আফগানিস্তানে খুলল স্কুল, বাদ মেয়েরা

আফগানিস্তানে খুলল স্কুল, বাদ মেয়েরা

আফগানিস্তানে মেয়ে শিক্ষার্থী ও নারী শিক্ষকদের বাদ দিয়ে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম শুরু করেছে তালেবান সরকার। ছবি: সংগৃহীত

দিনটিকে চরম বিষাদময় বললেন কাবুলের ১৬ বছর বয়সী এক ছাত্রী। এই শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমি চিকিৎসক হতে চেয়েছিলাম। আমার এমন স্বপ্ন ভেঙে গেছে। আমি মনে করি না তালেবান মেয়েদের স্কুলে ফিরতে দেবে। এমনকি যদি তারা উচ্চ-মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো খুলেও দেয়, তারা চাইবেনা মেয়েরা শিক্ষিত হোক।’

আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর নারীর অধিকারসহ অন্যান্য নাগরিক অধিকারের প্রতি সম্মান জানানোর অঙ্গীকার থেকে ফের সরে এসেছে তালেবান।

এবার দেশটিতে মেয়ে শিক্ষার্থী ও নারী শিক্ষকদের বাদ দিয়ে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম শুরু করেছে নতুন ক্ষমতায় বসা কট্টর ধর্মভিত্তিক গোষ্ঠীটি।

শনিবার দেশটিতে শুরু হয়েছে সশরীরে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কর্মসূচি। তালেবান সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী এতে অংশ নিয়েছেন ছেলে শিক্ষার্থী ও পুরুষ শিক্ষকরা।

তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেয়েদের জন্যে আলাদা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু হবে শিগগিরই।

এর মধ্য দিয়ে নব্বইয়ের দশকে তালেবানের প্রথম ক্ষমতায় থাকাকালীন কট্টর নারী বিদ্বেষী মনোভাব ফের দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় চাপিয়ে দেয়ার আতঙ্ক পেয়ে বসেছে সাধারণ জনগণের মনে।

মেয়ে শিক্ষার্থী, তাদের অভিভাবক ও শিক্ষকরা দেশটিতে নারী শিক্ষার ভবিষ্যত নিয়েও শঙ্কিত হয়ে উঠেছেন।

শনিবারের ওই বিবৃতিতে তালেবান শাসকগোষ্ঠী জানায়, সব পুরুষ শিক্ষক ও ছেলে শিক্ষার্থীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারবে। তবে ওই বিবৃতিতে মেয়ে শিক্ষার্থী ও নারী শিক্ষকদের উপস্থিত থাকার বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়।

দেশটিতে সাধারণত ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সী ছাত্র-ছাত্রীরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। দেশটির অধিকাংশ বিদ্যালয়গুলোতে সহশিক্ষার সুযোগ নেই।

তালেবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, ‘ সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আলাদা স্কুল চালুর প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে। শিক্ষকদের বিষয়ে আসবে আলাদা ও নতুন নীতিমালা।’

আফগানিস্তানে খুলল স্কুল, বাদ মেয়েরা

তবে মেয়ে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা তালেবানের এমন প্রতিশ্রুতিকে ফাঁকা বুলি বলে শঙ্কা করছেন।

এক কিশোরী বলেন, ‘আমার শিক্ষাজীবন আর ভবিষ্যত নিয়ে ভীষণ শঙ্কিত আমি।’ এই মেয়ে শিক্ষার্থী আইনজীবী হবার সংকল্প রয়েছে।

ওই শিক্ষার্থী আরও বলেন, ‘ তালেবানের অধীন সবকিছু ভীষণ অন্ধকার আচ্ছন্ন মনে হচ্ছে। ঘুম থেকে উঠে নিজেকে প্রতিদিন প্রশ্ন করি, কেনইবা আমি বেঁচে রয়েছি। আমার কি বাড়িতে বসে অপেক্ষা করা উচিত যে কখন কেউ দরজায় টোকা দিয়ে আমাকে বিয়ে করতে বলবে? এটাই কী নারী হওয়ার উদ্দেশ?

এসময় কিশোরীটির বাবা বলেন, ‘আমার মা নিরক্ষর ছিলেন। আমার বাবা এই নিয়ে মাকে হেয় করতেন। তাকে বোকা বলতেন। আমি চাইনি যে আমার মেয়ের জীবনে আমার মায়ের কষ্টের জীবন ফিরে আসুক।

এই দিনটিকে চরম বিষাদময় বললেন কাবুলের ১৬ বছর বয়সী আরেক ছাত্রী।

এই শিক্ষার্থী বিবিসির প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমি চিকিৎসক হতে চেয়েছিলাম। আমার এমন স্বপ্ন ভেঙে গেছে। আমি মনে করি না তালেবান আমাদের স্কুলে ফিরতে দেবে। এমনকি যদি তারা উচ্চ-মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো খুলেও দেয়, তারা চাইবেনা মেয়েরা শিক্ষিত হোক।

আফগানিস্তানে খুলল স্কুল, বাদ মেয়েরা

এক আফগান স্কুলছাত্রী জানান, তিনি ভেঙে পড়েছেন। সবকিছু অন্ধকারে ঢেকে গেছে।

সম্প্রতি নারী শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার অনুমতি দিলেও ক্লাসরুমের মাঝে পর্দা ও পোশাকের ক্ষেত্রে বিভিন্ন নিয়ম চাপিয়ে দেয় তালেবান।

মেয়ে শিক্ষার্থীদের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়তে না দেয়ার অর্থ হচ্ছে তাদের উচ্চ শিক্ষার পথ রুখে দেয়া।

২০০১ সালে কট্টরপন্থি তালেবানকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর শিক্ষার ক্ষেত্রে নারীরা অনেক এগিয়ে গিয়েছিল। তবে দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতা দখলের পর আগের রক্ষণশীল মনোভাব থেকে সরে আসার ঘোষণা দিয়েছিল গোষ্ঠীটি।

তবে তালেবানের বিভিন্ন নির্দেশনা ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের ধারাবাহিকতা সেসবের ইঙ্গিত দিচ্ছে না। বরং কট্টরপন্থি গোষ্ঠিটি সেই আগের মতোই রয়ে গেছে বলে শঙ্কা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
নারী মন্ত্রণালয় পাল্টে ‘ন্যায়-অন্যায়’ মন্ত্রণালয় করল তালেবান
শুধু ছাত্র-শিক্ষকদের স্কুলে যাওয়ার নির্দেশ তালেবানের
তালেবানে কট্টরপন্থিদের মুখোমুখি সংস্কারপন্থিরা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ধনকুবেরদের জন্য পৃথক করনীতির পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

ধনকুবেরদের জন্য পৃথক করনীতির পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। সাম্প্রতিক ছবি

পরিকল্পনা গৃহীত হলে ২০২২ অর্থবছরে কার্যকর হতে পারে নতুন এ করনীতি। এটি প্রভাব ফেলবে ১০০ কোটি ডলারের বেশি সম্পত্তির অধিকারী প্রায় ৭০০ করদাতার ওপর। টানা তিন বছর বার্ষিক আয় ১০ কোটি ডলার যাদের, তাদের ওপরেও প্রযোজ্য হবে এ নীতি। বাইডেন প্রশাসের এ পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানিয়েছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক।

নিজেদের সম্পত্তি থেকে প্রাপ্ত অপ্রত্যাশিত বেশি লাভের জন্য আলাদাভাবে কর দিতে হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের ধনকুবেরদের। দেশটির পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটে এমনই একই করনীতি প্রকাশ করা হয়েছে।

এ কর নীতিমালার আওতায় প্রাপ্ত অর্থ সমাজকল্যাণ, জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলোতে সরকারের গৃহীত ব্যবস্থা বাস্তবায়নে খরচ করা হবে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, সিনেটে করনীতিবিষয়ক শীর্ষ ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা ও সিনেট ফাইন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান রন ওয়াইডেন বুধবার এ প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন।

পরিকল্পনাধীন নীতিটিকে আমেরিকানরা বলছে ‘বিলিয়নিয়ার্স ট্যাক্স’। এতে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে লাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ন্যূনতম করপোরেট ট্যাক্স ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এ পরিকল্পনায় সমর্থন জানিয়েছে হোয়াইট হাউজ।

গৃহীত হলে ২০২২ অর্থবছরে কার্যকর হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন এ করনীতি। এটি প্রভাব ফেলবে ১০০ কোটি ডলারের বেশি সম্পত্তির অধিকারী প্রায় ৭০০ করদাতার ওপর। টানা তিন বছর বার্ষিক আয় ১০ কোটি ডলার যাদের, তাদের ওপরেও প্রযোজ্য হবে এ নীতি।

ওয়াইডেন ও ডেমোক্রেটিক সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেনসহ অন্য আইনপ্রণেতারা বলছেন, এ নীতিমালা কার্যকর হলে বড় ও ধনী প্রতিষ্ঠানগুলোর করফাঁকি দেয়ার সুযোগ কমবে। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনাকে বাস্তব রূপ দেয়ার জন্য পর্যাপ্ত অর্থের সংস্থানও হবে।

বাইডেনের ‘বিল্ড ব্যাক বেটার’ পরিকল্পনার খরচ দেড় থেকে দুই ট্রিলিয়ন ডলার।

সম্প্রতি ন্যূনতম করপোরেট ট্যাক্স নির্ধারণের নীতি গ্রহণে সম্মত হয়েছে ১৩৬টি দেশ। আন্তর্জাতিক করনীতির ফাঁকফোকর খুঁজে বের করে যেসব বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান কম বা একেবারেই কর দেয় না, তাদের সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আনতে নেয়া হয় এ সিদ্ধান্ত।

বাইডেন প্রশাসের এ পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানিয়েছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ও বিদ্যুৎচালিত গাড়িনির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার প্রধান নির্বাহী তিনি। চলতি মাসে মাস্কের সম্পত্তির মূল্য ২৩ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়েছে।

বাইডেন সরকারকে ব্যাঙ্গ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে মাস্ক লিখেছেন, ‘অন্যদের পয়সা ফুরিয়ে ফেলবে তারা। তারপর আপনার পেছনে দৌড়াতে শুরু করবে।’

তবে সব ধনকুবের এ পরিকল্পনার বিরোধিতা করছেন না। সমর্থন জানিয়েছেন বিনিয়োগকারী ও উদারপন্থি কর্মী জর্জ সরোস।

আরও পড়ুন:
নারী মন্ত্রণালয় পাল্টে ‘ন্যায়-অন্যায়’ মন্ত্রণালয় করল তালেবান
শুধু ছাত্র-শিক্ষকদের স্কুলে যাওয়ার নির্দেশ তালেবানের
তালেবানে কট্টরপন্থিদের মুখোমুখি সংস্কারপন্থিরা

শেয়ার করুন

ষড়যন্ত্র তত্ত্বে বিশ্বাসীদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি: গবেষণা

ষড়যন্ত্র তত্ত্বে বিশ্বাসীদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি: গবেষণা

প্রতীকী ছবি।

গবেষণায় জানা গেছে, ষড়যন্ত্র তত্ত্বের প্রতি অগাধ বিশ্বাস ব্যক্তির আচরণকে প্রভাবিত করে। তারা মহামারিকালীন বিধিনিষেধ মানেননি। টিকা গ্রহণেও অনীহা দেখিয়েছেন। এ কারণেই করোনা নিয়ে ষড়যন্ত্র তত্ত্বে বিশ্বাসী ব্যক্তিদের বড় অংশ কোনো না কোনো সময়ে এতে আক্রান্ত হয়েছেন।

মহামারি করোনা নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র তত্ত্বে যারা বিশ্বাস করেছেন, তাদেরই ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে চমকপ্রদ এ তথ্য।

২০২০ সালের শুরুতে করোনাভাইরাস মহামারির সূচনালগ্ন থেকেই এ নিয়ে অসংখ্য ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়িয়েছে।

বিজ্ঞানবিষয়ক ব্লগ আইএফএল সায়েন্সের একটি নিবন্ধ থেকে জানা যায়, এসব তত্ত্বে বিশ্বাস করার প্রভাব সম্ভবত পড়ছে বিশ্বাসীদের স্বাস্থ্যের ওপর।

সাইকোলজিক্যাল মেডিসিন জার্নালে প্রকাশিত মূল গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনাবিষয়ক ষড়যন্ত্রে যারাই বিশ্বাস করেছেন, তাদের বেশিরভাগই পরবর্তীতে করোনা পজিটিভ হয়েছেন।

গবেষণায় জানা গেছে, ষড়যন্ত্র তত্ত্বের প্রতি অগাধ বিশ্বাস ব্যক্তির আচরণকে প্রভাবিত করে। তারা মহামারিকালীন বিধিনিষেধ মানেননি। টিকা গ্রহণেও অনীহা দেখিয়েছেন।

এ কারণেই করোনা নিয়ে ষড়যন্ত্র তত্ত্বে বিশ্বাসী ব্যক্তিদের বড় অংশ কোনো না কোনো সময়ে এতে আক্রান্ত হয়েছেন। অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষতির শিকারও তারাই বেশি হয়েছেন।

নেদারল্যান্ডসের ভ্রিজে ইউনিভার্সিটেইট অ্যামস্টারডামের একদল বিজ্ঞানী গবেষণাটি করেছেন।

তারা লিখেছেন, ‘যুক্তি ও বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে বিচার করলে বেশিরভাগ ষড়যন্ত্র তত্ত্বই অবিশ্বাস্য। কিন্তু যিনি এ ধারণা গ্রহণ করছেন, তার কাছে এটি গ্রহণযোগ্য বা বাস্তব বলে মনে হলে তার মন-মানসিকতা, আচরণ ও অনুভূতিতে এর প্রভাব পড়ে।’

মনোবিজ্ঞানী জ্যান-উইলেম ভ্যান প্রুইজেনের নেতৃত্বে গবেষণাটি হয়েছে। এ জন্য নেদারল্যান্ডসের পাঁচ হাজার ৭৪৫ জন ব্যক্তির ওপর জরিপ চালানো হয়েছে। প্রথমবার ২০২০ সালের এপ্রিলে, এবং দ্বিতীয়বার আট মাস পরে।

প্রথম জরিপে স্বেচ্ছাসেবীদের কাছে জনপ্রিয় কয়েকটি ষড়যন্ত্র নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। জানতে চাওয়া হয়েছিল যে, করোনাভাইরাস যে জৈব অস্ত্র, নাগরিক অধিকার হরণের কৌশল, অর্থনৈতিক লাভের জন্য ছড়ানো গুজব বা অর্থনৈতিক ধসের খবর ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা- এসব বিষয়ে তাদের বিশ্বাসের মাত্রা কতটা।

এরপর ২০২০ সালের ডিসেম্বরে একই ব্যক্তিদের আবার প্রশ্ন করা হয়। এবার জানতে চাওয়া হয় মহামারি নিয়ে তাদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা কী। প্রশ্নের অন্তর্ভুক্ত ছিল- তারা করোনা পরীক্ষা করিয়েছিলেন কি না, পজিটিভ এসেছিল নাকি নেগেটিভ, তারা করোনাকালীন স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন করেছেন কি না ইত্যাদি।

দুটি জরিপের পর সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, ষড়যন্ত্র তত্ত্বে বিশ্বাসী ব্যক্তিদের ওপর দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাবই বেশি।

পৃথক এক গবেষণায় দেখা গেছে, একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্বনির্ভর ভুয়া চিকিৎসা নিয়ে গত বছর ৮০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

আরও পড়ুন:
নারী মন্ত্রণালয় পাল্টে ‘ন্যায়-অন্যায়’ মন্ত্রণালয় করল তালেবান
শুধু ছাত্র-শিক্ষকদের স্কুলে যাওয়ার নির্দেশ তালেবানের
তালেবানে কট্টরপন্থিদের মুখোমুখি সংস্কারপন্থিরা

শেয়ার করুন

চীনের নতুন ভূমি আইন নিয়ে উদ্বিগ্ন ভারত

চীনের নতুন ভূমি আইন নিয়ে উদ্বিগ্ন ভারত

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচি। ফাইল ছবি

নতুন আইনে চীন ও পাকিস্তানের মধ্যকার সীমান্ত চুক্তিকে বৈধতা দেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ ভারতের। বেইজিং-ইসলামাবাদের ১৯৬৩ সালের চুক্তিটির ঘোর বিরোধী নয়া দিল্লি।

চীন-ভারত সীমান্তে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থায় বেইজিংয়ের নতুন ভূমি আইন প্রভাব ফেলতে পারে বলে উদ্বেগ জানিয়েছে নয়া দিল্লি। অভিযোগ, কোনো আলোচনা ছাড়াই একতরফাভাবে ভূমি আইনবিষয়ক নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে চীন সরকার।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানায়, চীনের নতুন আইনের কারণে দুই দেশের অমীমাংসিত সীমান্ত বিতর্কে প্রভাব পড়তে পারে।

দিল্লিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচি বলেন, “এটা বুঝতে হবে যে ভারত ও চীন এখনও সীমান্ত সমস্যার সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি। এ অবস্থায় একটি নতুন ভূমি আইন ও চীনের একতরফা সিদ্ধান্ত সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনার কারণ হতে পারে।

‘এ ছাড়া সীমান্ত ইস্যুতে আমাদের বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক চুক্তিও ঝুঁকিতে পড়তে পারে। বিষয়টি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।’

অরিন্দম বাগচি আরও বলেন, ‘এই আইনের ঘোষণা এমন এক সময়ে এসেছে যখন বেইজিং ও নয়াদিল্লির মধ্যে পূর্ব লাদাখে অচলাবস্থা সমাধানের জন্য আলোচনা চলছে। নতুন এ আইনটির অর্থ হলো- সীমান্তে নিয়ন্ত্ররেখা বিষয়ে বর্তমান অবস্থানেই অনড় থাকবে চীন।’

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, চীন এ আইনের দোহাই দিয়ে সীমান্ত পরিস্থিতি উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া থেকে বিরত থাকবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নতুন আইনে চীন ও পাকিস্তানের মধ্যকার সীমান্ত চুক্তিকে বৈধতা দেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ ভারতের। বেইজিং-ইসলামাবাদের ১৯৬৩ সালের চুক্তিটির ঘোর বিরোধী নয়া দিল্লি।

আরও পড়ুন:
নারী মন্ত্রণালয় পাল্টে ‘ন্যায়-অন্যায়’ মন্ত্রণালয় করল তালেবান
শুধু ছাত্র-শিক্ষকদের স্কুলে যাওয়ার নির্দেশ তালেবানের
তালেবানে কট্টরপন্থিদের মুখোমুখি সংস্কারপন্থিরা

শেয়ার করুন

তৃণমূলে গেলেন বিজেপি বিধায়ক

তৃণমূলে গেলেন বিজেপি বিধায়ক

চলতি বছর পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন কৃষ্ণ কল্যাণী। ছবি: সংগৃহীত

বেশ কিছুদিন ধরে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে রায়গঞ্জের বিধায়কের বিরোধ চলছিল। নাম উল্লেখ না করলেও বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব ও স্থানীয় সংসদ সদস্য দেবশ্রী চৌধুরীর ওপর কৃষ্ণ কল্যাণীর ক্ষোভ স্পষ্ট ছিল।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে রাজ্য বিজেপিতে ভাঙন অব্যাহত। সবশেষ দলত্যাগ করেছেন রায়গঞ্জের বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণী, ফিরেছেন নিজের পুরোনো ঘাঁটি তৃণমূলে।

তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও জোড়াসাঁকোর বিধায়ক বিবেক গুপ্তার উপস্থিতিতে বুধবার নিজের তৃণমূলের পতাকা হাতে তুলে নেন কৃষ্ণ কল্যাণী।

চলতি বছর পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন কৃষ্ণ কল্যাণী। বিজেপির টিকিটেই রায়গঞ্জ থেকে বিধানসভা সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।

কিন্তু রাজ্য বিজেপির অন্তর্কোন্দলে বীতশ্রদ্ধ কল্যাণী পুরনো দল তৃণমূলে ফিরতে চাইছিলেন বেশ কিছুদিন ধরে।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্মতিতে আবার তৃণমূল পতাকা হাতে তুলে নেন কল্যাণী।

পুরোনো দলে ফিরে কৃষ্ণ কল্যাণী বলেন, ‘বিজেপিতে আছে খালি ষড়যন্ত্র। তা দিয়ে নির্বাচনের ময়দানে জেতা যায় না। জিততে হলে দরকার উন্নয়ন। আমি কাজ করার চেষ্টা করেছি, বিনিময়ে ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছি। তাই বিজেপি ছাড়তে বাধ্য হয়েছি।’

তৃণমূলে ফেরার প্রতিক্রিয়ায় কৃষ্ণ কল্যাণী আরও বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যা কথা দেন, তা করে দেখান। ভোটের আগে তিনি যা যা বলেছিলেন, ক্ষমতায় ফিরে সব করে দেখিয়েছেন। এতে অভিভূত আমি। ধন্যবাদ জানাই মমতাদি আর অভিষেকদাকে।’

বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে কৃষ্ণ কল্যাণী বলেন, ‘বিজেপিতে ভালো কাজের কোনো মূল্যায়ন নেই। বিজেপিতে যোগ দিয়ে যে ভুল করেছিলাম, তা এবার শুধরে নিচ্ছি।’

বেশ কিছুদিন ধরে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে রায়গঞ্জের বিধায়কের বিরোধ চলছিল। নাম উল্লেখ না করলেও বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব ও স্থানীয় সংসদ সদস্য দেবশ্রী চৌধুরীর ওপর কৃষ্ণ কল্যাণীর ক্ষোভ স্পষ্ট ছিল।

এ অবস্থায় সংবাদ সম্মেলন করে দলের সব কর্মসূচি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে দল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। গত ১ অক্টোবর জানিয়েছিলেন, দেবশ্রী চৌধুরীর সঙ্গে একই দল করা সম্ভব নয়।

২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ৭৭টি আসনে জয়লাভ করে বিজেপি। নিশীথ প্রামাণিক এবং জগন্নাথ সরকার তাদের সংসদ সদস্য পদ ধরে রাখতে বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিলে ৭৭ থেকে নেমে ৭৫ জনে নেমে আসে বিধায়কের সংখ্যা।

এরপর বিজেপি দলীয় পাঁচজন বিধায়ক দল ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন। ফলে বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিধায়কের সংখ্যা ৭০।

আরও পড়ুন:
নারী মন্ত্রণালয় পাল্টে ‘ন্যায়-অন্যায়’ মন্ত্রণালয় করল তালেবান
শুধু ছাত্র-শিক্ষকদের স্কুলে যাওয়ার নির্দেশ তালেবানের
তালেবানে কট্টরপন্থিদের মুখোমুখি সংস্কারপন্থিরা

শেয়ার করুন

পেগাসাস স্পাইওয়্যার: ভারতের সুপ্রিম কোর্টের তদন্ত কমিটি গঠন

পেগাসাস স্পাইওয়্যার: ভারতের সুপ্রিম কোর্টের তদন্ত কমিটি গঠন

প্রতীকী ছবি।

দুই মাস পর এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী শুনানি হবে এবং সেদিন কমিটিটি প্রতিবেদন জমা দেবে। আদালতের রায়ে বলা হয়, ‘সরকারকে নোটিশ জারি করা হয়েছিল।... বারবার সুযোগ দেয়া সত্ত্বেও সরকার সীমিত হলফনামা দিয়েছে, যা স্পষ্ট নয়। স্পষ্টভাবে সব জানানো হলে পুরো বিষয়টা বোঝা সহজ হতো। প্রতিবার জাতীয় নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে তথ্য অস্পষ্ট রেখে সরকার পার পাবে না।’

ইসরায়েলের ফোন হ্যাকিং সফটওয়্যার পেগাসাসের মাধ্যমে ভারতে নজরদারি অভিযোগ খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে একটি তদন্ত প্যানেলও গঠন করেছে সর্বোচ্চ আদালত।

সুপ্রিম কোর্টের মতে, এ ধরনের সফটওয়্যার ব্যবহার ও নজরদারির অভিযোগ জনগণের মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং সমাজে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।

ভারতের প্রধান বিচারপতি এনভি রামানা এবং বিচারপতি সূর্যকান্ত ও হিমা কোহলির বেঞ্চ এই রায় দেন।

গঠিত তদন্ত প্যানেলের প্রধান হবেন সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আরভি রবীন্দ্রন।

কমিটির বাকি তিন সদস্য হলেন- গুজরাটের গান্ধীনগরের ন্যাশনাল ফরেনসিক সায়েন্সেস ইউনিভার্সিটির সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ডিজিটাল ফরেনসিক বিভাগের অধ্যাপক ও ডিন ড. নবীন কুমার চৌধুরী; কেরালার অমৃতপুরীর অমৃতা বিশ্ব বিদ্যাপীঠমের প্রকৌশলের অধ্যাপক ড. পি প্রবাহরণ এবং মহারাষ্ট্রের মুম্বাইয়ের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির (আইআইটি) কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশলের সহযোগী অধ্যাপক ড. অশ্বিন অনিল গুমাস্তে।

এ ছাড়া কমিটির প্রধানকে সহায়তা করবেন প্রাক্তন আইপিএস আধিকারিক অলোক যোশী ও ডা. সুন্দীপ ওবেরয়।

দুই মাস পর এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী শুনানি হবে এবং সেদিন কমিটিটি প্রতিবেদন জমা দেবে।

আদালতের রায়ে বলা হয়, ‘সরকারকে নোটিশ জারি করা হয়েছিল। পেগাসাস স্পাইওয়্যার নজরদারির অভিযোগের বিষয়ে সরকারের গৃহীত সব পদক্ষেপের বিশদ বিবরণ দেয়ার যথেষ্ট সুযোগ দেয়া হয়েছে।

‘বারবার সুযোগ দেয়া সত্ত্বেও সরকার সীমিত হলফনামা দিয়েছে, যা স্পষ্ট নয়। স্পষ্টভাবে সব জানানো হলে পুরো বিষয়টা বোঝা সহজ হতো। প্রতিবার জাতীয় নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে তথ্য অস্পষ্ট রেখে সরকার পার পাবে না।’

সুপ্রিম কোর্ট আরও বলে, ‘আদালত জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে অনধিকার প্রবেশ করবে না। কিন্তু জাতীয় নিরাপত্তার কথা বলে আদালতকে নীরব দর্শকে পরিণত করা যাবে না।’

পেগাসাস নজরদারি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদনকারীদের মধ্যে ছিলেন আইনজীবী এমএল শর্মা, রাজ্যসভা সদস্য জন ব্রিটাস, হিন্দু গ্রুপ অফ পাবলিকেশন্সের পরিচালক এন রাম, এশিয়ানেটের প্রতিষ্ঠাতা শশী কুমার এবং এডিটরস গিল্ড অফ ইন্ডিয়ার সদস্য প্রেম শঙ্কর ঝা, রূপেশ কুমার সিং, ইপসা শতাব্দী, পরঞ্জয় গুহঠাকুরতা ও এসএনএম আবদি।

আরও পড়ুন:
নারী মন্ত্রণালয় পাল্টে ‘ন্যায়-অন্যায়’ মন্ত্রণালয় করল তালেবান
শুধু ছাত্র-শিক্ষকদের স্কুলে যাওয়ার নির্দেশ তালেবানের
তালেবানে কট্টরপন্থিদের মুখোমুখি সংস্কারপন্থিরা

শেয়ার করুন

বিয়ে বিচ্ছেদের পর কুকুর নিয়ে টানাটানি

বিয়ে বিচ্ছেদের পর কুকুর নিয়ে টানাটানি

প্রতীকী ছবি।

প্রাণীকল্যাণে নতুন একটি আইনের খসড়া তৈরি করছে স্পেনের সরকার। তাদের জড়বস্তু হিসেবে বিবেচনা না করে জীবন্ত প্রাণী হিসেবে বিবেচনায় আইনটি প্রণয়ন করা হচ্ছে। দম্পতিদের বিচ্ছেদের ফলে যেন পোষা কুকুরের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় না পড়ে, তা নিশ্চিত করা হবে এ আইনে।

বিয়ে বিচ্ছেদের পর স্বাভাবিকভাবেই আলাদা থাকছেন সাবেক স্বামী-স্ত্রী। একসঙ্গে থাকাকালীন সংসারের আরেক সদস্য ছিল একটি কুকুর। আর সব বিষয় নিয়ে বিবাদ মিটলেও পোষা কুকুরটি কার সঙ্গে থাকবে, তা নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়ান সাবেক স্বামী-স্ত্রী।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, জল এতটাই গড়িয়েছে যে শেষ পর্যন্ত আবারও আইনের আশ্রয় নিতে হয়েছে তাদের। বিয়ে বিচ্ছেদের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্নের পর কুকুরের দায়িত্ব কার, সে প্রশ্নের উত্তর পেতে আদালতের দ্বারস্থ হন তারা।

নজিরবিহীন ও বিচিত্র এ ঘটনা ঘটেছে স্পেনে। রাজধানী মাদ্রিদের একটি আদালত রায়ও দিয়েছে।

বিরল সে রায়ে বলা হয়, কুকুরটিকে লালনপালনের দায়িত্ব সাবেক ওই যুগলকে ‘যৌথভাবে’ নিতে হবে। বিরতি দিয়ে তাদের দুজনের সঙ্গেই থাকবে কুকুরটি, দুজনই আলাদাভাবে তাকে সময় দেবে।

যে কুকুরকে নিয়ে এত কাণ্ড, তার নাম পান্ডা।

মামলাটি উত্থাপন করা আইনজীবী লোলা গার্সিয়া জানান, আদালতের এ রায় ‘আরও অনেককেই পথ দেখাবে’।

প্রাণীকল্যাণে নতুন একটি আইনের খসড়া তৈরি করছে স্পেনের সরকার। তাদের জড়বস্তু হিসেবে বিবেচনা না করে জীবন্ত প্রাণী হিসেবে বিবেচনায় আইনটি প্রণয়ন করা হচ্ছে।

দম্পতিদের বিচ্ছেদের ফলে যেন পোষা কুকুরের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় না পড়ে, তা নিশ্চিত করা হবে এ আইনে। এর ফলে সাবেক দম্পতিদের একজনও যদি চান, তাহলে কুকুরের দায়িত্ব ভাগাভাগি করে পালন করতে হবে উভয়কেই।

আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, দুইজনই এক মাস করে নিজেদের কাছে রাখবেন পান্ডা নামের কুকুরটির। পান্ডার চিকিৎসা ব্যয়সহ লালনপালনের খরচ ভাগ করে নিতে হবে সাবেক দম্পতিকে।

এ ছাড়া ‘সন্তানের সঙ্গে মা-বাবার পারিবারিক ছবি যেভাবে তোলা হয়, সেভাবেই পান্ডার সঙ্গে ছবি তুলে’ও তাদের আদালতে প্রমাণ হিসেবে জমা দিতে হবে।

আরও পড়ুন:
নারী মন্ত্রণালয় পাল্টে ‘ন্যায়-অন্যায়’ মন্ত্রণালয় করল তালেবান
শুধু ছাত্র-শিক্ষকদের স্কুলে যাওয়ার নির্দেশ তালেবানের
তালেবানে কট্টরপন্থিদের মুখোমুখি সংস্কারপন্থিরা

শেয়ার করুন

বলসোনারোর বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ গঠনে অনুমতি

বলসোনারোর বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ গঠনে অনুমতি

করোনা ইস্যুতে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জায়ার বলসোনারের জনপ্রিয়তা তলানিতে ঠেকেছে। ফাইল ছবি

এক হাজার ৩০০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনটিতে বলসোনারো ছাড়াও আরও ৭৭ জন ব্যক্তি ও দুটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে প্রেসিডেন্টের প্রাপ্তবয়স্ক তিন ছেলেও আছে। মহামারি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা বা কথিত কোনো অপরাধেরই অভিযোগ স্বীকার করেননি বলসোনারো। তবে চলমান সংকটের জেরে তার জনসমর্থন তলানিতে ঠেকেছে।

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জায়ের বলসোনারোর বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ গঠনের অনুমতি দিয়েছে পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ। করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবিলায় ব্যর্থতা ও দেশজুড়ে বিপর্যয় ডেকে আনার মাধ্যমে তিনি ফৌজদারি অপরাধ করেছেন বলে মনে করেন আইনপ্রণেতারা।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, পার্লামেন্টে ভোটের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্তে পৌঁছান সিনেটররা। মানবতাবিরোধীসহ বলসোনারোর বিরুদ্ধে কয়েকটি অভিযোগ গঠনের আহ্বান জানানো একটি প্রতিবেদনে সমর্থন জানায় সিনেটের একটি প্যানেল।

তবে অন্যান্য ফৌজদারি অভিযোগের মতো বলসোনারোর বিরুদ্ধে গঠিত অভিযোগের বিচার হবে কি না, সে বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা নেই। কারণ এর আগে প্রতিবেদনটিতে করা সুপারিশ খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত দেবেন ব্রাজিলের প্রসিকিউটর-জেনারেল অগাস্টো আরাস। তিনি প্রেসিডেন্টের স্বার্থরক্ষাই করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পর দ্বিতীয় দেশ হিসেবে ব্রাজিলে করোনায় প্রাণহানি ছয় লাখ ছাড়িয়েছে চলতি মাসের শুরুতে। সংক্রমণের দিক থেকেও যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের পর তৃতীয় শীর্ষ অবস্থানে ব্রাজিল; দুই কোটির বেশি মানুষের দেহে শনাক্ত হয়েছে ভাইরাসটি।

এ অবস্থায় ফৌজদারি অভিযোগ গঠনের পর তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য প্রধান কৌঁসুলির কাছে পাঠানো হবে। ব্রাজিলের প্রধান কৌঁসুলিও প্রেসিডেন্ট বলসোনারোরই নিয়োগপ্রাপ্ত।

মহামারি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা বা কথিত কোনো অপরাধেরই অভিযোগ স্বীকার করেননি বলসোনারো। তবে চলমান সংকটের জেরে তার জনসমর্থন তলানিতে ঠেকেছে।

এক হাজার ৩০০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনটিতে বলসোনারো ছাড়াও আরও ৭৭ জন ব্যক্তি ও দুটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে প্রেসিডেন্টের প্রাপ্তবয়স্ক তিন ছেলেও আছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘মহামারির সময়ে কেন্দ্রীয় সরকারের যেসব ভুলত্রুটির বলি হয়েছে লাখো মানুষ, সেসবের পেছনে দায়ী প্রধান ব্যক্তি’টি হলেন বলসোনারো।

অভিযোগ করা হয়, টিকা ছাড়াই ‘হার্ড ইমিউনিটি’ অর্জনের আশায় বলসোনারো সরকারের মহামারিবিষয়ক নীতিমালায় কোনো কার্যকর পদক্ষেপ ছিল না। এর ফলে সারা দেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছে।

যখন কোনো জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশের দেহে টিকা গ্রহণের মাধ্যমে বা প্রাকৃতিকভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়, তখন গোষ্ঠীটি হার্ড ইমিউনিটি অর্জন করেছে বলে মনে করা হয়। হার্ড ইমিউনিটি অর্জনের ফলে ছোঁয়াচে রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলেও সংক্রমণের হার শূন্যের কাছাকাছি থাকে।

প্রতিবেদনটির প্রধান লেখক মধ্যপন্থি সিনেটর রেনান ক্যালহেইরোজ। প্রেসিডেন্ট বলসোনারোর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ গঠন ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) জমা দিতে সিনেটের সংশ্লিষ্ট প্যানেলের প্রতি সুপারিশ করেছেন তিনি।

আরও পড়ুন:
নারী মন্ত্রণালয় পাল্টে ‘ন্যায়-অন্যায়’ মন্ত্রণালয় করল তালেবান
শুধু ছাত্র-শিক্ষকদের স্কুলে যাওয়ার নির্দেশ তালেবানের
তালেবানে কট্টরপন্থিদের মুখোমুখি সংস্কারপন্থিরা

শেয়ার করুন