শরিয়াহ আইনের ভুল ব্যবহার নয়, তালেবানকে কাতার

শরিয়াহ আইনের ভুল ব্যবহার নয়, তালেবানকে কাতার

দোহায় বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলনে কাতারের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান আল থানি। ছবি: খামা প্রেস

তালেবান ও বিশ্ব সম্প্রদায়ের মধ্যে যোগসূত্র তৈরিতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় দীর্ঘদিন ধরেই সবচেয়ে প্রভাবশালী ভূমিকায় আছে কাতার। ২০১৩ সাল থেকে দোহায় তালেবানের একটি রাজনৈতিক কার্যালয়ও চালু আছে। সেপ্টেম্বরে তালেবান অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর কাবুলে রাষ্ট্রীয় সফর করা প্রথম বিদেশি সরকার প্রতিনিধি দলটিও পাঠিয়েছে কাতার।

শরিয়াহ আইনের অপব্যবহার করা উচিত নয়, বিশেষ করে নারীদের অধিকার রক্ষার প্রশ্নে। আফগানিস্তানের নতুন শাসকদল তালেবানকে উদ্দেশ্য করে এ কথা বলেছেন কাতারের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান আল থানি।

ইসলামিক সংবিধান অনুসরণের ক্ষেত্রে তালেবানের জন্য কাতার আদর্শ উদাহরণ বলেও উল্লেখ করেন থানি। তালেবানের জন্য আদর্শ হয়ে ওঠার জন্যও ইসলামিক রাষ্ট্রগুলোর প্রতি তিনি আহ্বান জানান।

আফগান বার্তা সংস্থা খামা প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রবিষয়ক শীর্ষ প্রতিনিধি জোসেপ বোরেলকে কাতারে স্বাগত জানান থানি। দোহায় বোরেলের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বলেন এসব কথা।

সাবেক আফগান সরকারের সঙ্গে তালেবানের আলোচনাতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে অনেক বছর ধরে কাজ করছিল কাতার। আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন জোটের সেনা প্রত্যাহার ইস্যুতেও কট্টরপন্থি গোষ্ঠীটির সঙ্গে আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল দেশটির।

বিশ্বের সঙ্গে তালেবানের যোগসূত্র রক্ষাকারী হিসেবে কাতারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলী বলে উল্লেখ করেন বোরেল। তিনি জানান, কাবুলের বর্তমান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পশ্চিমা বিশ্বের যোগাযোগ তৈরিতে সহযোগিতা করছে পারস্য উপসাগরীয় দেশটি।

বিশেষ করে তালেবান কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর আফগানিস্তান থেকে বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের উদ্ধারে সহযোগিতার জন্য কাতারের ভূয়সী প্রশংসা করেন বোরেল। দোহার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘উদ্ধারকাজের সময় আপনারা সহযোগিতা করেছেন। এখনও করছেন, কাবুল বিমানবন্দর চালু রাখার মাধ্যমে। আমি নিশ্চিত যে আপনাদের এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’

আফগানিস্তানের জনগণের জন্য মানবিক ত্রাণ পৌঁছে দিতে কাতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন বলেও আশা জানান বোরেল।

তালেবান ও বিশ্ব সম্প্রদায়ের মধ্যে যোগসূত্র তৈরিতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় দীর্ঘদিন ধরেই সবচেয়ে প্রভাবশালী ভূমিকায় আছে কাতার। ২০১৩ সাল থেকে দোহায় তালেবানের একটি রাজনৈতিক কার্যালয়ও চালু আছে।

সেপ্টেম্বরে তালেবান অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর কাবুলে রাষ্ট্রীয় সফর করা প্রথম বিদেশি সরকার প্রতিনিধি দলটিও পাঠিয়েছে কাতার।

আরও পড়ুন:
আবারও জাতিসংঘে প্রবেশাধিকার চাইল তালেবান
মেয়েদের স্কুল খোলার দাবিতে কাবুলে নারীদের মিছিল
নারীশিক্ষা: পশ্চাদমুখী তালেবান নিয়ে খুবই হতাশ কাতার
তৃণমূল পর্যায়ে দল গোছাচ্ছে তালেবান
তালেবানের ওপর নিষেধাজ্ঞায় বিল, আছে পাকিস্তান প্রসঙ্গ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গচ্ছিত ৯০০ কোটি ডলার পাবে না তালেবান

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গচ্ছিত ৯০০ কোটি ডলার পাবে না তালেবান

কাবুলে ত্রাণের খাবার গ্রহণের সময় আফগান শরণার্থীদের ভিড়। ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে গত আগস্টে দ্বিতীয় দফায় আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান। দেশটির সরকার হিসেবে বিশ্ব সম্প্রদায়ের স্বীকৃতি পায়নি গোষ্ঠীটি।

আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গচ্ছিত ৯০০ কোটি ডলারের বেশি অর্থে প্রবেশাধিকার পাবে না শাসকদল তালেবান। ক্ষমতাচ্যুত বেসামরিক সরকারের আমলে আফগান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রির্জাভের বেশিরভাগ অর্থই আটকে আছে যুক্তরাষ্ট্রে।

টার্কিশ রেডিও অ্যান্ড টেলিভিশনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, আফগানিস্তানে অর্থনৈতিক সংকট আরও গভীর হতে থাকার মধ্যেই দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গচ্ছিত অর্থ আটকে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াশিংটন।

যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে গত আগস্টে দ্বিতীয় দফায় আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান। দেশটির সরকার হিসেবে বিশ্ব সম্প্রদায়ের স্বীকৃতি পায়নি গোষ্ঠীটি।

যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটের ব্যাংকিং কমিটিকে মঙ্গলবার আমেরিকার অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়ালি অ্যাডেইমো বলেন, ‘তালেবানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ বলে আমরা বিশ্বাস করি। তবে একই সঙ্গে বৈধভাবে কীভাবে অসহায় আফগানদের কাছে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো যায়, সে পথও খুঁজে বের করতে হবে। সে পথই এখন আমরা খুঁজছি।’

আফগানিস্তানের বাইরে বিভিন্ন দেশে আফগান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গচ্ছিত ৯০০ কোটি ডলারের ওপর থেকে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে তালেবান।

দেশটিতে গুরুতর অর্থনৈতিক ও মানবিক সংকটের মুখে বিষয়টি নিয়ে দ্বিধায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো।

এ অবস্থায় মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে স্বীকৃতি দেয়া ছাড়াই কীভাবে তালেবানের সঙ্গে কূটনীতি চালু করা যায়, সে বিষয়ে কাজ করছে বিশ্ব সম্প্রদায়।

আরও পড়ুন:
আবারও জাতিসংঘে প্রবেশাধিকার চাইল তালেবান
মেয়েদের স্কুল খোলার দাবিতে কাবুলে নারীদের মিছিল
নারীশিক্ষা: পশ্চাদমুখী তালেবান নিয়ে খুবই হতাশ কাতার
তৃণমূল পর্যায়ে দল গোছাচ্ছে তালেবান
তালেবানের ওপর নিষেধাজ্ঞায় বিল, আছে পাকিস্তান প্রসঙ্গ

শেয়ার করুন

আফগানিস্তানে মসজিদে হামলায় মৃত্যু ৩২ ছাড়িয়েছে

আফগানিস্তানে মসজিদে হামলায় মৃত্যু ৩২ ছাড়িয়েছে

বিস্ফোরণের পর মসজিদের আশপাশের এলাকা।

গত শুক্রবারও আফগানিস্তানের কুন্দুজে নামাজরত মুসল্লিদের ওপর আত্মঘাতী বোমা হামলা করা হয়। এতে অন্তত ৫০ মুসল্লির মৃত্যু ঘটে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানেই এবার ঘটল কান্দাহারের ঘটনা।

জুমার নামাজে মগ্ন ছিলেন মুসল্লিরা। এ সময়ই আফগানিস্তানের কান্দাহার শহরে অবস্থিত ইমাম বারগাহ মসজিদে শক্তিশালী এক বোমা বিস্ফোরিত হয়েছে।

শুক্রবার স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর বরাতে এ খবর জানিয়েছে বিবিসি।

আল-জাজিরা জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় ৩২ জনের মৃত্যুর পাশাপাশি অন্তত ৪৫ জন মারাত্মক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিস্ফোরণের পর কিছু ছবিতে মসজিদের জানালার চূর্ণ-বিচূর্ণ কাচ ও বেশ কিছু মানুষকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, মসজিদের প্রধান দরজাটির কাছে তিনি অন্তত তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন।

ঘটনার পর মসজিদের সামনে অসংখ্য মানুষ ও অন্তত ১৫টি অ্যাম্বুলেন্স দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। পরে আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর স্পেশাল ফোর্স এলাকাটির নিরাপত্তা জোরদার করে এবং সাধারণ মানুষকে রক্তদানের জন্য আহ্বান জানায়।

শক্তিশালী বোমাটি কীভাবে বিস্ফোরিত হয়েছে, তা জানা না গেলেও সন্দেহ করা হচ্ছে আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীরাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

বিস্ফোরণের পর বিবিসির আফগান প্রতিনিধি সিকান্দার কারমানি এক টুইটে লিখেছেন, আইএস-এর স্থানীয় শাখা আইএস-খোরাসান এই হামলার দায় স্বীকার করতে পারে।

গত শুক্রবারও আফগানিস্তানের কুন্দুজে নামাজরত মুসল্লিদের ওপর আত্মঘাতী বোমা হামলা করা হয়। এতে অন্তত ৫০ মুসল্লির মৃত্যু ঘটে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানেই এবার ঘটল কান্দাহারের ঘটনা।

কাবুল দখলের আগে গত ১৩ আগস্ট কান্দাহার শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল তালেবান সেনারা।

আরও পড়ুন:
আবারও জাতিসংঘে প্রবেশাধিকার চাইল তালেবান
মেয়েদের স্কুল খোলার দাবিতে কাবুলে নারীদের মিছিল
নারীশিক্ষা: পশ্চাদমুখী তালেবান নিয়ে খুবই হতাশ কাতার
তৃণমূল পর্যায়ে দল গোছাচ্ছে তালেবান
তালেবানের ওপর নিষেধাজ্ঞায় বিল, আছে পাকিস্তান প্রসঙ্গ

শেয়ার করুন

আফগানিস্তানে ফের মসজিদে বোমা, ব্যাপক প্রাণহানির শঙ্কা

আফগানিস্তানে ফের মসজিদে বোমা, ব্যাপক প্রাণহানির শঙ্কা

ফাইল ছবি

গত শুক্রবারও আফগানিস্তানের কুন্দুজে নামাজরত মুসল্লিদের ওপর আত্মঘাতী বোমা হামলা করা হয়। এতে অন্তত ৫০ মুসল্লির মৃত্যু ঘটে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানেই এবার ঘটলো কান্দাহারের ঘটনা।

জুমার নামাজে মগ্ন ছিলেন মুসল্লিরা। এ সময়ই আফগানিস্তানের কান্দাহার শহরে অবস্থিত ইমাম বারগাহ মসজিদে শক্তিশালী এক বোমা বিস্ফোরিত হয়েছে।

শুক্রবার স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর বরাতে এ খবর জানিয়েছে বিবিসি। প্রাথমিকভাবে ৩২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও এ ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিস্ফোরণের পর কিছু ছবিতে মসজিদের জানালার চূর্ণ বিচূর্ণ কাচ ও বেশকিছু মানুষকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, মসজিদের প্রধান দরজাটির কাছে তিনি অন্তত তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন।

ঘটনার পর মসজিদের সামনে অসংখ্য মানুষ ও অন্তত ১৫টি অ্যাম্বুল্যান্স দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। পরে আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর স্পেশাল ফোর্স এলাকাটির নিরাপত্তা জোরদার করে এবং সাধারণ মানুষকে রক্তদানের জন্য আহ্বান জানায়।

শক্তিশালী বোমাটি কীভাবে বিস্ফোরিত হয়েছে তা জানা না গেলেও সন্দেহ করা হচ্ছে আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীরাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

বিস্ফোরণের পর বিবিসির আফগান প্রতিনিধি সিকান্দার কারমানি এক টুইটে লিখেছেন, আইএস-এর স্থানীয় শাখা আইএস-খোরাসান এই হামলার দায় স্বীকার করতে পারে।

গত শুক্রবারও আফগানিস্তানের কুন্দুজে নামাজরত মুসল্লিদের ওপর আত্মঘাতী বোমা হামলা করা হয়। এতে অন্তত ৫০ মুসল্লির মৃত্যু ঘটে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানেই এবার ঘটলো কান্দাহারের ঘটনা।

কাবুল দখলে আগে গত ১৩ আগস্ট কান্দাহার শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল তালেবান সেনারা।

আরও আসছে...

আরও পড়ুন:
আবারও জাতিসংঘে প্রবেশাধিকার চাইল তালেবান
মেয়েদের স্কুল খোলার দাবিতে কাবুলে নারীদের মিছিল
নারীশিক্ষা: পশ্চাদমুখী তালেবান নিয়ে খুবই হতাশ কাতার
তৃণমূল পর্যায়ে দল গোছাচ্ছে তালেবান
তালেবানের ওপর নিষেধাজ্ঞায় বিল, আছে পাকিস্তান প্রসঙ্গ

শেয়ার করুন

তালেবান রাজত্বে মাদকাসক্তদের দিনকাল

তালেবান রাজত্বে মাদকাসক্তদের দিনকাল

কাবুলের আবিসিনা মেডিক্যাল হাসপাতালে একদল আফগান মাদকাসক্ত

প্রায় প্রতি রাতেই কিছু তালেবান যোদ্ধা পুলিশের বেশে অবতীর্ণ হচ্ছেন এবং মাদকাসক্তদের আস্তানায় হানা দিচ্ছেন। মাদকাসক্তদের আটক করে তারা কতগুলো পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়ে যাচ্ছেন। সোজা কথায় কাজ না হলে কোনো কোনো মাদকাসক্তকে বেদম মারধরও করছেন তারা।

কয়েক দিন আগে এক সন্ধ্যায় কাবুলের গুজারগাহ এলাকায় একটি সেতুর নিচে আলো-আঁধারির মাঝে গিয়ে হাজির হন গুটিকয়েক তালেবান সেনা। তাদের হাতে চাবুক আর কাঁধে ঝুলছিল রাইফেল।

এ সময় সেতুর নিচে ময়লা আবর্জনা আর দুর্গন্ধ থেকে কয়েকজনকে বেরিয়ে আসার নির্দেশ দিলেন সেনাদের একজন। নির্দেশ পেয়ে হতবিহ্বল কয়েকজন বেরিয়েও এলেন। বাকিদের জোর করে বাইরে আনা হলো।

আগন্তুক সেনাটি এবার নির্দেশ দিলেন, মাদক সেবনের জন্য যার কাছে যা আছে সব হস্তান্তর করার জন্য। এই নির্দেশের পর নোংরা বেশভূষার মানুষগুলোর কয়েকজন হাতে থাকা অবশিষ্ট হেরোইনটুকু তাড়াহুড়ো করে সেবনের উদ্যোগ নিলেন।

দলটির মধ্যে এক ব্যক্তি তড়িঘড়ি করে একটি লাইটার জ্বালিয়ে মুখের সামনে একটি ফয়েল পেপারের নিচে ধরলেন। একটি পাইপ মুখে দিয়ে তিনি হেরোইনের ধোঁয়াটুকু টেনে নিচ্ছিলেন।

আরেকজন অবশ্য কিছুটা প্রতিবাদের সুরে বলে উঠলেন, ‘এগুলো ভিটামিন!’

তালেবান সেনা কারি ফেদায়ি তখন অন্য এক মাদকাসক্তের হাতদুটো পিছমোড়া করে বাঁধছিলেন।

ফেদায়ি বলেন, ‘এরা এ দেশেরই লোক। এদের মাঝে অনেক ভালো মানুষও আছে। সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় এদের এখন চিকিৎসার জন্য পাঠানো হবে।’

রক্তচক্ষু আর কঙ্কালসার মানুষগুলোর মধ্যে বয়স্ক এক ব্যক্তি নিজেকে কবি দাবি করে বসলেন। বললেন, এবারের মত ছেড়ে দিলে তিনি আর কখনোই মাদক সেবন করবেন না। একটা কাগজের টুকরো হাতে নিয়ে কবিতার লাইন পড়ে তিনি নিজেকে কবি প্রমাণ করার চেষ্টাও করলেন। কিন্তু এতে কোনো কাজ হলো না।

তালেবান রাজত্বে মাদকাসক্তদের দিনকাল
কাবুলের গুজারগাহ এলাকায় এই সেতুর নিচে মাদকসেবীদের আস্তানা

ফরাসি বার্তা সংস্থা এপি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানের বর্তমান শাসক গোষ্ঠী তালেবান এবার দেশের মাদকাসক্তি নির্মূলে মন দিয়েছে। জোর করে হলেও তারা মাদকাসক্ত আফগানদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে চায়।

তাই প্রায় প্রতি রাতেই কিছু তালেবান যোদ্ধা পুলিশের বেশে অবতীর্ণ হচ্ছেন এবং মাদকাসক্তদের আস্তানায় হানা দিচ্ছেন। মাদকাসক্তদের আটক করে তারা কতগুলো পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়ে যাচ্ছেন। সোজা কথায় কাজ না হলে কোনো কোনো মাদকাসক্তকে বেদম মারধরও করছেন তারা।

বছরের পর বছর ধরে যুদ্ধ, আগ্রাসন আর ক্ষুধা-দারিদ্র্যের হতাশা থেকে আফগানিস্তানের বিপুল সংখ্যক মানুষ মাদকাসক্তিতে ভোগছেন। তাদের মাঝে যেমন আছেন কবি, তেমনি আছেন- সাবেক সেনা, ব্যবসায়ী এমনকি কৃষকও।

বিশ্বজুড়ে যে পরিমাণ হেরোইন পাওয়া যায় তার একটি বড় অংশই আসে আফগানিস্তানের পপি চাষ থেকে। তাই দেশটিতে এই মাদক খুবই সহজলভ্য।

মাদকাসক্তদের মধ্যে কে ছোট, কে বড়, কে ধনী আর কে গরিব তার কোনো বাছ-বিচার নেই তালেবানদের কাছে। তাদের প্রস্তাবিত শারিয়া আইনেও মাদকের কোনো ঠাঁই নেই।

তবে মাদকের বিরুদ্ধে তালেবানের যুদ্ধ প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল। কারণ হেরোইনের কাঁচামাল আফিম কিংবা পপি চাষে তাদেরও ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ আছে। আফিমের উৎপাদন দেশটির অর্থনীতি ও অস্থিরতার সঙ্গেও নিবিড়ভাবে জড়িত। দেশটিতে যেসব কৃষক আফিম কিংবা পপি চাষ করেন, তাদের ভূমিকা অনেকটা তালেবানের গ্রাম পুলিশের মতো।

গত দুই দশক ধরে বিদেশি সেনা নিয়ন্ত্রিত আফগানিস্তানের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে তালেবানরা মাদক চোরাচালান ও পপি চাষীদের ওপর কর আরোপ করেই বিপুল অর্থ আয় করেছে। যদিও তারা এ ধরনের অভিযোগ বরাবরই নাকচ করে এসেছে। মাদকের বিরুদ্ধে অতীতে তাদের অবস্থান নিয়েও উচ্চ-বাচ্য করে তারা।

আফগানিস্তানে মার্কিন সেনা অবস্থানের আগে ২০০০-০১ সালে ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় দেশে আফিম উৎপাদন নিষিদ্ধ করেছিল তালেবান। কিন্তু পরে রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে বিতাড়িত হয়ে টিকে থাকার জন্য এর ওপরই অনেকাংশে নির্ভর করতে হয়েছে তাদের।

তালেবান রাজত্বে মাদকাসক্তদের দিনকাল
আবিসিনা মেডিক্যাল হাসপাতালে নেয়ার পর মাথা কামানো হচ্ছে এক মাদকাসক্তের

সেদিনের সেই সন্ধ্যায় গুজারগাহর সেই সেতুর নিচ থেকে অন্তত দেড়শ মাদকাসক্তকে আটক করেছিল তালেবানরা। পরে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় কাবুলে অবস্থিত মাদকাসক্তি চিকিৎসা কেন্দ্র আবিসিনা মেডিক্যাল হাসপাতালে। ২০০৩ সালে মার্কিন সেনারা এই ভবনটি নির্মাণ করেছিল। এখানেই ছিল তাদের আলোচিত ক্যাম্প ‘ফনিস্ক’। পরে ২০১৬ সালে মার্কিন সেনারাই এটিকে মাদক চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে। বর্তমানে এখানে একসঙ্গে ১ হাজার মাদকাসক্তের চিকিৎসা করা সম্ভব।

আবিসিনা মেডিক্যাল সেন্টারে নিয়ে যাওয়ার পর সেদিন প্রথমেই সব মাদকাসক্তের মাথা কামানো হয়। পরে গোসল করিয়ে রোগী হিসেবে তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

হাসপাতালটিতে বর্তমানে ৭০০ মাদকাসক্ত রয়েছেন। তাদের মধ্যে এমন অনেকেই আছেন পরিবারের সদস্যরা যার খোঁজ জানেনা দীর্ঘদিন।

এমনই এক মাদকাসক্তের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন তার মা সিতারা। ফরাসি সংবাদ সংস্থা এপি’র একটি ভিডিও চিত্রে দেখা যায়- ২১ বছর বয়সী মাদকাসক্ত ছেলেকে ফিরে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন সিতারা। ছেলেকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে কেঁদে তিনি বলছিলেন, ‘আমার জীবনে আমার ছেলেই সব।’

তালেবান রাজত্বে মাদকাসক্তদের দিনকাল
পুনর্বাসন কেন্দ্রে মাদকাসক্ত ছেলের সামনে সিতারা

আরও পড়ুন:
আবারও জাতিসংঘে প্রবেশাধিকার চাইল তালেবান
মেয়েদের স্কুল খোলার দাবিতে কাবুলে নারীদের মিছিল
নারীশিক্ষা: পশ্চাদমুখী তালেবান নিয়ে খুবই হতাশ কাতার
তৃণমূল পর্যায়ে দল গোছাচ্ছে তালেবান
তালেবানের ওপর নিষেধাজ্ঞায় বিল, আছে পাকিস্তান প্রসঙ্গ

শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচলের জন্য প্রস্তুত কাবুল বিমানবন্দর

আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচলের জন্য প্রস্তুত কাবুল বিমানবন্দর

কাবুল বিমানবন্দর। ফাইল ছবি

কাবুলে বিমানের টিকিটের দাম আকাশছোঁয়া বলে অভিযোগ করেছেন ইরান ও পাকিস্তানের ভিসাপ্রাপ্ত অর্ধশতাধিক আফগান নাগরিক। আফগানিস্তানের পর্যটনবিষয়ক প্রতিষ্ঠানের একটি ইউনিয়নের প্রধান মাসুদ বিনা বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের টিকিটের দাম বেড়েছে। পাকিস্তানের টিকিটের দাম যেখানে আগে ছিল দেড় শ থেকে দুই শ ডলার, সেখানে এখন দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ শ ডলারে।’

পুরোদমে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচলের জন্য কাবুল বিমানবন্দর প্রস্তুত বলে জানিয়েছে আফগানিস্তানের বেসামরিক বিমান কর্তৃপক্ষ। বিদ্যমান সামান্য কিছু কারিগরি ত্রুটিও শিগগিরই ঠিক করে ফেলা যাবে বলেও জানিয়েছে প্রশাসন।

আফগানিস্তানের বেসামরিক বিমান কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাঈম সালেহি শনিবার এক ঘোষণায় জানান, বিমান চলাচল শুরু করার বিষয়ে প্রতিবেশী দেশ ও বিশ্ব সম্প্রদায়কে অবহিত করা হয়েছে।

সালেহি বলেন, ‘কারিগরি দিক থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচলে আর কোনো বাধা নেই। প্রতিবেশী দেশগুলোর জবাবের অপেক্ষায় আছি আমরা। কাবুল থেকে তারা যাত্রী আনানেয়া শুরু করবে কি না, সে সিদ্ধান্ত তারা জানাবে। আপাতত অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চালু রয়েছে।’

টোলো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মাস থেকে কাবুলের হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে এখনও আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ওঠানামা শুরু করার অপেক্ষায় কর্তৃপক্ষ। বিমানবন্দরের কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক করতে জোরেসোরে কাজ চলছে।

গত কিছুদিনে বিমানবন্দরটি থেকে কয়েকটি চার্টার ফ্লাইট কাতার, পাকিস্তান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে পৌঁছেছে। মূলত আফগানসহ কয়েক দেশের নাগরিকদের তালেবানশাসিত আফগানিস্তান থেকে উদ্ধার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ওই ফ্লাইটগুলো কাবুল ছেড়ে যায়।

এদিকে, কাবুলে বিমানের টিকিটের দাম আকাশছোঁয়া বলে অভিযোগ করেছেন ইরান ও পাকিস্তানের ভিসাপ্রাপ্ত অর্ধশতাধিক আফগান নাগরিক।

এক বাসিন্দা বলেন, ‘মানুষ পাসপোর্ট আর ভিসা পেয়ে গেছে। কিন্তু টিকিট নেই। ভাগ্যক্রমে টিকিট পেয়ে গেলেও তার দাম অসম্ভব বেশি।’

কাবুলভিত্তিক কয়েকটি পর্যটন প্রতিষ্ঠানের মালিকরাও বিমান টিকিটের আকাশছোঁয়া দামের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আফগানিস্তানের পর্যটনবিষয়ক প্রতিষ্ঠানের একটি ইউনিয়নের প্রধান মাসুদ বিনা বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের টিকিটের দাম বেড়েছে। পাকিস্তানের টিকিটের দাম যেখানে আগে ছিল দেড় শ থেকে দুই শ ডলার, সেখানে এখন দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ শ ডলারে।’

আফগান বেসামরিক বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কাতার, পাকিস্তান আর সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আফগানিস্তানে পাঠানো সহায়তা নিয়ে এ পর্যন্ত ১০টির বেশি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট কাবুল বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে।

আরও পড়ুন:
আবারও জাতিসংঘে প্রবেশাধিকার চাইল তালেবান
মেয়েদের স্কুল খোলার দাবিতে কাবুলে নারীদের মিছিল
নারীশিক্ষা: পশ্চাদমুখী তালেবান নিয়ে খুবই হতাশ কাতার
তৃণমূল পর্যায়ে দল গোছাচ্ছে তালেবান
তালেবানের ওপর নিষেধাজ্ঞায় বিল, আছে পাকিস্তান প্রসঙ্গ

শেয়ার করুন

মেয়েকে বাঁচাতে ছেলেকে বিক্রি

মেয়েকে বাঁচাতে ছেলেকে বিক্রি

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের বিভিন্ন অঞ্চলে তাঁবুতে ঘর বেঁধেছে লাখো শরণার্থী। ছবি: টোলো নিউজ

গত বছর থেকে লাইলুমার স্বামী নিখোঁজ। তিনি বলেন, ‘ছেলেকে বিক্রি করা ছাড়া কোনো উপায় ছিল না আমার। কেউ শখ করে নিজের সন্তানকে বিক্রি করতে চায় না।’

আফগানিস্তানে অভ্যন্তরীণ শরণার্থী এক নারী নিজের ১৩ বছর বয়সী অসুস্থ মেয়ের প্রাণ বাঁচাতে ছেলেকে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন।

টোলো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, রোগাক্রান্ত মেয়ের চিকিৎসার খরচ জোগাড়ে এ ছাড়া উপায় ছিল না ওই মায়ের।

লাইলুমা নামের ওই নারী রাজধানী কাবুলে শরণার্থী হিসেবে বাস করছেন। বাঘলান প্রদেশে ভিটেমাটি ছেড়ে দুই সন্তানকে নিয়ে কাবুলের সড়কে তাঁবুতে ঘর বেঁধে থাকছিলেন তিনি।

লাইলুমা জানান, দেড় বছর বয়সী ছেলেকে ৩০ হাজার আফগানি মুদ্রায় বিক্রি করেছেন তিনি, যা ৩৩৫ ডলারের সমপরিমাণ।

গত বছর থেকে লাইলুমার স্বামী নিখোঁজ। তিনি বলেন, ‘ছেলেকে বিক্রি করা ছাড়া কোনো উপায় ছিল না আমার। কেউ শখ করে নিজের সন্তানকে বিক্রি করতে চায় না।’

এদিকে শীতের মৌসুম চলে আসায় কাবুলে শরণার্থী হিসেবে বসবাসরত মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে বলে জানিয়েছে অনেক গৃহহীন পরিবার। রাজধানীর বিভিন্ন অঞ্চলে তাঁবুতে বাস করছে তারা। আবহাওয়া শীতল হতে থাকায় অসুস্থ হয়ে পড়ছে শিশু ও বয়স্করা।

কুন্দুজ থেকে কাবুলে আশ্রয় নেয়া নারী মারিয়া বলেন, ‘একটু বৃষ্টি হলেই সব ভিজে যায়। সন্তানরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। আমরাও রাতে ঘুমাতে পারি না।’

শরণার্থীবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে কোনো ধরনের সাহায্য পাচ্ছে না বলে জানিয়েছে আশ্রয়হীন পরিবারগুলো।

তাখার প্রদেশ থেকে কাবুলে আশ্রয় নেয়া আরেক নারী আয়েশা বলেন, ‘শরণার্থী মন্ত্রণালয়ের কর্মীরা এখানে এসেছিলেন। জরিপ করেছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা কোনো ধরনের সহায়তা পাইনি। এমন চলতে থাকলে এরপর না খেতে পেয়ে মরব আমরা।’

১৫ আগস্ট তালেবান কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয়। তার আগে তালেবান আফগানিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চল দখল করতে শুরু করলেও কাবুল নিয়ন্ত্রণ করছিল সাবেক সরকার। সে সময় তালেবানের হাত থেকে বাঁচতে দেশের প্রায় সব প্রদেশ থেকে রাজধানীতে ভিড় করে লাখো আফগান।

আরও পড়ুন:
আবারও জাতিসংঘে প্রবেশাধিকার চাইল তালেবান
মেয়েদের স্কুল খোলার দাবিতে কাবুলে নারীদের মিছিল
নারীশিক্ষা: পশ্চাদমুখী তালেবান নিয়ে খুবই হতাশ কাতার
তৃণমূল পর্যায়ে দল গোছাচ্ছে তালেবান
তালেবানের ওপর নিষেধাজ্ঞায় বিল, আছে পাকিস্তান প্রসঙ্গ

শেয়ার করুন

আবারও জাতিসংঘে প্রবেশাধিকার চাইল তালেবান

আবারও জাতিসংঘে প্রবেশাধিকার চাইল তালেবান

তালেবান নেতা সুহাইল শাহীন। ছবি: টোলো নিউজ

এর আগে আফগানিস্তানের আসন তালেবান শাসকগোষ্ঠীর প্রতিনিধিকে দেয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে জাতিসংঘ। একই সঙ্গে জাতিসংঘে আফগানিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে ক্ষমতাচ্যুত সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত গোলাম মোহাম্মদ ইশাকজাইয়ের মেয়াদও বাড়িয়েছে জাতিসংঘ।

আফগানিস্তানের প্রতিনিধি হিসেবে জাতিসংঘের কাছে স্বীকৃতি চাইলেন তালেবান সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত সুহাইল শাহীন।

টোলো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে বৃহস্পতিবার একটি বিবৃতি দিয়েছেন শাহীন।

তিনি জানান, সাবেক আফগান সরকারের পতনের পরও সেই সরকারের নিয়োগ দেয়া প্রতিনিধি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আফগানিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন না।

শাহীন বলেন, ‘কাবুল প্রশাসনের আর কোনো অস্তিত্ব নেই। সরকার হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনায় যা কিছু দরকার, সেগুলোর কিছুই নেই তাদের। বরং ইসলামিক আমিরাত হিসেবে যাত্রা শুরু করা আফগানিস্তানের নতুন সরকারে সেসব কিছুই আছে, যা একটি সরকারে থাকা দরকার।

‘তাই তালেবান সরকারই আফগান জনগণের একমাত্র এবং উপযুক্ত প্রতিনিধি।

জাতিসংঘে আফগানিস্তানের আসনের পদমর্যাদার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক। তারা মনে করেন, এ ধরনের অনিশ্চয়তা আফগানিস্তানের জন্য আরও নেতিবাচক পরিস্থিতি বয়ে আনবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক সেলিম কাকার বলেন, ‘সাবেক আফগান প্রেসিডেন্ট দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন এবং আফগানিস্তান প্রজাতন্ত্র বলে কোনো অস্তিত্ব নেই। তাই এখন জাতিসংঘে ক্ষমতাচ্যুত আফগান সরকারের প্রতিনিধি গোলাম মোহাম্মদ ইশাকজাইয়ের উপস্থিতি অর্থহীন ও অকার্যকর।’

এর আগে আফগানিস্তানের আসন তালেবান শাসকগোষ্ঠীর প্রতিনিধিকে দেয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে জাতিসংঘ।

একই সঙ্গে জাতিসংঘে আফগানিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে গোলাম মোহাম্মদ ইশাকজাইয়ের মেয়াদও বাড়িয়েছে জাতিসংঘ।

কিন্তু তাও সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে কথা বলতে দেয়া হয়নি ইশাকজাইকে। এর কোনো কারণও জানানো হয়নি।

গত ১৫ আগস্ট আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান, প্রজাতন্ত্র বাতিল করে দেশটিকে ঘোষণা করে ইসলামিক আমিরাত হিসেবে। কিন্তু এখনও আফগানিস্তানের সরকার হিসেবে গোষ্ঠীটিকে স্বীকৃতি দেয়নি বিশ্বের কোনো দেশ। উল্টো আফগানিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থগিত করেছে অনেক দেশ।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ হামিদ ওবাইদি বলেন, ‘তালেবানকে আগে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী ও পারস্পরিক স্বার্থ বুঝতে হবে।’

১৯৪৬ সালের ১৯ নভেম্বর আফগানিস্তানকে সদস্য হিসেবে গ্রহণ করে জাতিসংঘ।

আরও পড়ুন:
আবারও জাতিসংঘে প্রবেশাধিকার চাইল তালেবান
মেয়েদের স্কুল খোলার দাবিতে কাবুলে নারীদের মিছিল
নারীশিক্ষা: পশ্চাদমুখী তালেবান নিয়ে খুবই হতাশ কাতার
তৃণমূল পর্যায়ে দল গোছাচ্ছে তালেবান
তালেবানের ওপর নিষেধাজ্ঞায় বিল, আছে পাকিস্তান প্রসঙ্গ

শেয়ার করুন