এ পুরস্কার সব সাংবাদিকের: নোবেলজয়ী রেসা

এ পুরস্কার সব সাংবাদিকের: নোবেলজয়ী রেসা

এ বছর শান্তিতে নোবেল পান ফিলিপাইনের সাংবাদিক মারিয়া রেসা। ছবি: এএফপি

মারিয়া রেসার নোবেল পুরস্কার পাওয়াকে ‘বিজয়’ হিসেবে দেখছেন ফিলিপাইনের সাংবাদিক ও অধিকারকর্মীরা। সাংবাদিকদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক দেশের তালিকায় ফিলিপাইনের নাম রয়েছে।

শান্তিতে এবারের নোবেল পুরস্কারজয়ী ফিলিপাইনের সাংবাদিক মারিয়া রেসা বলেছেন, এ পুরস্কার বিশ্বজুড়ে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতে কাজ করা সব সাংবাদিকের।

একই সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য চলমান লড়াই জারি রাখারও অঙ্গীকার করেন ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদরিগো দুতের্তের কড়া সমালোচক রেসা।

বার্তা সংস্থা এএফপিকে শনিবার দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

রেসা বলেন, ‘এখন সাংবাদিক হওয়া অনেক বেশি দুরূহ ও বিপজ্জনক। সাংবাদিকদের এ মুহূর্তে অনেক ফ্রন্টে পারস্পরিক সহযোগিতার খুবই প্রয়োজন।’

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষার প্রচেষ্টার স্বীকৃতি হিসেবে শুক্রবার ফিলিপাইনের সংবাদমাধ্যম র‍্যাপলারের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রেসা ও রুশ সাংবাদিক দিমিত্রি মুরাতভকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়।

রেসার নোবেল পুরস্কার পাওয়াকে ‘বিজয়’ হিসেবে দেখছেন ফিলিপাইনের সাংবাদিক ও অধিকারকর্মীরা। সাংবাদিকদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক দেশের তালিকায় ফিলিপাইনের নাম রয়েছে।

২০১৬ সালে ফিলিপাইনের ক্ষমতায় বসেন প্রেসিডেন্ট দুতের্তে। এরপরই রেসা ও তার প্রতিষ্ঠান র‍্যাপলারকে বেশ কয়েকটি মামলার মুখে পড়তে হয়।

এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে অনলাইনে রেসাকে হুমকিসহ অবমাননাকর বার্তাও পাঠানো হয়।

র‍্যাপলারকে ‘ভুয়া সংবাদমাধ্যম’ হিসেবে দেখেন দুতের্তে।

৫৮ বছর বয়সী রেসা জানান, শারীরিক আক্রমণ ও হুমকির মধ্যে কাজ করা ফিলিপাইনের সাংবাদিকদের নিরাপত্তায় এ পুরস্কার ঢালের মতো কাজ করবে বলে আশাবাদী তিনি।

রেসা বলেন, “সাংবাদিকরা কখনোই ‘তাদের বিরুদ্ধে আমরা’ সৃষ্টি করেনি। এটি ক্ষমতাসীন ব্যক্তিরাই সৃষ্টি করেছে। তারা এমন এক ব্যবস্থা কায়েম করেছে, যেটি সমাজকে বিভক্ত করে।”

তিনি বলেন, ‘আশা করি, নোবেল পুরস্কার জয়ের মধ্য দিয়ে আমরা সাংবাদিকরা নির্ভীকভাবে আমাদের কাজ করে যেতে পারব।’

নোবেল পুরস্কার পাওয়ার আগের দিন বৃহস্পতিবার সিএনএনের সঙ্গে কথা বলেন রেসা।

সিএনএনের সাবেক ব্যুরোপ্রধান ও টাইম ম্যাগাজিনের বর্ষসেরা ব্যক্তি হওয়া রেসা জানান, ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদরিগো দুতের্তেকে নিয়ে বেশ কয়েকটি সমালোচনাধর্মী প্রতিবেদন করে র‍্যাপলার। এতে ক্ষুব্ধ হন ক্ষমতাসীনরা। গত কয়েক বছরে তার বিরুদ্ধে ফিলিপাইন রাষ্ট্রের করা কয়েকটি মামলা লড়ছেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘১৯৮৬ সাল থেকে ফিলিপাইন নিয়ে সংবাদ করছি আমি। আমি নিজে কখনো সংবাদ ছিলাম না। কিন্তু ক্ষমতার কথামতো কাজ করতে অস্বীকৃতি জানানোয় আমি নিজেই একপর্যায়ে সংবাদে পরিণত হই।’

রেসা বলেন, ‘আমি মনে করি, যেকোনো ধরনের গণতন্ত্রের জন্য আইনের শাসন জরুরি। নয়তো গণতন্ত্র আর গণতন্ত্র থাকে না, ফ্যাসিবাদে রূপ নেয়। কারণ যিনি ক্ষমতায় থাকেন, তিনিই সিদ্ধান্ত নেন, কার বাঁচার অধিকার আছে আর কার নেই।’

প্রেসিডেন্ট দুতের্তের শাসনে র‍্যাপলার ও তাকে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ উপস্থাপনে কী ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে, তা সিএনএনকে জানান রেসা।

তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকদের বিভিন্নভাবে টার্গেট করা হচ্ছে। ফিলিপাইনের সাবেক প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মারকোসের আমলেও এমনটি হয়নি।

‘গত দুই বছরের কম সময়ে আমার নামে ১০টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। সাংবাদিকতার শুরু থেকে আমি যেভাবে সংবাদ করে আসছি, এখন তো তার থেকে ভিন্ন কিছু করছি না।’

আগামী বছরের মে মাসে ফিলিপাইনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হবে।

এ বিষয়ে রেসা বলেন, ‘গণতন্ত্র যাতে ঠিকমতো কাজ করতে পারে, এ জন্য সঠিক তথ্য উপস্থাপন করা খুবই জরুরি।

‘নির্বাচন সুষ্ঠু কীভাবে হবে যদি সংবাদমাধ্যমগুলো অসত্য, বিদ্বেষমূলক সংবাদ প্রকাশ করে? আমাদের যুদ্ধ সঠিক তথ্য ও সত্যের পক্ষে।’

আরও পড়ুন:
আফটারলাইভস: ঔপনিবেশিক নৃশংসতাকে প্রশ্ন করার উপন্যাস
সত্যের পক্ষে লড়াইয়ের অঙ্গীকার শান্তিতে নোবেলজয়ী রেসার
আবদুরাজাক গুরনাহর ‘প্যারাডাইস’: একটি পাঠপ্রতিক্রিয়া
গুরনাহর সৃষ্টি: শিকড়সন্ধানী মানুষের অভিজ্ঞতার নির্যাস
মতপ্রকাশের পক্ষে সোচ্চার দুই সাংবাদিককে শান্তিতে নোবেল

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় ‘ধর্মগুরু’ রাম রহিমের যাবজ্জীবন

ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় ‘ধর্মগুরু’ রাম রহিমের যাবজ্জীবন

ভারতের কথিত ধর্মগুরু গুরমিত রাম রহিম সিংয়ের বিরুদ্ধে হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন অভিযোগ প্রমাণিত। ছবি: ডেরা সাচ্চা সওদা

প্রায় ২০ বছর আগে রঞ্জিত সিংকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ২০০২ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত রাম রহিমের আশ্রমের ব্যবস্থাপক ও তার অনুসারী ছিলেন রঞ্জিত। রাম রহিম নিজের যৌন লালসা চরিতার্থ করতে কীভাবে নারীদের অসহায়ত্বের সুযোগ নেন, সে বর্ণনা সম্বলিত একটি বেনামী চিঠি ছড়িয়েছিল সে সময়। সিবিআইয়ের অভিযোগপত্রে বলা হয়, চিঠিটি রঞ্জিত লিখেছেন বলে সন্দেহের বশবর্তী হয়ে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন ও নির্দেশ দিয়েছিলেন রাম রহিম নিজেই।

হত্যা মামলায় ভারতের কথিত ধর্মগুরু গুরমিত রাম রহিম সিংসহ পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে হরিয়ানার একটি আদালত।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, রাম রহিমের আশ্রম ডেরা সাচ্চা সওদার ব্যবস্থাপক রঞ্জিত সিং হত্যার মামলায় সোমবার রায় দেয় আদালত। রায়ে সাজা দেয়া হয় ডেরার প্রধান রাম রহিম ও তার আরও চার সহযোগীকে।

দণ্ডপ্রাপ্ত বাকিরা হলেন কৃষাণ লাল, জসবীর সিং, অবতার সিং ও সাবদিল।

রাম রহিমকে ভারতীয় মুদ্রায় ৩১ লাখ রুপি জরিমানাও করেছে আদালত। সাজাপ্রাপ্ত বাকিদের মধ্যে সাবদিলকে দেড় লাখ, কৃষাণ ও জসবীরের প্রত্যেককে সোয়া এক লাখ করে এবং অবতারকে ৭৫ হাজার রুপি অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে।

জরিমানা বাবদ আদায়কৃত অর্থের অর্ধেক পাবে নিহত রঞ্জিত সিংয়ের পরিবার।

প্রায় ২০ বছর আগে রঞ্জিত সিংকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ২০০২ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত রাম রহিমের আশ্রমের ব্যবস্থাপক ও তার অনুসারী ছিলেন রঞ্জিত।

রাম রহিম নিজের যৌন লালসা চরিতার্থ করতে কীভাবে নারীদের অসহায়ত্বের সুযোগ নেন, সে বর্ণনা সম্বলিত একটি বেনামী চিঠি ছড়িয়েছিল সে সময়।

সিবিআইয়ের অভিযোগপত্রে বলা হয়, চিঠিটি রঞ্জিত লিখেছেন বলে সন্দেহের বশবর্তী হয়ে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন ও নির্দেশ দিয়েছিলেন রাম রহিম নিজেই।

চলতি মাসের শুরুতে হরিয়ানার পাঞ্চকুলায় কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরোর (সিবিআই) একটি বিশেষ আদালত অভিযুক্ত পাঁচজনের সবাইকে দোষী সাব্যস্ত করে। এ মামলায় অভিযুক্ত ষষ্ঠজনের গত বছর মৃত্যু হয়েছে।

হরিয়ানার রোহটাক জেলার সুনায়রা কারাগারে ২০১৭ সাল থেকে বন্দি আছেন ৫৪ বছর বয়সী রাম রহিম। দুই অনুসারীকে ধর্ষণের অপরাধে ২০ বছরের সাজা ভোগ করছেন তিনি। সোমবারের রায় শুনানিতে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অংশ নেন তিনি; আদালতে উপস্থিত ছিলেন বাকি চার অপরাধী।

আদালতের রায় সামনে রেখে নাশকতার আশঙ্কায় পাঞ্চকুলা ও সির্সা জেলায় কঠোর নিরাপত্তা জারি করে পুলিশ। সির্সা জেলায় রাম রহিমের আশ্রম ডেরা সাচ্চা সওদার প্রধান কার্যালয় অবস্থিত বলে সেখানে তার সমর্থক ও ভক্তরা সহিংস হয়ে উঠতে পারে বলে শঙ্কা প্রশাসনের।

২০১৭ সালে রাম রহিমের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলার রায় ঘোষণার জেরে সহিংসতায় অচল হয়ে পড়েছিল হরিয়ানা ও পাঞ্জাব রাজ্য। হরিয়ানায় সংঘাতে নিহত হয়েছিল কমপক্ষে ৩৬ জনের, আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ১১৮ কোটি রুপি।

ধর্ষণের অপরাধে ২০ বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি সাংবাদিক রাম চন্দ্র ছত্রপতি হত্যার ঘটনাতেও যাবজ্জীবন দেয়া হয়েছে রাম রহিমকে।

আরও পড়ুন:
আফটারলাইভস: ঔপনিবেশিক নৃশংসতাকে প্রশ্ন করার উপন্যাস
সত্যের পক্ষে লড়াইয়ের অঙ্গীকার শান্তিতে নোবেলজয়ী রেসার
আবদুরাজাক গুরনাহর ‘প্যারাডাইস’: একটি পাঠপ্রতিক্রিয়া
গুরনাহর সৃষ্টি: শিকড়সন্ধানী মানুষের অভিজ্ঞতার নির্যাস
মতপ্রকাশের পক্ষে সোচ্চার দুই সাংবাদিককে শান্তিতে নোবেল

শেয়ার করুন

মিয়ানমারে ৫,৬৩৬ অভ্যুত্থানবিরোধীকে মুক্তি দেবে সেনাবাহিনী

মিয়ানমারে ৫,৬৩৬ অভ্যুত্থানবিরোধীকে মুক্তি দেবে সেনাবাহিনী

মিয়ানমারের সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইং। ফাইল ছবি

এএপিপির তথ্য অনুযায়ী, এখনও মিয়ানমারের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি প্রায় সাড়ে সাত হাজার বিক্ষোভকারী। তাদের মধ্যে আছেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এক সাংবাদিক ড্যানি ফেনস্টারও। ২৪ মে গ্রেপ্তার করা হয় তাকে।

মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করায় গ্রেপ্তার পাঁচ হাজার ৬৩৬ জনকে মুক্তি দেবে সেনাবাহিনী। ফেব্রুয়ারির ওই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয় দেশটির বেসামরিক সরকার।

টার্কিশ রেডিও অ্যান্ড টেলিভিশনের (টিআরটি) প্রতিবেদনে বলা হয়, সামনেই মিয়ানমারের ঐতিহ্যবাহী থাডিংইয়ুৎ ফেস্টিভ্যাল বা আলোকোৎসব। দিবসটি সামনে রেখে এ বিপুলসংখ্যক বন্দিকে মুক্তি দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সামরিক শাসকদলের প্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইং।

বার্মিজ চন্দ্র বর্ষপঞ্জিতে থাডিংইয়ুৎ মাসে পূর্ণিমার দিন আলোকোৎসব উদযাপন করে মিয়ানমার। এ বছর ২০ অক্টোবর, অর্থাৎ দুইদিন পরই হবে উৎসবটি।

বুধবারের উৎসব উপলক্ষে মুক্তি পেতে যাওয়া বন্দিদের কারা অগ্রাধিকার পাবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি মিয়ানমারের সেনাপ্রধান।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ান মিয়ানমারের সেনাপ্রধানকে বাদ দিয়েই শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়ার পর আসে মিন অং হ্লাইংয়ের এ ঘোষণা। দেশের রাজনীতিতে রক্তক্ষয়ী অচলাবস্থা নিয়ন্ত্রণের প্রতিশ্রুতি পালনে ব্যর্থতার অভিযোগে জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেয় আঞ্চলিক জোটটি।

১ ফেব্রুয়ারির সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকেই অরাজক পরিস্থিতি চলছে মিয়ানমারে। গণতান্ত্রিক সরকারকে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেয়ার দাবিতে হওয়া বিক্ষোভ দমনে শক্তি প্রয়োগ করে সেনাবাহিনী, যাতে নিহত হয় প্রায় এক হাজার ২০০ জন বেসামরিক মানুষ।

স্থানীয় পর্যবেক্ষক সংস্থা অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্সের (এএপিপি) তথ্য অনুযায়ী, সেনা অভ্যুত্থানের বিরোধিতা করায় ফেব্রুয়ারি থেকে নয় হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

চলতি বছরের জুলাইয়ে মিয়ানমারের বিভিন্ন কারাগার থেকে দুই হাজার বিক্ষোভকারীকে মুক্তি দেয়া হয়। মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে সামরিক সরকারের সমালোচক অনেক সংবাদকর্মীও ছিলেন।

এএপিপির তথ্য অনুযায়ী, এখনও মিয়ানমারের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি প্রায় সাড়ে সাত হাজার বিক্ষোভকারী। তাদের মধ্যে আছেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এক সাংবাদিক ড্যানি ফেনস্টারও। ২৪ মে গ্রেপ্তার করা হয় তাকে।

আরও পড়ুন:
আফটারলাইভস: ঔপনিবেশিক নৃশংসতাকে প্রশ্ন করার উপন্যাস
সত্যের পক্ষে লড়াইয়ের অঙ্গীকার শান্তিতে নোবেলজয়ী রেসার
আবদুরাজাক গুরনাহর ‘প্যারাডাইস’: একটি পাঠপ্রতিক্রিয়া
গুরনাহর সৃষ্টি: শিকড়সন্ধানী মানুষের অভিজ্ঞতার নির্যাস
মতপ্রকাশের পক্ষে সোচ্চার দুই সাংবাদিককে শান্তিতে নোবেল

শেয়ার করুন

যৌনবৃত্তি বন্ধের অঙ্গীকার স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর

যৌনবৃত্তি বন্ধের অঙ্গীকার স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর

দেশে যৌনবৃত্তি অবৈধ করতে চান স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। ছবি: এএফপি

স্পেনের ভ্যালেন্সিয়া শহরে রোববার নিজের দল স্প্যানিশ সোশ্যালিস্ট ওয়ার্কার্স পার্টির তিন দিনের কংগ্রেস শেষে সমর্থকদের উদ্দেশে দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ যৌনবৃত্তি বন্ধের অঙ্গীকার করেন।

যৌনবৃত্তিকে ‘অবৈধ’ হিসেবে ঘোষণা দেয়ার অঙ্গীকার করেছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। এ পেশা নারীদের দাসে পরিণত করে বলে মন্তব্য তার।

দেশটির ভ্যালেন্সিয়া শহরে স্থানীয় সময় রোববার নিজের দল স্প্যানিশ সোশ্যালিস্ট ওয়ার্কার্স পার্টির তিন দিনের কংগ্রেস শেষে সমর্থকদের উদ্দেশে সানচেজ এসব বার্তা দেন।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৯৫ সালে যৌনবৃত্তিকে বৈধতা দেয় স্পেন। ২০১৬ সালে জাতিসংঘ জানায়, দেশটির যৌনশিল্পের মূল্য ৪.২ বিলিয়র ডলার।

২০০৯ সালের এক জরিপে জানা যায়, প্রতি তিনজনের একজন স্প্যানিশ পুরুষ সহবাসের জন্য অর্থ দেন।

জাতিসংঘের ২০১১ সালের এক গবেষণা বলছে, যৌনবৃত্তির কেন্দ্র হিসেবে বিশ্বে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে স্পেন। প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে থাইল্যান্ড ও পুয়ের্তোরিকো।

স্পেনে এ মুহূর্তে অবাধ যৌনবৃত্তির চর্চা হচ্ছে। জনপরিসরে যৌনকাজ না করলে স্বেচ্ছায় এতে অংশ নেয়া নারীদের শাস্তির বিধান দেশটিতে নেই।

অবশ্য যৌনকর্মী ও সম্ভাব্য ক্লায়েন্টের মধ্যে দালালি করা স্পেনে অবৈধ।

১৯৯৫ সালে বৈধতা পাওয়ার পর স্পেনে যৌনশিল্পের ব্যাপক বিকাশ হয়। দেশটিতে প্রায় তিন লাখ নারী বর্তমানে এ পেশার সঙ্গে যুক্ত।

২০১৯ সালে নির্বাচনি মেনিফেস্টোতে যৌনবৃত্তি অবৈধ হিসেবে ঘোষণা দেয়ার অঙ্গীকার করেছিল সানচেজের দল। নারী ভোট বেশি পেতে দলটি ওই অঙ্গীকার করে বলে মনে করা হয়।

ওই সময় সানচেজের সোশ্যালিস্ট পার্টি তাদের নির্বাচনি মেনিফেস্টোতে বলেছিল, নারী ও পুরুষের মধ্যে ক্রমবর্ধমান অসমতার অন্যতম নিষ্ঠুরতম দিক হচ্ছে যৌনবৃত্তি। এ ছাড়া এটি নারীর প্রতি সহিংসতার সবচেয়ে জঘন্য রূপ।

নির্বাচনে সানচেজের দল জিতেছে দুই বছর হলো। এখন পর্যন্ত যৌনবৃত্তি বন্ধের কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি দেশটির নীতিনির্ধারকদের মধ্যে।

আরও পড়ুন:
আফটারলাইভস: ঔপনিবেশিক নৃশংসতাকে প্রশ্ন করার উপন্যাস
সত্যের পক্ষে লড়াইয়ের অঙ্গীকার শান্তিতে নোবেলজয়ী রেসার
আবদুরাজাক গুরনাহর ‘প্যারাডাইস’: একটি পাঠপ্রতিক্রিয়া
গুরনাহর সৃষ্টি: শিকড়সন্ধানী মানুষের অভিজ্ঞতার নির্যাস
মতপ্রকাশের পক্ষে সোচ্চার দুই সাংবাদিককে শান্তিতে নোবেল

শেয়ার করুন

দিল্লিতে এক দশকে রেকর্ড বৃষ্টি

দিল্লিতে এক দশকে রেকর্ড বৃষ্টি

ভারী বৃষ্টিতে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ছবি: হিন্দুস্তান টাইমস

রোববার থেকে সোমবার ভোর সাড়ে ৫টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সফদারজংয়ে ৮৫ মিলিমিটার ও পালামে ৫৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। এক দশকে এটাই সর্বোচ্চ। এর আগে ১৯৫৪ সালে দিল্লিতে ১৭২.৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়।

ভারতের রাজধানী দিল্লি ও এর আশপাশের এলাকায় ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড বৃষ্টি হয়েছে। এক দশকে এত বেশি বৃষ্টি এর আগে দেখেনি রাজধানীবাসী। সোমবার আরও বৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।

রাতভর টানা কয়েক ঘণ্টার প্রবল বর্ষণে দিল্লির বেশ কয়েকটি অঞ্চলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে সোমবার সকাল থেকে সড়কে যান চলাচলে ছিল ধীরগতি। কয়েকটি এলাকার রাস্তা বন্ধ করে দেয় ট্রাফিক পুলিশ।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

ভারতের বেসরকারি আবহাওয়া পূর্বাভাস সংস্থা স্কাইমেট ওয়েদার সার্ভিসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দিল্লির দক্ষিণাঞ্চলীয় সফদারজং এলাকায় ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড বৃষ্টি হয়েছে।

রোববার থেকে সোমবার ভোর সাড়ে ৫টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সফদারজংয়ে ৮৫ মিলিমিটার ও পালামে ৫৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। এক দশকে এটাই সর্বোচ্চ। এর আগে ১৯৫৪ সালে দিল্লিতে ১৭২.৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়।

আগামী দুই ঘণ্টায় দিল্লি ছাড়াও নয়ডা, গাজিয়াবাদ, বৃহত্তর নয়ডা, বারাউত, আগ্রা, হাথরাস, সনিপাত, গানাউর, গোহানা, সোহানা, ঝুনঝুনু ও পিলানি শহরে অল্প বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে ভারতের আবহাওয়া দপ্তর (আইএমডি)।

দিল্লি ট্রাফিক পুলিশ জানিয়েছে, পুলপ্রহলাদপুর আন্ডারপাসে ভারি বর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার কারণে এমবি রোড বন্ধ করা হয়েছে।

রোববারের ভারি বৃষ্টিতেও দিল্লির বেশ কয়েকটি এলাকায় জলাবদ্ধতা ও যানজটের সৃষ্টি হয়।

ওই দিন দিল্লির সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আরও পড়ুন:
আফটারলাইভস: ঔপনিবেশিক নৃশংসতাকে প্রশ্ন করার উপন্যাস
সত্যের পক্ষে লড়াইয়ের অঙ্গীকার শান্তিতে নোবেলজয়ী রেসার
আবদুরাজাক গুরনাহর ‘প্যারাডাইস’: একটি পাঠপ্রতিক্রিয়া
গুরনাহর সৃষ্টি: শিকড়সন্ধানী মানুষের অভিজ্ঞতার নির্যাস
মতপ্রকাশের পক্ষে সোচ্চার দুই সাংবাদিককে শান্তিতে নোবেল

শেয়ার করুন

প্রাণের সন্ধানে মঙ্গলে ঠিক জায়গাতেই পারসিভারেন্স

প্রাণের সন্ধানে মঙ্গলে ঠিক জায়গাতেই পারসিভারেন্স

মঙ্গলে প্রাণের অস্তিত্ব সন্ধানে ভুল জায়গায় পারসিভারেন্স নামেনি বলে জানান বিজ্ঞানীরা। ছবি: নাসা

নাসার বিজ্ঞানীরা বলছেন, কীভাবে নদীর পানি হ্রদে এসে মিলিত হলো, পানিপ্রবাহ হঠাৎ কেন ধীর হয়ে গেল, পলি জমে কীভাবে ডেল্টার গঠন হলো, এসব বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য পেয়েছে পারসিভারেন্স।

মঙ্গল গ্রহে অতীতে কোনো প্রাণের অস্তিত্ব ছিল কি না, তা খুঁজতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে গ্রহটিতে নামে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ সংস্থা নাসার পারসিভারেন্স রোভার।

প্রাচীন প্রাণের দেখা মিলবে এমন জায়গায় পারসিভারেন্স নেমেছিল কি না, তা নিয়ে কিছুটা দ্বিধা ছিল বিজ্ঞানীদের। তবে সম্প্রতি নাসার বিজ্ঞানীরা জানান, সঠিক জায়গাতেই রয়েছে পারসিভারেন্স। এ বিষয়ে আর কোনো সন্দেহ নেই।

গবেষকদের ভাষ্য, মঙ্গল গ্রহে রোভারটি এমন এক জায়গায় পাঠানো হয়েছে, যেখান থেকে প্রাচীন প্রাণের অস্তিত্ব পাওয়ার সবচেয়ে ভালো সম্ভাবনা রয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ফেব্রুয়ারির ১৯ তারিখে মঙ্গলের জেজেরো ক্রেটার স্পর্শ করে পারসিভারেন্স। এর পর থেকে ওই অঞ্চলের হাজার হাজার ছবি নাসাকে পাঠাচ্ছে রোভারটি।

সাড়ে তিন বিলিয়ন বছরের বেশি সময় আগে লাল গ্রহ মঙ্গলের জলবায়ু অনেক বেশি প্রাণবান্ধব ছিল। সে সময়ে গ্রহটিতে বিশাল হ্রদ ছিল বলে ধারণা বিজ্ঞানীদের।

তাদের অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে পারসিভারেন্স এমনই এক বিশাল হ্রদে অবতরণ করেছে বলে নিশ্চিত নাসার বিজ্ঞানীরা। পশ্চিম দিকের কোনো এক আঁকাবাঁকা নদী থেকে হ্রদটিতে পানি আসত বলেও মন্তব্য তাদের।

নাসার বিজ্ঞানীরা বলছেন, কীভাবে নদীর পানি হ্রদে এসে মিলিত হলো, পানিপ্রবাহ হঠাৎ কেন ধীর হয়ে গেল, পলি জমে কীভাবে ডেল্টার গঠন হলো, এসব বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য পেয়েছে পারসিভারেন্স।

তাদের ভাষ্য, মঙ্গলে ওই সময় এমন এক আবহাওয়া বিরাজ করত, যেখানে অণুজীবরা বেঁচে থাকতে পারত। পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে তাদের অস্তিত্ব একেবারে বিলীন হয়ে যায়নি।

যুক্তরাজ্যের ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক সঞ্জীব গুপ্ত বলেন, “মানুষজন আমাকে জিজ্ঞাসা করে, ‘পারসিভারেন্স তো সঠিক জায়গাতেই নেমেছে। এতে নতুন কী আছে? জেজেরো ক্রেটারের ডেল্টা সম্পর্কে আমরা কি আগে থেকে জানতাম না'?”

তিনি বলেন, ‘আমি তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, 'আমরা এ বিষয়ে নিশ্চিত ছিলাম না। কক্ষপথ থেকে তোলা ছবি দেখে আমাদের অনুমান ছিল, জেজেরো ক্রেটারে একটি ডেল্টা রয়েছে। কিন্তু মঙ্গলে নামার আগ পর্যন্ত এ বিষয়ে কীভাবে নিশ্চিত হই?

‘পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়ার জন্য পারসিভারেন্সকে মঙ্গলে পাঠানো জরুরি ছিল।’

আরও পড়ুন:
আফটারলাইভস: ঔপনিবেশিক নৃশংসতাকে প্রশ্ন করার উপন্যাস
সত্যের পক্ষে লড়াইয়ের অঙ্গীকার শান্তিতে নোবেলজয়ী রেসার
আবদুরাজাক গুরনাহর ‘প্যারাডাইস’: একটি পাঠপ্রতিক্রিয়া
গুরনাহর সৃষ্টি: শিকড়সন্ধানী মানুষের অভিজ্ঞতার নির্যাস
মতপ্রকাশের পক্ষে সোচ্চার দুই সাংবাদিককে শান্তিতে নোবেল

শেয়ার করুন

পাকিস্তানে বিয়ের পরও এনআইডিতে রাখা যাবে বাবার নাম

পাকিস্তানে বিয়ের পরও এনআইডিতে রাখা যাবে বাবার নাম

পাকিস্তানি নারীরা এখন বিয়ের পর জাতীয় পরিচয়পত্রে বাবার নাম রাখতে পারবেন। ছবি: নিউ কানাডিয়ান মিডিয়া

সম্মেলনে নাদরার চেয়ারপারসন তারিক মালিক বলেন, ‘স্বামীর নাম রাখার বাধ্যতামূলক অনানুষ্ঠানিক ওই নীতি আমরা বাতিল করছি। জাতীয় পরিচয়পত্রে বিয়ের পর নারীরা বাবার নাম রাখবেন নাকি স্বামীর নাম রাখবেন- এ সিদ্ধান্ত এখন তাদের।’

জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) বিয়ের পর বাবার নাম ফেলে দিয়ে স্বামীর নাম রাখার নারীদের যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে, সেখান থেকে সরে আসছে পাকিস্তান। নারীরা চাইলে এখন বিয়ের পরও জাতীয় পরিচয়পত্রে তাদের বাবার নাম রাখতে পারবেন।

পাকিস্তানের ন্যাশনাল ডাটাবেজ অ্যান্ড রেজিস্ট্রেশন অথরিটির (নাদরা) চেয়ারপারসন তারিক মালিক শুক্রবার ১৪তম বার্ষিক গ্রামীণ নারী সম্মেলনের শেষ অধিবেশনে এ ঘোষণা দেন।

সম্মেলনে মালিক বলেন, ‘স্বামীর নাম রাখার বাধ্যতামূলক অনানুষ্ঠানিক এই নীতি আমরা বাতিল করছি। জাতীয় পরিচয়পত্রে বিয়ের পর নারীরা বাবার নাম রাখবেন নাকি স্বামীর নাম রাখবেন- এ সিদ্ধান্ত এখন তাদের।

‘এ সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে নারীর, তার স্বামীর নয়।’

নাদরার চেয়ারপারসন মালিক বলেন, ‘জাতীয় পরিচয়পত্র থেকে বিয়ের পর বাবার নাম বাদ দিয়ে স্বামীর নাম রাখার সংস্কৃতি নীতি বাস্তবায়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা করেছেন।

‘বিয়ের পর পরিচয়পত্রে স্বামীর নাম রাখতেই হবে- এমন কোনো কিছু আইনে বলা নেই। স্বামীর অনুমতি নিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র হালনাগাদ করতে নারীদের বাধ্য করার কথাও কেউ বলেনি। তবে অনানুষ্ঠানিক এ নিয়ম আমাদের দেশে চলে আসছে।’

মালিক বলেন, ‘জাতীয় পরিচয়পত্র প্লাস্টিকের কোনো টুকরা নয়। এটি ভোট দেয়া, মামলা করা, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলাসহ সব ধরনের সরকারি সুবিধা দিতে সহায়তা করে। এটি নারী ক্ষমতায়নের অন্যতম উৎস।’

মালিক রোববার ডনকে বলেন, ‘আগের নীতি অনুযায়ী, বিয়ের পর নারীদের জাতীয় পরিচয়পত্রে স্বামীর নাম যুক্ত করা বাধ্যতামূলক।

‘নতুন নীতিতে নারীরা বিয়ের পর বাবার নামই রাখবেন নাকি এর জায়গায় স্বামীর নাম বসাবেন, এটা এখন তাদের ওপর নির্ভর করছে।

‘এমনকি বিয়ের পর নারীরা চাইলে জাতীয় পরিচয়পত্রে নিজের নামের সঙ্গে স্বামীর নাম যুক্ত করতে পারবেন। তবে সে ক্ষেত্রে তার নিচে বাধ্যতামূলকভাবে তাদের বাবার নামও রাখতে হবে।’

‘এটি যুগান্তকারী এক পরিবর্তন। এটি জাতীয় পরিচয়পত্রকে ঘিরে নারীদের তাদের মর্জিমাফিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে।’

আরও পড়ুন:
আফটারলাইভস: ঔপনিবেশিক নৃশংসতাকে প্রশ্ন করার উপন্যাস
সত্যের পক্ষে লড়াইয়ের অঙ্গীকার শান্তিতে নোবেলজয়ী রেসার
আবদুরাজাক গুরনাহর ‘প্যারাডাইস’: একটি পাঠপ্রতিক্রিয়া
গুরনাহর সৃষ্টি: শিকড়সন্ধানী মানুষের অভিজ্ঞতার নির্যাস
মতপ্রকাশের পক্ষে সোচ্চার দুই সাংবাদিককে শান্তিতে নোবেল

শেয়ার করুন

বেসামরিক হত্যায় কাশ্মীরি জড়িত নয়: ফারুক আব্দুল্লাহ

বেসামরিক হত্যায় কাশ্মীরি জড়িত নয়: ফারুক আব্দুল্লাহ

কাশ্মীরে বেসামরিক নাগরিক হত্যায় কাশ্মীরিদের সংশ্লিষ্টতা নেই বলে জানান জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আব্দুল্লাহ। ছবি: আউটলুক

জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আব্দুল্লাহ বলেন, ‘সাম্প্রতিক এসব হত্যা দুঃখজনক। চক্রান্ত করে এসব ঘটানো হয়েছে। কাশ্মীরের সাধারণ জনগণ কোনোভাবেই এসব হামলায় জড়িত নয়।’

কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু-কাশ্মীরে বেসামরিক নাগরিক হত্যায় কাশ্মীরের সাধারণ মানুষ জড়িত নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল কনফারেন্সের (জেকেএনসি) প্রেসিডেন্ট ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আব্দুল্লাহ।

কাশ্মীরিদের নামে কুৎসা রটাতে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে সাম্প্রতিক হামলাগুলো চালানো হয় বলেও জানান তিনি।

কাশ্মীরের বর্ষীয়ান নেতা ফারুক রোববার সাংবাদিকদের কাছে এসব মন্তব্য করেন বলে এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ফারুক আব্দুল্লাহ বলেন, ‘কেন্দ্রশাসিত জম্মু-কাশ্মীরের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিনষ্ট করার চেষ্টার লক্ষ্যে সম্প্রতি এই হামলাগুলো হয়।’

তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক এসব হত্যা দুঃখজনক। চক্রান্ত করে এসব ঘটানো হয়েছে। কাশ্মীরের সাধারণ জনগণ কোনোভাবেই এসব হামলায় জড়িত নয়।’

শনিবার জম্মু-কাশ্মীরের শ্রীনগর ও পুলওয়ামা জেলায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে বিহারের দুই শ্রমিক নিহত হন।

কাশ্মীরে ২ অক্টোবর থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত পৃথক ঘটনায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের চার সদস্যসহ ১১ বেসামরিক নাগরিক সন্ত্রাসী হামলায় প্রাণ হারান।

ওই সব ঘটনায় কাশ্মীরজুড়ে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ে উপদেষ্টা পর্যায়ের বৈঠক বিষয়ে ফারুক জানান, দুই দেশের বন্দুত্বপূর্ণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় যেকোনো উদ্যোগকে স্বাগতম।

তিনি বলেন, ‘ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যাতে মৈত্রীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে, আমাদের তা প্রার্থনা ও আশা করা উচিত। এটি হলে আমরা শান্তিতে বসবাস করতে পারব।’

জি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরে জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসী হামলায় ৩০ জন বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু হয়।

সাম্প্রতিক হামলার পর জম্মু-কাশ্মীরজুড়ে এখন পর্যন্ত ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ সন্দেহে প্রায় ৯০০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতীয় পুলিশ।

পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে ভারতের নিরাপত্তা বাহিনী। পুলিশের ভাষ্য, গত এক সপ্তাহে ১৪ জন ‘সন্ত্রাসীকে’ হত্যা করা হয়েছে।

পুলিশের মহাপরিদর্শক বিজয় কুমার বলেন, ‘বেসামরিক নাগরিকের প্রাণহানির পর ১৩ সন্ত্রাসী পুলিশের সঙ্গে ৯টি সংঘর্ষে মারা গেছে। আমরা ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ে শ্রীনগরে পাঁচ সন্ত্রাসীর মধ্যে তিনজনকে হত্যা করতে সক্ষম হই।’

আরও পড়ুন:
আফটারলাইভস: ঔপনিবেশিক নৃশংসতাকে প্রশ্ন করার উপন্যাস
সত্যের পক্ষে লড়াইয়ের অঙ্গীকার শান্তিতে নোবেলজয়ী রেসার
আবদুরাজাক গুরনাহর ‘প্যারাডাইস’: একটি পাঠপ্রতিক্রিয়া
গুরনাহর সৃষ্টি: শিকড়সন্ধানী মানুষের অভিজ্ঞতার নির্যাস
মতপ্রকাশের পক্ষে সোচ্চার দুই সাংবাদিককে শান্তিতে নোবেল

শেয়ার করুন