হুয়াওয়ে কর্মকর্তার মুক্তির পর দুই কানাডীয়কে ছাড়ল চীন

হুয়াওয়ে কর্মকর্তার মুক্তির পর দুই কানাডীয়কে ছাড়ল চীন

২০১৮ সালে কানাডার নাগরিক মাইকেল স্প্যাভর (বামে) ও মাইকেল কোভরিগের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ আনে চীন। ছবি: এএফপি

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেন, ‘এটি আমাদের সবার জন্য খুশির সংবাদ, স্প্যাভর ও কোভরিগ অবশেষে তাদের পরিবারের কাছে দীর্ঘদিন পর ফিরছেন। গত এক হাজার দিন চীনের কারাগারে থেকে তারা অসীম ধৈর্য ও সহনশীলতার পরিচয় দিয়েছেন।’

হুয়াওয়ে কোম্পানির প্রধান আর্থিক কর্মকর্তাকে মুক্তির পরপরই প্রায় তিন বছর চীনের কারাগারে বন্দি কানাডার দুই নাগরিককে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। মুক্তি পাওয়ার পর ওই কানাডীয়রা দেশে ফেরার পথে রয়েছেন।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এসব ঘোষণা দিয়েছেন বলে বিবিসির শনিবারের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে হুয়াওয়ের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা মেং ওয়ানঝাউকে গ্রেপ্তার করে কানাডা পুলিশ।

ওই ঘটনার পরপরই কানাডার নাগরিক মাইকেল স্প্যাভর ও মাইকেল কোভরিগের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ আনে চীন।

স্প্যাভর ও কোভরিগের মুক্তির আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রসিকিউটরদের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছার পর কানাডা ছাড়েন হুয়াওয়ের নির্বাহী ওয়ানঝাউ।

হুয়াওয়ের শীর্ষপর্যায়ের কর্মকর্তার গ্রেপ্তার এবং এর পরপরই স্প্যাভর ও কোভরিগের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ঘিরে কয়েক বছর ধরে চীন ও কানাডার মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

সংবাদ সম্মেলনে ট্রুডো জানান, মাইকেল স্প্যাভর ও মাইকেল কোভরিগ দুজনই ‘অবিশ্বাস্য জটিল অভিজ্ঞতার’ মধ্য দিয়ে গেছেন।

তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের সবার জন্য খুশির সংবাদ, স্প্যাভর ও কোভরিগ অবশেষে তাদের পরিবারের কাছে দীর্ঘদিন পর ফিরছেন।

‘গত এক হাজার দিন চীনের কারাগারে থেকে তারা অসীম ধৈর্য ও সহনশীলতার পরিচয় দিয়েছেন।’

কানাডার প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো জানান, স্প্যাভর ও কোভরিগ উভয়ই শনিবার ভোরের দিকে দেশে ফিরবেন। চীনে কানাডার রাষ্ট্রদূত ডমিনিক বারটন তাদের সঙ্গে রয়েছেন।

ব্রাসেলসভিত্তিক থিংকট্যাংক ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের সাবেক কূটনীতিক কোভরিগ।

অন্যদিকে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আন্তর্জাতিক ব্যবসা ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক স্থাপনকারী এক সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য স্প্যাভর।

প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার হুয়াওয়ের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা ওয়ানঝাউয়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রসিকিউটররা সম্প্রতি এক চুক্তিতে পৌঁছান।

এরপর শুক্রবার ওয়ানঝাউকে মুক্তির নির্দেশ দেয় কানাডার এক আদালত।

কানাডার ভ্যানকুভার শহরের এক আদালত প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে ওয়ানঝাউ সাংবাদিকদের বলেন, ‘গত তিন বছরে আমার জীবন ওলটপালট হয়ে গেছে।

‘বিশ্বজুড়ে মানুষের শুভকামনা আমি কখনও ভুলব না।’

হুয়াওয়ে কর্মকর্তার মুক্তির পর দুই কানাডীয়কে ছাড়ল চীন

হুয়াওয়ে কোম্পানির প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা মেং ওয়ানঝাউ। ছবি: এএফপি

২০১৮ সালে স্প্যাভর ও কোভরিগের বিরুদ্ধে চীনের গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগের পর চলতি বছরের আগস্টে স্প্যাভরকে ১১ বছরের কারাদণ্ড দেয় দেশটির এক আদালত।

কোভরিগের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি চীনা আদালত।

সমালোচকদের ভাষ্য, হুয়াওয়ের কর্মকর্তা ওয়ানঝাউকে কানাডার গ্রেপ্তারের পর রাজনৈতিক দর-কষাকষির মাধ্যম হিসেবে স্প্যাভর ও কোভরিগকে গ্রেপ্তার করে চীন।

অবশ্য এ অভিযোগ বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে আসছে চীন।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিঙ্কেন এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, বিধিবহির্ভূতভাবে কানাডার ওই দুই নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছিল চীন।

আরও পড়ুন:
বিদেশে কয়লাভিত্তিক প্রকল্পে বিনিয়োগ বন্ধ করছে চীন
চীনের সঙ্গে টক্কর দিতে চিপ বানাবে ৪ দেশ  
ভারত-চীন সম্পর্ক তৃতীয় দেশের চোখে দেখা নয়: জয়শঙ্কর 
চীনে স্কুল থেকে করোনার ফের প্রাদুর্ভাব
চীন থেকে আরও ৫৪ লাখ টিকা আসছে শনিবার

শেয়ার করুন

মন্তব্য

পাকিস্তানের সঙ্গে দৃঢ় বাণিজ্যিক সম্পর্ক চান শেখ হাসিনা

পাকিস্তানের সঙ্গে দৃঢ় বাণিজ্যিক সম্পর্ক চান শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ঢাকায় পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান আহমেদ সিদ্দিকীর বৈঠক। ছবি: ডন

ডনের প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঢাকায় পাকিস্তানের হাইকমিশনারের বৈঠকটি খুব গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এমন সময় বৈঠকটি হলো, যখন উভয় দেশ প্রথমবারের মতো শেখ হাসিনার পাকিস্তান সফরের জন্য প্রস্তুতি শুরু করেছে।

পাকিস্তানের সঙ্গে আরও শক্তিশালী বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা গড়ে তুলতে সরকারের ইচ্ছার বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশে পাকিস্তানের হাই কমিশনার ইমরান আহমেদ সিদ্দিকী সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক চাঙ্গা করার ইচ্ছার বিষয়টি জানান বলে ডনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র বিষয়ক দপ্তরের এক বিবৃতির বরাতে এতে বলা হয়, উভয় পক্ষ দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সম্মত হয়েছেন।

প্রায় সাত মাসের মধ্যে এটা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও ইমরান আহমেদের মধ্যে দ্বিতীয় সাক্ষাৎ।

ডন লিখেছে, এক দশকের বেশি সময় দুই দেশের সম্পর্ক বরফ কঠিন অবস্থায় জমে থাকার পর আবার তা উষ্ণ করার লক্ষ্যেই এই বৈঠক।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, বৈঠকটি খুব গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। আর এমন সময় বৈঠকটি হলো, যখন উভয় দেশ প্রথমবারের মতো শেখ হাসিনার পাকিস্তান সফরের জন্য প্রস্তুতি শুরু করেছে।

ডন লিখেছে, পাকিস্তান সফরের জন্য গত জুলাইয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের পাঠানো আমন্ত্রণপত্র সম্প্রতি গ্রহণ করেছেন বলে ইসলামাবাদকে প্রত্যুত্তরে জানান শেখ হাসিনা। তবে তার পাকিস্তান সফরের জন্য এখনও কোনো সময় নির্ধারণ করা হয়নি। ইমরান খানকেও বাংলাদেশ সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তিনি।

প্রতিবেদনটিতে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাকিস্তান সফর সফল করতে রোড ম্যাপ তৈরি করার জন্য বাংলাদেশকে প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইসলামাবাদ।

পাশাপাশি ঢাকার সঙ্গে অন্যান্য দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কও পুনরুজ্জীবিত করতে জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে ইমরান সরকার। এর অংশ হিসেবে প্রায় ১৩ বছর ধরে বন্ধ থাকা দুই দেশের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ে ডায়ালগ আবার শুরু করতে চায় পাকিস্তান।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক শক্ত করার জন্য নানা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ দিবসগুলোতে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠানো হয় ইসলামাবাদ থেকে। সবশেষ মৌসুমে উভয় দেশ আম উপহার পাঠিয়েছে।

এক দেশ হয়ে থাকলেও ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে পাকিস্তান থেকে স্বাধীনতা লাভ করে বিশ্বের মানচিত্রে আলাদা রাষ্ট্র হিসেবে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ।

এরপর থেকেই দেশ দুটির মধ্যে বৈরী সম্পর্ক বিদ্যমান। ২০০৯ সালে বাংলাদেশ সরকার ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে ট্রাইব্যুনাল গঠন করলে টানাপোড়েন চরমে পৌঁছায়।

আরও পড়ুন:
বিদেশে কয়লাভিত্তিক প্রকল্পে বিনিয়োগ বন্ধ করছে চীন
চীনের সঙ্গে টক্কর দিতে চিপ বানাবে ৪ দেশ  
ভারত-চীন সম্পর্ক তৃতীয় দেশের চোখে দেখা নয়: জয়শঙ্কর 
চীনে স্কুল থেকে করোনার ফের প্রাদুর্ভাব
চীন থেকে আরও ৫৪ লাখ টিকা আসছে শনিবার

শেয়ার করুন

আফগানিস্তানে ৫০০ ডলারে বিক্রি হচ্ছে মেয়েশিশু

আফগানিস্তানে ৫০০ ডলারে বিক্রি হচ্ছে মেয়েশিশু

৫০০ ডলারে এই মেয়েশিশুকে বিক্রি করতে বাধ্য হয় তার পরিবার। ছবি: বিবিসি

‘আফগানিস্তানের বিপন্ন মানুষদের কাছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের শিগগিরই পৌঁছতে হবে। তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেয়া হবে কি হবে না, এ বিতর্কে আটকে গেলে এখানকার লাখ লাখ শিশুকে বাঁচানো সম্ভব হবে না।’

তালেবান ক্ষমতা দখলের পর ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে আফগানিস্তান। দীর্ঘ দুই দশক যুদ্ধ চলাকালে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা দেশটিকে সহায়তা করে। যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত সরকারকে আগস্টে তালেবান ক্ষমতাচ্যুত করার পর ওইসব সহায়তা বন্ধ হয়ে যায়।

তালেবানের নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক কেমন হবে, তা নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি পশ্চিমা বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সিদ্ধান্তহীনতার ফল ভুগতে হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশটির লাখ লাখ মানুষকে।

সোমবার জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) সতর্ক করে জানায়, আসছে শীতে অর্ধেকের বেশি আফগান চরম খাদ্য সংকটে ভুগবে। খাদ্যের অভাবে লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু হবে যদি না দ্রুতই আফগানিস্তানে ত্রাণ পাঠানো হয়।

বিবিসির সাংবাদিক ইয়োগিতা লিমায়ে ও তার দল সম্প্রতি আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় হেরাত শহরের মেডিসিন্স সানস ফ্রন্ট্রিয়ার্স হাসপাতালের পাশাপাশি শহরটির গ্রামাঞ্চলে যান।

হাসপাতালটি থেকে লামিয়ে বলেন, ‘বিদেশি সহায়তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আফগানিস্তানের কমপক্ষে দশ লাখের বেশি শিশু মৃত্যুঝুঁকিতে রয়েছে।

‘তিন মাস বয়সী এক শিশু ওসমান। ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের কারণে জন্মের সময় তার ওজন অনেক কম ছিল। তার বাবার হাতে এখন কোনো কাজ নেই।

‘শুধু ওসমানের বাবা নয়, আফগানিস্তানের আরও লাখ লাখ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে বেকার।

ওসমানের মা লামিয়েকে বলেন, ‘আমাদের হাতে কোনো অর্থ নেই। বিশ্ব যেন আমাদের সহায়তায় এগিয়ে আসে, আমরা তা চাই। আমাদের শিশুরা কষ্টে আছে।’

হেরাতের মেডিসিন্স সানস ফ্রন্ট্রিয়ার্সের আশপাশে কয়েক মাইলের মধ্যে আর কোনো হাসপাতাল নেই বলে জানান লামিয়ে।

তিনি বলেন, ‘আফগানিস্তানের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার বড় অংশ বৈদেশিক সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল, যা এখন বন্ধ।

‘হেরাতের এই হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরা গত চার মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না। চিকিৎসা সামগ্রী কেনার মতো অর্থ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নেই।’

বিবিসি সাংবাদিক লামিয়ে বলেন, ‘হেরাতের গ্রামাঞ্চলে সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে আফগানরা অকল্পনীয় কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন।’

পরিচয় গোপন রেখে এক মা লামিয়েকে বলেন, ‘আমার সন্তানরা ক্ষুধায় মারা যাচ্ছিল। এ কারণে আমার ছোট্ট মেয়েশিশুকে বিক্রি করা ছাড়া আর কিছু করার ছিল না।

‘আমি খুব খুশি হতাম যদি আমার মেয়েটাকে বিক্রি করা না লাগত।’

লামিয়ে জানান, ওই মেয়েশিশুর বাবা আবর্জনা কুড়িয়ে সংসার চালাতেন। কিন্তু তা দিয়ে এখন আর সংসার চলছে না।

শিশুটির বাবা বলেন, ‘ঘরে তেল, ময়দা কিছু ছিল না। অনাহারে দিন কাটছিল আমাদের। আমার মেয়ে আমার সম্পর্কে কী ভাবছে জানি না। তবে তাকে বিক্রি করা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।’

লামিয়ে বলেন, ‘মেয়েটি একটু বড় না হওয়া পর্যন্ত সে তার মা-বাবার কাছে থাকবে। এরপর যে ব্যক্তি তাকে কিনেছেন, তিনি মেয়েটিকে নিয়ে যাবেন।

‘মেয়েটিকে কিনতে ওই পরিবারকে ৫০০ ডলারের বেশি দিয়েছেন ওই ব্যক্তি। এ টাকায় মেয়েটির পরিবারের কয়েক মাস চলে যাবে।

‘পরিবারটিকে বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তির ছেলের সঙ্গে মেয়েটির বিয়ে দেয়া হবে। তবে এ বিষয়ে কেউ নিশ্চিত নয়।’

লামিয়ে বলেন, ‘এখানে আরও অনেক পরিবার তাদের সন্তানদের বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে।

‘আমাদের দলের একজনের কাছে এক আফগান তার সন্তান বিক্রি করতে চেয়েছিলেন। এতে বোঝা যাচ্ছে, কতটা অসহায় হলে মানুষ এমনটা করতে পারে। এখানকার পরিস্থিতি বলার মতো নয়।

‘আফগানিস্তানের এসব বিপন্ন মানুষদের কাছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের শিগগিরই পৌঁছতে হবে। তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেয়া হবে কি হবে না, এ বিতর্কে আটকে গেলে এখানকার লাখ লাখ শিশুকে বাঁচানো সম্ভব হবে না।’

আরও পড়ুন:
বিদেশে কয়লাভিত্তিক প্রকল্পে বিনিয়োগ বন্ধ করছে চীন
চীনের সঙ্গে টক্কর দিতে চিপ বানাবে ৪ দেশ  
ভারত-চীন সম্পর্ক তৃতীয় দেশের চোখে দেখা নয়: জয়শঙ্কর 
চীনে স্কুল থেকে করোনার ফের প্রাদুর্ভাব
চীন থেকে আরও ৫৪ লাখ টিকা আসছে শনিবার

শেয়ার করুন

ফেসবুকের আয় বেড়েছে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি

ফেসবুকের আয় বেড়েছে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি

ফেসবুক গত তিন মাসে ৯ বিলিয়ন ডলার আয় করে। ছবি: এএফপি

সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট ফেসবুক জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই তিন মাসে ৯ বিলিয়ন ডলারের মুনাফা কামিয়েছে। গত বছর একই সময়ে ফেসবুকের মুনাফা ছিল ৭ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের বিরুদ্ধে সম্প্রতি বেশ কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ তুলে আলোড়ন সৃষ্টি করেন মাধ্যমটির সাবেক প্রোডাক্ট ম্যানেজার ও হুইসেলব্লোয়ার ফ্রান্সেস হাউগেন।

বিভক্তি সৃষ্টি, শিশুদের ক্ষতিসাধন, নিরাপত্তার চেয়ে মুনাফার দিকে বেশি ঝোঁক, গণতন্ত্র দুর্বল করাসহ ফেসবুকের বিরুদ্ধে হাউগেনের অন্যান্য অভিযোগ নিয়ে বিশ্বব্যাপী চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে সম্প্রতি বলা হয়, বিভিন্ন নথিতে দেখা যায়, বিদ্বেষপ্রসূত বক্তব্য ও যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে মানবপাচার প্রচার সংবলিত কন্টেন্ট সরাতে বারবারই ব্যর্থ হয় ফেসবুক।

এমন পরিপ্রেক্ষিতে বিবিসির মঙ্গলবারের প্রতিবেদনে বলা হয়, সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট ফেসবুক জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই তিন মাসে ৯ বিলিয়ন ডলারের মুনাফা কামিয়েছে। গত বছর একই সময়ে ফেসবুকের মুনাফা ছিল ৭ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার।

ফেসবুকের বিরুদ্ধে আনা সাম্প্রতিক অভিযোগ সম্পর্কে এটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মার্ক জাকারবার্গ সোমবার বিনিয়োগকারীদের বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে সমন্বিত প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।’

ফেসবুকের পক্ষ থেকে বলা হয়, ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গত ১২ মাসে মাধ্যমটির মাসিক ব্যবহারকারীর হার ৬ শতাংশ অর্থাৎ ২ দশমিক ৯১ বিলিয়ন বৃদ্ধি পেয়েছে।

অবশ্য গত কয়েক মাসে ফেসবুকের আয় অনেক বাড়লেও অ্যাপলের গোপনীয়তা নীতির কারণে এটির রাজস্ব কিছুটা কমেছে।

অ্যাপলের আইওএস ১৪ অপারেটিং সিস্টেমে সম্প্রতি গোপনীয়তা নীতি হালনাগাদ করা হয়। এতে নির্দিষ্ট ব্যবহারকারীদের কাছে বিজ্ঞাপন দিতে বেশ কয়েকটি ব্র্যান্ডের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। নতুন এই নীতির প্রভাব স্বাভাবিকভাবে ফেসবুকেও পড়ে।

এ বিষয়ে ফেসবুক জানিয়েছে, বছরের শেষ তিন মাসেও অ্যাপলের গোপনীয়তা নীতির ফলে ডিজিটাল ব্যবসায় কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে ওই পরিবর্তনের সঙ্গে ধীরে ধীরে সামঞ্জস্য করা হবে।

আরও পড়ুন:
বিদেশে কয়লাভিত্তিক প্রকল্পে বিনিয়োগ বন্ধ করছে চীন
চীনের সঙ্গে টক্কর দিতে চিপ বানাবে ৪ দেশ  
ভারত-চীন সম্পর্ক তৃতীয় দেশের চোখে দেখা নয়: জয়শঙ্কর 
চীনে স্কুল থেকে করোনার ফের প্রাদুর্ভাব
চীন থেকে আরও ৫৪ লাখ টিকা আসছে শনিবার

শেয়ার করুন

কালারি জনপ্রিয়তার পেছনে মিনাক্সি আম্মা

কালারি জনপ্রিয়তার পেছনে মিনাক্সি আম্মা

মার্শাল আর্ট কালারিতে মিনাক্সি আম্মার সঙ্গে লড়ছেন তার ছেলে সজিভ কুমার। ছবি: সংগৃহীত

মেয়েদের নিরাপত্তায় কালারি শেখার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে মিনাক্সি বলেন, ‘পত্রিকার পাতা খুললেই নারীর ওপর সহিংসতার খবর নজরে আসে। যদি নারীরা এই মার্শাল আর্ট আয়ত্ব করে তাহলে তারা শারীরিক ও মানসিকভাবে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবে। তখন তারা একা বাইরে কাজে যেতে আর ভয় পাবে না।’

ভারতের ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন মার্শাল আর্ট কালারি দিন দিন জনপ্রিয় করে তুলছেন ৭৮ বছর বয়সী মিনাক্সি আম্মা।

মেয়েদের নিরাপত্তা ও স্বাধীন চলাচল নিশ্চিতে কার্যকর এই মার্শাল আর্ট আগ্রহ নিয়ে কেরালায় দাদুর কাছ থেকে শিখে নিচ্ছেন বিভিন্ন বয়সী নারীরা। তার ঐকান্তিক চেষ্টায় কালারি ফিরে পাচ্ছে এর হারানো গৌরব।

প্রায় তিন হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী এই মার্শাল আর্টকে ফের জনপ্রিয় করার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৭ সালে ভারতের জাতীয় পুরস্কার জিতে নেন দাদু নামে সুপরিচিত এই নারী।

বার্তা সংস্থা এএফপিতে দেয়া এক সাক্ষাতকারে দাদু জানান, কালারিপায়াট্টু বা কালারি ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন মার্শাল আর্টস যার উৎপত্তি দক্ষিণ ভারতে। এতে প্রধানত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয় লাঠি।

তিনি আরও বলেন, ‘সাত বছর বয়সে কালারি শেখা শুরু করি। এখন আমি ৭৮-তে। এখনও কালারি আমাকে নতুন কিছু শিখাচ্ছে। আমিও তা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছি অনেকের মাঝে।’

কালারি জনপ্রিয়তার পেছনে মিনাক্সি আম্মা
বিভিন্ন বয়সী মেয়েরা আগ্রহ নিয়ে কালারি শিখছেন। ছবি: সংগৃহীত

মেয়েদের নিরাপত্তায় কালারি শেখার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে মিনাক্সি বলেন, ‘পত্রিকার পাতা খুললেই নারীর ওপর সহিংসতার খবর নজরে আসে। যদি নারীরা এই মার্শাল আর্ট আয়ত্ব করে তাহলে তারা শারীরিক ও মানসিকভাবে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবে। তখন তারা একা বাইরে কাজে যেতে আর ভয় পাবে না।’

‘যখন আমি ছোট ছিলাম তখন খুব বেশি মেয়ে কালারি শিখতো না। আমরা বড়জোর পাঁচ থেকে ছয় জন ছিলাম যারা শিখতাম। এখন যখন আমি কালারি প্রশিক্ষণ শুরু করেছি তখন অনেক জায়গা থেকে বিভিন্ন বয়সী মেয়েরা আগ্রহ নিয়ে যোগ দিচ্ছেন। কালারি এখন স্পোর্টস হিসেবেও স্বীকৃতি পেয়েছে,’ যোগ করেন মিনাক্সি।

কালারিতে রয়েছে নৃত্য আর ইয়োগার বিভিন্ন ভঙ্গি। এতে তলোয়ার, ঢাল ও লাঠি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তিন হাজার বছর আগের হিন্দু শাস্ত্রেও কালারির উল্লেখ পাওয়া যায়। এখনও ধর্মীয় আচার হিসেবে প্রচলন রয়েছে এই বিশেষ ধরনের মার্শাল আর্টের।

কালারি জনপ্রিয়তার পেছনে মিনাক্সি আম্মা
কালারিতে রয়েছে নৃত্য আর ইয়োগার বিভিন্ন ভঙ্গি। ছবি: সংগৃহীত

ঔপনিবেশিক শাসনামলে ১৮০৪ সালে উপমহাদেশে কালারি অনুশীলন ও প্রচলন নিষিদ্ধ করে ব্রিটিশ শাসকরা। তবে গোপনে এই প্রচলন বন্ধ করতে ব্যর্থ হয় ব্রিটিশরা। উপমহাদেশ থেকে ব্রিটিশদের বিদায়ের পর ফের পূর্ণমাত্রায় ফিরে আসে কালারি।

সাম্প্রতিক সময়ে মিনাক্সির একক প্রচেষ্টায় জনপ্রিয়তার তুঙ্গে চলে এসেছে হারাতে যাওয়া এই ঐতিহ্যবাহী মার্শাল আর্ট।

দাদু জানান, তার স্বামী ১৯৪৯ সালে এই মার্শাল আর্টকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে ‘কাদাথানাদ কালারি সংগ্রাম স্কুল’ প্রতিষ্ঠা করেন।

কালারি শিক্ষার্থী নেহা ডি জানায়, এই বিশেষ মার্শাল আর্ট তার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে।

কালারি প্রশিক্ষক ও মিনাক্সি আম্মার ছেলে সজিভ কুমার বলেন, ‘কালারিপায়াট্টুর দুটো ভাগ আছে। শান্তির জন্য কালারি ও যুদ্ধের জন্য কালারি। এই আর্ট তখনই বেশি জনপ্রিয়তা পাবে যখন একে শুধুমাত্র শান্তির জন্য ব্যবহার করা হবে। এই আর্ট দেহ, মন ও আত্মার মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে। তখন মানুষের শারীরিক শক্তি বেড়ে যায় এবং শত্রু পরাস্ত হয়।

তিনি দাবি জানান, সরকারের উচিত এই মার্শাল আর্ট স্কুল ও কলেজে শেখানোর ব্যবস্থা করা।

আরও পড়ুন:
বিদেশে কয়লাভিত্তিক প্রকল্পে বিনিয়োগ বন্ধ করছে চীন
চীনের সঙ্গে টক্কর দিতে চিপ বানাবে ৪ দেশ  
ভারত-চীন সম্পর্ক তৃতীয় দেশের চোখে দেখা নয়: জয়শঙ্কর 
চীনে স্কুল থেকে করোনার ফের প্রাদুর্ভাব
চীন থেকে আরও ৫৪ লাখ টিকা আসছে শনিবার

শেয়ার করুন

সৌদি যুবরাজ ‘মানসিক বিকারগ্রস্ত’: সাবেক গোয়েন্দা

সৌদি যুবরাজ ‘মানসিক বিকারগ্রস্ত’: সাবেক গোয়েন্দা

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। ফাইল ছবি

অভিযোগকারী সাদ আলজাবেরি সাবেক সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন নায়েফের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা ছিলেন। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের পূর্বসূরী ও চাচাতো ভাই মোহাম্মদ বিন নায়েফ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও ছিলেন। ২০১৭ সালে তাকে সরিয়ে মোহাম্মদ বিন সালমানকে যুবরাজ ঘোষণা করেন বাদশাহ সালমান। বর্তমানে সৌদি আরবে বন্দি জীবনযাপন করছেন মোহাম্মদ বিন নায়েফ। সৌদি রাজনীতিতে তিনিই যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী বলে মনে করা হয়। আলজাবেরি বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম, আমার মৃত্যু অবধারিত। কারণ আমাকে মৃত না দেখা পর্যন্ত এই ব্যক্তি (বর্তমান যুবরাজ) থামবে না।’

সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ‘মানসিক বিকারগ্রস্ত’, ‘তার মধ্যে সহমর্মিতার বোধ বলে কিছু নেই’। সৌদি আরবের এক সাবেক জ্যেষ্ঠ গোয়েন্দা কর্মকর্তার দাবি এটি। তার মতে, সৌদি যুবরাজ ‘বেপরোয়া ও বিশ্বাসঘাতক’।

সাদ আলজাবেরি নামের ওই সাবেক গোয়েন্দা যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিবিএসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন এমন কথা। তিনি বলেন, ‘যুবরাজের মধ্যে আবেগ বলে কোনোকিছুর অস্তিত্ব নেই। তিনি পূর্ব-অভিজ্ঞতা থেকে কোনো শিক্ষা নেন না।’

সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগজি হত্যাকাণ্ডের পর আলজাবেরি নিজেই ঘাতকদের পরবর্তী লক্ষ্য বলে দাবি করেন।

ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৭ সালের মে মাসে সৌদি আরব থেকে পালিয়ে যান সাদ আলজাবেরি। বর্তমানে কানাডায় নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন তিনি।

সিবিএসের সিক্সটি মিনিটস অনুষ্ঠানে আলজাবেরি জানান, ২০১৮ সালে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে খাশোগজিকে হত্যার পর একটি ঘাতক দল কানাডার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। সে সময় এক সহযোগীর মাধ্যমে আলজাবেরি জানতে পারেন যে ওই দলটি তাকে হত্যা করতে যাচ্ছে।

আলজাবেরি জানান যে তাকে সতর্ক করে ওই সহযোগী বলেছিলেন, ‘কানাডায় কোনো সৌদি কূটনৈতিক মিশনের ধারেকাছে যাবেন না। কনস্যুলেটে যাবেন না, দূতাবাসেও যাবেন না।’

কেন জানতে চাইলে আলজাবেরিকে বলা হয়, ‘ওরা খাশোগজিকে টুকরো টুকরো করেছে, মেরে ফেলেছে। পরবর্তী লক্ষ্য হিসেবে তালিকার শীর্ষে এখন আপনি আছেন।’

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় মামলার অভিযোগপত্রের কল্যাণে কথিত সেই হত্যা পরিকল্পনার কিছু অংশের বিস্তারিত সামনে এসেছে আগেই। সিক্সটি মিনিটস অনুষ্ঠানে দেয়া আলজাবেরি মূলত তুলে ধরেছেন যুবরাজ মোহাম্মদের সঙ্গে তার সম্পর্কচ্ছেদের আদ্যপান্ত।

নিজের সন্তানদের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে আলজাবেরির আকুতিও উঠে আসে সাক্ষাৎকারে। সন্তানদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট দুই ভাইবোন সারাহ ও ওমর সৌদি আরবে কারাবন্দি। প্রাপ্তবয়স্ক এই দুই সন্তানকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি গত বছর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে উঠে আসে। অভিযোগ আছে, বাবা আলজাবেরিকে দেশে ফিরতে বাধ্য করার কৌশল হিসেবে সারাহ ও ওমরকে আটকে রেখেছে সৌদি রাজপরিবার।

সৌদি যুবরাজ ‘মানসিক বিকারগ্রস্ত’: সাবেক গোয়েন্দা
কানাডায় নির্বাসিত সাবেক সৌদি গোয়েন্দা কর্মকর্তা সাদ আল-জাবেরি। ছবি: এএফপি

তিনি বলেন, ‘আমাকে কথা বলতে হবে। আমেরিকান জনগণ আর আমেরিকান প্রশাসনকে অনুরোধ করছি, আমাকে সাহায্য করুন। আমার সন্তানদের মুক্ত করতে ও তাদের স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে দিতে আপনাদের সহযোগিতা আমার দরকার।’

আলজাবেরির অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত মুখ খোলেনি সৌদি প্রশাসন। তবে একটি বিবৃতিতে দাবি করেছে, ‘আলজাবেরি একজন নিন্দিত সাবেক সরকারি কর্মকর্তা। তথ্য অতিরঞ্জিত করার দীর্ঘ ইতিহাস আছে তার। নিজের আর্থিক অপরাধ ধামাচাপা দেয়ার লক্ষ্যে নজর ঘোরাতে এসব কৌশল অবলম্বন করেন তিনি।’

অভিযোগকারী সাদ আলজাবেরি সাবেক সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন নায়েফের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা ছিলেন। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের পূর্বসূরী ও চাচাতো ভাই মোহাম্মদ বিন নায়েফ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও ছিলেন। ২০১৭ সালে তাকে সরিয়ে মোহাম্মদ বিন সালমানকে যুবরাজ ঘোষণা করেন বাদশাহ সালমান।

বর্তমানে সৌদি আরবে বন্দি জীবনযাপন করছেন মোহাম্মদ বিন নায়েফ। সৌদি রাজনীতিতে তিনিই যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী বলে মনে করা হয়।

আলজাবেরি বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম, আমার মৃত্যু অবধারিত। কারণ আমাকে মৃত না দেখা পর্যন্ত এই ব্যক্তি (বর্তমান যুবরাজ) থামবে না।’

আলজাবেরির পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের জোরালো সমর্থন রয়েছে।

২০০১ সালে ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে টুইন টাওয়ারসহ বিভিন্ন জায়গায় একযোগে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা হয়। হামলা পরবর্তী সময়ে আমেরিকান ও সৌদি নাগরিকদের প্রাণ বাঁচাতে সহযোগিতার জন্য তৎকালীন সৌদি সরকারকে কৃতিত্ব দেয় সাবেক আমেরিকান গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। সে সময় সৌদি যুবরাজ ছিলেন মোহাম্মদ বিন নায়েফ, যার সহযোগী আলজাবেরি।

সিক্সটি মিনিটসে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর সাবেক ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মাইক মোরেল বলেন, ‘আলজাবেরি মর্যাদার যোগ্য ব্যক্তি।’

মোরেলের মতে, আলজাবেরির দেয়া গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই ২০১০ সালে নিষিদ্ধঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়েদার বোমা হামলার পরিকল্পনা নস্যাৎ করা সম্ভব হয়েছিল। পণ্যবাহী দুটি বিমানে থাকা মালামালের মধ্যে দুটি ডেস্কটপ প্রিন্টারে বোমা লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।

মোরেল জানান, আরও অনেকবারই আমেরিকানদের প্রাণ বাঁচিয়েছেন আলজাবেরি। কিন্তু সেসব ঘটনা এখনও গোপন তথ্য হিসেবে শ্রেণিভুক্ত।

কানাডায় আলজাবেরিকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আগে প্রত্যাখ্যান করেছে সৌদি আরব। খাশোগজি হত্যাকাণ্ডেও সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ স্বীকার করেনি দেশটি।

কিন্তু চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশিত গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন পোস্টের কলাম লেখক খাশোগজিকে হত্যায় অনুমোদন দিয়েছিলেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান নিজে।

এর আগে সাদ আলজাবেরি দাবি করেছিলেন যে বাদশাহ আবদুল্লাহ বিন আব্দুলআজিজ ক্ষমতায় থাকাকালীন তাকেও হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন মোহাম্মদ বিন সালমান।

আলজাবেরির মতে, চাচা বাদশাহ আবদুল্লাহকে হত্যা করে বাবা সালমান বিন আব্দুলআজিজকে সিংহাসনে বসাতে চেয়েছিলেন মোহাম্মদ।

ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় ৯০ বছর বয়সে ২০১৫ সালে মৃত্যু হয় বাদশাহ আবদুল্লাহর। তার উত্তরসূরী হিসেবে সৌদি আরবের পরবর্তী বাদশাহ হন আবদুল্লাহর সৎ ভাই সালমান বিন আব্দুলআজিজ। তাদের পিতা প্রয়াত বাদশাহ আব্দুলআজিজ বিন আব্দুল রহমান।

বর্তমান বাদশাহ সালমানের উত্তরসূরী ও সৌদি আরবের পরবর্তী সম্ভাব্য শাসক তার অষ্টম সন্তান মোহাম্মদ বিন সালমান। কথিত আছে ৮৫ বছর বয়সী বাদশাহ সালমানের ওপর যুবরাজ মোহাম্মদের কর্তৃত্ব আছে এবং সালমান প্রশাসনের সিদ্ধান্তের প্রায় সবটাই যুবরাজের নিয়ন্ত্রণে।

আরও পড়ুন:
বিদেশে কয়লাভিত্তিক প্রকল্পে বিনিয়োগ বন্ধ করছে চীন
চীনের সঙ্গে টক্কর দিতে চিপ বানাবে ৪ দেশ  
ভারত-চীন সম্পর্ক তৃতীয় দেশের চোখে দেখা নয়: জয়শঙ্কর 
চীনে স্কুল থেকে করোনার ফের প্রাদুর্ভাব
চীন থেকে আরও ৫৪ লাখ টিকা আসছে শনিবার

শেয়ার করুন

‘ভারতে মুসলিমবিদ্বেষ ছড়াতে সাহায্য করেছে ফেসবুক’

‘ভারতে মুসলিমবিদ্বেষ ছড়াতে সাহায্য করেছে ফেসবুক’

দিল্লির ঐতিহাসিক জামে মসজিদের সিঁড়িতে কয়েকজন মুসল্লি। ছবি: এএফপি

নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে, মুসলিমবিদ্বেষী পোস্ট ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে ফেসবুক জানত। এরপরেও সেগুলো ঠেকাতে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি প্রতিষ্ঠানটি। ভারতে নিজেদের ব্যবসার ওপর প্রভাব পড়তে পারে এমন আশঙ্কায় আরএসএসকে বিপজ্জনক সংগঠনের ক্যাটাগরিতে ফেলার বিষয়েও দ্বিধা দেখিয়েছে ফেসবুক।

ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতাদের পোস্টের ক্ষেত্রে সত্যতা যাচাই করত না সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক। একই সঙ্গে এটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) নেতাদের মুসলিমবিরোধী পোস্ট ছড়াতেও সাহায্য করেছে।

সম্প্রতি ফেসবুকের সাবেক কর্মকর্তা ফান্সিস হাউগেনের বরাতে এমন তথ্য উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম দি নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে

এতে বলা হয়েছে, ফেসবুকের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের প্রমাণ বেরিয়ে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে সংসদীয় কমিটির কাছে জমা দেয়া ফ্রান্সিস হাউগেনের নথি থেকে।

৩৭ বছর হাউগেন প্রায় দুই বছর ধরে ফেসবুকে কাজ করেছেন। সেখানে তার কাজ ছিল মিথ্যা সংবাদ ট্র্যাক করা এবং নিশ্চিত করা যে, প্ল্যাটফর্মটি গণতন্ত্রকে অস্থিতিশীল করার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে না।

হাউগেনের নথিতে উল্লেখ রয়েছে, কীভাবে ফেসবুকের প্রধান মার্ক জুকারবার্গের নীতি অনুযায়ী মেসেজ দেয়া-নেয়ার ওপর নজরদারি ভারতে আরও ভুল তথ্যের কারণ হয়েছিল। এর সবচেয়ে বেশি প্রভাব দেখা যায়, করোনাভাইরাস মহামারির সময়ে।

ফেসবুকের নথি অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটি মুসলিমবিরোধী পোস্টসহ ভারতে যে সমস্যাগুলো তৈরি হয়েছিল, সেটি মোকাবিলা করতে পারেনি।

ফাঁস হওয়া একটি অভ্যন্তরীণ নথিতে ফেসবুক গবেষকরা লিখেছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটির গ্রুপ এবং পৃষ্ঠাগুলো ‘উসকানিমূলক এবং বিভ্রান্তিকর মুসলিমবিরোধী সামগ্রীতে ভরা’।

প্রতিবেদনে উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, মুসলমানদের ‘শুয়োর’ এবং ‘কুকুর’ এর সঙ্গে তুলনা করে বেশ কিছু অমানবিক পোস্ট রয়েছে। অনেক পোস্টে মিথ্যা দাবি করা হয়েছে যে, কোরআন পুরুষদের তাদের পরিবারের নারীদের ধর্ষণ করতে বলে।

এতে বলা হয়েছে, বেশিরভাগ কনটেন্টই পাওয়া গেছে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন আরএসএসের মতবাদ প্রচারকারী ফেসবুক গ্রুপে। এই গোষ্ঠীগুলো বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান সীমান্তের কাছে মুসলমান সংখ্যালঘু জনবসতির বিস্তার নিয়ে মিথ্যা তথ্য প্রচার করেছিল। এরা ভারত থেকে মুসলমানদের অপসারণ এবং মুসলমান জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ আইন তৈরির জন্য ফেসবুকে পোস্ট করেছিল।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে, মুসলিমবিদ্বেষী পোস্ট ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে ফেসবুক জানত। এরপরেও সেগুলো ঠেকাতে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি প্রতিষ্ঠানটি। ভারতে নিজেদের ব্যবসার ওপর প্রভাব পড়তে পারে এমন আশঙ্কায় আরএসএসকে বিপজ্জনক সংগঠনের ক্যাটাগরিতে ফেলার বিষয়েও দ্বিধা দেখিয়েছে ফেসবুক।

ফেসবুকের একটি নথি অনুযায়ী, ভুয়া তথ্য শ্রেণীবদ্ধ করার জন্য কোম্পানির ব্যয়ের ৮৭ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বরাদ্দ, বাকি বিশ্বের জন্য এটি মাত্র ১৩ শতাংশ।

ফেসবুকের মুখপাত্র অ্যান্ডি স্টোন দাবি করেছেন, এই পরিসংখ্যান অসম্পূর্ণ এবং এতে কোম্পানির তৃতীয় পক্ষের ফ্যাক্টচেকিং অংশীদারদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

এদের অধিকাংশই যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

আরও পড়ুন:
বিদেশে কয়লাভিত্তিক প্রকল্পে বিনিয়োগ বন্ধ করছে চীন
চীনের সঙ্গে টক্কর দিতে চিপ বানাবে ৪ দেশ  
ভারত-চীন সম্পর্ক তৃতীয় দেশের চোখে দেখা নয়: জয়শঙ্কর 
চীনে স্কুল থেকে করোনার ফের প্রাদুর্ভাব
চীন থেকে আরও ৫৪ লাখ টিকা আসছে শনিবার

শেয়ার করুন

সুদানে অন্তর্বর্তী সরকার ভেঙে দিল সেনাবাহিনী, জরুরি অবস্থা

সুদানে অন্তর্বর্তী সরকার ভেঙে দিল সেনাবাহিনী, জরুরি অবস্থা

জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেয়ার সময় সুদান সেনাবাহিনীর জেনারেল আব্দেল ফাত্তাহ আল-বুরহান। ছবি: এএফপি

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী হামদকের কার্যালয়ের পরিচালক অ্যাডাম হেরেইকা বলেন, ‘সফররত যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত জেফ্রি ফেল্টম্যানের সঙ্গে সুদান সরকারের বৈঠকের পর হামদকের সঙ্গে একটি চুক্তি নিয়ে কাজ করছিল সেনাবাহিনী। ইতিবাচক অগ্রগতি সত্ত্বেও অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেছে তারা।’

সুদানে প্রধানমন্ত্রী আব্দাল্লাহ হামদককে গ্রেপ্তারের পর অন্তর্বর্তী সরকার ভেঙে দিয়েছে সেনাবাহিনী। জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন সেনাবাহিনীর জেনারেল আব্দেল ফাত্তাহ আল-বুরহান।

সাবেক স্বৈরশাসক ওমর আল-বশিরের পতনের পর দুই বছর ধরে সুদান শাসন করা সার্বভৌম পরিষদের প্রধান জেনারেল বুরহান।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, সুদানের বেসামরিক সরকারের মন্ত্রিসভার প্রায় সব সদস্যকে সোমবার গ্রেপ্তার করেছে সেনাবাহিনী। এর প্রতিবাদে রাজধানী খারতুমে চলছে ব্যাপক বিক্ষোভ। রাজপথে গণতন্ত্রপন্থি বিক্ষোভকারীদের অবস্থান, গোলাগুলি ও ১২ জন আহত হওয়ার খবরের মধ্যেই এল সরকার ভেঙে দেয়ার ঘোষণা।

গণআন্দোলনের জেরে ২০১৯ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ও ৩০ বছর সুদান শাসন করা বশির ক্ষমতাচ্যুত হন। এরপর থেকে যৌথভাবে দেশটি শাসন করছিল সেনাবাহিনী ও বেসামরিক অন্তর্বর্তী সরকার।

সেনাবাহিনী ও বিভিন্ন সংগঠনের জোট ফোর্সেস ফর ফ্রিডম অ্যান্ড চেঞ্জের মধ্যে (এফএফসি) ক্ষমতা বণ্টনের চুক্তি হয়েছিল। উভয়পক্ষ মিলে একটি সার্বভৌম পরিষদ গঠন করেছিল। এই পরিষদের নেতৃত্বে ছিলেন জেনারেল আব্দেল ফাত্তাহ আল-বুরহান।

ক্ষমতাচ্যুত বেসামরিক সরকারের প্রধানমন্ত্রী হামদককে গ্রেপ্তার করে অজ্ঞাত স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সুদানের তথ্য মন্ত্রণালয়। সেনা অভ্যুত্থানে স্বীকৃতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সুদানের তথ্য মন্ত্রণালয় এখন পর্যন্ত হামদকের সমর্থকরা নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে ওমদারমানে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেলের প্রধান কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে সেনাবাহিনী এবং কর্মীদের আটক করেছে।

এ অবস্থায় সেনা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সুদানের তথ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, খারতুমের সড়কগুলোতে অবস্থান নিয়েছে লাখো মানুষ। সেনাবাহিনীর প্রধান কার্যালয়ের কাছে তাদের ওপর গুলি চালানো হয়েছে।

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী হামদকের কার্যালয়ের পরিচালক অ্যাডাম হেরেইকা বলেন, ‘সফররত যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত জেফ্রি ফেল্টম্যানের সঙ্গে সুদান সরকারের বৈঠকের পর হামদকের সঙ্গে একটি চুক্তি নিয়ে কাজ করছিল সেনাবাহিনী। ইতিবাচক অগ্রগতি সত্ত্বেও অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেছে তারা।’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দেশজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগে বিঘ্ন ঘটছে। শহরে শহরে সেনা ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যরা টহল দিচ্ছে। খারতুম বিমানবন্দর বন্ধ এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

সুদানের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে বিশ্ব সম্প্রদায়। সংকট নিরসনের আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আরব লীগ। যুক্তরাজ্যের সুদান ও দক্ষিণ সুদানবিষয়ক বিশেষ দূত রবার্ট ফেয়ারওয়েদার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে বলেছেন, বেসামরিক নেতাদের গ্রেপ্তার করে সুদানের সেনাবাহিনী ‘সুদানের জনগণ, বিপ্লবী ও পরিবর্তনকামীদের সঙ্গে প্রতারণা’ করেছে।

২০১৯ সালে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর থেকেই সুদানের সামরিক ও বেসামরিক নেতাদের মধ্যে নানা বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। আরও এক বছর তাদের দেশ শাসনের কথা ছিল এবং নির্বাচনের মাধ্যমে বেসামরিক সরকারের কাছে ক্ষমতা পূর্ণ হস্তান্তরের কথা ছিল।

কিন্তু ক্ষমতা বণ্টনের চুক্তি নিয়ে বরাবরই ক্ষিপ্ত ছিল বিভিন্ন পক্ষ। চুক্তিকে কেন্দ্র করে অনেকগুলো প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক গোষ্ঠীর বিরোধ তো ছিলই, বিভাজন তৈরি হয়েছিল সেনাবাহিনীর মধ্যেও।

চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে, অর্থাৎ গত মাসে ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বশিরের সমর্থকরা অভ্যুত্থানের চেষ্টা করলে উত্তেজনা আরও বাড়ে। এরপর চলতি বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠী ও রাজনৈতিক দল সেনাবাহিনীর সঙ্গে ঐক্য গড়ে বেসামরিক সরকার ভেঙে দেয়ার দাবি তোলে। দাবি আদায়ে খারতুমের প্রেসিডেনসিয়াল প্যালেসের বাইরে অবস্থান ধর্মঘটও শুরু করে তারা।

এর ধারাবাহিকতায় গত সপ্তাহে খারতুমসহ সুদানের অন্য শহরগুলোতে বিক্ষোভ করে বেসামরিক সরকারের সমর্থকরাও। সামরিক শাসনের বিরোধিতায় ওই বিক্ষোভে যোগ দেন কয়েকজন মন্ত্রীও।

১৯৫৬ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকেই কার্যকর রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা করে আসছে সুদান। দেশটিতে অসংখ্যবার সফল অভ্যুত্থান ও অভ্যুত্থান চেষ্টা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
বিদেশে কয়লাভিত্তিক প্রকল্পে বিনিয়োগ বন্ধ করছে চীন
চীনের সঙ্গে টক্কর দিতে চিপ বানাবে ৪ দেশ  
ভারত-চীন সম্পর্ক তৃতীয় দেশের চোখে দেখা নয়: জয়শঙ্কর 
চীনে স্কুল থেকে করোনার ফের প্রাদুর্ভাব
চীন থেকে আরও ৫৪ লাখ টিকা আসছে শনিবার

শেয়ার করুন