অন্যের দুঃখে বিষণ্নতায় ভোগে ইঁদুর: গবেষণা

অন্যের দুঃখে বিষণ্নতায় ভোগে ইঁদুর: গবেষণা

দুই ইঁদুরের দ্বন্দ্ব দেখে বিষণ্নতায় ভোগা তৃতীয় ইঁদুরটি। ছবি: এপি

খাঁচার ভেতরে দুই ইঁদুরের যুদ্ধ দেখে বাইরের তৃতীয় একটি ইঁদুরের মধ্যে বিষণ্নতার উপসর্গ তৈরি হয়েছে। কারণ দুর্বল ইঁদুরটির জন্য বাইরের ইঁদুরটির মধ্যে সহানুভূতি জন্মেছিল। এমনকি ১০ দিন ধরে দুই ইঁদুরের দ্বন্দ্ব দেখার পর তৃতীয় ইঁদুরটির মধ্যে ‘প্রবল সামাজিক বিচ্ছিন্নতাবোধের অনুভূতি’ তৈরি হয়েছিল এবং সে আনন্দ উপভোগের ক্ষমতাই হারিয়ে ফেলেছিল।

স্বচক্ষে কোনো মানসিক চাপযুক্ত ঘটনার সাক্ষী হলে তা বিষণ্নতায় ভোগার কারণ হতে পারে। ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে টোকিও ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্সের গবেষকরা এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন।

ভাইস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, গবেষণার জন্য একটি খাঁচায় বড় ও ছোট দুটি ইঁদুর আটকে রাখা হয়েছিল। এরপর ছোট ইঁদুরটিকে জোর করে বড় ইঁদুরটির এলাকায় ঢুকতে বাধ্য করেন বিজ্ঞানীরা। এতে বড় ইঁদুরটি নিজের জায়গা বাঁচাতে আগ্রাসী হয়ে ওঠে।

গত মাসে বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী বিহেইভিয়ারাল ব্রেইন রিসার্চে প্রকাশিত মূল গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, খাঁচার ভিতরে কী ঘটছে না ঘটছে- সে বিষয়ে মানুষের মধ্যে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় না।

কিন্তু এ বিষয়ে বাইরে থাকা তৃতীয় একটি ইঁদুরের প্রতিক্রিয়া কেমন হয়, তা জানার চেষ্টা করেছিলেন বিজ্ঞানীরা।

দেখা গেছে যে খাঁচার ভেতরে দুই ইঁদুরের যুদ্ধ দেখে বাইরের তৃতীয় একটি ইঁদুরের মধ্যে বিষণ্নতার উপসর্গ তৈরি হয়েছে। কারণ দুর্বল ইঁদুরটির জন্য বাইরের ইঁদুরটির মধ্যে সহানুভূতি জন্মেছিল।

গবেষণা প্রতিবেদনের প্রধান লেখক ও ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্সেসের অধ্যাপক আকিয়োশি সাইতোহ বলেন, ‘আমি চাই যে মানুষ বুঝুক, মানসিক চাপ শুধু বিষণ্নতায় ভোগা মানুষের মস্তিষ্কেই প্রভাব ফেলে না, তেমন কিছু দেখা বাকিদের মনেও একই রকম চাপ তৈরি করে।’

১০ দিন ধরে দুই ইঁদুরের দ্বন্দ্ব দেখার পর তৃতীয় ইঁদুরটির মধ্যে ‘প্রবল সামাজিক বিচ্ছিন্নতাবোধের অনুভূতি’ তৈরি হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সমাজবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘সোশ্যাল ডিফিট মডেল’।

সাইতোহ বলেন, ‘ইঁদুর বেশ সামাজিক একটি প্রাণী। অথচ এ ঘটনায় আমরা দেখেছি যে তৃতীয় ইঁদুরটি অন্য ইঁদুরদের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে, যা একেবারেই স্বাভাবিক নয়।’

তৃতীয় ইঁদুরটি আনন্দ উপভোগের ক্ষমতাই হারিয়ে ফেলেছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ইঁদুরের সামনে ঘামের পানি ও সাধারণ খাবার পানি রাখা হলে সে প্রায় সবসময় মিষ্টি পানি বেছে নেবে। কারণ সেটি বেশি সুস্বাদু। কিন্তু এক্ষেত্রে সামাজিক বিচ্ছিন্নতায় ভোগা তৃতীয় ইঁদুরটি তা করেনি। এর অর্থ হলো তার আনন্দের অনুভূতি ম্লান হয়ে গিয়েছিল।’

এখানে উল্লেখযোগ্য হলো যে ইঁদুরটির মস্তিষ্কের ‘হিপোক্যাম্পাস’ অংশে নিউরন তৈরির পরিমাণও কমে গিয়েছিল। মস্তিষ্কের হিপোক্যাম্পাস অংশ শেখা ও আবেগের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

গবেষকরা মনে করেন, এটি বিষণ্নতা তৈরির অন্যতম কারণ।

মানুষের সঙ্গে ইঁদুরের তুলনা অসঙ্গতিপূর্ণ হলেও ‘সোশ্যাল ডিফিট মডেল’-এর মতো কৌশলগত বিষয়ে মানসিক সুস্থতার প্রশ্নে মানুষের সঙ্গে ইঁদুরের সাদৃশ্য তাৎপর্যপূর্ণ।

আরও পড়ুন:
করোনায় চাকরি হারিয়ে মানসিক রোগ
মহামারিতে বিপর্যয় মানসিক স্বাস্থ্যসেবায়

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মানুষের দেহে শূকরের কিডনির সফল প্রতিস্থাপন

মানুষের দেহে শূকরের কিডনির সফল প্রতিস্থাপন

নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালে ৫৪ ঘণ্টার অস্ত্রোপচার শেষে মানবদেহে শূকরের কিডনি প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। ছবি: রয়টার্স

কিডনি কতটা কার্যক্ষম, তা পরিমাপ করা হয় মানবদেহে ক্রিয়েটিনিন নামক এক ধরনের রাসায়নিকের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে। ক্রিয়েটিনিনের অস্বাভাবিক উপস্থিতির অর্থ হলো- কিডনি ঠিকভাবে কাজ করছে না। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শূকরের কিডনি গ্রহণের আগে রোগীর দেহে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা অস্বাভাবিক ছিল, নতুন কিডনি গ্রহণের পর যা স্বাভাবিক হয়েছে।

প্রথমবারের মতো কোনো মানুষের দেহে একটি শূকরের কিডনি বা বৃক্ক সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটি যুগান্তকারী সাফল্য বলে মনে করা হচ্ছে।

কিডনি প্রতিস্থাপনের পর গ্রহীতার দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তাৎক্ষণিকভাবে সেটি প্রত্যাখ্যান করেনি। অর্থাৎ কোনো ধরনের নেতিবাচক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরি হয়নি রোগীর দেহে।

আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে মানবদেহে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের প্রযুক্তি বিদ্যমান হলেও প্রতিস্থাপনযোগ্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের পর্যাপ্ততা নেই। ফলে মানুষের দেহ শূকরের কিডনি গ্রহণ করলে তা প্রতিস্থাপনযোগ্য অঙ্গের ঘাটতি মেটাতে সাহায্য করবে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোন হেলথে ৫৪ ঘণ্টার অস্ত্রোপচার শেষে কিডনি প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছে।

প্রতিস্থাপিত কিডনিটি যেন রোগীর দেহ প্রত্যাখ্যান না করে, তা নিশ্চিতে জিন পরিবর্তিত একটি শূকরকে ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে ওই কিডনির ট্যিসুতে তাৎক্ষণিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টিকারী ক্ষুদ্র জীবাণুর উপস্থিতি ছিল না।

শূকরের কিডনিগ্রহীতা একজন ‘ব্রেন-ডেড’ রোগী, অর্থাৎ যার মস্তিষ্ক কার্যক্ষমতা হারিয়েছে। তিনি একজন নারী, ছিলেন লাইফ সাপোর্টে। সম্প্রতি তার কিডনিও বিকল হতে বসে।

গবেষকরা জানান, লাইফ সাপোর্ট খুলে নেয়ার আগে ওই নারীর দেহে পরীক্ষামূলকভাবে শূকরের কিডনি প্রতিস্থাপনের অনুমতি দেয় তার পরিবার।

প্রধান গবেষক ও অঙ্গ প্রতিস্থাপনকারী চিকিৎসক ড. রবার্ট মন্টোগোমারি জানান, টানা তিনদিন দেহের বাইরেই রোগীর রক্তনালীর সঙ্গে যুক্ত ছিল নতুন কিডনিটি। এ সময়ে কোনোরকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি এবং বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা কিডনির কার্যকারিতাও দৃশ্যত স্বাভাবিক ছিল। ফলে এরপর কিডনিটি ওই নারীর দেহে প্রবেশ করানোর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।

সদ্য কিডনি প্রতিস্থাপিত একজন মানুষের দেহে যতটুকু মূত্র তৈরি হয়, নতুন কিডনি সে প্রত্যাশার সঙ্গে মিল রেখেই কাজ করেছে।

কিডনি কতটা কার্যক্ষম, তা পরিমাপ করা হয় মানবদেহে ক্রিয়েটিনিন নামক এক ধরনের রাসায়নিকের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে। ক্রিয়েটিনিনের অস্বাভাবিক উপস্থিতির অর্থ হলো- কিডনি ঠিকভাবে কাজ করছে না।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শূকরের কিডনি গ্রহণের আগে রোগীর দেহে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা অস্বাভাবিক ছিল, নতুন কিডনি গ্রহণের পর যা স্বাভাবিক হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের অপেক্ষায় আছেন এক লাখ সাত হাজার মানুষ। এদের মধ্যে ৯০ হাজারের বেশি মানুষের দরকার কিডনি।

সংশ্লিষ্ট সংস্থা ইউনাইটেড নেটওয়ার্ক ফর অরগ্যান শেয়ারিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিস্থাপনযোগ্য কিডনির খোঁজ পেতে একেকজন রোগীকে গড়ে তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।

মানুষের দেহে অন্য প্রাণির অঙ্গ প্রতিস্থাপনের সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা চলছে কয়েক দশক ধরে। কিন্তু প্রতিবারই মানবদেহ অন্য প্রাণির অঙ্গ প্রত্যাখ্যান করেছে, অর্থাৎ গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।

আরও পড়ুন:
করোনায় চাকরি হারিয়ে মানসিক রোগ
মহামারিতে বিপর্যয় মানসিক স্বাস্থ্যসেবায়

শেয়ার করুন

রকেটে ওঠার অপেক্ষায় নাসার নতুন চন্দ্রযান

রকেটে ওঠার অপেক্ষায় নাসার নতুন চন্দ্রযান

কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই নভোযান ওরিয়নকে রকেটের সঙ্গে যুক্ত করার কাজ সম্পন্ন হবে। ছবি: নাসা

চন্দ্রজয় অভিযান অ্যাপোলোর পর নতুন এ প্রকল্পের নাম দেয়া হয়েছে আর্টিমিজ। বলা হচ্ছে, আর্টিমিজ সফল হলে পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহ চাঁদে মানুষের এবারের উপস্থিতি হবে বেশ দীর্ঘমেয়াদী।

চন্দ্রজয়ের নতুন অভিযানের জন্য প্রস্তুত ওরিয়ন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার পরবর্তী প্রজন্মের এই মহাকাশযানটি এখন কেবল একটি রকেটের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার অপেক্ষায়।

সব ঠিক থাকলে রকেটে যুক্ত হওয়ার পর ২০২২ সালের শুরুতেই চাঁদের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবে ওরিয়ন।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারে এক ভবন থেকে অন্য ভবনে সোমবার স্থানান্তর করা হয়েছে ওরিয়নকে। সেখানে পরবর্তী ধাপে শক্তিশালী স্পেস লঞ্চ সিস্টেম (এসএলএস) রকেটে তোলা হবে ওরিয়নকে।

এর আগে আরেকটি ভবনে ছিল ওরিয়ন। সেখানে ওরিয়নের সঙ্গে মহাকাশযানের লঞ্চ অ্যাবর্ট সিস্টেম (এলএএস) যুক্ত করেন প্রকৌশলীরা। এ ব্যবস্থার মাধ্যমেই মহাকাশে গন্তব্যে পৌঁছানোর পর রকেট থেকে আলাদা হবে ওরিয়ন।

মূলত রকেট থেকে মহাকাশযানকে সামনের দিকে ঠেলে দিতে এবং মানব অভিযানের ক্ষেত্রে জরুরি পরিস্থিতিতে রকেট থেকে নভোচারীদের দূরে সরাতে এলএএস ব্যবহার করা হয়।

চাঁদের কক্ষপথের উদ্দেশ্যে ওরিয়নের প্রথম ফ্লাইটটি হবে মানববিহীন। ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদের বুকে মানুষ পাঠানোর যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার অংশ এটি।

চন্দ্রজয় অভিযান অ্যাপোলোর পর নতুন এ প্রকল্পের নাম দেয়া হয়েছে আর্টিমিজ। বলা হচ্ছে, আর্টিমিজ সফল হলে পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহ চাঁদে মানুষের এবারের উপস্থিতি হবে বেশ দীর্ঘমেয়াদী।

আর্টিমিজ-১ মিশনে ব্যবহার্য ওরিয়নের বর্তমান ঠিকানা কেনেডি স্পেস সেন্টারের বিখ্যাত ভেহিকল অ্যাসেম্বলি বিল্ডিং বা ভিএবি ভবন। এই ভবনটি মহাকাশযানের বিভিন্ন অংশ একটি আরেকটির সঙ্গে জোড়া লাগানো হয়।

৩২২ ফুট লম্বা এসএলএস লঞ্চারে যুক্ত হতে যাওয়া শেষ গুরুত্বপূর্ণ অংশ ওরিয়ন। ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে ভিএবিতে ওরিয়নকে আনার জন্য কাজ করছিলেন প্রকৌশলীরা।

আর্টিমিজ-১ মিশনের ব্যাপ্তি হবে তিন সপ্তাহ। এর মাধ্যমে নভোচারী পাঠানোর আগে এসএলএস ও ওরিয়নের ক্ষমতা পরীক্ষা করে দেখা হবে। এ পরীক্ষা সফল হলে ২০২৩ সালে আর্টিমিজ-২ মিশনে চাঁদ প্রদক্ষিণে পাঠানো হবে মানুষ।

আর্টিমিজ-৩ মিশনে চাঁদের বুকে ফের পা রাখবে নভোচারীরা। ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো ১৭ অভিযানে প্রথম ও শেষবার চাঁদে পা রেখেছিল মানুষ।

মানুষকে চাঁদের কক্ষপথ থেকে পৃথিবীপৃষ্ঠে ফিরিয়ে আনবে স্টারশিপ নামের একটি যান। স্টারশিপ নির্মাণে আমেরিকান ধনকুবের ইলন মাস্কের মহাকাশযান নির্মাণ ও মহাকাশযাত্রা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সকে চূড়ান্ত করেছে নাসা।

সব ঠিক থাকলে চাঁদে দ্বিতীয়বার মানুষের পা পড়তে পারে ২০২৪ সালে। যদিও অধিকাংশ পর্যবেক্ষকের মতে, এ তারিখ আরও পেছাবে।

এ অভিযানে ব্যবহার্য মহাকাশযান ওরিয়নের ধাতব কাঠামোটিও চলতি মাসে কেনেডি স্পেস সেন্টারে পৌঁছেছে।

আর্টিমিজ-৩ মিশন সফল হলে চাঁদের বুকে হাঁটবেন প্রথম নারী নভোচারী। তার সঙ্গে থাকবেন আরেকজন পুরুষ নভোচারী।

আর্টিমিজের মাধ্যমে প্রথম অশ্বেতাঙ্গ ব্যক্তি পা রাখবেন চাঁদে।

আরও পড়ুন:
করোনায় চাকরি হারিয়ে মানসিক রোগ
মহামারিতে বিপর্যয় মানসিক স্বাস্থ্যসেবায়

শেয়ার করুন

‘ক্রিস্টাল পৃথিবীতে’ ব্যাখ্যাতীত সব রহস্যের সমাধান!

‘ক্রিস্টাল পৃথিবীতে’ ব্যাখ্যাতীত সব রহস্যের সমাধান!

পেন্টাডোডেকাহেড্রন আকৃতির ক্রিস্টাল। ছবি: সংগৃহীত

পৃথিবীর ব্যাখ্যাতীত ঘটনাগুলোকে ব্যাখ্যার জন্যে অদ্ভুত এক গাণিতিক তত্ত্ব উদ্ভাবন করেছেন নিউজিল্যান্ডের এক সৌখিন গণিতবিদ ব্রুস ক্যাথি। তার তত্ত্বের তিনি নাম দিয়েছেন হারমোনিক গ্রিড। তার এ তত্ত্বকে বিজ্ঞান হিসেবে মানতে অনেকে নারাজ, তবে কৌতুহলীও অনেকে।

আন-আইডেন্টিফাইড ফ্লাইং অবজেক্ট বা ইউএফও নিয়ে মানুষের আগ্রহের শেষ নেই। নিরন্তর গবেষণা চলছে কথিত এইসব ভিনগ্রহবাসীদের বাহনগুলো নিয়ে। নিউজল্যান্ডের সাবেক এক শখের গণিতবিদ ছক কষে বের করেছিলেন ইউএফও দেখা যাওয়ার প্যাটার্ন। তার ওই তত্ত্ব টেনে এনেছে বহু প্রাচীন একটি ধারণাকে - ক্রিস্টাল পৃথিবীর ধারণা। পেন্টাডোডেকাহেড্রন ও হারমোনিক গ্রিড নিয়ে বিশেষ এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স ভিত্তিক সাইট ‘ভাইস’নিউজবাংলা পাঠকদের জন্য সেটি অবলম্বনে লিখেছেন রুবাইদ ইফতেখার।

১৯৭৩ সালে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সের ‘কেমিস্ট্রি অ্যান্ড লাইফ’ জার্নালে চমকপ্রদ শিরোনামের একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়; শিরোনাম ছিল ‘পৃথিবী কি একটি বিশাল ক্রিস্টাল (স্ফটিক)?’

প্রতিবেদনে বেশ গভীর অনুসন্ধান করা হয়। সেটা অনেকটা এমন ছিল: পিথাগোরাস পেন্টাডোডেকাহেড্রন নামের একটি মিশ্র-জ্যামিতিক আকার নিয়ে মজে ছিলেন। এ বিখ্যাত গ্রিক দার্শনিক একে বলতেন ‘মহাজাগতিক গোলক’। প্লেটোও এই আকৃতি নিয়ে আগ্রহী হন ও এর নাম দেন ‘আসল পৃথিবী’। মহাবিশ্ব সৃষ্টির ভিত্তি হিসেবে এ জ্যামিতিক আকারটিকে ধরে নিয়েছিলেন দুজন। পিথাগোরাস, প্লেটো ও তাদের পরবর্তী প্রজন্মের বুদ্ধিজীবীর পাশাপাশি ও অতিন্দ্রীয়বাদের (মিসটিসিজমের) অনেকগুলো ধারায় এই পেন্টাডোডেকাহেড্রনের আসল শক্তিকে গোপন রাখার বিষয়ে জোর দেয়া হয়।

রাশিয়ার প্রতিবেদনটিতে দাবি করা হয় যে, সৃষ্টির শুরুতে পৃথিবী ছিল পেন্টাডোডেকাহেড্রনের কৌণিক মাত্রার একটি বৃহৎ ক্রিস্টাল। কালক্রমে গ্রহটি শেষ ক্ষয়ে ক্ষয়ে একটি গোলকের আকার নেয়। প্রতিবেদনে এই তত্ত্ব দেয়া হয়, ‘পৃথিবী নিজেই একটি জ্যামিতিকভাবে নিয়ন্ত্রিত দ্বৈত গ্রিড তৈরি করে।’ প্রথম গ্রিড ১২টি পঞ্চভুজাকৃতির খণ্ড দিয়ে তৈরি। দ্বিতীয়টি ২০টি সমবাহু ত্রিভুজের সমন্বয়ে তৈরি।

রাশিয়ান গবেষণায় বের করা হয় যে এই স্ফটিক গ্রিডটি পৃথিবীর সমুদ্রের তলের উঁচু-নিচু, ফাটল ও মহাসাগরের নিচে পর্বতসারির সঙ্গে কোনো কোনো জায়গায় মিলে গেছে। মজার বিষয় হলো, ত্রিভুজের একটি শীর্ষবিন্দু গিয়ে পড়েছে কুখ্যাত বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলে। কয়েকটি গেছে প্রাচীন পেরুতে, ইস্টার আইল্যান্ডে ও গিজার পিরামিডে। এই ছেদবিন্দুগুলোতে ভূমিকম্প/আগ্নেয়গিরি, আজব আজব সব জন্তুজানোয়ারের বিচরণস্থল, চরম বায়ুমণ্ডলীয় চাপ, খনিজ আকরিক ও লোহার সঞ্চয় ও স্বাভাবিকের চেয়ে উচ্চতর চুম্বকত্বসহ অন্যান্য অসঙ্গতিপূর্ণ আচরণের দৃষ্টান্ত দেখা যায়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ‘পৃথিবীর জৈবমণ্ডলের অংশ হিসেবে মানুষও ক্রিস্টাল পৃথিবীর প্রভাবমুক্ত নয়’।

এ রকম একটি অদ্ভুত ধারণার ক্ষেত্রে রাশিয়ান ভূতত্ত্ববিদরা একা ছিলেন না। অর্ধেক পৃথিবী দূরত্বে থাকা ব্রুস ক্যাথি নামে নিউজিল্যান্ডের এক ব্যক্তি একই ধরণের গ্রিড তত্ত্ব নিয়ে কাজ করছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, তার এই তত্ত্ব দিয়ে প্রায় সব কিছু ব্যাখ্যা করা সম্ভব।

ইউএফও দেখা যাওয়ার নির্দিষ্ট প্যাটার্ন

ক্যাথি একাধারে ছিলেন নিউজিল্যান্ডের একটি এয়ারলাইনের পাইলট, শখের গণিতবিদ ও ইউএফও তত্ত্বের একজন বিশ্বাসী। ১৯৬৮ সালে একটি অদ্ভূত পর্যবেক্ষণ হাজির করেন তিনি। বিশ্বজুড়ে ইউএফও দেখার রিপোর্ট যাচাই করার পর ক্যাথি নিশ্চিত হন যে তিনি এগুলোর দেখা যাওয়ার স্থানের একটি ভৌগোলিক প্যাটার্ন সনাক্ত করেছেন।

তার জনপ্রিয় কয়েকটি বই ‘হারমোনিক সিক্সনাইনটিফাইভ’, ‘দ্য এনার্জি গ্রিড’ ও ‘দ্য পালস অফ দ্য ইউনিভার্স’-এ তিনি লেখেন, ‘প্রথমে ইউএফওর কেসগুলো এত ছড়ানো-ছিটানো ছিল যে, তাদেরকে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটা ছকে আনা প্রায় অসম্ভব ছিল।’ তবে ক্যাথি নিশ্চিত ছিলেন যে একটা প্যাটার্ন অবশ্যই আছে। যে কারণে তিনি তার তত্ত্ব নিয়ে অগ্রসর হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি আশা করছিলেন জ্যামিতিক পয়েন্টের জটলার মধ্যে ইউএফও কার্যকলাপের অন্তর্নিহিত কারণ খুঁজে পাওয়া যাবে।

‘ক্রিস্টাল পৃথিবীতে’ ব্যাখ্যাতীত সব রহস্যের সমাধান!
নিউজিল্যান্ডের শখের গণিতবিদ ব্রুস ক্যাথি। ছবি: সংগৃহীত

আধুনিক কম্পিউটারের সাহায্য ছাড়াই তিনি ইউএফও দেখার স্থানগুলোর প্রক্রিয়ার একটি প্যাটার্ন বের করেন। প্রথমে তিনি পৃথিবীর একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের একটি প্যাটার্ন প্রতিষ্ঠান করেন, যাকে মূল ধরে তার পক্ষে ‘অনুলিপি বা অনুমানের ভিত্তিতে বাকিগুলোকেও খুঁজে বের করা সম্ভব’ হবে। তবে কাজটি সঠিকভাবে শুরু করতে ক্যাথির দরকার পড়ে প্রচুর ডেটা।

দ্য এনার্জি গ্রিড বইতে ক্যাথি জানান, ১৯৬৫ সালের এপ্রিলে তিনি ইউএফও দেখার এক ‘স্বর্ণখনির’ সন্ধান পান। তিনি পত্রিকায় দেখতে পান, নিউজিল্যান্ড সায়েন্টিফিক অ্যান্ড স্পেস রিসার্চ নামের এক সংস্থা নতুন সদস্য খুঁজছে। তিনি ওই সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেন ও দেখেন তাদের কাছে প্রচুর পরিমাণ তথ্য অত্যন্ত চমৎকারভাবে গোছানো আছে। ক্যাথি তাদের কাছে ১২ বছর ধরে সংগ্রহ করা ২৫টি দেশের তথ্য পান। ক্যাথিকে তারা অবসর সময়ে এগুলো নিয়ে গবেষণার জন্য আমন্ত্রণ জানায়।

নিউজিল্যান্ডের বিভিন্ন অঞ্চলে একই ধরনের ইউএফওর দেখা যাওয়ার বর্ণনা আছে এমন সব রিপোর্টের তালিকা নিয়ে ক্যাথি দ্রুত কাজ শুরু করেন। ইউএফওগুলো দেখা যাবার সময়কে আরও ছোট করে আনেন ক্যাথি। স্থানীয় সময় রাত পৌনে ১০টা থেকে পরের ১৫ মিনিটের তথ্য বাছাই করেন তিনি। হাতে থাকা এই ডেটা পয়েন্টগুলোর সঙ্গে ক্যাথি টানা কয়েক সপ্তাহ ইউএফও ট্র্যাক লাইন হিসেব করেন ও সারা বিশ্বে অন্যান্য গবেষণার সঙ্গে তার হিসেবকে ক্রস-রেফারেন্স করেন।

নিউজিল্যান্ডের মানচিত্রের ওপর ক্যাথি একটি গ্রিড কল্পনা করেন। গ্রিডে উত্তর দক্ষিণ ও পূর্ব-পশ্চিম দিকে ৩০ মিনিটের চাপ হিসেবে করে অক্ষাংশ নেয়া হয়। এর অর্থ হচ্ছে, পৃথিবী পৃষ্ঠের বক্রতার সঙ্গে সমান্তরালে থেকে কেউ ৩০ মিনিটে নির্দিষ্ট দিকে যেটুকু দূরত্ব অতিক্রম করবেন সেইটুকু। হতবাক হয়ে তিনি লক্ষ্য করেন যে, তার ডেটা সেটের ১৬টি স্থির ও ১৭টি চলমান। ইউএফওর দেখা যাওয়ার সবগুলো স্থান তার কল্পিত গ্রিডের ছেদ বিন্দুতে নিঁখুতভাবে বসে গেছে।

ক্যাথি তার তত্ত্ব নিয়ে আরও অনেক দূর যেতে চেয়েছিলেন। তার লক্ষ্য ছিল, এই গ্রিডটিকে পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে দেয়া এবং ইতিহাসের প্রতিটি ইউএফও দর্শনের ঘটনাকে ট্র্যাক করা।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ও রাশিয়ান রিপোর্ট থেকে আংশিক অনুপ্রাণিত হয়ে ক্যাথি তার গ্রিডের হিসেবে মিলে যাওয়া প্রাকৃতিক ঘটনাগুলির তথ্য জোগাড় করেন। তার কাজগুলো একেবারে প্রান্তিক, এমনকি ইউএফও কমিউনিটিতেও এটি প্রান্তিক হিসেবে বিবেচিত। কীভাবে রাশিয়ান ওই গবেষণাটি বিজ্ঞানী সমাজ ও এর বাইরের গবেষকদের প্রভাবিত করেছে, সেটা বোঝা যায় ক্যাথির কাহিনী থেকে। তার কাজ থেকে এটাও প্রমাণ হয় যে অপ্রচলিত ধারার বিজ্ঞান থেকেও চমকপ্রদ সত্যের টুকরো বেরিয়ে আসতে পারে।

মহাসাগরের একটি অদ্ভূত আবিষ্কার ক্যাথিকে তার গবেষণা চালিয়ে নেয়ার এক নতুন পথের সন্ধান দেয়।

১৯৬৪ সালের ২৯ আগস্ট আমেরিকার একটি জাহাজ ‘এলটানিন’ দক্ষিণ আমেরিকার উপকূলবর্তী সমুদ্র তলদেশের গবেষণা কাজে ব্যস্ত ছিল। ওই সফরে পানির নিচের বেশ কিছু ছবি নেয়া হয় ও পরে ডেভেলপ করা হয়। ওই ছবিগুলোর একটিতে অনেকগুলো ক্রসবারসহ একটি সঠিক মাপের অ্যান্টেনা দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় দেখা যায়।

বস্তুটির অবস্থান ছিল অক্ষাংশ 59°08' দক্ষিণ, দ্রাঘিমাংশ 105° পশ্চিমে। ক্যাথির মতে সমুদ্রপৃষ্ঠের সাড়ে ১৩ হাজার ফুট নিচে এই ‘লোহার কারিগরি’ কোনো মানুষের পক্ষে বসানো সম্ভব না। দ্য নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড পত্রিকা একে দ্য এলটানিন অ্যান্টেনা নাম দেয়। পরবর্তীতে এই নামটিই পরিচিত হয়ে ওঠে।

এটা উল্লেখ করা দরকার যে, এলটানিন অ্যান্টেনার সঙ্গে বিরল প্রজাতির এক ধরনের সামুদ্রিক মাংশাসী স্পঞ্জ ক্ল্যাডরজিয়ার (Cladorhiza concrescens) অদ্ভূত মিল রয়েছে। ক্যাথি নিজেও এই মিলের কথা স্বীকার করেছেন, তবে ২০১৩ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বিশ্বাস করতেন যে, আসল সত্যকে ঢাকতেই এই স্পঞ্জের কথা বারবার বলা হচ্ছে।

‘ক্রিস্টাল পৃথিবীতে’ ব্যাখ্যাতীত সব রহস্যের সমাধান!
এলটানিন জাহাজের তোলা ‘অ্যান্টেনার’ ছবি। ছবি: সংগৃহীত

দ্য এনার্জি গ্রিড বইতে ক্যাথি বলেন, এই আবিষ্কারে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি এলটানিন অ্যান্টেনার কো-অরডিনেট, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ইউএফও দেখতে পাওয়া ও তার নিজের তৈরি গ্রিডের সমন্বয় ঘটানোর চেষ্টা শুরু করেন। তার এই গবেষণার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গা থেকে সহায়তা আসতে থাকে।

সহায়তার বড় একটা অংশ আসে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স ও নিউজিল্যান্ডের অন্য পাইলটদের কাছ থেকে। এলটানিনের মতো একই মাপের অপরিচিত কিছু রেডিও ট্র্যান্সমিটারের কথা তারা রিপোর্ট করেন। অচেনা ধরনের ট্র্যান্সমিটারগুলোতে জালের মতো কাঠামো রয়েছে ও প্রতিটা বাহুর শেষে গোলাকার বৃত্ত।

ক্যাথি তখন এই অচেনা অ্যান্টেনাগুলো তার নিউজিল্যান্ডের ইউএফও মানচিত্রে যোগ করেন। ইউএফও দেখার জায়গাগুলোর সঙ্গে যোগ হয় মানুষের তৈরি ট্র্যান্সমিটিং স্টেশন, তালিকার বাইরের স্টেশন ও আমেরিকার সায়েন্টিফিক বেজ।

বাড়তে থাকা অ্যান্টেনার রিপোর্টের নেটওয়ার্কের সঙ্গে প্রতি অঞ্চলের হ্যাম রেডিও ইয়ারবুকের মিল খুঁজে পেলেও ক্যাথি কোনোভাবেই সরকারিভাবে এই ট্র্যান্সমিটারগুলো ব্যবহার বা বসানোর উদ্দেশ্য সম্বন্ধে কিছু জানতে পারেননি। তিনি তার বইয়ে লেখেন, ‘এই মুহূর্তে আমাকে শেষ পর্যন্ত স্বীকার করতেই হচ্ছে যে, একদল ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ার গ্রিড সিস্টেম সম্বন্ধে আমার চেয়ে অনেক বেশি জানে।’

ক্যাথির জন্য পুরো বিষয়টা পরিষ্কার ছিল: গোপনে একটা ছোট গ্রুপ এরই মধ্যে এই গ্রিডের খোঁজ পেয়েছে ও একে অজানা কোনো কারণে ব্যবহার করছে। তার ধারণা পুরোপুরি ভুল ছিল না।

ক্রিস্টাল পেন্টাডোডেকাহেড্রন হিসেবে পৃথিবী

পৃথিবীর ব্যাখ্যাতীত ঘটনাগুলোর জন্য দায়ী গ্রিড সিস্টেম নিয়ে গবেষণায় কোনো ত্রুটি রাখেননি ক্যাথি। তার বিশেষ আগ্রহ ছিল রাশিয়ান প্রতিবেদনটি নিয়ে, আরও নির্দিষ্ট করে ধরলে ক্রিস্টাল গ্রিডের একটি ‘সংযোগস্থলে’, যেখানে গ্যাবনের ফ্রান্সেসভিল শহরের কাছে ওকলো এলাকায় একটি ‘প্রাকৃতিক পারমাণবিক রিয়্যাক্টর’ আছে।

ফরাসি পদার্থবিদ ফ্রান্সিস পেরিঁ ১৯৭৩ সালে ভূগর্ভস্থ আইসোটোপের অনুপাতের হিসেব করে এই বিশেষ জায়গা খুঁজে বের করেন। ওকলোতে ১৬টি এমন স্থান রয়েছে, যেখানে ১৭০ কোটি বছর আগে স্বনির্ভর পারমাণবিক ফিশন ঘটেছিল এবং কয়েক লাখ বছর ধরে চলেছে এই প্রক্রিয়া। পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্টি হওয়া পারমাণবিক রিয়্যাক্টর এটি।

ওকলোতে প্রাকৃতিক রিয়্যাকটর আবিষ্কার ও রাশিয়ান প্রতিবেদনে গ্রিড তত্ত্বের সমর্থন পাওয়ায় ক্যাথি নিজের গবেষণা আরও অপ্রচলিত ধারায় করা শুরু করেন। এবার তিনি কাজ শুরু করেন পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের পূর্বাভাস দেয়া নিয়ে।

‘ক্রিস্টাল পৃথিবীতে’ ব্যাখ্যাতীত সব রহস্যের সমাধান!
নিউজিল্যান্ডের মানচিত্রের ওপর বসানো ব্রস ক্যাথির উদ্ভাবিত গ্রিড। ছবি: সংগৃহীত

ক্যাথি একটা বিষয়ে তার পুরো গবেষণায় অনড় থাকেন। তা হচ্ছে ‘পারমাণবিক কণার আপেক্ষিক গতির কারণে ভূ-পৃষ্ঠের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত একটা নির্দিষ্ট জ্যামিতিক বিন্দুতে একটা নির্দিষ্ট সময়ে’ পারমাণবিক বিস্ফোরণ ঘটানো সম্ভব। ক্যাথি আরও যোগ করেন, ‘পৃথিবী ও সূর্যের আপেক্ষিক গতি যে কোনো নির্দিষ্ট মুহূর্তে বিস্ফোরণে ব্যবহৃত ইউরেনিয়াম, প্লুটোনিয়াম, কোবাল্ট বা অন্যান্য যে কোনো পর্দার্থের অস্থায়ী কণাগুলোকে ব্যহত করবে।’

ক্যাথি তার পদ্ধতি ব্যবহার করে অনুকূল পারমাণবিক বিস্ফোরণের অবস্থা শনাক্ত করার জন্য ভবিষ্যতের পরীক্ষার স্থানগুলোকে নিয়ে বেশ কিছু পূর্বাভাস দেন, শুরুতে যার কয়েকটি মিলেও যায়। ১৯৬৮ সালের আগস্টে ইউএফও গবেষণা উপস্থাপনের জন্য তাকে অকল্যান্ডের রয়্যাল অ্যারোনটিক্যাল সোসাইটিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়। উপস্থাপনার আগের দিন তিনি সোসাইটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে এক ডিনারে দেখা করেন। ওই সন্ধ্যায় কিছুক্ষণ পর তারা ক্যাথির পারমাণবিক বোমার পরীক্ষা তত্ত্ব নিয়ে আলোচনা করেন।

ক্যাথির সঙ্গে যারা ওই দিন ডিনারে ছিলেন, তারা এই তত্ত্বে খুব একটা বিশ্বাস করেননি। চ্যালেঞ্জ হিসেবে ক্যাথিকে তারা ফ্রান্সের পরবর্তী পারমাণবিক বোমা পরীক্ষার তারিখের ভবিষ্যদ্বাণী করতে বলেন। টেবিলে বসেই ক্যাথি হিসেব করে বের করেন যে পরবর্তী পরীক্ষা করা হবে ওই মাসেরই ২৪ তারিখে। ওই মাসের ২৪ তারিখে ফ্রান্সের প্যাসিফিক ক্যারিয়ার ব্যাটল গ্রুপ অপারেশন ক্যানোপাস পরিচালনা করে। এতে ফ্রান্স থার্মোনিউক্লিয়ার ডিভাইস (হাইড্রোজেন বোমা) বিস্ফোরণ ঘটানো বিশ্বের পঞ্চম পারমাণবিক শক্তি ক্ষমতাধর দেশে পরিণত হয়।

ক্যাথি তার নিজস্ব ধাঁচে পূর্বাভাসগুলো শঙ্কা ও আশ্বাসের মিশ্রণ হিসেবে প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘বোমা বিস্ফোরণের জন্য প্রয়োজনীয় সৌর জ্যামিতি নির্দিষ্ট সময় না থাকলে রাশিয়ার কোনো টার্গেটে মিসাইল ছোড়া সফল করতে বহু ঘণ্টা, দিন ও সপ্তাহ লেগে যাবে।’

ক্যাথির জন্য পারমাণবিক বোমা আসলে একটি ‘স্পেসটাইম নির্ভর জ্যামিতিক ডিভাইস’। এর সফল বিস্ফোরণের জন্য প্রয়োজন মানচিত্র, পদার্থবিজ্ঞান ও ত্রিকোনোমিতি নির্ভর হিসেব।

বিশেষ করে ক্যাথি সব কিছুকে এক সুরে গাঁথার প্রতি বিশেষ মনোযোগ দিয়েছেন, প্রক্রিয়াটিকে ক্যাথি বলছেন হারমোনিক্স। কোনো জায়গার ‘হারমোনিক ভ্যালু’ সেখানে পারমাণবিক বিস্ফোরণ সম্ভব করে তোলে। শুধু পারমাণবিক বিস্ফোরণও নয়, এই তত্ত্ব দিয়ে ক্যাথির মতে পৃথিবীর সব ব্যাখ্যাতীত ঘটনাকে ব্যাখ্যা করা যাবে।

হারমোনিক গ্রিড

ক্যাথির মতে ইউএফওর দেখা যাওয়া ও প্রতিটা সফল পারমাণবিক বিস্ফোরণ আসলে কতগুলো ফ্রিকোয়েন্সির কারণে হয়, যেটার নাম তিনি দিয়েছেন হারমোনিক গ্রিড। এই ফ্রিকোয়েন্সিগুলো স্পেসটাইমের নির্দিষ্ট কোনো বিন্দুর আলো, অভিকর্ষ ও ভরের বৈচিত্র্যের ওপর নির্ভরশীল, যে কারণে পৃথিবীর যে কোনো জায়গায় নির্দিষ্ট সময়ে একেবারে অনন্য একটি কম্পণের স্বাক্ষর সৃষ্টি হয়, যাকে বলা হয় হারমোনিক।

ক্যাথি শত শত পৃষ্ঠা খরচ করেছেন এই হারমোনিক গ্রিডের মান বের করার জন্যে। তার গাণিতিক হিসাব নিয়ে বিভিন্ন ফোরামে নানা তর্ক-বিতর্ক হলেও তার চিন্তার উৎস নিয়ে সবাই মোটামুটি পরিষ্কার। ক্যাথি মূলত অনুমান, হার, দূরত্ব এ রকম ভিন্ন ধরনের পরিমাপের ওপর নির্ভর ফরমুলাগুলো থেকে হিসেব করে একটা একক সংখ্যার ফল বের করতে চাচ্ছিলেন। আলোর গতি, অভিকর্ষের শক্তি ও ভর পরিমাপ করে কোনো একক পরিমাপে নিয়ে আসা ছোটখাট কোনো বিষয় নয়। এই সব বিচ্ছিন্ন ও ভিন্ন মানগুলিকে গড়ের মধ্যে নিয়ে আসার সবচেয়ে সুবিধাজনক উপায় হচ্ছে হারমোনিক মিন ব্যবহার করা। একে সহজভাবে বোঝাতে গেলে বলতে হবে, হারমোনিক মিন হচ্ছে সম্পূরকের গড়ের সম্পূরক।

ক্যাথির হিসেবে লাইটের হারমোনিক ১৪,৩৯৯; পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রের হারমোনিক ২,৫৪৫.৫ ও পৃথিবীর ভরের হারমোনিক ১৭,০২৫।

মূল বিষয়গুলো ঘটে হারমোনিকের ছেদবিন্দুগুলোতে। ওই বিন্দুগুলোতে:

১। স্পেস-টাইমের ভেতর এক বিন্দু থেকে আরেক বিন্দুতে ভর স্থানান্তর করতে পারে।

২। ভর বেশি থেকে হ্রাসকৃত অবস্থায় পরিবর্তিত হতে পারে

৩। সঠিক প্রযুক্তি পেলে সময়ের সংকোচন ও প্রসারণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব

ঋণাত্মক বাস্তবতা

ক্যাথির দাবি, এই হারমোনিক পয়েন্টগুলো আসলে ঋণাত্মক বাস্তবতার একেকটি উৎসবিন্দু। বিষয়টা বুঝতে হলে ক্যাথির অ্যান্টি-ম্যাটার নিয়ে ভাবনাটা বুঝতে হবে। মহাশূন্যে একই ইলেকট্রনের ধনাত্মক ও ঋণাত্মক পর্যায়ের মধ্যে দিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে ম্যাটার ও অ্যান্টি-ম্যাটার সৃষ্টি হয়। মহাশূন্যে তরঙ্গ সর্পিলাকার গতিতে ঋণাত্মক ও ধণাত্মক পর্যায়ের মধ্যে দিয়ে যায়। ধনাত্মক পর্যায় যেটি পালস হিসেবে পরিচিত, সেখানে ম্যাটার তৈরি হয়। আর ঋণাত্মক পালসের ক্ষেত্রে তৈরি হয় অ্যান্টি-ম্যাটার।

আমাদের চেতনার সঙ্গে ম্যাটার ও অ্যান্টি-ম্যাটারের সম্পর্ক বোঝানোর জন্য সিনেমার তুলনা দিয়েছেন ক্যাথি। সিনেমার ফিল্মে প্রতিটি স্থির চিত্রকে তিনি বলছেন আমাদের শারীরিক অস্তিত্বের একক পালস। দুটি ফ্রেমের মাঝের পার্থক্যকে তিনি বলছেন অ্যান্টি-ম্যাটারের পালস। ফিল্মটিকে কোন প্রজেক্টর দিয়ে চালালে আমদের জন্য গতি ও সময় প্রক্ষেপণের বিভ্রম তৈরি হয়।

সিনেমা পর্দায় প্রজেকশনের কম্পাঙ্কের কারণে আমরা দুটি স্থিরচিত্রের মধ্যে পার্থক্য দেখতে পাই না। তবে প্রজেক্টরের গতি বাড়িয়ে কমিয়ে আমরা সিনেমার প্রদর্শিত ঘটনার সময় বাড়াতে বা কমাতে পারি। এই রূপকে আমাদের চেতনা হচ্ছে ফিল্ম প্রজেক্টর। ক্যাথির দাবি, মানুষ আসলে ‘দ্বৈত ধারার চেতনা’র অধিকারী।

ক্যাথির হিসেবে হারমোনিক গ্রিডের ছেদবিন্দুর বৈদ্যুতিক পালসের কম্পাঙ্ক বদলাতে থাকে। এটি আমাদের স্পেস-টাইমের অভিজ্ঞতায় প্রভাব ফেলার জন্য যথেষ্ট। আমাদের বাস্তবতার ধারণা এক বিন্দু থেকে আরেক বিন্দুতে স্থানান্তর হয়। ক্যাথির মতে, ‘আমরা স্পেসে এক বিন্দু থেকে আরেক বিন্দুতে স্থানান্তরিত হই, কিন্তু আমরা সেটা শারীরিকভাবে বুঝতে পারি না।’

বিতর্ক

ক্যাথির তত্ত্বকে প্রত্যাখানকারীদের সংখ্যা কম নয়, বরং সময়ের সঙ্গে সে সংখ্যা বাড়ছে। সবচেয়ে বেশি সমালোচনা করেন গণিত সমাজ। যারা ক্যাথির কাজকে পদার্থবিজ্ঞান কম ও ‘অদ্ভুতূড়ে গণিত’ বলে উড়িয়ে দেন। ক্যাথির কাজ নিয়ে আরেকটি সমালোচনা হচ্ছে যে তার গবেষণায়, ‘বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের চেয়ে দাবি বেশি’।

ইউএফওনেট ডটআইটি তার হারমোনিক্স তত্ত্বকে বলেছে ‘তুচ্ছ কিছু সংখ্যাভিত্তিক খেলা, যেটার কোনো তাৎপর্য নেই।’ সফল পারমাণবিক বিস্ফোরণের জন্য ক্যাথির স্পেস-টাইমের শর্তগুলি সম্পূর্ণরূপে এখন অপ্রাসঙ্গিক। এই মুহূর্তে এটা বলা নিরাপদ যে, পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের ক্ষেত্রে ভূগোল কোনো নির্ধারক ভূমিকা পালন করে না।

আরও পড়ুন:
করোনায় চাকরি হারিয়ে মানসিক রোগ
মহামারিতে বিপর্যয় মানসিক স্বাস্থ্যসেবায়

শেয়ার করুন

প্রাণের সন্ধানে মঙ্গলে ঠিক জায়গাতেই পারসিভারেন্স

প্রাণের সন্ধানে মঙ্গলে ঠিক জায়গাতেই পারসিভারেন্স

মঙ্গলে প্রাণের অস্তিত্ব সন্ধানে ভুল জায়গায় পারসিভারেন্স নামেনি বলে জানান বিজ্ঞানীরা। ছবি: নাসা

নাসার বিজ্ঞানীরা বলছেন, কীভাবে নদীর পানি হ্রদে এসে মিলিত হলো, পানিপ্রবাহ হঠাৎ কেন ধীর হয়ে গেল, পলি জমে কীভাবে ডেল্টার গঠন হলো, এসব বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য পেয়েছে পারসিভারেন্স।

মঙ্গল গ্রহে অতীতে কোনো প্রাণের অস্তিত্ব ছিল কি না, তা খুঁজতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে গ্রহটিতে নামে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ সংস্থা নাসার পারসিভারেন্স রোভার।

প্রাচীন প্রাণের দেখা মিলবে এমন জায়গায় পারসিভারেন্স নেমেছিল কি না, তা নিয়ে কিছুটা দ্বিধা ছিল বিজ্ঞানীদের। তবে সম্প্রতি নাসার বিজ্ঞানীরা জানান, সঠিক জায়গাতেই রয়েছে পারসিভারেন্স। এ বিষয়ে আর কোনো সন্দেহ নেই।

গবেষকদের ভাষ্য, মঙ্গল গ্রহে রোভারটি এমন এক জায়গায় পাঠানো হয়েছে, যেখান থেকে প্রাচীন প্রাণের অস্তিত্ব পাওয়ার সবচেয়ে ভালো সম্ভাবনা রয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ফেব্রুয়ারির ১৯ তারিখে মঙ্গলের জেজেরো ক্রেটার স্পর্শ করে পারসিভারেন্স। এর পর থেকে ওই অঞ্চলের হাজার হাজার ছবি নাসাকে পাঠাচ্ছে রোভারটি।

সাড়ে তিন বিলিয়ন বছরের বেশি সময় আগে লাল গ্রহ মঙ্গলের জলবায়ু অনেক বেশি প্রাণবান্ধব ছিল। সে সময়ে গ্রহটিতে বিশাল হ্রদ ছিল বলে ধারণা বিজ্ঞানীদের।

তাদের অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে পারসিভারেন্স এমনই এক বিশাল হ্রদে অবতরণ করেছে বলে নিশ্চিত নাসার বিজ্ঞানীরা। পশ্চিম দিকের কোনো এক আঁকাবাঁকা নদী থেকে হ্রদটিতে পানি আসত বলেও মন্তব্য তাদের।

নাসার বিজ্ঞানীরা বলছেন, কীভাবে নদীর পানি হ্রদে এসে মিলিত হলো, পানিপ্রবাহ হঠাৎ কেন ধীর হয়ে গেল, পলি জমে কীভাবে ডেল্টার গঠন হলো, এসব বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য পেয়েছে পারসিভারেন্স।

তাদের ভাষ্য, মঙ্গলে ওই সময় এমন এক আবহাওয়া বিরাজ করত, যেখানে অণুজীবরা বেঁচে থাকতে পারত। পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে তাদের অস্তিত্ব একেবারে বিলীন হয়ে যায়নি।

যুক্তরাজ্যের ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক সঞ্জীব গুপ্ত বলেন, “মানুষজন আমাকে জিজ্ঞাসা করে, ‘পারসিভারেন্স তো সঠিক জায়গাতেই নেমেছে। এতে নতুন কী আছে? জেজেরো ক্রেটারের ডেল্টা সম্পর্কে আমরা কি আগে থেকে জানতাম না'?”

তিনি বলেন, ‘আমি তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, 'আমরা এ বিষয়ে নিশ্চিত ছিলাম না। কক্ষপথ থেকে তোলা ছবি দেখে আমাদের অনুমান ছিল, জেজেরো ক্রেটারে একটি ডেল্টা রয়েছে। কিন্তু মঙ্গলে নামার আগ পর্যন্ত এ বিষয়ে কীভাবে নিশ্চিত হই?

‘পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়ার জন্য পারসিভারেন্সকে মঙ্গলে পাঠানো জরুরি ছিল।’

আরও পড়ুন:
করোনায় চাকরি হারিয়ে মানসিক রোগ
মহামারিতে বিপর্যয় মানসিক স্বাস্থ্যসেবায়

শেয়ার করুন

সৌরজগতের উৎপত্তি জানতে মহাকাশযান পাঠাল নাসা

সৌরজগতের উৎপত্তি জানতে মহাকাশযান পাঠাল নাসা

বৃহস্পতির একটি ট্রোজান গ্রহাণুর পাশ দিয়ে যাচ্ছে লুসি। ইলাসট্রেশন: সাউথওয়েস্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট

নাসার এই অভিযানের মূল বিজ্ঞানী হাল লেভিসন বলেন, ‘ট্রোজান গ্রহাণুর বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় যেটি আমরা জানতে পারি তা হলো, এরা পরস্পরের থেকে অনেক ভিন্ন। বিশেষ করে এদের রং একে অপরের থেকে একদম আলাদা।’

বৃহস্পতি গ্রহের ট্রোজান গ্রহাণু সম্পর্কে জানতে ১২ বছর দীর্ঘ উচ্চাভিলাষী অভিযানের অংশ হিসেবে প্রথমবারের মতো মহাকাশযান পাঠিয়েছে নাসা।

প্রাক-মানব পূর্ব পুরুষের প্রাচীন এক জীবাশ্ম লুসির নাম দেয়া ওই মহাকাশযানটি সৌরজগতের গঠন ও উৎপত্তি সম্পর্কে নতুন ধারণা দেবে বলে আশা করছেন বিজ্ঞানীরা।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় শনিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের কেইপ ক্যানাভেরাল থেকে ওই মহাকাশযান পাঠানো হয়।

লুসি হচ্ছে প্রথম সৌরশক্তিচালিত মহাকাশযান, যেটি সূর্য থেকে এত দূরে পাড়ি দিয়েছে। অন্যান্য মহাকাশযানের চেয়ে এটি আরো বেশি গ্রহাণু সম্পর্কে তথ্য দেবে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

নাসার সায়েন্স মিশনের সহযোগী প্রশাসক টমাস জারবুচেন বলেন, ‘বৃহস্পতি গ্রহের ট্রোজান গ্রহাণুর প্রতিটি সৌরজগতের পাশাপাশি পৃথিবীর সৃষ্টি সম্পর্কে তথ্য দেবে।’

২০২৫ সালে মঙ্গল ও বৃহস্পতির মধ্যবর্তী গ্রহাণু ডোনাল্ড জোহানসনের সঙ্গে প্রথম দেখা হবে লুসির। লুসি ফসিল আবিষ্কারকের নাম অনুযায়ী ওই গ্রহাণুর নাম রাখা হয়।

২০২৭ থেকে ২০৩৩ সাল পর্যন্ত সাতটি ট্রোজান গ্রহাণুর সামনাসামনি হবে লুসি।

ওই সব গ্রহাণুর মধ্যে সবচেয়ে বড়টির ব্যাস প্রায় ৬০ মাইল।

গ্রহাণুগুলোর পৃষ্ঠের আড়াই শ মাইলের মধ্যে অবস্থান করবে লুসি। ওই সব গ্রহাণুর গঠন, ভর, ঘনত্ব, আয়তনসহ ভূ-তত্ত্ব বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও লম্বা অ্যান্টেনার সাহায্যে অনুসন্ধান করবে লুসি।

ধারণা করা হয়, বৃহস্পতির ট্রোজান গ্রহাণুর সংখ্যা সাত হাজারের বেশি। আমাদের সৌরজগতের বিশাল গ্রহ বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস ও নেপচুন গঠনের সময় অবশিষ্ট কাঁচামাল থেকে ওই সব গ্রহাণু সৃষ্টি হয়।

বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন, পৃথিবীসহ সব গ্রহের গঠন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দেবে বৃহস্পতির ট্রোজান গ্রহাণু।

নাসার এই অভিযানের মূল বিজ্ঞানী হাল লেভিসন বলেন, ‘ট্রোজান গ্রহাণুর বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় যেটি আমরা জানতে পারি তা হলো এরা পরস্পরের থেকে অনেক ভিন্ন। বিশেষ করে এদের রং একে অপরের থেকে একদম আলাদা।’

আরও পড়ুন:
করোনায় চাকরি হারিয়ে মানসিক রোগ
মহামারিতে বিপর্যয় মানসিক স্বাস্থ্যসেবায়

শেয়ার করুন

স্পেস স্টেশন নির্মাণে মহাকাশে ফের অভিযান চীনের

স্পেস স্টেশন নির্মাণে মহাকাশে ফের অভিযান চীনের

স্পেস স্টেশন নির্মাণে ২য় মহাকাশযান পাঠাল চীন। ছবি: রয়টার্স

স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে মহাকাশযানটি চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ গানসুর জিকুয়ান স্যাটেলাইট লঞ্চ সেন্টার থেকে মহাকাশের উদ্দেশে রওনা দেয়।

মহাকাশে নিজেদের একটি স্টেশনের কোর মডিউলের উদ্দেশে তিন নভোচারীসহ রকেট পাঠিয়েছে চীন। নভোচারীদের একজন নারী ও দুজন পুরুষ। চীনের আগামী স্পেস স্টেশনটির কোর মডিউলে তারা ছয় মাস কাজ করবেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, লং মার্চ-২এফ নামের রকেটটি শেনঝাউ-১৩ মহাকাশযান বহন করে। স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে এটি চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ গানসুর জিকুয়ান স্যাটেলাইট লঞ্চ সেন্টার থেকে মহাকাশের উদ্দেশে রওনা দেয়।

চায়না ম্যানড স্পেস এজেন্সির পক্ষ থেকে বলা হয়, শনিবার সকাল ৭টার দিকে রকেটটি সফলভাবে স্পেস স্টেশনে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। নভোচারীরা সকাল ১০টার দিকে স্পেস স্টেশনের কোর মডিউলে প্রবেশ করেন।

চলতি বছরের এপ্রিলে স্পেস স্টেশন নির্মাণ শুরু করে চীন। ওই সময় স্টেশনটির তিনটি মডিউলের মধ্যে প্রথম ও সবচেয়ে বড় মডিউল তিয়ানহে কক্ষপথে স্থাপন করা হয়। স্পেস স্টেশনটির নির্মাণ শেষ হলে বাসের চেয়ে আকৃতিতে কিছুটা বড় তিয়ানহেতে থাকবেন নভোচারীরা।

শেনঝাউ-১৩ চারটি মহাকাশ অভিযানের মধ্যে দ্বিতীয়। ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে স্পেস স্টেশন নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে মহাকাশে এসব অভিযান চালানো হচ্ছে।

এর আগে সেপ্টেম্বরে প্রথম মহাকাশযানে চড়ে অন্য তিন নভোচারী তিয়ানহেতে ৯০ দিন অবস্থান করেন।

সাম্প্রতিক অভিযানে তিয়ানহের মূল প্রযুক্তি ও রোবোটিক্স পরীক্ষা করবেন নভোচারীরা।

এই অভিযানের কমান্ডার ৫৫ বছর বয়সী ঝাই ঝিগ্যাং। নব্বই দশকের শেষের দিকে চীনের নভোচর প্রশিক্ষণার্থীদের প্রথম ব্যাচের একজন ঝিগ্যাং। চীনের এক গ্রামে জন্ম নেয়া ঝিগ্যাং ২০০৮ সালে দেশটির প্রথম মহাকাশ অভিযানে ছিলেন।

শেনঝাউ-১৩ ঝিগ্যাংয়ের দ্বিতীয় মহাকাশ অভিযান।

মহাকাশে যাত্রার আগে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে ঝিগ্যাং বলেন, ‘সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং কাজ হচ্ছে, কক্ষপথে টানা ছয় মাস থাকা। এ অভিযান শরীর ও মনের একাগ্রতা দাবি করে।’

স্পেস স্টেশন নির্মাণে ঝিগ্যাংয়ের সঙ্গে থাকছেন ৪১ বছর বয়সী ওয়াং ইয়াপিং ও ইয়ে গুয়াংফু।

দৃঢ় মনোবলের জন্য সহকর্মীদের মধ্যে বিশেষভাবে পরিচিত ইয়াপিং। চীনের বিমানবাহিনীর সাবেক পাইলট ইয়াপিং ২০১৩ সালে প্রথম মহাকাশ ভ্রমণ করেন। মহাকাশে যাওয়া চীনের নারী নভোচারীদের মধ্যে ইয়াপিং দ্বিতীয়। এর আগে ২০১২ সালে লিউ ইয়াং মহাকাশে যান।

তৃতীয় নভোচারী গুয়াংফুর এটাই প্রথম মহাকাশ অভিযান।

আরও পড়ুন:
করোনায় চাকরি হারিয়ে মানসিক রোগ
মহামারিতে বিপর্যয় মানসিক স্বাস্থ্যসেবায়

শেয়ার করুন

১২ হাজার বছর আগেও ছিল পোষা কুকুর

১২ হাজার বছর আগেও ছিল পোষা কুকুর

কোস্টারিকায় পাওয়া গেছে ১২ হাজার বছর আগের এক কুকুরের জীবাশ্ম। ছবি: এএফপি

কোস্টারিকার গবেষক গুইলেরমো ভারগাস বলেন, ‘হাড়টির জীবাশ্ম নিয়ে পরীক্ষার একপর্যায়ে জানতে পারি, ১২ হাজার বছর আগে কোস্টারিকায় মানুষের সঙ্গে ওই কুকুর বসবাস করত। এটি মধ্য আমেরিকার সবচেয়ে প্রাচীন কুকুর হতে পারে।’

১২ হাজার বছর আগের একটি চোয়ালের হাড়ের জীবাশ্ম সম্প্রতি পরীক্ষা করেছেন বিজ্ঞানীরা। তাদের ভাষ্য, ওই হাড়টি মধ্য আমেরিকায় পোষা কোনো কুকুরের। আর এ বিষয়ে নিশ্চিত হলে ওই কুকুরটিই হবে ওই অঞ্চলে বাস করা সবচেয়ে প্রাচীন কুকুর।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, প্লাইস্টোসিন যুগের কয়েকটি হাড়ের জীবাশ্ম নব্বই দশকে হন্ডুরাসের নাকাওম শহরে পান গবেষকরা।

ওই সব হাড়ের জীবাশ্মের মধ্যে অতিকায় ঘোড়া ইকুয়াস, বিশালাকৃতির আর্মাডিলো গ্লিপটোডোন, আধুনিক যুগের হাতির পূর্বপুরুষ মাস্টোডোন ও একটি চোয়াল ছিল। চোয়ালের হাড়ের জীবাশ্মকে শুরুতে কোয়োটির খুলি ভেবেছিলেন গবেষকরা।

কোস্টারিকার গবেষক গুইলেরমো ভারগাস বলেন, ‘১২ হাজার বছর আগে প্লাইস্টোসিন আমলের একটি কোয়োটির হাড়ের জীবাশ্ম পাওয়া গেছে শুনে প্রথমে আমরা বেশ অবাক হই। কারণ কোস্টারিকায় বিংশ শতাব্দীতে কোয়োটিরা এসেছিল, তার আগে নয়। বুঝতে পারি, ওই হাড় কোনোভাবেই কোয়োটির হতে পারে না।

‘আমরা হাড়টি পরীক্ষা করা শুরু করি। পরীক্ষার পর আমাদের ধারণা হয়, এটি কোনো কুকুরের হতে পারে।

‘আমরা এটি নিয়ে আরও পরীক্ষা করি। একপর্যায়ে জানতে পারি, ১২ হাজার বছর আগে কোস্টারিকায় মানুষের সঙ্গে ওই কুকুর বসবাস করত। এটি মধ্য আমেরিকার সবচেয়ে প্রাচীন কুকুর হতে পারে।’

কোয়োটি পোষা কুকুর প্রজাতির। তবে তাদের চোয়ালের গড়ন ভিন্ন। দাঁতও অনেক ধারালো।

ধারণা করা হয়, বরফ যুগের শেষের দিকে মানুষ সাইবেরিয়া থেকে আলাস্কায় আসা শুরু করে। পরে আমেরিকাজুড়ে তারা ছড়িয়ে পড়ে।

মেক্সিকোর ন্যাশনাল অটোনমাস ইউনিভার্সিটির বায়োলজিস্ট ও জু আর্কিওলজিস্ট রাউল ভ্যালাডেজ বলেন, ‘প্রায় ১৫ হাজার বছর আগে এশিয়া থেকে বেরিং প্রণালি পাড়ি দিয়ে উত্তর আমেরিকা মহাদেশে প্রথম পোষা কুকুর আসে।

‘মানুষের সঙ্গ ছাড়া কোনো কুকুর সে সময় একা থাকত না।’

প্লাইস্টোসিন যুগে মেক্সিকো, চিলি ও প্যাটাগনিয়ায় মানব বসতির প্রমাণ পাওয়া যায়। তবে মধ্য আমেরিকায় সে সময় মানব বসতির অস্তিত্ব আজ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

আমেরিকায় এখন পর্যন্ত সবচেয়ে প্রাচীন কুকুরের জীবাশ্ম পাওয়া গেছে আলাস্কায়। ১০ হাজার ১৫০ বছর আগে ওই কুকুরটি উত্তর আমেরিকায় বাস করত।

আরও পড়ুন:
করোনায় চাকরি হারিয়ে মানসিক রোগ
মহামারিতে বিপর্যয় মানসিক স্বাস্থ্যসেবায়

শেয়ার করুন