আরও রুশ ক্ষেপণাস্ত্র কিনবে তুরস্ক

আরও রুশ ক্ষেপণাস্ত্র কিনবে তুরস্ক

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। ছবি: এএফপি

রাশিয়ার থেকে এস-ফোর হানড্রেড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ফের কিনলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও বাড়বে। ওয়াশিংটন নতুন করে তুরস্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে।

রাশিয়ার কাছ থেকে এস-ফোর হানড্রেড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার দ্বিতীয় ব্যাচও কিনতে চায় তুরস্ক।

সিবিএস নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এমনটাই জানিয়েছেন বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

রাশিয়া থেকে ওই প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ফের কিনলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও বাড়বে। ওয়াশিংটন নতুন করে তুরস্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, নিজেদের যুদ্ধবিমান এফ-থার্টি ফাইভের জন্য হুমকি রাশিয়া নির্মিত এস-ফোর হানড্রেড। এ ছাড়া এটি ন্যাটোর বড় পরিসরের প্রতিরক্ষাব্যবস্থার জন্যও হুমকি।

অন্যদিকে আঙ্কারা জানিয়েছে, ন্যাটোভুক্ত কোনো দেশের সন্তোষজনক শর্তের ওপর তুরস্কের বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কেনা হবে না।

সাক্ষাৎকারে এরদোয়ান বলেন, ‘কী ধরনের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আমাদের থাকবে, কোন দেশ থেকে কোন মাত্রায় সেসব কেনা হবে, এসব শর্ত দিয়ে কোনো দেশকে তুরস্কের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলাতে দেয়া হবে না।’

তিনি বলেন, ‘কেউ তুরস্কের প্রতিরক্ষাব্যবস্থার বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। এ বিষয়ে আমাদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।’

রাশিয়ার এস-ফোর হানড্রেড ক্ষেপণাস্ত্র কেনার পর গত বছরের ডিসেম্বরে তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের প্রধান ইসমাইল দেমিরসহ চার কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র।

এস-ফোর হানড্রেড ক্ষেপণাস্ত্র ডেলিভারির বিষয়ে রাশিয়া ও তুরস্কের মধ্যে আলোচনা চলছে।

এ বিষয়ে উভয় দেশের আলোচনা শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র তুরস্কের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি বারবার দিয়ে আসছে।

এরদোয়ানের সাক্ষাৎকারের পর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, ‘এস-ফোর হানড্রেড ব্যবস্থা না কিনতে আমরা তুরস্ককে বিভিন্নভাবে অনুরোধ করি। রাশিয়ার সামরিক সরঞ্জাম আরও না কেনার আহ্বান জানাই।’

ওই মুখপাত্র জানান, যুক্তরাষ্ট্র তুরস্ককে মিত্র ও বন্ধু হিসেবে দেখে। মতভেদ সত্ত্বেও দুই দেশের অংশীদারত্ব শক্তিশালী করার পন্থা খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র।

আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্র শর্ত মানলে কাবুল বিমানবন্দর চালাবে তুরস্ক: এরদোয়ান
ইউরোপে হিজাব বন্ধের নির্দেশে তুরস্কের সমালোচনা
ইসরায়েলের প্রেসিডেন্টকে ফোন, সম্পর্কে জোর এরদোয়ানের
তুরস্কে বাস দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১২
শিশু সেনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান তুরস্কের

শেয়ার করুন

মন্তব্য

আফগানিস্তানকে সহায়তায় বিশ্বব্যাংকের প্রতি আহ্বান চীনের

আফগানিস্তানকে সহায়তায় বিশ্বব্যাংকের প্রতি আহ্বান চীনের

আফগানিস্তানের চলমান সংকট নিরসনে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের প্রতি আহ্বান জানান চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। ছবি: রয়টার্স

আফগানিস্তানের ওপর থেকে একতরফা নিষেধাজ্ঞা তুলতে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য পশ্চিমা দেশের প্রতি ফের আহ্বান জানান চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।

নগদ অর্থের চরম সংকটে থাকা আফগানিস্তানকে ফের আর্থিক সহায়তা দিতে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।

দক্ষিণ এশিয়ার যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটি পুনর্গঠনের স্বার্থে তিনি আন্তর্জাতিক দুই সংস্থার প্রতি ওই আহ্বান জানান বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

১৫ আগস্ট কাবুল পতনের মধ্য দিয়ে আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করে তালেবান।

এরপরই দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার জব্দ করে যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন আর্থিক সংস্থা আফগানিস্তানের তহবিলের প্রবেশাধিকার স্থগিত করে ।

অবশ্য পরিমাণে আগের মতো না হলেও আফগানিস্তানে বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার মানবিক সহায়তা পাঠানো অব্যাহত রয়েছে।

এমন পরিপ্রেক্ষিতে আফগানিস্তানের ব্যাংকগুলোতে নগদ অর্থের ব্যাপক সংকট দেখা দিয়েছে। ব্যাংকে অর্থাভাবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কয়েক মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না। খাদ্যের দাম সাধারণ জনগণের নাগালের বাইরে চলে গেছে।

মঙ্গলবার আইএমএফের পক্ষ থেকে বলা হয়, চলতি বছরে আফগান অর্থনীতির ৩০ শতাংশ পর্যন্ত সংকোচন ঘটবে। আর এতে শরণার্থীসংকট প্রকট আকার ধারণ করার শঙ্কা রয়েছে।

আফগানিস্তানের প্রতিবেশী দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে ভিডিওতে আলাপের সময় চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং বলেন, ‘সব ক্ষেত্রেই আফগানিস্তানের সহযোগিতা প্রয়োজন। উন্নয়ন দেশটির সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’

আফগানিস্তানের ওপর থেকে একতরফা নিষেধাজ্ঞা তুলতে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য পশ্চিমা দেশের প্রতি ফের আহ্বান জানান চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং।

একই সঙ্গে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলায় আফগানিস্তানকে আরও টিকা ও চিকিৎসাসামগ্রী দিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রতিও আহ্বান জানান তিনি।

চীনের পক্ষ থেকে সম্প্রতি বলা হয়, আফগানিস্তানে তিন কোটি ডলার মূল্যের জরুরি মানবিক সহায়তা পাঠাবে বেইজিং।

আফগানিস্তানে ক্ষমতাসীন তালেবান সরকারকে বিচ্ছিন্ন না করে বরং তাদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের উদ্যোগ নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি বারবার আহ্বান জানিয়ে আসছে চীন।

এ বিষয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং বলেন, ‘আমার মনে হয়েছে, বহির্বিশ্বের সঙ্গে আলোচনা ও সহযোগিতায় আগ্রহী তালেবান। এ বিষয়ে তাদের যথেষ্ট আন্তরিক লেগেছে।’

আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্র শর্ত মানলে কাবুল বিমানবন্দর চালাবে তুরস্ক: এরদোয়ান
ইউরোপে হিজাব বন্ধের নির্দেশে তুরস্কের সমালোচনা
ইসরায়েলের প্রেসিডেন্টকে ফোন, সম্পর্কে জোর এরদোয়ানের
তুরস্কে বাস দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১২
শিশু সেনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান তুরস্কের

শেয়ার করুন

ব্রেস্ট ক্যানসার রোধে যুক্তরাষ্ট্রে টিকার ট্রায়াল

ব্রেস্ট ক্যানসার রোধে যুক্তরাষ্ট্রে টিকার ট্রায়াল

যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হচ্ছে ব্রেস্ট ক্যানসার প্রতিরোধী টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল। ছবি: সায়েন্স এলার্ট

ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের টাউসিগ ক্যানসার ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক ও টিকা গবেষণার প্রধান ডা. জি. টমাস বাড বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমরা আশা করছি, এই টিকা ব্রেস্ট ক্যানসার সত্যিকার অর্থে ঠেকাবে। স্বাস্থ্যবান নারীদের এই টিকা দেয়া যাবে, যাতে তাদের শরীরে ট্রিপল-নেগেটিভ ব্রেস্ট ক্যানসারের বিস্তার না ঘটতে পারে। ব্রেস্ট ক্যানসারের এ ধরনের বিরুদ্ধে আমাদের কার্যকর কোনো চিকিৎসা নেই।’

ব্রেস্ট ক্যানসারের সবচেয়ে মারাত্মক ধরনের চিকিৎসায় উদ্ভাবিত টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে।

সায়েন্স এলার্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ঘোষণা করে, ট্রিপল-নেগেটিভ ব্রেস্ট ক্যানসার প্রতিরোধে মানবদেহে এই প্রথম টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হতে যাচ্ছে।

ট্রিপল-নেগেটিভ ব্রেস্ট ক্যানসার সম্প্রতি হরমোন বা নির্দিষ্ট ড্রাগ থেরাপিতে সাড়া দিচ্ছে না। ম্যাসটেক্টমির (ব্রেস্ট কেটে ফেলা) মাধ্যমেই কেবল এই ক্যানসারকে ঠেকানো যাচ্ছে।

ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের ওই ঘোষণার আগে ট্রিপল-নেগেটিভ ব্রেস্ট ক্যানসারের টিকার অগ্রগতি কেবল ল্যাবরেটরি ও প্রাণী গবেষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।

ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হতে যাওয়া ব্রেস্ট ক্যানসারের টিকার জন্য অনুসন্ধানী নতুন ওষুধের অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ)।

ট্রিপল-নেগেটিভ ব্রেস্ট ক্যানসারের প্রাথমিকপর্যায়ে আক্রান্ত হয়ে যারা চিকিৎসার মাধ্যমে বেঁচে গেছেন, শুধু তারাই ওই ট্রায়ালে অংশ নেবেন।

ওই নারীরা ফের ব্রেস্ট ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছেন। টিকা দেয়ার পর তাদের দেহে ক্যানসার আবার বাসা বাঁধছে কি না, তা পরীক্ষা করবেন গবেষকরা।

গবেষকরা আশা করছেন, ক্যানসারের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা স্বাস্থ্যবান নারীদের ওপরও পরবর্তী সময়ে টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চালানো হবে।

ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের টাউসিগ ক্যানসার ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক ও টিকা গবেষণার প্রধান ডা. জি. টমাস বাড বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমরা আশা করছি, এই টিকা ব্রেস্ট ক্যানসার সত্যিকার অর্থে ঠেকাবে।

‘স্বাস্থ্যবান নারীদের এই টিকা দেয়া যাবে, যাতে তাদের শরীরে ট্রিপল-নেগেটিভ ব্রেস্ট ক্যানসারের বিস্তার না ঘটতে পারে। ব্রেস্ট ক্যানসারের এ ধরনের বিরুদ্ধে আমাদের কার্যকর কোনো চিকিৎসা নেই।’

ব্রেস্ট ক্যানসারে আক্রান্ত নারীদের মধ্যে প্রায় ১২ থেকে ১৫ শতাংশ ট্রিপল-নেগেটিভ ব্রেস্ট ক্যানসারে আক্রান্ত হন। শনাক্ত হওয়ার পাঁচ বছরের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ নারীর এই ক্যানসারে মৃত্যু হয়।

আফ্রিকা বংশোদ্ভূত আমেরিকান নারীরা সাধারণত এই ব্রেস্ট ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে থাকেন।

আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্র শর্ত মানলে কাবুল বিমানবন্দর চালাবে তুরস্ক: এরদোয়ান
ইউরোপে হিজাব বন্ধের নির্দেশে তুরস্কের সমালোচনা
ইসরায়েলের প্রেসিডেন্টকে ফোন, সম্পর্কে জোর এরদোয়ানের
তুরস্কে বাস দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১২
শিশু সেনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান তুরস্কের

শেয়ার করুন

পাকিস্তানি তালেবানকে প্রশ্রয় দেয়া উচিত নয়: মালালা

পাকিস্তানি তালেবানকে প্রশ্রয় দেয়া উচিত নয়: মালালা

ডনের সাংবাদিক আদিল শাহজেবের সঙ্গে মুখোমুখি হন পাকিস্তানি অধিকারকর্মী মালালা ইউসুফজাই। ছবি: ডন

‘পাকিস্তানের জনগণ টিটিপিকে সমর্থন করে না। দেশের কোনো প্রান্ত থেকে কেউই বলছে না, তারা তালেবান সরকার চায়। তাই আমি মনে করি, পাকিস্তানি তালেবানকে সরকারের প্রশ্রয় দেয়ার কিছু নেই।’

শান্তিতে নোবেলজয়ী মালালা ইউসুফজাই বলেছেন, স্থানীয় তালেবানকে প্রশ্রয় দেয়া পাকিস্তান সরকারের উচিত হবে না। দেশে তাদের কোনো জনসমর্থন নেই।

ডনের ‘লাইভ উইথ আদিল শাহজেব’ অনুষ্ঠানে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

স্থানীয় তালেবান তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) সঙ্গে বৈঠক ও সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সাম্প্রতিক বিবৃতির বিষয়ে সাক্ষাৎকারটিতে মালালার মতামত জানতে চাওয়া হয়।

মালালা সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীকে বলেন, ‘আমার মতে, আপনি কোনো সংগঠনের সঙ্গে তখনই চুক্তি করবেন, যখন আপনি বিশ্বাস করেন, ওই সংগঠনকে গুরুত্বের সঙ্গে নেয়া উচিত বা তারা শক্তিশালী একটি বাহিনী।

‘পাকিস্তানের জনগণ টিটিপিকে সমর্থন করে না। দেশের কোনো প্রান্ত থেকে কেউই বলছে না, তারা তালেবান সরকার চায়। তাই আমি মনে করি, পাকিস্তানি তালেবানকে সরকারের প্রশ্রয় দেয়ার কিছু নেই।’

তালেবানকে সাধারণভাবে বিশ্লেষণ করতে গিয়ে মালালা বলেন, ‘ভালো তালেবান ও মন্দ তালেবানের মধ্যে কোনো পার্থক্য খোঁজার চেষ্টা করা উচিত নয়।

‘ভালো ও মন্দ তালেবানের চিন্তা এক। উভয় পক্ষই নির্যাতন ও নিজেদের আইন জোর করে চাপিয়ে দেয়ার পক্ষে।

‘তারা নারী অধিকার ও মেয়েদের শিক্ষার বিপক্ষে। তালেবানের শাসনে কোনো ধরনের বিচারব্যবস্থা আমার চোখে পড়েনি। কিন্তু ইসলাম ন্যায়বিচারের নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত।’

দীর্ঘদিন ধরে নারীশিক্ষা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন মালালা। আফগানিস্তানে নারীশিক্ষার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘নারীশিক্ষার ওপর দেশটির সাময়িক বিধিনিষেধ তালেবানের আগের শাসনামলের মতো প্রলম্বিত হওয়া ঠিক হবে না।

‘নব্বই দশকে তালেবানের পাঁচ বছরের শাসনামলে আফগানিস্তানে নারীশিক্ষা নিষিদ্ধ ছিল। ওই আমলের পুনরাবৃত্তি আমরা চাই না।’

পাকিস্তানি অধিকারকর্মী মালালা বলেন, ‘আফগানিস্তানের নারী অধিকারকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ নারীরা তাদের অধিকারের দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন। তারা তালেবান সরকারের ওপর চাপ দিচ্ছেন। এটি ইতিবাচক দিক।’

নারীশিক্ষা প্রসারে কাজ করা ১৫ বছর বয়সী মালালাকে ২০১২ সালের ৯ অক্টোবর পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের সোয়াত জেলায় তালেবানের এক সদস্য গুলি করে।

২০১৪ সালে সবচেয়ে কম বয়সী হিসেবে শান্তিতে নোবেল পান তিনি।

আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্র শর্ত মানলে কাবুল বিমানবন্দর চালাবে তুরস্ক: এরদোয়ান
ইউরোপে হিজাব বন্ধের নির্দেশে তুরস্কের সমালোচনা
ইসরায়েলের প্রেসিডেন্টকে ফোন, সম্পর্কে জোর এরদোয়ানের
তুরস্কে বাস দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১২
শিশু সেনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান তুরস্কের

শেয়ার করুন

ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করে চীনকে বার্তা ভারতের

ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করে চীনকে বার্তা ভারতের

বুধবার রাতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র অগ্নি-৫-এর সফল পরীক্ষা চালায় ভারত। ছবি: সংগৃহীত

স্থানীয় সময় বুধবার রাত প্রায় ৮টার দিকে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় ওড়িশা উপকূলের এপিজে আব্দুল কালাম দ্বীপ থেকে ওই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়।

সীমান্তে চীনের আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের জবাবে পাঁচ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যে আঘাত হানতে সক্ষম একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা করেছে ভারত।

অগ্নি-৫ নামের ওই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার মাধ্যমে চীনের প্রতি দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ দেশটি কড়া বার্তা দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইন্টারকন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক মিসাইল (আইসিবিএম) ক্যাটাগরির ক্ষেপণাস্ত্র এই অগ্নি-৫। স্থানীয় সময় বুধবার রাত প্রায় ৮টার দিকে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় ওড়িশা উপকূলের এপিজে আব্দুল কালাম দ্বীপ থেকে ওই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়।

অগ্নি-৫ ক্ষেপণাস্ত্রটি তিন পর্যায়ের কঠিন জ্বালানি ব্যবহার করে। লক্ষ্যবস্তুকে এটি প্রায় নির্ভুলভাবে আঘাত করতে পারে।

ভারতের পরমাণু অস্ত্র বা ক্ষেপণাস্ত্র নীতি অনুযায়ী অগ্নি-৫-এর সফল পরীক্ষা চালানো হয়। প্রতিপক্ষ প্রথমে আঘাত না করলে এ ধরনের অস্ত্রের ব্যবহার হয় না।

এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছাড়াও ভারতের সাবমেরিন-ভিত্তিক পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। তবে ওই ক্ষেপণাস্ত্র এখন পর্যন্ত অগ্নি-৫-এর মতো এত দূরপাল্লায় পরীক্ষা করা হয়নি।

২০১২ সালে প্রথম অগ্নি-৫ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা হয়।

ভারতের প্রতিরক্ষা সংস্থা ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ডিআরডিও) অগ্নি-১ থেকে অগ্নি-৫ ক্ষেপণাস্ত্র নকশা ও উন্নত করার দায়িত্ব পালন করছে।

এ মুহূর্তে ভারতের হাতে পাঁচটি ভিন্ন ক্ষমতার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। এগুলো হলো ৭০০ কিলোমিটার পাল্লার অগ্নি-১, দুই হাজার কিলোমিটার পাল্লার অগ্নি-২ ও অগ্নি-৩, আড়াই হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজারের বেশি পাল্লার অগ্নি-৪।

চলতি বছরের জুনে পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম অগ্নি প্রাইম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা করে ভারত। এটি অগ্নি ঘরানার ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়ে আরও উন্নত সংস্করণের ক্ষেপণাস্ত্র। ওই ক্ষেপণাস্ত্রও ওড়িশা উপকূল থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্র শর্ত মানলে কাবুল বিমানবন্দর চালাবে তুরস্ক: এরদোয়ান
ইউরোপে হিজাব বন্ধের নির্দেশে তুরস্কের সমালোচনা
ইসরায়েলের প্রেসিডেন্টকে ফোন, সম্পর্কে জোর এরদোয়ানের
তুরস্কে বাস দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১২
শিশু সেনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান তুরস্কের

শেয়ার করুন

ধনকুবেরদের জন্য পৃথক করনীতির পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

ধনকুবেরদের জন্য পৃথক করনীতির পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। সাম্প্রতিক ছবি

পরিকল্পনা গৃহীত হলে ২০২২ অর্থবছরে কার্যকর হতে পারে নতুন এ করনীতি। এটি প্রভাব ফেলবে ১০০ কোটি ডলারের বেশি সম্পত্তির অধিকারী প্রায় ৭০০ করদাতার ওপর। টানা তিন বছর বার্ষিক আয় ১০ কোটি ডলার যাদের, তাদের ওপরেও প্রযোজ্য হবে এ নীতি। বাইডেন প্রশাসের এ পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানিয়েছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক।

নিজেদের সম্পত্তি থেকে প্রাপ্ত অপ্রত্যাশিত বেশি লাভের জন্য আলাদাভাবে কর দিতে হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের ধনকুবেরদের। দেশটির পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটে এমনই একই করনীতি প্রকাশ করা হয়েছে।

এ কর নীতিমালার আওতায় প্রাপ্ত অর্থ সমাজকল্যাণ, জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলোতে সরকারের গৃহীত ব্যবস্থা বাস্তবায়নে খরচ করা হবে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, সিনেটে করনীতিবিষয়ক শীর্ষ ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা ও সিনেট ফাইন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান রন ওয়াইডেন বুধবার এ প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন।

পরিকল্পনাধীন নীতিটিকে আমেরিকানরা বলছে ‘বিলিয়নিয়ার্স ট্যাক্স’। এতে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে লাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ন্যূনতম করপোরেট ট্যাক্স ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এ পরিকল্পনায় সমর্থন জানিয়েছে হোয়াইট হাউজ।

গৃহীত হলে ২০২২ অর্থবছরে কার্যকর হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন এ করনীতি। এটি প্রভাব ফেলবে ১০০ কোটি ডলারের বেশি সম্পত্তির অধিকারী প্রায় ৭০০ করদাতার ওপর। টানা তিন বছর বার্ষিক আয় ১০ কোটি ডলার যাদের, তাদের ওপরেও প্রযোজ্য হবে এ নীতি।

ওয়াইডেন ও ডেমোক্রেটিক সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেনসহ অন্য আইনপ্রণেতারা বলছেন, এ নীতিমালা কার্যকর হলে বড় ও ধনী প্রতিষ্ঠানগুলোর করফাঁকি দেয়ার সুযোগ কমবে। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনাকে বাস্তব রূপ দেয়ার জন্য পর্যাপ্ত অর্থের সংস্থানও হবে।

বাইডেনের ‘বিল্ড ব্যাক বেটার’ পরিকল্পনার খরচ দেড় থেকে দুই ট্রিলিয়ন ডলার।

সম্প্রতি ন্যূনতম করপোরেট ট্যাক্স নির্ধারণের নীতি গ্রহণে সম্মত হয়েছে ১৩৬টি দেশ। আন্তর্জাতিক করনীতির ফাঁকফোকর খুঁজে বের করে যেসব বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান কম বা একেবারেই কর দেয় না, তাদের সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আনতে নেয়া হয় এ সিদ্ধান্ত।

বাইডেন প্রশাসের এ পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানিয়েছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ও বিদ্যুৎচালিত গাড়িনির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার প্রধান নির্বাহী তিনি। চলতি মাসে মাস্কের সম্পত্তির মূল্য ২৩ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়েছে।

বাইডেন সরকারকে ব্যাঙ্গ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে মাস্ক লিখেছেন, ‘অন্যদের পয়সা ফুরিয়ে ফেলবে তারা। তারপর আপনার পেছনে দৌড়াতে শুরু করবে।’

তবে সব ধনকুবের এ পরিকল্পনার বিরোধিতা করছেন না। সমর্থন জানিয়েছেন বিনিয়োগকারী ও উদারপন্থি কর্মী জর্জ সরোস।

আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্র শর্ত মানলে কাবুল বিমানবন্দর চালাবে তুরস্ক: এরদোয়ান
ইউরোপে হিজাব বন্ধের নির্দেশে তুরস্কের সমালোচনা
ইসরায়েলের প্রেসিডেন্টকে ফোন, সম্পর্কে জোর এরদোয়ানের
তুরস্কে বাস দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১২
শিশু সেনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান তুরস্কের

শেয়ার করুন

ষড়যন্ত্র তত্ত্বে বিশ্বাসীদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি: গবেষণা

ষড়যন্ত্র তত্ত্বে বিশ্বাসীদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি: গবেষণা

প্রতীকী ছবি।

গবেষণায় জানা গেছে, ষড়যন্ত্র তত্ত্বের প্রতি অগাধ বিশ্বাস ব্যক্তির আচরণকে প্রভাবিত করে। তারা মহামারিকালীন বিধিনিষেধ মানেননি। টিকা গ্রহণেও অনীহা দেখিয়েছেন। এ কারণেই করোনা নিয়ে ষড়যন্ত্র তত্ত্বে বিশ্বাসী ব্যক্তিদের বড় অংশ কোনো না কোনো সময়ে এতে আক্রান্ত হয়েছেন।

মহামারি করোনা নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র তত্ত্বে যারা বিশ্বাস করেছেন, তাদেরই ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে চমকপ্রদ এ তথ্য।

২০২০ সালের শুরুতে করোনাভাইরাস মহামারির সূচনালগ্ন থেকেই এ নিয়ে অসংখ্য ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়িয়েছে।

বিজ্ঞানবিষয়ক ব্লগ আইএফএল সায়েন্সের একটি নিবন্ধ থেকে জানা যায়, এসব তত্ত্বে বিশ্বাস করার প্রভাব সম্ভবত পড়ছে বিশ্বাসীদের স্বাস্থ্যের ওপর।

সাইকোলজিক্যাল মেডিসিন জার্নালে প্রকাশিত মূল গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনাবিষয়ক ষড়যন্ত্রে যারাই বিশ্বাস করেছেন, তাদের বেশিরভাগই পরবর্তীতে করোনা পজিটিভ হয়েছেন।

গবেষণায় জানা গেছে, ষড়যন্ত্র তত্ত্বের প্রতি অগাধ বিশ্বাস ব্যক্তির আচরণকে প্রভাবিত করে। তারা মহামারিকালীন বিধিনিষেধ মানেননি। টিকা গ্রহণেও অনীহা দেখিয়েছেন।

এ কারণেই করোনা নিয়ে ষড়যন্ত্র তত্ত্বে বিশ্বাসী ব্যক্তিদের বড় অংশ কোনো না কোনো সময়ে এতে আক্রান্ত হয়েছেন। অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষতির শিকারও তারাই বেশি হয়েছেন।

নেদারল্যান্ডসের ভ্রিজে ইউনিভার্সিটেইট অ্যামস্টারডামের একদল বিজ্ঞানী গবেষণাটি করেছেন।

তারা লিখেছেন, ‘যুক্তি ও বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে বিচার করলে বেশিরভাগ ষড়যন্ত্র তত্ত্বই অবিশ্বাস্য। কিন্তু যিনি এ ধারণা গ্রহণ করছেন, তার কাছে এটি গ্রহণযোগ্য বা বাস্তব বলে মনে হলে তার মন-মানসিকতা, আচরণ ও অনুভূতিতে এর প্রভাব পড়ে।’

মনোবিজ্ঞানী জ্যান-উইলেম ভ্যান প্রুইজেনের নেতৃত্বে গবেষণাটি হয়েছে। এ জন্য নেদারল্যান্ডসের পাঁচ হাজার ৭৪৫ জন ব্যক্তির ওপর জরিপ চালানো হয়েছে। প্রথমবার ২০২০ সালের এপ্রিলে, এবং দ্বিতীয়বার আট মাস পরে।

প্রথম জরিপে স্বেচ্ছাসেবীদের কাছে জনপ্রিয় কয়েকটি ষড়যন্ত্র নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। জানতে চাওয়া হয়েছিল যে, করোনাভাইরাস যে জৈব অস্ত্র, নাগরিক অধিকার হরণের কৌশল, অর্থনৈতিক লাভের জন্য ছড়ানো গুজব বা অর্থনৈতিক ধসের খবর ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা- এসব বিষয়ে তাদের বিশ্বাসের মাত্রা কতটা।

এরপর ২০২০ সালের ডিসেম্বরে একই ব্যক্তিদের আবার প্রশ্ন করা হয়। এবার জানতে চাওয়া হয় মহামারি নিয়ে তাদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা কী। প্রশ্নের অন্তর্ভুক্ত ছিল- তারা করোনা পরীক্ষা করিয়েছিলেন কি না, পজিটিভ এসেছিল নাকি নেগেটিভ, তারা করোনাকালীন স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন করেছেন কি না ইত্যাদি।

দুটি জরিপের পর সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, ষড়যন্ত্র তত্ত্বে বিশ্বাসী ব্যক্তিদের ওপর দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাবই বেশি।

পৃথক এক গবেষণায় দেখা গেছে, একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্বনির্ভর ভুয়া চিকিৎসা নিয়ে গত বছর ৮০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্র শর্ত মানলে কাবুল বিমানবন্দর চালাবে তুরস্ক: এরদোয়ান
ইউরোপে হিজাব বন্ধের নির্দেশে তুরস্কের সমালোচনা
ইসরায়েলের প্রেসিডেন্টকে ফোন, সম্পর্কে জোর এরদোয়ানের
তুরস্কে বাস দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১২
শিশু সেনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান তুরস্কের

শেয়ার করুন

চীনের নতুন ভূমি আইন নিয়ে উদ্বিগ্ন ভারত

চীনের নতুন ভূমি আইন নিয়ে উদ্বিগ্ন ভারত

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচি। ফাইল ছবি

নতুন আইনে চীন ও পাকিস্তানের মধ্যকার সীমান্ত চুক্তিকে বৈধতা দেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ ভারতের। বেইজিং-ইসলামাবাদের ১৯৬৩ সালের চুক্তিটির ঘোর বিরোধী নয়া দিল্লি।

চীন-ভারত সীমান্তে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থায় বেইজিংয়ের নতুন ভূমি আইন প্রভাব ফেলতে পারে বলে উদ্বেগ জানিয়েছে নয়া দিল্লি। অভিযোগ, কোনো আলোচনা ছাড়াই একতরফাভাবে ভূমি আইনবিষয়ক নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে চীন সরকার।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানায়, চীনের নতুন আইনের কারণে দুই দেশের অমীমাংসিত সীমান্ত বিতর্কে প্রভাব পড়তে পারে।

দিল্লিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচি বলেন, “এটা বুঝতে হবে যে ভারত ও চীন এখনও সীমান্ত সমস্যার সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি। এ অবস্থায় একটি নতুন ভূমি আইন ও চীনের একতরফা সিদ্ধান্ত সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনার কারণ হতে পারে।

‘এ ছাড়া সীমান্ত ইস্যুতে আমাদের বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক চুক্তিও ঝুঁকিতে পড়তে পারে। বিষয়টি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।’

অরিন্দম বাগচি আরও বলেন, ‘এই আইনের ঘোষণা এমন এক সময়ে এসেছে যখন বেইজিং ও নয়াদিল্লির মধ্যে পূর্ব লাদাখে অচলাবস্থা সমাধানের জন্য আলোচনা চলছে। নতুন এ আইনটির অর্থ হলো- সীমান্তে নিয়ন্ত্ররেখা বিষয়ে বর্তমান অবস্থানেই অনড় থাকবে চীন।’

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, চীন এ আইনের দোহাই দিয়ে সীমান্ত পরিস্থিতি উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া থেকে বিরত থাকবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নতুন আইনে চীন ও পাকিস্তানের মধ্যকার সীমান্ত চুক্তিকে বৈধতা দেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ ভারতের। বেইজিং-ইসলামাবাদের ১৯৬৩ সালের চুক্তিটির ঘোর বিরোধী নয়া দিল্লি।

আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্র শর্ত মানলে কাবুল বিমানবন্দর চালাবে তুরস্ক: এরদোয়ান
ইউরোপে হিজাব বন্ধের নির্দেশে তুরস্কের সমালোচনা
ইসরায়েলের প্রেসিডেন্টকে ফোন, সম্পর্কে জোর এরদোয়ানের
তুরস্কে বাস দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১২
শিশু সেনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান তুরস্কের

শেয়ার করুন