‘ভাগের মা’ দুর্গা, কলকাতার মণ্ডপে ‘বাংলাদেশ’

‘ভাগের মা’ দুর্গা, কলকাতার মণ্ডপে ‘বাংলাদেশ’

দক্ষিণ কলকাতার বারিশা ক্লাবে ‘ভাগের মা’ থিমে পূজা মণ্ডপ। ছবি: এএনআই

এ বছর মণ্ডপ দুই ভাগে বিভক্ত করে সাজানো হয়েছে। বাম পাশের অংশ বাংলাদেশ এবং ডান পাশের অংশ ভারতীয় সীমান্তের প্রতীক। দুটোর মাঝখানে ‘নো ম্যানস্ ল্যান্ড’, যেখানে দেবী দুর্গাকে বহন করা এক নারীর প্রতিমা রয়েছে। নারীটিকে ঘিরে রয়েছে তার চার সন্তান, যারা ডিটেনশন কেন্দ্রে আটক শরণার্থী পরিবারের সদস্য।

দেবী দুর্গার প্রতিমায় উঠে এলো রাষ্ট্রহীন মানুষের প্রতিচ্ছবি। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবে ভারতের বিতর্কিত নাগরিকত্ব ইস্যুকে তুলে ধরলেন সুশীলরা।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় একটি পূজা মণ্ডপে এ বছর ‘ভাগের মা’ সাজানো হয়েছে দুর্গাকে। এর মাধ্যমে উৎসবের আমেজে তুলে ধরা হয়েছে সমাজে বিভক্তি আর অভিবাসী সংকটে জর্জরিত মানুষের মুখকে।

‘ভাগের মা’ থিমে পূজা মণ্ডপ সাজিয়েছে দক্ষিণ কলকাতার বারিশা ক্লাব। নরেন্দ্র মোদির সরকারের জাতীয় নাগরিকত্ব তালিকাকে (এনআরসি) কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্ক এবং ভারতের সমাজে অভিবাসী বংশোদ্ভূতদের দুর্দশা প্রতীকীভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে প্যান্ডেলগুলোতে।

গত বছরের পূজাতেও অভিবাসী বংশোদ্ভূতদের নিয়ে প্যান্ডেল সাজিয়ে শহরজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল ক্লাবটি। এ বছর মণ্ডপ দুই ভাগে বিভক্ত করে সাজানো হয়েছে। বাম পাশের অংশ বাংলাদেশ এবং ডান পাশের অংশ ভারতীয় সীমান্তের প্রতীক।

দুটোর মাঝখানে ‘নো ম্যানস্ ল্যান্ড’, যেখানে দেবী দুর্গাকে বহন করা এক নারীর প্রতিমা রয়েছে। নারীটিকে ঘিরে রয়েছে তার চার সন্তান, যারা ডিটেনশন কেন্দ্রে আটক শরণার্থী পরিবারের সদস্য।

একটি ট্রাকের ভেতরে বসে থাকা ওই নারীর চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে তার সংসারের জিনিসপত্র। এলোমেলো জিনিসপত্রের মধ্যে মেঝেতে গড়াগড়ি খাচ্ছে একটি রঙিন শাড়ি আর পুরো দৃশ্যের পেছনে ছাদ থেকে ঝুলছে কয়েকটি ভোটার পরিচয়পত্রের কার্ড, যার মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে মানুষের নাগরিকত্ব হারানোর ভীতি।

পূজা মণ্ডপের স্থপতি রিন্টু দাস টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়াকে বলেন, ‘নাগরিকত্ব হারানো এক ধরনের অস্তিত্বের সংকট। দেশভাগ আর মানুষের জীবনে এর যন্ত্রণা বাংলা আজও ভুলতে পারেনি। মানুষ আরও একবার সবকিছু হারানোর শঙ্কায় ভীত-সন্ত্রস্ত। এই সময়ে আরেকবার সেই ক্ষতি তুলে ধরার চেষ্টা করেছি আমি।

চূড়ান্ত নাগরিকত্ব তালিকা বা এনআরসির মাধ্যমে ভারতের বৈধ নাগরিকদের শনাক্ত ও স্বীকৃতির কথা বলছে দেশটির সরকার। আসাম রাজ্যে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে এ তালিকায় ঠাঁই হয়নি ১৯ লাখের বেশি বাসিন্দার। ২০১৯ সালে তালিকাভুক্তির আবেদন করা রাজ্যের সাড়ে তিন কোটি বাসিন্দার অন্তর্ভুক্ত তারা। বিষয়টি নিয়ে সে সময় ভারতের রাজনীতিতে তুমুল জলঘোলা হয়।

কাছাকাছি সময় নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন পাস হয়। দুটি বিষয় মিলিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়, যা পরে গণআন্দোলনে রূপ নিলেও করোনাভাইরাস মহামারির কারণে সে আন্দোলন স্তিমিত হয়ে যায়।

গত বছর বারিশা ক্লাবের দুর্গা পূজার মণ্ডপে দেবী প্রতিমাটি ছিল এক অভিবাসী মায়ের। করোনাভাইরাসের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে আরোপিত লকডাউনের সময় আশ্রয়ের খোঁজে শত শত কিলোমিটার হাঁটা ভাসমান শ্রমিকের রূপে দুর্গাকে ফুটিয়ে তুলেছিলেন রিন্টু দাস।

তিনি বলেছিলেন, ‘প্রখর সূর্যের তাপ, ক্ষুধা আর দারিদ্রকে উপেক্ষা করে সন্তানদের নিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন দেবী… সন্তানদের নিয়ে মায়েদের অদম্য সে যাত্রা আমার অনুভূতিকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। আমার মনে দেবী দুর্গাকে ধারণ করেছিলেন তারাই।’

চলতি বছর প্রতিমাটি তৈরি করেছেন দেবায়ন প্রামাণিক, প্রতাপ মজুমদার ও সুমিত বিশ্বাস। বিশাল মণ্ডপের পুরোটাতেই এক রঙের প্রাধান্য রেখে এক ধরনের বিষণ্নতার পরিবেশ ফুটিয়ে তুলেছেন তারা।

রিন্টু দাস বলেন, ‘মা কি ডিটেনশন ক্যাম্পে যাচ্ছেন? এমন অগণিত পরিবারের ভবিষ্যৎ কী? যারাই এ মণ্ডপে আসবেন, সেই দর্শনার্থীদের কাছেই এ প্রশ্নের উত্তর ছেড়ে দিয়েছি আমি।’

কলকাতার দুর্গা পূজার মণ্ডপে সমসাময়িক আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়াবলী ফুটিয়ে তোলা প্রায় স্বাভাবিক ঘটনা। উত্তর কলকাতায় বিশাল একটি পূজা মণ্ডপের থিম গড়ে তোলা হয়েছে বিতর্কিত কৃষি আইনের বিরুদ্ধে সংগ্রামরত ভারতীয় কৃষকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে।

আরও পড়ুন:
ষষ্ঠীর বোধনে দুর্গাপূজা শুরু সোমবার
শারদীয় দুর্গাপূজা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি
ক্যাপসুল ও সিরিঞ্জ দিয়ে অভিনব প্রতিমা
পূজা নিয়ে অপপ্রচার মূল জনগোষ্ঠীর কাজ না: ডিএমপি কমিশনার
নিয়মে সীমাবদ্ধ দুর্গাপূজা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

আফগানিস্তানকে সহায়তায় বিশ্বব্যাংকের প্রতি আহ্বান চীনের

আফগানিস্তানকে সহায়তায় বিশ্বব্যাংকের প্রতি আহ্বান চীনের

আফগানিস্তানের চলমান সংকট নিরসনে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের প্রতি আহ্বান জানান চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। ছবি: রয়টার্স

আফগানিস্তানের ওপর থেকে একতরফা নিষেধাজ্ঞা তুলতে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য পশ্চিমা দেশের প্রতি ফের আহ্বান জানান চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।

নগদ অর্থের চরম সংকটে থাকা আফগানিস্তানকে ফের আর্থিক সহায়তা দিতে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।

দক্ষিণ এশিয়ার যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটি পুনর্গঠনের স্বার্থে তিনি আন্তর্জাতিক দুই সংস্থার প্রতি ওই আহ্বান জানান বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

১৫ আগস্ট কাবুল পতনের মধ্য দিয়ে আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করে তালেবান।

এরপরই দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার জব্দ করে যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন আর্থিক সংস্থা আফগানিস্তানের তহবিলের প্রবেশাধিকার স্থগিত করে ।

অবশ্য পরিমাণে আগের মতো না হলেও আফগানিস্তানে বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার মানবিক সহায়তা পাঠানো অব্যাহত রয়েছে।

এমন পরিপ্রেক্ষিতে আফগানিস্তানের ব্যাংকগুলোতে নগদ অর্থের ব্যাপক সংকট দেখা দিয়েছে। ব্যাংকে অর্থাভাবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কয়েক মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না। খাদ্যের দাম সাধারণ জনগণের নাগালের বাইরে চলে গেছে।

মঙ্গলবার আইএমএফের পক্ষ থেকে বলা হয়, চলতি বছরে আফগান অর্থনীতির ৩০ শতাংশ পর্যন্ত সংকোচন ঘটবে। আর এতে শরণার্থীসংকট প্রকট আকার ধারণ করার শঙ্কা রয়েছে।

আফগানিস্তানের প্রতিবেশী দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে ভিডিওতে আলাপের সময় চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং বলেন, ‘সব ক্ষেত্রেই আফগানিস্তানের সহযোগিতা প্রয়োজন। উন্নয়ন দেশটির সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’

আফগানিস্তানের ওপর থেকে একতরফা নিষেধাজ্ঞা তুলতে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য পশ্চিমা দেশের প্রতি ফের আহ্বান জানান চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং।

একই সঙ্গে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলায় আফগানিস্তানকে আরও টিকা ও চিকিৎসাসামগ্রী দিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রতিও আহ্বান জানান তিনি।

চীনের পক্ষ থেকে সম্প্রতি বলা হয়, আফগানিস্তানে তিন কোটি ডলার মূল্যের জরুরি মানবিক সহায়তা পাঠাবে বেইজিং।

আফগানিস্তানে ক্ষমতাসীন তালেবান সরকারকে বিচ্ছিন্ন না করে বরং তাদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের উদ্যোগ নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি বারবার আহ্বান জানিয়ে আসছে চীন।

এ বিষয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং বলেন, ‘আমার মনে হয়েছে, বহির্বিশ্বের সঙ্গে আলোচনা ও সহযোগিতায় আগ্রহী তালেবান। এ বিষয়ে তাদের যথেষ্ট আন্তরিক লেগেছে।’

আরও পড়ুন:
ষষ্ঠীর বোধনে দুর্গাপূজা শুরু সোমবার
শারদীয় দুর্গাপূজা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি
ক্যাপসুল ও সিরিঞ্জ দিয়ে অভিনব প্রতিমা
পূজা নিয়ে অপপ্রচার মূল জনগোষ্ঠীর কাজ না: ডিএমপি কমিশনার
নিয়মে সীমাবদ্ধ দুর্গাপূজা

শেয়ার করুন

পাকিস্তানি তালেবানকে প্রশ্রয় দেয়া উচিত নয়: মালালা

পাকিস্তানি তালেবানকে প্রশ্রয় দেয়া উচিত নয়: মালালা

ডনের সাংবাদিক আদিল শাহজেবের সঙ্গে মুখোমুখি হন পাকিস্তানি অধিকারকর্মী মালালা ইউসুফজাই। ছবি: ডন

‘পাকিস্তানের জনগণ টিটিপিকে সমর্থন করে না। দেশের কোনো প্রান্ত থেকে কেউই বলছে না, তারা তালেবান সরকার চায়। তাই আমি মনে করি, পাকিস্তানি তালেবানকে সরকারের প্রশ্রয় দেয়ার কিছু নেই।’

শান্তিতে নোবেলজয়ী মালালা ইউসুফজাই বলেছেন, স্থানীয় তালেবানকে প্রশ্রয় দেয়া পাকিস্তান সরকারের উচিত হবে না। দেশে তাদের কোনো জনসমর্থন নেই।

ডনের ‘লাইভ উইথ আদিল শাহজেব’ অনুষ্ঠানে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

স্থানীয় তালেবান তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) সঙ্গে বৈঠক ও সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সাম্প্রতিক বিবৃতির বিষয়ে সাক্ষাৎকারটিতে মালালার মতামত জানতে চাওয়া হয়।

মালালা সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীকে বলেন, ‘আমার মতে, আপনি কোনো সংগঠনের সঙ্গে তখনই চুক্তি করবেন, যখন আপনি বিশ্বাস করেন, ওই সংগঠনকে গুরুত্বের সঙ্গে নেয়া উচিত বা তারা শক্তিশালী একটি বাহিনী।

‘পাকিস্তানের জনগণ টিটিপিকে সমর্থন করে না। দেশের কোনো প্রান্ত থেকে কেউই বলছে না, তারা তালেবান সরকার চায়। তাই আমি মনে করি, পাকিস্তানি তালেবানকে সরকারের প্রশ্রয় দেয়ার কিছু নেই।’

তালেবানকে সাধারণভাবে বিশ্লেষণ করতে গিয়ে মালালা বলেন, ‘ভালো তালেবান ও মন্দ তালেবানের মধ্যে কোনো পার্থক্য খোঁজার চেষ্টা করা উচিত নয়।

‘ভালো ও মন্দ তালেবানের চিন্তা এক। উভয় পক্ষই নির্যাতন ও নিজেদের আইন জোর করে চাপিয়ে দেয়ার পক্ষে।

‘তারা নারী অধিকার ও মেয়েদের শিক্ষার বিপক্ষে। তালেবানের শাসনে কোনো ধরনের বিচারব্যবস্থা আমার চোখে পড়েনি। কিন্তু ইসলাম ন্যায়বিচারের নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত।’

দীর্ঘদিন ধরে নারীশিক্ষা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন মালালা। আফগানিস্তানে নারীশিক্ষার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘নারীশিক্ষার ওপর দেশটির সাময়িক বিধিনিষেধ তালেবানের আগের শাসনামলের মতো প্রলম্বিত হওয়া ঠিক হবে না।

‘নব্বই দশকে তালেবানের পাঁচ বছরের শাসনামলে আফগানিস্তানে নারীশিক্ষা নিষিদ্ধ ছিল। ওই আমলের পুনরাবৃত্তি আমরা চাই না।’

পাকিস্তানি অধিকারকর্মী মালালা বলেন, ‘আফগানিস্তানের নারী অধিকারকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ নারীরা তাদের অধিকারের দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন। তারা তালেবান সরকারের ওপর চাপ দিচ্ছেন। এটি ইতিবাচক দিক।’

নারীশিক্ষা প্রসারে কাজ করা ১৫ বছর বয়সী মালালাকে ২০১২ সালের ৯ অক্টোবর পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের সোয়াত জেলায় তালেবানের এক সদস্য গুলি করে।

২০১৪ সালে সবচেয়ে কম বয়সী হিসেবে শান্তিতে নোবেল পান তিনি।

আরও পড়ুন:
ষষ্ঠীর বোধনে দুর্গাপূজা শুরু সোমবার
শারদীয় দুর্গাপূজা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি
ক্যাপসুল ও সিরিঞ্জ দিয়ে অভিনব প্রতিমা
পূজা নিয়ে অপপ্রচার মূল জনগোষ্ঠীর কাজ না: ডিএমপি কমিশনার
নিয়মে সীমাবদ্ধ দুর্গাপূজা

শেয়ার করুন

ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করে চীনকে বার্তা ভারতের

ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করে চীনকে বার্তা ভারতের

বুধবার রাতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র অগ্নি-৫-এর সফল পরীক্ষা চালায় ভারত। ছবি: সংগৃহীত

স্থানীয় সময় বুধবার রাত প্রায় ৮টার দিকে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় ওড়িশা উপকূলের এপিজে আব্দুল কালাম দ্বীপ থেকে ওই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়।

সীমান্তে চীনের আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের জবাবে পাঁচ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যে আঘাত হানতে সক্ষম একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা করেছে ভারত।

অগ্নি-৫ নামের ওই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার মাধ্যমে চীনের প্রতি দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ দেশটি কড়া বার্তা দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইন্টারকন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক মিসাইল (আইসিবিএম) ক্যাটাগরির ক্ষেপণাস্ত্র এই অগ্নি-৫। স্থানীয় সময় বুধবার রাত প্রায় ৮টার দিকে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় ওড়িশা উপকূলের এপিজে আব্দুল কালাম দ্বীপ থেকে ওই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়।

অগ্নি-৫ ক্ষেপণাস্ত্রটি তিন পর্যায়ের কঠিন জ্বালানি ব্যবহার করে। লক্ষ্যবস্তুকে এটি প্রায় নির্ভুলভাবে আঘাত করতে পারে।

ভারতের পরমাণু অস্ত্র বা ক্ষেপণাস্ত্র নীতি অনুযায়ী অগ্নি-৫-এর সফল পরীক্ষা চালানো হয়। প্রতিপক্ষ প্রথমে আঘাত না করলে এ ধরনের অস্ত্রের ব্যবহার হয় না।

এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছাড়াও ভারতের সাবমেরিন-ভিত্তিক পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। তবে ওই ক্ষেপণাস্ত্র এখন পর্যন্ত অগ্নি-৫-এর মতো এত দূরপাল্লায় পরীক্ষা করা হয়নি।

২০১২ সালে প্রথম অগ্নি-৫ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা হয়।

ভারতের প্রতিরক্ষা সংস্থা ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ডিআরডিও) অগ্নি-১ থেকে অগ্নি-৫ ক্ষেপণাস্ত্র নকশা ও উন্নত করার দায়িত্ব পালন করছে।

এ মুহূর্তে ভারতের হাতে পাঁচটি ভিন্ন ক্ষমতার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। এগুলো হলো ৭০০ কিলোমিটার পাল্লার অগ্নি-১, দুই হাজার কিলোমিটার পাল্লার অগ্নি-২ ও অগ্নি-৩, আড়াই হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজারের বেশি পাল্লার অগ্নি-৪।

চলতি বছরের জুনে পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম অগ্নি প্রাইম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা করে ভারত। এটি অগ্নি ঘরানার ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়ে আরও উন্নত সংস্করণের ক্ষেপণাস্ত্র। ওই ক্ষেপণাস্ত্রও ওড়িশা উপকূল থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন:
ষষ্ঠীর বোধনে দুর্গাপূজা শুরু সোমবার
শারদীয় দুর্গাপূজা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি
ক্যাপসুল ও সিরিঞ্জ দিয়ে অভিনব প্রতিমা
পূজা নিয়ে অপপ্রচার মূল জনগোষ্ঠীর কাজ না: ডিএমপি কমিশনার
নিয়মে সীমাবদ্ধ দুর্গাপূজা

শেয়ার করুন

চীনের নতুন ভূমি আইন নিয়ে উদ্বিগ্ন ভারত

চীনের নতুন ভূমি আইন নিয়ে উদ্বিগ্ন ভারত

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচি। ফাইল ছবি

নতুন আইনে চীন ও পাকিস্তানের মধ্যকার সীমান্ত চুক্তিকে বৈধতা দেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ ভারতের। বেইজিং-ইসলামাবাদের ১৯৬৩ সালের চুক্তিটির ঘোর বিরোধী নয়া দিল্লি।

চীন-ভারত সীমান্তে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থায় বেইজিংয়ের নতুন ভূমি আইন প্রভাব ফেলতে পারে বলে উদ্বেগ জানিয়েছে নয়া দিল্লি। অভিযোগ, কোনো আলোচনা ছাড়াই একতরফাভাবে ভূমি আইনবিষয়ক নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে চীন সরকার।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানায়, চীনের নতুন আইনের কারণে দুই দেশের অমীমাংসিত সীমান্ত বিতর্কে প্রভাব পড়তে পারে।

দিল্লিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচি বলেন, “এটা বুঝতে হবে যে ভারত ও চীন এখনও সীমান্ত সমস্যার সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি। এ অবস্থায় একটি নতুন ভূমি আইন ও চীনের একতরফা সিদ্ধান্ত সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনার কারণ হতে পারে।

‘এ ছাড়া সীমান্ত ইস্যুতে আমাদের বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক চুক্তিও ঝুঁকিতে পড়তে পারে। বিষয়টি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।’

অরিন্দম বাগচি আরও বলেন, ‘এই আইনের ঘোষণা এমন এক সময়ে এসেছে যখন বেইজিং ও নয়াদিল্লির মধ্যে পূর্ব লাদাখে অচলাবস্থা সমাধানের জন্য আলোচনা চলছে। নতুন এ আইনটির অর্থ হলো- সীমান্তে নিয়ন্ত্ররেখা বিষয়ে বর্তমান অবস্থানেই অনড় থাকবে চীন।’

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, চীন এ আইনের দোহাই দিয়ে সীমান্ত পরিস্থিতি উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া থেকে বিরত থাকবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নতুন আইনে চীন ও পাকিস্তানের মধ্যকার সীমান্ত চুক্তিকে বৈধতা দেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ ভারতের। বেইজিং-ইসলামাবাদের ১৯৬৩ সালের চুক্তিটির ঘোর বিরোধী নয়া দিল্লি।

আরও পড়ুন:
ষষ্ঠীর বোধনে দুর্গাপূজা শুরু সোমবার
শারদীয় দুর্গাপূজা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি
ক্যাপসুল ও সিরিঞ্জ দিয়ে অভিনব প্রতিমা
পূজা নিয়ে অপপ্রচার মূল জনগোষ্ঠীর কাজ না: ডিএমপি কমিশনার
নিয়মে সীমাবদ্ধ দুর্গাপূজা

শেয়ার করুন

তৃণমূলে গেলেন বিজেপি বিধায়ক

তৃণমূলে গেলেন বিজেপি বিধায়ক

চলতি বছর পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন কৃষ্ণ কল্যাণী। ছবি: সংগৃহীত

বেশ কিছুদিন ধরে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে রায়গঞ্জের বিধায়কের বিরোধ চলছিল। নাম উল্লেখ না করলেও বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব ও স্থানীয় সংসদ সদস্য দেবশ্রী চৌধুরীর ওপর কৃষ্ণ কল্যাণীর ক্ষোভ স্পষ্ট ছিল।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে রাজ্য বিজেপিতে ভাঙন অব্যাহত। সবশেষ দলত্যাগ করেছেন রায়গঞ্জের বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণী, ফিরেছেন নিজের পুরোনো ঘাঁটি তৃণমূলে।

তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও জোড়াসাঁকোর বিধায়ক বিবেক গুপ্তার উপস্থিতিতে বুধবার নিজের তৃণমূলের পতাকা হাতে তুলে নেন কৃষ্ণ কল্যাণী।

চলতি বছর পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন কৃষ্ণ কল্যাণী। বিজেপির টিকিটেই রায়গঞ্জ থেকে বিধানসভা সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।

কিন্তু রাজ্য বিজেপির অন্তর্কোন্দলে বীতশ্রদ্ধ কল্যাণী পুরনো দল তৃণমূলে ফিরতে চাইছিলেন বেশ কিছুদিন ধরে।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্মতিতে আবার তৃণমূল পতাকা হাতে তুলে নেন কল্যাণী।

পুরোনো দলে ফিরে কৃষ্ণ কল্যাণী বলেন, ‘বিজেপিতে আছে খালি ষড়যন্ত্র। তা দিয়ে নির্বাচনের ময়দানে জেতা যায় না। জিততে হলে দরকার উন্নয়ন। আমি কাজ করার চেষ্টা করেছি, বিনিময়ে ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছি। তাই বিজেপি ছাড়তে বাধ্য হয়েছি।’

তৃণমূলে ফেরার প্রতিক্রিয়ায় কৃষ্ণ কল্যাণী আরও বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যা কথা দেন, তা করে দেখান। ভোটের আগে তিনি যা যা বলেছিলেন, ক্ষমতায় ফিরে সব করে দেখিয়েছেন। এতে অভিভূত আমি। ধন্যবাদ জানাই মমতাদি আর অভিষেকদাকে।’

বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে কৃষ্ণ কল্যাণী বলেন, ‘বিজেপিতে ভালো কাজের কোনো মূল্যায়ন নেই। বিজেপিতে যোগ দিয়ে যে ভুল করেছিলাম, তা এবার শুধরে নিচ্ছি।’

বেশ কিছুদিন ধরে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে রায়গঞ্জের বিধায়কের বিরোধ চলছিল। নাম উল্লেখ না করলেও বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব ও স্থানীয় সংসদ সদস্য দেবশ্রী চৌধুরীর ওপর কৃষ্ণ কল্যাণীর ক্ষোভ স্পষ্ট ছিল।

এ অবস্থায় সংবাদ সম্মেলন করে দলের সব কর্মসূচি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে দল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। গত ১ অক্টোবর জানিয়েছিলেন, দেবশ্রী চৌধুরীর সঙ্গে একই দল করা সম্ভব নয়।

২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ৭৭টি আসনে জয়লাভ করে বিজেপি। নিশীথ প্রামাণিক এবং জগন্নাথ সরকার তাদের সংসদ সদস্য পদ ধরে রাখতে বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিলে ৭৭ থেকে নেমে ৭৫ জনে নেমে আসে বিধায়কের সংখ্যা।

এরপর বিজেপি দলীয় পাঁচজন বিধায়ক দল ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন। ফলে বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিধায়কের সংখ্যা ৭০।

আরও পড়ুন:
ষষ্ঠীর বোধনে দুর্গাপূজা শুরু সোমবার
শারদীয় দুর্গাপূজা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি
ক্যাপসুল ও সিরিঞ্জ দিয়ে অভিনব প্রতিমা
পূজা নিয়ে অপপ্রচার মূল জনগোষ্ঠীর কাজ না: ডিএমপি কমিশনার
নিয়মে সীমাবদ্ধ দুর্গাপূজা

শেয়ার করুন

পেগাসাস স্পাইওয়্যার: ভারতের সুপ্রিম কোর্টের তদন্ত কমিটি গঠন

পেগাসাস স্পাইওয়্যার: ভারতের সুপ্রিম কোর্টের তদন্ত কমিটি গঠন

প্রতীকী ছবি।

দুই মাস পর এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী শুনানি হবে এবং সেদিন কমিটিটি প্রতিবেদন জমা দেবে। আদালতের রায়ে বলা হয়, ‘সরকারকে নোটিশ জারি করা হয়েছিল।... বারবার সুযোগ দেয়া সত্ত্বেও সরকার সীমিত হলফনামা দিয়েছে, যা স্পষ্ট নয়। স্পষ্টভাবে সব জানানো হলে পুরো বিষয়টা বোঝা সহজ হতো। প্রতিবার জাতীয় নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে তথ্য অস্পষ্ট রেখে সরকার পার পাবে না।’

ইসরায়েলের ফোন হ্যাকিং সফটওয়্যার পেগাসাসের মাধ্যমে ভারতে নজরদারি অভিযোগ খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে একটি তদন্ত প্যানেলও গঠন করেছে সর্বোচ্চ আদালত।

সুপ্রিম কোর্টের মতে, এ ধরনের সফটওয়্যার ব্যবহার ও নজরদারির অভিযোগ জনগণের মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং সমাজে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।

ভারতের প্রধান বিচারপতি এনভি রামানা এবং বিচারপতি সূর্যকান্ত ও হিমা কোহলির বেঞ্চ এই রায় দেন।

গঠিত তদন্ত প্যানেলের প্রধান হবেন সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আরভি রবীন্দ্রন।

কমিটির বাকি তিন সদস্য হলেন- গুজরাটের গান্ধীনগরের ন্যাশনাল ফরেনসিক সায়েন্সেস ইউনিভার্সিটির সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ডিজিটাল ফরেনসিক বিভাগের অধ্যাপক ও ডিন ড. নবীন কুমার চৌধুরী; কেরালার অমৃতপুরীর অমৃতা বিশ্ব বিদ্যাপীঠমের প্রকৌশলের অধ্যাপক ড. পি প্রবাহরণ এবং মহারাষ্ট্রের মুম্বাইয়ের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির (আইআইটি) কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশলের সহযোগী অধ্যাপক ড. অশ্বিন অনিল গুমাস্তে।

এ ছাড়া কমিটির প্রধানকে সহায়তা করবেন প্রাক্তন আইপিএস আধিকারিক অলোক যোশী ও ডা. সুন্দীপ ওবেরয়।

দুই মাস পর এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী শুনানি হবে এবং সেদিন কমিটিটি প্রতিবেদন জমা দেবে।

আদালতের রায়ে বলা হয়, ‘সরকারকে নোটিশ জারি করা হয়েছিল। পেগাসাস স্পাইওয়্যার নজরদারির অভিযোগের বিষয়ে সরকারের গৃহীত সব পদক্ষেপের বিশদ বিবরণ দেয়ার যথেষ্ট সুযোগ দেয়া হয়েছে।

‘বারবার সুযোগ দেয়া সত্ত্বেও সরকার সীমিত হলফনামা দিয়েছে, যা স্পষ্ট নয়। স্পষ্টভাবে সব জানানো হলে পুরো বিষয়টা বোঝা সহজ হতো। প্রতিবার জাতীয় নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে তথ্য অস্পষ্ট রেখে সরকার পার পাবে না।’

সুপ্রিম কোর্ট আরও বলে, ‘আদালত জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে অনধিকার প্রবেশ করবে না। কিন্তু জাতীয় নিরাপত্তার কথা বলে আদালতকে নীরব দর্শকে পরিণত করা যাবে না।’

পেগাসাস নজরদারি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদনকারীদের মধ্যে ছিলেন আইনজীবী এমএল শর্মা, রাজ্যসভা সদস্য জন ব্রিটাস, হিন্দু গ্রুপ অফ পাবলিকেশন্সের পরিচালক এন রাম, এশিয়ানেটের প্রতিষ্ঠাতা শশী কুমার এবং এডিটরস গিল্ড অফ ইন্ডিয়ার সদস্য প্রেম শঙ্কর ঝা, রূপেশ কুমার সিং, ইপসা শতাব্দী, পরঞ্জয় গুহঠাকুরতা ও এসএনএম আবদি।

আরও পড়ুন:
ষষ্ঠীর বোধনে দুর্গাপূজা শুরু সোমবার
শারদীয় দুর্গাপূজা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি
ক্যাপসুল ও সিরিঞ্জ দিয়ে অভিনব প্রতিমা
পূজা নিয়ে অপপ্রচার মূল জনগোষ্ঠীর কাজ না: ডিএমপি কমিশনার
নিয়মে সীমাবদ্ধ দুর্গাপূজা

শেয়ার করুন

আদালতে সু চির প্রথম সাক্ষ্য, ‘উসকানি’র অভিযোগ প্রত্যাখ্যান

আদালতে সু চির প্রথম সাক্ষ্য, ‘উসকানি’র অভিযোগ প্রত্যাখ্যান

মিয়ানমারের ক্ষমতাচ্যুত রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি। ফাইল ছবি

সু চির আইনজীবীদের একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বার্তা সংস্থা মিয়ানমার নাওকে বলেন, ‘নিজেকে নির্দোষ প্রমাণে আদালতে সু চি ভালোভাবেই তার বক্তব্য উপস্থাপন করতে পেরেছেন।’ শুনানির বিষয়ে সু চির আইনজীবীদের সংবাদমাধ্যমে কথা বলায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সেনাবাহিনী। তাই এ নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেননি ওই আইনজীবী।

১ ফেব্রুয়ারির সেনা অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত ও গ্রেপ্তার হওয়ার পর ৯ মাসে প্রথমবার আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন মিয়ানমারের জনপ্রিয় নেত্রী অং সান সু চি। সাবেক এই রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা তার বিরুদ্ধে আনীত ‘জনগণকে উসকে দেয়ার’ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।

অভ্যুত্থানের ফলে চরম দোলাচলে থাকা মিয়ানমারের সেনাবাহিনী সু চির বিরুদ্ধে কমপক্ষে ১১টি অভিযোগ গঠন করেছে। দোষী সাব্যস্ত হলে ৭৬ বছর বয়সী এই নেত্রীকে দীর্ঘ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হতে পারে।

আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, অভ্যুত্থানের পর ফেব্রুয়ারি মাসেই সু চির দল সামরিক শাসকগোষ্ঠীর নিন্দা জানিয়ে দুটি বিবৃতি দেয়। বিবৃতিতে সেনাবাহিনীর সঙ্গে কাজ না করতে আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর প্রতি আহ্বানও জানানো হয়েছিল। এ ঘটনায় সু চির বিরুদ্ধে উসকানির অভিযোগ এনেছে জান্তা সরকার।

আদালতে মঙ্গলবারের রুদ্ধদ্বার শুনানিতে এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন সু চি।

সু চির আইনজীবীদের একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বার্তা সংস্থা মিয়ানমার নাওকে বলেন, ‘নিজেকে নির্দোষ প্রমাণে আদালতে সু চি ভালোভাবেই তার বক্তব্য উপস্থাপন করতে পেরেছেন।’

শুনানির বিষয়ে সু চির আইনজীবীদের সংবাদমাধ্যমে কথা বলায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সেনাবাহিনী। তাই এ নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেননি ওই আইনজীবী।

২০২০ সালের নভেম্বরের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় অর্জনের পর নতুন সরকার পার্লামেন্ট অধিবেশনে বসার কয়েক ঘণ্টা আগেই হয় অভ্যুত্থান। এর পরই সু চিসহ বেসামরিক সরকারের জ্যেষ্ঠ নেতাদের গ্রেপ্তার করে সেনাবাহিনী। যদিও তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয় আরও অনেক পরে।

অভ্যুত্থানের জেরে মিয়ানমারে জাতীয় পর্যায়ে নজিরবিহীন বিক্ষোভ শুরু গণতন্ত্রকামী জনতা। অস্ত্রের শক্তি প্রয়োগ করে বিক্ষোভ দমন করে সেনাবাহিনী, হত্যা করে শিশুসহ ১ হাজার ১০০ মানুষকে।

স্থানীয় পর্যবেক্ষণ সংস্থা অ্যাসিসট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স (এএপিপি) জানিয়েছে, বিরোধী মত দমনে ৯ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে সেনাবাহিনী। ধরপাকড় চলছে এখনও।

সু চির বিরুদ্ধে আনীত বাকি ১০টি অভিযোগের মধ্যে অন্যতম হলো অবৈধভাবে ওয়াকিটকি আমদানি, করোনাভাইরাস মহামারিকালীন বিধিনিষেধ ও রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা লঙ্ঘন।

সু চির বিরুদ্ধে এসব মামলার অগ্রগতির বিষয়ে কোনো খবর প্রকাশ করেনি মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা। এ অবস্থায় চলমান বিচারের বিষয়ে তথ্যের একমাত্র উৎস ছিলেন তার আইনজীবী খিন মং জাও।

কিন্তু চলতি মাসে খিন মং জাওকেও মুখ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় সামরিক সরকার। কারণ তিনিই ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টের আদালতে দেয়া সাক্ষ্য সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছিলেন।

আদালতে উইন মিন্ট জানিয়েছেন যে, অভ্যুত্থানের কয়েক ঘণ্টা আগেই তাকে ক্ষমতা হস্তান্তরে চাপ দিয়েছিল সেনাবাহিনী। প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় তার ক্ষতি করারও হুমকি দিয়েছিলেন মিয়ানমারের শীর্ষ সেনা কর্মকর্তারা।

গ্রেপ্তারের পর থেকে অং সান সু চিকে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখা হয়েছে। রাজধানী নেইপিদোর একটি বিশেষ আদালতে চলছে তার শুনানি।

আরও পড়ুন:
ষষ্ঠীর বোধনে দুর্গাপূজা শুরু সোমবার
শারদীয় দুর্গাপূজা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি
ক্যাপসুল ও সিরিঞ্জ দিয়ে অভিনব প্রতিমা
পূজা নিয়ে অপপ্রচার মূল জনগোষ্ঠীর কাজ না: ডিএমপি কমিশনার
নিয়মে সীমাবদ্ধ দুর্গাপূজা

শেয়ার করুন