ইতালিতে ভবনের ওপর বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৮

ইতালিতে ভবনের ওপর বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৮

মিলানের একটি খালি ভবনের ওপর আছড়ে পড়ে বিমানটি। ছবি: বিবিসি

বিমান আছড়ে পড়ার পর আগুন ধরে যাওয়ায় পুড়ে গেছে ভবনের কাছেই অবস্থিত স্যান ডোনাটো মিলানিজ মেট্রো স্টেশনে অপেক্ষারত কয়েকটি খালি গাড়ি।

ইতালির মিলানে একটি পরিত্যক্ত ভবনের ওপর ছোট বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে প্রাণ গেছে আট আরোহী সবার।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, মিলানের লিনাতে বিমানবন্দর থেকে রওনা হয়েছিল বিমানটি, গন্তব্য ছিল সার্ডিনিয়া দ্বীপ। উড্ডয়নের পরপর শহরের উপকণ্ঠে ভূপতিত হয় বিমানটি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দোতলা একটি খালি অফিস ভবনের ওপর আছড়ে পড়ে বিমানটি। বিশাল শব্দে বিস্ফোরণের পরই সেটিতে আগুন ধরে যায় এবং ঘন ধোঁয়ায় আকাশ ছেয়ে যায়।

বিমানটির আছড়ে পড়ার তীব্রতায় আশপাশের এলাকায় মৃদু কম্পনও অনুভূত হয়।

নিহতদের মধ্যে একটি বাচ্চা ছেলেও ছিল বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে।

রাই টেলিভিশন জানিয়েছে, আরোহীরা সবাই ফরাসি ছিলেন। তবে স্থানীয় প্রশাসন এ বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।

বিমান আছড়ে পড়ার পর আগুন ধরে যাওয়ায় পুড়ে গেছে ভবনের কাছেই অবস্থিত স্যান ডোনাটো মিলানিজ মেট্রো স্টেশনে অপেক্ষারত কয়েকটি খালি গাড়ি।

জানা গেছে, ভবনটি নির্মাণাধীন ছিল। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা।

বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার কারণ জানা যায়নি।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

পাকিস্তানে বিয়ের পরও এনআইডিতে রাখা যাবে বাবার নাম

পাকিস্তানে বিয়ের পরও এনআইডিতে রাখা যাবে বাবার নাম

পাকিস্তানি নারীরা এখন বিয়ের পর জাতীয় পরিচয়পত্রে বাবার নাম রাখতে পারবেন। ছবি: নিউ কানাডিয়ান মিডিয়া

সম্মেলনে নাদরার চেয়ারপারসন তারিক মালিক বলেন, ‘স্বামীর নাম রাখার বাধ্যতামূলক অনানুষ্ঠানিক ওই নীতি আমরা বাতিল করছি। জাতীয় পরিচয়পত্রে বিয়ের পর নারীরা বাবার নাম রাখবেন নাকি স্বামীর নাম রাখবেন-এ সিদ্ধান্ত এখন তাদের।’

জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) বিয়ের পর বাবার নাম ফেলে দিয়ে স্বামীর নাম রাখার নারীদের যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে, সেখান থেকে সরে আসছে পাকিস্তান। নারীরা চাইলে এখন বিয়ের পরও জাতীয় পরিচয়পত্রে তাদের বাবার নাম রাখতে পারবেন।

পাকিস্তানের ন্যাশনাল ডেটাবেজ অ্যান্ড রেজিস্ট্রেশন অথরিটির (নাদরা) চেয়ারপারসন তারিক মালিক শুক্রবার ১৪তম বার্ষিক গ্রামীণ নারী সম্মেলনের শেষ অধিবেশনে এ ঘোষণা দেন।

সম্মেলনে মালিক বলেন, ‘স্বামীর নাম রাখার বাধ্যতামূলক অনানুষ্ঠানিক এই নীতি আমরা বাতিল করছি। জাতীয় পরিচয়পত্রে বিয়ের পর নারীরা বাবার নাম রাখবেন নাকি স্বামীর নাম রাখবেন-এ সিদ্ধান্ত এখন তাদের।

‘এ সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে নারীর, তার স্বামীর নয়।’

নাদরার চেয়ারপারসন মালিক বলেন, ‘জাতীয় পরিচয়পত্র থেকে বিয়ের পর বাবার নাম বাদ দিয়ে স্বামীর নাম রাখার সংস্কৃতি নীতি বাস্তবায়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা করেছেন।

‘বিয়ের পর পরিচয়পত্রে স্বামীর নাম রাখতেই হবে এমন কোনো কিছু আইনে বলা নেই। স্বামীর অনুমতি নিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র হালনাগাদ করতে নারীদের বাধ্য করার কথাও কেউ বলেনি। তবে অনানুষ্ঠানিক এ নিয়ম আমাদের দেশে চলে আসছে।’

মালিক বলেন, ‘জাতীয় পরিচয়পত্র প্লাস্টিকের কোনো টুকরো নয়। এটি ভোট দেয়া, মামলা করা, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলাসহ সব ধরনের সরকারি সুবিধা দিতে সহায়তা করে। এটি নারী ক্ষমতায়নের অন্যতম উৎস।’

মালিক রোববার ডনকে বলেন, ‘আগের নীতি অনুযায়ী, বিয়ের পর নারীদের জাতীয় পরিচয়পত্রে স্বামীর নাম যুক্ত করা বাধ্যতামূলক।

‘নতুন নীতিতে নারীরা বিয়ের পর বাবার নামই রাখবেন নাকি এর জায়গায় স্বামীর নাম বসাবেন, এটা এখন তাদের ওপর নির্ভর করছে।

‘এমনকি বিয়ের পর নারীরা চাইলে জাতীয় পরিচয়পত্রে নিজের নামের সঙ্গে স্বামীর নাম যুক্ত করতে পারবেন। তবে সেক্ষেত্রে তার নিচে বাধ্যতামূলকভাবে তাদের বাবার নামও রাখতে হবে।’

‘এটি যুগান্তকারী এক পরিবর্তন। এটি জাতীয় পরিচয়পত্রকে ঘিরে নারীদের তাদের মর্জিমাফিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে।’

শেয়ার করুন

বেসামরিক হত্যায় কাশ্মীরি জড়িত নয়: ফারুক আব্দুল্লাহ

বেসামরিক হত্যায় কাশ্মীরি জড়িত নয়: ফারুক আব্দুল্লাহ

কাশ্মীরে বেসামরিক নাগরিক হত্যায় কাশ্মীরিদের সংশ্লিষ্টতা নেই বলে জানান জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আব্দুল্লাহ। ছবি: আউটলুক

জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আব্দুল্লাহ বলেন, ‘সাম্প্রতিক এসব হত্যা দুঃখজনক। চক্রান্ত করে এসব ঘটানো হয়েছে। কাশ্মীরের সাধারণ জনগণ কোনোভাবেই এসব হামলায় জড়িত নয়।’

কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু-কাশ্মীরে বেসামরিক নাগরিক হত্যায় কাশ্মীরের সাধারণ মানুষ জড়িত নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল কনফারেন্সের (জেকেএনসি) প্রেসিডেন্ট ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আব্দুল্লাহ।

কাশ্মীরিদের নামে কুৎসা রটাতে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে সাম্প্রতিক হামলাগুলো চালানো হয় বলেও জানান তিনি।

কাশ্মীরের বর্ষীয়ান নেতা ফারুক রোববার সাংবাদিকদের কাছে এসব মন্তব্য করেন বলে এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ফারুক আব্দুল্লাহ বলেন, ‘কেন্দ্রশাসিত জম্মু-কাশ্মীরের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিনষ্ট করার চেষ্টার লক্ষ্যে সম্প্রতি এই হামলাগুলো হয়।’

তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক এসব হত্যা দুঃখজনক। চক্রান্ত করে এসব ঘটানো হয়েছে। কাশ্মীরের সাধারণ জনগণ কোনোভাবেই এসব হামলায় জড়িত নয়।’

শনিবার জম্মু-কাশ্মীরের শ্রীনগর ও পুলওয়ামা জেলায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে বিহারের দুই শ্রমিক নিহত হন।

কাশ্মীরে ২ অক্টোবর থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত পৃথক ঘটনায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের চার সদস্যসহ ১১ বেসামরিক নাগরিক সন্ত্রাসী হামলায় প্রাণ হারান।

ওই সব ঘটনায় কাশ্মীরজুড়ে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ে উপদেষ্টা পর্যায়ের বৈঠক বিষয়ে ফারুক জানান, দুই দেশের বন্দুত্বপূর্ণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় যেকোনো উদ্যোগকে স্বাগতম।

তিনি বলেন, ‘ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যাতে মৈত্রীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে, আমাদের তা প্রার্থনা ও আশা করা উচিত। এটি হলে আমরা শান্তিতে বসবাস করতে পারব।’

জি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরে জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসী হামলায় ৩০ জন বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু হয়।

সাম্প্রতিক হামলার পর জম্মু-কাশ্মীরজুড়ে এখন পর্যন্ত ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ সন্দেহে প্রায় ৯০০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতীয় পুলিশ।

পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে ভারতের নিরাপত্তা বাহিনী। পুলিশের ভাষ্য, গত এক সপ্তাহে ১৪ জন ‘সন্ত্রাসীকে’ হত্যা করা হয়েছে।

পুলিশের মহাপরিদর্শক বিজয় কুমার বলেন, ‘বেসামরিক নাগরিকের প্রাণহানির পর ১৩ সন্ত্রাসী পুলিশের সঙ্গে ৯টি সংঘর্ষে মারা গেছে। আমরা ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ে শ্রীনগরে পাঁচ সন্ত্রাসীর মধ্যে তিনজনকে হত্যা করতে সক্ষম হই।’

শেয়ার করুন

সংসারও ভাঙল সবচেয়ে দুর্ভাগ্যবান ব্রিটিশ দম্পতির

সংসারও ভাঙল সবচেয়ে দুর্ভাগ্যবান ব্রিটিশ দম্পতির

লটারির অর্থ পেতে চলেছেন এই আনন্দে রিচার্ড ব্রেনসনের ব্যক্তিগত দ্বীপে বিলাসবহুল এক সফরে গিয়েছিলেন টট দম্পতি।

মার্টিন আর কাই ভেবেছিলেন, মুহূর্তের মধ্যেই তাদের জীবন বদলে যেতে বসেছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের শুরুটা ছিল এখানেই।

২০ বছর ধরেই সবচেয়ে দুর্ভাগ্যবান দম্পতির বিশেষণ নিয়ে বসবাস করছিলেন মার্টিন আর কাই টট। এবার তারা সেই দাম্পত্য জীবনের ইতি ঘটালেন।

রোববার রাতে ব্রিটিশ গণমাধ্যম ‘মিরর’ এ খবর জানিয়েছে।

২০ বছর আগে ইংল্যান্ডের ওয়াটফোর্ডে একটি দুই বেডরুমের ছিমছাম বাড়িতে বাস করতেন মার্টিন আর কাই। খুব সাধারণ আর শান্তিপূর্ণ জীবন ছিল তাদের।

দুজনের রোমাঞ্চ ছিল তখন তুঙ্গে। এখানে-ওখানে ঘোরাঘুরি আর হৈ-হুল্লোড় ছাড়াও প্রতি সপ্তাহেই তারা লটারির টিকিট কিনতেন। সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখতেন। কিন্তু কে জানত, এই লটারির টিকিটেই রচিত হবে তাদের দুর্ভাগ্যের কাহিনি।

প্রতি সপ্তাহেই তারা একই নম্বরের টিকিট কিনতেন। আর মিলিয়েও দেখতেন সপ্তাহে সপ্তাহে। বলা যায়, মাত্র একটি সপ্তাহেই তারা তাদের টিকিট মিলিয়ে দেখেননি।

আশ্চর্যের ব্যাপার হলো যে সপ্তাহে তারা টিকিট মেলাননি, সেই সপ্তাহেই তারা জিতে গিয়েছিলেন ৩.১ মিলিয়ন পাউন্ডের লটারি! বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৩৬ কোটি টাকারও বেশি। ২০ বছর আগের হিসাবে এই অর্থের মূল্য আরও অনেকাংশেই বেড়ে যায়।

সেবার ড্রয়ের পর কেউ লটারি জয়ের দাবি না করায় কিছুটা অবাকই হয়েছিল যুক্তরাজ্যের জাতীয় লটারি সংস্থা ক্যামোলেট। দীর্ঘ ছয় মাস অপেক্ষার পর সংস্থাটির পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে একটি বিজ্ঞপ্তিও ছাপা হয়। যেখানে সেই সপ্তাহের লটারি বিজয়ীকে টিকিট দেখিয়ে প্রাপ্য অর্থ সংগ্রহ করতে বলা হয়।

এই বিজ্ঞপ্তি দেখেই চোখ কপালে উঠে যায়, মার্টিন ও কাই দম্পতির। তারা অবাক বিস্ময়ে দেখেন- এটি সেই নম্বর, যা তারা প্রতি সপ্তাহেই কিনছেন।

মার্টিন আর কাই ভাবলেন, মুহূর্তের মধ্যেই তাদের জীবন বদলে যেতে বসেছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের শুরু ছিল এখানেই। কারণ সারা বাড়ি তন্ন তন্ন করেও তারা তাদের সেই টিকিটটি আর খুঁজে পাননি। হয়তো বহু পুরোনো টিকিটের মতো এটিও কোথাও ফেলে দিয়েছিলেন।

কিন্তু জাতীয় লটারি সংস্থা তাদের একটি সুযোগ দেয় এবং বলে, যদি তারা প্রমাণ করতে পারেন যে, ওই নম্বরের টিকিটটিই কিনেছিলেন তবে তাদের পুরস্কারের অর্থ দেয়া হবে।

যেহেতু তারা একই নম্বরের টিকিট কিনতেন তাই লটারি কর্তৃপক্ষও বুঝতে পারে- টট দম্পতি সত্যি কথাই বলছেন। বিশেষ এই নম্বরটি ছিল মূলত টট দম্পতির জন্মতারিখ, বয়স, তাদের প্রথম দেখা হওয়া আর বাগদানের তারিখের সংখ্যাগুলো মিলিয়ে।

কিন্তু লটারি সংস্থা ছিল নিয়মে বাঁধা। সংস্থাটির শর্ত অনুযায়ী, কোনো বিজয়ী তার টিকিটটি হারিয়ে ফেললে তাকে অবশ্যই ৩০ দিনের মধ্যে কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। তাই ছয় মাস পার হয়ে যাওয়ায় বিজয়ীর হাতে অর্থ তুলে দেয়া তাদের পক্ষে আর সম্ভব ছিল না।

এদিকে টট দম্পতি যখন আইনি লড়াই করছিলেন, তখনও তারা নিশ্চিত ছিলেন যে লটারির টাকা তাদের হাতে আসতে চলেছে। তারা তাদের সঞ্চিত অর্থ উড়াতে শুরু করেছিলেন। এমনকি কয়েক দিনের জন্য এক বিলাসবহুল সফরে তারা ব্রিটিশ বিলিয়নিয়ার রিচার্ড ব্রেনসনের ব্যক্তিগত দ্বীপও ঘুরে আসেন। সেই সময় ব্রেনসন এমনকি তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারও টট দম্পতির পক্ষে কথা বলেছিলেন। কিন্তু এসবই শেষ পর্যন্ত বাজে খরচের খাতায় চলে যায়।

এমন দুর্ভাগ্যের স্মৃতি নিয়েই মার্টিন আর কাই প্রায় দুই দশক কাটিয়ে দিয়েছেন। বিচ্ছেদের মধ্য দিয়ে এবার শুরু হলো তাদের নতুন আরেক জীবন।

শেয়ার করুন

কেরালায় বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২১, নিখোঁজ বহু

কেরালায় বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২১, নিখোঁজ বহু

কেরালায় ভারী বর্ষণে ছয় জন প্রাণ হারায়। ছবি: ইন্ডিয়া টিভি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টুইটারে লিখেছেন, ‘এটা দুঃখজনক যে কেরালায় ভারী বৃষ্টি ও ভূমিধসের কারণে কিছু মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা। আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করার জন্য কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। আমি সবার নিরাপত্তা ও সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছি।’

ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কেরালায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ জনে। নিখোঁজ অনেকে।

উদ্ধারকাজে প্রশাসনকে সাহায্য করছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ)। ইতোমধ্যে মধ্য ও দক্ষিণ কেরালায় এনডিআরএফের ১১টি দল পাঠানো হয়েছে। রাজ্য সরকারের অনুরোধে উদ্ধারকাজে যোগ দিয়েছে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী।

চলতি সপ্তাহের শুরু থেকে কেরালায় অতিবৃষ্টি চলছে। একাধিক জায়গায় নেমেছে বাঁধভাঙা ঢল। পাঠানামথিত্তা, কোট্টায়াম, এর্নাকুলাম, ইদুক্কি, ত্রিচূর এবং পালাক্কাদ জেলাগুলোকে রেড অ্যালার্টে রাখা হয়েছে। এর বাইরে তিরুবনন্তপুরম, কোল্লাম, আলাপ্পুঝা, মালাপ্পুরাম, কোজিকোড আর ওয়াইনাদ জেলায় কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

কেরালার কিছু অংশে ভারি বৃষ্টির কারণে ইদুক্কি এবং কোট্টায়াম জেলায় কয়েকটি ভূমিধস হয়েছে।

আবহাওয়া বিভাগ ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি জারি থাকবে বলে আভাস দেয়া হয়েছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টুইট করে বন্যায় নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

তিনি লিখেছেন, ‘এটা দুঃখজনক যে কেরালায় ভারী বৃষ্টি ও ভূমিধসের কারণে কিছু মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা। আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করার জন্য কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। আমি সবার নিরাপত্তা ও সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছি।’

মোদি কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের সাথেও রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন।

ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ টুইটারে লিখেছেন, ‘ভারী বৃষ্টি ও বন্যার প্রেক্ষিতে আমরা কেরালার কিছু অংশের পরিস্থিতি ক্রমাগত পর্যবেক্ষণ করছি। অভাবী মানুষকে সাহায্য করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার সব ধরনের সহায়তা দেবে।’

কংগ্রেস নেতা ও কেরালার ওয়াইনাদ আসনের এমপি রাহুল গান্ধী টুইট করেছেন, ‘আমার প্রার্থনা কেরালার মানুষের সঙ্গে আছে। দয়া করে নিরাপদ থাকুন এবং সব সুরক্ষা সতর্কতা অনুসরণ করুন।’

শেয়ার করুন

ইয়েমেনে সৌদি জোটের বিমান হামলায় নিহত ১৬০

ইয়েমেনে সৌদি জোটের বিমান হামলায় নিহত ১৬০

ইয়েমেনের যুদ্ধক্ষেত্রে বিশ্ব সম্প্রদায়-সমর্থিত সরকারের প্রতি বিশ্বস্ত এক যোদ্ধা। ছবি: এএফপি

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মারিবের ১৩৯টি শরণার্থী শিবিরে ঠাঁই নিয়ে আছে প্রায় ২২ লাখ মানুষ। তাদের বেশির ভাগই দ্বিতীয়বার আশ্রয়হীন হওয়ার মুখে। বর্তমানে পুরো ইয়েমেনে বিশ্ব সম্প্রদায়-সমর্থিত সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা একমাত্র শহর আব্দিয়া, যা মারিব থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। রাজধানী সানাসহ দেশের বাকি প্রায় সব অঞ্চল হুতিদের নিয়ন্ত্রণে।

ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলায় প্রাণ গেছে কমপক্ষে ১৬০ জনের। নিহতদের সবাই হুতি বিদ্রোহী বলে জানিয়েছে সৌদি জোট।

আল-জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশ মারিবে বিমান হামলা চালিয়েছে জোট। প্রদেশটি দখলে হুতি বিদ্রোহীদের অগ্রগতি ঠেকাতে চালানো হয় এ হামলা।

জোটের শনিবারের বিবৃতির বরাত দিয়ে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসপিএ জানায়, ৩২ দফা বিমান হামলা হয়েছে। এসব হামলার মাধ্যমে ১১টি সামরিক যান ধ্বংস ও দেড় শতাধিক বিদ্রোহীকে হত্যা করা হয়েছে।

শিয়া হুতিদের পক্ষ থেকে হামলায় হতাহতদের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি এবং হতাহতের এ সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

মারিবে যুদ্ধ তীব্র রূপ নিতে থাকার মুখে গত সোমবার বিমান হামলা চালিয়ে সাত শতাধিক বিদ্রোহীকে হত্যার দাবি করে সৌদি জোট।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মারিব প্রদেশ দখলে বড় পরিসরে অভিযান শুরু করে হুতিরা। মাঝে সাময়িক ধীরগতির পর গত কয়েক সপ্তাহ ধরে নতুন করে অভিযান জোরদার করে তারা।

জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মারিব প্রদেশে সহিংসতায় গৃহহীন হয়েছে লাখো মানুষ। তাদের মধ্যে শুধু গত এক মাসে ভিটেমাটি হারিয়েছে ১০ হাজার মানুষ।

জাতিসংঘ চলতি সপ্তাহে আব্দিয়ায় সংঘর্ষ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। জেলাটিতে অবিলম্বে জরুরি সহায়তা প্রয়োজন- এমন প্রায় ৩৫ হাজার মানুষের কাছে সাহায্য পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। বিশেষ করে ইয়েমেনের অন্যান্য অঞ্চল থেকে আব্দিয়ায় আশ্রয় নেয়া ১৭ হাজার মানুষ ভয়াবহ বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মারিবের ১৩৯টি শরণার্থী শিবিরে ঠাঁই নিয়ে আছে প্রায় ২২ লাখ মানুষ। তাদের বেশির ভাগই দ্বিতীয়বার আশ্রয়হীন হওয়ার মুখে।

বর্তমানে পুরো ইয়েমেনে বিশ্ব সম্প্রদায়-সমর্থিত সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা একমাত্র শহর আব্দিয়া, যা মারিব থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। রাজধানী সানাসহ দেশের বাকি প্রায় সব অঞ্চল হুতিদের নিয়ন্ত্রণে।

আন্তর্জাতিক জোটের প্রতি বিশ্বস্ত এক সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, গত কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন অঞ্চলে হুতিরা কিছুটা পিছু হটছিল। কিন্তু চার সপ্তাহ ধরে আব্দিয়া ঘিরে রাখার পর জেলাটিতে এগোতে শুরু করে তারা।

ওই কর্মকর্তার দাবি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর প্রতি বিশ্বস্ত ইয়েমেনি আদিবাসী সদস্যদের অপহরণ, আটক ও নির্যাতন করছে হুতিরা।’

বিদ্রোহীদের অগ্রসর অব্যাহত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হুতিদের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাজনৈতিক বিশ্লেষক হোসেন আল-বুখাইতিও।

এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি সৌদি জোট। ইয়েমেনের তথ্যমন্ত্রী মুয়াম্মার আল-ইরিয়ানি হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে আবাসিক এলাকাগুলোতে হামলার অভিযোগ করেছেন।

২০১৪ সাল থেকে ইয়েমেনে চলমান গৃহযুদ্ধ ও সৌদি জোটের বিমান হামলায় নিহত হয়েছে লাখো মানুষ।

শেয়ার করুন

পোলিও নির্মূলের সূচনা পাকিস্তানে

পোলিও নির্মূলের সূচনা পাকিস্তানে

ফাইল ছবি।

পাকিস্তানে অনেক পরিবারেই টিকার কার্যকারিতা ও টিকাদানের আসল উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ বিদ্যমান। অনেক পাকিস্তানি বিশ্বাস করেন যে ‘টিকা কর্মসূচির আড়ালে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে বহিঃশত্রুরা।’ বিশেষ করে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন লাদেন পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদ শহরে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন অভিযানে নিহত হওয়ার পর বিপুলসংখ্যক পাকিস্তানি টিকা নিতে অস্বীকৃতি জানায়।

পোলিও নির্মূলের চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জন করতে যাচ্ছে পাকিস্তান। চলতি বছর সংক্রামক এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে মাত্র একজন, দেশটির ইতিহাসে যা নজিরবিহীন।

টার্কিশ রেডিও অ্যান্ড টেলিভিশনের (টিআরটি) প্রতিবেদনে বলা হয়, পোলিওভাইরাসের বিস্তার রোধে ২৬ বছর আগে বিশাল পরিসরে কর্মসূচি শুরু করে পাকিস্তান সরকার।

দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে চেষ্টার পর দেশটিতে এ রোগের প্রকোপ এতটাই দুর্বল হয়েছে যে নতুন রোগীর সংখ্যা একজনে এসে ঠেকেছে।

বৈশ্বিকভাবে পোলিও নির্মূলের পথে বাধা হয়ে আছে কেবল পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। দক্ষিণ এশিয়ার এ দুটি দেশেই পোলিওর সংক্রমণ মহামারি পর্যায়ে।

পাকিস্তানের পোলিও প্রতিরোধ কর্মসূচির প্রধান ড. শাহজাদ বাইগ বলেন, ‘এর আগে ২০১৭ সালে পোলিও নির্মূলের সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছেছিলাম আমরা। ওই বছর পাকিস্তানে এ রোগে আক্রান্ত হয়েছিল আটজন। এ সংখ্যা একজনে পৌঁছেছে এবারই প্রথম।’

পোলিওমুক্ত হিসেবে ঘোষিত শেষ দেশ নাইজেরিয়া। সারা জীবনের জন্য শরীরকে অবশ করে ফেলতে সক্ষম এ রোগের শেষ সংক্রমণের খবর ২০১৬ সালে জানিয়েছিল আবুজা। এরপর আর দেশটিতে পোলিও সংক্রমণের খবর শোনা যায়নি।

চলতি বছরের আগে পাকিস্তান ২০১৭ সালে রেকর্ড নিম্ন পোলিও রোগী পেলেও ২০১৯ ও ২০২০ সালে সংখ্যাটি লাফিয়ে ১৪৭ ও ৮৪ জনে পৌঁছেছিল।

চলতি বছর দেশটিতে যে একজন পোলিওতে আক্রান্ত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে, তা প্রত্যন্ত বেলুচিস্তান প্রদেশে। সংঘাতপ্রবণ ও সহজ সড়ক যোগাযোগবিহীন দুর্গম অঞ্চলটিতে টিকা কর্মসূচি পরিচালনা ছিল অত্যন্ত কঠিন। চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি শেষ পোলিও সংক্রমণের খবর মেলে অঞ্চলটিতে।

পোলিও সংক্রমণের সংখ্যা তাৎপর্যপূর্ণরকম কমে আসায় স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে স্বস্তির সুবাতাস বইছে।

কিন্তু গোটা পাকিস্তানকে পোলিওমুক্ত ঘোষণায় ইসলামাবাদকে অপেক্ষা করতে হবে কমপক্ষে আরও তিন বছর এবং এই সময় যেন একটি শিশুও নতুন করে এ রোগে আক্রান্ত না হয়, তাও নিশ্চিত করতে হবে।

সন্ত্রাসী হামলার কারণেও পাকিস্তানের পোলিওবিরোধী কর্মসূচি চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। দুই মাস আগে আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী খাইবার পখতুনখোয়া প্রদেশে টিকাকর্মীদের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ সদস্যকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

ড. শাহজাদ বাইগ বলেন, ‘দেশের কিছু অঞ্চলের মানুষ নারীদের কাজ করতে দেখতে চায় না। ওইসব অঞ্চলে আমাদের নারী কর্মীরা গোপনে এবং ওড়নার নিচে লুকিয়ে টিকা সরবরাহ করেন।’

পাকিস্তানে পোলিও নির্মূল কর্মসূচির অধীনে দুই লাখ ৮০ হাজারের বেশি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী কর্মরত। তাদের দুই-তৃতীয়াংশই নারী।

রক্ষণশীল দেশটিতে শিশুদের পোলিও টিকা খাওয়াতে বাড়িতে বাড়িতে গিয়েও তাদের মাদের রাজি করাতে হয়, যে কারণে টিকা কর্মসূচিতে নারীদের এ আধিক্য।

পাকিস্তানে অনেক পরিবারেই টিকার কার্যকারিতা ও টিকাদানের আসল উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ বিদ্যমান। অনেক পাকিস্তানি বিশ্বাস করেন যে ‘টিকা কর্মসূচির আড়ালে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে বহিঃশত্রুরা।’

বিশেষ করে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন লাদেন পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদ শহরে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন অভিযানে নিহত হওয়ার পর বিপুলসংখ্যক পাকিস্তানি টিকা নিতে অস্বীকৃতি জানায়।

আত্মগোপনে থাকা লাদেনের সন্ধান পেতে আমেরিকান গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ ভুয়া টিকা কর্মসূচি চালাতে পাকিস্তানি চিকিৎসক শাকিল আফ্রিদিকে কাজে লাগিয়েছিল বলে খবর প্রকাশ হলে টিকাবিরোধী মনোভাব জোরদার হয় দেশটিতে।

এ ছাড়া টিকা ইসলাম ধর্মসম্মত বা হালাল কি না, মেয়াদোত্তীর্ণ কি না, শিশুদের নপুংসক করে দেবে কি না, টিকার গুণগত মান কেমন- এমন নানা প্রশ্ন রয়েছে সাধারণ পাকিস্তানিদের মনে। করোনাভাইরাস মহামারির কারণেও গত দেড় বছরে স্বাস্থ্যকর্মীদের সংস্পর্শ এড়াতে টিকা নিতে অস্বীকৃতি জানায় অনেকে।

এ অবস্থায় পোলিও টিকা নিয়ে পাকিস্তানিদের অস্বস্তি দূর করতে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফসহ বিভিন্ন সংগঠন।

শেয়ার করুন

বিল গেটস-ওয়ারেন বাফেটের সমান সম্পত্তি ইলন মাস্কের

বিল গেটস-ওয়ারেন বাফেটের সমান সম্পত্তি ইলন মাস্কের

চলতি বছরের জানুয়ারিতে জেফ বেজোসকে ছাড়িয়ে শীর্ষ ধনী হন ইলন মাস্ক। ছবি: সিএনবিসি

সম্পত্তির দিক থেকে মাস্কের ধারেকাছেও নেই বেজোস, গেটস বা বাফেট। তবে ধারণা করা হয়, মানবকল্যাণে বিপুল পরিমাণ অর্থ দান না করছে সম্পত্তির দিক থেকে মাস্কের অনেক কাছাকাছি থাকতেন গেটস ও বাফেট। অনেক বছর ধরে বিভিন্ন দাতব্য কাজে কয়েক হাজার কোটি ডলারের সহায়তা দিয়েছেন এই দুই ধনকুবের। অন্যদিকে নিজের বিশাল সম্পত্তির ভাণ্ডার থাকা সত্ত্বেও দাতব্য কাজে অর্থ ব্যয় করেন না বলে দীর্ঘদিন ধরে সমালোচিত মাস্ক।

বিশ্বের শীর্ষ ধনী হয়েই থেমে নেই ইলন মাস্ক; শীর্ষ ১০ ধনকুবেরের তালিকায় থাকা উল্লেখযোগ্য দুই ব্যক্তি বিল গেটস ও ওয়ারেন বাফেটের সম্পত্তির সমপরিমাণের মালিক মাস্ক একাই।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিএনবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ৫০ বছর বয়সী ইলন মাস্কের সম্পত্তির মূল্য বর্তমানে ২৩ হাজার কোটি ডলার।

বিশ্বের এক সময়ের শীর্ষ দুই ধনী বিল গেটস ও ওয়ারেন বাফেটের সম্পদের বর্তমান বাজারমূল্যের যোগফল ২৩ হাজার কোটি ডলার।

বিশ্বের শীর্ষ ধনীর তালিকায় বর্তমানে চতুর্থ অবস্থানে বিল গেটস ও দশম অবস্থানে ওয়ারেন বাফেট আছেন। মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা গেটসের সম্পত্তির পরিমাণ ১৩ হাজার কোটি ডলার। বার্কশায়ার হ্যাথওয়ের প্রধান নির্বাহী বাফেটের আছে ১০ হাজার কোটি ডলারের সম্পত্তি।

২০১৭ সাল থেকে বিশ্বের শীর্ষ ধনীর অবস্থানটি ধরে রেখেছিলেন সর্ববৃহৎ অনলাইন মার্কেটপ্লেস অ্যামাজনের প্রধান নির্বাহী জেফ বেজোস। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বেজোসকে ছাড়িয়ে শীর্ষ ধনী হন মাস্ক।

বর্তমানে শীর্ষ ধনীর তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বেজোসের সম্পত্তির পরিমাণ ১৯ হাজার কোটি ডলারের বেশি। অর্থাৎ সম্পত্তির দিক থেকে মাস্কের ধারেকাছেও নেই বেজোস, গেটস বা বাফেট।

তবে ধারণা করা হয়, মানবকল্যাণে বিপুল পরিমাণ অর্থ দান না করছে সম্পত্তির দিক থেকে মাস্কের অনেক কাছাকাছি থাকতেন গেটস ও বাফেট। অনেক বছর ধরে বিভিন্ন দাতব্য কাজে কয়েক হাজার কোটি ডলারের সহায়তা দিয়েছেন এই দুই ধনকুবের।

অন্যদিকে নিজের বিশাল সম্পত্তির ভাণ্ডার থাকা সত্ত্বেও দাতব্য কাজে অর্থ ব্যয় করেন না বলে দীর্ঘদিন ধরে সমালোচিত মাস্ক। যদিও তার দাবি, দানের বিষয়ে নিজের পরিচয় গোপন রাখতে চান তিনি।

অবশ্য চলতি বছর কার্বণবিরোধী একটি প্রতিযোগিতায় পুরস্কার হিসেবে ১৫ কোটি ডলার দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন মাস্ক। তার প্রকাশ্য দাতব্য কর্মসূচির মধ্যে এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় অংকের অর্থ।

পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ও বিদ্যুৎচালিত গাড়িনির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা পুঁজিবাজারে আগের চেয়েও বেশি শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছে যাওয়ায় চলতি বছর মাস্কের ঝুলিতে যোগ হয়েছে ছয় হাজার কোটি ডলারের বেশি সম্পত্তি।

এ ছাড়া পুঁজিবাজারে মাস্কের মালিকানাধীন আরেকটি প্রতিষ্ঠান- মহাকাশযান প্রস্তুতকারক ও মহাকাশযাত্রা সেবাদানকারী স্পেসএক্স সম্প্রতি কিছু শেয়ার বিক্রি করে, যার মূল্য ১০ হাজার কোটি ডলার।

ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার সঙ্গে সাম্প্রতিক চুক্তির মাধ্যমে আরও এক হাজার ১০০ কোটি ডলার যুক্ত হয়েছে স্পেসএক্সের ঝুলিতে।

শেয়ার করুন