মমতাই মুখ্যমন্ত্রী, ন্যাড়া হয়ে বিজেপি ছাড়ার ঘোষণা এমপির

মমতাই মুখ্যমন্ত্রী, ন্যাড়া হয়ে বিজেপি ছাড়ার ঘোষণা এমপির

মাথা ন্যাড়া করেন ত্রিপুরা বিজেপির এমপি অশীষ দাস। ছবি: এনডিটিভি

ত্রিপুরায় নিজ দল ও মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের সমালোচনা করায় অনেকবার সংবাদের শিরোনামে উঠে এসেছেন বিজেপি নেতা আশিস দাস। তিনি বলেন, ‘রাজ্যে আর বিজেপির এমন অরাজনৈতিক ও নৈরাজ্যবাদী আচরণ মেনে নেয়া যায় না। এর একটা বিহিত হওয়া দরকার। রাজ্যের মানুষ এমন শাসনে খুব ভীত, তারা এর থেকে মুক্ত চান।’

বিধানসভার নির্বাচনে ব্যাপক জয় নিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠন করে তৃণমূল। দলের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হন সরকারের মুখ্যমন্ত্রী। তবে নিজ আসনে হেরে যান মমতা।

তাই সংবিধান অনুযায়ী তাকে মুখ্যমন্ত্রী থাকতে হলে ছয় মাসের মধ্যে কোনো একটি আসনে জিততে হতো।

মুখ্যমন্ত্রীর পদ ধরে রাখার উপনির্বাচন ৩ অক্টোবর ভবানীপুর আসন থেকে বিশাল জয় পান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এনডিটিভির খবরে বলা হয়, মমতার জয়ে যখন নিশ্চিত তিনিই থাকছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী, ঠিক তখন পাশের রাজ্য ত্রিপুরার এক এমপি মাথা ন্যাড়া করে কলকাতার কালীঘাটে পূজায় বসেন।

ত্রিপুরা বিজেপির নেতা ও সেখানকার সুরমা আসনের এমপি আশিস দাস আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন, মমতা জিতে মুখ্যমন্ত্রী হলে তিনি মাথা ন্যাড়া করবেন, দেবেন কালীঘাটে পূজা। কলকাতার কালীঘাটেই বাড়ি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

কথামতো তা করেছেন আশিস দাস। সঙ্গে ঘোষণা দেন বিজেপি ছাড়ার। এর মূল কারণ হিসেবে তিনি বলছেন, ত্রিপুরায় সরকারের অপশাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতেই তার এই পদক্ষেপ।

বিজেপি ত্রিপুরায় ‘রাজনৈতিক নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা’ তৈরির জন্য দায়ী; এমন অবস্থায় ত্রিপুরার জনগণ খুশি নন বলে অভিযোগ তোলেন আশিস দাস। রাজ্য সরকার তার কাজ সঠিকভাবে করতে পারছে না বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।

অবশ্য অনেকেই বলছেন, ত্রিপুরায় ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নজর দিয়েছে তৃণমূল। সে জন্য দলও গোছাতে জোর দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দলটি। তাই এমপি আশিস দাস চাইছেন, বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিতে। আর সে কারণেই এমন আয়োজন।

ত্রিপুরায় নিজ দল ও মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের সমালোচনা করায় অনেকবার সংবাদের শিরোনামে উঠে এসেছেন বিজেপি নেতা আশিস দাস।

তিনি বলেন, ‘রাজ্যে আর বিজেপির এমন অরাজনৈতিক ও নৈরাজ্যবাদী আচরণ মেনে নেয়া যায় না। এর একটা বিহিত হওয়া দরকার। রাজ্যের মানুষ এমন শাসনে খুব ভীত, তারা এর থেকে মুক্ত চান।’

অবশ্য বিজেপি বলছে, তারা নিজ দল সম্পর্কে এমন মন্তব্য করার কারণ জানতে চাইবে আশিস দাসের কাছে। এমনকি শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে দলটি।

আরও পড়ুন:
ভবানীপুরের জয়ে মমতাকে অভিনন্দন বিজেপিবিরোধীদের
বিশাল জয়, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী থাকছেন মমতা
দ্বিতীয় রাউন্ড ভোট গণনা শেষে এগিয়ে মমতা
বাংলাকে ভাগ করতে চাইলে খেলা হবে: বিজেপিকে মমতা
টিকা নেয়ার প্রশংসাপত্রে মোদির নয় মমতার ছবি থাকবে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মিয়ানমার থেকে দলে দলে ভারতে হাজারো শরণার্থী

মিয়ানমার থেকে দলে দলে ভারতে হাজারো শরণার্থী

ভারতের মিজোরামে সীমান্তরক্ষীদের প্রহরা। ছবি: এএফপি

১৪টি গ্রামে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র ও ত্রাণ শিবির তৈরি করেছেন বাসিন্দারা। শরণার্থীদের খাদ্য ও পোশাক সরবরাহের পাশাপাশি আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে কয়েকটি বেসরকারি সাহায্য সংস্থা এবং প্রেসবাইটারিয়ান, ব্যাপটিস্ট ও রোমান ক্যাথলিক চার্চ কর্তৃপক্ষ।

মিয়ানমারের সংঘাতকবলিত শান প্রদেশ থেকে ভারতের মিজোরাম রাজ্যে ঢুকছে হাজারো শরণার্থী। মিজোরামের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত জেলাগুলোতে আশ্রয় নিচ্ছে তারা।

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, মিয়ানমারে সেনাবাহিনী ও বিদ্রোহীদের মধ্যে সহিংস সংঘাত অব্যাহত থাকায় ভারতে আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।

এক পুলিশ কর্মকর্তার রোববার দেয়া তথ্যের বরাত দিয়ে বলা হয়, মিজোরামের কয়েকটি অঞ্চলে বর্তমানে আশ্রয় নিয়ে আছে নারী ও শিশুসহ মিয়ানমারের কমপক্ষে ১৩ হাজার নাগরিক। এদের মধ্যে দেড় হাজারের বেশি মানুষের বিস্তারিত তথ্য এখনও নথিভুক্ত হওয়া বাকি।

প্রতিদিনই নতুন করে শরণার্থীদের প্রবেশ ঘটছে বলে এ সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। তার ওপর আন্তর্জাতিক সীমান্তে প্রবেশপথ ও বহির্গমন পথের কাছে ঠাঁই নেয়া কিছু মানুষ নিয়মিত ভারতে ঢুকছে, বের হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা, কমিউনিটি নেতা, বেসরকারি সাহায্য সংস্থা ও গির্জা কর্তৃপক্ষ মিয়ানমারের নাগরিকদের আশ্রয় ও খাবারের ব্যবস্থা করছে।

মিজোরাম পুলিশের তথ্য বিশ্লেষণ করে ভারতের সর্ববৃহৎ বার্তা সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, রাজ্যের ছয়টি সীমান্ত জেলা চাম্পাই, লওঙত্লাই, সিয়াহা, সেরছিপ, নাহথিয়াল ও সাইতুয়ালে ৯ হাজার ৪১১ শরণার্থীর থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মিজোরামের মোট ১১টি জেলায় মিয়ানমারের নাগরিকরা আশ্রয় নিয়েছেন। শুধু চাম্পাই জেলাতেই আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ৬ হাজার মানুষ, যা ১১টি জেলার মধ্যে সর্বোচ্চ। প্রাদেশিক রাজধানী আইজাওলে আশ্রয় নিয়েছেন এক হাজার ৬২২ জন।

ইয়াং মিজো অ্যাসোসিয়েশনের তুইপুইরাল শাখার সভাপতি এম সি লালরামেঙ্গা জানান, চাম্পাই জেলার ২১টি গ্রাম নিয়ে গঠিত তুইপুইরালে বর্তমানে মিয়ানমারের প্রায় ২ হাজার ৭০০ নাগরিক থাকছেন।

তিনি জানান, মিয়ানমারের শান প্রদেশ থেকে বিরামহীনভাবে মিজোরামে প্রবেশ করছেন শরণার্থীরা। ফসল কাটার মৌসুমে আশ্রয়প্রার্থীদের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

লালরামেঙ্গা বলেন, অঞ্চলটির ১৪টি গ্রামে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র ও ত্রাণ শিবির তৈরি করেছেন বাসিন্দারা। শরণার্থীদের খাদ্য ও পোশাক সরবরাহের পাশাপাশি আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে কয়েকটি বেসরকারি সাহায্য সংস্থা এবং প্রেসবাইটারিয়ান, ব্যাপটিস্ট ও রোমান ক্যাথলিক চার্চ কর্তৃপক্ষ।

সেন্ট্রাল ইয়াং মিজো অ্যাসোসিয়েশনের উপ-সভাপতি লালমাছুয়ানা জানান, শরণার্থীদের সহায়তা দিতে সংস্থাটি সম্প্রতি ভারতীয় মুদ্রায় ১৫ লাখ রুপি খরচ করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে এ অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল।

মিয়ানমারের সঙ্গে মিজোরামের আন্তর্জাতিক সীমানার দৈর্ঘ্য ৫১০ কিলোমিটার। ছয়টি সীমান্ত জেলায় গত ৭ সেপ্টেম্বর থেকে শরণার্থীরা প্রবেশ করতে শুরু করে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থান হয়। গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার ভেঙে দিয়ে ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনী। এরপর থেকেই দেশটি থেকে প্রতিবেশী ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় মিজোরামে প্রতিদিন কমবেশি শরণার্থীর প্রবেশ অব্যাহত আছে।

তবে শান প্রদেশে সেনাবাহিনীর সঙ্গে বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহীদের সংঘাতের মধ্যে সম্প্রতি মিজোরামে বানের পানির মতো আশ্রয়প্রার্থীদের ঢল শুরু হয়।

মিজোরামে আশ্রয় নেয়া মিয়ানমারের বেশির ভাগ নাগরিকই সংখ্যালঘু শান সম্প্রদায়ের সদস্য। মিজোরামের মিজো আদিবাসীদের সঙ্গে জাতিগতভাবে সম্পর্কিত শানরা।

আরও পড়ুন:
ভবানীপুরের জয়ে মমতাকে অভিনন্দন বিজেপিবিরোধীদের
বিশাল জয়, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী থাকছেন মমতা
দ্বিতীয় রাউন্ড ভোট গণনা শেষে এগিয়ে মমতা
বাংলাকে ভাগ করতে চাইলে খেলা হবে: বিজেপিকে মমতা
টিকা নেয়ার প্রশংসাপত্রে মোদির নয় মমতার ছবি থাকবে

শেয়ার করুন

কাবুলে বিদ্যুৎ লাইনে বিস্ফোরণের দায় নিল আইএস

কাবুলে বিদ্যুৎ লাইনে বিস্ফোরণের দায় নিল আইএস

বৃহস্পতিবার কাবুলে বৈদ্যুতিক লাইনে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় আইএস-কে। ছবি: এএফপি

আইএস-কে তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানায়, ‘কাবুলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত করতে খেলাফতের যোদ্ধারা সেখানে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়।’

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পুরো শহরকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করার দায় নিয়েছে নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের [(আইএস) আফগান শাখা আইএস-খোরাসান (আইএস-কে)]।

সশস্ত্র সংগঠনটি শুক্রবার বিস্ফোরণের দায় নেয় বলে বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

আইএস-কে তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানায়, ‘কাবুলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত করতে খেলাফতের যোদ্ধারা সেখানে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়।’

ওই বিস্ফোরণ উচ্চ-ভোল্টেজের একটি বিদ্যুৎ লাইনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। কাবুলসহ আফগানিস্তানের অন্য কয়েকটি প্রদেশে আমদানি করা বিদ্যুৎ সরবরাহ করে ওই লাইন।

আফগানিস্তানের বিদ্যুৎব্যবস্থা অনেকাংশে নির্ভরশীল আমদানি করা বিদ্যুতের ওপর।

মূলত উত্তরাঞ্চলীয় প্রতিবেশী দেশ তাজিকিস্তান ও উজবেকিস্তান থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করে দেশটি। এ কারণে মাঠে-ঘাটের বিদ্যুৎ লাইনে সহজে হামলা চালাতে পারে সন্ত্রাসীরা।

রাজধানী কাবুলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হওয়া দেশকে স্থিতিশীল রাখার তালেবানের প্রচেষ্টার ওপর আরও একটি আঘাত।

আন্তর্জাতিক সহায়তা ও স্বীকৃতি পেতে ক্ষমতা দখলের পর দুই মাসের বেশি সময় ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কট্টর ইসলামপন্থি গোষ্ঠীটি।

১৫ আগস্ট কাবুল পতনের মধ্য দিয়ে আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করে তালেবান। এরপর থেকে আফগানিস্তানজুড়ে বেশ কয়েকটি সহিংস হামলা চালিয়ে তালেবানকে উদ্বেগে ফেলেছে আইএস-কে।

গত শুক্রবার জুমার নামাজের সময় আফগানিস্তানের কান্দাহার শহরে এক শিয়া মসজিদে আইএস-কের বোমা হামলায় ৬০ জনের মৃত্যু হয়।

এর আগের শুক্রবার ৮ অক্টোবর দেশটির কুন্দুজ শহরে আরেক শিয়া মসজিদে নামাজরত মুসল্লিদের ওপর আত্মঘাতী বোমা হামলা চালায় আইএস-কে। ওই ঘটনায় অন্তত ৫০ মুসল্লির মৃত্যু ঘটে।

আরও পড়ুন:
ভবানীপুরের জয়ে মমতাকে অভিনন্দন বিজেপিবিরোধীদের
বিশাল জয়, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী থাকছেন মমতা
দ্বিতীয় রাউন্ড ভোট গণনা শেষে এগিয়ে মমতা
বাংলাকে ভাগ করতে চাইলে খেলা হবে: বিজেপিকে মমতা
টিকা নেয়ার প্রশংসাপত্রে মোদির নয় মমতার ছবি থাকবে

শেয়ার করুন

কঠিন সময়েও সেবাতেই নজর আফগান মিডওয়াইফদের

কঠিন সময়েও সেবাতেই নজর আফগান মিডওয়াইফদের

আফগানিস্তানের ময়দান শরে কমিউনিটি মিডওয়াইফারি এডুকেশন স্কুলের একটি ক্লাসে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা। ছবি: এএফপি

মিডওয়াইফারি কলেজের শিক্ষক শফিকা বিরোনি বলেন, ‘মানবতাবাদ ও দেশপ্রেমের জায়গা থেকে আমি আমার কাজ করে যাচ্ছি। তালেবান সরকারের কাছে আমাদের দাবি, নারী-শিশুদের সহায়তা করতে আমাদের যেন নিরাপদে কাজ করতে দেয়া হয়।’

বিদেশি সেনারা আফগানিস্তান ছাড়ার শেষ সময়ে দেশটির বিস্তীর্ণ অঞ্চল নিজেদের দখলে নিতে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় তালেবান।

চলতি বছরের এপ্রিলে শুরু হওয়া ওই সংঘর্ষে অনেক প্রাণহানি হয়। ভেঙে পড়ে বেশ কয়েকটি স্থাপনা।

আফগানিস্তানের একটি মিডওয়াইফারি কলেজের শিক্ষকদের কার্যালয়ও বুলেটের আঘাতে ঝাঁঝরা হয়। তাদের শেষ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বোমায় উড়ে যায়।

তা সত্ত্বেও দেশটির গ্রামাঞ্চলে সন্তানসম্ভবা নারী ও নবজাতক শিশুদের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন ওই শিক্ষকরা। কঠিন পরিবেশেও শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিচ্ছেন তারা।

১৫ আগস্ট কাবুল পতনের মধ্য দিয়ে আফগানিস্তানের ক্ষমতা তালেবানের দখলে যায়। এর কয়েক সপ্তাহ পর দেশটিতে নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করে কট্টর ইসলামপন্থি গোষ্ঠীটি।

নতুন সরকারের কাছে ওই মিডওয়াইফারি কলেজের শিক্ষকদের একটাই চাওয়া, তাদের যেন নিরাপদে কাজ করতে দেয়া হয়।

কলেজটির ৫২ বছর বয়সী শিক্ষক শফিকা বিরোনি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘মানবতাবাদ ও দেশপ্রেমের জায়গা থেকে আমি আমার কাজ করে যাচ্ছি।

‘সমাজের সবচেয়ে নিপীড়িত অংশ নারী ও শিশুদের সেবার প্রয়োজন রয়েছে বলে আমি মনে করি।

‘তালেবান সরকারের কাছে আমাদের দাবি, নারী-শিশুদের সহায়তা করতে আমাদের যেন নিরাপদে কাজ করতে দেয়া হয়।’

আফগানিস্তানের ওয়ারদাক প্রদেশের রাজধানী ময়দান শরে অবস্থিত ওই কলেজের নাম কমিউনিটি মিডওয়াইফারি এডুকেশন স্কুল। এতে ২৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। আগামী বছরের মে মাসে তাদের স্নাতক শেষ হবে।

তালেবান ও আফগানিস্তানের সাবেক সরকারের নিরাপত্তা বাহিনীর সংষর্ষ স্মরণ করে কলেজটির কোর্স ডিরেক্টর খাতুল ফজলি বলেন, ‘ওই সময় প্রতিদিনই এখানে যুদ্ধ হতো। কঠিন সময় পার করেছি আমরা।’

আফগানিস্তানের মিডওয়াইফারি কলেজ কীভাবে চলবে এসংক্রান্ত কোনো নির্দেশনা এখনও তালেবান সরকার দেয়নি।

অন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের মতো আফগানিস্তানজুড়ে মিডওয়াইফদের সম্প্রতি সবচেয়ে বড় যে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে তা হলো, দেশটির ব্যাংকিংব্যবস্থা কাজ না করায় চার মাস ধরে তারা তাদের বেতন পাচ্ছেন না।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সহায়তা সংস্থার সহযোগিতায় গত ১৫ বছরে ময়দান শরসহ আফগানিস্তানের বিভিন্ন শহরে স্বাস্থ্যসেবা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। তার পরও দেশটির শিশু মৃত্যুহার বিশ্বে অন্যতম সর্বোচ্চ।

এ ছাড়া আফগানিস্তানে প্রতিবছর হাজার হাজার নারী প্রসবকালীন জটিলতায় মারা যায়।

আরও পড়ুন:
ভবানীপুরের জয়ে মমতাকে অভিনন্দন বিজেপিবিরোধীদের
বিশাল জয়, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী থাকছেন মমতা
দ্বিতীয় রাউন্ড ভোট গণনা শেষে এগিয়ে মমতা
বাংলাকে ভাগ করতে চাইলে খেলা হবে: বিজেপিকে মমতা
টিকা নেয়ার প্রশংসাপত্রে মোদির নয় মমতার ছবি থাকবে

শেয়ার করুন

ত্রিপুরায় তৃণমূল নেত্রীর ওপর হামলা, বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ

ত্রিপুরায় তৃণমূল নেত্রীর ওপর হামলা, বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ

'দিদির দূত' লেখা এ গাড়িতে বিজেপি কর্মীরা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ তৃণমূলের। ছবি: টাইমস অফ ইন্ডিয়া

ঘটনার প্রতিবাদে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় টুইট করে বলেন, ‘বিপ্লব দেবের নেতৃত্বে বিরোধীদের ওপর আক্রমণের রেকর্ড তৈরি হয়েছে। বিজেপির গুন্ডারা একজন নারী সংসদ সদস্যকে যেভাবে হেনস্তা করেছে, তা লজ্জার এবং রাজনৈতিক সন্ত্রাসের শামিল। সময় এসেছে, ত্রিপুরার মানুষ এর জবাব দেবে।’

অসিত পুরকায়স্থ, কলকাতা

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে স্থানীয় ভোটের আগে রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। ত্রিপুরা সফররত পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী সুস্মিতা দেব হামলার শিকার হয়েছেন।

পশ্চিমবঙ্গে চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর দেশের অন্যান্য রাজ্যে দল সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয় তৃণমূল কংগ্রেস। এরই অংশ হিসেবে ত্রিপুরায় সফর করছেন রাজ্যসভা সদস্য সুস্মিতা।

সুস্মিতার জনসংযোগ কর্মসূচি চলাকালীন শুক্রবার ‘দিদির দূত’ লেখা গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি ব্যাগ ছিনতাই ও মোবাইল ভেঙে দেওয়ারও অভিযোগ করেছেন সুস্মিতা।

এ ঘটনায় অভিযোগের তীর ভারতের কেন্দ্রীয় ক্ষমতাসীন দল বিজেপির দিকে।

সাংবাদিকদের সুস্মিতা বলেন, ‘আক্রমণকারীরা সবাই বিজেপি কর্মী। কেউ মাস্ক পরা ছিল না।’

‘দিদির দূত’ লেখা গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে প্রকাশ করেছে ত্রিপুরা তৃণমূল কংগ্রেস।

ঘটনার প্রতিবাদে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় টুইট করে বলেন, ‘বিপ্লব দেবের নেতৃত্বে বিরোধীদের ওপর আক্রমণের রেকর্ড তৈরি হয়েছে।

‘বিজেপির গুন্ডারা একজন নারী সংসদ সদস্যকে যেভাবে হেনস্তা করেছে, তা লজ্জার এবং রাজনৈতিক সন্ত্রাসের শামিল।’

তিনি আরও লেখেন, ‘সময় এসেছে, ত্রিপুরার মানুষ এর জবাব দেবে।’

প্রতিক্রিয়ায় হামলার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন বিজেপি মুখপাত্র অস্মিতা বণিক। তিনি বলেন, ‘অন্য দলের ওপর আক্রমণের সময় আমাদের নেই। ত্রিপুরায় গণতন্ত্র বিদ্যমান। তৃণমূল ছাড়া অনেক বিরোধী দল আছে। তারা নিজেদের কর্মসূচি স্বাভাবিকভাবেই চালিয়ে যাচ্ছে।’

ত্রিপুরার আসন্ন পৌরভোটে জিততে তৃণমূল কংগ্রেস বৃহস্পতিবার থেকে রাজ্যটিতে ‘দিদির দূত’ জনসংযোগ কর্মসূচিতে নেমেছে। প্রায় দুই সপ্তাহ এ কর্মসূচি চলবে। প্রচারের জন্য ‘দিদির দূত’ লেখা তৃণমূলের বেশ কিছু গাড়ি সেখানে পৌঁছে গেছে।

ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায় সুস্মিতা দেব বলেন, “‘ত্রিপুরার জন্য তৃণমূল’- এই স্লোগানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দর্শন মানুষের সামনে তুলে ধরছি। ত্রিপুরার ৫৮টি ব্লক ও ১৬টি পৌর এলাকায় হবে আমাদের জনসংযোগ যাত্রা।”

এদিকে, আজই মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের রাজ্যটিতে পৌরসভা ভোটের তারিখ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।

আগামী ২৫ নভেম্বর হবে ভোট। বিজ্ঞপ্তি জারি হবে ২৭ অক্টোবর। মনোনয়ন জমা দেয়ার শেষ দিন ৩ নভেম্বর। ৪ ডিসেম্বরের মধ্যে ফল ঘোষণাসহ ভোটের প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে বলে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ভবানীপুরের জয়ে মমতাকে অভিনন্দন বিজেপিবিরোধীদের
বিশাল জয়, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী থাকছেন মমতা
দ্বিতীয় রাউন্ড ভোট গণনা শেষে এগিয়ে মমতা
বাংলাকে ভাগ করতে চাইলে খেলা হবে: বিজেপিকে মমতা
টিকা নেয়ার প্রশংসাপত্রে মোদির নয় মমতার ছবি থাকবে

শেয়ার করুন

৯ মাসে চীন-ভারতের বাণিজ্য বেড়েছে ৪৯ শতাংশ

৯ মাসে চীন-ভারতের বাণিজ্য বেড়েছে ৪৯ শতাংশ

এ প্রসঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলার দেয়া তথ্য ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভাষণের একটি অংশ তুলে ধরে বিরোধীরা সরকারকে দুমুখো বলে মন্তব্য করেছে।

চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে, চীনের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ৯০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এ হিসেবে গত বছরের তুলনায় দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বেড়েছে প্রায় ৪৯ শতাংশ।

বৃহস্পতিবার ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা এই তথ্য জানিয়েছেন। যদিও দুই দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ভারসাম্যের বড় অংশই চীনের দিকে ঝুঁকে রয়েছে। এ অবস্থায় ভারত চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর জন্য প্রয়াস চালিয়ে যেতে থাকবে বলে জানিয়েছেন শ্রিংলা।

তিনি বলেছেন, ‘এই হারে, আমরা সম্ভবত দুই দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য অর্জন করতে পারি।’

এর আগে দুই দেশের মধ্যে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৮৮ বিলিয়ন ডলার।

এদিকে, হর্ষবর্ধন শ্রিংলার দেয়া তথ্য ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভাষণের একটি অংশ তুলে ধরে বিরোধীরা সরকারকে দুমুখো বলে মন্তব্য করেছে।

শুক্রবার জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে মোদি বলেছিলেন, ‘প্রতিটি ছোট জিনিস কেনার উপর জোর দেওয়া উচিত, যা মেড ইন ইন্ডিয়া। যা কোনো এক ভারতীয় তৈরি করতে মাথা ঘামায়। আর এটা সম্ভব হবে শুধুমাত্র সবার প্রচেষ্টায়।’

শ্রিংলার তথ্য আর প্রধানমন্ত্রীর শ্লোগান সরকারের ‘জুমলা’ ও ‘দ্বিচারিতা’ বলে চিহ্নিত করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী।

তিনি বলেছেন, ‘লাদাখে সামরিক হানাহানি এবং চীনা পণ্য বর্জন করার আহ্বানের পাশাপাশি চীনা আমদানির উপর নির্ভরতা কমাতে সরকারের প্রচেষ্টার পরও বাণিজ্যে ঘাটতি বৃদ্ধি পেয়েছে। এটা সরকারের নিয়মিত দ্বিচারিতা ছাড়া আর কী?’

চীনের সঙ্গে বর্ধিত বাণিজ্য ছাড়াও দেশে ১০০ কোটি করোনা ভ্যাকসিনের ডোজ দেয়া নিয়েও কেন্দ্রীয় সরকারকে কটাক্ষ করেছে কংগ্রেস।

এক টুইটে দলটির পক্ষ থেকে একটি ছবি শেয়ার করা হয়েছে। যেখানে দেখা গেছে, সারা বিশ্বে ৩৭ শতাংশ মানুষ করোনা টিকার দুটি ডোজই নিয়েছেন। একই সময়ে, ভারতে মাত্র ২১ শতাংশ মানুষ করোনার ডোজ পেয়েছেন।

কংগ্রেস লিখেছে, ‘এটা সরকারের মিথ্যাচারের আরেকটা নমুনা।’

আরও পড়ুন:
ভবানীপুরের জয়ে মমতাকে অভিনন্দন বিজেপিবিরোধীদের
বিশাল জয়, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী থাকছেন মমতা
দ্বিতীয় রাউন্ড ভোট গণনা শেষে এগিয়ে মমতা
বাংলাকে ভাগ করতে চাইলে খেলা হবে: বিজেপিকে মমতা
টিকা নেয়ার প্রশংসাপত্রে মোদির নয় মমতার ছবি থাকবে

শেয়ার করুন

মিয়ানমারে সাধারণ ক্ষমায় মুক্ত বন্দিরা ফের গ্রেপ্তার

মিয়ানমারে সাধারণ ক্ষমায় মুক্ত বন্দিরা ফের গ্রেপ্তার

মিয়ানমারের বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুনের রাস্তায় শুক্রবার পুলিশের সশস্ত্র টহল। ছবি: এএফপি

সমালোচকরা বলছেন, মূলত আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে চাপ এড়াতে কৌশলী হয়েছিল মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। কৌশলের অংশ হিসেবেই বহির্বিশ্বের চোখে ধুলো দিতে সাধারণ ক্ষমার আওতায় বন্দিদের মুক্তি দেয়া আর বিরোধীদের আলোচনার প্রলোভন দেখিয়েছে সামরিক জান্তা।

মুক্তি পেতে না পেতেই মিয়ানমারে শতাধিক সেনা অভ্যুত্থানবিরোধীকে গ্রেপ্তার করেছে জান্তা সরকার। কয়েক মাস কারাবন্দি থাকার পর চলতি সপ্তাহে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে মুক্তি দেয়া হয়েছিল তাদের।

মিয়ানমারে ক্ষমতাসীন সেনাবাহিনী গত সোমবার এক ঘোষণায় জানায়, দেশের ঐতিহ্যবাহী থাডিংইয়ুৎ ফেস্টিভ্যাল বা আলোকোৎসবের সময় পাঁচ হাজার ৬৩৬ বন্দিকে মুক্তি দেয়া হবে।

এ ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় বিভিন্ন কারাগারে ছুটে গিয়েছিলেন বন্দিদের পরিবারের সদস্যরা। বহুদিন পর প্রিয় স্বজনের সঙ্গে দেখা করে তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে নেয়ার প্রত্যাশায় কারাগারের প্রবেশপথগুলোতে ভিড় করেছিলেন হাজারো মানুষ।

বার্মিজ চন্দ্র বর্ষপঞ্জিতে সপ্তম মাস থাডিংইয়ুতের পূর্ণিমার দিন এবং আগের ও পরের দিন- মোট তিনদিন আলোকোৎসব উদযাপন করে মিয়ানমার। এ বছর ১৯ থেকে ২১ অক্টোবর উদযাপিত হয় উৎসবটি। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী এ সময়ের মধ্যেই বন্দিদের মুক্তি দেয়া হয়।

কিন্তু টার্কিশ রেডিও অ্যান্ড টেলিভিশনের (টিআরটি) প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশজুড়ে কত বন্দি শেষ পর্যন্ত মুক্তি পেয়েছেন, সে সংখ্যা যাচাই করা কঠিন। অনেকেই মুক্তি পেয়েছেন ভবিষ্যতে আর সেনাবাহিনীর বিরোধিতা না করার শর্তে স্বাক্ষর করার পর।

মিয়ানমারের মানবাধিকার পর্যবেক্ষক সংস্থা অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স (এএপিপি) জানিয়েছে, সাধারণ ক্ষমায় মুক্তিপ্রাপ্ত কমপক্ষে ১১০ জনকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এক বিবৃতিতে বৃহস্পতিবার এএপিপি জানায়, ‘কয়েকজন বাড়িতে ফিরতে না ফিরতেই তাদের আবার কারাগারে ফেরত নিয়ে যাওয়া হয়।

‘অন্য কয়েকজনকে বলা হয়েছিল যে মুক্তিপ্রাপ্তদের তালিকায় তাদের নাম আছে। এ কথা বলে তাদের কারাগারের প্রবেশপথে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর সেখান থেকেই আবার তাদের জেলে নিয়ে যাওয়া হয় এবং কারণ হিসেবে নতুন কিছু অভিযোগ গঠনের কথা বলা হয়।’

চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারির সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকেই অরাজক পরিস্থিতি চলছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মিয়ানমারে। গণতান্ত্রিক সরকারকে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেয়ার দাবিতে হওয়া বিক্ষোভ দমনে শক্তি প্রয়োগ করে সেনাবাহিনী, যাতে নিহত হয় প্রায় এক হাজার ২০০ জন বেসামরিক মানুষ।

এএপিপির ওয়েবসাইটে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অবস্থান করায় ফেব্রুয়ারি থেকে প্রায় নয় হাজার বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গত সপ্তাহে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১০ দেশের জোট আসিয়ান মিয়ানমারের সেনাপ্রধানকে বাদ দিয়েই শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়। এরপরই থাডিংইয়ুৎ উৎসবের তিনদিন জুড়ে হাজারো বন্দিকে মুক্তির ঘোষণা দেন মিন অং হ্লাইং।

মিয়ানমারের রাজনীতিতে রক্তক্ষয়ী অচলাবস্থা নিয়ন্ত্রণের প্রতিশ্রুতি পালনে ব্যর্থতার অভিযোগে জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেয় আঞ্চলিক জোটটি।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাউন্সিলর ডেরেক শলেট বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের কাছে আসিয়ানের বিরল এ পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। আঞ্চলিক বিভিন্ন সংকটে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থতার অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরেই নখদন্তহীন হিসেবে আখ্যায়িত হয়ে আসছে আসিয়ান।

মিয়ানমারের জান্তা সরকারের ওপর চাপ বাড়ানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের সঙ্গে আলোচনায় অঞ্চলটিতে সফর করছেন শলেট।

গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশের শাসনব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রণ নেয়ার প্রায় নয় মাস পর এখন সবচেয়ে চাপে রয়েছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।

সমালোচকরা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে মূলত আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে চাপ এড়াতে কৌশলী হয়েছিল মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। কৌশলের অংশ হিসেবেই বহির্বিশ্বের চোখে ধুলো দিতে সাধারণ ক্ষমার আওতায় বন্দিদের মুক্তি দেয়া আর বিরোধীদের আলোচনার প্রলোভন দেখিয়েছে সামরিক জান্তা।

চলতি বছরের জুন-জুলাই মাসে মিয়ানমারের বিভিন্ন কারাগার থেকে দুই হাজার বিক্ষোভকারীকে মুক্তি দেয়া হয়। মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে সামরিক সরকারের সমালোচক অনেক সংবাদকর্মীও ছিলেন।

এএপিপির তথ্য অনুযায়ী, এখনও মিয়ানমারের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি প্রায় সাড়ে সাত হাজার বিক্ষোভকারী। তাদের মধ্যে আছেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এক সাংবাদিক ড্যানি ফেনস্টারও। গত ২৪ মে থেকে কারাবন্দি তিনি।

আরও পড়ুন:
ভবানীপুরের জয়ে মমতাকে অভিনন্দন বিজেপিবিরোধীদের
বিশাল জয়, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী থাকছেন মমতা
দ্বিতীয় রাউন্ড ভোট গণনা শেষে এগিয়ে মমতা
বাংলাকে ভাগ করতে চাইলে খেলা হবে: বিজেপিকে মমতা
টিকা নেয়ার প্রশংসাপত্রে মোদির নয় মমতার ছবি থাকবে

শেয়ার করুন

চীন-ভারত উত্তেজনা: স্বামীর টুইটে ফের ‘বিড়ম্বনায়’ বিজেপি

চীন-ভারত উত্তেজনা: স্বামীর টুইটে ফের ‘বিড়ম্বনায়’ বিজেপি

চীনের আগ্রাসী তৎপরতায় ভারত সরকারের অবস্থান নিয়ে শুক্রবার সমালোচনা করেন বিজেপির সাংসদ সুব্রহ্মণ্যম স্বামী। ছবি: ইকোনমিক টাইমস

শুক্রবার টুইটবার্তায় বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ সুব্রহ্মণ্যম স্বামী বলেন, ‘চীন ভারতের ওপর আক্রমণাত্মক। সুন্দর পোশাকে সজ্জিত সম্রাটের দিকে তাকিয়ে আছি আমরা।’

চীন ও পাকিস্তান প্রসঙ্গে বিভিন্ন সময়ে নিজের ক্ষমতাসীন দলের সরকারকে বিড়ম্বনায় ফেলেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ সুব্রামানিয়াম স্বামী।

শুক্রবার ফের কারও নাম না নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকারকে নিশানা করেছেন তিনি।

টুইটবার্তায় সুব্রামানিয়াম স্বামী বলেন, ‘চীন ভারতের ওপর আক্রমণাত্মক। সুন্দর পোশাকে সজ্জিত সম্রাটের দিকে তাকিয়ে আছি আমরা।’

সুব্রামানিয়াম স্বামী টাইমস অফ ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত এক নিবন্ধ একই সঙ্গে টুইট করেন।

ওই নিবন্ধে চীনে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, ভারত ও তার প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে আগ্রাসী চীন।

এ ছাড়া টুইটারে আলোচিত লেখক হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসন রচিত ‘সম্রাটের নতুন পোশাক’ গল্পের একটি অংশ শেয়ার করে লেখেন, ‘আমরা ভারতীয়রা আজ সেই জনসাধারণের মতো ভণ্ড, যারা সুন্দর পোশাকে সম্রাটকে দেখে, যতক্ষণ না সেই ছোট্ট ছেলেটি সত্য কথা বলে।’

গল্পে আছে, সবাই দেখে রাজা উলঙ্গ, তবুও সবাই হাততালি দিচ্ছে। সবাই চেঁচিয়ে বলছে, ‘শাবাশ, শাবাশ!’

তবে সত্যবাদী, সরল ও সাহসী এক শিশু রাজাকে দেখে স্বতঃস্ফূর্তভাবে চেঁচিয়ে বলে- ‘রাজা ন্যাংটা! রাজা ন্যাংটা!’

এর আগে চীন ও ভারতের বৈঠকের বিষয়ে সুব্রামানিয়াম স্বামী বলেছিলেন, ‘যখন কেউ সীমানা লঙ্ঘন করেনি তখন বৈঠক কেন?

‘১৮ বার দুই দেশের মুখোমুখি বৈঠক এবং পাঁচবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির চীন সফরের পরও কিছুই অর্জন হয়নি। আমরা কি এখনও চীনের সঙ্গে কথা বলার জন্য অনুরোধের ভঙ্গিমায় আছি?’

তিনি বলেছিলেন, ‘যারা অত্যাচারী, তারা শক্তিশালীদের সামনে ভদ্র আচরণ করে। তবে দুর্বলের সঙ্গে তাদের আচরণ অসভ্য।’

সুব্রামানিয়াম স্বামী প্রধানমন্ত্রী মোদির সেই বক্তব্যের কথা উল্লেখ করেন যেখানে তিনি বলেছিলেন, ‘কেউই আমাদের সীমান্তে প্রবেশ করেনি বা আমাদের কোনো সেনা পোস্ট অন্যের দখলে নেই।’

আরও পড়ুন:
ভবানীপুরের জয়ে মমতাকে অভিনন্দন বিজেপিবিরোধীদের
বিশাল জয়, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী থাকছেন মমতা
দ্বিতীয় রাউন্ড ভোট গণনা শেষে এগিয়ে মমতা
বাংলাকে ভাগ করতে চাইলে খেলা হবে: বিজেপিকে মমতা
টিকা নেয়ার প্রশংসাপত্রে মোদির নয় মমতার ছবি থাকবে

শেয়ার করুন