বর্ণবাদী মানসিকতার বলি কানাডার আদিবাসী নারী

বর্ণবাদী মানসিকতার বলি কানাডার আদিবাসী নারী

মন্ট্রিলে আদিবাসী নারী জয়েস ইচাকুয়ানের মৃৃত্যুতে বিক্ষোভ। ছবি: এএফপি

ইচাকুয়ানের মৃত্যুর পর তার পার্টনার ক্যারল দিউব সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমি নিশ্চিত, জলিয়েট হাসপাতালের কাঠামোগত বর্ণবাদী আচরণ ইচাকুয়ানের মৃত্যুতে দায়ী।’

কানাডার কুইবেক অঙ্গরাজ্যে হাসপাতালে আদিবাসী এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। তার মৃত্যুতে বর্ণবাদ ও কুসংস্কার ভূমিকা রাখে বলে করোনার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

স্থানীয় সময় শুক্রবার ওই প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় বলে আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

মৃত ৩৭ বছর বয়সী জয়েস ইচাকুয়ান সাত সন্তানের মা। কানাডার আদিবাসী আতিকামেক সম্প্রদায়ভুক্ত ছিলেন তিনি।

মৃত্যুর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করেন ইচাকুয়ান।

এতে দেখা যায়, চিকিৎসা সহায়তা চাওয়ায় হাসপাতালের কর্মকর্তারা তাকে গালাগাল ও অপমান করছেন।

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর আদিবাসীদের ওপর চলমান দুর্ব্যবহার ও নির্যাতন বন্ধের দাবিতে কানাডাজুড়ে প্রতিবাদ হয়।

করোনার প্রতিবেদনে বলা হয়, পালমোনারি ইডিমায় (ফুসফুসে অতিরিক্ত পানি) ভুগে ইচাকুয়ানের মৃত্যু হয়েছে।

একই সঙ্গে ‘কাঠামোগত বর্ণবাদ’ চিহ্নিত করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এর চর্চা বন্ধে কুইবেক সরকারের প্রতি আহ্বান জানায় করোনার প্রতিবেদনটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ইচাকুয়ান নিশ্চিতভাবে বর্ণবাদ ও সংস্কারের শিকার হন।

‘চিকিৎসা সহায়তা চাওয়ার একপর্যায়ে দ্রুত ইচাকুয়ানকে মাদকাসক্ত তকমা দেয় ওই হাসপাতাল।

‘এ ধরনের কুসংস্কারের কারণে ইচাকুয়ানের সহায়তার আবেদন দুর্ভাগ্যজনকভাবে গুরুত্বের সঙ্গে নেয়নি হাসপাতালের কর্মকর্তারা।’

কুইবেকের মন্ট্রিল শহরের জলিয়েট হাসপাতালে পেটের ব্যথার চিকিৎসা চেয়েছিলেন ইচাকুয়ান।

ইচাকুয়ানের মৃত্যুর পর তার পার্টনার ক্যারল দিউব সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমি নিশ্চিত, জলিয়েট হাসপাতালের কাঠামোগত বর্ণবাদী আচরণ ইচাকুয়ানের মৃত্যুতে দায়ী।’

আরও পড়ুন:
কানাডায় খনিতে আটকা ৩৯ শ্রমিক
আদিবাসী শিশু হত্যায় ক্ষমা চাইলেন ক্যাথলিক বিশপরা
ফের জোট সরকারেই নির্ভর করতে হচ্ছে ট্রুডোকে
কঠিন চ্যালেঞ্জ সহজে জিতলেন ট্রুডো
জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়লেও পাল্লা ভারী ট্রুডোর

শেয়ার করুন

মন্তব্য

জাতিসংঘে তালেবান রাষ্ট্রদূত চায় না আফগান নারীরা

জাতিসংঘে তালেবান রাষ্ট্রদূত চায় না আফগান নারীরা

নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বাইরে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন (বাঁ থেকে) আসিলা ওয়ারদাক, ফৌজিয়া কুফি, আনিসা শহীদ ও নাহিদ ফরিদ। ছবি: রয়টার্স

আফগানিস্তানের সাবেক রাজনীতিক ও শান্তি আলোচনাকারী ফৌজিয়া কুফি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটি খুবই সহজ বিষয়। আফগান জনগণের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ব্যক্তি আফগানিস্তানের হয়ে জাতিসংঘে বসার যোগ্য।’

জাতিসংঘে তালেবান সরকারের কাউকে যাতে আসন দেয়া না হয় এ জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থাটির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন কয়েকজন আফগান নারী। বরং আফগানিস্তানকে সঠিকভাবে প্রতিনিধিত্ব করতে পারে, এমন যোগ্য কোনো ব্যক্তিকে জাতিসংঘে আফগান রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেয়া উচিত বলে মনে করেন তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার আফগান ওই নারীরা এসব আহ্বান জানান বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বাইরে আফগানিস্তানের সাবেক রাজনীতিক ও শান্তি আলোচনাকারী ফৌজিয়া কুফি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটি খুবই সহজ বিষয়। আফগান জনগণের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ব্যক্তি আফগানিস্তানের হয়ে জাতিসংঘে বসার যোগ্য।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আফগান নারীরা গত কয়েক মাস ধরে আমাদের অধিকার নিয়ে অনেক কথা বলেছি। কিন্তু আমাদের কোনো কথাই শোনা হয়নি।

‘আফগান নারীসহ সব নাগরিককে প্রাপ্য অধিকার দেয়া, অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠন করা- এসব তালেবান সরকার নিশ্চিত করলে পরে তাদের স্বীকৃতি ও অর্থসহায়তা বিশ্বের দেয়া উচিত, এর আগে নয়।’

ফৌজিয়া কুফি ছাড়াও আফগানিস্তানের সাবেক রাজনীতিক নাহিদ ফরিদ, সাবেক কূটনীতিক আসিলা ওয়ারদাক ও সাংবাদিক আনিসা শহীদ সাংবাদিকদের সঙ্গে আফগান বিষয়ে কথা বলেন।

ফরিদ বলেন, ‘তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর অঙ্গীকার করেছিল, নারীদের ঘরের বাইরে কাজ করার অনুমতি দেয়া হবে, মেয়েরা স্কুলে তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবে। এসব অঙ্গীকারের কোনোটিই রাখেনি তালেবান।’

নারী অধিকারের বিষয়ে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করতে তালেবানকে চাপ দিতে বিশ্বকে আহ্বান জানিয়েছেন কূটনীতিক ওয়ারদাক।

জাতিসংঘের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তালেবানের কাউকে জাতিসংঘে আফগান রাষ্ট্রদূত হিসেবে বেছে নেয়া হলে সে ক্ষেত্রে অবশ্যই তা শর্তভিত্তিক হতে হবে।’

তালেবানের আগের শাসনামলে ঘরের বাইরে আফগান নারীদের কাজ করা বা মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার অনুমতি ছিল না। ঘরের বাইরে পুরুষ অভিভাবক ছাড়া নারীদের বের হতেও নিষেধ করা হয়েছিল।

দীর্ঘ দুই দশক পর তালেবান এবার ক্ষমতায় আসার আগে ও পরে অনেকবার অঙ্গীকার করে বলেছিল, শরিয়া আইন অনুযায়ী আফগান নারীদের অধিকার দেয়া হবে।

তবে আফগান নারী ইস্যুতে এখন পর্যন্ত কোনো অঙ্গীকারই বাস্তবায়ন করেনি আফগানিস্তানে তালেবানের অন্তর্বর্তী সরকার।

এ মুহূর্তে জাতিসংঘে আফগানিস্তানকে প্রতিনিধিত্ব করছেন দেশটির ক্ষমতাচ্যুত সরকারের কর্মকর্তা গুলাম ইসাকজাই। আগস্টে ক্ষমতায় আসার পর জাতিসংঘের রাষ্ট্রদূত হিসেবে তালেবানের দোহাভিত্তিক মুখপাত্র সুহেইল শাহীনকে মনোনয়ন দেয় ইসলামপন্থি গোষ্ঠীটি।

জাতিসংঘে শেষ পর্যন্ত আফগানিস্তানের হয়ে কে প্রতিনিধিত্ব করবে, এ সিদ্ধান্ত চলতি বছরের শেষে আন্তর্জাতিক সংস্থাটির সদস্য রাষ্ট্রগুলোর নেয়ার কথা।

আরও পড়ুন:
কানাডায় খনিতে আটকা ৩৯ শ্রমিক
আদিবাসী শিশু হত্যায় ক্ষমা চাইলেন ক্যাথলিক বিশপরা
ফের জোট সরকারেই নির্ভর করতে হচ্ছে ট্রুডোকে
কঠিন চ্যালেঞ্জ সহজে জিতলেন ট্রুডো
জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়লেও পাল্লা ভারী ট্রুডোর

শেয়ার করুন

মাউরি নারী হলেন নিউজিল্যান্ডের গভর্নর জেনারেল

মাউরি নারী হলেন নিউজিল্যান্ডের গভর্নর জেনারেল

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্নের (ডানে) সঙ্গে সদ্যনিযুক্ত গভর্নর-জেনারেল ডেইম সিন্ডি কিরো। ছবি: আরারাত এডভারটাইজার

‘নিউজিল্যান্ডকে যারা নিজেদের বাসভূমির মতো গড়ে তুলেছেন এবং তাদের কারণে দেশে বিভিন্ন বৈচিত্র্য ও ধর্মের মানুষের মিলন ঘটেছে, তাদের সঙ্গে আমি আজকের আনন্দ উদযাপন করতে চাই।’

নিউজিল্যান্ডের গভর্নর জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন দেশটির আদিবাসী মাওরি সম্প্রদায়ের নারী ডেইম সিন্ডি কিরো। এই প্রথম ওই সম্পদ্রায়ের কোনো নারী নিউজিল্যান্ডের গভর্নর জেনারেল হলেন।

নিউজিল্যান্ডের রাজধানী ওয়েলিংটনে পার্লামেন্ট ভবনে বৃহস্পতিবার শপথ নেন কিরো। সেখানে অভিবাসী ও প্রান্তিক মানুষের জন্য কাজ করার অঙ্গীকার করেন তিনি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

শপথ অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের উদ্দেশে কিরো বলেন, ‘মাউরি ও ব্রিটিশ পরিবারে জন্ম হওয়ায় গর্ব বোধ করি। আদিবাসী জনগোষ্ঠী যদি মূল ধারার রাজনীতির সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত বোধ করে, তাহলে তাদের মধ্যে সহনশীলতা আরও বাড়বে।’

তিনি বলেন, ‘নতুন অভিবাসী ও সাবেক শরণার্থীদের সঙ্গে আমি যোগাযোগ করব।

‘নিউজিল্যান্ডকে যারা নিজেদের বাসভূমির মতো গড়ে তুলেছেন এবং তাদের কারণে দেশে বিভিন্ন বৈচিত্র্য ও ধর্মের মানুষের মিলন ঘটেছে, তাদের সঙ্গে আমি আজকের আনন্দ উদযাপন করতে চাই।’

নিউজিল্যান্ড একসময় ব্রিটিশ কলোনি ছিল। স্বাধীনতার পর ব্রিটিশ রানির হয়ে সাংবিধানিকসহ অন্যান্য দায়িত্ব পালন করেন নিউজিল্যান্ডের গভর্নর জেনারেল। যুক্তরাজ্যের রানি নিউজিল্যান্ডের আনুষ্ঠানিক হেড অফ স্টেট।

নিউজিল্যান্ডের জনসংখ্যার প্রায় ১৭ শতাংশ মাউরি সম্প্রদায়ের। সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে এখনো সুবিধাবঞ্চিত এই সম্প্রদায়ের মানুষ।

২০১৯ সালে নিউজিল্যান্ডের বিভিন্ন শহরে সামাজিক ন্যায়বিচার ও ভূমি অধিকারের দাবিতে বিক্ষোভ করে হাজার হাজার মাউরি।

নিউজিল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অফ অকল্যান্ড থেকে সামাজিক নীতি বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রি পান কিরো। এ ছাড়া মাসি ইউনিভার্সিটি থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে এমবিএ করেন তিনি। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কিরোই প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি অর্জন করেন।

শপথ অনুষ্ঠানে গভর্নর জেনারেল পদে কিরোর নিয়োগকে স্বাগত জানিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন।

আরডার্ন বলেন, ‘আমার জানা মতে, এ পদে কিরোই প্রথম মাউরি নারী। এ সিদ্ধান্ত দেশের অনেক জনগোষ্ঠীকে উৎসাহিত করবে।’

গত বছর দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর পার্লামেন্টে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নারীসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষকে এনে জড়ো করেন আরডার্ন। এত বৈচিত্র্যপূর্ণ পার্লামেন্ট এর আগে নিউজিল্যান্ডে দেখা যায়নি।

আরও পড়ুন:
কানাডায় খনিতে আটকা ৩৯ শ্রমিক
আদিবাসী শিশু হত্যায় ক্ষমা চাইলেন ক্যাথলিক বিশপরা
ফের জোট সরকারেই নির্ভর করতে হচ্ছে ট্রুডোকে
কঠিন চ্যালেঞ্জ সহজে জিতলেন ট্রুডো
জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়লেও পাল্লা ভারী ট্রুডোর

শেয়ার করুন

প্রথম চার তারকা ট্রান্সজেন্ডার অ্যাডমিরাল

প্রথম চার তারকা ট্রান্সজেন্ডার অ্যাডমিরাল

তারকা অ্যাডমিরাল হলেন ট্রান্সজেন্ডার চিকিৎসক রেচেল লেভিন। ছবি: বিবিসি

এর আগে প্রেসিডেন্ট বাইডেন লেভিনকে সহকারী স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের কোনো উচ্চ পদে প্রথম কোনো ট্রান্সজেন্ডার হিসেবে জায়গা করে নেন তিনি।

প্রথম কোনো ট্রান্সজেন্ডার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য বিভাগে চার তারকাবিশিষ্ট অ্যাডমিরাল হলেন চিকিৎসক রেচেল লেভিন।

স্থানীয় সময় চার তারকাবিশিষ্ট অফিসার হিসেবে শপথ নেন বাইডেন প্রশাসনের এই সহকারী স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

বিবিসি লিখেছে, ৬৩ বছর বয়সী লেভিন এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পাবলিক হেলথ সার্ভিসের কমিশন্ড অফিসারদের একজন অ্যাডমিরাল।

এর আগে প্রেসিডেন্ট বাইডেন লেভিনকে সহকারী স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের কোনো উচ্চ পদে প্রথম কোনো ট্রান্সজেন্ডার হিসেবে জায়গা করে নেন তিনি।

চার তারকাবিশিষ্ট অ্যাডমিরাল হিসেবে শপথ নেয়ার পর লেভিন মুহূর্তটিকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ও ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

এলজিবিটিকিউ (লেসবিয়ান-গে-বাইসেক্সুয়াল-ট্রান্সজেন্ডার-কুয়েশনিং) সম্প্রদায়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আজকের এই নিয়োগ হয়তো প্রথম, আগামী দিনে আরও আসার বাকি। কেননা, আমরা বৈচিত্র্যময় ও অন্তর্ভুক্তিমূলক একটা ভবিষ্যৎ গড়ছি।’

হার্ভার্ড কলেজ ও তুলানে ইউনিভার্সিটির স্কুল অফ মেডিসিন থেকে স্নাতক সম্পন্ন করা লেভিন একসময় শিশু বিশেষজ্ঞ হিসেবেও কাজ করতেন।

যুক্তরাষ্ট্রের পাবলিক হেলথ সার্ভিসে কমিশন্ড পোশাকধারী অফিসার প্রায় ৬ হাজার। তারা করোনাভাইরাসের মতো মহামারি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন।

লেভিনের চার তারকাবিশিষ্ট অ্যাডমিরাল হিসেবে পদোন্নতিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যবিষয়ক মন্ত্রী জাভিয়ের বেসেরা। তার মতে, সাম্য জাতি গঠনের পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

চিকিৎসক লেভিন পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ফিজিশিয়ান জেনারেল হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ছিলেন অঙ্গরাজ্যটির স্বাস্থ্যবিষয়ক মন্ত্রী। কাজ করেছেন আফিমে আসক্তদের নিয়েও।

চার তারকাবিশিষ্ট অ্যাডমিরালে পদোন্নতি পেতে কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে লেভিনকে। গত মার্চে এ বিষয়ক নির্বাচন পর্বে সিনেটে ৫২ ভোটের মধ্যে ৪৮টিই পান তিনি।

আরও পড়ুন:
কানাডায় খনিতে আটকা ৩৯ শ্রমিক
আদিবাসী শিশু হত্যায় ক্ষমা চাইলেন ক্যাথলিক বিশপরা
ফের জোট সরকারেই নির্ভর করতে হচ্ছে ট্রুডোকে
কঠিন চ্যালেঞ্জ সহজে জিতলেন ট্রুডো
জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়লেও পাল্লা ভারী ট্রুডোর

শেয়ার করুন

পাকিস্তানে বিয়ের পরও এনআইডিতে রাখা যাবে বাবার নাম

পাকিস্তানে বিয়ের পরও এনআইডিতে রাখা যাবে বাবার নাম

পাকিস্তানি নারীরা এখন বিয়ের পর জাতীয় পরিচয়পত্রে বাবার নাম রাখতে পারবেন। ছবি: নিউ কানাডিয়ান মিডিয়া

সম্মেলনে নাদরার চেয়ারপারসন তারিক মালিক বলেন, ‘স্বামীর নাম রাখার বাধ্যতামূলক অনানুষ্ঠানিক ওই নীতি আমরা বাতিল করছি। জাতীয় পরিচয়পত্রে বিয়ের পর নারীরা বাবার নাম রাখবেন নাকি স্বামীর নাম রাখবেন- এ সিদ্ধান্ত এখন তাদের।’

জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) বিয়ের পর বাবার নাম ফেলে দিয়ে স্বামীর নাম রাখার নারীদের যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে, সেখান থেকে সরে আসছে পাকিস্তান। নারীরা চাইলে এখন বিয়ের পরও জাতীয় পরিচয়পত্রে তাদের বাবার নাম রাখতে পারবেন।

পাকিস্তানের ন্যাশনাল ডাটাবেজ অ্যান্ড রেজিস্ট্রেশন অথরিটির (নাদরা) চেয়ারপারসন তারিক মালিক শুক্রবার ১৪তম বার্ষিক গ্রামীণ নারী সম্মেলনের শেষ অধিবেশনে এ ঘোষণা দেন।

সম্মেলনে মালিক বলেন, ‘স্বামীর নাম রাখার বাধ্যতামূলক অনানুষ্ঠানিক এই নীতি আমরা বাতিল করছি। জাতীয় পরিচয়পত্রে বিয়ের পর নারীরা বাবার নাম রাখবেন নাকি স্বামীর নাম রাখবেন- এ সিদ্ধান্ত এখন তাদের।

‘এ সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে নারীর, তার স্বামীর নয়।’

নাদরার চেয়ারপারসন মালিক বলেন, ‘জাতীয় পরিচয়পত্র থেকে বিয়ের পর বাবার নাম বাদ দিয়ে স্বামীর নাম রাখার সংস্কৃতি নীতি বাস্তবায়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা করেছেন।

‘বিয়ের পর পরিচয়পত্রে স্বামীর নাম রাখতেই হবে- এমন কোনো কিছু আইনে বলা নেই। স্বামীর অনুমতি নিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র হালনাগাদ করতে নারীদের বাধ্য করার কথাও কেউ বলেনি। তবে অনানুষ্ঠানিক এ নিয়ম আমাদের দেশে চলে আসছে।’

মালিক বলেন, ‘জাতীয় পরিচয়পত্র প্লাস্টিকের কোনো টুকরা নয়। এটি ভোট দেয়া, মামলা করা, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলাসহ সব ধরনের সরকারি সুবিধা দিতে সহায়তা করে। এটি নারী ক্ষমতায়নের অন্যতম উৎস।’

মালিক রোববার ডনকে বলেন, ‘আগের নীতি অনুযায়ী, বিয়ের পর নারীদের জাতীয় পরিচয়পত্রে স্বামীর নাম যুক্ত করা বাধ্যতামূলক।

‘নতুন নীতিতে নারীরা বিয়ের পর বাবার নামই রাখবেন নাকি এর জায়গায় স্বামীর নাম বসাবেন, এটা এখন তাদের ওপর নির্ভর করছে।

‘এমনকি বিয়ের পর নারীরা চাইলে জাতীয় পরিচয়পত্রে নিজের নামের সঙ্গে স্বামীর নাম যুক্ত করতে পারবেন। তবে সে ক্ষেত্রে তার নিচে বাধ্যতামূলকভাবে তাদের বাবার নামও রাখতে হবে।’

‘এটি যুগান্তকারী এক পরিবর্তন। এটি জাতীয় পরিচয়পত্রকে ঘিরে নারীদের তাদের মর্জিমাফিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে।’

আরও পড়ুন:
কানাডায় খনিতে আটকা ৩৯ শ্রমিক
আদিবাসী শিশু হত্যায় ক্ষমা চাইলেন ক্যাথলিক বিশপরা
ফের জোট সরকারেই নির্ভর করতে হচ্ছে ট্রুডোকে
কঠিন চ্যালেঞ্জ সহজে জিতলেন ট্রুডো
জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়লেও পাল্লা ভারী ট্রুডোর

শেয়ার করুন

মেয়েদের জন্য দ্রুতই খুলছে স্কুলের দরজা: তালেবান

মেয়েদের জন্য দ্রুতই খুলছে স্কুলের দরজা: তালেবান

১৫ আগস্ট তালেবানের ক্ষমতা দখলের দুদিন পর হেরাত শহরের একটি স্কুলে আফগান শিক্ষার্থীরা। ছবি: এএফপি

ইউনিসেফের কর্মকর্তা আবদি জানান, তালেবানের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষামন্ত্রী নুরুল্লাহ মুনির তাকে বলেছেন, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে শুরু করে মাধ্যমিক পর্যন্ত সব মেয়ে যাতে স্কুলে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে, এ নিয়ে পরিকল্পনা করছে আফগান সরকার। আগামী দুই-এক মাসের মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

আফগানিস্তানে মাধ্যমিক স্কুলে সব মেয়েকে পড়ার অনুমতি দেয়া হবে বলে জাতিসংঘের জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তাকে জানিয়েছে তালেবান। আর এ বিষয়ে শিগগিরই পরিকল্পনা ঘোষণা করতে যাচ্ছে তালেবান সরকার।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শহরে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে স্থানীয় সময় শুক্রবার সাংবাদিকদের ওই কর্মকর্তা এসব তথ্য জানান।

বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সপ্তাহে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে যান জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক জরুরি তহবিল সংস্থা ইউনিসেফের উপনির্বাহী পরিচালক ওমর আবদি।

সাংবাদিকদের আবদি জানান, আফগানিস্তানের ৩৪টি প্রদেশের পাঁচটিতে এরই মধ্যে মাধ্যমিকের মেয়ে শিক্ষার্থীরা স্কুলে যাওয়া শুরু করেছে। এ প্রদেশগুলো হলো আফগানিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বালখ, জাওজান ও সামানগান, উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় কুন্দুজ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় উরজগান।

ইউনিসেফের কর্মকর্তা আবদি জানান, তালেবানের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষামন্ত্রী নুরুল্লাহ মুনির তাকে বলেছেন, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে শুরু করে মাধ্যমিক পর্যন্ত সব মেয়ে যাতে স্কুলে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে, এ নিয়ে পরিকল্পনা করছে আফগান সরকার। আগামী দু-এক মাসের মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

তিনি বলেন, ‘আফগানিস্তানের মাধ্যমিক স্কুলের লাখ লাখ মেয়ে শিক্ষার্থী প্রায় এক মাস ধরে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত।

‘আমরা তালেবান সরকারকে অনুরোধ করেছি, দ্রুত ওই শিক্ষার্থীদের যেন স্কুলে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়।’

১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তালেবানের প্রথম শাসনামলে আফগান মেয়ে ও নারীদের শিক্ষার অধিকার খর্ব করা হয়। এ ছাড়া চাকরি করা বা জনসমাগমস্থলে যাওয়ারও অনুমতি ছিল না নারীদের।

১৫ আগস্ট কাবুল পতনের পর আফগানিস্তানের ক্ষমতা ২০ বছর পর ফিরে পায় তালেবান।

আগের শাসনামলের মতো এবারও যাতে নারীদের শিক্ষা ও চাকরি করার সুযোগ থেকে দূরে ঠেলে দেয়া না হয়, এটি নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় প্রায় দুই মাস ধরে তালেবানের নতুন অন্তর্বর্তী সরকারকে চাপ দিয়ে যাচ্ছে।

ইউনিসেফের উপনির্বাহী পরিচালক আবদি বলেন, ‘২০০১ সালে আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনকে আশ্রয় দেয়ার অভিযোগ এনে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান চালিয়ে তালেবানকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করে। ওই সময় মাত্র ১০ লাখ আফগান শিশু স্কুলে পড়াশোনা করত।

‘গত ২০ বছরে এ সংখ্যা প্রায় এক কোটিতে পৌঁছায়। এ শিশুদের মধ্যে ৪০ লাখ মেয়ে শিক্ষার্থী। আর গত দশকে আফগানিস্তানে স্কুলের সংখ্যা ছয় হাজার থেকে বেড়ে ১৮ হাজার হয়।’

তিনি বলেন, ‘আফগানিস্তানে শিক্ষা খাতে গত দুই দশকের অর্জন ধরে রাখা জরুরি। পেছনে ফেরা কোনোভাবেই কাম্য নয়।’

আরও পড়ুন:
কানাডায় খনিতে আটকা ৩৯ শ্রমিক
আদিবাসী শিশু হত্যায় ক্ষমা চাইলেন ক্যাথলিক বিশপরা
ফের জোট সরকারেই নির্ভর করতে হচ্ছে ট্রুডোকে
কঠিন চ্যালেঞ্জ সহজে জিতলেন ট্রুডো
জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়লেও পাল্লা ভারী ট্রুডোর

শেয়ার করুন

কর্মস্থলে নারীদের হয়রানির ব্যবস্থা নিচ্ছে না চীন

কর্মস্থলে নারীদের হয়রানির ব্যবস্থা নিচ্ছে না চীন

চীনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নির্যাতনের শিকার নারীদের পক্ষে না থাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুখ খুলছেন ভুক্তভোগী নারীরা। ছবি: দ্য উইক

চীনের অধিকারকর্মীরা বলছেন, যৌন হয়রানি বা নির্যাতনের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর নীরবতা, রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে অভিযোগগুলোকে গুরুত্ব না দেয়া ও কোনো কোনো ক্ষেত্রে উল্টো স্পষ্টভাবে অভিযোগকারীদের দিকেই আঙুল তোলার কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের যন্ত্রণার কথা বলতে বাধ্য হচ্ছেন ভুক্তভোগী নারীরা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হ্যাশট্যাগ মিটু লিখে দীর্ঘদিন ধরে যৌন হয়রানি ও নির্যাতনের কথা অকপটে বলে আসছেন চীনের নারীরা।

তা সত্ত্বেও দেশটির করপোরেট নেতারা ও সরকারি বিভিন্ন সংস্থা কর্মস্থলে নারীদের যৌন নির্যাতন ও হয়রানি কমাতে এবং জেন্ডার সমতা বাড়াতে কার্যকর নীতি গ্রহণ বা বাস্তবায়নে এখন পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে।

অধিকারকর্মীদের বরাতে এসব তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা

চীনের আইনজীবী ও অধিকারকর্মীদের ভাষ্য, কর্মস্থলে নারীদের হয়রানি ও নির্যাতন বন্ধে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যথোপযুক্ত উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। ভুক্তভোগী নারীদের প্রশ্ন, কবে তাদের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।

নারী কর্মীদের ওপর হয়রানি বন্ধে অর্থপূর্ণ নীতি গ্রহণে ব্যর্থতা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভাবমূর্তি ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। এ ছাড়া উচ্চশিক্ষিত চীনা নারীদের এসব প্রতিষ্ঠানে কাজ করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলারও শঙ্কা রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চীনের আলোচিত এক নারী অধিকারকর্মী বলেন, ‘কোনো প্রতিষ্ঠান নারী কর্মীদের ওপর হয়রানি বন্ধে নতুন কোনো নীতি গ্রহণ করেছে, এমনটা আমি শুনিনি। বরং যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তারা অনেকটা নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।’

চীনের অধিকারকর্মীরা বলছেন, যৌন হয়রানি বা নির্যাতনের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর নীরবতা, রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে অভিযোগগুলোকে গুরুত্ব না দেয়া ও কোনো কোনো ক্ষেত্রে উল্টো স্পষ্টভাবে অভিযোগকারীদের দিকেই আঙুল তোলার কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের যন্ত্রণার কথা বলতে বাধ্য হচ্ছেন ভুক্তভোগী নারীরা।

এ ছাড়া আদালতের শুনানি ও পুলিশি তদন্তে স্বচ্ছতার অভাব থাকায় যোগাযোগমাধ্যমে বিচারের দাবি করা ছাড়া গত্যন্তর দেখছেন না তারা।

চীনের ই-কমার্স জায়ান্ট আলিবাবা, পরিবহন কোম্পানি ডিডি, মদ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান কোয়েচো মাউতাইসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নারীরা সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন।

আরও পড়ুন:
কানাডায় খনিতে আটকা ৩৯ শ্রমিক
আদিবাসী শিশু হত্যায় ক্ষমা চাইলেন ক্যাথলিক বিশপরা
ফের জোট সরকারেই নির্ভর করতে হচ্ছে ট্রুডোকে
কঠিন চ্যালেঞ্জ সহজে জিতলেন ট্রুডো
জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়লেও পাল্লা ভারী ট্রুডোর

শেয়ার করুন

আজারবাইজানের বিরুদ্ধে জাতিগত বিদ্বেষের অভিযোগ

আজারবাইজানের বিরুদ্ধে জাতিগত বিদ্বেষের অভিযোগ

আজারবাইজানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে জাতিগত বিদ্বেষের অভিযোগ আনে আর্মেনিয়া। ছবি: এএফপি

‘আর্মেনীয়দের সবকিছু সম্পর্কে ভয় ও বিদ্বেষের সংস্কৃতি প্রজন্মের পর প্রজন্মের মনে গেঁথে দেয়া হচ্ছে।’

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) আজারবাইজানের বিরুদ্ধে জাতিগত বিদ্বেষের অভিযোগ এনেছে আর্মেনিয়া। পাশাপাশি আজারবাইজানের এ কর্মকাণ্ড বন্ধে আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারকদের প্রতি আহ্বান জানায় দেশটি।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মাসে জাতিসংঘের উচ্চ আদালতে (আইসিজে) আজারবাইজানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা করে আর্মেনিয়া। আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া উভয়ই ১৯৬৫ সালের ওই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল।

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে বৃহস্পতিবারের শুনানিতে ওই অভিযোগের বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ নিতে বিচারকদের প্রতি আহ্বান জানায় আর্মেনিয়া।

শুনানিতে আর্মেনিয়ার আইনজীবীরা জানান, আজারবাইজান সরকার এমন এক সংস্কৃতি নির্মাণ করেছে, যেখানে জাতিগত বিদ্বেষের পাশাপাশি আর্মেনীয়দের হত্যা ও নির্যাতন কাঠামোগত হয়ে গেছে।

আদালতে আর্মেনিয়ার প্রতিনিধি ইয়েঘিশে কিরাকোসিয়ান বলেন, ‘জাতিগত আর্মেনীয়দের বিরুদ্ধে আজারবাইজানের সহিংসতা- বিদ্বেষ বন্ধ ও প্রতিকারে জরুরি পদক্ষেপ নিতে আমরা অনুরাধ জানাচ্ছি।

‘একই সঙ্গে আসন্ন অপূরণীয় ক্ষতির হাত থেকে আর্মেনীয়দের অধিকার রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানানো হচ্ছে।’

কিরাকোসিয়ান আরও বলেন, ‘গত বছরের সেপ্টেম্বরে আর্মেনিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেন আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ।

‘দেড় মাস দীর্ঘ ওই যুদ্ধের সঙ্গে জাতিগত সহিংসতা ও বিদ্বেষের পরিষ্কার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এ বিদ্বেষ এখনই বন্ধ করা না গেলে এটি আগামী দিনে আরও বাড়বে।

‘আর্মেনীয়দের সবকিছু সম্পর্কে ভয় ও বিদ্বেষের সংস্কৃতি প্রজন্মের পর প্রজন্মের মনে গেঁথে দেয়া হচ্ছে।’

আজারবাইজান তাদের বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ইলনুর মামাডোভ আন্তর্জাতিক বিচার আদালতকে জানান, আজারবাইজান নয়, বরং আর্মেনিয়াই কয়েক দশক ধরে জাতিগত হত্যাযজ্ঞের সঙ্গে জড়িত।

আন্তর্জাতিক আদালতে আজারবাইজানের আইনজীবীরা আর্মেনিয়ার অভিযোগকে ‘অযৌক্তিক’ বলে অভিহিত করেন।

একই সঙ্গে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের লক্ষ্যে জাতিসংঘের আদালত আর্মেনিয়া ব্যবহার করছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

গত বছর বিতর্কিত নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চলকে নিয়ে দুই পক্ষের যুদ্ধের একপর্যায়ে ওই অঞ্চল থেকে জাতিগত আর্মেনীয় বাহিনীকে বের করে দেয় আজারবাইজানের সেনাবাহিনী।

ওই যুদ্ধে সাড়ে ছয় হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারায়।

আরও পড়ুন:
কানাডায় খনিতে আটকা ৩৯ শ্রমিক
আদিবাসী শিশু হত্যায় ক্ষমা চাইলেন ক্যাথলিক বিশপরা
ফের জোট সরকারেই নির্ভর করতে হচ্ছে ট্রুডোকে
কঠিন চ্যালেঞ্জ সহজে জিতলেন ট্রুডো
জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়লেও পাল্লা ভারী ট্রুডোর

শেয়ার করুন