কৃষকদের ‘ভারত বনধ্’, অচল দিল্লি সীমান্ত

কৃষকদের ‘ভারত বনধ্’, অচল দিল্লি সীমান্ত

কৃষকদের ‘ভারত বনধ্’ কর্মসূচির ফলে গুরগাওঁ ও নয়ডার সঙ্গে দিল্লি সীমান্তে তৈরি হয় বিশাল যানজট। ছবি: এনডিটিভি

তিন কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে গত বছরের নভেম্বর থেকে চলছে কৃষকদের আন্দোলন। টানা ১০ মাস বাড়ি ফেরেননি বিক্ষোভরত লাখো কৃষক। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘতম সময় ধরে চলা বিক্ষোভ এটি।

১০ মাস পর নতুন গতি পেল ভারতের কৃষক আন্দোলন। বিতর্কিত তিন কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে সোমবার ভোর থেকে শুরু হয় ‘ভারত বনধ্’ কর্মসূচি। পাঞ্জাব ও হরিয়ানার হাজারো কৃষকের অবস্থান ধর্মঘটে অচল রাজধানী দিল্লির সীমান্ত। বাতিল হয়েছে বেশ কয়েকটি ট্রেন।

পার্লামেন্টে আইন তিনটি অনুমোদন পাওয়ার এক বছর পূর্ণ হওয়ার দিনে ‘ভারত বনধ’ বা দেশজুড়ে ধর্মঘটের ডাক দেয় সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা (এসকেএম)। ৪০টি কৃষক ইউনিয়নের জোট এসকেএমের ডাকে বেশ কয়েকটি জাতীয় মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেন আন্দোলনরত কৃষকরা।

এসকেএম জানায়, কর্মসূচির আওতায় বন্ধ থাকবে সারা ভারতের স্কুল, কলেজ, সরকারি, বেসরকারি অফিস-আদালত ও অন্যান্য কর্মক্ষেত্র, দোকানপাট, কলকারখানা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানসহ সবকিছু। কেবল জরুরি সেবা চালু রাখতে দেয়া হবে বলে জানায় জোটটি।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় ভোর ছয়টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত হয় এ বিক্ষোভ। গাজিপুরের আন্দোলনস্থলের কাছে দিল্লি-মিরাট এক্সপ্রেসওয়ে বন্ধ করে দেন বিক্ষুব্ধ কৃষকরা। এতে উত্তর প্রদেশ থেকে বের হওয়া যানবাহন মাঝপথেই আটকা পড়ে। গুরগাওঁ ও নয়ডার সঙ্গে দিল্লি সীমান্তে তৈরি হয় বিশাল যানজট।

রাজধানীতে প্রবেশের পথে সব যানবাহনে দিল্লি পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যরা তল্লাশি করায় যানজট আরও দীর্ঘ হয়। বন্ধ ছিল পাঞ্জাব ও হরিয়ানার শম্ভু সীমান্তও।

প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসসহ অনেকগুলো রাজনৈতিক দল ও বেশ কয়েকটি রাজ্য সরকারও কৃষকদের এ আন্দোলনে সমর্থন জানিয়েছে।

কংগ্রেস দলটির প্রত্যেক কর্মী, রাজ্য শাখার প্রধান ও অন্যান্য নেতাদের ভারত বনধ্-এ যোগ দেয়ার আহ্বান জানায়।

পাঞ্জাব কংগ্রেসের প্রধান নভজ্যোৎ সিং সিধু দলীয় কর্মীদের বিক্ষোভরত কৃষকদের সঙ্গে থাকার আহ্বান জানান।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে তিনি লেখেন, ‘ন্যায় ও অন্যায়ের লড়াইয়ে নিরপেক্ষ থাকার সুযোগ নেই। তিনটি অসাংবিধানিক কালো আইনের বিরুদ্ধে সর্বশক্তি নিয়ে লড়াই করতে কংগ্রেসের প্রতিটি কর্মীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি আমরা।’

উত্তর প্রদেশের বহুজন সমাজ পার্টির প্রধান মায়াবতী জানান, শান্তিপূর্ণ ভারত বনধ্ কর্মসূচিতে তার দলেরও সমর্থন আছে।

তিন কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে গত বছরের নভেম্বর থেকে চলছে এ কৃষক আন্দোলন। টানা ১০ মাস বাড়ি ফেরেননি বিক্ষোভরত লাখো কৃষক। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘতম সময় ধরে চলা বিক্ষোভ এটি।

যাবতীয় প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে নিজেদের দাবি আদায়ে অনড় কৃষকরা। তীব্র শীত, দাবদাহ, ঝড়-বৃষ্টি, এমনকি করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যেও রাজধানী নয়া দিল্লিসংলগ্ন প্রধান মহাসড়কগুলোতে তাঁবু খাটিয়ে থাকছেন তারা।

ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়নের (বিকেইউ) প্রধান রাকেশ তিকাইত রোববার বলেন, ‘প্রয়োজনে আরও ১০ বছর বিক্ষোভ চালিয়ে যেতে প্রস্তুত কৃষকরা। তাও কলঙ্কজনক এ আইন বাতিল হবে না।

‘কৃষিমন্ত্রী আমাদের আলোচনার জন্য ডাকছেন। আলোচনায় বসতে আমাদের সমস্যা নেই। খালি সময় আর জায়গা বললেই হবে। কিন্তু তিনি বলছেন যে এসব আইন নাকি আমাদেরই স্বার্থে। তাহলে ১০ বছর লাগলেও এ জায়গা থেকে নড়ছি না আমরা।’

গত বছরের সেপ্টেম্বরে পার্লামেন্টে পাস হয় তিনটি কৃষি আইন। কৃষকদের দাবি, এসব আইনের ফলে বস্তুত কৃষি খাতের বেসরকারিকরণ ঘটবে এবং খাতটি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়বে। কারণ আইনগুলোতে সরকার নিয়ন্ত্রিত পাইকারি বাজারের চেয়েও কম দামে পণ্য কেনার সুযোগ দেয়া হয়েছে ক্রেতাদের। এতে উৎপাদক পর্যায়ে ন্যূনতম দামও মিলবে না বলে শঙ্কা কৃষকদের।

ক্ষুদ্র চাষিদের মতে, বড় বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে দৌড়ে পিছিয়ে পড়বেন তারা। এতে গম ও চালের মতো প্রধান শস্যগুলো অনেক কম দামে বিক্রি করতে হবে তাদের।

যদিও মোদি সরকারের দাবি, কৃষি আইন সংস্কারের ফলে কৃষকদের জন্য নতুন সুযোগ ও ভালো দাম পাওয়ার পথ উন্মুক্ত হবে।

এসকেএম জোটের অভিমন্যু কোহারের বরাত দিয়ে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ১০ মাস ধরে মোদি সরকার কৃষকদের দাবি ও বিক্ষোভ উপেক্ষা করছে। তাই বাধ্য হয়েই সরকারের নীতিমালার বিরুদ্ধে সব অঞ্চল, শ্রেণির, বয়সের কৃষক ও কৃষিপণ্যের বাণিজ্যে সংশ্লিষ্টদের ভারত বনধ্ কর্মসূচিতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাতে হয়েছে।

কোহার বলেন, ‘সরকার দাবি করছে যে, বিরোধী দলশাসিত দুই থেকে তিনটি রাজ্যেই নাকি বিক্ষোভ হচ্ছে। কিন্তু আজ আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন যে সারা দেশের মানুষের সমর্থন রয়েছে আমাদের প্রতি। কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী, আসাম থেকে গুজরাট পর্যন্ত ছড়িয়েছে এ আন্দোলন।’

হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ আর কর্ণাটকসহ মোদির দল বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলোর কৃষকরাও আন্দোলনে যোগ দিয়েছে বলে জানান কোহার।

চলতি মাসের শুরুতে ভারতের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ রাজ্য উত্তর প্রদেশে একটি সমাবেশে যোগ দেয় পাঁচ লাখের বেশি কৃষক। চলমান কৃষক আন্দোলনে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় কর্মসূচি সেটি।

সব কর্মসূচিই শান্তিপূর্ণ থাকবে বলে আগেই আশ্বাস দিয়েছে কৃষক ইউনিয়নগুলো। এ পর্যন্ত বেশিরভাগ আন্দোলন শান্তিপূর্ণ হলেও চলতি বছরের জানুয়ারিতে একটি ট্রাক্টর মিছিলের সময় সংঘর্ষে প্রাণ যায় কমপক্ষে একজনের; আহত হয় ৮০ জনের বেশি পুলিশ সদস্য।

প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন ওই সহিংসতার জন্য কৃষকদের দায়ী করেছিল মোদি প্রশাসন। কৃষকদের দাবি ছিল, অনুপ্রবেশকারীদের দিয়ে সহিংস পরিস্থিতি তৈরি করে কৃষকদের ন্যায্য আন্দোলন বন্ধের অপচেষ্টা ছিল সেটি।

১৩০ কোটি জনসংখ্যার দেশ ভারতের অর্ধেক বাসিন্দাই জীবিকা অর্জনের জন্য কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল। দেশটির দুই দশমিক সাত ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির প্রায় ১৫ শতাংশই কৃষিনির্ভর।

আরও পড়ুন:
ভারতে নারী বিচারক বাড়ছে : বিচারপতি নাগারত্ন
কিশোরীকে গণধর্ষণ, অপ্রাপ্তবয়স্কসহ ২৬ আসামি গ্রেপ্তার

শেয়ার করুন

মন্তব্য

১০০ কোটি ডোজের মাইলফলক পার ভারতের

১০০ কোটি ডোজের মাইলফলক পার ভারতের

দেশের মানুষকে করোনা টিকার ১০০ কোটি ডোজ দেয়া হয় বলে বৃহস্পতিবার জানায় ভারত সরকার। ছবি: এনডিটিভি

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক ড. পুনম ক্ষেত্রপাল সিং বলেন, ‘করোনা প্রতিষেধক টিকাকরণের আরও একটি মাইলফলক পার করার জন্য ভারতকে অনেক অভিনন্দন। স্বল্প সময়ের মধ্যে এই অসাধারণ কীর্তি শক্তিশালী রাজনৈতিক নেতৃত্ব, স্বাস্থ্য এবং সামনের সারির সব কর্মীর নিবেদিত প্রচেষ্টা এবং জনগণের সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব ছিল না।’

করোনাভাইরাস টিকাকরণে আরেকটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক অতিক্রম করেছে ভারত।

ভারত সরকার বৃহস্পতিবার সকালে ঘোষণা করে, দেশের মানুষকে ১০০ কোটি ডোজ করোনা টিকা দেয়া হয়েছে।

এ উপলক্ষে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাজধানী নয়াদিল্লির রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালে যান।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে গণটিকাকরণ কর্মসূচি সূচনার পর ভারত সরকার জানায়, ডিসেম্বরের মধ্যে দেশটির ১০০ কোটি মানুষকে করোনা টিকা দেয়া হবে।

১০০ কোটি ডোজ টিকা দেয়ার মাইলফলক পার হতেই প্রধানমন্ত্রী মোদি, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনসুখ মন্দাভিয়া সবাইকে অভিনন্দন জানান।

টিকার ডোজের ৬৫ শতাংশ ভারতের গ্রামাঞ্চলের মানুষ পায়। সামগ্রিকভাবে আনুমানিক প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার ৭৪ শতাংশ প্রথম ডোজ পায়, ৩১ শতাংশ টিকার দুটি ডোজই পেয়েছে।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ভারত ১০ কোটি টিকাকরণ করতে ৮৫ দিন সময় নিয়েছে। ২০ কোটি ছাড়িয়ে যেতে আরও ৪৫ দিন এবং ৩০ কোটির অঙ্কে পৌঁছতে আরও ২৯ দিন সময় নেয়।

৩০ কোটি ডোজ থেকে ৪০ কোটিতে পৌঁছতে ২৪ দিন সময় লাগে এবং ৫০ কোটির টিকা চিহ্ন ছাড়িয়ে যেতে আরও ২০ দিন সময় নেয়। পরের ৭৬ দিনে পৌঁছে যায় ১০০ কোটি ডোজ টিকাকরণে।

১৬ জানুয়ারি ভারতজুড়ে টিকাকরণ অভিযান শুরু হয়। প্রথম পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের টিকা দেয়া হয়। ফ্রন্টলাইন কর্মীদের টিকাদান ২ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়।

গত বছরের জুন-জুলাই মাসে গোটা বিশ্ব যখন করোনার সঙ্গে পুরোদমে লড়াই করছিল, সে সময় ভারতে করোনা টিকাকরণের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। বছর শেষের আগেই হাতে চলে আসে দুটি করোনার টিকা- কোভ্যাক্সিন ও কোভিশিল্ড।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক ড. পুনম ক্ষেত্রপাল সিং বলেন, ‘করোনা প্রতিষেধক টিকাকরণের আরও একটি মাইলফলক পার করার জন্য ভারতকে অনেক অভিনন্দন।

‘ভারতে কোভিড-১৯ টিকার এক বিলিয়ন ডোজ দেয়া হয়েছে। স্বল্প সময়ের মধ্যে এই অসাধারণ কীর্তি শক্তিশালী রাজনৈতিক নেতৃত্ব, স্বাস্থ্য এবং সামনের সারির সব কর্মীর নিবেদিত প্রচেষ্টা এবং জনগণের সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব ছিল না।’

আরও পড়ুন:
ভারতে নারী বিচারক বাড়ছে : বিচারপতি নাগারত্ন
কিশোরীকে গণধর্ষণ, অপ্রাপ্তবয়স্কসহ ২৬ আসামি গ্রেপ্তার

শেয়ার করুন

আত্মঘাতী হামলাকারীদের পরিবারকে পুরস্কৃত করছে তালেবান

আত্মঘাতী হামলাকারীদের পরিবারকে পুরস্কৃত করছে তালেবান

২০১৫ সালে কাবুলে পার্লামেন্টে আত্মঘাতী হামলা চালায় তালেবান। ফাইল ছবি

তালেবানের মুখপাত্র কারি সাইদ খোস্তি জানান, আত্মঘাতী হামলাকারী তালেবান যোদ্ধাদের পরিবারকে পোশাক এবং ১১১ ডলার বা ১০ হাজার আফগানি মুদ্রা দিয়েছে শাসক দল। ভবিষ্যতে তাদের জমি দেয়ারও আশ্বাস দিয়েছে।

আফগানিস্তানে গত ২০ বছরে আত্মঘাতী বোমা হামলা চালানো যোদ্ধাদের আত্মত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে শাসক দল তালেবান।

তালেবানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আত্মঘাতী যোদ্ধারা বেঁচে না থাকলেও তাদের পরিবারকে নগদ অর্থ ও জমি দিয়ে পুরস্কৃত করা হচ্ছে।

আফগানিস্তানের ক্ষমতাচ্যুত বেসামরিক সরকার ও তাদের পশ্চিমা মিত্রদের ওপর বিভিন্ন সময়ে অগণিত হামলা হয়েছে। হামলা চালাতে গিয়ে নিহত যোদ্ধাদের পরিবারের সদস্যদের দেয়া হচ্ছে এসব পুরস্কার।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিরাজউদ্দিন হাক্কানি আত্মঘাতী হামলা চালানো তালেবান যোদ্ধাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

তালেবানের মুখপাত্র কারি সাইদ খোস্তি জানান, আত্মঘাতী হামলাকারী তালেবান যোদ্ধাদের পরিবারকে পোশাক এবং ১১১ ডলার বা ১০ হাজার আফগানি মুদ্রা দিয়েছে শাসক দল। ভবিষ্যতে তাদের জমি দেয়ারও আশ্বাস দিয়েছে।

রাজধানী কাবুলের ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে মঙ্গলবার আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে এসব পুরস্কার দেন হাক্কানি। ২০১৮ সালে কাবুলের এই অভিজাত হোটেলটিতেও আত্মঘাতী হামলা চালিয়েছিল তালেবান।

ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রীর মুখ ঝাপসা করে দিয়ে অনুষ্ঠানটির বেশ কিছু ছবি প্রকাশ করেছে তালেবান সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ‘আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী’ হিসেবে তালিকাভুক্ত মন্ত্রী সিরাজউদ্দিন হাক্কানিকে হত্যা করতে পারলে এক কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা করে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে এক বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় লিখেছে, ‘অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্যে শহীদ যোদ্ধা ও মুজাহিদিনদের আত্মত্যাগ ও জিহাদের প্রশংসা করেছেন মন্ত্রী। শহীদ যোদ্ধা ও মুজাহিদিনদের তিনি আফগানিস্তান ও ইসলাম ধর্মের বীর বলেও আখ্যায়িত করেছেন।’

তালেবানের সঙ্গে যুক্ত প্রভাবশালী হাক্কানি নেটওয়ার্ক। আফগানিস্তানে দুই দশকের যুদ্ধে সবচেয়ে সহিংস হামলার কয়েকটিতে সরাসরি জড়িত ছিল গোষ্ঠীটি। যুক্তরাষ্ট্রের কালো তালিকায় সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবেও চিহ্নিত হাক্কানি নেটওয়ার্ক।

বর্তমানে তালেবানের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও ভারপ্রাপ্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিরাজুদ্দিন হাক্কানি এই হাক্কানি নেটওয়ার্কের প্রধান। বাবা জালালউদ্দিন হাক্কানির পর সংগঠনটির নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো এফবিআই সিরাজুদ্দিন হাক্কানিকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায়। ২০০৮ সালে কাবুলের একটি হোটেলে সন্ত্রাসী হামলায় এক আমেরিকান নাগরিকসহ ছয়জন নিহতের ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা আছে বলে সন্দেহ এফবিআইয়ের।

আরও পড়ুন:
ভারতে নারী বিচারক বাড়ছে : বিচারপতি নাগারত্ন
কিশোরীকে গণধর্ষণ, অপ্রাপ্তবয়স্কসহ ২৬ আসামি গ্রেপ্তার

শেয়ার করুন

আইনের শাসনে দৃষ্টান্ত গড়তে চান ইমরান

আইনের শাসনে দৃষ্টান্ত গড়তে চান ইমরান

নবী মোহাম্মদের সময়কার কল্যাণমূলক মদিনা শাসনের বিষয়টি তুলে ধরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মদিনার শাসন ছিল ন্যায়বিচার ও যোগ্যতাভিত্তিক। সেখানে যোগ্যতার ভিত্তিতে একজন সাধারণ ব্যক্তিকেও সর্বোচ্চ পর্যায়ে পদায়ন করা হয়েছে।’

পাকিস্তানে আইনের শাসনের দৃষ্টান্ত স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। বলেছেন, আইনের শাসনে সমাজে মর্যাদার দিক থেকে সবাই সমান হবেন।

ইসলামের প্রকৃত মহিমা তুলে ধরার লক্ষ্যে সম্প্রতি ইমরান সরকার প্রতিষ্ঠা করেছে ‘রেহমাতুল-লিল-আলামিন’ নামের একটি সংগঠন।

ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে ইসলামাবাদে মঙ্গলবার ওই সংগঠনের সম্মেলনে প্রধান অতিথির ভাষণে দেশে দৃষ্টান্তমূলক আইনের শাসন প্রচলনের অঙ্গীকার করেন ইমরান। তিনি বলেন, ‘আমাদেরকে এই দেশের আইন দৃঢ়তার সঙ্গে মেনে চলা শিখতে হবে। অন্যথায়, চলমান অবস্থার সংশোধন করা যাবে না।’

এ সময় নবী মোহাম্মদের সময়কার কল্যাণমূলক মদিনা শাসনের বিষয়টিও তুলে ধরেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘মদিনার শাসন ছিল ন্যায়বিচার ও যোগ্যতাভিত্তিক। সেখানে যোগ্যতার ভিত্তিতে একজন সাধারণ ব্যক্তিকেও সর্বোচ্চ পর্যায়ে পদায়ন করা হতো।’

এ কথার মধ্য দিয়ে ইমরান পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার পরবর্তী প্রধানের নিয়োগ নিয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে মনে করছেন অনেকে। গুরুত্বপূর্ণ পদটিতে নিয়োগ নিয়ে দেশটিতে নানা গুঞ্জন চলছে।

প্রতি বছর ১২ রবিউল আওয়াল ইসলামের সবশেষ নবী মোহাম্মদের জন্মদিন ও ওফাত দিবস তথা ঈদে মিলাদুন্নবী বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম দেশের মতো পাকিস্তানেও ঘটা করে উদযাপন করা হয়।

জ্ঞান অর্জনে মুসলিম উম্মার প্রতি নবী মোহাম্মদের যে তাগিদ ছিল তাও তুলে ধরেন ইমরান খান। বলেন, ‘তিনি (নবী মোহাম্মদ) মুসলমানদের জ্ঞান অর্জনের ওপর খুব জোর দিয়েছিলেন। জ্ঞান অর্জনে প্রয়োজনে চীনে যাওয়ার কথা বলেছিলেন তিনি।’

আরও পড়ুন:
ভারতে নারী বিচারক বাড়ছে : বিচারপতি নাগারত্ন
কিশোরীকে গণধর্ষণ, অপ্রাপ্তবয়স্কসহ ২৬ আসামি গ্রেপ্তার

শেয়ার করুন

ক্ষোভের মুখে ‘হিন্দু-বিরোধী’ বিজ্ঞাপন প্রত্যাহার

ক্ষোভের মুখে ‘হিন্দু-বিরোধী’ বিজ্ঞাপন প্রত্যাহার

কট্টর হিন্দুদের ক্ষোভের জেরে কথিত 'হিন্দু-বিরোধী' বিজ্ঞাপনটি প্রত্যাহার করেছে ফেবইন্ডিয়া। ছবি: ফেবইন্ডিয়া

ক্ষুব্ধ হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা জানান, হিন্দুদের আলোর উৎসব দীপাবলি। এ উৎসবকে ঘিরে নির্মিত বিজ্ঞাপনে উর্দু ভাষায় ‘ঐতিহ্যের উদযাপন’ বলার অর্থ হলো উৎসবের অন্য ব্যাখ্যা দাঁড় করানো। এর মাধ্যমে হিন্দুদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

দীপাবলি উৎসব সামনে রেখে ভারতীয় ব্র্যান্ড ফেবইন্ডিয়া নতুন একটি বিজ্ঞাপন প্রত্যাহার করে নিয়েছে। ডানপন্থি বিভিন্ন হিন্দু সংগঠনের ক্ষোভের জেরে বিজ্ঞাপনটি সরিয়ে নেয় প্রতিষ্ঠানটি।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, পোশাক, আসবাব, হস্ত ও কারুশিল্প আর খাবার প্রস্তুত ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান ফেবইন্ডিয়া। আসন্ন দীপাবলি উপলক্ষে নতুন কিছু পোশাকের সম্ভার বাজারে নিয়ে আসে প্রতিষ্ঠানটি। এর নাম দেয়া হয় ‘জাশন্-ই-রিওয়াজ’।

উর্দু ভাষী শব্দগুচ্ছ ‘জাশন্-ই-রেওয়াজ’-এর অর্থ ‘ঐতিহ্যের উদযাপন’।

বিজ্ঞাপনটিতে উর্দু ভাষা ব্যবহারে ক্ষুব্ধ কট্টর হিন্দুরা। তাদের আপত্তির বিষয়, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উৎসবকে ঘিরে করা বিজ্ঞাপনে উপমহাদেশের অনেক মুসলিমের ভাষা উর্দুর ব্যবহার নিয়ে।

বিজ্ঞাপন সম্বলিত একটি টুইট তাদের ক্ষোভের উৎস। সোমবার ভাইরাল হওয়া টুইটটিতে লেখা হয়, ‘ভালোবাসা ও আলোর উৎসবকে স্বাগত জানিয়ে আমাদের এ সম্ভার ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলী’।

টুইটটিতে ক্ষুব্ধ হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা জানান, হিন্দুদের আলোর উৎসব দীপাবলি। এ উৎসবকে ঘিরে নির্মিত বিজ্ঞাপনে উর্দু ভাষায় ‘ঐতিহ্যের উদযাপন’ বলার অর্থ হলো উৎসবের অন্য ব্যাখ্যা দাঁড় করানো।

এর মাধ্যমে হিন্দুদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

প্রতিক্রিয়ায় ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অফ ইন্ডিয়াকে ফেবইন্ডিয়ার এক মুখপাত্র জানান, ‘জাশন্-ই-রেওয়াজ’ দীপাবলির পোশাকের সমাহার ছিল না।

কিন্তু এতে সন্তুষ্ট হননি অনেক গ্রাহক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই ব্র্যান্ডটি বর্জনের ঘোষণা দেন। তারা বলেন, ‘দীপাবলি উৎসব কোনো জাশন্-ই-রেওয়াজ নয়’।

টুইটারে ফেবইন্ডিয়া বর্জনের ট্রেন্ডটি শীর্ষে উঠে আসে।

এর জেরে টুইটটি প্রত্যাহার করে ফেবইন্ডিয়া, পরে বিজ্ঞাপনটিও সরিয়ে নেয় তারা।

দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সমৃদ্ধ ইতিহাসের ধারক উর্দু ভাষা। গত কয়েক শ বছরে অসংখ্য শক্তিশালী সাহিত্য সৃষ্টি হয়েছে এ ভাষায়। উর্দুভাষী অনেক সাহিত্যিক ও কবি এখনও ভারতে দারুণ জনপ্রিয়।

তবে কট্টর হিন্দুত্ববাদীদের দৌরাত্ম্যে গত কয়েক বছরে ভারতে উর্দুর ব্যবহার নিয়ে প্রচুর বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, এটি মুসলিম সম্প্রদায়ের ভাষা এবং হিন্দুদের উৎসব বা রীতিতে এ ভাষা ব্যবহার থেকে বিরত থাকা উচিত।

ফেবইন্ডিয়ার আগে গত কয়েক বছরে ডানপন্থি হিন্দুদের চাপে পড়তে হয়েছে আরও কয়েকটি বহুজাতিক ব্র্যান্ডকে। পোশাক প্রস্তুত ও বিপণনকারী মান্যবর এমনই একটি প্রতিষ্ঠান।

মান্যবরের সাম্প্রতিক এক বিজ্ঞাপনে প্রখ্যাত বলিউড অভিনেত্রী আলিয়া ভাটকে বিয়ের পোশাকে দেখা যায়। ওই বিজ্ঞাপন নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়। বিরোধীদের অভিযোগ, বিজ্ঞাপনটিতে ভারতীয়দের বর্ষপুরোনো ঐতিহ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে এবং হিন্দুদের বিয়ের রীতির ওপর আঘাত সেটি।

এ ছাড়া জনপ্রিয় জুয়েলারি ব্র্যান্ড তানিশক্ও একটি বিজ্ঞাপন প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়। বিজ্ঞাপনটিতে দেখানো হয়েছিল, দুই ধর্মের অনুসারী এক দম্পতির অনাগত সন্তানকে স্বাগত জানাতে মুসলিম শ্বশুরবাড়িতে হিন্দু পুত্রবধূর জন্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

ডানপন্থি হিন্দুদের অভিযোগ, তানিশকের বিজ্ঞাপনটিতে ‘লাভ জিহাদ’-এর প্রচার চালানো হয়েছে। হিন্দু নারীদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করে মুসলিম পুরুষরা কৌশলে তাদের ধর্মান্তরিত হতে বাধ্য করে বলে দাবি কট্টর হিন্দুদের, যেটিকে তারা আখ্যায়িত করে ‘লাভ জিহাদ’ হিসেবে।

এ বিজ্ঞাপনের জেরে প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোপের মুখে পড়ে তানিশক্। কিন্তু সেখানেই শেষ হয়নি বিষয়টি। দ্রুতই সেটি শারীরিক লাঞ্ছনা অবধি গড়ায়। এমনকি প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন কর্মীর নাম উল্লেখ করে অনলাইনে হুমকি দেয়াও শুরু হয় সে সময়।

আরও পড়ুন:
ভারতে নারী বিচারক বাড়ছে : বিচারপতি নাগারত্ন
কিশোরীকে গণধর্ষণ, অপ্রাপ্তবয়স্কসহ ২৬ আসামি গ্রেপ্তার

শেয়ার করুন

বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় মোদির নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তৃণমূলের

বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় মোদির নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তৃণমূলের

পীরগঞ্জে হিন্দুপাড়ায় সহিংসতার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি। ছবি: নিউজবাংলা

তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, ‘বাংলাদেশের সহিংসতা নিয়ে বিজেপি কোনো রাজনৈতিক চাল দেয়ার পরিকল্পনায় করছে। না হলে কেন শুভেন্দু বলবেন যে বাংলাদেশের ঘটনার পর আমাদের ভোট বাড়বে? বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের প্রেক্ষিতে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির ভোটে জেতার আত্মবিশ্বাস বাড়লে তো স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে যে সমীকরণটা আসলে ঠিক কী?’

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সাম্প্রদায়িক সহিংসতার নেপথ্যে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন দল তৃণমূলের আইনপ্রণেতারা। কেন্দ্রীয় ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের দিকে অভিযোগের আঙুল তাদের; প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নীরবতা নিয়ে।

তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপত্র ‘জাগো বাংলা’ পত্রিকায় ‘বাংলাদেশের হৃদয় হতে’ শীর্ষক সম্পাদকীয়তে বলা হয়, ‘আমরা বিস্মিত। ভারতের যে প্রধানমন্ত্রী ভোট টানার অঙ্কে প্রচার সারতে বাংলাদেশে গিয়ে পূজা দিয়ে আসলেন, তিনি নিষ্ক্রিয় কেন? নাকি বাংলাদেশে হিন্দু নিগ্রহের সুড়সুড়ি দিয়ে এপার বাংলার হিন্দু আবেগ উসকে ভোট টানার চেষ্টা এটা? বাংলাদেশের ঘটনায় যথাযথ তদন্ত চাই।’

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বিজেপির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে ‘জাগো বাংলা’ পত্রিকার প্রথম পাতায় ‘শকুনের রাজনীতি বিজেপির’ শীর্ষক একটি নিবন্ধেও।

বিজেপির সমালোচনা করে এতে লেখা হয়েছে, ‘বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া আপত্তিকর কাজের বিরুদ্ধে যখন বাংলাদেশেই প্রবল প্রতিবাদ শুরু হয়েছে, তখনও নির্লজ্জের মতো এ নিয়ে শকুনের রাজনীতি করছে বিজেপি।’

জাগো বাংলায় আরও লেখা হয়েছে, ‘এ রাজ্যে বিজেপি লাটে উঠেছে। এখানে ধর্মীয় আবেগ ব্যবহার করতে বাংলাদেশের হামলাকে কাজে লাগানো হচ্ছে।

‘তাহলে বাংলাদেশের ঘটনার পিছনে কী চক্রান্ত চলছে, কারা-কেন-কীভাবে পূজায় আক্রমণের ক্ষেত্র তৈরি করে দিয়েছে, সেসব ঘটনার যথাযথ তদন্ত দরকার।’

সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ধারাবাহিক ঘটনায় বাংলাদেশ সরকারকে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। এসব ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আর এ নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে।

তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, ‘বাংলাদেশের সহিংসতা নিয়ে বিজেপি কোনো রাজনৈতিক চাল দেয়ার পরিকল্পনায় করছে। না হলে কেন শুভেন্দু বলবেন যে বাংলাদেশের ঘটনার পর আমাদের ভোট বাড়বে?

‘বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের প্রেক্ষিতে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির ভোটে জেতার আত্মবিশ্বাস বাড়লে তো স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে যে সমীকরণটা আসলে ঠিক কী?’

বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য কুণালের এই বক্তব্যের বিরোধিতা করে বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদি কোথায়, কোন পূজা দিতে গিয়েছিলেন, সেসব জানার বা বোঝার মতো শিক্ষা তৃণমূল নেতাদের নেই। তাই এসব কথার কোনো ভিত্তি নেই।’

আরও পড়ুন:
ভারতে নারী বিচারক বাড়ছে : বিচারপতি নাগারত্ন
কিশোরীকে গণধর্ষণ, অপ্রাপ্তবয়স্কসহ ২৬ আসামি গ্রেপ্তার

শেয়ার করুন

সংসদ সদস্য পদ ছাড়লেন বাবুল সুপ্রিয়

সংসদ সদস্য পদ ছাড়লেন বাবুল সুপ্রিয়

বাবুল সুপ্রিয়। ফাইল ছবি

বাবুল টুইটে জানান, ‘বিজেপির থেকেই আমি রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু করেছি। প্রধানমন্ত্রী, অমিত শাহ, দলের সভাপতির প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। তারা আমার প্রতি ভরসা রেখেছেন। কিন্তু আমি দলটা অন্তর থেকেই ছেড়েছি। তাই মনে করি যে, বিজেপির হয়ে আমার সংসদ সদস্য পদটাও রাখা উচিত নয়।’

পশ্চিমবঙ্গের আসানসোল আসন থেকে বিজেপির হয়ে নির্বাচিত সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সদ্য তৃণমূলে যোগ দেয়া রাজনীতিক বাবুল সুপ্রিয়।

মঙ্গলবার স্পিকার ওম বিড়লার বাড়িতে গিয়ে বিজেপির সাবেক কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী ও গায়ক বাবুল পদত্যাগপত্র জমা দেন। স্পিকার তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন।

পরে বাবুল টুইটে জানান, ‘বিজেপির থেকেই আমি রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু করেছি। প্রধানমন্ত্রী, অমিত শাহ, দলের সভাপতির প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। তারা আমার প্রতি ভরসা রেখেছেন। কিন্তু আমি দলটা অন্তর থেকেই ছেড়েছি। তাই মনে করি যে, বিজেপির হয়ে আমার সংসদ সদস্য পদটাও রাখা উচিত নয়।’

বাবুল আগেই জানিয়েছিলেন তিনি যাদের টিকিটে নির্বাচিত হয়েছেন, সেই দল ছেড়ে অন্য দলে গেলে পুরনো দলের সাংসদ পদ ধরে থাকা অনৈতিক হবে।

২০১৪ সালে বিজেপির টিকিটে আসানসোল কেন্দ্র থেকে জিতে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী হন বাবুল। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনেও বিজেপির টিকিটে জয়লাভ করেন এবং আবারও কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী হন। কিন্তু সম্প্রতি মন্ত্রিসভা রদবদলের সময় বাবুল সুপ্রিয় মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়েন।

তারপর থেকে বিজেপির সঙ্গে বাবুলের দূরত্ব তৈরি হয়। এমনকি বাবুল রাজনীতি ছেড়ে দেয়ার কথা বলেন সে সময়। তার রাজনৈতিক জীবন নিয়ে টানাপোড়েন শুরু হয় ।

এরপর আচমকা সেপ্টেম্বরে তৃণমূলে যোগ দেন বাবুল সুপ্রিয়। কথামতো আজ মঙ্গলবার বিজেপির সংসদ সদস্য পদ থকে পদত্যাগ করেন।

অনেকেই যখন বলছেন এখন তৃণমূল থেকে বাবুল নির্বাচন করবেন।

বাবুল টুইটে সে প্রশ্নেরও ইঙ্গিত দিয়েছেন, ‘আমি আর বিজেপির অংশ নই। যে বিজেপির জন্য আমি একটি আসনে জয়লাভ করেছিলাম, আমার মধ্যে যদি কিছু থেকে থাকে, তাহলে আমি আবার জয় পাব।’

আরও পড়ুন:
ভারতে নারী বিচারক বাড়ছে : বিচারপতি নাগারত্ন
কিশোরীকে গণধর্ষণ, অপ্রাপ্তবয়স্কসহ ২৬ আসামি গ্রেপ্তার

শেয়ার করুন

আবারও কাশ্মীরে হামলার হুমকি আইএসের

আবারও কাশ্মীরে হামলার হুমকি আইএসের

বেসামরিক হত্যাকাণ্ড বাড়তে থাকায় সম্প্রতি জম্মু-কাশ্মীরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। ছবি: পিটিআই

রোববার জম্মু-কাশ্মীরের দক্ষিণে কুলগাম জেলায় দুইজন বহিরাগত শ্রমিক গুলিতে নিহত এবং আরেকজন আহত হন। এর আগে গত ৯ অক্টোবর জম্মু-কাশ্মীরে ভাসমান শ্রমিক হিসেবে আসা বিহারের একজন ফেরিওয়ালা আর উত্তর প্রদেশের এক শ্রমিক পৃথক সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন। চলতি মাসের শুরুতে বিহারের আরেক ফেরিওয়ালা বীরেন্দ্র পাসওয়ান শ্রীনগরের ঈদগাহ এলাকায় সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন। ধারাবাহিক এসব চোরাগোপ্তা হত্যাকাণ্ডের মধ্যেই উপত্যকায় এরকম আরও হামলার হুমকি দেয় আইএসকেপি।

ভারতের একমাত্র মুসলিম অধ্যুষিত ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু-কাশ্মীরে হামলার হুমকি দিয়েছে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)। সংগঠনটির আফগানিস্তানভিত্তিক শাখা আইএস খোরাসান প্রভিন্স বা আইএসকেপি এ হুমকি দিয়েছে।

আইএসকেপির ভারতের মুখপত্র ‘ভয়েস অব হিন্দ’-এর ২১তম সংস্করণে দেয়া হয়েছে এ হুমকি। এতে একটি ছবি প্রকাশ করা হয়েছে যেখানে দেখা যাচ্ছে একজন ফেরিওয়ালাকে পেছন থেকে গুলি করা হচ্ছে।

ছবির ক্যাপশনে যা লেখা, সেটির বাংলা অনুবাদ করলে দাঁড়ায়- ‘আমরা আসছি’। জম্মু-কাশ্মীরে বহিরাগত এক ফেরিওয়ালাকে হত্যার পর গুলি করার ভিডিও প্রকাশ করেছিল আইএসকেপি।

মুখপত্রে হিন্দু দেবতাদের একটি ত্রিশূলের ছবিও দেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে দেব-দেবীর মূর্তিও আক্রমণের শিকার হবে বলে বোঝানো হয়েছে।

আইএসকেপি ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে 'ভয়েস অব হিন্দ' প্রকাশ করে আসছে। মূলত উপত্যকাযর মুসলিম যুবকদের কট্টরপন্থায় আগ্রহী করে তোলা মুখপত্রটির লক্ষ্য বলে ধারণা করা হয়।

সম্প্রতি ভারতের বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থা দেশের বিভিন্ন রাজ্যে সন্ত্রাসবাদে সম্পৃক্ততার অভিযোগে বেশ কয়েকজনকে আটক করে। জানায়, উৎসবের মৌসুম সামনে রেখে সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা ছিল অভিযুক্তদের।

গত এক মাসে জম্মু-কাশ্মীরের পাকিস্তান সীমান্তবর্তী নিয়ন্ত্রণরেখা এলাকায় বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় বেশ কয়েকজন ভারতীয় সেনা ও অনুপ্রবেশকারীর। কয়েক বছরের মধ্যে প্রথমবার এক পাকিস্তানি অনুপ্রবেশকারীকে জীবিত আটক করার কথাও জানায় নয়া দিল্লি।

এ ছাড়া ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে গত ১৫ দিনে অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের গুলিতে স্থানীয় পাঁচ কাশ্মীরিসহ ১১জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন

রোববার জম্মু-কাশ্মীরের দক্ষিণে কুলগাম জেলায় দুইজন বহিরাগত শ্রমিক গুলিতে নিহত এবং আরেকজন আহত হন। এর আগে গত ৯ অক্টোবর জম্মু-কাশ্মীরে ভাসমান শ্রমিক হিসেবে আসা বিহারের একজন ফেরিওয়ালা আর উত্তর প্রদেশের এক শ্রমিক পৃথক সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন। চলতি মাসের শুরুতে বিহারের আরেক ফেরিওয়ালা বীরেন্দ্র পাসওয়ান শ্রীনগরের ঈদগাহ এলাকায় সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন।

ধারাবাহিক এসব চোরাগোপ্তা হত্যাকাণ্ডের মধ্যেই উপত্যকায় এরকম আরও হামলার হুমকি দেয় আইএসকেপি।

এ অবস্থায় ভারতের অন্যান্য রাজ্য থেকে কাশ্মীরে যাওয়া ব্যক্তিদের ওপর হামলা ঠেকাতে নিরাপত্তা জোরদার করছে প্রশাসন। উপত্যকায় জঙ্গি তৎপরতার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চালাচ্ছে।

গত শনিবার জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ বিগত নয় দিনে নয়টি বন্দুকযুদ্ধে ১৩ সন্ত্রাসীকে হত্যার কথা জানিয়েছে।

ভারতীয় গোয়েন্দাদের দাবি, সম্প্রতি কাশ্মীর উপত্যকায় যে কায়দায় হামলা হচ্ছে, তার পেছনে রয়েছে নতুন কোনো গোষ্ঠী। গোয়েন্দারা বলছে, এই গোষ্ঠীর নাম হরকত ৩১৩, যা আদতে ব্রিগেড ৩১৩-র নতুন সংস্করণ।

আফগানিস্তানের সশস্ত্র সংগঠন হাক্কানি নেটওয়ার্কের সদর দফতর মিরানশাহ থেকে হরকত ৩১৩ সরাসরি নিয়ন্ত্রিত বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা। আফগানিস্তানের বর্তমান তালেবান শাসকদলের মন্ত্রিসভারও অংশ এই হাক্কানি নেটওয়ার্ক।

গোয়েন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, হাক্কানি নিয়ন্ত্রিত হলেও হরকত ৩১৩’র নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইলিয়াস কাশ্মীরি নামে এক কাশ্মীরি। সংগঠনটিকে হাক্কানি নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করলেও তাদের পেছনে কলকাঠি নাড়ছে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই।

মূলত ভারতীয় সেনাদের নজর অন্যদিকে সরিয়ে ভারতে সন্ত্রাসীদের ঢোকানো হরকত ৩১৩’র উদ্দেশ্য বলে অনুমান গোয়েন্দাদের।

ভারতীয় গোয়েন্দারা আরও জানায়, আইএসকেপি জম্মু-কাশ্মীরজুড়ে নীরবে ছড়িয়ে পড়েছে এবং বড় ধরনের ধ্বংসাত্মক ষড়যন্ত্র করছে।

আরও পড়ুন:
ভারতে নারী বিচারক বাড়ছে : বিচারপতি নাগারত্ন
কিশোরীকে গণধর্ষণ, অপ্রাপ্তবয়স্কসহ ২৬ আসামি গ্রেপ্তার

শেয়ার করুন