মমতার প্রথম দুর্গাপূজা উদ্বোধন চেতলায়

মমতার প্রথম দুর্গাপূজা উদ্বোধন চেতলায়

দুর্গাকে মাস্ক পরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কলকাতার বিভিন্ন পূজা কমিটি। ছবি: সংগৃহীত

করোনাভাইরাস সংক্রমণের তৃতীয় ঢেউয়ের মুখে দাঁড়িয়ে রাজ্য। পূজা উৎসবের দিনগুলোতে করোনা বিধি নিয়ে হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা হয়। ওই মামলার রায়ে বলা হয়েছে, গতবারের মতো এবারও করোনা সুরক্ষা বিধি মেনে পূজা করতে হবে।

মহালয়ার দিন বুধবার কলকাতা চেতলার অগ্রণীর সংঘের পূজামণ্ডপে গিয়ে প্রথম দুর্গাপূজা উদ্বোধন করবেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চেতলা অগ্রণী সংঘ কলকাতার পৌর প্রশাসক ও পশ্চিমবঙ্গের পরিবহন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের পূজা।

চেতলা অগ্রণী সংঘে মায়ের চক্ষুদান করবেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন চেতলা অগ্রণী সংঘ ছাড়াও সেলিমপুর, বাবুবাগান, ৯৫ পল্লী, যোধপুর পার্কের পূজা উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী।

তবে পশ্চিমবঙ্গের চলমান করোনা বিধিনিষেধের কারণে এবারও ভার্চুয়াল দুর্গাপূজা উদ্বোধনে বেশি জোর দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের তৃতীয় ঢেউয়ের মুখে দাঁড়িয়ে রাজ্য। পূজা উৎসবের দিনগুলোতে করোনা বিধি নিয়ে হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা হয়। ওই মামলার রায়ে বলা হয়েছে, গতবারের মতো এবারও করোনা সুরক্ষা বিধি মেনে পূজা করতে হবে।

হাইকোর্টের রায়ে হলফনামা দিয়ে সম্মতি জানিয়েছে রাজ্য সরকার। দূরত্ব বিধি, মাস্ক, স্যানিটাইজার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে মন্দিরের ভেতরে। ছোট মণ্ডপে ১২ জন এবং বড় পূজামণ্ডপে ২৫ জন উদ্যোক্তা মণ্ডপের ভেতরে থাকতে পারবেন। এর নির্দিষ্ট তালিকাও থাকতে হবে।

করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত রাজ্যে আংশিক লকডাউন জারি আছে। তবে রাত ১১টা থেকে সকাল ৫টা পর্যন্ত যে কার্ফু চলছে পূজার দিনগুলোতে সেটি ১০ অক্টোবর থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত তুলে নেয়া হয়েছে।

এই সুযোগে দুর্গা পূজা উৎসবের দিনগুলোতে মানুষ রাতে ঘুরে ঘুরে মণ্ডপ দেখতে পারেন। ২১ অক্টোবর থেকে আবার নাইট কার্ফু শিথিল হবে।

পূজার দিনগুলোতে মানুষ ও যান চলাচলে কোনো নিষেধাজ্ঞা থাকছে না। করোনা মহামারির সময় সবকিছু করোনা বিধি মেনেই উদযাপন করতে হবে। সমস্ত পূজামণ্ডপ করোনা বিধি-নিষেধ মেনে তৈরি হচ্ছে কি না সেটি ঘুরে দেখছেন কলকাতা পুলিশ, দমকল, সিইএসই ও পিডাব্লুডির কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন:
শেখ হাসিনার জন্মদিনে কলকাতায় বই প্রকাশ
আদালত নিয়ে মন্তব্য : সমালোচনায় ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী
জলাবদ্ধ কলকাতা যেন মৎস্য খামার
মণ্ডপে প্রতিমা ভাঙচুর
শিক্ষার্থীদের দাবিতে পূজায় পরীক্ষা বাতিল জবিতে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গচ্ছিত ৯০০ কোটি ডলার পাবে না তালেবান

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গচ্ছিত ৯০০ কোটি ডলার পাবে না তালেবান

কাবুলে ত্রাণের খাবার গ্রহণের সময় আফগান শরণার্থীদের ভিড়। ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে গত আগস্টে দ্বিতীয় দফায় আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান। দেশটির সরকার হিসেবে বিশ্ব সম্প্রদায়ের স্বীকৃতি পায়নি গোষ্ঠীটি।

আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গচ্ছিত ৯০০ কোটি ডলারের বেশি অর্থে প্রবেশাধিকার পাবে না শাসকদল তালেবান। ক্ষমতাচ্যুত বেসামরিক সরকারের আমলে আফগান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রির্জাভের বেশিরভাগ অর্থই আটকে আছে যুক্তরাষ্ট্রে।

টার্কিশ রেডিও অ্যান্ড টেলিভিশনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, আফগানিস্তানে অর্থনৈতিক সংকট আরও গভীর হতে থাকার মধ্যেই দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গচ্ছিত অর্থ আটকে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াশিংটন।

যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে গত আগস্টে দ্বিতীয় দফায় আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান। দেশটির সরকার হিসেবে বিশ্ব সম্প্রদায়ের স্বীকৃতি পায়নি গোষ্ঠীটি।

যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটের ব্যাংকিং কমিটিকে মঙ্গলবার আমেরিকার অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়ালি অ্যাডেইমো বলেন, ‘তালেবানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ বলে আমরা বিশ্বাস করি। তবে একই সঙ্গে বৈধভাবে কীভাবে অসহায় আফগানদের কাছে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো যায়, সে পথও খুঁজে বের করতে হবে। সে পথই এখন আমরা খুঁজছি।’

আফগানিস্তানের বাইরে বিভিন্ন দেশে আফগান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গচ্ছিত ৯০০ কোটি ডলারের ওপর থেকে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে তালেবান।

দেশটিতে গুরুতর অর্থনৈতিক ও মানবিক সংকটের মুখে বিষয়টি নিয়ে দ্বিধায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো।

এ অবস্থায় মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে স্বীকৃতি দেয়া ছাড়াই কীভাবে তালেবানের সঙ্গে কূটনীতি চালু করা যায়, সে বিষয়ে কাজ করছে বিশ্ব সম্প্রদায়।

আরও পড়ুন:
শেখ হাসিনার জন্মদিনে কলকাতায় বই প্রকাশ
আদালত নিয়ে মন্তব্য : সমালোচনায় ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী
জলাবদ্ধ কলকাতা যেন মৎস্য খামার
মণ্ডপে প্রতিমা ভাঙচুর
শিক্ষার্থীদের দাবিতে পূজায় পরীক্ষা বাতিল জবিতে

শেয়ার করুন

মানুষের দেহে শূকরের কিডনির সফল প্রতিস্থাপন

মানুষের দেহে শূকরের কিডনির সফল প্রতিস্থাপন

নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালে ৫৪ ঘণ্টার অস্ত্রোপচার শেষে মানবদেহে শূকরের কিডনি প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। ছবি: রয়টার্স

কিডনি কতটা কার্যক্ষম, তা পরিমাপ করা হয় মানবদেহে ক্রিয়েটিনিন নামক এক ধরনের রাসায়নিকের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে। ক্রিয়েটিনিনের অস্বাভাবিক উপস্থিতির অর্থ হলো- কিডনি ঠিকভাবে কাজ করছে না। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শূকরের কিডনি গ্রহণের আগে রোগীর দেহে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা অস্বাভাবিক ছিল, নতুন কিডনি গ্রহণের পর যা স্বাভাবিক হয়েছে।

প্রথমবারের মতো কোনো মানুষের দেহে একটি শূকরের কিডনি বা বৃক্ক সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটি যুগান্তকারী সাফল্য বলে মনে করা হচ্ছে।

কিডনি প্রতিস্থাপনের পর গ্রহীতার দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তাৎক্ষণিকভাবে সেটি প্রত্যাখ্যান করেনি। অর্থাৎ কোনো ধরনের নেতিবাচক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরি হয়নি রোগীর দেহে।

আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে মানবদেহে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের প্রযুক্তি বিদ্যমান হলেও প্রতিস্থাপনযোগ্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের পর্যাপ্ততা নেই। ফলে মানুষের দেহ শূকরের কিডনি গ্রহণ করলে তা প্রতিস্থাপনযোগ্য অঙ্গের ঘাটতি মেটাতে সাহায্য করবে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোন হেলথে ৫৪ ঘণ্টার অস্ত্রোপচার শেষে কিডনি প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছে।

প্রতিস্থাপিত কিডনিটি যেন রোগীর দেহ প্রত্যাখ্যান না করে, তা নিশ্চিতে জিন পরিবর্তিত একটি শূকরকে ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে ওই কিডনির ট্যিসুতে তাৎক্ষণিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টিকারী ক্ষুদ্র জীবাণুর উপস্থিতি ছিল না।

শূকরের কিডনিগ্রহীতা একজন ‘ব্রেন-ডেড’ রোগী, অর্থাৎ যার মস্তিষ্ক কার্যক্ষমতা হারিয়েছে। তিনি একজন নারী, ছিলেন লাইফ সাপোর্টে। সম্প্রতি তার কিডনিও বিকল হতে বসে।

গবেষকরা জানান, লাইফ সাপোর্ট খুলে নেয়ার আগে ওই নারীর দেহে পরীক্ষামূলকভাবে শূকরের কিডনি প্রতিস্থাপনের অনুমতি দেয় তার পরিবার।

প্রধান গবেষক ও অঙ্গ প্রতিস্থাপনকারী চিকিৎসক ড. রবার্ট মন্টোগোমারি জানান, টানা তিনদিন দেহের বাইরেই রোগীর রক্তনালীর সঙ্গে যুক্ত ছিল নতুন কিডনিটি। এ সময়ে কোনোরকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি এবং বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা কিডনির কার্যকারিতাও দৃশ্যত স্বাভাবিক ছিল। ফলে এরপর কিডনিটি ওই নারীর দেহে প্রবেশ করানোর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।

সদ্য কিডনি প্রতিস্থাপিত একজন মানুষের দেহে যতটুকু মূত্র তৈরি হয়, নতুন কিডনি সে প্রত্যাশার সঙ্গে মিল রেখেই কাজ করেছে।

কিডনি কতটা কার্যক্ষম, তা পরিমাপ করা হয় মানবদেহে ক্রিয়েটিনিন নামক এক ধরনের রাসায়নিকের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে। ক্রিয়েটিনিনের অস্বাভাবিক উপস্থিতির অর্থ হলো- কিডনি ঠিকভাবে কাজ করছে না।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শূকরের কিডনি গ্রহণের আগে রোগীর দেহে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা অস্বাভাবিক ছিল, নতুন কিডনি গ্রহণের পর যা স্বাভাবিক হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের অপেক্ষায় আছেন এক লাখ সাত হাজার মানুষ। এদের মধ্যে ৯০ হাজারের বেশি মানুষের দরকার কিডনি।

সংশ্লিষ্ট সংস্থা ইউনাইটেড নেটওয়ার্ক ফর অরগ্যান শেয়ারিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিস্থাপনযোগ্য কিডনির খোঁজ পেতে একেকজন রোগীকে গড়ে তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।

মানুষের দেহে অন্য প্রাণির অঙ্গ প্রতিস্থাপনের সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা চলছে কয়েক দশক ধরে। কিন্তু প্রতিবারই মানবদেহ অন্য প্রাণির অঙ্গ প্রত্যাখ্যান করেছে, অর্থাৎ গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।

আরও পড়ুন:
শেখ হাসিনার জন্মদিনে কলকাতায় বই প্রকাশ
আদালত নিয়ে মন্তব্য : সমালোচনায় ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী
জলাবদ্ধ কলকাতা যেন মৎস্য খামার
মণ্ডপে প্রতিমা ভাঙচুর
শিক্ষার্থীদের দাবিতে পূজায় পরীক্ষা বাতিল জবিতে

শেয়ার করুন

রকেটে ওঠার অপেক্ষায় নাসার নতুন চন্দ্রযান

রকেটে ওঠার অপেক্ষায় নাসার নতুন চন্দ্রযান

কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই নভোযান ওরিয়নকে রকেটের সঙ্গে যুক্ত করার কাজ সম্পন্ন হবে। ছবি: নাসা

চন্দ্রজয় অভিযান অ্যাপোলোর পর নতুন এ প্রকল্পের নাম দেয়া হয়েছে আর্টিমিজ। বলা হচ্ছে, আর্টিমিজ সফল হলে পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহ চাঁদে মানুষের এবারের উপস্থিতি হবে বেশ দীর্ঘমেয়াদী।

চন্দ্রজয়ের নতুন অভিযানের জন্য প্রস্তুত ওরিয়ন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার পরবর্তী প্রজন্মের এই মহাকাশযানটি এখন কেবল একটি রকেটের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার অপেক্ষায়।

সব ঠিক থাকলে রকেটে যুক্ত হওয়ার পর ২০২২ সালের শুরুতেই চাঁদের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবে ওরিয়ন।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারে এক ভবন থেকে অন্য ভবনে সোমবার স্থানান্তর করা হয়েছে ওরিয়নকে। সেখানে পরবর্তী ধাপে শক্তিশালী স্পেস লঞ্চ সিস্টেম (এসএলএস) রকেটে তোলা হবে ওরিয়নকে।

এর আগে আরেকটি ভবনে ছিল ওরিয়ন। সেখানে ওরিয়নের সঙ্গে মহাকাশযানের লঞ্চ অ্যাবর্ট সিস্টেম (এলএএস) যুক্ত করেন প্রকৌশলীরা। এ ব্যবস্থার মাধ্যমেই মহাকাশে গন্তব্যে পৌঁছানোর পর রকেট থেকে আলাদা হবে ওরিয়ন।

মূলত রকেট থেকে মহাকাশযানকে সামনের দিকে ঠেলে দিতে এবং মানব অভিযানের ক্ষেত্রে জরুরি পরিস্থিতিতে রকেট থেকে নভোচারীদের দূরে সরাতে এলএএস ব্যবহার করা হয়।

চাঁদের কক্ষপথের উদ্দেশ্যে ওরিয়নের প্রথম ফ্লাইটটি হবে মানববিহীন। ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদের বুকে মানুষ পাঠানোর যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার অংশ এটি।

চন্দ্রজয় অভিযান অ্যাপোলোর পর নতুন এ প্রকল্পের নাম দেয়া হয়েছে আর্টিমিজ। বলা হচ্ছে, আর্টিমিজ সফল হলে পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহ চাঁদে মানুষের এবারের উপস্থিতি হবে বেশ দীর্ঘমেয়াদী।

আর্টিমিজ-১ মিশনে ব্যবহার্য ওরিয়নের বর্তমান ঠিকানা কেনেডি স্পেস সেন্টারের বিখ্যাত ভেহিকল অ্যাসেম্বলি বিল্ডিং বা ভিএবি ভবন। এই ভবনটি মহাকাশযানের বিভিন্ন অংশ একটি আরেকটির সঙ্গে জোড়া লাগানো হয়।

৩২২ ফুট লম্বা এসএলএস লঞ্চারে যুক্ত হতে যাওয়া শেষ গুরুত্বপূর্ণ অংশ ওরিয়ন। ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে ভিএবিতে ওরিয়নকে আনার জন্য কাজ করছিলেন প্রকৌশলীরা।

আর্টিমিজ-১ মিশনের ব্যাপ্তি হবে তিন সপ্তাহ। এর মাধ্যমে নভোচারী পাঠানোর আগে এসএলএস ও ওরিয়নের ক্ষমতা পরীক্ষা করে দেখা হবে। এ পরীক্ষা সফল হলে ২০২৩ সালে আর্টিমিজ-২ মিশনে চাঁদ প্রদক্ষিণে পাঠানো হবে মানুষ।

আর্টিমিজ-৩ মিশনে চাঁদের বুকে ফের পা রাখবে নভোচারীরা। ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো ১৭ অভিযানে প্রথম ও শেষবার চাঁদে পা রেখেছিল মানুষ।

মানুষকে চাঁদের কক্ষপথ থেকে পৃথিবীপৃষ্ঠে ফিরিয়ে আনবে স্টারশিপ নামের একটি যান। স্টারশিপ নির্মাণে আমেরিকান ধনকুবের ইলন মাস্কের মহাকাশযান নির্মাণ ও মহাকাশযাত্রা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সকে চূড়ান্ত করেছে নাসা।

সব ঠিক থাকলে চাঁদে দ্বিতীয়বার মানুষের পা পড়তে পারে ২০২৪ সালে। যদিও অধিকাংশ পর্যবেক্ষকের মতে, এ তারিখ আরও পেছাবে।

এ অভিযানে ব্যবহার্য মহাকাশযান ওরিয়নের ধাতব কাঠামোটিও চলতি মাসে কেনেডি স্পেস সেন্টারে পৌঁছেছে।

আর্টিমিজ-৩ মিশন সফল হলে চাঁদের বুকে হাঁটবেন প্রথম নারী নভোচারী। তার সঙ্গে থাকবেন আরেকজন পুরুষ নভোচারী।

আর্টিমিজের মাধ্যমে প্রথম অশ্বেতাঙ্গ ব্যক্তি পা রাখবেন চাঁদে।

আরও পড়ুন:
শেখ হাসিনার জন্মদিনে কলকাতায় বই প্রকাশ
আদালত নিয়ে মন্তব্য : সমালোচনায় ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী
জলাবদ্ধ কলকাতা যেন মৎস্য খামার
মণ্ডপে প্রতিমা ভাঙচুর
শিক্ষার্থীদের দাবিতে পূজায় পরীক্ষা বাতিল জবিতে

শেয়ার করুন

প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হবেন ইলন মাস্ক

প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হবেন ইলন মাস্ক

বিশ্বের শীর্ষ ধনী হওয়ার পরও নতুন নতুন রেকর্ড গড়ে চলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ধনকুবের ইলন মাস্ক। ছবি: এএফপি

মরগ্যান স্ট্যানলির গবেষক ও বিশ্লেষক অ্যাডাম জোনাস মঙ্গলবার এক নোটে লিখেন, ‘মহাকাশযান নির্মাণ, উৎক্ষেপণ ও সহায়ক অবকাঠামোর প্রশ্নে সম্ভাবনা আর সম্ভাব্য সময় নিয়ে বর্তমান মানবজাতির যত পূর্বধারণা রয়েছে, তার সবগুলোকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে স্পেসএক্স। যে দ্রুততায় স্পেসএক্স এসব অসম্ভবকে সম্ভব করছে, সে গতি ছোঁয়ার সাধ্য কার আছে?’

চলতি বছরের শুরুতেই বিশ্বের শীর্ষ ধনীর তালিকায় প্রথম স্থান দখল করেন ইলন মাস্ক।

সম্পত্তির পরিমাণ অবিশ্বাস্য দ্রুততায় বাড়তে থাকায় পৃথিবীর প্রথম ট্রিলিয়নিয়ারও হতে পারেন স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক ও আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান মরগ্যান স্ট্যানলি দিয়েছে এমন আভাস।

মরগ্যান স্ট্যানলির বরাত দিয়ে ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে জানানো হয়, মহাকাশযান নির্মাতা ও মহাকাশযাত্রা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের কল্যাণে নজিরবিহীন সাফল্য পেতে পারেন মাস্ক।

পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ও বিদ্যুৎচালিত গাড়িনির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার অপ্রত্যাশিত ঊর্ধ্বগতি মাস্ককে বিশ্বের শীর্ষ ধনী করেছে।

মরগ্যান স্ট্যানলির হিসাব অনুযায়ী, স্পেসএক্সের কল্যাণে বিশ্বের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে মাস্কের মালিকানাধীন সম্পত্তির আর্থিক মূল্যমান ১৩ ডিজিটে পৌঁছাবে।

প্রথমবারের মতো মহাকাশকেন্দ্রিক পর্যটন ও বেসরকারিভাবে মহাকাশ ভ্রমণের সেবা দিয়ে রেকর্ড গড়েছে স্পেসএক্স।

মরগ্যান স্ট্যানলির গবেষক ও বিশ্লেষক অ্যাডাম জোনাস মঙ্গলবার এক নোটে লিখেন, ‘মহাকাশযান নির্মাণ, উৎক্ষেপণ ও সহায়ক অবকাঠামোর প্রশ্নে সম্ভাবনা আর সম্ভাব্য সময় নিয়ে বর্তমান মানবজাতির যত পূর্বধারণা রয়েছে, তার সবগুলোকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে স্পেসএক্স।

‘যে দ্রুততায় স্পেসএক্স এসব অসম্ভবকে সম্ভব করছে, সে গতি ছোঁয়ার সাধ্য কার আছে?’

ব্লুমবার্গের বিলিয়নিয়ার সূচক অনুযায়ী, বর্তমানে মাস্কের সম্পত্তির মূল্য ২৪ হাজার ১০০ কোটি ডলার। এই অর্থের প্রায় ১৭ শতাংশ আসে স্পেসএক্স থেকে।

জোনাস লিখেন, এক স্পেসএক্স আসলে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সমাহার। এটি মহাকাশে অবকাঠামো নির্মাণ, পৃথিবী প্রদক্ষিণ, মহাবিশ্বের অচেনা অঞ্চলে ভ্রমণসহ অসংখ্য সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। এর কল্যাণে তালিকায় যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন খাত।

জোনাসের মতে, স্যাটেলাইটভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবসা স্টারলিংক বর্তমানে স্পেসএক্সের সবচেয়ে বড় প্রকল্প।

টেসলা পুঁজিবাজারে আগের চেয়েও বেশি শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছে যাওয়ায় চলতি বছর মাস্কের ঝুলিতে যোগ হয় ছয় হাজার কোটি ডলারের বেশি সম্পত্তি। আর সম্প্রতি স্পেসএক্সের কিছু শেয়ার বিক্রি করেন তিনি, যার মূল্য ১০ হাজার কোটি ডলার।

ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার সঙ্গে সাম্প্রতিক চুক্তির মাধ্যমে আরও এক হাজার ১০০ কোটি ডলার যুক্ত হয়েছে স্পেসএক্সের ঝুলিতে।

বিশ্বের শীর্ষ ধনী হয়েও অগ্রযাত্রায় থেমে যাননি ইলন মাস্ক। চলতি সপ্তাহেই নতুন একটি রেকর্ড গড়েন তিনি।

বিশ্বের শীর্ষ ১০ ধনকুবেরের তালিকায় থাকা উল্লেখযোগ্য দুই ব্যক্তি বিল গেটস ও ওয়ারেন বাফেটের সম্পত্তির সমপরিমাণ ঝুলিতে পুরেন মাস্ক একাই।

শীর্ষ ধনীর তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে থাকা মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা গেটসের সম্পত্তির মূল্য ১৩ হাজার কোটি ডলার। দশম অবস্থানে থাকা বার্কশায়ার হ্যাথওয়ের প্রধান নির্বাহী বাফেটের আছে ১০ হাজার কোটি ডলারের সম্পত্তি। দুটির যোগফলকেও ছাড়িয়ে গেছে মাস্কের সম্পত্তি।

২০১৭ সাল থেকে বিশ্বের শীর্ষ ধনীর অবস্থানটি ধরে রেখেছিলেন সর্ববৃহৎ অনলাইন মার্কেটপ্লেস অ্যামাজনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেফ বেজোস। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বেজোসকে ছাড়িয়ে শীর্ষ ধনী হন মাস্ক।

বর্তমানে শীর্ষ ধনীর তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বেজোসের সম্পত্তির পরিমাণ ১৯ হাজার কোটি ডলারের বেশি। অর্থাৎ সম্পত্তির দিক থেকে মাস্কের ধারেকাছেও নেই বেজোস, গেটস বা বাফেট।

আরও পড়ুন:
শেখ হাসিনার জন্মদিনে কলকাতায় বই প্রকাশ
আদালত নিয়ে মন্তব্য : সমালোচনায় ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী
জলাবদ্ধ কলকাতা যেন মৎস্য খামার
মণ্ডপে প্রতিমা ভাঙচুর
শিক্ষার্থীদের দাবিতে পূজায় পরীক্ষা বাতিল জবিতে

শেয়ার করুন

দামেস্কে সামরিক বাসে বোমা হামলা, নিহত ১৪

দামেস্কে সামরিক বাসে বোমা হামলা, নিহত ১৪

বাসে হামলার পর ইদলিবে সিরীয় সেনাবাহিনীর গোলাবর্ষণে প্রাণ যায় কয়েকজন স্কুলপড়ুয়া শিশুর। ছবি: এএফপি

বুধবারের হামলার দায় এখনও কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি। তবে সন্দেহের তির আইএসের দিকেই। চলতি বছর সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলে সামরিক যানে হামলা চালিয়েছে গোষ্ঠীটি।

সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের মধ্যাঞ্চলে একটি সামরিক বাসে বোমা হামলা হয়েছে। এতে প্রাণ গেছে কমপক্ষে ১৪ জনের।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক পর্যবেক্ষক সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, প্রাণহানি আরও বাড়তে পারে। কারণ আহতদের অনেকেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।

আল-জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, সিরিয়া প্রায় এক দশকের গৃহযুদ্ধে জর্জরিত হলেও দেশটির রাজধানীতে এ ধরনের হামলা বিরল।

সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানা জানিয়েছে, বুধবার স্থানীয় সময় ভোরে জিসর্ আল-রাইস সেতুর নিচ দিয়ে যাওয়ার পরপরই হামলার শিকার হয় বাসটি। দুটি বোমা বিস্ফোরিত হয় তখন।

২০১৭ সালের মার্চের পর দামেস্কে বুধবারের হামলা সবচেয়ে প্রাণঘাতী ছিল। সাড়ে চার বছর আগের ওই হামলায় নিহত হয়েছিল ৩১ জন। ওই হামলার দায় স্বীকার করেছিল জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)।

বুধবারের হামলার দায় এখনও কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি। তবে সন্দেহের তির আইএসের দিকেই। চলতি বছর সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলে সামরিক যানে হামলা চালিয়েছে গোষ্ঠীটি।

ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, বোমা বিস্ফোরণে পুড়ে ছাই ও দুমড়েমুচড়ে যাওয়া বাসটির জানালা দিয়ে ধোঁয়া বের হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন।

সানা জানিয়েছে, সেতুতে পুঁতে রাখা তৃতীয় একটি বোমার সন্ধান মিলেছে। সেটি নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।

এদিকে বাসে বোমা বিস্ফোরণের কিছুক্ষণ পরই বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে গোলাবর্ষণ করেছে সিরীয় সেনাবাহিনী। এতে নিহত হয়েছে কমপক্ষে আটজন।

এসওএইচআর জানিয়েছে, ইদলিব প্রদেশের আরিহা শহরে এ হামলায় নিহতদের মধ্যে কয়েকজন স্কুলপড়ুয়া শিশুও আছে।

সিরিয়ায় বিদ্রোহী ও জিহাদি গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে থাকা শেষ অঞ্চল ইদলিব। ২০১১ সাল থেকে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতা থেকে উৎখাতের চেষ্টা করে আসছে গোষ্ঠীগুলো।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ১০ বছরের গৃহযুদ্ধে দেশটিতে প্রাণ গেছে সাড়ে তিন লাখ মানুষের। মোট জনগোষ্ঠীর অর্ধেকই সহিংসতায় গৃহহীন। শরণার্থীদের প্রায় ৬০ লাখ বিভিন্ন দেশে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

আরও পড়ুন:
শেখ হাসিনার জন্মদিনে কলকাতায় বই প্রকাশ
আদালত নিয়ে মন্তব্য : সমালোচনায় ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী
জলাবদ্ধ কলকাতা যেন মৎস্য খামার
মণ্ডপে প্রতিমা ভাঙচুর
শিক্ষার্থীদের দাবিতে পূজায় পরীক্ষা বাতিল জবিতে

শেয়ার করুন

আত্মঘাতী হামলাকারীদের পরিবারকে পুরস্কৃত করছে তালেবান

আত্মঘাতী হামলাকারীদের পরিবারকে পুরস্কৃত করছে তালেবান

২০১৫ সালে কাবুলে পার্লামেন্টে আত্মঘাতী হামলা চালায় তালেবান। ফাইল ছবি

তালেবানের মুখপাত্র কারি সাইদ খোস্তি জানান, আত্মঘাতী হামলাকারী তালেবান যোদ্ধাদের পরিবারকে পোশাক এবং ১১১ ডলার বা ১০ হাজার আফগানি মুদ্রা দিয়েছে শাসক দল। ভবিষ্যতে তাদের জমি দেয়ারও আশ্বাস দিয়েছে।

আফগানিস্তানে গত ২০ বছরে আত্মঘাতী বোমা হামলা চালানো যোদ্ধাদের আত্মত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে শাসক দল তালেবান।

তালেবানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আত্মঘাতী যোদ্ধারা বেঁচে না থাকলেও তাদের পরিবারকে নগদ অর্থ ও জমি দিয়ে পুরস্কৃত করা হচ্ছে।

আফগানিস্তানের ক্ষমতাচ্যুত বেসামরিক সরকার ও তাদের পশ্চিমা মিত্রদের ওপর বিভিন্ন সময়ে অগণিত হামলা হয়েছে। হামলা চালাতে গিয়ে নিহত যোদ্ধাদের পরিবারের সদস্যদের দেয়া হচ্ছে এসব পুরস্কার।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিরাজউদ্দিন হাক্কানি আত্মঘাতী হামলা চালানো তালেবান যোদ্ধাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

তালেবানের মুখপাত্র কারি সাইদ খোস্তি জানান, আত্মঘাতী হামলাকারী তালেবান যোদ্ধাদের পরিবারকে পোশাক এবং ১১১ ডলার বা ১০ হাজার আফগানি মুদ্রা দিয়েছে শাসক দল। ভবিষ্যতে তাদের জমি দেয়ারও আশ্বাস দিয়েছে।

রাজধানী কাবুলের ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে মঙ্গলবার আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে এসব পুরস্কার দেন হাক্কানি। ২০১৮ সালে কাবুলের এই অভিজাত হোটেলটিতেও আত্মঘাতী হামলা চালিয়েছিল তালেবান।

ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রীর মুখ ঝাপসা করে দিয়ে অনুষ্ঠানটির বেশ কিছু ছবি প্রকাশ করেছে তালেবান সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ‘আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী’ হিসেবে তালিকাভুক্ত মন্ত্রী সিরাজউদ্দিন হাক্কানিকে হত্যা করতে পারলে এক কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা করে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে এক বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় লিখেছে, ‘অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্যে শহীদ যোদ্ধা ও মুজাহিদিনদের আত্মত্যাগ ও জিহাদের প্রশংসা করেছেন মন্ত্রী। শহীদ যোদ্ধা ও মুজাহিদিনদের তিনি আফগানিস্তান ও ইসলাম ধর্মের বীর বলেও আখ্যায়িত করেছেন।’

তালেবানের সঙ্গে যুক্ত প্রভাবশালী হাক্কানি নেটওয়ার্ক। আফগানিস্তানে দুই দশকের যুদ্ধে সবচেয়ে সহিংস হামলার কয়েকটিতে সরাসরি জড়িত ছিল গোষ্ঠীটি। যুক্তরাষ্ট্রের কালো তালিকায় সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবেও চিহ্নিত হাক্কানি নেটওয়ার্ক।

বর্তমানে তালেবানের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও ভারপ্রাপ্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিরাজুদ্দিন হাক্কানি এই হাক্কানি নেটওয়ার্কের প্রধান। বাবা জালালউদ্দিন হাক্কানির পর সংগঠনটির নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো এফবিআই সিরাজুদ্দিন হাক্কানিকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায়। ২০০৮ সালে কাবুলের একটি হোটেলে সন্ত্রাসী হামলায় এক আমেরিকান নাগরিকসহ ছয়জন নিহতের ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা আছে বলে সন্দেহ এফবিআইয়ের।

আরও পড়ুন:
শেখ হাসিনার জন্মদিনে কলকাতায় বই প্রকাশ
আদালত নিয়ে মন্তব্য : সমালোচনায় ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী
জলাবদ্ধ কলকাতা যেন মৎস্য খামার
মণ্ডপে প্রতিমা ভাঙচুর
শিক্ষার্থীদের দাবিতে পূজায় পরীক্ষা বাতিল জবিতে

শেয়ার করুন

ভারত-নেপালে বন্যায় ৫ দিনে ১২৮ প্রাণহানি

ভারত-নেপালে বন্যায় ৫ দিনে ১২৮ প্রাণহানি

ভারতের উত্তরাখন্ডে বন্যার তোড়ে ভেঙে পড়েছে সেতুটি। আরব সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে প্রতিবেশী নেপালেও দেখা গেছে এমন বন্যা। ছবি: এএফপি

এ বছর বর্ষা মৌসুম পার হয়ে যাওয়ার পর অতিবৃষ্টি হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ দুটিতে। আরব সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে এমন পরিস্থিতি বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। আগামী কয়েক দিনে বৃষ্টি আরও বাড়তে পারে এবং বন্যা ও ভূমিধসে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটতে পারে বলে সতর্ক করেছে প্রশাসন।

ভারত ও নেপালে ভয়াবহ বন্যায় গত পাঁচ দিনে প্রাণ গেছে কমপক্ষে ১২৮ জনের। নিখোঁজ রয়েছে অনেক মানুষ।

অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যা আর ভূমিধসে বিধ্বস্ত হয়েছে সড়ক, বাড়িঘরসহ বিপুলসংখ্যক স্থাপনা।

নিখোঁজদের অনেকেই ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছেন কিংবা পানির তোড়ে ভেসে গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য উত্তরাখন্ডে গত তিন দিনে বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৬ জনে। শুধু মঙ্গলবারই রাজ্যটিতে মারা গেছেন কমপক্ষে ৩০ জন।

প্রাণহানির বড় অংশই পর্যটন শহর নৈনীতালে হয়েছে। বড় ধরনের ভূমিধসে বাড়ি ভেঙে পড়ায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ গেছে একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের। আলমোরা জেলায় বিশাল বিশাল পাথরের খণ্ড আর কাদার স্তূপের নিচে চাপা পড়ে মারা গেছেন আরও পাঁচজন।

এমন পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার আবহাওয়া সতর্কতার পরিসর বাড়ায় ভারতের আবহাওয়া বিভাগ। তারা জানিয়েছে, অঞ্চলটিতে আরও অনেক বেশি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রাজ্যের কয়েকটি এলাকায় সোমবার ৪০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় ৫০০ মিলিমিটার বৃষ্টির পর বিপৎসীমা ছাড়িয়ে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছায় নৈনীতাল হ্রদের পানি।

ঋষিকেশে গঙ্গা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কোসি নদী থেকে উপচে পড়া পানির ঢলে বিভিন্ন রিসোর্টে আটকা পড়েছেন শত শত পর্যটক।

এ অবস্থায় রাজ্যটির সব স্কুল বন্ধ ঘোষণার পাশাপাশি সব ধরনের তীর্থযাত্রা ও পর্যটনকেন্দ্রিক কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশের আগ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে পর্বতারোহণ, ক্যাম্পিংসহ সব ধরনের রোমাঞ্চযাত্রা।

সব মন্দিরে দর্শনার্থীদের প্রবেশ স্থগিত রাখা হয়েছে। বন্ধ রয়েছে বদ্রিনাথ চার ধাম যাত্রা। পথে থাকা বদ্রিনাথ মন্দিরগামী তীর্থযাত্রীদের নিরাপদ আশ্রয়ে নেয়া হয়েছে।

ভূমিধসের ধ্বংসস্তূপ পড়ে থাকায় যান চলাচল বন্ধ বলে ৪৮ ঘণ্টা ধরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন বদ্রিনাথ মহাসড়ক। আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তীর্থযাত্রা স্থগিত রাখার অনুরোধ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী ধামি।

আর দক্ষিণের রাজ্য কেরালায় শুক্রবার থেকে অতিবৃষ্টি, বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা ৩৯ ছুঁয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী পিনারায়ি বিজয়ন। এর মধ্যে বুধবার থেকে বৃষ্টি আরও বাড়তে পারে বলে রয়েছে শঙ্কা।

টাইমস অফ ইন্ডিয়ার পৃথক প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজ্যের বড় অংশে দুই দিন ধরে জারি ছিল ইয়েলো অ্যালার্ট বা তৃতীয় সর্বোচ্চ সতর্কতা। এটি একধাপ বাড়িয়ে অরেঞ্জ অ্যালার্ট বা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সতর্কতায় উন্নীত করা হয়েছে বুধবার।

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে শবরীমালা মন্দিরে রাজ্যের সবচেয়ে বড় তীর্থোৎসব স্থগিত করা হয়েছে।

বন্যার তাণ্ডব চলছে প্রতিবেশী নেপালেও। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ৪৩ জনের। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৩০ জন।

পুলিশের বুধবারের বিবৃতি উল্লেখ করে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, দেশজুড়ে বন্যা হলেও সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে। অনেকেই আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

পুলিশের মুখপাত্র বসন্ত কুনওয়ার জানান, অব্যাহত ভারী বৃষ্টির কারণে নেপালের পশ্চিমাঞ্চলের একটি গ্রামে পৌঁছাতে পারছেন না উদ্ধারকর্মীরা। রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত সেতি নামের গ্রামটিতে দুই দিন ধরে পানিবন্দি ৬০ জন বাসিন্দা।

বাড়িঘরের পাশাপাশি বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে অনেক সেতু ও সড়ক; ভেঙেও গেছে বেশ কয়েকটি। এতে নষ্ট হয়েছে বিপুল পরিমাণ শস্য।

আগামী কয়েক দিনে দেশটিতে বৃষ্টি আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে প্রশাসন।

এ বছর বর্ষার মৌসুম পার হয়ে যাওয়ার পর অতিবৃষ্টি হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ দুটিতে। আরব সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে এমন পরিস্থিতি বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

আরও পড়ুন:
শেখ হাসিনার জন্মদিনে কলকাতায় বই প্রকাশ
আদালত নিয়ে মন্তব্য : সমালোচনায় ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী
জলাবদ্ধ কলকাতা যেন মৎস্য খামার
মণ্ডপে প্রতিমা ভাঙচুর
শিক্ষার্থীদের দাবিতে পূজায় পরীক্ষা বাতিল জবিতে

শেয়ার করুন