টিকা সনদটি বিশ্বের প্রাচীনতম বা অটোমান সাম্রাজ্যের নয়

টিকা সনদটি বিশ্বের প্রাচীনতম বা অটোমান সাম্রাজ্যের নয়

বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ নিশ্চিত করেছেন যে ভাইরাল ছবিটি টিকা সনদ হলেও সেটি সরবরাহের সময়কাল ১৯০৬ সাল। অর্থাৎ ভাইরাল ছবিতে টিকা সনদটি ১৭২১ সালের বলে যে দাবি করা হয়েছে, তা সত্য নয়। ১৯০৩ সালে অটোমান সাম্রাজ্যের টিকাবিষয়ক নথির উদাহরণ দিয়ে রাটগার্স ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক নুখেত ভার্লিক বলেন, ‘টিকা সনদটি নিঃসন্দেহে বিশ্বের প্রাচীনতমও নয়।’

‘বিশ্বের প্রাচীনতম টিকা সনদ ১৭২১ সালের’- সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এমন দাবি সম্বলিত একটি ছবি সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে ফেসবুকে।

ফেসবুক পোস্টটির সঙ্গে একটি নথির ছবি যুক্ত করা হয়েছে। নথিটিতে ‘ভ্যাকসিন সার্টিফিকেট’ কথাটি ফরাসি ভাষায় লেখা, যার বাংলা করলে দাঁড়ায় টিকা সনদ। নথির বাকি সব তথ্য লেখা হয়েছে অটোমান টার্কিশ ভাষায়।

নথির ছবিটি ফেসবুকে প্রথম ছড়ায় ১৫ সেপ্টেম্বরের একটি পোস্ট থেকে, যেটির ক্যাপশন লেখা হয়েছিল ইন্দোনেশীয় ভাষায়। সেখানে লেখা ছিল, ‘বিশ্বের প্রাচীনতম টিকা সনদ এটি, যা দেয়া হয়েছিল ১৭২১ খ্রিস্টাব্দে। তৎকালীন অটোমান টার্কিশ ইসলামিক খেলাফত কর্তৃক সনদটি সরবরাহ করা হয়েছিল। ইসলামিক সভ্যতা এত আধুনিক ছিল যে সে আমলেও টিকা সনদের প্রচলন ছিল।’

মধ্যপ্রাচ্যের আংশিক, ইউরোপের পূর্বাঞ্চল ও আফ্রিকার উত্তরাঞ্চলজুড়ে ৬০০ বছরের বেশি সময় ধরে অটোমান সাম্রাজ্যের শাসন বহাল ছিল। ১৯২৩ সালে তুরস্ক প্রজাতন্ত্র ঘোষণার আগ পর্যন্ত ছিল অটোমান সাম্রাজ্যের মেয়াদ।

পরে ফেসবুকের আরও বেশ কয়েকটি অ্যাকাউন্ট থেকে ছবিটি প্রকাশ করা হয়। ৮৩০ বারের বেশি শেয়ার করা হয় পোস্টগুলো। টুইটার আর টিকটকেও ভাইরাল হয়েছে ছবিটি।

কিন্তু বার্তা সংস্থা এএফপির ফ্যাক্ট চেক প্রতিবেদনে ছবির ক্যাপশনটিতে থাকা তথ্য মিথ্যা বলে জানানো হয়েছে।

বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ নিশ্চিত করেছেন যে ভাইরাল ছবিটি টিকা সনদ হলেও সেটি সরবরাহের সময়কাল ১৯০৬ সাল। অর্থাৎ ভাইরাল ছবিতে টিকা সনদটি ১৭২১ সালের বলে যে দাবি করা হয়েছে, তা সত্য নয়।

ইউনিভার্সিটি অফ অ্যারিজোনার স্কুল অফ মিডল ইস্টার্ন অ্যান্ড নর্থ আফ্রিকান স্টাডিজের পরিচালক ও ইতিহাসের অধ্যাপক বেঞ্জামিন ফোর্টনা জানান, সনদের একদম নিচে যে বছরের কথা উল্লেখ আছে, সেটি গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ১৯০৬ সাল।

তিনি বলেন, ‘নথির শেষে থাকা তারিখটি রুমি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ২৭ আগস্ট, ১৩২২। রুমি ক্যালেন্ডার হলো সূর্যকে পৃথিবীর প্রদক্ষিণ করার হিসাব অনুযায়ী অটোমান সাম্রাজ্যের প্রণীত প্রশাসনিক বর্ষপঞ্জি।’

অনলাইনে টার্কিশ হিস্টোরিক্যাল সোসাইটির (তুর্ক তারিহ কুরুমু) বর্ষপঞ্জি ক্যালকুলেটর ব্যবহার করে অধ্যাপক ফোর্টনা জেনেছেন, আধুনিক বর্ষপঞ্জির হিসাবে টিকা সনদে উল্লেখিত সালটি যে ১৯০৬, সে বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই।

কানাডার ইউনিভার্সিটি অফ গুয়েলফের ইসলামিক অ্যান্ড মিডল ইস্ট হিস্ট্রির সহযোগী অধ্যাপক রেনে উরিঙ্গার। অটোমান সাম্রাজ্যের ইতিহাস নিয়ে সংক্ষিপ্ত একটি বইও লিখেছেন তিনি।

অধ্যাপক উরিঙ্গার বলেন, ‘সনদের নিচে উল্লেখিত ১৩২২ সালটি সম্ভবত গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ১৯০৬ সাল হবে।’

একই মত যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সিতে অবস্থিত রাটগার্স ইউনিভার্সিটির ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং অটোমান সাম্রাজ্যবিষয়ক গবেষক ও লেখক নুখেত ভার্লিকেরও।

ভার্লিক জানান, সনদে উল্লেখিত লেখা থেকে আভাস মেলে যে এটির গ্রহীতা ছিলেন বর্তমান ইস্তাম্বুলের তৎকালীন বাসিন্দা ২২ বছর বয়সী এক গ্রিক অর্থোডক্স যুবক। তৃতীয় ডোজ নেয়ার পর তাকে টিকা সনদটি দেয়া হয়। কিন্তু কোন রোগ প্রতিরোধে তিনি টিকাটি নিয়েছিলেন, সেটির উল্লেখ নেই সনদে।

ভার্লিক বলেন, ‘আমরা জানি যে ওই সময় গুটিবসন্ত, প্লেগ, কলেরা, টাইফয়েড, জলাতঙ্কসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে টিকা দেয়ার প্রচলন ছিল।’

১৯০৩ সালে অটোমান সাম্রাজ্যের টিকাবিষয়ক নথির উদাহরণ দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘টিকা সনদটি নিঃসন্দেহে বিশ্বের প্রাচীনতমও নয়।’

জার্মানির রাজধানী বার্লিনে অবস্থিত ইহুদি জাদুঘরের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের প্রাচীনতম টিকা সনদটি তাদের কাছে সংরক্ষিত। বর্তমান চেক প্রজাতন্ত্রে ১৮৪৪ সালে সনদটি ইস্যু করা হয় সেখানকার এক ব্যক্তির নামে। তিনি বসন্ত রোগের টিকা নিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন:
করোনা টিকা নিয়ে পাকিস্তানি পত্রিকার দাবি কি সঠিক?

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ছবিতে হিজাব না থাকায় হেনস্তার অভিযোগ কতটা সত্যি

ছবিতে হিজাব না থাকায় হেনস্তার অভিযোগ কতটা সত্যি

ওই নারীর এই পোস্টটি ছড়িয়েছে ফেসবুকে।

চট্টগ্রামের ২৫ নম্বর রামপুর ওয়ার্ডের সচিব অঞ্জন চক্রবর্তী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আজকে (মঙ্গলবার) আমাদের ওয়ার্ডের অফিসে এ ধরনের সেবা নিতে কেউ আসেনি এবং এ ধরনের কথা কাউকে বলা হয়নি।’

হিজাব পরা ছবি না থাকায় এক নারীর স্বজনকে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ২৫ নম্বর রামপুর ওয়ার্ড কাউন্সিলর অফিসের কর্মীদের বিরুদ্ধে। তবে তা অস্বীকার করেছেন ওই ওয়ার্ড অফিসের কর্মীরা।

চট্টগ্রাম নগরীর ওই নারী মঙ্গলবার সকালে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে হেনস্তার শিকার হওয়ার অভিযোগ তোলেন।

পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আজকে (মঙ্গলবার) জন্মনিবন্ধনের জন্য ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে কাগজ নিয়ে যাওয়ার পর যারা ফরম জমা নিচ্ছিলেন, তারা বললেন, হিজাব ছাড়া ছবিতে নাকি কমিশনার সাইন করেন না। ছবিটা সুন্দর না এবং শালীন না। কে হিজাব পরবে কে পরবে না এটা তো একটা ব্যক্তিস্বাধীনতার ব্যাপার। ছবি শালীন না তাই ছবি দাগিয়ে দেয়া এসব অভ্যাসগত অধিকার কোথা থেকে এরা পায়? এ ব্যাপারে কী পদক্ষেপ নেয়া যায়?

তার এই পোস্ট ফেসবুকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তবে সন্ধ্যা ৭টার দিকে ওই নারীর ফেসবুক ওয়ালে পোস্টটি আর দেখা যায়নি।

বিষয়টি নিয়ে নিউজবাংলা ওই নারীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি ঘটনাটি ঘটেছে বলে দাবি করেন। তিনি জানান, সরাসরি হেনস্তার ঘটনাটি ঘটে তার ভাইয়ের সঙ্গে। ছোট ভাই তার ছবিটি নিয়ে ২৫ নম্বর রামপুর ওয়ার্ড কাউন্সিলর অফিসে গিয়েছিলেন। সেখানেই তিনি দুর্ব্যবহারের শিকার হন।

তিনি বলেন, ‘আমি এবং আমার পরিবার হেনস্তার শিকার হয়েছি। তবে বিষয়টি আরও বড় হোক সেটি আমি চাই না।’

এ বিষয়ে জানতে রামপুর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবদুস সবুর লিটনকে ফোন করা হলে তার নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। পরে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দেয়া হলে লিটন জানান, তিনি এখন দুবাইয়ে আছেন।

২৫ নম্বর রামপুর ওয়ার্ডের সচিব অঞ্জন চক্রবর্তী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আজকে (মঙ্গলবার) আমাদের ওয়ার্ডের অফিসে এ ধরনের সেবা নিতে কেউ আসেনি এবং এ ধরনের কথা কাউকে বলা হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘রামপুর ওয়ার্ড অফিসের জন্মনিবন্ধন সহকারী সুমন গুপ্ত আমার পাশেই বসেন। তিনি আজ এ ধরনের কথা কাউকে বলেননি। তিনি সব কাজ আমার কাছে পরামর্শ নিয়ে করেন। কারও ছবি দাগিয়ে দেয়ার ঘটনাও ঘটেনি।’

বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য জানতে রামপুর ওয়ার্ড অফিসের জন্মনিবন্ধন সহকারী সুমন গুপ্তকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

আরও পড়ুন:
করোনা টিকা নিয়ে পাকিস্তানি পত্রিকার দাবি কি সঠিক?

শেয়ার করুন

নুরের কর্মীদের কাছে টাকা দাবির অভিযোগে কী বলছে পুলিশ?

নুরের কর্মীদের কাছে টাকা দাবির অভিযোগে কী বলছে পুলিশ?

ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর (বাঁয়ে) এবং জেএমসেন হল পূজামণ্ডপে হামলায় স্বীকারোক্তি দেয়া দলটির চট্টগ্রাম কমিটির সাবেক আহ্বায়ক হাবিবুল্লাহ মিজান। ছবি: নিউজবাংলা

নুরের অভিযোগ, ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদের ৯ নেতা-কর্মীকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে টাকা দাবি করা হয়েছে। চোখে কালো কাপড় বেঁধে ক্রসফায়ারেরও হুমকি দিয়েছে। পরে মামলায় জড়িয়ে থানায় নিয়ে অমানবিক নির্যাতন করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি আদায় করেছে পুলিশ। তবে পুলিশ বলছে, ক্রসফায়ারে দেয়ার হুমকির অভিযোগটি ভিত্তিহীন। এ ছাড়া কারও কাছে টাকাও চায়নি পুলিশ।

চট্টগ্রামে ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদের গ্রেপ্তার নেতাদের নির্যাতন এবং তাদের পরিবারের কাছ থেকে টাকা দাবি করেছে পুলিশ, নুরুল হক নুরের এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে বাহিনীটি।

পুলিশ বলছে, ক্রসফায়ারে দেয়ার হুমকির অভিযোগটি ভিত্তিহীন। এ ছাড়া কারও কাছে টাকাও চায়নি পুলিশ।

রাজধানীর নয়াপল্টনে যুব ও ছাত্র অধিকার পরিষদের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রোববার দলটির আহ্বায়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর এমন অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, ‘১৩ অক্টোবর কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড়ের পূজামণ্ডপে কোরআন পাওয়ার জেরে চট্টগ্রামে জেএমসেন হল পূজামণ্ডপে হামলার চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত না করে ছয় মাস ধরে কারাগারে থাকা তিন বিএনপিকর্মীকে মামলার আসামি করা হয়েছে।

‘ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদের ৯ নেতা-কর্মীকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে টাকা দাবি করা হয়েছে। চোখে কালো কাপড় বেঁধে ক্রসফায়ারেরও হুমকি দিয়েছে। পরে মামলায় জড়িয়ে থানায় নিয়ে অমানবিক নির্যাতন করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি আদায় করেছে পুলিশ।’

নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে গ্রেপ্তার নেতা-কর্মীদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে নিউজবাংলা।

তবে তারা কেউ এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। তাদের আইনজীবীও রাজি হননি কথা বলতে।

নুরের দলের গ্রেপ্তার ৯ জনের মধ্যে আছেন ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদের চট্টগ্রাম মহানগরের আহ্বায়ক মো. নাছির। তিনি নগরের তামাকুমন্ডি লেনে ব্যবসা করেন। সেখানে তার বাবা ও বড় ভাইয়েরও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে।

সোমবার গিয়ে দেখা যায়, নাছিরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ।

পরিবারের কাছে পুলিশ টাকা চেয়েছে কি না জানতে চাইলে তার বড় ভাই আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এসব বিষয়ে আমরা কথা বলতে পারব না। আমাদের আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলেন।’

নাছিরের সঙ্গে দেখা হয়েছে কি না সে প্রশ্নে বলেন, ‘আদালতে নিয়ে গেলে দূর থেকে দেখেছি। রোববার বিকেলে আমরা কারাগারে গিয়েছিলাম তার সঙ্গে দেখা করতে কিন্তু পারিনি। করোনার কারণে নাকি দেখা করা নিষেধ। তাই এখনও নাছিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।’

নাছিরের বাবা ব্যস্ততার কথা জানিয়ে নিউজবাংলার প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।

ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদের বায়েজিদ বোস্তামী থানার আহ্বায়ক মো. রাসেলের বাসায় গেলে তার পরিবারের সদস্যরাও এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

দলটির চট্টগ্রাম মহানগর শাখার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পুলিশ ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে জবানবন্দি নিয়েছে। তবে টাকা দাবির বিষয়টি আমি শুনিনি।’

ওই ৯ নেতা-কর্মীর মামলা পরিচালনা করছেন চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী মাইনুল হোসেন ভূঁইয়া।

নির্যাতনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু মামলা পরিচালনা করি। এর বাইরে কোনো কিছু বলার সুযোগ আমার নেই।’

টাকা দাবির বিষয়ে জানান, তাকে এই বিষয়ে কেউ কিছু বলেনি। পরিবারের সদস্যরা এখনও আদালতকে কিছু জানায়নি।

নুরের অভিযোগ অস্বীকার করে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নেজাম উদ্দিন বলেন, ‘ভিডিও ফুটেজ দেখে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জোর করে কারও কাছ থেকে পুলিশ জবানবন্দি নেয়নি। ক্রসফায়ারে দেয়ার হুমকির অভিযোগ ভিত্তিহীন। পুলিশ কারও কাছে টাকা চায়নি।’

পুলিশ জানায়, দলটির চট্টগ্রাম কমিটির সাবেক আহ্বায়ক হাবিবুল্লাহ মিজান রোববার চট্টগ্রামের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সেখানে তিনি ১৫ অক্টোবরের হামলার দুদিন আগে এ বিষয়ে পরিকল্পনা করার কথা জানান। পরিকল্পনা অনুযায়ী মণ্ডপে হামলার দিন মুসল্লিদের জড়ো করেন।

আরও পড়ুন:
করোনা টিকা নিয়ে পাকিস্তানি পত্রিকার দাবি কি সঠিক?

শেয়ার করুন

করোনার টিকায় জীবন্ত পরজীবী নেই

করোনার টিকায় জীবন্ত পরজীবী নেই

দক্ষিণ কোরিয়ায় ফাইজার-বায়োএনটেক, মডার্না, অ্যাস্ট্রাজেনেকা ও জ্যানসেনের করোনা প্রতিরোধী টিকায় অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান উদ্ভাবিত টিকার উপাদানের তালিকায় কোনো পরজীবীর নাম নেই। অনুমোদিত করোনা প্রতিরোধী টিকায় গ্রাফেন বা এর উপজাত গ্রাফেন অক্সাইডেরও উপস্থিতি নেই।

জীবন্ত পরজীবী দিয়ে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা তৈরি করা হয়েছে বলে সম্প্রতি বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে একটি গুঞ্জন ছড়িয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়ায় ভাইরাল হয়েছে এ সংক্রান্ত পোস্ট।

চলতি মাসের ১৭ তারিখ ফেসবুকে প্রকাশিত কোরীয় ভাষার একটি পোস্টে বলা হয়, ‘এ টিকার প্রধান উপাদান গ্রাফেন। এই গ্রাফেনের ভেতরে জন্ম নেয় অ্যালুমিনিয়ামনির্ভর এক ধরনের পরজীবী।

‘মানবদেহে এই পরজীবী প্রবেশ করলে এর বিকাশ ও বংশবৃদ্ধি রোধের একটাই উপায়। সেটি হলো রক্ত পরিশোধন। সরকারের চাপে এমন একটি টিকা মানুষকে নিতে বাধ্য করা হচ্ছে।

‘এই পরজীবী থেকে মুক্তি পেতে আইভারমেকটিন (পরজীবীবিরোধী ওষুধ) সেবন খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নারীদের স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে গিয়ে নিজেদের গর্ভ পরীক্ষা করানো উচিত।’

বার্তা সংস্থা এএফপির ফ্যাক্ট চেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ দাবি সত্য নয়।

কথিত পরজীবীর একটি ছবিসহ এ দাবি ভাইরাল হয়েছে ফেসবুক, ইউটিউব ও অ্যান্ড্রয়েডভিত্তিক দাউম ক্যাফেতে। করোনা প্রতিরোধী টিকা নিয়ে ভুল তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে অভিযুক্ত একটি অনুষ্ঠান থেকে নেয়া হয়েছে ছবিটি।

স্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, টিকা তৈরির জন্য জীবাণুবিহীন পরিশুদ্ধ একটি পরিবেশ দরকার হয়। সেখানে উপাদান হিসেবে পরজীবী ব্যবহারের কোনো সুযোগই নেই।

কিউংপুক ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মহামারি রোগবিশেষজ্ঞ অধ্যাপক কিম শিন-উ বলেন, ‘করোনার টিকায় কোনো পরজীবী থাকা সম্ভব নয়, উপাদান হিসেবে তো নয়ই। কারণ টিকা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় দূষণ ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।’

দক্ষিণ কোরিয়ার চিকিৎসা ব্যবস্থার মান আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত। ওষুধ উৎপাদনের সময় জীবাণুপ্রতিরোধী কঠোর ফার্মাসিউটিক্যাল বিধিমালা মেনে চলতে হয়।

অধ্যাপক শিন-উ বলেন, ‘এসব বিধি কার্যকর না হলে টিকা প্রয়োগে অনুমোদনই দেয়া হতো না।’

গাশন ইউনিভার্সিটি কলেজ অফ মেডিসিন অ্যান্ড সায়েন্সের প্রিভেন্টিভ মেডিসিন বিষয়ের অধ্যাপক জুং জায়-হুন বলেন, ‘যে কোনো টিকা তৈরির ক্ষেত্রেই জীবাণুবিরোধী পরিবেশ রক্ষা বাধ্যতামূলক, যেখানে কোনো ক্ষতিকর জীবাণু বা ভাইরাসই প্রবেশ করতে বা টিকতে পারবে না। সেখানে পরজীবী থাকার তো প্রশ্নই নেই।’

দক্ষিণ কোরিয়ায় ফাইজার-বায়োএনটেক, মডার্না, অ্যাস্ট্রাজেনেকা ও জ্যানসেনের করোনা প্রতিরোধী টিকায় অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান উদ্ভাবিত টিকার উপাদানের তালিকায় কোনো পরজীবীর নাম নেই।

অনুমোদিত করোনা প্রতিরোধী টিকায় গ্রাফেন বা এর উপজাত গ্রাফেন অক্সাইডেরও উপস্থিতি নেই।

মানবদেহে কোনো পরজীবীর উপস্থিতি নিশ্চিত না হলে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া আইভারমেকটিন ওষুধ ব্যবহারের বিষয়েও সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্যবিদরা।

অধ্যাপক জুং বলেন, ‘আইভারমেকটিনের মতো ওষুধ সেবনে শরীরকে ক্লান্ত করে ফেলে। করোনাভাইরাসের টিকা নেয়ার পর এ ওষুধ সেবন করে কোনো লাভ হবে না কারণ টিকার সঙ্গে পরজীবীর কোনো সম্পর্ক নেই।’

করোনায় আক্রান্তদের চিকিৎসায় আইভারমেকটিন ব্যবহারের বিষয়ে আগেই সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা এফডিএ। করোনা ঠেকাতে এ ওষুধ কার্যকর বলে পরীক্ষায় প্রমাণ মেলেনি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

এ ছাড়া নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি আইভারমেকটিন প্রয়োগের শঙ্কা থেকে যায়, যার ফলে বমি, বমিভাব, ডায়রিয়া, নিম্ন রক্তচাপ, ক্লান্তি, চুলকানি ও চর্মরোগের মতো অ্যালার্জিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, শরীরের ভারসাম্যহীনতা, খিঁচুনি ইত্যাদি দেখা দিতে পারে। কোমায় চলে যাওয়া, এমনকি মৃত্যুর ঝুঁকিও রয়েছে।

পরীক্ষামূলকভাবে ছাড়া করোনার চিকিৎসায় আইভারমেকটিন ব্যবহার না করার পরামর্শ দেয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও।

আরও পড়ুন:
করোনা টিকা নিয়ে পাকিস্তানি পত্রিকার দাবি কি সঠিক?

শেয়ার করুন

দেবীগঞ্জে হিন্দুবাড়িতে আগুন চুল্লির, যতনকে নিয়ে ভুয়া ভিডিও

দেবীগঞ্জে হিন্দুবাড়িতে আগুন চুল্লির, যতনকে নিয়ে ভুয়া ভিডিও

দেবীগঞ্জে হিন্দু বাড়িতে আগুন (বাঁয়ে) ও বেগমগঞ্জে যতন সাহার ওপর হামলার ভিডিও দাবি করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে ফেসবুকে। ছবি: সংগৃহীত

দেবীগঞ্জের ওই বাড়ির মালিক অনুকূল চন্দ্র রায় বলেছেন, ঘরের ভেতরে স্থাপিত কলা পাকানোর চুল্লি থেকে আগুন লাগে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারাও। অন্যদিকে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে প্রাণ হারানো যতন সাহার ওপর হামলার দৃশ্য হিসেবে ছড়ানো হচ্ছে একটি পুরোনো ভিডিও।

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে এক হিন্দু বাড়িতে আগুনের ঘটনা ভাইরাল হয়েছে ফেসবুকে। আগুনের ছবি ও ভিডিও শেয়ার করে বেশ কিছু আইডি থেকে দাবি করা হয়, ধর্মীয় সহিংসতার অংশ হিসেবে আগুন দেয়া হয়েছে ওই বাড়িতে।

তবে বাড়ির মালিক অনুকূল চন্দ্র রায় বলছেন, ঘরের ভেতরে স্থাপিত কলা পাকানোর চুল্লি থেকে আগুন লেগেছে। একই তথ্য জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রত্যয় হাসান।

অন্যদিকে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে প্রাণ হারানো যতন সাহার ওপর হামলার দৃশ্য হিসেবে ছড়ানো হচ্ছে একটি পুরোনো ভিডিও। রাজধানীর বুকে গত মে মাসে একটি হত্যাকাণ্ডের সময় সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে ঘটনাটি।

দেবীগঞ্জ উপজেলার দেবীডুবা ইউনিয়নের দারারহাট অধিকারী পাড়া গ্রামের কলা ব্যবসায়ী অনুকূল চন্দ্র রায়ের বাড়িতে মঙ্গলবার ভোররাত ৪টার দিকে আগুন লাগে। স্থানীয়দের সহায়তায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় তা নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস।

ব্যবসায়ী অনুকূল নিউজবাংলাকে জানান, স্থানীয় হাট থেকে কাঁচা কলা কিনে চুল্লিতে পাকিয়ে বাজারে বিক্রি করেন তিনি। দুর্গাপূজা উপলক্ষে সোমবার তিনি ছাড়া বাড়ির সবাই আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। রাত ৯টার দিকে তিনি ঘরের ভেতরে স্থাপিত চুল্লিতে আগুন দিয়ে তার ওপর কলা রেখে পাশের ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন।

ভোররাতে হঠাৎ ঘুম ভাঙার পর দেখতে পান চুল্লির আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়েছে। বিষয়টি স্থানীয় থানায় লিখিতভাবেও জানিয়েছেন অনুকূল।

দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আগুন কীভাবে লেগেছে, তা উল্লেখ করে অনুকূল চন্দ্র পুলিশের কাছে বিবৃতি দিয়েছেন। বিষয়টিকে নাশকতা হিসেবে প্রচারের জন্য একটি মহল তৎপরতা চালাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রত্যয় হাসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দেশের সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় একটি মহল দাঙ্গা সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে। দেবীগঞ্জের ঘটনাটিকেও ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রচার চালানো হচ্ছে। আমরা সমন্বিতভাবে তা প্রতিহত করছি।’

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুই মাসের খাদ্য ও ঘর নির্মাণের জন্য ছয় বান্ডিল ঢেউটিন দেয়া হয়েছে বলেও জানান ইউএনও।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মজিবর রহমান বলেন, ‘অনুকূলকে গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে ৫০ হাজার টাকা এবং চার বান্ডিল ঢেউটিন দেয়া হয়েছে।’

দেবীগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শ্যামল দত্ত নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের এলাকায় হিন্দু-মুসলিমদের মধ্যে দারুণ সম্পর্ক। অপপ্রচার চালিয়ে একটি মহল সেই সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা চালাচ্ছে। আমরা সে বিষয়ে সজাগ আছি।’

কুমিল্লায় যতন সাহার মৃত্যু নিয়ে ভুয়া ভিডিও

কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে সহিংসতার পর নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় বৃহস্পতিবার এবং শুক্রবার বেশ কয়েকটি মণ্ডপে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এ সময় প্রাণ হারান প্রান্ত চন্দ্র দাশ নামে এক যুবক, আতঙ্কে হৃদরোগে যতন সাহা নামে আরেকজনের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তবে যতনের পরিবারের অভিযোগ, তিনিও হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। যতনের ওপর হামলার দৃশ্য দাবি করে একটি পুরোনো ভিডিও ছড়িয়েছে ফেসবুকে।

‘সত্যের সন্ধানে’ নামের একটি ফেসবুক পেজে মঙ্গলবার ওই ভিডিও পোস্ট করে দাবি করা হয়, যতনকে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, মাটিতে লুটিয়ে পড়া নীল জামা পরা এক ব্যক্তির শরীরে দুজন যুবক ধারালো কিছু দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করছেন।

তবে এই ফুটেজটি অন্য আরেকটি ঘটনার বলে নিশ্চিত হয়েছে নিউজবাংলা। রাজধানীর পল্লবীর ডি-ব্লকের ৩১ নম্বর রোডে গত ১৬ মে বিকেলে কুপিয়ে হত্যা করা হয় সাহিনুদ্দিন নামে একজনকে। তার বাসা পল্লবীর বুড়িরটেক। সাহিনুদ্দিনকে হত্যার দৃশ্য পাশের একটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে।

আর সেই ফুটেজটিকেই যতন সাহার ওপর হামলার ভিডিও হিসেবে ছড়িয়ে দেয়া হয় ‘সত্যের সন্ধানে’ নামের ফেসবুক পেজ থেকে।

ওই পেজ থেকে ভিডিওটি মঙ্গলবার সকাল ৮টা ৩৪ মিনিটে পোস্ট করা হয়, যেখানে আপলোডের ঠিকানা রয়েছে ভারতের নালবাড়ি। তবে মঙ্গলবার দুপুরের দিকে ভিডিওটি সরিয়ে নেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
করোনা টিকা নিয়ে পাকিস্তানি পত্রিকার দাবি কি সঠিক?

শেয়ার করুন

গোবিন্দ প্রামাণিকের অভিযোগের ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন

গোবিন্দ প্রামাণিকের অভিযোগের ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন

কুমিল্লা নগরীর নানুয়ার দিঘিরপাড়ে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পূজামণ্ডপ (বাঁয়ে) ও বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব গোবিন্দ প্রামাণিক। ছবি: নিউজবাংলা

গোবিন্দ প্রামাণিকের ওই বক্তব্য ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। বিষয়টি নিয়ে কুমিল্লায়ও চলছে আলোচনা। এমন অভিযোগ অস্বীকার করছেন এমপি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার ও মেয়র মনিরুল হক সাক্কু। আর হিন্দুনেতারা বলছেন, এ ধরনের কোনো বক্তব্য তারা গোবিন্দ প্রামাণিকের কাছে দেননি।

কুমিল্লা নগরীর নানুয়ার দিঘিরপাড়ে পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ পাওয়া এবং এর জের ধরে সহিংসতার পেছনে স্থানীয় রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব দায়ী থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব গোবিন্দ প্রামাণিক।

অনলাইনভিত্তিক একটি টক শোতে শনিবার রাতে তিনি বলেন, স্থানীয় লোকজন ও হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা তাকে বলেছেন, কুমিল্লা সদর আসনের এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার ও মেয়র মনিরুল হক সাক্কুর রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জেরে এমন ঘটনা ঘটেছে।

গোবিন্দ প্রামাণিকের ওই বক্তব্য ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। বিষয়টি নিয়ে কুমিল্লায়ও চলছে আলোচনা। এমন অভিযোগ অস্বীকার করছেন এমপি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার ও মেয়র মনিরুল হক সাক্কু। আর হিন্দুনেতারা বলছেন, এ ধরনের কোনো বক্তব্য তারা গোবিন্দ প্রামাণিকের কাছে দেননি।

অনলাইন ওই টক শোতে গোবিন্দ প্রামাণিক ছাড়াও কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোহাম্মদ আলী, ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোল্লা ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নূর অংশ নেন।

গোবিন্দ প্রামাণিকের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নির্মল পাল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বুধবার সকালে ঘটনার পর দিনভর সহিংসতা হয়। পরদিন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন কুমিল্লায় আসেন। পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে হিন্দুনেতাদের সঙ্গে কথা বলেন ডিআইজি আনোয়ার হোসেন।

‘আমরা জেলা ও মহানগর পূজা উদযাপন কমিটির নেতারা সেখানে উপস্থিত ছিলাম। এ সময় হিন্দু মহাজোটের কুমিল্লার নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন। সভা চলাকালে হঠাৎ উপস্থিত হন হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব গোবিন্দ প্রামাণিক। তবে তার সঙ্গে আমাদের কোনো কথা হয়নি।’

কুমিল্লা মহানগর পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক অচিন্ত্য দাশ টিটু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হিন্দু মহাজোট আলাদা সংগঠন। কেন কীভাবে এ ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে হিন্দু মহাজোটের কেন্দ্রীয় নেতারা আমাদের সঙ্গে কোনো কথাই বলেননি। তারা কথা বলেছেন হিন্দু মহাজোটের জেলা নেতৃবৃন্দের সঙ্গে।’

হিন্দু মহাজোটের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মানিক ভৌমিকও বলছেন, এমন কোনো অভিযোগ তারা গোবিন্দ প্রামাণিককে জানাননি।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে কুমিল্লায় সহিংসতা হয়েছে, এটা আমরা কখনোই বলিনি। ঘটনার পরদিন বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব গোবিন্দ প্রামাণিক বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন।

‘পরে গোবিন্দ প্রামাণিককে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নিয়ে যাই। সেখানে ডিআইজি আনোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত ডিআইজি জাকির হোসেন, পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদের সঙ্গে গোলটেবিল বৈঠক হয়। সেখানে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে এ ঘটনা ঘটেছে বলে কোনো কথা হয়নি।’

টক শোতে গোবিন্দ প্রামাণিকের তোলা অভিযোগের বিষয়ে মানিক ভৌমিক বলেন, ‘যদি উনি এমন কথা বলেন তাহলে সেটা ওনার বিষয়। কারণ কুমিল্লার বাটি চালান দিয়েও একটি মানুষ পাওয়া যাবে না যে বলবে মেয়র ও এমপির দ্বন্দ্ব রয়েছে। এটা হাস্যকর কথা।

‘তবে আমাদের নেতা গোবিন্দ প্রামাণিক ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গেও কথা বলেছেন। তাদের সঙ্গে কী কথা বলেছেন, সেটা আমরা জানি না।’

সংগঠনটির কুমিল্লার সহসভাপতি অ্যাডভোকেট স্বর্ণকমল নন্দীও একই মন্তব্য করেন।

এ বিষয়ে কুমিল্লার ঠাকুরপাড়া এলাকার কালীগাছতলার বাসিন্দা অশোক রায় নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের জানামতে এটা রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব থেকে হয়নি। এটা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তৃতীয় কোনো পক্ষ এ কাজটা করেছে।’

ছাতিপট্টি রক্ষাকালী মন্দিরের আশপাশের হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনও মনে করছেন, রাজনৈতিক কারণে এমন হামলা হয়নি। মেয়র ও এমপির সঙ্গে হিন্দু সম্প্রদায়ের সুসম্পর্ক দীর্ঘদিনের বলেও তারা দাবি করেন।

কী বলছেন এমপি-মেয়র

ধর্মীয় সহিংসতার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মেয়র মনিরুল হক সাক্কু। এমপি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকার দাবিও করেছেন তিনি।

সাক্কু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঘটনার সময় এমপি সাব ছিলেন হজে, আমি ছিলাম কুমিল্লায়। মানুষ মুখ দিয়া কত কথা কয়, কিন্তু কেউ প্রমাণ দিতে পারবে?’

টক শোটি দেখেননি জানিয়ে সাক্কু বলেন, ‘আমার সঙ্গে এমপি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে। আমি বিএনপির রাজনীতি করলেও আওয়ামী লীগের এমপির সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক। এ কারণে অনেকে আমাকে কটাক্ষও করেন।’

সাক্কু মনে করেন, ভালো সম্পর্ক না থাকলে এলাকায় উন্নয়নকাজ করা সম্ভব না। তিনি বলেন, ‘কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রতিটি কাজ আমি এমপির সঙ্গে পরামর্শ করেই করি। কাজেই যারা এমন বক্তব্য দেয়, সেগুলো তাদের নিজস্ব বিষয়।’

অন্যদিকে কুমিল্লা সদর আসনে আওয়ামী লীগের এমপি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আগামীকাল সোমবার বিকেলে গণজমায়েতের আয়োজন করা হয়েছে। সেই জমায়েতেই টক শোর ওই মন্তব্যের জবাব দেয়া হবে।’

বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব গোবিন্দ প্রামাণিকের মন্তব্যও জানতে চেয়েছে নিউজবাংলা। তিনি বলেন, ‘আমাকে অনেকে রোববার সকালে ফোন করে এমপির সঙ্গে মেয়রের সুসম্পর্কের কথা জানিয়েছেন। তবে আমি বলব এমপি অনেক প্রভাবশালী। এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা রহস্যজনক ছিল।’

আরও পড়ুন:
করোনা টিকা নিয়ে পাকিস্তানি পত্রিকার দাবি কি সঠিক?

শেয়ার করুন

শিশুসহ ৩ নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের তথ্য ‘ভুয়া’

শিশুসহ ৩ নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের তথ্য ‘ভুয়া’

ফেসবুকে বিভিন্ন আইডি থেকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগটি ছড়িয়ে দেয়া হয়। এতে দাবি করা হয়, ১০ বছরের এক শিশু, তার বোন ও মাসি ধর্ষণের শিকার হয়েছে। তবে এ তথ্য গুজব বলে দাবি করেছেন প্রশাসন, পুলিশ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা।

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে সনাতন ধর্মাবলম্বী একই পরিবারের তিন নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ গুজব বলে দাবি করেছেন প্রশাসন, পুলিশ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা।

সনাতন ধর্মের নেতারা বলছেন, একটি মহল সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ফেসবুকে এমন গুজব ছড়াচ্ছে। এর সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বুধবার রাতে ফেসবুকে বিভিন্ন আইডি থেকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ওই অভিযোগটি ছড়িয়ে পড়ে। এতে দাবি করা হয়, ১০ বছরের এক শিশু, তার বোন ও মাসি ধর্ষণের শিকার হয়েছে।

শনিবার কয়েকটি পোস্টে বলা হয়, ‘ধর্ষণের শিকার ১০ বছরের শিশুটি মারা গেছে। মৃত্যুর মুখে রয়েছে তার মাসি (খালা) ও বোন।’

তবে কোনো পোস্টেই ঘটনার জায়গা বা কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র উদ্ধৃত করা হয়নি। নিউজবাংলার পক্ষ থেকে হাজীগঞ্জ উপজেলার হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বরং সবাই দাবি করছেন, উপজেলায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটলেও তিন জনকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

ধর্ষণের তথ্য সম্পূর্ণ গুজব বলে দাবি করেছেন হাজীগঞ্জ উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মিঠুন ভদ্র।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করি। তার আগে ৯ বছর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলাম। আগে থেকেই আমাদের সম্প্রদায়ের লোকজনের ভালোমন্দ দেখছি। যার কারণে যেকোনো বিষয়ে মানুষ আমাকে জানায়। তবে মন্দিরে হামলা ছাড়া এ ধরনের কোনো ঘটনার খবর আমার কাছে নেই। কোনো মানুষ এমন কোনো খবর আমাদের জানায়নি। এগুলো সম্পূর্ণ গুজব।’

হাজীগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রুহিদাস বণিক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণের খবরটি ভুয়া। এ ধরনের কোনো তথ্য আমাদের পূজা উদযাপন পরিষদ, জাতীয় হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ বা বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের কোনো নেতার কাছে নেই। কেউ যদি এমন কোনো খবর ফেসবুকে পোস্ট দেয়, তাতে আমাদের কিছু যায় আসে না। যারা এই ধরনের গুজব ছড়ায় তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই। সবাইকে এ ধরনের গুজব এড়ানোর অনুরোধ জানাচ্ছি।’

হাজীগঞ্জ রামকৃষ্ণ সভা আশ্রমের সাধারণ সম্পাদক নিহা রঞ্জন হালদার মিলন বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ গুজব। যারা এ ধরনের ভুয়া তথ্য ছড়াচ্ছে তাদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাই।’

‘আমাদের এলাকায় এই ধরনের কোনো ঘটনার খবর পাইনি। এগুলো গুজব রটানো হচ্ছে’, বলেন হাজীগঞ্জ পৌর এলাকার ত্রিনয়নী সংঘ মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক গোপাল সাহা।

হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ ধরনের কোনো খবর আমরা পাইনি। আমাদের কাছে কেউ অভিযোগও করেনি। এটা সম্পূর্ণ গুজব। এভাবে একজন মানুষ মারা যাবে আর পুলিশ বসে থাকবে, তা কখনও হয়? যারা এ ধরনের গুজব ছড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সারা হাজীগঞ্জ খুঁজেও আমরা এ ধরনের কোনো সংবাদ পাইনি। এগুলো সম্পূর্ণ গুজব। এসব গুজব যারা ছড়িয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ বলেন, ‘ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং নেতারা নিশ্চিত করেছেন, বিষয়টি সম্পূর্ণ গুজব।

গুজবে কান না দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কোনো কিছু শুনলেই বিশ্বাস না করে আগে তার সত্যতা যাচাই করার চেষ্টা করুন।’

আরও পড়ুন:
করোনা টিকা নিয়ে পাকিস্তানি পত্রিকার দাবি কি সঠিক?

শেয়ার করুন

ট্রেনের জানালায় নেট বসবে না

ট্রেনের জানালায় নেট বসবে না

প্রতীকী ছবি

বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (পশ্চিম) মিহির কান্তি গুহ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এমন কোনো নির্দেশনা এখনও দেয়া হয়নি। তবে সামনের দিকে যেসব কোচ আনা হবে, সেগুলোতে আমাদের নিচের থেকে প্রস্তাব আছে। ওপরের থেকে এমন কোনো নির্দেশনা আমরা পাইনি।’

পাথর ছোড়া প্রতিরোধে ট্রেনের জানালায় বসবে নেট, এমন খবর ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। জানালায় নেট লাগানো ট্রেনের ছবিও ভাইরাল হয়েছে ফেসবুকে। তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বলছে, এমন কোনো সিদ্ধান্ত এখনও নেয়া হয়নি বা বাস্তবায়ন করা হয়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যায়, ‘পাথর নিক্ষেপের হাত থেকে যাত্রীদের রক্ষা করতে এবার ট্রেনের জানালায় লাগানো হবে নেট। নেট লাগানো নিয়ে ইতোমধ্যে বৈঠক করেছেন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। কয়েকটি ট্রেনে লাগানো হয়েছে নেট।’ এমন খবর গত কয়েক দিন ধরেই ছড়াচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

সারা দেশে চলাচল করা যাত্রীবাহী ট্রেনের সংখ্যা ৩৫২টি। এর মধ্যে আন্তনগর ট্রেন ৯০টি, লোকাল ১২৬টি।

নিউজবাংলার পক্ষ থেকে রেলের জানালায় নেট বসবে কি না বা এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে কি না, তা জানার জন্য যোগাযোগ করা হয় বাংলাদেশ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) সরদার সাহাদাত আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এমন কোনো খবর আমার কাছে নেই। আমি আছি অপারেশন বিভাগে। আমাকে যেভাবে দেয়া হবে আমি সেভাবেই চালাব।’

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ গণমাধ্যমে এমন খবর ছড়িয়ে পড়েছে জানালে তিনি বলেন, ‘এটা দেখার বিষয় রেলওয়ের মেকানিক্যাল (যান্ত্রিক) বিভাগকে। তারা হয়তো এ বিষয়ে কাজ করছে। তারা বলতে পারবে নেট লাগানো যাবে কি না।’

নেট লাগানো হবে কি না, তা জানতে যোগাযোগ করা হয় বাংলাদেশ রেলওয়ের যুগ্ম মহাপরিচালক (যান্ত্রিক) তাবাসসুম বিনতে ইসলামের সঙ্গে।

তিনি বলেন, ‘আমি এমন কোনো নির্দেশনা বা চিঠিপত্র দেখিনি বা পাইনি। এ বিষয়ে ডিভিশনাল যারা প্রধান আছেন, তারা বলতে পারবেন।’

রেলওয়ের প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী (পূর্ব) বোরহান উদ্দিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ট্রেনের জানালায় নেট বসানো হবে, এমন কোনো নির্দেশনা আমরা পাইনি।’

তবে বিভিন্ন জায়গায় এমন তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে জানালে তিনি বলেন, ‘আমরা মৌখিক বা লিখিত কোনো কিছুই পাইনি। তাই এমন কোনো কাজ আমরা করিনি বা করছিও না।’

রেলওয়ে আইনের ১২৭ ধারা অনুযায়ী, ট্রেনে পাথর ছোড়া হলে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান আছে। ৩০২ ধারা অনুযায়ী পাথর নিক্ষেপে কারও মৃত্যু হলে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে।

ট্রেনে পাথর ছোড়ার ঘটনা প্রতিনিয়তই সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হলেও এসব ঘটনায় দেশে এখন পর্যন্ত কারও শাস্তি দিতে পারেনি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে ১১০টি। এতে ১০০টি ট্রেনের জানালার গ্লাস ভেঙেছে এবং ২৯ যাত্রী আহত হয়েছেন বলে জানান খোদ রেলমন্ত্রী।

এসব ঘটনায় কোনো ব্যক্তিকেই শাস্তির আওতায় আনা যায়নি বলে মন্ত্রীও স্বীকার করেন।

এমন ঘটনা রোধে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ তৎপর থাকলেও জড়ির ব্যক্তিদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নিতে পারছে না রেল মন্ত্রণালয়।

রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, ট্রেনে পাথর ছোড়ার ঘটনায় জড়িত ৮০ ভাগই বস্তির শিশু-কিশোর এবং মাদকাসক্ত ব্যক্তি। বস্তির শিশুদের আটক করা হলেও প্রমাণের অভাবে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়।

ট্রেনে পাথর ছোড়া প্রতিরোধ দিবস পালন হয় ৩ অক্টোবর। এ বছরও এর বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরির কথা জানায় মন্ত্রণালয়।

দিবসটি উপলক্ষে সেদিন সংবাদ সম্মেলনে রেলমন্ত্রী বলেন, ‘এ অবস্থা থেকে আমরা রক্ষা পেতে চাই। ট্রেনে পাথর ছোড়া রোধে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে চাই। আমরা সচেতনতায় জোর দিচ্ছি। একটা ঘটনা ঘটলে দেখা যায়, অনেক দিন আর কোনো ঘটনা ঘটে না।’

সেদিনই মন্ত্রী জানান, পাথর ছোড়া হয় এমন এলাকাগুলো রেলওয়ে চিহ্নিত করেছে।

ছোড়া পাথর ঠেকাতে ট্রেনের জানালায় নেট বসানো হবে কি না, জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোনো ধরনের তথ্য জানাননি।

ঢাকা-পঞ্চগড়গামী একতা/দ্রুতযান ট্রেনের জানালায় নেট লাগানো হয়েছে, এমন ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

বিষয়টি নিয়ে কমলাপুর রেলস্টেশনের ম্যানেজার মোহাম্মদ মাসুদ সারওয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নতুন কোনো ট্রেনেই যেগুলো লাল-সবুজ তাতে নেট লাগানো হয়নি। আমি জানিও না। তবে পুরোনো কিছু ট্রেনে নেট লাগানো আছে। দ্রুতযান/একতাতে আছে এমন ছবি যদি থাকে আমাকে খোঁজ নিতে হবে।’

কী বললেন মহাব্যবস্থাপক (পশ্চিম)

সার্বিক বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (পশ্চিম) মিহির কান্তি গুহ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এমন কোনো নির্দেশনা এখনও দেয়া হয়নি। তবে সামনের দিকে যেসব কোচ আনা হবে, সেগুলোতে আমাদের নিচের থেকে প্রস্তাব আছে। ওপরের থেকে এমন কোনো নির্দেশনা আমরা পাইনি।’

তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে যে কোচ কেনা হবে, সেগুলোতে নেট থাকলে ভালো হয়, এমন একটা প্রস্তাব আমাদের আছে।’

তবে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘এখন পাথরের হাত থেকে রক্ষা পেতে কী কী করা যেতে পারে তার আলোচনা হচ্ছে। এই আলোচনার ভেতরে যে প্রস্তাব আছে, সেখানে এটিও একটি প্রস্তাব।’

মিহির কান্তি বলেন, ‘এখন যেগুলো কোচ আছে সেগুলো চাইলেও কনফিগারেশন চেঞ্জ করা যাবে না। এগুলো সব বিদেশ থেকে আসে। আপনি আগে থেকে অর্ডার না দিলে তারা তো সেভাবে বানাবে। এখন একটা জিনিস চলে এলে তার ওপর ওইভাবে নেট বসানো যায় না।’

তবে পাকিস্তান আমলের সবগুলো কোচে নেট আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এরপর এগুলো মডিফাই করা হয়েছে। তারা তো আর জানে না যে দেশে ট্রেনে পাথর মারবে, লোকজন এত খারাপ যে তারা নেট বসাবে। আর আমাদের এখান থেকেও ওইভাবে ডিমান্ড প্লেস করা হয়নি।’

নেট লাগানোর পরিকল্পনা আছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যেভাবে পাথর মারা হয় সেটা অপ্রয়োজনীয়। এদের সঙ্গে কারও কোনো শত্রুতা নেই।’

ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ যেসব এলাকায়

পূর্বাঞ্চলের চার জেলার পাঁচ এলাকা হলো চট্টগ্রামের পাহাড়তলী, সীতাকুণ্ড-বাড়বকুণ্ড, ফেনীর ফাজিলপুর কালীদহ এলাকা, নরসিংদী সদর, জিনারী ও ঘোড়াশাল এলাকা।

অন্যদিকে পশ্চিমাঞ্চলের ১০ জেলার ১৫ এলাকা হলো চুয়াডাঙ্গার আউটার, নাটোরের আব্দুলপুর রেলওয়ে স্টেশন, সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী রেলওয়ে স্টেশন, বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম রেলওয়ে স্টেশন, পাবনার মুলাডুলি রেলওয়ে স্টেশন এলাকা, পঞ্চগড় জেলা ও ঠাকুরগাঁও জেলার কিসমত-রুহিয়া।

এ ছাড়া পাবনার ভাঙ্গুরা রেলওয়ে স্টেশন এলাকা, বগুড়ার ভেলুরপাড়া রেলওয়ে স্টেশন এলাকা, গাইবান্ধার বামনডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশন এলাকা, জয়পুরহাটের আক্কেলপুর রেলওয়ে স্টেশন এলাকা, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া রেলওয়ে স্টেশন, সলপ রেলওয়ে স্টেশন এলাকা, জামতৈল রেলওয়ে স্টেশন এলাকা, পাবনার বড়াল ব্রিজ রেলওয়ে স্টেশন এলাকা, খুলনার ফুলতলা রেলওয়ে স্টেশন এলাকা।

আরও পড়ুন:
করোনা টিকা নিয়ে পাকিস্তানি পত্রিকার দাবি কি সঠিক?

শেয়ার করুন