কাশ্মীর সীমান্তে গোলাগুলি, পাকিস্তানি সন্ত্রাসী আটকের দাবি ভারতের

কাশ্মীর সীমান্তে গোলাগুলি, পাকিস্তানি সন্ত্রাসী আটকের দাবি ভারতের

ভারতে অনুপ্রবেশের সময় জীবিত আটক এই যুবক নিজেকে নিষিদ্ধঘোষিত লস্কর-ই-তাইয়েবার সদস্য হিসেবে স্বীকারোক্তি দিয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। ছবি: এনডিটিভি

গত ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে নিয়ন্ত্রণরেখা এলাকায় সাত মাসের মধ্যে সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান শুরু করে ভারতীয় বাহিনী। উরি ও রামপুর সেক্টরে টহলের সময় মোট তিনটি অনুপ্রবেশের চেষ্টা ঠেকানো হয়। বন্দুকযুদ্ধের পর চার সন্ত্রাসী পাকিস্তানে ফিরে গেলেও ভারতে প্রবেশ করে লুকিয়ে যায় দুইজন। তাদের ঘিরে ফেলতেই সেনাদের অঞ্চলটিতে একত্রিত করা হয় বলে জানিয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী।

ভারতে অনুপ্রবেশের সময় পাকিস্তানভিত্তিক সন্ত্রাসী সংগঠন লস্কর-ই-তাইয়েবার এক সদস্যকে জীবিত আটক ও আরেকজন গুলিতে নিহত হয়েছে। এ নিয়ে সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে সীমান্তে গত সাত দিনে সাতজনকে হত্যার কথা জানিয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে কাশ্মীর উপত্যকার নিয়ন্ত্রণরেখা এলাকায় সোমবার সন্ধ্যায় ব্যাপক গোলাগুলি হয়।

ভারতীয় সেনাবাহিনী মঙ্গলবার জানায়, জম্মু-কাশ্মীরে বারামুল্লা জেলার সীমান্ত শহর উরিতে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চালানো হয়। এর জেরে সে সময় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি।

ভারতের সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল বীরেন্দ্র ভাটস সাংবাদিকদের বলেন, ‘এক সন্ত্রাসী আত্মসমর্পণ করার পর তাকে হেফাজতে নেয়া হয়েছে। সে নিজের নাম আলী বাবর পত্র বলে জানিয়েছে। তার বয়স ১৯ বছর।

‘নিজেকে পাকিস্তানের পাঞ্জাবের বাসিন্দা বলে জানানো আলী লস্কর-ই-তাইয়েবার সদস্য বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। পাকিস্তানের মুজাফফরাবাদে গোষ্ঠীটির কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছে সে।’

গত কয়েক বছরে ভারতে পাকিস্তানি অনুপ্রবেশকারীকে জীবিত আটকের ঘটনা এটাই প্রথম।

গত এক সপ্তাহে সাত অনুপ্রবেশকারীকে হত্যার কথা উল্লেখ করে মেজর জেনারেল ভাটস বলেন, ‘পুরো নিয়ন্ত্রণরেখা এলাকাজুড়ে এমন পরিস্থিতি। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর সাহায্য ছাড়া এত মানুষের পক্ষে সীমান্ত পেরোনো সম্ভব নয়। কারণ সীমান্তের ওপারে আগে পাকিস্তানি সীমান্তরক্ষীদের পার হয়ে আসতে হয় সন্ত্রাসীদের।’

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানের সঙ্গে অস্ত্রবিরতিতে যায় ভারত। এরপর সম্প্রতি নিয়ন্ত্রণরেখা এলাকায় সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান শুরু করে ভারতীয় বাহিনী। এরই অংশ হিসেবে সোমবার ধরা পড়ে কথিত লস্কর-ই-তাইয়েবা সদস্য।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে উরি ও রামপুর সেক্টরে বেশ কয়েকটি অভিযান পরিচালনা করেছে ভারতীয় বাহিনী। টহলের সময় মোট তিনটি অনুপ্রবেশের চেষ্টা ঠেকিয়েছে। বন্দুকযুদ্ধের পর চার সন্ত্রাসী পাকিস্তানে ফিরে গেলেও ভারতে প্রবেশ করে লুকিয়ে যায় দুজন। তাদের ঘিরে ফেলতেই সেনাদের অঞ্চলটিতে একত্রিত করা হয় বলে জানান মেজর জেনারেল ভাটস।

অভিযানে একে সিরিজের সাতটি রাইফেল, নয়টি পিস্তল ও রিভলবার, ৮০টির বেশি গ্রেনেড এবং ভারতীয় ও পাকিস্তানি মুদ্রা জব্দ করা হয়েছে।

অভিযান চলাকালীন গত তিন দিনে চার ভারতীয় সেনাও আহত হয়েছেন।

সালামাবাদ নালা এলাকা হয়ে অনুপ্রবেশের এসব চেষ্টা হয়েছিল। ২০১৬ সালে উরিতে ভারতীয় বাহিনীর সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানো সন্ত্রাসীরাও এ পথেই ভারতে অনুপ্রবেশ করেছিল। ওই হামলায় নিহত হয় ১৯ ভারতীয় সেনা। হামলার কিছুদিন পরই নিয়ন্ত্রণরেখা এলাকায় সন্ত্রাসীদের ঘাঁটি ধ্বংসে কয়েক দফা সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালায় ভারত।

আরও পড়ুন:
কাশ্মীরের আলোচিত বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা গিলানির মৃত্যু
জম্মুর আকাশে এক দিনে ৩ ড্রোন
রাষ্ট্রপতির সফরের ২ দিন আগে জম্মুতে বিস্ফোরকসহ ড্রোন
পাকিস্তানে ভারতীয় দূতাবাসের ওপর ড্রোন নিয়ে হুলুস্থুল
জম্মুতে ড্রোন হামলা: সন্দেহের তির পাকিস্তানের দিকে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ত্রিপুরায় তৃণমূল নেত্রীর ওপর হামলা, বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ

ত্রিপুরায় তৃণমূল নেত্রীর ওপর হামলা, বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ

'দিদির দূত' লেখা এ গাড়িতে বিজেপি কর্মীরা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ তৃণমূলের। ছবি: টাইমস অফ ইন্ডিয়া

ঘটনার প্রতিবাদে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় টুইট করে বলেন, ‘বিপ্লব দেবের নেতৃত্বে বিরোধীদের ওপর আক্রমণের রেকর্ড তৈরি হয়েছে। বিজেপির গুন্ডারা একজন নারী সংসদ সদস্যকে যেভাবে হেনস্তা করেছে, তা লজ্জার এবং রাজনৈতিক সন্ত্রাসের শামিল। সময় এসেছে, ত্রিপুরার মানুষ এর জবাব দেবে।’

অসিত পুরকায়স্থ, কলকাতা

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে স্থানীয় ভোটের আগে রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। ত্রিপুরা সফররত পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী সুস্মিতা দেব হামলার শিকার হয়েছেন।

পশ্চিমবঙ্গে চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর দেশের অন্যান্য রাজ্যে দল সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয় তৃণমূল কংগ্রেস। এরই অংশ হিসেবে ত্রিপুরায় সফর করছেন রাজ্যসভা সদস্য সুস্মিতা।

সুস্মিতার জনসংযোগ কর্মসূচি চলাকালীন শুক্রবার ‘দিদির দূত’ লেখা গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি ব্যাগ ছিনতাই ও মোবাইল ভেঙে দেওয়ারও অভিযোগ করেছেন সুস্মিতা।

এ ঘটনায় অভিযোগের তীর ভারতের কেন্দ্রীয় ক্ষমতাসীন দল বিজেপির দিকে।

সাংবাদিকদের সুস্মিতা বলেন, ‘আক্রমণকারীরা সবাই বিজেপি কর্মী। কেউ মাস্ক পরা ছিল না।’

‘দিদির দূত’ লেখা গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে প্রকাশ করেছে ত্রিপুরা তৃণমূল কংগ্রেস।

ঘটনার প্রতিবাদে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় টুইট করে বলেন, ‘বিপ্লব দেবের নেতৃত্বে বিরোধীদের ওপর আক্রমণের রেকর্ড তৈরি হয়েছে।

‘বিজেপির গুন্ডারা একজন নারী সংসদ সদস্যকে যেভাবে হেনস্তা করেছে, তা লজ্জার এবং রাজনৈতিক সন্ত্রাসের শামিল।’

তিনি আরও লেখেন, ‘সময় এসেছে, ত্রিপুরার মানুষ এর জবাব দেবে।’

প্রতিক্রিয়ায় হামলার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন বিজেপি মুখপাত্র অস্মিতা বণিক। তিনি বলেন, ‘অন্য দলের ওপর আক্রমণের সময় আমাদের নেই। ত্রিপুরায় গণতন্ত্র বিদ্যমান। তৃণমূল ছাড়া অনেক বিরোধী দল আছে। তারা নিজেদের কর্মসূচি স্বাভাবিকভাবেই চালিয়ে যাচ্ছে।’

ত্রিপুরার আসন্ন পৌরভোটে জিততে তৃণমূল কংগ্রেস বৃহস্পতিবার থেকে রাজ্যটিতে ‘দিদির দূত’ জনসংযোগ কর্মসূচিতে নেমেছে। প্রায় দুই সপ্তাহ এ কর্মসূচি চলবে। প্রচারের জন্য ‘দিদির দূত’ লেখা তৃণমূলের বেশ কিছু গাড়ি সেখানে পৌঁছে গেছে।

ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায় সুস্মিতা দেব বলেন, “‘ত্রিপুরার জন্য তৃণমূল’- এই স্লোগানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দর্শন মানুষের সামনে তুলে ধরছি। ত্রিপুরার ৫৮টি ব্লক ও ১৬টি পৌর এলাকায় হবে আমাদের জনসংযোগ যাত্রা।”

এদিকে, আজই মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের রাজ্যটিতে পৌরসভা ভোটের তারিখ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।

আগামী ২৫ নভেম্বর হবে ভোট। বিজ্ঞপ্তি জারি হবে ২৭ অক্টোবর। মনোনয়ন জমা দেয়ার শেষ দিন ৩ নভেম্বর। ৪ ডিসেম্বরের মধ্যে ফল ঘোষণাসহ ভোটের প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে বলে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
কাশ্মীরের আলোচিত বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা গিলানির মৃত্যু
জম্মুর আকাশে এক দিনে ৩ ড্রোন
রাষ্ট্রপতির সফরের ২ দিন আগে জম্মুতে বিস্ফোরকসহ ড্রোন
পাকিস্তানে ভারতীয় দূতাবাসের ওপর ড্রোন নিয়ে হুলুস্থুল
জম্মুতে ড্রোন হামলা: সন্দেহের তির পাকিস্তানের দিকে

শেয়ার করুন

৯ মাসে চীন-ভারতের বাণিজ্য বেড়েছে ৪৯ শতাংশ

৯ মাসে চীন-ভারতের বাণিজ্য বেড়েছে ৪৯ শতাংশ

এ প্রসঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলার দেয়া তথ্য ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভাষণের একটি অংশ তুলে ধরে বিরোধীরা সরকারকে দুমুখো বলে মন্তব্য করেছে।

চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে, চীনের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ৯০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এ হিসেবে গত বছরের তুলনায় দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বেড়েছে প্রায় ৪৯ শতাংশ।

বৃহস্পতিবার ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা এই তথ্য জানিয়েছেন। যদিও দুই দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ভারসাম্যের বড় অংশই চীনের দিকে ঝুঁকে রয়েছে। এ অবস্থায় ভারত চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর জন্য প্রয়াস চালিয়ে যেতে থাকবে বলে জানিয়েছেন শ্রিংলা।

তিনি বলেছেন, ‘এই হারে, আমরা সম্ভবত দুই দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য অর্জন করতে পারি।’

এর আগে দুই দেশের মধ্যে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৮৮ বিলিয়ন ডলার।

এদিকে, হর্ষবর্ধন শ্রিংলার দেয়া তথ্য ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভাষণের একটি অংশ তুলে ধরে বিরোধীরা সরকারকে দুমুখো বলে মন্তব্য করেছে।

শুক্রবার জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে মোদি বলেছিলেন, ‘প্রতিটি ছোট জিনিস কেনার উপর জোর দেওয়া উচিত, যা মেড ইন ইন্ডিয়া। যা কোনো এক ভারতীয় তৈরি করতে মাথা ঘামায়। আর এটা সম্ভব হবে শুধুমাত্র সবার প্রচেষ্টায়।’

শ্রিংলার তথ্য আর প্রধানমন্ত্রীর শ্লোগান সরকারের ‘জুমলা’ ও ‘দ্বিচারিতা’ বলে চিহ্নিত করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী।

তিনি বলেছেন, ‘লাদাখে সামরিক হানাহানি এবং চীনা পণ্য বর্জন করার আহ্বানের পাশাপাশি চীনা আমদানির উপর নির্ভরতা কমাতে সরকারের প্রচেষ্টার পরও বাণিজ্যে ঘাটতি বৃদ্ধি পেয়েছে। এটা সরকারের নিয়মিত দ্বিচারিতা ছাড়া আর কী?’

চীনের সঙ্গে বর্ধিত বাণিজ্য ছাড়াও দেশে ১০০ কোটি করোনা ভ্যাকসিনের ডোজ দেয়া নিয়েও কেন্দ্রীয় সরকারকে কটাক্ষ করেছে কংগ্রেস।

এক টুইটে দলটির পক্ষ থেকে একটি ছবি শেয়ার করা হয়েছে। যেখানে দেখা গেছে, সারা বিশ্বে ৩৭ শতাংশ মানুষ করোনা টিকার দুটি ডোজই নিয়েছেন। একই সময়ে, ভারতে মাত্র ২১ শতাংশ মানুষ করোনার ডোজ পেয়েছেন।

কংগ্রেস লিখেছে, ‘এটা সরকারের মিথ্যাচারের আরেকটা নমুনা।’

আরও পড়ুন:
কাশ্মীরের আলোচিত বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা গিলানির মৃত্যু
জম্মুর আকাশে এক দিনে ৩ ড্রোন
রাষ্ট্রপতির সফরের ২ দিন আগে জম্মুতে বিস্ফোরকসহ ড্রোন
পাকিস্তানে ভারতীয় দূতাবাসের ওপর ড্রোন নিয়ে হুলুস্থুল
জম্মুতে ড্রোন হামলা: সন্দেহের তির পাকিস্তানের দিকে

শেয়ার করুন

মিয়ানমারে সাধারণ ক্ষমায় মুক্ত বন্দিরা ফের গ্রেপ্তার

মিয়ানমারে সাধারণ ক্ষমায় মুক্ত বন্দিরা ফের গ্রেপ্তার

মিয়ানমারের বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুনের রাস্তায় শুক্রবার পুলিশের সশস্ত্র টহল। ছবি: এএফপি

সমালোচকরা বলছেন, মূলত আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে চাপ এড়াতে কৌশলী হয়েছিল মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। কৌশলের অংশ হিসেবেই বহির্বিশ্বের চোখে ধুলো দিতে সাধারণ ক্ষমার আওতায় বন্দিদের মুক্তি দেয়া আর বিরোধীদের আলোচনার প্রলোভন দেখিয়েছে সামরিক জান্তা।

মুক্তি পেতে না পেতেই মিয়ানমারে শতাধিক সেনা অভ্যুত্থানবিরোধীকে গ্রেপ্তার করেছে জান্তা সরকার। কয়েক মাস কারাবন্দি থাকার পর চলতি সপ্তাহে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে মুক্তি দেয়া হয়েছিল তাদের।

মিয়ানমারে ক্ষমতাসীন সেনাবাহিনী গত সোমবার এক ঘোষণায় জানায়, দেশের ঐতিহ্যবাহী থাডিংইয়ুৎ ফেস্টিভ্যাল বা আলোকোৎসবের সময় পাঁচ হাজার ৬৩৬ বন্দিকে মুক্তি দেয়া হবে।

এ ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় বিভিন্ন কারাগারে ছুটে গিয়েছিলেন বন্দিদের পরিবারের সদস্যরা। বহুদিন পর প্রিয় স্বজনের সঙ্গে দেখা করে তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে নেয়ার প্রত্যাশায় কারাগারের প্রবেশপথগুলোতে ভিড় করেছিলেন হাজারো মানুষ।

বার্মিজ চন্দ্র বর্ষপঞ্জিতে সপ্তম মাস থাডিংইয়ুতের পূর্ণিমার দিন এবং আগের ও পরের দিন- মোট তিনদিন আলোকোৎসব উদযাপন করে মিয়ানমার। এ বছর ১৯ থেকে ২১ অক্টোবর উদযাপিত হয় উৎসবটি। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী এ সময়ের মধ্যেই বন্দিদের মুক্তি দেয়া হয়।

কিন্তু টার্কিশ রেডিও অ্যান্ড টেলিভিশনের (টিআরটি) প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশজুড়ে কত বন্দি শেষ পর্যন্ত মুক্তি পেয়েছেন, সে সংখ্যা যাচাই করা কঠিন। অনেকেই মুক্তি পেয়েছেন ভবিষ্যতে আর সেনাবাহিনীর বিরোধিতা না করার শর্তে স্বাক্ষর করার পর।

মিয়ানমারের মানবাধিকার পর্যবেক্ষক সংস্থা অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স (এএপিপি) জানিয়েছে, সাধারণ ক্ষমায় মুক্তিপ্রাপ্ত কমপক্ষে ১১০ জনকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এক বিবৃতিতে বৃহস্পতিবার এএপিপি জানায়, ‘কয়েকজন বাড়িতে ফিরতে না ফিরতেই তাদের আবার কারাগারে ফেরত নিয়ে যাওয়া হয়।

‘অন্য কয়েকজনকে বলা হয়েছিল যে মুক্তিপ্রাপ্তদের তালিকায় তাদের নাম আছে। এ কথা বলে তাদের কারাগারের প্রবেশপথে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর সেখান থেকেই আবার তাদের জেলে নিয়ে যাওয়া হয় এবং কারণ হিসেবে নতুন কিছু অভিযোগ গঠনের কথা বলা হয়।’

চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারির সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকেই অরাজক পরিস্থিতি চলছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মিয়ানমারে। গণতান্ত্রিক সরকারকে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেয়ার দাবিতে হওয়া বিক্ষোভ দমনে শক্তি প্রয়োগ করে সেনাবাহিনী, যাতে নিহত হয় প্রায় এক হাজার ২০০ জন বেসামরিক মানুষ।

এএপিপির ওয়েবসাইটে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অবস্থান করায় ফেব্রুয়ারি থেকে প্রায় নয় হাজার বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গত সপ্তাহে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১০ দেশের জোট আসিয়ান মিয়ানমারের সেনাপ্রধানকে বাদ দিয়েই শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়। এরপরই থাডিংইয়ুৎ উৎসবের তিনদিন জুড়ে হাজারো বন্দিকে মুক্তির ঘোষণা দেন মিন অং হ্লাইং।

মিয়ানমারের রাজনীতিতে রক্তক্ষয়ী অচলাবস্থা নিয়ন্ত্রণের প্রতিশ্রুতি পালনে ব্যর্থতার অভিযোগে জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেয় আঞ্চলিক জোটটি।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাউন্সিলর ডেরেক শলেট বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের কাছে আসিয়ানের বিরল এ পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। আঞ্চলিক বিভিন্ন সংকটে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থতার অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরেই নখদন্তহীন হিসেবে আখ্যায়িত হয়ে আসছে আসিয়ান।

মিয়ানমারের জান্তা সরকারের ওপর চাপ বাড়ানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের সঙ্গে আলোচনায় অঞ্চলটিতে সফর করছেন শলেট।

গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশের শাসনব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রণ নেয়ার প্রায় নয় মাস পর এখন সবচেয়ে চাপে রয়েছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।

সমালোচকরা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে মূলত আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে চাপ এড়াতে কৌশলী হয়েছিল মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। কৌশলের অংশ হিসেবেই বহির্বিশ্বের চোখে ধুলো দিতে সাধারণ ক্ষমার আওতায় বন্দিদের মুক্তি দেয়া আর বিরোধীদের আলোচনার প্রলোভন দেখিয়েছে সামরিক জান্তা।

চলতি বছরের জুন-জুলাই মাসে মিয়ানমারের বিভিন্ন কারাগার থেকে দুই হাজার বিক্ষোভকারীকে মুক্তি দেয়া হয়। মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে সামরিক সরকারের সমালোচক অনেক সংবাদকর্মীও ছিলেন।

এএপিপির তথ্য অনুযায়ী, এখনও মিয়ানমারের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি প্রায় সাড়ে সাত হাজার বিক্ষোভকারী। তাদের মধ্যে আছেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এক সাংবাদিক ড্যানি ফেনস্টারও। গত ২৪ মে থেকে কারাবন্দি তিনি।

আরও পড়ুন:
কাশ্মীরের আলোচিত বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা গিলানির মৃত্যু
জম্মুর আকাশে এক দিনে ৩ ড্রোন
রাষ্ট্রপতির সফরের ২ দিন আগে জম্মুতে বিস্ফোরকসহ ড্রোন
পাকিস্তানে ভারতীয় দূতাবাসের ওপর ড্রোন নিয়ে হুলুস্থুল
জম্মুতে ড্রোন হামলা: সন্দেহের তির পাকিস্তানের দিকে

শেয়ার করুন

চীন-ভারত উত্তেজনা: স্বামীর টুইটে ফের ‘বিড়ম্বনায়’ বিজেপি

চীন-ভারত উত্তেজনা: স্বামীর টুইটে ফের ‘বিড়ম্বনায়’ বিজেপি

চীনের আগ্রাসী তৎপরতায় ভারত সরকারের অবস্থান নিয়ে শুক্রবার সমালোচনা করেন বিজেপির সাংসদ সুব্রহ্মণ্যম স্বামী। ছবি: ইকোনমিক টাইমস

শুক্রবার টুইটবার্তায় বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ সুব্রহ্মণ্যম স্বামী বলেন, ‘চীন ভারতের ওপর আক্রমণাত্মক। সুন্দর পোশাকে সজ্জিত সম্রাটের দিকে তাকিয়ে আছি আমরা।’

চীন ও পাকিস্তান প্রসঙ্গে বিভিন্ন সময়ে নিজের ক্ষমতাসীন দলের সরকারকে বিড়ম্বনায় ফেলেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ সুব্রামানিয়াম স্বামী।

শুক্রবার ফের কারও নাম না নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকারকে নিশানা করেছেন তিনি।

টুইটবার্তায় সুব্রামানিয়াম স্বামী বলেন, ‘চীন ভারতের ওপর আক্রমণাত্মক। সুন্দর পোশাকে সজ্জিত সম্রাটের দিকে তাকিয়ে আছি আমরা।’

সুব্রামানিয়াম স্বামী টাইমস অফ ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত এক নিবন্ধ একই সঙ্গে টুইট করেন।

ওই নিবন্ধে চীনে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, ভারত ও তার প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে আগ্রাসী চীন।

এ ছাড়া টুইটারে আলোচিত লেখক হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসন রচিত ‘সম্রাটের নতুন পোশাক’ গল্পের একটি অংশ শেয়ার করে লেখেন, ‘আমরা ভারতীয়রা আজ সেই জনসাধারণের মতো ভণ্ড, যারা সুন্দর পোশাকে সম্রাটকে দেখে, যতক্ষণ না সেই ছোট্ট ছেলেটি সত্য কথা বলে।’

গল্পে আছে, সবাই দেখে রাজা উলঙ্গ, তবুও সবাই হাততালি দিচ্ছে। সবাই চেঁচিয়ে বলছে, ‘শাবাশ, শাবাশ!’

তবে সত্যবাদী, সরল ও সাহসী এক শিশু রাজাকে দেখে স্বতঃস্ফূর্তভাবে চেঁচিয়ে বলে- ‘রাজা ন্যাংটা! রাজা ন্যাংটা!’

এর আগে চীন ও ভারতের বৈঠকের বিষয়ে সুব্রামানিয়াম স্বামী বলেছিলেন, ‘যখন কেউ সীমানা লঙ্ঘন করেনি তখন বৈঠক কেন?

‘১৮ বার দুই দেশের মুখোমুখি বৈঠক এবং পাঁচবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির চীন সফরের পরও কিছুই অর্জন হয়নি। আমরা কি এখনও চীনের সঙ্গে কথা বলার জন্য অনুরোধের ভঙ্গিমায় আছি?’

তিনি বলেছিলেন, ‘যারা অত্যাচারী, তারা শক্তিশালীদের সামনে ভদ্র আচরণ করে। তবে দুর্বলের সঙ্গে তাদের আচরণ অসভ্য।’

সুব্রামানিয়াম স্বামী প্রধানমন্ত্রী মোদির সেই বক্তব্যের কথা উল্লেখ করেন যেখানে তিনি বলেছিলেন, ‘কেউই আমাদের সীমান্তে প্রবেশ করেনি বা আমাদের কোনো সেনা পোস্ট অন্যের দখলে নেই।’

আরও পড়ুন:
কাশ্মীরের আলোচিত বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা গিলানির মৃত্যু
জম্মুর আকাশে এক দিনে ৩ ড্রোন
রাষ্ট্রপতির সফরের ২ দিন আগে জম্মুতে বিস্ফোরকসহ ড্রোন
পাকিস্তানে ভারতীয় দূতাবাসের ওপর ড্রোন নিয়ে হুলুস্থুল
জম্মুতে ড্রোন হামলা: সন্দেহের তির পাকিস্তানের দিকে

শেয়ার করুন

১০০ কোটি ডোজের কৃতিত্ব জনগণের: মোদি

১০০ কোটি ডোজের কৃতিত্ব জনগণের: মোদি

শুক্রবার করোনা টিকার ১০০ কোটি ডোজের সফল টিকাকরণের কৃতিত্ব জনগণকে দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি: পিটিআই

ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ ভারতের টিকাকরণ কর্মসূচিকে গোটা বিশ্বের টিকাকরণ কর্মসূচির সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। যেভাবে আমাদের দেশে দ্রুতগতিতে ১০০ কোটি ডোজ করোনা টিকা দেয়া হয়েছে, তার প্রশংসাও হচ্ছে বিশ্বজুড়ে।’

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ‘বৃহস্পতিবার করোনা টিকার ১০০ কোটি ডোজের কঠিন তবে অসাধারণ লক্ষ্য অর্জন করেছে ভারত। এ অর্জনের পেছনে শক্তি হিসেবে কাজ করেছে ১৩০ কোটি দেশবাসীর কর্তব্যবোধ। এ সাফল্য ভারতের সাফল্য, প্রতিটি দেশবাসীর সাফল্য।’

দেশবাসীর উদ্দেশে শুক্রবার দেয়া ভাষণে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

করোনাকালে মানুষের সংহতিতে শক্তি জোগাতে তালি ও থালি বাজানোর কথাও ভাষণে উল্লেখ করেন মোদি।

তিনি বলেন, ‘মহামারির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জনসাধারণের অংশগ্রহণকে আমাদের প্রথম শক্তি করে তুলি।

‘দেশ মানুষের সংহতিতে শক্তি দিতে তালি বাজিয়েছিল, থালি বাজিয়েছিল, প্রদীপ জ্বালিয়েছিল। সে সময় কিছু লোক বলেছিল, এ রোগ কি থালি বাজালেই পালিয়ে যাবে? আমরা সবাই এর মধ্যে দেশের ঐক্য ও যৌথ শক্তির জাগরণ দেখেছি।’

ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ ভারতের টিকাকরণ কর্মসূচিকে গোটা বিশ্বের টিকাকরণ কর্মসূচির সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। যেভাবে আমাদের দেশে দ্রুতগতিতে ১০০ কোটি ডোজ করোনা টিকা দেয়া হয়েছে, তার প্রশংসাও হচ্ছে বিশ্বজুড়ে।

‘তবে এ বিশ্লেষণে একটা কথা অনেক সময়ই ভুলে যাওয়া হয়, এর সূচনা কোথা থেকে হলো।

‘বিশ্বের অধিকাংশ দেশে দীর্ঘ সময় ধরে টিকা উৎপাদন ও গবেষণা চলছে। ভারত এতদিন ওই দেশগুলোর ওপর নির্ভরশীল ছিল।

‘এ কারণে করোনা সংক্রমণ যখন মহামারির রূপ নিল, তখন ভারতকে নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছিল, ভারত কি এই মহামারির বিরুদ্ধে লড়তে পারবে?

‘ভারতের বিপুলসংখ্যক মানুষের জন্য টিকা কেনার টাকা কোথা থেকে আসবে, ভারত আদৌ করোনা টিকা পাবে কি না, পেলেও এত মানুষকে টিকা দিতে পারবে কি না- এমন প্রশ্ন ওঠে।

‘আজ ভারত ১০০ কোটি ডোজ টিকাকরণের মাধ্যমে ওইসব প্রশ্নের জবাব দিয়েছে। দেশেই টিকা উৎপাদন করা হয়েছে এবং দেশবাসীকে তা বিনা মূল্যে দেয়া হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী মোদি আরও বলেন, ‘১০০ কোটি টিকাকরণের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ওষুধ উৎপাদনের পীঠস্থান হিসেবে ভারতের প্রতি বিশ্বের স্বীকৃতি আরও মজবুত হয়েছে।

‘গোটা বিশ্বই এখন ভারতের এ শক্তি দেখছে এবং উপলব্ধি করছে।’

তিনি বলেন, “ভারতের টিকাকরণ কর্মসূচি ‘সবার সঙ্গে, সবার উন্নতি, সবার চেষ্টা’ স্লোগানের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়।

‘‘গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে আমরা সবার চাহিদাকে প্রাধান্য দিই। এ কারণে সবার সঙ্গে, সবার উন্নতি- এ নীতি অনুসরণ করে চলি আমরা।”

টিকাকরণ নিয়ে নানা ভ্রান্ত ধারণা ও দ্বিধা সম্পর্কে মোদি বলেন, ‘বিশ্বের বড় বড় দেশ এখনও টিকাকরণ নিয়ে জনগণের মধ্যে যে দ্বিধা রয়েছে, তার সঙ্গে লড়াই করছে।

‘সেখানেই ভারত ১০০ কোটি টিকাকরণের সাফল্যের মাধ্যমে গোটা বিশ্বকে দেখিয়ে দিল, কীভাবে টিকাকরণ নিয়ে সংকোচের সঙ্গে লড়াই করতে হয়।

‘বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনী শক্তির ওপর ভরসা রেখে ভারত আজ এ সাফল্যকে ছুঁতে পেরেছে।’

ভারতের প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের টিকাকরণ কর্মসূচিতে কোনোভাবে ভিআইপি সংস্কৃতির প্রভাব পড়তে দেয়া হয়নি। সবাইকে সমানভাবে গণ্য করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
কাশ্মীরের আলোচিত বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা গিলানির মৃত্যু
জম্মুর আকাশে এক দিনে ৩ ড্রোন
রাষ্ট্রপতির সফরের ২ দিন আগে জম্মুতে বিস্ফোরকসহ ড্রোন
পাকিস্তানে ভারতীয় দূতাবাসের ওপর ড্রোন নিয়ে হুলুস্থুল
জম্মুতে ড্রোন হামলা: সন্দেহের তির পাকিস্তানের দিকে

শেয়ার করুন

মুম্বাইয়ে আবাসিক ভবনে আগুন, মৃত ১

মুম্বাইয়ে আবাসিক ভবনে আগুন, মৃত ১

শুক্রবার মুম্বাইয়ের এক বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ডে একজনের মৃত্যু হয়। ছবি: এনডিটিভি

শুক্রবার দুপুরে মুম্বাইয়ের লালবাগ এলাকায় অবিঘ্ন পার্ক সোসাইটির এক বহুতল ভবনে আগুন লাগে। আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের ১৪টি ইউনিট কাজ করছে।

ভারতের মুম্বাই শহরের দক্ষিণাঞ্চলে একটি বিলাসবহুল আবাসিক ভবনের ১৯ তলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ওই ঘটনায় কমপক্ষে একজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে অনেকে।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার দুপুরে মুম্বাইয়ের লালবাগ এলাকায় অবিঘ্ন পার্ক সোসাইটির এক বহুতল ভবনে আগুন লাগে। আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের ১৪টি ইউনিট কাজ করছে।

ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, আগুনের শিখায় ঢেকে যাওয়া ভবনটির ১৯ তলা থেকে এক ব্যক্তি নিচে পড়ছেন। চারপাশ কালো ধোঁয়ায় পরিবেষ্টিত আগুনের লেলিহান শিখা কয়েক মাইল দূর থেকেও দেখা যাচ্ছে।

মুম্বাইয়ের কিং অ্যাডওয়ার্ড মেমোরিয়াল (কেইএম) হাসপাতালের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, আগুন লাগা ভবনটি থেকে পড়ে যাওয়া ব্যক্তির নাম অরুণ তিওয়ারি। তার বয়স ৩০। দুপুর প্রায় পৌনে ১টার দিকে হাসপাতালে আনা হলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

উদ্ধার তৎপরতা তত্ত্বাবধান করতে মুম্বাইয়ের মেয়র কিশোরী পেদনেকার ও অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এরই মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন।

পেদনেকার এনডিটিভিকে বলেন, ‘আগুনের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

‘এখন পর্যন্ত অনেককে ভবনটি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার তৎপরতা চলছে।

‘আতঙ্কে এক ব্যক্তি ভবনটির ১৯ তলা থেকে লাফ দেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাকে বাঁচাতে ব্যর্থ হয়েছেন, আমরা তা বলতে পারছি না। দয়া করে গুজব ছড়াবেন না।’

আরও পড়ুন:
কাশ্মীরের আলোচিত বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা গিলানির মৃত্যু
জম্মুর আকাশে এক দিনে ৩ ড্রোন
রাষ্ট্রপতির সফরের ২ দিন আগে জম্মুতে বিস্ফোরকসহ ড্রোন
পাকিস্তানে ভারতীয় দূতাবাসের ওপর ড্রোন নিয়ে হুলুস্থুল
জম্মুতে ড্রোন হামলা: সন্দেহের তির পাকিস্তানের দিকে

শেয়ার করুন

আফগানিস্তানকে ৫ বিলিয়ন রুপি দেবে পাকিস্তান

আফগানিস্তানকে ৫ বিলিয়ন রুপি দেবে পাকিস্তান

কাবুল বিমানবন্দরে বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশিকে স্বাগত জানান তালেবান প্রতিনিধি। ছবি: ডন

কাবুলে দিনব্যাপী সফর শেষে পাকিস্তানে সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী কুরেশি বলেন, ‘হাসপাতালে ওষুধ বা অন্য কোনো কিছুর ঘাটতি থাকলে আফগানিস্তান আমাদের জানাবে। সে অনুযায়ী আমরা তাদের মানবিক সহায়তা দিতে প্রস্তুত।’

অর্থনৈতিক ও মানবিক বিপর্যয়ে পর্যুদস্ত দক্ষিণ এশিয়ার দেশ আফগানিস্তান। মধ্য আগস্টে তালেবান দেশটির ক্ষমতা দখলের পর সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করে।

আফগানিস্তানে চলমান সংকট কিছুটা লাঘবে মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি আফগানিস্তানকে পাঁচ বিলিয়ন রুপি মূল্যের মানবিক সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে বৃহস্পতিবার তালেবানের সঙ্গে পাকিস্তান সরকারের উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মানবিক সহায়তার ঘোষণা দেন বলে ডনের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

কাবুলে দিনব্যাপী সফর শেষে পাকিস্তানে সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী কুরেশি বলেন, ‘হাসপাতালে ওষুধ বা অন্য কোনো কিছুর ঘাটতি থাকলে আফগানিস্তান আমাদের জানাবে। সে অনুযায়ী আমরা তাদের মানবিক সহায়তা দিতে প্রস্তুত।’

কুরেশি বলেন, ‘আফগানিস্তানে সংকটকালে পাকিস্তান যে বরাবরই দেশটির পাশে ছিল, বৈঠকে তার স্বীকৃতি দিয়েছে কাবুল। দশকের পর দশক ধরে আফগান শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়েছে পাকিস্তান। এ জন্যও দেশটি আমাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।’

তিনি বলেন, ‘আফগানিস্তানে সম্প্রতি রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হয়েছে। বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ দেশটিকে মোকাবিলা করতে হবে। সেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আফগানিস্তানের পাশে থাকবে পাকিস্তান।’

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কুরেশি জানান, কাবুলে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে পাকিস্তানের প্রতিনিধিদলে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার কর্মকর্তারা ছিলেন।

তিনি বলেন, ‘আফগানিস্তানে প্রতিনিধিদল নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্য, মূল আলোচনার পর যাতে ভিসা, বাণিজ্য, সীমান্তে চলাচলসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা যায়।’

আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তালেবানের প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদ সফর করবে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানান কুরেশি।

তিনি বলেন, ‘বৈঠকে সিএএসএ-১০০০, টিএপিআই গ্যাস পাইপলাইন, ট্রান্সন্যাশনাল রেলওয়ে প্রকল্পসহ অন্যান্য দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রকল্পে পূর্ণ সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে তালেবান নেতৃত্ব।’

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য উন্নত করতে আফগানিস্তান থেকে শুল্কমুক্ত ফল ও সবজি আমদানি করবে পাকিস্তান। এ ছাড়া উভয় দেশের বর্ডার ক্রসিং বাণিজ্যের জন্য সারাক্ষণ খোলা থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘সশস্ত্র সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি), বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মিসহ (বিএলএ) অন্যান্য সংগঠনকে পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করতে দেয়া হবে না বলে বৈঠকে আশ্বস্ত করেছে তালেবানের নেতৃত্ব।’

আরও পড়ুন:
কাশ্মীরের আলোচিত বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা গিলানির মৃত্যু
জম্মুর আকাশে এক দিনে ৩ ড্রোন
রাষ্ট্রপতির সফরের ২ দিন আগে জম্মুতে বিস্ফোরকসহ ড্রোন
পাকিস্তানে ভারতীয় দূতাবাসের ওপর ড্রোন নিয়ে হুলুস্থুল
জম্মুতে ড্রোন হামলা: সন্দেহের তির পাকিস্তানের দিকে

শেয়ার করুন