প্রতিশোধের আগুনে জ্বলছে তালেবান

প্রতিশোধের আগুনে জ্বলছে তালেবান

কোদি খেল গ্রামে জনপ্রিয় স্থানীয় আইনপ্রণেতা আজমল ওমরের উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ২২ কক্ষের বাড়িতে হামলা চালায় তালেবান। ছবি: রয়টার্স

তালেবান সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোল্লা মোহাম্মদ ইয়াকুব গত সপ্তাহে যোদ্ধাদের সতর্ক করে একটি নির্দেশনা দেন। ওই নির্দেশনায় তালেবানের বিজয়ের পর কিছু সদস্যদের অসংযত আচরণের সমালোচনা করা হয়। তিনি বলেছিলেন, ‘আপনারা জানেন যে আফগানিস্তানে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হয়েছে। কারও ওপর প্রতিশোধ নেয়ার অধিকার কোনো তালেবান সদস্যের নেই।’ কিন্তু এ বিষয়ে নির্দেশনায় সুনির্দিষ্টভাবে কোনো ঘটনা বা শাস্তির উল্লেখ ছিল না।

গত মাসে আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় নানগড়হর প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পরই পুরোনো শত্রুর সঙ্গে বোঝাপড়ায় নামে তালেবান।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, সে সময় স্থানীয় খ্যাতনামা রাজনীতিবিদ আজমল ওমরকে খুঁজতে শুরু করে তালেবান সদস্যরা। এক বছর আগে এই আজমল ওমরের কারণেই নানগড়হর থেকে তালেবানকে পিছু হঠতে হয়েছিল। তালেবানে যোগ দেয়া থেকে বিরত থাকতে স্থানীয় আফগান তরুণদের বোঝাতেন তিনি।

আজমল ওমরের উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া বাড়িতে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় তালেবান সদস্যরা। স্বর্ণালংকার ও গাড়ি ছিনতাই করে নেয়। ওমরের সন্ধান পেতে তার স্বজনদের জন্য চাবুক দিয়ে পেটানোও হয়।

ওমরের দুই স্বজন বার্তা সংস্থা রয়টার্সের কাছে সেসব ঘটনা তুলে ধরে জানান, তালেবানের প্রতিহিংসার শিকার হয়েছিলেন তারা। ১০ জন স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা ও বাসিন্দা আর একজন সাবেক আফগান গোয়েন্দা কর্মকর্তাও ওমরের বিরুদ্ধে তালেবানের ক্ষোভের সাক্ষী।

এসব সূত্রের কাছ থেকে ওমরের বাড়িতে চালানো ধ্বংসযজ্ঞ আর তালেবানের পিটুনিতে আহত স্বজনদের ছবি পেয়েছে রয়টার্স। যদিও ছবিগুলোর সত্যতা যাচাই করতে পারেনি সংবাদ সংস্থাটি।

রয়টার্স জানায়, ৩৭ বছর বয়সী ওমর বর্তমানে আত্মগোপনে আছেন। প্রতিবেদনটি তৈরির জন্য তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে কথা বলতে রাজি হননি তিনি।

১৫ আগস্ট আফগানিস্তানের বেসামরিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে রাজধানী কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান। এর দুই দিন পর এক সংবাদ সম্মেলনে কট্টর ইসলামপন্থি গোষ্ঠীটি বিশ্ব সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করে এই বলে যে সাবেক প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিশোধ নেবে না তারা।

ওমরের পরিবারের সদস্যরা জানান, যে অভিজ্ঞতার শিকার তারা হয়েছেন, তা তালেবানের আশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্বজন বলেন, ‘আমরা কেউ কল্পনাও করিনি যে এভাবে আমাদের ওপর হামলা করা হবে। তালেবান বলেছিল যে সাবেক সরকারের সঙ্গে কাজ করার কারণে কাউকে তারা শাস্তি দেবে না। কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে এর উল্টো ঘটেছে।’

ওমরের পরিবারের সঙ্গে ঘটে যাওয়া এ ঘটনার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মুখ খোলেননি তালেবানের কোনো মুখপাত্র।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আফগানিস্তানের পার্বত্য পূর্বাঞ্চলে আপেল আর লেবুর বাগানে ঘেরা উপত্যকার একটি প্রত্যন্ত গ্রাম কোদি খেল। দীর্ঘদিন ধরেই গ্রামটির দিকে নজর ছিল তালেবানের।

২০০১ সালে আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বের সামরিক আগ্রাসনে যখন প্রথম দফার শাসন থেকে উৎখাত হয়, সে সময় কোদি খেল গ্রাম ও একে ঘিরে থাকা শেরজাদ জেলায় তীব্র রকেট হামলা হয়েছিল। প্রতিবেশী পাকিস্তানসংলগ্ন কৌশলগত রুটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার চেষ্টায় রকেট হামলাগুলো চালিয়েছিল তালেবানই।

ওমর ছিলেন ওই গ্রামেরই জনপ্রিয় এক জমিদার। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ২২ কক্ষের একটি সুরক্ষিত বাড়িতে থাকতেন তিনি।

প্রাদেশিক পরিষদের উপপ্রধান হিসেবে তালেবানকে শেরজাদ জেলা থেকে দূরে রাখতে গত বছর কৌশলগত বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছিলেন ওমর। তখনই জেলাটিতে সংঘাতে আহত হয়েছিল বেশ কয়েকজন তালেবান যোদ্ধা ও আফগান সেনা।

তারও অনেক আগে ২০১৪ সালের নির্বাচনে জয়ের পর থেকেই গ্রামে গ্রামে ঘুরে তরুণদের যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন জোটের তালেবানবিরোধী অভিযানে যোগ দেয়ার আহ্বান জানাতেন তিনি। এ কাজেই ব্যয় করতেন বেশির ভাগ সময়।

দীর্ঘ সময় তালেবানের আধিপত্যে থাকা একটি প্রদেশে বিপদ মাথায় নিয়েই এ কাজ করতেন ওমর। গত পাঁচ বছরে কয়েকটি সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন নানগড়হরের প্রাদেশিক পরিষদের কমপক্ষে তিন সদস্য।

প্রাদেশিক পরিষদের সাবেক এক সদস্য জানান, গত বছর আফগান সেনাবাহিনীর স্থানীয় বিজয় উদযাপনের একটি সমাবেশে যোগ দিতে যাওয়ার পথে ওমরের গাড়িবহরেও হামলা চালায় তালেবান। ওই হামলায় দুজন নিহত হলেও বেঁচে যান ওমর।

২০ বছরের ব্যবধানে গত ১৩ আগস্ট ফের কোদি খেলের নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান। গ্রামবাসী জানান, তখনই তাদের ঘরের বাইরে বের না হওয়ার নির্দেশ দেয় যোদ্ধারা; ওমরের খোঁজ পেতে শুরু করে অভিযান।

কিন্তু ওমরের বাড়িতে সে সময় কয়েকজন গৃহকর্মী ছাড়া আর কেউ ছিল না। তাদেরও বাড়িটি ত্যাগের নির্দেশ দেয় তালেবান যোদ্ধারা। এরপর গাড়ি ও অন্যান্য দামি জিনিসপত্র লুট করে নেয় এবং কয়েকটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বাড়ির বিভিন্ন অংশ ধসিয়ে দেয়। ঘরগুলোকে পরিণত করে ধ্বংসস্তূপে।

ওমরের পরিবারের সদস্যরা ছাড়াও এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় অনেকের সাক্ষাৎকার নিয়েও একই তথ্য জেনেছে রয়টার্স।

ঘটনার সময় নানগড়হরের রাজধানী জালালাবাদে প্রাদেশিক পরিষদের জরুরি একটি বৈঠকে ছিলেন ওমর। তালেবানের অগ্রসর কীভাবে ঠেকানো যায়, সেটাই ছিল ওই বৈঠকের আলোচ্য।

নিজ বাড়িতে তালেবানের অভিযানের খবর দ্রুতই ওমরের কানে পৌঁছায় এবং তিনি রাজধানী কাবুলে পালিয়ে যান। সে সময় পর্যন্ত নির্বাচিত সরকারের নিয়ন্ত্রণে ছিল কাবুল। ওমরের দুই স্বজন জানান, তখন থেকেই আত্মগোপনে আছেন ওমর।

এর কয়েক দিন পর নানগড়হর প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান।

এরপর গত ৩ সেপ্টেম্বর জালালাবাদে ওমরের সরকারি বাসভবনে অভিযান চালায় তালেবান যোদ্ধারা। সেখান থেকে ওমরের তিন ছেলে, পাঁচ ভাতিজা আর এক ভাইকে গ্রেপ্তার করে; জব্দ করে স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ, গাড়ি, একটি সাঁজোয়া যান ও ওমরের সুরক্ষায় ব্যবহৃত কয়েকটি আগ্নেয়াস্ত্র।

পরে ওমরের সব স্বজনকেই ছেড়ে দেয় তালেবান। এক স্বজন জানান, তিনিসহ বাকিদের চাবুক দিয়ে পেটানো হয়েছিল। জানালাবিহীন একটি ঘরে বন্দি করে রাখা হয়েছিল তাদের। আহতদের দেহে বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে গুরুতর ক্ষতের ছবিও দেখান তিনি।

আরেক স্বজন জানান, তিন দিন একঘরে বন্দি রেখে নির্যাতন চালানো হয় তার ওপর। তালেবানশাসিত আফগানিস্তানে নিজের ও পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়েও শঙ্কা জানান তিনি।

ওমরের স্ত্রী-সন্তান, চার ভাই, পাঁচ বোন ও পরিবারের অন্য সদস্যরা সবাই আফগানিস্তানেই থাকেন। কিন্তু তারা কেউই রাজনীতিতে পরিচিত মুখ নন।

ওমরের স্বজনদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পলাতক ওমর গা ঢাকা দিয়ে থাকতে নিজের চুল-দাড়ি বড় করছেন। তালেবানের হাতে পড়া থেকে বাঁচতে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন, একেক দিন একেক বাড়িতে থাকছেন। আফগানিস্তান ছাড়ার সুযোগ খুঁজছেন তিনি।

তালেবানের অন্তর্বর্তী সরকারের এক মন্ত্রী রয়টার্সকে জানিয়েছেন, দেশজুড়ে যোদ্ধারা সাবেক সরকারি কর্মকর্তাদের বাড়িঘর ও কর্মক্ষেত্রে অভিযান চালিয়ে কেবল অস্ত্র ও সাঁজোয়া যান জব্দ করেছে। ওমরের পরিবারের সদস্যদের শাস্তি দেয়ার বিষয়ে কিছু জানা নেই বলে দাবি করেন তিনি।

তালেবান সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোল্লা মোহাম্মদ ইয়াকুব গত সপ্তাহে যোদ্ধাদের সতর্ক করে একটি নির্দেশনা দেন। ওই নির্দেশনায় তালেবানের বিজয়ের পর কিছু সদস্যদের অসংযত আচরণের সমালোচনা করা হয়।

তিনি বলেছিলেন, ‘কুখ্যাত ও দুর্বৃত্ত গোছের সাবেক কিছু সেনা তালেবানের বিভিন্ন পদে যোগ দিয়েছে। তারা মন্ত্রণালয় ও সরকারি অফিস-আদালত দখল থেকে শুরু করে দু-তিনজনকে হত্যাসহ বেশ কিছু অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।’

তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা জানেন যে আফগানিস্তানে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হয়েছে। কারও ওপর প্রতিশোধ নেয়ার অধিকার কোনো তালেবান সদস্যের নেই।’

কিন্তু এ বিষয়ে নির্দেশনায় সুনির্দিষ্টভাবে কোনো ঘটনা বা শাস্তির উল্লেখ ছিল না।

আরও পড়ুন:
ভেঙে পড়েছে আফগানিস্তানের ব্যাংকিংব্যবস্থা
তালেবানের ‘প্রতিহিংসার’ বলি শিশু
তালেবান আতঙ্কে ফেসবুক-টুইটার ছাড়ার হিড়িক
বিদেশে শিক্ষাবৃত্তি পেয়েও পড়তে যেতে পারছে না আফগান শিক্ষার্থীরা
দেশের জন্য কাঁদলেন সেই আফগান নারী সাংবাদিক

শেয়ার করুন

মন্তব্য

স্কুলে যাওয়া বন্ধ, ব্যবসা শিখছে আফগান কিশোরীরা

স্কুলে যাওয়া বন্ধ, ব্যবসা শিখছে আফগান কিশোরীরা

সেলাই শিখছেন আফগান নারীরা। ছবি: টোলো নিউজ

তালেবানের আগ্রাসনে ক্ষমতাচ্যুত বেসামরিক সরকারের শাসনামলে আফগানিস্তানে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অনেক নারী কর্মরত ছিলেন। গত দুই মাসে তাদের প্রায় সবাই চাকরি হারিয়েছেন। জীবিকা উপার্জনের বিকল্প হিসেবে তারাও হস্তশিল্প শিখছেন এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।

কট্টরপন্থি তালেবান আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর থেকে কিশোরী ও নারীদের স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ। সময় কাটাতে তাই অর্ধশতাধিক কিশোরী ও তরুণী কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে ভর্তি হয়েছে। শিখছে কাপড় সেলাই, নিচ্ছে সৌন্দর্যবর্ধন প্রশিক্ষণ।

স্থানীয় টোলো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাড়িতে বসে সময় কাটানো কঠিন বলে একঘেয়েমি দূর করতে হাতের কাছে যে সুযোগ আছে, তারই সদ্ব্যবহার করছে অনেক আফগান কিশোরী ও তরুণী।

সামিরা শারিফি নামের এক শিক্ষার্থী বলে, ‘কয়েক মাস ধরে বাড়িতে বসে আছি। স্কুল-বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ। কোনো না কোনো কাজ তো শিখতে হবে। এভাবে হাত গুটিয়ে বাড়িতে কতদিনই বা বসে থাকব?’

মেহনাজ গোলামি নামের আরেক ছাত্রী বলে, ‘নিজের ভবিষ্যতের জন্য আর পরিবারকে সাহায্য করতে চাই বলে কোনো কাজ শিখতে চাই আমি। চেয়েছিলাম তো স্কুলে যেতে। স্কুল খোলা থাকলে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারতাম।’

আফগানিস্তানে সম্প্রতি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে যোগ দেয়া প্রশিক্ষণার্থীদের বেশিরভাগই মাধ্যমিকপড়ুয়া অথবা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী।

দেশজুড়ে তালেবান মেয়েদের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পথ বন্ধ রেখেছে। এমন পরিস্থিতিতে হেরাত প্রদেশের অনেক কিশোরী ও নারী কারিগরি প্রশিক্ষণকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে।

শাকাইক গাঞ্জি নামের এক শিক্ষার্থী বলে, ‘আমরা শিক্ষাগ্রহণের পাশাপাশি দর্জির কাজ শেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

লাইলি সোফিজাদা নামের এক শিক্ষিকা বলেন, ‘এখন প্রতিটি নারীর উচিত নিজের পরিবার ও স্বামীকে সহযোগিতার জন্য সেলাই শেখা। কারণ দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ভীষণ খারাপ।’

মেয়েদের জন্য স্কুল-বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর কারিগরি শিক্ষা কেন্দ্রগুলোতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দ্বিগুণ বেড়েছে।

হেরাতের শ্রম ও সমাজকল্যাণ বিভাগের কারিগরি ও কর্মজীবী বিষয়ক পরিচালক ফাতিমা তোখি বলেন, ‘আমাদের শ্রেণিকক্ষগুলোর ধারণক্ষমতা ২০ থেকে ২৫ জনের। এখন একেকটি ক্লাসে ৪৫ জন পর্যন্ত নিতে হচ্ছে আমাদের।

‘স্কুল-বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা উদ্যম হারাতে বসেছে।’

হেরাতের শ্রম ও সমাজকল্যাণ বিভাগ জানিয়েছে, প্রদেশটির নারীদের কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদানে নতুন নতুন সুযোগ সৃষ্টির চেষ্টা চলছে।

সংস্থাটির প্রধান মোল্লা মোহাম্মদ সাবিত বলেন, ‘শিল্প ও পেশাগত খাত, কিন্ডারগার্টেন বিভাগগুলোতে নিয়মিত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তাদের পূর্ণ সহযোগিতা দিচ্ছি আমরা। নিয়মিত তত্ত্বাবধানও করা হচ্ছে।’

তালেবানের আগ্রাসনে ক্ষমতাচ্যুত বেসামরিক সরকারের শাসনামলে আফগানিস্তানে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অনেক নারী কর্মরত ছিলেন। গত দুই মাসে তাদের প্রায় সবাই চাকরি হারিয়েছেন। জীবিকা উপার্জনের বিকল্প হিসেবে তারাও হস্তশিল্প শিখছেন এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।

আরও পড়ুন:
ভেঙে পড়েছে আফগানিস্তানের ব্যাংকিংব্যবস্থা
তালেবানের ‘প্রতিহিংসার’ বলি শিশু
তালেবান আতঙ্কে ফেসবুক-টুইটার ছাড়ার হিড়িক
বিদেশে শিক্ষাবৃত্তি পেয়েও পড়তে যেতে পারছে না আফগান শিক্ষার্থীরা
দেশের জন্য কাঁদলেন সেই আফগান নারী সাংবাদিক

শেয়ার করুন

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গচ্ছিত ৯০০ কোটি ডলার পাবে না তালেবান

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গচ্ছিত ৯০০ কোটি ডলার পাবে না তালেবান

কাবুলে ত্রাণের খাবার গ্রহণের সময় আফগান শরণার্থীদের ভিড়। ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে গত আগস্টে দ্বিতীয় দফায় আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান। দেশটির সরকার হিসেবে বিশ্ব সম্প্রদায়ের স্বীকৃতি পায়নি গোষ্ঠীটি।

আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গচ্ছিত ৯০০ কোটি ডলারের বেশি অর্থে প্রবেশাধিকার পাবে না শাসকদল তালেবান। ক্ষমতাচ্যুত বেসামরিক সরকারের আমলে আফগান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রির্জাভের বেশিরভাগ অর্থই আটকে আছে যুক্তরাষ্ট্রে।

টার্কিশ রেডিও অ্যান্ড টেলিভিশনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, আফগানিস্তানে অর্থনৈতিক সংকট আরও গভীর হতে থাকার মধ্যেই দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গচ্ছিত অর্থ আটকে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াশিংটন।

যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে গত আগস্টে দ্বিতীয় দফায় আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান। দেশটির সরকার হিসেবে বিশ্ব সম্প্রদায়ের স্বীকৃতি পায়নি গোষ্ঠীটি।

যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটের ব্যাংকিং কমিটিকে মঙ্গলবার আমেরিকার অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়ালি অ্যাডেইমো বলেন, ‘তালেবানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ বলে আমরা বিশ্বাস করি। তবে একই সঙ্গে বৈধভাবে কীভাবে অসহায় আফগানদের কাছে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো যায়, সে পথও খুঁজে বের করতে হবে। সে পথই এখন আমরা খুঁজছি।’

আফগানিস্তানের বাইরে বিভিন্ন দেশে আফগান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গচ্ছিত ৯০০ কোটি ডলারের ওপর থেকে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে তালেবান।

দেশটিতে গুরুতর অর্থনৈতিক ও মানবিক সংকটের মুখে বিষয়টি নিয়ে দ্বিধায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো।

এ অবস্থায় মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে স্বীকৃতি দেয়া ছাড়াই কীভাবে তালেবানের সঙ্গে কূটনীতি চালু করা যায়, সে বিষয়ে কাজ করছে বিশ্ব সম্প্রদায়।

আরও পড়ুন:
ভেঙে পড়েছে আফগানিস্তানের ব্যাংকিংব্যবস্থা
তালেবানের ‘প্রতিহিংসার’ বলি শিশু
তালেবান আতঙ্কে ফেসবুক-টুইটার ছাড়ার হিড়িক
বিদেশে শিক্ষাবৃত্তি পেয়েও পড়তে যেতে পারছে না আফগান শিক্ষার্থীরা
দেশের জন্য কাঁদলেন সেই আফগান নারী সাংবাদিক

শেয়ার করুন

আফগানিস্তানে মসজিদে হামলায় মৃত্যু ৩২ ছাড়িয়েছে

আফগানিস্তানে মসজিদে হামলায় মৃত্যু ৩২ ছাড়িয়েছে

বিস্ফোরণের পর মসজিদের আশপাশের এলাকা।

গত শুক্রবারও আফগানিস্তানের কুন্দুজে নামাজরত মুসল্লিদের ওপর আত্মঘাতী বোমা হামলা করা হয়। এতে অন্তত ৫০ মুসল্লির মৃত্যু ঘটে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানেই এবার ঘটল কান্দাহারের ঘটনা।

জুমার নামাজে মগ্ন ছিলেন মুসল্লিরা। এ সময়ই আফগানিস্তানের কান্দাহার শহরে অবস্থিত ইমাম বারগাহ মসজিদে শক্তিশালী এক বোমা বিস্ফোরিত হয়েছে।

শুক্রবার স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর বরাতে এ খবর জানিয়েছে বিবিসি।

আল-জাজিরা জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় ৩২ জনের মৃত্যুর পাশাপাশি অন্তত ৪৫ জন মারাত্মক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিস্ফোরণের পর কিছু ছবিতে মসজিদের জানালার চূর্ণ-বিচূর্ণ কাচ ও বেশ কিছু মানুষকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, মসজিদের প্রধান দরজাটির কাছে তিনি অন্তত তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন।

ঘটনার পর মসজিদের সামনে অসংখ্য মানুষ ও অন্তত ১৫টি অ্যাম্বুলেন্স দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। পরে আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর স্পেশাল ফোর্স এলাকাটির নিরাপত্তা জোরদার করে এবং সাধারণ মানুষকে রক্তদানের জন্য আহ্বান জানায়।

শক্তিশালী বোমাটি কীভাবে বিস্ফোরিত হয়েছে, তা জানা না গেলেও সন্দেহ করা হচ্ছে আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীরাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

বিস্ফোরণের পর বিবিসির আফগান প্রতিনিধি সিকান্দার কারমানি এক টুইটে লিখেছেন, আইএস-এর স্থানীয় শাখা আইএস-খোরাসান এই হামলার দায় স্বীকার করতে পারে।

গত শুক্রবারও আফগানিস্তানের কুন্দুজে নামাজরত মুসল্লিদের ওপর আত্মঘাতী বোমা হামলা করা হয়। এতে অন্তত ৫০ মুসল্লির মৃত্যু ঘটে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানেই এবার ঘটল কান্দাহারের ঘটনা।

কাবুল দখলের আগে গত ১৩ আগস্ট কান্দাহার শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল তালেবান সেনারা।

আরও পড়ুন:
ভেঙে পড়েছে আফগানিস্তানের ব্যাংকিংব্যবস্থা
তালেবানের ‘প্রতিহিংসার’ বলি শিশু
তালেবান আতঙ্কে ফেসবুক-টুইটার ছাড়ার হিড়িক
বিদেশে শিক্ষাবৃত্তি পেয়েও পড়তে যেতে পারছে না আফগান শিক্ষার্থীরা
দেশের জন্য কাঁদলেন সেই আফগান নারী সাংবাদিক

শেয়ার করুন

আফগানিস্তানে ফের মসজিদে বোমা, ব্যাপক প্রাণহানির শঙ্কা

আফগানিস্তানে ফের মসজিদে বোমা, ব্যাপক প্রাণহানির শঙ্কা

ফাইল ছবি

গত শুক্রবারও আফগানিস্তানের কুন্দুজে নামাজরত মুসল্লিদের ওপর আত্মঘাতী বোমা হামলা করা হয়। এতে অন্তত ৫০ মুসল্লির মৃত্যু ঘটে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানেই এবার ঘটলো কান্দাহারের ঘটনা।

জুমার নামাজে মগ্ন ছিলেন মুসল্লিরা। এ সময়ই আফগানিস্তানের কান্দাহার শহরে অবস্থিত ইমাম বারগাহ মসজিদে শক্তিশালী এক বোমা বিস্ফোরিত হয়েছে।

শুক্রবার স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর বরাতে এ খবর জানিয়েছে বিবিসি। প্রাথমিকভাবে ৩২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও এ ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিস্ফোরণের পর কিছু ছবিতে মসজিদের জানালার চূর্ণ বিচূর্ণ কাচ ও বেশকিছু মানুষকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, মসজিদের প্রধান দরজাটির কাছে তিনি অন্তত তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন।

ঘটনার পর মসজিদের সামনে অসংখ্য মানুষ ও অন্তত ১৫টি অ্যাম্বুল্যান্স দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। পরে আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর স্পেশাল ফোর্স এলাকাটির নিরাপত্তা জোরদার করে এবং সাধারণ মানুষকে রক্তদানের জন্য আহ্বান জানায়।

শক্তিশালী বোমাটি কীভাবে বিস্ফোরিত হয়েছে তা জানা না গেলেও সন্দেহ করা হচ্ছে আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীরাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

বিস্ফোরণের পর বিবিসির আফগান প্রতিনিধি সিকান্দার কারমানি এক টুইটে লিখেছেন, আইএস-এর স্থানীয় শাখা আইএস-খোরাসান এই হামলার দায় স্বীকার করতে পারে।

গত শুক্রবারও আফগানিস্তানের কুন্দুজে নামাজরত মুসল্লিদের ওপর আত্মঘাতী বোমা হামলা করা হয়। এতে অন্তত ৫০ মুসল্লির মৃত্যু ঘটে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানেই এবার ঘটলো কান্দাহারের ঘটনা।

কাবুল দখলে আগে গত ১৩ আগস্ট কান্দাহার শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল তালেবান সেনারা।

আরও আসছে...

আরও পড়ুন:
ভেঙে পড়েছে আফগানিস্তানের ব্যাংকিংব্যবস্থা
তালেবানের ‘প্রতিহিংসার’ বলি শিশু
তালেবান আতঙ্কে ফেসবুক-টুইটার ছাড়ার হিড়িক
বিদেশে শিক্ষাবৃত্তি পেয়েও পড়তে যেতে পারছে না আফগান শিক্ষার্থীরা
দেশের জন্য কাঁদলেন সেই আফগান নারী সাংবাদিক

শেয়ার করুন

তালেবান রাজত্বে মাদকাসক্তদের দিনকাল

তালেবান রাজত্বে মাদকাসক্তদের দিনকাল

কাবুলের আবিসিনা মেডিক্যাল হাসপাতালে একদল আফগান মাদকাসক্ত

প্রায় প্রতি রাতেই কিছু তালেবান যোদ্ধা পুলিশের বেশে অবতীর্ণ হচ্ছেন এবং মাদকাসক্তদের আস্তানায় হানা দিচ্ছেন। মাদকাসক্তদের আটক করে তারা কতগুলো পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়ে যাচ্ছেন। সোজা কথায় কাজ না হলে কোনো কোনো মাদকাসক্তকে বেদম মারধরও করছেন তারা।

কয়েক দিন আগে এক সন্ধ্যায় কাবুলের গুজারগাহ এলাকায় একটি সেতুর নিচে আলো-আঁধারির মাঝে গিয়ে হাজির হন গুটিকয়েক তালেবান সেনা। তাদের হাতে চাবুক আর কাঁধে ঝুলছিল রাইফেল।

এ সময় সেতুর নিচে ময়লা আবর্জনা আর দুর্গন্ধ থেকে কয়েকজনকে বেরিয়ে আসার নির্দেশ দিলেন সেনাদের একজন। নির্দেশ পেয়ে হতবিহ্বল কয়েকজন বেরিয়েও এলেন। বাকিদের জোর করে বাইরে আনা হলো।

আগন্তুক সেনাটি এবার নির্দেশ দিলেন, মাদক সেবনের জন্য যার কাছে যা আছে সব হস্তান্তর করার জন্য। এই নির্দেশের পর নোংরা বেশভূষার মানুষগুলোর কয়েকজন হাতে থাকা অবশিষ্ট হেরোইনটুকু তাড়াহুড়ো করে সেবনের উদ্যোগ নিলেন।

দলটির মধ্যে এক ব্যক্তি তড়িঘড়ি করে একটি লাইটার জ্বালিয়ে মুখের সামনে একটি ফয়েল পেপারের নিচে ধরলেন। একটি পাইপ মুখে দিয়ে তিনি হেরোইনের ধোঁয়াটুকু টেনে নিচ্ছিলেন।

আরেকজন অবশ্য কিছুটা প্রতিবাদের সুরে বলে উঠলেন, ‘এগুলো ভিটামিন!’

তালেবান সেনা কারি ফেদায়ি তখন অন্য এক মাদকাসক্তের হাতদুটো পিছমোড়া করে বাঁধছিলেন।

ফেদায়ি বলেন, ‘এরা এ দেশেরই লোক। এদের মাঝে অনেক ভালো মানুষও আছে। সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় এদের এখন চিকিৎসার জন্য পাঠানো হবে।’

রক্তচক্ষু আর কঙ্কালসার মানুষগুলোর মধ্যে বয়স্ক এক ব্যক্তি নিজেকে কবি দাবি করে বসলেন। বললেন, এবারের মত ছেড়ে দিলে তিনি আর কখনোই মাদক সেবন করবেন না। একটা কাগজের টুকরো হাতে নিয়ে কবিতার লাইন পড়ে তিনি নিজেকে কবি প্রমাণ করার চেষ্টাও করলেন। কিন্তু এতে কোনো কাজ হলো না।

তালেবান রাজত্বে মাদকাসক্তদের দিনকাল
কাবুলের গুজারগাহ এলাকায় এই সেতুর নিচে মাদকসেবীদের আস্তানা

ফরাসি বার্তা সংস্থা এপি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানের বর্তমান শাসক গোষ্ঠী তালেবান এবার দেশের মাদকাসক্তি নির্মূলে মন দিয়েছে। জোর করে হলেও তারা মাদকাসক্ত আফগানদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে চায়।

তাই প্রায় প্রতি রাতেই কিছু তালেবান যোদ্ধা পুলিশের বেশে অবতীর্ণ হচ্ছেন এবং মাদকাসক্তদের আস্তানায় হানা দিচ্ছেন। মাদকাসক্তদের আটক করে তারা কতগুলো পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়ে যাচ্ছেন। সোজা কথায় কাজ না হলে কোনো কোনো মাদকাসক্তকে বেদম মারধরও করছেন তারা।

বছরের পর বছর ধরে যুদ্ধ, আগ্রাসন আর ক্ষুধা-দারিদ্র্যের হতাশা থেকে আফগানিস্তানের বিপুল সংখ্যক মানুষ মাদকাসক্তিতে ভোগছেন। তাদের মাঝে যেমন আছেন কবি, তেমনি আছেন- সাবেক সেনা, ব্যবসায়ী এমনকি কৃষকও।

বিশ্বজুড়ে যে পরিমাণ হেরোইন পাওয়া যায় তার একটি বড় অংশই আসে আফগানিস্তানের পপি চাষ থেকে। তাই দেশটিতে এই মাদক খুবই সহজলভ্য।

মাদকাসক্তদের মধ্যে কে ছোট, কে বড়, কে ধনী আর কে গরিব তার কোনো বাছ-বিচার নেই তালেবানদের কাছে। তাদের প্রস্তাবিত শারিয়া আইনেও মাদকের কোনো ঠাঁই নেই।

তবে মাদকের বিরুদ্ধে তালেবানের যুদ্ধ প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল। কারণ হেরোইনের কাঁচামাল আফিম কিংবা পপি চাষে তাদেরও ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ আছে। আফিমের উৎপাদন দেশটির অর্থনীতি ও অস্থিরতার সঙ্গেও নিবিড়ভাবে জড়িত। দেশটিতে যেসব কৃষক আফিম কিংবা পপি চাষ করেন, তাদের ভূমিকা অনেকটা তালেবানের গ্রাম পুলিশের মতো।

গত দুই দশক ধরে বিদেশি সেনা নিয়ন্ত্রিত আফগানিস্তানের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে তালেবানরা মাদক চোরাচালান ও পপি চাষীদের ওপর কর আরোপ করেই বিপুল অর্থ আয় করেছে। যদিও তারা এ ধরনের অভিযোগ বরাবরই নাকচ করে এসেছে। মাদকের বিরুদ্ধে অতীতে তাদের অবস্থান নিয়েও উচ্চ-বাচ্য করে তারা।

আফগানিস্তানে মার্কিন সেনা অবস্থানের আগে ২০০০-০১ সালে ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় দেশে আফিম উৎপাদন নিষিদ্ধ করেছিল তালেবান। কিন্তু পরে রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে বিতাড়িত হয়ে টিকে থাকার জন্য এর ওপরই অনেকাংশে নির্ভর করতে হয়েছে তাদের।

তালেবান রাজত্বে মাদকাসক্তদের দিনকাল
আবিসিনা মেডিক্যাল হাসপাতালে নেয়ার পর মাথা কামানো হচ্ছে এক মাদকাসক্তের

সেদিনের সেই সন্ধ্যায় গুজারগাহর সেই সেতুর নিচ থেকে অন্তত দেড়শ মাদকাসক্তকে আটক করেছিল তালেবানরা। পরে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় কাবুলে অবস্থিত মাদকাসক্তি চিকিৎসা কেন্দ্র আবিসিনা মেডিক্যাল হাসপাতালে। ২০০৩ সালে মার্কিন সেনারা এই ভবনটি নির্মাণ করেছিল। এখানেই ছিল তাদের আলোচিত ক্যাম্প ‘ফনিস্ক’। পরে ২০১৬ সালে মার্কিন সেনারাই এটিকে মাদক চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে। বর্তমানে এখানে একসঙ্গে ১ হাজার মাদকাসক্তের চিকিৎসা করা সম্ভব।

আবিসিনা মেডিক্যাল সেন্টারে নিয়ে যাওয়ার পর সেদিন প্রথমেই সব মাদকাসক্তের মাথা কামানো হয়। পরে গোসল করিয়ে রোগী হিসেবে তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

হাসপাতালটিতে বর্তমানে ৭০০ মাদকাসক্ত রয়েছেন। তাদের মধ্যে এমন অনেকেই আছেন পরিবারের সদস্যরা যার খোঁজ জানেনা দীর্ঘদিন।

এমনই এক মাদকাসক্তের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন তার মা সিতারা। ফরাসি সংবাদ সংস্থা এপি’র একটি ভিডিও চিত্রে দেখা যায়- ২১ বছর বয়সী মাদকাসক্ত ছেলেকে ফিরে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন সিতারা। ছেলেকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে কেঁদে তিনি বলছিলেন, ‘আমার জীবনে আমার ছেলেই সব।’

তালেবান রাজত্বে মাদকাসক্তদের দিনকাল
পুনর্বাসন কেন্দ্রে মাদকাসক্ত ছেলের সামনে সিতারা

আরও পড়ুন:
ভেঙে পড়েছে আফগানিস্তানের ব্যাংকিংব্যবস্থা
তালেবানের ‘প্রতিহিংসার’ বলি শিশু
তালেবান আতঙ্কে ফেসবুক-টুইটার ছাড়ার হিড়িক
বিদেশে শিক্ষাবৃত্তি পেয়েও পড়তে যেতে পারছে না আফগান শিক্ষার্থীরা
দেশের জন্য কাঁদলেন সেই আফগান নারী সাংবাদিক

শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচলের জন্য প্রস্তুত কাবুল বিমানবন্দর

আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচলের জন্য প্রস্তুত কাবুল বিমানবন্দর

কাবুল বিমানবন্দর। ফাইল ছবি

কাবুলে বিমানের টিকিটের দাম আকাশছোঁয়া বলে অভিযোগ করেছেন ইরান ও পাকিস্তানের ভিসাপ্রাপ্ত অর্ধশতাধিক আফগান নাগরিক। আফগানিস্তানের পর্যটনবিষয়ক প্রতিষ্ঠানের একটি ইউনিয়নের প্রধান মাসুদ বিনা বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের টিকিটের দাম বেড়েছে। পাকিস্তানের টিকিটের দাম যেখানে আগে ছিল দেড় শ থেকে দুই শ ডলার, সেখানে এখন দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ শ ডলারে।’

পুরোদমে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচলের জন্য কাবুল বিমানবন্দর প্রস্তুত বলে জানিয়েছে আফগানিস্তানের বেসামরিক বিমান কর্তৃপক্ষ। বিদ্যমান সামান্য কিছু কারিগরি ত্রুটিও শিগগিরই ঠিক করে ফেলা যাবে বলেও জানিয়েছে প্রশাসন।

আফগানিস্তানের বেসামরিক বিমান কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাঈম সালেহি শনিবার এক ঘোষণায় জানান, বিমান চলাচল শুরু করার বিষয়ে প্রতিবেশী দেশ ও বিশ্ব সম্প্রদায়কে অবহিত করা হয়েছে।

সালেহি বলেন, ‘কারিগরি দিক থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচলে আর কোনো বাধা নেই। প্রতিবেশী দেশগুলোর জবাবের অপেক্ষায় আছি আমরা। কাবুল থেকে তারা যাত্রী আনানেয়া শুরু করবে কি না, সে সিদ্ধান্ত তারা জানাবে। আপাতত অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চালু রয়েছে।’

টোলো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মাস থেকে কাবুলের হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে এখনও আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ওঠানামা শুরু করার অপেক্ষায় কর্তৃপক্ষ। বিমানবন্দরের কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক করতে জোরেসোরে কাজ চলছে।

গত কিছুদিনে বিমানবন্দরটি থেকে কয়েকটি চার্টার ফ্লাইট কাতার, পাকিস্তান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে পৌঁছেছে। মূলত আফগানসহ কয়েক দেশের নাগরিকদের তালেবানশাসিত আফগানিস্তান থেকে উদ্ধার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ওই ফ্লাইটগুলো কাবুল ছেড়ে যায়।

এদিকে, কাবুলে বিমানের টিকিটের দাম আকাশছোঁয়া বলে অভিযোগ করেছেন ইরান ও পাকিস্তানের ভিসাপ্রাপ্ত অর্ধশতাধিক আফগান নাগরিক।

এক বাসিন্দা বলেন, ‘মানুষ পাসপোর্ট আর ভিসা পেয়ে গেছে। কিন্তু টিকিট নেই। ভাগ্যক্রমে টিকিট পেয়ে গেলেও তার দাম অসম্ভব বেশি।’

কাবুলভিত্তিক কয়েকটি পর্যটন প্রতিষ্ঠানের মালিকরাও বিমান টিকিটের আকাশছোঁয়া দামের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আফগানিস্তানের পর্যটনবিষয়ক প্রতিষ্ঠানের একটি ইউনিয়নের প্রধান মাসুদ বিনা বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের টিকিটের দাম বেড়েছে। পাকিস্তানের টিকিটের দাম যেখানে আগে ছিল দেড় শ থেকে দুই শ ডলার, সেখানে এখন দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ শ ডলারে।’

আফগান বেসামরিক বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কাতার, পাকিস্তান আর সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আফগানিস্তানে পাঠানো সহায়তা নিয়ে এ পর্যন্ত ১০টির বেশি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট কাবুল বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে।

আরও পড়ুন:
ভেঙে পড়েছে আফগানিস্তানের ব্যাংকিংব্যবস্থা
তালেবানের ‘প্রতিহিংসার’ বলি শিশু
তালেবান আতঙ্কে ফেসবুক-টুইটার ছাড়ার হিড়িক
বিদেশে শিক্ষাবৃত্তি পেয়েও পড়তে যেতে পারছে না আফগান শিক্ষার্থীরা
দেশের জন্য কাঁদলেন সেই আফগান নারী সাংবাদিক

শেয়ার করুন

মেয়েকে বাঁচাতে ছেলেকে বিক্রি

মেয়েকে বাঁচাতে ছেলেকে বিক্রি

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের বিভিন্ন অঞ্চলে তাঁবুতে ঘর বেঁধেছে লাখো শরণার্থী। ছবি: টোলো নিউজ

গত বছর থেকে লাইলুমার স্বামী নিখোঁজ। তিনি বলেন, ‘ছেলেকে বিক্রি করা ছাড়া কোনো উপায় ছিল না আমার। কেউ শখ করে নিজের সন্তানকে বিক্রি করতে চায় না।’

আফগানিস্তানে অভ্যন্তরীণ শরণার্থী এক নারী নিজের ১৩ বছর বয়সী অসুস্থ মেয়ের প্রাণ বাঁচাতে ছেলেকে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন।

টোলো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, রোগাক্রান্ত মেয়ের চিকিৎসার খরচ জোগাড়ে এ ছাড়া উপায় ছিল না ওই মায়ের।

লাইলুমা নামের ওই নারী রাজধানী কাবুলে শরণার্থী হিসেবে বাস করছেন। বাঘলান প্রদেশে ভিটেমাটি ছেড়ে দুই সন্তানকে নিয়ে কাবুলের সড়কে তাঁবুতে ঘর বেঁধে থাকছিলেন তিনি।

লাইলুমা জানান, দেড় বছর বয়সী ছেলেকে ৩০ হাজার আফগানি মুদ্রায় বিক্রি করেছেন তিনি, যা ৩৩৫ ডলারের সমপরিমাণ।

গত বছর থেকে লাইলুমার স্বামী নিখোঁজ। তিনি বলেন, ‘ছেলেকে বিক্রি করা ছাড়া কোনো উপায় ছিল না আমার। কেউ শখ করে নিজের সন্তানকে বিক্রি করতে চায় না।’

এদিকে শীতের মৌসুম চলে আসায় কাবুলে শরণার্থী হিসেবে বসবাসরত মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে বলে জানিয়েছে অনেক গৃহহীন পরিবার। রাজধানীর বিভিন্ন অঞ্চলে তাঁবুতে বাস করছে তারা। আবহাওয়া শীতল হতে থাকায় অসুস্থ হয়ে পড়ছে শিশু ও বয়স্করা।

কুন্দুজ থেকে কাবুলে আশ্রয় নেয়া নারী মারিয়া বলেন, ‘একটু বৃষ্টি হলেই সব ভিজে যায়। সন্তানরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। আমরাও রাতে ঘুমাতে পারি না।’

শরণার্থীবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে কোনো ধরনের সাহায্য পাচ্ছে না বলে জানিয়েছে আশ্রয়হীন পরিবারগুলো।

তাখার প্রদেশ থেকে কাবুলে আশ্রয় নেয়া আরেক নারী আয়েশা বলেন, ‘শরণার্থী মন্ত্রণালয়ের কর্মীরা এখানে এসেছিলেন। জরিপ করেছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা কোনো ধরনের সহায়তা পাইনি। এমন চলতে থাকলে এরপর না খেতে পেয়ে মরব আমরা।’

১৫ আগস্ট তালেবান কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয়। তার আগে তালেবান আফগানিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চল দখল করতে শুরু করলেও কাবুল নিয়ন্ত্রণ করছিল সাবেক সরকার। সে সময় তালেবানের হাত থেকে বাঁচতে দেশের প্রায় সব প্রদেশ থেকে রাজধানীতে ভিড় করে লাখো আফগান।

আরও পড়ুন:
ভেঙে পড়েছে আফগানিস্তানের ব্যাংকিংব্যবস্থা
তালেবানের ‘প্রতিহিংসার’ বলি শিশু
তালেবান আতঙ্কে ফেসবুক-টুইটার ছাড়ার হিড়িক
বিদেশে শিক্ষাবৃত্তি পেয়েও পড়তে যেতে পারছে না আফগান শিক্ষার্থীরা
দেশের জন্য কাঁদলেন সেই আফগান নারী সাংবাদিক

শেয়ার করুন