× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

আন্তর্জাতিক
China Afghanistan will be important in the quad summit
google_news print-icon

‘কোয়াড’ শীর্ষ বৈঠকে গুরুত্ব পাবে চীন-আফগানিস্তান

কোয়াড-শীর্ষ-বৈঠকে-গুরুত্ব-পাবে-চীন-আফগানিস্তান
কোয়াড বৈঠক উপলক্ষে মুখোমুখি বৈঠক করবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
ইন্দো-প্যাসিফিক কো-অর্ডিনেটর কুর্ত ক্যাম্পবেল জানিয়েছেন, বৈঠকে টিকা কূটনীতি ও পরিকাঠামোসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। চীন যেভাবে বিভিন্ন অঞ্চলে আগ্রাসনের চেষ্টা চালাচ্ছে, তাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পরিকাঠামোসংক্রান্ত পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন বাইডেন।

যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের জোট ‘কোয়াড’-এর বৈঠকে চীনের আগ্রাসী নীতি ও আফগানিস্তানে সাম্প্রতিক পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করবেন চার দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা।

২৪ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনে মুখোমুখি আলোচনায় বসবেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর প্রথমবার দেশটিতে সফরে যাচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ।

ওই দিনই মুখোমুখি হবেন মোদি ও বাইডেন।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্ৰণালয় ও হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের বৈঠক হওয়ার কথা নিশ্চিত করা হয়েছে। হোয়াইট হাউসেই বৈঠক হবে বলে জানিয়েছেন প্রেস সেক্রেটারি জেন সাকি।

কোয়াড অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে এর আগে একটি ভার্চু্য়াল বৈঠক হয়েছিল। ১২ মার্চ ওই বৈঠকেও উপস্থিত ছিলেন নরেন্দ্র মোদি।

চীনের প্রতিনিয়ত বেড়ে চলা আগ্রাসী নীতির বিরুদ্ধে এই চার দেশ কীভাবে একজোট হয়ে কাজ করবে, সেই নিয়েই আলোচনা হয়। এ ছাড়া করোনা টিকা ও জলবায়ু পরিবর্তন নিয়েও কথা হয়েছিল তাদের।

জো বাইডেনের ইন্দো-প্যাসিফিক কো-অর্ডিনেটর কুর্ত ক্যাম্পবেল জানিয়েছেন, বৈঠকে টিকা কূটনীতি ও পরিকাঠামোসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। চীন যেভাবে বিভিন্ন অঞ্চলে আগ্রাসনের চেষ্টা চালাচ্ছে, তাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পরিকাঠামোসংক্রান্ত পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন বাইডেন।

বিশেষ করে চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ উদ্যোগকে চ্যালেঞ্জ করতে ওই পরিকল্পনা জোরদার হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি। এর আগে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনকেও এই সংক্রান্ত পরামর্শ দিয়েছিলেন বাইডেন।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি জেন সাকি বলেন, ‘বিভিন্ন ক্ষেত্রে একজোট হয়ে কাজ করার বার্তাও মূলত দেয়া হবে এই বৈঠকে। করোনা মহামারির মোকাবিলা, জলবায়ু পরিবর্তনের মতো ক্ষেত্রে একে অপরের সঙ্গে সহযোগিতার সম্পর্ক স্থাপন করবে।

নিউ ইয়র্কে ২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৭৬তম অধিবেশনের শীর্ষস্তরের সাধারণ বিতর্কে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এবারের সাধারণ বিতর্কের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘করোনা মহামারি থেকে পুনরুদ্ধারের প্রত্যাশার মাধ্যমে স্থিতিশীলতা গড়ে তোলা, মজবুতভাবে পুনর্গঠন করা, সমাজের চাহিদার প্রতি সাড়া দেয়া, মানুষের অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা এবং জাতিসংঘকে পুনরুজ্জীবিত করা’।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ডনাল্ড ট্রাম্পের হয়েই স্লোগান তুলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। পরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন বাইডেন। বাইডেন ক্ষমতায় আসার পর মোদির সঙ্গে মুখোমুখি সাক্ষাৎ হয়নি তার।

এর আগে তিনবার ভার্চুয়াল সাক্ষাৎ হয় দুজনের। মার্চে কোয়াড সম্মেলন, এপ্রিলে জলবায়ু পরিবর্তন এবং জুনে জি-৭ গোষ্ঠীর বৈঠকে। এবার প্রথম সশরীরে সাক্ষাৎ হবে তাদের।

অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি আফগানিস্তান ইস্যুও একটা বড় জায়গা নেবে বলে মনে করা হচ্ছে। আফগানিস্তান নিয়ে অবস্থান প্রসঙ্গে সমালোচিত হয়েছেন বাইডেন। অন্যদিকে, তালেবানি শাসন চিন্তা বাড়াচ্ছে নয়াদিল্লিরও।

এই অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর আমেরিকা সফর বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের মতে, আফগানিস্তানের যুদ্ধ শেষ করেছে আমেরিকা। এবার তাই পুরো নজরটাই দেয়া হবে চীনের দিকে।

আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্র-ভারতের জোট নিয়ে ঢাকাকে চীনের ‘হুমকি’

মন্তব্য

আরও পড়ুন

আন্তর্জাতিক
Rahul will not ask for forgiveness seeing fear in Modis eyes

মোদির চোখে ভয় দেখা রাহুল চাইবেন না ক্ষমা

মোদির চোখে ভয় দেখা রাহুল চাইবেন না ক্ষমা কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। ফাইল ছবি
লন্ডনে দেয়া সাম্প্রতিক বক্তব্যের জেরে রাহুল গান্ধীকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছে বিজেপি। এ নিয়ে আজকের সংবাদ সম্মেলনে জানতে চাইলে রাহুল বলেন, ‘আমার নাম সাভারকার নয়; আমি একজন গান্ধী। আমি ক্ষমা চাইব না।’

ভারতের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভা থেকে সদস্যপদ হারানোর এক দিন পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে একহাত নিয়েছেন দেশটির বিরোধী দল কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী।

মানহানির মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ড পেয়ে এমপি পদ হারানোর প্রতিক্রিয়ায় শনিবার সংবাদ সম্মেলনে কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি বলেন, লন্ডনে করা সাম্প্রতিক মন্তব্য নিয়ে ক্ষমা চাইবেন না তিনি।

‘আমার পরবর্তী বক্তব্য কী হবে, তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ভীত হওয়ার কারণে আমাকে (পার্লামেন্টে) অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। আমি তার চোখে ভয় দেখেছি। এ কারণে তারা আমাকে পার্লামেন্টে কথা বলতে দিতে চায় না’, বলেন কেরালার ওয়ানাড়ের সদ্য সাবেক এমপি রাহুল।

মার্চের শুরুতে লন্ডনে ইন্ডিয়ান জার্নালিস্টস’ অ্যাসোসিয়েশনের (আইজিএ) সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় রাহুল গান্ধী বলেন, ভারতীয় জনতা পার্টি ভারতীয়দের মুখ বন্ধ করে রাখতে চায়।

ওই অনুষ্ঠানে গুজরাট দাঙ্গা ও নরেন্দ্র মোদির উত্থান নিয়ে নির্মিত বিবিসির ডকুমেন্টারির বিষয়ে রাহুল গান্ধীর কাছে জানতে চাওয়া হয়। জবাবে তিনি বলেন, ‘ভারতের সর্বত্র কণ্ঠস্বর দমন হচ্ছে, যার একটি উদাহরণ হলো বিবিসির ডকুমেন্টারি।’ বিবিসির ওই ডকুমেন্টারিটি ভারতে প্রদর্শন নিষিদ্ধ করেছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার।

লন্ডনে ওই বক্তব্যের জেরে রাহুল গান্ধীকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছে বিজেপি। এ নিয়ে আজকের সংবাদ সম্মেলনে জানতে চাইলে রাহুল বলেন, ‘আমার নাম সাভারকার নয়; আমি একজন গান্ধী। আমি ক্ষমা চাইব না।’

লন্ডনে বক্তব্য দেয়ার সময় রাহুল ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ চেয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে বিজেপি। সেটি নাকচ করে দিয়েছেন কংগ্রেস নেতা।

২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে প্রচারের সময় দেয়া বক্তব্যে রাহুল গান্ধী বলেছিলেন, ‘সব মোদি কেন চোর হয়?’

ওই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে হওয়া মানহানির মামলায় গত বৃহস্পতিবার রাহুলকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেয় গুজরাটের সুরাটের আদালত। পরের দিন তাকে এমপি পদে অযোগ্য ঘোষণা করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে লোকসভা সচিবালয়।

আরও পড়ুন:
রাহুল গান্ধী আটক
অর্থনীতি প্রশ্নে ভারত-শ্রীলঙ্কার দশা প্রায় একই: রাহুল
সরকারি হস্তক্ষেপে কমেছে টুইটার অনুসারী, অভিযোগ রাহুলের
হিন্দু ও হিন্দুত্ববাদীর পার্থক্য বোঝালেন রাহুল
সভাপতি পদে রাহুলকেই চায় কংগ্রেসের যুব শাখা

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Thousands of Muslims on the first Friday of Ramadan at Al Aqsa

আল-আকসায় রমজানের প্রথম জুমায় হাজার হাজার মুসল্লি

আল-আকসায় রমজানের প্রথম জুমায় হাজার হাজার মুসল্লি আল-আকসা মসজিদে রমজানের প্রথম জুমার নামাজ আদায় করেছেন হাজার হাজার মুসল্লি। ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বলেন, জুমায় ৮০ হাজার মুসল্লি অংশ নিয়েছেন। তবে জর্ডানীয় ওয়াকফ ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল জানায়, এক লাখ মুসল্লি জুমার নামাজ আদায় করেছেন ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম পবিত্র মসজিদটিতে।

জেরুজালেমে মুসলমানদের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান আল-আকসা মসজিদে রমজানের প্রথম জুমার নামাজ আদায় করেছেন হাজার হাজার মুসল্লি।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, এই অঞ্চলে ইসরায়েলের সঙ্গে ফিলিস্তিনের উত্তেজনার মধ্যেই শুক্রবার রমজান মাসের প্রথম জুমা আদায় করেন মুসল্লিরা।

মসজিদ প্রাঙ্গণের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করছে জর্ডানীয় ওয়াকফ ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল।

কাউন্সিলের প্রধান আজম আল খতিব বলেন, শুক্রবার আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে শান্তিপূর্ণভাবে নামাজ হয় এবং পরিস্থিতি ভালো রয়েছে।

ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বলেন, জুমায় ৮০ হাজার মুসল্লি অংশ নিয়েছেন। তবে জর্ডানীয় ওয়াকফ ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল জানায়, এক লাখ মুসল্লি জুমার নামাজ আদায় করেছেন ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম পবিত্র মসজিদটিতে।

ইসরায়েলি পুলিশ জানায়, রমজানের প্রথম জুমার কথা বিবেচনায় এদিন শহরজুড়ে ২৩০০ পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

পশ্চিম তীরের নাবলুস শহর থেকে আল-আকসায় নামাজ পড়তে আসেন ৬২ বছরের আবুদ হাসান। তিনি বলেন, মুসলিমদের জন্য বছরের গুরুত্বপূর্ণ একটি মাস রমজান। তাই আল-আকসায় নামাজ আদায় করতে এসেছি।

শান্তিপূর্ণভাবে নামাজ আদায় করতে পেরে তিনি মহান আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

রমজানে সহিংসতা হ্রাসে চলতি মাসে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলি প্রতিনিধি দল মিসরে বৈঠকে সম্মত হয়েছে। তবে পশ্চিমতীরে গত বৃহস্পতিবার রমজানের শুরুতেই ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে এক ফিলিস্তিনি যুবক নিহত হন। গত জানুয়ারি থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে সহিংসতায় ৮৭ ফিলিস্তিনি নিহত হন।

আরও পড়ুন:
জেনিনে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে ৬ ফিলিস্তিনি নিহত
রকেট ছোড়ার জবাবে গাজায় বিমান হামলা ইসরায়েলের
নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিকে হত্যা ইসরায়েলি বাহিনীর
জেরুজালেমে সিনাগগের কাছে বন্দুক হামলায় নিহত ৭
ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে ১০ ফিলিস্তিনি নিহত, তীব্র প্রতিবাদ ঢাকার

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Rahul Gandhi is no more MP

রাহুল গান্ধী আর এমপি নন

রাহুল গান্ধী আর এমপি নন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। ছবি: এএনআই
কেরালার ওয়ানাড় থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন রাহুল। পার্লামেন্টে তার সদস্যপদ হারানোকে কংগ্রেসের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মানহানির মামলায় ভারতের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভার সদস্য তথা এমপি হিসেবে কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি রাহুল গান্ধীকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। লোকসভা সচিবালয় তার আসনটি শূন্য ঘোষণা করেছে।

এ আসনে এখন বিশেষ নির্বাচন ঘোষণা করতে পারবে নির্বাচন কমিশন।

কেরালার ওয়ানাড় থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন রাহুল। পার্লামেন্টে তার সদস্যপদ হারানোকে কংগ্রেসের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী গৌতম আদানির সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন রাহুল গান্ধী। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে প্রচারের সময় রাহুল বলেছিলেন, ‘সব মোদি কেন চোর হয়?’

এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়, এমপি পদে রাহুল গান্ধীকে অযোগ্য ঘোষণাকে ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে তার দল কংগ্রেস।

লোকসভা সচিবালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিত বলা হয়, কেরালার ওয়ানাড় সংসদীয় আসনের প্রতিনিধিত্বকারী রাহুল গান্ধী লোকসভার সদস্য হিসেবে অযোগ্য বিবেচিত হয়েছেন। ভারতের সংবিধানের ১০২ এর ১ (ঙ) অনুচ্ছেদ এবং ১৯৫১ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের ৮ ধারা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নামের একটি অংশ ‘মোদি’ নিয়ে মানহানিকর বক্তব্য দেয়ার অভিযোগে হওয়া মামলায় বৃহস্পতিবার কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেয় গুজরাটের একটি আদালত।

গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের ৮ (৩) ধারা অনুযায়ী, পার্লামেন্টের কোনো সদস্য যেকোনো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে কমপক্ষে দুই বছরের সাজা পাওয়ামাত্র তিনি এমপি পদে অযোগ্য বিবেচিত হন।

আরও পড়ুন:
অর্থনীতি প্রশ্নে ভারত-শ্রীলঙ্কার দশা প্রায় একই: রাহুল
সরকারি হস্তক্ষেপে কমেছে টুইটার অনুসারী, অভিযোগ রাহুলের
হিন্দু ও হিন্দুত্ববাদীর পার্থক্য বোঝালেন রাহুল
সভাপতি পদে রাহুলকেই চায় কংগ্রেসের যুব শাখা
৭০ বছরের সম্পদ ‘করপোরেট বন্ধুদের’ উপহার দিচ্ছেন মোদি: রাহুল 

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
If you dont want to prolong the war you must give the plane Zelensky to the EU

দীর্ঘ যুদ্ধ না চাইলে যুদ্ধবিমান দিতে হবে: ইইউকে জেলেনস্কি

দীর্ঘ যুদ্ধ না চাইলে যুদ্ধবিমান দিতে হবে: ইইউকে জেলেনস্কি ইউক্রেনের যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকা থেকে ট্রেনে ফেরার সময় প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কি। ছবি: টুইটার
রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধরত দেশটিতে কামানের ১০ লাখ গোলা পাঠাতে ইইউ যে পরিকল্পনা নিয়েছে, তাকে স্বাগত জানিয়েছেন জেলেনস্কি, তবে যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র রাশিয়ার সেনাদের পিছু হটাতে অধিকতর কার্যকর হবে বলে মনে করছেন তিনি। বক্তব্যে এ দুই সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট।

ইউক্রেনে জরুরি ভিত্তিতে যুদ্ধবিমান, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রসহ আধুনিক অস্ত্র পাঠাতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নেতাদের আহ্বান জানিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, এমনটি না হলে দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধ বয়ে বেড়ানোর প্রস্তুতি নিতে হবে।

ইউক্রেনের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ট্রেনে রাজধানী কিয়েভে ফেরার সময় জেলেনস্কি এ কথা বলেন।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, যুদ্ধক্ষেত্রের কাছাকাছি এলাকাগুলোতে দুই দিন অবস্থান করেন জেলেনস্কি। ফেরার পথে বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতাদের একটি সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি নিয়ে আবেগঘন বর্ণনা দেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট।

রাখঢাক না রেখে দেয়া দীর্ঘ বক্তব্যে জেলেনস্কি বলেন, জোট হিসেবে রাশিয়াকে মোকাবিলার সিদ্ধান্ত ইইউকে নিতে হবে।

২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে হামলা শুরু করে রাশিয়া, যেটিকে ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একে অন্যায্য আগ্রাসন মনে করা পশ্চিমারা ইউক্রেনকে বিভিন্নভাবে সহায়তা দিয়ে আসছে।

রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধরত দেশটিতে কামানের ১০ লাখ গোলা পাঠাতে ইইউ যে পরিকল্পনা নিয়েছে, তাকে স্বাগত জানিয়েছেন জেলেনস্কি, তবে যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র রাশিয়ার সেনাদের পিছু হটাতে অধিকতর কার্যকর হবে বলে মনে করছেন তিনি। বক্তব্যে এ দুই সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট।

জেলেনস্কির বক্তব্যে ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতি হতাশা ফুটে ওঠে।

তার অভিযোগ, রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও নিষেধাজ্ঞা দিতে দৃশ্যত তাড়া নেই ইইউর।

ইইউ নেতাদের উদ্দেশে জেলেনস্কি বলেন, ‘ইউরোপ বসে থাকলে অপশক্তি হয়তো পুনঃসংগঠিত হওয়ার সুযোগ পাবে এবং দীর্ঘ যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে হবে। একে মোকাবিলা করা আপনাদের ওপর নির্ভর করছে।’

আরও পড়ুন:
রাশিয়া-ইউক্রেন শস্য চুক্তির মেয়াদ ফের বাড়ল
ইউক্রেনে রুশ হামলা জোরদার, নিহত ৬
ইউক্রেনজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে রাশিয়া
পুতিন কি ওয়াগনারের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করলেন?
আগামী বছরই অর্থশূন্য হয়ে পড়বে মস্কো, দাবি রুশ ব্যবসায়ীর

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
20 years after the removal of Saddam how are the Iraqis?

সাদ্দামকে সরানোর ২০ বছর পর কেমন আছেন ইরাকিরা?

সাদ্দামকে সরানোর ২০ বছর পর কেমন আছেন ইরাকিরা? ইরাকের এক সময়ের প্রতাপশালী প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন। ছবি: সংগৃহীত
আজকের ইরাক একটি জোট সরকার দিয়ে চলছে। জনপ্রিয়তার মাপকাঠিতে এই সরকারের অবস্থান যথেষ্টই দুর্বল। সাদ্দাম-পরবর্তী সময়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে যোগদানকারীদের অনেকেই সশস্ত্র উপায়ে প্রতিবাদ জানিয়ে চলেছেন। এতে জনসাধারণের স্বাধীনতা আরও সংকুচিত হয়েছে। শান্তি ফেরেনি মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে।

২০ মার্চ, ২০০৩। দিনটি ছিল বৃহস্পতিবার। সেদিন মারণাস্ত্র ধ্বংস করার নামে তেলসমৃদ্ধ দেশ ইরাকে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোট।

তৎকালীন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের দাবি ছিল, ইরাকের ওই সময়ের প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের কাছে ভয়ঙ্কর মারণাস্ত্র রয়েছে। আর তা থেকে ইরাকি জনগণকে মুক্ত করতে সেনা অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন।

হামলা চালানোর আগে টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে বুশ বলেন, আমেরিকান এবং জোট বাহিনী ইরাকের জনগণকে মুক্ত করতে এবং বিশ্বকে মারাত্মক বিপদ থেকে রক্ষা করতে সামরিক অভিযানের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

সাদ্দামকে সরানোর ২০ বছর পর কেমন আছেন ইরাকিরা?
ইরাক যুদ্ধের ঘোষণা দিচ্ছেন জর্জ ডব্লিউ বুশ। ছবি: সংগৃহীত

বাস্তবতা হলো, ওই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের ২০ বছর পার হয়ে গেলেও ইরাকে আজ পর্যন্ত কএনা মারণাস্ত্র পায়নি যুক্তরাষ্ট্র। অথচ এই অভিযোগেই ইরাকে হামলা চালানো হয়। দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে গ্রেপ্তার করে ঝুলানো হয় ফাঁসির দড়িতে।

সাদ্দামবিহীন ইরাকে জঙ্গি উত্থান হয়েছে। পড়ে গেছে দেশটির অর্থনীতিও। দেশটিতে একদিক দিয়ে বেড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব, আরেকদিকে বেড়েছে ইরানের প্রভাবও।

যুক্তরাষ্ট্র ইরাকে হামলা চালানোর পর ২ লাখ বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। সেখানে আমেরিকার সেনা নিহত হয়েছে মাত্র সাড়ে চার হাজার।

এ যুদ্ধের ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে বিশৃঙ্খলা ও অস্থিতিশীলতা দেখা দেয়। আর কেনই বা এই যুদ্ধ শুরু হয়েছিল তা নিয়েও তৈরি হয়েছে হাজারও প্রশ্ন।

সাদ্দামকে সরানোর ২০ বছর পর কেমন আছেন ইরাকিরা?

ইরাকে যুদ্ধ শুরুর আগেই মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে হামলার ভিত্তি গড়ে দেন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিবিদরা। সাদ্দাম ১৯৯০ সালে প্রতিবেশী আরেক তেলসমৃদ্ধ দেশ কুয়েতে আক্রমণ করে বসেন। তখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন জর্জ ডব্লিউ বুশের বাবা জর্জ এইচডব্লিউ বুশ। তিনি ইরাকে স্বাধীন গণতন্ত্র চালুর পক্ষে ছিলেন। আর এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নব্য রক্ষণশীল রাজনীতিবিদরা সাদ্দামকে সরানোর জন্য মোক্ষম সুযোগ পেয়ে বসেন।

যুক্তরাষ্ট্র ইরাকে হামলার আরও বেশি সুযোগ পেয়ে যায় ২০০১ সালের ৯/১১ হামলার পর। এর জের ধরেই তারা ইরাকসহ ওই অঞ্চলে গণতন্ত্র ও স্বাধীন করার বিষয়টি বড় করে সামনে আনে। ইরাকে হামলা চালানোর যুতসই ক্ষেত্র তৈরি করতে যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত সাদ্দামবিরোধীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলে বুশ প্রশাসন।

ইরাকে হামলা চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। যুদ্ধ শুরুর ১৯ দিন পর অর্থাৎ ৯ এপ্রিল বাগদাদ দখল করে নেয় আমেরিকান জোট। নানা যুক্তি তুলে ইরাকি জনগণকে পক্ষে টেনে তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে জোট বাহিনী ফিরদস স্কয়ারে থাকা সাদ্দামের ভাস্কর্য ভেঙে ফেলে।

এ ঘটনার এক মাস না পেরুতেই ২০০৩ সালের ১ মে বড় সেনা অভিযান শেষ করার ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোট।

এরপর ইরাকজুড়ে অরাজকতা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামলাতে ব্যর্থ হওয়ায় তখন অনেক আমেরিকান সেনা চাকরি হারান।

ওই বছরের শেষের দিকে সাদ্দামকে তার জন্মস্থান তিরকিট থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। হামলাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে তখন দাবি করা হয়েছিল- এক সময়ের দোর্দণ্ড প্রতাপশালী শাসক সাদ্দাম হোসেন একটি গর্তে লুকিয়ে ছিলেন। সেখান থেকেই তাকে পাকড়াও করা হয়েছে।

সাদ্দাম হোসেনকে গ্রেপ্তারের পর হামলাকারী বাহিনীর মদদপুষ্ট আদালতে তার বিচার করা হয়। গণহত্যা ও মানবাধিকার বিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।

২০০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহার দিনে সাদ্দাম হোসেনকে ফাঁসিতে ঝুলানো হয়।

তাৎপর্যের বিষয় হলো, মারণাস্ত্র থাকার অজুহাতে ইরাকে হামলা চালানো হয়েছিল, সাদ্দামকে গ্রেপ্তারের পর সেই বক্তব্য থেকে সরে আসে যুক্তরাষ্ট্র। তারা জানায়, ইরাকে কোনো মারণাস্ত্র বা পরমাণু অস্ত্রের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট কমিশন ২০০৫ সালে এক প্রতিবেদনে জানায়, ইরাক নিয়ে তাদের গোয়েন্দাদের প্রতিবেদন ত্রুটিপূর্ণ ছিল।

সাদ্দামকে সরানোর পর ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন কোয়ালিশন প্রভিশনাল অথরিটি নামে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়। যার প্রধান ছিলেন পল ব্রেমার। এ সময় ইরাকে সেনা ও গোয়েন্দা সংস্থা ভেঙে দেয়া হয়। এছাড়া ইরাকে বহু বছর ক্ষমতায় থাকা বাথ পার্টিকেও সরকার গঠনে অংশ নিতে বাধা দেয়া হয়। এসময় দেশটিতে হাজার হাজার প্রশিক্ষিত সেনা সদস্য বেকার হয়ে পড়ে এবং সরকার ও প্রশাসনে শূন্যতা তৈরি হয়।

যুক্তরাষ্ট্র ইরাকিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের মাঝে হাজার হাজার ইরাকি প্রাণ হারান। দেশটিতে আইএস জঙ্গিবাদের উত্থান হয় এবং গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে।

সাদ্দামের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি শিয়া ও কুর্দিদের ঘোর বিরোধী। সাদ্দাম-পরবর্তী সময়ে এই সম্প্রদায়গুলোকে ক্ষমতার অংশ বানাতে চেষ্টা চালাতে থাকে কোয়ালিশন প্রভিশনাল অথরিটি।

তারা ইরাক গভর্নিং কাউন্সিলে (আইজিসি) মুহাসা বা কোটাভিত্তিক সরকার ব্যবস্থা চালুর কথা জানায়, যাতে শিয়া ও অন্যান্য সম্প্রদায়কে আনুপাতিক হারে সরকারে রাখার কথা বলা হয়।

তাৎপর্যের বিষয় হলো, এই ব্যবস্থাটি ২০০৩ সালের পর ইরাকের রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তারকারী দলগুলোর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। এটি সাম্প্রদায়িক বিভাজনগুলোকে আরও গভীর করে তোলে। যার জন্য আজও ভুগছে ইরাক ও এর পার্শ্ববর্তী দেশগুলো।

সংঘাতের মধ্যেই ২০০৫ সালে ইরাকে নির্বাচন হয়। এতে ক্ষমতায় আসে শিয়া সম্প্রদায়ের দল। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন নুরি আল মালিকি, যিনি একজন শিয়া মতাবলম্বী। এছাড়া স্পিকার ছিলেন সুন্নি ও প্রেসিডেন্ট ছিলেন একজন কুর্দি।

সাদ্দামকে সরানোর ২০ বছর পর কেমন আছেন ইরাকিরা?
বাগদাদে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী নুরি আল-মালিকির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির সাক্ষাৎ। ছবি: সংগৃহীত

ইরান ও তার সশস্ত্র মিলিশিয়াদের সঙ্গে নুরির সুসম্পর্ক ছিল। ইরাকের সুন্নি জনগোষ্ঠীর সঙ্গে চুক্তি করতে সরকারের ধারাবাহিক ব্যর্থতা ও দুর্নীতি এবং অকার্যকরভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার কারণে ইরাকজুড়ে পরে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এক সময়ে আনবার ও ফালুজায় সুন্নি বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে এবং দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে শিয়া ধর্মীয় নেতা মুকতাদা আল-সদরের অনুসারীরা তৎপর হয়ে ওঠে। বাড়তে থাকে সহিংসতা।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সুন্নি অধ্যুষিত অঞ্চলে কড়া নিরাপত্তা আরোপ করায় তাদের মধ্যে কিছু মানুষ সে সময় আইএসকে সমর্থন করতে শুরু করে। বাড়তে থাকে আইএস-এর কলেবর।

যুক্তরাষ্ট্র ২০১১ সালে তার সেনাদের ইরাক থেকে ফিরিয়ে নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে আইএস জঙ্গিদের উত্থান হয়। গোষ্ঠীটি ২০১৪ সালে স্বাধীন খিলাফত ঘোষণা করে। অবশ্য এর তিন বছরের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনী আইএস-কে অনেকটাই নির্মূল করতে সক্ষম হয়।

ইরাকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের যৌথ হামলা ও তাদের প্রস্থানের পর দেশটিতে সবচেয়ে বড় আন্দোলন দেখা দেয় ২০১৯ সালে। ওই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মদদপুষ্ট ইরাক সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়। আন্দোলনকারীরা দেশটির সংসদকে একটি নতুন নির্বাচনী আইন গ্রহণ করতে বাধ্য করে। ওই সময় নিরাপত্তা বাহিনী এবং আধাসামরিক বাহিনীর হাতে প্রাণ হারায় ছয় শতাধিক বিক্ষোভকারী।

ইরাকে ২০২০ সালে ওই আন্দোলন স্থিমিত হয়ে আসে। নেপথ্যের কারণ ছিল করোনা ভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণ।

যাহোক, আজকের ইরাক একটি জোট সরকার দিয়ে চলছে। জনপ্রিয়তার মাপকাঠিতে এই সরকারের অবস্থান যথেষ্টই দুর্বল। কেননা ক্ষমতাসীনরা ১৫ শতাংশেরও কম ইলেক্টোরাল ভোট পেয়েছে। বিক্ষোভে যোগ দেয়া অনেক ইরাকি নেতৃত্বহীন রাজনৈতিক দলের অংশ হয়েছেন, কেউ বা আবার সশস্ত্র উপায়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। এতে জনসাধারণের স্বাধীনতা আরও সংকুচিত হয়েছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অনেক ইরাকি শিয়া নেতা আল সদরকে সমর্থন দিচ্ছেন। কারণ সদরের নেতৃত্বাধীন বাহিনী ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল।

গত বছরের আগস্টে সদরের সমর্থক ও শিয়াবিরোধীদের মধ্যে হওয়া সংঘর্ষে ৩০ জন নিহত হন। এ থেকে বোঝা যায় যে, যুদ্ধের দুই দশক পরও অস্থিরতার মধ্য দিয়েই যাচ্ছে ইরাক।

আরও পড়ুন:
বিক্ষোভে উত্তাল ইরাক, প্রাসাদ যেন খেলাঘর
ইরাকে সহিংসতায় নিহত ৩০
ইরাকে সহিংসতায় নিহত ২০, দেশ ছাড়ছে বিদেশিরা
ইরাকের পার্লামেন্টে ফের হানা সদর সমর্থকদের
ইরাকের পার্লামেন্টে সদর সমর্থকদের হানা

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Threats of war against any country that arrests Putin

পুতিনকে যে দেশ গ্রেপ্তার করবে তার বিরুদ্ধেই যুদ্ধের হুঁশিয়ারি

পুতিনকে যে দেশ গ্রেপ্তার করবে তার বিরুদ্ধেই যুদ্ধের হুঁশিয়ারি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: সংগৃহীত
গত বছর ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে বরাবরই আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিচ্ছেন ২০০৮ থেকে ২০১২ পর্যন্ত রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে থাকা মেদভেদেভ।এরমধ্যে পরমাণু হামলারও হুমকি ছিল।

ইউক্রেনে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) জারি করা পরোয়ানা অনুযায়ী কোনো দেশ তাকে গ্রেপ্তার করলে তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সাবেক রুশ প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ।

পুতিনের এই সহযোগী বুধবার এমন হুঁশিয়ারি দেন।

গত বছর ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে বরাবরই আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিচ্ছেন ২০০৮ থেকে ২০১২ পর্যন্ত রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে থাকা মেদভেদেভ।এরমধ্যে পরমাণু হামলারও হুমকি ছিল।

পুতিনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে মেদভেদেভ বলেন, ‘আসুন কল্পনা করা যাক । এটা স্পষ্ট যে, পুতিনকে গ্রেপ্তার করা এমন একটি পরিস্থিতি যা কখনই ঘটবে না , কিন্তু ধরুন সে যদি জার্মানিতে যায় ও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাহলে কি হলো? রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা হলো।’

‘যদি এমনটি হয় তাহলে আমারা সর্বশক্তি দিয়ে তাদের চ্যান্সেলরের অফিসে হামলা করব। ’

গত শনিবার ইউক্রেনে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আইসিসি। বিশ্লেষকরা বলছেন, নিজ দেশে থাকতে পুতিনের গ্রেপ্তার হওয়ার ঝুঁকি নেই। যদি ক্রেমলিন তাকে আইসিসির কাছে হস্তান্তর করে তবে পুতিনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব। তবে রাশিয়ার বাইরে কোনো দেশ চাইলে পুতিনকে গ্রেপ্তার করতে পারে।

ইউক্রেনে এক বছরের বেশি সময় ধরে লড়াই করছে রুশ সেনারা। এসময়ে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ উঠলেও মস্কো তা অস্বীকার করেছে।

আরও পড়ুন:
বিধ্বস্ত ইউক্রেনে অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে লাগবে ৪১১ বিলিয়ন ডলার
চীনের সঙ্গে দোস্তি মজবুত রাশিয়ার, বড় সহায়তা পাচ্ছে ইউক্রেন
ইউক্রেন সংকট নিরসনের যৌক্তিক পথ খোঁজার তাগিদ শির
হঠাৎ ইউক্রেনে পুতিন
রাশিয়া-ইউক্রেন শস্য চুক্তির মেয়াদ ফের বাড়ল

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Rahul Gandhi sentenced to 2 years in prison

‘সব মোদি কেন চোর হয়’ বক্তব্যে রাহুল গান্ধীর জেল

‘সব মোদি কেন চোর হয়’ বক্তব্যে রাহুল গান্ধীর জেল রাহুল গান্ধী। ফাইল ছবি
রায়ের সময় রাহুল গান্ধী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। কারাদণ্ডের নির্দেশের পরপরই রাহুল গান্ধীকে ৩০ দিনের জামিন দেয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে আদালতে রায় নিয়ে আপিল করতে পারবেন তিনি।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নামের একটি অংশ ‘মোদি’ নিয়ে মানহানিকর বক্তব্য দেয়ার অভিযোগে হওয়া মামলায় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

বৃহস্পতিবার গুজরাটের সুরাটের একটি আদালত এই রায় ঘোষণা করে বলে এনডিটিভি জানিয়েছে।

রায়ের সময় রাহুল গান্ধী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। কারাদণ্ডের নির্দেশের পরপরই রাহুল গান্ধীকে ৩০ দিনের জামিন দেয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে আদালতে রায় নিয়ে আপিল করতে পারবেন তিনি।

২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে প্রচারের সময় রাহুল গান্ধী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে মানহানিকর বক্তব্য দেন বলে অভিযোগ। রাহুল বলেছিলেন, সব মোদি কেন চোর হয়?

বলা হয়, তিনি নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে, নীরব মোদি, ললিত মোদিকে বোঝাতে এই মন্তব্য করেছিলেন। তবে এতে মোদি পদবীর সবার অপমান হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এ অভিযোগ তুলে সুরাটের এক আদালতে রাহুল গান্ধীর নামে মামলা হয় তখন।

রাহুলের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে অপরাধমূলক মানহানির মামলা করেন গুজরাটেরর সাবকে মন্ত্রী বিজেপি বিধায়ক পূর্ণেন্দু মোদি। মামলাকারীর অভিযোগ ছিল, পুরো মোদি সম্প্রদায়কে অপমান করেছেন রাহুল।

মন্তব্য

p
উপরে