১৬৫ দেশের কাছে চীনের পাওনা ৩৮,৫০০ কোটি ডলার

১৬৫ দেশের কাছে চীনের পাওনা ৩৮,৫০০ কোটি ডলার

চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের অংশ হিসেবে লাওসে নির্মাণাধীন রেলওয়ে প্রকল্প। ছবি: দ্য গার্ডিয়ান

ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হতে পারে এমন দেশগুলোকে ঋণদান অব্যাহত রাখলেও পরিশোধের সময় কমিয়ে সুদের হার কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে বেইজিং। যেমন অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন জোটের (ওইসিডি) কাছ থেকে ঋণের জন্য এক দশমিক এক শতাংশ সুদের হার; অথচ চীনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে তিন দশমিক সাত-ছয় শতাংশ সুদ গুণতে হচ্ছে পাকিস্তানকে।

চীনের কাছে বিশ্বের ১৬৫টি দেশের দেনা কমপক্ষে ৩৮ হাজার ৫০০ কোটি ডলার। উচ্চাভিলাষী ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (বিআরআই) প্রকল্পের মাধ্যমে চীনের উন্নয়নমূলক বিনিয়োগের নামে বিশাল অঙ্কের ঋণে জড়িয়েছে দেশগুলো।

বার্তা সংস্থা এএফপির বরাত দিয়ে দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব ঋণের অনেকটাই বিশ্ব ব্যাংকের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছ থেকে পদ্ধতিগতভাবে গোপন করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা এইডডেটার চার বছরের গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে এসব তথ্য।

জানা গেছে, বিশেষ উদ্দেশ্যে গৃহীত ও আধা-বেসরকারি ঋণ হিসেবে উল্লেখের মাধ্যমে দেনার এ বোঝা এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে সরকারি হিসাবের খতিয়ানে। অথচ দেশের অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণে দায়িত্বরত গবেষণা প্রতিষ্ঠান, ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি বা আন্তঃসরকার সংস্থাগুলোর কাছে পৌঁছায়নি এসব অর্থ।

গবেষণায় দেখা গেছে, চীনের কাছে স্বল্প থেকে মধ্য আয়ের ৪২টি দেশের ঋণের পরিমাণ তাদের বার্ষিক প্রবৃদ্ধির ১০ শতাংশের বেশি। এসব দেশের তালিকায় লাওস, পাপুয়া নিউ গিনি, মালদ্বীপ, ব্রুনেই, ক্যাম্বোডিয়া ও মিয়ানমার অন্যতম।

এইডডেটার মতে, লাওসের ঋণের উল্লেখযোগ্য অংশ ‘গোপন’। ৫৯০ কোটি ডলারের চীন-লাওস রেলপথ প্রকল্পের পুরোটাই অলিখিত ঋণ, যা লাওসের জিডিপির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের বহুল আলোচিত আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ কর্মসূচির অধীনে ২০১৩ সালে যাত্রা শুরু করে বিআরআই প্রকল্প। বিশ্ববাণিজ্যে নতুন পথ উন্মুক্ত করতে উচ্চাভিলাষী এ প্রকল্প, যার অন্যতম অংশ নিউ সিল্ক রোড। এর মাধ্যমে এশিয়া ও ইউরোপকে সড়ক, রেল ও নৌপথে যুক্ত হবে এবং বিশ্ব নেতৃত্বে চীনের প্রভাব জোরদার হবে বলে আশাবাদী বেইজিং।

বিশাল বিশাল অবকাঠামোগত প্রকল্পের জন্য চীনের কাছ থেকে ঋণ পেতে নাম লিখিয়েছে স্বল্প থেকে মধ্য আয়ের শতাধিক দেশ।

তবে এখন চীনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতিক সাত দেশের জোট জি-সেভেন গৃহীত ‘উন্নততর বিশ্ব পুনর্গঠন’ শীর্ষক অবকাঠামোগত কর্মসূচি।

এইডডেটার গবেষণায় বিআরআইয়ের আওতাভুক্ত ১৩ হাজারের বেশি প্রকল্প পরীক্ষা করা হয়েছে। ২০০০ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বিশ্বের ১৬৫টি দেশে এসব প্রকল্পের পেছনে চীনের ব্যয় ৮৪ হাজার ৩০০ কোটি ডলার।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিআরআইপূর্ববর্তী সময়ে চীনের অন্য দেশকে ঋণদান কর্মসূচি ছিল দুই দেশের সরকার মধ্যে লেনদেনভিত্তিক। বিআরআইপরবর্তী সময়ে নাটকীয়ভাবে অবস্থান পাল্টেছে চীন। বিভিন্ন দেশকে বর্তমানে চীনের দেয়া ঋণের প্রায় ৭০ শতাংশ রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংক, যৌথ উদ্যোগ, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিশেষ উদ্দেশ্যে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছে।

এর ফলে এসব ঋণের বড় অংশ অপ্রকাশিত থেকে গেছে বা সরকারি হিসাব থেকে বাদ পড়েছে। কারণ প্রাথমিক ঋণগ্রহীতারা এখন আর কেন্দ্রীয় সরকারের অধিভুক্ত নয় এবং তাদের ওপর আগের মতো সরকারকে সব বিষয়ে অবহিত করার বাধ্যবাধকতাও নেই।

বিআইআইয়ের আওতায় বিভিন্ন দেশের সরকারি হিসাব থেকে বাদ পড়া এমন ঋণের পরিমাণ ৩৮ হাজার ৫০০ কোটি ডলার।

বিশ্ব ব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রতিষ্ঠানগুলো এতদিন ভাসাভাসাভাবে এসব সমস্যার কথা জানত। তবে এইডডেটার প্রতিবেদন প্রকাশের পর সমস্যার গভীরতা দৃশ্যমান হয়েছে।

বিতর্ক বাড়তে থাকায় সম্প্রতি কিছু দেশ প্রকল্প নিয়ে নতুন করে আলোচনা এমনকি প্রকল্প থেকে বেরিয়ে যেতেও চেয়েছে। দেশগুলো নিজেদের গুটিয়ে নেয়ায় গত কয়েক বছরে বিআরআই প্রকল্পের আওতায় ঋণ দান কিছুটা কমেছে। কিন্তু আগের ঋণগুলোর বোঝা থেকে গেছে।

এ অবস্থায় ২০১৯ সালে বিআরআইয়ে স্বচ্ছতা ও আর্থিক স্থিরতা বৃদ্ধির আশ্বাস দেন শি চিনপিং। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিরও ঘোষণা দেন তিনি।

বিআরআইয়ে শতাধিক দেশ যুক্ত হলেও স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ ছিলই। উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোতে বড় অঙ্কের ঋণদান কিছু অঞ্চলে ‘ঋণভিত্তিক কূটনীতির’ সূচনা ঘটাতে পারে বলেও সতর্ক করছিলেন বিশেষজ্ঞরা।

এ ধরনের কূটনীতির ফলে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে দেশগুলো অনেক গুরুত্বপূর্ণ সম্পদের মালিকানা বা নিয়ন্ত্রণ বেইজিংয়ের হাতে ছেড়ে দিতে বাধ্য হবে।

অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক লোয়ি ইনস্টিটিউটের গবেষক পিটার চাই বলেন, ‘ঋণ পরিশোধ করা অনেক দেশের জন্যই কঠিন হয়ে যাবে, বিশেষ করে যেসব দেশে আইনের শাসনের সংকট কিংবা অস্থিরতা রয়েছে।’

এ অবস্থায় ঋণের অর্থ ওঠাতে কিছুটা কৌশলী হয়েছে চীন।

এইডডেটার অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হতে পারে এমন দেশগুলোকে ঋণদান অব্যাহত রাখলেও পরিশোধের সময় কমিয়ে সুদের হার কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে বেইজিং।

যেমন অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন জোটের (ওইসিডি) কাছ থেকে ঋণের জন্য এক দশমিক এক শতাংশ সুদের হার; অথচ চীনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে তিন দশমিক সাত-ছয় শতাংশ সুদ গুণতে হচ্ছে পাকিস্তানকে।

আরও পড়ুন:
বিদেশে কয়লাভিত্তিক প্রকল্পে বিনিয়োগ বন্ধ করছে চীন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বিনিয়োগ বাড়াতে নতুন কৌশল চায় বিডা

বিনিয়োগ বাড়াতে নতুন কৌশল চায় বিডা

বিডার কনফারেন্স হলে ‘পোস্ট কোভিড ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন স্ট্র্যাটেজি’ শিরোনামে সেমিনারে আলোচকরা। ছবি: সংগৃহীত

বিডা’র নির্বাহী চেয়াম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘কোভিড পরবর্তী সময়ে পৃথিবীর বিনিয়োগ চিত্র অনেক বদলে গেছে। তাই সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় এই সময় দেশি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে আমাদের নতুন কৌশল নিতে হবে। সেগুলো বাস্তবায়নও করতে হবে।’

বিনিয়োগ চিত্র অনেকটা বদলে গেছে করোনা মহামারিরতে। সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে নতুন কৌশল প্রণয়নে গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)।

রাজধানীতে বিডার কনফারেন্স হলে সোমবার ‘পোস্ট কোভিড ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন স্ট্র্যাটেজি’ শিরোনামে এক সেমিনার হয়।

এতে প্রধান অতিথি বিডা’র নির্বাহী চেয়াম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘কোভিডের কারণে বিশ্বব্যাপী অর্থনীতি ও বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়েছে। তবে লকডাউনের সময়ে ওয়ানস্টপ সার্ভিসের (ওএসএস) মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের পাশে ছিল বিডা। সার্বক্ষণিক সেবা দিয়ে গেছে। এ সময়ে নতুন নতুন সেবা যোগ হয়েছে, যেন বিনোয়গকারীদের অসুবিধা না হয়।

‘কোভিড পরবর্তী সময়ে পৃথিবীর বিনিয়োগ চিত্র অনেক বদলে গেছে। সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় এই সময় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে আমাদের নতুন কৌশল নিতে হবে। সেগুলো বাস্তবায়নও করতে হবে।’

বিডা’র নির্বাহী সদস্য মোহসিনা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ ইউসুফ হারুন ও জাইকার ঢাকা প্রতিনিধি ইউহো হায়াকাওয়া। সেমিনারের বিডার মহাপরিচালক মো. শাহ্‌ মাহবুব, পরিচালক মো. মুজিব-উল ফেরদৌস উপস্থিত ছিলেন।

সেমিনারে কারিগরি সহায়তা দেয়া জাইকার প্রজেক্ট লিডার তানাকা করোনা পরবর্তী বিনিয়োগ প্রচারের নানা কৌশল তুলে ধরেন। বিশ্বব্যাপী অর্থনীতি ও বিনিয়োগে করোনার প্রভাব ও বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ ইউসুফ হারুন বলেন, ‘২০২০ সালে বিশ্বব্যাপী সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ ৪২ শতাংশ অবনমন হয়েছিল। তবে কোভিড পরবর্তী সময়ে বিদেশি বিনিয়োগ দ্রুত বাড়বে। তাই আমাদের বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রেগুলো চিহ্নিত করে এখন থেকেই প্রস্তুত হতে হবে।’

জাইকার প্রতিনিধি ইউহো হায়াকাওয়া বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে বিদ্যমান ইস্যুগুলোকে আরও সহজ করার তাগিদ দেন।

আরও পড়ুন:
বিদেশে কয়লাভিত্তিক প্রকল্পে বিনিয়োগ বন্ধ করছে চীন

শেয়ার করুন

পর্যটনে প্রণোদনা ঋণ, আবেদন যেভাবে

পর্যটনে প্রণোদনা ঋণ, আবেদন যেভাবে

কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে হাওরে গড়ে ওঠা দৃষ্টিনন্দন রিসোর্ট। ছবি: নিউজবাংলা

প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ঋণের বিপরীতে পুনঃঅর্থায়ন গ্রহণের জন্য ১ নভেম্বর থেকে আবেদন করতে পারবে ব্যাংকগুলো। আবেদন করা যাবে ২০২২ সালের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত।  

করোনাভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্ত পর্যটন শিল্প। এ শিল্পে চলতি মূলধনের জোগান দিতে ১ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ তহবিল থেকে পর্যটন খাতে নিয়োজিত শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন দিতে ৪ শতাংশ সুদে উদ্যোক্তাদের এক বছর মেয়াদি ঋণ দেয়া হবে।

ঋণের বিপরীতে ৫০ শতাংশ তহবিল বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে জোগান দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাকি ৫০ শতাংশ অর্থ ব্যাংক তাদের নিজস্ব তহবিল থেকে দেবে।

প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ঋণের বিপরীতে পুনঃঅর্থায়ন গ্রহণের জন্য ১ নভেম্বর থেকে আবেদন করতে পারবে ব্যাংকগুলো। আবেদন করা যাবে ২০২২ সালের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত।

সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে একটি সার্কুলার জারি করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়।

সার্কুলারে বলা হয়, ‘ঋণ সুবিধা ভোগকারী পর্যটন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে (হোটেল, মোটেল, থিম পার্ক) বর্তমানে কর্মরত কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধের লক্ষ্যে ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর ভিত্তিতে বিদ্যমান ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল সুবিধা বাবদ মঞ্জুর করা বা প্রদত্ত সীমার সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ এবং এরূপ ক্ষতিগ্রস্ত যে সব প্রতিষ্ঠান বর্তমানে ব্যাংক হতে ঋণ সুবিধা ভোগ করছে না সেসব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে আগ্রহী ব্যাংকের বিদ্যমান নীতিমালার আওতায় ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল সুবিধা বাবদ সম্ভাব্য ঋণ প্রাপ্যতার সীমার সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ ধরে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃক বিতরণ করা ঋণের বিপরীতে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা গ্রহণ করা যাবে।’

পুনঃঅর্থায়নের জন্য ১ নভেম্বর থেকে আগামী বছরের ৩১ অক্টোবর সময়ের মধ্যে অফ-সাইট সুপারভিশন বরাবর আবেদন করতে হবে।

ইচ্ছুক ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অফ-সাইট সুপারভিশন বিভাগের সঙ্গে একটি অংশগ্রহণমূলক চুক্তি স্বাক্ষর করতে হবে।

ঋণের বিপরীতে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় চাওয়া হয়েছে মর্মে প্রতিটি আবেদনের সঙ্গে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্তৃক স্বাক্ষরিত প্রত্যয়ন পত্র দাখিল করতে হবে।

প্রতিটি গ্রাহকের (পুরাতন/নতুন) ঋণ সীমা (বিদ্যমান ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল সুবিধার অথবা প্রাপ্যতার পরিমাণের সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ) নির্ধারণ সংক্রান্ত হিসাবায়ন নির্ধারিত ছকে আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে। এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের চাহিদা মোতাবেক সংরক্ষণ করতে হবে।

শর্তসাপেক্ষে এককালীন বা কিস্তিতে ঋণ নেয়া যাবে না।

বকেয়া বেতন ভাতা পরিশোধের লক্ষ্যে এককালীন অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্র

যে তারিখ বা মাস হতে কর্মচারীদের বেতন বকেয়া আছে তার অব্যবহিত পূর্বের ৩ মাসের বেতনের গড় পরিমাণকে ভিত্তি ধরে হিসাব সম্পন্ন করতে হবে।

কর্মরত-কর্মচারীদের প্রকৃত সংখ্যা অনুসারে পরিশোধযোগ্য বেতনের পরিমাণ হিসাব করতে হবে।

প্রতি মাসের জন্য হিসাবায়িত বেতনের পরিমাণ প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় নির্ধারিত পরিমাণ (সর্বোচ্চ ৩০%) পর্যন্ত এককালীন বিতরণ করা যাবে। বিতরণকৃত অর্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সরবরাহ তালিকা অনুসারে সরাসরি সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের ব্যাংক হিসাব আকলন করতে হবে। অর্থ প্রেরণের প্রমাণপত্র সংশ্লিষ্ট ব্যাংক সংরক্ষণ করবে।

এসব প্রমাণপত্র বাংলাদেশ ব্যাংকের চাহিদা মোতাবেক প্রদর্শন করতে হবে বা নির্দেশিত হলে বাংলাদেশ ব্যাংকে দাখিল করতে হবে।

গ্রাহক ঋণ গ্রহণের এক বছরের মধ্যে যে কোনো সময় সম্পূর্ণ বা আংশিক আসল পরিশোধ করলে পরিশোধিত অর্থ ফেরত প্রদানের ১০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে হবে।

কিস্তিতে অর্থ বরাদ্দ যেভাবে

সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আবেদনের ভিত্তিতে ব্যাংক প্রকৃত চাহিদার পরিমাণ হিসাবায়নপূর্বক ঋণ বিতরণ করবে এবং বিতরণ করা অর্থের সদ্ব্যবহার যাচাই করে বাংলাদেশ ব্যাংক হতে পুনঃঅর্থায়ন গ্রহণের জন্য আবেদন করবে।

প্রণোদনা প্যাকেজের সময়ের আওতায় প্রতি মাসের বেতন দেয়ার ক্ষেত্রে ঋণ পরিশোধের জন্য গ্রাহক ঋণ গ্রহণের তারিখ হতে এক বছর সময় পাবেন।

ঋণের মোট সুদের হার হবে ৮ শতাংশ। এর মধ্যে উদ্যোক্তাকে দিতে হবে ৪ শতাংশ। সরকার ভর্তুকি হিসেবে দেবে ৪ শতাংশ। প্রণোদনার আওতায় উদ্যোক্তারা এক বছর এ ঋণ সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।

আবেদনে লাগবে যেসব দলিলা

প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় বিতরণ করা ঋণের পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা চাওয়া হয়েছে মর্মে ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্তৃক স্বাক্ষর করা প্রত্যয়ন পত্র প্রয়োজন হবে।

গ্রাহকের (পুরাতন/নতুন) অনুকূলে ঋণের সীমা নির্ধারণ সংক্রান্ত হিসাবায়ন ছক।

ঋণ প্রদানের মঞ্জুরিপত্র।

গ্রাহকের ঋণ বা বিনিয়োগ হিসাব বিবরণী।

প্রাপ্যতা অনুযায়ী সম্পূর্ণ আসলসহ সম্ভাব্য সুদের পরিমাণ।

এ সংক্রান্ত তথ্য প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের অফ-সাইট সুপারভিশন বিভাগে জমা দিতে হবে।

আরও পড়ুন:
বিদেশে কয়লাভিত্তিক প্রকল্পে বিনিয়োগ বন্ধ করছে চীন

শেয়ার করুন

এনসিসি ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎ, ৩ জনের নামে পরোয়ানা

এনসিসি ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎ, ৩ জনের নামে পরোয়ানা

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালে ২৫ কোটি ১৮ লাখ ৭৬ হাজার ৪৭৩ টাকার খেলাপি ঋণ আদায়ে আদালতে রুবাইয়া ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজের বিরুদ্ধে মামলা করে এনসিসি ব্যাংক লিমিটেড খাতুনগঞ্জ শাখা।

এনসিসি ব্যাংক লিমিটেডের চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ শাখার ২৫ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় রুবাইয়া ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজের তিন পরিচালকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।

চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালতের বিচারক মুজাহিদুর রহমান সোমবার দুপুরে এ আদেশ দেন।

যাদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা দেয়া হয়েছে তারা হলেন হারুনুর রশিদ, আনজুমান আরা বেগম ও হাসনাইন হারুন।

চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রেজাউল করিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘২৫ কোটি ১৮ লাখ ৭৬ হাজার ৪৭৩ টাকার ঋণখেলাপি মামলায় গত ১৭ অক্টোবর রুবাইয়া ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজের তিন পরিচালকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আবেদন করে এনসিসি ব্যাংক লিমিটেড খাতুনগঞ্জ শাখা।

‘আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত শুনানি শেষে তাদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেছে।’

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালে ২৫ কোটি ১৮ লাখ ৭৬ হাজার ৪৭৩ টাকার খেলাপি ঋণ আদায়ে আদালতে রুবাইয়া ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজের বিরুদ্ধে মামলা করে এনসিসি ব্যাংক লিমিটেড খাতুনগঞ্জ শাখা।

চট্টগ্রামের এইচআর গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হারুনুর রশিদ। তার গ্রুপের অধীনে প্রায় ১৭টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে রুবাইয়া ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ একটি।

আরও পড়ুন:
বিদেশে কয়লাভিত্তিক প্রকল্পে বিনিয়োগ বন্ধ করছে চীন

শেয়ার করুন

প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নে জাপানের ৩৯ কোটি টাকা অনুদান

প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নে জাপানের ৩৯ কোটি টাকা অনুদান

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন ও জাইকার ঢাকা প্রতিনিধি ইউহো হায়াকাওয়া অনুদানের চুক্তিতে সই করেন। জাপানের পক্ষে ঢাকায় দেশটির রাষ্ট্রদূত ইটো নাওকি এক্সচেঞ্জ অব নোটে সই করেন। ছবি: নিউজবাংলা

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ২০১৮-২০২৩ মেয়াদে বাস্তবায়িত হচ্ছে চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪)। কর্মসূচির আওতায় জাপান সরকারের এ সব অনুদান প্রাথমিকের পাঠ্যক্রম সংশোধন, পাঠ্যপুস্তক উন্নয়ন, শিক্ষকদের ধারাবাহিক পেশাগত উন্নয়ন এবং এবং বাজেট ব্যবস্থাপনা খাতে ব্যবহার করা হবে। প্রথম দুই বছর জাপান এ প্রকল্পে ৭৫ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছিল।

প্রাথমিক পর্যায়ের পাঠ্যক্রম সংশোধন, পাঠ্যপুস্তক উন্নয়ন, শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নে ৩৯ কোটি টাকা অনুদান দিচ্ছে জাপান।

‘চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪)’ শীর্ষক প্রকল্পে তৃতীয় বছরের জন্য ৫০০ মিলিয়ন জাপানি ইয়েন অনুদান দেবে দেশটি। যা বাংলাদেশে মুদ্রায় প্রায় ৩৯ কোটি টাকা।

এই বিষয়ে সোমবার দুই দেশের সরকারি পর্যায়ে এক্সচেঞ্জ অব নোট এবং অনুদান চুক্তিতে সই করেন। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন চুক্তিতে সই করেন। জাপানের পক্ষে ঢাকায় দেশটির রাষ্ট্রদূত ইটো নাওকি এক্সচেঞ্জ অব নোটে (দলিলাদি) সই করেন।

অনুদান চুক্তিতে সই করেন জাইকার ঢাকা প্রতিনিধি ইউহো হায়াকাওয়া।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ২০১৮-২০২৩ মেয়াদে বাস্তবায়িত হচ্ছে চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪)। কর্মসূচির আওতায় জাপান সরকারের এ সব অনুদান প্রাথমিকের পাঠ্যক্রম সংশোধন, পাঠ্যপুস্তক উন্নয়ন, শিক্ষকদের ধারাবাহিক পেশাগত উন্নয়ন এবং এবং বাজেট ব্যবস্থাপনা খাতে ব্যবহার করা হবে। প্রথম দুই বছর জাপান এ প্রকল্পে ৭৫ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছিল।

এর আগে জাপান সরকার ২০১১-২০১৮ মেয়াদে ‘তৃতীয় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৩)’ প্রকল্প বাস্তবায়নে ২৪৯০ মিলিয়ন জাপানি ইয়েন বা প্রায় ১৯৮ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছিল।

জাপান বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে আর্থিক সহায়তা প্রদানকারী একক বৃহত্তম দ্বিপাক্ষিক উন্নয়ন সহযোগী। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত দেশটি প্রায় ১৬ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলার ঋণ দিয়েছে।

আরও পড়ুন:
বিদেশে কয়লাভিত্তিক প্রকল্পে বিনিয়োগ বন্ধ করছে চীন

শেয়ার করুন

কৃষিতে ঋণ বাড়লেও আদায় কমেছে

কৃষিতে ঋণ বাড়লেও আদায় কমেছে

ক্ষেতে আলুর পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষক। ফাইল ছবি

চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ব্যাংকগুলো ৫ হাজার ২১০ কোটি টাকা কৃষিঋণ বিতরণ করেছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ দশমিক ২৩ শতাংশ বেশি, টাকার অংকে যার পরিমাণ ৫২৬ কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) কৃষিতে ব্যাংকগুলো বেশি ঋণ দিয়েছে। জুলাই ও আগস্টে ঋণ বিতরণ কম হলেও সেপ্টেম্বরে ঋণে গতি ফিরেছে। ফলে প্রথম ত্রৈমাসিকে কৃষি ও পল্লিঋণ বিতরণে প্রবৃদ্ধি ১১ শতাংশ।

তবে এ সময়ে ঋণ বিতরণ বাড়লেও ঋণ আদায় কমেছে। তিন মাসে আদায় হয়েছে ৫ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বরে আদায় হয়েছিল ৬ হাজার ২৭৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ আদায় কমেছে ৬৯১ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ চিত্র পাওয়া গেছে।

এই অর্থবছরে কৃষি খাতে ব্যাংকগুলোর ২৮ হাজার ৩৯১ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

২০২০-২১ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার ৯৭ শতাংশ ঋণ বিতরণ করে ব্যাংকগুলো। ওই অর্থবছরে কৃষি ও পল্লি খাতে ব্যাংকগুলোর ২৬ হাজার ২৯২ কোটি টাকার ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। অর্থবছর শেষে এ খাতে ঋণ বিতরণ হয় ২৫ হাজার ৫১১ কোটি টাকা।

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ব্যাংকগুলো ৫ হাজার ২১০ কোটি টাকা কৃষিঋণ বিতরণ করেছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ দশমিক ২৩ শতাংশ বেশি, টাকার অংকে যার পরিমাণ ৫২৬ কোটি টাকা।

গত অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে কৃষি ও পল্লিঋণ খাতে ব্যাংকগুলো ৪ হাজার ৬৮৪ কোটি টাকা বিতরণ করেছিল।

অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইতে ৯৪২ কোটি ও আগস্টে ১ হাজার ৭৩২ কোটি টাকা কৃষিঋণ বিতরণ হয়। কিন্তু সেপ্টেম্বরে কৃষি খাতে ২ হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ হওয়ায় তিন মাসে ব্যাংকগুলো বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার ১৮ দশমিক ৩৫ শতাংশ ঋণ দিয়েছে।

করোনাভাইরাসের বিপর্যয় কাটাতে গত বছর এপ্রিলে কৃষি খাতের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ তহবিল থেকে হর্টিকালচার, ফুল, ফল, মৎস্য, পোলট্রি, ডেইরি ও প্রাণিসম্পদ খাতে গত ৩০ জুন পর্যন্ত ৪ হাজার ২৯৫ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়।

করোনা পরিস্থিতি উন্নতি না হওয়ায় গত সেপ্টেম্বরে আরও ৩ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক বর্গাচাষিরা জামানত ছাড়াই ২ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। তহবিলের মেয়াদ হবে ২০২২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।

আরও পড়ুন:
বিদেশে কয়লাভিত্তিক প্রকল্পে বিনিয়োগ বন্ধ করছে চীন

শেয়ার করুন

ই-কমার্স নিয়ন্ত্রণে আইন নয়: পলক

ই-কমার্স নিয়ন্ত্রণে আইন নয়: পলক

ই-কমার্স খাতকে সুশৃঙ্খল করতে করণীয় নিয়ে বৈঠকে বক্তব্য দেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। ছবি: নিউজবাংলা

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘ই-কমার্স নীতিমালা সংশোধন হয়েছে। এখানে পরিধি, সংজ্ঞা এবং সার্বিক দিক নির্দেশনার সমন্বয়ের এমন একটি টাইমফ্রেমভিত্তিক স্মার্ট পলিসি তৈরি হয়েছে, যা দিয়ে ই-কমার্স খাত সুষ্ঠু পরিচালন সম্ভব।’

ই-কমার্স খাতের সুষ্ঠু পরিচালনায় সরকার আইন প্রণয়নের কথা ভাবছে, বিষয়টি নিয়ে একটি আইনি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এমন সময় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক জানান, ই-কমার্স নিয়ন্ত্রণে আইনের পক্ষপাতী নন তিনি। বিদ্যমান আইন, নীতিমালা ও বিধিমালাতেই খাতটিতে সৃষ্ট সমস্যার সমাধান সম্ভব।

মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত ই-কমার্সের সাম্প্রতিক সমস্যা বিষয়ক পর্যালোচনা সংক্রান্ত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এমন কথা জানান।

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি স্ট্রাটেজি ফার্স্ট, পলিসি সেকেন্ড এবং আইন হচ্ছে থার্ড।’

তিনি বলেন, ‘দেশে কোনো ইনোভেটিভ বা ক্রিয়েটিভ অথবা ডিজিটাল ইকোনমি গড়ে তুলতে গেলে প্রথমেই আইন নয়। প্রথমেই রেগুলেশন নয়, প্রথমেই বাধা নয়।’

পলক বলেন, ‘প্রথমে হবে কৌশলপত্র। তারপর একটি নীতিমালা, তারপর আইন। তবেই দেশটা একটি ডিজিটাল বেইজড ইকোনমির দিকে আগাবে।

‘সে কারণে আমরা প্রথমে ডিজিটাল পলিসি করেছিলাম, সেটি ২০১৮ সালের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুমোদন হয়। এখন ই-কমার্স নীতিমালা সংশোধন হয়েছে। এখানে পরিধি, সংজ্ঞা এবং সার্বিক দিক নির্দেশনার সমন্বয়ের এমন একটি টাইমফ্রেমভিত্তিক স্মার্ট পলিসি তৈরি হয়েছে, যা দিয়ে ই-কমার্স খাত সুষ্ঠু পরিচালন সম্ভব।’

নীতিমালায় এসক্রো সার্ভিস সিস্টেমের কথা বলা হয়েছে। স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর-এসওপির কথাও বলা আছে। মনিটরিংয়ের কথা বলা আছে। কার কী দায়িত্ব সেটাও বলা আছে বলে জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এটা ঠিক, একটা নীতিমালা এভাবে থাকলে হবে না। প্রয়োগ করতে হবে। সে কারণেই আমরা বসেছি। ক্রাইসিস সিচুয়েশনের মধ্যেই সলিউশন থাকে। সমস্যা তৈরি হয়েছে বলেই আমরা বসেছি; বাণিজ্যমন্ত্রী এখন সাহসিকতার সঙ্গে ফাইট করছেন।’

ইভ্যালি আমাজন হবে প্রতিমন্ত্রীর একসময়কার এমন মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ‘ইভ্যালি অ্যামাজন না হয়ে হয়তো এখন সমস্যায় আছে। কিন্তু চাল-ডালের প্রবৃদ্ধি অলরেডি ৩০০ ভাগ। শপ আপ এর প্রবৃদ্ধি কয়েক শ পার্সেন্ট।

‘ইভ্যালি, চালডাল ও শপঅ্যাপ -যদি এই তিনটাকে মেনশন করে আজ থেকে পাঁচ বছর আগে এই প্রেডিকশন দিয়ে থাকি, এই তিনজনের মধ্যে যদি দুইজন সাকসেসফুল হয় এবং আরেকজন যদি ফেইলর হয়; তাহলে আমাদের সাকসেসফুল পারসেন্টেন্স রেট কিন্তু সিলিকন ভ্যালি, সিঙ্গাপুর, ভারত থেকে বেশি।

‘কারণ ই-কমার্স খাতে যেসব স্টার্টআপ আছে, তাদের মাত্র ১০ ভাগ সফল হয়, বাকি ৯০ ভাগই ঝরে পড়ে। কিন্তু যে ১০ ভাগ উদ্যোক্তা সফল হয়, তা ওই ৯০ ভাগের অবদান ছাড়িয়ে যায়।’

পলক দাবি করেন, বাংলাদেশি উদ্যোক্তারা খুবই সাহসী-সৎ ও সৃজনশীল। যে কারণে আমাদের ডিএনএর মধ্যে একটা উদ্যোক্তা হওয়ার বিষয় আছে। এটা মূলত একটা ইকোসিস্টেম। প্রত্যেকটা দেশেই এ সিস্টেমের মাধ্যমে ই-কমার্স বেড়ে ওঠে।

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আপনি ধরেন যে, চালডাল, শপআপ- যারা পাঁচ বছর আগে ব্যবসাটা শুরু করেছিল, এমন কয়েকজনের মূলধন ছিল কয়েক লাখ টাকা। আজ ৫ বছর পর তাদের মূলধন হয়েছে কয়েক হাজার কোটি টাকা।’

‘একই সময়ে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ এসেছে। দেশের ভেতর থেকেও বিনিয়োগ হয়েছে। এখানে ১৫ লাখ তরুণ-তরুণী কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। আইসিটি বিভাগের পক্ষ থেকে ডিজিটাল এই উদ্যোগ যদি পাঁচ বছর আগে না নিতাম, তাহলে দেশে স্টার্টআপ কালচারটা হয়তো এত দ্রুত বড় হত না,’ বলেন পলক।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সিলিকন ভ্যালিতে এই স্টার্টআপ তৈরি হতে ৬০ বছর সময় লেগেছে। আমাদের এই স্টার্টআপ ক্যাম্পেইন কেবলমাত্র ২০১৬ সালে শুরু হয়েছে। এই পাঁচ বছরের মধ্যে আড়াই হাজার স্টার্টআপ তৈরি হয়েছে। স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড নামে একটি কোম্পানি করোনার মধ্যেও নিবন্ধন নিয়ে ইতিমধ্যে ১৪ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। স্টার্টআপ উদ্যোগে ৫০০ কোটি টাকা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এই যে সাহসী উদ্যোগগুলোর ফলে আমাদের উদ্যোক্তা তৈরি, এটা নতুন সম্ভাবনার দ্বার সৃষ্টি করেছে।’

পলক বলেন, ‘দেশে ই-কমার্স খাতে স্টার্টআপ বেসিসের সঙ্গে পার্টনারশিপে শুরু হয়েছে ২০১৬ সালে। ২০১৭ সালে উপলব্ধি করেছি আমাদের ই-কমার্স পলিসি দরকার। খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে এক বছর গবেষণা করে আমরা ই-কমার্স পলিসি দাঁড় করাই। হয়তো অনেক প্রেডিকশনই আমরা জানতাম না।

‘কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় অনুমান করেছিলেন এবং আমাদের বলেছিলেন, এই ই-কমার্স খাত এত বড় হবে এখনই যদি একটা নীতিমালা না করো তাহলে সমস্যা হবে। তখনই কিন্তু আমরা নীতিমালা করেছিলাম। যা এখন সময়ের সঙ্গে সংশোধন হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
বিদেশে কয়লাভিত্তিক প্রকল্পে বিনিয়োগ বন্ধ করছে চীন

শেয়ার করুন

তিন মাসের মধ্যে নিয়মে আসবে ই-কমার্স খাত

তিন মাসের মধ্যে নিয়মে আসবে ই-কমার্স খাত

ই-কমার্স ব্যবসার সাম্প্রতিক সমস্যা নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত জরুরি সভা। ছবি: পিআইডি

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি জানান, ই-কমার্স খাতে ব্যবসা করতে হলে সব ব্যবসায়ীকে ইউনিক বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (ইউবিআইএন) নিতে হবে। এর উদ্দেশ্য হলো ই-কমার্স সংশ্লিষ্ট সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে শনাক্ত করা। ইউবিআইএন ছাড়া দেশে কেউ ই-কমার্স ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবে না।

আগামী তিন মাসের মধ্যে দেশের বিশৃঙ্খল ই-কমার্স খাতকে নিয়মের মধ্যে আনা হবে। এ সময়ের মধ্যে ই-কমার্স খাতে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে ইউনিক বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (ইউবিআইএন) নিতে হবে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এ সংক্রান্ত সফটওয়্যার ডেভেলপ করবে।

এ ছাড়া চলতি বছরের জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত ‘এসক্রও’ সার্ভিস সিস্টেমে আটকে থাকা ২১৪ কোটি টাকা গ্রাহককে ফিরিয়ে দেয়া হবে।

সোমবার ডিজিটাল কমার্স ই-কমার্স ব্যবসার সাম্প্রতিক সমস্যা নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত তিন মন্ত্রী ও এক উপদেষ্টার জরুরি সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য দেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

এর আগে বিকেলে দীর্ঘ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

সভায় ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন, বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষ ও ডিজিটাল ই-কমার্স সংক্রান্ত কমিটির প্রধান এ এইচ এম সফিকুজ্জামান।

এ ছাড়া সভায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআর, ই-ক্যাব, বেসিস, এফবিসিসিআই, প্রতিযোগিতা কমিশন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে ব্রিফিংয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, ‘আজকের বৈঠকের আলোচনা খুবই ফলপ্রসূ হয়েছে। বৈঠকের উদ্দেশ্য ছিল দেশে ই-কমার্স খাত সংশ্লিষ্ট সব ব্যবসাকে একটি নিয়মের মধ্যে আনতে করণীয় নির্ধারণ। আজকের আলোচনায় সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

টিপু মুনশি জানান, ই-কমার্স খাতে ব্যবসা করতে হলে সব ব্যবসায়ীকে ইউনিক বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (ইউবিআইএন) নিতে হবে। এর উদ্দেশ্য হলো ই-কমার্স সংশ্লিষ্ট সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে শনাক্ত করা। ইউবিআইএন ছাড়া দেশে কেউ ই-কমার্স ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবে না। এ বিষয়ে কারিগরি সহায়তা দেবে আইসিটি ডিভিশন।

এ ছাড়া সেন্ট্রাল লজিস্টিক চেক ইন দ্য প্ল্যাটফর্ম (সিএলটিপি) থাকবে। এটি একটি আইনগত কৌশল। যারা ই-কমার্স খাতে ব্যবসা করছে, তাদের ইউপিআই নম্বরসহ বিজনেস রিলেটেড সবকিছু ঠিক আছে কি না তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে।

ই-কমার্স লেনদেনে গ্রাহক ও ভোক্তার অভিযোগ লিপিবদ্ধ করা বা গ্রহণের জন্য একটি সেন্ট্রাল কমপ্লেইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম দাঁড় করানো হবে। সংক্ষুব্ধ বা ক্ষতিগ্রস্ত যে কেউ এখানে অভিযোগ দাখিল করতে পারবে, যা কর্তৃপক্ষ আমলে নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করবে। এসব বিষয়েও প্রযুক্তিগত সাপোর্ট দেবে আইসিটি ডিভিশন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আশা করছি আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে তারা এ বিষয়ে একটি পদক্ষেপ জানাতে পারবে।’

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এসব পদক্ষেপ ই-কমার্স খাতকে একটি নিয়মতান্ত্রিক ধারায় পরিচালিত করতে সহায়তা করবে। তবে এখন বড় আলোচনার বিষয় গ্রাহকের টাকা ফেরত দেয়া। এ বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকসহ আরও যারা আছে, তারা একটি মতামত দিয়েছে।

‘সিদ্ধান্ত হয়েছে, চলতি বছরের জুলাই থেকে যাদের টাকা আটকে আছে, তাদের টাকা তাদের কাছে ফেরত যাবে। এ ক্ষেত্রে যেসব জটিলতা রয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। টাকা ফেরত যেতে সময় লাগবে। এ ক্ষেত্র তিন মাসের মতো সময় লাগতে পারে।’

আরও পড়ুন:
বিদেশে কয়লাভিত্তিক প্রকল্পে বিনিয়োগ বন্ধ করছে চীন

শেয়ার করুন