বামে আগ্রহ হারাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের যুবারা

বামে আগ্রহ হারাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের যুবারা

সিপিএম-এর যুব সংগঠন ডিওয়াইএফআই-এর পতাকা।

সিপিএমের রেড ভলান্টিয়ার্সের মতো বিভিন্ন কর্মসূচি রাজ্যে ব্যাপক সাড়া ফেললেও ভোটের ফলে তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না। তাই কর্মীদের ধরে রাখার সমস্যায় ভুগছে।

এক বছরের ব্যবধানেই ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সাবেক ক্ষমতাসীন দল সিপিএমের যুব সংগঠন ডিওয়াইএফআই-এর প্রায় আড়াই লাখ সদস্য কমে গেছে।

বৃহস্পতিবার নদীয়ার নবদ্বীপে সংগঠনটির জেলাভিত্তিক সম্মেলনে পেশ করা একটি প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। সম্মেলনে পশ্চিমবঙ্গের বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু ও সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৯ থেকে ২০২০ সালে যুব সংগঠনটিতে যেখানে ৭ লাখ ৪৮ হাজার ৬৬৫ সদস্য ছিলেন, সেখানে ২০২০ থেকে ২০২১ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ১৩ হাজার ১৯ জনে।

২ অক্টোবর ডিওয়াইএফআই-এর রাজ্য সম্মেলনের আগে জেলায় জেলায় সম্মেলন চলছে। এসব সম্মেলনে সংগঠনের যুব নেতৃত্ব রদবদলের পাশাপাশি চলছে সাংগঠনিক পর্যালোচনা।

রাজ্যে তৃণমূলের কাছে ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের সাবেক শাসকগোষ্ঠী বামফ্রন্টের অন্যতম শরিক দল সিপিএমের অন্তর্দ্বন্দ্ব আর ক্ষয় শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় একের পর এক নির্বাচন বিপর্যয়ে বিধানসভায় দলটির উপস্থিতি শূন্যে পরিণত হয়েছে।

দলটির রেড ভলান্টিয়ার্সের মতো বিভিন্ন কর্মসূচি রাজ্যে ব্যাপক সাড়া ফেললেও ভোটের ফলে তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না। তাই কর্মীদের ধরে রাখার সমস্যায় ভুগছে।

যুব সংগঠনের সদস্য কমা প্রসঙ্গে লেখা হয়েছে- যখনই সংগঠন গড়ে তোলার চেষ্টা হয়েছে, তখনই ভোটে দলের বিপর্যয় দেখা গেছে। তা ছাড়া করোনাকালে সংগঠনের সদস্যদের ক্যাম্পাসমুখী করা যায়নি। ফলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও বিচ্ছিন্নতা বেড়েছে।

সংগঠনকে চাঙা করতে রাজ্য সম্মেলনের আগে জেলায় জেলায় ডিওয়াইএফআই-এর নেতৃত্ব বদলের কাজ চলছে। ২ অক্টোবর সিপিএমের রাজ্য যুব সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সিপিএম পলিটব্যুরো সদস্য, ত্রিপুরার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার।

আরও পড়ুন:
পশ্চিমবঙ্গে প্রথম সফল ফুসফুস প্রতিস্থাপন
পশ্চিমবঙ্গে ফের বাড়ল করোনার বিধিনিষেধ
করোনায় শিশুশ্রম বেড়েছে পশ্চিমবঙ্গে
‘মা’ আসলে কার
করোনাভাইরাস: জীবনযাপনের ছন্দ ফিরছে পশ্চিমবঙ্গে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

আইনের শাসনে দৃষ্টান্ত গড়তে চান ইমরান

আইনের শাসনে দৃষ্টান্ত গড়তে চান ইমরান

নবী মোহাম্মদের সময়কার কল্যাণমূলক মদিনা শাসনের বিষয়টি তুলে ধরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মদিনার শাসন ছিল ন্যায়বিচার ও যোগ্যতাভিত্তিক। সেখানে যোগ্যতার ভিত্তিতে একজন সাধারণ ব্যক্তিকেও সর্বোচ্চ পর্যায়ে পদায়ন করা হয়েছে।’

পাকিস্তানে আইনের শাসনের দৃষ্টান্ত স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। বলেছেন, আইনের শাসনে সমাজে মর্যাদার দিক থেকে সবাই সমান হবেন।

ইসলামের প্রকৃত মহিমা তুলে ধরার লক্ষ্যে সম্প্রতি ইমরান সরকার প্রতিষ্ঠা করেছে ‘রেহমাতুল-লিল-আলামিন’ নামের একটি সংগঠন।

ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে ইসলামাবাদে মঙ্গলবার ওই সংগঠনের সম্মেলনে প্রধান অতিথির ভাষণে দেশে দৃষ্টান্তমূলক আইনের শাসন প্রচলনের অঙ্গীকার করেন ইমরান। তিনি বলেন, ‘আমাদেরকে এই দেশের আইন দৃঢ়তার সঙ্গে মেনে চলা শিখতে হবে। অন্যথায়, চলমান অবস্থার সংশোধন করা যাবে না।’

এ সময় নবী মোহাম্মদের সময়কার কল্যাণমূলক মদিনা শাসনের বিষয়টিও তুলে ধরেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘মদিনার শাসন ছিল ন্যায়বিচার ও যোগ্যতাভিত্তিক। সেখানে যোগ্যতার ভিত্তিতে একজন সাধারণ ব্যক্তিকেও সর্বোচ্চ পর্যায়ে পদায়ন করা হতো।’

এ কথার মধ্য দিয়ে ইমরান পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার পরবর্তী প্রধানের নিয়োগ নিয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে মনে করছেন অনেকে। গুরুত্বপূর্ণ পদটিতে নিয়োগ নিয়ে দেশটিতে নানা গুঞ্জন চলছে।

প্রতি বছর ১২ রবিউল আওয়াল ইসলামের সবশেষ নবী মোহাম্মদের জন্মদিন ও ওফাত দিবস তথা ঈদে মিলাদুন্নবী বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম দেশের মতো পাকিস্তানেও ঘটা করে উদযাপন করা হয়।

জ্ঞান অর্জনে মুসলিম উম্মার প্রতি নবী মোহাম্মদের যে তাগিদ ছিল তাও তুলে ধরেন ইমরান খান। বলেন, ‘তিনি (নবী মোহাম্মদ) মুসলমানদের জ্ঞান অর্জনের ওপর খুব জোর দিয়েছিলেন। জ্ঞান অর্জনে প্রয়োজনে চীনে যাওয়ার কথা বলেছিলেন তিনি।’

আরও পড়ুন:
পশ্চিমবঙ্গে প্রথম সফল ফুসফুস প্রতিস্থাপন
পশ্চিমবঙ্গে ফের বাড়ল করোনার বিধিনিষেধ
করোনায় শিশুশ্রম বেড়েছে পশ্চিমবঙ্গে
‘মা’ আসলে কার
করোনাভাইরাস: জীবনযাপনের ছন্দ ফিরছে পশ্চিমবঙ্গে

শেয়ার করুন

ডুবোজাহাজ থেকে উত্তর কোরিয়ার ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র জাপান সাগরে

ডুবোজাহাজ থেকে উত্তর কোরিয়ার ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র জাপান সাগরে

ফাইল ছবি।

দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদমাধ্যমগুলোতে বলা হয়, সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার উঁচু থেকে মিসাইলটি প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা জানান, দুটি ব্যালিস্টিক মিসাইল ছোড়া হয়েছে। বিষয়টি দুঃখজনক।

উত্তর কোরিয়া ডুবোজাহাজ থেকে একটি ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুড়েছে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী। জাপান সাগরে পড়েছে ক্ষেপণাস্ত্রটি।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ কোরিয়াও নিজস্ব নির্মিত প্রায় একই ধরনের একটি অস্ত্র নিজেদের ভাণ্ডারে যুক্ত করার কয়েক সপ্তাহ পর এ পরীক্ষা চালালো পিয়ংইয়ং।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে নতুন একটি ক্ষেপণাস্ত্র উন্মোচন করে উত্তর কোরিয়া। সেটি ‘বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র’ বলে দাবি করেছিল দেশটি।

গত কয়েক সপ্তাহে বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। এর মধ্যে হাইপারসনিক বা শব্দের গতিসম্পন্ন এবং দূরপাল্লার মিসাইলও ছিল।

আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কয়েকটি অস্ত্র পরীক্ষা চালানো হয়। বিশেষ করে ব্যালিস্টিক মিসাইল ও পারমাণবিক অস্ত্রপরীক্ষায় উত্তর কোরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আছে জাতিসংঘের। অতিরিক্ত ভার বহনে, তুলনামূলক বেশি দূরত্ব পাড়ি দিতে এবং দ্রুতগতিসম্পন্ন বলে ক্রুজ মিসাইলের তুলনায় ব্যালিস্টিক মিসাইল বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করে জাতিসংঘ।

দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফ মঙ্গলবার জানায়, উত্তর কোরিয়ার পূর্বে অবস্থিত বন্দরনগরী সিনপো থেকে সবশেষ ক্ষেপণাস্ত্রটি ছোড়া হয়েছে। ওই অঞ্চলে পিয়ংইয়ংয়ের ডুবোজাহাজের ঘাঁটি আছে বলে মনে করা হয়। পূর্ব সাগরের যে অংশে মিসাইলটি পড়েছে, সেটি জাপান সাগর হিসেবেও পরিচিত।

সিউল আরও জানায়, ডুবোজাহাজ থেকেই ব্যালিস্টিক মিসাইলটি ছোড়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদমাধ্যমগুলোতে বলা হয়, সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার উঁচু থেকে মিসাইলটি প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা জানান, দুটি ব্যালিস্টিক মিসাইল ছোড়া হয়েছে। বিষয়টি দুঃখজনক।

আরও পড়ুন:
পশ্চিমবঙ্গে প্রথম সফল ফুসফুস প্রতিস্থাপন
পশ্চিমবঙ্গে ফের বাড়ল করোনার বিধিনিষেধ
করোনায় শিশুশ্রম বেড়েছে পশ্চিমবঙ্গে
‘মা’ আসলে কার
করোনাভাইরাস: জীবনযাপনের ছন্দ ফিরছে পশ্চিমবঙ্গে

শেয়ার করুন

বন্যায় ধ্বংসস্তূপ উত্তরাখন্ড, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৪

বন্যায় ধ্বংসস্তূপ উত্তরাখন্ড, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৪

উত্তরাখন্ডের কোসি নদীর পানিতে ডুবে আছে সড়ক ও যানবাহন, বিচ্ছিন্ন যোগাযোগব্যবস্থা। ছবি: এনডিটিভি

বিখ্যাত মল রোড, নয়না দেবী মন্দির বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। কেদারনাথ মন্দির থেকে ফেরার পথে আটকা পড়া ২২ জন তীর্থযাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ অবস্থায় হিমালয়ের কোলঘেঁষা অঞ্চলটিতে প্রায় সব মন্দিরে দর্শনার্থীদের প্রবেশ স্থগিত রাখা হয়েছে। বন্ধ রয়েছে বদ্রীনাথ চার ধাম যাত্রা। পথে থাকা বদ্রীনাথ মন্দিরগামী তীর্থযাত্রীদের নিরাপদ আশ্রয়ে নেয়া হয়েছে।

ভারতের উত্তরাখন্ডে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে কমপক্ষে ৩৪ জনে। মৃত ব্যক্তিদের পরিবারপ্রতি চার লাখ রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেয়ার আশ্বাস দিয়েছে রাজ্য সরকার।

বন্যায় যারা বাড়িঘর হারিয়েছে, তাদের ১ লাখ ৯০ হাজার রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে। গবাদিপশু ও কৃষিজমি হারানো ব্যক্তিদেরও সর্বোচ্চ সহায়তা দেয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে নিখোঁজ অনেকে, তারা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, টানা তৃতীয় দিনের মতো বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্যটিতে। পরিস্থিতির ভয়াবহতায় হেলিকপ্টারে চড়ে বন্যাকবলিত অঞ্চলগুলো পরিদর্শন করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী ও শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা।

মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি বার্তা সংস্থা এএনআইকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বন্যা পরিস্থিতির বিষয়ে অবগত করা হয়েছে। বন্যায় বাড়িঘর ও সেতুসহ বিপুলসংখ্যক স্থাপনা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধারকাজে সেনাবাহিনীর তিনটি হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে।’

ধামির সঙ্গে পরিস্থিতির ভয়াবহতা নিয়ে আলোচনা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

পাহাড়ি রাজ্যটিতে বন্যার তোড়ে সড়ক, ভবন ও সেতু তলিয়ে এবং ভেঙে গেছে। বিপৎসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে বেশ কিছু নদীতে।

ভূমিধসের কারণে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে পর্যটন শহর নৈনীতালের। বন্যায় মৃতদের মধ্যে মঙ্গলবার শুধু নৈনীতালেই ভবনধসে প্রাণ গেছে কমপক্ষে সাতজনের, উধাম সিংনগরে বন্যার পানিতে ভেসে গেছেন একজন। এদিন প্রাণ গেছে মোট ১১ জনের।

পাঁচজন মারা গেছেন সোমবার, যাদের মধ্যে তিনজন নেপাল থেকে আসা শ্রমিক।

২৪ ঘণ্টায় ৫০০ মিলিমিটার বৃষ্টির পর বিপৎসীমা ছাড়িয়ে রেকর্ড উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে নৈনীতাল হ্রদের পানি। কালাধুঙ্গি, হালদোয়ানি ও ভাওয়ালিসংলগ্ন সড়কগুলোতেও ভূমিধসের ধ্বংসস্তূপ পড়ে থাকায় যান চলাচল বন্ধ আছে। ৪৮ ঘণ্টা ধরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে বদ্রীনাথ মহাসড়কে।

রাজ্য সরকার, কেন্দ্রীয় দুর্যোগ প্রশমন বাহিনী এনডিআরএফ ও সেনাবাহিনী সমন্বিতভাবে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

বিখ্যাত মল রোড, নয়না দেবী মন্দির বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একটি হোস্টেল। কেদারনাথ মন্দির থেকে ফেরার পথে আটকা পড়া ২২ জন তীর্থযাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে।

এ অবস্থায় হিমালয়ের কোলঘেঁষা অঞ্চলটিতে প্রায় সব মন্দিরে দর্শনার্থীদের প্রবেশ স্থগিত রাখা হয়েছে। বন্ধ রয়েছে বদ্রীনাথ চার ধাম যাত্রা। পথে থাকা বদ্রীনাথ মন্দিরগামী তীর্থযাত্রীদের নিরাপদ আশ্রয়ে নেয়া হয়েছে।

আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তীর্থযাত্রা স্থগিত রাখার অনুরোধ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী ধামি।

বন্ধ রয়েছে রাজ্যের সব স্কুল। পরবর্তী নির্দেশের আগ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে পর্বতারোহণ, ক্যাম্পিংসহ সব ধরনের রোমাঞ্চযাত্রা।

বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বন্যার ধ্বংসযজ্ঞের ভয়াবহ ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
পশ্চিমবঙ্গে প্রথম সফল ফুসফুস প্রতিস্থাপন
পশ্চিমবঙ্গে ফের বাড়ল করোনার বিধিনিষেধ
করোনায় শিশুশ্রম বেড়েছে পশ্চিমবঙ্গে
‘মা’ আসলে কার
করোনাভাইরাস: জীবনযাপনের ছন্দ ফিরছে পশ্চিমবঙ্গে

শেয়ার করুন

ক্ষোভের মুখে ‘হিন্দু-বিরোধী’ বিজ্ঞাপন প্রত্যাহার

ক্ষোভের মুখে ‘হিন্দু-বিরোধী’ বিজ্ঞাপন প্রত্যাহার

কট্টর হিন্দুদের ক্ষোভের জেরে কথিত 'হিন্দু-বিরোধী' বিজ্ঞাপনটি প্রত্যাহার করেছে ফেবইন্ডিয়া। ছবি: ফেবইন্ডিয়া

ক্ষুব্ধ হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা জানান, হিন্দুদের আলোর উৎসব দীপাবলি। এ উৎসবকে ঘিরে নির্মিত বিজ্ঞাপনে উর্দু ভাষায় ‘ঐতিহ্যের উদযাপন’ বলার অর্থ হলো উৎসবের অন্য ব্যাখ্যা দাঁড় করানো। এর মাধ্যমে হিন্দুদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

দীপাবলি উৎসব সামনে রেখে ভারতীয় ব্র্যান্ড ফেবইন্ডিয়া নতুন একটি বিজ্ঞাপন প্রত্যাহার করে নিয়েছে। ডানপন্থি বিভিন্ন হিন্দু সংগঠনের ক্ষোভের জেরে বিজ্ঞাপনটি সরিয়ে নেয় প্রতিষ্ঠানটি।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, পোশাক, আসবাব, হস্ত ও কারুশিল্প আর খাবার প্রস্তুত ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান ফেবইন্ডিয়া। আসন্ন দীপাবলি উপলক্ষে নতুন কিছু পোশাকের সম্ভার বাজারে নিয়ে আসে প্রতিষ্ঠানটি। এর নাম দেয়া হয় ‘জাশন্-ই-রিওয়াজ’।

উর্দু ভাষী শব্দগুচ্ছ ‘জাশন্-ই-রেওয়াজ’-এর অর্থ ‘ঐতিহ্যের উদযাপন’।

বিজ্ঞাপনটিতে উর্দু ভাষা ব্যবহারে ক্ষুব্ধ কট্টর হিন্দুরা। তাদের আপত্তির বিষয়, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উৎসবকে ঘিরে করা বিজ্ঞাপনে উপমহাদেশের অনেক মুসলিমের ভাষা উর্দুর ব্যবহার নিয়ে।

বিজ্ঞাপন সম্বলিত একটি টুইট তাদের ক্ষোভের উৎস। সোমবার ভাইরাল হওয়া টুইটটিতে লেখা হয়, ‘ভালোবাসা ও আলোর উৎসবকে স্বাগত জানিয়ে আমাদের এ সম্ভার ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলী’।

টুইটটিতে ক্ষুব্ধ হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা জানান, হিন্দুদের আলোর উৎসব দীপাবলি। এ উৎসবকে ঘিরে নির্মিত বিজ্ঞাপনে উর্দু ভাষায় ‘ঐতিহ্যের উদযাপন’ বলার অর্থ হলো উৎসবের অন্য ব্যাখ্যা দাঁড় করানো।

এর মাধ্যমে হিন্দুদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

প্রতিক্রিয়ায় ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অফ ইন্ডিয়াকে ফেবইন্ডিয়ার এক মুখপাত্র জানান, ‘জাশন্-ই-রেওয়াজ’ দীপাবলির পোশাকের সমাহার ছিল না।

কিন্তু এতে সন্তুষ্ট হননি অনেক গ্রাহক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই ব্র্যান্ডটি বর্জনের ঘোষণা দেন। তারা বলেন, ‘দীপাবলি উৎসব কোনো জাশন্-ই-রেওয়াজ নয়’।

টুইটারে ফেবইন্ডিয়া বর্জনের ট্রেন্ডটি শীর্ষে উঠে আসে।

এর জেরে টুইটটি প্রত্যাহার করে ফেবইন্ডিয়া, পরে বিজ্ঞাপনটিও সরিয়ে নেয় তারা।

দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সমৃদ্ধ ইতিহাসের ধারক উর্দু ভাষা। গত কয়েক শ বছরে অসংখ্য শক্তিশালী সাহিত্য সৃষ্টি হয়েছে এ ভাষায়। উর্দুভাষী অনেক সাহিত্যিক ও কবি এখনও ভারতে দারুণ জনপ্রিয়।

তবে কট্টর হিন্দুত্ববাদীদের দৌরাত্ম্যে গত কয়েক বছরে ভারতে উর্দুর ব্যবহার নিয়ে প্রচুর বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, এটি মুসলিম সম্প্রদায়ের ভাষা এবং হিন্দুদের উৎসব বা রীতিতে এ ভাষা ব্যবহার থেকে বিরত থাকা উচিত।

ফেবইন্ডিয়ার আগে গত কয়েক বছরে ডানপন্থি হিন্দুদের চাপে পড়তে হয়েছে আরও কয়েকটি বহুজাতিক ব্র্যান্ডকে। পোশাক প্রস্তুত ও বিপণনকারী মান্যবর এমনই একটি প্রতিষ্ঠান।

মান্যবরের সাম্প্রতিক এক বিজ্ঞাপনে প্রখ্যাত বলিউড অভিনেত্রী আলিয়া ভাটকে বিয়ের পোশাকে দেখা যায়। ওই বিজ্ঞাপন নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়। বিরোধীদের অভিযোগ, বিজ্ঞাপনটিতে ভারতীয়দের বর্ষপুরোনো ঐতিহ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে এবং হিন্দুদের বিয়ের রীতির ওপর আঘাত সেটি।

এ ছাড়া জনপ্রিয় জুয়েলারি ব্র্যান্ড তানিশক্ও একটি বিজ্ঞাপন প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়। বিজ্ঞাপনটিতে দেখানো হয়েছিল, দুই ধর্মের অনুসারী এক দম্পতির অনাগত সন্তানকে স্বাগত জানাতে মুসলিম শ্বশুরবাড়িতে হিন্দু পুত্রবধূর জন্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

ডানপন্থি হিন্দুদের অভিযোগ, তানিশকের বিজ্ঞাপনটিতে ‘লাভ জিহাদ’-এর প্রচার চালানো হয়েছে। হিন্দু নারীদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করে মুসলিম পুরুষরা কৌশলে তাদের ধর্মান্তরিত হতে বাধ্য করে বলে দাবি কট্টর হিন্দুদের, যেটিকে তারা আখ্যায়িত করে ‘লাভ জিহাদ’ হিসেবে।

এ বিজ্ঞাপনের জেরে প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোপের মুখে পড়ে তানিশক্। কিন্তু সেখানেই শেষ হয়নি বিষয়টি। দ্রুতই সেটি শারীরিক লাঞ্ছনা অবধি গড়ায়। এমনকি প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন কর্মীর নাম উল্লেখ করে অনলাইনে হুমকি দেয়াও শুরু হয় সে সময়।

আরও পড়ুন:
পশ্চিমবঙ্গে প্রথম সফল ফুসফুস প্রতিস্থাপন
পশ্চিমবঙ্গে ফের বাড়ল করোনার বিধিনিষেধ
করোনায় শিশুশ্রম বেড়েছে পশ্চিমবঙ্গে
‘মা’ আসলে কার
করোনাভাইরাস: জীবনযাপনের ছন্দ ফিরছে পশ্চিমবঙ্গে

শেয়ার করুন

সংসদ সদস্য পদ ছাড়লেন বাবুল সুপ্রিয়

সংসদ সদস্য পদ ছাড়লেন বাবুল সুপ্রিয়

বাবুল সুপ্রিয়। ফাইল ছবি

বাবুল টুইটে জানান, ‘বিজেপির থেকেই আমি রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু করেছি। প্রধানমন্ত্রী, অমিত শাহ, দলের সভাপতির প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। তারা আমার প্রতি ভরসা রেখেছেন। কিন্তু আমি দলটা অন্তর থেকেই ছেড়েছি। তাই মনে করি যে, বিজেপির হয়ে আমার সংসদ সদস্য পদটাও রাখা উচিত নয়।’

পশ্চিমবঙ্গের আসানসোল আসন থেকে বিজেপির হয়ে নির্বাচিত সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সদ্য তৃণমূলে যোগ দেয়া রাজনীতিক বাবুল সুপ্রিয়।

মঙ্গলবার স্পিকার ওম বিড়লার বাড়িতে গিয়ে বিজেপির সাবেক কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী ও গায়ক বাবুল পদত্যাগপত্র জমা দেন। স্পিকার তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন।

পরে বাবুল টুইটে জানান, ‘বিজেপির থেকেই আমি রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু করেছি। প্রধানমন্ত্রী, অমিত শাহ, দলের সভাপতির প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। তারা আমার প্রতি ভরসা রেখেছেন। কিন্তু আমি দলটা অন্তর থেকেই ছেড়েছি। তাই মনে করি যে, বিজেপির হয়ে আমার সংসদ সদস্য পদটাও রাখা উচিত নয়।’

বাবুল আগেই জানিয়েছিলেন তিনি যাদের টিকিটে নির্বাচিত হয়েছেন, সেই দল ছেড়ে অন্য দলে গেলে পুরনো দলের সাংসদ পদ ধরে থাকা অনৈতিক হবে।

২০১৪ সালে বিজেপির টিকিটে আসানসোল কেন্দ্র থেকে জিতে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী হন বাবুল। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনেও বিজেপির টিকিটে জয়লাভ করেন এবং আবারও কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী হন। কিন্তু সম্প্রতি মন্ত্রিসভা রদবদলের সময় বাবুল সুপ্রিয় মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়েন।

তারপর থেকে বিজেপির সঙ্গে বাবুলের দূরত্ব তৈরি হয়। এমনকি বাবুল রাজনীতি ছেড়ে দেয়ার কথা বলেন সে সময়। তার রাজনৈতিক জীবন নিয়ে টানাপোড়েন শুরু হয় ।

এরপর আচমকা সেপ্টেম্বরে তৃণমূলে যোগ দেন বাবুল সুপ্রিয়। কথামতো আজ মঙ্গলবার বিজেপির সংসদ সদস্য পদ থকে পদত্যাগ করেন।

অনেকেই যখন বলছেন এখন তৃণমূল থেকে বাবুল নির্বাচন করবেন।

বাবুল টুইটে সে প্রশ্নেরও ইঙ্গিত দিয়েছেন, ‘আমি আর বিজেপির অংশ নই। যে বিজেপির জন্য আমি একটি আসনে জয়লাভ করেছিলাম, আমার মধ্যে যদি কিছু থেকে থাকে, তাহলে আমি আবার জয় পাব।’

আরও পড়ুন:
পশ্চিমবঙ্গে প্রথম সফল ফুসফুস প্রতিস্থাপন
পশ্চিমবঙ্গে ফের বাড়ল করোনার বিধিনিষেধ
করোনায় শিশুশ্রম বেড়েছে পশ্চিমবঙ্গে
‘মা’ আসলে কার
করোনাভাইরাস: জীবনযাপনের ছন্দ ফিরছে পশ্চিমবঙ্গে

শেয়ার করুন

আবারও কাশ্মীরে হামলার হুমকি আইএসের

আবারও কাশ্মীরে হামলার হুমকি আইএসের

বেসামরিক হত্যাকাণ্ড বাড়তে থাকায় সম্প্রতি জম্মু-কাশ্মীরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। ছবি: পিটিআই

রোববার জম্মু-কাশ্মীরের দক্ষিণে কুলগাম জেলায় দুইজন বহিরাগত শ্রমিক গুলিতে নিহত এবং আরেকজন আহত হন। এর আগে গত ৯ অক্টোবর জম্মু-কাশ্মীরে ভাসমান শ্রমিক হিসেবে আসা বিহারের একজন ফেরিওয়ালা আর উত্তর প্রদেশের এক শ্রমিক পৃথক সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন। চলতি মাসের শুরুতে বিহারের আরেক ফেরিওয়ালা বীরেন্দ্র পাসওয়ান শ্রীনগরের ঈদগাহ এলাকায় সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন। ধারাবাহিক এসব চোরাগোপ্তা হত্যাকাণ্ডের মধ্যেই উপত্যকায় এরকম আরও হামলার হুমকি দেয় আইএসকেপি।

ভারতের একমাত্র মুসলিম অধ্যুষিত ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু-কাশ্মীরে হামলার হুমকি দিয়েছে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)। সংগঠনটির আফগানিস্তানভিত্তিক শাখা আইএস খোরাসান প্রভিন্স বা আইএসকেপি এ হুমকি দিয়েছে।

আইএসকেপির ভারতের মুখপত্র ‘ভয়েস অব হিন্দ’-এর ২১তম সংস্করণে দেয়া হয়েছে এ হুমকি। এতে একটি ছবি প্রকাশ করা হয়েছে যেখানে দেখা যাচ্ছে একজন ফেরিওয়ালাকে পেছন থেকে গুলি করা হচ্ছে।

ছবির ক্যাপশনে যা লেখা, সেটির বাংলা অনুবাদ করলে দাঁড়ায়- ‘আমরা আসছি’। জম্মু-কাশ্মীরে বহিরাগত এক ফেরিওয়ালাকে হত্যার পর গুলি করার ভিডিও প্রকাশ করেছিল আইএসকেপি।

মুখপত্রে হিন্দু দেবতাদের একটি ত্রিশূলের ছবিও দেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে দেব-দেবীর মূর্তিও আক্রমণের শিকার হবে বলে বোঝানো হয়েছে।

আইএসকেপি ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে 'ভয়েস অব হিন্দ' প্রকাশ করে আসছে। মূলত উপত্যকাযর মুসলিম যুবকদের কট্টরপন্থায় আগ্রহী করে তোলা মুখপত্রটির লক্ষ্য বলে ধারণা করা হয়।

সম্প্রতি ভারতের বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থা দেশের বিভিন্ন রাজ্যে সন্ত্রাসবাদে সম্পৃক্ততার অভিযোগে বেশ কয়েকজনকে আটক করে। জানায়, উৎসবের মৌসুম সামনে রেখে সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা ছিল অভিযুক্তদের।

গত এক মাসে জম্মু-কাশ্মীরের পাকিস্তান সীমান্তবর্তী নিয়ন্ত্রণরেখা এলাকায় বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় বেশ কয়েকজন ভারতীয় সেনা ও অনুপ্রবেশকারীর। কয়েক বছরের মধ্যে প্রথমবার এক পাকিস্তানি অনুপ্রবেশকারীকে জীবিত আটক করার কথাও জানায় নয়া দিল্লি।

এ ছাড়া ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে গত ১৫ দিনে অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের গুলিতে স্থানীয় পাঁচ কাশ্মীরিসহ ১১জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন

রোববার জম্মু-কাশ্মীরের দক্ষিণে কুলগাম জেলায় দুইজন বহিরাগত শ্রমিক গুলিতে নিহত এবং আরেকজন আহত হন। এর আগে গত ৯ অক্টোবর জম্মু-কাশ্মীরে ভাসমান শ্রমিক হিসেবে আসা বিহারের একজন ফেরিওয়ালা আর উত্তর প্রদেশের এক শ্রমিক পৃথক সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন। চলতি মাসের শুরুতে বিহারের আরেক ফেরিওয়ালা বীরেন্দ্র পাসওয়ান শ্রীনগরের ঈদগাহ এলাকায় সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন।

ধারাবাহিক এসব চোরাগোপ্তা হত্যাকাণ্ডের মধ্যেই উপত্যকায় এরকম আরও হামলার হুমকি দেয় আইএসকেপি।

এ অবস্থায় ভারতের অন্যান্য রাজ্য থেকে কাশ্মীরে যাওয়া ব্যক্তিদের ওপর হামলা ঠেকাতে নিরাপত্তা জোরদার করছে প্রশাসন। উপত্যকায় জঙ্গি তৎপরতার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চালাচ্ছে।

গত শনিবার জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ বিগত নয় দিনে নয়টি বন্দুকযুদ্ধে ১৩ সন্ত্রাসীকে হত্যার কথা জানিয়েছে।

ভারতীয় গোয়েন্দাদের দাবি, সম্প্রতি কাশ্মীর উপত্যকায় যে কায়দায় হামলা হচ্ছে, তার পেছনে রয়েছে নতুন কোনো গোষ্ঠী। গোয়েন্দারা বলছে, এই গোষ্ঠীর নাম হরকত ৩১৩, যা আদতে ব্রিগেড ৩১৩-র নতুন সংস্করণ।

আফগানিস্তানের সশস্ত্র সংগঠন হাক্কানি নেটওয়ার্কের সদর দফতর মিরানশাহ থেকে হরকত ৩১৩ সরাসরি নিয়ন্ত্রিত বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা। আফগানিস্তানের বর্তমান তালেবান শাসকদলের মন্ত্রিসভারও অংশ এই হাক্কানি নেটওয়ার্ক।

গোয়েন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, হাক্কানি নিয়ন্ত্রিত হলেও হরকত ৩১৩’র নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইলিয়াস কাশ্মীরি নামে এক কাশ্মীরি। সংগঠনটিকে হাক্কানি নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করলেও তাদের পেছনে কলকাঠি নাড়ছে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই।

মূলত ভারতীয় সেনাদের নজর অন্যদিকে সরিয়ে ভারতে সন্ত্রাসীদের ঢোকানো হরকত ৩১৩’র উদ্দেশ্য বলে অনুমান গোয়েন্দাদের।

ভারতীয় গোয়েন্দারা আরও জানায়, আইএসকেপি জম্মু-কাশ্মীরজুড়ে নীরবে ছড়িয়ে পড়েছে এবং বড় ধরনের ধ্বংসাত্মক ষড়যন্ত্র করছে।

আরও পড়ুন:
পশ্চিমবঙ্গে প্রথম সফল ফুসফুস প্রতিস্থাপন
পশ্চিমবঙ্গে ফের বাড়ল করোনার বিধিনিষেধ
করোনায় শিশুশ্রম বেড়েছে পশ্চিমবঙ্গে
‘মা’ আসলে কার
করোনাভাইরাস: জীবনযাপনের ছন্দ ফিরছে পশ্চিমবঙ্গে

শেয়ার করুন

কেরালার পর উত্তরাখান্ডে বন্যার তাণ্ডব

কেরালার পর উত্তরাখান্ডে বন্যার তাণ্ডব

উত্তরাখান্ডের জিম করবেট জাতীয় উদ্যানে কোসি নদীতে পানি বিপৎসীমার ওপরে বইছে। এতে তলিয়ে গেছে লেমন ট্রি হোটেল, ছাদে আশ্রয় নিয়েছেন অতিথিরা। ছবি: এনডিটিভি

২৪ ঘণ্টায় ৫০০ মিলিমিটার বৃষ্টির পর বিপৎসীমা ছাড়িয়ে রেকর্ড উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে নৈনীতাল হ্রদের পানি। কালাধুঙ্গি, হালদোয়ানি ও ভাওয়ালী সংলগ্ন সড়কগুলোতেও ভূমিধসের ধ্বংস্তস্তুপ পড়ে থাকায় যান চলাচল বন্ধ আছে। ৪৮ ঘণ্টা ধরে যোগাযোগবিচ্ছিন্ন রয়েছে বদ্রীনাথ মহাসড়ক। রাজ্য সরকার, কেন্দ্রীয় দুর্যোগ প্রশমন বাহিনী এনডিআরএফ ও সেনাবাহিনী সমন্বিতভাবে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কেরালার পর বন্যার তাণ্ডব চলছে উত্তরের উত্তরাখান্ড রাজ্যে।

টানা তৃতীয় দিনের অতিবৃষ্টি আর প্রবল গতিতে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্টি ভয়াবহ বন্যায় প্রাণ গেছে কমপক্ষে ১৬ জনের। নিখোঁজ অনেকে, যারা ধ্বংসস্তুপের নিচে চাপা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়, পরিস্থিতির ভয়াবহতায় হেলিকপ্টারে চড়ে বন্যাকবলিত অঞ্চলগুলো পরিদর্শন করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী ও শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা।

মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি বার্তা সংস্থা এএনআইকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বন্যা পরিস্থিতির বিষয়ে অবগত করা হয়েছে। বন্যায় বাড়িঘর ও সেতুসহ বিপুলসংখ্যক স্থাপনা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধারকাজে সেনাবাহিনীর তিনটি হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে।’

ধামির সঙ্গে পরিস্থিতির ভয়াবহতা নিয়ে আলোচনা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

পাহাড়ি রাজ্যটিতে বন্যার তোড়ে সড়ক, ভবন ও সেতু তলিয়ে এবং ভেঙে গেছে। বিপৎসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে বেশ কিছু নদীতে।

ভূমিধসের কারণে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে পর্যটন শহর নৈনীতাল। বন্যায় মৃতদের মধ্যে মঙ্গলবার শুধু নৈনীতালেই ভবন ধসে প্রাণ গেছে কমপক্ষে সাতজনের, উধাম সিং নগরে বন্যার পানিতে ভেসে গেছেন একজন। এদিন প্রাণ গেছে মোট ১১ জনের।

পাঁচজন মারা গেছেন সোমবার, যাদের মধ্যে তিনজন নেপাল থেকে আসা শ্রমিক।

২৪ ঘণ্টায় ৫০০ মিলিমিটার বৃষ্টির পর বিপৎসীমা ছাড়িয়ে রেকর্ড উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে নৈনীতাল হ্রদের পানি। কালাধুঙ্গি, হালদোয়ানি ও ভাওয়ালী সংলগ্ন সড়কগুলোতেও ভূমিধসের ধ্বংস্তস্তুপ পড়ে থাকায় যান চলাচল বন্ধ আছে। ৪৮ ঘণ্টা ধরে যোগাযোগবিচ্ছিন্ন রয়েছে বদ্রীনাথ মহাসড়ক।

রাজ্য সরকার, কেন্দ্রীয় দুর্যোগ প্রশমন বাহিনী এনডিআরএফ ও সেনাবাহিনী সমন্বিতভাবে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

বিখ্যাত মল রোড, নয়না দেবী মন্দির বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একটি হোস্টেল। কেদারনাথ মন্দির থেকে ফেরার পথে আটকা পড়া ২২ জন তীর্থযাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে।

এ অবস্থায় হিমালয়ের কোল ঘেঁষা অঞ্চলটিতে প্রায় সব মন্দিরে দর্শনার্থীদের প্রবেশ স্থগিত রাখা হয়েছে। বন্ধ রয়েছে বদ্রীনাথ চার ধাম যাত্রা। পথে থাকা বদ্রীনাথ মন্দিরগামী তীর্থযাত্রীদের নিরাপদ আশ্রয়ে নেয়া হয়েছে।

আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তীর্থযাত্রা স্থগিত রাখার অনুরোধ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী ধামি।

বন্ধ রয়েছে রাজ্যের সব স্কুল। পরবর্তী নির্দেশের আগ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে পর্বতারোহণ, ক্যাম্পিংসহ সব ধরনের রোমাঞ্চযাত্রা।

বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বন্যার ধ্বংসযজ্ঞের ভয়াবহ ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
পশ্চিমবঙ্গে প্রথম সফল ফুসফুস প্রতিস্থাপন
পশ্চিমবঙ্গে ফের বাড়ল করোনার বিধিনিষেধ
করোনায় শিশুশ্রম বেড়েছে পশ্চিমবঙ্গে
‘মা’ আসলে কার
করোনাভাইরাস: জীবনযাপনের ছন্দ ফিরছে পশ্চিমবঙ্গে

শেয়ার করুন