মুখ্যমন্ত্রী পদ টেকাতে ভবানীপুরে জিততেই হবে মমতাকে

মুখ্যমন্ত্রী পদ টেকাতে ভবানীপুরে জিততেই হবে মমতাকে

তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান ও রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির ভাগ্য নির্ধারণ হবে এ উপনির্বাচনে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে টিকে থাকতে হলে হাইভোল্টেজ ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে তাকে জিততেই হবে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ মাথায় নিয়ে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ‘ভবানীপুর’ বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান ও রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাগ্য নির্ধারণ হবে এ উপনির্বাচনে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে টিকে থাকতে হলে হাইভোল্টেজ ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে তাকে জিততেই হবে।

ভবানীপুর ছাড়াও মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ ও জঙ্গিপুর বিধানসভা কেন্দ্রে ভারতীয় সময় সকাল ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচন চলাকালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে জঙ্গিপুর ও সামসেরগঞ্জের দুই প্রার্থীর মৃত্যু হলে সেখানে নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। তাই এ দুই কেন্দ্রে সাধারণ নির্বাচন হচ্ছে।

দক্ষিণ কলকাতার ‘ভবানীপুর’ মমতার নিজের এলাকা। তিনি শুধু এই বিধানসভা কেন্দ্রের বাসিন্দাই নন, ২০১১ ও ২০১৬ সালের নির্বাচনেও এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন।

তবে এ বছর করোনার আবহে গত মার্চ-এপ্রিল মাসে বিধানসভা নির্বাচনে মমতা ভবানীপুরের প্রার্থী না হয়ে, নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সামান্য ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েও মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। ভবানীপুর থেকে তৃণমূল প্রার্থী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বিজয়ী হয়েও বিধায়ক পদে ইস্তফা দেন। আসনটি তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতার জন্য ছেড়ে দেন।

বিধানসভা নির্বাচন সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, ছয় মাসের মধ্যে বিধায়ক নির্বাচিত হয়ে আসার বাধ্যবাধকতা রয়েছে মমতার। তাই মুখ্যমন্ত্রীর পদ ধরে রাখতে এ কেন্দ্রে তাকে জিততেই হবে।

ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র ১৫৯ নম্বর আসন। কলকাতা পৌরসভার ৬৩, ৭০, ৭১,৭২, ৭৩, ৭৪, ৭৭ ও ৮২ নম্বর ওয়ার্ড এ কেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত। মোট ভোটকেন্দ্র ২৮৭টি। ভোটারের সংখ্যা ২ লক্ষ ৯৬ হাজার ২৭২।

২০১৬ সালে এ কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জয়ী হয়েছিলেন। তার প্রাপ্ত ভোট ছিল ৬৫ হাজার ৫২০। মোট ভোটের ৪৭.৬৭ শতাংশ ভোট পেয়েছিল তৃণমূল।

২০২১ সালে তৃণমূল প্রার্থী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বিজেপি প্রার্থী রুদ্রনিল ঘোষকে ২৮ হাজার ৭১৯ ভোটে হারিয়ে দেন। প্রদত্ত ভোটের ৫৭ শতাংশ ভোট পায় তৃণমূল।

এবার উপনির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী তৃণমূল কংগ্রেসের লক্ষ্য বেশি ব্যবধানে জয়। তবে টক্কর দেয়ার চেষ্টা করছে বিজেপি প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়াল। সঙ্গে আছেন সিপিএমের শ্রীজীব বিশ্বাস।

এদিকে কড়া নিরাপত্তায় রাজ্য পুলিশের সঙ্গে ৩৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে ভবানীপুর হাইভোল্টেজ কেন্দ্রে। একজন সাধারণ পর্যবেক্ষক, একজন পুলিশ পর্যবেক্ষক এবং একজন অতিরিক্ত পুলিশ পর্যবেক্ষক থাকবেন বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে।

বিচ্ছিন্ন দু-একটি বুথ জ্যাম ও এজেন্ট দিতে না পারার মতো ছোট ঘটনার অভিযোগ থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর নেই।

তিন কেন্দ্রে নির্বাচন হচ্ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে। ভবানীপুর উপনির্বাচন কেন্দ্রের বিভিন্ন জায়গায় যেখানে যেখানে পানি জমে আছে, সেই জায়গাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় যেন কোনো সমস্যা না হয় তা দেখা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোনো ভোটারের ভোট প্রদান কেন্দ্রে যেতে সমস্যা হলে কমিশনকে জানাতে। তারা ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করবে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

পাকিস্তানের সঙ্গে দৃঢ় বাণিজ্যিক সম্পর্ক চান শেখ হাসিনা

পাকিস্তানের সঙ্গে দৃঢ় বাণিজ্যিক সম্পর্ক চান শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ঢাকায় পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান আহমেদ সিদ্দিকীর বৈঠক। ছবি: ডন

ডনের প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঢাকায় পাকিস্তানের হাইকমিশনারের বৈঠকটি খুব গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এমন সময় বৈঠকটি হলো, যখন উভয় দেশ প্রথমবারের মতো শেখ হাসিনার পাকিস্তান সফরের জন্য প্রস্তুতি শুরু করেছে।

পাকিস্তানের সঙ্গে আরও শক্তিশালী বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা গড়ে তুলতে সরকারের ইচ্ছার বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশে পাকিস্তানের হাই কমিশনার ইমরান আহমেদ সিদ্দিকী সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক চাঙ্গা করার ইচ্ছার বিষয়টি জানান বলে ডনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র বিষয়ক দপ্তরের এক বিবৃতির বরাতে এতে বলা হয়, উভয় পক্ষ দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সম্মত হয়েছেন।

প্রায় সাত মাসের মধ্যে এটা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও ইমরান আহমেদের মধ্যে দ্বিতীয় সাক্ষাৎ।

ডন লিখেছে, এক দশকের বেশি সময় দুই দেশের সম্পর্ক বরফ কঠিন অবস্থায় জমে থাকার পর আবার তা উষ্ণ করার লক্ষ্যেই এই বৈঠক।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, বৈঠকটি খুব গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। আর এমন সময় বৈঠকটি হলো, যখন উভয় দেশ প্রথমবারের মতো শেখ হাসিনার পাকিস্তান সফরের জন্য প্রস্তুতি শুরু করেছে।

ডন লিখেছে, পাকিস্তান সফরের জন্য গত জুলাইয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের পাঠানো আমন্ত্রণপত্র সম্প্রতি গ্রহণ করেছেন বলে ইসলামাবাদকে প্রত্যুত্তরে জানান শেখ হাসিনা। তবে তার পাকিস্তান সফরের জন্য এখনও কোনো সময় নির্ধারণ করা হয়নি। ইমরান খানকেও বাংলাদেশ সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তিনি।

প্রতিবেদনটিতে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাকিস্তান সফর সফল করতে রোড ম্যাপ তৈরি করার জন্য বাংলাদেশকে প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইসলামাবাদ।

পাশাপাশি ঢাকার সঙ্গে অন্যান্য দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কও পুনরুজ্জীবিত করতে জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে ইমরান সরকার। এর অংশ হিসেবে প্রায় ১৩ বছর ধরে বন্ধ থাকা দুই দেশের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ে ডায়ালগ আবার শুরু করতে চায় পাকিস্তান।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক শক্ত করার জন্য নানা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ দিবসগুলোতে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠানো হয় ইসলামাবাদ থেকে। সবশেষ মৌসুমে উভয় দেশ আম উপহার পাঠিয়েছে।

এক দেশ হয়ে থাকলেও ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে পাকিস্তান থেকে স্বাধীনতা লাভ করে বিশ্বের মানচিত্রে আলাদা রাষ্ট্র হিসেবে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ।

এরপর থেকেই দেশ দুটির মধ্যে বৈরী সম্পর্ক বিদ্যমান। ২০০৯ সালে বাংলাদেশ সরকার ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে ট্রাইব্যুনাল গঠন করলে টানাপোড়েন চরমে পৌঁছায়।

শেয়ার করুন

আফগানিস্তানে ৫০০ ডলারে মেয়েশিশু বিক্রি

আফগানিস্তানে ৫০০ ডলারে মেয়েশিশু বিক্রি

৫০০ ডলারে এই মেয়েশিশুকে বিক্রি করতে বাধ্য হয় তার পরিবার। ছবি: বিবিসি

‘আফগানিস্তানের বিপন্ন মানুষের কাছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের শিগগিরই পৌঁছতে হবে। তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেয়া হবে কী হবে না, এ বিতর্কে আটকে গেলে এখানকার লাখ লাখ শিশুকে বাঁচানো সম্ভব হবে না।’

তালেবান ক্ষমতা দখলের পর ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে আফগানিস্তান। দীর্ঘ দুই দশক যুদ্ধ চলাকালে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা দেশটিকে সহায়তা করে। যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত সরকারকে আগস্টে তালেবান ক্ষমতাচ্যুত করার পর ওই সব সহায়তা বন্ধ হয়ে যায়।

তালেবানের নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক কেমন হবে, তা নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি পশ্চিমা বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সিদ্ধান্তহীনতার ফল ভুগতে হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশটির লাখ লাখ মানুষকে।

সোমবার জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) সতর্ক করে জানায়, আসছে শীতে অর্ধেকের বেশি আফগান চরম খাদ্যসংকটে ভুগবে। খাদ্যের অভাবে লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু হবে, যদি না দ্রুতই আফগানিস্তানে ত্রাণ পাঠানো হয়।

বিবিসির সাংবাদিক ইয়োগিতা লিমায়ে ও তার দল সম্প্রতি আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় হেরাত শহরের মেডিসিন্স সানস ফ্রন্ট্রিয়ার্স হাসপাতালের পাশাপাশি শহরটির গ্রামাঞ্চলে যান।

হাসপাতালটি থেকে লামিয়ে বলেন, ‘বিদেশি সহায়তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আফগানিস্তানের কমপক্ষে ১০ লাখের বেশি শিশু মৃত্যুঝুঁকিতে রয়েছে।

‘তিন মাস বয়সী এক শিশু ওসমান। ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের কারণে জন্মের সময় তার ওজন অনেক কম ছিল। তার বাবার হাতে এখন কোনো কাজ নেই।

‘শুধু ওসমানের বাবা নয়, আফগানিস্তানের আরও লাখ লাখ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে বেকার।

ওসমানের মা লামিয়েকে বলেন, ‘আমাদের হাতে কোনো অর্থ নেই। বিশ্ব যেন আমাদের সহায়তায় এগিয়ে আসে, আমরা তা চাই। আমাদের শিশুরা কষ্টে আছে।’

হেরাতের মেডিসিন্স সানস ফ্রন্ট্রিয়ার্সের আশপাশে কয়েক মাইলের মধ্যে আর কোনো হাসপাতাল নেই বলে জানান লামিয়ে।

তিনি বলেন, ‘আফগানিস্তানের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার বড় অংশ বৈদেশিক সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল, যা এখন বন্ধ।

‘হেরাতের এই হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরা গত চার মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না। চিকিৎসাসামগ্রী কেনার মতো অর্থ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নেই।’

বিবিসি সাংবাদিক লামিয়ে বলেন, ‘হেরাতের গ্রামাঞ্চলে সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে আফগানরা অকল্পনীয় কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন।’

পরিচয় গোপন রেখে এক মা লামিয়েকে বলেন, ‘আমার সন্তানরা ক্ষুধায় মারা যাচ্ছিল। এ কারণে আমার ছোট্ট মেয়েশিশুকে বিক্রি করা ছাড়া আর কিছু করার ছিল না।

‘আমি খুব খুশি হতাম যদি আমার মেয়েটাকে বিক্রি করা না লাগত।’

লামিয়ে জানান, ওই মেয়েশিশুর বাবা আবর্জনা কুড়িয়ে সংসার চালাতেন। কিন্তু তা দিয়ে এখন আর সংসার চলছে না।

শিশুটির বাবা বলেন, ‘ঘরে তেল, ময়দা কিছু ছিল না। অনাহারে দিন কাটছিল আমাদের। আমার মেয়ে আমার সম্পর্কে কী ভাবছে জানি না। তবে তাকে বিক্রি করা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।’

লামিয়ে বলেন, ‘মেয়েটি একটু বড় না হওয়া পর্যন্ত সে তার মা-বাবার কাছে থাকবে। এরপর যে ব্যক্তি তাকে কিনেছেন, তিনি মেয়েটিকে নিয়ে যাবেন।

‘মেয়েটিকে কিনতে ওই পরিবারকে ৫০০ ডলারের বেশি দিয়েছেন ওই ব্যক্তি। এ টাকায় মেয়েটির পরিবারের কয়েক মাস চলে যাবে।

‘পরিবারটিকে বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তির ছেলের সঙ্গে মেয়েটির বিয়ে দেয়া হবে। তবে এ বিষয়ে কেউ নিশ্চিত নয়।’

লামিয়ে বলেন, ‘এখানে আরও অনেক পরিবার তাদের সন্তানদের বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে।

‘আমাদের দলের একজনের কাছে এক আফগান তার সন্তান বিক্রি করতে চেয়েছিলেন। এতে বোঝা যাচ্ছে, কতটা অসহায় হলে মানুষ এমনটা করতে পারে। এখানকার পরিস্থিতি বলার মতো নয়।

‘আফগানিস্তানের এসব বিপন্ন মানুষের কাছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের শিগগিরই পৌঁছতে হবে। তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেয়া হবে কী হবে না, এ বিতর্কে আটকে গেলে এখানকার লাখ লাখ শিশুকে বাঁচানো সম্ভব হবে না।’

শেয়ার করুন

৫০০ ডলারে বিক্রি হলো আফগান কন্যাশিশুটি

৫০০ ডলারে বিক্রি হলো আফগান কন্যাশিশুটি

বিক্রি করে দেয়া আফগান শিশুটি। ছবি: বিবিসি

ভয়ানক এক মানবিক সংকটের দিকে যাচ্ছে আফগানিস্তান। এ ব্যাপারে সতর্কতা জারি করেছে জাতিসংঘও। দেশটিতে খাদ্যসংকট এখন চরমে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে উঠছে যে, অনেকেই তাদের সন্তান বিক্রি করার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

মাত্র ৫০০ ডলারেই নিজের কন্যাকে বেচে দিলেন আফগান বাবা-মা। তাদের কাছে এ ছাড়া আর কোনো উপায়ই ছিল না।

আফগানিস্তানের হেরাতে ঘটেছে হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি। সম্প্রতি বিবিসির সাংবাদিক যোগিতা লিমাইয়ি এই অঞ্চলটিতে খবর সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন। তার ধারণ করা একটি ভিডিও চিত্রে উঠে এসেছে দেশটির কিছু মর্মান্তিক চিত্র।

সোমবার বিবিসিতে প্রকাশিত সেই ভিডিও প্রতিবেদনের শুরুতেই দেখা যায়, হেরাতের একটি হাসপাতালের চিত্র। একটি শয্যায় শুয়ে আছে ছয় মাস বয়সী আফগান শিশু উসমান। ভালো করে পৃথিবী দেখার আগেই সে দুর্ভিক্ষের কবলে পড়েছে। অপুষ্টির জন্য কঙ্কালসার তার শরীর। বেঁচে আছে কোনোক্রমে। পাশের কক্ষে তার মতোই অবস্থা তার যমজ ভাইয়েরও।

বাবার বেকারত্বই তাদের এমন পরিণতির জন্য দায়ী। আরও অসংখ্য আফগানের মতো উসমানের বাবাও কোনো কাজ খুঁজে পাচ্ছেন না। তাই অনাহার আর অর্ধাহারে দিন কাটছে তার পরিবারের। সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে সদ্য জন্ম নেয়া তার দুই শিশুর ওপর।

যমজ শিশু দুটির মা দুঃখ করে বলছিলেন, ‘কোনো টাকা নেই বলে আমার বাচ্চা দুটি মরে যাচ্ছে।’ আফগানিস্তানে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে বিশ্ববাসীকে আহ্বান জানান তিনি।

বিগত বছরগুলোতে আফগানিস্তানের অর্থনীতি ছিল মূলত বিদেশি সাহায্যনির্ভর। কিন্তু তালেবানরা ক্ষমতা নেয়ার পর থেকেই সাহায্য বন্ধ হয়ে গেছে।

যে হাসপাতালটিতে যোগিতা গিয়েছিলেন সেখানকার চিকিৎসক ও নার্সরা বেতন পান না গত কয়েক মাস ধরে। চিকিৎসা সরঞ্জামাদি কেনার মতো অর্থও নেই তাদের কাছে। এর মধ্যেই হাসপাতালটিতে একের পর এক কঙ্কালসার শিশুকে নিয়ে আসছেন তাদের মা-বাবারা।

হাসপাতাল থেকে বের হয়ে হেরাতের সাধারণ মানুষের দুর্দশা নিজ চোখে দেখতে যান যোগিতা। তখনই জানতে পারেন মাত্র ৫০০ ডলারে একটি কন্যাশিশুকে বিক্রি করে দেয়ার ঘটনাটি।

শিশুটির মা বলেন, ‘আমার অন্য বাচ্চাগুলো খাবারের অভাবে মরে যাচ্ছে। তাই মেয়েটাকে বিক্রি করে দিলাম।’

শিশুটির বাবা ময়লা সংগ্রহ করতেন। কিন্তু এখন তার এক পয়সাও আয় নেই। তিনি বলেন, ‘আমরা ক্ষুধায় ভুগছি। এই মুহূর্তে ঘরে কোনো ময়দা কিংবা তেলও নেই। আমাদের আর কিছুই নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘জানি না আমার মেয়ের ভবিষ্যৎ কেমন হবে। তবে এ ছাড়া আমার আর কোনো উপায় নেই।’

শিশুটি এখনও তার মা-বাবার কাছেই আছে। যখনই সে হাঁটতে শিখবে তখনই তাকে নিয়ে যাবেন, যিনি কিনেছেন। অর্ধেক অর্থ ইতিমধ্যেই তিনি পরিশোধ করেছেন। বাকি অর্থ আগামী কয়েক মাসে পরিশোধ করবেন।

যে ব্যক্তি শিশুটিকে কিনে নিচ্ছেন তিনি জানিয়েছেন, নিজের ছেলের সঙ্গে মেয়েটির বিয়ে দেবেন। কিন্তু আসলে কী করবেন তা কেউ জানে না।

বিবিসিতে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হওয়ার পর তা নিজের টুইটার ওয়ালে পোস্ট করেছেন যোগিতা। এই পোস্টের নিচে কমেন্ট করে বিভিন্ন দেশের মানুষ পরিবারটিকে সাহায্য করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

কিন্তু যোগিতা জানান, ওই এলাকাটিতে সন্তান বিক্রি করার ঘটনা এটিই একমাত্র নয়। ক্ষুধার জ্বালায় আরও অসংখ্য ছেলে-মেয়েকে বিক্রি করে দিচ্ছেন তাদের বাবা-মা।

শেয়ার করুন

ইসলামপন্থিদের সামনে ‘নত’ ইমরান সরকার, ৩৫০ বন্দি মুক্ত

ইসলামপন্থিদের সামনে ‘নত’ ইমরান সরকার, ৩৫০ বন্দি মুক্ত

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের মুরিদকে শহর রোববার নিষিদ্ধঘোষিত টিএলপি সদস্যদের বিক্ষোভে অচল হয়ে পড়ে। ছবি: এএফপি

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ রশিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে জানিয়েছেন, টিএলপিপ্রধান সাদ হোসেন রিজভির মুক্তির পরিকল্পনা এগোতে কাজ চলছে। পাকিস্তানের শীর্ষ দৈনিক ডনের প্রতিবেদনে বিষয়টিকে আখ্যায়িত করা হয়েছে ‘সহিংস বিক্ষোভকারীদের সামনে সরকারের আরেকটি পূর্ণাঙ্গ আত্মসমর্পণ’ হিসেবে।

পাকিস্তানে নিষিদ্ধঘোষিত ইসলামপন্থি সংগঠন ‘তেহরিক-ই-লাব্বাইক পাকিস্তান’-এর (টিএলপি) ৩৫০ কারাবন্দি সদস্য মুক্তি পেয়েছেন। টিএলপির সঙ্গে বৈরিতা এড়াতে এ পদক্ষেপ নিয়েছে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সরকার।

জিও টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, পাঞ্জাব প্রদেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া হয় টিএলপির সাড়ে তিন শ নেতা-কর্মীকে। এর আগে রোববার সংগঠনটির সঙ্গে দিনভর আলোচনা করে ইসলামাবাদ।

গত সপ্তাহে ইসলামাবাদে গোষ্ঠীটি পদযাত্রা কর্মসূচির ঘোষণা দিলে প্রদেশজুড়ে ধরপাকড় শুরু করে পাঞ্জাব পুলিশ। এরপর এক সপ্তাহে গ্রেপ্তার হন সংগঠনটির শত শত নেতা-কর্মী।

তারপরেও রোববার পাঞ্জাবের মুরিদকে শহরে জড়ো হন নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনটির লাখো সদস্য। এর ফলে অচল হয়ে পড়ে সংলগ্ন কয়েকটি জাতীয় মহাসড়ক। অচলাবস্থা নিরসনে টিএলপির সঙ্গে বৈঠকের উদ্যোগ নেয় ইসলামাবাদ।

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ রশিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে জানিয়েছেন, টিএলপির সঙ্গে সমঝোতার অংশ হিসেবে এখন মুরিদকের সড়কগুলো খুলে দেয়ার অপেক্ষায় রয়েছে সরকার।

টিএলপিপ্রধান সাদ হোসেন রিজভির মুক্তির পরিকল্পনা এগোতে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

পাকিস্তানের শীর্ষ দৈনিক ডনের একটি প্রতিবেদনে পুরো বিষয়টিকে আখ্যায়িত করা হয়েছে ‘সহিংস বিক্ষোভকারীদের সামনে সরকারের আরেকটি পূর্ণাঙ্গ আত্মসমর্পণ’ হিসেবে।

টিএলপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত খাদিম রিজভির ছেলে সাদ হোসেন রিজভি। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে পাঞ্জাবের কারাগারে বন্দি তিনি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবিষয়ক অধ্যাদেশের অধীনে গ্রেপ্তার হন সাদ রিজভি।

গত বছর ফ্রান্সের একটি রম্য পত্রিকা মহানবী হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ করেছিল। ওই ঘটনায় ইসলাম ধর্মের অবমাননার অভিযোগে গণবিক্ষোভের আয়োজন করেছিল টিএলপি। দাবি জানিয়েছিল পাকিস্তানে নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূতকে দেশে ফেরত পাঠানোর এবং ফ্রান্স থেকে সব ধরনের পণ্য আমদানি নিষিদ্ধের।

শুধু পাকিস্তানেই নয়, মহানবী (স.)-এর ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশকে ধর্মীয় অবমাননা হিসেবে নিয়েছিল বিভিন্ন দেশের মুসলিমরা। এর জেরে ২০২০ সালের অক্টোবরে বিশ্বব্যাপী ‘ফরাসি পণ্য বর্জন’ কর্মসূচির মুখে পড়ে ফ্রান্স সরকার।

পরে মহানবী (স.)-এর ব্যঙ্গচিত্র পুনরায় প্রকাশে রম্য পত্রিকাটির নেয়া সিদ্ধান্তে সমর্থন জানিয়েছিলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল মাখোঁ। এতে ক্ষুব্ধ টিএলপি পাকিস্তানজুড়ে ফ্রান্স-বিরোধী কর্মসূচি গ্রহণ করেছিল।

চলতি বছরের এপ্রিলে টিএলপির ফ্রান্স-বিরোধী কর্মসূচির সময় অচল হয়ে পড়ে লাহোর। সহিংসতায় প্রাণ যায় কমপক্ষে ছয় পুলিশ কর্মকর্তার।

শেয়ার করুন

শীতে অর্ধেক আফগান চরম খাদ্যসংকটে ভুগবে: জাতিসংঘ

শীতে অর্ধেক আফগান চরম খাদ্যসংকটে ভুগবে: জাতিসংঘ

আসন্ন শীতে ২ কোটি ২০ লাখের বেশি আফগান চরম খাদ্যসংকটে পড়বে বলে সোমবার সতর্ক করে ডব্লিউএফপি। ছবি: রয়টার্স

ডব্লিউএফপির নির্বাহী পরিচালক ডেভিড বিসলে বলেন, ‘আফগানিস্তানকে সহায়তায় আমরা যদি এখনই উদ্যোগ না নিই, তাহলে ২ কোটি ২০ লাখের বেশি আফগানকে এই শীতে হয় দেশ ছাড়তে হবে, নয়তো খাদ্যের অভাবে মরতে হবে।’

চরম মানবিক বিপর্যয়ে থাকা আফগানিস্তানের অর্ধেকের বেশি মানুষ আসছে শীতে প্রকট খাদ্যসংকটে ভুগবে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের সংস্থা বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)।

ডব্লিউএফপির পক্ষ থেকে সোমবার এ সতর্কবার্তা দেয়া হয় বলে বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ডব্লিউএফপির নির্বাহী পরিচালক ডেভিড বিসলে বলেন, ‘আফগানিস্তানকে সহায়তায় আমরা যদি এখনই উদ্যোগ না নিই, তাহলে ২ কোটি ২০ লাখের বেশি আফগানকে এই শীতে হয় দেশ ছাড়তে হবে, নয়তো খাদ্যের অভাবে মরতে হবে।’

জাতিসংঘের কর্মকর্তারা এএফপিকে জানান, আফগানিস্তানে চলমান সংকটের মাত্রা এরই মধ্যে ইয়েমেন বা সিরিয়ার চেয়ে বেশি। এ ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিতে খাদ্যসংকটের পরিস্থিতি ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গো ছাড়া জরুরি অবস্থার মধ্য দিয়ে যাওয়া অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে খারাপ।

বিসলে এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আফগানিস্তান এ মুহূর্তে চরম মানবিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দেশটির খাদ্যনিরাপত্তা ভেঙে পড়েছে।

‘আফগানিস্তান খুব দ্রুতই বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। আমাদের এখনই পদক্ষেপ নেয়া উচিত, নয়তো অনেক দেরি হয়ে যাবে।’

ডব্লিউএফপি ও জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দুজনের মধ্যে একজন আফগান তৃতীয় পর্যায়ের ‘সংকট’ বা চতুর্থ পর্যায়ের ‘জরুরি’ খাদ্য ঘাটতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। চতুর্থ পর্যায় দুর্ভিক্ষের এক ধাপ নিচে।

জাতিসংঘের কর্মকর্তারা জানান, এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ শীত এবার দেখতে যাচ্ছে আফগানরা।

১৫ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে কট্টর ইসলামপন্থি তালেবান। এর কয়েক সপ্তাহ পর নিজেদের ৩৩ জন নেতা নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করে গোষ্ঠীটি।

তবে তালেবান এখন পর্যন্ত কোনো দেশের স্বীকৃতি অর্জন করতে পারেনি। গোষ্ঠীটির ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞাও বলবত রয়েছে।

এ ছাড়া নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) সম্প্রতি আফগানিস্তানজুড়ে বেশ কয়েকটি হামলা চালিয়ে তালেবানকে আরও বেকায়দায় ফেলেছে। কারণ সরকার গঠনের সময় তারা দেশে স্থিতিশীলতার অঙ্গীকার করেছিল।

অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আফগানিস্তানের খরা পরিস্থিতি ঘন ঘন ও তীব্র হচ্ছে।

আফগানিস্তানের মানবিকসংকটের বিষয়ে জানতে চাইলে তালেবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, ‘আমরা দেশের মানুষকে চলমান পরিস্থিতি থেকে বের করার চেষ্টা করছি। বৈশ্বিক মানবিক সহায়তাও আমরা পেতে শুরু করেছি।

মুজাহিদ অঙ্গীকার করে বলেন, ‘জনগণকে পর্যাপ্ত পরিমাণে খাদ্য, কাপড়সহ অন্যান্য সহায়তা দেয়ার চেষ্টা হচ্ছে। সব উদ্বেগ দূর করা হবে।’

এদিকে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, আফগানিস্তানে তাদের মানবিক সহায়তা প্রয়োজনের তুলনায় কেবল এক-তৃতীয়াংশ।

ডব্লিউএফপির নির্বাহী পরিচালক বিসলে বলেন, ‘আফগানিস্তানে খাদ্যসংকটে ভোগা মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। খাদ্যের অভাবে শিশুরা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে। কেবল প্রতিশ্রুতি মানুষের মুখে অন্ন জোগাবে না। আফগানদের নগদ অর্থের প্রয়োজন।

‘আফগানিস্তানের সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই এগিয়ে আসতে হবে।’

শেয়ার করুন

ক্ষুধা মেটাতে কাজের বিনিময়ে গম কর্মসূচি তালেবানের

ক্ষুধা মেটাতে কাজের বিনিময়ে গম কর্মসূচি তালেবানের

দারিদ্র্য ও ক্ষুধা লাঘবে কাজের বিনিময়ে গম কর্মসূচি শুরু হচ্ছে আফগানিস্তানে। ছবি: এএফপি

রাজধানী কাবুলের দক্ষিণাঞ্চলে আয়োজিত ওই সম্মেলনে মুজাহিদ বলেন, ‘আফগানিস্তানের প্রধান শহর ও গ্রামে কাজের বিনিময়ে গম কর্মসূচি পরিচালিত হবে। শুধু কাবুলেই ৪০ হাজার মানুষকে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।’

আফগানিস্তানজুড়ে চলমান চরম ক্ষুধা ও দারিদ্র্য নিরসনে কাজের বিনিময়ে গম কর্মসূচি হাতে নিয়েছে তালেবান সরকার। এ কর্মসূচির আওতায় দেশটির হাজার হাজার মানুষকে গম দেয়া হবে।

তালেবানের প্রধান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ রোববার সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন বলে বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

রাজধানী কাবুলের দক্ষিণাঞ্চলে আয়োজিত ওই সম্মেলনে মুজাহিদ বলেন, ‘আফগানিস্তানের প্রধান শহর ও গ্রামে কাজের বিনিময়ে গম কর্মসূচি পরিচালিত হবে। শুধু কাবুলেই ৪০ হাজার মানুষকে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।’

তিনি বলেন, ‘বেকারত্বের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এ পদক্ষেপ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গম পেতে শ্রমিকদের অবশ্যই কঠোর পরিশ্রম করতে হবে।’

আগস্টে তালেবান ক্ষমতা দখলের পর থেকে দারিদ্র্য, খরা, বিদ্যুৎ না থাকাসহ ধসে পড়া অর্থনৈতিক ব্যবস্থা দেখছে আফগানরা। আসন্ন শীতে তাদের দুর্দশা আরও বাড়বে বৈ কমবে না বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের।

তালেবানের কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচির আওতায় দেশটির শ্রমিকরা নেই। যেসব আফগান সম্প্রতি বেকার হন ও শীতের সময় অনাহারের ঝুঁকিতে রয়েছেন, কেবল তারাই এ কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার সুযোগ পাবেন।

দুই মাস দীর্ঘ এ কর্মসূচি চলাকালে কাবুলে ১১ হাজার ৬০০ টন গম বিতরণ করা হবে। আর হেরাত, জালালাবাদ, কান্দাহার, মাজার-ই-শরিফ ও পল-ই-খোমরিসহ অন্যান্য শহরে প্রায় ৫৫ হাজার টন গম দেয়া হবে।

নদী খননসহ অন্যান্য কার্যক্রম ওই কর্মসূচির মধ্যে রাখা হয়েছে।

কাবুলের গ্রামাঞ্চলীয় রিশ খর এলাকায় ছোট একটি খাল খননের মাধ্যমে ওই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তালেবান মুখপাত্র মুজাহিদ, কৃষিমন্ত্রী আব্দুল রহমান রশিদ, কাবুলের মেয়র হামদুল্লাহ নোমানিসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা।

১৫ আগস্ট কাবুল পতনের মধ্য দিয়ে আফগানিস্তানের ক্ষমতা তালেবানের হাতে যায়। ক্ষমতা দখলের সপ্তাহখানেক পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করে তালেবান।

তবে সরকার গঠনের দুই মাসের বেশি সময় পার হলেও কোনো দেশ এখন পর্যন্ত তালেবানের নতুন সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি।

এ ছাড়া তালেবান ক্ষমতায় আসার পর যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা আফগানিস্তানের সম্পদ জব্দ করে। এতে দেশটির অর্থনীতি আরও নাজুক হয়ে পড়ে।

আফগানিস্তানের চরম অর্থনৈতিক ও মানবিক সংকট কিছুটা লাঘবে শুক্রবার পাঁচ বিলিয়ন রুপির মানবিক সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দেয় পাকিস্তান।

শেয়ার করুন

মিয়ানমার থেকে দলে দলে ভারতে হাজারো শরণার্থী

মিয়ানমার থেকে দলে দলে ভারতে হাজারো শরণার্থী

ভারতের মিজোরামে সীমান্তরক্ষীদের প্রহরা। ছবি: এএফপি

১৪টি গ্রামে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র ও ত্রাণ শিবির তৈরি করেছেন বাসিন্দারা। শরণার্থীদের খাদ্য ও পোশাক সরবরাহের পাশাপাশি আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে কয়েকটি বেসরকারি সাহায্য সংস্থা এবং প্রেসবাইটারিয়ান, ব্যাপটিস্ট ও রোমান ক্যাথলিক চার্চ কর্তৃপক্ষ।

মিয়ানমারের সংঘাতকবলিত শান প্রদেশ থেকে ভারতের মিজোরাম রাজ্যে ঢুকছে হাজারো শরণার্থী। মিজোরামের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত জেলাগুলোতে আশ্রয় নিচ্ছে তারা।

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, মিয়ানমারে সেনাবাহিনী ও বিদ্রোহীদের মধ্যে সহিংস সংঘাত অব্যাহত থাকায় ভারতে আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।

এক পুলিশ কর্মকর্তার রোববার দেয়া তথ্যের বরাত দিয়ে বলা হয়, মিজোরামের কয়েকটি অঞ্চলে বর্তমানে আশ্রয় নিয়ে আছে নারী ও শিশুসহ মিয়ানমারের কমপক্ষে ১৩ হাজার নাগরিক। এদের মধ্যে দেড় হাজারের বেশি মানুষের বিস্তারিত তথ্য এখনও নথিভুক্ত হওয়া বাকি।

প্রতিদিনই নতুন করে শরণার্থীদের প্রবেশ ঘটছে বলে এ সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। তার ওপর আন্তর্জাতিক সীমান্তে প্রবেশপথ ও বহির্গমন পথের কাছে ঠাঁই নেয়া কিছু মানুষ নিয়মিত ভারতে ঢুকছে, বের হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা, কমিউনিটি নেতা, বেসরকারি সাহায্য সংস্থা ও গির্জা কর্তৃপক্ষ মিয়ানমারের নাগরিকদের আশ্রয় ও খাবারের ব্যবস্থা করছে।

মিজোরাম পুলিশের তথ্য বিশ্লেষণ করে ভারতের সর্ববৃহৎ বার্তা সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, রাজ্যের ছয়টি সীমান্ত জেলা চাম্পাই, লওঙত্লাই, সিয়াহা, সেরছিপ, নাহথিয়াল ও সাইতুয়ালে ৯ হাজার ৪১১ শরণার্থীর থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মিজোরামের মোট ১১টি জেলায় মিয়ানমারের নাগরিকরা আশ্রয় নিয়েছেন। শুধু চাম্পাই জেলাতেই আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ৬ হাজার মানুষ, যা ১১টি জেলার মধ্যে সর্বোচ্চ। প্রাদেশিক রাজধানী আইজাওলে আশ্রয় নিয়েছেন এক হাজার ৬২২ জন।

ইয়াং মিজো অ্যাসোসিয়েশনের তুইপুইরাল শাখার সভাপতি এম সি লালরামেঙ্গা জানান, চাম্পাই জেলার ২১টি গ্রাম নিয়ে গঠিত তুইপুইরালে বর্তমানে মিয়ানমারের প্রায় ২ হাজার ৭০০ নাগরিক থাকছেন।

তিনি জানান, মিয়ানমারের শান প্রদেশ থেকে বিরামহীনভাবে মিজোরামে প্রবেশ করছেন শরণার্থীরা। ফসল কাটার মৌসুমে আশ্রয়প্রার্থীদের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

লালরামেঙ্গা বলেন, অঞ্চলটির ১৪টি গ্রামে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র ও ত্রাণ শিবির তৈরি করেছেন বাসিন্দারা। শরণার্থীদের খাদ্য ও পোশাক সরবরাহের পাশাপাশি আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে কয়েকটি বেসরকারি সাহায্য সংস্থা এবং প্রেসবাইটারিয়ান, ব্যাপটিস্ট ও রোমান ক্যাথলিক চার্চ কর্তৃপক্ষ।

সেন্ট্রাল ইয়াং মিজো অ্যাসোসিয়েশনের উপ-সভাপতি লালমাছুয়ানা জানান, শরণার্থীদের সহায়তা দিতে সংস্থাটি সম্প্রতি ভারতীয় মুদ্রায় ১৫ লাখ রুপি খরচ করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে এ অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল।

মিয়ানমারের সঙ্গে মিজোরামের আন্তর্জাতিক সীমানার দৈর্ঘ্য ৫১০ কিলোমিটার। ছয়টি সীমান্ত জেলায় গত ৭ সেপ্টেম্বর থেকে শরণার্থীরা প্রবেশ করতে শুরু করে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থান হয়। গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার ভেঙে দিয়ে ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনী। এরপর থেকেই দেশটি থেকে প্রতিবেশী ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় মিজোরামে প্রতিদিন কমবেশি শরণার্থীর প্রবেশ অব্যাহত আছে।

তবে শান প্রদেশে সেনাবাহিনীর সঙ্গে বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহীদের সংঘাতের মধ্যে সম্প্রতি মিজোরামে বানের পানির মতো আশ্রয়প্রার্থীদের ঢল শুরু হয়।

মিজোরামে আশ্রয় নেয়া মিয়ানমারের বেশির ভাগ নাগরিকই সংখ্যালঘু শান সম্প্রদায়ের সদস্য। মিজোরামের মিজো আদিবাসীদের সঙ্গে জাতিগতভাবে সম্পর্কিত শানরা।

শেয়ার করুন