তালেবানের ‘প্রতিহিংসার’ বলি শিশু

তালেবানের ‘প্রতিহিংসার’ বলি শিশু

তালেবান যোদ্ধাদের হাতে প্রাণ হারায় এক শিশু। ছবি: এএনআই

পাঞ্জশির অবজারভার টুইটবার্তায় বলে, ‘শিশুটির বাবা তালেবানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ-সংগ্রামে অংশ নেন- এই সন্দেহে কট্টর ইসলামপন্থি গোষ্ঠীটির যোদ্ধারা পাঞ্জশিরের পার্শ্ববর্তী তাখার প্রদেশে তাকে হত্যা করে।’

আফগানিস্তানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় তাখার প্রদেশে এক শিশুকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে তালেবান।

শিশুটির বাবা আফগান প্রতিরোধ বাহিনীর সন্দেহভাজন সদস্য হওয়ায় তাকে প্রাণ হারাতে হয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এশিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

তালেবানের হাতে শিশুহত্যার ঘটনা প্রথম প্রকাশ করে পাঞ্জশির অবজারভার। মূলত পাঞ্জশির ও আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয় স্বাধীন এই সংবাদমাধ্যমটিতে।

পাঞ্জশির অবজারভার টুইটবার্তায় বলে, ‘শিশুটির বাবা তালেবানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ-সংগ্রামে অংশ নেন- এই সন্দেহে কট্টর ইসলামপন্থি গোষ্ঠীটির যোদ্ধারা পাঞ্জশিরের পার্শ্ববর্তী তাখার প্রদেশে তাকে হত্যা করে।’

গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে আফগানিস্তান দখল করে তালেবান। এর আগে একটি ছাড়া দেশটির ৩৪টি প্রদেশের সবই গোষ্ঠীটির নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। ভৌগোলিক অবস্থানগত সুবিধা ও স্থানীয় লোকজনের তীব্র তালেবানবিরোধী মনোভাবের কারণে পাঞ্জশির উপত্যকা বারবার দখলের চেষ্টাও ব্যর্থ হয় তালেবান।

আফগানিস্তান দখলের পর একমাত্র পাঞ্জশির প্রদেশেই স্থানীয় লোকজন শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তোলে। আশপাশের প্রদেশ থেকেও সশস্ত্র তালেবানবিরোধী যোদ্ধারা প্রতিরোধ বাহিনীতে যোগ দেন।

কাবুল পতনের পর সপ্তাহ খানেক ধরে চলে প্রতিরোধ বাহিনীর সঙ্গে তালেবান যোদ্ধাদের তীব্র লড়াই। লড়াইয়ের একপর্যায়ে ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীটির হাতে পাঞ্জশিরের পতন হয়।

তালেবানের বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে নেয়া বা কথা বলা ভিন্ন মতাবলম্বীদের আফগানিস্তানে কঠিন সময় পার করতে হচ্ছে।

১৫ আগস্ট কাবুল পতনের মধ্য দিয়ে আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় তালেবান। এরপরই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের চেষ্টা শুরু করে গোষ্ঠীটি। এর অংশ হিসেবে নারী, জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার প্রতিষ্ঠাসহ বেশ কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপেরও ঘোষণা দেয় তালেবান।

তবে বিশ্লেষকদের ভাষ্য, আন্তর্জাতিক মহলের স্বীকৃতি আদায়ের লক্ষ্যে তালেবান কাবুল পতনের পরপরই কিছুটা নমনীয় অবস্থান বিশ্বকে দেখায়। আগের শাসনামলে ফিরে না যাওয়ার কথাও তারা বলে। তবে কতটুকু তারা এসব অবস্থান বাস্তবায়ন করতে পারবে, তা নিয়ে সন্দেহ থেকে যাচ্ছে।

তাদের ভাষ্য, কথার ওপর নয়, বরং কাজের ওপরই তালেবানের মূল্যায়ন হবে।

দেশি-বিদেশি মহলকে তুষ্ট করার লক্ষ্যে শুরুতে অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠনের ঘোষণা দিলেও তালেবানের নতুন সরকারে শেষ পর্যন্ত কোনো নারীকে দেখা যায়নি। ছিল না জাতিগত সম্প্রদায়ের কোনো নেতাও।

সাংবাদিক, ভিন্ন মতাবলম্বী বেসামরিক নাগরিক থেকে শুরু করে পাঞ্জশিরে তালেবানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ লড়াইয়ে অংশ নেয়া বা সমর্থন করা ব্যক্তিদের ওপর চলতি মাসের শুরু থেকেই গোষ্ঠীটি চড়াও হয় বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদনে বলা হয়।

আরও পড়ুন:
তালেবান আতঙ্কে ফেসবুক-টুইটার ছাড়ার হিড়িক
বিদেশে শিক্ষাবৃত্তি পেয়েও পড়তে যেতে পারছে না আফগান শিক্ষার্থীরা
দেশের জন্য কাঁদলেন সেই আফগান নারী সাংবাদিক
পাকিস্তানের প্রশংসায় তালেবান
কাবুলে বন্ধ হচ্ছে নারীদের ড্রাইভিং স্কুল

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ইসলামপন্থিদের সামনে ‘নত’ ইমরান সরকার, ৩৫০ বন্দি মুক্ত

ইসলামপন্থিদের সামনে ‘নত’ ইমরান সরকার, ৩৫০ বন্দি মুক্ত

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের মুরিদকে শহর রোববার নিষিদ্ধঘোষিত টিএলপি সদস্যদের বিক্ষোভে অচল হয়ে পড়ে। ছবি: এএফপি

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ রশিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে জানিয়েছেন, টিএলপিপ্রধান সাদ হোসেন রিজভির মুক্তির পরিকল্পনা এগোতে কাজ চলছে। পাকিস্তানের শীর্ষ দৈনিক ডনের প্রতিবেদনে বিষয়টিকে আখ্যায়িত করা হয়েছে ‘সহিংস বিক্ষোভকারীদের সামনে সরকারের আরেকটি পূর্ণাঙ্গ আত্মসমর্পণ’ হিসেবে।

পাকিস্তানে নিষিদ্ধঘোষিত ইসলামপন্থি সংগঠন ‘তেহরিক-ই-লাব্বাইক পাকিস্তান’-এর (টিএলপি) ৩৫০ কারাবন্দি সদস্য মুক্তি পেয়েছেন। টিএলপির সঙ্গে বৈরিতা এড়াতে এ পদক্ষেপ নিয়েছে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সরকার।

জিও টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, পাঞ্জাব প্রদেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া হয় টিএলপির সাড়ে তিন শ নেতা-কর্মীকে। এর আগে রোববার সংগঠনটির সঙ্গে দিনভর আলোচনা করে ইসলামাবাদ।

গত সপ্তাহে ইসলামাবাদে গোষ্ঠীটি পদযাত্রা কর্মসূচির ঘোষণা দিলে প্রদেশজুড়ে ধরপাকড় শুরু করে পাঞ্জাব পুলিশ। এরপর এক সপ্তাহে গ্রেপ্তার হন সংগঠনটির শত শত নেতা-কর্মী।

তারপরেও রোববার পাঞ্জাবের মুরিদকে শহরে জড়ো হন নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনটির লাখো সদস্য। এর ফলে অচল হয়ে পড়ে সংলগ্ন কয়েকটি জাতীয় মহাসড়ক। অচলাবস্থা নিরসনে টিএলপির সঙ্গে বৈঠকের উদ্যোগ নেয় ইসলামাবাদ।

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ রশিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে জানিয়েছেন, টিএলপির সঙ্গে সমঝোতার অংশ হিসেবে এখন মুরিদকের সড়কগুলো খুলে দেয়ার অপেক্ষায় রয়েছে সরকার।

টিএলপিপ্রধান সাদ হোসেন রিজভির মুক্তির পরিকল্পনা এগোতে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

পাকিস্তানের শীর্ষ দৈনিক ডনের একটি প্রতিবেদনে পুরো বিষয়টিকে আখ্যায়িত করা হয়েছে ‘সহিংস বিক্ষোভকারীদের সামনে সরকারের আরেকটি পূর্ণাঙ্গ আত্মসমর্পণ’ হিসেবে।

টিএলপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত খাদিম রিজভির ছেলে সাদ হোসেন রিজভি। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে পাঞ্জাবের কারাগারে বন্দি তিনি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবিষয়ক অধ্যাদেশের অধীনে গ্রেপ্তার হন সাদ রিজভি।

গত বছর ফ্রান্সের একটি রম্য পত্রিকা মহানবী হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ করেছিল। ওই ঘটনায় ইসলাম ধর্মের অবমাননার অভিযোগে গণবিক্ষোভের আয়োজন করেছিল টিএলপি। দাবি জানিয়েছিল পাকিস্তানে নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূতকে দেশে ফেরত পাঠানোর এবং ফ্রান্স থেকে সব ধরনের পণ্য আমদানি নিষিদ্ধের।

শুধু পাকিস্তানেই নয়, মহানবী (স.)-এর ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশকে ধর্মীয় অবমাননা হিসেবে নিয়েছিল বিভিন্ন দেশের মুসলিমরা। এর জেরে ২০২০ সালের অক্টোবরে বিশ্বব্যাপী ‘ফরাসি পণ্য বর্জন’ কর্মসূচির মুখে পড়ে ফ্রান্স সরকার।

পরে মহানবী (স.)-এর ব্যঙ্গচিত্র পুনরায় প্রকাশে রম্য পত্রিকাটির নেয়া সিদ্ধান্তে সমর্থন জানিয়েছিলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল মাখোঁ। এতে ক্ষুব্ধ টিএলপি পাকিস্তানজুড়ে ফ্রান্স-বিরোধী কর্মসূচি গ্রহণ করেছিল।

চলতি বছরের এপ্রিলে টিএলপির ফ্রান্স-বিরোধী কর্মসূচির সময় অচল হয়ে পড়ে লাহোর। সহিংসতায় প্রাণ যায় কমপক্ষে ছয় পুলিশ কর্মকর্তার।

আরও পড়ুন:
তালেবান আতঙ্কে ফেসবুক-টুইটার ছাড়ার হিড়িক
বিদেশে শিক্ষাবৃত্তি পেয়েও পড়তে যেতে পারছে না আফগান শিক্ষার্থীরা
দেশের জন্য কাঁদলেন সেই আফগান নারী সাংবাদিক
পাকিস্তানের প্রশংসায় তালেবান
কাবুলে বন্ধ হচ্ছে নারীদের ড্রাইভিং স্কুল

শেয়ার করুন

শীতে অর্ধেক আফগান চরম খাদ্যসংকটে ভুগবে: জাতিসংঘ

শীতে অর্ধেক আফগান চরম খাদ্যসংকটে ভুগবে: জাতিসংঘ

আসন্ন শীতে ২ কোটি ২০ লাখের বেশি আফগান চরম খাদ্যসংকটে পড়বে বলে সোমবার সতর্ক করে ডব্লিউএফপি। ছবি: রয়টার্স

ডব্লিউএফপির নির্বাহী পরিচালক ডেভিড বিসলে বলেন, ‘আফগানিস্তানকে সহায়তায় আমরা যদি এখনই উদ্যোগ না নিই, তাহলে ২ কোটি ২০ লাখের বেশি আফগানকে এই শীতে হয় দেশ ছাড়তে হবে, নয়তো খাদ্যের অভাবে মরতে হবে।’

চরম মানবিক বিপর্যয়ে থাকা আফগানিস্তানের অর্ধেকের বেশি মানুষ আসছে শীতে প্রকট খাদ্যসংকটে ভুগবে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের সংস্থা বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)।

ডব্লিউএফপির পক্ষ থেকে সোমবার এ সতর্কবার্তা দেয়া হয় বলে বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ডব্লিউএফপির নির্বাহী পরিচালক ডেভিড বিসলে বলেন, ‘আফগানিস্তানকে সহায়তায় আমরা যদি এখনই উদ্যোগ না নিই, তাহলে ২ কোটি ২০ লাখের বেশি আফগানকে এই শীতে হয় দেশ ছাড়তে হবে, নয়তো খাদ্যের অভাবে মরতে হবে।’

জাতিসংঘের কর্মকর্তারা এএফপিকে জানান, আফগানিস্তানে চলমান সংকটের মাত্রা এরই মধ্যে ইয়েমেন বা সিরিয়ার চেয়ে বেশি। এ ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিতে খাদ্যসংকটের পরিস্থিতি ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গো ছাড়া জরুরি অবস্থার মধ্য দিয়ে যাওয়া অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে খারাপ।

বিসলে এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আফগানিস্তান এ মুহূর্তে চরম মানবিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দেশটির খাদ্যনিরাপত্তা ভেঙে পড়েছে।

‘আফগানিস্তান খুব দ্রুতই বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। আমাদের এখনই পদক্ষেপ নেয়া উচিত, নয়তো অনেক দেরি হয়ে যাবে।’

ডব্লিউএফপি ও জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দুজনের মধ্যে একজন আফগান তৃতীয় পর্যায়ের ‘সংকট’ বা চতুর্থ পর্যায়ের ‘জরুরি’ খাদ্য ঘাটতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। চতুর্থ পর্যায় দুর্ভিক্ষের এক ধাপ নিচে।

জাতিসংঘের কর্মকর্তারা জানান, এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ শীত এবার দেখতে যাচ্ছে আফগানরা।

১৫ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে কট্টর ইসলামপন্থি তালেবান। এর কয়েক সপ্তাহ পর নিজেদের ৩৩ জন নেতা নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করে গোষ্ঠীটি।

তবে তালেবান এখন পর্যন্ত কোনো দেশের স্বীকৃতি অর্জন করতে পারেনি। গোষ্ঠীটির ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞাও বলবত রয়েছে।

এ ছাড়া নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) সম্প্রতি আফগানিস্তানজুড়ে বেশ কয়েকটি হামলা চালিয়ে তালেবানকে আরও বেকায়দায় ফেলেছে। কারণ সরকার গঠনের সময় তারা দেশে স্থিতিশীলতার অঙ্গীকার করেছিল।

অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আফগানিস্তানের খরা পরিস্থিতি ঘন ঘন ও তীব্র হচ্ছে।

আফগানিস্তানের মানবিকসংকটের বিষয়ে জানতে চাইলে তালেবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, ‘আমরা দেশের মানুষকে চলমান পরিস্থিতি থেকে বের করার চেষ্টা করছি। বৈশ্বিক মানবিক সহায়তাও আমরা পেতে শুরু করেছি।

মুজাহিদ অঙ্গীকার করে বলেন, ‘জনগণকে পর্যাপ্ত পরিমাণে খাদ্য, কাপড়সহ অন্যান্য সহায়তা দেয়ার চেষ্টা হচ্ছে। সব উদ্বেগ দূর করা হবে।’

এদিকে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, আফগানিস্তানে তাদের মানবিক সহায়তা প্রয়োজনের তুলনায় কেবল এক-তৃতীয়াংশ।

ডব্লিউএফপির নির্বাহী পরিচালক বিসলে বলেন, ‘আফগানিস্তানে খাদ্যসংকটে ভোগা মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। খাদ্যের অভাবে শিশুরা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে। কেবল প্রতিশ্রুতি মানুষের মুখে অন্ন জোগাবে না। আফগানদের নগদ অর্থের প্রয়োজন।

‘আফগানিস্তানের সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই এগিয়ে আসতে হবে।’

আরও পড়ুন:
তালেবান আতঙ্কে ফেসবুক-টুইটার ছাড়ার হিড়িক
বিদেশে শিক্ষাবৃত্তি পেয়েও পড়তে যেতে পারছে না আফগান শিক্ষার্থীরা
দেশের জন্য কাঁদলেন সেই আফগান নারী সাংবাদিক
পাকিস্তানের প্রশংসায় তালেবান
কাবুলে বন্ধ হচ্ছে নারীদের ড্রাইভিং স্কুল

শেয়ার করুন

ক্ষুধা মেটাতে কাজের বিনিময়ে গম কর্মসূচি তালেবানের

ক্ষুধা মেটাতে কাজের বিনিময়ে গম কর্মসূচি তালেবানের

দারিদ্র্য ও ক্ষুধা লাঘবে কাজের বিনিময়ে গম কর্মসূচি শুরু হচ্ছে আফগানিস্তানে। ছবি: এএফপি

রাজধানী কাবুলের দক্ষিণাঞ্চলে আয়োজিত ওই সম্মেলনে মুজাহিদ বলেন, ‘আফগানিস্তানের প্রধান শহর ও গ্রামে কাজের বিনিময়ে গম কর্মসূচি পরিচালিত হবে। শুধু কাবুলেই ৪০ হাজার মানুষকে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।’

আফগানিস্তানজুড়ে চলমান চরম ক্ষুধা ও দারিদ্র্য নিরসনে কাজের বিনিময়ে গম কর্মসূচি হাতে নিয়েছে তালেবান সরকার। এ কর্মসূচির আওতায় দেশটির হাজার হাজার মানুষকে গম দেয়া হবে।

তালেবানের প্রধান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ রোববার সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন বলে বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

রাজধানী কাবুলের দক্ষিণাঞ্চলে আয়োজিত ওই সম্মেলনে মুজাহিদ বলেন, ‘আফগানিস্তানের প্রধান শহর ও গ্রামে কাজের বিনিময়ে গম কর্মসূচি পরিচালিত হবে। শুধু কাবুলেই ৪০ হাজার মানুষকে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।’

তিনি বলেন, ‘বেকারত্বের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এ পদক্ষেপ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গম পেতে শ্রমিকদের অবশ্যই কঠোর পরিশ্রম করতে হবে।’

আগস্টে তালেবান ক্ষমতা দখলের পর থেকে দারিদ্র্য, খরা, বিদ্যুৎ না থাকাসহ ধসে পড়া অর্থনৈতিক ব্যবস্থা দেখছে আফগানরা। আসন্ন শীতে তাদের দুর্দশা আরও বাড়বে বৈ কমবে না বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের।

তালেবানের কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচির আওতায় দেশটির শ্রমিকরা নেই। যেসব আফগান সম্প্রতি বেকার হন ও শীতের সময় অনাহারের ঝুঁকিতে রয়েছেন, কেবল তারাই এ কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার সুযোগ পাবেন।

দুই মাস দীর্ঘ এ কর্মসূচি চলাকালে কাবুলে ১১ হাজার ৬০০ টন গম বিতরণ করা হবে। আর হেরাত, জালালাবাদ, কান্দাহার, মাজার-ই-শরিফ ও পল-ই-খোমরিসহ অন্যান্য শহরে প্রায় ৫৫ হাজার টন গম দেয়া হবে।

নদী খননসহ অন্যান্য কার্যক্রম ওই কর্মসূচির মধ্যে রাখা হয়েছে।

কাবুলের গ্রামাঞ্চলীয় রিশ খর এলাকায় ছোট একটি খাল খননের মাধ্যমে ওই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তালেবান মুখপাত্র মুজাহিদ, কৃষিমন্ত্রী আব্দুল রহমান রশিদ, কাবুলের মেয়র হামদুল্লাহ নোমানিসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা।

১৫ আগস্ট কাবুল পতনের মধ্য দিয়ে আফগানিস্তানের ক্ষমতা তালেবানের হাতে যায়। ক্ষমতা দখলের সপ্তাহখানেক পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করে তালেবান।

তবে সরকার গঠনের দুই মাসের বেশি সময় পার হলেও কোনো দেশ এখন পর্যন্ত তালেবানের নতুন সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি।

এ ছাড়া তালেবান ক্ষমতায় আসার পর যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা আফগানিস্তানের সম্পদ জব্দ করে। এতে দেশটির অর্থনীতি আরও নাজুক হয়ে পড়ে।

আফগানিস্তানের চরম অর্থনৈতিক ও মানবিক সংকট কিছুটা লাঘবে শুক্রবার পাঁচ বিলিয়ন রুপির মানবিক সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দেয় পাকিস্তান।

আরও পড়ুন:
তালেবান আতঙ্কে ফেসবুক-টুইটার ছাড়ার হিড়িক
বিদেশে শিক্ষাবৃত্তি পেয়েও পড়তে যেতে পারছে না আফগান শিক্ষার্থীরা
দেশের জন্য কাঁদলেন সেই আফগান নারী সাংবাদিক
পাকিস্তানের প্রশংসায় তালেবান
কাবুলে বন্ধ হচ্ছে নারীদের ড্রাইভিং স্কুল

শেয়ার করুন

মিয়ানমার থেকে দলে দলে ভারতে হাজারো শরণার্থী

মিয়ানমার থেকে দলে দলে ভারতে হাজারো শরণার্থী

ভারতের মিজোরামে সীমান্তরক্ষীদের প্রহরা। ছবি: এএফপি

১৪টি গ্রামে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র ও ত্রাণ শিবির তৈরি করেছেন বাসিন্দারা। শরণার্থীদের খাদ্য ও পোশাক সরবরাহের পাশাপাশি আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে কয়েকটি বেসরকারি সাহায্য সংস্থা এবং প্রেসবাইটারিয়ান, ব্যাপটিস্ট ও রোমান ক্যাথলিক চার্চ কর্তৃপক্ষ।

মিয়ানমারের সংঘাতকবলিত শান প্রদেশ থেকে ভারতের মিজোরাম রাজ্যে ঢুকছে হাজারো শরণার্থী। মিজোরামের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত জেলাগুলোতে আশ্রয় নিচ্ছে তারা।

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, মিয়ানমারে সেনাবাহিনী ও বিদ্রোহীদের মধ্যে সহিংস সংঘাত অব্যাহত থাকায় ভারতে আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।

এক পুলিশ কর্মকর্তার রোববার দেয়া তথ্যের বরাত দিয়ে বলা হয়, মিজোরামের কয়েকটি অঞ্চলে বর্তমানে আশ্রয় নিয়ে আছে নারী ও শিশুসহ মিয়ানমারের কমপক্ষে ১৩ হাজার নাগরিক। এদের মধ্যে দেড় হাজারের বেশি মানুষের বিস্তারিত তথ্য এখনও নথিভুক্ত হওয়া বাকি।

প্রতিদিনই নতুন করে শরণার্থীদের প্রবেশ ঘটছে বলে এ সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। তার ওপর আন্তর্জাতিক সীমান্তে প্রবেশপথ ও বহির্গমন পথের কাছে ঠাঁই নেয়া কিছু মানুষ নিয়মিত ভারতে ঢুকছে, বের হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা, কমিউনিটি নেতা, বেসরকারি সাহায্য সংস্থা ও গির্জা কর্তৃপক্ষ মিয়ানমারের নাগরিকদের আশ্রয় ও খাবারের ব্যবস্থা করছে।

মিজোরাম পুলিশের তথ্য বিশ্লেষণ করে ভারতের সর্ববৃহৎ বার্তা সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, রাজ্যের ছয়টি সীমান্ত জেলা চাম্পাই, লওঙত্লাই, সিয়াহা, সেরছিপ, নাহথিয়াল ও সাইতুয়ালে ৯ হাজার ৪১১ শরণার্থীর থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মিজোরামের মোট ১১টি জেলায় মিয়ানমারের নাগরিকরা আশ্রয় নিয়েছেন। শুধু চাম্পাই জেলাতেই আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ৬ হাজার মানুষ, যা ১১টি জেলার মধ্যে সর্বোচ্চ। প্রাদেশিক রাজধানী আইজাওলে আশ্রয় নিয়েছেন এক হাজার ৬২২ জন।

ইয়াং মিজো অ্যাসোসিয়েশনের তুইপুইরাল শাখার সভাপতি এম সি লালরামেঙ্গা জানান, চাম্পাই জেলার ২১টি গ্রাম নিয়ে গঠিত তুইপুইরালে বর্তমানে মিয়ানমারের প্রায় ২ হাজার ৭০০ নাগরিক থাকছেন।

তিনি জানান, মিয়ানমারের শান প্রদেশ থেকে বিরামহীনভাবে মিজোরামে প্রবেশ করছেন শরণার্থীরা। ফসল কাটার মৌসুমে আশ্রয়প্রার্থীদের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

লালরামেঙ্গা বলেন, অঞ্চলটির ১৪টি গ্রামে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র ও ত্রাণ শিবির তৈরি করেছেন বাসিন্দারা। শরণার্থীদের খাদ্য ও পোশাক সরবরাহের পাশাপাশি আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে কয়েকটি বেসরকারি সাহায্য সংস্থা এবং প্রেসবাইটারিয়ান, ব্যাপটিস্ট ও রোমান ক্যাথলিক চার্চ কর্তৃপক্ষ।

সেন্ট্রাল ইয়াং মিজো অ্যাসোসিয়েশনের উপ-সভাপতি লালমাছুয়ানা জানান, শরণার্থীদের সহায়তা দিতে সংস্থাটি সম্প্রতি ভারতীয় মুদ্রায় ১৫ লাখ রুপি খরচ করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে এ অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল।

মিয়ানমারের সঙ্গে মিজোরামের আন্তর্জাতিক সীমানার দৈর্ঘ্য ৫১০ কিলোমিটার। ছয়টি সীমান্ত জেলায় গত ৭ সেপ্টেম্বর থেকে শরণার্থীরা প্রবেশ করতে শুরু করে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থান হয়। গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার ভেঙে দিয়ে ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনী। এরপর থেকেই দেশটি থেকে প্রতিবেশী ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় মিজোরামে প্রতিদিন কমবেশি শরণার্থীর প্রবেশ অব্যাহত আছে।

তবে শান প্রদেশে সেনাবাহিনীর সঙ্গে বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহীদের সংঘাতের মধ্যে সম্প্রতি মিজোরামে বানের পানির মতো আশ্রয়প্রার্থীদের ঢল শুরু হয়।

মিজোরামে আশ্রয় নেয়া মিয়ানমারের বেশির ভাগ নাগরিকই সংখ্যালঘু শান সম্প্রদায়ের সদস্য। মিজোরামের মিজো আদিবাসীদের সঙ্গে জাতিগতভাবে সম্পর্কিত শানরা।

আরও পড়ুন:
তালেবান আতঙ্কে ফেসবুক-টুইটার ছাড়ার হিড়িক
বিদেশে শিক্ষাবৃত্তি পেয়েও পড়তে যেতে পারছে না আফগান শিক্ষার্থীরা
দেশের জন্য কাঁদলেন সেই আফগান নারী সাংবাদিক
পাকিস্তানের প্রশংসায় তালেবান
কাবুলে বন্ধ হচ্ছে নারীদের ড্রাইভিং স্কুল

শেয়ার করুন

কাবুলে বিদ্যুৎ লাইনে বিস্ফোরণের দায় নিল আইএস

কাবুলে বিদ্যুৎ লাইনে বিস্ফোরণের দায় নিল আইএস

বৃহস্পতিবার কাবুলে বৈদ্যুতিক লাইনে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় আইএস-কে। ছবি: এএফপি

আইএস-কে তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানায়, ‘কাবুলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত করতে খেলাফতের যোদ্ধারা সেখানে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়।’

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পুরো শহরকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করার দায় নিয়েছে নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের [(আইএস) আফগান শাখা আইএস-খোরাসান (আইএস-কে)]।

সশস্ত্র সংগঠনটি শুক্রবার বিস্ফোরণের দায় নেয় বলে বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

আইএস-কে তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানায়, ‘কাবুলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত করতে খেলাফতের যোদ্ধারা সেখানে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়।’

ওই বিস্ফোরণ উচ্চ-ভোল্টেজের একটি বিদ্যুৎ লাইনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। কাবুলসহ আফগানিস্তানের অন্য কয়েকটি প্রদেশে আমদানি করা বিদ্যুৎ সরবরাহ করে ওই লাইন।

আফগানিস্তানের বিদ্যুৎব্যবস্থা অনেকাংশে নির্ভরশীল আমদানি করা বিদ্যুতের ওপর।

মূলত উত্তরাঞ্চলীয় প্রতিবেশী দেশ তাজিকিস্তান ও উজবেকিস্তান থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করে দেশটি। এ কারণে মাঠে-ঘাটের বিদ্যুৎ লাইনে সহজে হামলা চালাতে পারে সন্ত্রাসীরা।

রাজধানী কাবুলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হওয়া দেশকে স্থিতিশীল রাখার তালেবানের প্রচেষ্টার ওপর আরও একটি আঘাত।

আন্তর্জাতিক সহায়তা ও স্বীকৃতি পেতে ক্ষমতা দখলের পর দুই মাসের বেশি সময় ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কট্টর ইসলামপন্থি গোষ্ঠীটি।

১৫ আগস্ট কাবুল পতনের মধ্য দিয়ে আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করে তালেবান। এরপর থেকে আফগানিস্তানজুড়ে বেশ কয়েকটি সহিংস হামলা চালিয়ে তালেবানকে উদ্বেগে ফেলেছে আইএস-কে।

গত শুক্রবার জুমার নামাজের সময় আফগানিস্তানের কান্দাহার শহরে এক শিয়া মসজিদে আইএস-কের বোমা হামলায় ৬০ জনের মৃত্যু হয়।

এর আগের শুক্রবার ৮ অক্টোবর দেশটির কুন্দুজ শহরে আরেক শিয়া মসজিদে নামাজরত মুসল্লিদের ওপর আত্মঘাতী বোমা হামলা চালায় আইএস-কে। ওই ঘটনায় অন্তত ৫০ মুসল্লির মৃত্যু ঘটে।

আরও পড়ুন:
তালেবান আতঙ্কে ফেসবুক-টুইটার ছাড়ার হিড়িক
বিদেশে শিক্ষাবৃত্তি পেয়েও পড়তে যেতে পারছে না আফগান শিক্ষার্থীরা
দেশের জন্য কাঁদলেন সেই আফগান নারী সাংবাদিক
পাকিস্তানের প্রশংসায় তালেবান
কাবুলে বন্ধ হচ্ছে নারীদের ড্রাইভিং স্কুল

শেয়ার করুন

কঠিন সময়েও সেবাতেই নজর আফগান মিডওয়াইফদের

কঠিন সময়েও সেবাতেই নজর আফগান মিডওয়াইফদের

আফগানিস্তানের ময়দান শরে কমিউনিটি মিডওয়াইফারি এডুকেশন স্কুলের একটি ক্লাসে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা। ছবি: এএফপি

মিডওয়াইফারি কলেজের শিক্ষক শফিকা বিরোনি বলেন, ‘মানবতাবাদ ও দেশপ্রেমের জায়গা থেকে আমি আমার কাজ করে যাচ্ছি। তালেবান সরকারের কাছে আমাদের দাবি, নারী-শিশুদের সহায়তা করতে আমাদের যেন নিরাপদে কাজ করতে দেয়া হয়।’

বিদেশি সেনারা আফগানিস্তান ছাড়ার শেষ সময়ে দেশটির বিস্তীর্ণ অঞ্চল নিজেদের দখলে নিতে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় তালেবান।

চলতি বছরের এপ্রিলে শুরু হওয়া ওই সংঘর্ষে অনেক প্রাণহানি হয়। ভেঙে পড়ে বেশ কয়েকটি স্থাপনা।

আফগানিস্তানের একটি মিডওয়াইফারি কলেজের শিক্ষকদের কার্যালয়ও বুলেটের আঘাতে ঝাঁঝরা হয়। তাদের শেষ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বোমায় উড়ে যায়।

তা সত্ত্বেও দেশটির গ্রামাঞ্চলে সন্তানসম্ভবা নারী ও নবজাতক শিশুদের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন ওই শিক্ষকরা। কঠিন পরিবেশেও শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিচ্ছেন তারা।

১৫ আগস্ট কাবুল পতনের মধ্য দিয়ে আফগানিস্তানের ক্ষমতা তালেবানের দখলে যায়। এর কয়েক সপ্তাহ পর দেশটিতে নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করে কট্টর ইসলামপন্থি গোষ্ঠীটি।

নতুন সরকারের কাছে ওই মিডওয়াইফারি কলেজের শিক্ষকদের একটাই চাওয়া, তাদের যেন নিরাপদে কাজ করতে দেয়া হয়।

কলেজটির ৫২ বছর বয়সী শিক্ষক শফিকা বিরোনি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘মানবতাবাদ ও দেশপ্রেমের জায়গা থেকে আমি আমার কাজ করে যাচ্ছি।

‘সমাজের সবচেয়ে নিপীড়িত অংশ নারী ও শিশুদের সেবার প্রয়োজন রয়েছে বলে আমি মনে করি।

‘তালেবান সরকারের কাছে আমাদের দাবি, নারী-শিশুদের সহায়তা করতে আমাদের যেন নিরাপদে কাজ করতে দেয়া হয়।’

আফগানিস্তানের ওয়ারদাক প্রদেশের রাজধানী ময়দান শরে অবস্থিত ওই কলেজের নাম কমিউনিটি মিডওয়াইফারি এডুকেশন স্কুল। এতে ২৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। আগামী বছরের মে মাসে তাদের স্নাতক শেষ হবে।

তালেবান ও আফগানিস্তানের সাবেক সরকারের নিরাপত্তা বাহিনীর সংষর্ষ স্মরণ করে কলেজটির কোর্স ডিরেক্টর খাতুল ফজলি বলেন, ‘ওই সময় প্রতিদিনই এখানে যুদ্ধ হতো। কঠিন সময় পার করেছি আমরা।’

আফগানিস্তানের মিডওয়াইফারি কলেজ কীভাবে চলবে এসংক্রান্ত কোনো নির্দেশনা এখনও তালেবান সরকার দেয়নি।

অন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের মতো আফগানিস্তানজুড়ে মিডওয়াইফদের সম্প্রতি সবচেয়ে বড় যে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে তা হলো, দেশটির ব্যাংকিংব্যবস্থা কাজ না করায় চার মাস ধরে তারা তাদের বেতন পাচ্ছেন না।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সহায়তা সংস্থার সহযোগিতায় গত ১৫ বছরে ময়দান শরসহ আফগানিস্তানের বিভিন্ন শহরে স্বাস্থ্যসেবা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। তার পরও দেশটির শিশু মৃত্যুহার বিশ্বে অন্যতম সর্বোচ্চ।

এ ছাড়া আফগানিস্তানে প্রতিবছর হাজার হাজার নারী প্রসবকালীন জটিলতায় মারা যায়।

আরও পড়ুন:
তালেবান আতঙ্কে ফেসবুক-টুইটার ছাড়ার হিড়িক
বিদেশে শিক্ষাবৃত্তি পেয়েও পড়তে যেতে পারছে না আফগান শিক্ষার্থীরা
দেশের জন্য কাঁদলেন সেই আফগান নারী সাংবাদিক
পাকিস্তানের প্রশংসায় তালেবান
কাবুলে বন্ধ হচ্ছে নারীদের ড্রাইভিং স্কুল

শেয়ার করুন

ত্রিপুরায় তৃণমূল নেত্রীর ওপর হামলা, বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ

ত্রিপুরায় তৃণমূল নেত্রীর ওপর হামলা, বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ

'দিদির দূত' লেখা এ গাড়িতে বিজেপি কর্মীরা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ তৃণমূলের। ছবি: টাইমস অফ ইন্ডিয়া

ঘটনার প্রতিবাদে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় টুইট করে বলেন, ‘বিপ্লব দেবের নেতৃত্বে বিরোধীদের ওপর আক্রমণের রেকর্ড তৈরি হয়েছে। বিজেপির গুন্ডারা একজন নারী সংসদ সদস্যকে যেভাবে হেনস্তা করেছে, তা লজ্জার এবং রাজনৈতিক সন্ত্রাসের শামিল। সময় এসেছে, ত্রিপুরার মানুষ এর জবাব দেবে।’

অসিত পুরকায়স্থ, কলকাতা

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে স্থানীয় ভোটের আগে রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। ত্রিপুরা সফররত পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী সুস্মিতা দেব হামলার শিকার হয়েছেন।

পশ্চিমবঙ্গে চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর দেশের অন্যান্য রাজ্যে দল সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয় তৃণমূল কংগ্রেস। এরই অংশ হিসেবে ত্রিপুরায় সফর করছেন রাজ্যসভা সদস্য সুস্মিতা।

সুস্মিতার জনসংযোগ কর্মসূচি চলাকালীন শুক্রবার ‘দিদির দূত’ লেখা গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি ব্যাগ ছিনতাই ও মোবাইল ভেঙে দেওয়ারও অভিযোগ করেছেন সুস্মিতা।

এ ঘটনায় অভিযোগের তীর ভারতের কেন্দ্রীয় ক্ষমতাসীন দল বিজেপির দিকে।

সাংবাদিকদের সুস্মিতা বলেন, ‘আক্রমণকারীরা সবাই বিজেপি কর্মী। কেউ মাস্ক পরা ছিল না।’

‘দিদির দূত’ লেখা গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে প্রকাশ করেছে ত্রিপুরা তৃণমূল কংগ্রেস।

ঘটনার প্রতিবাদে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় টুইট করে বলেন, ‘বিপ্লব দেবের নেতৃত্বে বিরোধীদের ওপর আক্রমণের রেকর্ড তৈরি হয়েছে।

‘বিজেপির গুন্ডারা একজন নারী সংসদ সদস্যকে যেভাবে হেনস্তা করেছে, তা লজ্জার এবং রাজনৈতিক সন্ত্রাসের শামিল।’

তিনি আরও লেখেন, ‘সময় এসেছে, ত্রিপুরার মানুষ এর জবাব দেবে।’

প্রতিক্রিয়ায় হামলার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন বিজেপি মুখপাত্র অস্মিতা বণিক। তিনি বলেন, ‘অন্য দলের ওপর আক্রমণের সময় আমাদের নেই। ত্রিপুরায় গণতন্ত্র বিদ্যমান। তৃণমূল ছাড়া অনেক বিরোধী দল আছে। তারা নিজেদের কর্মসূচি স্বাভাবিকভাবেই চালিয়ে যাচ্ছে।’

ত্রিপুরার আসন্ন পৌরভোটে জিততে তৃণমূল কংগ্রেস বৃহস্পতিবার থেকে রাজ্যটিতে ‘দিদির দূত’ জনসংযোগ কর্মসূচিতে নেমেছে। প্রায় দুই সপ্তাহ এ কর্মসূচি চলবে। প্রচারের জন্য ‘দিদির দূত’ লেখা তৃণমূলের বেশ কিছু গাড়ি সেখানে পৌঁছে গেছে।

ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায় সুস্মিতা দেব বলেন, “‘ত্রিপুরার জন্য তৃণমূল’- এই স্লোগানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দর্শন মানুষের সামনে তুলে ধরছি। ত্রিপুরার ৫৮টি ব্লক ও ১৬টি পৌর এলাকায় হবে আমাদের জনসংযোগ যাত্রা।”

এদিকে, আজই মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের রাজ্যটিতে পৌরসভা ভোটের তারিখ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।

আগামী ২৫ নভেম্বর হবে ভোট। বিজ্ঞপ্তি জারি হবে ২৭ অক্টোবর। মনোনয়ন জমা দেয়ার শেষ দিন ৩ নভেম্বর। ৪ ডিসেম্বরের মধ্যে ফল ঘোষণাসহ ভোটের প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে বলে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
তালেবান আতঙ্কে ফেসবুক-টুইটার ছাড়ার হিড়িক
বিদেশে শিক্ষাবৃত্তি পেয়েও পড়তে যেতে পারছে না আফগান শিক্ষার্থীরা
দেশের জন্য কাঁদলেন সেই আফগান নারী সাংবাদিক
পাকিস্তানের প্রশংসায় তালেবান
কাবুলে বন্ধ হচ্ছে নারীদের ড্রাইভিং স্কুল

শেয়ার করুন