মস্তিষ্কে ডিভাইস বসিয়ে বিষণ্নতা দূর

মস্তিষ্কে ডিভাইস বসিয়ে বিষণ্নতা দূর

এই রোগীর বিষণ্নতা দূর করতে সফল হন ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ার গবেষকরা। ছবি: সংগৃহীত

৩৬ বছর বয়সী ওই রোগী টেলিকনফারেন্সে বলেন, ‘টানা পাঁচ বছর ভয়াবহ বিষণ্নতায় ভুগেছিলাম। কোনো ওষুধ বা ইলেক্ট্রোকনভালসিভ থেরাপিতে কাজ হয়নি। প্রতিদিন আত্মহত্যার চিন্তা আমাকে যন্ত্রণা দিত। মস্তিষ্কে বৈদ্যুতিক ডিভাইস স্থাপন আমার জীবনে পরিবর্তন এনে দিয়েছে।’

নিউরাল পেসমেকারের মতো কাজ করা ডিভাইস মস্তিষ্কে স্থাপনের মাধ্যমে এক রোগীর গুরুতর ও দীর্ঘমেয়াদি বিষণ্নতা দূর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা।

ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ার গবেষকরা জানান, নিউরাল ইলেকট্রনিকসকে সূক্ষ্মভাবে নজরদারির মাধ্যমে মানসিক রোগের এই চিকিৎসায় ‘মাইলফলক সাফল্য’ মিলেছে।

এ সংক্রান্ত গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী নেচার মেডিসিনে।

ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ার মনোরোগ বিভাগের অধ্যাপক অ্যান্ড্রু ক্রিস্টাল বলেন, ‘রোগীর মস্তিষ্কের সার্কিট শনাক্ত ও সমন্বয়ের মাধ্যমে আমরা সফলভাবে তার চিকিৎসা প্রতিরোধী বিষণ্নতা দূর করতে পেরেছি।’

মস্তিষ্কে ডিভাইস বসিয়ে বিষণ্নতা দূর
মাথার খুলির নিচে স্থাপন করা যন্ত্রটি ইলেকট্রোড নিউরালের কর্মকাণ্ড শনাক্তের পর স্বল্প সময়ের জন্য সংশোধনমূলক বৈদ্যুতিক স্পন্দন মগজে পাঠায়

গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশের আগে ৩৬ বছর বয়সী ওই রোগী টেলিকনফারেন্সে বলেন, ‘টানা পাঁচ বছর ভয়াবহ বিষণ্নতায় ভুগেছিলাম। কোনো ওষুধ বা ইলেক্ট্রোকনভালসিভ থেরাপিতে কাজ হয়নি।

‘প্রতিদিন আত্মহত্যার চিন্তা আমাকে যন্ত্রণা দিত। মস্তিষ্কে বৈদ্যুতিক ডিভাইস স্থাপন আমার জীবনে পরিবর্তন এনে দিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘মস্তিষ্কে স্থাপনের পরপরই যন্ত্রটি আমাকে এক ধরনের প্রশান্তি দেয়। এ প্রশান্তি এক বছর ছিল।

‘যুক্তিহীন চিন্তা করা নিউরালের কর্মকাণ্ড শনাক্তের পর যন্ত্রটির ইলেকট্রোড স্বল্প সময়ের জন্য সংশোধনমূলক বৈদ্যুতিক স্পন্দন মগজে পাঠায়। এর পরই বিষণ্নতা সৃষ্টির চক্রটি থেমে যায়।’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃগীরোগ ও পারকিনসনের চিকিৎসায় ডিপ ব্রেইন স্টিমিউলেশন (ডিবিএস) সম্প্রতি বেশ প্রচলিত। তবে বিষণ্নতার চিকিৎসায় ডিবিএস খুব একটা সফল নয়। বিষণ্নতায় ভোগা রোগীদের ৩০ শতাংশ প্রচলিত চিকিৎসার সহায়তা নেন না।

মৃগীরোগ চিকিৎসায় ব্যবহৃত ডিবিএস যন্ত্রে কিছুটা পরিবর্তন এনেছেন ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ার গবেষকরা। এরপর এটি ব্যবহার করা হয় বিষণ্নতার চিকিৎসায়।

অ্যামিগডালা নামে পরিচিত মস্তিষ্কের নিউরাল কর্মকাণ্ডের বিশেষ প্যাটার্নের বায়োমেকার শনাক্ত করে যন্ত্রটি। এরপর এটি মস্তিষ্কে সুখানুভূতি দেয়া ভেন্ট্রাল স্ট্রিটামকে ছোট বৈদ্যুতিক স্পন্দন পাঠায়। এতে তাৎক্ষণিকভাবে বিষণ্নতার লক্ষণ দূর হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের বেইলর কলেজ অফ মেডিসিনের নিউরোসার্জন সামির শেঠ ওই গবেষণা দলে ছিলেন না, তবে বিষণ্নতা চিকিৎসায় তিনি আরেকটি পরীক্ষা করছেন।

সামির বলেন, ‘মনোরোগ চিকিৎসায় চলমান দুটি গবেষণা ইতিবাচক ফল দেবে বলে আমার ধারণা।’

ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ার মনোরোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ক্যাথরিন স্ক্যানগস বলেন, ‘ভয়াবহ বিষণ্নতায় ভোগা আরও দুই রোগীকে আমাদের গবেষণার অংশ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এ গবেষণায় ১২ রোগী অংশ নিচ্ছেন।’

তিনি বলেন, ‘বৈদ্যুতিক ডিভাইস ভিন্ন ভিন্ন রোগীর চিকিৎসায় কী ধরনের প্রভাব ফেলে, তা একবার নয়, কয়েকবার পরীক্ষা করার প্রয়োজন রয়েছে।

‘পাশাপাশি চিকিৎসা চলাকালীন কোনো রোগীর বায়োমেকার বা মস্তিষ্কের সার্কিটের পরিবর্তন হয় কি না, তাও দেখা জরুরি।’

আরও পড়ুন:
তারুণ্যের ৬১ শতাংশই ভুগছে বিষণ্নতায়
বিষণ্নতা কমাতে এক ঘণ্টা আগে উঠুন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

অস্ট্রেলিয়ার ডাইনোসরটি তৃণভোজী

অস্ট্রেলিয়ার ডাইনোসরটি তৃণভোজী

অস্ট্রেলিয়ায় পাওয়া পায়ের চিহ্ণগুলো ভীতু, লম্বা গলার তৃণভোজী এক ডাইনোসরের বলে সম্প্রতি জানান বিজ্ঞানীরা। ছবি: সায়েন্স এলার্ট

বিজ্ঞানীদের ভাষ্য, পায়ের চিহ্নগুলো ট্রায়াসিক যুগের কোনো ভয়ংকর শিকারি প্রাণীর হওয়ার সম্ভাবনা কম। এটি ছোট আকৃতির ও কম আক্রমণাত্মক কোনো তৃণভোজী ডাইনোসরের।

ষাটের দশকে অস্ট্রেলিয়ার ইপসউইচ শহরের এক কয়লাখনিতে ২২০ মিলিয়ন বছর আগের এক প্রাণীর পায়ের চিহ্ন পাওয়া যায়। সে সময় ধারণা করা হয়েছিল, ওই প্রাণীটি বিশালকৃতির মাংসাশী কোনো ডাইনোসরের।

সম্প্রতি ওই পায়ের চিহ্ন নিয়ে ফের গবেষণা করেন বিজ্ঞানীরা। গবেষণা শেষে তারা এ সিদ্ধান্তে পৌঁছান, পায়ের চিহ্নগুলো মাংসাশী কোনো ডাইনোসরের নয়। বরং সেগুলো ভীতু, লম্বা গলার তৃণভোজী কোনো ডাইনোসরের।

মূল পায়ের চিহ্ন আরও গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে এসব মতামত দেন বিজ্ঞানীরা।

এ ছাড়া ডাইনোসরের অন্যান্য প্রজাতির পায়ের চিহ্নের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়াতে পাওয়া ওই প্রাণীর পায়ের চিহ্ন তুলনার মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছান বলে সায়েন্স এলার্টের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞানীদের ভাষ্য, পায়ের চিহ্নগুলো ট্রায়াসিক যুগের কোনো ভয়ংকর শিকারি প্রাণীর হওয়ার সম্ভাবনা কম। এটি ছোট আকৃতির ও কম আক্রমণাত্মক কোনো তৃণভোজী ডাইনোসরের।

তবে ওই ডাইনোসর ঠিক কোন প্রজাতির, সে বিষয়ে নিশ্চিত নন বিজ্ঞানীরা।

অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অফ কুইন্সল্যান্ডের প্যালিওনটোলজিস্ট অ্যান্থনি রোমিলিও বলেন, ‘বহু বছর ধরে বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করতেন, ওই পায়ের চিহ্ন বিশাল এক শিকারি প্রাণীর, যার পা দুই মিটারের বেশি দীর্ঘ এবং এটি ডাইনোসরের ইউব্রোনটেস গোত্রের।’

তিনি বলেন, ‘ওই বক্তব্য কয়েক দশক ধরে বিজ্ঞানী মহলে ব্যাপক আলোড়ন তোলে। কারণ ট্রায়াসিক যুগে কোনো মাংসাশী ডাইনোসরের এত লম্বা পায়ের অস্তিত্ব এর আগে জানা যায়নি।

‘আমাদের সাম্প্রতিক গবেষণায় জানা গেছে, ওই পায়ের চিহ্ন ডাইনোসরের ইভাজোয়াম গোত্রের। এ গোত্রের ডাইনোসরের আকৃতি একটু ছোট। তৃণভোজী এসব প্রাণীর পা প্রায় ১.৪ মিটার দীর্ঘ। এদের শরীরের দৈর্ঘ্য ৬ মিটার।’

আরও পড়ুন:
তারুণ্যের ৬১ শতাংশই ভুগছে বিষণ্নতায়
বিষণ্নতা কমাতে এক ঘণ্টা আগে উঠুন

শেয়ার করুন

রেললাইন নির্মাণের সময় বেরিয়ে এলো মায়া সভ্যতার শিল্পকর্ম

রেললাইন নির্মাণের সময় বেরিয়ে এলো মায়া সভ্যতার শিল্পকর্ম

সম্প্রতি মেক্সিকোর মায়া সভ্যতার শিল্পকর্ম আবিষ্কার করেন দেশটির প্রত্নতাত্ত্বিকরা। ছবি: আইএনএএইচ

মেক্সিকোর জাতীয় নৃতত্ত্ব ও ইতিহাস সংস্থার (আইএনএএইচ) পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ‘মায়া রেললাইনে গবেষকরা এখন পর্যন্ত প্রায় আড়াই হাজার প্রাক-হিস্পেনিক কাঠামো, ৮০টি কবরস্থান, হাজার হাজার সিরামিকের পাত্র ও খণ্ড আবিষ্কার করেছেন।

মেক্সিকোতে প্রায় দেড় হাজার বছর আগের মায়া সভ্যতার শত শত শিল্পকর্ম সম্প্রতি আবিষ্কার করেছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা। দেশটির ইয়ুকাতান পেনিনসুলায় নির্মাণাধীন একটি রেল প্রকল্পে ওই সব শিল্পকর্মের খোঁজ মেলে বলে জানান তারা।

সিএনএনের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

মেক্সিকোর জাতীয় নৃতত্ত্ব ও ইতিহাস সংস্থার (আইএনএএইচ) পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ‘মায়া রেললাইনে গবেষকরা এখন পর্যন্ত প্রায় আড়াই হাজার প্রাক-হিস্পেনিক কাঠামো, ৮০টি কবরস্থান, হাজার হাজার সিরামিকের পাত্র ও খণ্ড আবিষ্কার করেছেন।’

জিপিএস জিওরেফারেন্সিং, স্যাটেলাইট টোপোগ্রাফিক ইমেজ ও এলআইডিএআর সেন্সরের সাহায্যে ওই শিল্পকর্মগুলোর সন্ধান পাওয়া যায়।

আইএনএএইচের প্রত্নতত্ত্ববিদ ইলিয়েনা ইচাউরি পেরেজ ও ইলিয়ানা অ্যানকোরা আরাগন বলেন, ‘প্রত্নতাত্ত্বিক শিল্পকর্মগুলো কয়েক শতাব্দী আগের মায়া সভ্যতার মানুষের দৈনন্দিন জীবন, বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক বিনিময় সম্পর্ক সম্বন্ধে আমাদের জ্ঞান আরও বিস্তৃত করবে।’

আইএনএএইচের পক্ষ থেকে বলা হয়, সদ্যো-আবিষ্কৃত শিল্পকর্মগুলো কয়েকজন গবেষকের মধ্যে বিশেষ আগ্রহের জন্ম দিয়েছে। প্রোটোক্লাসিক যুগের নারীর স্তনের মতো দেখতে একটি পাত্র এগুলোর মধ্যে অন্যতম।

প্রত্নতাত্ত্বিকরা মনে করছেন, মায়া সভ্যতার ক্ষমতাসীন অভিজাত শ্রেণি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বা ধর্মীয় আলোচনার সময় ওই সব পাত্র ব্যবহার করত। চকলেট ও সুগন্ধি দ্রব্যের মতো মূল্যবান তরল পদার্থ পাত্রগুলোতে রাখা হতো।

গবেষকদের প্রাথমিক বিশ্লেষণ বলছে, খ্রিষ্টের জন্মের ৭০০ বছর আগে (মধ্য প্রিক্লাসিক যুগ) থেকে খ্রিষ্টের জন্মের সাড়ে আট শ বছর (ক্লাসিক যুগের শেষে) পর পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে মায়া সভ্যতা টিকে ছিল।

গবেষকরা বলেন, ‘রেললাইনটি নির্মাণের ফলে মায়া সভ্যতা ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার পথ উন্মোচিত হয়েছে। মেক্সিকোর যেসব অঞ্চলে ওই রেললাইন বসানো হবে, সেখানে আরও পুরাকীর্তি আবিষ্কারের সম্ভাবনার পাশাপাশি মায়া সভ্যতা সম্পর্কে আমাদের জানাবোঝা আরও বাড়বে।’

অবশ্য রেললাইন প্রকল্প নিয়ে সমালোচকদের ভাষ্য, এ প্রকল্প সম্ভাব্য প্রত্নতাত্ত্বিক জায়গা ও পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

এ বিষয়ে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ম্যানুয়েল লোপেজ ওব্রাদর জানান, পাঁচটি অঙ্গরাজ্যের ভেতর দিয়ে যাওয়া রেললাইন প্রকল্প এমনভাবে করা হয়েছে, যাতে পরিবেশের কোনো ক্ষতি না হয়। এ ছাড়া এর মাধ্যমে পর্যটন শিল্পেরও বিকাশ ঘটবে।

আরও পড়ুন:
তারুণ্যের ৬১ শতাংশই ভুগছে বিষণ্নতায়
বিষণ্নতা কমাতে এক ঘণ্টা আগে উঠুন

শেয়ার করুন

পরমাণু প্রযুক্তিতে ২০ হাজার টাকায় ক্যানসার নির্ণয়

পরমাণু প্রযুক্তিতে ২০ হাজার টাকায় ক্যানসার নির্ণয়

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপিত পিইটি-সিটি ল্যাব। ছবি: নিউজবাংলা

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সাইক্লোট্রন সুবিধাসহ পিইটি-সিটি ল্যাব স্থাপনকালে রোববার দুপুরে বক্তব্য দেন পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. সানোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, ‘নিজস্ব সাইক্লোট্রন স্থাপনের ফলে ক্যানসার নির্ণয়ের খরচ কয়েক গুণ কমে আসবে।’

বিশ্বে ৯০ শতাংশের বেশি ক্যানসার শনাক্ত হয় পরমাণু প্রযুক্তি পিইটি-সিটির (পজিট্রন ইমিশন টোমোগ্রাফি ও কম্পিউটেড টোমোগ্রাফি) মাধ্যমে। এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকায় ক্যানসার নির্ণয় সম্ভব বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের আওতাধীন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেসেস (নিনমাস)।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সাইক্লোট্রন সুবিধাসহ পিইটি-সিটি ল্যাব স্থাপনকালে রোববার দুপুরে এ তথ্য জানান পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. সানোয়ার হোসেন।

তিনি বলেন, ‘নিজস্ব সাইক্লোট্রন স্থাপনের ফলে ক্যানসার নির্ণয়ের খরচ কয়েক গুণ কমে আসবে। আগে রেডিও আইসোটোপ আমদানি বা বেসরকারি ল্যাব থেকে কিনতে হতো। ফলে খরচ বেশি হতো। আমরা এই ল্যাব থেকে এখন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের ল্যাবে রেডিও আইসোটোপ সরবরাহ করব।

‘এখন থেকে সরকারিভাবে পরমাণু কমিশনের ল্যাবে মাত্র ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকায় পিইটি-সিটির মাধ্যমে ক্যানসার নির্ণয় করা যাবে। এর আগে সরকারিভাবে ৩৫ হাজার ও বেসরকারিভাবে ৬০ হাজার টাকা খরচ হতো।’

সাইক্লোট্রন সুবিধাসহ পিইটি-সিটি ল্যাবের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান বলেন, ‘এই সুবিধাদির ফলে দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠী বিশেষভাবে উপকৃত হবে এবং পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার আরও শক্তিশালী হবে। পর্যায়ক্রমে এসব সুবিধাদি দেশের বিভিন্ন সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ক্যাম্পাসে অবস্থিত পরমাণু চিকিৎসা কেন্দ্রে স্থাপন করা হবে।

‘বর্তমানে ১৫টি পরমাণু চিকিৎসা কেন্দ্র চালু রয়েছে। নির্মাণ করা হচ্ছে আরও আটটি। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেসেস (নিনমাস)।’

সাইক্লোট্রন ল্যাব কী?

এটি এমন একটি উদ্ভাবন, যার মাধ্যমে নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ার সাহায্যে মানব চিকিৎসা এবং গবেষণার জন্য তেজস্ক্রিয় পদার্থ উৎপাদন করা যায়। নিনমাসে IBA Cyclone 18/9 MeV সাইক্লোট্রনটির মাধ্যমে তেজস্ক্রিয় পদার্থ 18F-FDG ব্যবহার করে বিভিন্ন রোগীদের ক্যানসার নির্ণয় করা হচ্ছে। সাইক্লোট্রনের মাধ্যমে আরও কিছু পদার্থ উৎপাদন করা যায়, যেগুলো ক্যানসারসহ অন্যান্য রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়।

পিইটি-সিটি স্ক্যানের কাজ কী

যেসব স্থানে কোষগুলো বেশি সক্রিয় থাকে, পিইটি স্ক্যান কেবল সেসব স্থানের তথ্যচিত্র দেয়। অন্যদিকে সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে কোনো স্থানের গঠনগত এবং অবস্থানগত তথ্যচিত্র পাওয়া যায়।

এই দুটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে গঠিত স্ক্যানারে একটি ফিউশন ইমেজ একই সময়ে পাওয়া যায়। এ দুটি ইমেজের সমন্বিত ইমেজটি দিয়ে একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক শরীরের যেসব স্থানে কোষগুলো অধিক সক্রিয় বা ক্যানসারে আক্রান্ত, তা সঠিকভাবে নির্ণয় করতে পারেন। তারা কোনো বেদনাদায়ক পদ্ধতি ছাড়াই রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা শুরু করেন।

ক্যানসার শনাক্তের সিংহভাগই করা হয় পিইটি-সিটি ব্যবহার করে। আর সাইক্লোট্রন মেশিনে উৎপাদিত আইসোটোপ পিইটি-সিটিতে ব্যবহার করেই পরীক্ষাটি সম্পন্ন হয়।

কমবে বিদেশনির্ভরতা

কিছুদিন আগেও ক্যানসার পরীক্ষা করতে বিদেশে যেতে হতো। ২০১০ সালের পর থেকে সীমিত পরিসরে এ রোগ নির্ণয় শুরু হয় বাংলাদেশে।

নিউক্লিয়ার প্রযুক্তির পদ্ধতির ব্যবহারে এগিয়ে আসে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন।

এ বিষয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ফলে এ খাতে এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার পথে বাংলাদেশ। এ ছাড়া চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষণাতেও এই ল্যাব ভালো অবদান রাখবে।

তিনি বলেন, এই যন্ত্র ও ল্যাব স্থাপনের ফলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাত আরও এগিয়ে যাবে।

‘সাইক্লোট্রন ও পিইটি-সিটি’ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে খরচ হয়েছে ১৫০ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন:
তারুণ্যের ৬১ শতাংশই ভুগছে বিষণ্নতায়
বিষণ্নতা কমাতে এক ঘণ্টা আগে উঠুন

শেয়ার করুন

চার মাস পর চাঁদে নাসার ক্রুবিহীন ফ্লাইট

চার মাস পর চাঁদে নাসার ক্রুবিহীন ফ্লাইট

ফেব্রুয়ারিতে চাঁদে ক্রুবিহীন ফ্লাইট পাঠাচ্ছে নাসা। ছবি: দ্য গার্ডিয়ান

নাসার পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘মহাকাশ বিষয়ে গভীর অনুসন্ধান চালাতে আর্টেমিস-ওয়ান সহযোগিতা করবে। পাশাপাশি ক্রুসহ আর্টেমিস-টু পাঠানোর আগে পর্যাপ্ত তথ্য দেবে এটি। এ ছাড়া চাঁদে মানুষের অবস্থানের ক্ষমতা সম্প্রসারণেও আর্টেমিস-ওয়ান সহায়তা করবে।’

আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে চাঁদের চারপাশ প্রদক্ষিণ করতে ক্রুবিহীন কয়েকটি ফ্লাইট পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ সংস্থা নাসা। এরপর পৃথিবীর একমাত্র স্যাটেলাইটটিতে ফের পা রাখবেন নভোচারীরা।

নাসার বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান

স্থানীয় সময় শুক্রবার নাসা জানায়, চাঁদের একটি কক্ষপথে অরিয়ন মহকাশযান পাঠানোর আগে চলমান বিভিন্ন পরীক্ষার শেষ ধাপে রয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

নাসা জানায়, ক্রুবিহীন টেস্ট ফ্লাইট আর্টেমিস-ওয়ান ভবিষ্যতে ক্রুসহ ফ্লাইট পরীক্ষার ক্ষেত্র উন্মোচন করবে।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, ফেব্রয়ারির আগ পর্যন্ত মহাকাশের উদ্দেশ্যে বেশ কয়েকটি পরীক্ষা চালাবে নাসা। এসব পরীক্ষার মধ্যে ইন্টারফেস ও কমিউনিকেশন সিস্টেম পরীক্ষা, ড্রেস রিহার্সালও থাকবে।

ড্রেস রিহার্সাল সফল হলে মহাকাশযান পাঠানোর তারিখ ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে নাসা।

নাসার পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘মহাকাশ বিষয়ে গভীর অনুসন্ধান চালাতে আর্টেমিস-ওয়ান সহযোগিতা করবে। পাশাপাশি ক্রুসহ আর্টেমিস-টু পাঠানোর আগে পর্যাপ্ত তথ্য দেবে এটি। এ ছাড়া চাঁদে মানুষের অবস্থানের ক্ষমতা সম্প্রসারণেও আর্টেমিস-ওয়ান সহায়তা করবে।’

৫২ বছর আগে অ্যাপোলো ১১ অভিযানের মধ্য দিয়ে প্রথম চাঁদে মানুষ পাঠায় নাসা। ওই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নিল আর্মস্ট্রং প্রথম চাঁদে পা রাখেন।

১৯৬৯ সাল থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত মোট ১২ নভোচারী চাঁদে হাঁটতে সক্ষম হন।

আরও পড়ুন:
তারুণ্যের ৬১ শতাংশই ভুগছে বিষণ্নতায়
বিষণ্নতা কমাতে এক ঘণ্টা আগে উঠুন

শেয়ার করুন

বিড়ালের উপকারী ব্যাকটেরিয়া সারাতে পারে একজিমা

বিড়ালের উপকারী ব্যাকটেরিয়া সারাতে পারে একজিমা

বিড়ালের শরীরে উপকারী ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। ছবি: ফিল্ম ডেইলি

চিকিৎসাবিজ্ঞানী গ্যালো বলেন, ‘স্ট্যাফিলোকোক্কাস ফেলিস প্রজাতির ব্যাকটেরিয়ার কার্যকারিতা অনেক বেশি। এটি প্যাথোজেন মেরে ফেলতে খুবই সক্ষম। কারণ এটি এমআরএসপি কোষকে বিভিন্ন দিক থেকে আক্রমণ করে।’

স্বাস্থ্যবান বিড়ালের শরীরের ব্যাকটেরিয়া এমন কিছু অ্যান্টিবডি উৎপাদন করতে পারে, যা জীবাণু ধ্বংসে সক্ষম। এসব অ্যান্টিবডি চর্মরোগ একজিমাও সারাতে পারে।

সম্প্রতি এক গবেষণা থেকে উঠে আসা তথ্য এমনটাই বলছে বলে জানিয়েছে সায়েন্স এলার্ট

গবেষকদের ধারণা, মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীদেহে সংক্রমণ চিকিৎসায় ওই সব অ্যান্টিবডি আগামী দিনে কাজে দেবে।

এ ধরনের চিকিৎসাপদ্ধতিকে ব্যাকটেরিওথেরাপি বলা হয়। এর মাধ্যমে উপকারী ব্যাকটেরিয়া ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এ পদ্ধতিতে অসুখ সারাতে বিজ্ঞানীরা তাদের গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সাম্প্রতিক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা ইঁদুরে থাকা মেথিসিলিন রেসিস্ট্যান্ট স্ট্যাফিলোকোক্কাস সিউডিনটেরমিডিয়াস বা এমআরএসপি প্যাথোজেনের বিরুদ্ধে বিড়ালের ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করেন।

গৃহপালিত প্রাণীর মধ্যে এমআরএসপি প্রায়ই পাওয়া যায়। তারা অসুস্থ বা আহত হলে এই ব্যাকটেরিয়া বিপুলসংখ্যায় বংশ বৃদ্ধি করে।

গবেষণার ফলে জানা যায়, বিড়ালে পাওয়া উপকারী ব্যাকটেরিয়া এমআরএসপির বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

শুধু ইঁদুরের ক্ষেত্রেই নয়, মানবদেহেও এই ব্যাকটেরিয়া জীবাণুর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া স্যান দিয়েগোর চিকিৎসাবিজ্ঞানী রিচার্ড গ্যালো বলেন, ‘স্বাস্থ্যবান বিড়ালের সঙ্গে বসবাস করলে এমআরএসপির বিরুদ্ধে মানবদেহ কিছুটা সুরক্ষা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

কুকুর, বিড়াল, মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীদেহে একজিমার জন্য এমআরএসপিকে অনেকাংশে দায়ী করা হয়। এ রোগে সাধারণ অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ কাজ করে না। এটির চিকিৎসাও জটিল।

কুকুর ও বিড়ালে পাওয়া বেশ কয়েকটি ব্যাকটেরিয়া ল্যাবে এমআরএসপির সঙ্গে একসঙ্গে বাড়তে দেন গবেষণা দলটি। এর মাধ্যমে সহজে স্ট্যাফিলোকোক্কাস ফেলিস নামের একটি স্ট্রেইন শনাক্ত করতে পারেন গবেষকরা, যা এমআরএসপির বৃদ্ধি বন্ধ করে দেয়।

বিজ্ঞানীদের ধারণা, এমআরএসপি কোষের দেয়াল ভাঙতে প্রাকৃতিকভাবে স্ট্যাফিলোকোক্কাস ফেলিস উৎপাদিত অ্যান্টিবায়োটিকই যথেষ্ট।

চিকিৎসাবিজ্ঞানী গ্যালো বলেন, ‘স্ট্যাফিলোকোক্কাস ফেলিস প্রজাতির ব্যাকটেরিয়ার কার্যকারিতা অনেক বেশি। এটি প্যাথোজেন মেরে ফেলতে খুবই সক্ষম। কারণ এটি এমআরএসপি কোষকে বিভিন্ন দিক থেকে আক্রমণ করে।’

আরও পড়ুন:
তারুণ্যের ৬১ শতাংশই ভুগছে বিষণ্নতায়
বিষণ্নতা কমাতে এক ঘণ্টা আগে উঠুন

শেয়ার করুন

নথি ফাঁস: জলবায়ু প্রতিবেদন পরিবর্তনে চলছে লবিং

নথি ফাঁস: জলবায়ু প্রতিবেদন পরিবর্তনে চলছে লবিং

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় এখনই জরুরি পদক্ষেপ নিতে রাজি নয় ক্ষমতাধর দেশগুলো। ছবি: এএফপি

ফাঁস হওয়া নথিতে বলা হয়, জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার থেকে এখনই সরে আসার প্রয়োজন দেখছে না বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ ও সংস্থা।

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক প্রতিবেদন পরিবর্তনে বিভিন্ন দেশ কীভাবে চেষ্টা করছে, তা সম্প্রতি বিপুলসংখ্যক নথি ফাঁসের মাধ্যমে জানা গেছে। এতে বলা হচ্ছে, ওই প্রতিবেদন পরিবর্তনের জন্য শিল্পোন্নত দেশগুলো লবিং করছে।

বিবিসির হাতে ওই সব নথি আসে।

ফাঁস হওয়া নথি বলছে, জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার থেকে দ্রুত সরে আসার জাতিসংঘের পরামর্শ মানতে রাজি নয় সৌদি আরব, জাপান, অস্ট্রেলিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশ।

এ ছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকতে দরিদ্র দেশগুলোকে অর্থসহায়তা দেয়ার বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছে কয়েকটি ধনী দেশ।

পাশাপাশি নভেম্বরে অনুষ্ঠিত কপ২৬ জলবায়ু সম্মেলন নিয়েও প্রশ্ন তোলে ধনী দেশগুলো।

জলবায়ু পরিবর্তন রোধে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিতে ও বৈশ্বিক উষ্ণতা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখতে আসন্ন জলবায়ু সম্মেলনে শক্তিশালী দেশগুলোকে অঙ্গীকার করতে বলবে জাতিসংঘ।

আন্তর্জাতিক সংস্থাটি যাতে সম্মেলনে এ বিষয়ে নমনীয় অবস্থান নেয়, তার জন্য লবিং চলছে বলে ফাঁস হওয়া নথিতে উঠে আসে।

জলবায়ু পরিবর্তন রোধের লক্ষ্যে পর্যালোচনার ভিত্তিতে জাতিসংঘের একদল বিজ্ঞানী ওই প্রতিবেদন তৈরি করেন। সেই দলের কাছে বিভিন্ন দেশের সরকার, কোম্পানিসহ অন্যান্য স্বার্থসংশ্লিষ্ট গ্রুপ ৩২ হাজারের বেশি সুপারিশ জমা দেয় বলে জানতে পারে বিবিসি।

প্রতি ছয় থেকে সাত বছর পর পর জাতিসংঘের সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি) পর্যালোচনা প্রতিবেদন হাজির করে।

বৈজ্ঞানিক ওই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে জলবায়ু পরিবর্তন রোধে কী কী ব্যবস্থা নেয়া হবে, সে বিষয়ে বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের মধ্যে আলোচনা হয়।

ফাঁস হওয়া নথিতে বলা হয়, জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার থেকে এখনই সরে আসার প্রয়োজন দেখছে না বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ ও সংস্থা।

বৈশ্বিক উষ্ণতা কমাতে দীর্ঘদিন ধরে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার বন্ধ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের দাবি জানিয়ে আসছে অধিকার সংগঠনসহ আরও অনেকে।

সৌদি আরবের তেল মন্ত্রণালয়ের এক উপদেষ্টা চান, বৈজ্ঞানিক ওই প্রতিবেদনে উল্লেখিত জীবাশ্ম জ্বালানির বিষয়ে ‘জরুরি পদক্ষেপ নেয়ার’ অংশ যেন প্রতিবেদনটি থেকে বাদ দেয়া হয়।

এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার জ্যেষ্ঠ এক সরকারি কর্মকর্তা প্রতিবেদনটির সিদ্ধান্ত নাকচ করেন। এতে বলা রয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তন রোধে কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করে দেয়া জরুরি। কয়লার ব্যবহার বন্ধ অবশ্য কপ২৬ সম্মেলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিপাদ্য।

সৌদি আরব বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের প্রধান কয়লা রপ্তানিকারক দেশ।

জ্বালানি খাতে কার্বন ডাই-অক্সাইডের নির্গমন কমানোর বিষয়ে প্রতিবেদনের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে জাতিসংঘের বিজ্ঞানীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে সৌদি আরব।

এদিকে আইপিসিসির পক্ষ থেকে বিবিসিকে বলা হয়, লবিংয়ের কোনো প্রভাব যাতে প্রতিবেদনে না পড়ে, সে বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়।

যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অফ ইস্ট অ্যাঙ্গলিয়ার অধ্যাপক ও জলবায়ু বিজ্ঞানী করিনে লা কুয়েরে বলেন, আইপিসিসির প্রতিবেদনের নিরপেক্ষতা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন দেশের অনুরোধ রাখার বিষয়ে আমরা চাপ বোধ করি না। লবিং করা অবৈজ্ঞানিক কোনো কিছু আইপিসিসির প্রতিবেদনে যুক্ত করা হয় না।’

আরও পড়ুন:
তারুণ্যের ৬১ শতাংশই ভুগছে বিষণ্নতায়
বিষণ্নতা কমাতে এক ঘণ্টা আগে উঠুন

শেয়ার করুন

মানুষের দেহে শূকরের কিডনির সফল প্রতিস্থাপন

মানুষের দেহে শূকরের কিডনির সফল প্রতিস্থাপন

নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালে ৫৪ ঘণ্টার অস্ত্রোপচার শেষে মানবদেহে শূকরের কিডনি প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। ছবি: রয়টার্স

কিডনি কতটা কার্যক্ষম, তা পরিমাপ করা হয় মানবদেহে ক্রিয়েটিনিন নামক এক ধরনের রাসায়নিকের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে। ক্রিয়েটিনিনের অস্বাভাবিক উপস্থিতির অর্থ হলো- কিডনি ঠিকভাবে কাজ করছে না। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শূকরের কিডনি গ্রহণের আগে রোগীর দেহে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা অস্বাভাবিক ছিল, নতুন কিডনি গ্রহণের পর যা স্বাভাবিক হয়েছে।

প্রথমবারের মতো কোনো মানুষের দেহে একটি শূকরের কিডনি বা বৃক্ক সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটি যুগান্তকারী সাফল্য বলে মনে করা হচ্ছে।

কিডনি প্রতিস্থাপনের পর গ্রহীতার দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তাৎক্ষণিকভাবে সেটি প্রত্যাখ্যান করেনি। অর্থাৎ কোনো ধরনের নেতিবাচক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরি হয়নি রোগীর দেহে।

আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে মানবদেহে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের প্রযুক্তি বিদ্যমান হলেও প্রতিস্থাপনযোগ্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের পর্যাপ্ততা নেই। ফলে মানুষের দেহ শূকরের কিডনি গ্রহণ করলে তা প্রতিস্থাপনযোগ্য অঙ্গের ঘাটতি মেটাতে সাহায্য করবে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোন হেলথে ৫৪ ঘণ্টার অস্ত্রোপচার শেষে কিডনি প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছে।

প্রতিস্থাপিত কিডনিটি যেন রোগীর দেহ প্রত্যাখ্যান না করে, তা নিশ্চিতে জিন পরিবর্তিত একটি শূকরকে ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে ওই কিডনির ট্যিসুতে তাৎক্ষণিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টিকারী ক্ষুদ্র জীবাণুর উপস্থিতি ছিল না।

শূকরের কিডনিগ্রহীতা একজন ‘ব্রেন-ডেড’ রোগী, অর্থাৎ যার মস্তিষ্ক কার্যক্ষমতা হারিয়েছে। তিনি একজন নারী, ছিলেন লাইফ সাপোর্টে। সম্প্রতি তার কিডনিও বিকল হতে বসে।

গবেষকরা জানান, লাইফ সাপোর্ট খুলে নেয়ার আগে ওই নারীর দেহে পরীক্ষামূলকভাবে শূকরের কিডনি প্রতিস্থাপনের অনুমতি দেয় তার পরিবার।

প্রধান গবেষক ও অঙ্গ প্রতিস্থাপনকারী চিকিৎসক ড. রবার্ট মন্টোগোমারি জানান, টানা তিনদিন দেহের বাইরেই রোগীর রক্তনালীর সঙ্গে যুক্ত ছিল নতুন কিডনিটি। এ সময়ে কোনোরকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি এবং বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা কিডনির কার্যকারিতাও দৃশ্যত স্বাভাবিক ছিল। ফলে এরপর কিডনিটি ওই নারীর দেহে প্রবেশ করানোর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।

সদ্য কিডনি প্রতিস্থাপিত একজন মানুষের দেহে যতটুকু মূত্র তৈরি হয়, নতুন কিডনি সে প্রত্যাশার সঙ্গে মিল রেখেই কাজ করেছে।

কিডনি কতটা কার্যক্ষম, তা পরিমাপ করা হয় মানবদেহে ক্রিয়েটিনিন নামক এক ধরনের রাসায়নিকের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে। ক্রিয়েটিনিনের অস্বাভাবিক উপস্থিতির অর্থ হলো- কিডনি ঠিকভাবে কাজ করছে না।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শূকরের কিডনি গ্রহণের আগে রোগীর দেহে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা অস্বাভাবিক ছিল, নতুন কিডনি গ্রহণের পর যা স্বাভাবিক হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের অপেক্ষায় আছেন এক লাখ সাত হাজার মানুষ। এদের মধ্যে ৯০ হাজারের বেশি মানুষের দরকার কিডনি।

সংশ্লিষ্ট সংস্থা ইউনাইটেড নেটওয়ার্ক ফর অরগ্যান শেয়ারিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিস্থাপনযোগ্য কিডনির খোঁজ পেতে একেকজন রোগীকে গড়ে তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।

মানুষের দেহে অন্য প্রাণির অঙ্গ প্রতিস্থাপনের সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা চলছে কয়েক দশক ধরে। কিন্তু প্রতিবারই মানবদেহ অন্য প্রাণির অঙ্গ প্রত্যাখ্যান করেছে, অর্থাৎ গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।

আরও পড়ুন:
তারুণ্যের ৬১ শতাংশই ভুগছে বিষণ্নতায়
বিষণ্নতা কমাতে এক ঘণ্টা আগে উঠুন

শেয়ার করুন