বিজেপি নেতার নিরাপত্তাকর্মীর পিস্তল তাক, প্রতিবেদন চায় নির্বাচন কমিশন

বিজেপি নেতার নিরাপত্তাকর্মীর পিস্তল তাক, প্রতিবেদন চায় নির্বাচন কমিশন

পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। ফাইল ছবি

তৃণমূলের অফিসিয়াল টুইটার থেকে ঘটনার ভিডিও ফুটেজ আপলোড করে লেখা হয়েছে, 'বঙ্গ বিজেপির নতুন কাণ্ড। প্রকাশ্য দিবালোকে এভাবে বন্দুক তাক করা যায়? নেতাদের বিরুদ্ধে মানুষের প্রতিবাদ করার অধিকার নেই? মানবাধিকার লঙ্ঘনের এই দৃশ্য লজ্জাজনক! ভবানীপুরের মানুষের নিরাপত্তার জন্য এটা ভয়ংকর!’

ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনের প্রচারের শেষ দিনে তৃণমূল-বিজেপি ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। এ সময় তৃণমূলের কর্মীদের উদ্দেশে পিস্তল তাক করেন বিজেপির সর্বভারতীয় সহসভাপতি দিলীপ ঘোষের নিরাপত্তা কর্মী। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন চেয়েছে নির্বাচন কমিশন।

সোমবার ভবানীপুরের যদুবাবুর বাজারে ভোট প্রচারে যান বিজেপির সাবেক রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। লিফলেট বিলির সময় একদল তৃণমূল-কর্মী সমর্থক দিলীপ ঘোষকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকলে তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে ।

বিজেপির অভিযোগ, দিলীপ ঘোষকে ঘিরে ধরে তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা গো ব্যাক ও জয় বাংলা স্লোগান দেন। অন্যদিকে, তৃণমূলের অভিযোগ ঘটনার সময় পিস্তল তাক দিলীপ ঘোষের নিরাপত্তাকর্মী পিস্তল তাক করেছিল ঘটনার সময় ।

ঘটনার পর, নির্বাচন কমিশন জেলা নির্বাচন আধিকারিকদের কাছে প্রতিবেদন চেয়ে পাঠিয়েছে।

এ ঘটনায় তৃণমূলের অফিসিয়াল টুইটার থেকে ঘটনার ভিডিও ফুটেজ আপলোড করে লেখা হয়েছে, 'বঙ্গ বিজেপির নতুন কাণ্ড। প্রকাশ্য দিবালোকে এভাবে বন্দুক তাক করা যায়? নেতাদের বিরুদ্ধে মানুষের প্রতিবাদ করার অধিকার নেই? মানবাধিকার লঙ্ঘনের এই দৃশ্য লজ্জাজনক! ভবানীপুরের মানুষের নিরাপত্তার জন্য এটা ভয়ংকর!’

বিজেপির তরফে এই ঘটনায় টুইট করে প্রতিক্রিয়ায় লেখা হয়েছে, ‘ভবানীপুরের যদুবাবুর বাজারের বিজেপির নির্বাচনি পথসভায় তৃণমূলের গুন্ডা বাহিনীর দ্বারা রক্ত ঝরল বিজেপি কর্মকর্তাদের। নন্দীগ্রামের পর ৩০ সেপ্টেম্বর ভবানীপুরের মানুষ ভোটবাক্সে এর জবাব দেবেন।’

সংঘর্ষের ঘটনায় একজন বিজেপি কর্মী মাথায় চোট পেয়েছেন বলে অভিযোগ দলটির।

বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘তৃণমূল মানুষের কাছে যেতে পারছে না। তাই বিজেপির পেছনে পড়ে আছে। আমাকে বারবার বাধা দেয়া হয়েছে। কিন্তু আমি যা করার, সেটি করে গেছি।’

দিলীপকে পাল্টা জবাব দিয়েছেন পরিবহন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম।

তিনি বলেন, ‘দিলীপ ঘোষকে তো তার দলই সরিয়ে দিয়েছে। মানুষই তাকে চায় না। দিলীপ ঘোষ যে কথাবার্তা বলেন, সেটা মানুষ পছন্দ করেন না। সেটাই বারবার প্রমাণিত হয়ে যাচ্ছে।’

যদুবাবুর বাজারের ঘটনার বিকেল ৪টার মধ্যে প্রতিবেদন চেয়েছে নির্বাচন কমিশন। ঘটনার ফুটেজও চেয়ে পাঠিয়েছে কমিশন। পাশাপাশি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন।

আরও পড়ুন:
বামে আগ্রহ হারাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের যুবারা
পশ্চিমবঙ্গে প্রথম সফল ফুসফুস প্রতিস্থাপন
পশ্চিমবঙ্গে ফের বাড়ল করোনার বিধিনিষেধ
করোনায় শিশুশ্রম বেড়েছে পশ্চিমবঙ্গে
‘মা’ আসলে কার

শেয়ার করুন

মন্তব্য

দিল্লিতে এক দশকে রেকর্ড বৃষ্টি

দিল্লিতে এক দশকে রেকর্ড বৃষ্টি

ভারী বৃষ্টিতে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ছবি: হিন্দুস্তান টাইমস

রোববার থেকে সোমবার ভোর সাড়ে ৫টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সফদারজংয়ে ৮৫ মিলিমিটার ও পালামে ৫৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। এক দশকে এটাই সর্বোচ্চ। এর আগে ১৯৫৪ সালে দিল্লিতে ১৭২.৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়।

ভারতের রাজধানী দিল্লি ও এর আশপাশের এলাকায় ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড বৃষ্টি হয়েছে। এক দশকে এত বেশি বৃষ্টি এর আগে দেখেনি রাজধানীবাসী। সোমবার আরও বৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।

রাতভর টানা কয়েক ঘণ্টার প্রবল বর্ষণে দিল্লির বেশ কয়েকটি অঞ্চলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে সোমবার সকাল থেকে সড়কে যান চলাচলে ছিল ধীরগতি। কয়েকটি এলাকার রাস্তা বন্ধ করে দেয় ট্রাফিক পুলিশ।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

ভারতের বেসরকারি আবহাওয়া পূর্বাভাস সংস্থা স্কাইমেট ওয়েদার সার্ভিসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দিল্লির দক্ষিণাঞ্চলীয় সফদারজং এলাকায় ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড বৃষ্টি হয়েছে।

রোববার থেকে সোমবার ভোর সাড়ে ৫টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সফদারজংয়ে ৮৫ মিলিমিটার ও পালামে ৫৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। এক দশকে এটাই সর্বোচ্চ। এর আগে ১৯৫৪ সালে দিল্লিতে ১৭২.৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়।

আগামী দুই ঘণ্টায় দিল্লি ছাড়াও নয়ডা, গাজিয়াবাদ, বৃহত্তর নয়ডা, বারাউত, আগ্রা, হাথরাস, সনিপাত, গানাউর, গোহানা, সোহানা, ঝুনঝুনু ও পিলানি শহরে অল্প বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে ভারতের আবহাওয়া দপ্তর (আইএমডি)।

দিল্লি ট্রাফিক পুলিশ জানিয়েছে, পুলপ্রহলাদপুর আন্ডারপাসে ভারি বর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার কারণে এমবি রোড বন্ধ করা হয়েছে।

রোববারের ভারি বৃষ্টিতেও দিল্লির বেশ কয়েকটি এলাকায় জলাবদ্ধতা ও যানজটের সৃষ্টি হয়।

ওই দিন দিল্লির সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আরও পড়ুন:
বামে আগ্রহ হারাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের যুবারা
পশ্চিমবঙ্গে প্রথম সফল ফুসফুস প্রতিস্থাপন
পশ্চিমবঙ্গে ফের বাড়ল করোনার বিধিনিষেধ
করোনায় শিশুশ্রম বেড়েছে পশ্চিমবঙ্গে
‘মা’ আসলে কার

শেয়ার করুন

প্রাণের সন্ধানে মঙ্গলে ঠিক জায়গাতেই পারসিভারেন্স

প্রাণের সন্ধানে মঙ্গলে ঠিক জায়গাতেই পারসিভারেন্স

মঙ্গলে প্রাণের অস্তিত্ব সন্ধানে ভুল জায়গায় পারসিভারেন্স নামেনি বলে জানান বিজ্ঞানীরা। ছবি: নাসা

নাসার বিজ্ঞানীরা বলছেন, কীভাবে নদীর পানি হ্রদে এসে মিলিত হলো, পানিপ্রবাহ হঠাৎ কেন ধীর হয়ে গেল, পলি জমে কীভাবে ডেল্টার গঠন হলো, এসব বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য পেয়েছে পারসিভারেন্স।

মঙ্গল গ্রহে অতীতে কোনো প্রাণের অস্তিত্ব ছিল কি না, তা খুঁজতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে গ্রহটিতে নামে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ সংস্থা নাসার পারসিভারেন্স রোভার।

প্রাচীন প্রাণের দেখা মিলবে এমন জায়গায় পারসিভারেন্স নেমেছিল কি না, তা নিয়ে কিছুটা দ্বিধা ছিল বিজ্ঞানীদের। তবে সম্প্রতি নাসার বিজ্ঞানীরা জানান, সঠিক জায়গাতেই রয়েছে পারসিভারেন্স। এ বিষয়ে আর কোনো সন্দেহ নেই।

গবেষকদের ভাষ্য, মঙ্গল গ্রহে রোভারটি এমন এক জায়গায় পাঠানো হয়েছে, যেখান থেকে প্রাচীন প্রাণের অস্তিত্ব পাওয়ার সবচেয়ে ভালো সম্ভাবনা রয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ফেব্রুয়ারির ১৯ তারিখে মঙ্গলের জেজেরো ক্রেটার স্পর্শ করে পারসিভারেন্স। এর পর থেকে ওই অঞ্চলের হাজার হাজার ছবি নাসাকে পাঠাচ্ছে রোভারটি।

সাড়ে তিন বিলিয়ন বছরের বেশি সময় আগে লাল গ্রহ মঙ্গলের জলবায়ু অনেক বেশি প্রাণবান্ধব ছিল। সে সময়ে গ্রহটিতে বিশাল হ্রদ ছিল বলে ধারণা বিজ্ঞানীদের।

তাদের অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে পারসিভারেন্স এমনই এক বিশাল হ্রদে অবতরণ করেছে বলে নিশ্চিত নাসার বিজ্ঞানীরা। পশ্চিম দিকের কোনো এক আঁকাবাঁকা নদী থেকে হ্রদটিতে পানি আসত বলেও মন্তব্য তাদের।

নাসার বিজ্ঞানীরা বলছেন, কীভাবে নদীর পানি হ্রদে এসে মিলিত হলো, পানিপ্রবাহ হঠাৎ কেন ধীর হয়ে গেল, পলি জমে কীভাবে ডেল্টার গঠন হলো, এসব বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য পেয়েছে পারসিভারেন্স।

তাদের ভাষ্য, মঙ্গলে ওই সময় এমন এক আবহাওয়া বিরাজ করত, যেখানে অণুজীবরা বেঁচে থাকতে পারত। পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে তাদের অস্তিত্ব একেবারে বিলীন হয়ে যায়নি।

যুক্তরাজ্যের ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক সঞ্জীব গুপ্ত বলেন, “মানুষজন আমাকে জিজ্ঞাসা করে, ‘পারসিভারেন্স তো সঠিক জায়গাতেই নেমেছে। এতে নতুন কী আছে? জেজেরো ক্রেটারের ডেল্টা সম্পর্কে আমরা কি আগে থেকে জানতাম না'?”

তিনি বলেন, ‘আমি তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, 'আমরা এ বিষয়ে নিশ্চিত ছিলাম না। কক্ষপথ থেকে তোলা ছবি দেখে আমাদের অনুমান ছিল, জেজেরো ক্রেটারে একটি ডেল্টা রয়েছে। কিন্তু মঙ্গলে নামার আগ পর্যন্ত এ বিষয়ে কীভাবে নিশ্চিত হই?

‘পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়ার জন্য পারসিভারেন্সকে মঙ্গলে পাঠানো জরুরি ছিল।’

আরও পড়ুন:
বামে আগ্রহ হারাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের যুবারা
পশ্চিমবঙ্গে প্রথম সফল ফুসফুস প্রতিস্থাপন
পশ্চিমবঙ্গে ফের বাড়ল করোনার বিধিনিষেধ
করোনায় শিশুশ্রম বেড়েছে পশ্চিমবঙ্গে
‘মা’ আসলে কার

শেয়ার করুন

পাকিস্তানে বিয়ের পরও এনআইডিতে রাখা যাবে বাবার নাম

পাকিস্তানে বিয়ের পরও এনআইডিতে রাখা যাবে বাবার নাম

পাকিস্তানি নারীরা এখন বিয়ের পর জাতীয় পরিচয়পত্রে বাবার নাম রাখতে পারবেন। ছবি: নিউ কানাডিয়ান মিডিয়া

সম্মেলনে নাদরার চেয়ারপারসন তারিক মালিক বলেন, ‘স্বামীর নাম রাখার বাধ্যতামূলক অনানুষ্ঠানিক ওই নীতি আমরা বাতিল করছি। জাতীয় পরিচয়পত্রে বিয়ের পর নারীরা বাবার নাম রাখবেন নাকি স্বামীর নাম রাখবেন- এ সিদ্ধান্ত এখন তাদের।’

জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) বিয়ের পর বাবার নাম ফেলে দিয়ে স্বামীর নাম রাখার নারীদের যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে, সেখান থেকে সরে আসছে পাকিস্তান। নারীরা চাইলে এখন বিয়ের পরও জাতীয় পরিচয়পত্রে তাদের বাবার নাম রাখতে পারবেন।

পাকিস্তানের ন্যাশনাল ডাটাবেজ অ্যান্ড রেজিস্ট্রেশন অথরিটির (নাদরা) চেয়ারপারসন তারিক মালিক শুক্রবার ১৪তম বার্ষিক গ্রামীণ নারী সম্মেলনের শেষ অধিবেশনে এ ঘোষণা দেন।

সম্মেলনে মালিক বলেন, ‘স্বামীর নাম রাখার বাধ্যতামূলক অনানুষ্ঠানিক এই নীতি আমরা বাতিল করছি। জাতীয় পরিচয়পত্রে বিয়ের পর নারীরা বাবার নাম রাখবেন নাকি স্বামীর নাম রাখবেন- এ সিদ্ধান্ত এখন তাদের।

‘এ সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে নারীর, তার স্বামীর নয়।’

নাদরার চেয়ারপারসন মালিক বলেন, ‘জাতীয় পরিচয়পত্র থেকে বিয়ের পর বাবার নাম বাদ দিয়ে স্বামীর নাম রাখার সংস্কৃতি নীতি বাস্তবায়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা করেছেন।

‘বিয়ের পর পরিচয়পত্রে স্বামীর নাম রাখতেই হবে- এমন কোনো কিছু আইনে বলা নেই। স্বামীর অনুমতি নিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র হালনাগাদ করতে নারীদের বাধ্য করার কথাও কেউ বলেনি। তবে অনানুষ্ঠানিক এ নিয়ম আমাদের দেশে চলে আসছে।’

মালিক বলেন, ‘জাতীয় পরিচয়পত্র প্লাস্টিকের কোনো টুকরা নয়। এটি ভোট দেয়া, মামলা করা, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলাসহ সব ধরনের সরকারি সুবিধা দিতে সহায়তা করে। এটি নারী ক্ষমতায়নের অন্যতম উৎস।’

মালিক রোববার ডনকে বলেন, ‘আগের নীতি অনুযায়ী, বিয়ের পর নারীদের জাতীয় পরিচয়পত্রে স্বামীর নাম যুক্ত করা বাধ্যতামূলক।

‘নতুন নীতিতে নারীরা বিয়ের পর বাবার নামই রাখবেন নাকি এর জায়গায় স্বামীর নাম বসাবেন, এটা এখন তাদের ওপর নির্ভর করছে।

‘এমনকি বিয়ের পর নারীরা চাইলে জাতীয় পরিচয়পত্রে নিজের নামের সঙ্গে স্বামীর নাম যুক্ত করতে পারবেন। তবে সে ক্ষেত্রে তার নিচে বাধ্যতামূলকভাবে তাদের বাবার নামও রাখতে হবে।’

‘এটি যুগান্তকারী এক পরিবর্তন। এটি জাতীয় পরিচয়পত্রকে ঘিরে নারীদের তাদের মর্জিমাফিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে।’

আরও পড়ুন:
বামে আগ্রহ হারাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের যুবারা
পশ্চিমবঙ্গে প্রথম সফল ফুসফুস প্রতিস্থাপন
পশ্চিমবঙ্গে ফের বাড়ল করোনার বিধিনিষেধ
করোনায় শিশুশ্রম বেড়েছে পশ্চিমবঙ্গে
‘মা’ আসলে কার

শেয়ার করুন

বেসামরিক হত্যায় কাশ্মীরি জড়িত নয়: ফারুক আব্দুল্লাহ

বেসামরিক হত্যায় কাশ্মীরি জড়িত নয়: ফারুক আব্দুল্লাহ

কাশ্মীরে বেসামরিক নাগরিক হত্যায় কাশ্মীরিদের সংশ্লিষ্টতা নেই বলে জানান জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আব্দুল্লাহ। ছবি: আউটলুক

জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আব্দুল্লাহ বলেন, ‘সাম্প্রতিক এসব হত্যা দুঃখজনক। চক্রান্ত করে এসব ঘটানো হয়েছে। কাশ্মীরের সাধারণ জনগণ কোনোভাবেই এসব হামলায় জড়িত নয়।’

কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু-কাশ্মীরে বেসামরিক নাগরিক হত্যায় কাশ্মীরের সাধারণ মানুষ জড়িত নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল কনফারেন্সের (জেকেএনসি) প্রেসিডেন্ট ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আব্দুল্লাহ।

কাশ্মীরিদের নামে কুৎসা রটাতে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে সাম্প্রতিক হামলাগুলো চালানো হয় বলেও জানান তিনি।

কাশ্মীরের বর্ষীয়ান নেতা ফারুক রোববার সাংবাদিকদের কাছে এসব মন্তব্য করেন বলে এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ফারুক আব্দুল্লাহ বলেন, ‘কেন্দ্রশাসিত জম্মু-কাশ্মীরের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিনষ্ট করার চেষ্টার লক্ষ্যে সম্প্রতি এই হামলাগুলো হয়।’

তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক এসব হত্যা দুঃখজনক। চক্রান্ত করে এসব ঘটানো হয়েছে। কাশ্মীরের সাধারণ জনগণ কোনোভাবেই এসব হামলায় জড়িত নয়।’

শনিবার জম্মু-কাশ্মীরের শ্রীনগর ও পুলওয়ামা জেলায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে বিহারের দুই শ্রমিক নিহত হন।

কাশ্মীরে ২ অক্টোবর থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত পৃথক ঘটনায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের চার সদস্যসহ ১১ বেসামরিক নাগরিক সন্ত্রাসী হামলায় প্রাণ হারান।

ওই সব ঘটনায় কাশ্মীরজুড়ে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ে উপদেষ্টা পর্যায়ের বৈঠক বিষয়ে ফারুক জানান, দুই দেশের বন্দুত্বপূর্ণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় যেকোনো উদ্যোগকে স্বাগতম।

তিনি বলেন, ‘ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যাতে মৈত্রীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে, আমাদের তা প্রার্থনা ও আশা করা উচিত। এটি হলে আমরা শান্তিতে বসবাস করতে পারব।’

জি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরে জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসী হামলায় ৩০ জন বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু হয়।

সাম্প্রতিক হামলার পর জম্মু-কাশ্মীরজুড়ে এখন পর্যন্ত ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ সন্দেহে প্রায় ৯০০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতীয় পুলিশ।

পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে ভারতের নিরাপত্তা বাহিনী। পুলিশের ভাষ্য, গত এক সপ্তাহে ১৪ জন ‘সন্ত্রাসীকে’ হত্যা করা হয়েছে।

পুলিশের মহাপরিদর্শক বিজয় কুমার বলেন, ‘বেসামরিক নাগরিকের প্রাণহানির পর ১৩ সন্ত্রাসী পুলিশের সঙ্গে ৯টি সংঘর্ষে মারা গেছে। আমরা ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ে শ্রীনগরে পাঁচ সন্ত্রাসীর মধ্যে তিনজনকে হত্যা করতে সক্ষম হই।’

আরও পড়ুন:
বামে আগ্রহ হারাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের যুবারা
পশ্চিমবঙ্গে প্রথম সফল ফুসফুস প্রতিস্থাপন
পশ্চিমবঙ্গে ফের বাড়ল করোনার বিধিনিষেধ
করোনায় শিশুশ্রম বেড়েছে পশ্চিমবঙ্গে
‘মা’ আসলে কার

শেয়ার করুন

সংসারও ভাঙল সবচেয়ে দুর্ভাগ্যবান ব্রিটিশ দম্পতির

সংসারও ভাঙল সবচেয়ে দুর্ভাগ্যবান ব্রিটিশ দম্পতির

লটারির অর্থ পেতে চলেছেন এই আনন্দে রিচার্ড ব্রেনসনের ব্যক্তিগত দ্বীপে বিলাসবহুল এক সফরে গিয়েছিলেন টট দম্পতি।

মার্টিন আর কাই ভেবেছিলেন, মুহূর্তের মধ্যেই তাদের জীবন বদলে যেতে বসেছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের শুরুটা ছিল এখানেই।

২০ বছর ধরেই সবচেয়ে দুর্ভাগ্যবান দম্পতির বিশেষণ নিয়ে বসবাস করছিলেন মার্টিন আর কাই টট। এবার তারা সেই দাম্পত্য জীবনের ইতি ঘটালেন।

রোববার রাতে ব্রিটিশ গণমাধ্যম ‘মিরর’ এ খবর জানিয়েছে।

২০ বছর আগে ইংল্যান্ডের ওয়াটফোর্ডে একটি দুই বেডরুমের ছিমছাম বাড়িতে বাস করতেন মার্টিন আর কাই। খুব সাধারণ আর শান্তিপূর্ণ জীবন ছিল তাদের।

দুজনের রোমাঞ্চ ছিল তখন তুঙ্গে। এখানে-ওখানে ঘোরাঘুরি আর হৈ-হুল্লোড় ছাড়াও প্রতি সপ্তাহেই তারা লটারির টিকিট কিনতেন। সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখতেন। কিন্তু কে জানত, এই লটারির টিকিটেই রচিত হবে তাদের দুর্ভাগ্যের কাহিনি।

প্রতি সপ্তাহেই তারা একই নম্বরের টিকিট কিনতেন। আর মিলিয়েও দেখতেন সপ্তাহে সপ্তাহে। বলা যায়, মাত্র একটি সপ্তাহেই তারা তাদের টিকিট মিলিয়ে দেখেননি।

আশ্চর্যের ব্যাপার হলো যে সপ্তাহে তারা টিকিট মেলাননি, সেই সপ্তাহেই তারা জিতে গিয়েছিলেন ৩.১ মিলিয়ন পাউন্ডের লটারি! বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৩৬ কোটি টাকারও বেশি। ২০ বছর আগের হিসাবে এই অর্থের মূল্য আরও অনেকাংশেই বেড়ে যায়।

সেবার ড্রয়ের পর কেউ লটারি জয়ের দাবি না করায় কিছুটা অবাকই হয়েছিল যুক্তরাজ্যের জাতীয় লটারি সংস্থা ক্যামোলেট। দীর্ঘ ছয় মাস অপেক্ষার পর সংস্থাটির পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে একটি বিজ্ঞপ্তিও ছাপা হয়। যেখানে সেই সপ্তাহের লটারি বিজয়ীকে টিকিট দেখিয়ে প্রাপ্য অর্থ সংগ্রহ করতে বলা হয়।

এই বিজ্ঞপ্তি দেখেই চোখ কপালে উঠে যায়, মার্টিন ও কাই দম্পতির। তারা অবাক বিস্ময়ে দেখেন- এটি সেই নম্বর, যা তারা প্রতি সপ্তাহেই কিনছেন।

মার্টিন আর কাই ভাবলেন, মুহূর্তের মধ্যেই তাদের জীবন বদলে যেতে বসেছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের শুরু ছিল এখানেই। কারণ সারা বাড়ি তন্ন তন্ন করেও তারা তাদের সেই টিকিটটি আর খুঁজে পাননি। হয়তো বহু পুরোনো টিকিটের মতো এটিও কোথাও ফেলে দিয়েছিলেন।

কিন্তু জাতীয় লটারি সংস্থা তাদের একটি সুযোগ দেয় এবং বলে, যদি তারা প্রমাণ করতে পারেন যে, ওই নম্বরের টিকিটটিই কিনেছিলেন তবে তাদের পুরস্কারের অর্থ দেয়া হবে।

যেহেতু তারা একই নম্বরের টিকিট কিনতেন তাই লটারি কর্তৃপক্ষও বুঝতে পারে- টট দম্পতি সত্যি কথাই বলছেন। বিশেষ এই নম্বরটি ছিল মূলত টট দম্পতির জন্মতারিখ, বয়স, তাদের প্রথম দেখা হওয়া আর বাগদানের তারিখের সংখ্যাগুলো মিলিয়ে।

কিন্তু লটারি সংস্থা ছিল নিয়মে বাঁধা। সংস্থাটির শর্ত অনুযায়ী, কোনো বিজয়ী তার টিকিটটি হারিয়ে ফেললে তাকে অবশ্যই ৩০ দিনের মধ্যে কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। তাই ছয় মাস পার হয়ে যাওয়ায় বিজয়ীর হাতে অর্থ তুলে দেয়া তাদের পক্ষে আর সম্ভব ছিল না।

এদিকে টট দম্পতি যখন আইনি লড়াই করছিলেন, তখনও তারা নিশ্চিত ছিলেন যে লটারির টাকা তাদের হাতে আসতে চলেছে। তারা তাদের সঞ্চিত অর্থ উড়াতে শুরু করেছিলেন। এমনকি কয়েক দিনের জন্য এক বিলাসবহুল সফরে তারা ব্রিটিশ বিলিয়নিয়ার রিচার্ড ব্রেনসনের ব্যক্তিগত দ্বীপও ঘুরে আসেন। সেই সময় ব্রেনসন এমনকি তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারও টট দম্পতির পক্ষে কথা বলেছিলেন। কিন্তু এসবই শেষ পর্যন্ত বাজে খরচের খাতায় চলে যায়।

এমন দুর্ভাগ্যের স্মৃতি নিয়েই মার্টিন আর কাই প্রায় দুই দশক কাটিয়ে দিয়েছেন। বিচ্ছেদের মধ্য দিয়ে এবার শুরু হলো তাদের নতুন আরেক জীবন।

আরও পড়ুন:
বামে আগ্রহ হারাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের যুবারা
পশ্চিমবঙ্গে প্রথম সফল ফুসফুস প্রতিস্থাপন
পশ্চিমবঙ্গে ফের বাড়ল করোনার বিধিনিষেধ
করোনায় শিশুশ্রম বেড়েছে পশ্চিমবঙ্গে
‘মা’ আসলে কার

শেয়ার করুন

কেরালায় বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২১, নিখোঁজ বহু

কেরালায় বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২১, নিখোঁজ বহু

কেরালায় ভারী বর্ষণে ছয় জন প্রাণ হারায়। ছবি: ইন্ডিয়া টিভি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টুইটারে লিখেছেন, ‘এটা দুঃখজনক যে কেরালায় ভারী বৃষ্টি ও ভূমিধসের কারণে কিছু মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা। আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করার জন্য কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। আমি সবার নিরাপত্তা ও সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছি।’

ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কেরালায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ জনে। নিখোঁজ অনেকে।

উদ্ধারকাজে প্রশাসনকে সাহায্য করছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ)। ইতোমধ্যে মধ্য ও দক্ষিণ কেরালায় এনডিআরএফের ১১টি দল পাঠানো হয়েছে। রাজ্য সরকারের অনুরোধে উদ্ধারকাজে যোগ দিয়েছে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী।

চলতি সপ্তাহের শুরু থেকে কেরালায় অতিবৃষ্টি চলছে। একাধিক জায়গায় নেমেছে বাঁধভাঙা ঢল। পাঠানামথিত্তা, কোট্টায়াম, এর্নাকুলাম, ইদুক্কি, ত্রিচূর এবং পালাক্কাদ জেলাগুলোকে রেড অ্যালার্টে রাখা হয়েছে। এর বাইরে তিরুবনন্তপুরম, কোল্লাম, আলাপ্পুঝা, মালাপ্পুরাম, কোজিকোড আর ওয়াইনাদ জেলায় কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

কেরালার কিছু অংশে ভারি বৃষ্টির কারণে ইদুক্কি এবং কোট্টায়াম জেলায় কয়েকটি ভূমিধস হয়েছে।

আবহাওয়া বিভাগ ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি জারি থাকবে বলে আভাস দেয়া হয়েছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টুইট করে বন্যায় নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

তিনি লিখেছেন, ‘এটা দুঃখজনক যে কেরালায় ভারী বৃষ্টি ও ভূমিধসের কারণে কিছু মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা। আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করার জন্য কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। আমি সবার নিরাপত্তা ও সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছি।’

মোদি কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের সাথেও রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন।

ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ টুইটারে লিখেছেন, ‘ভারী বৃষ্টি ও বন্যার প্রেক্ষিতে আমরা কেরালার কিছু অংশের পরিস্থিতি ক্রমাগত পর্যবেক্ষণ করছি। অভাবী মানুষকে সাহায্য করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার সব ধরনের সহায়তা দেবে।’

কংগ্রেস নেতা ও কেরালার ওয়াইনাদ আসনের এমপি রাহুল গান্ধী টুইট করেছেন, ‘আমার প্রার্থনা কেরালার মানুষের সঙ্গে আছে। দয়া করে নিরাপদ থাকুন এবং সব সুরক্ষা সতর্কতা অনুসরণ করুন।’

আরও পড়ুন:
বামে আগ্রহ হারাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের যুবারা
পশ্চিমবঙ্গে প্রথম সফল ফুসফুস প্রতিস্থাপন
পশ্চিমবঙ্গে ফের বাড়ল করোনার বিধিনিষেধ
করোনায় শিশুশ্রম বেড়েছে পশ্চিমবঙ্গে
‘মা’ আসলে কার

শেয়ার করুন

ইয়েমেনে সৌদি জোটের বিমান হামলায় নিহত ১৬০

ইয়েমেনে সৌদি জোটের বিমান হামলায় নিহত ১৬০

ইয়েমেনের যুদ্ধক্ষেত্রে বিশ্ব সম্প্রদায়-সমর্থিত সরকারের প্রতি বিশ্বস্ত এক যোদ্ধা। ছবি: এএফপি

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মারিবের ১৩৯টি শরণার্থী শিবিরে ঠাঁই নিয়ে আছে প্রায় ২২ লাখ মানুষ। তাদের বেশির ভাগই দ্বিতীয়বার আশ্রয়হীন হওয়ার মুখে। বর্তমানে পুরো ইয়েমেনে বিশ্ব সম্প্রদায়-সমর্থিত সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা একমাত্র শহর আব্দিয়া, যা মারিব থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। রাজধানী সানাসহ দেশের বাকি প্রায় সব অঞ্চল হুতিদের নিয়ন্ত্রণে।

ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলায় প্রাণ গেছে কমপক্ষে ১৬০ জনের। নিহতদের সবাই হুতি বিদ্রোহী বলে জানিয়েছে সৌদি জোট।

আল-জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশ মারিবে বিমান হামলা চালিয়েছে জোট। প্রদেশটি দখলে হুতি বিদ্রোহীদের অগ্রগতি ঠেকাতে চালানো হয় এ হামলা।

জোটের শনিবারের বিবৃতির বরাত দিয়ে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসপিএ জানায়, ৩২ দফা বিমান হামলা হয়েছে। এসব হামলার মাধ্যমে ১১টি সামরিক যান ধ্বংস ও দেড় শতাধিক বিদ্রোহীকে হত্যা করা হয়েছে।

শিয়া হুতিদের পক্ষ থেকে হামলায় হতাহতদের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি এবং হতাহতের এ সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

মারিবে যুদ্ধ তীব্র রূপ নিতে থাকার মুখে গত সোমবার বিমান হামলা চালিয়ে সাত শতাধিক বিদ্রোহীকে হত্যার দাবি করে সৌদি জোট।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মারিব প্রদেশ দখলে বড় পরিসরে অভিযান শুরু করে হুতিরা। মাঝে সাময়িক ধীরগতির পর গত কয়েক সপ্তাহ ধরে নতুন করে অভিযান জোরদার করে তারা।

জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মারিব প্রদেশে সহিংসতায় গৃহহীন হয়েছে লাখো মানুষ। তাদের মধ্যে শুধু গত এক মাসে ভিটেমাটি হারিয়েছে ১০ হাজার মানুষ।

জাতিসংঘ চলতি সপ্তাহে আব্দিয়ায় সংঘর্ষ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। জেলাটিতে অবিলম্বে জরুরি সহায়তা প্রয়োজন- এমন প্রায় ৩৫ হাজার মানুষের কাছে সাহায্য পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। বিশেষ করে ইয়েমেনের অন্যান্য অঞ্চল থেকে আব্দিয়ায় আশ্রয় নেয়া ১৭ হাজার মানুষ ভয়াবহ বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মারিবের ১৩৯টি শরণার্থী শিবিরে ঠাঁই নিয়ে আছে প্রায় ২২ লাখ মানুষ। তাদের বেশির ভাগই দ্বিতীয়বার আশ্রয়হীন হওয়ার মুখে।

বর্তমানে পুরো ইয়েমেনে বিশ্ব সম্প্রদায়-সমর্থিত সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা একমাত্র শহর আব্দিয়া, যা মারিব থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। রাজধানী সানাসহ দেশের বাকি প্রায় সব অঞ্চল হুতিদের নিয়ন্ত্রণে।

আন্তর্জাতিক জোটের প্রতি বিশ্বস্ত এক সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, গত কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন অঞ্চলে হুতিরা কিছুটা পিছু হটছিল। কিন্তু চার সপ্তাহ ধরে আব্দিয়া ঘিরে রাখার পর জেলাটিতে এগোতে শুরু করে তারা।

ওই কর্মকর্তার দাবি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর প্রতি বিশ্বস্ত ইয়েমেনি আদিবাসী সদস্যদের অপহরণ, আটক ও নির্যাতন করছে হুতিরা।’

বিদ্রোহীদের অগ্রসর অব্যাহত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হুতিদের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাজনৈতিক বিশ্লেষক হোসেন আল-বুখাইতিও।

এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি সৌদি জোট। ইয়েমেনের তথ্যমন্ত্রী মুয়াম্মার আল-ইরিয়ানি হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে আবাসিক এলাকাগুলোতে হামলার অভিযোগ করেছেন।

২০১৪ সাল থেকে ইয়েমেনে চলমান গৃহযুদ্ধ ও সৌদি জোটের বিমান হামলায় নিহত হয়েছে লাখো মানুষ।

আরও পড়ুন:
বামে আগ্রহ হারাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের যুবারা
পশ্চিমবঙ্গে প্রথম সফল ফুসফুস প্রতিস্থাপন
পশ্চিমবঙ্গে ফের বাড়ল করোনার বিধিনিষেধ
করোনায় শিশুশ্রম বেড়েছে পশ্চিমবঙ্গে
‘মা’ আসলে কার

শেয়ার করুন