পারমাণবিক ডুবোজাহাজ

যুক্তরাষ্ট্র-অস্ট্রেলিয়া মিথ্যাচার করেছে: ফ্রান্স

যুক্তরাষ্ট্র-অস্ট্রেলিয়া মিথ্যাচার করেছে: ফ্রান্স

অকাস চুক্তির ফলে ফ্রান্সের সঙ্গে দুই হাজার ৭০০ কোটি ডলারের পাঁচ বছরের পুরোনো চুক্তি বাতিল করেছে অস্ট্রেলিয়া। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ধনী তিন দেশের অন্যতম বৃহৎ প্রতিরক্ষামূলক চুক্তি অকাস প্যাক্ট। এর মাধ্যমে পরমাণু শক্তিসমৃদ্ধ ডুবোজাহাজ তৈরিতে অস্ট্রেলিয়াকে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। চীনের আঞ্চলিক আধিপত্য রোধের চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে ঐতিহাসিক চুক্তিটিকে।

পরমাণু শক্তিচালিত ডুবোজাহাজ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়াকে ‘মিথ্যাবাদী’ আখ্যা দিয়েছে ফ্রান্স।

এ ‌‌মিথ্যাচারের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূতদের দেশে ফিরতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-ইভস লে দ্রিয়ান।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া সরকারের বিরুদ্ধে ‘আস্থা ভঙ্গ, প্রতারণা ও অবমাননার’ অভিযোগ তুলেছেন দ্রিয়ান।

অস্ট্রেলিয়াকে প্রথমবারের মতো পরমাণু শক্তিচালিত ডুবোজাহাজ নির্মাণের ক্ষমতা দিয়ে বুধবার নতুন চুক্তির ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য।

অকাস প্যাক্ট হিসেবে পরিচিত ত্রিদেশীয় এ চুক্তির ফলে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ১২টি ডুবোজাহাজ তৈরির চুক্তি হারিয়েছে ফ্রান্স। ২০১৬ সালে হয়েছিল ২ হাজার ৭০০ কোটি ডলারের প্যারিস-মেলবোর্ন চুক্তিটি।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলছেন, জাতীয় স্বার্থে যা ভালো বলে মনে হয়েছে, তাই করেছেন তিনি।

মরিসন বলেন, ‘ফরাসি সরকারের বুঝতে হবে যে, ওই চুক্তিতে আমাদের কৌশলগত স্বার্থ অর্জিত হচ্ছিল না, যা আমাদের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বুঝি যে ফরাসি সরকারের জন্য এটা গভীর হতাশার বিষয়। কিন্তু একই সঙ্গে অন্য যেকোনো সার্বভৌম দেশের মতো নিজেদের সার্বভৌম জাতীয় প্রতিরক্ষা স্বার্থ অর্জনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার অধিকার অস্ট্রেলিয়ারও আছে।’

প্রায় পাঁচ বছর আগে হয় প্যারিস-মেলবোর্ন প্রতিরক্ষা চুক্তি। অকাসের কারণে ভেস্তে গেছে এ পুরোনো চুক্তিটি। অকাস নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে বিষয়টি জানতে পারে ফ্রান্স।

ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শনিবার ফ্রান্স টু টেলিভিশনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, দীর্ঘদিনের মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংকট তীব্র হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘ইতিহাসে প্রথমবার ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে এতটা বিরোধ তৈরি হয়েছে যে, আমাদের রাষ্ট্রদূতদেরও ডেকে পাঠাতে হয়েছে।’

কিন্তু ত্রিদেশীয় চুক্তিতে থাকা যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি কেন প্রশ্ন করা হলে ক্ষুব্ধ দ্রিয়ান বলেন, ‘দুই রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠানো হয়েছে পরিস্থিতি পুনর্মূল্যায়নের জন্য। যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে এমন কোনো পদক্ষেপ নিতে হয়নি। কারণ দেশটি বরাবরই সুযোগসন্ধানী।

‘পুরো ঘটনায় ব্রিটিশ সরকারের ভূমিকা তিন নম্বর চাকার মতো ছিল।’

নবনিযুক্ত ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিজ ট্রাস চুক্তির পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, ‘প্রতিরক্ষার প্রশ্নে নিজেদের স্বার্থে যেকোনো সময় কঠোর হতে যুক্তরাজ্য প্রস্তুত।’

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ধনী তিন দেশের অন্যতম বৃহৎ প্রতিরক্ষামূলক চুক্তি অকাস প্যাক্ট। এর মাধ্যমে পরমাণু শক্তিসমৃদ্ধ ডুবোজাহাজ তৈরিতে অস্ট্রেলিয়াকে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য।

চীনের আঞ্চলিক আধিপত্য রোধের চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে ঐতিহাসিক চুক্তিটিকে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ চীনও।

আরও পড়ুন:
অকাস চুক্তি নিয়ে কাঠগড়ায় যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য
পারমাণবিক ডুবোজাহাজ তৈরির ক্ষমতা পেল অস্ট্রেলিয়া, ক্ষিপ্ত চীন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

কাঁচা পেঁয়াজ থেকে প্রাণঘাতী স্যালমোনেলা

কাঁচা পেঁয়াজ থেকে প্রাণঘাতী স্যালমোনেলা

প্রতীকী ছবি।

চিহুয়াহুয়া থেকে আমদানিকৃত পেঁয়াজ না খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সিডিসি। যেসব পেঁয়াজ বা পেঁয়াজের প্যাকেটে তথ্যসংবলিত স্টিকার নেই, সেগুলো ফেলে দিতে বলেছে। একই সঙ্গে পেঁয়াজের ছোঁয়া লেগেছে এমন জায়গা ও বাসনকোসন সাবান-পানি দিয়ে ধুতে বলেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে স্যালমোনেলা ব্যাকটেরিয়ার প্রকোপে অসুস্থ হয়ে পড়েছে ৩৭টি অঙ্গরাজ্যের হাজারো বাসিন্দা। কাঁচা পেঁয়াজ থেকে প্রাণঘাতী ব্যাকটেরিয়াটি ছড়িয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিস্থিতির ব্যাপকতায় সারা দেশের মানুষকে পেঁয়াজ খাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছে প্রশাসন। উৎস অজানা ও তথ্যসংবলিত চিহ্ন ছাড়া লাল, সাদা ও হলুদ পেঁয়াজ ফেলে দেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) জানিয়েছে, স্যালমোনেলা সংক্রমণের একটি সম্ভাব্য উৎস চিহ্নিত করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রতিবেশী দেশ মেক্সিকোর চিহুয়াহুয়া থেকে আমদানিকৃত পেঁয়াজ থেকে ছড়িয়েছে ব্যাকটেরিয়াটি।

ইদাহো অঙ্গরাজ্যের হেইলেভিত্তিক প্রতিষ্ঠান প্রোসোর্স আমদানি করেছে ওই পেঁয়াজ।

সিডিসি জানিয়েছে, ৩১ মে থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্যালমোনেলায় ৬৫২ জনের অসুস্থতার খবর পেয়েছে সংস্থাটি। এদের মধ্যে ১২৯ জন গুরুতর অসুস্থ এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অসুস্থ রোগীর প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি কারণ বেশির ভাগ মানুষই মৃদু অসুস্থতা হলে সে খবর প্রশাসনের কাছে পৌঁছায় না।

এক বিবৃতিতে সিডিসি জানিয়েছে, অসুস্থ ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশই কাঁচা পেঁয়াজ খাওয়ার পর রোগাক্রান্ত হন বলে জানা গেছে। অসুস্থ ব্যক্তিদের অনেকেই একই রেস্তোরাঁর খাবার খেয়েছেন।

এ অবস্থায় চিহুয়াহুয়া থেকে আমদানিকৃত পেঁয়াজ না খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সিডিসি। যেসব পেঁয়াজ বা পেঁয়াজের প্যাকেটে তথ্যসংবলিত স্টিকার নেই, সেগুলো ফেলে দিতে বলেছে। একই সঙ্গে পেঁয়াজের ছোঁয়া লেগেছে এমন জায়গা ও বাসনকোসন সাবান-পানি দিয়ে ধুতে বলেছে।

স্যালমোনেলা ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার অন্যতম উপসর্গ হলো ডায়রিয়া, জ্বর ও পেট ব্যথা। দূষিত খাবার খাওয়ার পরবর্তী ছয় ঘণ্টা থেকে ছয় দিনের মধ্যে উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

প্রোসোর্স জানিয়েছে, চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত চিহুয়াহুয়া থেকে আমদানি ও বিক্রয়কৃত সব পেঁয়াজ স্বেচ্ছায় ফিরিয়ে নেবে তারা। যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থার (এফডিএ) অনুরোধে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

স্যালমোনেলা সংক্রমণের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে স্থানীয় প্রশাসন ও সিডিসির সঙ্গে এফডিএ সমন্বিত অনুসন্ধান শুরু করেছে বলে জানিয়েছে প্রোসোর্স।

আরও পড়ুন:
অকাস চুক্তি নিয়ে কাঠগড়ায় যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য
পারমাণবিক ডুবোজাহাজ তৈরির ক্ষমতা পেল অস্ট্রেলিয়া, ক্ষিপ্ত চীন

শেয়ার করুন

মমতার গোয়া সফরের আগেই প্রতিনিধি দলে বাবুল

মমতার গোয়া সফরের আগেই প্রতিনিধি দলে বাবুল

তৃণমূল নেতা ও গায়ক বাবুল সুপ্রিয়। ছবি: সংগৃহীত

তৃণমূল নেতা সৌগত রায় বলেন, 'ত্রিপুরা গিয়েছি, গোয়া যাচ্ছি। আরও অনেক রাজ্যে যাচ্ছি। ২০২৪ এর আগে আরও যাব। গোয়ায় আমি নিজেও যাচ্ছি। আমার সঙ্গে বাবুল সুপ্রিয় যাচ্ছেন।’

তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোয়া সফরের আগেই আগামী রোববার বিভিন্ন কর্মসূচিতে যোগ দিতে গোয়া যাচ্ছে তৃণমূলের একটি প্রতিনিধি দল ।

বিজেপি ছেড়ে সম্প্রতি তৃণমূলে যোগ দেয়া রাজনীতিক ও গায়ক বাবুল সুপ্রিয় এই প্রতিনিধি দলের অন্যতম সদস্য হিসেবে গোয়া যাচ্ছেন। তিনি সেখানে বিভিন্ন বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।

আসানসোলের বিজেপি সাংসদ পদে ইস্তফা দেয়া সাবেক কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীকে যে তৃণমূল গুরুত্ব দিচ্ছে, প্রবীণ তৃণমূল নেতা সৌগত রায়ের কথায় সেটি পরিষ্কার।

বাবুলের গোয়া যাওয়া প্রসঙ্গে সৌগত রায় শুক্রবার বলেন, 'ত্রিপুরা গিয়েছি, গোয়া যাচ্ছি। আরও অনেক রাজ্যে যাচ্ছি। ২০২৪ এর আগে আরও যাব। গোয়ায় আমি নিজেও যাচ্ছি। আমার সঙ্গে বাবুল সুপ্রিয় যাচ্ছেন।’

ত্রিপুরা, অসমের পর গোয়াতেও তৃণমূল কংগ্রেস তাদের সংগঠন বাড়াতে সক্রিয়। ইতোমধ্যে গোয়ায় সাবেক মুখ্যমন্ত্রী লুইজিনহো ফেলেইরো আটজন বিধায়ক নিয়ে কলকাতায় এসে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন।

শুক্রবার তাকে দলের জাতীয় সহসভাপতি পদে বসানো হয়েছে।

এই মুহূর্তে গোয়ায় রয়েছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন। তার সঙ্গে গায়ক লাকি আলি এবং সমাজকর্মী অভিনেত্রী নাফিসা আলির কথা হয়েছে। ২৮ অক্টোবর তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোয়া সফরের সময় তাদের তৃণমূলে যোগ দেয়ার সম্ভাবনা প্রবল ।

এ বিষয়ে তৃণমূল নেতা সৌগত রায় বলেন, ‘নাফিসা আলি, লাকি আলি, রেমো ফার্নান্ডেজ যোগাযোগ করেছেন । তৃণমূলের সঙ্গে আরও অনেকে আসবেন। আমরা চাইব, ছোট দলগুলো আমাদের সঙ্গে চলে আসুক। গোয়াতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাচ্ছেন। সেখানে আলোচনা হবে।’

এদিকে গোয়া ফরওয়ার্ড পার্টি তৃণমূলের সঙ্গে জোট বাঁধতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানা গেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আগামী দিনে গোয়ায় তৃণমূল বিজেপি ও কংগ্রেসের মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠবে।

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপিকে হারিয়ে তৃতীয়বারের জন্য সরকার গঠনের পর ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে দেশজুড়ে বিজেপি বিরোধী মুখ হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তুলে ধরতে তৃণমূল যে উদ্যোগ নিয়েছে, এরই অংশ হিসেবে তৃণমূলের লক্ষ্য এখন গোয়া।

আরও পড়ুন:
অকাস চুক্তি নিয়ে কাঠগড়ায় যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য
পারমাণবিক ডুবোজাহাজ তৈরির ক্ষমতা পেল অস্ট্রেলিয়া, ক্ষিপ্ত চীন

শেয়ার করুন

৯ মাসে চীন-ভারতের বাণিজ্য বেড়েছে ৪৯ শতাংশ

৯ মাসে চীন-ভারতের বাণিজ্য বেড়েছে ৪৯ শতাংশ

এ প্রসঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলার দেয়া তথ্য ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভাষণের একটি অংশ তুলে ধরে বিরোধীরা সরকারকে দুমুখো বলে মন্তব্য করেছে।

চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে, চীনের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ৯০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এ হিসেবে গত বছরের তুলনায় দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বেড়েছে প্রায় ৪৯ শতাংশ।

বৃহস্পতিবার ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা এই তথ্য জানিয়েছেন। যদিও দুই দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ভারসাম্যের বড় অংশই চীনের দিকে ঝুঁকে রয়েছে। এ অবস্থায় ভারত চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর জন্য প্রয়াস চালিয়ে যেতে থাকবে বলে জানিয়েছেন শ্রিংলা।

তিনি বলেছেন, ‘এই হারে, আমরা সম্ভবত দুই দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য অর্জন করতে পারি।’

এর আগে দুই দেশের মধ্যে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৮৮ বিলিয়ন ডলার।

এদিকে, হর্ষবর্ধন শ্রিংলার দেয়া তথ্য ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভাষণের একটি অংশ তুলে ধরে বিরোধীরা সরকারকে দুমুখো বলে মন্তব্য করেছে।

শুক্রবার জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে মোদি বলেছিলেন, ‘প্রতিটি ছোট জিনিস কেনার উপর জোর দেওয়া উচিত, যা মেড ইন ইন্ডিয়া। যা কোনো এক ভারতীয় তৈরি করতে মাথা ঘামায়। আর এটা সম্ভব হবে শুধুমাত্র সবার প্রচেষ্টায়।’

শ্রিংলার তথ্য আর প্রধানমন্ত্রীর শ্লোগান সরকারের ‘জুমলা’ ও ‘দ্বিচারিতা’ বলে চিহ্নিত করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী।

তিনি বলেছেন, ‘লাদাখে সামরিক হানাহানি এবং চীনা পণ্য বর্জন করার আহ্বানের পাশাপাশি চীনা আমদানির উপর নির্ভরতা কমাতে সরকারের প্রচেষ্টার পরও বাণিজ্যে ঘাটতি বৃদ্ধি পেয়েছে। এটা সরকারের নিয়মিত দ্বিচারিতা ছাড়া আর কী?’

চীনের সঙ্গে বর্ধিত বাণিজ্য ছাড়াও দেশে ১০০ কোটি করোনা ভ্যাকসিনের ডোজ দেয়া নিয়েও কেন্দ্রীয় সরকারকে কটাক্ষ করেছে কংগ্রেস।

এক টুইটে দলটির পক্ষ থেকে একটি ছবি শেয়ার করা হয়েছে। যেখানে দেখা গেছে, সারা বিশ্বে ৩৭ শতাংশ মানুষ করোনা টিকার দুটি ডোজই নিয়েছেন। একই সময়ে, ভারতে মাত্র ২১ শতাংশ মানুষ করোনার ডোজ পেয়েছেন।

কংগ্রেস লিখেছে, ‘এটা সরকারের মিথ্যাচারের আরেকটা নমুনা।’

আরও পড়ুন:
অকাস চুক্তি নিয়ে কাঠগড়ায় যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য
পারমাণবিক ডুবোজাহাজ তৈরির ক্ষমতা পেল অস্ট্রেলিয়া, ক্ষিপ্ত চীন

শেয়ার করুন

মিয়ানমারে সাধারণ ক্ষমায় মুক্ত বন্দিরা ফের গ্রেপ্তার

মিয়ানমারে সাধারণ ক্ষমায় মুক্ত বন্দিরা ফের গ্রেপ্তার

মিয়ানমারের বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুনের রাস্তায় শুক্রবার পুলিশের সশস্ত্র টহল। ছবি: এএফপি

সমালোচকরা বলছেন, মূলত আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে চাপ এড়াতে কৌশলী হয়েছিল মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। কৌশলের অংশ হিসেবেই বহির্বিশ্বের চোখে ধুলো দিতে সাধারণ ক্ষমার আওতায় বন্দিদের মুক্তি দেয়া আর বিরোধীদের আলোচনার প্রলোভন দেখিয়েছে সামরিক জান্তা।

মুক্তি পেতে না পেতেই মিয়ানমারে শতাধিক সেনা অভ্যুত্থানবিরোধীকে গ্রেপ্তার করেছে জান্তা সরকার। কয়েক মাস কারাবন্দি থাকার পর চলতি সপ্তাহে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে মুক্তি দেয়া হয়েছিল তাদের।

মিয়ানমারে ক্ষমতাসীন সেনাবাহিনী গত সোমবার এক ঘোষণায় জানায়, দেশের ঐতিহ্যবাহী থাডিংইয়ুৎ ফেস্টিভ্যাল বা আলোকোৎসবের সময় পাঁচ হাজার ৬৩৬ বন্দিকে মুক্তি দেয়া হবে।

এ ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় বিভিন্ন কারাগারে ছুটে গিয়েছিলেন বন্দিদের পরিবারের সদস্যরা। বহুদিন পর প্রিয় স্বজনের সঙ্গে দেখা করে তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে নেয়ার প্রত্যাশায় কারাগারের প্রবেশপথগুলোতে ভিড় করেছিলেন হাজারো মানুষ।

বার্মিজ চন্দ্র বর্ষপঞ্জিতে সপ্তম মাস থাডিংইয়ুতের পূর্ণিমার দিন এবং আগের ও পরের দিন- মোট তিনদিন আলোকোৎসব উদযাপন করে মিয়ানমার। এ বছর ১৯ থেকে ২১ অক্টোবর উদযাপিত হয় উৎসবটি। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী এ সময়ের মধ্যেই বন্দিদের মুক্তি দেয়া হয়।

কিন্তু টার্কিশ রেডিও অ্যান্ড টেলিভিশনের (টিআরটি) প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশজুড়ে কত বন্দি শেষ পর্যন্ত মুক্তি পেয়েছেন, সে সংখ্যা যাচাই করা কঠিন। অনেকেই মুক্তি পেয়েছেন ভবিষ্যতে আর সেনাবাহিনীর বিরোধিতা না করার শর্তে স্বাক্ষর করার পর।

মিয়ানমারের মানবাধিকার পর্যবেক্ষক সংস্থা অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স (এএপিপি) জানিয়েছে, সাধারণ ক্ষমায় মুক্তিপ্রাপ্ত কমপক্ষে ১১০ জনকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এক বিবৃতিতে বৃহস্পতিবার এএপিপি জানায়, ‘কয়েকজন বাড়িতে ফিরতে না ফিরতেই তাদের আবার কারাগারে ফেরত নিয়ে যাওয়া হয়।

‘অন্য কয়েকজনকে বলা হয়েছিল যে মুক্তিপ্রাপ্তদের তালিকায় তাদের নাম আছে। এ কথা বলে তাদের কারাগারের প্রবেশপথে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর সেখান থেকেই আবার তাদের জেলে নিয়ে যাওয়া হয় এবং কারণ হিসেবে নতুন কিছু অভিযোগ গঠনের কথা বলা হয়।’

চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারির সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকেই অরাজক পরিস্থিতি চলছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মিয়ানমারে। গণতান্ত্রিক সরকারকে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেয়ার দাবিতে হওয়া বিক্ষোভ দমনে শক্তি প্রয়োগ করে সেনাবাহিনী, যাতে নিহত হয় প্রায় এক হাজার ২০০ জন বেসামরিক মানুষ।

এএপিপির ওয়েবসাইটে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অবস্থান করায় ফেব্রুয়ারি থেকে প্রায় নয় হাজার বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গত সপ্তাহে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১০ দেশের জোট আসিয়ান মিয়ানমারের সেনাপ্রধানকে বাদ দিয়েই শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়। এরপরই থাডিংইয়ুৎ উৎসবের তিনদিন জুড়ে হাজারো বন্দিকে মুক্তির ঘোষণা দেন মিন অং হ্লাইং।

মিয়ানমারের রাজনীতিতে রক্তক্ষয়ী অচলাবস্থা নিয়ন্ত্রণের প্রতিশ্রুতি পালনে ব্যর্থতার অভিযোগে জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেয় আঞ্চলিক জোটটি।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাউন্সিলর ডেরেক শলেট বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের কাছে আসিয়ানের বিরল এ পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। আঞ্চলিক বিভিন্ন সংকটে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থতার অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরেই নখদন্তহীন হিসেবে আখ্যায়িত হয়ে আসছে আসিয়ান।

মিয়ানমারের জান্তা সরকারের ওপর চাপ বাড়ানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের সঙ্গে আলোচনায় অঞ্চলটিতে সফর করছেন শলেট।

গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশের শাসনব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রণ নেয়ার প্রায় নয় মাস পর এখন সবচেয়ে চাপে রয়েছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।

সমালোচকরা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে মূলত আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে চাপ এড়াতে কৌশলী হয়েছিল মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। কৌশলের অংশ হিসেবেই বহির্বিশ্বের চোখে ধুলো দিতে সাধারণ ক্ষমার আওতায় বন্দিদের মুক্তি দেয়া আর বিরোধীদের আলোচনার প্রলোভন দেখিয়েছে সামরিক জান্তা।

চলতি বছরের জুন-জুলাই মাসে মিয়ানমারের বিভিন্ন কারাগার থেকে দুই হাজার বিক্ষোভকারীকে মুক্তি দেয়া হয়। মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে সামরিক সরকারের সমালোচক অনেক সংবাদকর্মীও ছিলেন।

এএপিপির তথ্য অনুযায়ী, এখনও মিয়ানমারের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি প্রায় সাড়ে সাত হাজার বিক্ষোভকারী। তাদের মধ্যে আছেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এক সাংবাদিক ড্যানি ফেনস্টারও। গত ২৪ মে থেকে কারাবন্দি তিনি।

আরও পড়ুন:
অকাস চুক্তি নিয়ে কাঠগড়ায় যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য
পারমাণবিক ডুবোজাহাজ তৈরির ক্ষমতা পেল অস্ট্রেলিয়া, ক্ষিপ্ত চীন

শেয়ার করুন

চীন-ভারত উত্তেজনা: স্বামীর টুইটে ফের ‘বিড়ম্বনায়’ বিজেপি

চীন-ভারত উত্তেজনা: স্বামীর টুইটে ফের ‘বিড়ম্বনায়’ বিজেপি

চীনের আগ্রাসী তৎপরতায় ভারত সরকারের অবস্থান নিয়ে শুক্রবার সমালোচনা করেন বিজেপির সাংসদ সুব্রহ্মণ্যম স্বামী। ছবি: ইকোনমিক টাইমস

শুক্রবার টুইটবার্তায় বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ সুব্রহ্মণ্যম স্বামী বলেন, ‘চীন ভারতের ওপর আক্রমণাত্মক। সুন্দর পোশাকে সজ্জিত সম্রাটের দিকে তাকিয়ে আছি আমরা।’

চীন ও পাকিস্তান প্রসঙ্গে বিভিন্ন সময়ে নিজের ক্ষমতাসীন দলের সরকারকে বিড়ম্বনায় ফেলেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ সুব্রামানিয়াম স্বামী।

শুক্রবার ফের কারও নাম না নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকারকে নিশানা করেছেন তিনি।

টুইটবার্তায় সুব্রামানিয়াম স্বামী বলেন, ‘চীন ভারতের ওপর আক্রমণাত্মক। সুন্দর পোশাকে সজ্জিত সম্রাটের দিকে তাকিয়ে আছি আমরা।’

সুব্রামানিয়াম স্বামী টাইমস অফ ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত এক নিবন্ধ একই সঙ্গে টুইট করেন।

ওই নিবন্ধে চীনে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, ভারত ও তার প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে আগ্রাসী চীন।

এ ছাড়া টুইটারে আলোচিত লেখক হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসন রচিত ‘সম্রাটের নতুন পোশাক’ গল্পের একটি অংশ শেয়ার করে লেখেন, ‘আমরা ভারতীয়রা আজ সেই জনসাধারণের মতো ভণ্ড, যারা সুন্দর পোশাকে সম্রাটকে দেখে, যতক্ষণ না সেই ছোট্ট ছেলেটি সত্য কথা বলে।’

গল্পে আছে, সবাই দেখে রাজা উলঙ্গ, তবুও সবাই হাততালি দিচ্ছে। সবাই চেঁচিয়ে বলছে, ‘শাবাশ, শাবাশ!’

তবে সত্যবাদী, সরল ও সাহসী এক শিশু রাজাকে দেখে স্বতঃস্ফূর্তভাবে চেঁচিয়ে বলে- ‘রাজা ন্যাংটা! রাজা ন্যাংটা!’

এর আগে চীন ও ভারতের বৈঠকের বিষয়ে সুব্রামানিয়াম স্বামী বলেছিলেন, ‘যখন কেউ সীমানা লঙ্ঘন করেনি তখন বৈঠক কেন?

‘১৮ বার দুই দেশের মুখোমুখি বৈঠক এবং পাঁচবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির চীন সফরের পরও কিছুই অর্জন হয়নি। আমরা কি এখনও চীনের সঙ্গে কথা বলার জন্য অনুরোধের ভঙ্গিমায় আছি?’

তিনি বলেছিলেন, ‘যারা অত্যাচারী, তারা শক্তিশালীদের সামনে ভদ্র আচরণ করে। তবে দুর্বলের সঙ্গে তাদের আচরণ অসভ্য।’

সুব্রামানিয়াম স্বামী প্রধানমন্ত্রী মোদির সেই বক্তব্যের কথা উল্লেখ করেন যেখানে তিনি বলেছিলেন, ‘কেউই আমাদের সীমান্তে প্রবেশ করেনি বা আমাদের কোনো সেনা পোস্ট অন্যের দখলে নেই।’

আরও পড়ুন:
অকাস চুক্তি নিয়ে কাঠগড়ায় যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য
পারমাণবিক ডুবোজাহাজ তৈরির ক্ষমতা পেল অস্ট্রেলিয়া, ক্ষিপ্ত চীন

শেয়ার করুন

১০০ কোটি ডোজের কৃতিত্ব জনগণের: মোদি

১০০ কোটি ডোজের কৃতিত্ব জনগণের: মোদি

শুক্রবার করোনা টিকার ১০০ কোটি ডোজের সফল টিকাকরণের কৃতিত্ব জনগণকে দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি: পিটিআই

ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ ভারতের টিকাকরণ কর্মসূচিকে গোটা বিশ্বের টিকাকরণ কর্মসূচির সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। যেভাবে আমাদের দেশে দ্রুতগতিতে ১০০ কোটি ডোজ করোনা টিকা দেয়া হয়েছে, তার প্রশংসাও হচ্ছে বিশ্বজুড়ে।’

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ‘বৃহস্পতিবার করোনা টিকার ১০০ কোটি ডোজের কঠিন তবে অসাধারণ লক্ষ্য অর্জন করেছে ভারত। এ অর্জনের পেছনে শক্তি হিসেবে কাজ করেছে ১৩০ কোটি দেশবাসীর কর্তব্যবোধ। এ সাফল্য ভারতের সাফল্য, প্রতিটি দেশবাসীর সাফল্য।’

দেশবাসীর উদ্দেশে শুক্রবার দেয়া ভাষণে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

করোনাকালে মানুষের সংহতিতে শক্তি জোগাতে তালি ও থালি বাজানোর কথাও ভাষণে উল্লেখ করেন মোদি।

তিনি বলেন, ‘মহামারির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জনসাধারণের অংশগ্রহণকে আমাদের প্রথম শক্তি করে তুলি।

‘দেশ মানুষের সংহতিতে শক্তি দিতে তালি বাজিয়েছিল, থালি বাজিয়েছিল, প্রদীপ জ্বালিয়েছিল। সে সময় কিছু লোক বলেছিল, এ রোগ কি থালি বাজালেই পালিয়ে যাবে? আমরা সবাই এর মধ্যে দেশের ঐক্য ও যৌথ শক্তির জাগরণ দেখেছি।’

ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ ভারতের টিকাকরণ কর্মসূচিকে গোটা বিশ্বের টিকাকরণ কর্মসূচির সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। যেভাবে আমাদের দেশে দ্রুতগতিতে ১০০ কোটি ডোজ করোনা টিকা দেয়া হয়েছে, তার প্রশংসাও হচ্ছে বিশ্বজুড়ে।

‘তবে এ বিশ্লেষণে একটা কথা অনেক সময়ই ভুলে যাওয়া হয়, এর সূচনা কোথা থেকে হলো।

‘বিশ্বের অধিকাংশ দেশে দীর্ঘ সময় ধরে টিকা উৎপাদন ও গবেষণা চলছে। ভারত এতদিন ওই দেশগুলোর ওপর নির্ভরশীল ছিল।

‘এ কারণে করোনা সংক্রমণ যখন মহামারির রূপ নিল, তখন ভারতকে নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছিল, ভারত কি এই মহামারির বিরুদ্ধে লড়তে পারবে?

‘ভারতের বিপুলসংখ্যক মানুষের জন্য টিকা কেনার টাকা কোথা থেকে আসবে, ভারত আদৌ করোনা টিকা পাবে কি না, পেলেও এত মানুষকে টিকা দিতে পারবে কি না- এমন প্রশ্ন ওঠে।

‘আজ ভারত ১০০ কোটি ডোজ টিকাকরণের মাধ্যমে ওইসব প্রশ্নের জবাব দিয়েছে। দেশেই টিকা উৎপাদন করা হয়েছে এবং দেশবাসীকে তা বিনা মূল্যে দেয়া হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী মোদি আরও বলেন, ‘১০০ কোটি টিকাকরণের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ওষুধ উৎপাদনের পীঠস্থান হিসেবে ভারতের প্রতি বিশ্বের স্বীকৃতি আরও মজবুত হয়েছে।

‘গোটা বিশ্বই এখন ভারতের এ শক্তি দেখছে এবং উপলব্ধি করছে।’

তিনি বলেন, “ভারতের টিকাকরণ কর্মসূচি ‘সবার সঙ্গে, সবার উন্নতি, সবার চেষ্টা’ স্লোগানের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়।

‘‘গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে আমরা সবার চাহিদাকে প্রাধান্য দিই। এ কারণে সবার সঙ্গে, সবার উন্নতি- এ নীতি অনুসরণ করে চলি আমরা।”

টিকাকরণ নিয়ে নানা ভ্রান্ত ধারণা ও দ্বিধা সম্পর্কে মোদি বলেন, ‘বিশ্বের বড় বড় দেশ এখনও টিকাকরণ নিয়ে জনগণের মধ্যে যে দ্বিধা রয়েছে, তার সঙ্গে লড়াই করছে।

‘সেখানেই ভারত ১০০ কোটি টিকাকরণের সাফল্যের মাধ্যমে গোটা বিশ্বকে দেখিয়ে দিল, কীভাবে টিকাকরণ নিয়ে সংকোচের সঙ্গে লড়াই করতে হয়।

‘বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনী শক্তির ওপর ভরসা রেখে ভারত আজ এ সাফল্যকে ছুঁতে পেরেছে।’

ভারতের প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের টিকাকরণ কর্মসূচিতে কোনোভাবে ভিআইপি সংস্কৃতির প্রভাব পড়তে দেয়া হয়নি। সবাইকে সমানভাবে গণ্য করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
অকাস চুক্তি নিয়ে কাঠগড়ায় যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য
পারমাণবিক ডুবোজাহাজ তৈরির ক্ষমতা পেল অস্ট্রেলিয়া, ক্ষিপ্ত চীন

শেয়ার করুন

মুম্বাইয়ে আবাসিক ভবনে আগুন, মৃত ১

মুম্বাইয়ে আবাসিক ভবনে আগুন, মৃত ১

শুক্রবার মুম্বাইয়ের এক বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ডে একজনের মৃত্যু হয়। ছবি: এনডিটিভি

শুক্রবার দুপুরে মুম্বাইয়ের লালবাগ এলাকায় অবিঘ্ন পার্ক সোসাইটির এক বহুতল ভবনে আগুন লাগে। আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের ১৪টি ইউনিট কাজ করছে।

ভারতের মুম্বাই শহরের দক্ষিণাঞ্চলে একটি বিলাসবহুল আবাসিক ভবনের ১৯ তলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ওই ঘটনায় কমপক্ষে একজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে অনেকে।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার দুপুরে মুম্বাইয়ের লালবাগ এলাকায় অবিঘ্ন পার্ক সোসাইটির এক বহুতল ভবনে আগুন লাগে। আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের ১৪টি ইউনিট কাজ করছে।

ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, আগুনের শিখায় ঢেকে যাওয়া ভবনটির ১৯ তলা থেকে এক ব্যক্তি নিচে পড়ছেন। চারপাশ কালো ধোঁয়ায় পরিবেষ্টিত আগুনের লেলিহান শিখা কয়েক মাইল দূর থেকেও দেখা যাচ্ছে।

মুম্বাইয়ের কিং অ্যাডওয়ার্ড মেমোরিয়াল (কেইএম) হাসপাতালের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, আগুন লাগা ভবনটি থেকে পড়ে যাওয়া ব্যক্তির নাম অরুণ তিওয়ারি। তার বয়স ৩০। দুপুর প্রায় পৌনে ১টার দিকে হাসপাতালে আনা হলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

উদ্ধার তৎপরতা তত্ত্বাবধান করতে মুম্বাইয়ের মেয়র কিশোরী পেদনেকার ও অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এরই মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন।

পেদনেকার এনডিটিভিকে বলেন, ‘আগুনের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

‘এখন পর্যন্ত অনেককে ভবনটি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার তৎপরতা চলছে।

‘আতঙ্কে এক ব্যক্তি ভবনটির ১৯ তলা থেকে লাফ দেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাকে বাঁচাতে ব্যর্থ হয়েছেন, আমরা তা বলতে পারছি না। দয়া করে গুজব ছড়াবেন না।’

আরও পড়ুন:
অকাস চুক্তি নিয়ে কাঠগড়ায় যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য
পারমাণবিক ডুবোজাহাজ তৈরির ক্ষমতা পেল অস্ট্রেলিয়া, ক্ষিপ্ত চীন

শেয়ার করুন