আফগানিস্তানে ফিরছে মাথা, হাত-পা কাটার শাস্তি

আফগানিস্তানে ফিরছে মাথা, হাত-পা কাটার শাস্তি

তালেবানের প্রথম দফার শাসনামলে শিরশ্ছেদ ও অঙ্গচ্ছেদের মতো শাস্তি জনসম্মুখে কার্যকর করা হতো। ছবি: এএফপি

তালেবানের জ্যেষ্ঠ নেতা মোল্লা নূরুদ্দীন তুরাবি বলেন, ‘প্রকাশ্যে অঙ্গচ্ছেদ ও মাথা কেটে নেয়ার মতো দণ্ড কার্যকর করায় বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান তালেবানের তীব্র সমালোচনা করেছেন। কিন্তু আমরা তো কখনও পশ্চিমাদের আইন বা তাদের দণ্ড নিয়ে কোনো মন্তব্য করিনি।’

আফগানিস্তানে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মাথা কেটে নেয়ার (শিরশ্ছেদ) পাশাপাশি অঙ্গচ্ছেদ হিসেবে হাত ও পা কেটে ফেলার শাস্তি ফের চালু করতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন তালেবান। তবে অপরাধের সাজা হিসেবে এসব দণ্ড এবার জনসম্মুখে নাও কার্যকর হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা সংস্থা এপিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তালেবানের জ্যেষ্ঠ নেতা মোল্লা নূরুদ্দীন তুরাবি এসব কথা জানান।

কট্টরপন্থি ধর্মীয় সংগঠনটির প্রথম দফার শাসনামলে ১৯৯০-এর দশকে এমন কঠোর শাস্তি কার্যকরের পক্ষে অন্যতম নেতৃত্বদানকারী ছিলেন এই তুরাবি। ৬০ বছর বয়সী এই নেতা ১৯৯৬-২০০১ শাসনামলে তালেবান সরকারে বিচারবিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন।

১৯৯০-এর দশকে অপরাধের শাস্তি হিসেবে শিরশ্ছেদ ও অঙ্গচ্ছেদের পক্ষে সাফাই গাইলেন এই শীর্ষ নেতা। পাশাপাশি এমন কঠোর সাজার বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী যে বিরোধিতা রয়েছে তাও নাকচ করে দেন তালেবানের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা নূরুদ্দীন তুরাবি।

তালেবান প্রথম দফায় ক্ষমতায় থাকাকালে রাজধানী কাবুলের স্টেডিয়াম অথবা বিভিন্ন ঈদগা মাঠে শত শত নাগরিকের সামনে প্রকাশ্যে এমন সব দণ্ড কার্যকর করা হতো।

আফগানিস্তানে ফিরছে মাথা, হাত-পা কাটার শাস্তি
তালেবানের জ্যেষ্ঠ নেতা মোল্লা নূরুদ্দীন তুরাবি। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানী কাবুলে দেয়া সাক্ষাৎকারে এ কট্টরপন্থি নেতা তালেবান আইনের বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করতে বিশ্ববাসীকে সতর্ক করেন।

তুরাবি বলেন, ‘প্রকাশ্যে অঙ্গচ্ছেদ ও মাথা কেটে নেয়ার মতো দণ্ড কার্যকর করায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান তালেবানের তীব্র সমালোচনা করেছেন। কিন্তু আমরা তো কখনও পশ্চিমাদের আইন বা তাদের দণ্ড নিয়ে কোনো মন্তব্য করিনি।’

এই তালেবান নেতা আরও বলেন, ‘কোনো দেশের সরকার আমাদের ওপর চাপিয়ে দিতে পারে না যে কোন ধরনের আইন আফগানিস্তানে বহাল থাকবে। আমরা ইসলামি আইন কার্যকর করব এবং কোরআনের ওপর ভিত্তি করে শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন করে যাবে।’

আরও পড়ুন:
জাতিসংঘে কথা বলার সুযোগ চায় তালেবান
সবার সরকার না হলে আফগানিস্তানে গৃহযুদ্ধ: ইমরান
তালেবান শাসনে প্রথম ফ্লাইট গেল পাকিস্তান
তালেবান ঠেকাতে ভিন্ন কৌশলে ভারতের সামরিক প্রশিক্ষণ
যুক্তরাষ্ট্রের হত্যাযজ্ঞ যেভাবে তালেবান সমর্থন বাড়িয়েছে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘ভারতে মুসলিমবিদ্বেষ ছড়াতে সাহায্য করেছে ফেসবুক’

‘ভারতে মুসলিমবিদ্বেষ ছড়াতে সাহায্য করেছে ফেসবুক’

দিল্লির ঐতিহাসিক জামে মসজিদের সিঁড়িতে কয়েকজন মুসল্লি। ছবি: এএফপি

নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে, মুসলিমবিদ্বেষী পোস্ট ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে ফেসবুক জানত। এরপরেও সেগুলো ঠেকাতে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি প্রতিষ্ঠানটি। ভারতে নিজেদের ব্যবসার ওপর প্রভাব পড়তে পারে এমন আশঙ্কায় আরএসএসকে বিপজ্জনক সংগঠনের ক্যাটাগরিতে ফেলার বিষয়েও দ্বিধা দেখিয়েছে ফেসবুক।

ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতাদের পোস্টের ক্ষেত্রে সত্যতা যাচাই করত না সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক। একই সঙ্গে এটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) নেতাদের মুসলিমবিরোধী পোস্ট ছড়াতেও সাহায্য করেছে।

সম্প্রতি ফেসবুকের সাবেক কর্মকর্তা ফান্সিস হাউগেনের বরাতে এমন তথ্য উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম দি নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে

এতে বলা হয়েছে, ফেসবুকের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের প্রমাণ বেরিয়ে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে সংসদীয় কমিটির কাছে জমা দেয়া ফ্রান্সিস হাউগেনের নথি থেকে।

৩৭ বছর হাউগেন প্রায় দুই বছর ধরে ফেসবুকে কাজ করেছেন। সেখানে তার কাজ ছিল মিথ্যা সংবাদ ট্র্যাক করা এবং নিশ্চিত করা যে, প্ল্যাটফর্মটি গণতন্ত্রকে অস্থিতিশীল করার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে না।

হাউগেনের নথিতে উল্লেখ করেছে, কীভাবে ফেসবুকের প্রধান মার্ক জুকারবার্গের নীতি অনুযায়ী মেসেজ দেয়া-নেয়ার ওপর নজরদারি ভারতে আরও ভুল তথ্যের কারণ হয়েছিল। এর সবচেয়ে বেশি প্রভাব দেখা যায়, করোনাভাইরাস মহামারির সময়ে।

ফেসবুকের নথি অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটি মুসলিমবিরোধী পোস্টসহ এদেশে যে সমস্যাগুলো তৈরি হয়েছিল, সেটি মোকাবিলা করতে পারেনি।

ফাঁস হওয়া একটি অভ্যন্তরীণ নথিতে ফেসবুক গবেষকরা লিখেছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটির গ্রুপ এবং পৃষ্ঠাগুলো ‘উসকানিমূলক এবং বিভ্রান্তিকর মুসলিমবিরোধী সামগ্রীতে ভরা’।

প্রতিবেদনে উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, মুসলমানদের ‘শুয়োর’ এবং ‘কুকুর’ এর সঙ্গে তুলনা করে বেশ কিছু অমানবিক পোস্ট রয়েছে। অনেক পোস্টে মিথ্যা দাবি করা হয়েছে যে, কোরআন পুরুষদের তাদের পরিবারের নারীদের ধর্ষণ করতে বলে।

এতে বলা হয়েছে, বেশিরভাগ কনটেন্টই পাওয়া গেছে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন আরএসএসের মতবাদ প্রচারকারী ফেসবুক গ্রুপে। এই গোষ্ঠীগুলো বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান সীমান্তের কাছে মুসলমান সংখ্যালঘু জনবসতির বিস্তার নিয়ে মিথ্যা তথ্য প্রচার করেছিল। এরা ভারত থেকে মুসলমানদের অপসারণ এবং মুসলমান জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ আইন তৈরির জন্য ফেসবুকে পোস্ট করেছিল।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে, মুসলিমবিদ্বেষী পোস্ট ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে ফেসবুক জানত। এরপরেও সেগুলো ঠেকাতে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি প্রতিষ্ঠানটি। ভারতে নিজেদের ব্যবসার ওপর প্রভাব পড়তে পারে এমন আশঙ্কায় আরএসএসকে বিপজ্জনক সংগঠনের ক্যাটাগরিতে ফেলার বিষয়েও দ্বিধা দেখিয়েছে ফেসবুক।

ফেসবুকের সম্পদ বরাদ্দের বিবরণের একটি নথি অনুযায়ী, ভুয়া তথ্য শ্রেণীবদ্ধ করার জন্য কোম্পানির ব্যয়ের ৮৭ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বরাদ্দ। বাকি বিশ্বের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে মাত্র ১৩ শতাংশ।

ফেসবুকের মুখপাত্র অ্যান্ডি স্টোন দাবি করেছেন, এই পরিসংখ্যান অসম্পূর্ণ এবং এতে কোম্পানির তৃতীয় পক্ষের ফ্যাক্টচেকিং অংশীদারদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

এদের অধিকাংশই যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

আরও পড়ুন:
জাতিসংঘে কথা বলার সুযোগ চায় তালেবান
সবার সরকার না হলে আফগানিস্তানে গৃহযুদ্ধ: ইমরান
তালেবান শাসনে প্রথম ফ্লাইট গেল পাকিস্তান
তালেবান ঠেকাতে ভিন্ন কৌশলে ভারতের সামরিক প্রশিক্ষণ
যুক্তরাষ্ট্রের হত্যাযজ্ঞ যেভাবে তালেবান সমর্থন বাড়িয়েছে

শেয়ার করুন

সুদানে অন্তর্বর্তী সরকার ভেঙে দিল সেনাবাহিনী, জরুরি অবস্থা

সুদানে অন্তর্বর্তী সরকার ভেঙে দিল সেনাবাহিনী, জরুরি অবস্থা

জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেয়ার সময় সুদান সেনাবাহিনীর জেনারেল আব্দেল ফাত্তাহ আল-বুরহান। ছবি: এএফপি

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী হামদকের কার্যালয়ের পরিচালক অ্যাডাম হেরেইকা বলেন, ‘সফররত যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত জেফ্রি ফেল্টম্যানের সঙ্গে সুদান সরকারের বৈঠকের পর হামদকের সঙ্গে একটি চুক্তি নিয়ে কাজ করছিল সেনাবাহিনী। ইতিবাচক অগ্রগতি সত্ত্বেও অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেছে তারা।’

সুদানে প্রধানমন্ত্রী আব্দাল্লাহ হামদককে গ্রেপ্তারের পর অন্তর্বর্তী সরকার ভেঙে দিয়েছে সেনাবাহিনী। জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন সেনাবাহিনীর জেনারেল আব্দেল ফাত্তাহ আল-বুরহান।

সাবেক স্বৈরশাসক ওমর আল-বশিরের পতনের পর দুই বছর ধরে সুদান শাসন করা সার্বভৌম পরিষদের প্রধান জেনারেল বুরহান।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, সুদানের বেসামরিক সরকারের মন্ত্রিসভার প্রায় সব সদস্যকে সোমবার গ্রেপ্তার করেছে সেনাবাহিনী। এর প্রতিবাদে রাজধানী খারতুমে চলছে ব্যাপক বিক্ষোভ। রাজপথে গণতন্ত্রপন্থি বিক্ষোভকারীদের অবস্থান, গোলাগুলি ও ১২ জন আহত হওয়ার খবরের মধ্যেই এল সরকার ভেঙে দেয়ার ঘোষণা।

গণআন্দোলনের জেরে ২০১৯ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ও ৩০ বছর সুদান শাসন করা বশির ক্ষমতাচ্যুত হন। এরপর থেকে যৌথভাবে দেশটি শাসন করছিল সেনাবাহিনী ও বেসামরিক অন্তর্বর্তী সরকার।

সেনাবাহিনী ও বিভিন্ন সংগঠনের জোট ফোর্সেস ফর ফ্রিডম অ্যান্ড চেঞ্জের মধ্যে (এফএফসি) ক্ষমতা বণ্টনের চুক্তি হয়েছিল। উভয়পক্ষ মিলে একটি সার্বভৌম পরিষদ গঠন করেছিল। এই পরিষদের নেতৃত্বে ছিলেন জেনারেল আব্দেল ফাত্তাহ আল-বুরহান।

ক্ষমতাচ্যুত বেসামরিক সরকারের প্রধানমন্ত্রী হামদককে গ্রেপ্তার করে অজ্ঞাত স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সুদানের তথ্য মন্ত্রণালয়। সেনা অভ্যুত্থানে স্বীকৃতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সুদানের তথ্য মন্ত্রণালয় এখন পর্যন্ত হামদকের সমর্থকরা নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে ওমদারমানে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেলের প্রধান কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে সেনাবাহিনী এবং কর্মীদের আটক করেছে।

এ অবস্থায় সেনা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সুদানের তথ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, খারতুমের সড়কগুলোতে অবস্থান নিয়েছে লাখো মানুষ। সেনাবাহিনীর প্রধান কার্যালয়ের কাছে তাদের ওপর গুলি চালানো হয়েছে।

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী হামদকের কার্যালয়ের পরিচালক অ্যাডাম হেরেইকা বলেন, ‘সফররত যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত জেফ্রি ফেল্টম্যানের সঙ্গে সুদান সরকারের বৈঠকের পর হামদকের সঙ্গে একটি চুক্তি নিয়ে কাজ করছিল সেনাবাহিনী। ইতিবাচক অগ্রগতি সত্ত্বেও অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেছে তারা।’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দেশজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগে বিঘ্ন ঘটছে। শহরে শহরে সেনা ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যরা টহল দিচ্ছে। খারতুম বিমানবন্দর বন্ধ এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

সুদানের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে বিশ্ব সম্প্রদায়। সংকট নিরসনের আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আরব লীগ। যুক্তরাজ্যের সুদান ও দক্ষিণ সুদানবিষয়ক বিশেষ দূত রবার্ট ফেয়ারওয়েদার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে বলেছেন, বেসামরিক নেতাদের গ্রেপ্তার করে সুদানের সেনাবাহিনী ‘সুদানের জনগণ, বিপ্লবী ও পরিবর্তনকামীদের সঙ্গে প্রতারণা’ করেছে।

২০১৯ সালে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর থেকেই সুদানের সামরিক ও বেসামরিক নেতাদের মধ্যে নানা বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। আরও এক বছর তাদের দেশ শাসনের কথা ছিল এবং নির্বাচনের মাধ্যমে বেসামরিক সরকারের কাছে ক্ষমতা পূর্ণ হস্তান্তরের কথা ছিল।

কিন্তু ক্ষমতা বণ্টনের চুক্তি নিয়ে বরাবরই ক্ষিপ্ত ছিল বিভিন্ন পক্ষ। চুক্তিকে কেন্দ্র করে অনেকগুলো প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক গোষ্ঠীর বিরোধ তো ছিলই, বিভাজন তৈরি হয়েছিল সেনাবাহিনীর মধ্যেও।

চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে, অর্থাৎ গত মাসে ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বশিরের সমর্থকরা অভ্যুত্থানের চেষ্টা করলে উত্তেজনা আরও বাড়ে। এরপর চলতি বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠী ও রাজনৈতিক দল সেনাবাহিনীর সঙ্গে ঐক্য গড়ে বেসামরিক সরকার ভেঙে দেয়ার দাবি তোলে। দাবি আদায়ে খারতুমের প্রেসিডেনসিয়াল প্যালেসের বাইরে অবস্থান ধর্মঘটও শুরু করে তারা।

এর ধারাবাহিকতায় গত সপ্তাহে খারতুমসহ সুদানের অন্য শহরগুলোতে বিক্ষোভ করে বেসামরিক সরকারের সমর্থকরাও। সামরিক শাসনের বিরোধিতায় ওই বিক্ষোভে যোগ দেন কয়েকজন মন্ত্রীও।

১৯৫৬ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকেই কার্যকর রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা করে আসছে সুদান। দেশটিতে অসংখ্যবার সফল অভ্যুত্থান ও অভ্যুত্থান চেষ্টা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
জাতিসংঘে কথা বলার সুযোগ চায় তালেবান
সবার সরকার না হলে আফগানিস্তানে গৃহযুদ্ধ: ইমরান
তালেবান শাসনে প্রথম ফ্লাইট গেল পাকিস্তান
তালেবান ঠেকাতে ভিন্ন কৌশলে ভারতের সামরিক প্রশিক্ষণ
যুক্তরাষ্ট্রের হত্যাযজ্ঞ যেভাবে তালেবান সমর্থন বাড়িয়েছে

শেয়ার করুন

ইসলামপন্থিদের সামনে ‘নত’ ইমরান সরকার, ৩৫০ বন্দি মুক্ত

ইসলামপন্থিদের সামনে ‘নত’ ইমরান সরকার, ৩৫০ বন্দি মুক্ত

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের মুরিদকে শহর রোববার নিষিদ্ধঘোষিত টিএলপি সদস্যদের বিক্ষোভে অচল হয়ে পড়ে। ছবি: এএফপি

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ রশিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে জানিয়েছেন, টিএলপিপ্রধান সাদ হোসেন রিজভির মুক্তির পরিকল্পনা এগোতে কাজ চলছে। পাকিস্তানের শীর্ষ দৈনিক ডনের প্রতিবেদনে বিষয়টিকে আখ্যায়িত করা হয়েছে ‘সহিংস বিক্ষোভকারীদের সামনে সরকারের আরেকটি পূর্ণাঙ্গ আত্মসমর্পণ’ হিসেবে।

পাকিস্তানে নিষিদ্ধঘোষিত ইসলামপন্থি সংগঠন ‘তেহরিক-ই-লাব্বাইক পাকিস্তান’-এর (টিএলপি) ৩৫০ কারাবন্দি সদস্য মুক্তি পেয়েছেন। টিএলপির সঙ্গে বৈরিতা এড়াতে এ পদক্ষেপ নিয়েছে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সরকার।

জিও টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, পাঞ্জাব প্রদেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া হয় টিএলপির সাড়ে তিন শ নেতা-কর্মীকে। এর আগে রোববার সংগঠনটির সঙ্গে দিনভর আলোচনা করে ইসলামাবাদ।

গত সপ্তাহে ইসলামাবাদে গোষ্ঠীটি পদযাত্রা কর্মসূচির ঘোষণা দিলে প্রদেশজুড়ে ধরপাকড় শুরু করে পাঞ্জাব পুলিশ। এরপর এক সপ্তাহে গ্রেপ্তার হন সংগঠনটির শত শত নেতা-কর্মী।

তারপরেও রোববার পাঞ্জাবের মুরিদকে শহরে জড়ো হন নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনটির লাখো সদস্য। এর ফলে অচল হয়ে পড়ে সংলগ্ন কয়েকটি জাতীয় মহাসড়ক। অচলাবস্থা নিরসনে টিএলপির সঙ্গে বৈঠকের উদ্যোগ নেয় ইসলামাবাদ।

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ রশিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে জানিয়েছেন, টিএলপির সঙ্গে সমঝোতার অংশ হিসেবে এখন মুরিদকের সড়কগুলো খুলে দেয়ার অপেক্ষায় রয়েছে সরকার।

টিএলপিপ্রধান সাদ হোসেন রিজভির মুক্তির পরিকল্পনা এগোতে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

পাকিস্তানের শীর্ষ দৈনিক ডনের একটি প্রতিবেদনে পুরো বিষয়টিকে আখ্যায়িত করা হয়েছে ‘সহিংস বিক্ষোভকারীদের সামনে সরকারের আরেকটি পূর্ণাঙ্গ আত্মসমর্পণ’ হিসেবে।

টিএলপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত খাদিম রিজভির ছেলে সাদ হোসেন রিজভি। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে পাঞ্জাবের কারাগারে বন্দি তিনি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবিষয়ক অধ্যাদেশের অধীনে গ্রেপ্তার হন সাদ রিজভি।

গত বছর ফ্রান্সের একটি রম্য পত্রিকা মহানবী হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ করেছিল। ওই ঘটনায় ইসলাম ধর্মের অবমাননার অভিযোগে গণবিক্ষোভের আয়োজন করেছিল টিএলপি। দাবি জানিয়েছিল পাকিস্তানে নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূতকে দেশে ফেরত পাঠানোর এবং ফ্রান্স থেকে সব ধরনের পণ্য আমদানি নিষিদ্ধের।

শুধু পাকিস্তানেই নয়, মহানবী (স.)-এর ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশকে ধর্মীয় অবমাননা হিসেবে নিয়েছিল বিভিন্ন দেশের মুসলিমরা। এর জেরে ২০২০ সালের অক্টোবরে বিশ্বব্যাপী ‘ফরাসি পণ্য বর্জন’ কর্মসূচির মুখে পড়ে ফ্রান্স সরকার।

পরে মহানবী (স.)-এর ব্যঙ্গচিত্র পুনরায় প্রকাশে রম্য পত্রিকাটির নেয়া সিদ্ধান্তে সমর্থন জানিয়েছিলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল মাখোঁ। এতে ক্ষুব্ধ টিএলপি পাকিস্তানজুড়ে ফ্রান্স-বিরোধী কর্মসূচি গ্রহণ করেছিল।

চলতি বছরের এপ্রিলে টিএলপির ফ্রান্স-বিরোধী কর্মসূচির সময় অচল হয়ে পড়ে লাহোর। সহিংসতায় প্রাণ যায় কমপক্ষে ছয় পুলিশ কর্মকর্তার।

আরও পড়ুন:
জাতিসংঘে কথা বলার সুযোগ চায় তালেবান
সবার সরকার না হলে আফগানিস্তানে গৃহযুদ্ধ: ইমরান
তালেবান শাসনে প্রথম ফ্লাইট গেল পাকিস্তান
তালেবান ঠেকাতে ভিন্ন কৌশলে ভারতের সামরিক প্রশিক্ষণ
যুক্তরাষ্ট্রের হত্যাযজ্ঞ যেভাবে তালেবান সমর্থন বাড়িয়েছে

শেয়ার করুন

হংকংয়ে কার্যক্রম বন্ধ করছে অ্যামনেস্টি

হংকংয়ে কার্যক্রম বন্ধ করছে অ্যামনেস্টি

হংকংয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের কার্যালয়ের প্রবেশপথ। ছবি: এএফপি

৪০ বছরের বেশি সময় ধরে হংকংয়ে অ্যামনেস্টির উপস্থিতি রয়েছে। বর্তমানে সেখানে অ্যামনেস্টির দুটি কার্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে শহরকেন্দ্রিক স্থানীয় কার্যালয়টি আগামী ৩১ অক্টোবর বন্ধ করে দেয়া হবে।

চীনশাসিত হংকংয়ে যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধ করে দিচ্ছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। চীন আরোপিত জাতীয় নিরাপত্তা আইন ইস্যুতে এ পদক্ষেপ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, বিতর্কিত আইনটির কারণে হংকংয়ে ‘কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন’ অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে অ্যামনেস্টি। ফলে চীনশাসিত অঞ্চলটিতে নিজেদের সব কার্যালয় বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছে তারা।

৪০ বছরের বেশি সময় ধরে হংকংয়ে অ্যামনেস্টির উপস্থিতি রয়েছে। বর্তমানে সেখানে অ্যামনেস্টির দুটি কার্যালয় রয়েছে।

এর মধ্যে শহরকেন্দ্রিক স্থানীয় কার্যালয়টি আগামী ৩১ অক্টোবর বন্ধ করে দেয়া হবে। আর আঞ্চলিক কার্যালয় হংকং থেকে সরিয়ে নেয়া হবে চলতি বছরের শেষ নাগাদ।

চীনের বিতর্কিত জাতীয় নিরাপত্তা আইনে হংকংয়ে বিচ্ছিন্নতাবাদ, বিধ্বংসী কার্যক্রম, সন্ত্রাসবাদ ও বিদেশিদের সঙ্গে যোগসাজশকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

সমালোচকদের মতে, চীনে বিরোধী মত দমনে এ আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। যদিও চীনের দাবি, স্থিতিশীলতা রক্ষা এ আইন কার্যকরের উদ্দেশ্য।

অ্যামনেস্টির আন্তর্জাতিক পরিষদের চেয়ারম্যান আনঝুলা মিয়া সিং বাইস এক বিবৃতিতে জানান, চীন প্রণীত জাতীয় নিরাপত্তা আইনের আওতায় চলতি বছর কমপক্ষে ৩৫টি সংগঠনকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

নিষিদ্ধ এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেশ কয়েকটি শ্রমিক ইউনিয়ন, বেসরকারি সাহায্য সংস্থা (এনজিও) ও পেশাজীবী সংগঠন আছে। এর মধ্যে নিউ স্কুল ফর ডেমোক্রেসিসহ বেশ কয়েকটি এনজিও নিজেদের কার্যালয় তাইওয়ানে সরিয়ে নিয়েছে।

আরও পড়ুন:
জাতিসংঘে কথা বলার সুযোগ চায় তালেবান
সবার সরকার না হলে আফগানিস্তানে গৃহযুদ্ধ: ইমরান
তালেবান শাসনে প্রথম ফ্লাইট গেল পাকিস্তান
তালেবান ঠেকাতে ভিন্ন কৌশলে ভারতের সামরিক প্রশিক্ষণ
যুক্তরাষ্ট্রের হত্যাযজ্ঞ যেভাবে তালেবান সমর্থন বাড়িয়েছে

শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রীসহ সুদান সরকারের নেতারা গ্রেপ্তার, বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রীসহ সুদান সরকারের নেতারা গ্রেপ্তার, বিক্ষোভ

খারতুমে গণতন্ত্রকামীদের সহিংস বিক্ষোভ চলছে। ছবি: এএফপি

সুদানের তথ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সশস্ত্র বাহিনী যৌথভাবে আটক অভিযান চালিয়েছে এবং গ্রেপ্তারকৃতদের কোথায় বন্দি করে রাখা হয়েছে, তাও জানায়নি। ওমদারমানে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেলের প্রধান কার্যালয়েও অভিযান চালিয়েছে সেনাবাহিনী এবং কর্মীদের আটক করেছে।

সুদানে সেনা অভ্যুত্থানের বিষয়টি নিশ্চিত না হতেই অন্তর্বর্তী সরকারের সদস্যসহ বেশ কয়েকজন বেসামরিক নেতা গ্রেপ্তার হয়েছেন। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী আব্দাল্লাহ হামদকও আছেন বলে জানা গেছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, কয়েকজন সেনাসদস্য প্রধানমন্ত্রীকে গৃহবন্দি করে রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওই সেনাসদস্যদের পরিচয় জানা যায়নি।

এমন পরিস্থিতিতে গণতন্ত্রকামী বিক্ষোভকারীরা রাজধানী খারতুমের বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নিয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দেশজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগে বিঘ্ন ঘটছে। শহরে শহরে সেনা ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যরা টহল দিচ্ছে। খারতুম বিমানবন্দর বন্ধ এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, উত্তর আফ্রিকার দেশটির রাজধানী সোমবার অচল করে রাখেন বিক্ষোভকারীরা। সেনাবাহিনীর প্রধান কার্যালয়ের পাশ্ববর্তী একটি এলাকাতে প্রবেশ করতেও দেখা যায় তাদের। বন্দুকযুদ্ধের খবর শোনা গেলেও সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে কথা বলেননি সেনাবাহিনীর কোনো কর্মকর্তা। স্থানীয় সময় সোমবার ভোররাতে গ্রেপ্তারকাণ্ডের নেপথ্য ঘটনাও অস্পষ্ট।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সুদানের তথ্য মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়, ‘সশস্ত্র বাহিনী যৌথভাবে আটক অভিযান চালিয়েছে এবং গ্রেপ্তারকৃতদের কোথায় বন্দি করে রাখা হয়েছে, তাও জানায়নি।’

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, ওমদারমানে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেলের প্রধান কার্যালয়েও অভিযান চালিয়েছে সেনাবাহিনী এবং কর্মীদের আটক করেছে।

তথ্য মন্ত্রণালয় বলছে, সেনা অভ্যুত্থানে অনুমোদন দিতে প্রধানমন্ত্রী হামদককে চাপ দেয়া হচ্ছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী এতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন এবং ‘বিপ্লব রুখে দিতে’ জনগণের প্রতি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ জারি রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

যুক্তরাজ্যের সুদান ও দক্ষিণ সুদানবিষয়ক বিশেষ দূত রবার্ট ফেয়ারওয়েদার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে বলেছেন, বেসামরিক নেতাদের গ্রেপ্তার করে সুদানের সেনাবাহিনী ‘সুদানের জনগণ, বিপ্লবী ও পরিবর্তনকামীদের সঙ্গে প্রতারণা’ করেছে।

বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আরব লীগ।

সুদানের প্রধান গণতন্ত্রপন্থি সংগঠন সমর্থকদের সেনা অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা ঠেকানোর আহ্বান জানিয়েছে।

দুই বছর আগে ৩০ বছর দেশ শাসন করা সুদানের শাসক ওমর আল-বশির ক্ষমতাচ্যুত হন এবং একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয়। তখন থেকেই সুদানের সামরিক ও বেসামরিক নেতাদের মধ্যে নানা বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল।

কয়েক মাসের গণআন্দোলনের জেরে ২০১৯ সালে ক্ষমতাচ্যুত হন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বশির। এরপর থেকে সেনাবাহিনী ও বেসামরিক অন্তর্বর্তী সরকার যৌথভাবে দেশটি শাসন করে আসছে।

সেনাবাহিনী ও বিভিন্ন সংগঠনের জোট ফোর্সেস ফর ফ্রিডম অ্যান্ড চেঞ্জের মধ্যে (এফএফসি) ক্ষমতা বণ্টনের চুক্তি হয়েছিল। উভয়পক্ষ মিলে একটি সার্বভৌম পরিষদ গঠন করেছিল। আরও এক বছর তাদের দেশ শাসনের কথা ছিল এবং নির্বাচনের মাধ্যমে বেসামরিক সরকারের কাছে ক্ষমতা পূর্ণ হস্তান্তরের কথা ছিল।

কিন্তু বরাবরই চুক্তিটির বিভিন্ন দিক নিয়ে ক্ষিপ্ত ছিল বিভিন্ন পক্ষ। চুক্তি নিয়ে অনেকগুলো প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক গোষ্ঠীর বিরোধ তো ছিলই, বিভাজন তৈরি হয়েছিল সেনাবাহিনীর মধ্যেও।

চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে, অর্থাৎ গত মাসে ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বশিরের সমর্থকরা অভ্যুত্থানের চেষ্টা করলে উত্তেজনা আরও বাড়ে।

১৯৫৬ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকেই কার্যকর রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা করে আসছে সুদান। দেশটিতে অসংখ্যবার সফল অভ্যুত্থান ও অভ্যুত্থান চেষ্টা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
জাতিসংঘে কথা বলার সুযোগ চায় তালেবান
সবার সরকার না হলে আফগানিস্তানে গৃহযুদ্ধ: ইমরান
তালেবান শাসনে প্রথম ফ্লাইট গেল পাকিস্তান
তালেবান ঠেকাতে ভিন্ন কৌশলে ভারতের সামরিক প্রশিক্ষণ
যুক্তরাষ্ট্রের হত্যাযজ্ঞ যেভাবে তালেবান সমর্থন বাড়িয়েছে

শেয়ার করুন

শীতে অর্ধেক আফগান চরম খাদ্যসংকটে ভুগবে: জাতিসংঘ

শীতে অর্ধেক আফগান চরম খাদ্যসংকটে ভুগবে: জাতিসংঘ

আসন্ন শীতে ২ কোটি ২০ লাখের বেশি আফগান চরম খাদ্যসংকটে পড়বে বলে সোমবার সতর্ক করে ডব্লিউএফপি। ছবি: রয়টার্স

ডব্লিউএফপির নির্বাহী পরিচালক ডেভিড বিসলে বলেন, ‘আফগানিস্তানকে সহায়তায় আমরা যদি এখনই উদ্যোগ না নিই, তাহলে ২ কোটি ২০ লাখের বেশি আফগানকে এই শীতে হয় দেশ ছাড়তে হবে, নয়তো খাদ্যের অভাবে মরতে হবে।’

চরম মানবিক বিপর্যয়ে থাকা আফগানিস্তানের অর্ধেকের বেশি মানুষ আসছে শীতে প্রকট খাদ্যসংকটে ভুগবে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের সংস্থা বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)।

ডব্লিউএফপির পক্ষ থেকে সোমবার এ সতর্কবার্তা দেয়া হয় বলে বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ডব্লিউএফপির নির্বাহী পরিচালক ডেভিড বিসলে বলেন, ‘আফগানিস্তানকে সহায়তায় আমরা যদি এখনই উদ্যোগ না নিই, তাহলে ২ কোটি ২০ লাখের বেশি আফগানকে এই শীতে হয় দেশ ছাড়তে হবে, নয়তো খাদ্যের অভাবে মরতে হবে।’

জাতিসংঘের কর্মকর্তারা এএফপিকে জানান, আফগানিস্তানে চলমান সংকটের মাত্রা এরই মধ্যে ইয়েমেন বা সিরিয়ার চেয়ে বেশি। এ ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিতে খাদ্যসংকটের পরিস্থিতি ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গো ছাড়া জরুরি অবস্থার মধ্য দিয়ে যাওয়া অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে খারাপ।

বিসলে এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আফগানিস্তান এ মুহূর্তে চরম মানবিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দেশটির খাদ্যনিরাপত্তা ভেঙে পড়েছে।

‘আফগানিস্তান খুব দ্রুতই বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। আমাদের এখনই পদক্ষেপ নেয়া উচিত, নয়তো অনেক দেরি হয়ে যাবে।’

ডব্লিউএফপি ও জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দুজনের মধ্যে একজন আফগান তৃতীয় পর্যায়ের ‘সংকট’ বা চতুর্থ পর্যায়ের ‘জরুরি’ খাদ্য ঘাটতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। চতুর্থ পর্যায় দুর্ভিক্ষের এক ধাপ নিচে।

জাতিসংঘের কর্মকর্তারা জানান, এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ শীত এবার দেখতে যাচ্ছে আফগানরা।

১৫ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে কট্টর ইসলামপন্থি তালেবান। এর কয়েক সপ্তাহ পর নিজেদের ৩৩ জন নেতা নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করে গোষ্ঠীটি।

তবে তালেবান এখন পর্যন্ত কোনো দেশের স্বীকৃতি অর্জন করতে পারেনি। গোষ্ঠীটির ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞাও বলবত রয়েছে।

এ ছাড়া নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) সম্প্রতি আফগানিস্তানজুড়ে বেশ কয়েকটি হামলা চালিয়ে তালেবানকে আরও বেকায়দায় ফেলেছে। কারণ সরকার গঠনের সময় তারা দেশে স্থিতিশীলতার অঙ্গীকার করেছিল।

অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আফগানিস্তানের খরা পরিস্থিতি ঘন ঘন ও তীব্র হচ্ছে।

আফগানিস্তানের মানবিকসংকটের বিষয়ে জানতে চাইলে তালেবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, ‘আমরা দেশের মানুষকে চলমান পরিস্থিতি থেকে বের করার চেষ্টা করছি। বৈশ্বিক মানবিক সহায়তাও আমরা পেতে শুরু করেছি।

মুজাহিদ অঙ্গীকার করে বলেন, ‘জনগণকে পর্যাপ্ত পরিমাণে খাদ্য, কাপড়সহ অন্যান্য সহায়তা দেয়ার চেষ্টা হচ্ছে। সব উদ্বেগ দূর করা হবে।’

এদিকে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, আফগানিস্তানে তাদের মানবিক সহায়তা প্রয়োজনের তুলনায় কেবল এক-তৃতীয়াংশ।

ডব্লিউএফপির নির্বাহী পরিচালক বিসলে বলেন, ‘আফগানিস্তানে খাদ্যসংকটে ভোগা মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। খাদ্যের অভাবে শিশুরা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে। কেবল প্রতিশ্রুতি মানুষের মুখে অন্ন জোগাবে না। আফগানদের নগদ অর্থের প্রয়োজন।

‘আফগানিস্তানের সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই এগিয়ে আসতে হবে।’

আরও পড়ুন:
জাতিসংঘে কথা বলার সুযোগ চায় তালেবান
সবার সরকার না হলে আফগানিস্তানে গৃহযুদ্ধ: ইমরান
তালেবান শাসনে প্রথম ফ্লাইট গেল পাকিস্তান
তালেবান ঠেকাতে ভিন্ন কৌশলে ভারতের সামরিক প্রশিক্ষণ
যুক্তরাষ্ট্রের হত্যাযজ্ঞ যেভাবে তালেবান সমর্থন বাড়িয়েছে

শেয়ার করুন

পশ্চিম তীরে আরও বসতি স্থাপন করছে ইসরায়েল

পশ্চিম তীরে আরও বসতি স্থাপন করছে ইসরায়েল

পশ্চিম তীরে আরও বসতি স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে ইসরায়েল। ছবি: রয়টার্স

ইসরায়েলের আবাসনমন্ত্রী জিভ এলকিন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘পশ্চিম তীরে ইহুদিদের উপস্থিতি শক্তিশালী করা জায়নবাদী লক্ষ্য বাস্তবায়নে জরুরি।’

অধীকৃত পশ্চিম তীরে ইহুদিদের জন্য নতুন আরও বসতি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসরায়েল। তাদের এ পদক্ষেপকে এরই মধ্যে নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিন ও পার্শ্ববর্তী দেশ জর্ডান। চুপ নেই মানবাধিকারকর্মীরাও।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলের ডানপন্থি প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের নির্মাণ ও আবাসন মন্ত্রণালয় স্থানীয় সময় রোববার ওই পরিকল্পনার ঘোষণা দেয়।

ঘোষণায় বলা হয়, ১৯৬৭ সালে ছয় দিনের যুদ্ধের সময় দখল করা পশ্চিম তীরে ১ হাজার ৩৫৫টি বাড়ি নির্মাণের জন্য টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে।

এর আগে চলতি বছরের আগস্টে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সূত্র জানায়, দুই হাজারের বেশি বাড়ি পশ্চিম তীরের সেটলারদের জন্য অনুমোদন দেয়া হয়।

রোববার পশ্চিম তীরে আরও ১ হাজার ৩৫৫টি বাড়ি নির্মাণের অনুমতি দিল ইসরায়েল সরকার।

ইসরায়েলের আবাসনমন্ত্রী জিভ এলকিন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘পশ্চিম তীরে ইহুদিদের উপস্থিতি শক্তিশালী করা জায়নবাদী লক্ষ্য বাস্তবায়নে জরুরি।’

এদিকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের এ উদ্যোগকে সাপ্তাহিক মন্ত্রিসভার বৈঠকে নিন্দা জানিয়েছেন ফিলিস্তিনের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শতায়েহ।

ইসরায়েলের আগ্রাসী এই কর্মকাণ্ড ফিলিস্তিনিদের হুমকির মুখে ফেলবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের প্রতিও আহ্বান জানান ফিলিস্তিনি প্রধানমন্ত্রী।

ইসরায়েলের সাম্প্রতিক এ পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ভূমিকা কী হবে, সেদিকে নজর রাখছে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ (পিএ)।

ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত বন্ধে দ্বিরাষ্ট্র গঠনই একমাত্র সমাধান বলে সম্প্রতি জানিয়েছিল বাইডেনের নেতৃত্বাধীন সরকার। পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের একতরফা বসতি স্থাপন এ সমাধানের পথে বাধা হিসেবে কাজ করছে বলেও মন্তব্য করে ওয়াশিংটন।

জায়নবাদী রাষ্ট্রটির বসতি স্থাপনের পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্র ‘উদ্বিগ্ন’ বলে শুক্রবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নেড প্রাইস জানান। ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলকে একতরফা কোনো পদক্ষেপ না নিতে আহ্বান জানান তিনি।

প্রায় ৪ লাখ ৭৫ হাজার ইহুদি এ মুহূর্তে পশ্চিম তীরে বসবাস করছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এদিকে ইসরায়েলের নতুন বসতি স্থাপনের ঘোষণাকে ‘আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন’ হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে জর্ডান।

পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপন ও ফিলিস্তিনিদের ভূমি দখলকে বেআইনি হিসেবে মন্তব্য করেন জর্ডানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হাইথাম আবু আল-ফুল।

আরও পড়ুন:
জাতিসংঘে কথা বলার সুযোগ চায় তালেবান
সবার সরকার না হলে আফগানিস্তানে গৃহযুদ্ধ: ইমরান
তালেবান শাসনে প্রথম ফ্লাইট গেল পাকিস্তান
তালেবান ঠেকাতে ভিন্ন কৌশলে ভারতের সামরিক প্রশিক্ষণ
যুক্তরাষ্ট্রের হত্যাযজ্ঞ যেভাবে তালেবান সমর্থন বাড়িয়েছে

শেয়ার করুন