নারীশূন্যই থাকছে কাতারের শুরা কাউন্সিল

নারীশূন্যই থাকছে কাতারের শুরা কাউন্সিল

কাতারের প্রথম নির্বাচনে শনিবার ভোট দেন নাগরিকরা। ছবি: আল জাজিরা

নাগরিকদের জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ দেয়া এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই মুসলিম দেশটিতে ঐতিহাসিক এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। কাতারে প্রধান একটি আদিবাসী গোষ্ঠীর কয়েকজন সদস্য নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলে তাদের অংশগ্রহণ অবৈধ ঘোষণা করা হয়।

ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শুরা কাউন্সিলের প্রতিনিধি নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন কাতারের জনগণ। ৪৫ আসনের শুরা কাউন্সিলে শনিবারের ভোটে দুই-তৃতীয়াংশ আসনের প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ পেয়েছেন তারা। কোনো আসনেই শিকে ছেঁড়েনি নারী প্রার্থীদের ভাগ্যে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, পারস্য উপসাগরীয় আরব দেশটির প্রথম শুরা কাউন্সিল নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন ২৬ জন নারী প্রার্থী। জেতেননি তাদের একজনও।

কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রোববার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শুরা কাউন্সিলের ৩০ জন সদস্যকে নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৬৩ দশমিক পাঁচ শতাংশ। কাউন্সিলের বাকি ১৫ জন সদস্যকে নিয়োগ দেবেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি।

ভোটের ফলে দেখা গেছে, নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ পেলেও শেষ পর্যন্ত জনপ্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাননি কোনো নারী। এতে হতাশ কাতারের নারীদের কণ্ঠ হতে চাওয়া এবং দেশটির রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সব মানুষের প্রতিনিধি হতে চাওয়া ২৬ নারীর সবাই।

রাজধানী দোহার মারখিয়া জেলায় নার্সিং ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ৫৯ বছর বয়সী আয়শা হামাম আল-জসিম বলেন, ‘শুধু পুরুষ জনপ্রতিনিধি কাতারের লক্ষ্যমাত্রার অংশ নয়।’

কাতারের নারীদের প্রতি তিনি ‘নিজেদের বিশ্বাস নিয়ে জোর গলায় কথা বলতে শুরু করার’ এবং ভবিষ্যতে যোগ্য নারী প্রার্থীদের ভোট দেয়ারও আহ্বান জানান।

নির্বাচনে অংশ নেয়া বেশ কয়েকজন নারী প্রার্থীর মা কাতারের নাগরিক হলেও বাবা বিদেশি। বিদেশি নাগরিকের বিয়ে করা কাতারি নারীদের সন্তানদের কাতারের সমাজে অন্তর্ভুক্ত করতে সরব ছিলেন তারা।

পারস্য উপসাগরীয় অন্যান্য দেশের মতোই কাতারও ভিনদেশি পুরুষের সঙ্গে বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ নারীদের সন্তানদের নাগরিকত্ব দেয় না।

সমাজের মানসিকতা পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন আল-মাহা আল-মজিদ নামের আরেক নারী। ৩৪ বছর বয়সী এই প্রার্থী পেশায় প্রকৌশলী এবং শিল্প খাতে কর্মরত।

তিনি বলেন, ‘নারী প্রার্থীদের জন্য পুরুষ ভোটারদের সমর্থন আদায় করা বড় চ্যালেঞ্জ। এই লড়াইয়ে জিততে হলে আমাদের অনেক বেশি চেষ্টা করতে হবে… এই বাড়তি শ্রম দিতে আমি প্রস্তুত। কারণ আমি নিজে কাতারের শাসনব্যবস্থায় প্রবেশ করতে চাই এবং এমন এক সমাজ গড়তে চাই যেখানে সব নারীর জন্য এ কাজ সহজ হবে।’

নাগরিকদের জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ দেয়া এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই মুসলিম দেশটিতে ঐতিহাসিক এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো।

কাতারে প্রধান একটি আদিবাসী গোষ্ঠীর কয়েকজন সদস্য নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলে তাদের অংশগ্রহণ অবৈধ ঘোষণা করা হয়। এরপর বিতর্ক আরও জটিল রূপ নেয়। কাতারের আইনে ১৯৩০ সালের আগে থেকে বংশানুক্রমে দেশটিতে বসবাসরত নাগরিকদের ভোট দেয়ার অধিকার নেই।

কাতারে শুরা কাউন্সিল হলো একটি আইনি কর্তৃপক্ষ। রাষ্ট্রের সাধারণ নীতিমালা ও জাতীয় বাজেটে অনুমোদন দেয়া শুরা কাউন্সিলের কাজ। তবে দেশের প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও বিনিয়োগবিষয়ক নীতিমালায় হস্তক্ষেপের অধিকার নেই এ কাউন্সিলের সদস্যদের।

গ্যাসসমৃদ্ধ ধনী কিন্তু ছোট্ট দেশটিতে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মেয়েদের জন্য দ্রুতই খুলছে স্কুলের দরজা: তালেবান

মেয়েদের জন্য দ্রুতই খুলছে স্কুলের দরজা: তালেবান

১৫ আগস্ট তালেবানের ক্ষমতা দখলের দুদিন পর হেরাত শহরের একটি স্কুলে আফগান শিক্ষার্থীরা। ছবি: এএফপি

ইউনিসেফের কর্মকর্তা আবদি জানান, তালেবানের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষামন্ত্রী নুরুল্লাহ মুনির তাকে বলেছেন, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে শুরু করে মাধ্যমিক পর্যন্ত সব মেয়ে যাতে স্কুলে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে, এ নিয়ে পরিকল্পনা করছে আফগান সরকার। আগামী দুই-এক মাসের মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

আফগানিস্তানে মাধ্যমিক স্কুলে সব মেয়েকে পড়ার অনুমতি দেয়া হবে বলে জাতিসংঘের জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তাকে জানিয়েছে তালেবান। আর এ বিষয়ে শিগগিরই পরিকল্পনা ঘোষণা করতে যাচ্ছে তালেবান সরকার।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শহরে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে স্থানীয় সময় শুক্রবার সাংবাদিকদের ওই কর্মকর্তা এসব তথ্য জানান।

বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সপ্তাহে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে যান জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক জরুরি তহবিল সংস্থা ইউনিসেফের উপনির্বাহী পরিচালক ওমর আবদি।

সাংবাদিকদের আবদি জানান, আফগানিস্তানের ৩৪টি প্রদেশের পাঁচটিতে এরই মধ্যে মাধ্যমিকের মেয়ে শিক্ষার্থীরা স্কুলে যাওয়া শুরু করেছে। এ প্রদেশগুলো হলো আফগানিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বালখ, জাওজান ও সামানগান, উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় কুন্দুজ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় উরজগান।

ইউনিসেফের কর্মকর্তা আবদি জানান, তালেবানের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষামন্ত্রী নুরুল্লাহ মুনির তাকে বলেছেন, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে শুরু করে মাধ্যমিক পর্যন্ত সব মেয়ে যাতে স্কুলে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে, এ নিয়ে পরিকল্পনা করছে আফগান সরকার। আগামী দু-এক মাসের মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

তিনি বলেন, ‘আফগানিস্তানের মাধ্যমিক স্কুলের লাখ লাখ মেয়ে শিক্ষার্থী প্রায় এক মাস ধরে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত।

‘আমরা তালেবান সরকারকে অনুরোধ করেছি, দ্রুত ওই শিক্ষার্থীদের যেন স্কুলে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়।’

১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তালেবানের প্রথম শাসনামলে আফগান মেয়ে ও নারীদের শিক্ষার অধিকার খর্ব করা হয়। এ ছাড়া চাকরি করা বা জনসমাগমস্থলে যাওয়ারও অনুমতি ছিল না নারীদের।

১৫ আগস্ট কাবুল পতনের পর আফগানিস্তানের ক্ষমতা ২০ বছর পর ফিরে পায় তালেবান।

আগের শাসনামলের মতো এবারও যাতে নারীদের শিক্ষা ও চাকরি করার সুযোগ থেকে দূরে ঠেলে দেয়া না হয়, এটি নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় প্রায় দুই মাস ধরে তালেবানের নতুন অন্তর্বর্তী সরকারকে চাপ দিয়ে যাচ্ছে।

ইউনিসেফের উপনির্বাহী পরিচালক আবদি বলেন, ‘২০০১ সালে আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনকে আশ্রয় দেয়ার অভিযোগ এনে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান চালিয়ে তালেবানকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করে। ওই সময় মাত্র ১০ লাখ আফগান শিশু স্কুলে পড়াশোনা করত।

‘গত ২০ বছরে এ সংখ্যা প্রায় এক কোটিতে পৌঁছায়। এ শিশুদের মধ্যে ৪০ লাখ মেয়ে শিক্ষার্থী। আর গত দশকে আফগানিস্তানে স্কুলের সংখ্যা ছয় হাজার থেকে বেড়ে ১৮ হাজার হয়।’

তিনি বলেন, ‘আফগানিস্তানে শিক্ষা খাতে গত দুই দশকের অর্জন ধরে রাখা জরুরি। পেছনে ফেরা কোনোভাবেই কাম্য নয়।’

শেয়ার করুন

কর্মস্থলে নারীদের হয়রানির ব্যবস্থা নিচ্ছে না চীন

কর্মস্থলে নারীদের হয়রানির ব্যবস্থা নিচ্ছে না চীন

চীনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নির্যাতনের শিকার নারীদের পক্ষে না থাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুখ খুলছেন ভুক্তভোগী নারীরা। ছবি: দ্য উইক

চীনের অধিকারকর্মীরা বলছেন, যৌন হয়রানি বা নির্যাতনের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর নীরবতা, রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে অভিযোগগুলোকে গুরুত্ব না দেয়া ও কোনো কোনো ক্ষেত্রে উল্টো স্পষ্টভাবে অভিযোগকারীদের দিকেই আঙুল তোলার কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের যন্ত্রণার কথা বলতে বাধ্য হচ্ছেন ভুক্তভোগী নারীরা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হ্যাশট্যাগ মিটু লিখে দীর্ঘদিন ধরে যৌন হয়রানি ও নির্যাতনের কথা অকপটে বলে আসছেন চীনের নারীরা।

তা সত্ত্বেও দেশটির করপোরেট নেতারা ও সরকারি বিভিন্ন সংস্থা কর্মস্থলে নারীদের যৌন নির্যাতন ও হয়রানি কমাতে এবং জেন্ডার সমতা বাড়াতে কার্যকর নীতি গ্রহণ বা বাস্তবায়নে এখন পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে।

অধিকারকর্মীদের বরাতে এসব তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা

চীনের আইনজীবী ও অধিকারকর্মীদের ভাষ্য, কর্মস্থলে নারীদের হয়রানি ও নির্যাতন বন্ধে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যথোপযুক্ত উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। ভুক্তভোগী নারীদের প্রশ্ন, কবে তাদের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।

নারী কর্মীদের ওপর হয়রানি বন্ধে অর্থপূর্ণ নীতি গ্রহণে ব্যর্থতা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভাবমূর্তি ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। এ ছাড়া উচ্চশিক্ষিত চীনা নারীদের এসব প্রতিষ্ঠানে কাজ করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলারও শঙ্কা রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চীনের আলোচিত এক নারী অধিকারকর্মী বলেন, ‘কোনো প্রতিষ্ঠান নারী কর্মীদের ওপর হয়রানি বন্ধে নতুন কোনো নীতি গ্রহণ করেছে, এমনটা আমি শুনিনি। বরং যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তারা অনেকটা নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।’

চীনের অধিকারকর্মীরা বলছেন, যৌন হয়রানি বা নির্যাতনের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর নীরবতা, রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে অভিযোগগুলোকে গুরুত্ব না দেয়া ও কোনো কোনো ক্ষেত্রে উল্টো স্পষ্টভাবে অভিযোগকারীদের দিকেই আঙুল তোলার কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের যন্ত্রণার কথা বলতে বাধ্য হচ্ছেন ভুক্তভোগী নারীরা।

এ ছাড়া আদালতের শুনানি ও পুলিশি তদন্তে স্বচ্ছতার অভাব থাকায় যোগাযোগমাধ্যমে বিচারের দাবি করা ছাড়া গত্যন্তর দেখছেন না তারা।

চীনের ই-কমার্স জায়ান্ট আলিবাবা, পরিবহন কোম্পানি ডিডি, মদ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান কোয়েচো মাউতাইসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নারীরা সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন।

শেয়ার করুন

আজারবাইজানের বিরুদ্ধে জাতিগত বিদ্বেষের অভিযোগ

আজারবাইজানের বিরুদ্ধে জাতিগত বিদ্বেষের অভিযোগ

আজারবাইজানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে জাতিগত বিদ্বেষের অভিযোগ আনে আর্মেনিয়া। ছবি: এএফপি

‘আর্মেনীয়দের সবকিছু সম্পর্কে ভয় ও বিদ্বেষের সংস্কৃতি প্রজন্মের পর প্রজন্মের মনে গেঁথে দেয়া হচ্ছে।’

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) আজারবাইজানের বিরুদ্ধে জাতিগত বিদ্বেষের অভিযোগ এনেছে আর্মেনিয়া। পাশাপাশি আজারবাইজানের এ কর্মকাণ্ড বন্ধে আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারকদের প্রতি আহ্বান জানায় দেশটি।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মাসে জাতিসংঘের উচ্চ আদালতে (আইসিজে) আজারবাইজানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা করে আর্মেনিয়া। আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া উভয়ই ১৯৬৫ সালের ওই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল।

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে বৃহস্পতিবারের শুনানিতে ওই অভিযোগের বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ নিতে বিচারকদের প্রতি আহ্বান জানায় আর্মেনিয়া।

শুনানিতে আর্মেনিয়ার আইনজীবীরা জানান, আজারবাইজান সরকার এমন এক সংস্কৃতি নির্মাণ করেছে, যেখানে জাতিগত বিদ্বেষের পাশাপাশি আর্মেনীয়দের হত্যা ও নির্যাতন কাঠামোগত হয়ে গেছে।

আদালতে আর্মেনিয়ার প্রতিনিধি ইয়েঘিশে কিরাকোসিয়ান বলেন, ‘জাতিগত আর্মেনীয়দের বিরুদ্ধে আজারবাইজানের সহিংসতা- বিদ্বেষ বন্ধ ও প্রতিকারে জরুরি পদক্ষেপ নিতে আমরা অনুরাধ জানাচ্ছি।

‘একই সঙ্গে আসন্ন অপূরণীয় ক্ষতির হাত থেকে আর্মেনীয়দের অধিকার রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানানো হচ্ছে।’

কিরাকোসিয়ান আরও বলেন, ‘গত বছরের সেপ্টেম্বরে আর্মেনিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেন আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ।

‘দেড় মাস দীর্ঘ ওই যুদ্ধের সঙ্গে জাতিগত সহিংসতা ও বিদ্বেষের পরিষ্কার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এ বিদ্বেষ এখনই বন্ধ করা না গেলে এটি আগামী দিনে আরও বাড়বে।

‘আর্মেনীয়দের সবকিছু সম্পর্কে ভয় ও বিদ্বেষের সংস্কৃতি প্রজন্মের পর প্রজন্মের মনে গেঁথে দেয়া হচ্ছে।’

আজারবাইজান তাদের বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ইলনুর মামাডোভ আন্তর্জাতিক বিচার আদালতকে জানান, আজারবাইজান নয়, বরং আর্মেনিয়াই কয়েক দশক ধরে জাতিগত হত্যাযজ্ঞের সঙ্গে জড়িত।

আন্তর্জাতিক আদালতে আজারবাইজানের আইনজীবীরা আর্মেনিয়ার অভিযোগকে ‘অযৌক্তিক’ বলে অভিহিত করেন।

একই সঙ্গে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের লক্ষ্যে জাতিসংঘের আদালত আর্মেনিয়া ব্যবহার করছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

গত বছর বিতর্কিত নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চলকে নিয়ে দুই পক্ষের যুদ্ধের একপর্যায়ে ওই অঞ্চল থেকে জাতিগত আর্মেনীয় বাহিনীকে বের করে দেয় আজারবাইজানের সেনাবাহিনী।

ওই যুদ্ধে সাড়ে ছয় হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারায়।

শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গ ‘হত্যা’র ভিডিও প্রকাশ

যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গ ‘হত্যা’র ভিডিও প্রকাশ

যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গ সিমরান গর্ডনের মৃত্যুর তদন্ত দাবি করেছে নিহতের পরিবার। প্রতীকী ছবি

গর্ডনের পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, পুলিশের বক্তব্য তারা মানতে রাজি নন। গর্ডনের চাচা বলেন, ‘এটি দুই পক্ষের গোলাগুলি ছিল না। এটি হত্যা।’

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে সুপারমার্কেটে চলতি মাসের শুরুতে পুলিশের গুলিতে এক কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি নিহত হন।

নিউ ইয়র্ক কর্তৃপক্ষ স্থানীয় সময় বুধবার ওই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করে। এরপরই নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করা হয়।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

৬ আগস্ট নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের রচেস্টার শহরের পুলিশ ডাকাতির খবর পেয়ে ওই সুপারমার্কেটে পৌঁছায়। সেখানে দুই পুলিশ সদস্যের সঙ্গে মুখোমুখি হওয়ার একপর্যায়ে সিমরান গর্ডন নামের ২৪ বছর বয়সী এক কৃষ্ণাঙ্গের মৃত্যু হয়।

পুলিশ কর্মকর্তাদের শরীরে যুক্ত ক্যামেরায় ধারণ করা ওই ঘটনার প্রথম ভিডিওতে দেখা যায়, সুপারমার্কেটে ঢোকার পর এক পুলিশ কর্মকর্তা তার বন্দুক বের করে গর্ডনকে পকেট থেকে হাত বের করতে বলেন।

এরপর গর্ডন পালানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে ওই পুলিশ কর্মকর্তা তাকে ধরতে সক্ষম হন। ওই সময় বেশ কয়েকটি গুলির শব্দ পাওয়া যায়। গর্ডনের শরীরে গুলি লাগায় তিনি মাটিতে পড়ে যান। ওই সময় পুলিশ কর্মকর্তাটি তাকে তার বন্দুক ফেলে দিতে বলেন।

আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, দ্বিতীয় পুলিশ কর্মকর্তা অন্যদিক থেকে এসে গর্ডনের পাশে হাঁটু গেড়ে বসে তার হাত থেকে একটি বস্তু নিয়ে বলেন, ‘আমি এটা পেয়েছি’। ওই সময় গর্ডনের মুখ থেকে গোঙানির শব্দ পাওয়া যায়।

বুধবার নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিটিয়া জেমস জানান, ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করার মাধ্যমে কোনো পক্ষ দোষী না নির্দোষ, তা বোঝা যায় না।

রচেস্টার পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, গর্ডন সশস্ত্র ছিলেন। তিনিই প্রথম গুলি চালান।

তবে গর্ডনের পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, পুলিশের বক্তব্য তারা মানতে রাজি নন।

গর্ডনের চাচা বলেন, ‘এটি দুই পক্ষের গোলাগুলি ছিল না। এটি হত্যা।’

গর্ডনের পরিবারের আইনজীবী ইউসুফ তাহা এএফপিকে বলেন, ‘ওই দুটি ভিডিও আমাদের সামনে উত্তরের চেয়ে অনেক বেশি প্রশ্ন হাজির করেছে।’

তাহা বলেন, ‘গর্ডনের মৃত্যুর পূর্ণ ও স্বচ্ছ তদন্ত করতে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়কে আমরা আহ্বান জানিয়েছি। গর্ডন ও তার পরিবারের জন্য ন্যায়বিচার চাওয়া আমরা অব্যাহত রাখব।’

বিভিন্ন ধরনের কর্মকাণ্ড বিশেষ করে আফ্রিকান বংশোদ্ভূত আমেরিকানদের সঙ্গে প্রশ্নবিদ্ধ আচরণের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকবার তোপের মুখে পড়ে রচেস্টার পুলিশ।

শেয়ার করুন

বিশ্বজুড়ে স্বামীদের তুলনায় আয় কম স্ত্রীদের: গবেষণা

বিশ্বজুড়ে স্বামীদের তুলনায় আয় কম স্ত্রীদের: গবেষণা

ফাইল ছবি

ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ ইউরোপ ও আটলান্টিকের উত্তরে অবস্থিত নরডিক দেশগুলোকে জেন্ডার সমতার স্বর্গ বলে মনে করি আমরা। কিন্তু আসলেই কি বিষয়টি তেমন? কাজের বণ্টন আর সংসারের ভেতরে সম্পদের বণ্টন কি আসলেই সুষম? সামগ্রিক অসমতা ও গৃহস্থালী অসমতার ভিত্তিতে দেশগুলোকে একটি তালিকায় ক্রমান্বয়ে সাজিয়েছেন গবেষকরা। তাদের গবেষণা বলছে, দেশ-কাল এবং ধনী ও দরিদ্র পরিবার নির্বিশেষে জেন্ডার ভারসাম্যহীনতার চিত্র প্রকট সারা বিশ্বে।

আপনি ও আপনার স্বামী কি সমান আয় করেন? বিশ্বের বেশিরভাগ নারীর উত্তর ‘না’। নতুন এক বৈশ্বিক গবেষণায় উঠে এসেছে দম্পতিদের মধ্যে জীবিকা উপার্জনে ভারসাম্যহীনতার প্রকট চিত্র।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৭৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ৪৩ বছর ধরে ৪৫টি দেশ থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে গবেষণাটি করা হয়েছে। সংসারের ভেতরে উপার্জনক্ষম নারী-পুরুষের আয়ের ভারসাম্যহীনতার বিষয়ে প্রথম বৈশ্বিক জরিপ এটি।

ভারতের ব্যাঙ্গালুরুতে অবস্থিত ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্টের সেন্টার ফর পাবলিক পলিসির অধ্যাপক হেমা স্বামিনাথন ও অধ্যাপক দীপক মালঘান গবেষণাটি করেছেন।

১৮ বছর থেকে ৬৫ বছর বয়সী নারী-পুরুষ দম্পতিদের নিয়ে গড়া সাড়ে ২৮ লাখ পরিবারের কাছ থেকে সংগৃহীত তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে গবেষণায়। তথ্য সংগ্রহ করেছে অলাভজনক সংস্থা লুক্সেমবার্গ ইনকাম স্টাডি (এলআইএস)।

অধ্যাপক হেমা স্বামিনাথন বলেন, ‘দারিদ্র্যের পরিসংখ্যান তৈরির প্রচলিত পদ্ধতিতে পুরো পরিবারকে একটি একক হিসেবে ধরা হয়। সাধারণভাবে ধরে নেয়া হয় যে একটি গৃহস্থালীতে আয় পরিবারের সব সদস্যের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করা হয়। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভারসাম্যহীনতা শুরুই হয় পরিবার থেকে। সে বিষয়টিই সামনে আনতে চেয়েছি আমরা।’

গবেষণা প্রতিবেদনে গৃহস্থালীকে ‘কৃষ্ণগহ্বর’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

অধ্যাপক স্বামিনাথন বলেন, ‘আমরা ঘরের ভেতরে ঢুকে তো কখনও দেখি না। কিন্তু যদি দেখি, তখন দৃশ্যপট কীভাবে পাল্টে যায়? ভারতে শ্রম খাতে জেন্ডার বৈষম্যের বিষয়টি সবাই জানেন। কাজে নারীদের অংশগ্রহণই খুব কম, যারা কাজ করেন- তাদেরও খুব কমসংখ্যকই পূর্ণকালীন কাজ করেন।’

সারা বিশ্বে এ চিত্র কেমন, সেটাই খতিয়ে দেখতে চেয়েছিলেন অধ্যাপক স্বামিনাথন ও মালঘান। স্বামিনাথন বলেন, ‘ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ ইউরোপ ও আটলান্টিকের উত্তরে অবস্থিত নরডিক দেশগুলোকে জেন্ডার সমতার স্বর্গ বলে মনে করি আমরা। কিন্তু আসলেই কি বিষয়টি তেমন? কাজের বণ্টন আর সংসারের ভেতরে সম্পদের বণ্টন কি আসলেই সুষম?’

সামগ্রিক অসমতা ও গৃহস্থালী অসমতার ভিত্তিতে দেশগুলোকে একটি তালিকায় ক্রমান্বয়ে সাজিয়েছেন গবেষকরা। তাদের গবেষণা বলছে, দেশ-কাল এবং ধনী ও দরিদ্র পরিবার নির্বিশেষে জেন্ডার ভারসাম্যহীনতার চিত্র প্রকট সারা বিশ্বে।

অধ্যাপক মালঘান বলেন, ‘সময় যত এগিয়েছে, ততই উপার্জনক্ষম দম্পতিদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রী উভয়েরই জীবিকা উপার্জনে কর্মক্ষেত্রে যোগ দেয়া প্রবণতা বেড়েছে। কিন্তু এমন একটি দেশও আমরা পাইনি যেখানে স্ত্রীরা স্বামীদের চেয়ে বেশি আয় করেন, তা সে দেশ ধনী বা দরিদ্র যাই হোক না কেন।

‘এমনকি বিশ্বে সর্বনিম্ন জেন্ডার বৈষম্যের নরডিক দেশগুলোতেও সম্পদে নারীদের ভাগ ৫০ শতাংশের কম।’

নারীদের উপার্জন কম হওয়ার কয়েকটি কারণ বিশ্বজনীন। পুরুষকে সাংস্কৃতিকভাবেই সংসারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তি বলে দেখা হয়, যেখানে নারীরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই গৃহিনী হিসেবেই বিবেচিত। অনেক নারী সন্তান জন্মদানের পর বিরতি নেন কিংবা চাকরি ছেড়ে দেন।

কাজের পারিশ্রমিকে যে জেন্ডার বৈষম্য দেখা যায়, বিশেষ করে বেতনভাতা ও মজুরিতে অসামঞ্জস্যতা- অর্থাৎ একই কাজে নারী ও পুরুষের ভিন্ন পারিশ্রমিকের বিষয়টি বিশ্বের অনেক অঞ্চলেই কঠোর বাস্তবতা। এ ছাড়া পারিশ্রমিকবিহীন গৃহস্থালী কাজ ও পরিবারের সদস্যদের দেখভাল করা এখনও মূলত নারীদেরই অলিখিত দায়িত্ব।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ২০১৮ সালের একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বিশ্বজুড়ে পারিশ্রমিকবিহীন সেবামূলক কাজে যত ঘণ্টা ব্যয় হয়, তার ৭৬ দশমিক দুই শতাংশই করেন নারীরা। পুরুষের তুলনায় এ হার তিন গুণের বেশি। এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এ হার ৮০ শতাংশ।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পারিশ্রমিকবিহীন কাজের আধিক্য নারীদের আনুষ্ঠানিক বা পেশাদার কর্মক্ষেত্রে যোগ দিতে না পারার মূল কারণ।

নারীদের আয়ের স্বল্পতা শুধু যে বৈশ্বিক অর্থনীতিকে পিছিয়ে রেখেছে তাই নয়, পরিবারে তাদের ভূমিকাও এতে অবদমিত এবং তারা নানা বঞ্চনার শিকার।

অধ্যাপক স্বামিনাথন বলেন, ‘গৃহিনী হিসেবে স্ত্রীর অবদান অদৃশ্য, দৃশ্যমান হলো নগদ অর্থ। তাই ঘরে অর্থের জোগান দেয়া একজন স্ত্রীর মর্যাদাই অন্যরকম। এতে পারিবারিক সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখার এবং যে কোনো বিষয়ে জোর গলায় কথা বলারও ক্ষমতা পান তিনি।

‘যে স্ত্রীর আয় যত বেশি, তার কথা বলার ও তর্ক করার সুযোগও তত বেশি। এমনকি পারিবারিক নির্যাতনমূলক পরিস্থিতি দেখা দিলে সে সংসার ত্যাগ করারও সুযোগ তৈরি হয় এর মাধ্যমে।’

স্বামীর তুলনায় স্ত্রীর আয় কম হওয়ার এই অসঙ্গতি দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক নিরাপত্তাতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। কারণ এতে নারীদের সঞ্চয় ও সম্পদের মালিকানা পাওয়ার সুযোগ কম, এমনকি বৃদ্ধ বয়সে অবসরভাতাও কম পান তারা।

পুরো গবেষণায় একটি চিত্র কেবল আশাব্যঞ্জক। সেটি হলো ১৯৭৩ সালের তুলনায় ২০১৬ সালে চার দশকে সাংসারিক আয়ের ভারসাম্যহীনতা ২০ শতাংশ কমেছে।

শেয়ার করুন

লিবিয়ায় বন্দিশিবিরে ‘চরম ঝুঁকিতে’ নারী-শিশু

লিবিয়ায় বন্দিশিবিরে ‘চরম ঝুঁকিতে’ নারী-শিশু

লিবিয়ায় বন্দিশিবিরে আটক ১ হাজার নারী-শিশুর অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানায় জাতিসংঘ। ছবি: এএনএসএ

ইউনিসেফ এক বিবৃতিতে জানায়, ‘চলতি মাসে ত্রিপোলিতে হাজার হাজার অভিবাসন ও রাজনৈতিক আশ্রয়প্রত্যাশীকে আটক করা হয়। এদের মধ্যে খুব ঝুঁকিতে থাকা ৭৫১ জন নারী ও ২৫৫টি শিশু রয়েছে।

লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির বন্দিশিবিরে কমপক্ষে এক হাজার নারী ও শিশু খুব ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ।

জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ স্থানীয় সময় মঙ্গলবার এ সতর্কবার্তা দেয় বলে বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ইউনিসেফ এক বিবৃতিতে জানায়, ‘চলতি মাসে ত্রিপোলিতে হাজার হাজার অভিবাসন ও রাজনৈতিক আশ্রয়প্রত্যাশীকে আটক করা হয়। এদের মধ্যে খুব ঝুঁকিতে থাকা ৭৫১ জন নারী ও ২৫৫টি শিশু রয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কমপক্ষে ৩০টি নবজাতক শিশু ও পাঁচটি অভিভাবকহীন শিশু রয়েছে। ত্রিপোলির বন্দিশিবিরের প্রায় ১ হাজার নারী ও শিশুর নিরাপত্তা ও সুস্থতা খুবই ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।’

চলতি মাসের শুরুতে অবৈধ অভিবাসীদের লক্ষ করে অভিযান শুরু করে লিবিয়া কর্তৃপক্ষ।

আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস জানিয়েছে, লিবিয়া সরকারের অভিযানে অন্তত পাঁচ হাজার অভিবাসী ও শরণার্থীকে আটক করা হয়।

লিবিয়ায় জাতিসংঘের সহায়তা মিশনের তথ্য অনুযায়ী, সংঘবদ্ধ অপরাধ ও মাদক পাচারকে লক্ষ করে লিবিয়া সরকারের অভিযানে একজন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছে।

লিবিয়ায় ইউনিসেফের ভারপ্রাপ্ত বিশেষ প্রতিনিধি ক্রিস্টিনা ব্রুগিওলা বলেন, ‘নির্বিচারে আটক হওয়াসহ অন্যান্য গুরুতর শিশু অধিকার লঙ্ঘনের মুখে লিবিয়ার অভিবাসী ও শরণার্থী শিশুরা।’

তিনি বলেন, ‘শিশুরা এসব বন্দিশিবিরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। আটক করা শিশুর সংখ্যা আমাদের ধারণার আরও অনেক বেশি। প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের সঙ্গে অনেক ছেলেশিশুকে বন্দিশিবিরে রাখার অভিযোগ আমরা পেয়েছি।’

শেয়ার করুন

বিয়েতে জৌলুশ কমানোর পর সংসারে শান্তি

বিয়েতে জৌলুশ কমানোর পর সংসারে শান্তি

কাশ্মীরের একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে ঐতিহ্যবাহী নাচ। ছবি: ইপিএ

ইকরা আলতাফ বলেন, ‘ইসলাম ধর্ম আমাদের এই নতুন নিয়মের পেছনে উৎসাহ হিসেবে কাজ করেছে। যৌতুক ও ব্যয়বহুল বিয়ের প্রথা নারীর জীবন কঠিন করে তোলে। এটি নারীর প্রতি সহিংসতা ও বৈষম্য তৈরি করে। এসব প্রথার কারণে অনেক বাবা-মা কন্যাসন্তান নিতে চান না।’

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সিন্ধু নদীর ধারে বাবাওয়াইল গ্রাম। নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে নতুন এক রাস্তা খুঁজে বের করেছেন গ্রামটির বাসিন্দারা। এ জন্য বিয়ের অনুষ্ঠানের খরচ কমিয়ে যৌতুক নিষিদ্ধ করেছেন তারা। বাসিন্দারা বলছেন, বিয়ের অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত খরচের বদলে সেই টাকা ছেলেমেয়েদের শিক্ষার পেছনে ব্যয় করা উচিত।

জাবারওয়ান পর্বতের পাদদেশের গ্রামটির বাসিন্দাদের বেশির ভাগই পাশমিনা শাল তৈরির সঙ্গে জড়িত। এ ছাড়া অনেকে কৃষিকাজও করেন।

যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাবাওয়াইল গ্রাম দক্ষিণ এশিয়ার সেই দুর্লভ জায়গা, যেখানে যৌতুক ও ব্যয়বহুল বিয়ের অনুষ্ঠান বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে। পৃথিবীর এই অঞ্চলটিতে বিয়েতে অনেক খরচ হয়। এতে কোনো কোনো পরিবারের সারা জীবনের সঞ্চয় শেষ হয়ে যায়। টাকার বড় অংশই খরচ হয় বিয়ে উপলক্ষে অতিথি, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের খাওয়াতে।

এ ছাড়া যৌতুক হিসেবে বরকে বড় অঙ্কের টাকার উপহার দিতে হয়। এর মধ্যে বিভিন্ন আসবাবপত্র থেকে শুরু করে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা এমনকি গাড়ি পর্যন্ত রয়েছে। কখনও কখনও যৌতুক ঠিক না হলে বিয়েও আটকে থাকে।

প্রায় ৬০ বছর আগে থেকে ভারতে যৌতুক নিষিদ্ধ। তবে দেশটিতে যৌতুকের সংস্কৃতির শিকড় অনেক গভীরে। যৌতুকের কারণে ভারতে প্রতিদিন গড়ে ২০ জন নারী প্রাণ হারান। এ প্রথার শিকার হয়ে প্রতিবছর মারা যান প্রায় আট হাজার নারী।

বাবাওয়াইল গ্রামের ইমাম বশির আহমেদ বলেন, ‘যৌতুক ও ব্যয়বহুল বিয়ে নিয়ে যেসব ঘটনা আমাদের কানে আসত সেগুলো খুবই বেদনাদায়ক ছিল। আমি ভাবতাম, কীভাবে এই প্রথাগুলো ছাড়াই আমাদের সন্তানদের বিয়ের ব্যবস্থা করা যায়।’

২০০৪ সালের শীতকালে গ্রামের প্রায় ২০ মুরব্বিকে নিয়ে আলোচনায় বসেন বশির। কয়েক দিনের আলোচনার পর গ্রামবাসীর কাছে নিজেদের প্রস্তাব তুলে ধরেন তারা।

এতে বলা হয়, বিয়েতে কনের পরিবার কোনো টাকা দিতে পারবে না। তবে ইসলামের নিয়ম অনুযায়ী, মোহরানা হিসেবে কনেকে ৯০০ ভারতীয় রুপি দেবেন বর। কনের পরিবারকে দিতে হবে আরও ১৫ হাজার রুপি।

প্রস্তাবে আরও বলা হয়, বিয়েতে অতিথিদের খাওয়াতে ৫০ কেজি মাংস ও ৪০ কেজি চাল দিয়ে রান্না করবে কনের পরিবার।

এর আগে ওয়াজওয়ান নামের বিয়ের অনুষ্ঠানে অন্তত ১০০ অতিথিকে খাওয়াত কনের পরিবার। কয়েক পদের খাবারের আয়োজন করতে খরচ হতো লাখ লাখ রুপি।

বিয়েতে জৌলুশ কমানোর পর সংসারে শান্তি
কাশ্মীরের বাবাওয়াইল গ্রামের একটি রাস্তা। ছবি: কাশ্মীর নিউজ অবজারভার

গ্রামের বাসিন্দারা খুব দ্রুতই এই নতুন নিয়ম মেনে নেন। এরপর থেকে বাবাওয়াইল গ্রামে যৌতুক দিয়ে বা অতিরিক্ত খরচ করে কোনো বিয়ে হয়নি। কেউ এই নিয়ম ভঙ্গ করলে তাকে সামাজিকভাবে প্রত্যাখ্যান করার শাস্তিও রাখা হয়েছে।

তবে মুদ্রাস্ফীতির কারণে গত বছর নিয়মে কিছুটা বদল এনেছেন বাসিন্দারা। এতে দেনমোহরের পরিমাণ ঠিক হয়েছে ২০ হাজার রুপি। একই সঙ্গে কনের পরিবারকে দিতে হবে ৩০ হাজার রুপি। এ ছাড়া বিয়ে উপলক্ষে কোনো ভোজন অনুষ্ঠান আয়োজন করা যাবে না। আপ্যায়নের জন্য পরিবেশিত হবে শুধু খেজুর ও চা। কনের বাড়িতে যাওয়ার সময় বরকে সঙ্গ দিতে পারবেন মাত্র তিনজন স্বজন।

গ্রামবাসী জানিয়েছেন, বিয়ের এমন নিয়ম করার পর থেকে সেখানে নারীর প্রতি সহিংসতার কোনো ঘটনা ঘটেনি। একই সঙ্গে কোনো দম্পতির বিবাহবিচ্ছেদও হয়নি।

সম্প্রতি বিয়ে করেছেন ২৫ বছর বয়সী ইকরা আলতাফ।

স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাওয়া এই বাসিন্দা বলেন, ‘ইসলাম ধর্ম আমাদের এই নতুন নিয়মের পেছনে উৎসাহ হিসেবে কাজ করেছে। যৌতুক ও ব্যয়বহুল বিয়ের প্রথা নারীর জীবন কঠিন করে তোলে। এটি নারীর প্রতি সহিংসতা ও বৈষম্য তৈরি করে। এসব প্রথার কারণে অনেক বাবা-মা কন্যাসন্তান নিতে চান না।’

যৌতুক বন্ধ হওয়ার পর সংসারে শান্তি আসায় গ্রামের বাসিন্দারাও খুশি।

গ্রামটির বাসিন্দা গুলাম নবী শাহ সাবেক সরকারি কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ‘আমাদের মেয়েরা কোনো লাঞ্ছনার শিকার হচ্ছে না দেখে আমরা খুব সন্তুষ্ট। আগে বিয়েতে যে বিপুল টাকা খরচ হতো, সেটি আমরা এখন ছেলেমেয়েদের শিক্ষার মতো আরও ভালো কাজে খরচ করতে পারছি।’

গুলাম বলেন, ‘বিয়ের অনুষ্ঠানকে অনাড়ম্বর রাখতে আমি এখন অন্য গ্রামের স্বজনদেরও বোঝানোর চেষ্টা করছি। আমি মরার আগে দেখে যেতে চাই, কাশ্মীর বদলাচ্ছে।’

শেয়ার করুন