বিজেপির সিদ্ধান্ত গণতন্ত্রবিরোধী: তৃণমূল

বিজেপির সিদ্ধান্ত গণতন্ত্রবিরোধী: তৃণমূল

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। ফাইল ছবি

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা কক্ষে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের পৌরহিত্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া বিধায়ক পদে শপথ নেন জাকির হোসেন ও আমিরুল ইসলাম। শাসক দলের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের ফিরহাদ হাকিম ও পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তবে এই অনুষ্ঠানে বিজেপির কোনো বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন না।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিধায়ক পদে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের দিন বিজেপি বিধায়কদের বিধানসভা এড়িয়ে যাওয়া গণতন্ত্রের জন্য ভালো নয় বলে মনে করেন তৃণমূল কংগ্রেসের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা কক্ষে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের পৌরহিত্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া বিধায়ক পদে শপথ নেন জাকির হোসেন ও আমিরুল ইসলাম।

শাসকদলের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ফিরহাদ হাকিম ও পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তবে এই অনুষ্ঠানে বিজেপির কোনো বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন না। সূত্রের খবর, বিজেপি এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবে না বলে আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

বিজেপির অনুপস্থিতি নিয়ে পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘বিজেপি হাজির থাকল না আজকে, যারা বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ হতে চান। যারা বাংলায় দুই শ পাবে বলেছিল, তারা কেউ আসলো না। এটা গণতন্ত্রের জন্য ভালো নয়।’

বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ার আগেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভবানীপুর উপনির্বাচনে বিধায়ক পদের লড়াইয়ে বিজেপি প্রার্থীকে বিশাল ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে দিয়েছেন তিনি।

আত্মবিশ্বাসে ভরপুর তৃণমূল নেত্রী, যিনি নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে সামান্য ভোটের ব্যবধানে বিজেপির কাছে হেরে গিয়ে, গণনায় কারচুপির অভিযোগ তুলে হাইকোর্টে পুনর্গণনার জন্য মামলা করেছেন। নন্দীগ্রাম কেন্দ্রের ফলাফল নিয়ে মামলা চলছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মনে করেন, নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে তিনি হারেননি। তাকে একবার জয়ী বলে ঘোষণাও করা হয়েছিল। তাকে চক্রান্ত করে হার দেখানো হয়েছে পরে। তার অভিযোগ, রাজ্যের সব কেন্দ্রে তৃণমূলের জয়, আর একটা কেন্দ্রে জয় পেল না?

তাই বিজেপির চক্রান্তের জবাব দিতে হেরে গিয়েও মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। সংবিধান অনুযায়ী উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। তৃণমূলের জেতা কেন্দ্র ভবানীপুর মমতার নিজের কেন্দ্র। বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য ওই কেন্দ্রের বিধায়ক পদে ইস্তফা দেন। যেখান থেকে মমতা পরে উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

করোনার সংকটের দোহাই দিয়ে বিজেপি চাইছিল উপনির্বাচন পিছিয়ে দিয়ে তৃণমূলকে সংকটে ফেলতে। নির্বাচন কমিশনও কোনো উত্তর দিচ্ছিল না। আবার সময়মতো ভোট হবে না, এ কথা বলছিল না। অনেক টালবাহানা, তদারকি করার পর ৩০ সেপ্টেম্বর আচমকা ভবানীপুর উপনির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। সঙ্গে করোনা বিধি মানার শর্ত আরোপ করা হয়।

তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়ালকে ৫৮ হাজার ৮৩৫ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে দেন। সিপিএমের শ্রীজীব বিশ্বাসের জামানত জব্দ হয়ে যায়। প্রিয়াঙ্কা পেয়েছেন ২৪ হাজার ৩৯৬ ভোট।

ফলে তৃণমূলের জয়ের ধারা অব্যাহত। ভবানীপুর, সামশেরগঞ্জ ও জঙ্গিপুর- এই তিন আসনে জেতায় বিধানসভায় তৃণমূলের মোট সংখ্যা হলো ২১৬টি। ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ২১৩টি আসনে জয়লাভ করেছিল।

আরও পড়ুন:
কংগ্রেস ব্যর্থ, বিজেপিকে হারাতে পারে তৃণমূল: মমতা
মমতার গানের অ্যালবাম প্রকাশ
মমতাই মুখ্যমন্ত্রী, ন্যাড়া হয়ে বিজেপি ছাড়ার ঘোষণা এমপির
অভিনন্দন বার্তার প্রতিউত্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে মমতার ধন্যবাদ
ভবানীপুরের জয়ে মমতাকে অভিনন্দন বিজেপিবিরোধীদের

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মহাকাশে ‘অফিসপাড়া’ খুলবেন অ্যামাজন প্রতিষ্ঠাতা

মহাকাশে ‘অফিসপাড়া’ খুলবেন অ্যামাজন প্রতিষ্ঠাতা

'অরবিটাল রিফের' কাল্পনিক চিত্র। ছবি: ব্লু ওরিজিন

‘বিজনেস পার্ক’ খ্যাত মহাকাশকেন্দ্রটির ব্যবহার হবে বহুমুখী এবং একসঙ্গে ১০ জন মানুষ সেখানে অবস্থান করতে পারবে। মহাকাশকেন্দ্রটির আয়তন হবে ৩২ হাজার বর্গফুট।

মহাকাশে একটি বাণিজ্যিক স্টেশন চালু করার পরিকল্পনা করছেন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী জেফ বেজোস। তার মালিকানাধীন মহাকাশ পর্যটন সংস্থা ব্লু ওরিজিনের ভবিষ্যৎ এ প্রকল্পটি হবে মূলত মহাকাশভিত্তিক একটি ‘অফিসপাড়া’।

বিশ্বের সর্ববৃহৎ অনলাইন মার্কেটপ্লেস অ্যামাজন ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা বেজোস।

ব্লু ওরিজিন সোমবার কথিত ‘স্পেস বিজনেস পার্ক’টি নির্মাণ পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। চলতি দশকের শেষভাগেই চালু হতে পারে এটি, যার নাম হবে ‘অরবিটাল রিফ’। অরবিটাল রিফের বাংলা করলে দাঁড়ায় ‘মহাকাশের প্রবালপ্রাচীর’।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, এরই মধ্যে অরবিটাল রিফের প্রচার শুরু করেছে ব্লু ওরিজিন। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ‘বিজনেস পার্ক’ খ্যাত মহাকাশকেন্দ্রটির ব্যবহার হবে বহুমুখী এবং একসঙ্গে ১০ জন মানুষ সেখানে অবস্থান করতে পারবে। মহাকাশকেন্দ্রটির আয়তন হবে ৩২ হাজার বর্গফুট।

অরবিটাল রিফ ‘মাধ্যাকর্ষণবিহীন পরিবেশে চলচ্চিত্র নির্মাণ ও অত্যাধুনিক গবেষণার জন্য আদর্শ পরিবেশ’ নিশ্চিত করবে বলে জানিয়েছে ব্লু ওরিজিন। একই সঙ্গে মহাকাশে আতিথেয়তা দিতে একটি ‘স্পেস হোটেল’ও থাকবে এতে।

এটি নির্মাণে আরও দুটি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা নেবে ব্লু ওরিজিন। প্রতিষ্ঠান দুটি হলো সিয়েরা স্পেস ও বোয়িং।

প্রকল্পটির উদ্বোধন ঘোষণায় আয়োজিত সংবাদ সম্মলনে উপস্থিত ছিলেন ব্লু ওরিজিন ও সিয়েরা স্পেসের শীর্ষ কর্মকর্তারা। এর সম্ভাব্য নির্মাণব্যয় কত, সে বিষয়ে তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান তারা।

ধারণা করা হচ্ছে, প্রকল্পের বড় অংশের খরচই দেবেন বেজোস। ব্লু ওরিজিনের পেছনে বছরে ১০০ কোটি ডলার খরচের প্রতিশ্রুতি আগেই দিয়েছেন তিনি।

আন্তর্জাতিক মহাকাশকেন্দ্র আইএসএস মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পথে থাকায় সম্প্রতি নতুন স্পেস স্টেশন নির্মাণের প্রস্তাব চেয়েছে নাসা। তবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মহাকাশ গবেষণা সংস্থাটি অন্তত ২০৩০ সাল পর্যন্ত আইএসএসের জন্য তহবিল দিয়ে যাবে বলেও নিশ্চিত করেছে। আইএসএসের বিভিন্ন অংশের জরুরি মেরামত দরকার।

মেয়াদোত্তীর্ণ যন্ত্রের কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় আইএসএস থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বেরিয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে রাশিয়া।

প্রতিক্রিয়ায় চলতি বছরের শুরুতেই আইএসএস প্রতিস্থাপনের উদ্যোগ নেয় নাসা। এ জন্য বেসরকারি মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ৪০ কোটি ডলারের চুক্তির পরিকল্পনার কথাও জানায়। উচ্চাভিলাষী এ প্রকল্পের অংশ হতে তুমুল প্রতিযোগিতায় নেমেছে বেজোসের ব্লু ওরিজিন, বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের স্পেসএক্সের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো।

২০২৭ সালের মধ্যে কক্ষপথের নিম্নভাগে একটি স্পেস স্টেশন চালু করার ঘোষণা দিয়েছে ন্যানোর‍্যাকস, ভোয়েজার স্পেস ও লকহিড নামের তিনটি প্রতিষ্ঠান। এ লক্ষ্যে চলতি সপ্তাহের শুরুতে যৌথ প্রকল্পের ঘোষণাও দিয়েছে তারা।

আরও পড়ুন:
কংগ্রেস ব্যর্থ, বিজেপিকে হারাতে পারে তৃণমূল: মমতা
মমতার গানের অ্যালবাম প্রকাশ
মমতাই মুখ্যমন্ত্রী, ন্যাড়া হয়ে বিজেপি ছাড়ার ঘোষণা এমপির
অভিনন্দন বার্তার প্রতিউত্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে মমতার ধন্যবাদ
ভবানীপুরের জয়ে মমতাকে অভিনন্দন বিজেপিবিরোধীদের

শেয়ার করুন

সুদানে রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভে নিহত ৭

সুদানে রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভে নিহত ৭

জাতীয় পতাকা হাতে খার্তুমের নিস্তব্ধ শহরের রাজপথে দাঁড়িয়ে সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী এক নারী বিক্ষোভকারী। ছবি: এএফপি

খার্তুম ও ওমদারমান শহরের প্রধান সংযোগ সড়ক ও সেতু অবরোধ করেছে সেনাবাহিনী, মোতায়েন রয়েছে সাঁজোয়া যান। পশ্চিমাঞ্চলীয় আল গিনেইনা শহরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা। স্কুল, দোকানপাট, গ্যাসস্টেশনসহ সবকিছু বন্ধ। শহরগুলোতে সব ব্যাংক ও যান্ত্রিক ব্যবস্থায় নগদ সরবরাহ কার্যক্রম বন্ধ। অর্থ স্থানান্তরে ব্যবহৃত মোবাইল অ্যাপেও ঢুকতে পারছেন না গ্রাহকরা।

উত্তর-পূর্ব আফ্রিকার দেশ সুদানে সামরিক অভ্যুত্থানের প্রতিবাদে মঙ্গলবারও বিক্ষোভ অব্যাহত আছে। বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের রক্তক্ষয়ী সহিংসতায় প্রাণ গেছে কমপক্ষে সাতজনের।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, অস্থিতিশীলতা চরমে ওঠায় কার্যত অচল রাজধানী খার্তুম। দেশের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শহর নীল নদ-তীরবর্তী ওমদারমানেও জীবনযাত্রা থমকে গেছে।

সব সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হয় সেনাবাহিনী অবরুদ্ধ করে রেখেছে, না হলে বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড দিয়ে রেখেছে। সড়কে যান চলাচল বন্ধ, দোকানপাট বন্ধ, ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

মসজিদ থেকে লাউড স্পিকারে উচ্চ স্বরে জনগণকে ডাক দেয়া হচ্ছে সাধারণ ধর্মঘটে অংশ নেয়ার জন্য।

সাবেক প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশিরের পতনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা সাংগঠনিক জোট সুদানিজ প্রফেশনালস অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বানে হচ্ছে এ ধর্মঘট।

খার্তুম ও ওমদারমান শহরের প্রধান সংযোগ সড়ক ও সেতু অবরোধ করেছে সেনাবাহিনী, মোতায়েন রয়েছে সাঁজোয়া যান। পশ্চিমাঞ্চলীয় আল গিনেইনা শহরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা। স্কুল, দোকানপাট, গ্যাস স্টেশনসহ সবকিছু বন্ধ।

শহরগুলোতে সব ব্যাংক ও যান্ত্রিক ব্যবস্থায় নগদ সরবরাহ কার্যক্রম বন্ধ। অর্থ স্থানান্তরে ব্যবহৃত মোবাইল অ্যাপেও ঢুকতে পারছেন না গ্রাহকরা।

ওমদারমানে কয়েকটি বেকারি খোলা থাকলেও জোগান না থাকায় খাবারের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা সারি বেঁধে অপেক্ষারত মানুষ।

এক দিন আগেই সুদানের বেসামরিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে শাসনব্যবস্থার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে সেনাবাহিনী। ভেঙে দিয়েছে সরকার।

সোমবার দিনভর অস্থিতিশীলতার পর রাত কিছুটা শান্ত ছিল। প্রধানমন্ত্রী আব্দাল্লাহ হামদককে গ্রেপ্তারের ঘটনায় ফের রাজপথে নেমে আসেন বিক্ষোভকারীরা। প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও মন্ত্রিসভার অন্য বেসামরিক নেতাদেরও আটক করে অজ্ঞাত স্থানে নেয়া হয়েছে।

সেনা অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দিয়েছেন জেনারেল আব্দেল ফাত্তাহ আল-বুরহান। সাবেক স্বৈরশাসক ওমর আল-বশির ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে সুদান শাসন করা সার্বভৌম পরিষদের প্রধান ছিলেন তিনি। ক্ষমতা দখল করেই পরিষদটি ভেঙে দেন আল-বুরহান।

সবচেয়ে দীর্ঘ সময় সুদান শাসন করেছে বশির সরকার। টানা ৩০ বছর দেশ শাসনের পর প্রবল গণ-আন্দোলনের জেরে ২০১৯ সালে বশিরের পতন ঘটে। এরপরই সুদানকে গণতন্ত্রের পথে দিকনির্দেশনা দেয়ার লক্ষ্যে গঠন করা হয়েছিল সামরিক-বেসামরিক সার্বভৌম পরিষদ।

এদিকে জননিরাপত্তার স্বার্থে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করার কথা জানিয়েছেন বুরহান। আশ্বাস দিয়েছেন ২০২৩ সালের জুলাইয়ে নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন বেসামরিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের।

বিভিন্ন আরব সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, শ্রমিক ইউনিয়নের নিয়ন্ত্রণে থাকা কমিটিগুলোও ভেঙে দিয়েছেন এই সেনা কর্মকর্তা।

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী হামদকের প্রতি বিশ্বস্ত সুদানের তথ্য মন্ত্রণালয় নিজেদের ফেসবুক পেজে জানিয়েছে, অন্তর্বর্তী সংবিধান অনুযায়ী জরুরি অবস্থা জারির অধিকার একমাত্র প্রধানমন্ত্রীর। তাই সংবিধান লঙ্ঘন করে এ পদক্ষেপ নিয়ে অপরাধ করেছে সেনাবাহিনী। হামদক এখনও বৈধ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান।

তথ্য মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখলে অনুমোদনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় গ্রেপ্তার করা হয় হামদককে। অর্থনীতিবিদ ও জাতিসংঘের সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ছিলেন তিনি।

সুদানে সেনা অভ্যুত্থানের নিন্দা জানিয়েছে পশ্চিমা দেশগুলো। অবিলম্বে বেসামরিক নেতাদের মুক্তি দেয়া না হলে বিদেশি সহায়তা বন্ধের হুমকিও দেয়া হয়েছে অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত দেশটিকে। ৭০ কোটি ডলারের জরুরি সহায়তা তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

উপনিবেশ-পরবর্তী সুদানের বড় সময় কেটেছে সামরিক শাসনে। অভ্যুত্থান ঘটিয়ে বরাবর দেশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে সেনাবাহিনী। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন একঘরে ছিল দেশটি।

নিষিদ্ধঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়েদার প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন লাদেনকে নব্বইয়ের দশকে আশ্রয় দেয়ার জন্য বশিরশাসিত সুদান যুক্তরাষ্ট্রের কালো তালিকাভুক্ত ছিল। যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে সুইজারল্যান্ডের হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক আদালতও বশিরকে ডেকে পাঠিয়েছিল।

বশির ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ক্ষমতা বণ্টনের শর্তে সম্মিলিত অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করেছিলেন সেনাবাহিনী ও বেসামরিক নেতারা। ২০২৩ সালে নির্বাচনের লক্ষ্য নিয়ে গঠিত ওই সরকারের মধ্যে নানা বিষয়ে বিভক্তি ছিল।

বিশেষ করে গত মাসে বশির সমর্থকদের ব্যর্থ অভ্যুত্থানচেষ্টার পর পাল্টাপাল্টি দোষারোপ করা নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারে ফাটল তীব্র হয়।

আরও পড়ুন:
কংগ্রেস ব্যর্থ, বিজেপিকে হারাতে পারে তৃণমূল: মমতা
মমতার গানের অ্যালবাম প্রকাশ
মমতাই মুখ্যমন্ত্রী, ন্যাড়া হয়ে বিজেপি ছাড়ার ঘোষণা এমপির
অভিনন্দন বার্তার প্রতিউত্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে মমতার ধন্যবাদ
ভবানীপুরের জয়ে মমতাকে অভিনন্দন বিজেপিবিরোধীদের

শেয়ার করুন

দামেস্কে বইয়ের দোকান বন্ধে ব্যাহত বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা

দামেস্কে বইয়ের দোকান বন্ধে ব্যাহত বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা

১৯৩০ সালে স্থাপিত এই আল-নাউরি বুকস্টোরও বন্ধের হুমকিতে রয়েছে। ছবি: এএফপি

দামেস্কের অন্যতম পুরোনো বইয়ের দোকানের মালিক ৭১ বছর বয়সী মোহাম্মদ সালেম আল-নাউরি বলেন, ‘মানুষের হাতে এখন বই কেনার অর্থ নেই। আর বইয়ের দোকান খোলা রাখার খরচ বেশির ভাগ মালিকের পক্ষে মেটানো সম্ভব নয়।’

বইয়ের দোকান ও প্রকাশনী সংস্থা একসময় সিরিয়ার বুদ্ধিজীবী মহলের বাতিঘর ছিল। আজ আর তা নেই। দীর্ঘদিন ধরে চলা যুদ্ধের কারণে দেশটির রাজধানী দামেস্কের বইয়ের দোকানগুলোতে একে একে জায়গা করে নিয়েছে জুতার দোকান ও মানি এক্সচেঞ্জ অফিস।

আরব বিশ্বে জ্ঞানচর্চার অন্যতম পীঠস্থান ছিল দামেস্ক। শহরটির অলিগলিতে বইয়ের দোকানের দেখা মিলত। ছিল মূল ও অনুবাদ করা বইয়ের প্রকাশনা ও বিতরণ প্রতিষ্ঠান। ওইসব দোকানে জ্ঞানপিপাসু সিরীয়দের ভিড় লেগেই থাকত। এখন যা কেবলই ইতিহাস।

এক দশক দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ, টানা অর্থনৈতিক সংকট ও সৃজনশীল মানুষের দেশত্যাগ সিরিয়ার বুদ্ধিজীবীপাড়ায় কবরের শূন্যতা এনে দিয়েছে।

দামেস্কের অন্যতম পুরোনো বইয়ের দোকানের মালিক ৭১ বছর বয়সী মোহাম্মদ সালেম আল-নাউরি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘মানুষের হাতে এখন বই কেনার অর্থ নেই। আর বইয়ের দোকান খোলা রাখার খরচ বেশির ভাগ মালিকের পক্ষে মেটানো সম্ভব নয়।’

১৯৭০ সালে স্থাপিত দামেস্কের আইকনিক বইয়ের দোকান নোবেল বুকশপ গত মাসে বন্ধ হয়ে যায়।

১৯৩৯ সালে স্থাপিত আরেক বইয়ের দোকান আল-ইয়াকজা সাত বছর আগে বন্ধ করা হয়। সে জায়গায় ঠাঁই হয়েছে জুতার দোকানের।

চার দশক আগে দামেস্ক শহরে উদ্বোধন হয় মায়সালুন বুকশপের। দোকানটির জায়গায় এখন মানি একচেঞ্জের একটি অফিস পাওয়া যাবে।

আর যেকোনো সময় একই পরিণতি দেখতে যাচ্ছে ১৯৩০ সালে স্থাপিত আল-নাউরি বুকস্টোর।

আল-নাউরি বুকস্টোরের মালিক আল-নাউরি বলেন, ‘আমাদের সন্তান ও নাতি-নাতনির জন্য এই দোকানের প্রয়োজন। তবে অন্যান্য বইয়ের দোকানের মতো আমাদেরও এটি দুঃখজনকভাবে বন্ধ করে দিতে হচ্ছে।’

দামেস্কের মধ্যাঞ্চলে নাউরি পরিবারের এ মুহূর্তে দুটি বইয়ের দোকান রয়েছে।

তিন বছর আগে বিক্রি কম ও খরচ বেড়ে যাওয়ায় ২০০০ সালে স্থাপন করা তৃতীয় বইয়ের দোকানটি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় ওই পরিবার।

পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে সাংস্কৃতিক বিকাশের চূড়ায় পৌঁছায় দামেস্ক। তবে সেই দিন বহু আগেই শেষ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন ৪০ বছর বয়সী আল-ইয়াকজা বুকস্টোরের একসময়ের স্বত্বাধিকারী সামি হামদান।

তিনি বলেন, ‘আমাদের সাংস্কৃতিক ও বৃদ্ধিবৃত্তিক সব অর্জন যুদ্ধ কেড়ে নিয়েছে। এখন আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।’

হামদান বলেন, ‘দেশের ৯০ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। সিরীয় পাউন্ডের মান পড়ে যাওয়ায় জিনিসপত্রের দাম আকাশচুম্বী। এ পরিস্থিতিতে কেউই বইয়ের দোকানে বিনিয়োগ করবে না।’

দামেস্কের প্রকাশনী সংস্থা দার আউসামার মালিক ৭০ বছর বয়সী খলিল হাদ্দাদ বলেন, ‘বই সিরীয়দের কাছে বিলাসী পণ্যে পরিণত হয়েছে। খাদ্য ও বাসস্থানের সংস্থান করতেই হিমশিম খাচ্ছে তারা।

‘এ ছাড়া মুদ্রণ খরচ বৃদ্ধি ও বিদ্যুৎ সংযোগ নিরবচ্ছিন্ন না থাকায় লজিস্টিক্যাল জটিলতার কারণে বই প্রকাশের খরচ অনেক বেড়ে গেছে।’

আরও পড়ুন:
কংগ্রেস ব্যর্থ, বিজেপিকে হারাতে পারে তৃণমূল: মমতা
মমতার গানের অ্যালবাম প্রকাশ
মমতাই মুখ্যমন্ত্রী, ন্যাড়া হয়ে বিজেপি ছাড়ার ঘোষণা এমপির
অভিনন্দন বার্তার প্রতিউত্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে মমতার ধন্যবাদ
ভবানীপুরের জয়ে মমতাকে অভিনন্দন বিজেপিবিরোধীদের

শেয়ার করুন

অস্ট্রেলিয়ার ডাইনোসরটি তৃণভোজী

অস্ট্রেলিয়ার ডাইনোসরটি তৃণভোজী

অস্ট্রেলিয়ায় পাওয়া পায়ের চিহ্ণগুলো ভীতু, লম্বা গলার তৃণভোজী এক ডাইনোসরের বলে সম্প্রতি জানান বিজ্ঞানীরা। ছবি: সায়েন্স এলার্ট

বিজ্ঞানীদের ভাষ্য, পায়ের চিহ্নগুলো ট্রায়াসিক যুগের কোনো ভয়ংকর শিকারি প্রাণীর হওয়ার সম্ভাবনা কম। এটি ছোট আকৃতির ও কম আক্রমণাত্মক কোনো তৃণভোজী ডাইনোসরের।

ষাটের দশকে অস্ট্রেলিয়ার ইপসউইচ শহরের এক কয়লাখনিতে ২২০ মিলিয়ন বছর আগের এক প্রাণীর পায়ের চিহ্ন পাওয়া যায়। সে সময় ধারণা করা হয়েছিল, ওই প্রাণীটি বিশালকৃতির মাংসাশী কোনো ডাইনোসরের।

সম্প্রতি ওই পায়ের চিহ্ন নিয়ে ফের গবেষণা করেন বিজ্ঞানীরা। গবেষণা শেষে তারা এ সিদ্ধান্তে পৌঁছান, পায়ের চিহ্নগুলো মাংসাশী কোনো ডাইনোসরের নয়। বরং সেগুলো ভীতু, লম্বা গলার তৃণভোজী কোনো ডাইনোসরের।

মূল পায়ের চিহ্ন আরও গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে এসব মতামত দেন বিজ্ঞানীরা।

এ ছাড়া ডাইনোসরের অন্যান্য প্রজাতির পায়ের চিহ্নের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়াতে পাওয়া ওই প্রাণীর পায়ের চিহ্ন তুলনার মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছান বলে সায়েন্স এলার্টের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞানীদের ভাষ্য, পায়ের চিহ্নগুলো ট্রায়াসিক যুগের কোনো ভয়ংকর শিকারি প্রাণীর হওয়ার সম্ভাবনা কম। এটি ছোট আকৃতির ও কম আক্রমণাত্মক কোনো তৃণভোজী ডাইনোসরের।

তবে ওই ডাইনোসর ঠিক কোন প্রজাতির, সে বিষয়ে নিশ্চিত নন বিজ্ঞানীরা।

অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অফ কুইন্সল্যান্ডের প্যালিওনটোলজিস্ট অ্যান্থনি রোমিলিও বলেন, ‘বহু বছর ধরে বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করতেন, ওই পায়ের চিহ্ন বিশাল এক শিকারি প্রাণীর, যার পা দুই মিটারের বেশি দীর্ঘ এবং এটি ডাইনোসরের ইউব্রোনটেস গোত্রের।’

তিনি বলেন, ‘ওই বক্তব্য কয়েক দশক ধরে বিজ্ঞানী মহলে ব্যাপক আলোড়ন তোলে। কারণ ট্রায়াসিক যুগে কোনো মাংসাশী ডাইনোসরের এত লম্বা পায়ের অস্তিত্ব এর আগে জানা যায়নি।

‘আমাদের সাম্প্রতিক গবেষণায় জানা গেছে, ওই পায়ের চিহ্ন ডাইনোসরের ইভাজোয়াম গোত্রের। এ গোত্রের ডাইনোসরের আকৃতি একটু ছোট। তৃণভোজী এসব প্রাণীর পা প্রায় ১.৪ মিটার দীর্ঘ। এদের শরীরের দৈর্ঘ্য ৬ মিটার।’

আরও পড়ুন:
কংগ্রেস ব্যর্থ, বিজেপিকে হারাতে পারে তৃণমূল: মমতা
মমতার গানের অ্যালবাম প্রকাশ
মমতাই মুখ্যমন্ত্রী, ন্যাড়া হয়ে বিজেপি ছাড়ার ঘোষণা এমপির
অভিনন্দন বার্তার প্রতিউত্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে মমতার ধন্যবাদ
ভবানীপুরের জয়ে মমতাকে অভিনন্দন বিজেপিবিরোধীদের

শেয়ার করুন

পাকিস্তানের সঙ্গে দৃঢ় বাণিজ্যিক সম্পর্ক চান শেখ হাসিনা

পাকিস্তানের সঙ্গে দৃঢ় বাণিজ্যিক সম্পর্ক চান শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ঢাকায় পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান আহমেদ সিদ্দিকীর বৈঠক। ছবি: ডন

ডনের প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঢাকায় পাকিস্তানের হাইকমিশনারের বৈঠকটি খুব গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এমন সময় বৈঠকটি হলো, যখন উভয় দেশ প্রথমবারের মতো শেখ হাসিনার পাকিস্তান সফরের জন্য প্রস্তুতি শুরু করেছে।

পাকিস্তানের সঙ্গে আরও শক্তিশালী বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা গড়ে তুলতে সরকারের ইচ্ছার বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশে পাকিস্তানের হাই কমিশনার ইমরান আহমেদ সিদ্দিকী সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক চাঙ্গা করার ইচ্ছার বিষয়টি জানান বলে ডনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র বিষয়ক দপ্তরের এক বিবৃতির বরাতে এতে বলা হয়, উভয় পক্ষ দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সম্মত হয়েছেন।

প্রায় সাত মাসের মধ্যে এটা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও ইমরান আহমেদের মধ্যে দ্বিতীয় সাক্ষাৎ।

ডন লিখেছে, এক দশকের বেশি সময় দুই দেশের সম্পর্ক বরফ কঠিন অবস্থায় জমে থাকার পর আবার তা উষ্ণ করার লক্ষ্যেই এই বৈঠক।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, বৈঠকটি খুব গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। আর এমন সময় বৈঠকটি হলো, যখন উভয় দেশ প্রথমবারের মতো শেখ হাসিনার পাকিস্তান সফরের জন্য প্রস্তুতি শুরু করেছে।

ডন লিখেছে, পাকিস্তান সফরের জন্য গত জুলাইয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের পাঠানো আমন্ত্রণপত্র সম্প্রতি গ্রহণ করেছেন বলে ইসলামাবাদকে প্রত্যুত্তরে জানান শেখ হাসিনা। তবে তার পাকিস্তান সফরের জন্য এখনও কোনো সময় নির্ধারণ করা হয়নি। ইমরান খানকেও বাংলাদেশ সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তিনি।

প্রতিবেদনটিতে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাকিস্তান সফর সফল করতে রোড ম্যাপ তৈরি করার জন্য বাংলাদেশকে প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইসলামাবাদ।

পাশাপাশি ঢাকার সঙ্গে অন্যান্য দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কও পুনরুজ্জীবিত করতে জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে ইমরান সরকার। এর অংশ হিসেবে প্রায় ১৩ বছর ধরে বন্ধ থাকা দুই দেশের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ে ডায়ালগ আবার শুরু করতে চায় পাকিস্তান।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক শক্ত করার জন্য নানা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ দিবসগুলোতে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠানো হয় ইসলামাবাদ থেকে। সবশেষ মৌসুমে উভয় দেশ আম উপহার পাঠিয়েছে।

এক দেশ হয়ে থাকলেও ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে পাকিস্তান থেকে স্বাধীনতা লাভ করে বিশ্বের মানচিত্রে আলাদা রাষ্ট্র হিসেবে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ।

এরপর থেকেই দেশ দুটির মধ্যে বৈরী সম্পর্ক বিদ্যমান। ২০০৯ সালে বাংলাদেশ সরকার ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে ট্রাইব্যুনাল গঠন করলে টানাপোড়েন চরমে পৌঁছায়।

আরও পড়ুন:
কংগ্রেস ব্যর্থ, বিজেপিকে হারাতে পারে তৃণমূল: মমতা
মমতার গানের অ্যালবাম প্রকাশ
মমতাই মুখ্যমন্ত্রী, ন্যাড়া হয়ে বিজেপি ছাড়ার ঘোষণা এমপির
অভিনন্দন বার্তার প্রতিউত্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে মমতার ধন্যবাদ
ভবানীপুরের জয়ে মমতাকে অভিনন্দন বিজেপিবিরোধীদের

শেয়ার করুন

আফগানিস্তানে ৫০০ ডলারে মেয়েশিশু বিক্রি

আফগানিস্তানে ৫০০ ডলারে মেয়েশিশু বিক্রি

৫০০ ডলারে এই মেয়েশিশুকে বিক্রি করতে বাধ্য হয় তার পরিবার। ছবি: বিবিসি

‘আফগানিস্তানের বিপন্ন মানুষের কাছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের শিগগিরই পৌঁছতে হবে। তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেয়া হবে কী হবে না, এ বিতর্কে আটকে গেলে এখানকার লাখ লাখ শিশুকে বাঁচানো সম্ভব হবে না।’

তালেবান ক্ষমতা দখলের পর ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে আফগানিস্তান। দীর্ঘ দুই দশক যুদ্ধ চলাকালে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা দেশটিকে সহায়তা করে। যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত সরকারকে আগস্টে তালেবান ক্ষমতাচ্যুত করার পর ওই সব সহায়তা বন্ধ হয়ে যায়।

তালেবানের নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক কেমন হবে, তা নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি পশ্চিমা বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সিদ্ধান্তহীনতার ফল ভুগতে হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশটির লাখ লাখ মানুষকে।

সোমবার জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) সতর্ক করে জানায়, আসছে শীতে অর্ধেকের বেশি আফগান চরম খাদ্যসংকটে ভুগবে। খাদ্যের অভাবে লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু হবে, যদি না দ্রুতই আফগানিস্তানে ত্রাণ পাঠানো হয়।

বিবিসির সাংবাদিক ইয়োগিতা লিমায়ে ও তার দল সম্প্রতি আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় হেরাত শহরের মেডিসিন্স সানস ফ্রন্ট্রিয়ার্স হাসপাতালের পাশাপাশি শহরটির গ্রামাঞ্চলে যান।

হাসপাতালটি থেকে লামিয়ে বলেন, ‘বিদেশি সহায়তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আফগানিস্তানের কমপক্ষে ১০ লাখের বেশি শিশু মৃত্যুঝুঁকিতে রয়েছে।

‘তিন মাস বয়সী এক শিশু ওসমান। ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের কারণে জন্মের সময় তার ওজন অনেক কম ছিল। তার বাবার হাতে এখন কোনো কাজ নেই।

‘শুধু ওসমানের বাবা নয়, আফগানিস্তানের আরও লাখ লাখ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে বেকার।

ওসমানের মা লামিয়েকে বলেন, ‘আমাদের হাতে কোনো অর্থ নেই। বিশ্ব যেন আমাদের সহায়তায় এগিয়ে আসে, আমরা তা চাই। আমাদের শিশুরা কষ্টে আছে।’

হেরাতের মেডিসিন্স সানস ফ্রন্ট্রিয়ার্সের আশপাশে কয়েক মাইলের মধ্যে আর কোনো হাসপাতাল নেই বলে জানান লামিয়ে।

তিনি বলেন, ‘আফগানিস্তানের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার বড় অংশ বৈদেশিক সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল, যা এখন বন্ধ।

‘হেরাতের এই হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরা গত চার মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না। চিকিৎসাসামগ্রী কেনার মতো অর্থ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নেই।’

বিবিসি সাংবাদিক লামিয়ে বলেন, ‘হেরাতের গ্রামাঞ্চলে সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে আফগানরা অকল্পনীয় কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন।’

পরিচয় গোপন রেখে এক মা লামিয়েকে বলেন, ‘আমার সন্তানরা ক্ষুধায় মারা যাচ্ছিল। এ কারণে আমার ছোট্ট মেয়েশিশুকে বিক্রি করা ছাড়া আর কিছু করার ছিল না।

‘আমি খুব খুশি হতাম যদি আমার মেয়েটাকে বিক্রি করা না লাগত।’

লামিয়ে জানান, ওই মেয়েশিশুর বাবা আবর্জনা কুড়িয়ে সংসার চালাতেন। কিন্তু তা দিয়ে এখন আর সংসার চলছে না।

শিশুটির বাবা বলেন, ‘ঘরে তেল, ময়দা কিছু ছিল না। অনাহারে দিন কাটছিল আমাদের। আমার মেয়ে আমার সম্পর্কে কী ভাবছে জানি না। তবে তাকে বিক্রি করা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।’

লামিয়ে বলেন, ‘মেয়েটি একটু বড় না হওয়া পর্যন্ত সে তার মা-বাবার কাছে থাকবে। এরপর যে ব্যক্তি তাকে কিনেছেন, তিনি মেয়েটিকে নিয়ে যাবেন।

‘মেয়েটিকে কিনতে ওই পরিবারকে ৫০০ ডলারের বেশি দিয়েছেন ওই ব্যক্তি। এ টাকায় মেয়েটির পরিবারের কয়েক মাস চলে যাবে।

‘পরিবারটিকে বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তির ছেলের সঙ্গে মেয়েটির বিয়ে দেয়া হবে। তবে এ বিষয়ে কেউ নিশ্চিত নয়।’

লামিয়ে বলেন, ‘এখানে আরও অনেক পরিবার তাদের সন্তানদের বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে।

‘আমাদের দলের একজনের কাছে এক আফগান তার সন্তান বিক্রি করতে চেয়েছিলেন। এতে বোঝা যাচ্ছে, কতটা অসহায় হলে মানুষ এমনটা করতে পারে। এখানকার পরিস্থিতি বলার মতো নয়।

‘আফগানিস্তানের এসব বিপন্ন মানুষের কাছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের শিগগিরই পৌঁছতে হবে। তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেয়া হবে কী হবে না, এ বিতর্কে আটকে গেলে এখানকার লাখ লাখ শিশুকে বাঁচানো সম্ভব হবে না।’

আরও পড়ুন:
কংগ্রেস ব্যর্থ, বিজেপিকে হারাতে পারে তৃণমূল: মমতা
মমতার গানের অ্যালবাম প্রকাশ
মমতাই মুখ্যমন্ত্রী, ন্যাড়া হয়ে বিজেপি ছাড়ার ঘোষণা এমপির
অভিনন্দন বার্তার প্রতিউত্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে মমতার ধন্যবাদ
ভবানীপুরের জয়ে মমতাকে অভিনন্দন বিজেপিবিরোধীদের

শেয়ার করুন

ফেসবুকের আয় বেড়েছে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি

ফেসবুকের আয় বেড়েছে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি

ফেসবুক গত তিন মাসে ৯ বিলিয়ন ডলার আয় করে। ছবি: এএফপি

সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট ফেসবুক জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই তিন মাসে ৯ বিলিয়ন ডলারের মুনাফা কামিয়েছে। গত বছর একই সময়ে ফেসবুকের মুনাফা ছিল ৭ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের বিরুদ্ধে সম্প্রতি বেশ কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ তুলে আলোড়ন সৃষ্টি করেন মাধ্যমটির সাবেক প্রোডাক্ট ম্যানেজার ও হুইসেলব্লোয়ার ফ্রান্সেস হাউগেন।

বিভক্তি সৃষ্টি, শিশুদের ক্ষতিসাধন, নিরাপত্তার চেয়ে মুনাফার দিকে বেশি ঝোঁক, গণতন্ত্র দুর্বল করাসহ ফেসবুকের বিরুদ্ধে হাউগেনের অন্যান্য অভিযোগ নিয়ে বিশ্বব্যাপী চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে সম্প্রতি বলা হয়, বিভিন্ন নথিতে দেখা যায়, বিদ্বেষপ্রসূত বক্তব্য ও যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে মানবপাচার প্রচার সংবলিত কন্টেন্ট সরাতে বারবারই ব্যর্থ হয় ফেসবুক।

এমন পরিপ্রেক্ষিতে বিবিসির মঙ্গলবারের প্রতিবেদনে বলা হয়, সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট ফেসবুক জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই তিন মাসে ৯ বিলিয়ন ডলারের মুনাফা কামিয়েছে। গত বছর একই সময়ে ফেসবুকের মুনাফা ছিল ৭ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার।

ফেসবুকের বিরুদ্ধে আনা সাম্প্রতিক অভিযোগ সম্পর্কে এটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মার্ক জাকারবার্গ সোমবার বিনিয়োগকারীদের বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে সমন্বিত প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।’

ফেসবুকের পক্ষ থেকে বলা হয়, ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গত ১২ মাসে মাধ্যমটির মাসিক ব্যবহারকারীর হার ৬ শতাংশ অর্থাৎ ২ দশমিক ৯১ বিলিয়ন বৃদ্ধি পেয়েছে।

অবশ্য গত কয়েক মাসে ফেসবুকের আয় অনেক বাড়লেও অ্যাপলের গোপনীয়তা নীতির কারণে এটির রাজস্ব কিছুটা কমেছে।

অ্যাপলের আইওএস ১৪ অপারেটিং সিস্টেমে সম্প্রতি গোপনীয়তা নীতি হালনাগাদ করা হয়। এতে নির্দিষ্ট ব্যবহারকারীদের কাছে বিজ্ঞাপন দিতে বেশ কয়েকটি ব্র্যান্ডের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। নতুন এই নীতির প্রভাব স্বাভাবিকভাবে ফেসবুকেও পড়ে।

এ বিষয়ে ফেসবুক জানিয়েছে, বছরের শেষ তিন মাসেও অ্যাপলের গোপনীয়তা নীতির ফলে ডিজিটাল ব্যবসায় কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে ওই পরিবর্তনের সঙ্গে ধীরে ধীরে সামঞ্জস্য করা হবে।

আরও পড়ুন:
কংগ্রেস ব্যর্থ, বিজেপিকে হারাতে পারে তৃণমূল: মমতা
মমতার গানের অ্যালবাম প্রকাশ
মমতাই মুখ্যমন্ত্রী, ন্যাড়া হয়ে বিজেপি ছাড়ার ঘোষণা এমপির
অভিনন্দন বার্তার প্রতিউত্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে মমতার ধন্যবাদ
ভবানীপুরের জয়ে মমতাকে অভিনন্দন বিজেপিবিরোধীদের

শেয়ার করুন