শারীরিক পরিশ্রম বাড়ায় আয়ু

শারীরিক পরিশ্রম বাড়ায় আয়ু

দিনে অন্তত সাত হাজার কদম হাঁটলে বেশিদিন বাঁচা যায় বলে সম্প্রতি এক গবেষণায় বলা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

গবেষণায় বলা হয়, সঠিক ধরন ও মাত্রার শারীরিক ক্রিয়াকলাপ ৭০ শতাংশ অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে পারে।

দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে হলে আমাদের দিনে অন্তত সাত হাজার কদম হাঁটা উচিত। আর তা সম্ভব না হলে প্রতি সপ্তাহে আড়াই ঘণ্টার বেশি সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা, জগিং, টেনিস বা ব্যাডমিন্টন খেলা উচিত।

শারীরিক ক্রিয়াকলাপ ও দীর্ঘায়ুর মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে সম্প্রতি দুটি বড় আকারের গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে বলে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়।

গবেষণার অংশ হিসেবে বেশ কিছু সময় ধরে ১০ হাজারের বেশি নারী ও পুরুষের শারীরিক কর্মকাণ্ড লক্ষ্য করা হয়।

এতে বলা হয়, সঠিক ধরন ও মাত্রার শারীরিক ক্রিয়াকলাপ ৭০ শতাংশ অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে পারে।

আগের বেশ কয়েকটি গবেষণায় বলা হয়েছিল, যারা ব্যায়াম বা অন্য কোনো ধরনের পরিশ্রম করেন না, তাদের চেয়ে শারীরিক পরিশ্রম করা ব্যক্তিরা বেশিদিন বাঁচেন।

২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) জানিয়েছিল, ৪০ থেকে ৭০ বছর বয়সী আমেরিকানদের মধ্যে ১০ শতাংশের মৃত্যুর কারণ খুব কম ব্যায়াম করা।

২০১৯ সালে ইউরোপের এক গবেষণায় বলা হয়, দুই দশকের নিষ্ক্রিয়তা নরওয়ের তরুণদের মৃত্যুঝুঁকি দ্বিগুণ করে।

কত কম বা বেশি শারীরিক পরিশ্রম দীর্ঘায়ু করে তা কখনো সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। বেশি ব্যায়াম করলে আয়ু কমে যায় কি না, তাও পরিষ্কার ছিল না।

তবে সাম্প্রতিক দুই গবেষণায় এ বিষয়ে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। চলতি মাসে চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী জামা নেটওয়ার্ক ওপেনে প্রকাশিত প্রথম গবেষণা হাঁটার ওপর জোর দেয়।

আমাদের মধ্যে অনেকে দৈনিক কত কদম হেঁটেছি, তার হিসাব প্রায়ই ফোন ও স্মার্ট ঘড়ির মাধ্যমে নিই। ওই সব ডিভাইস দিনে ১০ হাজার কদম হাঁটার কথা বলে।

তবে স্বাস্থ্যের উন্নতি বা দীর্ঘায়ুর জন্য ১০ হাজার কদম হাঁটার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছে না আধুনিক বিজ্ঞান।

সম্প্রতি ইউনিভার্সিটি অফ ম্যাসাচুসেটস, সিডিসিসহ অন্যান্য সংস্থার গবেষকরা মধ্যবয়সী নারী ও পুরুষের স্বাস্থ্য ও হৃদরোগ নিয়ে গবেষণা করেন।

ওই সব নারী ও পুরুষের বড় অংশ প্রায় ১০ বছর আগে ওই গবেষণায় অংশ নেয়। ওই সময় তারা ৪০ এর কোঠায় ছিলেন। এক সপ্তাহে প্রতিদিন তারা কত কদম হাঁটেন, তা ট্র্যাকারের মাধ্যমে হিসাব করা হয়।

গবেষকরা ২ হাজার ১১০ অংশগ্রহণকারীর স্বাস্থ্যসংক্রান্ত রেকর্ড খতিয়ে দেখেন। তাদের কতজনের মৃত্যু হয়েছে, তাও দেখা হয়।

রেকর্ড বলছে, গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৭২ জন এরই মধ্যে মৃত্যুবরণ করেন।

হাঁটার সঙ্গে মৃত্যুহারের জোরালো সম্পৃক্ততা খুঁজে পান বিজ্ঞানীরা। যেসব নারী ও পুরুষ দিনে কমপক্ষে সাত হাজার কদম হাঁটেন, তাদের মধ্যে মৃত্যু ৫০ শতাংশ কম। আর এর চেয়ে কম হাঁটা ব্যক্তিদের মৃত্যুহার সে তুলনায় বেশি।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ব্রেস্ট ক্যানসার রোধে যুক্তরাষ্ট্রে টিকার ট্রায়াল

ব্রেস্ট ক্যানসার রোধে যুক্তরাষ্ট্রে টিকার ট্রায়াল

যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হচ্ছে ব্রেস্ট ক্যানসার প্রতিরোধী টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল। ছবি: সায়েন্স এলার্ট

ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের টাউসিগ ক্যানসার ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক ও টিকা গবেষণার প্রধান ডা. জি. টমাস বাড বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমরা আশা করছি, এই টিকা ব্রেস্ট ক্যানসার সত্যিকার অর্থে ঠেকাবে। স্বাস্থ্যবান নারীদের এই টিকা দেয়া যাবে, যাতে তাদের শরীরে ট্রিপল-নেগেটিভ ব্রেস্ট ক্যানসারের বিস্তার না ঘটতে পারে। ব্রেস্ট ক্যানসারের এ ধরনের বিরুদ্ধে আমাদের কার্যকর কোনো চিকিৎসা নেই।’

ব্রেস্ট ক্যানসারের সবচেয়ে মারাত্মক ধরনের চিকিৎসায় উদ্ভাবিত টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে।

সায়েন্স এলার্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ঘোষণা করে, ট্রিপল-নেগেটিভ ব্রেস্ট ক্যানসার প্রতিরোধে মানবদেহে এই প্রথম টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হতে যাচ্ছে।

ট্রিপল-নেগেটিভ ব্রেস্ট ক্যানসার সম্প্রতি হরমোন বা নির্দিষ্ট ড্রাগ থেরাপিতে সাড়া দিচ্ছে না। ম্যাসটেক্টমির (ব্রেস্ট কেটে ফেলা) মাধ্যমেই কেবল এই ক্যানসারকে ঠেকানো যাচ্ছে।

ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের ওই ঘোষণার আগে ট্রিপল-নেগেটিভ ব্রেস্ট ক্যানসারের টিকার অগ্রগতি কেবল ল্যাবরেটরি ও প্রাণী গবেষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।

ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হতে যাওয়া ব্রেস্ট ক্যানসারের টিকার জন্য অনুসন্ধানী নতুন ওষুধের অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ)।

ট্রিপল-নেগেটিভ ব্রেস্ট ক্যানসারের প্রাথমিকপর্যায়ে আক্রান্ত হয়ে যারা চিকিৎসার মাধ্যমে বেঁচে গেছেন, শুধু তারাই ওই ট্রায়ালে অংশ নেবেন।

ওই নারীরা ফের ব্রেস্ট ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছেন। টিকা দেয়ার পর তাদের দেহে ক্যানসার আবার বাসা বাঁধছে কি না, তা পরীক্ষা করবেন গবেষকরা।

গবেষকরা আশা করছেন, ক্যানসারের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা স্বাস্থ্যবান নারীদের ওপরও পরবর্তী সময়ে টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চালানো হবে।

ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের টাউসিগ ক্যানসার ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক ও টিকা গবেষণার প্রধান ডা. জি. টমাস বাড বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমরা আশা করছি, এই টিকা ব্রেস্ট ক্যানসার সত্যিকার অর্থে ঠেকাবে।

‘স্বাস্থ্যবান নারীদের এই টিকা দেয়া যাবে, যাতে তাদের শরীরে ট্রিপল-নেগেটিভ ব্রেস্ট ক্যানসারের বিস্তার না ঘটতে পারে। ব্রেস্ট ক্যানসারের এ ধরনের বিরুদ্ধে আমাদের কার্যকর কোনো চিকিৎসা নেই।’

ব্রেস্ট ক্যানসারে আক্রান্ত নারীদের মধ্যে প্রায় ১২ থেকে ১৫ শতাংশ ট্রিপল-নেগেটিভ ব্রেস্ট ক্যানসারে আক্রান্ত হন। শনাক্ত হওয়ার পাঁচ বছরের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ নারীর এই ক্যানসারে মৃত্যু হয়।

আফ্রিকা বংশোদ্ভূত আমেরিকান নারীরা সাধারণত এই ব্রেস্ট ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে থাকেন।

শেয়ার করুন

ষড়যন্ত্র তত্ত্বে বিশ্বাসীদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি: গবেষণা

ষড়যন্ত্র তত্ত্বে বিশ্বাসীদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি: গবেষণা

প্রতীকী ছবি।

গবেষণায় জানা গেছে, ষড়যন্ত্র তত্ত্বের প্রতি অগাধ বিশ্বাস ব্যক্তির আচরণকে প্রভাবিত করে। তারা মহামারিকালীন বিধিনিষেধ মানেননি। টিকা গ্রহণেও অনীহা দেখিয়েছেন। এ কারণেই করোনা নিয়ে ষড়যন্ত্র তত্ত্বে বিশ্বাসী ব্যক্তিদের বড় অংশ কোনো না কোনো সময়ে এতে আক্রান্ত হয়েছেন।

মহামারি করোনা নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র তত্ত্বে যারা বিশ্বাস করেছেন, তাদেরই ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে চমকপ্রদ এ তথ্য।

২০২০ সালের শুরুতে করোনাভাইরাস মহামারির সূচনালগ্ন থেকেই এ নিয়ে অসংখ্য ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়িয়েছে।

বিজ্ঞানবিষয়ক ব্লগ আইএফএল সায়েন্সের একটি নিবন্ধ থেকে জানা যায়, এসব তত্ত্বে বিশ্বাস করার প্রভাব সম্ভবত পড়ছে বিশ্বাসীদের স্বাস্থ্যের ওপর।

সাইকোলজিক্যাল মেডিসিন জার্নালে প্রকাশিত মূল গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনাবিষয়ক ষড়যন্ত্রে যারাই বিশ্বাস করেছেন, তাদের বেশিরভাগই পরবর্তীতে করোনা পজিটিভ হয়েছেন।

গবেষণায় জানা গেছে, ষড়যন্ত্র তত্ত্বের প্রতি অগাধ বিশ্বাস ব্যক্তির আচরণকে প্রভাবিত করে। তারা মহামারিকালীন বিধিনিষেধ মানেননি। টিকা গ্রহণেও অনীহা দেখিয়েছেন।

এ কারণেই করোনা নিয়ে ষড়যন্ত্র তত্ত্বে বিশ্বাসী ব্যক্তিদের বড় অংশ কোনো না কোনো সময়ে এতে আক্রান্ত হয়েছেন। অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষতির শিকারও তারাই বেশি হয়েছেন।

নেদারল্যান্ডসের ভ্রিজে ইউনিভার্সিটেইট অ্যামস্টারডামের একদল বিজ্ঞানী গবেষণাটি করেছেন।

তারা লিখেছেন, ‘যুক্তি ও বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে বিচার করলে বেশিরভাগ ষড়যন্ত্র তত্ত্বই অবিশ্বাস্য। কিন্তু যিনি এ ধারণা গ্রহণ করছেন, তার কাছে এটি গ্রহণযোগ্য বা বাস্তব বলে মনে হলে তার মন-মানসিকতা, আচরণ ও অনুভূতিতে এর প্রভাব পড়ে।’

মনোবিজ্ঞানী জ্যান-উইলেম ভ্যান প্রুইজেনের নেতৃত্বে গবেষণাটি হয়েছে। এ জন্য নেদারল্যান্ডসের পাঁচ হাজার ৭৪৫ জন ব্যক্তির ওপর জরিপ চালানো হয়েছে। প্রথমবার ২০২০ সালের এপ্রিলে, এবং দ্বিতীয়বার আট মাস পরে।

প্রথম জরিপে স্বেচ্ছাসেবীদের কাছে জনপ্রিয় কয়েকটি ষড়যন্ত্র নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। জানতে চাওয়া হয়েছিল যে, করোনাভাইরাস যে জৈব অস্ত্র, নাগরিক অধিকার হরণের কৌশল, অর্থনৈতিক লাভের জন্য ছড়ানো গুজব বা অর্থনৈতিক ধসের খবর ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা- এসব বিষয়ে তাদের বিশ্বাসের মাত্রা কতটা।

এরপর ২০২০ সালের ডিসেম্বরে একই ব্যক্তিদের আবার প্রশ্ন করা হয়। এবার জানতে চাওয়া হয় মহামারি নিয়ে তাদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা কী। প্রশ্নের অন্তর্ভুক্ত ছিল- তারা করোনা পরীক্ষা করিয়েছিলেন কি না, পজিটিভ এসেছিল নাকি নেগেটিভ, তারা করোনাকালীন স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন করেছেন কি না ইত্যাদি।

দুটি জরিপের পর সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, ষড়যন্ত্র তত্ত্বে বিশ্বাসী ব্যক্তিদের ওপর দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাবই বেশি।

পৃথক এক গবেষণায় দেখা গেছে, একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্বনির্ভর ভুয়া চিকিৎসা নিয়ে গত বছর ৮০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

শেয়ার করুন

ফেরিতে ভারসাম্য রাখার ব্যালাস্ট ট্যাংক কী

ফেরিতে ভারসাম্য রাখার ব্যালাস্ট ট্যাংক কী

জলপথে চলাচলের সময় নৌযানের ভারসাম্য রক্ষায় ব্যালাস্ট ট্যাংক লাগানো হয়। আগের দিনে বড় নৌযানে ব্যালাস্ট ট্যাংক হিসেবে ‌বালুভর্তি ব্যাগ, পাথর বা লোহার ব্লক ব্যবহার করা হতো। নৌযানে মালামাল লোড-আনলোড করার সময় এই ট্যাংকগুলোও লোড-আনলোড করা হতো। আধুনিক সময়ের নৌযানে সাধারণত পরিষ্কার পানি বা লবণপানির চেম্বারের ব্যালাস্ট ট্যাংক থাকে।

মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটে শাহ আমানত ফেরিটির ব্যালাস্ট ট্যাংক লিক হওয়ার কারণে হেলে পড়ে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস।

ঘটনাস্থলে থাকা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক দিনোমনি শর্মা জানান, ট্যাংকটি লিক হওয়ায় অতিরিক্ত পানি ঢুকে ফেরিটি কাত হয়ে আংশিক ডুবে যায়।

এই ট্যাংকের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ভারসাম্য রক্ষার জন্য ফেরির নিচের অংশে কিছু চেম্বার থাকে। এগুলোকে ব্যাল্যান্স ট্যাংক বলে। আমরা ধারণা করছি, পানি প্রবেশ করে ভারসাম্য নষ্ট হয়ে ফেরি কাত হয়েছে। তবে এখনও ডিটারমাইন্ড না।’

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা ভারসাম্য রক্ষার চেম্বারকে ‘ব্যাল্যান্স ট্যাংক’ বললেও বিআইডব্লিউটিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম মিশা ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম নিউজবাংলাকে জানান, এটিকে ব্যালাস্ট ট্যাংক বলা হয়। বড় নৌযানে এগুলো ব্যবহার করা হয়।

মেরিন ইনসাইট নামের একটি ওয়েবসাইটে ব্যাল্যাস্ট ট্যাংকের বিষয়ে বলা হয়েছে, জলপথে চলাচলের সময় নৌযানের ভারসাম্য রক্ষায় ব্যালাস্ট ট্যাংক লাগানো হয়। আগের দিনে বড় নৌযানে ব্যালাস্ট ট্যাংক হিসেবে ‌বালুভর্তি ব্যাগ, পাথর বা লোহার ব্লক ব্যবহার করা হতো। নৌযানে মালামাল লোড-আনলোড করার সময় এই ট্যাংকগুলোও লোড-আনলোড করা হতো।

আধুনিক সময়ের নৌযানে সাধারণত পরিষ্কার পানি বা লবণপানির চেম্বারের ব্যাল্যাস্ট ট্যাংক থাকে। নৌযানের আকৃতি বা পণ্যের পরিমাণের ভিত্তিতে ব্যালাস্ট ট্যাংকের পানি কম-বেশি করা হয়।

ব্লগ ডট স্টেনাইল ডটকম ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ব্যালাস্ট শব্দটি এসেছে প্রাচীন নরডিক ভাষার শব্দ বারলাস্ট থেকে। ওই ভাষায় বার শব্দের অর্থ ‘খালি’ এবং লাস্ট অর্থ ‘কার্গো’।

মূলত তিন ধরনের ব্যালাস্ট নৌযানে ব্যবহার করা হয়। একটি হালকা, একটি ভারী ও একটিকে বলে পোর্ট ব্যালাস্ট।

নৌযান যখন পুরোপুরি ভর্তি থাকে তখন অতিরিক্ত ব্যালাস্টের প্রয়োজন হয় না। সে সময় ব্যালাস্ট ট্যাংক খালি রাখা হয়। এটাকে বলে লাইট ব্যালাস্ট।

নৌযান পুরোপুরি ভর্তি না থাকলে তখন ভারসাম্য রক্ষার প্রয়োজন হয়। সে সময় ব্যালাস্ট ট্যাংকে পরিমাণমতো তরল ভর্তি করা হয়। এটিকে তখন বলে হেভি ব্যালাস্ট।

পৃথিবীর অনেক বন্দরে লাইট ও হেভি ব্যালাস্টের নৌযান ভিড়তে দেয়া হয় না। এসব বন্দর থেকে নিজস্ব ব্যালাস্ট সরবরাহ করা হয় বন্দরে ভেড়ার অপেক্ষায় থাকা নৌযানকে। বন্দর থেকে সরবরাহ করা এসব ব্যালাস্টকে বলা হয় ‘পোর্ট ব্যালাস্ট’।

শেয়ার করুন

বস্তুর আকারে ছোট-বড় হয় চোখের মণি

বস্তুর আকারে ছোট-বড় হয় চোখের মণি

বস্তুর সংখ্যার ওপর চোখের মণির আকৃতিতে পরিবর্তন আসে বলে সম্প্রতি জানান বিজ্ঞানীরা। ছবি: শাটারস্টক

অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভারসিটি অফ সিডনির সাইকোলজিস্ট ডেভিড বার বলেন, ‘চারপাশে তাকানোর সময় স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমরা দৃশ্যের গঠন, আকার, চলাচল ও রং উপলব্ধি করতে পারি। ঠিক একইভাবে, চোখের সামনে থাকা বস্তুর সংখ্যাও আমরা উপলব্ধি করি। এই ক্ষমতা যা অন্যান্য প্রাণীর মধ্যেও দেখা যায়, বিবর্তনের একটি মৌলিক দিক।'

আশপাশের পরিবেশ কতটা আলোকিত তার ওপর আমাদের চোখের মণির আকৃতি পরিবর্তন হয়, তা হয়তো অনেকে জানেন। তবে একই সময়ে দেখা বস্তুর সংখ্যার ওপরও যে চোখের মণির আকৃতিতে পরিবর্তন আসে, তা কেউই জানেন না। কারণ এ বিষয়টি বিজ্ঞানীরা সম্প্রতিই জানতে পেরেছেন।

নতুন এক গবেষণা থেকে উঠে আসা তথ্য বলছে, একটি দৃশ্যে বস্তুর আধিক্য চোখের মণির আকার বড় করে, যেন সবকিছু দেখতে চায় মণি, কোনো কিছুই বাদ দিতে চায় না। এটি সহজ ও স্বয়ংক্রিয় এক প্রতিবর্ত ক্রিয়া।

সায়েন্স এলার্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, গবেষণার অংশ হিসেবে বিজ্ঞানীরা ১৬ অংশগ্রহণকারীর চোখের মণির আকৃতি পর্যবেক্ষণ করেন।

অংশগ্রহণকারীদের কয়েকটি সাদা বা কালো ডট বসানো ছবির দিকে তাকাতে বলা হয়। একটি ছবিতে ডটগুলো ছাড়া ছাড়াভাবে রয়েছে। আর অন্য ছবিতে ডটগুলো জোড়া লাগিয়ে ডাম্বেল আকৃতির করা হয়েছে।

গবেষকরা লক্ষ করেন, ছড়ানো ডটের ছবির দিকে তাকানোর সময় অংশগ্রহণকারীদের চোখের মণি বড় হয়ে যায়। আর ডাম্বেল আকৃতির ডটের ছবি এমন এক বিভ্রম তৈরি করে যাতে মনে হয় ডটের সংখ্যা কম, বেশি নয়। এ কারণে অংশগ্রহণকারীদের চোখের মণি ছোট হয়ে যায়।

ইতালির ইউনিভারসিটি অফ ফ্লোরেন্সের সাইকোলজিস্ট ও নিউরোসায়েন্টিস্ট এলিসা ক্যাসটালডি বলেন, ‘গবেষণার ফল জানাচ্ছে, উপলব্ধির সঙ্গে সংখ্যার তথ্যের অন্তর্নিহিত যোগাযোগ রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এ যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যবহারিক তাৎপর্য রয়েছে। যেমন গাণিতিক হিসাব করতে সমস্যায় ভোগা (ডিসক্যালকুলিয়া) শিশুদের ক্ষেত্রে আমাদের নতুন এই জানাবোঝা সহযোগিতা করতে পারে।’

গবেষকরা জানান, দুটি ছবিতে থাকা কালো বা সাদা ডটের সংখ্যার পরিবর্তন করা হয়নি, একই ছিল। তবে একটি ছবিতে এক ডটের সঙ্গে অন্য ডট সংযোগ করায় অংশগ্রহণকারীদের উপলব্ধি ভিন্ন হয়।

চোখের মণির ওই প্রতিবর্ত ক্রিয়ার উৎপত্তি কীভাবে, সে বিষয়ে বিজ্ঞানীদের ভাষ্য, প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার জায়গা থেকেই এমনটার সূচনা হতে পারে।

বেশির ভাগ জীবজন্তুকে বনজঙ্গলে শত্রুর উপস্থিতি টের পেতে, খাবার খুঁজতে বা ঘরে ফিরতে সতর্ক থাকতে হয়। তাদের সংখ্যার বোধ এসব ক্ষেত্রে সহায়তা করে বলে ধারণা করা হয়।

আর জন্ম নেয়ার কয়েক ঘণ্টা পর থেকে মানুষের মধ্যে সংখ্যার উপলব্ধি কাজ করতে শুরু করে। এমনকি অঙ্কে খারাপ হলেও সংখ্যা যাচাই করা ক্ষমতা মানুষের থাকে।

অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভারসিটি অফ সিডনির সাইকোলজিস্ট ডেভিড বার বলেন, ‘চারপাশে তাকানোর সময় স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমরা দৃশ্যের গঠন, আকার, চলাচল ও রং উপলব্ধি করতে পারি।

‘ঠিক একইভাবে, চোখের সামনে থাকা বস্তুর সংখ্যাও আমরা উপলব্ধি করি। এই ক্ষমতা যা অন্যান্য প্রাণীর মধ্যেও দেখা যায়, বিবর্তনের একটি মৌলিক দিক।

‘এর মাধ্যমে গাছে কয়টি আপেল ঝুলছে বা কতজন শত্রু আক্রমণ করছে, এমন আরও গুরুত্বপূর্ণ অসংখ্য বিষয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়।’

শেয়ার করুন

মহাকাশে ‘অফিসপাড়া’ খুলবেন অ্যামাজন প্রতিষ্ঠাতা

মহাকাশে ‘অফিসপাড়া’ খুলবেন অ্যামাজন প্রতিষ্ঠাতা

'অরবিটাল রিফের' কাল্পনিক চিত্র। ছবি: ব্লু ওরিজিন

‘বিজনেস পার্ক’ খ্যাত মহাকাশকেন্দ্রটির ব্যবহার হবে বহুমুখী এবং একসঙ্গে ১০ জন মানুষ সেখানে অবস্থান করতে পারবে। মহাকাশকেন্দ্রটির আয়তন হবে ৩২ হাজার বর্গফুট।

মহাকাশে একটি বাণিজ্যিক স্টেশন চালু করার পরিকল্পনা করছেন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী জেফ বেজোস। তার মালিকানাধীন মহাকাশ পর্যটন সংস্থা ব্লু ওরিজিনের ভবিষ্যৎ এ প্রকল্পটি হবে মূলত মহাকাশভিত্তিক একটি ‘অফিসপাড়া’।

বিশ্বের সর্ববৃহৎ অনলাইন মার্কেটপ্লেস অ্যামাজন ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা বেজোস।

ব্লু ওরিজিন সোমবার কথিত ‘স্পেস বিজনেস পার্ক’টি নির্মাণ পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। চলতি দশকের শেষভাগেই চালু হতে পারে এটি, যার নাম হবে ‘অরবিটাল রিফ’। অরবিটাল রিফের বাংলা করলে দাঁড়ায় ‘মহাকাশের প্রবালপ্রাচীর’।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, এরই মধ্যে অরবিটাল রিফের প্রচার শুরু করেছে ব্লু ওরিজিন। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ‘বিজনেস পার্ক’ খ্যাত মহাকাশকেন্দ্রটির ব্যবহার হবে বহুমুখী এবং একসঙ্গে ১০ জন মানুষ সেখানে অবস্থান করতে পারবে। মহাকাশকেন্দ্রটির আয়তন হবে ৩২ হাজার বর্গফুট।

অরবিটাল রিফ ‘মাধ্যাকর্ষণবিহীন পরিবেশে চলচ্চিত্র নির্মাণ ও অত্যাধুনিক গবেষণার জন্য আদর্শ পরিবেশ’ নিশ্চিত করবে বলে জানিয়েছে ব্লু ওরিজিন। একই সঙ্গে মহাকাশে আতিথেয়তা দিতে একটি ‘স্পেস হোটেল’ও থাকবে এতে।

এটি নির্মাণে আরও দুটি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা নেবে ব্লু ওরিজিন। প্রতিষ্ঠান দুটি হলো সিয়েরা স্পেস ও বোয়িং।

প্রকল্পটির উদ্বোধন ঘোষণায় আয়োজিত সংবাদ সম্মলনে উপস্থিত ছিলেন ব্লু ওরিজিন ও সিয়েরা স্পেসের শীর্ষ কর্মকর্তারা। এর সম্ভাব্য নির্মাণব্যয় কত, সে বিষয়ে তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান তারা।

ধারণা করা হচ্ছে, প্রকল্পের বড় অংশের খরচই দেবেন বেজোস। ব্লু ওরিজিনের পেছনে বছরে ১০০ কোটি ডলার খরচের প্রতিশ্রুতি আগেই দিয়েছেন তিনি।

আন্তর্জাতিক মহাকাশকেন্দ্র আইএসএস মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পথে থাকায় সম্প্রতি নতুন স্পেস স্টেশন নির্মাণের প্রস্তাব চেয়েছে নাসা। তবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মহাকাশ গবেষণা সংস্থাটি অন্তত ২০৩০ সাল পর্যন্ত আইএসএসের জন্য তহবিল দিয়ে যাবে বলেও নিশ্চিত করেছে। আইএসএসের বিভিন্ন অংশের জরুরি মেরামত দরকার।

মেয়াদোত্তীর্ণ যন্ত্রের কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় আইএসএস থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বেরিয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে রাশিয়া।

প্রতিক্রিয়ায় চলতি বছরের শুরুতেই আইএসএস প্রতিস্থাপনের উদ্যোগ নেয় নাসা। এ জন্য বেসরকারি মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ৪০ কোটি ডলারের চুক্তির পরিকল্পনার কথাও জানায়। উচ্চাভিলাষী এ প্রকল্পের অংশ হতে তুমুল প্রতিযোগিতায় নেমেছে বেজোসের ব্লু ওরিজিন, বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের স্পেসএক্সের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো।

২০২৭ সালের মধ্যে কক্ষপথের নিম্নভাগে একটি স্পেস স্টেশন চালু করার ঘোষণা দিয়েছে ন্যানোর‍্যাকস, ভোয়েজার স্পেস ও লকহিড নামের তিনটি প্রতিষ্ঠান। এ লক্ষ্যে চলতি সপ্তাহের শুরুতে যৌথ প্রকল্পের ঘোষণাও দিয়েছে তারা।

শেয়ার করুন

অস্ট্রেলিয়ার ডাইনোসরটি তৃণভোজী

অস্ট্রেলিয়ার ডাইনোসরটি তৃণভোজী

অস্ট্রেলিয়ায় পাওয়া পায়ের চিহ্ণগুলো ভীতু, লম্বা গলার তৃণভোজী এক ডাইনোসরের বলে সম্প্রতি জানান বিজ্ঞানীরা। ছবি: সায়েন্স এলার্ট

বিজ্ঞানীদের ভাষ্য, পায়ের চিহ্নগুলো ট্রায়াসিক যুগের কোনো ভয়ংকর শিকারি প্রাণীর হওয়ার সম্ভাবনা কম। এটি ছোট আকৃতির ও কম আক্রমণাত্মক কোনো তৃণভোজী ডাইনোসরের।

ষাটের দশকে অস্ট্রেলিয়ার ইপসউইচ শহরের এক কয়লাখনিতে ২২০ মিলিয়ন বছর আগের এক প্রাণীর পায়ের চিহ্ন পাওয়া যায়। সে সময় ধারণা করা হয়েছিল, ওই প্রাণীটি বিশালকৃতির মাংসাশী কোনো ডাইনোসরের।

সম্প্রতি ওই পায়ের চিহ্ন নিয়ে ফের গবেষণা করেন বিজ্ঞানীরা। গবেষণা শেষে তারা এ সিদ্ধান্তে পৌঁছান, পায়ের চিহ্নগুলো মাংসাশী কোনো ডাইনোসরের নয়। বরং সেগুলো ভীতু, লম্বা গলার তৃণভোজী কোনো ডাইনোসরের।

মূল পায়ের চিহ্ন আরও গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে এসব মতামত দেন বিজ্ঞানীরা।

এ ছাড়া ডাইনোসরের অন্যান্য প্রজাতির পায়ের চিহ্নের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়াতে পাওয়া ওই প্রাণীর পায়ের চিহ্ন তুলনার মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছান বলে সায়েন্স এলার্টের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞানীদের ভাষ্য, পায়ের চিহ্নগুলো ট্রায়াসিক যুগের কোনো ভয়ংকর শিকারি প্রাণীর হওয়ার সম্ভাবনা কম। এটি ছোট আকৃতির ও কম আক্রমণাত্মক কোনো তৃণভোজী ডাইনোসরের।

তবে ওই ডাইনোসর ঠিক কোন প্রজাতির, সে বিষয়ে নিশ্চিত নন বিজ্ঞানীরা।

অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অফ কুইন্সল্যান্ডের প্যালিওনটোলজিস্ট অ্যান্থনি রোমিলিও বলেন, ‘বহু বছর ধরে বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করতেন, ওই পায়ের চিহ্ন বিশাল এক শিকারি প্রাণীর, যার পা দুই মিটারের বেশি দীর্ঘ এবং এটি ডাইনোসরের ইউব্রোনটেস গোত্রের।’

তিনি বলেন, ‘ওই বক্তব্য কয়েক দশক ধরে বিজ্ঞানী মহলে ব্যাপক আলোড়ন তোলে। কারণ ট্রায়াসিক যুগে কোনো মাংসাশী ডাইনোসরের এত লম্বা পায়ের অস্তিত্ব এর আগে জানা যায়নি।

‘আমাদের সাম্প্রতিক গবেষণায় জানা গেছে, ওই পায়ের চিহ্ন ডাইনোসরের ইভাজোয়াম গোত্রের। এ গোত্রের ডাইনোসরের আকৃতি একটু ছোট। তৃণভোজী এসব প্রাণীর পা প্রায় ১.৪ মিটার দীর্ঘ। এদের শরীরের দৈর্ঘ্য ৬ মিটার।’

শেয়ার করুন

রেললাইন নির্মাণের সময় বেরিয়ে এলো মায়া সভ্যতার শিল্পকর্ম

রেললাইন নির্মাণের সময় বেরিয়ে এলো মায়া সভ্যতার শিল্পকর্ম

সম্প্রতি মেক্সিকোর মায়া সভ্যতার শিল্পকর্ম আবিষ্কার করেন দেশটির প্রত্নতাত্ত্বিকরা। ছবি: আইএনএএইচ

মেক্সিকোর জাতীয় নৃতত্ত্ব ও ইতিহাস সংস্থার (আইএনএএইচ) পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ‘মায়া রেললাইনে গবেষকরা এখন পর্যন্ত প্রায় আড়াই হাজার প্রাক-হিস্পেনিক কাঠামো, ৮০টি কবরস্থান, হাজার হাজার সিরামিকের পাত্র ও খণ্ড আবিষ্কার করেছেন।

মেক্সিকোতে প্রায় দেড় হাজার বছর আগের মায়া সভ্যতার শত শত শিল্পকর্ম সম্প্রতি আবিষ্কার করেছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা। দেশটির ইয়ুকাতান পেনিনসুলায় নির্মাণাধীন একটি রেল প্রকল্পে ওই সব শিল্পকর্মের খোঁজ মেলে বলে জানান তারা।

সিএনএনের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

মেক্সিকোর জাতীয় নৃতত্ত্ব ও ইতিহাস সংস্থার (আইএনএএইচ) পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ‘মায়া রেললাইনে গবেষকরা এখন পর্যন্ত প্রায় আড়াই হাজার প্রাক-হিস্পেনিক কাঠামো, ৮০টি কবরস্থান, হাজার হাজার সিরামিকের পাত্র ও খণ্ড আবিষ্কার করেছেন।’

জিপিএস জিওরেফারেন্সিং, স্যাটেলাইট টোপোগ্রাফিক ইমেজ ও এলআইডিএআর সেন্সরের সাহায্যে ওই শিল্পকর্মগুলোর সন্ধান পাওয়া যায়।

আইএনএএইচের প্রত্নতত্ত্ববিদ ইলিয়েনা ইচাউরি পেরেজ ও ইলিয়ানা অ্যানকোরা আরাগন বলেন, ‘প্রত্নতাত্ত্বিক শিল্পকর্মগুলো কয়েক শতাব্দী আগের মায়া সভ্যতার মানুষের দৈনন্দিন জীবন, বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক বিনিময় সম্পর্ক সম্বন্ধে আমাদের জ্ঞান আরও বিস্তৃত করবে।’

আইএনএএইচের পক্ষ থেকে বলা হয়, সদ্যো-আবিষ্কৃত শিল্পকর্মগুলো কয়েকজন গবেষকের মধ্যে বিশেষ আগ্রহের জন্ম দিয়েছে। প্রোটোক্লাসিক যুগের নারীর স্তনের মতো দেখতে একটি পাত্র এগুলোর মধ্যে অন্যতম।

প্রত্নতাত্ত্বিকরা মনে করছেন, মায়া সভ্যতার ক্ষমতাসীন অভিজাত শ্রেণি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বা ধর্মীয় আলোচনার সময় ওই সব পাত্র ব্যবহার করত। চকলেট ও সুগন্ধি দ্রব্যের মতো মূল্যবান তরল পদার্থ পাত্রগুলোতে রাখা হতো।

গবেষকদের প্রাথমিক বিশ্লেষণ বলছে, খ্রিষ্টের জন্মের ৭০০ বছর আগে (মধ্য প্রিক্লাসিক যুগ) থেকে খ্রিষ্টের জন্মের সাড়ে আট শ বছর (ক্লাসিক যুগের শেষে) পর পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে মায়া সভ্যতা টিকে ছিল।

গবেষকরা বলেন, ‘রেললাইনটি নির্মাণের ফলে মায়া সভ্যতা ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার পথ উন্মোচিত হয়েছে। মেক্সিকোর যেসব অঞ্চলে ওই রেললাইন বসানো হবে, সেখানে আরও পুরাকীর্তি আবিষ্কারের সম্ভাবনার পাশাপাশি মায়া সভ্যতা সম্পর্কে আমাদের জানাবোঝা আরও বাড়বে।’

অবশ্য রেললাইন প্রকল্প নিয়ে সমালোচকদের ভাষ্য, এ প্রকল্প সম্ভাব্য প্রত্নতাত্ত্বিক জায়গা ও পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

এ বিষয়ে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ম্যানুয়েল লোপেজ ওব্রাদর জানান, পাঁচটি অঙ্গরাজ্যের ভেতর দিয়ে যাওয়া রেললাইন প্রকল্প এমনভাবে করা হয়েছে, যাতে পরিবেশের কোনো ক্ষতি না হয়। এ ছাড়া এর মাধ্যমে পর্যটন শিল্পেরও বিকাশ ঘটবে।

শেয়ার করুন