কারাগারে দাঙ্গায় নিহত ১১৬, জরুরি অবস্থা জারি

কারাগারে দাঙ্গায় নিহত ১১৬, জরুরি অবস্থা জারি

বর্তমানে কারাগারটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পুলিশের হাতে বলে জানিয়েছে ইকুয়েডরের কারা বিভাগ। ছবি: বিবিসি

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সহিংসতার পেছনে কলকাঠি নেড়েছে মাদক চোরাচালানে জড়িত প্রভাবশালী মেক্সিকান একটি চক্র। চক্রটি বর্তমানে ইকুয়েডরেও সক্রিয়।

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ইকুয়েডরের একটি কারাগারে প্রতিদ্বন্দ্বী দুটি পক্ষের মধ্যে সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে কমপক্ষে ১১৬ জনে। আহত হয়েছে ৮০ জন।

এ ঘটনায় দেশের সব কারাগারে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট গুইলারমো লাসো।

বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, বন্দরনগরী গুয়াইয়াকুইল শহরে অবস্থিত দেশের সবচেয়ে বিপজ্জনক বিবেচিত লিটোরাল কারাগারে হয় এ দাঙ্গা। দেশটির ইতিহাসে কারাগারে সহিংসতায় এত বিপুলসংখ্যক হতাহতের ঘটনা এটাই প্রথম।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, লিটোরাল কারাগারে যেসব অপরাধী চক্রের সদস্যরা বন্দি, তাদের সঙ্গে মেক্সিকোর কুখ্যাত মাদক কারবারিদের যোগসূত্র রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ভোররাতের এ সহিংসতায় প্রাথমিকভাবে কয়েকজনের প্রাণহানির খবর প্রকাশ হয়। বুধবার দিন না পেরোতেই নিহতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে যায়।

কমপক্ষে পাঁচ কয়েদির শিরশ্ছেদ করা হয়েছে। বাকিদের হত্যা করা হয়েছে গুলি করে। পুলিশ কমান্ডার ফাউস্তো বুয়েনানো জানান, কয়েদিরা গ্রেনেডও ছুড়েছে।

প্রায় ৪০০ পুলিশ কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে কারাগারের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করে কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সহিংসতার পেছনে কলকাঠি নেড়েছে মাদক চোরাচালানে জড়িত প্রভাবশালী মেক্সিকান একটি চক্র। চক্রটি বর্তমানে ইকুয়েডরেও সক্রিয়।

ইকুয়েডরের কারাবিষয়ক পরিচালক বলিভার গারজন স্থানীয় একটি বেতারে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘পরিস্থিতি ভয়াবহ ছিল। কারাগারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছি আমরা। কিন্তু তার আগে গোলাগুলি, বিস্ফোরণে নারকীয় পরিবেশ তৈরি হয়েছিল।

‘যেখানে সংঘাতের সূত্রপাত, সেখানে প্রবেশ করতে শুরু করেছে পুলিশ। তখন থেকে আরও অনেক মরদেহের সন্ধান মিলছে।’

তিনি জানান, কারাগারের একটি অংশের বন্দিরা দেয়ালের একটি ফুটো থেকে হামাগুড়ি দিয়ে বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর তারা প্রতিদ্বন্দ্বী চক্রগুলোর ওপর হামলা চালাতে শুরু করে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেও একটি কারাগারে দাঙ্গায় নিহত হয় ৭৯ জন কয়েদি।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ত্রিপুরায় তৃণমূল নেত্রীর ওপর হামলা, বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ

ত্রিপুরায় তৃণমূল নেত্রীর ওপর হামলা, বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ

'দিদির দূত' লেখা এ গাড়িতে বিজেপি কর্মীরা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ তৃণমূলের। ছবি: টাইমস অফ ইন্ডিয়া

ঘটনার প্রতিবাদে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় টুইট করে বলেন, ‘বিপ্লব দেবের নেতৃত্বে বিরোধীদের ওপর আক্রমণের রেকর্ড তৈরি হয়েছে। বিজেপির গুন্ডারা একজন নারী সংসদ সদস্যকে যেভাবে হেনস্তা করেছে, তা লজ্জার এবং রাজনৈতিক সন্ত্রাসের শামিল। সময় এসেছে, ত্রিপুরার মানুষ এর জবাব দেবে।’

অসিত পুরকায়স্থ, কলকাতা

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে স্থানীয় ভোটের আগে রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। ত্রিপুরা সফররত পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী সুস্মিতা দেব হামলার শিকার হয়েছেন।

পশ্চিমবঙ্গে চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর দেশের অন্যান্য রাজ্যে দল সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয় তৃণমূল কংগ্রেস। এরই অংশ হিসেবে ত্রিপুরায় সফর করছেন রাজ্যসভা সদস্য সুস্মিতা।

সুস্মিতার জনসংযোগ কর্মসূচি চলাকালীন শুক্রবার ‘দিদির দূত’ লেখা গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি ব্যাগ ছিনতাই ও মোবাইল ভেঙে দেওয়ারও অভিযোগ করেছেন সুস্মিতা।

এ ঘটনায় অভিযোগের তীর ভারতের কেন্দ্রীয় ক্ষমতাসীন দল বিজেপির দিকে।

সাংবাদিকদের সুস্মিতা বলেন, ‘আক্রমণকারীরা সবাই বিজেপি কর্মী। কেউ মাস্ক পরা ছিল না।’

‘দিদির দূত’ লেখা গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে প্রকাশ করেছে ত্রিপুরা তৃণমূল কংগ্রেস।

ঘটনার প্রতিবাদে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় টুইট করে বলেন, ‘বিপ্লব দেবের নেতৃত্বে বিরোধীদের ওপর আক্রমণের রেকর্ড তৈরি হয়েছে।

‘বিজেপির গুন্ডারা একজন নারী সংসদ সদস্যকে যেভাবে হেনস্তা করেছে, তা লজ্জার এবং রাজনৈতিক সন্ত্রাসের শামিল।’

তিনি আরও লেখেন, ‘সময় এসেছে, ত্রিপুরার মানুষ এর জবাব দেবে।’

প্রতিক্রিয়ায় হামলার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন বিজেপি মুখপাত্র অস্মিতা বণিক। তিনি বলেন, ‘অন্য দলের ওপর আক্রমণের সময় আমাদের নেই। ত্রিপুরায় গণতন্ত্র বিদ্যমান। তৃণমূল ছাড়া অনেক বিরোধী দল আছে। তারা নিজেদের কর্মসূচি স্বাভাবিকভাবেই চালিয়ে যাচ্ছে।’

ত্রিপুরার আসন্ন পৌরভোটে জিততে তৃণমূল কংগ্রেস বৃহস্পতিবার থেকে রাজ্যটিতে ‘দিদির দূত’ জনসংযোগ কর্মসূচিতে নেমেছে। প্রায় দুই সপ্তাহ এ কর্মসূচি চলবে। প্রচারের জন্য ‘দিদির দূত’ লেখা তৃণমূলের বেশ কিছু গাড়ি সেখানে পৌঁছে গেছে।

ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায় সুস্মিতা দেব বলেন, “‘ত্রিপুরার জন্য তৃণমূল’- এই স্লোগানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দর্শন মানুষের সামনে তুলে ধরছি। ত্রিপুরার ৫৮টি ব্লক ও ১৬টি পৌর এলাকায় হবে আমাদের জনসংযোগ যাত্রা।”

এদিকে, আজই মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের রাজ্যটিতে পৌরসভা ভোটের তারিখ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।

আগামী ২৫ নভেম্বর হবে ভোট। বিজ্ঞপ্তি জারি হবে ২৭ অক্টোবর। মনোনয়ন জমা দেয়ার শেষ দিন ৩ নভেম্বর। ৪ ডিসেম্বরের মধ্যে ফল ঘোষণাসহ ভোটের প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে বলে জানানো হয়েছে।

শেয়ার করুন

হাসপাতালে ফুসফুস পৌঁছে দিচ্ছে ড্রোন

হাসপাতালে ফুসফুস পৌঁছে দিচ্ছে ড্রোন

ফুসফুস নিয়ে টরন্টো জেনারেল হাসপাতালের ছাদে অবতরণের পর ইউনিদার বায়োইলেকট্রনিকের ড্রোন। ছবি: ইউরো নিউজ

ড্রোন দিয়ে ফুসফুস পরিবহনের সফল এই ফ্লাইটটি পরিচালনায় স্বাস্থ্য ও বেসামরিক বিমান কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হয়েছিল। অনুমতি পেতে প্রায় অর্ধশতবার পরীক্ষামূলক ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়েছে এবং বিভিন্ন বিষয়ে একাধিক সংশোধন আনতে হয়েছে। যেমন ঘনবসতিপূর্ণ একটি শহরে ড্রোনটি যেন বেতার তরঙ্গ প্রতিরোধক হয়, তা নিশ্চিত করতে হয়েছে।

রাতের অন্ধকারে টরন্টো শহরে এক হাসপাতালের ছাদ থেকে উড়ে গেল একটি ড্রোন। কানাডার ব্যস্ত ও বৃহত্তম মহানগরীর সড়কে গাড়িঘোড়ার শব্দে ছোট্ট উড়োযানটির আরও ছোট যান্ত্রিক পাখার শব্দ আলাদা করে ধরতে পারেনি পথচলতি মানুষ।

ইউরো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ছোট্ট ড্রোনটি বহন করছিল অমূল্য এক সম্পদ মানুষের ফুসফুস, যা প্রতিস্থাপনের অপেক্ষায় কোনো মৃত্যুপথযাত্রী।

প্রথম ফ্লাইটেই আকাশছোঁয়া ভবন, যানজট আর দোকানপাটে মানুষের ভিড় পেছনে ফেলে দ্রুততম সময়ে ফুসফুস গন্তব্যে পৌঁছে দিয়েছে ড্রোনটি।

মানুষের জীবন বাঁচাতে প্রতিস্থাপনযোগ্য ফুসফুস আনা-নেয়া বা এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে পৌঁছে দিতে ড্রোনের ব্যবহার নজিরবিহীন, যা করে দেখিয়েছে কানাডা।

এ কাজে ব্যবহৃত ড্রোনটির ওজন মাত্র সাড়ে ১৫ কেজি বা ৩৪ পাউন্ড। কার্বন ফাইবারে তৈরি বিদ্যুৎ-চালিত ড্রোনটি তৈরি করেছে কিউবেকভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইউনিদার বায়োইলেকট্রনিকস।

শহরের পশ্চিমে অবস্থিত টরন্টো ওয়েস্টার্ন হাসপাতাল থেকে টরন্টো জেনারেল হাসপাতালের ছাদে ফুসফুস পৌঁছে দিয়েছে ড্রোনটি। ১০ মিনিটের কম সময়ে অতিক্রম করেছে পৌনে এক মাইল দূরত্ব।

ঘটনাটি ঘটেছে গত মাসের শেষ সপ্তাহে। ড্রোনটি স্বয়ংক্রিয় হলেও পুরো পথে সতর্ক দৃষ্টি রেখে চলেছিলেন একদল প্রকৌশলী ও চিকিৎসক।

ড্রোনকেন্দ্রিক এ প্রকল্পে কারিগরি একটি দলের সঙ্গে দুই বছর ধরে কাজ করছেন চিকিৎসক শাফ কেশবজি। তিনি বলেন, ‘খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় প্রমাণ করছি আমরা। টরন্টোর মতো ব্যস্ত শহরের মাঝ দিয়ে নিরাপত্তা বজায় রেখেই ড্রোন চালিয়ে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন সম্ভব।’

ইউনিদার বায়োইলেকট্রনিকের ড্রোনবিষয়ক প্রকৌশলী মিখাইল কার্ডিনাল জানান, ড্রোনটি একটি হিমায়িত কালো বাক্স বহন করেছে। ওই বাক্সটি ‘অঙ্গপ্রত্যঙ্গের নির্ধারিত তাপমাত্রা ধরে রাখতে সক্ষম’, যেন প্রত্যঙ্গটি মানবদেহের বাইরেও ‘কার্যকর থাকে এবং অন্য দেহে প্রতিস্থাপন করা যায়’।

ফুসফুসবাহী ড্রোনটির অবতরণের সময় টরন্টো জেনারেল হাসপাতালের ছাদে অপেক্ষা করছিলেন অস্ত্রোপচারে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলের সদস্যরা। তারা ড্রোনের ভেতর থেকে প্যাকেটে সংরক্ষিত ফুসফুসটি বের করেন এবং অপেক্ষারত রোগীর দেহে সেটি প্রতিস্থাপন করেন।

প্রাণঘাতী রোগ পালমোনারি ফিব্রোসিসে আক্রান্ত ৬৩ বছর বয়সী এক রোগীর দেহে ফুসফুসটি প্রতিস্থাপন করেন চিকিৎসকরা। বর্তমানে সুস্থ আছেন ওই রোগী।

ড্রোন দিয়ে ফুসফুস পরিবহনের সফল এই ফ্লাইটটি পরিচালনায় স্বাস্থ্য ও বেসামরিক বিমান কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হয়েছিল।

অনুমতি পেতে প্রায় অর্ধশতবার পরীক্ষামূলক ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়েছে এবং বিভিন্ন বিষয়ে একাধিক সংশোধন আনতে হয়েছে। যেমন ঘনবসতিপূর্ণ একটি শহরে ড্রোনটি যেন বেতার তরঙ্গ প্রতিরোধক হয়, তা নিশ্চিত করতে হয়েছে।

যদি তাও কোনোভাবে চূড়ান্ত ফ্লাইটটি ব্যর্থ হতো, তাও যেন ফুসফুসটি নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়, সেটি নিশ্চিতেও ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল। সে জন্য ড্রোনে একটি ব্যালিস্টিক প্যারাশুট যুক্ত করা ছিল। ড্রোনটি মাঝপথে বিকল হলে সেটিকে ও ফুসফুসটিকে ধীরগতিতে এবং নিরাপদে গন্তব্যে অবতরণে সাহায্য করতো প্যারাশুটটি।

ড্রোন দিয়ে মানবদেহে প্রতিস্থাপনযোগ্য ফুসফুস পরিবহনের ঘটনা বিশ্বে এটাই প্রথম বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাটি।

তবে ২০১৯ সালের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যেও এ ধরনের একটি ঘটনা ঘটেছিল। সে সময় ড্রোন দিয়ে প্রতিস্থাপনযোগ্য কিডনি হাসপাতালে পৌঁছে দেয়া হয়েছিল।

সাধারণত বিমানবন্দর হয়ে প্রতিস্থাপনযোগ্য অঙ্গ স্থানান্তর করা হয়, বিশেষ করে যখন এক শহর থেকে অন্য শহরে নেয়া হয় সেটি। বিমানবন্দর থেকে বিশেষ যানবাহনের মাধ্যমে সেটিকে হাসপাতালে পৌঁছে দেয়া হয়।

এ ক্ষেত্রে দুটি হাসপাতাল অঙ্গপ্রত্যঙ্গ স্থানান্তরে সরাসরি ড্রোন ব্যবহার করলে সময় বাঁচে এবং যানজট এড়ানো সম্ভব হয়।

শেয়ার করুন

কাঁচা পেঁয়াজ থেকে প্রাণঘাতী স্যালমোনেলা

কাঁচা পেঁয়াজ থেকে প্রাণঘাতী স্যালমোনেলা

প্রতীকী ছবি।

চিহুয়াহুয়া থেকে আমদানিকৃত পেঁয়াজ না খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সিডিসি। যেসব পেঁয়াজ বা পেঁয়াজের প্যাকেটে তথ্যসংবলিত স্টিকার নেই, সেগুলো ফেলে দিতে বলেছে। একই সঙ্গে পেঁয়াজের ছোঁয়া লেগেছে এমন জায়গা ও বাসনকোসন সাবান-পানি দিয়ে ধুতে বলেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে স্যালমোনেলা ব্যাকটেরিয়ার প্রকোপে অসুস্থ হয়ে পড়েছে ৩৭টি অঙ্গরাজ্যের হাজারো বাসিন্দা। কাঁচা পেঁয়াজ থেকে প্রাণঘাতী ব্যাকটেরিয়াটি ছড়িয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিস্থিতির ব্যাপকতায় সারা দেশের মানুষকে পেঁয়াজ খাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছে প্রশাসন। উৎস অজানা ও তথ্যসংবলিত চিহ্ন ছাড়া লাল, সাদা ও হলুদ পেঁয়াজ ফেলে দেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) জানিয়েছে, স্যালমোনেলা সংক্রমণের একটি সম্ভাব্য উৎস চিহ্নিত করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রতিবেশী দেশ মেক্সিকোর চিহুয়াহুয়া থেকে আমদানিকৃত পেঁয়াজ থেকে ছড়িয়েছে ব্যাকটেরিয়াটি।

ইদাহো অঙ্গরাজ্যের হেইলেভিত্তিক প্রতিষ্ঠান প্রোসোর্স আমদানি করেছে ওই পেঁয়াজ।

সিডিসি জানিয়েছে, ৩১ মে থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্যালমোনেলায় ৬৫২ জনের অসুস্থতার খবর পেয়েছে সংস্থাটি। এদের মধ্যে ১২৯ জন গুরুতর অসুস্থ এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অসুস্থ রোগীর প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি কারণ বেশির ভাগ মানুষই মৃদু অসুস্থতা হলে সে খবর প্রশাসনের কাছে পৌঁছায় না।

এক বিবৃতিতে সিডিসি জানিয়েছে, অসুস্থ ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশই কাঁচা পেঁয়াজ খাওয়ার পর রোগাক্রান্ত হন বলে জানা গেছে। অসুস্থ ব্যক্তিদের অনেকেই একই রেস্তোরাঁর খাবার খেয়েছেন।

এ অবস্থায় চিহুয়াহুয়া থেকে আমদানিকৃত পেঁয়াজ না খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সিডিসি। যেসব পেঁয়াজ বা পেঁয়াজের প্যাকেটে তথ্যসংবলিত স্টিকার নেই, সেগুলো ফেলে দিতে বলেছে। একই সঙ্গে পেঁয়াজের ছোঁয়া লেগেছে এমন জায়গা ও বাসনকোসন সাবান-পানি দিয়ে ধুতে বলেছে।

স্যালমোনেলা ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার অন্যতম উপসর্গ হলো ডায়রিয়া, জ্বর ও পেট ব্যথা। দূষিত খাবার খাওয়ার পরবর্তী ছয় ঘণ্টা থেকে ছয় দিনের মধ্যে উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

প্রোসোর্স জানিয়েছে, চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত চিহুয়াহুয়া থেকে আমদানি ও বিক্রয়কৃত সব পেঁয়াজ স্বেচ্ছায় ফিরিয়ে নেবে তারা। যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থার (এফডিএ) অনুরোধে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

স্যালমোনেলা সংক্রমণের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে স্থানীয় প্রশাসন ও সিডিসির সঙ্গে এফডিএ সমন্বিত অনুসন্ধান শুরু করেছে বলে জানিয়েছে প্রোসোর্স।

শেয়ার করুন

মমতার গোয়া সফরের আগেই প্রতিনিধি দলে বাবুল

মমতার গোয়া সফরের আগেই প্রতিনিধি দলে বাবুল

তৃণমূল নেতা ও গায়ক বাবুল সুপ্রিয়। ছবি: সংগৃহীত

তৃণমূল নেতা সৌগত রায় বলেন, 'ত্রিপুরা গিয়েছি, গোয়া যাচ্ছি। আরও অনেক রাজ্যে যাচ্ছি। ২০২৪ এর আগে আরও যাব। গোয়ায় আমি নিজেও যাচ্ছি। আমার সঙ্গে বাবুল সুপ্রিয় যাচ্ছেন।’

তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোয়া সফরের আগেই আগামী রোববার বিভিন্ন কর্মসূচিতে যোগ দিতে গোয়া যাচ্ছে তৃণমূলের একটি প্রতিনিধি দল ।

বিজেপি ছেড়ে সম্প্রতি তৃণমূলে যোগ দেয়া রাজনীতিক ও গায়ক বাবুল সুপ্রিয় এই প্রতিনিধি দলের অন্যতম সদস্য হিসেবে গোয়া যাচ্ছেন। তিনি সেখানে বিভিন্ন বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।

আসানসোলের বিজেপি সাংসদ পদে ইস্তফা দেয়া সাবেক কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীকে যে তৃণমূল গুরুত্ব দিচ্ছে, প্রবীণ তৃণমূল নেতা সৌগত রায়ের কথায় সেটি পরিষ্কার।

বাবুলের গোয়া যাওয়া প্রসঙ্গে সৌগত রায় শুক্রবার বলেন, 'ত্রিপুরা গিয়েছি, গোয়া যাচ্ছি। আরও অনেক রাজ্যে যাচ্ছি। ২০২৪ এর আগে আরও যাব। গোয়ায় আমি নিজেও যাচ্ছি। আমার সঙ্গে বাবুল সুপ্রিয় যাচ্ছেন।’

ত্রিপুরা, অসমের পর গোয়াতেও তৃণমূল কংগ্রেস তাদের সংগঠন বাড়াতে সক্রিয়। ইতোমধ্যে গোয়ায় সাবেক মুখ্যমন্ত্রী লুইজিনহো ফেলেইরো আটজন বিধায়ক নিয়ে কলকাতায় এসে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন।

শুক্রবার তাকে দলের জাতীয় সহসভাপতি পদে বসানো হয়েছে।

এই মুহূর্তে গোয়ায় রয়েছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন। তার সঙ্গে গায়ক লাকি আলি এবং সমাজকর্মী অভিনেত্রী নাফিসা আলির কথা হয়েছে। ২৮ অক্টোবর তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোয়া সফরের সময় তাদের তৃণমূলে যোগ দেয়ার সম্ভাবনা প্রবল ।

এ বিষয়ে তৃণমূল নেতা সৌগত রায় বলেন, ‘নাফিসা আলি, লাকি আলি, রেমো ফার্নান্ডেজ যোগাযোগ করেছেন । তৃণমূলের সঙ্গে আরও অনেকে আসবেন। আমরা চাইব, ছোট দলগুলো আমাদের সঙ্গে চলে আসুক। গোয়াতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাচ্ছেন। সেখানে আলোচনা হবে।’

এদিকে গোয়া ফরওয়ার্ড পার্টি তৃণমূলের সঙ্গে জোট বাঁধতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানা গেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আগামী দিনে গোয়ায় তৃণমূল বিজেপি ও কংগ্রেসের মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠবে।

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপিকে হারিয়ে তৃতীয়বারের জন্য সরকার গঠনের পর ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে দেশজুড়ে বিজেপি বিরোধী মুখ হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তুলে ধরতে তৃণমূল যে উদ্যোগ নিয়েছে, এরই অংশ হিসেবে তৃণমূলের লক্ষ্য এখন গোয়া।

শেয়ার করুন

৯ মাসে চীন-ভারতের বাণিজ্য বেড়েছে ৪৯ শতাংশ

৯ মাসে চীন-ভারতের বাণিজ্য বেড়েছে ৪৯ শতাংশ

এ প্রসঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলার দেয়া তথ্য ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভাষণের একটি অংশ তুলে ধরে বিরোধীরা সরকারকে দুমুখো বলে মন্তব্য করেছে।

চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে, চীনের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ৯০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এ হিসেবে গত বছরের তুলনায় দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বেড়েছে প্রায় ৪৯ শতাংশ।

বৃহস্পতিবার ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা এই তথ্য জানিয়েছেন। যদিও দুই দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ভারসাম্যের বড় অংশই চীনের দিকে ঝুঁকে রয়েছে। এ অবস্থায় ভারত চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর জন্য প্রয়াস চালিয়ে যেতে থাকবে বলে জানিয়েছেন শ্রিংলা।

তিনি বলেছেন, ‘এই হারে, আমরা সম্ভবত দুই দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য অর্জন করতে পারি।’

এর আগে দুই দেশের মধ্যে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৮৮ বিলিয়ন ডলার।

এদিকে, হর্ষবর্ধন শ্রিংলার দেয়া তথ্য ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভাষণের একটি অংশ তুলে ধরে বিরোধীরা সরকারকে দুমুখো বলে মন্তব্য করেছে।

শুক্রবার জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে মোদি বলেছিলেন, ‘প্রতিটি ছোট জিনিস কেনার উপর জোর দেওয়া উচিত, যা মেড ইন ইন্ডিয়া। যা কোনো এক ভারতীয় তৈরি করতে মাথা ঘামায়। আর এটা সম্ভব হবে শুধুমাত্র সবার প্রচেষ্টায়।’

শ্রিংলার তথ্য আর প্রধানমন্ত্রীর শ্লোগান সরকারের ‘জুমলা’ ও ‘দ্বিচারিতা’ বলে চিহ্নিত করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী।

তিনি বলেছেন, ‘লাদাখে সামরিক হানাহানি এবং চীনা পণ্য বর্জন করার আহ্বানের পাশাপাশি চীনা আমদানির উপর নির্ভরতা কমাতে সরকারের প্রচেষ্টার পরও বাণিজ্যে ঘাটতি বৃদ্ধি পেয়েছে। এটা সরকারের নিয়মিত দ্বিচারিতা ছাড়া আর কী?’

চীনের সঙ্গে বর্ধিত বাণিজ্য ছাড়াও দেশে ১০০ কোটি করোনা ভ্যাকসিনের ডোজ দেয়া নিয়েও কেন্দ্রীয় সরকারকে কটাক্ষ করেছে কংগ্রেস।

এক টুইটে দলটির পক্ষ থেকে একটি ছবি শেয়ার করা হয়েছে। যেখানে দেখা গেছে, সারা বিশ্বে ৩৭ শতাংশ মানুষ করোনা টিকার দুটি ডোজই নিয়েছেন। একই সময়ে, ভারতে মাত্র ২১ শতাংশ মানুষ করোনার ডোজ পেয়েছেন।

কংগ্রেস লিখেছে, ‘এটা সরকারের মিথ্যাচারের আরেকটা নমুনা।’

শেয়ার করুন

মিয়ানমারে সাধারণ ক্ষমায় মুক্ত বন্দিরা ফের গ্রেপ্তার

মিয়ানমারে সাধারণ ক্ষমায় মুক্ত বন্দিরা ফের গ্রেপ্তার

মিয়ানমারের বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুনের রাস্তায় শুক্রবার পুলিশের সশস্ত্র টহল। ছবি: এএফপি

সমালোচকরা বলছেন, মূলত আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে চাপ এড়াতে কৌশলী হয়েছিল মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। কৌশলের অংশ হিসেবেই বহির্বিশ্বের চোখে ধুলো দিতে সাধারণ ক্ষমার আওতায় বন্দিদের মুক্তি দেয়া আর বিরোধীদের আলোচনার প্রলোভন দেখিয়েছে সামরিক জান্তা।

মুক্তি পেতে না পেতেই মিয়ানমারে শতাধিক সেনা অভ্যুত্থানবিরোধীকে গ্রেপ্তার করেছে জান্তা সরকার। কয়েক মাস কারাবন্দি থাকার পর চলতি সপ্তাহে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে মুক্তি দেয়া হয়েছিল তাদের।

মিয়ানমারে ক্ষমতাসীন সেনাবাহিনী গত সোমবার এক ঘোষণায় জানায়, দেশের ঐতিহ্যবাহী থাডিংইয়ুৎ ফেস্টিভ্যাল বা আলোকোৎসবের সময় পাঁচ হাজার ৬৩৬ বন্দিকে মুক্তি দেয়া হবে।

এ ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় বিভিন্ন কারাগারে ছুটে গিয়েছিলেন বন্দিদের পরিবারের সদস্যরা। বহুদিন পর প্রিয় স্বজনের সঙ্গে দেখা করে তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে নেয়ার প্রত্যাশায় কারাগারের প্রবেশপথগুলোতে ভিড় করেছিলেন হাজারো মানুষ।

বার্মিজ চন্দ্র বর্ষপঞ্জিতে সপ্তম মাস থাডিংইয়ুতের পূর্ণিমার দিন এবং আগের ও পরের দিন- মোট তিনদিন আলোকোৎসব উদযাপন করে মিয়ানমার। এ বছর ১৯ থেকে ২১ অক্টোবর উদযাপিত হয় উৎসবটি। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী এ সময়ের মধ্যেই বন্দিদের মুক্তি দেয়া হয়।

কিন্তু টার্কিশ রেডিও অ্যান্ড টেলিভিশনের (টিআরটি) প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশজুড়ে কত বন্দি শেষ পর্যন্ত মুক্তি পেয়েছেন, সে সংখ্যা যাচাই করা কঠিন। অনেকেই মুক্তি পেয়েছেন ভবিষ্যতে আর সেনাবাহিনীর বিরোধিতা না করার শর্তে স্বাক্ষর করার পর।

মিয়ানমারের মানবাধিকার পর্যবেক্ষক সংস্থা অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স (এএপিপি) জানিয়েছে, সাধারণ ক্ষমায় মুক্তিপ্রাপ্ত কমপক্ষে ১১০ জনকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এক বিবৃতিতে বৃহস্পতিবার এএপিপি জানায়, ‘কয়েকজন বাড়িতে ফিরতে না ফিরতেই তাদের আবার কারাগারে ফেরত নিয়ে যাওয়া হয়।

‘অন্য কয়েকজনকে বলা হয়েছিল যে মুক্তিপ্রাপ্তদের তালিকায় তাদের নাম আছে। এ কথা বলে তাদের কারাগারের প্রবেশপথে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর সেখান থেকেই আবার তাদের জেলে নিয়ে যাওয়া হয় এবং কারণ হিসেবে নতুন কিছু অভিযোগ গঠনের কথা বলা হয়।’

চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারির সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকেই অরাজক পরিস্থিতি চলছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মিয়ানমারে। গণতান্ত্রিক সরকারকে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেয়ার দাবিতে হওয়া বিক্ষোভ দমনে শক্তি প্রয়োগ করে সেনাবাহিনী, যাতে নিহত হয় প্রায় এক হাজার ২০০ জন বেসামরিক মানুষ।

এএপিপির ওয়েবসাইটে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অবস্থান করায় ফেব্রুয়ারি থেকে প্রায় নয় হাজার বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গত সপ্তাহে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১০ দেশের জোট আসিয়ান মিয়ানমারের সেনাপ্রধানকে বাদ দিয়েই শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়। এরপরই থাডিংইয়ুৎ উৎসবের তিনদিন জুড়ে হাজারো বন্দিকে মুক্তির ঘোষণা দেন মিন অং হ্লাইং।

মিয়ানমারের রাজনীতিতে রক্তক্ষয়ী অচলাবস্থা নিয়ন্ত্রণের প্রতিশ্রুতি পালনে ব্যর্থতার অভিযোগে জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেয় আঞ্চলিক জোটটি।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাউন্সিলর ডেরেক শলেট বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের কাছে আসিয়ানের বিরল এ পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। আঞ্চলিক বিভিন্ন সংকটে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থতার অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরেই নখদন্তহীন হিসেবে আখ্যায়িত হয়ে আসছে আসিয়ান।

মিয়ানমারের জান্তা সরকারের ওপর চাপ বাড়ানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের সঙ্গে আলোচনায় অঞ্চলটিতে সফর করছেন শলেট।

গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশের শাসনব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রণ নেয়ার প্রায় নয় মাস পর এখন সবচেয়ে চাপে রয়েছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।

সমালোচকরা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে মূলত আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে চাপ এড়াতে কৌশলী হয়েছিল মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। কৌশলের অংশ হিসেবেই বহির্বিশ্বের চোখে ধুলো দিতে সাধারণ ক্ষমার আওতায় বন্দিদের মুক্তি দেয়া আর বিরোধীদের আলোচনার প্রলোভন দেখিয়েছে সামরিক জান্তা।

চলতি বছরের জুন-জুলাই মাসে মিয়ানমারের বিভিন্ন কারাগার থেকে দুই হাজার বিক্ষোভকারীকে মুক্তি দেয়া হয়। মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে সামরিক সরকারের সমালোচক অনেক সংবাদকর্মীও ছিলেন।

এএপিপির তথ্য অনুযায়ী, এখনও মিয়ানমারের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি প্রায় সাড়ে সাত হাজার বিক্ষোভকারী। তাদের মধ্যে আছেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এক সাংবাদিক ড্যানি ফেনস্টারও। গত ২৪ মে থেকে কারাবন্দি তিনি।

শেয়ার করুন

চীন-ভারত উত্তেজনা: স্বামীর টুইটে ফের ‘বিড়ম্বনায়’ বিজেপি

চীন-ভারত উত্তেজনা: স্বামীর টুইটে ফের ‘বিড়ম্বনায়’ বিজেপি

চীনের আগ্রাসী তৎপরতায় ভারত সরকারের অবস্থান নিয়ে শুক্রবার সমালোচনা করেন বিজেপির সাংসদ সুব্রহ্মণ্যম স্বামী। ছবি: ইকোনমিক টাইমস

শুক্রবার টুইটবার্তায় বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ সুব্রহ্মণ্যম স্বামী বলেন, ‘চীন ভারতের ওপর আক্রমণাত্মক। সুন্দর পোশাকে সজ্জিত সম্রাটের দিকে তাকিয়ে আছি আমরা।’

চীন ও পাকিস্তান প্রসঙ্গে বিভিন্ন সময়ে নিজের ক্ষমতাসীন দলের সরকারকে বিড়ম্বনায় ফেলেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ সুব্রামানিয়াম স্বামী।

শুক্রবার ফের কারও নাম না নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকারকে নিশানা করেছেন তিনি।

টুইটবার্তায় সুব্রামানিয়াম স্বামী বলেন, ‘চীন ভারতের ওপর আক্রমণাত্মক। সুন্দর পোশাকে সজ্জিত সম্রাটের দিকে তাকিয়ে আছি আমরা।’

সুব্রামানিয়াম স্বামী টাইমস অফ ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত এক নিবন্ধ একই সঙ্গে টুইট করেন।

ওই নিবন্ধে চীনে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, ভারত ও তার প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে আগ্রাসী চীন।

এ ছাড়া টুইটারে আলোচিত লেখক হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসন রচিত ‘সম্রাটের নতুন পোশাক’ গল্পের একটি অংশ শেয়ার করে লেখেন, ‘আমরা ভারতীয়রা আজ সেই জনসাধারণের মতো ভণ্ড, যারা সুন্দর পোশাকে সম্রাটকে দেখে, যতক্ষণ না সেই ছোট্ট ছেলেটি সত্য কথা বলে।’

গল্পে আছে, সবাই দেখে রাজা উলঙ্গ, তবুও সবাই হাততালি দিচ্ছে। সবাই চেঁচিয়ে বলছে, ‘শাবাশ, শাবাশ!’

তবে সত্যবাদী, সরল ও সাহসী এক শিশু রাজাকে দেখে স্বতঃস্ফূর্তভাবে চেঁচিয়ে বলে- ‘রাজা ন্যাংটা! রাজা ন্যাংটা!’

এর আগে চীন ও ভারতের বৈঠকের বিষয়ে সুব্রামানিয়াম স্বামী বলেছিলেন, ‘যখন কেউ সীমানা লঙ্ঘন করেনি তখন বৈঠক কেন?

‘১৮ বার দুই দেশের মুখোমুখি বৈঠক এবং পাঁচবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির চীন সফরের পরও কিছুই অর্জন হয়নি। আমরা কি এখনও চীনের সঙ্গে কথা বলার জন্য অনুরোধের ভঙ্গিমায় আছি?’

তিনি বলেছিলেন, ‘যারা অত্যাচারী, তারা শক্তিশালীদের সামনে ভদ্র আচরণ করে। তবে দুর্বলের সঙ্গে তাদের আচরণ অসভ্য।’

সুব্রামানিয়াম স্বামী প্রধানমন্ত্রী মোদির সেই বক্তব্যের কথা উল্লেখ করেন যেখানে তিনি বলেছিলেন, ‘কেউই আমাদের সীমান্তে প্রবেশ করেনি বা আমাদের কোনো সেনা পোস্ট অন্যের দখলে নেই।’

শেয়ার করুন