ফেসবুক কেবল মুনাফার পেছনেই ছোটে না: জাকারবার্গ

ফেসবুক কেবল মুনাফার পেছনেই ছোটে না: জাকারবার্গ

ফেসবুকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন প্ল্যাটফর্মটির সিইও মার্ক জাকারবার্গ। ছবি: সংগৃহীত

জাকারবার্গ বলেন, ‘ফেসবুক ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তার চেয়ে প্রতিষ্ঠানের মুনাফার দিকে আমাদের ঝোঁক বেশি থাকার অভিযোগ সত্য নয়। মানুষ খেপে যেতে পারে এমন কনটেন্ট আমরা ইচ্ছাকৃতভাবে বেশি রাখি আর এসব থেকে আমরা মুনাফা কামাই, এমন অভিযোগ সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক বিভক্তি সৃষ্টি, শিশুদের ক্ষতি, নিরাপত্তার চেয়ে মুনাফাকে বেশি অগ্রাধিকার দেয় বলে অভিযোগ তুলেছেন প্ল্যাটফর্মটির সাবেক এক কর্মকর্তা।

সিবিএসকে সোমবার দেয়া সাক্ষাৎকারে ফেসবুকের সাবেক প্রোডাক্ট ম্যানেজার ফ্রান্সেস হাউগেন গণতন্ত্র দুর্বল করাসহ প্ল্যাটফর্মটির বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ এনেছেন।

অবশ্য তার এসব অভিযোগ পরের দিনই প্রত্যাখ্যান করেছেন ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মার্ক জাকারবার্গ।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

জাকারবার্গ বলেন, ‘ফেসবুক ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তার চেয়ে প্রতিষ্ঠানের মুনাফার দিকে আমাদের ঝোঁক বেশি থাকার অভিযোগ সত্য নয়।

‘মানুষ খেপে যেতে পারে এমন কনটেন্ট আমরা ইচ্ছাকৃতভাবে বেশি রাখি আর এসব থেকে আমরা মুনাফা কামাই, এমন অভিযোগ সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।’

তিনি বলেন, ‘এমন কোনো প্রযুক্তি কোম্পানির কথা আমার জানা নেই যেটি মানুষকে রাগান্বিত বা বিষণ্ন করার মতো পণ্য তৈরি করার নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। ব্যবসা ও পণ্যের প্রণোদনার অবস্থান সব দিক থেকেই বিপরীতমুখী।’

সিক্সটি মিনিটস নামে সিবিএসের অনুষ্ঠানে হাউগেন বলেন, ‘আমরা এমন একটি তথ্যনির্ভর পরিবেশে আছি, যা ক্ষোভ, বিদ্বেষ এবং বিভেদের কনটেন্ট দিয়ে ভর্তি। এটি আপনার নাগরিক বিশ্বাসকে ক্ষয় করতে থাকে, একে অন্যের ওপর আস্থা নষ্ট করতে থাকে।

‘আমাদের একে অন্যের যত্ন নেয়ার ক্ষমতা কমাতে থাকে। ফেসবুকের যে সংস্করণটি এখন আছে সেটি আমাদের সমাজব্যবস্থাকে ছিঁড়ে ফেলছে। এটি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে জাতিগত সহিংসতার জন্ম দিচ্ছে।’

এ বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ‘ফেসবুক ফাইলস’ নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটির ফাঁস হওয়া বিভিন্ন নথি প্রতিবেদন আকারে প্রকাশ করে আসছিল ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। এই নথিগুলো কে সংগ্রহ করেছিলেন সেটি অজানা ছিল।

সিক্সটি মিনিটসের সাক্ষাৎকারের মাধ্যমেই ফেসবুকের নথি ফাঁসকারী হিসেবে নিজের পরিচয় প্রকাশ করেন ফ্রান্সেস হাউগেন।

যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচন চলার সময় ভুয়া তথ্যের প্রচার ঠেকাতে সাময়িকভাবে নিজস্ব নিরাপত্তাব্যবস্থা চালু রেখেছিল ফেসবুক।

হাউগেন বলেন, ‘নির্বাচন শেষ হওয়ার পরই তারা সেটি বন্ধ করে দিয়েছিল অথবা সেটিংস পাল্টে আগের অবস্থায় নিয়ে গিয়েছিল। এটি সত্যিকার অর্থেই গণতন্ত্রের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা মনে হয়েছে।’

হাউগেনের অভিযোগ মুনাফার জন্য নেতিবাচক উদ্দেশ্যে অ্যালগরিদম ঠিক করে ফেসবুক। প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের নিয়ে যে ইতিবাচক প্রচার চালায় তার সঙ্গে এটি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

ফেসবুক জানে, সবচেয়ে বেশি ট্রাফিক পাওয়া যায় বিদ্বেষমূলক কনটেন্টে। এমন কনটেন্টের ওপরেই ফেসবুকের বড় অংশের আয় নির্ভর করে।

তিনি বলেন, ‘আপনার হাতে যখন এমন ব্যবস্থা থাকবে যা রাগ দিয়ে হ্যাক করা যায়, আর প্রকাশকরা যখন ভাবে যে, ওহ আমি যদি আরও বেশি আক্রমণাত্মক, বিদ্বেষমূলক কনটেন্ট দিই তাহলে বেশি টাকা কামাব; তখন পুরো বিষয়টি ফেসবুকের জন্যেও লাভজনক এবং প্রকাশকদের জন্যও লাভজনক। ফেসবুক এমন একটা প্রণোদনা ব্যবস্থা তৈরি করেছে যা মানুষকে পরস্পরের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে নিচ্ছে।’

সাক্ষাৎকারে হাউগেন বলেন, ‘ফেসবুকে আমি যেটা বারবার দেখেছি সেটা হলো, জনসাধারণের জন্য কোনটা ভালো আর ফেসবুকের জন্য কোনটা ভালো, এর মধ্যে স্বার্থের দ্বন্দ্ব। আর ফেসবুক প্রতিবারই আরও বেশি মুনাফা অর্জনের মতো নিজের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করছে।’

হাউগেনের এই সাক্ষাৎকারের পর সোমবার রাতে হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যায় ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ। সার্ভারে কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হওয়ার প্রায় ছয় ঘণ্টা পর মঙ্গলবার ভোর থেকে চালু হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো।

এ সময় অনেকেই এ ঘটনার সঙ্গে হাউগেনের সাক্ষাৎকারের যোগসূত্র খোঁজার চেষ্টা করেন। তবে একে ষড়যন্ত্রতত্ত্ব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

আরও পড়ুন:
‘ভুয়া তথ্য ঠেকানোর চেয়ে মুনাফায় বেশি মনোযোগ ফেসবুকের’
ফেসবুক বিপর্যয়ে ষড়যন্ত্রতত্ত্বের পালে হাওয়া
বিপর্যয়ের পর স্বাভাবিক ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপ
বিশ্বজুড়ে ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপ বিপর্যয়
রামুর ধ্বংসযজ্ঞ: বিচার কবে?

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ফেসবুক-ইউটিউবের কনটেন্ট সরাতে পারে বাংলাদেশ: জব্বার

ফেসবুক-ইউটিউবের কনটেন্ট সরাতে পারে বাংলাদেশ: জব্বার

বিএসআরএফ সংলাপে বক্তব্য দেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘যেকোনো ওয়েবসাইট বন্ধ করার সক্ষমতা আমরা আগেই অর্জন করেছি। এখন ফেসবুক, ইউটিউবের ভিডিও বা ছবি সরানোর প্রযুক্তি আমরা অর্জন করেছি। মাথা ব্যথা হলে মাথা কেটে ফেলা কোনো সমাধান নয়। এ কারণে এখনও এগুলো আমরা বন্ধ করিনি। তাদের সঙ্গে আলোচনা করছি।’

ফেসবুক ও ইউটিউবের যেকোনো ভিডিও বা ছবি মুছে ফেলার সক্ষমতা বাংলাদেশ অর্জন করেছে বলে জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

সচিবালয়ে বুধবার বিএসআরএফ সংলাপে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘যেকোনো ওয়েবসাইট বন্ধ করার সক্ষমতা আমরা আগেই অর্জন করেছি। এখন ফেসবুক, ইউটিউবের ভিডিও বা ছবি সরানোর প্রযুক্তি আমরা অর্জন করেছি।

`মাথা ব্যথা হলে মাথা কেটে ফেলা কোনো সমাধান নয়। এ কারণে এখনও এগুলো আমরা বন্ধ করিনি। তাদের সঙ্গে আলোচনা করছি।’

কুমিল্লার ঘটনায় বেশ কড়া ভাষায় ফেসবুককে চিঠি দেয়া হয়েছে হলেও জানান তিনি।

এ সময় ডিজিটাল নিরাপত্তার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে বড় সংকট বলে চিহ্নিত করেন তিনি।

মোস্তফা জব্বার বলেন, ‘তার মধ্যে ফেইসবুক-ইউটিউবই প্রধান। দুর্ভাগ্যজনক যে, এর দুটির কোনটিই বাংলাদেশি কোম্পানি নয়। দুটিই আমেরিকান এবং তারা তাদের মতো করে ব্যবসা বাণিজ্য করে।

‘নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে তারা যে বিষয়টি বলে, কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড ফলো করা হলো কি না। এটি মানে হচ্ছে আমেরিকার সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে কিছু নির্দেশ তৈরি করে রাখে। সেগুলোর লংঘন হলে তারা ব্যবস্থা নেয়। কিন্তু বাংলাদেশের জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িকতার যে সংকট, এ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাগুলো তৈরি হয় সেখানে ভূমিকা পালন করা দরকার তারা শুরুতে সে বিষয়গুলো বুঝতেই পারেনি।’

তিনি বলেন, ‘তাদের সঙ্গে আমাদের প্রতিনিয়ত যোগাযোগ হয়। আগে যে অবস্থাটা ছিল, সেখান থেকে কিন্তু পরিবর্তিত হয়েছে। বিশেষ করে, কুমিল্লায় যে ঘটনাটি ঘটেছে, তার ক্ষেত্রে আমরা দৃষ্টান্ত দিতে পারি। ধরেন আমরা হয়তো তিন শ লিঙ্ক রিপোর্ট করেছি, তারা ২৬৪ বন্ধ করেছে। তারা কর নিবন্ধিত হয়েছে, ভ্যাট দিচ্ছে। বিশেষ একজন কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছে।

‘আমাদের কাছে যে প্রযুক্তি আছে সেটি দিয়ে কিন্তু আমরা যে কোনো ওয়েবসাইট বন্ধ করতে পারি। এর জন্য কারও উপর নির্ভর করতে হয় না। এখন স্যোসাল মিডিয়ার ক্ষেত্রেও আমরা প্রযুক্তি অর্জন করেছি, ইচ্ছে করলে ফেইসবুকের ভিডিও, ছবি, লাইভ স্ট্রিমিং ইউটিউবের ভিডিও বন্ধ করতে পারব। এখন যখন প্রয়োজন হবে তখন আমরা প্রয়োগ করতে সক্ষম হব।’

এ সময় মন্ত্রী বলেন, ‘এ বছরের মধ্যেই পরীক্ষামূলকভাবে ফাইভজি প্রযুক্তি চালু করা হবে। প্রাথমিকভাবে টেলিটক এ প্রযুক্তি চালু করবে। আগামী বছর থেকে অন্য অপারেটররাও ফাইভজি চালু করবে।’

এর আগে বিষয়টি নিয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার নিউজবাংলাকে জানিয়েছিলেন, ‘পরীক্ষামূলক ফাইভজি নেটওয়ার্কের জন্য প্রকল্প নেয়া হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে চলতি বছরই ফাইভজির যুগে প্রবেশ করবে বাংলাদেশ। টেলিটক ফাইভজি নেটওয়ার্ক নিয়ে কাজ করছে। এ জন্য শুরুতে ঢাকায় কিছু অবকাঠামো তৈরি করা হবে।

‘এটি শেষ হলে সারা দেশের জন্য বড় প্রকল্প নেয়া হবে। একই সঙ্গে সারা দেশে ফোরজি নেটওয়ার্ক ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ সম্প্রসারিত করা হচ্ছে।’

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) হিসাব বলছে, দেশে ইন্টারনেট ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। জুলাই শেষে দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৩৭ লাখে। এর মধ্যে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ১১ কোটি ৩৬ লাখ। আর ব্রডব্যান্ডের গ্রাহকসংখ্যা ১ কোটি ৫ লাখের কিছু বেশি।

আরও পড়ুন:
‘ভুয়া তথ্য ঠেকানোর চেয়ে মুনাফায় বেশি মনোযোগ ফেসবুকের’
ফেসবুক বিপর্যয়ে ষড়যন্ত্রতত্ত্বের পালে হাওয়া
বিপর্যয়ের পর স্বাভাবিক ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপ
বিশ্বজুড়ে ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপ বিপর্যয়
রামুর ধ্বংসযজ্ঞ: বিচার কবে?

শেয়ার করুন

ফেসবুকের আয় বেড়েছে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি

ফেসবুকের আয় বেড়েছে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি

ফেসবুক গত তিন মাসে ৯ বিলিয়ন ডলার আয় করে। ছবি: এএফপি

সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট ফেসবুক জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই তিন মাসে ৯ বিলিয়ন ডলারের মুনাফা কামিয়েছে। গত বছর একই সময়ে ফেসবুকের মুনাফা ছিল ৭ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের বিরুদ্ধে সম্প্রতি বেশ কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ তুলে আলোড়ন সৃষ্টি করেন মাধ্যমটির সাবেক প্রোডাক্ট ম্যানেজার ও হুইসেলব্লোয়ার ফ্রান্সেস হাউগেন।

বিভক্তি সৃষ্টি, শিশুদের ক্ষতিসাধন, নিরাপত্তার চেয়ে মুনাফার দিকে বেশি ঝোঁক, গণতন্ত্র দুর্বল করাসহ ফেসবুকের বিরুদ্ধে হাউগেনের অন্যান্য অভিযোগ নিয়ে বিশ্বব্যাপী চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে সম্প্রতি বলা হয়, বিভিন্ন নথিতে দেখা যায়, বিদ্বেষপ্রসূত বক্তব্য ও যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে মানবপাচার প্রচার সংবলিত কন্টেন্ট সরাতে বারবারই ব্যর্থ হয় ফেসবুক।

এমন পরিপ্রেক্ষিতে বিবিসির মঙ্গলবারের প্রতিবেদনে বলা হয়, সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট ফেসবুক জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই তিন মাসে ৯ বিলিয়ন ডলারের মুনাফা কামিয়েছে। গত বছর একই সময়ে ফেসবুকের মুনাফা ছিল ৭ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার।

ফেসবুকের বিরুদ্ধে আনা সাম্প্রতিক অভিযোগ সম্পর্কে এটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মার্ক জাকারবার্গ সোমবার বিনিয়োগকারীদের বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে সমন্বিত প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।’

ফেসবুকের পক্ষ থেকে বলা হয়, ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গত ১২ মাসে মাধ্যমটির মাসিক ব্যবহারকারীর হার ৬ শতাংশ অর্থাৎ ২ দশমিক ৯১ বিলিয়ন বৃদ্ধি পেয়েছে।

অবশ্য গত কয়েক মাসে ফেসবুকের আয় অনেক বাড়লেও অ্যাপলের গোপনীয়তা নীতির কারণে এটির রাজস্ব কিছুটা কমেছে।

অ্যাপলের আইওএস ১৪ অপারেটিং সিস্টেমে সম্প্রতি গোপনীয়তা নীতি হালনাগাদ করা হয়। এতে নির্দিষ্ট ব্যবহারকারীদের কাছে বিজ্ঞাপন দিতে বেশ কয়েকটি ব্র্যান্ডের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। নতুন এই নীতির প্রভাব স্বাভাবিকভাবে ফেসবুকেও পড়ে।

এ বিষয়ে ফেসবুক জানিয়েছে, বছরের শেষ তিন মাসেও অ্যাপলের গোপনীয়তা নীতির ফলে ডিজিটাল ব্যবসায় কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে ওই পরিবর্তনের সঙ্গে ধীরে ধীরে সামঞ্জস্য করা হবে।

আরও পড়ুন:
‘ভুয়া তথ্য ঠেকানোর চেয়ে মুনাফায় বেশি মনোযোগ ফেসবুকের’
ফেসবুক বিপর্যয়ে ষড়যন্ত্রতত্ত্বের পালে হাওয়া
বিপর্যয়ের পর স্বাভাবিক ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপ
বিশ্বজুড়ে ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপ বিপর্যয়
রামুর ধ্বংসযজ্ঞ: বিচার কবে?

শেয়ার করুন

জননিরাপত্তা নিয়ে মাথাব্যথা নেই ফেসবুকপ্রধানের

জননিরাপত্তা নিয়ে মাথাব্যথা নেই ফেসবুকপ্রধানের

চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে সাক্ষ্য দেন সাবেক ফেসবুক কর্মকর্তা ফ্রান্সেস হাওগেন। ছবি: এএফপি

নিউ ইয়র্ক টাইমস জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের ২০২০ সালে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট কারচুপি নিয়ে ভুয়া তথ্যের বন্যা নিয়ে বারবার সতর্ক করেছিলেন ফেসবুককর্মীরা। সে সময় ভুয়া তথ্য ছড়ানো বন্ধে ফেসবুকের আরও জোরদার পদক্ষেপ নেয়া উচিত ছিল বলেও মনে করেন তারা।

আবারও সমালোচনায় জর্জরিত ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ। বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ও বহুল ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটির কারণে জননিরাপত্তায় সৃষ্টি হুমকি সম্পর্কে অবগত ফেসবুকপ্রধান। কিন্তু ব্যবহারকারীদের সুরক্ষাসংক্রান্ত পদক্ষেপ নেয়ায় আগ্রহী নন তিনি।

অভ্যন্তরীণ তথ্য ফাঁস করা সাবেক ফেসবুক কর্মকর্তা ফ্রান্সেস হাওগেন জানিয়েছেন, ফেসবুকে প্রকাশিত ক্ষতিকর বিষয়বস্তুর কারণে ব্যবহারকারীরা যেন বিপদে না পড়েন- তেমনভাবে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার কোনো ইচ্ছা নেই জাকারবার্গের।

ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের সাপ্তাহিক ক্রোড়পত্র অবজারভারকে এসব কথা বলেন তথ্য প্রকৌশলী ও বিজ্ঞানী হাওগেন।

অবজারভারের প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি হাওগেনের ফাঁস করা নথিপত্রের ওপর ভিত্তি করে চাপ বাড়ছে ফেসবুকের ওপর। এর মধ্যে ফের নতুন তথ্য দিয়েছেন আমেরিকান এই নারী। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৭৩ হাজার কোটি ডলারের ব্যবসা রয়েছে ফেসবুকের।

নিউ ইয়র্ক টাইমস জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের ২০২০ সালে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট কারচুপি নিয়ে ভুয়া তথ্যের বন্যা নিয়ে বারবার সতর্ক করেছিলেন ফেসবুককর্মীরা। সে সময় ভুয়া তথ্য ছড়ানো বন্ধে ফেসবুকের আরও জোরদার পদক্ষেপ নেয়া উচিত ছিল বলেও মনে করেন তারা।

হাওগেন জানান, পুঁজিবাজারে ভোটিং শেয়ারে সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করেন জাকারবার্গ। জননিরাপত্তা নিয়ে তার কোনো মাথাব্যথা নেই।

হাওগেন বলেন, ‘বর্তমানে মার্ক জাকারবার্গকে কোনো ধরনের জবাবদিহি করতে হয় না। ব্যবসার পুরো নিয়ন্ত্রণ তার হাতে। তিনি কোনো ভুলত্রুটি সংশোধন করেন না এবং জননিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ সাপেক্ষ প্রতিষ্ঠান পরিচালনার কোনো ইচ্ছাই নেই তার।’

সব শেয়ারধারীর ফেসবুক পরিচালনাসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সমান অধিকার থাকা উচিত বলে মনে করেন হাওগেন। তার মতে, এতে প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ পর্যায়ে পরিবর্তন আসবে।

ফেসবুকের প্রোডাক্ট ম্যানেজার ছিলেন হাওগেন। চলতি বছরের মে মাসে পদত্যাগ করেন তিনি এবং হাজার হাজার নথিপত্র তুলে দেন সংবাদপত্র ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের হাতে।

কারণ হিসেবে হাওগেন জানান, এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটি শোধরাবে না। তিনি বলেন, ‘অ্যাপল, মাইক্রোসফটের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো উল্লেখযোগ্য সাংস্কৃতিক পরিবর্তন এনেছে। ফেসবুকের জন্যও এটি অসম্ভব কিছু নয়, দরকার শুধু সদিচ্ছা।’

হাওগেনের ফাঁস করা নথিপত্রের ভিত্তিতে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সংবাদভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ঐক্যবদ্ধভাবে এক গুচ্ছ নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে।

প্রতিক্রিয়ায় ফেসবুকের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ‘এসব নিছকই মিথ্যা গল্প। আমরা অবশ্যই ব্যবসা করি এবং লাভ করি, কিন্তু জনগণের নিরাপত্তার দামে নয়। আমাদের বাণিজ্যিক স্বার্থও জনকল্যাণকেন্দ্রিক।

‘বাস্তবতা হলো, শুধু ফেসবুকে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আমরা এক হাজার ৩০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছি এবং আমাদের ৪০ হাজারের বেশি কর্মী এ কাজেই যুক্ত।

হাওগেনের মতো ফেসবুকের অভ্যন্তরীণ তথ্য ফাঁসকারী আরও এক ব্যক্তি সামনে আসতে যাচ্ছেন বলে শুক্রবার জানিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।

যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক বিষয়াবলি নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে অভিযোগ দাখিল করেছেন তিনি। তার দাবি, আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিহিংসার বলি হওয়া এবং আয় কমে যাওয়ার ভয়ে নিরাপত্তা নীতিমালা কার্যকরে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল ফেসবুক।

আরও পড়ুন:
‘ভুয়া তথ্য ঠেকানোর চেয়ে মুনাফায় বেশি মনোযোগ ফেসবুকের’
ফেসবুক বিপর্যয়ে ষড়যন্ত্রতত্ত্বের পালে হাওয়া
বিপর্যয়ের পর স্বাভাবিক ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপ
বিশ্বজুড়ে ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপ বিপর্যয়
রামুর ধ্বংসযজ্ঞ: বিচার কবে?

শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট, কলেজশিক্ষক গ্রেপ্তার

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট, কলেজশিক্ষক গ্রেপ্তার

ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্ট দেয়ায় গ্রেপ্তার কলেজ শিক্ষক। ছবি: নিউজবাংলা

ইউএনও রাবেয়া পারভেজ নিউজবাংলাকে জানান, ‘২৩ অক্টোবর সন্ধ্যার দিকে একজন সাংবাদিক আমার ব্যক্তিগত মেসেঞ্জারে ফেসবুক পোস্টের একটি স্ক্রিনশট পাঠান। তাতে দেখি রুহুল আমিন নিজ ফেসবুক আইডি থেকে গত ১৪ অক্টোবর একটি পোস্ট শেয়ার করেন। সেখানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য দেয়া। বিষয়টি ধর্মীয় স্পর্শকাতরও বটে।’

ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর ছবি ও পোস্ট শেয়ার করার অভিযোগে কলেজের এক প্রভাষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শহরের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম চত্বর থেকে শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার শিক্ষকের নাম মোহাম্মদ রুহুল আমিন। তিনি হোসেনপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের রসায়ন বিভাগের প্রভাষক। তার বাড়ি ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার কড়াইকান্দি গ্রামে; থাকেন কিশোরগঞ্জ শহরে।

হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাবেয়া পারভেজ নিউজবাংলাকে জানান, ‘২৩ অক্টোবর সন্ধ্যার দিকে একজন সাংবাদিক আমার ব্যক্তিগত মেসেঞ্জারে ফেসবুক পোস্টের একটি স্ক্রিনশট পাঠান। তাতে দেখি রুহুল আমিন নিজ ফেসবুক আইডি থেকে গত ১৪ অক্টোবর একটি পোস্ট শেয়ার করেন। সেখানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য দেয়া। বিষয়টি ধর্মীয় স্পর্শকাতরও বটে।

‘পরে আমি কলেজের প্রিন্সিপালের সঙ্গে ফোনে কথা বলি। তারপর আমি নিজেই হোসেনপুর থানা পুলিশকে বিষয়টি জানাই। পরে শনিবার রাতেই তথ্য ও প্রযুক্তি আইনে মামলা নেয় পুলিশ।’

ওসি মোস্তাফিজুর জানান, গত ১৪ অক্টোবর একটি ফেসবুক আইডি থেকে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার করে একটি আপত্তিকর পোস্ট করা হয়। সেদিনই রুহুল আমিন সেই পোস্টটি তার নিজের প্রোফাইলে শেয়ার করেন। এর পর সেখান থেকেই পোস্টটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়ে শনিবার রাতেই পুলিশ বাদী হয়ে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে একটি মামলা করে। মামলার পরেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
‘ভুয়া তথ্য ঠেকানোর চেয়ে মুনাফায় বেশি মনোযোগ ফেসবুকের’
ফেসবুক বিপর্যয়ে ষড়যন্ত্রতত্ত্বের পালে হাওয়া
বিপর্যয়ের পর স্বাভাবিক ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপ
বিশ্বজুড়ে ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপ বিপর্যয়
রামুর ধ্বংসযজ্ঞ: বিচার কবে?

শেয়ার করুন

জেনেশুনে ঘৃণাকে প্রশ্রয় দিচ্ছে ফেসবুক

জেনেশুনে ঘৃণাকে প্রশ্রয় দিচ্ছে ফেসবুক

ঘৃণা ছড়ানো নিয়ন্ত্রণ না করার অভিযোগ রয়েছে ফেসবুকের বিরুদ্ধে। ছবি: সংগৃহীত

নতুন করে শুক্রবার ফেসবুকের এমন সব কর্মকাণ্ড ফাঁস করেছেন মাধ্যমটির সাবেক এক কর্তা। ফেসবুক কীভাবে ঘৃণামূলক বক্তব্য ছড়াচ্ছে এবং অবৈধ কাজ করছে সেসব বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি।

কিছুদিন আগেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের সাবেক এক কর্মকর্তা দাবি করেন, মাধ্যমটির মূল লক্ষ্য মুনাফা করা। সে জন্য মাধ্যমটি ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তাকেও খুব বেশি আমলে নেয় না।

নতুন করে শুক্রবার ফেসবুকের এমন সব কর্মকাণ্ড ফাঁস করেছেন মাধ্যমটির সাবেক এক কর্মকর্তা। ফেসবুক কীভাবে ঘৃণামূলক বক্তব্য ছড়াচ্ছে এবং অবৈধ কাজ করছে সেসব বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি।

নির্বাচনের সময় ভুয়া তথ্য ছড়ানো ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে ফেসবুক। এমনকি নতুন কিছু নথি ফাঁসের পর ফেসবুক বেশ চাপে পড়েছে বলেও জানান তিনি।

নতুন করে ফেসবুকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা ওই ব্যক্তি কথা বলেছেন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের সঙ্গে।

তিনি জানান, ফেসবুকের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সিকিউরিটিস অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি সংস্থা যারা পাবলিক ট্রেড কোম্পানিতে বিনিয়োগ নিয়ন্ত্রণ করে তাদের কাছেও অভিযোগ করা হয়েছে।

সাবেক ওই কর্মকর্তা সেখানে বলেছেন, ফেসবুক কীভাবে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও তার মতো রাগান্বিত ব্যক্তি ও কোম্পানিকে খুশি রাখতে নিরাপত্তা বিধি প্রয়োগে অস্বীকার করেছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর হামলাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও ভারতেও বিভিন্ন ধরনের ঘৃণা ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে মাধ্যমটির বিরুদ্ধে। সেসব নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকার কথা জানা যায়নি মাধ্যমটির পক্ষ থেকে।

অবশ্য ফেসবুকের যোগাযোগ কর্মকর্তা ট্র্যাকার বাউন্ড ২০১৬ সালের নির্বাচনে প্ল্যাটফর্মটির ভূমিকা নিয়ে যে উদ্বেগ তা উড়িয়ে দিয়েছেন।

বাউন্ড বলেন, ‘সেটি তো শেষ হয়ে গেছে।’

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘এসব অভিযোগের কিছু ধরার মধ্যেই ছিল না। তারা কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বিষয়টি ভুলে অন্যদিকে চলে যায়। আমরা টাকা আয় করছি এবং আমরা ভালো আছি।’

ফেসবুকের সাবেক প্রোডাক্ট ম্যানেজার ফ্রান্সেস হাউজেন বলেন, ফেসবুক জননিরাপত্তার বিষয়ে মাথা না ঘামিয়ে ক্রমাগত মুনাফার দিকে ঝুঁকছে।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, হাউজেন সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে ফেসবুকের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন। সামনেই যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে সাক্ষ্য দেবেন তিনি। এ বিষয়কে ঘিরে তৈরি হয়েছে সংকট। তাই ব্র্যান্ডটি নিজেদের নাম পরিবর্তন করার মতো বিষয় নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে ফেসবুক।

একই দিনে নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্ট এবং এনবিসি একটি গোপন নথি ফাঁসের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখানো হয়েছে, ২০২০ সালের নির্বাচনেও মাধ্যমটি কীভাবে ভুয়া তথ্য ছড়িয়েছে।

নির্বাচনে হেরে গিয়ে ডনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ফেসবুক জো বাইডেনের হয়ে কাজ করেছে।

অবশ্য একটি তথ্য বিশ্লেষণ করে নিউইয়র্ক টাইমস দেখিয়েছে, বাইডেনের পক্ষে প্রচারে ফেসবুকে যেসব তথ্য ছড়ানো হয়েছে তার অন্তত ১০ শতাংশ ছিল ভুয়া।

এটা শুধু মুনাফা লাভের আশাতেই করেছে বলে দাবি করেছেন ফেসবুকের সাবেক কর্মকর্তা ও তথ্য ফাঁসকারী।

মানবাধিকার সংস্থা ফ্রি প্রেস অ্যাকশনের কো-সিইও জেসিকা জে গোলন্দাজ বলেন, ‘এখন কংগ্রেসের উচিত হবে ফেসবুকের ব্যবসার মডেলটি খতিয়ে দেয়া। কেননা তাদের বিরুদ্ধে খুব বেশি পরিমাণে ঘৃণা ও ভুয়া তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে।’

আরও পড়ুন:
‘ভুয়া তথ্য ঠেকানোর চেয়ে মুনাফায় বেশি মনোযোগ ফেসবুকের’
ফেসবুক বিপর্যয়ে ষড়যন্ত্রতত্ত্বের পালে হাওয়া
বিপর্যয়ের পর স্বাভাবিক ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপ
বিশ্বজুড়ে ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপ বিপর্যয়
রামুর ধ্বংসযজ্ঞ: বিচার কবে?

শেয়ার করুন

সাইবার নিরাপত্তায় সতর্কতা ও করণীয়

সাইবার নিরাপত্তায় সতর্কতা ও করণীয়

আইনি সুবিধাবঞ্চিত আর্থিকভাবে অসহায় ভুক্তভোগীরা এই অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে আইনি সহায়তা চাইলে তাদের পাশে দাঁড়াবে নিউজবাংলার ‘আমার আইন, আমার অধিকার’।

সব ধরনের আইনি পরামর্শ ও সহায়তা দিতে নিউজবাংলার নিয়মিত আয়োজন ‘আমার আইন, আমার অধিকার’-এ এবারের বিষয়: সাইবার নিরাপত্তায় সতর্কতা ও করণীয়’। প্রচারিত হবে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।

শবনম ফারিয়ার সঞ্চালনায় শনিবার এ অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার হবে নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকমের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে।

আলোচনায় বিশেষজ্ঞ হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ব্যারিস্টার মিতি সানজানা ও কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের আইন বিভাগের প্রভাষক মেহেরবা সাবরীন। অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার হবে শাহ্‌ সিমেন্টের সৌজন্যে।

‘আমার আইন, আমার অধিকার’ সম্পর্কে নিউজবাংলার এক মুখপাত্র বলেন, আইন জানা নাগরিকের জন্য একান্ত প্রয়োজন। আইন ও আইনজীবী- এই শব্দগুলো নিয়ে এক ধরনের ভীতি কাজ করে। তবে আইনের আশ্রয় লাভ করা একজন নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার।

নিজের আইনগত অধিকার সম্পর্কে না জানলে যে কেউ কোনো বিষয়ে ভুল পরামর্শ দিয়ে আপনাকে ভুল পথে পরিচালিত করতে পারে। কোনো নাগরিক রাষ্ট্রের কাছে কী কী সুযোগ-সুবিধার অধিকারী, সেটি যদি তিনি না জানেন, তাহলে তিনি ন্যায্য দাবি আদায় করতে পারবেন না।

তিনি বলেন, নাগরিকের আইনি অধিকার ও সুরক্ষার বিষয়টি সহজভাবে জানাতে কাজ করবে ‘আমার আইন, আমার অধিকার’। দেয়া হবে পরামর্শ। প্রয়োজনে তৃণমূল পর্যায়ে নাগরিকের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরাসরি আইনি সহায়তাও দেয়া হবে।

আইনি সুবিধাবঞ্চিত আর্থিকভাবে অসহায় ভুক্তভোগীরা এই অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে আইনি সহায়তা চাইলে তাদের পাশে দাঁড়াবে নিউজবাংলার ‘আমার আইন, আমার অধিকার’।

বিনা মূল্যে আইনি পরামর্শ এবং সহায়তা পেতে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় চোখ রাখুন নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকমের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে।

অনুষ্ঠান চলাকালে ফোন করুন ০২৫৫০৫৫২৮৯ নম্বরে। এ ছাড়া সমস্যা জানাতে ০১৯৫৮০৫৬৬৬৮ নম্বরে ফোন করুন যেকোনো সময়। হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্ন ভিডিও করেও পাঠাতে পারেন একই নম্বরে।

নিউজবাংলার ফেসবুক পেজ NewsBangla24 এবং ই-মেইল [email protected]এ মেসেজ পাঠানোরও সুযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন:
‘ভুয়া তথ্য ঠেকানোর চেয়ে মুনাফায় বেশি মনোযোগ ফেসবুকের’
ফেসবুক বিপর্যয়ে ষড়যন্ত্রতত্ত্বের পালে হাওয়া
বিপর্যয়ের পর স্বাভাবিক ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপ
বিশ্বজুড়ে ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপ বিপর্যয়
রামুর ধ্বংসযজ্ঞ: বিচার কবে?

শেয়ার করুন

সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে জাতিসংঘের আহ্বান

সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে জাতিসংঘের আহ্বান

জাতিসংঘের সদরদপ্তর। ছবি: সংগৃহীত

মিয়া সেপ্পো বলেন, ‘সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত।এমন সহিংসতা রোধে সবাইকে এক হয়ে হাতে হাত রেখে কাজ করতে হবে।’

বাংলাদেশে সংখ্যলঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী মিয়া সেপ্পো।

তিনি বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘৃণা ছড়িয়ে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ওপর সংবিধান পরিপন্থি।

এমন সব হামলা থামাতে বাংলাদেশ সরকারকে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

টুইটারে দেয়া এক পোস্টে সোমবার তিনি বাংলাদেশ সরকারের প্রতি এমন আহ্বান জানান।

তিনি লেখেন, ‘সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত।’

এমন সহিংসতা রোধে সবাইকে এক হয়ে হাতে হাত রেখে কাজ করার আহ্বান জানান জাতিসংঘের বাংলাদেশের এই আবাসিক সমন্বয়কারী।

বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টা ৩৮ মিনিটে এ টুইট করেন।

কুমিল্লায় দুর্গাপূজার সময় এক মণ্ডপে কোরআন রাখার ঘটনায় মণ্ডপে হামলা চালানো হয়। সে হামলায় মণ্ডপ, প্রতিমা ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা।

এর জেরে সেদিন ও পরের দিন থেকে দেশের বেশ কয়েক জেলায় মণ্ডপে হামলা চালানো হয়।

সবশেষ রোববার রাতে রংপুরের পীরগঞ্জে এক হিন্দু পাড়ায় হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৬ জেলায় ৬০টি মামলা হয়েছে। আর মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছে ২৬৩ জন।

আরও পড়ুন:
‘ভুয়া তথ্য ঠেকানোর চেয়ে মুনাফায় বেশি মনোযোগ ফেসবুকের’
ফেসবুক বিপর্যয়ে ষড়যন্ত্রতত্ত্বের পালে হাওয়া
বিপর্যয়ের পর স্বাভাবিক ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপ
বিশ্বজুড়ে ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপ বিপর্যয়
রামুর ধ্বংসযজ্ঞ: বিচার কবে?

শেয়ার করুন