লিবিয়ায় অভিবাসনবিরোধী অভিযানে আটক ৪ হাজার

লিবিয়ায় অভিবাসনবিরোধী অভিযানে আটক ৪ হাজার

লিবিয়ায় গত ২৪ ঘণ্টায় আটক করা হয়েছে ৫ শতাধিক নারী ও শিশুসহ চার হাজার জনকে। ছবি: সংগৃহীত

নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের লিবিয়াবিষয়ক পরিচালক ড্যাক্স রোকে জানান, এমন বিধিবহির্ভূত ও নির্বিচারে আটকের শিকার অভিবাসনপ্রত্যাশীরা বন্দিশিবিরগুলোতে নিপীড়ন ও অসদাচরণের ঝুঁকিতে রয়েছেন।

লিবিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে অভিবাসনবিরোধী অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় আটক করা হয়েছে পাঁচ শতাধিক নারী, শিশুসহ চার হাজার মানুষকে।

রাজধানী ত্রিপোলির ১২ কিলোমিটার পশ্চিমে অবৈধ অভিবাসী ও শরণার্থীকেন্দ্রিক গারগারেশ শহরে চালানো এই অভিযানে তাদের আটক করা হয়।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই শহরটিতে নিয়মিত অভিবাসনবিরোধী অভিযান চালানো হলেও এবারের অভিযানটি ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ।

অভিযানের নেতৃত্বে থাকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, পুলিশের তালিকাভুক্ত কোনো মানব পাচারকারী অথবা চোরাকারবারিকে এ সময় গ্রেপ্তার করা যায়নি।

নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের লিবিয়াবিষয়ক পরিচালক ড্যাক্স রোকে এক বিবৃতিতে শুক্রবার বলেন, ‘এমন বিধিবহির্ভূত ও নির্বিচারে আটকের শিকার অভিবাসনপ্রত্যাশীরা বন্দিশিবিরগুলোতে নিপীড়ন ও অসদাচরণের ঝুঁকিতে রয়েছেন।

‘লিবিয়ায় অভিবাসী ও শরণার্থীরা, বিশেষত যাদের বৈধ কাগজপত্র নেই এমন সব মানুষ বিধিবহির্ভূত আটকের শিকার হয়ে থাকেন। দেশটির বন্দিশিবিরগুলোতে নির্যাতন, যৌন সহিংসতা ও নিপীড়নের শিকার হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন অভিবাসনপ্রত্যাশীরা।’

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, শতাধিক অভিবাসীকে হাতকড়া পরিয়ে বসিয়ে রাখা হয়েছে আর অনেককে পুলিশের গাড়িতে ওঠানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
তিউনিসিয়া থেকে ফিরলেন ৩০ বাংলাদেশি
আটলান্টিকে নৌকা ডুবে ৫২ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু
আফ্রিকা উপকূলে ৪২ অভিবাসনপ্রত্যাশী নিখোঁজ
উন্নত জীবনের আশায় সমুদ্রে গেল ৫৭ প্রাণ
তিউনিসিয়া উপকূলে ১৭ বাংলাদেশির মৃত্যু

শেয়ার করুন

মন্তব্য

১০০ কোটি ডোজের মাইলফলক পার ভারতের

১০০ কোটি ডোজের মাইলফলক পার ভারতের

দেশের মানুষকে করোনা টিকার ১০০ কোটি ডোজ দেয়া হয় বলে বৃহস্পতিবার জানায় ভারত সরকার। ছবি: এনডিটিভি

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক ড. পুনম ক্ষেত্রপাল সিং বলেন, ‘করোনা প্রতিষেধক টিকাকরণের আরও একটি মাইলফলক পার করার জন্য ভারতকে অনেক অভিনন্দন। স্বল্প সময়ের মধ্যে এই অসাধারণ কীর্তি শক্তিশালী রাজনৈতিক নেতৃত্ব, স্বাস্থ্য এবং সামনের সারির সব কর্মীর নিবেদিত প্রচেষ্টা এবং জনগণের সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব ছিল না।’

করোনাভাইরাস টিকাকরণে আরেকটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক অতিক্রম করেছে ভারত।

ভারত সরকার বৃহস্পতিবার সকালে ঘোষণা করে, দেশের মানুষকে ১০০ কোটি ডোজ করোনা টিকা দেয়া হয়েছে।

এ উপলক্ষে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাজধানী নয়াদিল্লির রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালে যান।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে গণটিকাকরণ কর্মসূচি সূচনার পর ভারত সরকার জানায়, ডিসেম্বরের মধ্যে দেশটির ১০০ কোটি মানুষকে করোনা টিকা দেয়া হবে।

১০০ কোটি ডোজ টিকা দেয়ার মাইলফলক পার হতেই প্রধানমন্ত্রী মোদি, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনসুখ মন্দাভিয়া সবাইকে অভিনন্দন জানান।

টিকার ডোজের ৬৫ শতাংশ ভারতের গ্রামাঞ্চলের মানুষ পায়। সামগ্রিকভাবে আনুমানিক প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার ৭৪ শতাংশ প্রথম ডোজ পায়, ৩১ শতাংশ টিকার দুটি ডোজই পেয়েছে।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ভারত ১০ কোটি টিকাকরণ করতে ৮৫ দিন সময় নিয়েছে। ২০ কোটি ছাড়িয়ে যেতে আরও ৪৫ দিন এবং ৩০ কোটির অঙ্কে পৌঁছতে আরও ২৯ দিন সময় নেয়।

৩০ কোটি ডোজ থেকে ৪০ কোটিতে পৌঁছতে ২৪ দিন সময় লাগে এবং ৫০ কোটির টিকা চিহ্ন ছাড়িয়ে যেতে আরও ২০ দিন সময় নেয়। পরের ৭৬ দিনে পৌঁছে যায় ১০০ কোটি ডোজ টিকাকরণে।

১৬ জানুয়ারি ভারতজুড়ে টিকাকরণ অভিযান শুরু হয়। প্রথম পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের টিকা দেয়া হয়। ফ্রন্টলাইন কর্মীদের টিকাদান ২ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়।

গত বছরের জুন-জুলাই মাসে গোটা বিশ্ব যখন করোনার সঙ্গে পুরোদমে লড়াই করছিল, সে সময় ভারতে করোনা টিকাকরণের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। বছর শেষের আগেই হাতে চলে আসে দুটি করোনার টিকা- কোভ্যাক্সিন ও কোভিশিল্ড।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক ড. পুনম ক্ষেত্রপাল সিং বলেন, ‘করোনা প্রতিষেধক টিকাকরণের আরও একটি মাইলফলক পার করার জন্য ভারতকে অনেক অভিনন্দন।

‘ভারতে কোভিড-১৯ টিকার এক বিলিয়ন ডোজ দেয়া হয়েছে। স্বল্প সময়ের মধ্যে এই অসাধারণ কীর্তি শক্তিশালী রাজনৈতিক নেতৃত্ব, স্বাস্থ্য এবং সামনের সারির সব কর্মীর নিবেদিত প্রচেষ্টা এবং জনগণের সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব ছিল না।’

আরও পড়ুন:
তিউনিসিয়া থেকে ফিরলেন ৩০ বাংলাদেশি
আটলান্টিকে নৌকা ডুবে ৫২ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু
আফ্রিকা উপকূলে ৪২ অভিবাসনপ্রত্যাশী নিখোঁজ
উন্নত জীবনের আশায় সমুদ্রে গেল ৫৭ প্রাণ
তিউনিসিয়া উপকূলে ১৭ বাংলাদেশির মৃত্যু

শেয়ার করুন

নথি ফাঁস: জলবায়ু প্রতিবেদন পরিবর্তনে চলছে লবিং

নথি ফাঁস: জলবায়ু প্রতিবেদন পরিবর্তনে চলছে লবিং

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় এখনই জরুরি পদক্ষেপ নিতে রাজি নয় ক্ষমতাধর দেশগুলো। ছবি: এএফপি

ফাঁস হওয়া নথিতে বলা হয়, জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার থেকে এখনই সরে আসার প্রয়োজন দেখছে না বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ ও সংস্থা।

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক প্রতিবেদন পরিবর্তনে বিভিন্ন দেশ কীভাবে চেষ্টা করছে, তা সম্প্রতি বিপুলসংখ্যক নথি ফাঁসের মাধ্যমে জানা গেছে। এতে বলা হচ্ছে, ওই প্রতিবেদন পরিবর্তনের জন্য শিল্পোন্নত দেশগুলো লবিং করছে।

বিবিসির হাতে ওই সব নথি আসে।

ফাঁস হওয়া নথি বলছে, জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার থেকে দ্রুত সরে আসার জাতিসংঘের পরামর্শ মানতে রাজি নয় সৌদি আরব, জাপান, অস্ট্রেলিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশ।

এ ছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকতে দরিদ্র দেশগুলোকে অর্থসহায়তা দেয়ার বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছে কয়েকটি ধনী দেশ।

পাশাপাশি নভেম্বরে অনুষ্ঠিত কপ২৬ জলবায়ু সম্মেলন নিয়েও প্রশ্ন তোলে ধনী দেশগুলো।

জলবায়ু পরিবর্তন রোধে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিতে ও বৈশ্বিক উষ্ণতা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখতে আসন্ন জলবায়ু সম্মেলনে শক্তিশালী দেশগুলোকে অঙ্গীকার করতে বলবে জাতিসংঘ।

আন্তর্জাতিক সংস্থাটি যাতে সম্মেলনে এ বিষয়ে নমনীয় অবস্থান নেয়, তার জন্য লবিং চলছে বলে ফাঁস হওয়া নথিতে উঠে আসে।

জলবায়ু পরিবর্তন রোধের লক্ষ্যে পর্যালোচনার ভিত্তিতে জাতিসংঘের একদল বিজ্ঞানী ওই প্রতিবেদন তৈরি করেন। সেই দলের কাছে বিভিন্ন দেশের সরকার, কোম্পানিসহ অন্যান্য স্বার্থসংশ্লিষ্ট গ্রুপ ৩২ হাজারের বেশি সুপারিশ জমা দেয় বলে জানতে পারে বিবিসি।

প্রতি ছয় থেকে সাত বছর পর পর জাতিসংঘের সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি) পর্যালোচনা প্রতিবেদন হাজির করে।

বৈজ্ঞানিক ওই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে জলবায়ু পরিবর্তন রোধে কী কী ব্যবস্থা নেয়া হবে, সে বিষয়ে বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের মধ্যে আলোচনা হয়।

ফাঁস হওয়া নথিতে বলা হয়, জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার থেকে এখনই সরে আসার প্রয়োজন দেখছে না বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ ও সংস্থা।

বৈশ্বিক উষ্ণতা কমাতে দীর্ঘদিন ধরে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার বন্ধ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের দাবি জানিয়ে আসছে অধিকার সংগঠনসহ আরও অনেকে।

সৌদি আরবের তেল মন্ত্রণালয়ের এক উপদেষ্টা চান, বৈজ্ঞানিক ওই প্রতিবেদনে উল্লেখিত জীবাশ্ম জ্বালানির বিষয়ে ‘জরুরি পদক্ষেপ নেয়ার’ অংশ যেন প্রতিবেদনটি থেকে বাদ দেয়া হয়।

এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার জ্যেষ্ঠ এক সরকারি কর্মকর্তা প্রতিবেদনটির সিদ্ধান্ত নাকচ করেন। এতে বলা রয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তন রোধে কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করে দেয়া জরুরি। কয়লার ব্যবহার বন্ধ অবশ্য কপ২৬ সম্মেলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিপাদ্য।

সৌদি আরব বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের প্রধান কয়লা রপ্তানিকারক দেশ।

জ্বালানি খাতে কার্বন ডাই-অক্সাইডের নির্গমন কমানোর বিষয়ে প্রতিবেদনের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে জাতিসংঘের বিজ্ঞানীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে সৌদি আরব।

এদিকে আইপিসিসির পক্ষ থেকে বিবিসিকে বলা হয়, লবিংয়ের কোনো প্রভাব যাতে প্রতিবেদনে না পড়ে, সে বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়।

যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অফ ইস্ট অ্যাঙ্গলিয়ার অধ্যাপক ও জলবায়ু বিজ্ঞানী করিনে লা কুয়েরে বলেন, আইপিসিসির প্রতিবেদনের নিরপেক্ষতা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন দেশের অনুরোধ রাখার বিষয়ে আমরা চাপ বোধ করি না। লবিং করা অবৈজ্ঞানিক কোনো কিছু আইপিসিসির প্রতিবেদনে যুক্ত করা হয় না।’

আরও পড়ুন:
তিউনিসিয়া থেকে ফিরলেন ৩০ বাংলাদেশি
আটলান্টিকে নৌকা ডুবে ৫২ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু
আফ্রিকা উপকূলে ৪২ অভিবাসনপ্রত্যাশী নিখোঁজ
উন্নত জীবনের আশায় সমুদ্রে গেল ৫৭ প্রাণ
তিউনিসিয়া উপকূলে ১৭ বাংলাদেশির মৃত্যু

শেয়ার করুন

মাউরি নারী হলেন নিউজিল্যান্ডের গভর্নর জেনারেল

মাউরি নারী হলেন নিউজিল্যান্ডের গভর্নর জেনারেল

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্নের (ডানে) সঙ্গে সদ্যনিযুক্ত গভর্নর-জেনারেল ডেইম সিন্ডি কিরো। ছবি: আরারাত এডভারটাইজার

‘নিউজিল্যান্ডকে যারা নিজেদের বাসভূমির মতো গড়ে তুলেছেন এবং তাদের কারণে দেশে বিভিন্ন বৈচিত্র্য ও ধর্মের মানুষের মিলন ঘটেছে, তাদের সঙ্গে আমি আজকের আনন্দ উদযাপন করতে চাই।’

নিউজিল্যান্ডের গভর্নর জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন দেশটির আদিবাসী মাওরি সম্প্রদায়ের নারী ডেইম সিন্ডি কিরো। এই প্রথম ওই সম্পদ্রায়ের কোনো নারী নিউজিল্যান্ডের গভর্নর জেনারেল হলেন।

নিউজিল্যান্ডের রাজধানী ওয়েলিংটনে পার্লামেন্ট ভবনে বৃহস্পতিবার শপথ নেন কিরো। সেখানে অভিবাসী ও প্রান্তিক মানুষের জন্য কাজ করার অঙ্গীকার করেন তিনি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

শপথ অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের উদ্দেশে কিরো বলেন, ‘মাউরি ও ব্রিটিশ পরিবারে জন্ম হওয়ায় গর্ব বোধ করি। আদিবাসী জনগোষ্ঠী যদি মূল ধারার রাজনীতির সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত বোধ করে, তাহলে তাদের মধ্যে সহনশীলতা আরও বাড়বে।’

তিনি বলেন, ‘নতুন অভিবাসী ও সাবেক শরণার্থীদের সঙ্গে আমি যোগাযোগ করব।

‘নিউজিল্যান্ডকে যারা নিজেদের বাসভূমির মতো গড়ে তুলেছেন এবং তাদের কারণে দেশে বিভিন্ন বৈচিত্র্য ও ধর্মের মানুষের মিলন ঘটেছে, তাদের সঙ্গে আমি আজকের আনন্দ উদযাপন করতে চাই।’

নিউজিল্যান্ড একসময় ব্রিটিশ কলোনি ছিল। স্বাধীনতার পর ব্রিটিশ রানির হয়ে সাংবিধানিকসহ অন্যান্য দায়িত্ব পালন করেন নিউজিল্যান্ডের গভর্নর জেনারেল। যুক্তরাজ্যের রানি নিউজিল্যান্ডের আনুষ্ঠানিক হেড অফ স্টেট।

নিউজিল্যান্ডের জনসংখ্যার প্রায় ১৭ শতাংশ মাউরি সম্প্রদায়ের। সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে এখনো সুবিধাবঞ্চিত এই সম্প্রদায়ের মানুষ।

২০১৯ সালে নিউজিল্যান্ডের বিভিন্ন শহরে সামাজিক ন্যায়বিচার ও ভূমি অধিকারের দাবিতে বিক্ষোভ করে হাজার হাজার মাউরি।

নিউজিল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অফ অকল্যান্ড থেকে সামাজিক নীতি বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রি পান কিরো। এ ছাড়া মাসি ইউনিভার্সিটি থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে এমবিএ করেন তিনি। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কিরোই প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি অর্জন করেন।

শপথ অনুষ্ঠানে গভর্নর জেনারেল পদে কিরোর নিয়োগকে স্বাগত জানিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন।

আরডার্ন বলেন, ‘আমার জানা মতে, এ পদে কিরোই প্রথম মাউরি নারী। এ সিদ্ধান্ত দেশের অনেক জনগোষ্ঠীকে উৎসাহিত করবে।’

গত বছর দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর পার্লামেন্টে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নারীসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষকে এনে জড়ো করেন আরডার্ন। এত বৈচিত্র্যপূর্ণ পার্লামেন্ট এর আগে নিউজিল্যান্ডে দেখা যায়নি।

আরও পড়ুন:
তিউনিসিয়া থেকে ফিরলেন ৩০ বাংলাদেশি
আটলান্টিকে নৌকা ডুবে ৫২ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু
আফ্রিকা উপকূলে ৪২ অভিবাসনপ্রত্যাশী নিখোঁজ
উন্নত জীবনের আশায় সমুদ্রে গেল ৫৭ প্রাণ
তিউনিসিয়া উপকূলে ১৭ বাংলাদেশির মৃত্যু

শেয়ার করুন

টিকার অভাবে আগামী বছরও থাকবে করোনা

টিকার অভাবে আগামী বছরও থাকবে করোনা

টিকার বণ্টন সুষম না হওয়ায় আগামী বছরও করোনা থাকবে বলে জানায় ডব্লিউএইচও। ছবি: এএফপি

আরও টিকা মজুত করা থেকে বিরত থাকতে ধনী দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ডব্লিউএইচও কর্মকর্তা আইলওয়ার্ড। তার ভাষ্য, এতে করে সর্বনিম্ন আয়ের দেশগুলোকে টিকা দেয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিতে সক্ষম হবে ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলো।

দরিদ্র দেশগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা না পাওয়ায় আগামী বছরেও ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব থাকবে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

ডব্লিউএইচওর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ড. ব্রুস আইলওয়ার্ডের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, টিকার বণ্টন সুষম না হওয়ায় আরও এক বছর অর্থাৎ আগামী বছরও করোনা মহামারি থেকে মুক্তি মিলবে না মানুষের।

বিবিসি জানিয়েছে, আফ্রিকা মহাদেশের পাঁচ শতাংশেরও কম জনগোষ্ঠী টিকা পেয়েছে। আফ্রিকা ছাড়া অন্যান্য বেশির ভাগ মহাদেশের ৪০ শতাংশ মানুষ টিকার আওতায় এসেছে।

এখন পর্যন্ত এক কোটির বেশি করোনা টিকা বিভিন্ন দেশকে পাঠিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। ১০ কোটি টিকা বিভিন্ন দেশে সরবরাহের অঙ্গীকার করেছিল দেশটি।

আরও টিকা মজুত করা থেকে বিরত থাকতে ধনী দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ডব্লিউএইচও কর্মকর্তা আইলওয়ার্ড। তার ভাষ্য, এতে করে সর্বনিম্ন আয়ের দেশগুলোকে টিকা দেয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিতে সক্ষম হবে ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলো।

চলতি বছরে যুক্তরাজ্যের সেন্ট আইভস শহরে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে দরিদ্র দেশগুলোকে টিকাদানের অঙ্গীকার করেছিল বিশ্বের ধনী দেশগুলো।

জি-৭ ভুক্ত দেশগুলোর উদ্দেশে আইলওয়ার্ড বলেন, ‘দরিদ্র দেশগুলোতে আপনাদের টিকা সরবরাহের গতি আরও বাড়াতে হবে। নয়তো অহেতুক আগামী বছরেও করোনা মহামারি দেখবে বিশ্ব।’

দাতব্য সংস্থা পিপলস ভ্যাক্সিনের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের বড় ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি ও ধনী দেশগুলো এখন পর্যন্ত করোনার সাতটি ডোজের মধ্যে মাত্র একটি ডোজ দরিদ্র দেশগুলোতে পাঠিয়েছে।

করোনা টিকার বড় অংশই উচ্চ বা উচ্চ-মধ্য আয়ের দেশগুলো পেয়েছে।

অক্সফাম, ইউএনএআইডিসহ বিশ্বের অন্যান্য দাতব্য সংস্থা কানাডা ও যুক্তরাজ্যের সমালোচনা করে বলেছে, করোনার টিকা বণ্টনের বৈশ্বিক উদ্যোগ কোভ্যাক্সের মাধ্যমে ওই দুটি দেশ শুধু নিজেদের জনগোষ্ঠীর জন্যই পর্যাপ্ত পরিমাণে টিকা মজুত করেছে। বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোর কথা তারা ভাবেনি।

বিভিন্ন পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের শুরুতে কোভ্যাক্সের মাধ্যমে যুক্তরাজ্য ফাইজারের ৫ লাখ ৩৯ হাজার ৩৭০ ডোজ পেয়েছে। অন্যদিকে কানাডা পেয়েছে অ্যাস্ট্রাজেনেকার ১০ লাখ ডোজ।

ধনী-গরিব মিলে বিশ্বের সব দেশ যাতে করোনা টিকার সমান ভাগ পায় এবং টিকা পেতে কোনো ধরনের বৈষম্য যেন না হয়, সেই লক্ষ্যে জাতিসংঘের উদ্যোগে কোভ্যাক্স গঠন করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন:
তিউনিসিয়া থেকে ফিরলেন ৩০ বাংলাদেশি
আটলান্টিকে নৌকা ডুবে ৫২ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু
আফ্রিকা উপকূলে ৪২ অভিবাসনপ্রত্যাশী নিখোঁজ
উন্নত জীবনের আশায় সমুদ্রে গেল ৫৭ প্রাণ
তিউনিসিয়া উপকূলে ১৭ বাংলাদেশির মৃত্যু

শেয়ার করুন

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গচ্ছিত ৯০০ কোটি ডলার পাবে না তালেবান

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গচ্ছিত ৯০০ কোটি ডলার পাবে না তালেবান

কাবুলে ত্রাণের খাবার গ্রহণের সময় আফগান শরণার্থীদের ভিড়। ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে গত আগস্টে দ্বিতীয় দফায় আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান। দেশটির সরকার হিসেবে বিশ্ব সম্প্রদায়ের স্বীকৃতি পায়নি গোষ্ঠীটি।

আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গচ্ছিত ৯০০ কোটি ডলারের বেশি অর্থে প্রবেশাধিকার পাবে না শাসকদল তালেবান। ক্ষমতাচ্যুত বেসামরিক সরকারের আমলে আফগান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রির্জাভের বেশিরভাগ অর্থই আটকে আছে যুক্তরাষ্ট্রে।

টার্কিশ রেডিও অ্যান্ড টেলিভিশনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, আফগানিস্তানে অর্থনৈতিক সংকট আরও গভীর হতে থাকার মধ্যেই দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গচ্ছিত অর্থ আটকে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াশিংটন।

যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে গত আগস্টে দ্বিতীয় দফায় আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান। দেশটির সরকার হিসেবে বিশ্ব সম্প্রদায়ের স্বীকৃতি পায়নি গোষ্ঠীটি।

যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটের ব্যাংকিং কমিটিকে মঙ্গলবার আমেরিকার অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়ালি অ্যাডেইমো বলেন, ‘তালেবানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ বলে আমরা বিশ্বাস করি। তবে একই সঙ্গে বৈধভাবে কীভাবে অসহায় আফগানদের কাছে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো যায়, সে পথও খুঁজে বের করতে হবে। সে পথই এখন আমরা খুঁজছি।’

আফগানিস্তানের বাইরে বিভিন্ন দেশে আফগান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গচ্ছিত ৯০০ কোটি ডলারের ওপর থেকে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে তালেবান।

দেশটিতে গুরুতর অর্থনৈতিক ও মানবিক সংকটের মুখে বিষয়টি নিয়ে দ্বিধায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো।

এ অবস্থায় মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে স্বীকৃতি দেয়া ছাড়াই কীভাবে তালেবানের সঙ্গে কূটনীতি চালু করা যায়, সে বিষয়ে কাজ করছে বিশ্ব সম্প্রদায়।

আরও পড়ুন:
তিউনিসিয়া থেকে ফিরলেন ৩০ বাংলাদেশি
আটলান্টিকে নৌকা ডুবে ৫২ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু
আফ্রিকা উপকূলে ৪২ অভিবাসনপ্রত্যাশী নিখোঁজ
উন্নত জীবনের আশায় সমুদ্রে গেল ৫৭ প্রাণ
তিউনিসিয়া উপকূলে ১৭ বাংলাদেশির মৃত্যু

শেয়ার করুন

মানুষের দেহে শূকরের কিডনির সফল প্রতিস্থাপন

মানুষের দেহে শূকরের কিডনির সফল প্রতিস্থাপন

নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালে ৫৪ ঘণ্টার অস্ত্রোপচার শেষে মানবদেহে শূকরের কিডনি প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। ছবি: রয়টার্স

কিডনি কতটা কার্যক্ষম, তা পরিমাপ করা হয় মানবদেহে ক্রিয়েটিনিন নামক এক ধরনের রাসায়নিকের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে। ক্রিয়েটিনিনের অস্বাভাবিক উপস্থিতির অর্থ হলো- কিডনি ঠিকভাবে কাজ করছে না। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শূকরের কিডনি গ্রহণের আগে রোগীর দেহে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা অস্বাভাবিক ছিল, নতুন কিডনি গ্রহণের পর যা স্বাভাবিক হয়েছে।

প্রথমবারের মতো কোনো মানুষের দেহে একটি শূকরের কিডনি বা বৃক্ক সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটি যুগান্তকারী সাফল্য বলে মনে করা হচ্ছে।

কিডনি প্রতিস্থাপনের পর গ্রহীতার দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তাৎক্ষণিকভাবে সেটি প্রত্যাখ্যান করেনি। অর্থাৎ কোনো ধরনের নেতিবাচক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরি হয়নি রোগীর দেহে।

আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে মানবদেহে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের প্রযুক্তি বিদ্যমান হলেও প্রতিস্থাপনযোগ্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের পর্যাপ্ততা নেই। ফলে মানুষের দেহ শূকরের কিডনি গ্রহণ করলে তা প্রতিস্থাপনযোগ্য অঙ্গের ঘাটতি মেটাতে সাহায্য করবে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোন হেলথে ৫৪ ঘণ্টার অস্ত্রোপচার শেষে কিডনি প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছে।

প্রতিস্থাপিত কিডনিটি যেন রোগীর দেহ প্রত্যাখ্যান না করে, তা নিশ্চিতে জিন পরিবর্তিত একটি শূকরকে ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে ওই কিডনির ট্যিসুতে তাৎক্ষণিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টিকারী ক্ষুদ্র জীবাণুর উপস্থিতি ছিল না।

শূকরের কিডনিগ্রহীতা একজন ‘ব্রেন-ডেড’ রোগী, অর্থাৎ যার মস্তিষ্ক কার্যক্ষমতা হারিয়েছে। তিনি একজন নারী, ছিলেন লাইফ সাপোর্টে। সম্প্রতি তার কিডনিও বিকল হতে বসে।

গবেষকরা জানান, লাইফ সাপোর্ট খুলে নেয়ার আগে ওই নারীর দেহে পরীক্ষামূলকভাবে শূকরের কিডনি প্রতিস্থাপনের অনুমতি দেয় তার পরিবার।

প্রধান গবেষক ও অঙ্গ প্রতিস্থাপনকারী চিকিৎসক ড. রবার্ট মন্টোগোমারি জানান, টানা তিনদিন দেহের বাইরেই রোগীর রক্তনালীর সঙ্গে যুক্ত ছিল নতুন কিডনিটি। এ সময়ে কোনোরকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি এবং বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা কিডনির কার্যকারিতাও দৃশ্যত স্বাভাবিক ছিল। ফলে এরপর কিডনিটি ওই নারীর দেহে প্রবেশ করানোর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।

সদ্য কিডনি প্রতিস্থাপিত একজন মানুষের দেহে যতটুকু মূত্র তৈরি হয়, নতুন কিডনি সে প্রত্যাশার সঙ্গে মিল রেখেই কাজ করেছে।

কিডনি কতটা কার্যক্ষম, তা পরিমাপ করা হয় মানবদেহে ক্রিয়েটিনিন নামক এক ধরনের রাসায়নিকের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে। ক্রিয়েটিনিনের অস্বাভাবিক উপস্থিতির অর্থ হলো- কিডনি ঠিকভাবে কাজ করছে না।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শূকরের কিডনি গ্রহণের আগে রোগীর দেহে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা অস্বাভাবিক ছিল, নতুন কিডনি গ্রহণের পর যা স্বাভাবিক হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের অপেক্ষায় আছেন এক লাখ সাত হাজার মানুষ। এদের মধ্যে ৯০ হাজারের বেশি মানুষের দরকার কিডনি।

সংশ্লিষ্ট সংস্থা ইউনাইটেড নেটওয়ার্ক ফর অরগ্যান শেয়ারিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিস্থাপনযোগ্য কিডনির খোঁজ পেতে একেকজন রোগীকে গড়ে তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।

মানুষের দেহে অন্য প্রাণির অঙ্গ প্রতিস্থাপনের সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা চলছে কয়েক দশক ধরে। কিন্তু প্রতিবারই মানবদেহ অন্য প্রাণির অঙ্গ প্রত্যাখ্যান করেছে, অর্থাৎ গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।

আরও পড়ুন:
তিউনিসিয়া থেকে ফিরলেন ৩০ বাংলাদেশি
আটলান্টিকে নৌকা ডুবে ৫২ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু
আফ্রিকা উপকূলে ৪২ অভিবাসনপ্রত্যাশী নিখোঁজ
উন্নত জীবনের আশায় সমুদ্রে গেল ৫৭ প্রাণ
তিউনিসিয়া উপকূলে ১৭ বাংলাদেশির মৃত্যু

শেয়ার করুন

রকেটে ওঠার অপেক্ষায় নাসার নতুন চন্দ্রযান

রকেটে ওঠার অপেক্ষায় নাসার নতুন চন্দ্রযান

কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই নভোযান ওরিয়নকে রকেটের সঙ্গে যুক্ত করার কাজ সম্পন্ন হবে। ছবি: নাসা

চন্দ্রজয় অভিযান অ্যাপোলোর পর নতুন এ প্রকল্পের নাম দেয়া হয়েছে আর্টিমিজ। বলা হচ্ছে, আর্টিমিজ সফল হলে পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহ চাঁদে মানুষের এবারের উপস্থিতি হবে বেশ দীর্ঘমেয়াদী।

চন্দ্রজয়ের নতুন অভিযানের জন্য প্রস্তুত ওরিয়ন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার পরবর্তী প্রজন্মের এই মহাকাশযানটি এখন কেবল একটি রকেটের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার অপেক্ষায়।

সব ঠিক থাকলে রকেটে যুক্ত হওয়ার পর ২০২২ সালের শুরুতেই চাঁদের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবে ওরিয়ন।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারে এক ভবন থেকে অন্য ভবনে সোমবার স্থানান্তর করা হয়েছে ওরিয়নকে। সেখানে পরবর্তী ধাপে শক্তিশালী স্পেস লঞ্চ সিস্টেম (এসএলএস) রকেটে তোলা হবে ওরিয়নকে।

এর আগে আরেকটি ভবনে ছিল ওরিয়ন। সেখানে ওরিয়নের সঙ্গে মহাকাশযানের লঞ্চ অ্যাবর্ট সিস্টেম (এলএএস) যুক্ত করেন প্রকৌশলীরা। এ ব্যবস্থার মাধ্যমেই মহাকাশে গন্তব্যে পৌঁছানোর পর রকেট থেকে আলাদা হবে ওরিয়ন।

মূলত রকেট থেকে মহাকাশযানকে সামনের দিকে ঠেলে দিতে এবং মানব অভিযানের ক্ষেত্রে জরুরি পরিস্থিতিতে রকেট থেকে নভোচারীদের দূরে সরাতে এলএএস ব্যবহার করা হয়।

চাঁদের কক্ষপথের উদ্দেশ্যে ওরিয়নের প্রথম ফ্লাইটটি হবে মানববিহীন। ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদের বুকে মানুষ পাঠানোর যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার অংশ এটি।

চন্দ্রজয় অভিযান অ্যাপোলোর পর নতুন এ প্রকল্পের নাম দেয়া হয়েছে আর্টিমিজ। বলা হচ্ছে, আর্টিমিজ সফল হলে পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহ চাঁদে মানুষের এবারের উপস্থিতি হবে বেশ দীর্ঘমেয়াদী।

আর্টিমিজ-১ মিশনে ব্যবহার্য ওরিয়নের বর্তমান ঠিকানা কেনেডি স্পেস সেন্টারের বিখ্যাত ভেহিকল অ্যাসেম্বলি বিল্ডিং বা ভিএবি ভবন। এই ভবনটি মহাকাশযানের বিভিন্ন অংশ একটি আরেকটির সঙ্গে জোড়া লাগানো হয়।

৩২২ ফুট লম্বা এসএলএস লঞ্চারে যুক্ত হতে যাওয়া শেষ গুরুত্বপূর্ণ অংশ ওরিয়ন। ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে ভিএবিতে ওরিয়নকে আনার জন্য কাজ করছিলেন প্রকৌশলীরা।

আর্টিমিজ-১ মিশনের ব্যাপ্তি হবে তিন সপ্তাহ। এর মাধ্যমে নভোচারী পাঠানোর আগে এসএলএস ও ওরিয়নের ক্ষমতা পরীক্ষা করে দেখা হবে। এ পরীক্ষা সফল হলে ২০২৩ সালে আর্টিমিজ-২ মিশনে চাঁদ প্রদক্ষিণে পাঠানো হবে মানুষ।

আর্টিমিজ-৩ মিশনে চাঁদের বুকে ফের পা রাখবে নভোচারীরা। ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো ১৭ অভিযানে প্রথম ও শেষবার চাঁদে পা রেখেছিল মানুষ।

মানুষকে চাঁদের কক্ষপথ থেকে পৃথিবীপৃষ্ঠে ফিরিয়ে আনবে স্টারশিপ নামের একটি যান। স্টারশিপ নির্মাণে আমেরিকান ধনকুবের ইলন মাস্কের মহাকাশযান নির্মাণ ও মহাকাশযাত্রা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সকে চূড়ান্ত করেছে নাসা।

সব ঠিক থাকলে চাঁদে দ্বিতীয়বার মানুষের পা পড়তে পারে ২০২৪ সালে। যদিও অধিকাংশ পর্যবেক্ষকের মতে, এ তারিখ আরও পেছাবে।

এ অভিযানে ব্যবহার্য মহাকাশযান ওরিয়নের ধাতব কাঠামোটিও চলতি মাসে কেনেডি স্পেস সেন্টারে পৌঁছেছে।

আর্টিমিজ-৩ মিশন সফল হলে চাঁদের বুকে হাঁটবেন প্রথম নারী নভোচারী। তার সঙ্গে থাকবেন আরেকজন পুরুষ নভোচারী।

আর্টিমিজের মাধ্যমে প্রথম অশ্বেতাঙ্গ ব্যক্তি পা রাখবেন চাঁদে।

আরও পড়ুন:
তিউনিসিয়া থেকে ফিরলেন ৩০ বাংলাদেশি
আটলান্টিকে নৌকা ডুবে ৫২ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু
আফ্রিকা উপকূলে ৪২ অভিবাসনপ্রত্যাশী নিখোঁজ
উন্নত জীবনের আশায় সমুদ্রে গেল ৫৭ প্রাণ
তিউনিসিয়া উপকূলে ১৭ বাংলাদেশির মৃত্যু

শেয়ার করুন