তাইওয়ানকে গোপনে সামরিক প্রশিক্ষণ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

তাইওয়ানকে গোপনে সামরিক প্রশিক্ষণ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

তাইওয়ানকে গত বছর থেকে গোপনে সামরিক প্রশিক্ষণ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: এএফপি

‘অন্তত এক বছর ধরে তাইওয়ানের সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীর প্রায় দুই ডজন সদস্য প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছে।’

চীনকে রাগান্বিত করার ঝুঁকি নিয়ে কমপক্ষে এক বছর থেকে তাইওয়ানের সামরিক বাহিনীকে গোপনে প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী।

অসমর্থিত সূত্রের বরাতে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল

সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘অন্তত এক বছর ধরে তাইওয়ানের সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীর প্রায় দুই ডজন সদস্য প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছে।

‘প্রশিক্ষণ চলাকালীন স্বশাসিত দ্বীপ রাষ্ট্রটির বিরুদ্ধে চীনের সামরিক কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক হুমকি বৃদ্ধি পায়।’

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর বার্তা সংস্থা রয়টার্স সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্রের বরাতে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রশিক্ষকরা তাইওয়ানে অস্থায়ী ভিত্তিতে রয়েছেন।

তাইওয়ানে ঠিক কত দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী প্রশিক্ষণ দিচ্ছে তা জানাতে অস্বীকৃতি জানায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

তবে তাদের ভাষ্য, চলতি বছরের জানুয়ারিতে জো বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে থেকে অর্থাৎ দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমল থেকে তাইওয়ানের সামরিক বাহিনীর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়।

তাইওয়ানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী চিউ কুও-চেং ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে রয়টার্সকে তিনি বলেন, ‘বার্ষিক পরিকল্পনা অনুযায়ী সব ধরনের সামরিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়।’

জার্নালের প্রতিবেদন নিশ্চিত বা অস্বীকার করেনি পেন্টাগন। এর মুখপাত্র জন সাপল জানান, তাইওয়ানের প্রতিরক্ষার স্বার্থে দেশটির সামরিক বাহিনীকে সহযোগিতা করে যুক্তরাষ্ট্র।

সাপল এক বিবৃতিতে বলেন, ‘তাইওয়ানকে দেয়া চীনের সাম্প্রতিক হুমকির সঙ্গে দ্বীপটির প্রতি আমাদের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা একসূত্রে গাঁথা।

‘ওই অঞ্চলে শান্তিপূর্ণ অবস্থানের অঙ্গীকার করেছিল চীন। আমরা দেশটিকে আহ্বান জানাই, তারা যেন তাদের অঙ্গীকার মতো কাজ করে।’

তাইওয়ানকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশিক্ষণ দেয়ার বিষয়ে ইন্দো-প্যাসিফিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ফেলো জ্যাকব স্ট্রোকস বলেন, ‘এটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে তাইওয়ানের সামরিক বাহিনীর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উন্নত হবে।’

এদিকে তাইওয়ানকে সামরিক সহযোগিতা দেয়া বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে চীন।’

শুক্রবার থেকে শুরু করে পরের তিন দিনে তাইওয়ানের আকাশ প্রতিরক্ষা অঞ্চলে প্রায় দেড় শটি যুদ্ধবিমান পাঠায় চীন।

এ নিয়ে চীন ও তাইওয়ানের মধ্যে উত্তেজনা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। কারণ এত বেশিসংখ্যক যুদ্ধবিমান এর আগে কখনো তাইওয়ানের আকাশে পাঠায়নি চীন।

চীন ও তাইয়ানের সাম্প্রতিক উত্তেজনা গত ৪০ বছরে দেখা যায়নি বলেও মন্তব্য করেন তাইওয়ানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী চিউ।

পাশাপাশি ২০২৫ সালের ভেতর চীন তাইওয়ানে সর্বাত্মক আক্রমণ চালাতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

তাইওয়ানকে নিজেদের প্রদেশ দাবি করা চীন ফের এটি দখলে বিভিন্ন সময়ে অঙ্গীকার করে। এ ছাড়া তাইওয়ানের নির্বাচিত সরকারকে শুরু থেকেই ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ বলে আসছে চীন।

অন্যদিকে নিজেদের সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে দেখে তাইওয়ান।

আরও পড়ুন:
২০২৫ সালের মধ্যে তাইওয়ান দখলে নিতে পারে চীন
তাইওয়ানের আকাশে চীনের ৩৮ যুদ্ধবিমান
ট্রেন দুর্ঘটনার দায় নিয়ে তাইওয়ানের পরিবহনমন্ত্রীর পদত্যাগ
তাইওয়ানে ট্রেন লাইনচ্যুত, নিহত অন্তত ৪৮

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ফেসবুকের আয় বেড়েছে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি

ফেসবুকের আয় বেড়েছে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি

ফেসবুক গত তিন মাসে ৯ বিলিয়ন ডলার আয় করে। ছবি: এএফপি

সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট ফেসবুক জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই তিন মাসে ৯ বিলিয়ন ডলারের মুনাফা কামিয়েছে। গত বছর একই সময়ে ফেসবুকের মুনাফা ছিল ৭ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের বিরুদ্ধে সম্প্রতি বেশ কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ তুলে আলোড়ন সৃষ্টি করেন মাধ্যমটির সাবেক প্রোডাক্ট ম্যানেজার ও হুইসেলব্লোয়ার ফ্রান্সেস হাউগেন।

বিভক্তি সৃষ্টি, শিশুদের ক্ষতিসাধন, নিরাপত্তার চেয়ে মুনাফার দিকে বেশি ঝোঁক, গণতন্ত্র দুর্বল করাসহ ফেসবুকের বিরুদ্ধে হাউগেনের অন্যান্য অভিযোগ নিয়ে বিশ্বব্যাপী চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে সম্প্রতি বলা হয়, বিভিন্ন নথিতে দেখা যায়, বিদ্বেষপ্রসূত বক্তব্য ও যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে মানবপাচার প্রচার সংবলিত কন্টেন্ট সরাতে বারবারই ব্যর্থ হয় ফেসবুক।

এমন পরিপ্রেক্ষিতে বিবিসির মঙ্গলবারের প্রতিবেদনে বলা হয়, সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট ফেসবুক জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই তিন মাসে ৯ বিলিয়ন ডলারের মুনাফা কামিয়েছে। গত বছর একই সময়ে ফেসবুকের মুনাফা ছিল ৭ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার।

ফেসবুকের বিরুদ্ধে আনা সাম্প্রতিক অভিযোগ সম্পর্কে এটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মার্ক জাকারবার্গ সোমবার বিনিয়োগকারীদের বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে সমন্বিত প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।’

ফেসবুকের পক্ষ থেকে বলা হয়, ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গত ১২ মাসে মাধ্যমটির মাসিক ব্যবহারকারীর হার ৬ শতাংশ অর্থাৎ ২ দশমিক ৯১ বিলিয়ন বৃদ্ধি পেয়েছে।

অবশ্য গত কয়েক মাসে ফেসবুকের আয় অনেক বাড়লেও অ্যাপলের গোপনীয়তা নীতির কারণে এটির রাজস্ব কিছুটা কমেছে।

অ্যাপলের আইওএস ১৪ অপারেটিং সিস্টেমে সম্প্রতি গোপনীয়তা নীতি হালনাগাদ করা হয়। এতে নির্দিষ্ট ব্যবহারকারীদের কাছে বিজ্ঞাপন দিতে বেশ কয়েকটি ব্র্যান্ডের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। নতুন এই নীতির প্রভাব স্বাভাবিকভাবে ফেসবুকেও পড়ে।

এ বিষয়ে ফেসবুক জানিয়েছে, বছরের শেষ তিন মাসেও অ্যাপলের গোপনীয়তা নীতির ফলে ডিজিটাল ব্যবসায় কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে ওই পরিবর্তনের সঙ্গে ধীরে ধীরে সামঞ্জস্য করা হবে।

আরও পড়ুন:
২০২৫ সালের মধ্যে তাইওয়ান দখলে নিতে পারে চীন
তাইওয়ানের আকাশে চীনের ৩৮ যুদ্ধবিমান
ট্রেন দুর্ঘটনার দায় নিয়ে তাইওয়ানের পরিবহনমন্ত্রীর পদত্যাগ
তাইওয়ানে ট্রেন লাইনচ্যুত, নিহত অন্তত ৪৮

শেয়ার করুন

কালারি জনপ্রিয়তার পেছনে মিনাক্সি আম্মা

কালারি জনপ্রিয়তার পেছনে মিনাক্সি আম্মা

মার্শাল আর্ট কালারিতে মিনাক্সি আম্মার সঙ্গে লড়ছেন তার ছেলে সজিভ কুমার। ছবি: সংগৃহীত

মেয়েদের নিরাপত্তায় কালারি শেখার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে মিনাক্সি বলেন, ‘পত্রিকার পাতা খুললেই নারীর ওপর সহিংসতার খবর নজরে আসে। যদি নারীরা এই মার্শাল আর্ট আয়ত্ব করে তাহলে তারা শারীরিক ও মানসিকভাবে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবে। তখন তারা একা বাইরে কাজে যেতে আর ভয় পাবে না।’

ভারতের ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন মার্শাল আর্ট কালারি দিন দিন জনপ্রিয় করে তুলছেন ৭৮ বছর বয়সী মিনাক্সি আম্মা।

মেয়েদের নিরাপত্তা ও স্বাধীন চলাচল নিশ্চিতে কার্যকর এই মার্শাল আর্ট আগ্রহ নিয়ে কেরালায় দাদুর কাছ থেকে শিখে নিচ্ছেন বিভিন্ন বয়সী নারীরা। তার ঐকান্তিক চেষ্টায় কালারি ফিরে পাচ্ছে এর হারানো গৌরব।

প্রায় তিন হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী এই মার্শাল আর্টকে ফের জনপ্রিয় করার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৭ সালে ভারতের জাতীয় পুরস্কার জিতে নেন দাদু নামে সুপরিচিত এই নারী।

বার্তা সংস্থা এএফপিতে দেয়া এক সাক্ষাতকারে দাদু জানান, কালারিপায়াট্টু বা কালারি ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন মার্শাল আর্টস যার উৎপত্তি দক্ষিণ ভারতে। এতে প্রধানত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয় লাঠি।

তিনি আরও বলেন, ‘সাত বছর বয়সে কালারি শেখা শুরু করি। এখন আমি ৭৮-তে। এখনও কালারি আমাকে নতুন কিছু শিখাচ্ছে। আমিও তা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছি অনেকের মাঝে।’

কালারি জনপ্রিয়তার পেছনে মিনাক্সি আম্মা
বিভিন্ন বয়সী মেয়েরা আগ্রহ নিয়ে কালারি শিখছেন। ছবি: সংগৃহীত

মেয়েদের নিরাপত্তায় কালারি শেখার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে মিনাক্সি বলেন, ‘পত্রিকার পাতা খুললেই নারীর ওপর সহিংসতার খবর নজরে আসে। যদি নারীরা এই মার্শাল আর্ট আয়ত্ব করে তাহলে তারা শারীরিক ও মানসিকভাবে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবে। তখন তারা একা বাইরে কাজে যেতে আর ভয় পাবে না।’

‘যখন আমি ছোট ছিলাম তখন খুব বেশি মেয়ে কালারি শিখতো না। আমরা বড়জোর পাঁচ থেকে ছয় জন ছিলাম যারা শিখতাম। এখন যখন আমি কালারি প্রশিক্ষণ শুরু করেছি তখন অনেক জায়গা থেকে বিভিন্ন বয়সী মেয়েরা আগ্রহ নিয়ে যোগ দিচ্ছেন। কালারি এখন স্পোর্টস হিসেবেও স্বীকৃতি পেয়েছে,’ যোগ করেন মিনাক্সি।

কালারিতে রয়েছে নৃত্য আর ইয়োগার বিভিন্ন ভঙ্গি। এতে তলোয়ার, ঢাল ও লাঠি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তিন হাজার বছর আগের হিন্দু শাস্ত্রেও কালারির উল্লেখ পাওয়া যায়। এখনও ধর্মীয় আচার হিসেবে প্রচলন রয়েছে এই বিশেষ ধরনের মার্শাল আর্টের।

কালারি জনপ্রিয়তার পেছনে মিনাক্সি আম্মা
কালারিতে রয়েছে নৃত্য আর ইয়োগার বিভিন্ন ভঙ্গি। ছবি: সংগৃহীত

ঔপনিবেশিক শাসনামলে ১৮০৪ সালে উপমহাদেশে কালারি অনুশীলন ও প্রচলন নিষিদ্ধ করে ব্রিটিশ শাসকরা। তবে গোপনে এই প্রচলন বন্ধ করতে ব্যর্থ হয় ব্রিটিশরা। উপমহাদেশ থেকে ব্রিটিশদের বিদায়ের পর ফের পূর্ণমাত্রায় ফিরে আসে কালারি।

সাম্প্রতিক সময়ে মিনাক্সির একক প্রচেষ্টায় জনপ্রিয়তার তুঙ্গে চলে এসেছে হারাতে যাওয়া এই ঐতিহ্যবাহী মার্শাল আর্ট।

দাদু জানান, তার স্বামী ১৯৪৯ সালে এই মার্শাল আর্টকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে ‘কাদাথানাদ কালারি সংগ্রাম স্কুল’ প্রতিষ্ঠা করেন।

কালারি শিক্ষার্থী নেহা ডি জানায়, এই বিশেষ মার্শাল আর্ট তার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে।

কালারি প্রশিক্ষক ও মিনাক্সি আম্মার ছেলে সজিভ কুমার বলেন, ‘কালারিপায়াট্টুর দুটো ভাগ আছে। শান্তির জন্য কালারি ও যুদ্ধের জন্য কালারি। এই আর্ট তখনই বেশি জনপ্রিয়তা পাবে যখন একে শুধুমাত্র শান্তির জন্য ব্যবহার করা হবে। এই আর্ট দেহ, মন ও আত্মার মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে। তখন মানুষের শারীরিক শক্তি বেড়ে যায় এবং শত্রু পরাস্ত হয়।

তিনি দাবি জানান, সরকারের উচিত এই মার্শাল আর্ট স্কুল ও কলেজে শেখানোর ব্যবস্থা করা।

আরও পড়ুন:
২০২৫ সালের মধ্যে তাইওয়ান দখলে নিতে পারে চীন
তাইওয়ানের আকাশে চীনের ৩৮ যুদ্ধবিমান
ট্রেন দুর্ঘটনার দায় নিয়ে তাইওয়ানের পরিবহনমন্ত্রীর পদত্যাগ
তাইওয়ানে ট্রেন লাইনচ্যুত, নিহত অন্তত ৪৮

শেয়ার করুন

সৌদি যুবরাজ ‘মানসিক বিকারগ্রস্ত’: সাবেক গোয়েন্দা

সৌদি যুবরাজ ‘মানসিক বিকারগ্রস্ত’: সাবেক গোয়েন্দা

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। ফাইল ছবি

অভিযোগকারী সাদ আলজাবেরি সাবেক সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন নায়েফের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা ছিলেন। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের পূর্বসূরী ও চাচাতো ভাই মোহাম্মদ বিন নায়েফ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও ছিলেন। ২০১৭ সালে তাকে সরিয়ে মোহাম্মদ বিন সালমানকে যুবরাজ ঘোষণা করেন বাদশাহ সালমান। বর্তমানে সৌদি আরবে বন্দি জীবনযাপন করছেন মোহাম্মদ বিন নায়েফ। সৌদি রাজনীতিতে তিনিই যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী বলে মনে করা হয়। আলজাবেরি বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম, আমার মৃত্যু অবধারিত। কারণ আমাকে মৃত না দেখা পর্যন্ত এই ব্যক্তি (বর্তমান যুবরাজ) থামবে না।’

সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ‘মানসিক বিকারগ্রস্ত’, ‘তার মধ্যে সহমর্মিতার বোধ বলে কিছু নেই’। সৌদি আরবের এক সাবেক জ্যেষ্ঠ গোয়েন্দা কর্মকর্তার দাবি এটি। তার মতে, সৌদি যুবরাজ ‘বেপরোয়া ও বিশ্বাসঘাতক’।

সাদ আলজাবেরি নামের ওই সাবেক গোয়েন্দা যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিবিএসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন এমন কথা। তিনি বলেন, ‘যুবরাজের মধ্যে আবেগ বলে কোনোকিছুর অস্তিত্ব নেই। তিনি পূর্ব-অভিজ্ঞতা থেকে কোনো শিক্ষা নেন না।’

সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগজি হত্যাকাণ্ডের পর আলজাবেরি নিজেই ঘাতকদের পরবর্তী লক্ষ্য বলে দাবি করেন।

ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৭ সালের মে মাসে সৌদি আরব থেকে পালিয়ে যান সাদ আলজাবেরি। বর্তমানে কানাডায় নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন তিনি।

সিবিএসের সিক্সটি মিনিটস অনুষ্ঠানে আলজাবেরি জানান, ২০১৮ সালে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে খাশোগজিকে হত্যার পর একটি ঘাতক দল কানাডার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। সে সময় এক সহযোগীর মাধ্যমে আলজাবেরি জানতে পারেন যে ওই দলটি তাকে হত্যা করতে যাচ্ছে।

আলজাবেরি জানান যে তাকে সতর্ক করে ওই সহযোগী বলেছিলেন, ‘কানাডায় কোনো সৌদি কূটনৈতিক মিশনের ধারেকাছে যাবেন না। কনস্যুলেটে যাবেন না, দূতাবাসেও যাবেন না।’

কেন জানতে চাইলে আলজাবেরিকে বলা হয়, ‘ওরা খাশোগজিকে টুকরো টুকরো করেছে, মেরে ফেলেছে। পরবর্তী লক্ষ্য হিসেবে তালিকার শীর্ষে এখন আপনি আছেন।’

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় মামলার অভিযোগপত্রের কল্যাণে কথিত সেই হত্যা পরিকল্পনার কিছু অংশের বিস্তারিত সামনে এসেছে আগেই। সিক্সটি মিনিটস অনুষ্ঠানে দেয়া আলজাবেরি মূলত তুলে ধরেছেন যুবরাজ মোহাম্মদের সঙ্গে তার সম্পর্কচ্ছেদের আদ্যপান্ত।

নিজের সন্তানদের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে আলজাবেরির আকুতিও উঠে আসে সাক্ষাৎকারে। সন্তানদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট দুই ভাইবোন সারাহ ও ওমর সৌদি আরবে কারাবন্দি। প্রাপ্তবয়স্ক এই দুই সন্তানকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি গত বছর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে উঠে আসে। অভিযোগ আছে, বাবা আলজাবেরিকে দেশে ফিরতে বাধ্য করার কৌশল হিসেবে সারাহ ও ওমরকে আটকে রেখেছে সৌদি রাজপরিবার।

সৌদি যুবরাজ ‘মানসিক বিকারগ্রস্ত’: সাবেক গোয়েন্দা
কানাডায় নির্বাসিত সাবেক সৌদি গোয়েন্দা কর্মকর্তা সাদ আল-জাবেরি। ছবি: এএফপি

তিনি বলেন, ‘আমাকে কথা বলতে হবে। আমেরিকান জনগণ আর আমেরিকান প্রশাসনকে অনুরোধ করছি, আমাকে সাহায্য করুন। আমার সন্তানদের মুক্ত করতে ও তাদের স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে দিতে আপনাদের সহযোগিতা আমার দরকার।’

আলজাবেরির অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত মুখ খোলেনি সৌদি প্রশাসন। তবে একটি বিবৃতিতে দাবি করেছে, ‘আলজাবেরি একজন নিন্দিত সাবেক সরকারি কর্মকর্তা। তথ্য অতিরঞ্জিত করার দীর্ঘ ইতিহাস আছে তার। নিজের আর্থিক অপরাধ ধামাচাপা দেয়ার লক্ষ্যে নজর ঘোরাতে এসব কৌশল অবলম্বন করেন তিনি।’

অভিযোগকারী সাদ আলজাবেরি সাবেক সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন নায়েফের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা ছিলেন। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের পূর্বসূরী ও চাচাতো ভাই মোহাম্মদ বিন নায়েফ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও ছিলেন। ২০১৭ সালে তাকে সরিয়ে মোহাম্মদ বিন সালমানকে যুবরাজ ঘোষণা করেন বাদশাহ সালমান।

বর্তমানে সৌদি আরবে বন্দি জীবনযাপন করছেন মোহাম্মদ বিন নায়েফ। সৌদি রাজনীতিতে তিনিই যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী বলে মনে করা হয়।

আলজাবেরি বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম, আমার মৃত্যু অবধারিত। কারণ আমাকে মৃত না দেখা পর্যন্ত এই ব্যক্তি (বর্তমান যুবরাজ) থামবে না।’

আলজাবেরির পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের জোরালো সমর্থন রয়েছে।

২০০১ সালে ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে টুইন টাওয়ারসহ বিভিন্ন জায়গায় একযোগে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা হয়। হামলা পরবর্তী সময়ে আমেরিকান ও সৌদি নাগরিকদের প্রাণ বাঁচাতে সহযোগিতার জন্য তৎকালীন সৌদি সরকারকে কৃতিত্ব দেয় সাবেক আমেরিকান গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। সে সময় সৌদি যুবরাজ ছিলেন মোহাম্মদ বিন নায়েফ, যার সহযোগী আলজাবেরি।

সিক্সটি মিনিটসে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর সাবেক ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মাইক মোরেল বলেন, ‘আলজাবেরি মর্যাদার যোগ্য ব্যক্তি।’

মোরেলের মতে, আলজাবেরির দেয়া গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই ২০১০ সালে নিষিদ্ধঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়েদার বোমা হামলার পরিকল্পনা নস্যাৎ করা সম্ভব হয়েছিল। পণ্যবাহী দুটি বিমানে থাকা মালামালের মধ্যে দুটি ডেস্কটপ প্রিন্টারে বোমা লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।

মোরেল জানান, আরও অনেকবারই আমেরিকানদের প্রাণ বাঁচিয়েছেন আলজাবেরি। কিন্তু সেসব ঘটনা এখনও গোপন তথ্য হিসেবে শ্রেণিভুক্ত।

কানাডায় আলজাবেরিকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আগে প্রত্যাখ্যান করেছে সৌদি আরব। খাশোগজি হত্যাকাণ্ডেও সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ স্বীকার করেনি দেশটি।

কিন্তু চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশিত গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন পোস্টের কলাম লেখক খাশোগজিকে হত্যায় অনুমোদন দিয়েছিলেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান নিজে।

এর আগে সাদ আলজাবেরি দাবি করেছিলেন যে বাদশাহ আবদুল্লাহ বিন আব্দুলআজিজ ক্ষমতায় থাকাকালীন তাকেও হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন মোহাম্মদ বিন সালমান।

আলজাবেরির মতে, চাচা বাদশাহ আবদুল্লাহকে হত্যা করে বাবা সালমান বিন আব্দুলআজিজকে সিংহাসনে বসাতে চেয়েছিলেন মোহাম্মদ।

ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় ৯০ বছর বয়সে ২০১৫ সালে মৃত্যু হয় বাদশাহ আবদুল্লাহর। তার উত্তরসূরী হিসেবে সৌদি আরবের পরবর্তী বাদশাহ হন আবদুল্লাহর সৎ ভাই সালমান বিন আব্দুলআজিজ। তাদের পিতা প্রয়াত বাদশাহ আব্দুলআজিজ বিন আব্দুল রহমান।

বর্তমান বাদশাহ সালমানের উত্তরসূরী ও সৌদি আরবের পরবর্তী সম্ভাব্য শাসক তার অষ্টম সন্তান মোহাম্মদ বিন সালমান। কথিত আছে ৮৫ বছর বয়সী বাদশাহ সালমানের ওপর যুবরাজ মোহাম্মদের কর্তৃত্ব আছে এবং সালমান প্রশাসনের সিদ্ধান্তের প্রায় সবটাই যুবরাজের নিয়ন্ত্রণে।

আরও পড়ুন:
২০২৫ সালের মধ্যে তাইওয়ান দখলে নিতে পারে চীন
তাইওয়ানের আকাশে চীনের ৩৮ যুদ্ধবিমান
ট্রেন দুর্ঘটনার দায় নিয়ে তাইওয়ানের পরিবহনমন্ত্রীর পদত্যাগ
তাইওয়ানে ট্রেন লাইনচ্যুত, নিহত অন্তত ৪৮

শেয়ার করুন

‘ভারতে মুসলিমবিদ্বেষ ছড়াতে সাহায্য করেছে ফেসবুক’

‘ভারতে মুসলিমবিদ্বেষ ছড়াতে সাহায্য করেছে ফেসবুক’

দিল্লির ঐতিহাসিক জামে মসজিদের সিঁড়িতে কয়েকজন মুসল্লি। ছবি: এএফপি

নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে, মুসলিমবিদ্বেষী পোস্ট ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে ফেসবুক জানত। এরপরেও সেগুলো ঠেকাতে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি প্রতিষ্ঠানটি। ভারতে নিজেদের ব্যবসার ওপর প্রভাব পড়তে পারে এমন আশঙ্কায় আরএসএসকে বিপজ্জনক সংগঠনের ক্যাটাগরিতে ফেলার বিষয়েও দ্বিধা দেখিয়েছে ফেসবুক।

ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতাদের পোস্টের ক্ষেত্রে সত্যতা যাচাই করত না সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক। একই সঙ্গে এটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) নেতাদের মুসলিমবিরোধী পোস্ট ছড়াতেও সাহায্য করেছে।

সম্প্রতি ফেসবুকের সাবেক কর্মকর্তা ফান্সিস হাউগেনের বরাতে এমন তথ্য উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম দি নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে

এতে বলা হয়েছে, ফেসবুকের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের প্রমাণ বেরিয়ে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে সংসদীয় কমিটির কাছে জমা দেয়া ফ্রান্সিস হাউগেনের নথি থেকে।

৩৭ বছর হাউগেন প্রায় দুই বছর ধরে ফেসবুকে কাজ করেছেন। সেখানে তার কাজ ছিল মিথ্যা সংবাদ ট্র্যাক করা এবং নিশ্চিত করা যে, প্ল্যাটফর্মটি গণতন্ত্রকে অস্থিতিশীল করার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে না।

হাউগেনের নথিতে উল্লেখ রয়েছে, কীভাবে ফেসবুকের প্রধান মার্ক জুকারবার্গের নীতি অনুযায়ী মেসেজ দেয়া-নেয়ার ওপর নজরদারি ভারতে আরও ভুল তথ্যের কারণ হয়েছিল। এর সবচেয়ে বেশি প্রভাব দেখা যায়, করোনাভাইরাস মহামারির সময়ে।

ফেসবুকের নথি অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটি মুসলিমবিরোধী পোস্টসহ ভারতে যে সমস্যাগুলো তৈরি হয়েছিল, সেটি মোকাবিলা করতে পারেনি।

ফাঁস হওয়া একটি অভ্যন্তরীণ নথিতে ফেসবুক গবেষকরা লিখেছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটির গ্রুপ এবং পৃষ্ঠাগুলো ‘উসকানিমূলক এবং বিভ্রান্তিকর মুসলিমবিরোধী সামগ্রীতে ভরা’।

প্রতিবেদনে উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, মুসলমানদের ‘শুয়োর’ এবং ‘কুকুর’ এর সঙ্গে তুলনা করে বেশ কিছু অমানবিক পোস্ট রয়েছে। অনেক পোস্টে মিথ্যা দাবি করা হয়েছে যে, কোরআন পুরুষদের তাদের পরিবারের নারীদের ধর্ষণ করতে বলে।

এতে বলা হয়েছে, বেশিরভাগ কনটেন্টই পাওয়া গেছে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন আরএসএসের মতবাদ প্রচারকারী ফেসবুক গ্রুপে। এই গোষ্ঠীগুলো বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান সীমান্তের কাছে মুসলমান সংখ্যালঘু জনবসতির বিস্তার নিয়ে মিথ্যা তথ্য প্রচার করেছিল। এরা ভারত থেকে মুসলমানদের অপসারণ এবং মুসলমান জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ আইন তৈরির জন্য ফেসবুকে পোস্ট করেছিল।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে, মুসলিমবিদ্বেষী পোস্ট ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে ফেসবুক জানত। এরপরেও সেগুলো ঠেকাতে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি প্রতিষ্ঠানটি। ভারতে নিজেদের ব্যবসার ওপর প্রভাব পড়তে পারে এমন আশঙ্কায় আরএসএসকে বিপজ্জনক সংগঠনের ক্যাটাগরিতে ফেলার বিষয়েও দ্বিধা দেখিয়েছে ফেসবুক।

ফেসবুকের একটি নথি অনুযায়ী, ভুয়া তথ্য শ্রেণীবদ্ধ করার জন্য কোম্পানির ব্যয়ের ৮৭ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বরাদ্দ, বাকি বিশ্বের জন্য এটি মাত্র ১৩ শতাংশ।

ফেসবুকের মুখপাত্র অ্যান্ডি স্টোন দাবি করেছেন, এই পরিসংখ্যান অসম্পূর্ণ এবং এতে কোম্পানির তৃতীয় পক্ষের ফ্যাক্টচেকিং অংশীদারদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

এদের অধিকাংশই যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

আরও পড়ুন:
২০২৫ সালের মধ্যে তাইওয়ান দখলে নিতে পারে চীন
তাইওয়ানের আকাশে চীনের ৩৮ যুদ্ধবিমান
ট্রেন দুর্ঘটনার দায় নিয়ে তাইওয়ানের পরিবহনমন্ত্রীর পদত্যাগ
তাইওয়ানে ট্রেন লাইনচ্যুত, নিহত অন্তত ৪৮

শেয়ার করুন

সুদানে অন্তর্বর্তী সরকার ভেঙে দিল সেনাবাহিনী, জরুরি অবস্থা

সুদানে অন্তর্বর্তী সরকার ভেঙে দিল সেনাবাহিনী, জরুরি অবস্থা

জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেয়ার সময় সুদান সেনাবাহিনীর জেনারেল আব্দেল ফাত্তাহ আল-বুরহান। ছবি: এএফপি

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী হামদকের কার্যালয়ের পরিচালক অ্যাডাম হেরেইকা বলেন, ‘সফররত যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত জেফ্রি ফেল্টম্যানের সঙ্গে সুদান সরকারের বৈঠকের পর হামদকের সঙ্গে একটি চুক্তি নিয়ে কাজ করছিল সেনাবাহিনী। ইতিবাচক অগ্রগতি সত্ত্বেও অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেছে তারা।’

সুদানে প্রধানমন্ত্রী আব্দাল্লাহ হামদককে গ্রেপ্তারের পর অন্তর্বর্তী সরকার ভেঙে দিয়েছে সেনাবাহিনী। জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন সেনাবাহিনীর জেনারেল আব্দেল ফাত্তাহ আল-বুরহান।

সাবেক স্বৈরশাসক ওমর আল-বশিরের পতনের পর দুই বছর ধরে সুদান শাসন করা সার্বভৌম পরিষদের প্রধান জেনারেল বুরহান।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, সুদানের বেসামরিক সরকারের মন্ত্রিসভার প্রায় সব সদস্যকে সোমবার গ্রেপ্তার করেছে সেনাবাহিনী। এর প্রতিবাদে রাজধানী খারতুমে চলছে ব্যাপক বিক্ষোভ। রাজপথে গণতন্ত্রপন্থি বিক্ষোভকারীদের অবস্থান, গোলাগুলি ও ১২ জন আহত হওয়ার খবরের মধ্যেই এল সরকার ভেঙে দেয়ার ঘোষণা।

গণআন্দোলনের জেরে ২০১৯ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ও ৩০ বছর সুদান শাসন করা বশির ক্ষমতাচ্যুত হন। এরপর থেকে যৌথভাবে দেশটি শাসন করছিল সেনাবাহিনী ও বেসামরিক অন্তর্বর্তী সরকার।

সেনাবাহিনী ও বিভিন্ন সংগঠনের জোট ফোর্সেস ফর ফ্রিডম অ্যান্ড চেঞ্জের মধ্যে (এফএফসি) ক্ষমতা বণ্টনের চুক্তি হয়েছিল। উভয়পক্ষ মিলে একটি সার্বভৌম পরিষদ গঠন করেছিল। এই পরিষদের নেতৃত্বে ছিলেন জেনারেল আব্দেল ফাত্তাহ আল-বুরহান।

ক্ষমতাচ্যুত বেসামরিক সরকারের প্রধানমন্ত্রী হামদককে গ্রেপ্তার করে অজ্ঞাত স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সুদানের তথ্য মন্ত্রণালয়। সেনা অভ্যুত্থানে স্বীকৃতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সুদানের তথ্য মন্ত্রণালয় এখন পর্যন্ত হামদকের সমর্থকরা নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে ওমদারমানে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেলের প্রধান কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে সেনাবাহিনী এবং কর্মীদের আটক করেছে।

এ অবস্থায় সেনা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সুদানের তথ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, খারতুমের সড়কগুলোতে অবস্থান নিয়েছে লাখো মানুষ। সেনাবাহিনীর প্রধান কার্যালয়ের কাছে তাদের ওপর গুলি চালানো হয়েছে।

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী হামদকের কার্যালয়ের পরিচালক অ্যাডাম হেরেইকা বলেন, ‘সফররত যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত জেফ্রি ফেল্টম্যানের সঙ্গে সুদান সরকারের বৈঠকের পর হামদকের সঙ্গে একটি চুক্তি নিয়ে কাজ করছিল সেনাবাহিনী। ইতিবাচক অগ্রগতি সত্ত্বেও অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেছে তারা।’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দেশজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগে বিঘ্ন ঘটছে। শহরে শহরে সেনা ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যরা টহল দিচ্ছে। খারতুম বিমানবন্দর বন্ধ এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

সুদানের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে বিশ্ব সম্প্রদায়। সংকট নিরসনের আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আরব লীগ। যুক্তরাজ্যের সুদান ও দক্ষিণ সুদানবিষয়ক বিশেষ দূত রবার্ট ফেয়ারওয়েদার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে বলেছেন, বেসামরিক নেতাদের গ্রেপ্তার করে সুদানের সেনাবাহিনী ‘সুদানের জনগণ, বিপ্লবী ও পরিবর্তনকামীদের সঙ্গে প্রতারণা’ করেছে।

২০১৯ সালে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর থেকেই সুদানের সামরিক ও বেসামরিক নেতাদের মধ্যে নানা বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। আরও এক বছর তাদের দেশ শাসনের কথা ছিল এবং নির্বাচনের মাধ্যমে বেসামরিক সরকারের কাছে ক্ষমতা পূর্ণ হস্তান্তরের কথা ছিল।

কিন্তু ক্ষমতা বণ্টনের চুক্তি নিয়ে বরাবরই ক্ষিপ্ত ছিল বিভিন্ন পক্ষ। চুক্তিকে কেন্দ্র করে অনেকগুলো প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক গোষ্ঠীর বিরোধ তো ছিলই, বিভাজন তৈরি হয়েছিল সেনাবাহিনীর মধ্যেও।

চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে, অর্থাৎ গত মাসে ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বশিরের সমর্থকরা অভ্যুত্থানের চেষ্টা করলে উত্তেজনা আরও বাড়ে। এরপর চলতি বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠী ও রাজনৈতিক দল সেনাবাহিনীর সঙ্গে ঐক্য গড়ে বেসামরিক সরকার ভেঙে দেয়ার দাবি তোলে। দাবি আদায়ে খারতুমের প্রেসিডেনসিয়াল প্যালেসের বাইরে অবস্থান ধর্মঘটও শুরু করে তারা।

এর ধারাবাহিকতায় গত সপ্তাহে খারতুমসহ সুদানের অন্য শহরগুলোতে বিক্ষোভ করে বেসামরিক সরকারের সমর্থকরাও। সামরিক শাসনের বিরোধিতায় ওই বিক্ষোভে যোগ দেন কয়েকজন মন্ত্রীও।

১৯৫৬ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকেই কার্যকর রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা করে আসছে সুদান। দেশটিতে অসংখ্যবার সফল অভ্যুত্থান ও অভ্যুত্থান চেষ্টা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
২০২৫ সালের মধ্যে তাইওয়ান দখলে নিতে পারে চীন
তাইওয়ানের আকাশে চীনের ৩৮ যুদ্ধবিমান
ট্রেন দুর্ঘটনার দায় নিয়ে তাইওয়ানের পরিবহনমন্ত্রীর পদত্যাগ
তাইওয়ানে ট্রেন লাইনচ্যুত, নিহত অন্তত ৪৮

শেয়ার করুন

ইসলামপন্থিদের সামনে ‘নত’ ইমরান সরকার, ৩৫০ বন্দি মুক্ত

ইসলামপন্থিদের সামনে ‘নত’ ইমরান সরকার, ৩৫০ বন্দি মুক্ত

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের মুরিদকে শহর রোববার নিষিদ্ধঘোষিত টিএলপি সদস্যদের বিক্ষোভে অচল হয়ে পড়ে। ছবি: এএফপি

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ রশিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে জানিয়েছেন, টিএলপিপ্রধান সাদ হোসেন রিজভির মুক্তির পরিকল্পনা এগোতে কাজ চলছে। পাকিস্তানের শীর্ষ দৈনিক ডনের প্রতিবেদনে বিষয়টিকে আখ্যায়িত করা হয়েছে ‘সহিংস বিক্ষোভকারীদের সামনে সরকারের আরেকটি পূর্ণাঙ্গ আত্মসমর্পণ’ হিসেবে।

পাকিস্তানে নিষিদ্ধঘোষিত ইসলামপন্থি সংগঠন ‘তেহরিক-ই-লাব্বাইক পাকিস্তান’-এর (টিএলপি) ৩৫০ কারাবন্দি সদস্য মুক্তি পেয়েছেন। টিএলপির সঙ্গে বৈরিতা এড়াতে এ পদক্ষেপ নিয়েছে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সরকার।

জিও টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, পাঞ্জাব প্রদেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া হয় টিএলপির সাড়ে তিন শ নেতা-কর্মীকে। এর আগে রোববার সংগঠনটির সঙ্গে দিনভর আলোচনা করে ইসলামাবাদ।

গত সপ্তাহে ইসলামাবাদে গোষ্ঠীটি পদযাত্রা কর্মসূচির ঘোষণা দিলে প্রদেশজুড়ে ধরপাকড় শুরু করে পাঞ্জাব পুলিশ। এরপর এক সপ্তাহে গ্রেপ্তার হন সংগঠনটির শত শত নেতা-কর্মী।

তারপরেও রোববার পাঞ্জাবের মুরিদকে শহরে জড়ো হন নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনটির লাখো সদস্য। এর ফলে অচল হয়ে পড়ে সংলগ্ন কয়েকটি জাতীয় মহাসড়ক। অচলাবস্থা নিরসনে টিএলপির সঙ্গে বৈঠকের উদ্যোগ নেয় ইসলামাবাদ।

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ রশিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে জানিয়েছেন, টিএলপির সঙ্গে সমঝোতার অংশ হিসেবে এখন মুরিদকের সড়কগুলো খুলে দেয়ার অপেক্ষায় রয়েছে সরকার।

টিএলপিপ্রধান সাদ হোসেন রিজভির মুক্তির পরিকল্পনা এগোতে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

পাকিস্তানের শীর্ষ দৈনিক ডনের একটি প্রতিবেদনে পুরো বিষয়টিকে আখ্যায়িত করা হয়েছে ‘সহিংস বিক্ষোভকারীদের সামনে সরকারের আরেকটি পূর্ণাঙ্গ আত্মসমর্পণ’ হিসেবে।

টিএলপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত খাদিম রিজভির ছেলে সাদ হোসেন রিজভি। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে পাঞ্জাবের কারাগারে বন্দি তিনি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবিষয়ক অধ্যাদেশের অধীনে গ্রেপ্তার হন সাদ রিজভি।

গত বছর ফ্রান্সের একটি রম্য পত্রিকা মহানবী হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ করেছিল। ওই ঘটনায় ইসলাম ধর্মের অবমাননার অভিযোগে গণবিক্ষোভের আয়োজন করেছিল টিএলপি। দাবি জানিয়েছিল পাকিস্তানে নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূতকে দেশে ফেরত পাঠানোর এবং ফ্রান্স থেকে সব ধরনের পণ্য আমদানি নিষিদ্ধের।

শুধু পাকিস্তানেই নয়, মহানবী (স.)-এর ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশকে ধর্মীয় অবমাননা হিসেবে নিয়েছিল বিভিন্ন দেশের মুসলিমরা। এর জেরে ২০২০ সালের অক্টোবরে বিশ্বব্যাপী ‘ফরাসি পণ্য বর্জন’ কর্মসূচির মুখে পড়ে ফ্রান্স সরকার।

পরে মহানবী (স.)-এর ব্যঙ্গচিত্র পুনরায় প্রকাশে রম্য পত্রিকাটির নেয়া সিদ্ধান্তে সমর্থন জানিয়েছিলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল মাখোঁ। এতে ক্ষুব্ধ টিএলপি পাকিস্তানজুড়ে ফ্রান্স-বিরোধী কর্মসূচি গ্রহণ করেছিল।

চলতি বছরের এপ্রিলে টিএলপির ফ্রান্স-বিরোধী কর্মসূচির সময় অচল হয়ে পড়ে লাহোর। সহিংসতায় প্রাণ যায় কমপক্ষে ছয় পুলিশ কর্মকর্তার।

আরও পড়ুন:
২০২৫ সালের মধ্যে তাইওয়ান দখলে নিতে পারে চীন
তাইওয়ানের আকাশে চীনের ৩৮ যুদ্ধবিমান
ট্রেন দুর্ঘটনার দায় নিয়ে তাইওয়ানের পরিবহনমন্ত্রীর পদত্যাগ
তাইওয়ানে ট্রেন লাইনচ্যুত, নিহত অন্তত ৪৮

শেয়ার করুন

হংকংয়ে কার্যক্রম বন্ধ করছে অ্যামনেস্টি

হংকংয়ে কার্যক্রম বন্ধ করছে অ্যামনেস্টি

হংকংয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের কার্যালয়ের প্রবেশপথ। ছবি: এএফপি

৪০ বছরের বেশি সময় ধরে হংকংয়ে অ্যামনেস্টির উপস্থিতি রয়েছে। বর্তমানে সেখানে অ্যামনেস্টির দুটি কার্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে শহরকেন্দ্রিক স্থানীয় কার্যালয়টি আগামী ৩১ অক্টোবর বন্ধ করে দেয়া হবে।

চীনশাসিত হংকংয়ে যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধ করে দিচ্ছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। চীন আরোপিত জাতীয় নিরাপত্তা আইন ইস্যুতে এ পদক্ষেপ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, বিতর্কিত আইনটির কারণে হংকংয়ে ‘কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন’ অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে অ্যামনেস্টি। ফলে চীনশাসিত অঞ্চলটিতে নিজেদের সব কার্যালয় বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছে তারা।

৪০ বছরের বেশি সময় ধরে হংকংয়ে অ্যামনেস্টির উপস্থিতি রয়েছে। বর্তমানে সেখানে অ্যামনেস্টির দুটি কার্যালয় রয়েছে।

এর মধ্যে শহরকেন্দ্রিক স্থানীয় কার্যালয়টি আগামী ৩১ অক্টোবর বন্ধ করে দেয়া হবে। আর আঞ্চলিক কার্যালয় হংকং থেকে সরিয়ে নেয়া হবে চলতি বছরের শেষ নাগাদ।

চীনের বিতর্কিত জাতীয় নিরাপত্তা আইনে হংকংয়ে বিচ্ছিন্নতাবাদ, বিধ্বংসী কার্যক্রম, সন্ত্রাসবাদ ও বিদেশিদের সঙ্গে যোগসাজশকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

সমালোচকদের মতে, চীনে বিরোধী মত দমনে এ আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। যদিও চীনের দাবি, স্থিতিশীলতা রক্ষা এ আইন কার্যকরের উদ্দেশ্য।

অ্যামনেস্টির আন্তর্জাতিক পরিষদের চেয়ারম্যান আনঝুলা মিয়া সিং বাইস এক বিবৃতিতে জানান, চীন প্রণীত জাতীয় নিরাপত্তা আইনের আওতায় চলতি বছর কমপক্ষে ৩৫টি সংগঠনকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

নিষিদ্ধ এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেশ কয়েকটি শ্রমিক ইউনিয়ন, বেসরকারি সাহায্য সংস্থা (এনজিও) ও পেশাজীবী সংগঠন আছে। এর মধ্যে নিউ স্কুল ফর ডেমোক্রেসিসহ বেশ কয়েকটি এনজিও নিজেদের কার্যালয় তাইওয়ানে সরিয়ে নিয়েছে।

আরও পড়ুন:
২০২৫ সালের মধ্যে তাইওয়ান দখলে নিতে পারে চীন
তাইওয়ানের আকাশে চীনের ৩৮ যুদ্ধবিমান
ট্রেন দুর্ঘটনার দায় নিয়ে তাইওয়ানের পরিবহনমন্ত্রীর পদত্যাগ
তাইওয়ানে ট্রেন লাইনচ্যুত, নিহত অন্তত ৪৮

শেয়ার করুন