শরণার্থী বেশে সপরিবারে দুর্গা

শরণার্থী বেশে সপরিবারে দুর্গা

এবারের পূজায় শরণার্থী হয়ে আসছেন দুর্গা।

পূজা কমিটির সদস্য অরূপ দাস বলেন, ‘এনআরসির বিষয়টি আমরা এখানে তুলে ধরতে চাইছি। ভারতের স্বাধীনতার ৭০ বছর পরও পশ্চিমবঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বাস করা প্রান্তিক মানুষ তাদের পরিচয় খুঁজছেন। এ পরিচয় খোঁজাটাকে আমরা এ বছর তুলে ধরছি।’

কাগজ দেখালে তবেই প্রমাণ নাগরিকত্বের। এ ভাবনা থেকে দুর্গা এবার সপরিবারে শরণার্থী শিবিরে। সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের জীবনযন্ত্রণার ওপর আলোকপাত করে উল্টোডাঙ্গা বিধান সংঘের পূজার থিম ‘জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি)’।

এ দেশে জন্ম হলেও, এ দেশে ভোট দিলেও প্রজন্মের পর প্রজন্ম ‘ওরা উদ্বাস্তু, ওরা শরণার্থী’- এমন কথা শুনতে হয় সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষকে। কাগজ দেখালে প্রমাণ হয়, তারা ভারতীয়।

সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের শরণার্থী জীবনের যন্ত্রণার ছবি তাদের ৫৩তম পূজাবর্ষে ফুটিয়ে তুলেছে কলকাতার উল্টোডাঙ্গা বিধান সংঘের পূজা মণ্ডপ।

মণ্ডপ শিল্পী প্রশান্ত পাল নিজেই একজন ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষ। বংশপরম্পরা এ দেশে থাকার পরও প্রশান্তকে প্রায়ই তিক্ত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।

প্রশান্ত বলেন, ‘আমার দাদু ওপার থেকে এসেছেন। আমার বাবার বয়স ৮৫ বছর। আমি ৪০ বছর পার করে ফেলেছি। আমার রাষ্ট্র আমাকে বলছে, কাগজ চাই।’

বিধান সংঘের মণ্ডপে দেবীদুর্গা শরণার্থী কন্যার বেশে থাকবেন। মাটি, কাঠ ও বাঁশের কারুকাজে সীমান্তবর্তী এলাকার শরণার্থী জীবন ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে এই মণ্ডপে।

পূজা কমিটির সদস্য অরূপ দাস বলেন, 'এনআরসির বিষয়টি আমরা এখানে তুলে ধরতে চাইছি।

‘ভারতের স্বাধীনতার ৭০ বছর পরও পশ্চিমবঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বাস করা প্রান্তিক মানুষরা তাদের পরিচয় খুঁজছেন। এ পরিচয় খোঁজাটাকে আমরা এ বছর তুলে ধরছি।

‘নাগরিকত্ব প্রমাণের চাপ দিশেহারা করে তুলেছে সীমান্তবর্তী এলাকার নিজভূমে পরবাসী মানুষের জীবন।’

আরও পড়ুন:
পূজায় নাইট কারফিউয়ে ছাড়
বিজেপি নেতার নিরাপত্তাকর্মীর পিস্তল তাক, প্রতিবেদন চায় নির্বাচন কমিশন
বামে আগ্রহ হারাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের যুবারা
পশ্চিমবঙ্গে প্রথম সফল ফুসফুস প্রতিস্থাপন
পশ্চিমবঙ্গে ফের বাড়ল করোনার বিধিনিষেধ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বেসামরিক হত্যায় কাশ্মীরি জড়িত নয়: ফারুক আব্দুল্লাহ

বেসামরিক হত্যায় কাশ্মীরি জড়িত নয়: ফারুক আব্দুল্লাহ

কাশ্মীরে বেসামরিক নাগরিক হত্যায় কাশ্মীরিদের সংশ্লিষ্টতা নেই বলে জানান জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আব্দুল্লাহ। ছবি: আউটলুক

জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আব্দুল্লাহ বলেন, ‘সাম্প্রতিক এসব হত্যা দুঃখজনক। চক্রান্ত করে এসব ঘটানো হয়েছে। কাশ্মীরের সাধারণ জনগণ কোনোভাবেই এসব হামলায় জড়িত নয়।’

কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু-কাশ্মীরে বেসামরিক নাগরিক হত্যায় কাশ্মীরের সাধারণ মানুষ জড়িত নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল কনফারেন্সের (জেকেএনসি) প্রেসিডেন্ট ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আব্দুল্লাহ।

কাশ্মীরিদের নামে কুৎসা রটাতে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে সাম্প্রতিক হামলাগুলো চালানো হয় বলেও জানান তিনি।

কাশ্মীরের বর্ষীয়ান নেতা ফারুক রোববার সাংবাদিকদের কাছে এসব মন্তব্য করেন বলে এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ফারুক আব্দুল্লাহ বলেন, ‘কেন্দ্রশাসিত জম্মু-কাশ্মীরের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিনষ্ট করার চেষ্টার লক্ষ্যে সম্প্রতি এই হামলাগুলো হয়।’

তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক এসব হত্যা দুঃখজনক। চক্রান্ত করে এসব ঘটানো হয়েছে। কাশ্মীরের সাধারণ জনগণ কোনোভাবেই এসব হামলায় জড়িত নয়।’

শনিবার জম্মু-কাশ্মীরের শ্রীনগর ও পুলওয়ামা জেলায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে বিহারের দুই শ্রমিক নিহত হন।

কাশ্মীরে ২ অক্টোবর থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত পৃথক ঘটনায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের চার সদস্যসহ ১১ বেসামরিক নাগরিক সন্ত্রাসী হামলায় প্রাণ হারায়।

ওইসব ঘটনায় পুরো কাশ্মীরজুড়ে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ে উপদেষ্টা পর্যায়ের বৈঠক বিষয়ে ফারুক জানান, দুই দেশের বন্দুত্বপূর্ণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় যেকোনো উদ্যোগকে স্বাগতম।

তিনি বলেন, ‘ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যাতে মৈত্রীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে, আমাদের তা প্রার্থনা ও আশা করা উচিত। এটি হলে আমরা শান্তিতে বসবাস করতে পারব।’

জি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরে জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসী হামলায় ৩০ জন বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু হয়।

সাম্প্রতিক হামলার পর জম্মু-কাশ্মীরজুড়ে এখন পর্যন্ত ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ সন্দেহে প্রায় ৯০০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতীয় পুলিশ।

পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদবিরোধী অভিযান জোরদোর করেছে ভারতের নিরাপত্তা বাহিনী। পুলিশের ভাষ্য, গত এক সপ্তাহে ১৪ জন ‘সন্ত্রাসীকে’ হত্যা করা হয়েছে।

পুলিশের মহাপরিদর্শক বিজয় কুমার বলেন, ‘বেসামরিক নাগরিকের প্রাণহানির পর ১৩ সন্ত্রাসী পুলিশের সঙ্গে নয়টি সংঘর্ষে মারা গেছে। আমরা ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ে শ্রীনগরে পাঁচ সন্ত্রাসীর মধ্যে তিন জনকে হত্যা করতে সক্ষম হই।’

আরও পড়ুন:
পূজায় নাইট কারফিউয়ে ছাড়
বিজেপি নেতার নিরাপত্তাকর্মীর পিস্তল তাক, প্রতিবেদন চায় নির্বাচন কমিশন
বামে আগ্রহ হারাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের যুবারা
পশ্চিমবঙ্গে প্রথম সফল ফুসফুস প্রতিস্থাপন
পশ্চিমবঙ্গে ফের বাড়ল করোনার বিধিনিষেধ

শেয়ার করুন

আইএমএফের পরামর্শে পেট্রলের দাম বাড়েনি: পাকিস্তান

আইএমএফের পরামর্শে পেট্রলের দাম বাড়েনি: পাকিস্তান

পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়ার সঙ্গে আইএমএফের সঙ্গে চলমান আলোচনার সম্পর্ক নেই বলে জানান পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী শওকত তারিন। ছবি: দ্য নেশন

পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী শওকত তারিন বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের উচ্চ মূল্যবৃদ্ধি পেট্রোলিয়ামজাতীয় পণ্যের মূল্য বাড়াতে পাকিস্তান সরকারকে বাধ্য করেছে।’

ঋণসুবিধা ফের পাওয়ার বিষয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্র্রা তহবিল (আইএমএফ) ও পাকিস্তানের চলমান আলোচনার সঙ্গে সাম্প্রতিক পেট্রল-ডিজেলের দাম বাড়ার কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী শওকত তারিন।

ওয়াশিংটনে স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যায় পাকিস্তানি দূতাবাসে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন বলে ডনের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

তারিন বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের উচ্চ মূল্যবৃদ্ধি পেট্রোলিয়াম জাতীয় পণ্যের মূল্য বাড়াতে পাকিস্তান সরকারকে বাধ্য করেছে।’

শনিবার পেট্রল, ডিজেলসহ পেট্রোলিয়ামজাতীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি দেয় পাকিস্তানের অর্থ মন্ত্রণালয়।

এতে বলা হয়, প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেলের মূল্য প্রায় ৮৫ ডলার বাড়ানো হয়েছে। ২০১৮ সালের অক্টোবরের পর এটাই সর্বোচ্চ বৃদ্ধি।

ওই বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শনিবার থেকে পাকিস্তানিদের এক লিটার পেট্রল ১৩৭ দশমিক ৭৯ রুপি, প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৪ দশমিক ৪৮ রুপি ও প্রতি লিটার কেরোসিন ১১০ দশমিক ২৬ রুপিতে কিনতে হচ্ছে।

পেট্রোলিয়ামজাতীয় পণ্যের এত চড়া দাম এর আগে দেখেনি পাকিস্তান।

এদিকে পেট্রল, ডিজেল ও কেরোসিনের উচ্চমূল্যে ক্ষুব্ধ পাকিস্তানের বিরোধী দল থেকে শুরু করে সাধারণ জনগণ। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন সরকার আইএমএফকে খুশি করতে এ পদক্ষেপ নিয়েছে বলে সমালোচনা অনেকের।

ওই সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করে পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী তারিন বলেন, ‘সরকার বুঝতে পেরেছে, কাঠামোগত পরিবর্তন ছাড়া শুল্ক বাড়ালে মূল্যস্ফীতি বাড়বে।’

অবশ্য পাকিস্তানের সঙ্গে আইএমএফের আলোচনায় সংস্থাটির পরামর্শ বিবেচনা করার কথা স্বীকার করেছেন অর্থমন্ত্রী তারিন। মূল্যস্ফীতির বিষয়ে সংস্থাটির সঙ্গে কিছু কথাবার্তা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তারিন বলেন, ‘আমরা ধীরে ধীরে বিভিন্ন খাতে শুল্ক বাড়াব, যাতে মূল্যস্ফীতি এক লাফে না বাড়ে।’

২০১৯ সালের জুলাইয়ে এক্সটেন্ডেড ফান্ড ফেসিলিটির আওতায় পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচিতে দেশটিকে ছয় বিলিয়ন ডলার ঋণ দিতে রাজি হয় আইএমএফ। ওই অর্থ ৩৯ মাস ধরে ধাপে ধাপে দেয়ার কথা থাকলেও দেশটিকে নতুন কিস্তি দিচ্ছে না সংস্থাটি।

ওয়াশিংটনে অবস্থানকালে ঋণসুবিধা ফের পাওযার বিষয়ে আইএমএফ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বেশ কয়েকবার বৈঠক করেন পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী তারিন।

অর্থমন্ত্রী ওয়াশিংটন থেকে নিউ ইয়র্কে যাওয়ার পর তার অর্থসচিব আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা জারি রেখেছেন।

পেট্রোলিয়ামজাতীয় পণ্যের মূল্য না বাড়াতে শনিবার পাকিস্তান সরকারের প্রতি আহ্বান জানান পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) নেতা ও সিনেটের সাবেক চেয়ারম্যান মিঞা রেজা রাব্বানি।

তিনি বলেন, ‘চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে প্রতি লিটার পেট্রলের মূল্য ৯ রুপি বাড়ানো হয়। নিত্যপ্রয়োজনীয় সব দ্রব্যের দাম এখন সর্বোচ্চ। পেট্রলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত সরকারকে দ্রুত বাতিল করতে হবে।’

রাব্বানি বলেন, ‘পেট্রোলিয়ামজাতীয় পণ্যের বর্ধিত মূল্য জনসাধারণ পরিশোধ করতে হিমশিম খাবে। সরকারে থাকা অভিজাত শ্রেণির জনগণকে আত্মহত্যা বা বিদ্রোহের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

‘আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) দাবি মেনে সরকার বিদ্যুৎ শুল্ক প্রতি ইউনিটে ১.৩৯ রুপি বাড়িয়েছে। বিদ্যুতের ওপর ৭৭ বিলিয়ন রুপি ভর্তুকি বাতিলের পর ওই শুল্ক এ পরিমাণে বাড়ানো হয়। সরকারের এই পদক্ষেপের নিন্দা জানাচ্ছে পিপিপি।’

পিপিপির এই নেতা জানান, রান্নার তেল ও ঘি ৪০ শতাংশ বাড়িয়েছে সরকার। এখন প্রতি কেজি রান্নার তেল ও ঘিয়ের মূল্য যথাক্রমে ৩৯৯ ও ৪০৯ রুপি। টম্যাটো, আলু, খাসির মাংস, এলপিজিসহ ২২টি নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর মূল্য সম্প্রতি অনেক বেড়েছে।

রাব্বানি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘গত কয়েক দিন মার্কিন ডলারের মান রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে। ঋণের কারণে পণ্যের ওপর আরও কর বসাতে সরকারের ওপর চাপ দিচ্ছে আইএমএফ।’

এ ছাড়া পেট্রোলিয়ামজাতীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির নিন্দা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ইমরানের পদত্যাগ দাবি করেন বিরোধী দল পাকিস্তান মুসলিম লিগের (পিএমএল-এন) প্রেসিডেন্ট শেহবাজ শরীফ।

তিনি বলেন, “বিদ্যুৎ শুল্ক ১৪ শতাংশ বৃদ্ধির পর জনগণের ওপর ‘পেট্রলবোমা’ ‘মিনি বাজেটের’ ধারাবাহিকতা।

"প্রধানমন্ত্রী ইমরানের ক্ষমতায় থাকার কোনো অধিকার নেই। তার পদত্যাগ জাতিকে কিছুটা হলেও স্বস্তি দেবে। ‘মিনি বাজেট’ বর্তমান সরকারের অর্থনৈতিক ব্যর্থতার প্রমাণ।”

আরও পড়ুন:
পূজায় নাইট কারফিউয়ে ছাড়
বিজেপি নেতার নিরাপত্তাকর্মীর পিস্তল তাক, প্রতিবেদন চায় নির্বাচন কমিশন
বামে আগ্রহ হারাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের যুবারা
পশ্চিমবঙ্গে প্রথম সফল ফুসফুস প্রতিস্থাপন
পশ্চিমবঙ্গে ফের বাড়ল করোনার বিধিনিষেধ

শেয়ার করুন

আফগানিস্তান ইস্যুতে ভারতে এনএসএ পর্যায়ের বৈঠক

আফগানিস্তান ইস্যুতে ভারতে এনএসএ পর্যায়ের বৈঠক

ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। ছবি: সংগৃহীত

তুঙ্গে থাকা সীমান্ত অস্থিরতার পাশাপাশি বারবার জঙ্গি অনুপ্রবেশের খবরের মধ্যে ভারতের এই উদ্যোগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তারা বলছে, বৈঠকে মানবাধিকার ও নিরাপত্তা- এই দুটি বিষয়কেই প্রাধান্য দেয়া হবে বৈঠকে।

আফগানিস্তান ইস্যু নিয়ে এবার ভারতের দিল্লিতে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের (এনএসএ) বৈঠকের আয়োজন করছে দেশটি।

আগামী ১০ অথবা ১১ নভেম্বর বৈঠকের দিন নির্ধারণের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। বৈঠকে চীন, রাশিয়া ও পাকিস্তানকে আমন্ত্রণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র সূত্র আমন্ত্রণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মঈদ ইউসুফ বৈঠকে উপস্থিতি হলে দিল্লিতে এটি হবে তার প্রথম সরকারি সফর।

ভারতীয় এনএসএ অজিত দোভাল এবং পাকিস্তানি এনএসএ মঈদ ইউসুফ বছরের শুরুতে সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) এনএসএ বৈঠকে তাজিকিস্তানের দুশানবে গেলেও তারা দ্বিপক্ষীয় কোনো বৈঠক করেননি।

এদিকে তুঙ্গে থাকা সীমান্ত অস্থিরতার পাশাপাশি বারবার জঙ্গি অনুপ্রবেশের খবরের মধ্যে ভারতের এই উদ্যোগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তারা বলছে, বৈঠকে মানবাধিকার ও নিরাপত্তা- এই দুটি বিষয়কেই প্রাধান্য দেয়া হবে বৈঠকে। এর আগে আগামী ২০ অক্টোবর রাশিয়ার মস্কোতে আয়োজিত মস্কো ফরম্যাট মিটিংয়ে যোগ দেবে ভারত। আফগানিস্তান নিয়ে আলোচনা হবে সেখানেও।

ভারতে এনএসএ বৈঠক নিয়ে সরকারি সূত্র জানায়, আফগানিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক। পাশাপাশি শীতের শুরুর সঙ্গে সঙ্গে সেখানকার মানবিক পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়ে যাওয়ার কারণে বৈঠকের প্রস্তাব আসে।

তালেবানের কাবুল দখলের প্রায় দুই মাস কেটে গেছে। এরই মধ্যে তালেবান সরকার তাদের স্বীকৃতি ও বৈধতার জন্য কাতার, তুরস্ক এবং উজবেকিস্তান সফর করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সঙ্গে তারা বৈঠকও করেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত বিশ্বের কোনো দেশ সরকারিভাবে তাদের স্বীকৃতি দানের কোনো ইঙ্গিত দেয়নি।

গত ৩১ আগস্ট কাতারের দোহায় তালেবানের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিল ভারত। ভারতের পক্ষ থেকে বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন রাষ্ট্রদূত দীপক মিত্তল। তালেবানের পক্ষ থেকে ছিলেন বর্তমানে আফগানিস্তানের উপবিদেশমন্ত্রী শের মোহাম্মদ আব্বাস স্তানিকজাই।

আফগানিস্তানের মাটিতে যেন ভারতবিরোধী কোনো সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ না হয়- ভারতের পক্ষ থেকে তালেবানকে এমন কড়া বার্তা দেয়া হয় বৈঠকে।

এর আগে ২০১৮ সালে মস্কোতে তালেবানের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক এক বৈঠকে মুখোমুখি হয় ভারত। অবসরপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র কর্মকর্তা টিসিএ রাঘবন এবং অমর সিনহা ওই বৈঠকে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন। আর পাঁচ সদস্যের তালেবান প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন আব্বাস স্তানিকজাই।

আরও পড়ুন:
পূজায় নাইট কারফিউয়ে ছাড়
বিজেপি নেতার নিরাপত্তাকর্মীর পিস্তল তাক, প্রতিবেদন চায় নির্বাচন কমিশন
বামে আগ্রহ হারাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের যুবারা
পশ্চিমবঙ্গে প্রথম সফল ফুসফুস প্রতিস্থাপন
পশ্চিমবঙ্গে ফের বাড়ল করোনার বিধিনিষেধ

শেয়ার করুন

কেরালায় ভূমিধসে মৃত ১৫, নিখোঁজ ১২

কেরালায় ভূমিধসে মৃত ১৫, নিখোঁজ ১২

কেরালায় ভারী বর্ষণে ছয় জন প্রাণ হারায়। ছবি: ইন্ডিয়া টিভি

কেরালা উপকূলে আরব সাগরের দক্ষিণ-পূর্বে গত কয়েক দিনে সৃষ্ট নিম্নচাপের ফলে রাজ্যটিতে ভারি বর্ষণ হচ্ছে বলে আবহাওয়া দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে।

ভারি বর্ষণে সৃষ্ট ভূমিধসে ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় কেরালা রাজ্যের ইদুক্কি ও কোত্তায়াম জেলায় অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া নিখোঁজ রয়েছে ১২ জন।

রাজ্য সরকারের অনুরোধে ভারতের সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সদস্যরা দুর্যোগ মোকাবিলায় কেরালার বেসামরিক প্রশাসনকে সহযোগিতা করছে। দেশটির ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স প্লাবিত অঞ্চলে তাদের ১১টি দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এ ছাড়া সতর্কতার অংশ হিসেবে রোববার ও সোমবার কেরালার পাথানামথিত্তা জেলার সাবারিমালা মন্দিরে ভক্তদের না যেতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে।

এনডিটিভির রোববারের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

কেরালার বেশির ভাগ এলাকায় শনিবার সারারাত টানা বৃষ্টি হয়। তবে রোববার সকালে বৃষ্টিপাতের মাত্রা কমে। নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার খবর এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। কোত্তায়াম জেলায় প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার তৎপরতা বিঘ্নিত হচ্ছে।

কেরালা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ান উদ্ধার তৎপরতা বাড়ানোর বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন।

তিনি জানান, কোত্তায়ামসহ অন্যান্য বন্যাকবলিত জেলায় আটকে পড়া মানুষজনকে উদ্ধারে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থাই নেয়া হবে।

করোনাভাইরাসের স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্যাম্প বসানোর নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ান। ওই সব ক্যাম্পে মাস্ক, স্যানিটাইজার, খাবার পানি ও ওষুধ পর্যাপ্ত পরিমাণে রাখারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

যারা করোনা প্রতিরোধী টিকা নেননি ও জটিল রোগে ভুগছেন, ক্যাম্পে তাদের ক্ষেত্রে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

কেরালা উপকূলে আরব সাগরের দক্ষিণ-পূর্বে গত কয়েক দিনে সৃষ্ট নিম্নচাপের ফলে রাজ্যটিতে ভারি বর্ষণ হচ্ছে বলে আবহাওয়া দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে।

রাজ্যের বিভিন্ন কলেজ সোমবার খোলার কথা থাকলেও ভারি বর্ষণ ও বন্যার কারণে সেসব এখন বুধবার খুলবে।

কেরালার ওয়াইয়ানাদ জেলার সংসদ সদস্য ও কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী টুইটবার্তায় বলেন, ‘কেরালার জনগণ আমার চিন্তায় রয়েছেন। অনুগ্রহ করে আপনারা সবাই নিরাপদে ও সব ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা মেনে চলুন।’

কেরালার স্বাস্থ্যমন্ত্রী ভিনা জর্জ পাথানামথিত্তা জেলার নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা মূল্যায়নে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন। ওই জেলার পরিস্থিতি পার্শ্ববর্তী কোত্তায়াম জেলার মতোই।

কোত্তায়াম জেলায় ভারি বর্ষণে বিভিন্ন বাঁধসংলগ্ন এলাকায় পানির উচ্চতা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে মানিয়ার বাঁধের গেট খুলে দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:
পূজায় নাইট কারফিউয়ে ছাড়
বিজেপি নেতার নিরাপত্তাকর্মীর পিস্তল তাক, প্রতিবেদন চায় নির্বাচন কমিশন
বামে আগ্রহ হারাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের যুবারা
পশ্চিমবঙ্গে প্রথম সফল ফুসফুস প্রতিস্থাপন
পশ্চিমবঙ্গে ফের বাড়ল করোনার বিধিনিষেধ

শেয়ার করুন

প্রতিরক্ষায় ৭ নতুন সংস্থার ঘোষণা মোদির

প্রতিরক্ষায় ৭ নতুন সংস্থার ঘোষণা মোদির

নরেন্দ্র মোদি বলেন, সংস্থাগুলো তৈরির সিদ্ধান্ত দীর্ঘদিন ধরে আটকে ছিল। এই নতুন সাতটি সংস্থা আগামী দিনে দেশের সামরিক শক্তির ক্ষেত্রে এক শক্তিশালী ভিত তৈরি করবে।

প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরির ক্ষেত্রে বেসরকারি পুঁজি বিনিয়োগের পথ প্রশস্ত করতে এক লাফে অনেকটাই এগিয়ে গেল ভারত সরকার। ৩০০ বছরের পুরোনো ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত অর্ডিন্যান্স ফ্যাক্টরি বোর্ডের পরিবর্তে সাতটি নতুন কোম্পানি তৈরির ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

চলতি মাসের শুরুতেই সরকার ভেঙে দেয় অর্ডিন্যান্স ফ্যাক্টরি বোর্ড (ওএফবি)। কলকাতায় ১৭১২ সালে তৈরি ওএফবি ভারতের ৪১টি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরির সরকারি ফ্যাক্টরি নিয়ন্ত্রণ করত। ওএফবিকে ১ অক্টোবর নিষ্ক্রিয় ঘোষণা করে সরকার।

এর পরিবর্তে শুক্রবার সাতটি নতুন প্রতিরক্ষা সংস্থার ঘোষণা করেন মোদি। দেশের ৪১টি অর্ডিন্যান্স ফ্যাক্টরিকে এদিন সরকার পরিচালিত সাতটি করপোরেট সংস্থায় রূপান্তরিত করা হয়। ভারতকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামরিক শক্তিতে রূপান্তরিত করাই হবে এর লক্ষ্য।

মোদি বলেন, ‘গত সাত বছরে দেশ মেক ইন ইন্ডিয়া মন্ত্রের সঙ্গে নিজেদের সংকল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করেছে। আজ দেশের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে যে স্বচ্ছতা, যে বিশ্বাস রয়েছে, যে তথ্য-প্রযুক্তি নিয়ে কাজের সুবিধা রয়েছে তা আগে কোনো দিন ছিল না। স্বাধীনতার পর প্রথমবার আমাদের প্রতিরক্ষা বিভাগে এত সংস্কার হচ্ছে। এতে আত্মবিশ্বাস বেড়েছে।’

যে সাতটি নতুন প্রতিরক্ষা সংস্থা হবে, সেগুলো হলো মিউনিশন ইন্ডিয়া লিমিটেড (এমআইএল), আরমার্ড ভেহিকেলস নিগম লিমিটেড (অবনি), অ্যাডভান্স উইপনস অ্যান্ড ইক্যুইপমেন্ট ইন্ডিয়া লিমিটেড (এডব্লুই ইন্ডিয়া), ট্রুপ কমফোর্টস লিমিটেড (টিসিএল), যন্ত্র ইন্ডিয়া লিমিটেড (ওয়াইআইএল), ইন্ডিয়া অপটেল লিমিটেড (আইওএল) ও গ্লিডার্স ইন্ডিয়া লিমিটেড (জিআইএল)।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংস্থাগুলো তৈরির সিদ্ধান্ত দীর্ঘদিন ধরে আটকে ছিল। এই নতুন সাতটি সংস্থা আগামী দিনে দেশের সামরিক শক্তির ক্ষেত্রে এক শক্তিশালী ভিত তৈরি করবে।

ভারতীয় অর্ডিন্যান্স ফ্যাক্টরিগুলোর গৌরবময় অতীতের কথা উল্লেখ করে মোদি জানান, এই সাতটি প্রতিরক্ষা সংস্থা পরিস্থিতি পরিবর্তনে প্রধান ভূমিকা পালন করবে। ইতিমধ্যে ৬৫ হাজার কোটি টাকার বেশি সংস্থাগুলোকে দেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে এই সংস্থাগুলোর প্রতি দেশের ক্রমবর্ধমান আস্থা প্রতিফলিত হয়েছে।

গত পাঁচ বছরে ভারতের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানির পরিমাণ বেড়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

আরও পড়ুন:
পূজায় নাইট কারফিউয়ে ছাড়
বিজেপি নেতার নিরাপত্তাকর্মীর পিস্তল তাক, প্রতিবেদন চায় নির্বাচন কমিশন
বামে আগ্রহ হারাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের যুবারা
পশ্চিমবঙ্গে প্রথম সফল ফুসফুস প্রতিস্থাপন
পশ্চিমবঙ্গে ফের বাড়ল করোনার বিধিনিষেধ

শেয়ার করুন

আদালতের নির্দেশ ছাড়া প্রকাশ্যে ফাঁসি নয়: তালেবান

আদালতের নির্দেশ ছাড়া প্রকাশ্যে ফাঁসি নয়: তালেবান

আফগানিস্তানের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ ছাড়া প্রকাশ্যে শাস্তি দেয়া যাবে না বলে জানান তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ। ছবি: এএফপি

তালেবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, ‘দেশের সর্বোচ্চ আদালত নির্দেশ দিলে জনসমক্ষে মৃত্যুদণ্ড ও লাশ ঝুলিয়ে রাখা যাবে, অন্যথায় নয়।’

অপরাধীদের প্রকাশ্যে শাস্তি না দিতে স্থানীয় কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে তালেবান সরকার। আফগানিস্তানের সর্বোচ্চ আদালত নির্দেশ দিলেই কেবল জনসমক্ষে শাস্তি দেয়া যাবে।

তালেবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বৃহস্পতিবার টুইটারে এসব বার্তা দেন বলে ডনের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

মুজাহিদ বলেন, ‘দেশের মন্ত্রিপরিষদ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কোনো ধরনের শাস্তি প্রকাশ্যে দেয়া যাবে না। অপরাধীদের শাস্তি কার্যক্রম প্রকাশ্যে প্রচারের কিছু নেই। তবে আদালত যদি অপরাধীদের প্রকাশ্যে শাস্তি দিতে বলে, সে ক্ষেত্রে সে অনুযায়ী কাজ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের সর্বোচ্চ আদালত নির্দেশ দিলে জনসমক্ষে মৃত্যুদণ্ড ও লাশ ঝুলিয়ে রাখা যাবে, অন্যথায় নয়।’

তালেবান মুখপাত্র বলেন, ‘অপরাধীকে দণ্ডিত করা হলে তার শাস্তি সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে হবে। তাহলে মানুষ তার অপরাধ সম্পর্কে জানতে পারবে।’

১৫ আগস্ট কাবুল পতনের পর আফগানিস্তানের ক্ষমতা তালেবানের হাতে যায়। সেপ্টেম্বরের শুরুতে নিজেদের শীর্ষস্থানীয় ৩৩ নেতাকে নিয়ে ইসলামিক আমিরাত গঠন করে তালেবান। ইসলামিক আমিরাতের মন্ত্রিসভার নাম দেয়া হয়েছে মন্ত্রিপরিষদ।

গত মাসে আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় হেরাত শহরে কথিত চার অপহরণকারীকে হত্যা করে প্রকাশ্যে তাদের লাশ ঝুলিয়ে দেন তালেবান যোদ্ধারা।

ওই ঘটনায় বিশ্বব্যাপী সমালোচনার ঝড় ওঠে। তালেবান তাদের আগের শাসনামলে ফিরে যাচ্ছে দেখে অধিকার সংগঠনসহ অনেকে উদ্বেগ জানায়।

গত মাসে তালেবানের জ্যেষ্ঠ নেতা মোল্লা নুরুদ্দিন তুরাবি বার্তা সংস্থা এপিকে জানান, তালেবান সরকার ফের অপরাধীদের অঙ্গচ্ছেদ করতে পারে। প্রকাশ্যে এ শাস্তি কার্যকর নাও হতে পারে।

তুরাবির ওই বক্তব্যের পর অবশ্য আফগানিস্তানের বেশ কয়েকটি অঞ্চলে প্রকাশ্যেই লোকজনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।

তালেবানের নব্বই দশকের শাসনামলে তুরাবি আফগানিস্তানের বিচারমন্ত্রী ছিলেন।

এদিকে শুক্রবার সর্বোচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতি হিসেবে শেখ আব্দুল হাকিমকে নিয়োগ দিয়েছে তালেবান সরকার।

তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার বিশ্বস্ত সহযোগী ও পশতুন ধর্মীয় নেতা হাকিম এর আগে কাতারে গোষ্ঠীটির সমঝোতা দলের নেতৃত্বে ছিলেন।

আরও পড়ুন:
পূজায় নাইট কারফিউয়ে ছাড়
বিজেপি নেতার নিরাপত্তাকর্মীর পিস্তল তাক, প্রতিবেদন চায় নির্বাচন কমিশন
বামে আগ্রহ হারাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের যুবারা
পশ্চিমবঙ্গে প্রথম সফল ফুসফুস প্রতিস্থাপন
পশ্চিমবঙ্গে ফের বাড়ল করোনার বিধিনিষেধ

শেয়ার করুন

গঙ্গাদূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিবেশবান্ধব উপায়ে প্রতিমা বিসর্জন

গঙ্গাদূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিবেশবান্ধব উপায়ে প্রতিমা বিসর্জন

প্রতিমা বিসর্জনে পানি দূষণ ঠেকাতে ঘাটে ক্রেনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গের পরিবহনমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘গঙ্গার জলে যেন কোনোভাবে দূষণ না ছড়ায় তা নিশ্চিত করতে আমরা যাবতীয় ব্যবস্থা রেখেছি। এ জন্য পর্যাপ্ত পুলিশ, পুরকর্মী ও কাঠামোগত ব্যবস্থা থাকছে।’

ন্যাশনাল মিশন ফর ক্লিন গঙ্গার নির্দেশনা মেনে গঙ্গার পানি দূষণ ঠেকাতে পরিবেশবান্ধব উপায়ে প্রতিমা বিসর্জনসহ বেশ কিছু ব্যবস্থা নিয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ।

গত বছর থেকে পরীক্ষামূলকভাবে পরিবেশবান্ধব প্রতিমা বিসর্জন শুরু করে সংগঠনটি। তবে এ বছর আরও বড় পরিসরে এ ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে কলকাতার মুখ্য প্রশাসক পশ্চিমবঙ্গের পরিবহনমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘গঙ্গার জলে যেন কোনোভাবে দূষণ না ছড়ায় তা নিশ্চিত করতে আমরা যাবতীয় ব্যবস্থা রেখেছি। এ জন্য পর্যাপ্ত পুলিশ, পুরকর্মী ও কাঠামোগত ব্যবস্থা থাকছে।’

পর্ষদ সূত্রে জানা যায়, কোভিড বিধিনিষেধ মেনে এ বছর গঙ্গার ১৭টি নির্দিষ্ট ঘাটে দুর্গা বিসর্জন দেয়া হবে। জাজেস ঘাট, নিমতলা ও কদমতলা ঘাটে মূলত বেশি বিসর্জন হয়। তাই এই তিন ঘাটে চারটি ক্রেন থাকবে। জলে প্রতিমা পড়লে ক্রেন দিয়ে কাঠামো তুলে নেয়া হবে যেন বেশিক্ষণ জলে পড়ে না থাকে।

এমনকি গঙ্গার ধারে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় ফুলমালাসহ পূজার অন্যান্য সামগ্রী ফেলতে হবে বলে জানানো হয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ থেকে।

এদিকে রাজ্যের লর্ড হেস্টিংসের দুই ঘাটে এ বছর থেকেই পরীক্ষামূলক বিসর্জনের ব্যবস্থা নিয়েছে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ। এ বিষয়ে রাজ্য প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘বিসর্জনে দূষণ নিয়ে অভিযোগ কাটাতেই হেস্টিংসের দুই ঘাটে জল দিয়ে প্রতিমা গলানোর জন্য হোসপাইপ ব্যবহারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’

এ ছাড়া পরিবেশবান্ধব উপায়ে বিসর্জনের জন্য দক্ষিণ দমদম এলাকারও বেশ কয়েকটি পুকুর চিহ্নিত করেছে পর্ষদ। দক্ষিণ দমদম, সল্টলেক, বাগুইআটি, কেষ্টপুর এলাকার দুর্গা প্রতিমা ওই সব পুকুরে বিসর্জন দেয়া হবে। এ জন্য পুকুরের জলের নিচে একটি সিনথেটিক লাইনার লাগানো থাকবে, যেন পূজার ফুল ও মালার মতো সামগ্রী জল থেকে দ্রুত তুলে অন্যত্র সরিয়ে ফেলা যায়। এতেই দূষণ অনেকটা কমানো যাবে বলে মনে করেন দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের কর্তারা।

পশ্চিমবঙ্গের দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের চেয়ারম্যান কল্যাণ রুদ্র জানিয়েছেন, ‘জল দূষণ ঠেকাতেই এই ব্যবস্থা।'

তিনি আরও জানান, দুপুর ১২টার পর বিসর্জন শুরু হওয়ার কথা। এ সময় নিরাপত্তায় থাকছে ৩ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য। নিরঞ্জনে সাহায্য করতে ২ হাজার পুরকর্মী থাকছেন। গঙ্গায় স্পিড বোটে চলবে নজরদারি।

এ ছাড়া রিভার ট্রাফিক গার্ড ও বিপর্যয় মোকাবিলা দল মজুত থাকছে। থাকছে ওয়াচ টাওয়ার। বিসর্জনে ডিজে ও মাইক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

শুক্রবার বাড়ির ও ছোট বারোয়ারি পূজার বিসর্জন হবে। ১৮ অক্টোবর বিসর্জনের শেষ দিন। প্রথম দিনে প্রায় দেড় হাজার প্রতিমা বিসর্জনের কথা রয়েছে।

আরও পড়ুন:
পূজায় নাইট কারফিউয়ে ছাড়
বিজেপি নেতার নিরাপত্তাকর্মীর পিস্তল তাক, প্রতিবেদন চায় নির্বাচন কমিশন
বামে আগ্রহ হারাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের যুবারা
পশ্চিমবঙ্গে প্রথম সফল ফুসফুস প্রতিস্থাপন
পশ্চিমবঙ্গে ফের বাড়ল করোনার বিধিনিষেধ

শেয়ার করুন