বিজেপির ‘চক্রান্ত’ নিয়ে ভাবনায় মমতা

বিজেপির ‘চক্রান্ত’ নিয়ে ভাবনায় মমতা

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল ছবি

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন ‘তৃণমূলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে, আমি যদি জিততে না পারি তখন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী অন্য কেউ হবেন। এখানে ভোটে হারলে আমি মুখ্যমন্ত্রী থাকতে পারবো না, এটা আমি আপনাদের কাছে বলে গেলাম।'

পশ্চিমবঙ্গের ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে ভোট প্রচার এখন তুঙ্গে। ৩০ সেপ্টেম্বর ভোট গ্রহণ, ভোট গণনা ৩ অক্টোবর। মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বহাল থাকতে হলে এখানে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয়ের বিকল্প নেই। আর তাই রাজনীতির খেলায় বিজেপি ‘ভোটের চক্রান্ত’ করতে পারে বলে মন্তব্য করেন মমতা।

ভোট প্রচারে বুধবার চেতলায় গিয়ে মমতা এ উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘ভবানীপুরে বহিরাগতদের আনার চেষ্টা হচ্ছে। বিজেপি নানারকম চক্রান্ত করবে। তারা ভবানীপুরের মাটি চেনে না। পূজার আগে আপনারা মাথা ঠান্ডা রেখে ভোট দিন।’

গত নির্বাচনে নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে হেরে গিয়েও ৫ মে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেন।
সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী, তিনি ভবানীপুরের আসনটিতে হারলে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকতে পারবেন না। তাই সবার আগ্রহের কেন্দ্রে এখন এই আসনের উপনির্বাচন।

তৃণমূল নেত্রী এসব বিষয় মাথায় রেখে বলেন, ‘তৃণমূলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে, আমি যদি জিততে না পারি তখন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী অন্য কেউ হবেন। এখানে ভোটে হারলে আমি মুখ্যমন্ত্রী থাকতে পারবো না, এটা আমি আপনাদের কাছে বলে গেলাম।

‘আপনার ভোটটা কেন প্রয়োজন, তা বলেছি। এখন ঝড়-বৃষ্টি হলেও সবাই ভোট দিতে বের হবেন।’

অতীত তুলে ধরে মমতা বলেন, ‘আমি এখানে ছোট থেকে বড় হয়েছি। মা বলেছিলেন, তুই এখানে একবার দাঁড়ালে আমি তোকে একটা ভোট দিতাম। আমারও তো আমার মেয়েকে ভোট দিতে ইচ্ছে করে।

‘আমি সাত দফায় সংসদ সদস্য হয়েছি। প্রতিবার খিদিরপুর সঙ্গে ছিল। ২০১১ ও ২০১৬ সালে এখান থেকে নির্বাচিত হয়েছি। এটা ভাগ্যের খেলা, এবার মুখ্যমন্ত্রী হলে তা হবে ভবানীপুর থেকেই।’

ভোট প্রচারে এবার তৃণমূল কর্মীরা বাংলার মেয়ে, পাড়ার মেয়ে, ঘরের মেয়ে, ভবানীপুরের মেয়ে এসব শ্লোগান তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয়লাভকে সহজ করতে চাইছে।
আলোচিত এ উপনির্বাচনে ভোট প্রচারের জন্য আর পাঁচ দিন হাতে আছে। শেষ সময়ে তৃণমূলের প্রচারে তাই ঘুরে ফিরে আসছে বিজেপির কর্মকান্ড। বিজেপি বহিরাগত এনে এখানে ভোটে ঝামেলা করতে পারে বলে অভিযোগ করেছেন মমতা নিজেই।

ত্রিপুরায় অভিষেকের পদযাত্রায় বাধার কথা উল্লেখ করে মমতা বলেন, ‘বিজেপি ভয় পায়, তাই বাধা দেয়। তৃণমূল ভয় পায় না, তাই ঢুকতে দেয়। বিজেপির এখানে কেউ নেই, সব বহিরাগতরা প্রচার করছে। ওদের জিজ্ঞেস করুন, মানুষের জন্য তারা কি করেছে?’

আরও পড়ুন:
‘মোদিবিরোধিতায় মমতাই যোগ্য মুখ’
ভোটারের মন পেতে ঘরে ঘরে মমতা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ভোটের পর রাজ্যের মর্যাদা ফিরে পাবে কাশ্মীর: অমিত শাহ

ভোটের পর রাজ্যের মর্যাদা ফিরে পাবে কাশ্মীর: অমিত শাহ

ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ফাইল ছবি

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সভাপতিত্বে উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠকে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদী অভিযান, মৌলবাদের ক্রমবর্ধমান হুমকি প্রতিহত, বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা বন্ধ এবং সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকানো নিয়ে আলোচনা হয়। জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও পিডিপি প্রধান মেহবুবা মুফতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছেন।

জম্মু-কাশ্মীরে বিধানসভা এলাকার সীমানা পুনঃনির্ধারণের পর নির্বাচন হবে এবং পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদাও ফিরিয়ে দেয়া হবে কাশ্মীরকে। এমন আশ্বাস দিয়েছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

শনিবার জম্মু-কাশ্মীরে তিন দিনের সফরে গিয়ে এমনটি বলেন, ক্ষমতাসীন বিজেপির এই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

দু’বছর আগে জম্মু-কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা তুলে নেবার পর অমিত শাহ-র প্রথম উপত্যকা সফর এটি।

এদিন শ্রীনগরে এক সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কাশ্মীরের যুবকদের ওপর সন্ত্রাসের ছায়া রয়েছে। আজ কাশ্মীরের তরুণরা পরিবর্তনের কথা বলছে। যুব সমাজকে খেলাধুলা ও পর্যটনের সঙ্গে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা করেছি আমরা। খেলা নিজেই তরুণদের হারতে এবং জিততে শেখায়।’

তবে অমিত শাহ সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর মনোভাব দেখিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদ নির্মূল করতে শক্তিশালী আক্রমণ প্রয়োজন।’

এদিন শ্রীনগরে পৌঁছেই নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি উচ্চ-পর্যায়ের সভায় যোগ দেন অমিত শাহ। এই বৈঠকে একাধিক নিরাপত্তা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে এই বৈঠক চলে। বৈঠকে নিরাপত্তা বাহিনীকে সন্ত্রাস নির্মূলের নির্দেশ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সভাপতিত্বে উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠকে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদী অভিযান, মৌলবাদের ক্রমবর্ধমান হুমকি প্রতিহত, বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা বন্ধ এবং সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকানো নিয়ে আলোচনা হয়।

অমিত শাহ স্পষ্টভাবে বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে একসঙ্গে কাজ করা উচিত সমস্ত সংস্থাগুলোর এবং সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে শেষ যুদ্ধে তাদের জয়ী হতে হবে।

শাহ তার সফরে সেখানে অনেক উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করেন।

অন্যদিকে, জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও পিডিপি প্রধান মেহবুবা মুফতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছেন।

পিডিপি সভাপতি মেহবুবা মুফতি বলেন, ‘পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখানোর জন্য নাটক চলছে। প্রকৃত পরিস্থিতি এর থেকে বেশ ভিন্ন। শাহের সফরের আগে সাত শতাধিক মানুষকে আটক করা হয়েছে।’

শাহের উন্নয়নমূলক কাজ নিয়ে কটাক্ষ করে মেহবুবা বলেন, ‘এর মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি কাজ কংগ্রেস সরকারের। তিনি বলেন, ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের পর জম্মু ও কাশ্মীরে সমস্যা বহুগুণ বেড়েছে।’

অমিত শাহের এই সফরকে কেন্দ্র করে কাশ্মীরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিরাপত্তায় শার্প শুটার, স্নাইপার এমনকি ড্রোনও মোতায়েন করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সন্ত্রাসী হামলা বৃদ্ধি পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে শাহের সফরটিও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। সন্ত্রাসীরা টার্গেট কিলিং-এর আওতায় অ-কাশ্মীরি এবং সংখ্যালঘুদের টার্গেট করছে। পাশাপাশি অনেক স্থানীয় যুবকের সন্ত্রাসী শিবিরে যাওয়ার খবরও রয়েছে।

আরও পড়ুন:
‘মোদিবিরোধিতায় মমতাই যোগ্য মুখ’
ভোটারের মন পেতে ঘরে ঘরে মমতা

শেয়ার করুন

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এখনও অটুট: শ্রিংলা

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এখনও অটুট: শ্রিংলা

ভারতের পররাষ্ট্রসচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা। ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেশী দেশটির পররাষ্ট্রসচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও পরিণত হয়েছে। ৫০ বছর আগে যে সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল, আজ তা আরও গভীরে পৌঁছেছে। বাংলাদেশের বীর মুক্তিযোদ্ধারা আজও আমাদের দুই দেশের মধ্যে সেতুবন্ধন।’

৫০ বছর আগে ভারত-বাংলাদেশ যে সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল, এখন তা আরও গভীরে পৌঁছেছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির ক্ষেত্রে ভারত সহযোগী হিসেবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এমনটি জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রসচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা।

শনিবার বিমান বাহিনীর কনক্লেভ থেকে এ কথা বলেন প্রতিবেশী দেশটির পররাষ্ট্রসচিব। বেঙ্গালুরুতে আয়োজিত কনক্লেভ অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন শ্রিংলা।

তিনি বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও পরিণত হয়েছে। ৫০ বছর আগে যে সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল, আজ তা আরও গভীরে পৌঁছেছে। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এখনও অটুট।’

এসময় মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের বীর মুক্তিযোদ্ধারা আজও আমাদের দুই দেশের মধ্যে সেতুবন্ধন।’

তার কথায়, ১৯৭১-এ যতটা নৈতিক ও রাজনৈতিক জয় ছিল, ভারতের জন্য ছিল চূড়ান্ত সামরিক জয়।

বাংলাদেশে কাজ করার সুবাদে তিনি ভারতীয় বিমান বাহিনীর (বায়ুসেনা) জাওয়ানদের কীর্তি শুনেছেন বলে জানান হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা।

তিনি জানান, ঢাকায় গিয়ে তিনি বায়ুসেনা জওয়ানদের সাহসিকতার কাহিনী শুনেছেন যা আজও বাংলাদেশের বহু মানুষকে অনুপ্রাণিত করে। তিনি উল্লেখ করেন, আত্মসম্মানের সঙ্গে বাংলাদেশ স্বাধীনতার যুদ্ধে জয়ী হয়েছিল।

তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে কী ধরনের অত্যাচার চালিয়েছিল পশ্চিম পাকিস্তানের হানাদার বাহিনী সে কথা মনে করিয়ে দেন শ্রিংলা। তার দাবি, এই অঞ্চলে কখনও এমন নৃশংস গণহত্যা দেখা যায়নি।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘সেই মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবিকতার খাতিরে ভারত শরণার্থীদের প্রতি যে আচরণ করেছে তা সাম্প্রতিক ইতিহাসে নজিরবিহীন। তার কথায় জাতিসংঘের রেস্পন্সিবিলিটি টু প্রটেক্ট বা সুরক্ষার দায়িত্ব সম্পর্কিত যে ধারণা রয়েছে তারই উদাহরণ তৈরি করেছিল ভারত।’

তিনি বলেন, ‘সেই সময়ে শরণার্থীদের পুরো দায়িত্ব এসে পড়েছিল ভারতীয়দের ওপর ও ভারত সরকারের ওপর।’

এর আগে মুজিব জন্মশতবর্ষের আয়োজনে বাংলাদেশে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উল্লেখ করেছিলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সামিল হয়েছিলেন তিনি। ঢাকায় মুজিব শতবর্ষে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্মৃতিচারণায় বলেছিলেন, জীবনের শুরুর দিকে আন্দোলনগুলোর অন্যতম ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াইয়ে সামিল হওয়া।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে তার আত্মিক সম্পর্ক আজকের নয়, বরং মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকে। আর শুধু সম্পর্কই নয়, বাংলাদেশের স্বাধীনতার লড়াইয়ে তার অংশগ্রহণও ছিল বলে দাবি করেন মোদি।

আরও পড়ুন:
‘মোদিবিরোধিতায় মমতাই যোগ্য মুখ’
ভোটারের মন পেতে ঘরে ঘরে মমতা

শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্রসহ ১০ দেশের রাষ্ট্রদূতকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা এরদোয়ানের

যুক্তরাষ্ট্রসহ ১০ দেশের রাষ্ট্রদূতকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা এরদোয়ানের

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। ছবি: এএফপি

এরদোয়ান বলেন, ‘ওই রাষ্ট্রদূতদের তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এসে আদেশ দেয়ার সাহস দেখানো উচিত নয়। আমি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছি। এই দশ রাষ্ট্রদূতকে এক্ষুণি অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা উচিত। আপনার শিগগিরই এটি দেখবেন।’

ভিন্নমত দমনের সমালোচনা করায় যুক্তরাষ্ট্রসহ দশটি দেশের রাষ্ট্রদূতকে ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ বা অবাঞ্ছিত ঘোষণার আদেশ দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।

শনিবার সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

সরকার বিরোধী আন্দোলন ও অভ্যুত্থানের অভিযোগে বিনা বিচারে প্রায় চার বছর ধরে কারাবন্দি রয়েছেন তুরস্কের অ্যাকটিভিস্ট ওসমান কাভালা। ১৮ অক্টোবর তার মুক্তি চেয়ে যৌথ বিবৃতি দেন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ফ্রান্স, ফিনল্যান্ড, ডেনমার্ক, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, নিউজিল্যান্ড, নরওয়ে ও সুইডেনের রাষ্ট্রদূতেরা।

এছাড়া কাভালাকে মুক্তি দেয়া না হলে মানবাধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক আদালতে তুরস্কের বিরুদ্ধে মামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইউরোপের প্রধান মানবাধিকার সংগঠন দি কাউন্সিল অফ ইউরোপ।

এর পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার তুরস্কের একিশেহির শহরের এক সমাবেশে এরদোয়ান বলেন, ‘ওই রাষ্ট্রদূতদের তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এসে আদেশ দেয়ার সাহস দেখানো উচিত নয়। আমি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছি। এই দশ রাষ্ট্রদূতকে এক্ষুণি অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা উচিত। আপনার শিগগিরই এটি দেখবেন।’

তুরস্কের গণমাধ্যম জানিয়েছে, তুরস্ক সম্পর্কে বোঝাপড়া না থাকলে ওই রাষ্ট্রদূতদের দেশে ফেরা উচিত বলেও মন্তব্য করেছেন এরদোয়ান।

পারসোনা নন গ্রাটা ঘোষণার ফলে ওই রাষ্ট্রদূতদের কূটনৈতিক স্ট্যাটাস বাতিল হতে পারে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

আরও পড়ুন:
‘মোদিবিরোধিতায় মমতাই যোগ্য মুখ’
ভোটারের মন পেতে ঘরে ঘরে মমতা

শেয়ার করুন

নতুন ভোর আনতে গোয়া যাচ্ছি: মমতা

নতুন ভোর আনতে গোয়া যাচ্ছি: মমতা

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: এএফপি

এক টুইট বার্তায় মমতা লিখেছেন, ‘যৌথভাবে আমরা একটি সরকার গঠনের মাধ্যমে গোয়ায় নতুন ভোরের সূচনা করব, যা সত্যি সত্যি গোয়ার জনগণের সরকার হবে। এটি মানুষের প্রত্যাশা পূরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হবে।’

বিজেপিকে হারিয়ে গোয়ায় নতুন ভোর আনতে গোয়া যাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

শনিবার এক টুইট বার্তায় তিনি লিখেছেন, ‘যৌথভাবে আমরা একটি সরকার গঠনের মাধ্যমে গোয়ায় নতুন ভোরের সূচনা করব, যা সত্যি সত্যি গোয়ার জনগণের সরকার হবে। এটি মানুষের প্রত্যাশা পূরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হবে।’

আগামী ২৮ অক্টোবর গোয়া সফরে যাচ্ছেন মমতা। শনিবার জোড়া টুইটে তৃণমূল নেত্রী সে কথা জানিয়ে বিজেপিকে আক্রমণ করে লেখেন, ‘২৮ অক্টোবর গোয়া যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। বিজেপি এবং তাদের বিভেদমূলক উদ্দেশ্যগুলোকে পরাস্ত করতে সব ব্যক্তি, সংগঠন এবং রাজনৈতিক দলকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। গত ১০ বছর গোয়ার মানুষকে অনেক ভোগান্তি সহ্য করতে হয়েছে।’

একই দিন দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার গোসাবা বিধানসভা উপনির্বাচনের প্রচারে যান তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

বিজেপিকে একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রুখতে পারেন জানিয়ে দলটির উদ্দেশে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘আজকের তারিখ লিখে রাখুন। আগামী তিন মাসের মধ্যে গোয়ায় সরকার গড়বে তৃণমূল। আগামী দেড় বছরে ত্রিপুরাতে তৃণমূলের সরকার হবে। বিপ্লব দেবের যত ক্ষমতা আছে কাজে লাগাক। ত্রিপুরা ঢুকব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ও আদর্শকে সামনে রেখে লড়ব। ত্রিপুরাতেও তৃণমূলের সরকার হবে। বিজেপির ক্ষমতা থাকলে আটকে দেখাক।’

ইতোমধ্যে গোয়ার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী লুইজিনহো ফেলেইরো আটজন বিধায়ক নিয়ে কলকাতায় এসে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। শুক্রবার তাকে তৃণমূলের জাতীয় সহসভাপতি পদে বসানো হয়েছে।

গোয়ায় সংগঠনের কাজে রয়েছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন। তার সঙ্গে বেশ কিছু তারকা ব্যক্তিত্বের কথা হয়েছে। তারা মমতার গোয়া সফরের সময় তৃণমূলে যোগ দিতে পারেন বলে জানা যাচ্ছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন লাকি আলী, নাফিসা আলী, রেমো ফার্নান্ডেজসহ অনেকে।

ছোট ছোট কয়েকটি রাজনৈতিক দল গোয়া তৃণমূলের সঙ্গে হাত মেলাতে পারে বলেও জানা গেছে।

দুই দিনের গোয়া সফরে তৃণমূল নেত্রী বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি ও বৈঠকে অংশ নেবেন। পূজার সময় তৃণমূল কংগ্রেস গোয়ায় তাদের রাজনৈতিক কার্যালয়ও খুলেছে। মুখ্যমন্ত্রীর সফরের আগে রোববার তৃণমূলের একটি প্রতিনিধিদল গোয়া যাচ্ছে।

ওই প্রতিনিধিদলে বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা সৌগত রায় এবং সম্প্রতি বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেয়া রাজনীতিক ও গায়ক বাবুল সুপ্রিয় রয়েছেন। তারা গোয়ায় বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে ।

আর এসবের লক্ষ্য একটাই। আগামী ২০২৪ লোকসভা ভোটে বিজেপিবিরোধী মুখ হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তুলে ধরে রাজ্যে রাজ্যে বিজেপিকে আগেই পরাজিত করা। তাই ত্রিপুরার পাশাপাশি গোয়া জয়ের লক্ষ্যে ঝাঁপিয়ে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।

আরও পড়ুন:
‘মোদিবিরোধিতায় মমতাই যোগ্য মুখ’
ভোটারের মন পেতে ঘরে ঘরে মমতা

শেয়ার করুন

করোনার ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ রুখতে পশ্চিমবঙ্গে ফের নির্দেশিকা

করোনার ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ রুখতে পশ্চিমবঙ্গে ফের নির্দেশিকা

পশ্চিমবঙ্গে করোনা আক্রান্তের হিসাবে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে কলকাতায়। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে ২৬৮ জন সংক্রমিত হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

নতুন নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, প্রয়োজনে কনটেইনমেন্ট জোন তৈরি করতে হবে। নৈশ কারফিউ কঠোরভাবে পালন করতে হবে। মাস্কের ব্যবহার আবশ্যিক করতে হবে। প্রয়োজনে পুলিশকে কঠোর হতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। টিকা দেয়ার হার বাড়াতে হবে। সঠিকভাবে করোনা পজিটিভ রোগীদের ট্র্যাক করতে হবে।

পূজার পর কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গের জেলায় জেলায় করোনার সংক্রমণ বাড়ছে। ঊর্ধ্বমূখী সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্য সরকার।

টিকার দুই ডোজ নেয়ার পরও অনেকে কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হচ্ছেন। তাই পরিস্থিতি হাতের বাইরে যাওয়ার আগে কঠোরভাবে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে উদ্বিগ্ন রাজ্য সরকার। সেজন্য টেস্ট (পরীক্ষা), ট্রেকিং এবং ট্রিটমেন্টের ওপর বিশেষ নজর দেয়া হয়েছে।

শনিবার করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজ্যের সব জেলাশাসকদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ও জেলা পুলিশ সুপাররা।

কলকাতা, নদীয়া, পুরুলিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পশ্চিম মেদিনীপুর, উত্তর দিনাজপুর, পশ্চিম বর্ধমান, দার্জিলিংয়ে সংক্রমণের হার বেশি। সেজন্য আলাদা করে এই জেলার জেলাশাসকদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এদিন নবান্নে মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদীর জারি করা একগুচ্ছ নতুন নির্দেশিকা এই সমস্ত জেলাগুলোর জন্য যাতে পরিস্থিতি নাগালের বাইরে না চলে যায়। নতুন নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, প্রয়োজনে কনটেইনমেন্ট জোন তৈরি করতে হবে। নৈশ কারফিউ কঠোরভাবে পালন করতে হবে। মাস্কের ব্যবহার আবশ্যিক করতে হবে। প্রয়োজনে পুলিশকে কঠোর হতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। টিকা দেয়ার হার বাড়াতে হবে। সঠিকভাবে করোনা পজিটিভ রোগীদের ট্র্যাক করতে হবে।

শনিবারের রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরের বুলেটিন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৯৭৪ জন করোনাভাইরাস সংক্রমিত হয়েছে। শুক্রবারের তুলনায় আক্রান্ত হয়েছে এক শ জনের বেশি। মৃত্যু হয়েছে ১২ জনের। একদিনে সুস্থ হয়েছেন ৮০৮ জন।

পশ্চিমবঙ্গে করোনা আক্রান্তের হিসাবে শীর্ষে রয়েছে কলকাতা। এখানে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৬৮ জন সংক্রমিত হয়েছেন। স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী রাজ্যে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১৫ লাখ ৮৫ হাজার ৪৬৬ জন। করোনায় মৃত্যু হয়েছে ১৯ হাজার ৪৫ জনের। মোট সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ৫৮ হাজার ৫৯০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৪৩ হাজার ১৫৯টি। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ২ দশমিক ২৬ শতাংশ।

আরও পড়ুন:
‘মোদিবিরোধিতায় মমতাই যোগ্য মুখ’
ভোটারের মন পেতে ঘরে ঘরে মমতা

শেয়ার করুন

শিশুদের হোমওয়ার্কের চাপ কমাতে চীনে আইন

শিশুদের হোমওয়ার্কের চাপ কমাতে চীনে আইন

শিশুদের ওপর পড়াশোনার চাপ কমাতে নতুন আইন পাস করে চীন। ছবি: এএফপি

চীনের বার্তা সংস্থা শিনহুয়া জানায়, নতুন আইনটিতে স্কুলশিক্ষার্থীদের ওপর হোমওয়ার্ক ও প্রাইভেটে পড়ার চাপ কমাতে স্থানীয় সরকারকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শিশুরা যাতে পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও শরীরচর্চা করতে পারে, সে জন্য নতুন ওই আইনে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। এতে শিশুদের মানসিক চাপ কমার পাশাপাশি তাদের ইন্টারনেট আসক্তিও হ্রাস পাবে।

স্কুলের শিশুদের হোমওয়ার্ক ও প্রাইভেটে পড়ার চাপ কমাতে নতুন একটি আইন এনেছে চীন।

দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা শিনহুয়া শনিবার তাদের প্রতিবেদনে জানায়, নতুন আইনটির পুরোটা প্রকাশ করা হয়নি। আইনটিতে স্কুলশিক্ষার্থীদের ওপর হোমওয়ার্ক ও প্রাইভেটে পড়ার চাপ কমাতে স্থানীয় সরকারকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে শিশুরা যাতে পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও শরীরচর্চা করতে পারে, সে জন্য নতুন ওই আইনে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। এতে শিশুদের মানসিক চাপ কমার পাশাপাশি তাদের ইন্টারনেট আসক্তিও হ্রাস পাবে।

নতুন এই আইন ছাড়াও চলতি বছরে শিশু-কিশোরদের বিষয়ে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে চীন। কিশোরদের অনলাইন গেমসের নেশা কাটাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া থেকে শুরু করে ইন্টারনেট সেলিব্রিটিদের প্রতি ভক্তি কমানো ছিল উল্লেখযোগ্য।

সোমবার চীনের পার্লামেন্ট জানায়, কিশোররা খুব খারাপ ব্যবহার করলে বা কোনো অপরাধে জড়িয়ে পড়লে তাদের অভিভাবকদের শাস্তি দেয়ার আইন প্রণয়নের চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।

সম্প্রতি চীনের শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিশুদের অনলাইন গেমসের সময় কমিয়ে দেয়। শুধু শুক্র, শনি ও রোববার এক ঘণ্টা করে তারা অনলাইনে গেমস খেলতে পারবে।

এ ছাড়া হোমওয়ার্কের পরিমাণ কমানোর পাশাপাশি সাপ্তাহিক ছুটিসহ অন্যান্য ছুটির দিনে স্কুল শেষে প্রধান বিষয়ে প্রাইভেটে পড়া নিষিদ্ধ করেছে চীনের শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

স্কুলের শিশুদের ওপর অতিরিক্ত পড়াশোনার চাপ কমাতে এসব সিদ্ধান্ত নেয় চীনা সরকার।

একই সঙ্গে ‘মেয়েলিপনা’ কমিয়ে আরও ‘পুরুষালি’ হতে দেশের কিশোরদের প্রতি আহ্বান জানায় চীন।

এ লক্ষ্যে গত বছরের ডিসেম্বরে ক্যাম্পাসে ফুটবলসহ অন্যান্য খেলা প্রচারে স্কুল কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

আরও পড়ুন:
‘মোদিবিরোধিতায় মমতাই যোগ্য মুখ’
ভোটারের মন পেতে ঘরে ঘরে মমতা

শেয়ার করুন

কাবুলে বিদ্যুৎ লাইনে বিস্ফোরণের দায় নিল আইএস

কাবুলে বিদ্যুৎ লাইনে বিস্ফোরণের দায় নিল আইএস

বৃহস্পতিবার কাবুলে বৈদ্যুতিক লাইনে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় আইএস-কে। ছবি: এএফপি

আইএস-কে তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানায়, ‘কাবুলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত করতে খেলাফতের যোদ্ধারা সেখানে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়।’

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পুরো শহরকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করার দায় নিয়েছে নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের [(আইএস) আফগান শাখা আইএস-খোরাসান (আইএস-কে)]।

সশস্ত্র সংগঠনটি শুক্রবার বিস্ফোরণের দায় নেয় বলে বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

আইএস-কে তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানায়, ‘কাবুলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত করতে খেলাফতের যোদ্ধারা সেখানে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়।’

ওই বিস্ফোরণ উচ্চ-ভোল্টেজের একটি বিদ্যুৎ লাইনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। কাবুলসহ আফগানিস্তানের অন্য কয়েকটি প্রদেশে আমদানি করা বিদ্যুৎ সরবরাহ করে ওই লাইন।

আফগানিস্তানের বিদ্যুৎব্যবস্থা অনেকাংশে নির্ভরশীল আমদানি করা বিদ্যুতের ওপর।

মূলত উত্তরাঞ্চলীয় প্রতিবেশী দেশ তাজিকিস্তান ও উজবেকিস্তান থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করে দেশটি। এ কারণে মাঠে-ঘাটের বিদ্যুৎ লাইনে সহজে হামলা চালাতে পারে সন্ত্রাসীরা।

রাজধানী কাবুলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হওয়া দেশকে স্থিতিশীল রাখার তালেবানের প্রচেষ্টার ওপর আরও একটি আঘাত।

আন্তর্জাতিক সহায়তা ও স্বীকৃতি পেতে ক্ষমতা দখলের পর দুই মাসের বেশি সময় ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কট্টর ইসলামপন্থি গোষ্ঠীটি।

১৫ আগস্ট কাবুল পতনের মধ্য দিয়ে আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করে তালেবান। এরপর থেকে আফগানিস্তানজুড়ে বেশ কয়েকটি সহিংস হামলা চালিয়ে তালেবানকে উদ্বেগে ফেলেছে আইএস-কে।

গত শুক্রবার জুমার নামাজের সময় আফগানিস্তানের কান্দাহার শহরে এক শিয়া মসজিদে আইএস-কের বোমা হামলায় ৬০ জনের মৃত্যু হয়।

এর আগের শুক্রবার ৮ অক্টোবর দেশটির কুন্দুজ শহরে আরেক শিয়া মসজিদে নামাজরত মুসল্লিদের ওপর আত্মঘাতী বোমা হামলা চালায় আইএস-কে। ওই ঘটনায় অন্তত ৫০ মুসল্লির মৃত্যু ঘটে।

আরও পড়ুন:
‘মোদিবিরোধিতায় মমতাই যোগ্য মুখ’
ভোটারের মন পেতে ঘরে ঘরে মমতা

শেয়ার করুন