা নাসা। এরপর পৃথিবীর একমাত্র স্যাটেলাইটটিতে ফের পা রাখবেন নভোচারীরা।

নাসার বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান

স্থানীয় সময় শুক্রবার নাসা জানায়, চাঁদের একটি কক্ষপথে অরিয়ন মহকাশযান পাঠানোর আগে চলমান বিভিন্ন পরীক্ষার শেষ ধাপে রয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

নাসা জানায়, ক্রুবিহীন টেস্ট ফ্লাইট আর্টেমিস-ওয়ান ভবিষ্যতে ক্রুসহ ফ্লাইট পরীক্ষার ক্ষেত্র উন্মোচন করবে।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, ফেব্রয়ারির আগ পর্যন্ত মহাকাশের উদ্দেশ্যে বেশ কয়েকটি পরীক্ষা চালাবে নাসা। এসব পরীক্ষার মধ্যে ইন্টারফেস ও কমিউনিকেশন সিস্টেম পরীক্ষা, ড্রেস রিহার্সালও থাকবে।

ড্রেস রিহার্সাল সফল হলে মহাকাশযান পাঠানোর তারিখ ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে নাসা।

নাসার পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘মহাকাশ বিষয়ে গভীর অনুসন্ধান চালাতে আর্টেমিস-ওয়ান সহযোগিতা করবে। পাশাপাশি ক্রুসহ আর্টেমিস-টু পাঠানোর আগে পর্যাপ্ত তথ্য দেবে এটি। এ ছাড়া চাঁদে মানুষের অবস্থানের ক্ষমতা সম্প্রসারণেও আর্টেমিস-ওয়ান সহায়তা করবে।’

৫২ বছর আগে অ্যাপোলো ১১ অভিযানের মধ্য দিয়ে প্রথম চাঁদে মানুষ পাঠায় নাসা। ওই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নিল আর্মস্ট্রং প্রথম চাঁদে পা রাখেন।

১৯৬৯ সাল থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত মোট ১২ নভোচারী চাঁদে হাঁটতে সক্ষম হন।

শেয়ার করুন

বিড়ালের উপকারী ব্যাকটেরিয়া সারাতে পারে একজিমা

বিড়ালের উপকারী ব্যাকটেরিয়া সারাতে পারে একজিমা

বিড়ালের শরীরে উপকারী ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। ছবি: ফিল্ম ডেইলি

চিকিৎসাবিজ্ঞানী গ্যালো বলেন, ‘স্ট্যাফিলোকোক্কাস ফেলিস প্রজাতির ব্যাকটেরিয়ার কার্যকারিতা অনেক বেশি। এটি প্যাথোজেন মেরে ফেলতে খুবই সক্ষম। কারণ এটি এমআরএসপি কোষকে বিভিন্ন দিক থেকে আক্রমণ করে।’

স্বাস্থ্যবান বিড়ালের শরীরের ব্যাকটেরিয়া এমন কিছু অ্যান্টিবডি উৎপাদন করতে পারে, যা জীবাণু ধ্বংসে সক্ষম। এসব অ্যান্টিবডি চর্মরোগ একজিমাও সারাতে পারে।

সম্প্রতি এক গবেষণা থেকে উঠে আসা তথ্য এমনটাই বলছে বলে জানিয়েছে সায়েন্স এলার্ট

গবেষকদের ধারণা, মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীদেহে সংক্রমণ চিকিৎসায় ওই সব অ্যান্টিবডি আগামী দিনে কাজে দেবে।

এ ধরনের চিকিৎসাপদ্ধতিকে ব্যাকটেরিওথেরাপি বলা হয়। এর মাধ্যমে উপকারী ব্যাকটেরিয়া ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এ পদ্ধতিতে অসুখ সারাতে বিজ্ঞানীরা তাদের গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সাম্প্রতিক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা ইঁদুরে থাকা মেথিসিলিন রেসিস্ট্যান্ট স্ট্যাফিলোকোক্কাস সিউডিনটেরমিডিয়াস বা এমআরএসপি প্যাথোজেনের বিরুদ্ধে বিড়ালের ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করেন।

গৃহপালিত প্রাণীর মধ্যে এমআরএসপি প্রায়ই পাওয়া যায়। তারা অসুস্থ বা আহত হলে এই ব্যাকটেরিয়া বিপুলসংখ্যায় বংশ বৃদ্ধি করে।

গবেষণার ফলে জানা যায়, বিড়ালে পাওয়া উপকারী ব্যাকটেরিয়া এমআরএসপির বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

শুধু ইঁদুরের ক্ষেত্রেই নয়, মানবদেহেও এই ব্যাকটেরিয়া জীবাণুর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া স্যান দিয়েগোর চিকিৎসাবিজ্ঞানী রিচার্ড গ্যালো বলেন, ‘স্বাস্থ্যবান বিড়ালের সঙ্গে বসবাস করলে এমআরএসপির বিরুদ্ধে মানবদেহ কিছুটা সুরক্ষা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

কুকুর, বিড়াল, মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীদেহে একজিমার জন্য এমআরএসপিকে অনেকাংশে দায়ী করা হয়। এ রোগে সাধারণ অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ কাজ করে না। এটির চিকিৎসাও জটিল।

কুকুর ও বিড়ালে পাওয়া বেশ কয়েকটি ব্যাকটেরিয়া ল্যাবে এমআরএসপির সঙ্গে একসঙ্গে বাড়তে দেন গবেষণা দলটি। এর মাধ্যমে সহজে স্ট্যাফিলোকোক্কাস ফেলিস নামের একটি স্ট্রেইন শনাক্ত করতে পারেন গবেষকরা, যা এমআরএসপির বৃদ্ধি বন্ধ করে দেয়।

বিজ্ঞানীদের ধারণা, এমআরএসপি কোষের দেয়াল ভাঙতে প্রাকৃতিকভাবে স্ট্যাফিলোকোক্কাস ফেলিস উৎপাদিত অ্যান্টিবায়োটিকই যথেষ্ট।

চিকিৎসাবিজ্ঞানী গ্যালো বলেন, ‘স্ট্যাফিলোকোক্কাস ফেলিস প্রজাতির ব্যাকটেরিয়ার কার্যকারিতা অনেক বেশি। এটি প্যাথোজেন মেরে ফেলতে খুবই সক্ষম। কারণ এটি এমআরএসপি কোষকে বিভিন্ন দিক থেকে আক্রমণ করে।’

শেয়ার করুন

নথি ফাঁস: জলবায়ু প্রতিবেদন পরিবর্তনে চলছে লবিং

নথি ফাঁস: জলবায়ু প্রতিবেদন পরিবর্তনে চলছে লবিং

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় এখনই জরুরি পদক্ষেপ নিতে রাজি নয় ক্ষমতাধর দেশগুলো। ছবি: এএফপি

ফাঁস হওয়া নথিতে বলা হয়, জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার থেকে এখনই সরে আসার প্রয়োজন দেখছে না বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ ও সংস্থা।

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক প্রতিবেদন পরিবর্তনে বিভিন্ন দেশ কীভাবে চেষ্টা করছে, তা সম্প্রতি বিপুলসংখ্যক নথি ফাঁসের মাধ্যমে জানা গেছে। এতে বলা হচ্ছে, ওই প্রতিবেদন পরিবর্তনের জন্য শিল্পোন্নত দেশগুলো লবিং করছে।

বিবিসির হাতে ওই সব নথি আসে।

ফাঁস হওয়া নথি বলছে, জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার থেকে দ্রুত সরে আসার জাতিসংঘের পরামর্শ মানতে রাজি নয় সৌদি আরব, জাপান, অস্ট্রেলিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশ।

এ ছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকতে দরিদ্র দেশগুলোকে অর্থসহায়তা দেয়ার বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছে কয়েকটি ধনী দেশ।

পাশাপাশি নভেম্বরে অনুষ্ঠিত কপ২৬ জলবায়ু সম্মেলন নিয়েও প্রশ্ন তোলে ধনী দেশগুলো।

জলবায়ু পরিবর্তন রোধে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিতে ও বৈশ্বিক উষ্ণতা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখতে আসন্ন জলবায়ু সম্মেলনে শক্তিশালী দেশগুলোকে অঙ্গীকার করতে বলবে জাতিসংঘ।

আন্তর্জাতিক সংস্থাটি যাতে সম্মেলনে এ বিষয়ে নমনীয় অবস্থান নেয়, তার জন্য লবিং চলছে বলে ফাঁস হওয়া নথিতে উঠে আসে।

জলবায়ু পরিবর্তন রোধের লক্ষ্যে পর্যালোচনার ভিত্তিতে জাতিসংঘের একদল বিজ্ঞানী ওই প্রতিবেদন তৈরি করেন। সেই দলের কাছে বিভিন্ন দেশের সরকার, কোম্পানিসহ অন্যান্য স্বার্থসংশ্লিষ্ট গ্রুপ ৩২ হাজারের বেশি সুপারিশ জমা দেয় বলে জানতে পারে বিবিসি।

প্রতি ছয় থেকে সাত বছর পর পর জাতিসংঘের সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি) পর্যালোচনা প্রতিবেদন হাজির করে।

বৈজ্ঞানিক ওই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে জলবায়ু পরিবর্তন রোধে কী কী ব্যবস্থা নেয়া হবে, সে বিষয়ে বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের মধ্যে আলোচনা হয়।

ফাঁস হওয়া নথিতে বলা হয়, জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার থেকে এখনই সরে আসার প্রয়োজন দেখছে না বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ ও সংস্থা।

বৈশ্বিক উষ্ণতা কমাতে দীর্ঘদিন ধরে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার বন্ধ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের দাবি জানিয়ে আসছে অধিকার সংগঠনসহ আরও অনেকে।

সৌদি আরবের তেল মন্ত্রণালয়ের এক উপদেষ্টা চান, বৈজ্ঞানিক ওই প্রতিবেদনে উল্লেখিত জীবাশ্ম জ্বালানির বিষয়ে ‘জরুরি পদক্ষেপ নেয়ার’ অংশ যেন প্রতিবেদনটি থেকে বাদ দেয়া হয়।

এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার জ্যেষ্ঠ এক সরকারি কর্মকর্তা প্রতিবেদনটির সিদ্ধান্ত নাকচ করেন। এতে বলা রয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তন রোধে কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করে দেয়া জরুরি। কয়লার ব্যবহার বন্ধ অবশ্য কপ২৬ সম্মেলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিপাদ্য।

সৌদি আরব বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের প্রধান কয়লা রপ্তানিকারক দেশ।

জ্বালানি খাতে কার্বন ডাই-অক্সাইডের নির্গমন কমানোর বিষয়ে প্রতিবেদনের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে জাতিসংঘের বিজ্ঞানীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে সৌদি আরব।

এদিকে আইপিসিসির পক্ষ থেকে বিবিসিকে বলা হয়, লবিংয়ের কোনো প্রভাব যাতে প্রতিবেদনে না পড়ে, সে বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়।

যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অফ ইস্ট অ্যাঙ্গলিয়ার অধ্যাপক ও জলবায়ু বিজ্ঞানী করিনে লা কুয়েরে বলেন, আইপিসিসির প্রতিবেদনের নিরপেক্ষতা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন দেশের অনুরোধ রাখার বিষয়ে আমরা চাপ বোধ করি না। লবিং করা অবৈজ্ঞানিক কোনো কিছু আইপিসিসির প্রতিবেদনে যুক্ত করা হয় না।’

শেয়ার করুন

মানুষের দেহে শূকরের কিডনির সফল প্রতিস্থাপন

মানুষের দেহে শূকরের কিডনির সফল প্রতিস্থাপন

নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালে ৫৪ ঘণ্টার অস্ত্রোপচার শেষে মানবদেহে শূকরের কিডনি প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। ছবি: রয়টার্স

কিডনি কতটা কার্যক্ষম, তা পরিমাপ করা হয় মানবদেহে ক্রিয়েটিনিন নামক এক ধরনের রাসায়নিকের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে। ক্রিয়েটিনিনের অস্বাভাবিক উপস্থিতির অর্থ হলো- কিডনি ঠিকভাবে কাজ করছে না। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শূকরের কিডনি গ্রহণের আগে রোগীর দেহে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা অস্বাভাবিক ছিল, নতুন কিডনি গ্রহণের পর যা স্বাভাবিক হয়েছে।

প্রথমবারের মতো কোনো মানুষের দেহে একটি শূকরের কিডনি বা বৃক্ক সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটি যুগান্তকারী সাফল্য বলে মনে করা হচ্ছে।

কিডনি প্রতিস্থাপনের পর গ্রহীতার দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তাৎক্ষণিকভাবে সেটি প্রত্যাখ্যান করেনি। অর্থাৎ কোনো ধরনের নেতিবাচক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরি হয়নি রোগীর দেহে।

আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে মানবদেহে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের প্রযুক্তি বিদ্যমান হলেও প্রতিস্থাপনযোগ্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের পর্যাপ্ততা নেই। ফলে মানুষের দেহ শূকরের কিডনি গ্রহণ করলে তা প্রতিস্থাপনযোগ্য অঙ্গের ঘাটতি মেটাতে সাহায্য করবে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোন হেলথে ৫৪ ঘণ্টার অস্ত্রোপচার শেষে কিডনি প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছে।

প্রতিস্থাপিত কিডনিটি যেন রোগীর দেহ প্রত্যাখ্যান না করে, তা নিশ্চিতে জিন পরিবর্তিত একটি শূকরকে ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে ওই কিডনির ট্যিসুতে তাৎক্ষণিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টিকারী ক্ষুদ্র জীবাণুর উপস্থিতি ছিল না।

শূকরের কিডনিগ্রহীতা একজন ‘ব্রেন-ডেড’ রোগী, অর্থাৎ যার মস্তিষ্ক কার্যক্ষমতা হারিয়েছে। তিনি একজন নারী, ছিলেন লাইফ সাপোর্টে। সম্প্রতি তার কিডনিও বিকল হতে বসে।

গবেষকরা জানান, লাইফ সাপোর্ট খুলে নেয়ার আগে ওই নারীর দেহে পরীক্ষামূলকভাবে শূকরের কিডনি প্রতিস্থাপনের অনুমতি দেয় তার পরিবার।

প্রধান গবেষক ও অঙ্গ প্রতিস্থাপনকারী চিকিৎসক ড. রবার্ট মন্টোগোমারি জানান, টানা তিনদিন দেহের বাইরেই রোগীর রক্তনালীর সঙ্গে যুক্ত ছিল নতুন কিডনিটি। এ সময়ে কোনোরকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি এবং বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা কিডনির কার্যকারিতাও দৃশ্যত স্বাভাবিক ছিল। ফলে এরপর কিডনিটি ওই নারীর দেহে প্রবেশ করানোর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।

সদ্য কিডনি প্রতিস্থাপিত একজন মানুষের দেহে যতটুকু মূত্র তৈরি হয়, নতুন কিডনি সে প্রত্যাশার সঙ্গে মিল রেখেই কাজ করেছে।

কিডনি কতটা কার্যক্ষম, তা পরিমাপ করা হয় মানবদেহে ক্রিয়েটিনিন নামক এক ধরনের রাসায়নিকের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে। ক্রিয়েটিনিনের অস্বাভাবিক উপস্থিতির অর্থ হলো- কিডনি ঠিকভাবে কাজ করছে না।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শূকরের কিডনি গ্রহণের আগে রোগীর দেহে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা অস্বাভাবিক ছিল, নতুন কিডনি গ্রহণের পর যা স্বাভাবিক হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের অপেক্ষায় আছেন এক লাখ সাত হাজার মানুষ। এদের মধ্যে ৯০ হাজারের বেশি মানুষের দরকার কিডনি।

সংশ্লিষ্ট সংস্থা ইউনাইটেড নেটওয়ার্ক ফর অরগ্যান শেয়ারিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিস্থাপনযোগ্য কিডনির খোঁজ পেতে একেকজন রোগীকে গড়ে তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।

মানুষের দেহে অন্য প্রাণির অঙ্গ প্রতিস্থাপনের সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা চলছে কয়েক দশক ধরে। কিন্তু প্রতিবারই মানবদেহ অন্য প্রাণির অঙ্গ প্রত্যাখ্যান করেছে, অর্থাৎ গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।

শেয়ার করুন

রকেটে ওঠার অপেক্ষায় নাসার নতুন চন্দ্রযান

রকেটে ওঠার অপেক্ষায় নাসার নতুন চন্দ্রযান

কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই নভোযান ওরিয়নকে রকেটের সঙ্গে যুক্ত করার কাজ সম্পন্ন হবে। ছবি: নাসা

চন্দ্রজয় অভিযান অ্যাপোলোর পর নতুন এ প্রকল্পের নাম দেয়া হয়েছে আর্টিমিজ। বলা হচ্ছে, আর্টিমিজ সফল হলে পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহ চাঁদে মানুষের এবারের উপস্থিতি হবে বেশ দীর্ঘমেয়াদী।

চন্দ্রজয়ের নতুন অভিযানের জন্য প্রস্তুত ওরিয়ন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার পরবর্তী প্রজন্মের এই মহাকাশযানটি এখন কেবল একটি রকেটের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার অপেক্ষায়।

সব ঠিক থাকলে রকেটে যুক্ত হওয়ার পর ২০২২ সালের শুরুতেই চাঁদের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবে ওরিয়ন।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারে এক ভবন থেকে অন্য ভবনে সোমবার স্থানান্তর করা হয়েছে ওরিয়নকে। সেখানে পরবর্তী ধাপে শক্তিশালী স্পেস লঞ্চ সিস্টেম (এসএলএস) রকেটে তোলা হবে ওরিয়নকে।

এর আগে আরেকটি ভবনে ছিল ওরিয়ন। সেখানে ওরিয়নের সঙ্গে মহাকাশযানের লঞ্চ অ্যাবর্ট সিস্টেম (এলএএস) যুক্ত করেন প্রকৌশলীরা। এ ব্যবস্থার মাধ্যমেই মহাকাশে গন্তব্যে পৌঁছানোর পর রকেট থেকে আলাদা হবে ওরিয়ন।

মূলত রকেট থেকে মহাকাশযানকে সামনের দিকে ঠেলে দিতে এবং মানব অভিযানের ক্ষেত্রে জরুরি পরিস্থিতিতে রকেট থেকে নভোচারীদের দূরে সরাতে এলএএস ব্যবহার করা হয়।

চাঁদের কক্ষপথের উদ্দেশ্যে ওরিয়নের প্রথম ফ্লাইটটি হবে মানববিহীন। ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদের বুকে মানুষ পাঠানোর যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার অংশ এটি।

চন্দ্রজয় অভিযান অ্যাপোলোর পর নতুন এ প্রকল্পের নাম দেয়া হয়েছে আর্টিমিজ। বলা হচ্ছে, আর্টিমিজ সফল হলে পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহ চাঁদে মানুষের এবারের উপস্থিতি হবে বেশ দীর্ঘমেয়াদী।

আর্টিমিজ-১ মিশনে ব্যবহার্য ওরিয়নের বর্তমান ঠিকানা কেনেডি স্পেস সেন্টারের বিখ্যাত ভেহিকল অ্যাসেম্বলি বিল্ডিং বা ভিএবি ভবন। এই ভবনটি মহাকাশযানের বিভিন্ন অংশ একটি আরেকটির সঙ্গে জোড়া লাগানো হয়।

৩২২ ফুট লম্বা এসএলএস লঞ্চারে যুক্ত হতে যাওয়া শেষ গুরুত্বপূর্ণ অংশ ওরিয়ন। ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে ভিএবিতে ওরিয়নকে আনার জন্য কাজ করছিলেন প্রকৌশলীরা।

আর্টিমিজ-১ মিশনের ব্যাপ্তি হবে তিন সপ্তাহ। এর মাধ্যমে নভোচারী পাঠানোর আগে এসএলএস ও ওরিয়নের ক্ষমতা পরীক্ষা করে দেখা হবে। এ পরীক্ষা সফল হলে ২০২৩ সালে আর্টিমিজ-২ মিশনে চাঁদ প্রদক্ষিণে পাঠানো হবে মানুষ।

আর্টিমিজ-৩ মিশনে চাঁদের বুকে ফের পা রাখবে নভোচারীরা। ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো ১৭ অভিযানে প্রথম ও শেষবার চাঁদে পা রেখেছিল মানুষ।

মানুষকে চাঁদের কক্ষপথ থেকে পৃথিবীপৃষ্ঠে ফিরিয়ে আনবে স্টারশিপ নামের একটি যান। স্টারশিপ নির্মাণে আমেরিকান ধনকুবের ইলন মাস্কের মহাকাশযান নির্মাণ ও মহাকাশযাত্রা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সকে চূড়ান্ত করেছে নাসা।

সব ঠিক থাকলে চাঁদে দ্বিতীয়বার মানুষের পা পড়তে পারে ২০২৪ সালে। যদিও অধিকাংশ পর্যবেক্ষকের মতে, এ তারিখ আরও পেছাবে।

এ অভিযানে ব্যবহার্য মহাকাশযান ওরিয়নের ধাতব কাঠামোটিও চলতি মাসে কেনেডি স্পেস সেন্টারে পৌঁছেছে।

আর্টিমিজ-৩ মিশন সফল হলে চাঁদের বুকে হাঁটবেন প্রথম নারী নভোচারী। তার সঙ্গে থাকবেন আরেকজন পুরুষ নভোচারী।

আর্টিমিজের মাধ্যমে প্রথম অশ্বেতাঙ্গ ব্যক্তি পা রাখবেন চাঁদে।

শেয়ার করুন

‘ক্রিস্টাল পৃথিবীতে’ ব্যাখ্যাতীত সব রহস্যের সমাধান!

‘ক্রিস্টাল পৃথিবীতে’ ব্যাখ্যাতীত সব রহস্যের সমাধান!

পেন্টাডোডেকাহেড্রন আকৃতির ক্রিস্টাল। ছবি: সংগৃহীত

পৃথিবীর ব্যাখ্যাতীত ঘটনাগুলোকে ব্যাখ্যার জন্যে অদ্ভুত এক গাণিতিক তত্ত্ব উদ্ভাবন করেছেন নিউজিল্যান্ডের এক সৌখিন গণিতবিদ ব্রুস ক্যাথি। তার তত্ত্বের তিনি নাম দিয়েছেন হারমোনিক গ্রিড। তার এ তত্ত্বকে বিজ্ঞান হিসেবে মানতে অনেকে নারাজ, তবে কৌতুহলীও অনেকে।

আন-আইডেন্টিফাইড ফ্লাইং অবজেক্ট বা ইউএফও নিয়ে মানুষের আগ্রহের শেষ নেই। নিরন্তর গবেষণা চলছে কথিত এইসব ভিনগ্রহবাসীদের বাহনগুলো নিয়ে। নিউজল্যান্ডের সাবেক এক শখের গণিতবিদ ছক কষে বের করেছিলেন ইউএফও দেখা যাওয়ার প্যাটার্ন। তার ওই তত্ত্ব টেনে এনেছে বহু প্রাচীন একটি ধারণাকে - ক্রিস্টাল পৃথিবীর ধারণা। পেন্টাডোডেকাহেড্রন ও হারমোনিক গ্রিড নিয়ে বিশেষ এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স ভিত্তিক সাইট ‘ভাইস’নিউজবাংলা পাঠকদের জন্য সেটি অবলম্বনে লিখেছেন রুবাইদ ইফতেখার।

১৯৭৩ সালে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সের ‘কেমিস্ট্রি অ্যান্ড লাইফ’ জার্নালে চমকপ্রদ শিরোনামের একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়; শিরোনাম ছিল ‘পৃথিবী কি একটি বিশাল ক্রিস্টাল (স্ফটিক)?’

প্রতিবেদনে বেশ গভীর অনুসন্ধান করা হয়। সেটা অনেকটা এমন ছিল: পিথাগোরাস পেন্টাডোডেকাহেড্রন নামের একটি মিশ্র-জ্যামিতিক আকার নিয়ে মজে ছিলেন। এ বিখ্যাত গ্রিক দার্শনিক একে বলতেন ‘মহাজাগতিক গোলক’। প্লেটোও এই আকৃতি নিয়ে আগ্রহী হন ও এর নাম দেন ‘আসল পৃথিবী’। মহাবিশ্ব সৃষ্টির ভিত্তি হিসেবে এ জ্যামিতিক আকারটিকে ধরে নিয়েছিলেন দুজন। পিথাগোরাস, প্লেটো ও তাদের পরবর্তী প্রজন্মের বুদ্ধিজীবীর পাশাপাশি ও অতিন্দ্রীয়বাদের (মিসটিসিজমের) অনেকগুলো ধারায় এই পেন্টাডোডেকাহেড্রনের আসল শক্তিকে গোপন রাখার বিষয়ে জোর দেয়া হয়।

রাশিয়ার প্রতিবেদনটিতে দাবি করা হয় যে, সৃষ্টির শুরুতে পৃথিবী ছিল পেন্টাডোডেকাহেড্রনের কৌণিক মাত্রার একটি বৃহৎ ক্রিস্টাল। কালক্রমে গ্রহটি শেষ ক্ষয়ে ক্ষয়ে একটি গোলকের আকার নেয়। প্রতিবেদনে এই তত্ত্ব দেয়া হয়, ‘পৃথিবী নিজেই একটি জ্যামিতিকভাবে নিয়ন্ত্রিত দ্বৈত গ্রিড তৈরি করে।’ প্রথম গ্রিড ১২টি পঞ্চভুজাকৃতির খণ্ড দিয়ে তৈরি। দ্বিতীয়টি ২০টি সমবাহু ত্রিভুজের সমন্বয়ে তৈরি।

রাশিয়ান গবেষণায় বের করা হয় যে এই স্ফটিক গ্রিডটি পৃথিবীর সমুদ্রের তলের উঁচু-নিচু, ফাটল ও মহাসাগরের নিচে পর্বতসারির সঙ্গে কোনো কোনো জায়গায় মিলে গেছে। মজার বিষয় হলো, ত্রিভুজের একটি শীর্ষবিন্দু গিয়ে পড়েছে কুখ্যাত বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলে। কয়েকটি গেছে প্রাচীন পেরুতে, ইস্টার আইল্যান্ডে ও গিজার পিরামিডে। এই ছেদবিন্দুগুলোতে ভূমিকম্প/আগ্নেয়গিরি, আজব আজব সব জন্তুজানোয়ারের বিচরণস্থল, চরম বায়ুমণ্ডলীয় চাপ, খনিজ আকরিক ও লোহার সঞ্চয় ও স্বাভাবিকের চেয়ে উচ্চতর চুম্বকত্বসহ অন্যান্য অসঙ্গতিপূর্ণ আচরণের দৃষ্টান্ত দেখা যায়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ‘পৃথিবীর জৈবমণ্ডলের অংশ হিসেবে মানুষও ক্রিস্টাল পৃথিবীর প্রভাবমুক্ত নয়’।

এ রকম একটি অদ্ভুত ধারণার ক্ষেত্রে রাশিয়ান ভূতত্ত্ববিদরা একা ছিলেন না। অর্ধেক পৃথিবী দূরত্বে থাকা ব্রুস ক্যাথি নামে নিউজিল্যান্ডের এক ব্যক্তি একই ধরণের গ্রিড তত্ত্ব নিয়ে কাজ করছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, তার এই তত্ত্ব দিয়ে প্রায় সব কিছু ব্যাখ্যা করা সম্ভব।

ইউএফও দেখা যাওয়ার নির্দিষ্ট প্যাটার্ন

ক্যাথি একাধারে ছিলেন নিউজিল্যান্ডের একটি এয়ারলাইনের পাইলট, শখের গণিতবিদ ও ইউএফও তত্ত্বের একজন বিশ্বাসী। ১৯৬৮ সালে একটি অদ্ভূত পর্যবেক্ষণ হাজির করেন তিনি। বিশ্বজুড়ে ইউএফও দেখার রিপোর্ট যাচাই করার পর ক্যাথি নিশ্চিত হন যে তিনি এগুলোর দেখা যাওয়ার স্থানের একটি ভৌগোলিক প্যাটার্ন সনাক্ত করেছেন।

তার জনপ্রিয় কয়েকটি বই ‘হারমোনিক সিক্সনাইনটিফাইভ’, ‘দ্য এনার্জি গ্রিড’ ও ‘দ্য পালস অফ দ্য ইউনিভার্স’-এ তিনি লেখেন, ‘প্রথমে ইউএফওর কেসগুলো এত ছড়ানো-ছিটানো ছিল যে, তাদেরকে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটা ছকে আনা প্রায় অসম্ভব ছিল।’ তবে ক্যাথি নিশ্চিত ছিলেন যে একটা প্যাটার্ন অবশ্যই আছে। যে কারণে তিনি তার তত্ত্ব নিয়ে অগ্রসর হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি আশা করছিলেন জ্যামিতিক পয়েন্টের জটলার মধ্যে ইউএফও কার্যকলাপের অন্তর্নিহিত কারণ খুঁজে পাওয়া যাবে।

‘ক্রিস্টাল পৃথিবীতে’ ব্যাখ্যাতীত সব রহস্যের সমাধান!
নিউজিল্যান্ডের শখের গণিতবিদ ব্রুস ক্যাথি। ছবি: সংগৃহীত

আধুনিক কম্পিউটারের সাহায্য ছাড়াই তিনি ইউএফও দেখার স্থানগুলোর প্রক্রিয়ার একটি প্যাটার্ন বের করেন। প্রথমে তিনি পৃথিবীর একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের একটি প্যাটার্ন প্রতিষ্ঠান করেন, যাকে মূল ধরে তার পক্ষে ‘অনুলিপি বা অনুমানের ভিত্তিতে বাকিগুলোকেও খুঁজে বের করা সম্ভব’ হবে। তবে কাজটি সঠিকভাবে শুরু করতে ক্যাথির দরকার পড়ে প্রচুর ডেটা।

দ্য এনার্জি গ্রিড বইতে ক্যাথি জানান, ১৯৬৫ সালের এপ্রিলে তিনি ইউএফও দেখার এক ‘স্বর্ণখনির’ সন্ধান পান। তিনি পত্রিকায় দেখতে পান, নিউজিল্যান্ড সায়েন্টিফিক অ্যান্ড স্পেস রিসার্চ নামের এক সংস্থা নতুন সদস্য খুঁজছে। তিনি ওই সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেন ও দেখেন তাদের কাছে প্রচুর পরিমাণ তথ্য অত্যন্ত চমৎকারভাবে গোছানো আছে। ক্যাথি তাদের কাছে ১২ বছর ধরে সংগ্রহ করা ২৫টি দেশের তথ্য পান। ক্যাথিকে তারা অবসর সময়ে এগুলো নিয়ে গবেষণার জন্য আমন্ত্রণ জানায়।

নিউজিল্যান্ডের বিভিন্ন অঞ্চলে একই ধরনের ইউএফওর দেখা যাওয়ার বর্ণনা আছে এমন সব রিপোর্টের তালিকা নিয়ে ক্যাথি দ্রুত কাজ শুরু করেন। ইউএফওগুলো দেখা যাবার সময়কে আরও ছোট করে আনেন ক্যাথি। স্থানীয় সময় রাত পৌনে ১০টা থেকে পরের ১৫ মিনিটের তথ্য বাছাই করেন তিনি। হাতে থাকা এই ডেটা পয়েন্টগুলোর সঙ্গে ক্যাথি টানা কয়েক সপ্তাহ ইউএফও ট্র্যাক লাইন হিসেব করেন ও সারা বিশ্বে অন্যান্য গবেষণার সঙ্গে তার হিসেবকে ক্রস-রেফারেন্স করেন।

নিউজিল্যান্ডের মানচিত্রের ওপর ক্যাথি একটি গ্রিড কল্পনা করেন। গ্রিডে উত্তর দক্ষিণ ও পূর্ব-পশ্চিম দিকে ৩০ মিনিটের চাপ হিসেবে করে অক্ষাংশ নেয়া হয়। এর অর্থ হচ্ছে, পৃথিবী পৃষ্ঠের বক্রতার সঙ্গে সমান্তরালে থেকে কেউ ৩০ মিনিটে নির্দিষ্ট দিকে যেটুকু দূরত্ব অতিক্রম করবেন সেইটুকু। হতবাক হয়ে তিনি লক্ষ্য করেন যে, তার ডেটা সেটের ১৬টি স্থির ও ১৭টি চলমান। ইউএফওর দেখা যাওয়ার সবগুলো স্থান তার কল্পিত গ্রিডের ছেদ বিন্দুতে নিঁখুতভাবে বসে গেছে।

ক্যাথি তার তত্ত্ব নিয়ে আরও অনেক দূর যেতে চেয়েছিলেন। তার লক্ষ্য ছিল, এই গ্রিডটিকে পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে দেয়া এবং ইতিহাসের প্রতিটি ইউএফও দর্শনের ঘটনাকে ট্র্যাক করা।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ও রাশিয়ান রিপোর্ট থেকে আংশিক অনুপ্রাণিত হয়ে ক্যাথি তার গ্রিডের হিসেবে মিলে যাওয়া প্রাকৃতিক ঘটনাগুলির তথ্য জোগাড় করেন। তার কাজগুলো একেবারে প্রান্তিক, এমনকি ইউএফও কমিউনিটিতেও এটি প্রান্তিক হিসেবে বিবেচিত। কীভাবে রাশিয়ান ওই গবেষণাটি বিজ্ঞানী সমাজ ও এর বাইরের গবেষকদের প্রভাবিত করেছে, সেটা বোঝা যায় ক্যাথির কাহিনী থেকে। তার কাজ থেকে এটাও প্রমাণ হয় যে অপ্রচলিত ধারার বিজ্ঞান থেকেও চমকপ্রদ সত্যের টুকরো বেরিয়ে আসতে পারে।

মহাসাগরের একটি অদ্ভূত আবিষ্কার ক্যাথিকে তার গবেষণা চালিয়ে নেয়ার এক নতুন পথের সন্ধান দেয়।

১৯৬৪ সালের ২৯ আগস্ট আমেরিকার একটি জাহাজ ‘এলটানিন’ দক্ষিণ আমেরিকার উপকূলবর্তী সমুদ্র তলদেশের গবেষণা কাজে ব্যস্ত ছিল। ওই সফরে পানির নিচের বেশ কিছু ছবি নেয়া হয় ও পরে ডেভেলপ করা হয়। ওই ছবিগুলোর একটিতে অনেকগুলো ক্রসবারসহ একটি সঠিক মাপের অ্যান্টেনা দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় দেখা যায়।

বস্তুটির অবস্থান ছিল অক্ষাংশ 59°08' দক্ষিণ, দ্রাঘিমাংশ 105° পশ্চিমে। ক্যাথির মতে সমুদ্রপৃষ্ঠের সাড়ে ১৩ হাজার ফুট নিচে এই ‘লোহার কারিগরি’ কোনো মানুষের পক্ষে বসানো সম্ভব না। দ্য নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড পত্রিকা একে দ্য এলটানিন অ্যান্টেনা নাম দেয়। পরবর্তীতে এই নামটিই পরিচিত হয়ে ওঠে।

এটা উল্লেখ করা দরকার যে, এলটানিন অ্যান্টেনার সঙ্গে বিরল প্রজাতির এক ধরনের সামুদ্রিক মাংশাসী স্পঞ্জ ক্ল্যাডরজিয়ার (Cladorhiza concrescens) অদ্ভূত মিল রয়েছে। ক্যাথি নিজেও এই মিলের কথা স্বীকার করেছেন, তবে ২০১৩ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বিশ্বাস করতেন যে, আসল সত্যকে ঢাকতেই এই স্পঞ্জের কথা বারবার বলা হচ্ছে।

‘ক্রিস্টাল পৃথিবীতে’ ব্যাখ্যাতীত সব রহস্যের সমাধান!
এলটানিন জাহাজের তোলা ‘অ্যান্টেনার’ ছবি। ছবি: সংগৃহীত

দ্য এনার্জি গ্রিড বইতে ক্যাথি বলেন, এই আবিষ্কারে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি এলটানিন অ্যান্টেনার কো-অরডিনেট, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ইউএফও দেখতে পাওয়া ও তার নিজের তৈরি গ্রিডের সমন্বয় ঘটানোর চেষ্টা শুরু করেন। তার এই গবেষণার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গা থেকে সহায়তা আসতে থাকে।

সহায়তার বড় একটা অংশ আসে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স ও নিউজিল্যান্ডের অন্য পাইলটদের কাছ থেকে। এলটানিনের মতো একই মাপের অপরিচিত কিছু রেডিও ট্র্যান্সমিটারের কথা তারা রিপোর্ট করেন। অচেনা ধরনের ট্র্যান্সমিটারগুলোতে জালের মতো কাঠামো রয়েছে ও প্রতিটা বাহুর শেষে গোলাকার বৃত্ত।

ক্যাথি তখন এই অচেনা অ্যান্টেনাগুলো তার নিউজিল্যান্ডের ইউএফও মানচিত্রে যোগ করেন। ইউএফও দেখার জায়গাগুলোর সঙ্গে যোগ হয় মানুষের তৈরি ট্র্যান্সমিটিং স্টেশন, তালিকার বাইরের স্টেশন ও আমেরিকার সায়েন্টিফিক বেজ।

বাড়তে থাকা অ্যান্টেনার রিপোর্টের নেটওয়ার্কের সঙ্গে প্রতি অঞ্চলের হ্যাম রেডিও ইয়ারবুকের মিল খুঁজে পেলেও ক্যাথি কোনোভাবেই সরকারিভাবে এই ট্র্যান্সমিটারগুলো ব্যবহার বা বসানোর উদ্দেশ্য সম্বন্ধে কিছু জানতে পারেননি। তিনি তার বইয়ে লেখেন, ‘এই মুহূর্তে আমাকে শেষ পর্যন্ত স্বীকার করতেই হচ্ছে যে, একদল ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ার গ্রিড সিস্টেম সম্বন্ধে আমার চেয়ে অনেক বেশি জানে।’

ক্যাথির জন্য পুরো বিষয়টা পরিষ্কার ছিল: গোপনে একটা ছোট গ্রুপ এরই মধ্যে এই গ্রিডের খোঁজ পেয়েছে ও একে অজানা কোনো কারণে ব্যবহার করছে। তার ধারণা পুরোপুরি ভুল ছিল না।

ক্রিস্টাল পেন্টাডোডেকাহেড্রন হিসেবে পৃথিবী

পৃথিবীর ব্যাখ্যাতীত ঘটনাগুলোর জন্য দায়ী গ্রিড সিস্টেম নিয়ে গবেষণায় কোনো ত্রুটি রাখেননি ক্যাথি। তার বিশেষ আগ্রহ ছিল রাশিয়ান প্রতিবেদনটি নিয়ে, আরও নির্দিষ্ট করে ধরলে ক্রিস্টাল গ্রিডের একটি ‘সংযোগস্থলে’, যেখানে গ্যাবনের ফ্রান্সেসভিল শহরের কাছে ওকলো এলাকায় একটি ‘প্রাকৃতিক পারমাণবিক রিয়্যাক্টর’ আছে।

ফরাসি পদার্থবিদ ফ্রান্সিস পেরিঁ ১৯৭৩ সালে ভূগর্ভস্থ আইসোটোপের অনুপাতের হিসেব করে এই বিশেষ জায়গা খুঁজে বের করেন। ওকলোতে ১৬টি এমন স্থান রয়েছে, যেখানে ১৭০ কোটি বছর আগে স্বনির্ভর পারমাণবিক ফিশন ঘটেছিল এবং কয়েক লাখ বছর ধরে চলেছে এই প্রক্রিয়া। পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্টি হওয়া পারমাণবিক রিয়্যাক্টর এটি।

ওকলোতে প্রাকৃতিক রিয়্যাকটর আবিষ্কার ও রাশিয়ান প্রতিবেদনে গ্রিড তত্ত্বের সমর্থন পাওয়ায় ক্যাথি নিজের গবেষণা আরও অপ্রচলিত ধারায় করা শুরু করেন। এবার তিনি কাজ শুরু করেন পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের পূর্বাভাস দেয়া নিয়ে।

‘ক্রিস্টাল পৃথিবীতে’ ব্যাখ্যাতীত সব রহস্যের সমাধান!
নিউজিল্যান্ডের মানচিত্রের ওপর বসানো ব্রস ক্যাথির উদ্ভাবিত গ্রিড। ছবি: সংগৃহীত

ক্যাথি একটা বিষয়ে তার পুরো গবেষণায় অনড় থাকেন। তা হচ্ছে ‘পারমাণবিক কণার আপেক্ষিক গতির কারণে ভূ-পৃষ্ঠের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত একটা নির্দিষ্ট জ্যামিতিক বিন্দুতে একটা নির্দিষ্ট সময়ে’ পারমাণবিক বিস্ফোরণ ঘটানো সম্ভব। ক্যাথি আরও যোগ করেন, ‘পৃথিবী ও সূর্যের আপেক্ষিক গতি যে কোনো নির্দিষ্ট মুহূর্তে বিস্ফোরণে ব্যবহৃত ইউরেনিয়াম, প্লুটোনিয়াম, কোবাল্ট বা অন্যান্য যে কোনো পর্দার্থের অস্থায়ী কণাগুলোকে ব্যহত করবে।’

ক্যাথি তার পদ্ধতি ব্যবহার করে অনুকূল পারমাণবিক বিস্ফোরণের অবস্থা শনাক্ত করার জন্য ভবিষ্যতের পরীক্ষার স্থানগুলোকে নিয়ে বেশ কিছু পূর্বাভাস দেন, শুরুতে যার কয়েকটি মিলেও যায়। ১৯৬৮ সালের আগস্টে ইউএফও গবেষণা উপস্থাপনের জন্য তাকে অকল্যান্ডের রয়্যাল অ্যারোনটিক্যাল সোসাইটিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়। উপস্থাপনার আগের দিন তিনি সোসাইটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে এক ডিনারে দেখা করেন। ওই সন্ধ্যায় কিছুক্ষণ পর তারা ক্যাথির পারমাণবিক বোমার পরীক্ষা তত্ত্ব নিয়ে আলোচনা করেন।

ক্যাথির সঙ্গে যারা ওই দিন ডিনারে ছিলেন, তারা এই তত্ত্বে খুব একটা বিশ্বাস করেননি। চ্যালেঞ্জ হিসেবে ক্যাথিকে তারা ফ্রান্সের পরবর্তী পারমাণবিক বোমা পরীক্ষার তারিখের ভবিষ্যদ্বাণী করতে বলেন। টেবিলে বসেই ক্যাথি হিসেব করে বের করেন যে পরবর্তী পরীক্ষা করা হবে ওই মাসেরই ২৪ তারিখে। ওই মাসের ২৪ তারিখে ফ্রান্সের প্যাসিফিক ক্যারিয়ার ব্যাটল গ্রুপ অপারেশন ক্যানোপাস পরিচালনা করে। এতে ফ্রান্স থার্মোনিউক্লিয়ার ডিভাইস (হাইড্রোজেন বোমা) বিস্ফোরণ ঘটানো বিশ্বের পঞ্চম পারমাণবিক শক্তি ক্ষমতাধর দেশে পরিণত হয়।

ক্যাথি তার নিজস্ব ধাঁচে পূর্বাভাসগুলো শঙ্কা ও আশ্বাসের মিশ্রণ হিসেবে প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘বোমা বিস্ফোরণের জন্য প্রয়োজনীয় সৌর জ্যামিতি নির্দিষ্ট সময় না থাকলে রাশিয়ার কোনো টার্গেটে মিসাইল ছোড়া সফল করতে বহু ঘণ্টা, দিন ও সপ্তাহ লেগে যাবে।’

ক্যাথির জন্য পারমাণবিক বোমা আসলে একটি ‘স্পেসটাইম নির্ভর জ্যামিতিক ডিভাইস’। এর সফল বিস্ফোরণের জন্য প্রয়োজন মানচিত্র, পদার্থবিজ্ঞান ও ত্রিকোনোমিতি নির্ভর হিসেব।

বিশেষ করে ক্যাথি সব কিছুকে এক সুরে গাঁথার প্রতি বিশেষ মনোযোগ দিয়েছেন, প্রক্রিয়াটিকে ক্যাথি বলছেন হারমোনিক্স। কোনো জায়গার ‘হারমোনিক ভ্যালু’ সেখানে পারমাণবিক বিস্ফোরণ সম্ভব করে তোলে। শুধু পারমাণবিক বিস্ফোরণও নয়, এই তত্ত্ব দিয়ে ক্যাথির মতে পৃথিবীর সব ব্যাখ্যাতীত ঘটনাকে ব্যাখ্যা করা যাবে।

হারমোনিক গ্রিড

ক্যাথির মতে ইউএফওর দেখা যাওয়া ও প্রতিটা সফল পারমাণবিক বিস্ফোরণ আসলে কতগুলো ফ্রিকোয়েন্সির কারণে হয়, যেটার নাম তিনি দিয়েছেন হারমোনিক গ্রিড। এই ফ্রিকোয়েন্সিগুলো স্পেসটাইমের নির্দিষ্ট কোনো বিন্দুর আলো, অভিকর্ষ ও ভরের বৈচিত্র্যের ওপর নির্ভরশীল, যে কারণে পৃথিবীর যে কোনো জায়গায় নির্দিষ্ট সময়ে একেবারে অনন্য একটি কম্পণের স্বাক্ষর সৃষ্টি হয়, যাকে বলা হয় হারমোনিক।

ক্যাথি শত শত পৃষ্ঠা খরচ করেছেন এই হারমোনিক গ্রিডের মান বের করার জন্যে। তার গাণিতিক হিসাব নিয়ে বিভিন্ন ফোরামে নানা তর্ক-বিতর্ক হলেও তার চিন্তার উৎস নিয়ে সবাই মোটামুটি পরিষ্কার। ক্যাথি মূলত অনুমান, হার, দূরত্ব এ রকম ভিন্ন ধরনের পরিমাপের ওপর নির্ভর ফরমুলাগুলো থেকে হিসেব করে একটা একক সংখ্যার ফল বের করতে চাচ্ছিলেন। আলোর গতি, অভিকর্ষের শক্তি ও ভর পরিমাপ করে কোনো একক পরিমাপে নিয়ে আসা ছোটখাট কোনো বিষয় নয়। এই সব বিচ্ছিন্ন ও ভিন্ন মানগুলিকে গড়ের মধ্যে নিয়ে আসার সবচেয়ে সুবিধাজনক উপায় হচ্ছে হারমোনিক মিন ব্যবহার করা। একে সহজভাবে বোঝাতে গেলে বলতে হবে, হারমোনিক মিন হচ্ছে সম্পূরকের গড়ের সম্পূরক।

ক্যাথির হিসেবে লাইটের হারমোনিক ১৪,৩৯৯; পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রের হারমোনিক ২,৫৪৫.৫ ও পৃথিবীর ভরের হারমোনিক ১৭,০২৫।

মূল বিষয়গুলো ঘটে হারমোনিকের ছেদবিন্দুগুলোতে। ওই বিন্দুগুলোতে:

১। স্পেস-টাইমের ভেতর এক বিন্দু থেকে আরেক বিন্দুতে ভর স্থানান্তর করতে পারে।

২। ভর বেশি থেকে হ্রাসকৃত অবস্থায় পরিবর্তিত হতে পারে

৩। সঠিক প্রযুক্তি পেলে সময়ের সংকোচন ও প্রসারণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব

ঋণাত্মক বাস্তবতা

ক্যাথির দাবি, এই হারমোনিক পয়েন্টগুলো আসলে ঋণাত্মক বাস্তবতার একেকটি উৎসবিন্দু। বিষয়টা বুঝতে হলে ক্যাথির অ্যান্টি-ম্যাটার নিয়ে ভাবনাটা বুঝতে হবে। মহাশূন্যে একই ইলেকট্রনের ধনাত্মক ও ঋণাত্মক পর্যায়ের মধ্যে দিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে ম্যাটার ও অ্যান্টি-ম্যাটার সৃষ্টি হয়। মহাশূন্যে তরঙ্গ সর্পিলাকার গতিতে ঋণাত্মক ও ধণাত্মক পর্যায়ের মধ্যে দিয়ে যায়। ধনাত্মক পর্যায় যেটি পালস হিসেবে পরিচিত, সেখানে ম্যাটার তৈরি হয়। আর ঋণাত্মক পালসের ক্ষেত্রে তৈরি হয় অ্যান্টি-ম্যাটার।

আমাদের চেতনার সঙ্গে ম্যাটার ও অ্যান্টি-ম্যাটারের সম্পর্ক বোঝানোর জন্য সিনেমার তুলনা দিয়েছেন ক্যাথি। সিনেমার ফিল্মে প্রতিটি স্থির চিত্রকে তিনি বলছেন আমাদের শারীরিক অস্তিত্বের একক পালস। দুটি ফ্রেমের মাঝের পার্থক্যকে তিনি বলছেন অ্যান্টি-ম্যাটারের পালস। ফিল্মটিকে কোন প্রজেক্টর দিয়ে চালালে আমদের জন্য গতি ও সময় প্রক্ষেপণের বিভ্রম তৈরি হয়।

সিনেমা পর্দায় প্রজেকশনের কম্পাঙ্কের কারণে আমরা দুটি স্থিরচিত্রের মধ্যে পার্থক্য দেখতে পাই না। তবে প্রজেক্টরের গতি বাড়িয়ে কমিয়ে আমরা সিনেমার প্রদর্শিত ঘটনার সময় বাড়াতে বা কমাতে পারি। এই রূপকে আমাদের চেতনা হচ্ছে ফিল্ম প্রজেক্টর। ক্যাথির দাবি, মানুষ আসলে ‘দ্বৈত ধারার চেতনা’র অধিকারী।

ক্যাথির হিসেবে হারমোনিক গ্রিডের ছেদবিন্দুর বৈদ্যুতিক পালসের কম্পাঙ্ক বদলাতে থাকে। এটি আমাদের স্পেস-টাইমের অভিজ্ঞতায় প্রভাব ফেলার জন্য যথেষ্ট। আমাদের বাস্তবতার ধারণা এক বিন্দু থেকে আরেক বিন্দুতে স্থানান্তর হয়। ক্যাথির মতে, ‘আমরা স্পেসে এক বিন্দু থেকে আরেক বিন্দুতে স্থানান্তরিত হই, কিন্তু আমরা সেটা শারীরিকভাবে বুঝতে পারি না।’

বিতর্ক

ক্যাথির তত্ত্বকে প্রত্যাখানকারীদের সংখ্যা কম নয়, বরং সময়ের সঙ্গে সে সংখ্যা বাড়ছে। সবচেয়ে বেশি সমালোচনা করেন গণিত সমাজ। যারা ক্যাথির কাজকে পদার্থবিজ্ঞান কম ও ‘অদ্ভুতূড়ে গণিত’ বলে উড়িয়ে দেন। ক্যাথির কাজ নিয়ে আরেকটি সমালোচনা হচ্ছে যে তার গবেষণায়, ‘বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের চেয়ে দাবি বেশি’।

ইউএফওনেট ডটআইটি তার হারমোনিক্স তত্ত্বকে বলেছে ‘তুচ্ছ কিছু সংখ্যাভিত্তিক খেলা, যেটার কোনো তাৎপর্য নেই।’ সফল পারমাণবিক বিস্ফোরণের জন্য ক্যাথির স্পেস-টাইমের শর্তগুলি সম্পূর্ণরূপে এখন অপ্রাসঙ্গিক। এই মুহূর্তে এটা বলা নিরাপদ যে, পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের ক্ষেত্রে ভূগোল কোনো নির্ধারক ভূমিকা পালন করে না।

শেয়ার করুন