সাউথ কোরিয়ায় কুকুরের মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ

সাউথ কোরিয়ায় কুকুরের মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ

সাউথ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়-ইনের পালিত একটি কুকুর ব্লু হাউজে ২০১৮ সালে ছয়টি ছানা জন্ম দেয়। ছবি: এএফপি

সাউথ কোরিয়ার বর্তমান প্রাণি সুরক্ষা আইনে কুকুর ও বিড়াল জবাই নিষিদ্ধ থাকলেও এসব প্রাণির মাংস ভক্ষণ নিষিদ্ধ ছিল না। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে আগের আইনে বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞার পরিধি বাড়িয়ে মাংস খাওয়াও নিষিদ্ধ করলেন মুন।

সাউথ কোরিয়ায় কুকুরের মাংস খাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মুন জায়-ইন। তার কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

বার্তা সংস্থা এএফপির বরাত দিয়ে ফ্রান্স টোয়েন্টিফোরের প্রতিবেদনে বলা হয়, কুকুরের মাংস খাওয়ার চর্চা সাউথ কোরিয়ার ঐতিহ্যের অংশ। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিউল।

অনেক বছর ধরে সাউথ কোরিয়ান কুজিনের উল্লেখযোগ্য উপকরণ হয়ে রয়েছে কুকুরের মাংস। ধারণা করা হয়, দেশটিতে বছরে প্রায় ১০ লাখ কুকুরের মাংস খাওয়া হয়।

তবে সম্প্রতি মানুষের মধ্যে কুকুরকে গবাদিপশু হিসেবে বিবেচনা না করে সঙ্গী বা পোষ্য হিসেবে নেয়ার প্রবণতা বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সাউথ কোরিয়ায় কুকুরের মাংস খাওয়াও কমেছে।

বিশেষ করে সাউথ কোরিয়ায় তরুণ প্রজন্মের কাছে কুকুরের মাংসের জনপ্রিয়তা প্রায় নিষিদ্ধের পর্যায়ে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে পশু অধিকারকর্মীদের কাছ থেকেও কুকুরের মাংস নিষিদ্ধে চাপ বাড়ছিল।

প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র বলেছেন, “সাপ্তাহিক এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী কিম বু-কিউমকে মুন জায়-ইন প্রশ্ন করেছিলেন, ‘কুকুরের মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ করার বিষয়টি ভালোভাবে বিবেচনা করে দেখার সময় কি এখনও আসেনি।’

সাউথ কোরিয়ায় পোষ্য প্রাণির বাজার দিন দিন সম্প্রসারিত হচ্ছে। ঘরে কুকুর পালন করা মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে দেশটিতে। প্রেসিডেন্ট মুন জায়-ইনও তাদের মধ্যে একজন।

কুকুরপ্রেমী হিসেবে পরিচিত মুনের প্রেসিডেনসিয়াল বাসভবনে বেশ কয়েকটি কুকুর আছে। এদের মধ্যে অন্যতম মিশ্র প্রজাতির একটি কুকুর, যেটিকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণের পর মুন নিজেই প্রাণিদের একটি আশ্রয়কেন্দ্র থেকে উদ্ধার করেছিলেন।

সাউথ কোরিয়ায় কুকুরের মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ
টোরি নামের ৪ বছর বয়সী মিশ্র প্রজাতির কুকুরটিকে ২০১৭ সালে একটি প্রাণি আশ্রয়কেন্দ্র থেকে দত্তক নেন মুন জায়-ইন। ছবি: দ্য কোরিয়া হেরাল্ড

নির্বাচনে জিতলে টোরি নামের কুকুরটিকে দত্তক নেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মুন। এভাবেই ২০১৭ সালে সাউথ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের বাসভবন ও কার্যালয় ব্লু হাউজের পথ খুলে যায় টোরির জন্য।

প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র আরও জানান, ছিন্নমূল পশুদের আশ্রয়ের ব্যবস্থার উন্নয়নের পরিকল্পনা করছেন মুন। এরই অংশ হিসেবে কুকুরের মাংস খাওয়ার নিষিদ্ধের পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি।

সাউথ কোরিয়ার বর্তমান প্রাণি সুরক্ষা আইনে কুকুর ও বিড়াল জবাই নিষিদ্ধ থাকলেও এসব প্রাণির মাংস ভক্ষণ নিষিদ্ধ ছিল না। তাই আগের আইনে বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞার পরিধি বাড়িয়ে মাংস খাওয়াও নিষিদ্ধ করলেন মুন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মাউরি নারী হলেন নিউজিল্যান্ডের গভর্নর জেনারেল

মাউরি নারী হলেন নিউজিল্যান্ডের গভর্নর জেনারেল

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্নের (ডানে) সঙ্গে সদ্যনিযুক্ত গভর্নর-জেনারেল ডেইম সিন্ডি কিরো। ছবি: আরারাত এডভারটাইজার

‘নিউজিল্যান্ডকে যারা নিজেদের বাসভূমির মতো গড়ে তুলেছেন এবং তাদের কারণে দেশে বিভিন্ন বৈচিত্র্য ও ধর্মের মানুষের মিলন ঘটেছে, তাদের সঙ্গে আমি আজকের আনন্দ উদযাপন করতে চাই।’

নিউজিল্যান্ডের গভর্নর জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন দেশটির আদিবাসী মাওরি সম্প্রদায়ের নারী ডেইম সিন্ডি কিরো। এই প্রথম ওই সম্পদ্রায়ের কোনো নারী নিউজিল্যান্ডের গভর্নর জেনারেল হলেন।

নিউজিল্যান্ডের রাজধানী ওয়েলিংটনে পার্লামেন্ট ভবনে বৃহস্পতিবার শপথ নেন কিরো। সেখানে অভিবাসী ও প্রান্তিক মানুষের জন্য কাজ করার অঙ্গীকার করেন তিনি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

শপথ অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের উদ্দেশে কিরো বলেন, ‘মাউরি ও ব্রিটিশ পরিবারে জন্ম হওয়ায় গর্ব বোধ করি। আদিবাসী জনগোষ্ঠী যদি মূল ধারার রাজনীতির সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত বোধ করে, তাহলে তাদের মধ্যে সহনশীলতা আরও বাড়বে।’

তিনি বলেন, ‘নতুন অভিবাসী ও সাবেক শরণার্থীদের সঙ্গে আমি যোগাযোগ করব।

‘নিউজিল্যান্ডকে যারা নিজেদের বাসভূমির মতো গড়ে তুলেছেন এবং তাদের কারণে দেশে বিভিন্ন বৈচিত্র্য ও ধর্মের মানুষের মিলন ঘটেছে, তাদের সঙ্গে আমি আজকের আনন্দ উদযাপন করতে চাই।’

নিউজিল্যান্ড একসময় ব্রিটিশ কলোনি ছিল। স্বাধীনতার পর ব্রিটিশ রানির হয়ে সাংবিধানিকসহ অন্যান্য দায়িত্ব পালন করেন নিউজিল্যান্ডের গভর্নর জেনারেল। যুক্তরাজ্যের রানি নিউজিল্যান্ডের আনুষ্ঠানিক হেড অফ স্টেট।

নিউজিল্যান্ডের জনসংখ্যার প্রায় ১৭ শতাংশ মাউরি সম্প্রদায়ের। সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে এখনো সুবিধাবঞ্চিত এই সম্প্রদায়ের মানুষ।

২০১৯ সালে নিউজিল্যান্ডের বিভিন্ন শহরে সামাজিক ন্যায়বিচার ও ভূমি অধিকারের দাবিতে বিক্ষোভ করে হাজার হাজার মাউরি।

নিউজিল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অফ অকল্যান্ড থেকে সামাজিক নীতি বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রি পান কিরো। এ ছাড়া মাসি ইউনিভার্সিটি থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে এমবিএ করেন তিনি। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কিরোই প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি অর্জন করেন।

শপথ অনুষ্ঠানে গভর্নর জেনারেল পদে কিরোর নিয়োগকে স্বাগত জানিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন।

আরডার্ন বলেন, ‘আমার জানা মতে, এ পদে কিরোই প্রথম মাউরি নারী। এ সিদ্ধান্ত দেশের অনেক জনগোষ্ঠীকে উৎসাহিত করবে।’

গত বছর দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর পার্লামেন্টে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নারীসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষকে এনে জড়ো করেন আরডার্ন। এত বৈচিত্র্যপূর্ণ পার্লামেন্ট এর আগে নিউজিল্যান্ডে দেখা যায়নি।

শেয়ার করুন

টিকার অভাবে আগামী বছরও থাকবে করোনা

টিকার অভাবে আগামী বছরও থাকবে করোনা

টিকার বণ্টন সুষম না হওয়ায় আগামী বছরও করোনা থাকবে বলে জানায় ডব্লিউএইচও। ছবি: এএফপি

আরও টিকা মজুত করা থেকে বিরত থাকতে ধনী দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ডব্লিউএইচও কর্মকর্তা আইলওয়ার্ড। তার ভাষ্য, এতে করে সর্বনিম্ন আয়ের দেশগুলোকে টিকা দেয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিতে সক্ষম হবে ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলো।

দরিদ্র দেশগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা না পাওয়ায় আগামী বছরেও ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব থাকবে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

ডব্লিউএইচওর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ড. ব্রুস আইলওয়ার্ডের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, টিকার বণ্টন সুষম না হওয়ায় আরও এক বছর অর্থাৎ আগামী বছরও করোনা মহামারি থেকে মুক্তি মিলবে না মানুষের।

বিবিসি জানিয়েছে, আফ্রিকা মহাদেশের পাঁচ শতাংশেরও কম জনগোষ্ঠী টিকা পেয়েছে। আফ্রিকা ছাড়া অন্যান্য বেশির ভাগ মহাদেশের ৪০ শতাংশ মানুষ টিকার আওতায় এসেছে।

এখন পর্যন্ত এক কোটির বেশি করোনা টিকা বিভিন্ন দেশকে পাঠিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। ১০ কোটি টিকা বিভিন্ন দেশে সরবরাহের অঙ্গীকার করেছিল দেশটি।

আরও টিকা মজুত করা থেকে বিরত থাকতে ধনী দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ডব্লিউএইচও কর্মকর্তা আইলওয়ার্ড। তার ভাষ্য, এতে করে সর্বনিম্ন আয়ের দেশগুলোকে টিকা দেয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিতে সক্ষম হবে ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলো।

চলতি বছরে যুক্তরাজ্যের সেন্ট আইভস শহরে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে দরিদ্র দেশগুলোকে টিকাদানের অঙ্গীকার করেছিল বিশ্বের ধনী দেশগুলো।

জি-৭ ভুক্ত দেশগুলোর উদ্দেশে আইলওয়ার্ড বলেন, ‘দরিদ্র দেশগুলোতে আপনাদের টিকা সরবরাহের গতি আরও বাড়াতে হবে। নয়তো অহেতুক আগামী বছরেও করোনা মহামারি দেখবে বিশ্ব।’

দাতব্য সংস্থা পিপলস ভ্যাক্সিনের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের বড় ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি ও ধনী দেশগুলো এখন পর্যন্ত করোনার সাতটি ডোজের মধ্যে মাত্র একটি ডোজ দরিদ্র দেশগুলোতে পাঠিয়েছে।

করোনা টিকার বড় অংশই উচ্চ বা উচ্চ-মধ্য আয়ের দেশগুলো পেয়েছে।

অক্সফাম, ইউএনএআইডিসহ বিশ্বের অন্যান্য দাতব্য সংস্থা কানাডা ও যুক্তরাজ্যের সমালোচনা করে বলেছে, করোনার টিকা বণ্টনের বৈশ্বিক উদ্যোগ কোভ্যাক্সের মাধ্যমে ওই দুটি দেশ শুধু নিজেদের জনগোষ্ঠীর জন্যই পর্যাপ্ত পরিমাণে টিকা মজুত করেছে। বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোর কথা তারা ভাবেনি।

বিভিন্ন পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের শুরুতে কোভ্যাক্সের মাধ্যমে যুক্তরাজ্য ফাইজারের ৫ লাখ ৩৯ হাজার ৩৭০ ডোজ পেয়েছে। অন্যদিকে কানাডা পেয়েছে অ্যাস্ট্রাজেনেকার ১০ লাখ ডোজ।

ধনী-গরিব মিলে বিশ্বের সব দেশ যাতে করোনা টিকার সমান ভাগ পায় এবং টিকা পেতে কোনো ধরনের বৈষম্য যেন না হয়, সেই লক্ষ্যে জাতিসংঘের উদ্যোগে কোভ্যাক্স গঠন করা হয়েছিল।

শেয়ার করুন

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গচ্ছিত ৯০০ কোটি ডলার পাবে না তালেবান

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গচ্ছিত ৯০০ কোটি ডলার পাবে না তালেবান

কাবুলে ত্রাণের খাবার গ্রহণের সময় আফগান শরণার্থীদের ভিড়। ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে গত আগস্টে দ্বিতীয় দফায় আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান। দেশটির সরকার হিসেবে বিশ্ব সম্প্রদায়ের স্বীকৃতি পায়নি গোষ্ঠীটি।

আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গচ্ছিত ৯০০ কোটি ডলারের বেশি অর্থে প্রবেশাধিকার পাবে না শাসকদল তালেবান। ক্ষমতাচ্যুত বেসামরিক সরকারের আমলে আফগান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রির্জাভের বেশিরভাগ অর্থই আটকে আছে যুক্তরাষ্ট্রে।

টার্কিশ রেডিও অ্যান্ড টেলিভিশনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, আফগানিস্তানে অর্থনৈতিক সংকট আরও গভীর হতে থাকার মধ্যেই দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গচ্ছিত অর্থ আটকে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াশিংটন।

যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে গত আগস্টে দ্বিতীয় দফায় আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান। দেশটির সরকার হিসেবে বিশ্ব সম্প্রদায়ের স্বীকৃতি পায়নি গোষ্ঠীটি।

যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটের ব্যাংকিং কমিটিকে মঙ্গলবার আমেরিকার অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়ালি অ্যাডেইমো বলেন, ‘তালেবানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ বলে আমরা বিশ্বাস করি। তবে একই সঙ্গে বৈধভাবে কীভাবে অসহায় আফগানদের কাছে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো যায়, সে পথও খুঁজে বের করতে হবে। সে পথই এখন আমরা খুঁজছি।’

আফগানিস্তানের বাইরে বিভিন্ন দেশে আফগান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গচ্ছিত ৯০০ কোটি ডলারের ওপর থেকে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে তালেবান।

দেশটিতে গুরুতর অর্থনৈতিক ও মানবিক সংকটের মুখে বিষয়টি নিয়ে দ্বিধায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো।

এ অবস্থায় মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে স্বীকৃতি দেয়া ছাড়াই কীভাবে তালেবানের সঙ্গে কূটনীতি চালু করা যায়, সে বিষয়ে কাজ করছে বিশ্ব সম্প্রদায়।

শেয়ার করুন

মানুষের দেহে শূকরের কিডনির সফল প্রতিস্থাপন

মানুষের দেহে শূকরের কিডনির সফল প্রতিস্থাপন

নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালে ৫৪ ঘণ্টার অস্ত্রোপচার শেষে মানবদেহে শূকরের কিডনি প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। ছবি: রয়টার্স

কিডনি কতটা কার্যক্ষম, তা পরিমাপ করা হয় মানবদেহে ক্রিয়েটিনিন নামক এক ধরনের রাসায়নিকের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে। ক্রিয়েটিনিনের অস্বাভাবিক উপস্থিতির অর্থ হলো- কিডনি ঠিকভাবে কাজ করছে না। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শূকরের কিডনি গ্রহণের আগে রোগীর দেহে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা অস্বাভাবিক ছিল, নতুন কিডনি গ্রহণের পর যা স্বাভাবিক হয়েছে।

প্রথমবারের মতো কোনো মানুষের দেহে একটি শূকরের কিডনি বা বৃক্ক সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটি যুগান্তকারী সাফল্য বলে মনে করা হচ্ছে।

কিডনি প্রতিস্থাপনের পর গ্রহীতার দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তাৎক্ষণিকভাবে সেটি প্রত্যাখ্যান করেনি। অর্থাৎ কোনো ধরনের নেতিবাচক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরি হয়নি রোগীর দেহে।

আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে মানবদেহে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের প্রযুক্তি বিদ্যমান হলেও প্রতিস্থাপনযোগ্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের পর্যাপ্ততা নেই। ফলে মানুষের দেহ শূকরের কিডনি গ্রহণ করলে তা প্রতিস্থাপনযোগ্য অঙ্গের ঘাটতি মেটাতে সাহায্য করবে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোন হেলথে ৫৪ ঘণ্টার অস্ত্রোপচার শেষে কিডনি প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছে।

প্রতিস্থাপিত কিডনিটি যেন রোগীর দেহ প্রত্যাখ্যান না করে, তা নিশ্চিতে জিন পরিবর্তিত একটি শূকরকে ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে ওই কিডনির ট্যিসুতে তাৎক্ষণিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টিকারী ক্ষুদ্র জীবাণুর উপস্থিতি ছিল না।

শূকরের কিডনিগ্রহীতা একজন ‘ব্রেন-ডেড’ রোগী, অর্থাৎ যার মস্তিষ্ক কার্যক্ষমতা হারিয়েছে। তিনি একজন নারী, ছিলেন লাইফ সাপোর্টে। সম্প্রতি তার কিডনিও বিকল হতে বসে।

গবেষকরা জানান, লাইফ সাপোর্ট খুলে নেয়ার আগে ওই নারীর দেহে পরীক্ষামূলকভাবে শূকরের কিডনি প্রতিস্থাপনের অনুমতি দেয় তার পরিবার।

প্রধান গবেষক ও অঙ্গ প্রতিস্থাপনকারী চিকিৎসক ড. রবার্ট মন্টোগোমারি জানান, টানা তিনদিন দেহের বাইরেই রোগীর রক্তনালীর সঙ্গে যুক্ত ছিল নতুন কিডনিটি। এ সময়ে কোনোরকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি এবং বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা কিডনির কার্যকারিতাও দৃশ্যত স্বাভাবিক ছিল। ফলে এরপর কিডনিটি ওই নারীর দেহে প্রবেশ করানোর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।

সদ্য কিডনি প্রতিস্থাপিত একজন মানুষের দেহে যতটুকু মূত্র তৈরি হয়, নতুন কিডনি সে প্রত্যাশার সঙ্গে মিল রেখেই কাজ করেছে।

কিডনি কতটা কার্যক্ষম, তা পরিমাপ করা হয় মানবদেহে ক্রিয়েটিনিন নামক এক ধরনের রাসায়নিকের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে। ক্রিয়েটিনিনের অস্বাভাবিক উপস্থিতির অর্থ হলো- কিডনি ঠিকভাবে কাজ করছে না।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শূকরের কিডনি গ্রহণের আগে রোগীর দেহে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা অস্বাভাবিক ছিল, নতুন কিডনি গ্রহণের পর যা স্বাভাবিক হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের অপেক্ষায় আছেন এক লাখ সাত হাজার মানুষ। এদের মধ্যে ৯০ হাজারের বেশি মানুষের দরকার কিডনি।

সংশ্লিষ্ট সংস্থা ইউনাইটেড নেটওয়ার্ক ফর অরগ্যান শেয়ারিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিস্থাপনযোগ্য কিডনির খোঁজ পেতে একেকজন রোগীকে গড়ে তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।

মানুষের দেহে অন্য প্রাণির অঙ্গ প্রতিস্থাপনের সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা চলছে কয়েক দশক ধরে। কিন্তু প্রতিবারই মানবদেহ অন্য প্রাণির অঙ্গ প্রত্যাখ্যান করেছে, অর্থাৎ গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।

শেয়ার করুন

রকেটে ওঠার অপেক্ষায় নাসার নতুন চন্দ্রযান

রকেটে ওঠার অপেক্ষায় নাসার নতুন চন্দ্রযান

কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই নভোযান ওরিয়নকে রকেটের সঙ্গে যুক্ত করার কাজ সম্পন্ন হবে। ছবি: নাসা

চন্দ্রজয় অভিযান অ্যাপোলোর পর নতুন এ প্রকল্পের নাম দেয়া হয়েছে আর্টিমিজ। বলা হচ্ছে, আর্টিমিজ সফল হলে পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহ চাঁদে মানুষের এবারের উপস্থিতি হবে বেশ দীর্ঘমেয়াদী।

চন্দ্রজয়ের নতুন অভিযানের জন্য প্রস্তুত ওরিয়ন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার পরবর্তী প্রজন্মের এই মহাকাশযানটি এখন কেবল একটি রকেটের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার অপেক্ষায়।

সব ঠিক থাকলে রকেটে যুক্ত হওয়ার পর ২০২২ সালের শুরুতেই চাঁদের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবে ওরিয়ন।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারে এক ভবন থেকে অন্য ভবনে সোমবার স্থানান্তর করা হয়েছে ওরিয়নকে। সেখানে পরবর্তী ধাপে শক্তিশালী স্পেস লঞ্চ সিস্টেম (এসএলএস) রকেটে তোলা হবে ওরিয়নকে।

এর আগে আরেকটি ভবনে ছিল ওরিয়ন। সেখানে ওরিয়নের সঙ্গে মহাকাশযানের লঞ্চ অ্যাবর্ট সিস্টেম (এলএএস) যুক্ত করেন প্রকৌশলীরা। এ ব্যবস্থার মাধ্যমেই মহাকাশে গন্তব্যে পৌঁছানোর পর রকেট থেকে আলাদা হবে ওরিয়ন।

মূলত রকেট থেকে মহাকাশযানকে সামনের দিকে ঠেলে দিতে এবং মানব অভিযানের ক্ষেত্রে জরুরি পরিস্থিতিতে রকেট থেকে নভোচারীদের দূরে সরাতে এলএএস ব্যবহার করা হয়।

চাঁদের কক্ষপথের উদ্দেশ্যে ওরিয়নের প্রথম ফ্লাইটটি হবে মানববিহীন। ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদের বুকে মানুষ পাঠানোর যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার অংশ এটি।

চন্দ্রজয় অভিযান অ্যাপোলোর পর নতুন এ প্রকল্পের নাম দেয়া হয়েছে আর্টিমিজ। বলা হচ্ছে, আর্টিমিজ সফল হলে পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহ চাঁদে মানুষের এবারের উপস্থিতি হবে বেশ দীর্ঘমেয়াদী।

আর্টিমিজ-১ মিশনে ব্যবহার্য ওরিয়নের বর্তমান ঠিকানা কেনেডি স্পেস সেন্টারের বিখ্যাত ভেহিকল অ্যাসেম্বলি বিল্ডিং বা ভিএবি ভবন। এই ভবনটি মহাকাশযানের বিভিন্ন অংশ একটি আরেকটির সঙ্গে জোড়া লাগানো হয়।

৩২২ ফুট লম্বা এসএলএস লঞ্চারে যুক্ত হতে যাওয়া শেষ গুরুত্বপূর্ণ অংশ ওরিয়ন। ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে ভিএবিতে ওরিয়নকে আনার জন্য কাজ করছিলেন প্রকৌশলীরা।

আর্টিমিজ-১ মিশনের ব্যাপ্তি হবে তিন সপ্তাহ। এর মাধ্যমে নভোচারী পাঠানোর আগে এসএলএস ও ওরিয়নের ক্ষমতা পরীক্ষা করে দেখা হবে। এ পরীক্ষা সফল হলে ২০২৩ সালে আর্টিমিজ-২ মিশনে চাঁদ প্রদক্ষিণে পাঠানো হবে মানুষ।

আর্টিমিজ-৩ মিশনে চাঁদের বুকে ফের পা রাখবে নভোচারীরা। ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো ১৭ অভিযানে প্রথম ও শেষবার চাঁদে পা রেখেছিল মানুষ।

মানুষকে চাঁদের কক্ষপথ থেকে পৃথিবীপৃষ্ঠে ফিরিয়ে আনবে স্টারশিপ নামের একটি যান। স্টারশিপ নির্মাণে আমেরিকান ধনকুবের ইলন মাস্কের মহাকাশযান নির্মাণ ও মহাকাশযাত্রা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সকে চূড়ান্ত করেছে নাসা।

সব ঠিক থাকলে চাঁদে দ্বিতীয়বার মানুষের পা পড়তে পারে ২০২৪ সালে। যদিও অধিকাংশ পর্যবেক্ষকের মতে, এ তারিখ আরও পেছাবে।

এ অভিযানে ব্যবহার্য মহাকাশযান ওরিয়নের ধাতব কাঠামোটিও চলতি মাসে কেনেডি স্পেস সেন্টারে পৌঁছেছে।

আর্টিমিজ-৩ মিশন সফল হলে চাঁদের বুকে হাঁটবেন প্রথম নারী নভোচারী। তার সঙ্গে থাকবেন আরেকজন পুরুষ নভোচারী।

আর্টিমিজের মাধ্যমে প্রথম অশ্বেতাঙ্গ ব্যক্তি পা রাখবেন চাঁদে।

শেয়ার করুন

প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হবেন ইলন মাস্ক

প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হবেন ইলন মাস্ক

বিশ্বের শীর্ষ ধনী হওয়ার পরও নতুন নতুন রেকর্ড গড়ে চলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ধনকুবের ইলন মাস্ক। ছবি: এএফপি

মরগ্যান স্ট্যানলির গবেষক ও বিশ্লেষক অ্যাডাম জোনাস মঙ্গলবার এক নোটে লিখেন, ‘মহাকাশযান নির্মাণ, উৎক্ষেপণ ও সহায়ক অবকাঠামোর প্রশ্নে সম্ভাবনা আর সম্ভাব্য সময় নিয়ে বর্তমান মানবজাতির যত পূর্বধারণা রয়েছে, তার সবগুলোকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে স্পেসএক্স। যে দ্রুততায় স্পেসএক্স এসব অসম্ভবকে সম্ভব করছে, সে গতি ছোঁয়ার সাধ্য কার আছে?’

চলতি বছরের শুরুতেই বিশ্বের শীর্ষ ধনীর তালিকায় প্রথম স্থান দখল করেন ইলন মাস্ক।

সম্পত্তির পরিমাণ অবিশ্বাস্য দ্রুততায় বাড়তে থাকায় পৃথিবীর প্রথম ট্রিলিয়নিয়ারও হতে পারেন স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক ও আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান মরগ্যান স্ট্যানলি দিয়েছে এমন আভাস।

মরগ্যান স্ট্যানলির বরাত দিয়ে ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে জানানো হয়, মহাকাশযান নির্মাতা ও মহাকাশযাত্রা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের কল্যাণে নজিরবিহীন সাফল্য পেতে পারেন মাস্ক।

পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ও বিদ্যুৎচালিত গাড়িনির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার অপ্রত্যাশিত ঊর্ধ্বগতি মাস্ককে বিশ্বের শীর্ষ ধনী করেছে।

মরগ্যান স্ট্যানলির হিসাব অনুযায়ী, স্পেসএক্সের কল্যাণে বিশ্বের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে মাস্কের মালিকানাধীন সম্পত্তির আর্থিক মূল্যমান ১৩ ডিজিটে পৌঁছাবে।

প্রথমবারের মতো মহাকাশকেন্দ্রিক পর্যটন ও বেসরকারিভাবে মহাকাশ ভ্রমণের সেবা দিয়ে রেকর্ড গড়েছে স্পেসএক্স।

মরগ্যান স্ট্যানলির গবেষক ও বিশ্লেষক অ্যাডাম জোনাস মঙ্গলবার এক নোটে লিখেন, ‘মহাকাশযান নির্মাণ, উৎক্ষেপণ ও সহায়ক অবকাঠামোর প্রশ্নে সম্ভাবনা আর সম্ভাব্য সময় নিয়ে বর্তমান মানবজাতির যত পূর্বধারণা রয়েছে, তার সবগুলোকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে স্পেসএক্স।

‘যে দ্রুততায় স্পেসএক্স এসব অসম্ভবকে সম্ভব করছে, সে গতি ছোঁয়ার সাধ্য কার আছে?’

ব্লুমবার্গের বিলিয়নিয়ার সূচক অনুযায়ী, বর্তমানে মাস্কের সম্পত্তির মূল্য ২৪ হাজার ১০০ কোটি ডলার। এই অর্থের প্রায় ১৭ শতাংশ আসে স্পেসএক্স থেকে।

জোনাস লিখেন, এক স্পেসএক্স আসলে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সমাহার। এটি মহাকাশে অবকাঠামো নির্মাণ, পৃথিবী প্রদক্ষিণ, মহাবিশ্বের অচেনা অঞ্চলে ভ্রমণসহ অসংখ্য সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। এর কল্যাণে তালিকায় যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন খাত।

জোনাসের মতে, স্যাটেলাইটভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবসা স্টারলিংক বর্তমানে স্পেসএক্সের সবচেয়ে বড় প্রকল্প।

টেসলা পুঁজিবাজারে আগের চেয়েও বেশি শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছে যাওয়ায় চলতি বছর মাস্কের ঝুলিতে যোগ হয় ছয় হাজার কোটি ডলারের বেশি সম্পত্তি। আর সম্প্রতি স্পেসএক্সের কিছু শেয়ার বিক্রি করেন তিনি, যার মূল্য ১০ হাজার কোটি ডলার।

ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার সঙ্গে সাম্প্রতিক চুক্তির মাধ্যমে আরও এক হাজার ১০০ কোটি ডলার যুক্ত হয়েছে স্পেসএক্সের ঝুলিতে।

বিশ্বের শীর্ষ ধনী হয়েও অগ্রযাত্রায় থেমে যাননি ইলন মাস্ক। চলতি সপ্তাহেই নতুন একটি রেকর্ড গড়েন তিনি।

বিশ্বের শীর্ষ ১০ ধনকুবেরের তালিকায় থাকা উল্লেখযোগ্য দুই ব্যক্তি বিল গেটস ও ওয়ারেন বাফেটের সম্পত্তির সমপরিমাণ ঝুলিতে পুরেন মাস্ক একাই।

শীর্ষ ধনীর তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে থাকা মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা গেটসের সম্পত্তির মূল্য ১৩ হাজার কোটি ডলার। দশম অবস্থানে থাকা বার্কশায়ার হ্যাথওয়ের প্রধান নির্বাহী বাফেটের আছে ১০ হাজার কোটি ডলারের সম্পত্তি। দুটির যোগফলকেও ছাড়িয়ে গেছে মাস্কের সম্পত্তি।

২০১৭ সাল থেকে বিশ্বের শীর্ষ ধনীর অবস্থানটি ধরে রেখেছিলেন সর্ববৃহৎ অনলাইন মার্কেটপ্লেস অ্যামাজনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেফ বেজোস। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বেজোসকে ছাড়িয়ে শীর্ষ ধনী হন মাস্ক।

বর্তমানে শীর্ষ ধনীর তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বেজোসের সম্পত্তির পরিমাণ ১৯ হাজার কোটি ডলারের বেশি। অর্থাৎ সম্পত্তির দিক থেকে মাস্কের ধারেকাছেও নেই বেজোস, গেটস বা বাফেট।

শেয়ার করুন

দামেস্কে সামরিক বাসে বোমা হামলা, নিহত ১৪

দামেস্কে সামরিক বাসে বোমা হামলা, নিহত ১৪

বাসে হামলার পর ইদলিবে সিরীয় সেনাবাহিনীর গোলাবর্ষণে প্রাণ যায় কয়েকজন স্কুলপড়ুয়া শিশুর। ছবি: এএফপি

বুধবারের হামলার দায় এখনও কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি। তবে সন্দেহের তির আইএসের দিকেই। চলতি বছর সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলে সামরিক যানে হামলা চালিয়েছে গোষ্ঠীটি।

সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের মধ্যাঞ্চলে একটি সামরিক বাসে বোমা হামলা হয়েছে। এতে প্রাণ গেছে কমপক্ষে ১৪ জনের।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক পর্যবেক্ষক সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, প্রাণহানি আরও বাড়তে পারে। কারণ আহতদের অনেকেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।

আল-জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, সিরিয়া প্রায় এক দশকের গৃহযুদ্ধে জর্জরিত হলেও দেশটির রাজধানীতে এ ধরনের হামলা বিরল।

সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানা জানিয়েছে, বুধবার স্থানীয় সময় ভোরে জিসর্ আল-রাইস সেতুর নিচ দিয়ে যাওয়ার পরপরই হামলার শিকার হয় বাসটি। দুটি বোমা বিস্ফোরিত হয় তখন।

২০১৭ সালের মার্চের পর দামেস্কে বুধবারের হামলা সবচেয়ে প্রাণঘাতী ছিল। সাড়ে চার বছর আগের ওই হামলায় নিহত হয়েছিল ৩১ জন। ওই হামলার দায় স্বীকার করেছিল জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)।

বুধবারের হামলার দায় এখনও কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি। তবে সন্দেহের তির আইএসের দিকেই। চলতি বছর সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলে সামরিক যানে হামলা চালিয়েছে গোষ্ঠীটি।

ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, বোমা বিস্ফোরণে পুড়ে ছাই ও দুমড়েমুচড়ে যাওয়া বাসটির জানালা দিয়ে ধোঁয়া বের হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন।

সানা জানিয়েছে, সেতুতে পুঁতে রাখা তৃতীয় একটি বোমার সন্ধান মিলেছে। সেটি নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।

এদিকে বাসে বোমা বিস্ফোরণের কিছুক্ষণ পরই বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে গোলাবর্ষণ করেছে সিরীয় সেনাবাহিনী। এতে নিহত হয়েছে কমপক্ষে আটজন।

এসওএইচআর জানিয়েছে, ইদলিব প্রদেশের আরিহা শহরে এ হামলায় নিহতদের মধ্যে কয়েকজন স্কুলপড়ুয়া শিশুও আছে।

সিরিয়ায় বিদ্রোহী ও জিহাদি গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে থাকা শেষ অঞ্চল ইদলিব। ২০১১ সাল থেকে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতা থেকে উৎখাতের চেষ্টা করে আসছে গোষ্ঠীগুলো।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ১০ বছরের গৃহযুদ্ধে দেশটিতে প্রাণ গেছে সাড়ে তিন লাখ মানুষের। মোট জনগোষ্ঠীর অর্ধেকই সহিংসতায় গৃহহীন। শরণার্থীদের প্রায় ৬০ লাখ বিভিন্ন দেশে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

শেয়ার করুন