বিশাল জয়, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী থাকছেন মমতা

বিশাল জয়, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী থাকছেন মমতা

নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়ালকে ২১ রাউন্ড ভোট গণনা শেষে ৫৮ হাজার ৮৫৮ ভোটের ব্যবধানে হারান তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর পদ ধরে রাখার উপনির্বাচন ভবানীপুর বিধানসভায় বিশাল জয় পেয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়ালকে ২১ রাউন্ড ভোট গণনা শেষে ৫৮ হাজার ৮৫৮ ভোটের ব্যবধানে হারান তিনি।

করোনার আবহে গত মার্চ-এপ্রিল মাসে বিধানসভা নির্বাচনে মমতা ভবানীপুরের প্রার্থী না হয়ে নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সামান্য ভোটের ব্যবধানে হেরে যান। সংবিধান অনুযায়ী মুখ্যমন্ত্রীও হন।

তবে বিধানসভা নির্বাচনের সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, ছয় মাসের মধ্যে বিধায়ক নির্বাচিত হয়ে আসার বাধ্যবাধকতা রয়েছে মমতার। তাই মুখ্যমন্ত্রীর পদ ধরে রাখতে উপনির্বাচনে যেতে হয়েছে মমতাকে।

তাকে এ সুযোগ করে দিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। ভবানীপুর থেকে বিজয়ী হয়েও বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি। আর আসনটি তিনি ছেড়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতার জন্য।

এই নির্বাচনে ছিল সবার চোখ। মমতার জয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত তৃণমূল। তাদের একটাই লক্ষ্য, বিজেপিকে কত বেশি ভোটে ভবানীপুর কেন্দ্রে হারানো যায়। এই জয়ে মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকতে কোনো বাধা রইল না মমতার।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বহু গুরুত্বপূর্ণ পথ সামলেছেন। রেল, কয়লার মতো একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেন।

কংগ্রেসের হাত ধরে রাজনীতিতে প্রবেশ করে ১৯৯৭ সালে কংগ্রেস ছেড়ে বেরিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস নামে পৃথক রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করেন।

১৯৯৯ সালে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের শরিক হন। ২০০৬ সালে সিঙ্গুরের কৃষিজমিতে টাটাদের প্রস্তাবিত গাড়ি কারখানা তৈরির বিরুদ্ধে কৃষকদের জমি বাঁচাও আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন।

কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বেঁধে ২০০৬ সালে লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের ৪২টি আসনের মধ্যে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস জোট ২৬টি আসনে জয় পায়।

২০১০ সালে কলকাতা পৌরসভা নির্বাচনে জয়ী হয় তৃণমূল কংগ্রেস।

২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস, কংগ্রেস জোট বেঁধে ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়ে ২৯৪টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ২২৭টি আসন দখল করে জোট। কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেসের জোটের মুখ্যমন্ত্রী হন মমতা।

২০১৬ সালে বাম ও কংগ্রেস জোটের বিরুদ্ধে তৃণমূলের ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২১১ আসনে জয় পেয়ে মুখ্যমন্ত্রী হন তৃণমূল নেত্রী মমতা।

আরও পড়ুন:
দ্বিতীয় রাউন্ড ভোট গণনা শেষে এগিয়ে মমতা
বাংলাকে ভাগ করতে চাইলে খেলা হবে: বিজেপিকে মমতা
টিকা নেয়ার প্রশংসাপত্রে মোদির নয় মমতার ছবি থাকবে
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তৃতীয় শপথ মমতার
মমতার সাফল্যের রহস্য

শেয়ার করুন

মন্তব্য

চীনের নতুন ভূমি আইন নিয়ে উদ্বিগ্ন ভারত

চীনের নতুন ভূমি আইন নিয়ে উদ্বিগ্ন ভারত

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচি। ফাইল ছবি

নতুন আইনে চীন ও পাকিস্তানের মধ্যকার সীমান্ত চুক্তিকে বৈধতা দেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ ভারতের। বেইজিং-ইসলামাবাদের ১৯৬৩ সালের চুক্তিটির ঘোর বিরোধী নয়া দিল্লি।

চীন-ভারত সীমান্তে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থায় বেইজিংয়ের নতুন ভূমি আইন প্রভাব ফেলতে পারে বলে উদ্বেগ জানিয়েছে নয়া দিল্লি। অভিযোগ, কোনো আলোচনা ছাড়াই একতরফাভাবে ভূমি আইনবিষয়ক নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে চীন সরকার।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানায়, চীনের নতুন আইনের কারণে দুই দেশের অমীমাংসিত সীমান্ত বিতর্কে প্রভাব পড়তে পারে।

দিল্লিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচি বলেন, “এটা বুঝতে হবে যে ভারত ও চীন এখনও সীমান্ত সমস্যার সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি। এ অবস্থায় একটি নতুন ভূমি আইন ও চীনের একতরফা সিদ্ধান্ত সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনার কারণ হতে পারে।

‘এ ছাড়া সীমান্ত ইস্যুতে আমাদের বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক চুক্তিও ঝুঁকিতে পড়তে পারে। বিষয়টি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।’

অরিন্দম বাগচি আরও বলেন, ‘এই আইনের ঘোষণা এমন এক সময়ে এসেছে যখন বেইজিং ও নয়াদিল্লির মধ্যে পূর্ব লাদাখে অচলাবস্থা সমাধানের জন্য আলোচনা চলছে। নতুন এ আইনটির অর্থ হলো- সীমান্তে নিয়ন্ত্ররেখা বিষয়ে বর্তমান অবস্থানেই অনড় থাকবে চীন।’

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, চীন এ আইনের দোহাই দিয়ে সীমান্ত পরিস্থিতি উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া থেকে বিরত থাকবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নতুন আইনে চীন ও পাকিস্তানের মধ্যকার সীমান্ত চুক্তিকে বৈধতা দেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ ভারতের। বেইজিং-ইসলামাবাদের ১৯৬৩ সালের চুক্তিটির ঘোর বিরোধী নয়া দিল্লি।

আরও পড়ুন:
দ্বিতীয় রাউন্ড ভোট গণনা শেষে এগিয়ে মমতা
বাংলাকে ভাগ করতে চাইলে খেলা হবে: বিজেপিকে মমতা
টিকা নেয়ার প্রশংসাপত্রে মোদির নয় মমতার ছবি থাকবে
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তৃতীয় শপথ মমতার
মমতার সাফল্যের রহস্য

শেয়ার করুন

তৃণমূলে গেলেন বিজেপি বিধায়ক

তৃণমূলে গেলেন বিজেপি বিধায়ক

চলতি বছর পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন কৃষ্ণ কল্যাণী। ছবি: সংগৃহীত

বেশ কিছুদিন ধরে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে রায়গঞ্জের বিধায়কের বিরোধ চলছিল। নাম উল্লেখ না করলেও বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব ও স্থানীয় সংসদ সদস্য দেবশ্রী চৌধুরীর ওপর কৃষ্ণ কল্যাণীর ক্ষোভ স্পষ্ট ছিল।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে রাজ্য বিজেপিতে ভাঙন অব্যাহত। সবশেষ দলত্যাগ করেছেন রায়গঞ্জের বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণী, ফিরেছেন নিজের পুরোনো ঘাঁটি তৃণমূলে।

তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও জোড়াসাঁকোর বিধায়ক বিবেক গুপ্তার উপস্থিতিতে বুধবার নিজের তৃণমূলের পতাকা হাতে তুলে নেন কৃষ্ণ কল্যাণী।

চলতি বছর পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন কৃষ্ণ কল্যাণী। বিজেপির টিকিটেই রায়গঞ্জ থেকে বিধানসভা সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।

কিন্তু রাজ্য বিজেপির অন্তর্কোন্দলে বীতশ্রদ্ধ কল্যাণী পুরনো দল তৃণমূলে ফিরতে চাইছিলেন বেশ কিছুদিন ধরে।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্মতিতে আবার তৃণমূল পতাকা হাতে তুলে নেন কল্যাণী।

পুরোনো দলে ফিরে কৃষ্ণ কল্যাণী বলেন, ‘বিজেপিতে আছে খালি ষড়যন্ত্র। তা দিয়ে নির্বাচনের ময়দানে জেতা যায় না। জিততে হলে দরকার উন্নয়ন। আমি কাজ করার চেষ্টা করেছি, বিনিময়ে ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছি। তাই বিজেপি ছাড়তে বাধ্য হয়েছি।’

তৃণমূলে ফেরার প্রতিক্রিয়ায় কৃষ্ণ কল্যাণী আরও বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যা কথা দেন, তা করে দেখান। ভোটের আগে তিনি যা যা বলেছিলেন, ক্ষমতায় ফিরে সব করে দেখিয়েছেন। এতে অভিভূত আমি। ধন্যবাদ জানাই মমতাদি আর অভিষেকদাকে।’

বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে কৃষ্ণ কল্যাণী বলেন, ‘বিজেপিতে ভালো কাজের কোনো মূল্যায়ন নেই। বিজেপিতে যোগ দিয়ে যে ভুল করেছিলাম, তা এবার শুধরে নিচ্ছি।’

বেশ কিছুদিন ধরে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে রায়গঞ্জের বিধায়কের বিরোধ চলছিল। নাম উল্লেখ না করলেও বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব ও স্থানীয় সংসদ সদস্য দেবশ্রী চৌধুরীর ওপর কৃষ্ণ কল্যাণীর ক্ষোভ স্পষ্ট ছিল।

এ অবস্থায় সংবাদ সম্মেলন করে দলের সব কর্মসূচি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে দল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। গত ১ অক্টোবর জানিয়েছিলেন, দেবশ্রী চৌধুরীর সঙ্গে একই দল করা সম্ভব নয়।

২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ৭৭টি আসনে জয়লাভ করে বিজেপি। নিশীথ প্রামাণিক এবং জগন্নাথ সরকার তাদের সংসদ সদস্য পদ ধরে রাখতে বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিলে ৭৭ থেকে নেমে ৭৫ জনে নেমে আসে বিধায়কের সংখ্যা।

এরপর বিজেপি দলীয় পাঁচজন বিধায়ক দল ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন। ফলে বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিধায়কের সংখ্যা ৭০।

আরও পড়ুন:
দ্বিতীয় রাউন্ড ভোট গণনা শেষে এগিয়ে মমতা
বাংলাকে ভাগ করতে চাইলে খেলা হবে: বিজেপিকে মমতা
টিকা নেয়ার প্রশংসাপত্রে মোদির নয় মমতার ছবি থাকবে
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তৃতীয় শপথ মমতার
মমতার সাফল্যের রহস্য

শেয়ার করুন

পেগাসাস স্পাইওয়্যার: ভারতের সুপ্রিম কোর্টের তদন্ত কমিটি গঠন

পেগাসাস স্পাইওয়্যার: ভারতের সুপ্রিম কোর্টের তদন্ত কমিটি গঠন

প্রতীকী ছবি।

দুই মাস পর এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী শুনানি হবে এবং সেদিন কমিটিটি প্রতিবেদন জমা দেবে। আদালতের রায়ে বলা হয়, ‘সরকারকে নোটিশ জারি করা হয়েছিল।... বারবার সুযোগ দেয়া সত্ত্বেও সরকার সীমিত হলফনামা দিয়েছে, যা স্পষ্ট নয়। স্পষ্টভাবে সব জানানো হলে পুরো বিষয়টা বোঝা সহজ হতো। প্রতিবার জাতীয় নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে তথ্য অস্পষ্ট রেখে সরকার পার পাবে না।’

ইসরায়েলের ফোন হ্যাকিং সফটওয়্যার পেগাসাসের মাধ্যমে ভারতে নজরদারি অভিযোগ খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে একটি তদন্ত প্যানেলও গঠন করেছে সর্বোচ্চ আদালত।

সুপ্রিম কোর্টের মতে, এ ধরনের সফটওয়্যার ব্যবহার ও নজরদারির অভিযোগ জনগণের মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং সমাজে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।

ভারতের প্রধান বিচারপতি এনভি রামানা এবং বিচারপতি সূর্যকান্ত ও হিমা কোহলির বেঞ্চ এই রায় দেন।

গঠিত তদন্ত প্যানেলের প্রধান হবেন সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আরভি রবীন্দ্রন।

কমিটির বাকি তিন সদস্য হলেন- গুজরাটের গান্ধীনগরের ন্যাশনাল ফরেনসিক সায়েন্সেস ইউনিভার্সিটির সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ডিজিটাল ফরেনসিক বিভাগের অধ্যাপক ও ডিন ড. নবীন কুমার চৌধুরী; কেরালার অমৃতপুরীর অমৃতা বিশ্ব বিদ্যাপীঠমের প্রকৌশলের অধ্যাপক ড. পি প্রবাহরণ এবং মহারাষ্ট্রের মুম্বাইয়ের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির (আইআইটি) কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশলের সহযোগী অধ্যাপক ড. অশ্বিন অনিল গুমাস্তে।

এ ছাড়া কমিটির প্রধানকে সহায়তা করবেন প্রাক্তন আইপিএস আধিকারিক অলোক যোশী ও ডা. সুন্দীপ ওবেরয়।

দুই মাস পর এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী শুনানি হবে এবং সেদিন কমিটিটি প্রতিবেদন জমা দেবে।

আদালতের রায়ে বলা হয়, ‘সরকারকে নোটিশ জারি করা হয়েছিল। পেগাসাস স্পাইওয়্যার নজরদারির অভিযোগের বিষয়ে সরকারের গৃহীত সব পদক্ষেপের বিশদ বিবরণ দেয়ার যথেষ্ট সুযোগ দেয়া হয়েছে।

‘বারবার সুযোগ দেয়া সত্ত্বেও সরকার সীমিত হলফনামা দিয়েছে, যা স্পষ্ট নয়। স্পষ্টভাবে সব জানানো হলে পুরো বিষয়টা বোঝা সহজ হতো। প্রতিবার জাতীয় নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে তথ্য অস্পষ্ট রেখে সরকার পার পাবে না।’

সুপ্রিম কোর্ট আরও বলে, ‘আদালত জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে অনধিকার প্রবেশ করবে না। কিন্তু জাতীয় নিরাপত্তার কথা বলে আদালতকে নীরব দর্শকে পরিণত করা যাবে না।’

পেগাসাস নজরদারি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদনকারীদের মধ্যে ছিলেন আইনজীবী এমএল শর্মা, রাজ্যসভা সদস্য জন ব্রিটাস, হিন্দু গ্রুপ অফ পাবলিকেশন্সের পরিচালক এন রাম, এশিয়ানেটের প্রতিষ্ঠাতা শশী কুমার এবং এডিটরস গিল্ড অফ ইন্ডিয়ার সদস্য প্রেম শঙ্কর ঝা, রূপেশ কুমার সিং, ইপসা শতাব্দী, পরঞ্জয় গুহঠাকুরতা ও এসএনএম আবদি।

আরও পড়ুন:
দ্বিতীয় রাউন্ড ভোট গণনা শেষে এগিয়ে মমতা
বাংলাকে ভাগ করতে চাইলে খেলা হবে: বিজেপিকে মমতা
টিকা নেয়ার প্রশংসাপত্রে মোদির নয় মমতার ছবি থাকবে
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তৃতীয় শপথ মমতার
মমতার সাফল্যের রহস্য

শেয়ার করুন

আদালতে সু চির প্রথম সাক্ষ্য, ‘উসকানি’র অভিযোগ প্রত্যাখ্যান

আদালতে সু চির প্রথম সাক্ষ্য, ‘উসকানি’র অভিযোগ প্রত্যাখ্যান

মিয়ানমারের ক্ষমতাচ্যুত রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি। ফাইল ছবি

সু চির আইনজীবীদের একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বার্তা সংস্থা মিয়ানমার নাওকে বলেন, ‘নিজেকে নির্দোষ প্রমাণে আদালতে সু চি ভালোভাবেই তার বক্তব্য উপস্থাপন করতে পেরেছেন।’ শুনানির বিষয়ে সু চির আইনজীবীদের সংবাদমাধ্যমে কথা বলায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সেনাবাহিনী। তাই এ নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেননি ওই আইনজীবী।

১ ফেব্রুয়ারির সেনা অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত ও গ্রেপ্তার হওয়ার পর ৯ মাসে প্রথমবার আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন মিয়ানমারের জনপ্রিয় নেত্রী অং সান সু চি। সাবেক এই রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা তার বিরুদ্ধে আনীত ‘জনগণকে উসকে দেয়ার’ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।

অভ্যুত্থানের ফলে চরম দোলাচলে থাকা মিয়ানমারের সেনাবাহিনী সু চির বিরুদ্ধে কমপক্ষে ১১টি অভিযোগ গঠন করেছে। দোষী সাব্যস্ত হলে ৭৬ বছর বয়সী এই নেত্রীকে দীর্ঘ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হতে পারে।

আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, অভ্যুত্থানের পর ফেব্রুয়ারি মাসেই সু চির দল সামরিক শাসকগোষ্ঠীর নিন্দা জানিয়ে দুটি বিবৃতি দেয়। বিবৃতিতে সেনাবাহিনীর সঙ্গে কাজ না করতে আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর প্রতি আহ্বানও জানানো হয়েছিল। এ ঘটনায় সু চির বিরুদ্ধে উসকানির অভিযোগ এনেছে জান্তা সরকার।

আদালতে মঙ্গলবারের রুদ্ধদ্বার শুনানিতে এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন সু চি।

সু চির আইনজীবীদের একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বার্তা সংস্থা মিয়ানমার নাওকে বলেন, ‘নিজেকে নির্দোষ প্রমাণে আদালতে সু চি ভালোভাবেই তার বক্তব্য উপস্থাপন করতে পেরেছেন।’

শুনানির বিষয়ে সু চির আইনজীবীদের সংবাদমাধ্যমে কথা বলায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সেনাবাহিনী। তাই এ নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেননি ওই আইনজীবী।

২০২০ সালের নভেম্বরের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় অর্জনের পর নতুন সরকার পার্লামেন্ট অধিবেশনে বসার কয়েক ঘণ্টা আগেই হয় অভ্যুত্থান। এর পরই সু চিসহ বেসামরিক সরকারের জ্যেষ্ঠ নেতাদের গ্রেপ্তার করে সেনাবাহিনী। যদিও তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয় আরও অনেক পরে।

অভ্যুত্থানের জেরে মিয়ানমারে জাতীয় পর্যায়ে নজিরবিহীন বিক্ষোভ শুরু গণতন্ত্রকামী জনতা। অস্ত্রের শক্তি প্রয়োগ করে বিক্ষোভ দমন করে সেনাবাহিনী, হত্যা করে শিশুসহ ১ হাজার ১০০ মানুষকে।

স্থানীয় পর্যবেক্ষণ সংস্থা অ্যাসিসট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স (এএপিপি) জানিয়েছে, বিরোধী মত দমনে ৯ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে সেনাবাহিনী। ধরপাকড় চলছে এখনও।

সু চির বিরুদ্ধে আনীত বাকি ১০টি অভিযোগের মধ্যে অন্যতম হলো অবৈধভাবে ওয়াকিটকি আমদানি, করোনাভাইরাস মহামারিকালীন বিধিনিষেধ ও রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা লঙ্ঘন।

সু চির বিরুদ্ধে এসব মামলার অগ্রগতির বিষয়ে কোনো খবর প্রকাশ করেনি মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা। এ অবস্থায় চলমান বিচারের বিষয়ে তথ্যের একমাত্র উৎস ছিলেন তার আইনজীবী খিন মং জাও।

কিন্তু চলতি মাসে খিন মং জাওকেও মুখ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় সামরিক সরকার। কারণ তিনিই ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টের আদালতে দেয়া সাক্ষ্য সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছিলেন।

আদালতে উইন মিন্ট জানিয়েছেন যে, অভ্যুত্থানের কয়েক ঘণ্টা আগেই তাকে ক্ষমতা হস্তান্তরে চাপ দিয়েছিল সেনাবাহিনী। প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় তার ক্ষতি করারও হুমকি দিয়েছিলেন মিয়ানমারের শীর্ষ সেনা কর্মকর্তারা।

গ্রেপ্তারের পর থেকে অং সান সু চিকে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখা হয়েছে। রাজধানী নেইপিদোর একটি বিশেষ আদালতে চলছে তার শুনানি।

আরও পড়ুন:
দ্বিতীয় রাউন্ড ভোট গণনা শেষে এগিয়ে মমতা
বাংলাকে ভাগ করতে চাইলে খেলা হবে: বিজেপিকে মমতা
টিকা নেয়ার প্রশংসাপত্রে মোদির নয় মমতার ছবি থাকবে
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তৃতীয় শপথ মমতার
মমতার সাফল্যের রহস্য

শেয়ার করুন

তালেবানের সঙ্গে আলোচনায় নারী রাখছে না পশ্চিমারাই

তালেবানের সঙ্গে আলোচনায় নারী রাখছে না পশ্চিমারাই

তালেবানের সঙ্গে বৈঠকে কোনো নারী সদস্য ছিল না পশ্চিমা দেশ ও সংস্থার প্রতিনিধিদলে। ছবি: এএনআই

আন্তর্জাতিক সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের কর্মকর্তা হিদার বার বলেন, ‘বিদেশি দেশ বিশেষ করে সহায়তা সংস্থাগুলোকে এ বিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। কেবল পুরুষপ্রধান বিশ্ব তৈরি করতে চাইছে তালেবান। গোষ্ঠীটির এই চিন্তাধারা যে স্বাভাবিক নয়, তা আমাদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তাদের জানান দেয়া উচিত।’

আফগানিস্তানে তালেবান তাদের সরকার গঠনের আগে থেকে পশ্চিমা বিশ্ব ও আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলো বারবার গোষ্ঠীটির প্রতি অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়ে আসে।

তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর বিভিন্ন সময় নারীসহ অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠনের অঙ্গীকারও করে।

নিজেদের ৩৩ নেতা নিয়ে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারে শেষ পর্যন্ত একজন নারীকেও রাখেনি তালেবান। এ নিয়ে বিশ্বব্যাপী তুমুল সমালোচনা হয়।

তালেবানের ওই পদক্ষেপের সমালোচনায় মুখর থাকা বৈশ্বিক ক্ষমতাধর দেশ ও সহায়তা সংস্থাগুলো এখন উল্টো ব্যাপক সমালোচনার মুখে। কারণ আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে তালেবান সরকারের সঙ্গে সাম্প্রতিক একাধিক বৈঠকে ওই সব দেশ ও সংস্থার প্রতিনিধিদলে কোনো নারীই ছিলেন না।

পশ্চিমা বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে গত দুই মাসে বেশ কয়েকবার বলা হয়, তালেবানের উচিত আফগান নারীদের তাদের প্রাপ্য মর্যাদা দেয়া। আর তা দিতে ব্যর্থ হলে তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেয়ার পথ কঠিন হবে।

আগস্টে কাবুল পতনের মধ্য দিয়ে আফগানিস্তানের ক্ষমতা তালেবানের হাতে যায়। এর কয়েক সপ্তাহ পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করে কট্টর ইসলামপন্থি গোষ্ঠীটি।

সরকার গঠনের প্রায় দুই মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো দেশের স্বীকৃতি অর্জন করতে পারেনি তালেবান। এ নিয়ে চাপেও রয়েছে তারা। কারণ স্বীকৃতি না পাওয়ায় আশানুরূপ অর্থনৈতিক ও মানবিক সহায়তা পাচ্ছে না আফগানিস্তান।

এমন পরিস্থিতিতে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, যারা তালেবানকে নারী অধিকারের পক্ষে কাজ করার উপদেশ দিচ্ছে, তারা নিজেরা এ বিষয়ে কতটুকু আন্তরিক, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

আফগানিস্তানের জাতীয় মানবাধিকার সংস্থা আফগান ইনডিপেনডেন্ট হিউম্যান রাইটস কমিশনের (এআইএইচআরসি) নির্বাসিত প্রধান শেহেরজাদ আকবর বলেন, ‘আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি চাওয়া তালেবান সরকারের সঙ্গে পশ্চিমা দেশ ও সংস্থার বৈঠকে জ্যেষ্ঠ নারী কর্মকর্তা থাকা উচিত। ওই সব বৈঠকে নারীদের বাদ দেয়া ঠিক নয়।’

বিভিন্ন দেশের সরকার ও সহায়তা সংস্থার উদ্দেশে আকবর টুইটবার্তায় বলেন, ‘তালেবান তাদের সরকারে নারী প্রতিনিধি বাদ দিয়েছে। আপনারা একই ধরনের কাজ করে তালেবানের কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেবেন না।’

আন্তর্জাতিক সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের কর্মকর্তা হিদার বার বলেন, ‘বিদেশি দেশ বিশেষ করে সহায়তা সংস্থাগুলোকে এ বিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। কেবল পুরুষপ্রধান বিশ্ব তৈরি করতে চাইছে তালেবান। গোষ্ঠীটির এই চিন্তাধারা যে স্বাভাবিক নয়, তা আমাদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তাদের জানান দেয়া উচিত।’

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদেশি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের বেশ কয়েকটি ছবি পোস্ট করে তালেবান। ওই সব ছবির একটিতেও কোনো নারীকে দেখা যায়নি।

চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাজ্যের বিশেষ দূত সাইমন গ্যাসের সঙ্গে বৈঠক করেন তালেবানের উপপ্রধানমন্ত্রী আব্দুল গনি বারাদার।

যুক্তরাজ্যের এক কর্মকর্তা জানান, বিশেষ দূত ও মিশনপ্রধান দুজনই পুরুষ। এটি কাকতালীয় ঘটনা।

এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে ছাড়েননি গত বছর দোহায় তৎকালীন আফগান সরকার ও তালেবানের ব্যর্থ শান্তি আলোচনার অন্যতম অংশগ্রহণকারী ফৌজিয়া কুফি।

তিনি বলেন, ‘বিশ্বনেতারা যখন নারী অধিকারের কথা বলেন, তখন তাদের সে অনুযায়ী কাজ করা উচিত।

‘কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তাদের নারী অধিকার পক্ষে অবস্থান দেখাতে হবে। এটি কোনো রাজনৈতিক বিবৃতি নয়।’

সমালোচনার জবাবে ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অফ দ্য রেড ক্রস, জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ ও ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস জানিয়েছে, কাবুলে তালেবানের সঙ্গে বৈঠকে তারা তাদের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে গঠিত ছোট প্রতিনিধিদল পাঠায়। কাকতালীয়ভাবে তারা সবাই পুরুষ।

আরও পড়ুন:
দ্বিতীয় রাউন্ড ভোট গণনা শেষে এগিয়ে মমতা
বাংলাকে ভাগ করতে চাইলে খেলা হবে: বিজেপিকে মমতা
টিকা নেয়ার প্রশংসাপত্রে মোদির নয় মমতার ছবি থাকবে
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তৃতীয় শপথ মমতার
মমতার সাফল্যের রহস্য

শেয়ার করুন

আফগানিস্তান পুনর্গঠনে বিশ্বের প্রতি আহ্বান শি-ইমরানের

আফগানিস্তান পুনর্গঠনে বিশ্বের প্রতি আহ্বান শি-ইমরানের

আফগানিস্তানকে সহায়তায় মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিন পিং ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ছবি: এএফপি

আফগানিস্তানের জনগণের দুর্দশা মোচন ও অস্থিতিশীলতা রোধে দেশটিতে দ্রুত মানবিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা বাড়াতে আন্তর্জাতিক মহলের এগিয়ে আসার বিষয়ে একমত হন শি ও ইমরান।

যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান পুনর্গঠনে তালেবান সরকারের পাশাপাশি দুস্থ আফগানদের সহায়তায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিন পিং ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

দেশ দুটির রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান মঙ্গলবার যৌথভাবে এ আহ্বান জানান।

ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠার ১০০ বছর পূর্তিতে অভিনন্দন জানাতে দেশটির প্রেসিডেন্ট শিকে ফোন করেন ইমরান।

আলাপের একপর্যায়ে উভয় নেতা আফগানিস্তানে চলমান মানবিক বিপর্যয় নিয়ে কথা বলেন।

ওই সময় আফগানিস্তানের জনগণের দুর্দশা মোচন ও অস্থিতিশীলতা রোধে দেশটিতে দ্রুত মানবিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা বাড়াতে আন্তর্জাতিক মহলের এগিয়ে আসার বিষয়ে একমত হন শি ও ইমরান।

এ ছাড়া আফগানিস্তান পুনর্নির্মাণের লক্ষ্যে দেশটির নতুন তালেবান সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনেও বিশ্বের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

করোনাভাইরাস মহামারি সফলভাবে মোকাবিলার পাশাপাশি পাকিস্তানসহ উন্নয়নশীল বিভিন্ন দেশে চীনের ত্রাণ ও সহযোগিতামূলক পদক্ষেপের জন্য আলাপের একপর্যায়ে প্রেসিডেন্ট শিয়ের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান।

বৈশ্বিক অর্থনীতিতে করোনার নেতিবাচক প্রভাবের পরিপ্রেক্ষিতে অর্থনৈতিক দুরবস্থা নিরসনে চীন-পাকিস্তান মুক্তবাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক শক্তিশালী করতে ঐকমত্যে পৌঁছান শি ও ইমরান।

চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (সিপিইসি) প্রকল্পের সফল, সময়োপযোগী বাস্তবায়নের জন্য শির প্রশংসা করেন ইমরান।

এ ছাড়া সিপিইসির বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে চীনের বিনিয়োগকেও স্বাগত জানান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান।

আগস্টে তালেবান ক্ষমতা দখলের পর গত দুই মাসে আফগানিস্তানে মানবিক সহায়তা পাঠায় মিত্র দেশ চীন ও পাকিস্তান।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৯ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভে হাত দিতে পারছে না তালেবান সরকার। এসব অর্থের বেশির ভাগ নিউ ইয়র্কের কেন্দ্রীয় রিজার্ভে জমা রয়েছে।

রিজার্ভে প্রবেশাধিকার বন্ধ, অঙ্গীকার অনুযায়ী কাজ না করায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাধাগ্রস্ত হওয়াসহ বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত তালেবান সরকার।

এ ছাড়া সরকার গঠনের দুই মাসের বেশি সময় পার হলেও কোনো দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে আফগান সরকারকে স্বীকৃতি না দেয়ায় চরম মানবিক বিপর্যয় ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে আফগানিস্তান।

আরও পড়ুন:
দ্বিতীয় রাউন্ড ভোট গণনা শেষে এগিয়ে মমতা
বাংলাকে ভাগ করতে চাইলে খেলা হবে: বিজেপিকে মমতা
টিকা নেয়ার প্রশংসাপত্রে মোদির নয় মমতার ছবি থাকবে
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তৃতীয় শপথ মমতার
মমতার সাফল্যের রহস্য

শেয়ার করুন

কাবুলের নারীদের স্বস্তির জায়গা একটি বিউটি পারলার

কাবুলের নারীদের স্বস্তির জায়গা একটি বিউটি পারলার

বাধাবিপত্তির মাঝেও বন্ধ হয়নি কাবুলের এই বিউটি পারলার। ছবি: এএফপি

পারলারের মালিক মোহাদেসা বলেন, ‘এখানে কাজ করা নারীরা অনেক সাহসী। হুমকি মাথায় নিয়েও তারা এখানে কাজ করছেন।’

তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর নারীদের ওপর ফের কড়াকড়ি আরোপ করেছে। মেয়ে শিক্ষার্থীদের এখনও স্কুলে যাওয়ার অনুমতি মেলেনি। নারী স্বাস্থ্যকর্মী ছাড়া অন্য পেশার নারীরা কর্মস্থলে আজও ফিরতে পারেননি।

গত দুমাসে নিজেদের অধিকার রক্ষার দাবিতে আফগান নারীরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করলেও তালেবান সরকারকে তাদের বিষয়ে এখনও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।

এমন রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির মধ্যেও রাজধানী কাবুলে ছোট্ট একটি বিউটি পারলার এখনও খোলা রয়েছে। একমাত্র সেখানেই স্বাধীনতার একটু স্বাদ পান আফগান নারীরা।

কাবুলে ঘরের বাইরে আফগান নারীরা হাতেগোনা যে কয়টি জায়গায় এখনও যেতে পারেন, তার মধ্যে একটি ওই পারলার।

তালেবান সরকারের হুমকির মধ্যেও নিজের বিউটি পারলারটি বন্ধ করেননি মোহাদেসা। আফগান নারীরা সুযোগ পেলেই পারলারটিতে যান। নিজেদের আধুনিক সাজ ও পোশাকে সজ্জিত করেন। ওই সময় দুঃখ-যন্ত্রণা অন্যদের সঙ্গে ভাগ করেন বা সেসব ভুলে থাকার চেষ্টা করেন। অল্প সময়ের জন্য হলেও হাসিখুশিভাবেই সময়টা পার করেন পারলারটিতে আসা নারীরা।

৩২ বছর বয়সী মোহাদেসা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘আমরা হার মানব না। কাজও বন্ধ করব না।

‘আমাদের হাতে কাজ রয়েছে, এটা অনেক স্বস্তির। আফগান সমাজে নারীদের কাজ করা জরুরি। অনেকে তাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।’

মোহাদেসা তালেবান যোদ্ধাদের কাছ থেকে কোনো হুমকি পাননি, তা কিন্তু নয়। তার পারলারের বাইরে তালেবান সদস্যরা কয়েকবার গালাগালি করে। তা সত্ত্বেও একচুলও দমেননি মোহাদেসা।

তিনি বলেন, ‘এ পারলারে কাজ করা নারীরা অনেক সাহসী। হুমকি মাথায় নিয়েও তারা এখানে কাজ করছেন। ‘

পারলারটিতে আসা ফ্যাশন ডিজাইনার মারওয়া বলেন, ‘আমি মনে করি, প্রত্যেকটি দেশের মানুষের জন্য ফ্যাশন খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দেশীয় পোশাক না পরলে অন্যদের কাছে কীভাবে আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি তুলে ধরব?

‘নীল বা কালো বোরখা আমাদের পোশাক নয়। আমাদের পোশাক অনেক বেশি বর্ণিল, সুরুচিপূর্ণ ও চমৎকার।’

আরও পড়ুন:
দ্বিতীয় রাউন্ড ভোট গণনা শেষে এগিয়ে মমতা
বাংলাকে ভাগ করতে চাইলে খেলা হবে: বিজেপিকে মমতা
টিকা নেয়ার প্রশংসাপত্রে মোদির নয় মমতার ছবি থাকবে
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তৃতীয় শপথ মমতার
মমতার সাফল্যের রহস্য

শেয়ার করুন