কঠিন চ্যালেঞ্জ সহজে জিতলেন ট্রুডো

কঠিন চ্যালেঞ্জ সহজে জিতলেন ট্রুডো

বাসায় বসে পরিবারের সবাইকে নিয়ে টেলিভিশনে নির্বাচনের ফল দেখছেন জাস্টিন ট্রুডো। ছবি: কানাডিয়ান প্রেস

করোনাভাইরাসের ধাক্কায় বিপর্যস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং এই মহামারি মোকাবিলায় পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দেশবাসীর সমর্থন পেতে নির্ধারিত সময়ের দুই বছর আগে এই নির্বাচন দেন ট্রুডো। এই নির্বাচন তার জন্য কঠিন পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছিল।

কানাডায় কঠিন চ্যালেঞ্জের আগাম নির্বাচনে সহজ জয় পেয়েছে জাস্টিন ট্রুডোর লিবারেল পার্টি। নির্বাচনে বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির চেয়ে বেশি আসন পাওয়ায় দেশটির ক্ষমতায় কোনো পরিবর্তন আসছে না।

কানাডিয়ান টেলিভিশনের বরাতে ট্রুডোর দলের জয় নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।

ট্রুডোর জয় নিশ্চিত করেছে কানাডার সিটিভি নিউজ। সবশেষ ফলাফলে তারা জানিয়েছে, নির্বাচনে ট্রুডোর লিবারেল পার্টি পেয়েছে ১৫৪টি আসন। আর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কনজারভেটিভ পার্টি পেয়েছে ১২১টি আসন।

করোনাভাইরাসের ধাক্কায় বিপর্যস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং এই মহামারি মোকাবিলায় পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দেশবাসীর সমর্থন পেতে নির্ধারিত সময়ের দুই বছর আগে এই নির্বাচন দেন ট্রুডো।

এই নির্বাচন তার জন্য কঠিন পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছিল, কিন্তু ফলাফল বলছে যে সমর্থন লিবারেল পার্টি পেয়েছে তাতে প্রধানমন্ত্রী থাকছেন ট্রুডোই।

তবে লিবারেল পার্টি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে কি না তা জানতে আরও অপেক্ষা করা লাগবে। কানাডায় এককভাবে সরকার গঠনে ৩৩৮টি ফেডারেল আসনের মধ্যে ১৭০টি আসন পেতে হয়। সেই ম্যাজিক ফিগারে ট্রুডোর দল পৌঁছাতে পারবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী পিয়েরে ট্রুডোর সন্তান ৪৯ বছর বয়সী জাস্টিন ট্রুডো ২০১৫ সাল থেকে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন। ক্যারিশমেটিক প্রগতিশীল নেতা হিসেবে সারা বিশ্বে তার ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে।

প্রথম দফায় নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করলেও ২০১৯ সালের নির্বাচনে তা হারান ট্রুডো। সেই থেকে পার্লামেন্টে নাজুক অবস্থায় ছিল তার দল। এ কারণে ট্রুডোর সরকার নিতে পারছিল না প্রয়োজনীয় অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। নিজেদের মতো সিদ্ধান্ত গ্রহণে এবং বিভিন্ন নীতিতে পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার সরকারের দরকার লিবারেল পার্টির।

আরও পড়ুন:
জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়লেও পাল্লা ভারী ট্রুডোর
কানাডার প্রধানমন্ত্রী থাকবেন ট্রুডো?
আন্তর্জাতিক আইন ভেঙে সৌদিকে অস্ত্র বিক্রি কানাডার
কানাডায় আদিবাসী শিশু নিপীড়নের তদন্তে ১০ বছর পার
কানাডায় আদিবাসীদের পাশে ইমামরা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

করোনার টিকায় জীবন্ত পরজীবী নেই

করোনার টিকায় জীবন্ত পরজীবী নেই

দক্ষিণ কোরিয়ায় ফাইজার-বায়োএনটেক, মডার্না, অ্যাস্ট্রাজেনেকা ও জ্যানসেনের করোনা প্রতিরোধী টিকায় অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান উদ্ভাবিত টিকার উপাদানের তালিকায় কোনো পরজীবীর নাম নেই। অনুমোদিত করোনা প্রতিরোধী টিকায় গ্রাফেন বা এর উপজাত গ্রাফেন অক্সাইডেরও উপস্থিতি নেই।

জীবন্ত পরজীবী দিয়ে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা তৈরি করা হয়েছে বলে সম্প্রতি বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে একটি গুঞ্জন ছড়িয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়ায় ভাইরাল হয়েছে এ সংক্রান্ত পোস্ট।

চলতি মাসের ১৭ তারিখ ফেসবুকে প্রকাশিত কোরীয় ভাষার একটি পোস্টে বলা হয়, ‘এ টিকার প্রধান উপাদান গ্রাফেন। এই গ্রাফেনের ভেতরে জন্ম নেয় অ্যালুমিনিয়ামনির্ভর এক ধরনের পরজীবী।

‘মানবদেহে এই পরজীবী প্রবেশ করলে এর বিকাশ ও বংশবৃদ্ধি রোধের একটাই উপায়। সেটি হলো রক্ত পরিশোধন। সরকারের চাপে এমন একটি টিকা মানুষকে নিতে বাধ্য করা হচ্ছে।

‘এই পরজীবী থেকে মুক্তি পেতে আইভারমেকটিন (পরজীবীবিরোধী ওষুধ) সেবন খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নারীদের স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে গিয়ে নিজেদের গর্ভ পরীক্ষা করানো উচিত।’

বার্তা সংস্থা এএফপির ফ্যাক্ট চেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ দাবি সত্য নয়।

কথিত পরজীবীর একটি ছবিসহ এ দাবি ভাইরাল হয়েছে ফেসবুক, ইউটিউব ও অ্যান্ড্রয়েডভিত্তিক দাউম ক্যাফেতে। করোনা প্রতিরোধী টিকা নিয়ে ভুল তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে অভিযুক্ত একটি অনুষ্ঠান থেকে নেয়া হয়েছে ছবিটি।

স্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, টিকা তৈরির জন্য জীবাণুবিহীন পরিশুদ্ধ একটি পরিবেশ দরকার হয়। সেখানে উপাদান হিসেবে পরজীবী ব্যবহারের কোনো সুযোগই নেই।

কিউংপুক ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মহামারি রোগবিশেষজ্ঞ অধ্যাপক কিম শিন-উ বলেন, ‘করোনার টিকায় কোনো পরজীবী থাকা সম্ভব নয়, উপাদান হিসেবে তো নয়ই। কারণ টিকা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় দূষণ ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।’

দক্ষিণ কোরিয়ার চিকিৎসা ব্যবস্থার মান আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত। ওষুধ উৎপাদনের সময় জীবাণুপ্রতিরোধী কঠোর ফার্মাসিউটিক্যাল বিধিমালা মেনে চলতে হয়।

অধ্যাপক শিন-উ বলেন, ‘এসব বিধি কার্যকর না হলে টিকা প্রয়োগে অনুমোদনই দেয়া হতো না।’

গাশন ইউনিভার্সিটি কলেজ অফ মেডিসিন অ্যান্ড সায়েন্সের প্রিভেন্টিভ মেডিসিন বিষয়ের অধ্যাপক জুং জায়-হুন বলেন, ‘যে কোনো টিকা তৈরির ক্ষেত্রেই জীবাণুবিরোধী পরিবেশ রক্ষা বাধ্যতামূলক, যেখানে কোনো ক্ষতিকর জীবাণু বা ভাইরাসই প্রবেশ করতে বা টিকতে পারবে না। সেখানে পরজীবী থাকার তো প্রশ্নই নেই।’

দক্ষিণ কোরিয়ায় ফাইজার-বায়োএনটেক, মডার্না, অ্যাস্ট্রাজেনেকা ও জ্যানসেনের করোনা প্রতিরোধী টিকায় অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান উদ্ভাবিত টিকার উপাদানের তালিকায় কোনো পরজীবীর নাম নেই।

অনুমোদিত করোনা প্রতিরোধী টিকায় গ্রাফেন বা এর উপজাত গ্রাফেন অক্সাইডেরও উপস্থিতি নেই।

মানবদেহে কোনো পরজীবীর উপস্থিতি নিশ্চিত না হলে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া আইভারমেকটিন ওষুধ ব্যবহারের বিষয়েও সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্যবিদরা।

অধ্যাপক জুং বলেন, ‘আইভারমেকটিনের মতো ওষুধ সেবনে শরীরকে ক্লান্ত করে ফেলে। করোনাভাইরাসের টিকা নেয়ার পর এ ওষুধ সেবন করে কোনো লাভ হবে না কারণ টিকার সঙ্গে পরজীবীর কোনো সম্পর্ক নেই।’

করোনায় আক্রান্তদের চিকিৎসায় আইভারমেকটিন ব্যবহারের বিষয়ে আগেই সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা এফডিএ। করোনা ঠেকাতে এ ওষুধ কার্যকর বলে পরীক্ষায় প্রমাণ মেলেনি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

এ ছাড়া নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি আইভারমেকটিন প্রয়োগের শঙ্কা থেকে যায়, যার ফলে বমি, বমিভাব, ডায়রিয়া, নিম্ন রক্তচাপ, ক্লান্তি, চুলকানি ও চর্মরোগের মতো অ্যালার্জিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, শরীরের ভারসাম্যহীনতা, খিঁচুনি ইত্যাদি দেখা দিতে পারে। কোমায় চলে যাওয়া, এমনকি মৃত্যুর ঝুঁকিও রয়েছে।

পরীক্ষামূলকভাবে ছাড়া করোনার চিকিৎসায় আইভারমেকটিন ব্যবহার না করার পরামর্শ দেয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও।

আরও পড়ুন:
জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়লেও পাল্লা ভারী ট্রুডোর
কানাডার প্রধানমন্ত্রী থাকবেন ট্রুডো?
আন্তর্জাতিক আইন ভেঙে সৌদিকে অস্ত্র বিক্রি কানাডার
কানাডায় আদিবাসী শিশু নিপীড়নের তদন্তে ১০ বছর পার
কানাডায় আদিবাসীদের পাশে ইমামরা

শেয়ার করুন

জনসম্মুখে গভর্নরকে চড় দিলেন ইরানি সেনা

জনসম্মুখে গভর্নরকে চড় দিলেন ইরানি সেনা

ভাষণ দেয়ার সময় গভর্নর জয়নুলআবেদিন খুররমকে মঞ্চে উঠে চড় দেয় এক ব্যক্তি। ছবি: আইআরআইবি।

পার্লামেন্টে ইস্ট আজারবাইজান প্রদেশের মারাঘেহ শহরের নীতিনির্ধারক আলি আলিজাদা বলেন, ‘হামলার উদ্দেশ্য যে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এর সঙ্গে গভর্নরের নিয়োগ বা তার বক্তব্যের কোনো সম্পর্ক নেই।’

ইরানে নবনিযুক্ত এক গভর্নরকে প্রকাশ্যে চড় মেরে খবরের শিরোনামে উঠে এসেছেন একজন সেনাসদস্য। ঘটনাটি ঘটেছে ইস্ট আজারবাইজান প্রদেশের তাবরিজ শহরে।

সিএনএনের খবরে বলা হয়, উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহরটির ইমাম খোমেনি মসজিদে শনিবার ভাষণ দিচ্ছিলেন নতুন প্রাদেশিক গভর্নর জয়নুলআবেদিন খুররম। সে সময় মঞ্চে উঠে তার মুখে চপেটাঘাত করেন ওই সেনা।

ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্সের প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, শান্ত ভঙ্গিতে মঞ্চে উঠে খুররমের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন এক ব্যক্তি। খুররমের কাছে পৌঁছে প্রথমে তার মুখে আঘাত করে ওই ব্যক্তি, তার ধাক্কা দিতে শুরু করে।

এ সময় দৌড়ে সেখানে গিয়ে আঘাতকারী ব্যক্তিকে মঞ্চ থেকে জোর করে নামায় নিরাপত্তারক্ষীরা।

ইরানে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিরাপত্তায় এ ধরনের বিঘ্ন বিরল ঘটনা। অনুষ্ঠানটিতে উপস্থিত ছিলেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রতিনিধি ও অন্য সরকারি কর্মকর্তারা।

ইরানের আধা-সরকারি আরেকটি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, গভর্নরকে চড় মারা ব্যক্তির নাম আয়ুব আলিজাদা। তিনি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর একজন সদস্য।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল আইআরআইবিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে গভর্নর খুররম জানিয়েছেন, ওই সেনার সঙ্গে তার ব্যক্তিগত পরিচয় নেই।

ব্যক্তিগত আক্রমণের উদ্দেশ্যও অস্পষ্ট।

খুররমের বরাত দিয়ে আইআরআইবি জানিয়েছে, চড় মারা ব্যক্তির স্ত্রী করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা নিতে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়েছিলেন। নারীর বদলে পুরুষ স্বাস্থ্যকর্মী স্ত্রীকে টিকা দেয়ায় ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন স্বামী।

এই রাগ ঝাড়তে তিনি খুররমকে চড় মারেন বলে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানিয়েছে ওই সেনা।

আরেকটি সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়, এ আক্রমণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল না।

পার্লামেন্টে ইস্ট আজারবাইজান প্রদেশের আরেকটি শহর মারাঘেহের নীতিনির্ধারক আলি আলিজাদা বলেন, ‘হামলার উদ্দেশ্য যে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এর সঙ্গে গভর্নরের নিয়োগ বা তার বক্তব্যের কোনো সম্পর্ক নেই।’

আরও পড়ুন:
জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়লেও পাল্লা ভারী ট্রুডোর
কানাডার প্রধানমন্ত্রী থাকবেন ট্রুডো?
আন্তর্জাতিক আইন ভেঙে সৌদিকে অস্ত্র বিক্রি কানাডার
কানাডায় আদিবাসী শিশু নিপীড়নের তদন্তে ১০ বছর পার
কানাডায় আদিবাসীদের পাশে ইমামরা

শেয়ার করুন

মিয়ানমার থেকে দলে দলে ভারতে হাজারো শরণার্থী

মিয়ানমার থেকে দলে দলে ভারতে হাজারো শরণার্থী

ভারতের মিজোরামে সীমান্তরক্ষীদের প্রহরা। ছবি: এএফপি

১৪টি গ্রামে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র ও ত্রাণ শিবির তৈরি করেছেন বাসিন্দারা। শরণার্থীদের খাদ্য ও পোশাক সরবরাহের পাশাপাশি আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে কয়েকটি বেসরকারি সাহায্য সংস্থা এবং প্রেসবাইটারিয়ান, ব্যাপটিস্ট ও রোমান ক্যাথলিক চার্চ কর্তৃপক্ষ।

মিয়ানমারের সংঘাতকবলিত শান প্রদেশ থেকে ভারতের মিজোরাম রাজ্যে ঢুকছে হাজারো শরণার্থী। মিজোরামের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত জেলাগুলোতে আশ্রয় নিচ্ছে তারা।

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, মিয়ানমারে সেনাবাহিনী ও বিদ্রোহীদের মধ্যে সহিংস সংঘাত অব্যাহত থাকায় ভারতে আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।

এক পুলিশ কর্মকর্তার রোববার দেয়া তথ্যের বরাত দিয়ে বলা হয়, মিজোরামের কয়েকটি অঞ্চলে বর্তমানে আশ্রয় নিয়ে আছে নারী ও শিশুসহ মিয়ানমারের কমপক্ষে ১৩ হাজার নাগরিক। এদের মধ্যে দেড় হাজারের বেশি মানুষের বিস্তারিত তথ্য এখনও নথিভুক্ত হওয়া বাকি।

প্রতিদিনই নতুন করে শরণার্থীদের প্রবেশ ঘটছে বলে এ সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। তার ওপর আন্তর্জাতিক সীমান্তে প্রবেশপথ ও বহির্গমন পথের কাছে ঠাঁই নেয়া কিছু মানুষ নিয়মিত ভারতে ঢুকছে, বের হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা, কমিউনিটি নেতা, বেসরকারি সাহায্য সংস্থা ও গির্জা কর্তৃপক্ষ মিয়ানমারের নাগরিকদের আশ্রয় ও খাবারের ব্যবস্থা করছে।

মিজোরাম পুলিশের তথ্য বিশ্লেষণ করে ভারতের সর্ববৃহৎ বার্তা সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, রাজ্যের ছয়টি সীমান্ত জেলা চাম্পাই, লওঙত্লাই, সিয়াহা, সেরছিপ, নাহথিয়াল ও সাইতুয়ালে ৯ হাজার ৪১১ শরণার্থীর থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মিজোরামের মোট ১১টি জেলায় মিয়ানমারের নাগরিকরা আশ্রয় নিয়েছেন। শুধু চাম্পাই জেলাতেই আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ৬ হাজার মানুষ, যা ১১টি জেলার মধ্যে সর্বোচ্চ। প্রাদেশিক রাজধানী আইজাওলে আশ্রয় নিয়েছেন এক হাজার ৬২২ জন।

ইয়াং মিজো অ্যাসোসিয়েশনের তুইপুইরাল শাখার সভাপতি এম সি লালরামেঙ্গা জানান, চাম্পাই জেলার ২১টি গ্রাম নিয়ে গঠিত তুইপুইরালে বর্তমানে মিয়ানমারের প্রায় ২ হাজার ৭০০ নাগরিক থাকছেন।

তিনি জানান, মিয়ানমারের শান প্রদেশ থেকে বিরামহীনভাবে মিজোরামে প্রবেশ করছেন শরণার্থীরা। ফসল কাটার মৌসুমে আশ্রয়প্রার্থীদের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

লালরামেঙ্গা বলেন, অঞ্চলটির ১৪টি গ্রামে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র ও ত্রাণ শিবির তৈরি করেছেন বাসিন্দারা। শরণার্থীদের খাদ্য ও পোশাক সরবরাহের পাশাপাশি আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে কয়েকটি বেসরকারি সাহায্য সংস্থা এবং প্রেসবাইটারিয়ান, ব্যাপটিস্ট ও রোমান ক্যাথলিক চার্চ কর্তৃপক্ষ।

সেন্ট্রাল ইয়াং মিজো অ্যাসোসিয়েশনের উপ-সভাপতি লালমাছুয়ানা জানান, শরণার্থীদের সহায়তা দিতে সংস্থাটি সম্প্রতি ভারতীয় মুদ্রায় ১৫ লাখ রুপি খরচ করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে এ অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল।

মিয়ানমারের সঙ্গে মিজোরামের আন্তর্জাতিক সীমানার দৈর্ঘ্য ৫১০ কিলোমিটার। ছয়টি সীমান্ত জেলায় গত ৭ সেপ্টেম্বর থেকে শরণার্থীরা প্রবেশ করতে শুরু করে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থান হয়। গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার ভেঙে দিয়ে ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনী। এরপর থেকেই দেশটি থেকে প্রতিবেশী ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় মিজোরামে প্রতিদিন কমবেশি শরণার্থীর প্রবেশ অব্যাহত আছে।

তবে শান প্রদেশে সেনাবাহিনীর সঙ্গে বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহীদের সংঘাতের মধ্যে সম্প্রতি মিজোরামে বানের পানির মতো আশ্রয়প্রার্থীদের ঢল শুরু হয়।

মিজোরামে আশ্রয় নেয়া মিয়ানমারের বেশির ভাগ নাগরিকই সংখ্যালঘু শান সম্প্রদায়ের সদস্য। মিজোরামের মিজো আদিবাসীদের সঙ্গে জাতিগতভাবে সম্পর্কিত শানরা।

আরও পড়ুন:
জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়লেও পাল্লা ভারী ট্রুডোর
কানাডার প্রধানমন্ত্রী থাকবেন ট্রুডো?
আন্তর্জাতিক আইন ভেঙে সৌদিকে অস্ত্র বিক্রি কানাডার
কানাডায় আদিবাসী শিশু নিপীড়নের তদন্তে ১০ বছর পার
কানাডায় আদিবাসীদের পাশে ইমামরা

শেয়ার করুন

জননিরাপত্তা নিয়ে মাথাব্যথা নেই ফেসবুকপ্রধানের

জননিরাপত্তা নিয়ে মাথাব্যথা নেই ফেসবুকপ্রধানের

চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে সাক্ষ্য দেন সাবেক ফেসবুক কর্মকর্তা ফ্রান্সেস হাওগেন। ছবি: এএফপি

নিউ ইয়র্ক টাইমস জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের ২০২০ সালে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট কারচুপি নিয়ে ভুয়া তথ্যের বন্যা নিয়ে বারবার সতর্ক করেছিলেন ফেসবুককর্মীরা। সে সময় ভুয়া তথ্য ছড়ানো বন্ধে ফেসবুকের আরও জোরদার পদক্ষেপ নেয়া উচিত ছিল বলেও মনে করেন তারা।

আবারও সমালোচনায় জর্জরিত ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ। বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ও বহুল ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটির কারণে জননিরাপত্তায় সৃষ্টি হুমকি সম্পর্কে অবগত ফেসবুকপ্রধান। কিন্তু ব্যবহারকারীদের সুরক্ষাসংক্রান্ত পদক্ষেপ নেয়ায় আগ্রহী নন তিনি।

অভ্যন্তরীণ তথ্য ফাঁস করা সাবেক ফেসবুক কর্মকর্তা ফ্রান্সেস হাওগেন জানিয়েছেন, ফেসবুকে প্রকাশিত ক্ষতিকর বিষয়বস্তুর কারণে ব্যবহারকারীরা যেন বিপদে না পড়েন- তেমনভাবে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার কোনো ইচ্ছা নেই জাকারবার্গের।

ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের সাপ্তাহিক ক্রোড়পত্র অবজারভারকে এসব কথা বলেন তথ্য প্রকৌশলী ও বিজ্ঞানী হাওগেন।

অবজারভারের প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি হাওগেনের ফাঁস করা নথিপত্রের ওপর ভিত্তি করে চাপ বাড়ছে ফেসবুকের ওপর। এর মধ্যে ফের নতুন তথ্য দিয়েছেন আমেরিকান এই নারী। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৭৩ হাজার কোটি ডলারের ব্যবসা রয়েছে ফেসবুকের।

নিউ ইয়র্ক টাইমস জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের ২০২০ সালে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট কারচুপি নিয়ে ভুয়া তথ্যের বন্যা নিয়ে বারবার সতর্ক করেছিলেন ফেসবুককর্মীরা। সে সময় ভুয়া তথ্য ছড়ানো বন্ধে ফেসবুকের আরও জোরদার পদক্ষেপ নেয়া উচিত ছিল বলেও মনে করেন তারা।

হাওগেন জানান, পুঁজিবাজারে ভোটিং শেয়ারে সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করেন জাকারবার্গ। জননিরাপত্তা নিয়ে তার কোনো মাথাব্যথা নেই।

হাওগেন বলেন, ‘বর্তমানে মার্ক জাকারবার্গকে কোনো ধরনের জবাবদিহি করতে হয় না। ব্যবসার পুরো নিয়ন্ত্রণ তার হাতে। তিনি কোনো ভুলত্রুটি সংশোধন করেন না এবং জননিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ সাপেক্ষ প্রতিষ্ঠান পরিচালনার কোনো ইচ্ছাই নেই তার।’

সব শেয়ারধারীর ফেসবুক পরিচালনাসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সমান অধিকার থাকা উচিত বলে মনে করেন হাওগেন। তার মতে, এতে প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ পর্যায়ে পরিবর্তন আসবে।

ফেসবুকের প্রোডাক্ট ম্যানেজার ছিলেন হাওগেন। চলতি বছরের মে মাসে পদত্যাগ করেন তিনি এবং হাজার হাজার নথিপত্র তুলে দেন সংবাদপত্র ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের হাতে।

কারণ হিসেবে হাওগেন জানান, এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটি শোধরাবে না। তিনি বলেন, ‘অ্যাপল, মাইক্রোসফটের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো উল্লেখযোগ্য সাংস্কৃতিক পরিবর্তন এনেছে। ফেসবুকের জন্যও এটি অসম্ভব কিছু নয়, দরকার শুধু সদিচ্ছা।’

হাওগেনের ফাঁস করা নথিপত্রের ভিত্তিতে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সংবাদভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ঐক্যবদ্ধভাবে এক গুচ্ছ নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে।

প্রতিক্রিয়ায় ফেসবুকের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ‘এসব নিছকই মিথ্যা গল্প। আমরা অবশ্যই ব্যবসা করি এবং লাভ করি, কিন্তু জনগণের নিরাপত্তার দামে নয়। আমাদের বাণিজ্যিক স্বার্থও জনকল্যাণকেন্দ্রিক।

‘বাস্তবতা হলো, শুধু ফেসবুকে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আমরা এক হাজার ৩০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছি এবং আমাদের ৪০ হাজারের বেশি কর্মী এ কাজেই যুক্ত।

হাওগেনের মতো ফেসবুকের অভ্যন্তরীণ তথ্য ফাঁসকারী আরও এক ব্যক্তি সামনে আসতে যাচ্ছেন বলে শুক্রবার জানিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।

যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক বিষয়াবলি নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে অভিযোগ দাখিল করেছেন তিনি। তার দাবি, আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিহিংসার বলি হওয়া এবং আয় কমে যাওয়ার ভয়ে নিরাপত্তা নীতিমালা কার্যকরে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল ফেসবুক।

আরও পড়ুন:
জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়লেও পাল্লা ভারী ট্রুডোর
কানাডার প্রধানমন্ত্রী থাকবেন ট্রুডো?
আন্তর্জাতিক আইন ভেঙে সৌদিকে অস্ত্র বিক্রি কানাডার
কানাডায় আদিবাসী শিশু নিপীড়নের তদন্তে ১০ বছর পার
কানাডায় আদিবাসীদের পাশে ইমামরা

শেয়ার করুন

কলম্বিয়ার ‘মাদক সম্রাট’ আটক

কলম্বিয়ার ‘মাদক সম্রাট’ আটক

দাইরো আন্তোনিও উসুগা

অতোনিয়েলের অবস্থান জানাতে এক সময় ৮ লাখ ডলারের পুরস্কার ঘোষণা করেছিল কলম্বিয়া সরকার। আর যুক্তরাষ্ট্র সরকার বিশ্বের অন্যতম এই কোকেইন উৎপাদক ও পাচারকারীর মাথার দাম ঘোষণা করেছিল ৫০ লাখ ডলার।

কলম্বিয়ার মোস্ট ওয়ান্টেড মাদক পাচারকারী এবং দেশটির সবচেয়ে শক্তিশালী গ্যাংয়ের প্রধান দাইরো আন্তোনিও উসুগাকে আটক করা হয়েছে।

স্থানীয় সময় শনিবার সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে ‘অতোনিয়েল’ নামে পরিচিত এই মাদক সম্রাটকে আটক করা হয় বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

অতোনিয়েলের অবস্থান জানাতে এক সময় ৮ লাখ ডলারের পুরস্কার ঘোষণা করেছিল কলম্বিয়া সরকার। আর যুক্তরাষ্ট্র সরকার বিশ্বের অন্যতম এই কোকেইন উৎপাদক ও পাচারকারীর মাথার দাম ঘোষণা করেছিল ৫০ লাখ ডলার।

টেলিভিশনে দেয়া এক ভিডিও বার্তায় অতোনিয়েলকে আটকের খবর নিশ্চিত করেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট ইভান দুক। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে এটাই সবচেয়ে বড় ধাক্কা। এটা কেবল ১৯৯০-এর দশকে পাবলো ইস্কোবারের পতনের সঙ্গেই তুলনাযোগ্য।’

অতোনিয়েলকে আটক করা হয় কলম্বিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আন্তোয়াকিয়া প্রদেশে তার গ্রামীণ আস্তানা থেকে। এলাকাটি পানামার সীমান্ত অঞ্চল।

তবে এ অভিযানে বিস্তারিত এখনও জানা যায়নি। কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, এই অভিযানে একজন পুলিশ অফিসারের মৃত্যু হয়েছে।

কলম্বিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর প্রকাশ করা ছবিতে দেখা যায়, হ্যান্ডকাফ পরা অতোনিয়েলকে সেনারা ঘিরে রেখেছেন।

৫০ বছর বয়সী অতোনিয়েলকে আটকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বড় ধরনের অনেক অভিযান চালিয়েছিল কলম্বিয়া সরকার। কিছুতেই তাকে আটক করা সম্ভব হচ্ছিল না।

অতোনিয়েল মাদক পাচারকারী ও সন্ত্রাসী চক্র গালফ ক্ল্যানের প্রধান ছিলেন। এই চক্রটির আগের নাম ছিল উসুগা ক্ল্যান। অতোনিয়েলের ভাইও ছিলেন কুখ্যাত মাদক পাচারকারী, প্রায় ১০ বছর আগে নববর্ষের এক পার্টিতে পুলিশের অভিযানে যার মৃত্যু হয়।

কলম্বিয়ার নিরাপত্তা বাহিনীরে চোখে গালফ ক্ল্যান ছিল দেশটির সবচেয়ে শক্তিশালী সন্ত্রাসীচক্র। আর যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিতে এই সন্ত্রাসী দলটি ‘ভারী অস্ত্রসমৃদ্ধ এবং অত্যন্ত হিংস্র’।

এই সন্ত্রাসী দল কলম্বিয়ার অনেক প্রদেশে অভিযান চালাত। আন্তর্জাতিক পর্যায়েও মাদক ও মানব পাচার এবং খনি থেকে অবৈধভাবে স্বর্ণ আহরণ করত; চাঁদাবাজি করত। এই গ্যাংয়ের অনেক সদস্য আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, হন্ডুরাস, পেরু ও স্পেনেও গ্রেপ্তার হয়েছে।

কলম্বিয়া থেকে মাদক যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া পাচারের অনেক রুট নিয়ন্ত্রণ করত মাদক পাচারকারী এই দল।

আরও পড়ুন:
জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়লেও পাল্লা ভারী ট্রুডোর
কানাডার প্রধানমন্ত্রী থাকবেন ট্রুডো?
আন্তর্জাতিক আইন ভেঙে সৌদিকে অস্ত্র বিক্রি কানাডার
কানাডায় আদিবাসী শিশু নিপীড়নের তদন্তে ১০ বছর পার
কানাডায় আদিবাসীদের পাশে ইমামরা

শেয়ার করুন

ভোটের পর রাজ্যের মর্যাদা ফিরে পাবে কাশ্মীর: অমিত শাহ

ভোটের পর রাজ্যের মর্যাদা ফিরে পাবে কাশ্মীর: অমিত শাহ

ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ফাইল ছবি

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সভাপতিত্বে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি অভিযান, মৌলবাদের ক্রমবর্ধমান হুমকি প্রতিহত, বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা বন্ধ এবং সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকানো নিয়ে আলোচনা হয়। জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও পিডিপি প্রধান মেহবুবা মুফতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছেন।

জম্মু-কাশ্মীরে বিধানসভা এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণের পর নির্বাচন হবে এবং পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদাও ফিরিয়ে দেয়া হবে কাশ্মীরকে। এমন আশ্বাস দিয়েছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

শনিবার জম্মু-কাশ্মীরে তিন দিনের সফরে গিয়ে এমনটি বলেন ক্ষমতাসীন বিজেপির এই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

দুই বছর আগে জম্মু-কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা তুলে নেবার পর অমিত শাহর প্রথম উপত্যকা সফর এটি।

এদিন শ্রীনগরে এক সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কাশ্মীরের যুবকদের ওপর সন্ত্রাসের ছায়া রয়েছে। আজ কাশ্মীরের তরুণরা পরিবর্তনের কথা বলছে। যুবসমাজকে খেলাধুলা ও পর্যটনের সঙ্গে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা করেছি আমরা। খেলা নিজেই তরুণদের হারতে এবং জিততে শেখায়।’

তবে অমিত শাহ সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর মনোভাব দেখিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদ নির্মূল করতে শক্তিশালী আক্রমণ প্রয়োজন।’

এদিন শ্রীনগরে পৌঁছেই নিরাপত্তাসংক্রান্ত একটি উচ্চপর্যায়ের সভায় যোগ দেন অমিত শাহ। এই বৈঠকে একাধিক নিরাপত্তা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে এই বৈঠক চলে। বৈঠকে নিরাপত্তা বাহিনীকে সন্ত্রাস নির্মূলে নির্দেশ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সভাপতিত্বে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি অভিযান, মৌলবাদের ক্রমবর্ধমান হুমকি প্রতিহত, বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা বন্ধ এবং সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকানো নিয়ে আলোচনা হয়।

অমিত শাহ স্পষ্টভাবে বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে একসঙ্গে কাজ করা উচিত সব সংস্থার এবং সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে শেষ যুদ্ধে তাদের জয়ী হতে হবে।

শাহ তার সফরে সেখানে অনেক উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করেন।

অন্যদিকে জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও পিডিপি প্রধান মেহবুবা মুফতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছেন।

পিডিপি সভাপতি মেহবুবা মুফতি বলেন, ‘পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখানোর জন্য নাটক চলছে। প্রকৃত পরিস্থিতি এর থেকে বেশ ভিন্ন। শাহের সফরের আগে সাত শতাধিক মানুষকে আটক করা হয়েছে।’

শাহের উন্নয়নমূলক কাজ নিয়ে কটাক্ষ করে মেহবুবা বলেন, ‘এর মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি কাজ কংগ্রেস সরকারের। তিনি বলেন, ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের পর জম্মু ও কাশ্মীরে সমস্যা বহুগুণ বেড়েছে।’

অমিত শাহের এই সফরকে কেন্দ্র করে কাশ্মীরে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিরাপত্তায় শার্প শুটার, স্নাইপার এমনকি ড্রোনও মোতায়েন করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সন্ত্রাসী হামলা বৃদ্ধি পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে শাহের সফরটিও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। সন্ত্রাসীরা টার্গেট কিলিংয়ের আওতায় অকাশ্মীরি এবং সংখ্যালঘুদের টার্গেট করছে। পাশাপাশি অনেক স্থানীয় যুবকের সন্ত্রাসী শিবিরে যাওয়ার খবরও রয়েছে।

আরও পড়ুন:
জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়লেও পাল্লা ভারী ট্রুডোর
কানাডার প্রধানমন্ত্রী থাকবেন ট্রুডো?
আন্তর্জাতিক আইন ভেঙে সৌদিকে অস্ত্র বিক্রি কানাডার
কানাডায় আদিবাসী শিশু নিপীড়নের তদন্তে ১০ বছর পার
কানাডায় আদিবাসীদের পাশে ইমামরা

শেয়ার করুন

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এখনও অটুট: শ্রিংলা

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এখনও অটুট: শ্রিংলা

ভারতের পররাষ্ট্রসচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা। ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেশী দেশটির পররাষ্ট্রসচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও পরিণত হয়েছে। ৫০ বছর আগে যে সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল, আজ তা আরও গভীরে পৌঁছেছে। বাংলাদেশের বীর মুক্তিযোদ্ধারা আজও আমাদের দুই দেশের মধ্যে সেতুবন্ধন।’

৫০ বছর আগে ভারত-বাংলাদেশ যে সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল, এখন তা আরও গভীরে পৌঁছেছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির ক্ষেত্রে ভারত সহযোগী হিসেবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এমনটি জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রসচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা।

শনিবার বিমান বাহিনীর কনক্লেভ থেকে এ কথা বলেন প্রতিবেশী দেশটির পররাষ্ট্রসচিব। বেঙ্গালুরুতে আয়োজিত কনক্লেভ অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন শ্রিংলা।

তিনি বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও পরিণত হয়েছে। ৫০ বছর আগে যে সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল, আজ তা আরও গভীরে পৌঁছেছে। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এখনও অটুট।’

এসময় মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের বীর মুক্তিযোদ্ধারা আজও আমাদের দুই দেশের মধ্যে সেতুবন্ধন।’

তার কথায়, ১৯৭১-এ যতটা নৈতিক ও রাজনৈতিক জয় ছিল, ভারতের জন্য ছিল চূড়ান্ত সামরিক জয়।

বাংলাদেশে কাজ করার সুবাদে তিনি ভারতীয় বিমান বাহিনীর (বায়ুসেনা) জাওয়ানদের কীর্তি শুনেছেন বলে জানান হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা।

তিনি জানান, ঢাকায় গিয়ে তিনি বায়ুসেনা জওয়ানদের সাহসিকতার কাহিনী শুনেছেন যা আজও বাংলাদেশের বহু মানুষকে অনুপ্রাণিত করে। তিনি উল্লেখ করেন, আত্মসম্মানের সঙ্গে বাংলাদেশ স্বাধীনতার যুদ্ধে জয়ী হয়েছিল।

তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে কী ধরনের অত্যাচার চালিয়েছিল পশ্চিম পাকিস্তানের হানাদার বাহিনী সে কথা মনে করিয়ে দেন শ্রিংলা। তার দাবি, এই অঞ্চলে কখনও এমন নৃশংস গণহত্যা দেখা যায়নি।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘সেই মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবিকতার খাতিরে ভারত শরণার্থীদের প্রতি যে আচরণ করেছে তা সাম্প্রতিক ইতিহাসে নজিরবিহীন। তার কথায় জাতিসংঘের রেস্পন্সিবিলিটি টু প্রটেক্ট বা সুরক্ষার দায়িত্ব সম্পর্কিত যে ধারণা রয়েছে তারই উদাহরণ তৈরি করেছিল ভারত।’

তিনি বলেন, ‘সেই সময়ে শরণার্থীদের পুরো দায়িত্ব এসে পড়েছিল ভারতীয়দের ওপর ও ভারত সরকারের ওপর।’

এর আগে মুজিব জন্মশতবর্ষের আয়োজনে বাংলাদেশে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উল্লেখ করেছিলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সামিল হয়েছিলেন তিনি। ঢাকায় মুজিব শতবর্ষে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্মৃতিচারণায় বলেছিলেন, জীবনের শুরুর দিকে আন্দোলনগুলোর অন্যতম ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াইয়ে সামিল হওয়া।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে তার আত্মিক সম্পর্ক আজকের নয়, বরং মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকে। আর শুধু সম্পর্কই নয়, বাংলাদেশের স্বাধীনতার লড়াইয়ে তার অংশগ্রহণও ছিল বলে দাবি করেন মোদি।

আরও পড়ুন:
জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়লেও পাল্লা ভারী ট্রুডোর
কানাডার প্রধানমন্ত্রী থাকবেন ট্রুডো?
আন্তর্জাতিক আইন ভেঙে সৌদিকে অস্ত্র বিক্রি কানাডার
কানাডায় আদিবাসী শিশু নিপীড়নের তদন্তে ১০ বছর পার
কানাডায় আদিবাসীদের পাশে ইমামরা

শেয়ার করুন