দ্বিতীয় রাউন্ড ভোট গণনা শেষে এগিয়ে মমতা

দ্বিতীয় রাউন্ড ভোট গণনা শেষে এগিয়ে মমতা

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত তৃণমূল। তাদের একটাই লক্ষ্য বিজেপিকে কত বেশি ভোটে ভবানীপুর কেন্দ্রে হারানো যায়। অন্যদিকে ভোট গণনাকে কেন্দ্র করে কোনো বিদ্বেষ যাতে না ছড়ায় তা নিশ্চিত করতে কলকাতা হাইকোর্টকে চিঠি লিখেছেন বিজেপি প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ্যমন্ত্রীর পদ ধরে রাখার উপনির্বাচন ভবানীপুর বিধানসভার ভোট গণনা চলছে।

এর মধ্যে ভবানীপুর কেন্দ্রের দ্বিতীয় রাউন্ড গণনা শেষে ২ হাজার ৫০০ ভোটে এগিয়ে মমতা।

ভোট গণনা চলছে সামশেরগঞ্জ ও জঙ্গিপুর বিধানসভার নির্বাচনেরও। এর মধ্যে ভবানীপুরে ২১ রাউন্ড, সামশেরগঞ্জ ৩০ রাউন্ড ও জঙ্গিপুরে ২৬ রাউন্ড ভোট গণনা হবে।

কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ভারতীয় সময় সকাল ৮টায় শুরু হয় ভোট গণনা। কলকাতার এলগিন রোডে শাখাওয়াত মেমোরিয়াল গভর্নমেন্ট গার্লস হাইস্কুলে ভবানীপুর কেন্দ্রের ভোট গণনা চলছে।

গণনা কেন্দ্রে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। প্রথম বলয়ে আছে স্থানীয় পুলিশ। দ্বিতীয় বলয়ে রাজ্য পুলিশ। তৃতীয় বলয়, অর্থাৎ গণনাকেন্দ্রের বাইরে নিরাপত্তার দায়িত্বে আছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। গণনাকেন্দ্রের ২০০ মিটারের মধ্যে জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত তৃণমূল। তাদের একটাই লক্ষ্য বিজেপিকে কত বেশি ভোটে ভবানীপুর কেন্দ্রে হারানো যায়।

অন্যদিকে, ভোট গণনা কেন্দ্র করে কোনো বিদ্বেষ যাতে না ছড়ায় তা নিশ্চিত করতে কলকাতা হাইকোর্টকে চিঠি লিখেছেন বিজেপি প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল।

পাল্টা পরিবহন মন্ত্রী, তৃণমূলের ফিরহাদ হাকিম বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন, বিজেপি রাজ্যের বিরুদ্ধে কুৎসা ছড়াচ্ছে।

দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর মমতার নিজের এলাকা। তিনি শুধু এই বিধানসভা কেন্দ্রের বাসিন্দাই নন, ২০১১ ও ২০১৬ সালের নির্বাচনেও এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন।

করোনার আবহে গত মার্চ-এপ্রিল মাসে বিধানসভা নির্বাচনে মমতা ভবানীপুরের প্রার্থী না হয়ে, নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সামান্য ভোটের ব্যবধানে হেরে যান মমতা। সংবিধান অনুযায়ী মুখ্যমন্ত্রীও হন।

তবে বিধানসভা নির্বাচনের সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, ছয় মাসের মধ্যে বিধায়ক নির্বাচিত হয়ে আসার বাধ্যবাধকতা রয়েছে মমতার। তাই মুখ্যমন্ত্রীর পদ ধরে রাখতে উপনির্বাচনে যেতে হয়েছে মমতাকে।

তাকে এ সুযোগ করে দিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। ভবানীপুর থেকে বিজয়ী হয়েও বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি। আর আসনটি তিনি ছেড়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতার জন্য।

ভবানীপুর বিধানসভার ১৫৯ নম্বর আসন। কলকাতা পৌরসভার ৬৩, ৭০, ৭১,৭২, ৭৩, ৭৪, ৭৭ ও ৮২ নম্বর ওয়ার্ড এ অন্তর্ভুক্ত। মোট ভোটকেন্দ্র ২৮৭টি। ভোটারের সংখ্যা ২ লক্ষ ৯৬ হাজার ২৭২।

৩০ সেপ্টেম্বর ভবানীপুর উপনির্বাচনের ভোট হয়। ভোট পড়েছিল প্রায় ৫৫ শতাংশ।

মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর ও সামশেরগঞ্জ বিধানসভারও ভোট গণনা চলছে। সব নজর ভবানীপুরে।

আরও পড়ুন:
বাংলাকে ভাগ করতে চাইলে খেলা হবে: বিজেপিকে মমতা
টিকা নেয়ার প্রশংসাপত্রে মোদির নয় মমতার ছবি থাকবে
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তৃতীয় শপথ মমতার
মমতার সাফল্যের রহস্য
হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেন মমতা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

আইনের শাসনে দৃষ্টান্ত গড়তে চান ইমরান

আইনের শাসনে দৃষ্টান্ত গড়তে চান ইমরান

নবী মোহাম্মদের সময়কার কল্যাণমূলক মদিনা শাসনের বিষয়টি তুলে ধরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মদিনার শাসন ছিল ন্যায়বিচার ও যোগ্যতাভিত্তিক। সেখানে যোগ্যতার ভিত্তিতে একজন সাধারণ ব্যক্তিকেও সর্বোচ্চ পর্যায়ে পদায়ন করা হয়েছে।’

পাকিস্তানে আইনের শাসনের দৃষ্টান্ত স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। বলেছেন, আইনের শাসনে সমাজে মর্যাদার দিক থেকে সবাই সমান হবেন।

ইসলামের প্রকৃত মহিমা তুলে ধরার লক্ষ্যে সম্প্রতি ইমরান সরকার প্রতিষ্ঠা করেছে ‘রেহমাতুল-লিল-আলামিন’ নামের একটি সংগঠন।

ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে ইসলামাবাদে মঙ্গলবার ওই সংগঠনের সম্মেলনে প্রধান অতিথির ভাষণে দেশে দৃষ্টান্তমূলক আইনের শাসন প্রচলনের অঙ্গীকার করেন ইমরান। তিনি বলেন, ‘আমাদেরকে এই দেশের আইন দৃঢ়তার সঙ্গে মেনে চলা শিখতে হবে। অন্যথায়, চলমান অবস্থার সংশোধন করা যাবে না।’

এ সময় নবী মোহাম্মদের সময়কার কল্যাণমূলক মদিনা শাসনের বিষয়টিও তুলে ধরেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘মদিনার শাসন ছিল ন্যায়বিচার ও যোগ্যতাভিত্তিক। সেখানে যোগ্যতার ভিত্তিতে একজন সাধারণ ব্যক্তিকেও সর্বোচ্চ পর্যায়ে পদায়ন করা হতো।’

এ কথার মধ্য দিয়ে ইমরান পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার পরবর্তী প্রধানের নিয়োগ নিয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে মনে করছেন অনেকে। গুরুত্বপূর্ণ পদটিতে নিয়োগ নিয়ে দেশটিতে নানা গুঞ্জন চলছে।

প্রতি বছর ১২ রবিউল আওয়াল ইসলামের সবশেষ নবী মোহাম্মদের জন্মদিন ও ওফাত দিবস তথা ঈদে মিলাদুন্নবী বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম দেশের মতো পাকিস্তানেও ঘটা করে উদযাপন করা হয়।

জ্ঞান অর্জনে মুসলিম উম্মার প্রতি নবী মোহাম্মদের যে তাগিদ ছিল তাও তুলে ধরেন ইমরান খান। বলেন, ‘তিনি (নবী মোহাম্মদ) মুসলমানদের জ্ঞান অর্জনের ওপর খুব জোর দিয়েছিলেন। জ্ঞান অর্জনে প্রয়োজনে চীনে যাওয়ার কথা বলেছিলেন তিনি।’

আরও পড়ুন:
বাংলাকে ভাগ করতে চাইলে খেলা হবে: বিজেপিকে মমতা
টিকা নেয়ার প্রশংসাপত্রে মোদির নয় মমতার ছবি থাকবে
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তৃতীয় শপথ মমতার
মমতার সাফল্যের রহস্য
হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেন মমতা

শেয়ার করুন

ক্ষোভের মুখে ‘হিন্দু-বিরোধী’ বিজ্ঞাপন প্রত্যাহার

ক্ষোভের মুখে ‘হিন্দু-বিরোধী’ বিজ্ঞাপন প্রত্যাহার

কট্টর হিন্দুদের ক্ষোভের জেরে কথিত 'হিন্দু-বিরোধী' বিজ্ঞাপনটি প্রত্যাহার করেছে ফেবইন্ডিয়া। ছবি: ফেবইন্ডিয়া

ক্ষুব্ধ হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা জানান, হিন্দুদের আলোর উৎসব দীপাবলি। এ উৎসবকে ঘিরে নির্মিত বিজ্ঞাপনে উর্দু ভাষায় ‘ঐতিহ্যের উদযাপন’ বলার অর্থ হলো উৎসবের অন্য ব্যাখ্যা দাঁড় করানো। এর মাধ্যমে হিন্দুদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

দীপাবলি উৎসব সামনে রেখে ভারতীয় ব্র্যান্ড ফেবইন্ডিয়া নতুন একটি বিজ্ঞাপন প্রত্যাহার করে নিয়েছে। ডানপন্থি বিভিন্ন হিন্দু সংগঠনের ক্ষোভের জেরে বিজ্ঞাপনটি সরিয়ে নেয় প্রতিষ্ঠানটি।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, পোশাক, আসবাব, হস্ত ও কারুশিল্প আর খাবার প্রস্তুত ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান ফেবইন্ডিয়া। আসন্ন দীপাবলি উপলক্ষে নতুন কিছু পোশাকের সম্ভার বাজারে নিয়ে আসে প্রতিষ্ঠানটি। এর নাম দেয়া হয় ‘জাশন্-ই-রিওয়াজ’।

উর্দু ভাষী শব্দগুচ্ছ ‘জাশন্-ই-রেওয়াজ’-এর অর্থ ‘ঐতিহ্যের উদযাপন’।

বিজ্ঞাপনটিতে উর্দু ভাষা ব্যবহারে ক্ষুব্ধ কট্টর হিন্দুরা। তাদের আপত্তির বিষয়, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উৎসবকে ঘিরে করা বিজ্ঞাপনে উপমহাদেশের অনেক মুসলিমের ভাষা উর্দুর ব্যবহার নিয়ে।

বিজ্ঞাপন সম্বলিত একটি টুইট তাদের ক্ষোভের উৎস। সোমবার ভাইরাল হওয়া টুইটটিতে লেখা হয়, ‘ভালোবাসা ও আলোর উৎসবকে স্বাগত জানিয়ে আমাদের এ সম্ভার ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলী’।

টুইটটিতে ক্ষুব্ধ হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা জানান, হিন্দুদের আলোর উৎসব দীপাবলি। এ উৎসবকে ঘিরে নির্মিত বিজ্ঞাপনে উর্দু ভাষায় ‘ঐতিহ্যের উদযাপন’ বলার অর্থ হলো উৎসবের অন্য ব্যাখ্যা দাঁড় করানো।

এর মাধ্যমে হিন্দুদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

প্রতিক্রিয়ায় ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অফ ইন্ডিয়াকে ফেবইন্ডিয়ার এক মুখপাত্র জানান, ‘জাশন্-ই-রেওয়াজ’ দীপাবলির পোশাকের সমাহার ছিল না।

কিন্তু এতে সন্তুষ্ট হননি অনেক গ্রাহক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই ব্র্যান্ডটি বর্জনের ঘোষণা দেন। তারা বলেন, ‘দীপাবলি উৎসব কোনো জাশন্-ই-রেওয়াজ নয়’।

টুইটারে ফেবইন্ডিয়া বর্জনের ট্রেন্ডটি শীর্ষে উঠে আসে।

এর জেরে টুইটটি প্রত্যাহার করে ফেবইন্ডিয়া, পরে বিজ্ঞাপনটিও সরিয়ে নেয় তারা।

দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সমৃদ্ধ ইতিহাসের ধারক উর্দু ভাষা। গত কয়েক শ বছরে অসংখ্য শক্তিশালী সাহিত্য সৃষ্টি হয়েছে এ ভাষায়। উর্দুভাষী অনেক সাহিত্যিক ও কবি এখনও ভারতে দারুণ জনপ্রিয়।

তবে কট্টর হিন্দুত্ববাদীদের দৌরাত্ম্যে গত কয়েক বছরে ভারতে উর্দুর ব্যবহার নিয়ে প্রচুর বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, এটি মুসলিম সম্প্রদায়ের ভাষা এবং হিন্দুদের উৎসব বা রীতিতে এ ভাষা ব্যবহার থেকে বিরত থাকা উচিত।

ফেবইন্ডিয়ার আগে গত কয়েক বছরে ডানপন্থি হিন্দুদের চাপে পড়তে হয়েছে আরও কয়েকটি বহুজাতিক ব্র্যান্ডকে। পোশাক প্রস্তুত ও বিপণনকারী মান্যবর এমনই একটি প্রতিষ্ঠান।

মান্যবরের সাম্প্রতিক এক বিজ্ঞাপনে প্রখ্যাত বলিউড অভিনেত্রী আলিয়া ভাটকে বিয়ের পোশাকে দেখা যায়। ওই বিজ্ঞাপন নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়। বিরোধীদের অভিযোগ, বিজ্ঞাপনটিতে ভারতীয়দের বর্ষপুরোনো ঐতিহ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে এবং হিন্দুদের বিয়ের রীতির ওপর আঘাত সেটি।

এ ছাড়া জনপ্রিয় জুয়েলারি ব্র্যান্ড তানিশক্ও একটি বিজ্ঞাপন প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়। বিজ্ঞাপনটিতে দেখানো হয়েছিল, দুই ধর্মের অনুসারী এক দম্পতির অনাগত সন্তানকে স্বাগত জানাতে মুসলিম শ্বশুরবাড়িতে হিন্দু পুত্রবধূর জন্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

ডানপন্থি হিন্দুদের অভিযোগ, তানিশকের বিজ্ঞাপনটিতে ‘লাভ জিহাদ’-এর প্রচার চালানো হয়েছে। হিন্দু নারীদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করে মুসলিম পুরুষরা কৌশলে তাদের ধর্মান্তরিত হতে বাধ্য করে বলে দাবি কট্টর হিন্দুদের, যেটিকে তারা আখ্যায়িত করে ‘লাভ জিহাদ’ হিসেবে।

এ বিজ্ঞাপনের জেরে প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোপের মুখে পড়ে তানিশক্। কিন্তু সেখানেই শেষ হয়নি বিষয়টি। দ্রুতই সেটি শারীরিক লাঞ্ছনা অবধি গড়ায়। এমনকি প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন কর্মীর নাম উল্লেখ করে অনলাইনে হুমকি দেয়াও শুরু হয় সে সময়।

আরও পড়ুন:
বাংলাকে ভাগ করতে চাইলে খেলা হবে: বিজেপিকে মমতা
টিকা নেয়ার প্রশংসাপত্রে মোদির নয় মমতার ছবি থাকবে
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তৃতীয় শপথ মমতার
মমতার সাফল্যের রহস্য
হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেন মমতা

শেয়ার করুন

বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় মোদির নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তৃণমূলের

বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় মোদির নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তৃণমূলের

পীরগঞ্জে হিন্দুপাড়ায় সহিংসতার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি। ছবি: নিউজবাংলা

তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, ‘বাংলাদেশের সহিংসতা নিয়ে বিজেপি কোনো রাজনৈতিক চাল দেয়ার পরিকল্পনায় করছে। না হলে কেন শুভেন্দু বলবেন যে বাংলাদেশের ঘটনার পর আমাদের ভোট বাড়বে? বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের প্রেক্ষিতে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির ভোটে জেতার আত্মবিশ্বাস বাড়লে তো স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে যে সমীকরণটা আসলে ঠিক কী?’

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সাম্প্রদায়িক সহিংসতার নেপথ্যে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন দল তৃণমূলের আইনপ্রণেতারা। কেন্দ্রীয় ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের দিকে অভিযোগের আঙুল তাদের; প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নীরবতা নিয়ে।

তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপত্র ‘জাগো বাংলা’ পত্রিকায় ‘বাংলাদেশের হৃদয় হতে’ শীর্ষক সম্পাদকীয়তে বলা হয়, ‘আমরা বিস্মিত। ভারতের যে প্রধানমন্ত্রী ভোট টানার অঙ্কে প্রচার সারতে বাংলাদেশে গিয়ে পূজা দিয়ে আসলেন, তিনি নিষ্ক্রিয় কেন? নাকি বাংলাদেশে হিন্দু নিগ্রহের সুড়সুড়ি দিয়ে এপার বাংলার হিন্দু আবেগ উসকে ভোট টানার চেষ্টা এটা? বাংলাদেশের ঘটনায় যথাযথ তদন্ত চাই।’

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বিজেপির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে ‘জাগো বাংলা’ পত্রিকার প্রথম পাতায় ‘শকুনের রাজনীতি বিজেপির’ শীর্ষক একটি নিবন্ধেও।

বিজেপির সমালোচনা করে এতে লেখা হয়েছে, ‘বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া আপত্তিকর কাজের বিরুদ্ধে যখন বাংলাদেশেই প্রবল প্রতিবাদ শুরু হয়েছে, তখনও নির্লজ্জের মতো এ নিয়ে শকুনের রাজনীতি করছে বিজেপি।’

জাগো বাংলায় আরও লেখা হয়েছে, ‘এ রাজ্যে বিজেপি লাটে উঠেছে। এখানে ধর্মীয় আবেগ ব্যবহার করতে বাংলাদেশের হামলাকে কাজে লাগানো হচ্ছে।

‘তাহলে বাংলাদেশের ঘটনার পিছনে কী চক্রান্ত চলছে, কারা-কেন-কীভাবে পূজায় আক্রমণের ক্ষেত্র তৈরি করে দিয়েছে, সেসব ঘটনার যথাযথ তদন্ত দরকার।’

সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ধারাবাহিক ঘটনায় বাংলাদেশ সরকারকে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। এসব ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আর এ নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে।

তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, ‘বাংলাদেশের সহিংসতা নিয়ে বিজেপি কোনো রাজনৈতিক চাল দেয়ার পরিকল্পনায় করছে। না হলে কেন শুভেন্দু বলবেন যে বাংলাদেশের ঘটনার পর আমাদের ভোট বাড়বে?

‘বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের প্রেক্ষিতে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির ভোটে জেতার আত্মবিশ্বাস বাড়লে তো স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে যে সমীকরণটা আসলে ঠিক কী?’

বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য কুণালের এই বক্তব্যের বিরোধিতা করে বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদি কোথায়, কোন পূজা দিতে গিয়েছিলেন, সেসব জানার বা বোঝার মতো শিক্ষা তৃণমূল নেতাদের নেই। তাই এসব কথার কোনো ভিত্তি নেই।’

আরও পড়ুন:
বাংলাকে ভাগ করতে চাইলে খেলা হবে: বিজেপিকে মমতা
টিকা নেয়ার প্রশংসাপত্রে মোদির নয় মমতার ছবি থাকবে
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তৃতীয় শপথ মমতার
মমতার সাফল্যের রহস্য
হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেন মমতা

শেয়ার করুন

সংসদ সদস্য পদ ছাড়লেন বাবুল সুপ্রিয়

সংসদ সদস্য পদ ছাড়লেন বাবুল সুপ্রিয়

বাবুল সুপ্রিয়। ফাইল ছবি

বাবুল টুইটে জানান, ‘বিজেপির থেকেই আমি রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু করেছি। প্রধানমন্ত্রী, অমিত শাহ, দলের সভাপতির প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। তারা আমার প্রতি ভরসা রেখেছেন। কিন্তু আমি দলটা অন্তর থেকেই ছেড়েছি। তাই মনে করি যে, বিজেপির হয়ে আমার সংসদ সদস্য পদটাও রাখা উচিত নয়।’

পশ্চিমবঙ্গের আসানসোল আসন থেকে বিজেপির হয়ে নির্বাচিত সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সদ্য তৃণমূলে যোগ দেয়া রাজনীতিক বাবুল সুপ্রিয়।

মঙ্গলবার স্পিকার ওম বিড়লার বাড়িতে গিয়ে বিজেপির সাবেক কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী ও গায়ক বাবুল পদত্যাগপত্র জমা দেন। স্পিকার তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন।

পরে বাবুল টুইটে জানান, ‘বিজেপির থেকেই আমি রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু করেছি। প্রধানমন্ত্রী, অমিত শাহ, দলের সভাপতির প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। তারা আমার প্রতি ভরসা রেখেছেন। কিন্তু আমি দলটা অন্তর থেকেই ছেড়েছি। তাই মনে করি যে, বিজেপির হয়ে আমার সংসদ সদস্য পদটাও রাখা উচিত নয়।’

বাবুল আগেই জানিয়েছিলেন তিনি যাদের টিকিটে নির্বাচিত হয়েছেন, সেই দল ছেড়ে অন্য দলে গেলে পুরনো দলের সাংসদ পদ ধরে থাকা অনৈতিক হবে।

২০১৪ সালে বিজেপির টিকিটে আসানসোল কেন্দ্র থেকে জিতে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী হন বাবুল। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনেও বিজেপির টিকিটে জয়লাভ করেন এবং আবারও কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী হন। কিন্তু সম্প্রতি মন্ত্রিসভা রদবদলের সময় বাবুল সুপ্রিয় মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়েন।

তারপর থেকে বিজেপির সঙ্গে বাবুলের দূরত্ব তৈরি হয়। এমনকি বাবুল রাজনীতি ছেড়ে দেয়ার কথা বলেন সে সময়। তার রাজনৈতিক জীবন নিয়ে টানাপোড়েন শুরু হয় ।

এরপর আচমকা সেপ্টেম্বরে তৃণমূলে যোগ দেন বাবুল সুপ্রিয়। কথামতো আজ মঙ্গলবার বিজেপির সংসদ সদস্য পদ থকে পদত্যাগ করেন।

অনেকেই যখন বলছেন এখন তৃণমূল থেকে বাবুল নির্বাচন করবেন।

বাবুল টুইটে সে প্রশ্নেরও ইঙ্গিত দিয়েছেন, ‘আমি আর বিজেপির অংশ নই। যে বিজেপির জন্য আমি একটি আসনে জয়লাভ করেছিলাম, আমার মধ্যে যদি কিছু থেকে থাকে, তাহলে আমি আবার জয় পাব।’

আরও পড়ুন:
বাংলাকে ভাগ করতে চাইলে খেলা হবে: বিজেপিকে মমতা
টিকা নেয়ার প্রশংসাপত্রে মোদির নয় মমতার ছবি থাকবে
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তৃতীয় শপথ মমতার
মমতার সাফল্যের রহস্য
হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেন মমতা

শেয়ার করুন

আবারও কাশ্মীরে হামলার হুমকি আইএসের

আবারও কাশ্মীরে হামলার হুমকি আইএসের

বেসামরিক হত্যাকাণ্ড বাড়তে থাকায় সম্প্রতি জম্মু-কাশ্মীরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। ছবি: পিটিআই

রোববার জম্মু-কাশ্মীরের দক্ষিণে কুলগাম জেলায় দুইজন বহিরাগত শ্রমিক গুলিতে নিহত এবং আরেকজন আহত হন। এর আগে গত ৯ অক্টোবর জম্মু-কাশ্মীরে ভাসমান শ্রমিক হিসেবে আসা বিহারের একজন ফেরিওয়ালা আর উত্তর প্রদেশের এক শ্রমিক পৃথক সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন। চলতি মাসের শুরুতে বিহারের আরেক ফেরিওয়ালা বীরেন্দ্র পাসওয়ান শ্রীনগরের ঈদগাহ এলাকায় সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন। ধারাবাহিক এসব চোরাগোপ্তা হত্যাকাণ্ডের মধ্যেই উপত্যকায় এরকম আরও হামলার হুমকি দেয় আইএসকেপি।

ভারতের একমাত্র মুসলিম অধ্যুষিত ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু-কাশ্মীরে হামলার হুমকি দিয়েছে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)। সংগঠনটির আফগানিস্তানভিত্তিক শাখা আইএস খোরাসান প্রভিন্স বা আইএসকেপি এ হুমকি দিয়েছে।

আইএসকেপির ভারতের মুখপত্র ‘ভয়েস অব হিন্দ’-এর ২১তম সংস্করণে দেয়া হয়েছে এ হুমকি। এতে একটি ছবি প্রকাশ করা হয়েছে যেখানে দেখা যাচ্ছে একজন ফেরিওয়ালাকে পেছন থেকে গুলি করা হচ্ছে।

ছবির ক্যাপশনে যা লেখা, সেটির বাংলা অনুবাদ করলে দাঁড়ায়- ‘আমরা আসছি’। জম্মু-কাশ্মীরে বহিরাগত এক ফেরিওয়ালাকে হত্যার পর গুলি করার ভিডিও প্রকাশ করেছিল আইএসকেপি।

মুখপত্রে হিন্দু দেবতাদের একটি ত্রিশূলের ছবিও দেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে দেব-দেবীর মূর্তিও আক্রমণের শিকার হবে বলে বোঝানো হয়েছে।

আইএসকেপি ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে 'ভয়েস অব হিন্দ' প্রকাশ করে আসছে। মূলত উপত্যকাযর মুসলিম যুবকদের কট্টরপন্থায় আগ্রহী করে তোলা মুখপত্রটির লক্ষ্য বলে ধারণা করা হয়।

সম্প্রতি ভারতের বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থা দেশের বিভিন্ন রাজ্যে সন্ত্রাসবাদে সম্পৃক্ততার অভিযোগে বেশ কয়েকজনকে আটক করে। জানায়, উৎসবের মৌসুম সামনে রেখে সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা ছিল অভিযুক্তদের।

গত এক মাসে জম্মু-কাশ্মীরের পাকিস্তান সীমান্তবর্তী নিয়ন্ত্রণরেখা এলাকায় বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় বেশ কয়েকজন ভারতীয় সেনা ও অনুপ্রবেশকারীর। কয়েক বছরের মধ্যে প্রথমবার এক পাকিস্তানি অনুপ্রবেশকারীকে জীবিত আটক করার কথাও জানায় নয়া দিল্লি।

এ ছাড়া ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে গত ১৫ দিনে অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের গুলিতে স্থানীয় পাঁচ কাশ্মীরিসহ ১১জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন

রোববার জম্মু-কাশ্মীরের দক্ষিণে কুলগাম জেলায় দুইজন বহিরাগত শ্রমিক গুলিতে নিহত এবং আরেকজন আহত হন। এর আগে গত ৯ অক্টোবর জম্মু-কাশ্মীরে ভাসমান শ্রমিক হিসেবে আসা বিহারের একজন ফেরিওয়ালা আর উত্তর প্রদেশের এক শ্রমিক পৃথক সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন। চলতি মাসের শুরুতে বিহারের আরেক ফেরিওয়ালা বীরেন্দ্র পাসওয়ান শ্রীনগরের ঈদগাহ এলাকায় সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন।

ধারাবাহিক এসব চোরাগোপ্তা হত্যাকাণ্ডের মধ্যেই উপত্যকায় এরকম আরও হামলার হুমকি দেয় আইএসকেপি।

এ অবস্থায় ভারতের অন্যান্য রাজ্য থেকে কাশ্মীরে যাওয়া ব্যক্তিদের ওপর হামলা ঠেকাতে নিরাপত্তা জোরদার করছে প্রশাসন। উপত্যকায় জঙ্গি তৎপরতার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চালাচ্ছে।

গত শনিবার জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ বিগত নয় দিনে নয়টি বন্দুকযুদ্ধে ১৩ সন্ত্রাসীকে হত্যার কথা জানিয়েছে।

ভারতীয় গোয়েন্দাদের দাবি, সম্প্রতি কাশ্মীর উপত্যকায় যে কায়দায় হামলা হচ্ছে, তার পেছনে রয়েছে নতুন কোনো গোষ্ঠী। গোয়েন্দারা বলছে, এই গোষ্ঠীর নাম হরকত ৩১৩, যা আদতে ব্রিগেড ৩১৩-র নতুন সংস্করণ।

আফগানিস্তানের সশস্ত্র সংগঠন হাক্কানি নেটওয়ার্কের সদর দফতর মিরানশাহ থেকে হরকত ৩১৩ সরাসরি নিয়ন্ত্রিত বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা। আফগানিস্তানের বর্তমান তালেবান শাসকদলের মন্ত্রিসভারও অংশ এই হাক্কানি নেটওয়ার্ক।

গোয়েন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, হাক্কানি নিয়ন্ত্রিত হলেও হরকত ৩১৩’র নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইলিয়াস কাশ্মীরি নামে এক কাশ্মীরি। সংগঠনটিকে হাক্কানি নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করলেও তাদের পেছনে কলকাঠি নাড়ছে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই।

মূলত ভারতীয় সেনাদের নজর অন্যদিকে সরিয়ে ভারতে সন্ত্রাসীদের ঢোকানো হরকত ৩১৩’র উদ্দেশ্য বলে অনুমান গোয়েন্দাদের।

ভারতীয় গোয়েন্দারা আরও জানায়, আইএসকেপি জম্মু-কাশ্মীরজুড়ে নীরবে ছড়িয়ে পড়েছে এবং বড় ধরনের ধ্বংসাত্মক ষড়যন্ত্র করছে।

আরও পড়ুন:
বাংলাকে ভাগ করতে চাইলে খেলা হবে: বিজেপিকে মমতা
টিকা নেয়ার প্রশংসাপত্রে মোদির নয় মমতার ছবি থাকবে
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তৃতীয় শপথ মমতার
মমতার সাফল্যের রহস্য
হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেন মমতা

শেয়ার করুন

এবার হত্যা মামলায় ‘ধর্মগুরু’ রাম রহিমের যাবজ্জীবন

এবার হত্যা মামলায় ‘ধর্মগুরু’ রাম রহিমের যাবজ্জীবন

ভারতের কথিত ধর্মগুরু গুরমিত রাম রহিম সিংয়ের বিরুদ্ধে হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন অভিযোগ প্রমাণিত। ছবি: ডেরা সাচ্চা সওদা

প্রায় ২০ বছর আগে রঞ্জিত সিংকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ২০০২ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত রাম রহিমের আশ্রমের ব্যবস্থাপক ও তার অনুসারী ছিলেন রঞ্জিত। রাম রহিম নিজের যৌন লালসা চরিতার্থ করতে কীভাবে নারীদের অসহায়ত্বের সুযোগ নেন, সে বর্ণনা সম্বলিত একটি বেনামী চিঠি ছড়িয়েছিল সে সময়। সিবিআইয়ের অভিযোগপত্রে বলা হয়, চিঠিটি রঞ্জিত লিখেছেন বলে সন্দেহের বশবর্তী হয়ে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন ও নির্দেশ দিয়েছিলেন রাম রহিম নিজেই।

হত্যা মামলায় ভারতের কথিত ধর্মগুরু গুরমিত রাম রহিম সিংসহ পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে হরিয়ানার একটি আদালত।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, রাম রহিমের আশ্রম ডেরা সাচ্চা সওদার ব্যবস্থাপক রঞ্জিত সিং হত্যার মামলায় সোমবার রায় দেয় আদালত। রায়ে সাজা দেয়া হয় ডেরার প্রধান রাম রহিম ও তার আরও চার সহযোগীকে।

দণ্ডপ্রাপ্ত বাকিরা হলেন কৃষাণ লাল, জসবীর সিং, অবতার সিং ও সাবদিল।

রাম রহিমকে ভারতীয় মুদ্রায় ৩১ লাখ রুপি জরিমানাও করেছে আদালত। সাজাপ্রাপ্ত বাকিদের মধ্যে সাবদিলকে দেড় লাখ, কৃষাণ ও জসবীরের প্রত্যেককে সোয়া এক লাখ করে এবং অবতারকে ৭৫ হাজার রুপি অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে।

জরিমানা বাবদ আদায়কৃত অর্থের অর্ধেক পাবে নিহত রঞ্জিত সিংয়ের পরিবার।

প্রায় ২০ বছর আগে রঞ্জিত সিংকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ২০০২ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত রাম রহিমের আশ্রমের ব্যবস্থাপক ও তার অনুসারী ছিলেন রঞ্জিত।

রাম রহিম নিজের যৌন লালসা চরিতার্থ করতে কীভাবে নারীদের অসহায়ত্বের সুযোগ নেন, সে বর্ণনা সম্বলিত একটি বেনামী চিঠি ছড়িয়েছিল সে সময়।

সিবিআইয়ের অভিযোগপত্রে বলা হয়, চিঠিটি রঞ্জিত লিখেছেন বলে সন্দেহের বশবর্তী হয়ে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন ও নির্দেশ দিয়েছিলেন রাম রহিম নিজেই।

চলতি মাসের শুরুতে হরিয়ানার পাঞ্চকুলায় কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরোর (সিবিআই) একটি বিশেষ আদালত অভিযুক্ত পাঁচজনের সবাইকে দোষী সাব্যস্ত করে। এ মামলায় অভিযুক্ত ষষ্ঠজনের গত বছর মৃত্যু হয়েছে।

হরিয়ানার রোহটাক জেলার সুনায়রা কারাগারে ২০১৭ সাল থেকে বন্দি আছেন ৫৪ বছর বয়সী রাম রহিম। দুই অনুসারীকে ধর্ষণের অপরাধে ২০ বছরের সাজা ভোগ করছেন তিনি। সোমবারের রায় শুনানিতে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অংশ নেন তিনি; আদালতে উপস্থিত ছিলেন বাকি চার অপরাধী।

আদালতের রায় সামনে রেখে নাশকতার আশঙ্কায় পাঞ্চকুলা ও সির্সা জেলায় কঠোর নিরাপত্তা জারি করে পুলিশ। সির্সা জেলায় রাম রহিমের আশ্রম ডেরা সাচ্চা সওদার প্রধান কার্যালয় অবস্থিত বলে সেখানে তার সমর্থক ও ভক্তরা সহিংস হয়ে উঠতে পারে বলে শঙ্কা প্রশাসনের।

২০১৭ সালে রাম রহিমের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলার রায় ঘোষণার জেরে সহিংসতায় অচল হয়ে পড়েছিল হরিয়ানা ও পাঞ্জাব রাজ্য। হরিয়ানায় সংঘাতে নিহত হয়েছিল কমপক্ষে ৩৬ জনের, আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ১১৮ কোটি রুপি।

ধর্ষণের অপরাধে ২০ বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি সাংবাদিক রাম চন্দ্র ছত্রপতি হত্যার ঘটনাতেও যাবজ্জীবন দেয়া হয়েছে রাম রহিমকে।

আরও পড়ুন:
বাংলাকে ভাগ করতে চাইলে খেলা হবে: বিজেপিকে মমতা
টিকা নেয়ার প্রশংসাপত্রে মোদির নয় মমতার ছবি থাকবে
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তৃতীয় শপথ মমতার
মমতার সাফল্যের রহস্য
হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেন মমতা

শেয়ার করুন

মিয়ানমারে ৫,৬৩৬ অভ্যুত্থানবিরোধীকে মুক্তি দেবে সেনাবাহিনী

মিয়ানমারে ৫,৬৩৬ অভ্যুত্থানবিরোধীকে মুক্তি দেবে সেনাবাহিনী

মিয়ানমারের সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইং। ফাইল ছবি

এএপিপির তথ্য অনুযায়ী, এখনও মিয়ানমারের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি প্রায় সাড়ে সাত হাজার বিক্ষোভকারী। তাদের মধ্যে আছেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এক সাংবাদিক ড্যানি ফেনস্টারও। ২৪ মে গ্রেপ্তার করা হয় তাকে।

মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করায় গ্রেপ্তার পাঁচ হাজার ৬৩৬ জনকে মুক্তি দেবে সেনাবাহিনী। ফেব্রুয়ারির ওই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয় দেশটির বেসামরিক সরকার।

টার্কিশ রেডিও অ্যান্ড টেলিভিশনের (টিআরটি) প্রতিবেদনে বলা হয়, সামনেই মিয়ানমারের ঐতিহ্যবাহী থাডিংইয়ুৎ ফেস্টিভ্যাল বা আলোকোৎসব। দিবসটি সামনে রেখে এ বিপুলসংখ্যক বন্দিকে মুক্তি দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সামরিক শাসকদলের প্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইং।

বার্মিজ চন্দ্র বর্ষপঞ্জিতে থাডিংইয়ুৎ মাসে পূর্ণিমার দিন আলোকোৎসব উদযাপন করে মিয়ানমার। এ বছর ২০ অক্টোবর, অর্থাৎ দুইদিন পরই হবে উৎসবটি।

বুধবারের উৎসব উপলক্ষে মুক্তি পেতে যাওয়া বন্দিদের কারা অগ্রাধিকার পাবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি মিয়ানমারের সেনাপ্রধান।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ান মিয়ানমারের সেনাপ্রধানকে বাদ দিয়েই শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়ার পর আসে মিন অং হ্লাইংয়ের এ ঘোষণা। দেশের রাজনীতিতে রক্তক্ষয়ী অচলাবস্থা নিয়ন্ত্রণের প্রতিশ্রুতি পালনে ব্যর্থতার অভিযোগে জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেয় আঞ্চলিক জোটটি।

১ ফেব্রুয়ারির সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকেই অরাজক পরিস্থিতি চলছে মিয়ানমারে। গণতান্ত্রিক সরকারকে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেয়ার দাবিতে হওয়া বিক্ষোভ দমনে শক্তি প্রয়োগ করে সেনাবাহিনী, যাতে নিহত হয় প্রায় এক হাজার ২০০ জন বেসামরিক মানুষ।

স্থানীয় পর্যবেক্ষক সংস্থা অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্সের (এএপিপি) তথ্য অনুযায়ী, সেনা অভ্যুত্থানের বিরোধিতা করায় ফেব্রুয়ারি থেকে নয় হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

চলতি বছরের জুলাইয়ে মিয়ানমারের বিভিন্ন কারাগার থেকে দুই হাজার বিক্ষোভকারীকে মুক্তি দেয়া হয়। মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে সামরিক সরকারের সমালোচক অনেক সংবাদকর্মীও ছিলেন।

এএপিপির তথ্য অনুযায়ী, এখনও মিয়ানমারের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি প্রায় সাড়ে সাত হাজার বিক্ষোভকারী। তাদের মধ্যে আছেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এক সাংবাদিক ড্যানি ফেনস্টারও। ২৪ মে গ্রেপ্তার করা হয় তাকে।

আরও পড়ুন:
বাংলাকে ভাগ করতে চাইলে খেলা হবে: বিজেপিকে মমতা
টিকা নেয়ার প্রশংসাপত্রে মোদির নয় মমতার ছবি থাকবে
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তৃতীয় শপথ মমতার
মমতার সাফল্যের রহস্য
হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেন মমতা

শেয়ার করুন